Thursday, November 19, 2015

মুজাহিদের সাথে পরিবারের সাক্ষাত, আইনজীবীদের আবেদন

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সাথে তার পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করেছেন। আজ দুপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের পরিবারের ১২ জন সদস্য তার সাথে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাতের পর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ছেলে আলী আহমেদ মাবরুর সাংবাদিকদের বলেন, আমার বাবা সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। মানসিকভাবেও ভালো আছেন। তিনি দৃঢ় চিত্তে বলেছেন, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ, নির্দোষ, নির্দোষ। জাতির কাছে পরিস্কার হয়েছে তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। এরপর তাকে ফাঁসি দেয়া হলে তা হবে একজন নির্দোষ মানুষকে ঠাণ্ডমাথায় হত্যা করা।
মাবরুর বলেন, সাক্ষাতে বাবা বলেছেন- ‘নাগরিক হিসেবে আমি (মুজাহিদ) রাষ্ট্রপতিকে আমার সাংবিধানিক অভিভাবক মনে করি। একই সাথে রাষ্ট্রপতি নিজে একজন আইনজীবী এবং আইনবিদও বটে। আমি আইনজীবীদের সাথে সাক্ষাতের পর পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতির কাছে একটি বিশেষ বিষয়ে আবেদন করতে চাই।’
এই বিশেষ বিষয় মার্সি পিটিশন কি-না? এ সম্পর্কে আলী আহমেদ মাবরুর তার বাবা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, ‘এটা একটা বিশেষ বিষয় যা আমি (মুজাহিদ) আইনজীবীদের বলব।’
এ বিষয়ে আলী আহমেদ মাবরুর বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে- এখানে আইনগত কোনো বিষয় থাকতে পারে।
আজ বেলা ২টায় আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের স্ত্রী, ছেলে ও ছেলের বউ, মেয়ে ও মেয়ে জামাইসহ পরিবারের ১২ জন সদস্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাতের জন্য প্রবেশ করেন। প্রায় ৩০ মিনিট তারা কথা বলার পর কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।
আলী আহমেদ মাবরুর আরো বলেন, আমার বাবা শুনেছেন তার রিভিউ আবেদন খারিজ করা হয়েছে। তবে অফিসিয়ালি তাকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি বা তিনি অর্ডারের কোনো কপি পাননি। আদেশের কপি পেলে আইনজীবীদের সাথে তিনি সাক্ষাৎ করতে চান। আমাদের সাথে সাক্ষাতের সময় সেখানে ডেপুটি জেলার লাবলু সাহেব উপস্থিত ছিলেন। তাকে আমার বাবা অনুরোধ জানিয়েছে আইনজীবীদের সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দেয়ার জন্য।
আলী আহমেদ মাবরুর আরো বলেন, আমার বাবা দেশবাসীকে সালাম জানিয়েছেন এবং দোয়া চেয়েছেন।
মুজাহিদের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে আইনজীবীদের আবেদন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সাথে আগামীকাল শুক্রবার সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে তার আইনজীবীরা একটি আবেদন করেছেন।
মুজাহিদের আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম জানান, আগামীকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১০টায় আমরা পাঁচজন আইনজীবী উনার সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে। রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়া ও আইনগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করার জন্য আমরা উনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই। আনুমতি পেলে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, অ্যাডভোকেট মশিউল আলম ও আমি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সাথে সাক্ষাৎ করব।

সালাউদ্দিন কাদেরের সঙ্গে দেখা করেছেন পরিবারের সদস্যরা

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেছেন তাঁর স্বজনরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরীসহ নয়জন তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখা করেন।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে সাকা চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন পরিবারের সদস্যরা।
দেখা করতে যাওয়া অন্যরা হলেন—বড় ছেলে ফজলুল কাদের ফাইয়াজ, ছোট ছেলে হুমমাম কাদের, মেয়ে ফারজিন কাদের, বড় ছেলের বউ দানিয়া খন্দকার, মেয়েজামাই জাফর খান, দুই বোন জোবেদা মনোয়ার ও হাসিনা কাদের, তাঁর চাচাতো ভাই ইকবাল হোসেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তালিকায় মোট ১৫ জনের নাম দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে নয়জন এসেছেন। এই নয়জনকেই ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরিবারের আরো কয়েক সদস্য এসেছিলেন, কিন্তু তাঁদের নাম আবেদনের লিস্টে না থাকায় তাঁদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সকালে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম খান এনটিভি অনলাইনকে জানান, কারাগারে তাঁদের ৩০ মিনিট কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার মানবতাবিরোধী অপরাধে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ দুজনের রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

পৃথক চুক্তি এশিয়াকে বিভক্ত করবে

পৃথক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি এশিয়ায় জাতিগত বিভক্তি আনবে বলে হুশিয়ার করে দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (অ্যাপেক) সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও জনবহুল এশিয়ায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্র আলাদা আলাদাভাবে বাণিজ্য চুক্তি ও মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। চীন তার মিত্রদের নিয়ে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল (এফটিএএইপি) গঠন করতে চায়।
অন্যদিকে চীনকে বাদ রেখে ১২ দেশের মধ্যে আন্তপ্রশান্ত মহাসাগরীয় অংশীদারিত্বমূলক (টিপিপি) মুক্তবাণিজ্য চুক্তির দিকে বেশি মনোযোগ যুক্তরাষ্ট্রের। গত মাসে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১২ দেশের সঙ্গে টিপিপি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। খবর এএফপির। অ্যাপেকে বাণিজ্য নেতাদের উদ্দেশে জিনপিং বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তির ফলে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি আসার আশংকা তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতিকে এগিয়ে নিতে তাই এফটিএএইপি চুক্তির বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে।’ গত বছর বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত অ্যাপেক সম্মেলনে চীনা রোডম্যাপ অনুমোদিত হলেও গত মাসেই মার্কিন রোডম্যাপের টিপিপি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র জাপান ব্রুনেইসহ ৮০ কোটি জনসংখ্যার ১২ দেশের মধ্যে এটিই হচ্ছে পৃথিবীর বৃহত্তম অর্থনৈতিক গ্রুপ। দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়াও এতে যোগ দেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। ২০১৭ সালের আগেই ওবামাকে এই চুক্তি কংগ্রেসে পাস করাতে হবে।
সাগরে দ্বীপ নির্মাণ বন্ধ করতে হবে : ওবামা
দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ বন্ধ করতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। অ্যাপেক সম্মেলনে তিনি এশীয় মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। অর্থনৈতিক ইসু্যুর বাইরে কথা না বলতে চীনের আহ্বান সত্ত্বেও ওবামা বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে চীন ও প্রতিবেশী ছোট দেশগুলোর বিরোধে সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, বেইজিংকে শিগগিরই দক্ষিণ চীন সাগরে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও সামরিকায়ন বন্ধ করতে হবে। চীনের সঙ্গে বিরোধে ফিলিপিন্সের জাতিসংঘে মামলাকে সমর্থন দিয়ে ওবামা আরও বলেন, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।
চীন সাগরে নাক গলাতে আসবেন না : বেইজিং
দক্ষিণ চীন সাগরে নাক না গলাতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে চীন। এ বিরোধ থেকে ওয়াশিংটনকে দূরে থাকার পরামর্শ বেইজিংয়ের। বুধবার নিয়মিত এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হং লি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তেজনা নিয়ে খেলা বন্ধ করতে হবে।
‘আনারস শার্টে’ অ্যাপেক সম্মেলন
ফিলিপিন্সের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (অ্যাপেক) সম্মেলনে এবার আনারস শার্টে সেজেছে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্বনেতারা। দেশটির বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার পল ক্যাবরাল দীর্ঘ চার মাসের পরিশ্রমে ফিলিপিন্স ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে ওই শার্ট তৈরী করেছেন। খবর দ্যা গার্ডিয়ানের। অ্যাপেক সম্মেলনে অংশগ্রহনকারী সকলেই পরেছে ক্যাবলার তৈরীকৃত ওই শার্ট। ফিলিপিন্সের ঐতিহ্য ‘ব্যারং তাগালং’ শার্টের সঙ্গে মিল রেখে তৈরী হয়েছে শার্ট। ‘ব্যারং তাগালং’ জাতীয় পোশাক বিয়ের মত জমকালো আয়োজনে পরিধান করে ফিলিপিন্সবাসী।

আইএস মোসাদের সৃষ্টি

বৈঠক শেষে তোলা ছবিতে ম্যাককেইনের সঙ্গে
আবুবকর বাগদাদি ও আইএসের আরেক শীর্ষ
নেতা মোহাম্মদ নূর (গোল চিহ্নিত) -সংগৃহীত
দুনিয়াব্যাপী ‘ইসলামী খেলাফত’ প্রতিষ্ঠার যুদ্ধের স্বঘোষিত খলিফা ও সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নেতা খলিফা আবুবকর আল বাগদাদি মুসলমান নন। তিনি একজন ইহুদি। তার আসল নাম আকা ইলিয়ট শিমন। এর চেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী ‘ইসলামী শাসনব্যবস্থা’ কায়েমের আদর্শে মত্ত আইএস ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সৃষ্টি। এ জঙ্গিগোষ্ঠীর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রত্যেকেই মোসাদের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। মোসাদের প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতেই আইএস জঙ্গিদের ‘যুদ্ধকৌশল’ শেখানো হয়।
সুসংগঠিত এ জঙ্গিগোষ্ঠীটি ‘ইসলামিক স্টেট’ নামে আত্মপ্রকাশের আগে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের সিনিয়র সিনেটর ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জন ম্যাককেইনের সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছে। গোড়ার দিকের ওই গোপন বৈঠকগুলোতে মোসাদের বেশ কয়েকজন সদস্য ও আইএসপ্রধান বাগদাদি উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও গবেষণা প্রতিবেদন ঘেঁটে বিশ্বব্যাপী আতংক সৃষ্টি করা ইসলামিক স্টেট ও এর প্রধান খলিফা আবুবকর আল বাগদাদির পরিচয় নিয়ে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) গোপন নথিতেও এ ব্যাপারে উল্লেখ আছে বলে জানিয়েছে ‘আমেরিকান ফ্রি প্রেস’ নামের ওয়েবসাইট। সন্ত্রাসবাদের ইতিহাসে সবচেয়ে ধনী সংগঠন বলে পরিচিত আইএসের উত্থান হয় গত বছরের জুনে। ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অংশ দখলে নিয়ে ইসলামিক স্টেট নাম দিয়ে খেলাফত ঘোষণা করেন বাগদাদি।
প্যারিসে ভয়াবহ হামলার পর একই কথা বলেছেন কিউবার সাবেক নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রো ও মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। সংবাদ সম্মেলন করে দু’জনই বলেছেন, আইএস ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অস্ত্র। বিশ্বব্যাপী নিজেদের আধিপত্য বিস্তার ও স্বার্থসিদ্ধির জন্য আইএস নামের এ ভয়ানক কালসাপ মাঠে নামিয়েছে তারা।
ইসলামিক স্টেট সৃষ্টির এক বছর আগে ২০১৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন সিরিয়ায় আবুবকর আল বাগদাদিসহ অর্ধডজন শীর্ষ জঙ্গি নেতার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন। সম্প্রতি সেই বৈঠকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ইউটিউবে। মার্কিন প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজ ও সিএনএনের একটি ভিডিও স্নাপশটে এ ছবির ব্যাপারে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আমেরিকান ফ্রি প্রেসের প্রতিবেদন জানায়, ইহুদি পিতা-মাতার কোলে জন্ম নেন বাগদাদি। এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা তথ্যানুযায়ী, বাগদাদিকে টানা এক বছর সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে মোসাদ। একই সময়ে আরবি ভাষা ও ইসলামী শরিয়ার ওপর কোর্স করেছেন বাগদাদি। এ সময় তিনি ইব্রাহিম ইবনে আওয়াদ ইবনে ইব্রাহিম আল বদরি নাম ধারণ করেন। তবে বাগদাদির পরিচয় সম্পর্কে ছড়ানো হয়েছে- তিনি ১৯৭১ সালের ২৮ জুলাই ইরাকের সামারায় জন্মগ্রহণ করেন। বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আক্রমণের সময় সামারায় একটি মসজিদে খতিবের দায়িত্ব পালন করেন বাগদাদি। পরে তিনি ‘আমিরে দায়েশ’ উপাধি গ্রহণ করেন।
এডওয়ার্ড স্নোডেন প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের গোপন দলিলের বাগদাদির তথ্য প্রথম প্রকাশ করে মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় ইন্টারনেট রেডিও আজিয়াল ডটকম। পরবর্তী সময়ে ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে। ইরানি গোয়েন্দা সংস্থার পর্যালোচনা নিয়ে এ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় আরবি পত্রিকা ইজিপ্রেসে। যুক্তরাষ্ট্রের এবিসি নিউজ প্রচারিত একটি ভিডিওর বরাত দিয়ে সোশিও-ইকোনমিক হিস্ট্রি নামের একটি ওয়েবসাইট দাবি করেছে, মার্কিন প্রভাবশালী সিনেটর জন ম্যাককেইন আবুবকর আল বাগদাদিসহ কয়েকজন আইএস কর্মকর্তা ও সিরিয়ার বিদ্রোহী কয়েকজন নেতার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। ২০১৩ সালের জুনে যখন এ বৈঠকটি হয়, তখন বাগদাদির মুখে লম্বা দাড়ি ছিল না। ওই বৈঠকে বাগদাদির সহযোগী আইএসের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ নূরও উপস্থিত ছিলেন। উইকিপিডিয়ায় প্রদর্শিত আবুবকর বাগদাদির ছবির সঙ্গে ওই ছবির মিল পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আল আরাবিয়াও ওই ছবিটি প্রকাশ করেছে। সিএনএনের একটি ভিডিওতেও বাগদাদির সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলতে দেখা যায় জন ম্যাককেইনকে। গ্লোবাল রিসার্চ নামের একটি গবেষণা ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, ২০০৪ সাল থেকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে আবুবকর আল বাগদাদি। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বুস্কা কারাগারে ছিলেন তিনি। পলিটিসাইট ডটকমের তথ্যানুযায়ী, সিআইএ’র তত্ত্বাবধানেও বাগদাদি সামরিক প্রশিক্ষণ লাভ করেন। ইরাকের উম কাসর এলাকায় মার্কিন কারাগারে সিআইএ তাকে নিয়ে আসে। সেখান থেকে ২০১২ সালে জর্ডানের একটি গোপন ক্যাম্পে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্স কমান্ড বাগদাদিসহ তার সহযোগী অনেককে প্রশিক্ষণ দেয়। আইএসের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সহিংসতার মাধ্যমে ইসরাইলের ভূখণ্ড বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে মোসাদের। আল কায়দার সাবেক শীর্ষ কমান্ডার ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক জিহাদ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা নাবিল নাইম বৈরুতের টিভি চ্যানেল আল মাইদিনকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আল কায়দার বর্তমান নেতারা ও আইএস সিআইএ’র হয়ে কাজ করছে। এ উদ্দেশ্যে শিয়া-সুন্নি বিরোধ তারাই উসকে দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

লায়লারা কালো পথে

কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তির বি-ব্লকের বাসিন্দা লায়লা বেগম (ছদ্মনাম)। বয়স ১৪ ছুঁইছুঁই। সে জানায়, মাত্র ৬ মাস আগে সে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমান সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে মা-বাবার সঙ্গে। এক নিকটাত্মীয়ের সহায়তায় আশ্রয় নিয়েছে সরকারি বনভূমির বিশাল এলাকাজুড়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা রোহিঙ্গা বস্তিতে। ৩ বোন, মা-বাবাসহ ৫ জনের সংসার। বস্তির ছোট্ট একটি কুঁড়েঘরে থাকার প্রায় ১৫ দিন পর পরিচয় হয় রোহিঙ্গা বস্তির মাঝির মেয়ে সাহানা আত্তারের সঙ্গে। সেই প্রস্তাব দেয় যৌন পেশায় জড়ানোর। অভাবের সংসার, তাই তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাই। তার সহায়তায় সে সপ্তাহের ৪-৫ দিন কনট্রাকের মাধ্যমে সে কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে খদ্দেরদের মনোরঞ্জন করে যাচ্ছে। শীত মওসুমে ভালো চাহিদা থাকায় সপ্তাহের ৭ দিনই তাকে কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করতে হয়। শুধু লায়লা বেগম নয়, উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে বর্তমানে উঠতি বয়সের ৩ শতাধিক কিশোরী দিয়ে যৌন ব্যবসা করানো হচ্ছে- এমন অভিযোগ উঠেছে। আবার অনেকে স্বেচ্ছায় টাকার লোভে এ পেশায় নাম লিখিয়েছে। বর্তমানে শীত মওসুমকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের এক শ্রেণীর হোটেলমালিক পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য এসব রোহিঙ্গা কিশোরীকে নিয়ে যৌন-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে রোহিঙ্গা কিশোরীরা পুলিশের হাতে আটক হলেও পেশাদার দালালদের সহযোগিতায় তারা জামিনে বেরিয়ে আসছে। রোহিঙ্গা শিবিরের এসব কিশোরীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জেলা শহর ও দেশের বিভিন্নস্থানের নামিদামি হোটেলে দেহব্যবসা করা হচ্ছে বলে ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে। অনেকে অভাবের তাড়নায় এ পেশাকে স্থায়ী হিসেবে বেছে নিয়েছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরভিত্তিক একটি শক্তিশালী পাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। পাচারকারী চক্র বিভিন্ন গার্মেন্টে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের কিশোরীদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দিচ্ছে। ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকায় কিশোরীদের সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেয়। তাও দরদাম নির্ধারিত হয় গায়ের রং, চেহারা ও বয়সের ওপর ভিত্তি করে। উচ্চবেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারী চক্র সম্প্রতি একটি ২০ জনের কিশোরী দল নিয়ে ভারতের মারাঠি নামক শহরে যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দিয়েছে- এমন খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ভারতের মারাঠি নামক শহরে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মহিলা যৌন ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনবিরোধী একটি চত্রু এসব রোহিঙ্গা কিশোরীর দিয়ে যৌনপল্লী বানানোর চক্রান্ত করছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়। গত বছর ঢাকার সূত্রাপুর থানায় কুতুপালং শিবিরের নুরুল হক মাঝির মেয়ে ফাতেমা বেগম ৫-৬ জনের একদল কিশোরী নিয়ে ভাড়া বাসায় আটক হয়। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বিচারাধীন। কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা সাবেক ইউপি মেম্বার আওয়ামী লীগ নেতা বখতিয়ার আহমদ জানান, ক্যাম্পভিত্তিক একটি কিশোরী পাচারকারী চক্র সক্রিয়। এর পরও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা রহস্যজনক। উখিয়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের মানুষদের কাছে বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। তাদের অবাধ বিচরণ ও বেশ্যা বাণিজ্য বন্ধ করা না গেলে এবং প্রত্যাবাসন করা না হলে বাংলাদেশের ধর্মীয় মূল্যবোধও নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কুতুপালং শিবির ইনচার্জ মাহমুদুল হক চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রোহিঙ্গা শিবির থেকে কিশোরী পাচারসহ যৌন বাণিজ্যের ব্যাপারে অবগত নয় বলে জানান।

ডিজিটাল ব্ল্যাকআউটের কবলে বাংলাদেশ

ডিজিটাল ব্ল্যাকআউটের কবলে পড়েছিল বাংলাদেশ। গতকাল দেড় ঘণ্টার জন্য দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল দেশ। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই সময় ইন্টারনেট সেবার বাইরে ছিল পুরো দেশ। কোন ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বেলা একটা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত দেশের কোন স্থান থেকে কোন মাধ্যমেই ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যায়নি। প্রবেশ করা যায়নি কোন ওয়েবসাইটে। সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইট ফেসবুকসহ চারটি অ্যাপ গতকাল থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ সেবাগুলো বন্ধ থাকবে পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত। বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানিয়েছেন, ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে ইন্টারনেট বন্ধের কোন নির্দেশনা ছিল না। ওই চারটি লিংক বন্ধ করার প্রক্রিয়া হিসেবে ইন্টারনেট বন্ধ হতে পারে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানিয়েছেন, এ চারটি লিংক ছাড়া টুইটার, ট্যাংগো, আইএমওসহ সামাজিক যোগাযোগের অন্যান্য অ্যাপেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। দেশ ও জাতির নিরাপত্তার স্বার্থেই এগুলো বন্ধ করা হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন। তবে ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে কোন নির্দেশনা ছিল না বলে তিনি জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কারণেই ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের অন্য তিনটি অ্যাপ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশে ইন্টারনেট সংযোগ কখনও বন্ধ রাখা হয়নি। বিগত সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালে কারফিউয়ের মধ্যে মোবাইল ফোন সেবা সাময়িক বন্ধ থাকলেও ইন্টারনেট সেবা চালু ছিল। এ ছাড়া বিটিআরসি একবার ইন্টারনেটের আপলোড গতি কমানোর নির্দেশনা দিলেও ইন্টারনেট তখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
ছয়টি ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রেরিয়াল কেবল (সাবমেরিন কেবলের বিকল্প) সংযোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে একমাত্র সাবমেরিন কেবলে সমস্যা হলে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটে সেবা পেতে মাঝেমধ্যে সমস্যায় পড়তেন।
চলতি বছরের শুরুতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধের সময়ও ‘ভাইবার’ ও ‘হোয়াটসঅ্যাপ’সহ ইন্টারনেটে যোগাযোগের কয়েকটি অ্যাপ কয়েক দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়।
সম্প্রতি দুই বিদেশী নাগরিক হত্যা ও পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলার ঘটনার পর গত ৮ই নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে জঙ্গিরা কার্যক্রম চালাচ্ছে। জঙ্গিদের যোগাযোগ ও অর্থায়ন বন্ধে তাদের শনাক্ত করতে কিছু ‘অ্যাপ’ বন্ধ করাসহ ইন্টারনেটের ওপর ‘সাময়িক কড়াকড়ি’ আরোপের ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিকে গতকাল সকাল ১১টার দিকে বিটিআরসির কাছ থেকে ফেসবুক ও তিনটি ম্যাসেঞ্জার অ্যাপ বন্ধ করার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয় ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। ইন্টারনেট সেবা দেয় এমন সব প্রতিষ্ঠানকেই পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ফেসবুক, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ রাখতে বলা হয়। বেলা ১২টার পর থেকে ক্রমে সারা দেশে এ সেবা বন্ধ হতে থাকে। বেলা একটার দিকে সারা দেশে একযোগে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থা চলে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। তখন ইন্টারনেট দুনিয়া থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ছিল বাংলাদেশ।
এদিকে বিকালে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সাংবাদিকদের বলেন, ফেসবুক, ফেসবুক মেসেঞ্জার, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধের পাশাপাশি অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমের অন্যান্য অ্যাপ- যেমন ট্যাংগো, আইএমও, টুইটারসহ অন্যগুলোও নজরদারিতে রয়েছে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে গ্রাহকদের এই কষ্ট মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বন্ধ হওয়া অ্যাপগুলো চালু হতে পরবর্তী নির্দেশনা পর্য?ন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি কমিশন বিটিআরসির সচিব সারোয়ার আলম জানান, যারা গেটওয়ে সার্ভিসগুলো চালায়, তারা ভুল করে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিল। তাদেরকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। তবে তারা মেইন সুইচটাই বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে কিছুক্ষণ ইন্টারনেট ছিল না। এটিকে কারিগরি ত্রুটি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে সারা দেশে একযোগে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়ায় ইন্টারনেট ভিত্তিক সব সেবা বন্ধ হয়ে যায়। বিমান সংস্থা, পুুঁজি বাজার, হাসপাতালসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিপাকে পড়ে। এই দেড় ঘণ্টায় বিমান সংস্থাগুলো একটিও টিকিট বিক্রি করতে পারেনি বলে একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বন্ধ ছিল পুঁজি বাজারে লেনদেন। বেসরকারি বিমান সংস্থা নভো এয়ারের মার্কেটিং বিভাগের প্রধান সোহেল মুজিদ একটি বার্তা সংস্থাকে জানান, ইন্টারনেটহীন দেড় ঘণ্টায় আমরা খুব চিন্তায় পড়েছিলাম। একটি পর্যায়ে অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়-আর কিছুক্ষণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে আমরা হয়তো সন্ধ্যার পরে সব ফ্লাইটই বাতিল করে দিতাম।

মৃত্যুদণ্ড বহাল by উৎপল রায়

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সর্বোচ্চ আদালত গতকাল তাদের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন। এখন আইন অনুযায়ী, তাদের সামনে শুধু প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ রয়েছে। তারা প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা না চাইলে সরকার যে কোন মুহূর্তে এ রায় কার্যকর করতে পারবে। রায়ের পর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেমড সেলে রাখা হয়েছে। মুজাহিদের ছেলে আলী আহসান মাবরুর জানান, সাক্ষাতের জন্য কারা কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করা হয়েছে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আজ সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জামায়াত।
গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ খারিজের রায় ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এ রায়ে জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, রায় কার্যকর সময়ের ব্যাপার মাত্র। এখন সরকার চাইলে যে কোন সময় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারে। তবে, শেষ সুযোগ হিসেবে প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারবেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কিনা- সেটি তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হেসেন।
রিভিউ পিটিশন খারিজ করে বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ দুই নেতার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, আওয়ামী লীগ, গণজাগরণ মঞ্চ, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন এবং বিশিষ্টজনরা।
মঙ্গলবার জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ পিটিশনের ওপর শুনানিতে অংশ নেন তার প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পুনর্বহালের বিষয়ে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন। শুনানি শেষে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে বলে জানিয়ে দেন সংশ্লিষ্ট আপিল বেঞ্চ। ওই দিন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রিভিউ পিটিশনের ওপর শুনানির কথা থাকলেও এ বিষয়ে পরে শুনানি হবে বলে আদেশ দেন বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে গঠিত ৪ সদস্যের আপিল বেঞ্চ। গতকাল সকাল ৯টা ৫ মিনিট সোয়া এক ঘণ্টা পর্যন্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দাখিলকৃত রিভিউর পক্ষে ও বিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। একাত্তরে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন, সে বিষয়ে নানা যুক্তি-উপাত্ত তুরে ধরেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। পাকিস্তানের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটও দাখিল করেন খন্দকার মাহবুব। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আদালত ওই সার্টিফিকেট গ্রহণ করেননি। আদালত বলেছেন, পাকিস্তান মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিরোধিতা করছে। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বাঁচাতে তারা যে কোন সার্টিফিকেটই দিতে পারে। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানিতে অংশ নেন।
ঘরির কাঁটায় তখন ১১টা ৩০ মিনিট। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট এজলাসে তখন উৎসুক মানুষের ভিড়। মুক্তিযোদ্ধা, গণমাধ্যমকর্মী, আইনজীবী, আসামির স্বজনসহ নানান শ্রেণী-পেশার মানুষ তখন অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। আদালতের আশপাশেও শত শত মানুষ অপেক্ষায়। এ উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট এলাকাজুড়ে নেয়া হয় কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। ১১টা ৩৩ মিনিটে বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে ৪ বিচারপতি এজলাসে তাদের নিজ নিজ আসন গ্রহণ করেন। আদালতে তখন পিনপতন নীরবতা। একপর্যায়ে সংক্ষিপ্ত আদেশে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ পিটিশন খারিজ (ডিসমিসড) মর্মে আদেশ দেন।
রায় কার্যকর সময়ের ব্যাপার: অ্যাটর্নি জেনারেল
রিভিউ পিটিশন খারিজ হওয়ার পর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আপিল বিভাগের এ আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আপিল বিভাগের এ আদেশের ফলে দণ্ড কার্যকর এখন সময়ের ব্যাপার। সরকার চাইলে যে কোন সময় এ দণ্ড কার্যকর করতে পারে। তিনি বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও মুজাহিদের রায় কার্যকরে একমাত্র বাধা ছিল রিভিউ পিটিশন। যেহেতু তা খারিজ হয়ে গেছে তাই দণ্ড কার্যকরে আর কোন বাধা নেই। তবে, আসামিরা সে ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারবেন। সেটি একান্তই তাদের বিষয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন একাত্তরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যায় জড়িত ছিলেন। এতদিন বিচার না হওয়ায় এ নিয়ে হতাশা ছিল। এ হত্যার বিচারের রায় যদি আমরা না পেতাম তাহলে এ হতাশা আরও বেড়ে যেত।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু আপিল বিভাগের এ আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ রায়ে গণমানুষের যে আশা ছিল সেটা পূরণ হয়েছে। আমরা সন্তোষ্ট। প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, আপিল বিভাগের এ আদেশে আমরা সন্তোষ্ট। এতে আবারও প্রমাণ হলো আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন বলেন, আমরা অবশ্যই এ রায়ে খুশি। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতের জন্য আমরা এতদিন মামলা পরিচালনা করেছি। আপিলের এ চূড়ান্ত রায়ে ন্যায়বিচারের প্রতিফলন ঘটেছে।
প্রাণভিক্ষার বিষয়ে আসামিরাই সিদ্ধান্ত নেবেন -খন্দকার মাহবুব
সালাউদ্দিন কাদের ও মুজাহিদের প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে চেষ্টা করেছিলাম। একজন আইনজীবী হিসেবে আমার দায়িত্ব আসামিকে আদালতে নিরপরাধ হিসেবে প্রমাণ করা। আমি সেই লড়াই লড়েছি। আপিল বিভাগ যে রায় দিয়েছেন, তা সঠিক মনে করেই দিয়েছেন। আসামি ন্যায়বিচার পেয়েছেন কিনা সেই বিচার আল্লাহর কাছে চাইতে পারেন। রিভিউ পিটিশন খারিজ হওয়ায় আসামিরা প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে বিষয়ে তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন। আর সরকার চাইলে সাজা মওকুফ বা কমাতে পারে।
আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ছেলে আলী আহমেদ মাবরুর সাংবাদিকদের বলেন, রিভিউ পিটিশন খারিজ হওয়ায় আমরা হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। মাবরুর বলেন, তিনি (মুজাহিদ) হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছেন- সাক্ষীরা কেউ এমন কথা বলেননি। হত্যার কোন অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় আমরা হতাশ। বাবা ও আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১৩ সালের ১লা অক্টোবর বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে গঠিত ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৯শে অক্টোবর আপিল করেন তিনি। চলতি বছরের ১৬ই জুন শুরু হয়ে ৭ই জুলাই পর্যন্ত ১৩ কার্যদিবসে আপিল শুনানি শেষ হয়। ২৯শে জুলাই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির চূড়ান্ত রায় দেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ। পরে ৩০শে সেপ্টেম্বর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায়। এরপর নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যেই রিভিউ আবেদন করেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১৭ই জুলাই জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই বছরের ১১ই আগস্ট ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন মুজাহিদ। চলতি বছরের ২৯শে এপ্রিল থেকে ২৭শে মে ৯ কার্যদিবসে আপিল শুনানি শেষ হয়। গত ১৬ই জুন মুজাহিদের আপিল খারিজ করে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। ৩০শে সেপ্টেম্বর মুজাহিদের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে আপিল বিভাগ। এর পরই রিভিউ পিটিশন দাখিল করেন মুজাহিদের আইনজীবীরা।
আশঙ্কা করছি কিছু হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিশেষ কারণে সামাজিক যোগাযোগের কয়েকটি মাধ্যম সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো আছে, তবে আমরা আশঙ্কা করছি কিছু হতে পারে। সেজন্যই এ ব্যবস্থা গ্রহণ। আমি বলছি না যে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়ে গেছে। গতকাল বিকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাছে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রী আরও জানান, শুধু আমাদের দেশে নয়, ফ্রান্সসহ অন্যান্য জায়গায় অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে (আমাদের) দেশ একটু উৎকণ্ঠিত ছিল। বিচার কার্যকর করার সময় একটা অচলাবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। নানান ধরনের কথাবার্তা আসছে। সেজন্যই দেশকে স্থিতিশীল ও শান্ত রাখার জন্য নিরাপত্তার খাতিরে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিষয়ে আদালতের রায়ের পর তাদের বিচার কার্যকর করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগ থেকে যেভাবে নির্দেশ আসবে, সেভাবেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনের বাইরে কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে না। তিনি বলেন, কোর্টের অর্ডার আইজি প্রিজনের কাছে যাবে। প্রাণভিক্ষার একটা ব্যাপার আছে, আইন অনুযায়ী যদি এ সুবিধা তারা পান তাহলে আমরা সেভাবেই ব্যবস্থা নেবো। এদিকে গতকাল সকালে দিনাজপুরে ইতালীয় নাগরিককে ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তার জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের) আমি ৩০ বছর এখানে কাজ করছি। আমার কোন শত্রু নেই। তার আত্মবিশ্বাস ছিল। কিন্তু অমানুষ না হলে এমন হামলা কেউ ঘটাতে পারে না। আমরা চেষ্টা করছি, দোষীদের খুঁজে বের করা হবে। জামায়াতের ডাকা আজকের হরতালের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জামায়াত একটি রাজনৈতিক দল। এখনও তাদের অস্তিত্ব আছে, হরতাল ডাকতেই পারে। তারা আগেও হরতাল করেছে, মানুষ তাতে সাড়া দেয়নি। বেগম জিয়ার অবরোধের কর্মসূচি এখনও অফিসিয়ালি উইথড্রো করেননি। আমাদের কাছে এখনও চালু আছে। কাজেই হরতাল-অবরোধ যাই আসুক, মানুষ এগুলোকে সমর্থন করে না। এ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগের সন্তোষ, আনন্দ মিছিল
মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, আমরা সব সময় আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা মনে করি দেশবাসী প্রত্যাশিত রায় পেয়েছে। আওয়ামী লীগও এ রায়ে সন্তুষ্ট। এ রায় বাধাগ্রস্ত করার জন্য কেউ কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা নাশকতা করতে চাইলে সে সব সন্ত্রাসী বা দলকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে দেশ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে গেল। রায়ে প্রমাণিত হয়েছে আওয়ামী লীগ আপসের রাজনীতি করে না।
এদিকে আপিল বিভাগের এ রায়কে স্বাগত জানিয়ে এবং অবিলম্বে তাদের ফাঁসি কার্যকরের দাবিতে গতকাল দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে আনন্দ মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ফাঁসির রায় (রিভিউ) পুনর্বিবেচনার দিন ধার্য্য থাকায় সকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অবস্থান গ্রহণ করেন। এ সময় নগর ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতা-কর্র্মীরা অবস্থান নেয়। এছাড়া শ্রমিক, কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ আনন্দ মিছিল করেছে। সংগঠনের আহ্বায়ক ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে এই মিছিলটি শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়।