Saturday, April 20, 2019

ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ: রোগের প্রকোপ বেড়েই চলছে বাংলাদেশে, চিকিৎসার ব্যবস্থা কী?

বাংলাদেশসহ বিশ্ব জুড়েই ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগের ভয়াবহতা দিনে দিনে বাড়ছে।
ডিমেনশিয়া মস্তিষ্কের এক ধরনের রোগ যার ফলে কিছু মনে রাখতে না পারেন না রোগী। এমনকি এ রোগটির কারণে একটু আগেই করা কাজ ভুলে যায় অনেকে।
রোগটি নিয়ে আজ ঢাকায় একটি সেমিনারের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ আলঝেইমার সোসাইটি। ডিমেনশিয়ার একটি বড় কারণ হলো আলঝেইমার্স ।
সোসাইটির একজন সদস্য এবং সাবেক এমপি সেলিনা জাহান লিটা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তারা অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশে রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছেন। কিন্তু রোগটি সরকারি বা বেসরকারি কোন দিক থেকেই যথাযথ গুরুত্ব এখনো পায়নি।
এক হিসেবে দেখা যায়, বাংলাদেশে ২০১৫ সালে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিলো পাঁচ লাখ যা আগামী ২০৩০ সালে বেড়ে নয় লাখ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আলঝেইমার সোসাইটির হিসেবে, ২০৫০ সাল নাগাদ এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২২ লাখ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
"অর্থাৎ দিন দিন রোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। সে হিসেবে প্রতিকারের ব্যবস্থা খুব কমই," বলছিলেন সেলিনা জাহান।
"মানুষকে সচেতন করা দরকার। তাহলে আক্রান্ত হলেও মানুষ বৃদ্ধ বয়সে করুণ পরিণতির মুখোমুখি হবেনা।" কোন বয়সের মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়?
সেলিনা জাহান লিটা বলছেন, বাংলাদেশে ষাট বছরের বেশি বয়সের বয়সের মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ৪০-৫০ বছরে বয়সের মধ্যেও অনেককে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নিম্নবিত্তের পাশাপাশি উচ্চবিত্তের মানুষেরাও রোগটিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।
"বাংলাদেশে বিশেষ করে যারা দারিদ্রসীমার নীচে আছেন তাদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।"
"উচ্চবিত্ত অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন কিন্তু মূলত রোগটির ক্ষেত্রে বেশি দরকার সচেতনতা।"
চিকিৎসা আছে পর্যাপ্ত?
সেলিনা জাহান বলছেন, ডিমেনশিয়া নিয়ে সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনা।
"রোগটির তেমন চিকিৎসা নেই। কিন্তু শুধু চিকিৎসার বিষয় নয়, রোগটি নিয়ে সচেতনতা তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।"
"এটি হলে রোগটিকে আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবো।
বৃদ্ধ বয়সের করুণ পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারবো।"
তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে ডিমেনশিয়া কর্নার তৈরি করার দরকার। পাশাপাশি ডাক্তার ও নার্সদের তাদের করণীয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা উচিত।
"মনে রাখতে হবে পারিবারিকভাবে সচেতনতা তৈরি হলে রোগীরা জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে করুণ পরিণতি থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পাবেন।"
সূত্রঃ বিবিসি

ধর্ষণের মহামারি by মরিয়ম চম্পা

মহামারি আকার ধারণ করেছে ধর্ষণ। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। যা শুধু আলোচনায় এসেছে। এর বাইরে তো রয়েছে অনেক। লোক-লজ্জা বা সম্মানের ভয়ে প্রকাশ করেনি ভুক্তভোগীরা। আইনবিদরা বলছেন, এ পরিস্থিতির উন্নতির জন্য মামলার সঠিক তদন্ত ও আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। সমাজবিজ্ঞানীরা বর্তমান সময়ে এ ধর্ষণকে ব্যাধি হিসাবে আখ্যায়িত  করেছেন। আর এ ব্যাধির জন্য দায়ী করেছেন পরিবার, সমাজ ও পারিপার্শ্বিক অবক্ষয়কে।
সাম্প্রতিক সময়ে ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির নির্মম ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছে। সব মহল থেকে জানানো হচ্ছে ধিক্কার ও প্রতিবাদ।
এর আগে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের একটি গ্রামে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে এক নারীকে গণধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের শিকার নারী জাতীয় নির্বাচনের দিন সকালে একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যান। এ সময় কেন্দ্রে থাকা আওয়ামী লীগের কয়েকজন যুবক তাঁকে তাঁদের পছন্দের প্রতীকে ভোট দিতে বলেন। তিনি তাতে রাজি না হলে যুবকেরা তাঁকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। ওই দিন রাত ১২টার দিকে সালাউদ্দিন, সোহেল, বেচু, মোশারফসহ ১০ থেকে ১২ জনের একদল যুবক ঘরে ঢুকে প্রথমে স্বামী-স্ত্রী দুজনকে মারধর করে। পরে স্বামী ও সন্তানদের বেঁধে রেখে ওই নারীকে ঘরের বাইরে পুকুরপাড়ে এনে গণধর্ষণ করেন।
ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় ১৩ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ঘটনার দিন বিকেলে শিশুটির মা পাংশা থানায় মামলা করেন। এর আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মারধর করে পুলিশে দেন স্থানীয় লোকজন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি তার আরও এক বোনসহ দাদা-দাদির সঙ্গে থাকে। একমাত্র ভাই তার মা-বাবার সঙ্গে কুষ্টিয়ায় থাকে। বাবা একটি হোটেলে ও মা গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটির বাবা তাঁর দুই মেয়েকে দেখভালের জন্য প্রায়ই পাংশায় আসেন। মেয়েদের দেখভালের জন্য ওইদিন বিকেলে বাবা গ্রামের বাড়িতে আসেন। পরদিন সকালে বাড়িতে শিশুটি ঘর গোছানোর কাজ করছিল। এ সময় বাবা শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। শিশুটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে। এ সময় শিশুটির বাবা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে আটক করে শিশুটির মাকে খবর দেয়া হয়। স্থানীয় লোকজন শিশুটির বাবাকে মারধরের পর পুলিশে খবর দেন।
সম্প্রতি রাজধানীতে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলসহ দুজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ধর্ষণের ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ১৯শে জানুয়ারি একটি সংবাদপত্র অপরাধের একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। সেই চিত্র রীতিমতো ভয়াবহ। পত্রিকাটি বলছে, গত পাঁচ বছর সারা দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৯ হাজার। গড়ে প্রতিদিন ১১টি। এ ক্ষেত্রে শিশুরাই ধর্ষণ ও হত্যার শিকার বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ১৫০ জন নারী ও শিশু।
চলতি বছরের প্রথম ১৮ দিনে একটি সংবাদ মাধ্যমে ২৩টি ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনই শিশু-কিশোরী। এর মধ্যে দুই বছরের শিশুও আছে। চারজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। আরেকজন ধর্ষণের পর অসুস্থ হয়ে মারা গেছে।
চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে সারা দেশে ৪৭ শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। ১৭ এপ্রিল বুধবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে বেসরকারি সংগঠন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ২ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ছয়টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। তারা জানায়, এই ১৫ দিনে সারা দেশে ৪৭ শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার মেয়ে শিশুর সংখ্যা ৩৯ জন। বিভিন্ন কারণে হত্যা করা হয়েছে ৫ শিশুকে, যার মধ্যে ৪ জন ছেলে ও ১ জন মেয়েশিশু।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন বলেছে, বিচারহীনতার কারণে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। শিশু ধর্ষণের ঘটনায় শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ছাড়া অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের দাবিও করেছে সংস্থাটি।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সারা দেশে প্রায় ১২৩ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। 
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানিয়েছে চলতি বছর শুধু জানুয়ারি মাসে দেশে ৫২টি ধর্ষণ, ২২টি গণধর্ষণ এবং ৫টি ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি আরও জানায় ২০১৮ সালে ৯৪২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে সারা দেশে।
এ বিষয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ও আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, এই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হোক এটাতো কেউ চায়না। আগে এই ধরনের ঘটনা খুব বেশি প্রকাশ পায়নি যেটা এখন অনেক বেশি প্রকাশ পাচ্ছে। কাজেই এটা আমাদের দেশের এবং সাধারণ মানুষের জন্য খুবই একটি দুঃখজনক এবং ভীতিকর বিষয়। এই ধরনের সমস্যা সমাধানে মামলার সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিচার কার্য যেন অতি দ্রুত সম্পন্ন হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রথমত, আদালত কর্তৃক খুব দ্রুত অপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যদি অপরাধীদেরকে দ্রুত ধরা হয় এবং তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হয় তাহলে হয়তো আমরা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি। বিচার শুরু হলে কোনো অবস্থাতেই যেন বিচারকার্য মুলতবি না হয়। অনেক সময় বিচার কার্য মুলতবি হয়ে যায়। ফলে বিচার বিলম্বিত হয়।
সাবেক আইজিপি সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ বলেন, সম্প্রতি সময়ে যৌন হয়রানির অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে এবং প্রকাশ পাচ্ছে। যেগুলো খুবই দুঃখজনক ও ভয়ংকর। এই ধরনের অপরাধ দমনে জনসচেতনতামূলক কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। এলাকার জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে সচেতনতামূলক বৈঠক করা যেতে পারে। আইনশৃঙ্খলার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের নজর দিতে হবে আইনের প্রয়োগটা যেন কঠিন এবং কঠোর হয়। অপরাধীরা যেন এই বার্তাটি পায় যে আমরা (প্রশাসন) আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করছি। এবং এ বিষয়ে আমরা সবাই যত্নবান। এটা হলে অপরাধীরা অপরাধ করার আগে অন্তত দশবার চিন্তা করবে। গতকালও দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
পটুয়াখালীতে শিশু ধর্ষিত
পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালীতে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধ ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করেছে। উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে গতকাল সকালে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটি চর কুড়িপাইকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী। ভিকটিমের মা জানান, গত বুধবার স্কুল বাড়ির কাছে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলা করছিল তার মেয়ে। এ সময় প্রতিবেশী দুই সন্তানের জনক আব্দুল হক ঘরামী (৬৫) চকলেট দেয়ার প্রলোভন দিয়ে শিশুটিকে লোহালিয়া নদীর কিনারে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় কাদতে কাঁদতে বাড়িতে ফিরে দাদির কাছে বিস্তারিত জানায়। পরে তাকে পটুয়াখালী মা ও শিশু স্বাস্থ্য পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্রে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। কিন্তু এতে শিশুটি সুস্থ হয়ে না উঠলে পুলিশের শরণাপন্ন হয়। পটুয়াখালী সদর থানা অফিসার ইনচার্জ  মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভিকটিম শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে মেডিকেল টেস্টের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি মামলা রজুর প্রস্তুতি চলছে।
আড়াইহাজারে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, আড়াইহাজারে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। গতকাল সকালে ধর্ষিতার ভাই ফুল মিয়া বাদী হয়ে ওই এলাকার সাজন মিয়ার ছেলে জুয়েল ও তার সহযোগী নায়েব আলীর ছেলে জালালকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। ১৬ই এপ্রিল রাতে কিশোরীকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। স্থানীয় কালাপাহাড়িয়ার বিবিকান্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ধর্ষিতা মামলায় বাধা দেয়।
এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জুয়েলের সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। এরই জের ধরে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার দৈহিক সম্পর্ক হয়। ১৬ই এপ্রিল রাতে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বন্ধুর সহযোগিতায় তাকে ফের ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় সে। পরে বিয়ের চাপ দেওয়া হলে তাতে সে অস্বীকৃতি জানান। আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, দুই ব্যাক্তিকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।
শিবচরে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ
শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, শিবচরে এক স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে পারভেজ (২১) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার কামরাঙ্গীর চর  থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত যুবকের সহযোগী দুই যুবক পলাতক রয়েছে।
পুলিশ জানায়, দত্তপাড়ার স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ব্রাহ্মণপাড়া এলাকার তারা মুন্সীর ছেলে পারভেজ মুন্সির প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। গত ৫ই মার্চ মেয়েটিকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে উপজেলার মগড়া পুকুর পাড় এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে আরো দুই সহযোগী মিলে মেয়েটিকে গণধর্ষণ করে। এবং ধর্ষণের চিত্র মোবাইলে ধারণ করে। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ভিডিওচিত্র প্রকাশ করে তারা। এ ব্যাপারে মেয়েটির বাবা আদালতের মাধ্যমে মামলা দায়ের করলে পারভেজ ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পুলিশ দীর্ঘদিন মোবাইল ট্র্যাকিংসহ প্রযুক্তি ব্যবহার করে পারভেজের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত  কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. শওকত হোসেন ও এসআই মাজেদ মন্ডলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের মূলহোতা পারভেজকে গ্রেপ্তার করে।
হালুয়াঘাটে শিশু ধর্ষণের শিকার! ধর্ষক আটক
হলুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, হালুয়াঘাটে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গতকাল থানায় মামলা করেছে ধর্ষিতার ফুফু ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মরাগাংকান্দায়। শিশুটির ফুফু জানান, শিশুর মা জন্মের চার মাস পর তাকে রেখে পালিয়ে যায়। তার বাবা ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করে। শিশুকাল থেকে তিনি লালন পালনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ঘটনার দিন কেউ বাড়িতে না থাকায় প্রতিবেশী আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে নুরজামাল (১৮) তাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বাড়িতে গিয়ে ধর্ষিতা তার ফুফুর কাছে ঘটনা জানায়। এরপর তাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হালুয়াঘাট থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় ধর্ষককে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বশিরের পতনের নেপথ্যে বিউটি কন্যা আলা সালাহ

সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের ৩০ বছরের শাসনের পতনের নেপথ্যে একজন নারী অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। সুদানে রুটির দাম বৃদ্ধির জের ধরে শুরু হওয়া বিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করল দেশটির সেনাবাহিনী। তবে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করলেও বিক্ষোভের নেপথ্যে থেকে জনগণকে দারুণভাবে আন্দোলিত করেছেন ২২ বছরের এই নারী। আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিপ্লবী কণ্ঠে স্বৈরশাসক বশিরের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন সুদানের এই ‘বিউটি কন্যা’।
এই নারী আলা সালাহ-সুদানের গণজাগরণের মুখপাত্র। তার বিপ্লবী আওয়াজে বৃহস্পতিবার আল বশিরের রাজপ্রাসাদের ভিত নড়ে উঠে। আর এই সুযোগ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আলা সালাহ বলেন, ‘আমি প্রত্যেক সুদানিকে আশা জাগানোর চেষ্টা করেছি, তাদের ইতিবাচকভাবে আন্দোলিত করেছি এবং আমি অবশেষে তাদের দিয়ে উপযুক্ত কাজটি (আল বশিরের পতন) করাতে সক্ষম হয়েছি।’
সালাহকে বিশ্ব মিডিয়ায় জায়গা করিয়ে দিয়েছে একটি ছবি। ছবিটি বিশ্ব মিডিয়ায় শেয়ার করার পর ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিটি তুলেছেনলানা হারোন নামের এক ব্যক্তি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আপাদমস্তক সাদা কাপড়বেষ্টিত এক নারী গাড়ির ওপরে দাঁড়িয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখছেন। তার চারপাশে হাজার হাজার মানুষ।
ছবিটির আলোকচিত্রী লানা হারোন সিএনএনকে বলেন, ‘সুদানের প্রতিটি নারী ও তরুণীদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং তাদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন তিনি। তিনি সুদানি নারীদের গল্প শুনিয়েছেন এবং এতে তিনি ছিলেন উপযুক্ত। রাজধানী খার্তুমে বিক্ষোভ চলাকালে গত সোমবার ছবিটি তোলা হয়। এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে সালাহ বলেন, ‘ছবিটি তোলায় আমি দারুণভাবে খুশি হয়েছি। যেদিন ছবিটি তোলা হয় সেদিন আমি অন্তত ১০টি সমাবেশে যোগ দিই এবং উপস্থিতিদের বিপ্লবী কবিতা পড়ে শোনায়। এটা আন্দোলনকারীদের উদ্যমী করে তোলে। এমন সময় আমি ছয়জন নারীকে ওই সমাবেশে দেখি এবং তাদের সাথে যোগ দিয়ে বিপ্লবী গান গাইতে থাকি। তাৎক্ষণিকভাবে এর ফলও পাওয়া গেল। দেখলাম তারাও আমার সাথে গাইতে শুরু করেছে এবং জমায়েত ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকল।’
স্থাপত্যের ছাত্রী সালাহ কোনো রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেননি। তবে তিনি কবিতা আবৃত্তি ও গান গেয়ে সুদানিদের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কথা বলতে উৎসাহ জুগিয়েছেন। আর এসব কবিতা ও গানÑ সবই তার স্কুলজীবনে শেখা। বিক্ষোভ সমাবেশে সালাহ বলতে থাকেন, ‘আমার এ দেশ কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের না। আমার চলমান সংগ্রামের উদ্দেশ্য হলো জনগণকে অপেক্ষাকৃত ভালো সুদান উপহার দেয়া। কারণ আমার বাবা-মা আমাকে দেশকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন, দেশকে সব কিছুর ঊর্ধ্বে রাখতে শিখিয়েছেন।’
আলা সালাহর বিপ্লবী কবিতার কয়েকটি লাইন এমন- ‘বুলেট কখনো মানুষকে হত্যা করতে পারে না। যা পারে তা হলো এটি মানুষের দীর্ঘ দিনের নীরবতা ভেঙে দিতে পারে।’ তার এ লাইনটি বিক্ষোভকারীদের মধ্যে চমৎকারভাবে রেখাপাত করে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীদের এ পঙ্ক্তিটি উচ্চারণ করতে দেখা গেছে। দেশটির স্বৈরশাসক আল বশিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয় মূলত গত বছরের ডিসেম্বরে। তবে চলতি সপ্তাহে রাজধানী খার্তুমের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত মিলিটারি কমপ্লেক্সের সামনে শুরু হওয়া বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
১৯৮৯ সালে ক্ষমতায় আসেন বশির। এর পর থেকে ৩০ বছর ধরে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। গত ডিসেম্বরে দেশটির বাজারে রুটির দাম বেড়ে যাওয়ার পর থেকে বিক্ষোভ শুরু করে সাধারণ মানুষ। তাদের এই বিক্ষোভ ক্রমান্বয়ে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের আন্দোলনে রূপ নেয়।
সূত্র : সিএনএন

নুসরাত হত্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন গ্রেপ্তার

অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সোনাগাজী আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনকে। নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়ার পর থেকেই তার দিকে অভিযোগের তীর বিদ্ধ হচ্ছিল। মামলার আসামিদের জবানিতেও নুসরাত হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে তার নাম আসে। এত কিছুর পরও দীর্ঘ ১৩ দিন তিনি দিব্যি ঘরে ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে এ ঘটনায় কটি চ্যানেলে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। তাকে ধরতে প্রশাসনের ছিল এক ধরনের অনীহা। তবে, পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার একটি চ্যানেলের টক শোতে বলেছিলেন, তার দিকে আমাদের নজরদারি রয়েছে। প্রমাণ পেলে অবশ্যই তাকে গ্রেপ্তার করবো।
মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামালের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছিলেন। এরপরও পেরিয়ে গেছে ক’দিন।
গতকাল তাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পিবিআই প্রধানের কথাই সত্যি প্রমাণিত হলো। তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, নুসরাত জাহান রাফির শরীর কেরোসিন ঢেলে আগুন ও তাকে হত্যার সঙ্গে রুহুল আমিন জড়িত এমন প্রমাণ তাদের হাতে আসার পরই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলো। রুহুল আমীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। গতকাল বিকাল চারটার দিকে সোনাগাজীর চর চান্দিয়া এলাকায় রুহুল আমিনের নিজের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই ফেনী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে পিবিআই সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিকালে রুহুল আমিনকে ফেনী পিবিআই অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। নুসরাত হত্যায় সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় রুহুল আমিনকে। জিজ্ঞাসাবাদে রুহুল আমিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে। এর আগে, নুসরাত হত্যায় গ্রেপ্তার হওয়া একাধিক আসামি তাদের জবানবন্দিতে রুহুল আমিনের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করেন। তাদের দেয়া জবানবন্দিতে জানানো হয়, নুসরাতকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারার ঘটনা শুরু থেকেই জানতেন মাদরাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন।
গত ১৫ই এপ্রিল নুসরাত হত্যায় জড়িত প্রধান দুই আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমের দীর্ঘ নয় ঘণ্টা ধরে জবানবন্দি নেন ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাকির হোসাইন। জবানবন্দিতে দুজনই নুসরাত হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন। যেখানে উঠে আসে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ক্ষমতাসীন রাজনীতিকসহ জড়িত অন্তত ২৮ জনের নাম। এজাহারের বাইরে উল্লেখ করা জড়িতদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রুহুল আমিন। জবানবন্দিতে সেদিন শামীম আদালতকে জানান, নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর শাহাদাত দৌড়ে নিচে নেমে উত্তর দিকের প্রাচীর টপকে বের হয়ে যায়। এর মিনিট খানেকের মধ্যে নিরাপদ স্থানে গিয়ে রুহুল আমিনকে ফোনে নুসরাতকে আগুন দেয়ার বিষয়টি জানায়। তখন রুহুল আমিন শাহাদাতকে মুঠোফোনে বলে, আমি জানি। তোমরা চলে যাও। এমনকি নুসরাত হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে অনেকটা ক্রীড়নকের ভূমিকাও পালন করেন রুহুল আমিন।
শামীমের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, পুড়িয়ে মারার ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে থানা ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করারও দায়িত্ব নেন উপজেলা সভাপতি। এর আগে, ২৭শে মার্চ মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দোলাহর কক্ষে যৌন হয়রানির শিকার হলে মামলা না নিতে অধ্যক্ষের পক্ষে তৎপরতা চালান রুহুল আমিন। পরে অবশ্য সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের আরেকজন নেতার হস্তক্ষেপে মামলা নিতে বাধ্য হয় পুলিশ। এছাড়া হত্যার পর অধ্যক্ষের পক্ষে মানববন্ধন করতেও এই রুহুল আমিন ইন্ধন দেন বলে স্থানীয় কয়েকটি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদিকে, আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলো- অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দোলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাাহ জনি, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, জান্নাতুল আফরোজ মনি, শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও রুহুল আমিন। নিহত নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দোলাহর বিরুদ্ধে তিনি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭শে মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন।
এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকিও দেয়া হয়। ৬ই এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে পাশের শেল্টার সেন্টার ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় আসামিরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়। চার দিন লড়াই করে গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। এই ঘটনায় নুসরাতের ভাইয়ের দায়ের করা মামলা তদন্ত করছে পিবিআই।

মোদিবাবুরা আবার ক্ষমতায় এলে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র থাকবে না: মমতা

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে মোদিবাবুরা আবার ক্ষমতায় চলে এলে দেশে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে দলীয় সমাবেশ ভাষণ দেয়ার সময় তিনি ওই মন্তব্য করেন।
মমতা বলেন, ‘এই নির্বাচনটা বাংলার নির্বাচন নয়। এই নির্বাচন ভারতের নির্বাচন। দিল্লির নির্বাচন। দিল্লি গড়ার নির্বাচন। এই নির্বাচনে মোদিবাবুরা যদি আবার ক্ষমতায় চলে আসে তাহলে কিন্তু দেশে আর স্বাধীনতা থাকবে না। গণতন্ত্র থাকবে না। শিল্পীর অধিকার থাকবে না। কৃষকের অধিকার থাকবে না। মানুষের অধিকার থাকবে না। বেকারের কথা বলার অধিকার থাকবে না। কারও অধিকার থাকবে না। সেজন্য আমাদের সবাইকে শপথ নিয়ে জোট বেধে এদের বিরুদ্ধে তৈরি হতে হবে।’
মমতা বলেন, ‘বিজেপির ফ্যাসিবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস সংসদের বাইরে ও ভেতরে লড়াই করে গেছে। সারা ভারতে তৃণমূল কংগ্রেসের এমপিরা সবচেয়ে ভালো ফল করেছেন। মূল্যবৃদ্ধি, পেট্রোল, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, সংখ্যলঘু, দলিত, সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ করেছেন।’
মমতা বলেন, ‘বিজেপির সরকার আমাদের টাকা দেয় না, অনেক রকমভাবে অত্যাচার করে, প্রতিবাদ করলে আমাদের নামে মিথ্যে কথা বলে, কুৎসা-অপপ্রচার করে, মানুষে মানুষে ভাগাভাগি করে, আমরা তা করি না। আমাদের বাবা মা শিখিয়েছেন সবাইকে নিয়ে চলতে, বড়দের শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে, এটাই আমাদের সংস্কৃতি।’
দরকার হলে তৃণমূল কংগ্রেস গুলি খাওয়ার জন্য তৈরি থাকবে কিন্তু বিজেপিকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বে না বলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘বিজেপি হিন্দু-হিন্দু করছে। কিন্তু অসমে এনআরসি থেকে ৪০ লাখ লোকের নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে এরমধ্যে ২২ লাখ হিন্দু, বাকিরা মুসলিম, বিহারীসহ অন্য সম্প্রদায়ের মানুষ।’
এনআরসি থেকে কারও বাবার, কারও মায়ের, কারও স্বামীর নাম বাদ গেছে এবং অনেক মানুষ আত্মহত্যা করেছে বলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন।

‘সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি’র মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ঐক্য বিরাজ করছে’

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী- আইআরজিসি’র কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মাদআলী জাফারি বলেছেন, ইরানের সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি’র মধ্যকার ঐক্য ও সংহতি এদেশের শত্রুদেরকে মারাত্মক ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে জেনারেল জাফারি শুক্রবার তেহরানে ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল আব্দুর রহীম মুসাভির সঙ্গে এক সাক্ষাতে এ মন্তব্য করেন। আইআরজিসি’র কমান্ডার বলেন, এই মুহূর্তে ইরানের সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি’র মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ঐক্য ও সংহতি বিরাজ করছে।
সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি’র মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সংহতিকে তিনি শত্রুর বিরুদ্ধে যেকোনো যুদ্ধে ইরানের বিজয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন। জেনারেল জাফারি বলেন, ইরানি জনগণের প্রশান্তি ও শত্রুর ক্ষোভ উদ্রেককারী এই ঐক্য ও সংহতি দিন দিন আরো শক্তিশালী হবে।
সাক্ষাতে জেনারেল মুসাভি আইআরজিসি’র বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে বোকামিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আইআরজিসি ও সেনাবাহিনী ইরানের জনগণ, ইসলামি বিপ্লব ও ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে রক্ষার লক্ষ্যে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।
ইরানে গতকাল (১৮ এপ্রিল) সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত হয়। মার্কিন সরকার সম্প্রতি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী- আইআরজিসি’র নাম সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কালো তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে। ওয়াশিংটন এমন সময় এ পদক্ষেপ নিল যখন মধ্যপ্রাচ্য থেকে সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন করতে আইআরজিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

বাংলাদেশ থেকে বৃটেন অবকাঠামো খাতে আগ্রাসীভাবে যুক্ত হচ্ছে চীন

বাংলাদেশ থেকে বৃটেন পর্যন্ত অবকাঠামোগত প্রকল্পে আগ্রাসীভাবে যুক্ত হচ্ছে চীন। উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) অথবা নিউ সিল্ক রোড প্রকল্পের অংশ হিসেবে তারা শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রকল্পে। এতে ক্রমবর্ধমান হারে যুক্ত হয়ে পড়ছে কিছু ইউরোপীয় দেশও। তবে অন্যরা বেইজিংয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান। এ বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একজন মুখপাত্র ইয়াহু ফাইন্যান্সকে বলেছেন, একই সঙ্গে চীন হলো উন্নয়ন অংশীদার এবং ‘সিস্টেমিক রিভাল’। ওদিকে এ মাসের শেষের দিকে বেইজিংয়ে হতে যাচ্ছে বিআরআই বিষয়ক সামিট।
তাতে ভারত যোগ দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। তবে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্র উচ্চ পর্যায়ের কোনো প্রতিনিধি পাঠাবে না সেখানে। এ খবর দিয়েছে ইয়াহু ও ভারতের ইকোনমিক টাইমস । ইয়াহু ফাইন্যান্স লিখেছে, গত মাসে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ইতালি। এর মধ্য দিয়ে বিআরআই প্রকল্পে জি-৭ অর্থনীতির এমন প্রথম দেশে পরিণত হলো তারা। এই জি-৭ অর্থনীতির আওতাভুক্ত যুক্তরাষ্ট্র। ওই চুক্তির ফলে সহযোগিতার ব্যাপক ক্ষেত্র বিস্তৃত হবে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হবে। চীনের একটি নির্মাণ কোম্পানি, ইতালির বন্দরগুলো এবং ইতালির কৃষি খাতও এই সহযোগিতায় যুক্ত হবে।
চীনের সঙ্গে ইতালির কাজ করার এমন ইচ্ছার কারণে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ওই চুক্তিটি উচ্চমাত্রায় বিতর্কিত। ওই চুক্তিতে রয়েছে অস্বচ্ছ অর্থনৈতিক প্র্যাকটিসের কথা এ বিষয়টি তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সমালোচকরা।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মুখপাত্র ইয়াহু ফাইন্যান্সকে বলেছেন, চীন একই সঙ্গে একটি সহযোগিতার অংশীদার, যার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রয়েছে অনেক লক্ষ্যে নিবিড়তা। চীন একটি সমঝোতামূলক অংশীদার, যার সঙ্গে স্বার্থের সমতা খোঁজার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের। পাশাপাশি চীন হলো প্রযুক্তিগত নেতৃত্বের দিক দিয়ে একটি অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। একই সঙ্গে চীন একটি সিস্টেমিক রিভাল।
জার্মান থিংক ট্যাংক মারকেটর ইনস্টিটিউট ফর চায়না স্টাডিজের রিসার্চ সহযোগী থমাস ইডার এর আগে বলেছেন, দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ম্রিয়মাণ হয়ে আসছে চীনের। সেখান থেকেই বিআরআই-এর উত্থান। তিনি বলেছেন, এটা একটা ধারণায় পরিণত হয়েছে যে, যতদিন শতকরা ৭.৫ ভাগ প্রবৃদ্ধি থাকবে ততদিন চীনা সরকারের বৈধতা থাকবে। আসলে ঘটনা সেটা নয়। তাই তারা পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বব্যাপী সফলতা, আভিজাত্য ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বৈধতার দ্বিতীয় ভিত্তিটি রচনা করছে।
তবে এরই মধ্যে চীনের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের শীর্ষস্থানীয় একজন মুখপাত্র বলেছেন, চীনের অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোকে বৈধতা ধার দেয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না ইতালি সরকারের। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত স্থায়ী প্রতিনিধি জোনাথন কোহেন মার্চে বলেছেন, আফগানিস্তান সমস্যার সমাধানের জন্য বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ সামনে আনার চেষ্টা করেছে চীন। তারা মনে করছে তারা আফগানিস্তানের দুর্নীতি, ঋণের ভারে নুয়ে পড়া, পরিবেশগত ক্ষতি ও স্বচ্ছতার অভাবের বিষয় জানে। তিনি এজন্য চীনের কড়া সমালোচনা করেছেন।
এ মাসের শেষের দিকে বেইজিংয়ে হতে যাচ্ছে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বিষয়ক সামিট। সেই সামিটে উচ্চ পর্যায়ের কর্তকর্তাদের পাঠাবে না যুক্তরাষ্ট্র। এ কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
ওদিকে অনলাইন ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরামের বৈঠকে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। তবে তার প্রতিবেশী বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল এতে যোগ দেয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। এই সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন ৪০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান। তবে এতে যোগ দিচ্ছে না ভুটান। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলেছেন, বিআরআই ফোরামে যোগ না দেয়ার সম্ভাবনা বেশি ভুটানের। গত ১২ মাসে থিম্পুর নতুন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ খুব বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে চীন। উদ্দেশ্য, দেশটি ভারত প্রভাবিত বলয়ে। সেখান থেকে তাদেরকে দূরে সরিয়ে দেয়া। চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই ভুটানের। তবে তারা চীনকে অর্থনৈতিক বিস্তারে একটি শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে দেখে। তারা এটা জানে যে, ওই ফোরামে তারা যোগ দিলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতি হতে পারে।
২০১৭ সালের ফোরামে যোগ দেয়া থেকে বিরত ছিল ভুটান। এর মধ্যদিয়ে তারা নিজেদের ভারতের কাছের করে দেখাতে চেষ্টা করে। ভারত মনে করে চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর, যা পাস করবে জম্মু-কাশ্মীরে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের ভিতর দিয়ে, সেই করিডোর ভারতের সার্বভৌমত্বকে খর্ব করবে। তাই ভারত ওই সম্মেলনে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে।

বহুতল ভবনগুলোর নকশার সঙ্গে বাস্তবের মিল খুঁজে পাচ্ছে না রাজউক

বাস্তবের সঙ্গে ঢাকার বহুতল ভবনগুলোর নকশার মিল খুঁজে পাচ্ছে না রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। বহুতল ভবন নিয়ে এরই মধ্যে রাজউকে আট জোনের রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে। পরিদর্শক দলগুলো তাদের সরজমিন প্রতিবেদনে দেখা যায়, নকশা অনুমোদনের সঙ্গে বাস্তবের মিল খুব কম। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে ১০তম তলার উপরে যেসব বহুতল ভবন রয়েছে ওই ভবনগুলোর নকশা চাওয়া হচ্ছে। ওই তালিকা তৈরির পর ১০ম তলা পর্যন্ত ভবনগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এরপর অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হবে।
সবগুলো ভবন এক সঙ্গে সার্ভে করা সম্ভব না হওয়ায় এমন পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজউকের আটটি অঞ্চলে ২৪টি দল বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছে।
পরিদর্শনের সময় দেখা হচ্ছে ভবনটি নকশা অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে কিনা, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা। পরিদর্শনের সময় বেশির ভাগ ভবনে রাজউক অনুমোদিত নকশার গরমিল এবং অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থায় দুর্বলতা পাচ্ছে পরিদর্শনকারী দল। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ি, নিজেদের আওতাধীন এলাকায় ১০তম তলার উপরের ভবনগুলোর প্রতিবেদন দিতে হবে রাজউককে। এজন্য দলগুলো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছে।
রাজউক অঞ্চল-৪ এর পরিচালক মো. মামুন মিয়া মানবজমিনকে বলেন, পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ ভবনই নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন ভবনগুলো নির্মাণে নকশার ব্যত্যয় তেমন করা হয়নি, তবে পুরনো ভবনগুলোর অধিকাংশই নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন ভবনে মোটামুটি ফায়ার সেফটির ব্যবস্থা রয়েছে। পুরনোগুলোর অবস্থা ভালো নয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজউকের পরিদর্শনে দেখা হচ্ছে, ভবনে ফায়ার সেফটির ব্যবস্থা রয়েছে কি-না, ভবনের চারপাশে খোলা জায়গা রাখা হয়েছে কি-না, ৭ তলার অনুমোদন নিয়ে ৮ তলা নির্মাণ হয়েছে কি-না, নকশার ব্যত্যয় হয়েছে কিনা, আবাসিকের অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিক, ইমারজেন্সি সিঁড়িগুলো বিভিন্ন কারণে আটকে রাখা হয়েছে কি-না এসব বিষয়সহ নানা কিছু। রাজউকের এক কর্মকর্তা জানান, রাজউকের দলগুলো ভবনে গিয়ে প্রথমেই কর্তৃপক্ষের কাছে নকশা চেয়ে নেন। তারপর নকশার সঙ্গে বাস্তবের মিল খুঁজে বের করা হয়। এ জন্য তারা ভবনের ছাদে উঠে নকশা অনুযায়ী মাপ ঠিক আছে কি-না দেখেন। পরে তারা প্রত্যেক তলা পরিদর্শন করেন। ভবনগুলোতে পরামর্শ মতো অগ্নিনির্বাপণ সামগ্রী রাখা হয়েছে কি-না তাও যাচাই করেন তারা। ছোটখাটো ক্রুটি থাকলে তা ভবন মালিককে নিজ উদ্যোগে সমাধানের নির্দেশ দেন। আর বড় সমস্যাগুলো লিখে নিয়ে আসেন। তবে এখনই চিহ্নিত সমস্যাগুলো রাজউক প্রকাশ করতে চাইছে না।
রাজউক অঞ্চল-৫-এর পরিচালক শাহ আলম চৌধুরী বলেন, উঁচু ভবনগুলোর তথ্য সংগ্রহ করছি আমরা। তথ্য সংগ্রহের পর কোন ভবনে কি ব্যত্যয় ঘটেছে, তা জানানো হতে পারে। এদিকে রাজউকের জোন-১ এর পরিচালক মো. আবদুল মতিন ও অথরাইজড অফিসার সরদার মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে আশুলিয়া ও ধামসোনা, জোন-২ এর অথরাইজড অফিসার মো. আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে উত্তরা, টঙ্গী ও গাজীপুর এলাকা, জোন-৩ এর পরিচালক, মু. খায়রুজ্জামান ও অথরাইজড অফিসার মো. মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে সাভার ও মিরপুর, জোন-৪ এর পরিচালক মোহাম্মদ মামুন মিয়া ও অথরাইজড অফিসার সেগুফতা শারমীনের নেতৃত্বে গুলশান, বনানী, মহাখালী ও পূর্বাচল, জোন-৫ এর পরিচালক মো. শাহ আলম চৌধুরী ও অথরাইজড অফিসার মো. নুরুজ্জামান জাহিরের নেতৃত্বে ধানমন্ডি ও লালবাগ, জোন-৭ এর পরিচালক আনন্দ কুমার বিশ্বাস ও অথরাইজড অফিসার নূর আলমের নেতৃত্বে কেরানীগঞ্জ, জুরাইন, সূত্রাপুর ও ওয়ারী এবং জোন-৮ এর অথরাইজড অফিসার মো. মাকিদ এহসানের নেতৃত্বে ডেমরা, নারায়ণগঞ্জ ও সোনারগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশই সবচেয়ে অভিজ্ঞ এ বিশ্বকাপে by তারেক মাহমুদ

এর আগে তিনটি বিশ্বকাপ খেলা চার ক্রিকেটার আছেন শুধু বাংলাদেশ দলেই। এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলবেন বাংলাদেশের সাত ক্রিকেটার। তবে আগে বিশ্বকাপ না-খেলা খেলোয়াড় এর চেয়ে কম নেই কোনো দলেই।
চিন্তাটা দুইভাবে করা যায়। অনেকটা অর্ধেক গ্লাস ভরা না অর্ধেক গ্লাস খালির মতো। এর আগে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন বাংলাদেশের চার ক্রিকেটার। নিশ্চয়ই দলটা অভিজ্ঞতায় অনেক ভারী হবে। কিন্তু এই দলেই যে আবার সাত ক্রিকেটার আছেন, যাঁরা আগে কখনো বিশ্বকাপ খেলেননি! এখন সাতের ওজন বেশি না চারের ওজন? দলটা অভিজ্ঞ হলো নাকি অনভিজ্ঞ?
২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের দশ দলের মধ্যে কাল পর্যন্ত ঘোষিত আট দলের খেলোয়াড় তালিকা দেখলে এটা মনে হওয়া খুবই স্বাভাবিক যে এবার বাংলাদেশই সবচেয়ে অভিজ্ঞ দল নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং আফগানিস্তান কাল পর্যন্ত দল ঘোষণা করেনি। আফগানিস্তান এবার খেলবে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। বাংলাদেশের চেয়ে তাদের অভিজ্ঞ হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ক্রিস গেইল থাকলে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানের সেটি হবে পঞ্চম বিশ্বকাপ। চোটের কারণে ২০১১ সালে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপটা মিস না করলে গেইলের মতো এবার পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও।
মাশরাফি প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছেন ২০০৩ সালে। তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম ২০০৭ সাল থেকেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ-সঙ্গী। মাহমুদউল্লাহ ও রুবেল হোসেনের এটি হবে তৃতীয় বিশ্বকাপ। ২০১৫ বিশ্বকাপের দলেও থাকায় সাব্বির রহমান এবং সৌম্য সরকারের এবারেরটিসহ বিশ্বকাপ খেলা হবে দুটি। দলের সাত ক্রিকেটার লিটন দাস, মোহাম্মদ মিঠুন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মোসাদ্দেক হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ও আবু জায়েদ বিশ্বকাপ খেলবেন এই প্রথম।
বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা অন্যদের চেয়ে তাতেও খুব একটা কমছে না বাংলাদেশের। কারণ সবচেয়ে বেশি তিন বিশ্বকাপ খেলা ক্রিকেটার যেমন বাংলাদেশ দলেই আছে, তেমনি আগে কখনো বিশ্বকাপ খেলেনি, এমন ক্রিকেটারও সাতজনের কম নেই কোনো দলে।
বাংলাদেশের চারজন বাদ দিলে কাল পর্যন্ত ঘোষিত সব দল মিলিয়েই এবার তিন বিশ্বকাপ খেলা ক্রিকেটার আছেন মাত্র তিনজন। ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি, নিউজিল্যান্ডের রস টেলর ও শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা। অস্ট্রেলিয়া দলের খেলোয়াড়দের এর আগে সর্বোচ্চ দুটি বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা আছে, তা-ও শুধু স্টিভেন স্মিথের। তাঁদের ১৫ জনের দলের ৯ জনেরই বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা এবার প্রথম হবে। একটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে পাঁচজনের।
স্বাগতিক ইংল্যান্ডের হয়েও এর আগে দুটি বিশ্বকাপ খেলেছেন মাত্র একজন, অধিনায়ক এউইন মরগান। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ অভিষেক হবে আটজনের। বাকি ছয়জনের জন্য এটি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। এর মধ্যে লিয়াম প্লাঙ্কেট আবার বিশ্বকাপ দলে ফিরেছেন ২০০৭-এর পর।
ভারতীয় দলে ধোনির পর অভিজ্ঞতম ‘বিশ্বকাপার’ বিরাট কোহলি। এ নিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলবেন ভারত অধিনায়ক। বাকিদের মধ্যে সাতজন এই প্রথম গায়ে মাখবেন রোমাঞ্চটা। ছয়জনের জন্য এটি দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ দলে নাম লেখানো। এর মধ্যে দিনেশ কার্তিক ২০০৭ বিশ্বকাপের দলে থাকলেও কোনো ম্যাচ খেলেননি।
অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের ভারসাম্যে নিউজিল্যান্ডকে বাংলাদেশের কাছাকাছি ধরা যায়। তাঁদের ৯ জনের জন্য এটি যেমন প্রথম বিশ্বকাপ, তেমনি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতাও আছে ছয়জনের। তিন বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন টেলরের সঙ্গে আছেন দুটি করে বিশ্বকাপ খেলা কেন উইলিয়ামসন, টিম সাউদি ও মার্টিন গাপটিল। ম্যাট হেনরি আর ট্রেন্ট বোল্ট খেলেছেন ২০১৫ বিশ্বকাপে।
১৯৭৫ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক পাকিস্তানের। এরপর এবারই সম্ভবত সবচেয়ে অনভিজ্ঞ দল খেলাবে তারা। ১৯৭৫ সালের বিশ্বকাপ দলের সবার জন্যই ছিল বিশ্বমঞ্চে প্রথম খেলার অভিজ্ঞতা। আর এবার বিশ্বকাপে প্রথম খেলবেন ১৫ জনের ১১ জনই। বাকিদের মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি বিশ্বকাপ খেলেছেন মোহাম্মদ হাফিজ। অবশ্য দলে থাকলেও হাফিজের বিশ্বকাপ খেলা নির্ভর করছে তাঁর হাতের চোট পুরোপুরি সেরে ওঠার ওপর। দলে থাকা শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ ও হারিস সোহেলের এটি হবে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।
প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন দল ঘোষণার দিনই জানিয়েছেন অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা। সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদও কাল আস্থা রাখলেন অভিজ্ঞদের ওপরই, ‘আমরা ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে খেলেছি। এবারও একই কন্ডিশনে খেলা হচ্ছে। সেটা যদি খেলোয়াড়েরা মনে রাখে এবং সিনিয়ররা ভালো খেলে, তাহলে এবার আমাদের ভালো কিছু করার সম্ভাবনা আছে।’
বিশ্বকাপের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দলের কাছে এটুকু প্রত্যাশা তো করা যায়ই।

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসছে সৌদি আরব

প্রথমবারের মতো বাগদাদে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনায় বসছে ইরান। ইরাকের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিতব্য এক সম্মেলনে সেখানে একত্রিত হবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। শত্রুভাবাপন্ন এই দেশ ছাড়াও এ সম্মেলনে অংশ নেবে তুরস্ক, কুয়েত, জর্ডান ও সিরিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিরতা নিরসনে শনিবার বাগদাদে একদিনের এ সম্মেলনের উদ্যোগ নিয়েছে ইরাক। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
শনিবার অনুষ্ঠিতব্য একদিনের এ সম্মেলনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ইরাকি পার্লামেন্ট মুখপাত্র। এতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পার্লামেন্ট প্রধানরা এ আয়োজনে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। সিরিয়ার পার্লামেন্ট প্রধান হাম্মুদেহ সাব্বাগ ইতিমধ্যেই নিজ দেশের প্রতিনিধি দল নিয়ে ইরাকে পৌঁছেছেন।
এ সম্মেলনের নেপথ্যে মূল উদ্যোক্তা ইরাকের স্পিকার ৩৮ বছরের মোহাম্মদ আল-হালবুসি। তিনি চাইছেন এ অঞ্চলের দেশগুলো পাশাপাশি বসে আলোচনার মাধ্যমে যেন উত্তেজনার মাত্রা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়।
এ সম্মেলনের আয়োজক দেশ ইরাক ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত। তবে গত কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গেও সম্পর্কোন্নয়নে মনোযোগী হয় বাগদাদ। সর্বশেষ দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত বুধবার সৌদি আরব পৌঁছান ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদিল আবদুল মাহদি। সফরে সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ এবং দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেতা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এসব সাক্ষাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
রাজা, যুবরাজ ছাড়াও রাজপরিবারের সদস্যসহ সৌদি আরবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও সাক্ষাতে মিলিত হন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী। ছয় মাস আগে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম সৌদি সফর। ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তার সরকার সৌদি আরবের সঙ্গে সর্বক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। এই সফর সেই প্রত্যাশারই প্রতিফলন।
সাক্ষাৎকালে ইরাকের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার প্রশংসা করেন সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ। এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত রয়েছে।
১৯৯০ সালে ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন কুয়েত দখলের পর সৌদি-ইরাক সম্পর্ক স্থবির হয়ে পড়ে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক দখলের পর সম্পর্ক পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হলেও এ সময় বাগদাদ ইরানের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে শীতল সম্পর্ক তৈরি হয় দেশটির। তবে ২০১৪ সালে হায়দার আল আবাদি ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সৌদি-ইরাক সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে উদ্যোগী হন। ২০১৯ সালের এপ্রিলের গোড়ার দিকে ফের বাগদাদ কনস্যুলেট চালু করতে সম্মত হয় রিয়াদ। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, মিডলইস্ট মনিটর।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যা বললেন বন্ধুরা

দীর্ঘ ২০ বছর পর গত রোববার নিজের পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে গিয়েছিলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। ২০ বছরের ব্যবধানে অনেক কিছুই বদলে গেছে। একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তিনি। তবে সহপাঠীদের সঙ্গে কাটানো এক ঘণ্টা তিনি আগের মতোই আড্ডাবাজি আর গল্পগুজব করে কাটালেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মূল বক্তব্য দেন লোটে শেরিং। এরপর আরেকটি অনুষ্ঠানে নিজের ৭৭ জন সহপাঠীর সঙ্গে আলাদা করে আড্ডা দেন তিনি। প্রাণখুলে অতীত স্মৃতির ঢালি মেলে ধরেন।পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। রোববার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ২নং গ্যালারিতে। ছবি: আনোয়ার হোসেন
অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোটে শেরিংয়ের সহপাঠী ও বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শফিকুল বারি তুহিন ও আসাদুজ্জামান রতনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোটে শেরিং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় ২ নম্বর গ্যালারির মাঝামাঝিতে নির্দিষ্ট একটি আসনে নিয়মিত বসতেন। গতকাল তাঁর আগমন উপলক্ষে ৭৭ জন সহপাঠী মিলে ২ নম্বর গ্যালারিতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। মূল অনুষ্ঠানের বক্তব্যের পর লোটে শেরিং যান ২ নম্বর গ্যালারিতে। পুরোনো বন্ধুরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে লোটের শেরিংয়ের নির্দিষ্ট সেই আসনটি ফাঁকা রাখেন। সহপাঠীদের চমকে দিয়ে তিনি পুরোনো স্মৃতি মনে রেখে নিজের আসনটিতেই বসেন।
বন্ধু-সহপাঠীদের সঙ্গে আন্তরিক পরিবেশে ঘণ্টাখানেক সময় কাটান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। বিনিময় করেন শুভেচ্ছা। ছবি: আনোয়ার হোসেন
কথা ছিল, লোটে শেরিং সহপাঠীদের সঙ্গে ১৫ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ২০ মিনিট থাকবেন। কিন্তু সময় ভুলে গিয়ে তিনি এক ঘণ্টা বন্ধু-সহপাঠীর সঙ্গে থাকেন। বাংলা ও ইংরেজি মিলিয়ে পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করলেন তিনি।
বন্ধু-সহপাঠীদের মাঝে সস্ত্রীক লোটে শেরিং। ছবি: আনোয়ার হোসেন
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা লোটে শেরিংয়ের ৭৭ জন সহপাঠী চিকিৎসক গতকাল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে গিয়েছিলেন। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে প্রত্যেকেই একটি নির্দিষ্ট জার্সি পরেন। লোটে শেরিং যখন আসেন, তখন তাঁকেও এই জার্সি পরতে বলা হলে অবলীলায় সেই জার্সি পরে নেন তিনি। এখানকার ছাত্র থাকার সময় লোটে শেরিং সহপাঠীদের সঙ্গে একবার শিক্ষাসফরে কক্সবাজার গিয়েছিলেন। সেসব স্মৃতিচারণ করে বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটান তিনি।
সহপাঠীদের সঙ্গে ছাত্রজীবনের বেঞ্চে বসে আড্ডায় মাতেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। ছবি: আনোয়ার হোসেন
এক সময়ের সহপাঠীদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে সময় কাটালেও বলতে ভোলেননি গুরুত্বপূর্ণ কথা। তিনি বলেন, এখনো সপ্তাহে দুই দিন তিনি নিজের দেশে বিনা মূল্যে অস্ত্রোপচার করেন। নিজের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে নিজের পরিকল্পনার কথাও বন্ধুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেন। জানান, চিকিৎসক পরিচয়েই নিজের জীবনের শেষ দিনটি কাটাতে চান তিনি।
ময়মনসিংহে পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটিয়ে গেলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। ছবি: আনোয়ার হোসেন
লোটে শেরিং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ২৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ নেন। গত শুক্রবার তিনি চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসেন। গতকাল নিজের এক সময়কার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে যান। চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে তিনি আজ সোমবার নিজের দেশে ফিরে যান।

নির্যাতিতার জবানবন্দি নেবেন শুধু নারী ম্যাজিস্ট্রেট

ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের জবানবন্দি নেয়ার জন্য শুধু নারী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। তবে সংশ্লিষ্ট জেলায় বা মহানগরীতে নারী ম্যাজিস্ট্রেট না থাকলে অন্য কোনো যোগ্য ম্যাজিস্ট্রেটকে এই দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্ট। এ নির্দেশনা অনুসরণের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা বা অসুবিধা দেখা দিলে তা কোর্টের নজরে আনতেও বলা হয়েছে জারি করা এক সার্কুলারে।
গত ১৫ই এপ্রিল সোমবার প্রধান বিচারপতি  সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদেশক্রমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. মো. জাকির হোসেন ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি এই সার্কুলার জারি করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারির কথা সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এ সার্কুলার জারি করেছে।
সামপ্রতিক বেশ কয়েকটি নারী নির্যাতনের ঘটনা এবং ফেনীর সোনাগাজী সিনিয়র ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দি নিয়ে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। মামলাটির তদন্তে পিবিআইকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এমন ঘটনার পর গতকাল এই নির্দেশনা এল।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এ বর্ণিত অপরাধ সংঘটনে ওয়াকিবহাল ব্যক্তির জবানবন্দি উক্ত আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করা হয়। অপরাধের তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে লিপিবদ্ধকৃত জবানবন্দি অত্যন্ত  গুরুত্ব বহন করে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, একজন পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নারী বা শিশু ভিক্টিম ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিতে সংকোচ বোধ করে। ফলে এরূপ নির্যাতনের শিকার শিশু বা নারী ঘটনার প্রকৃত বিবরণ দিতে অনেক সময় ইতস্তত বোধ করেন। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ধর্ষণ বা  যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুদের জবানবন্দি একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধ করা আবশ্যক। তবে সংশ্লিষ্ট জেলায় বা মহানগরীতে নারী ম্যাজিস্ট্রেট না থাকলে অন্য কোনো যোগ্য ম্যাজিস্ট্রেটকে এ দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্ট।  এ নির্দেশনা অনুসরণের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা বা অসুবিধা দেখা দিলে তা সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনতেও বলা হয়েছে সার্কুলারে।

গানের রাজা ’১৯ হলো লাবিবা

এসিআই এক্সট্রা ফান কেক-চ্যানেল আই গানের রাজা ’১৯ হয়েছে খুলনার মেয়ে ফাইরুজ লাবিবা। শুক্রবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে আলো ঝলমল মঞ্চের মহোৎসবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। মহোৎসবে অতিথি বিচারকের আসনে ছিলেন উপমহাদেশের খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। তিনি ‘অনেক বৃষ্টি ঝরে তুমি এলে...’ গানটি গেয়ে বিচারকের আসনে বসেন। এ মহোৎসবের মাধ্যমে বাংলাদেশ খুঁজে পেলো দেশসেরা ‘গানের রাজা’। পুরস্কার হিসেবে ‘গানের রাজা’কে দেয়া হয়েছে ৫ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থান অধিকারী নেত্রকোনার মো. শফিকুল ইসলাম পেয়েছে ৩ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী ময়মনসিংহের সিঁথি সরকার পেয়েছে ২ লাখ টাকা। এদের প্রত্যেকের  জন্যই ছিলো আরো আকর্ষণীয় পুরস্কার।
বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন রুনা লায়লা, এসিআই কনজ্যুমার ব্র্যান্ডস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আলমগীর, এসিআই ফুডস্ লিমিটেডের পরিচালক ফারিয়া ইয়াসমিন, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ, ইমপ্রেস গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ মজুমদার এবং ইমপ্রেস গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদ সদস্য মুকিত মজুমদার বাবু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এ প্রতিযোগিতার প্রধান দুই বিচারক চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠখ্যাত কোনাল ও ইমরান। অনুষ্ঠানের শুরুতে কবিতা আবৃত্তি করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর এমপি। এরপর তিনি শিশু ও নারী নির্যাতন বন্ধে দেশের সকল মানুষের প্রতি আহবান জানান। তিনি আরো বলেন, শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের বিদায়ের পর তারাই আমাদের হাল ধরবে। স্বাগত বক্তব্যে ফরিদুর রেজা সাগর এবং সৈয়দ আলমগীর একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে দেশের সকলের প্রতি আহবান জানান শিশু ও নারী নির্যাতন বন্ধের।
শীর্ষ ৫ প্রতিযোগী লরা, লাবিবা, শফিকুল, পনি চাকমা এবং সিঁথির সঙ্গে গান করেছেন যথাক্রমে আগুন, এস আই টুটুল, ডলি সায়ন্তনী, তপু এবং তপন চৌধুরী। সিনিয়রদের সঙ্গে শিশুদের গান শোনার এক পর্যায়ে সিঁথি সরকারের গান শুনে রুনা লায়লা বলেন, আমার সুরে একটি গান আমি তোমাকে দিয়ে গাওয়াবো। সিঁথি গেয়েছিল তপন চৌধুরীর সঙ্গে ‘তুমি আমার প্রথম সকাল...’ গানটি। এরপর একঝাঁক সহশিল্পীর সঙ্গে একক পারফরমেন্স করেন পরীমনি এবং জুটি বেঁধে পারফর্ম করেন পূর্ণিমা ও রোশান।
প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ‘এসিআই এক্সট্রা ফান কেক-চ্যানেল আই-গানের রাজা, পাওয়ার্ড বাই এসিআই পিওর স্পাইসেস’ অনুষ্ঠানটি টিআরপি রিপোর্টের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশের সকল টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মধ্যে প্রথম অবস্থানে ছিল। ইউটিউব ও ফেসবুকে নিয়মিত লাখ লাখ দর্শক অনুষ্ঠানটি দেখে প্রসংশা করেছেন। মহোৎসব উপস্থাপনা করেছেন লাক্স-চ্যানেল আই তারকা মুমতাহিনা টয়া ও শিশুশিল্পী সাহির। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছেন তাহের শিপন। মহোৎসব অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ তথা বিশ্বব্যাপী চ্যানেল আই-এর পর্দায় ঐদিন রাত ৭টা ৪০ মিনিট থেকে সরাসরি উপভোগ করেছেন দর্শকরা।
উল্লেখ্য, গত ৬ মাস আগে সারাদেশ থেকে ৬ থেকে ১৩ বছর বয়সী ৫ হাজারের বেশি কোমলমতি শিশু অংশ নিয়েছিল নিবন্ধনে। তাদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত ৫৪ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে বিভিন্ন গ্রুমিং এবং তালিমের প্রক্রিয়া শেষে ৪০টি সফল পর্বের সম্প্রচার হয় চ্যানেল আইতে। সেখান থেকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য বিচারকরা নির্বাচন করে শীর্ষ ৫ প্রতিযোগীকে। তারা হলো মেফতাহুর জান্নাত লরা (চাপাইনবাবগঞ্জ), ফাইরুজ লাবিবা (খুলনা), মো. শফিকুল ইসলাম (নেত্রকোনা), পনি চাকমা (রাঙামাটি) এবং সিঁথি সরকার (ময়মনসিংহ)।

২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ব্যবস্থা করছেন জেনারেল সিসি

মিশরের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আস-সিসি ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছেন। এজন্য তিনি দেশটির সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং জাতীয় সংসদ এরইমধ্যে তা অনুমোদনও দিয়েছে। তবে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ৩০ দিনের মধ্যে গণভোটে দিতে হবে।
ধারণা করা হচ্ছে- গণভোটে তা অনুমোদন পাবে এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছেন। চলতি মেয়াদ শেষ হবে ২০২২ সালে। কিন্তু সংবিধান অনুমোদিত হলে তিনি আরো এক দফা প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন।
তাতে জেনারেল সিসির বর্তমান ক্ষমতার মেয়াদ বাড়বে আরো ছয় বছর। শুধু তা-ই নয়, এর ফলে প্রেসিডেন্ট সিসি বিচার বিভাগের ওপর আরো ক্ষমতা পাবেন এবং রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা শক্তিশালী করবেন।
দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশে প্রথমবার গণতান্ত্রিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ইখওয়ানুল মুসলিমিনের নেতা মুহাম্মদ মুরসি। কিন্তু তার শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখা দিলে ২০১৩ সালে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে দায়িত্ব নেন জেনারেল সিসি। তখন থেকেই মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো বলছে, তিনি ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর দমনপীড়ন চালাচ্ছেন।