Thursday, October 31, 2019

ভারত থেকে আলাদা হওয়ার ঘোষণা মণিপুরের

লন্ডন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের মণিপুর অঙ্গরাজ্যের ভিন্নমতাবলম্বী রাজনৈতিক নেতারা। মণিপুরের মহারাজা লিসেম্বা সানাজাওবার একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার এই ঘোষণা দেন। পাশাপাশি বৃটেনে একটি প্রবাসী সরকার ‘মণিপুর রাষ্ট্রীয় পরিষদ’ গঠন করেছে তারা। স্বঘোষিত ওই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ামবেন বিরেন এবং পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নরেংবাম সমরজিৎ গণমাধ্যমের সামনে মঙ্গলবার এই ঘোষণা দেন। তাদের এই নির্বাসিত সরকার বৃটেন থেকেই পরিচালিত হবে। তারা জাতিসংঘের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা চালাবেন বলে জানিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা ও জিও টিভি।
মঙ্গলবারের ঘোষণায় নরেংবাম ও বিরেন জানান, তারা মণিপুরের মহারাজার অনুমোদন নিয়েই এই নির্বাসিত সরকার গঠন করেছেন। বক্তব্যের সমর্থনে একটি নথিপত্রও উপস্থাপন করেছেন তারা।
তাতে দেখা যায়, মহারাজা ২০১৩ সালের ১৫ই মার্চ স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায়  তাদেরকে রাজ্যের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা দিয়েছেন। তারা উভয়ই নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারের নির্যাতন ও দমন থেকে পালিয়ে  তারা বৃটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছেন। তারা বলেন, ভারতে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে তাদের গ্রেপ্তার করা হতো ও মেরে ফেলা হতো।
তারা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে, আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের কাছে মণিপুরের স্বাধীন সরকারকে উপস্থাপন করার, স্বাধীনতা ঘোষণা করার ও স্বীকৃতি চাওয়ার সঠিক সময়। আমরা আজ থেকে মণিপুরের বিধিসম্মত এবং নির্বাসিত সরকারকে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য জাতিসংঘের সকল সার্বভৌম রাষ্ট্রের সরকারকে অনুরোধ করছি। ত্রিশ লক্ষ মণিপুরী জনগণও স্বীকৃতি চান।
তারা আরো বলেন, ভারতে থাকাকালীন মণিপুরের স্বাধীনতা ঘোষণা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। কারণ আমরা, মণিপুর রাজ্য কাউন্সিলের সদস্যরা ভারত সরকারের হাতে গ্রেপ্তার, নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার মুখোমুখি হতাম।
তারা বলেন, নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার অসহিষ্ণু। এই সরকার হিন্দুত্বের আধিপত্যবাদের স্বার্থে ক্ষুদ্র জাতি ও সমপ্রদায়কে নির্মূল করে দেয়ার নীতিতে বিশ্বাস করে। তাই ভারত থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে নিরাপদ ছিল না।  নরেংবাম ও বিরেন ঘোষণা দেন, তাদের সরকার হচ্ছে মণিপুরের মহারাজার সরকার। এই সরকারের প্রধান তিনি। সাংবিধানিকভাবে মণিপুর একটি রাজতন্ত্র শাসিত দেশ।
স্বঘোষিত মণিপুর সরকারের নেতারা বলেন, ভারতীয় দখলদার সরকারের কঠোর আইনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে মণিপুর। এর মধ্যে রয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী (বিশেষ ক্ষমতা) আইন ১৯৫৮। মণিপুর দখল করার পর থেকে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। গত দশ বছরে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষকে অবৈধভাবে হত্যা করা হয়েছে সেখানে। ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষকে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে। বিবিসি’র এক প্রতিবেদন উল্লেখ করে তারা বলেন, গত কয়েক দশকে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজারের বেশি। তারা বলেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্টে  বিচারবহির্ভূত হত্যার ১ হাজার ৫২৮টিরও বেশি মামলা ঝুলে আছে। তাদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনী মণিপুরের মানুষকে দায়মুক্তি দিয়ে হত্যা করে।

মণিপুরে প্রবাসী সরকার গঠন, সাবেক মহারাজার বিরোধিতা

ভারতের মণিপুর রাজ্যের স্বাধীনতা ঘোষণা করে একটি প্রবাসী সরকার গঠন করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শুরুতে তাতে মণিপুর রাজ্যের সাবেক মহারাজার সংশ্লিষ্টতার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু এর পরপরই এক ভিডিও বার্তায় এমন কাজের সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন সাবেক মহারাজা লেইশেম্বা সানাজাওবা।
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে আজ বুধবার এ খবর জানানো হয়েছে। এদিনই মণিপুরের সাবেক মহারাজা এক ভিডিও বার্তায় প্রবাসী সরকারের সঙ্গে নিজের দূরত্বের কথা ঘোষণা করেছেন। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, প্রবাসী সরকার গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইয়ামবেন বীরেন ও নরেংবাম সমরজিতের অনুরোধে কিছু নথিপত্রে তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন। কিছু গবেষণাকাজের অনুমতির জন্য ওই নথিপত্রে স্বাক্ষরের প্রয়োজন ছিল বলে জানিয়েছিলেন বীরেন ও সমরজিৎ। এর বেশি কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন মণিপুরের সাবেক মহারাজা।
যুক্তরাজ্যে মণিপুরের প্রবাসী সরকার গঠনের দাবি করেছেন বীরেন ও সমরজিৎ। বীরেন নিজেকে এই প্রবাসী সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ও সমরজিৎ নিজেকে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দাবি করছেন। প্রবাসী সরকারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য মণিপুর স্টেট কাউন্সিল’।
সাবেক মহারাজা লেইশেম্বা সানাজাওবা বলেছেন, এ ঘটনার খবর শুনে তিনি স্তম্ভিত এবং বিস্মিত হয়েছেন।
অন্যদিকে মণিপুরের প্রবাসী সরকারের জন্য সমর্থন আদায়ে বীরেন ও সমরজিৎ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছে যাবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। প্রবাসী সরকারের জন্য সমর্থন আদায়ে পরে তাঁরা জাতিসংঘের স্বীকৃতির জন্য আবেদন করবেন বলেও জানিয়েছেন।
ভারতের মণিপুরের সাবেক মহারাজা লেইশেম্বা সানাজাওবা। স্বাধীনতার ঘোষণা ও প্রবাসী সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন তিনি। ছবি: ভিডিও বার্তা থেকে সংগৃহীত

ভারত থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করল মনিপুর রাজ্য; প্রবাসী সরকার গঠন

ভারত থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে মনিপুর রাজ্য। মনিপুরের মহারাজা লিসেম্বা সানাজাওবার প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার লন্ডন থেকে এই ঘোষণা দেন।
পাশাপাশি ব্রিটেনে একটি প্রবাসী সরকার গঠন করেছেন তারা। এর নাম দিয়েছেন ‘মনিপুর রাষ্ট্রীয় পরিষদ’। স্বঘোষিত ওই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ামবেন বিরেন এবং পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নরেংবাম সমরজিত গণমাধ্যমের সামনে গতকাল এ ঘোষণা দেন। তাদের এই প্রবাসী সরকার ব্রিটেন থেকেই পরিচালিত হবে। তারা জাতিসংঘের সমর্থন অর্জনের চেষ্টাও চালাবেন বলে জানিয়েছেন। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক এক্সপ্রেস এ খবর দিয়েছে।
মনিপুর রাজ্যের স্বাধীনতা ঘোষণা করছেন মহারাজা লিসেম্বা সানাজাওবার প্রতিনিধিরা
ঘোষণায় নরেংবাম ও বিরেন জানান, তারা মনিপুরের মহারাজার অনুমোদন নিয়েই প্রবাসী নির্বাসিত সরকার গঠন করেছে। বক্তব্যের সমর্থনে একটি নথিপত্রও উপস্থাপন করেন তারা। তাতে দেখা যায়, মহারাজা ২০১৩ সালের ১৫ মার্চ স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় তাদেরকে রাজ্যের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা দিয়েছেন। তারা উভয়েই নিশ্চিত করেছেন, সরকারের নির্যাতন ও দমন থেকে পালিয়ে তারা ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছেন। তারা বলেন, ভারতে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে তাদের গ্রেপ্তার ও মেরে ফেলা হতো।
মনিপুর রাজ্যের স্বাধীনতা ঘোষণা করছেন মহারাজা লিসেম্বা সানাজাওবার প্রতিনিধিরা
তারা বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মনিপুরের স্বাধীন সরকারকে উপস্থাপন করার, স্বাধীনতা ঘোষণা করার ও স্বীকৃতি চাওয়ার এটিই সঠিক সময়। আমরা আজ থেকে মনিপুরের বিধিসম্মত এবং প্রবাসী সরকারকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য জাতিসংঘের সকল সার্বভৌম রাষ্ট্রের সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

ইউরোপের উগ্র-দক্ষিণপন্থী এমপিরা কেন কাশ্মীরে? by শুভজ্যোতি ঘোষ

ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পরিস্থিতি সরেজমিনে ঘুরে দেখতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ২৭ জন সদস্য আজ মঙ্গলবার সেখানে গিয়ে পৌঁছেছেন।
এই ইউরোপীয় এমপিদের বেশির ভাগই বিভিন্ন কট্টর দক্ষিণপন্থী দলের রাজনীতিবিদ, আর কাশ্মীরে পা রাখার আগে তারা গতকাল দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও দেখা করে এসেছেন।
এই সফরকে অবশ্য তাদের 'ব্যক্তিগত সফর' বলেই বর্ণনা করা হচ্ছে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে তারা কাশ্মীরে আসেননি।
কিন্তু ভারতের বিরোধী দলগুলি প্রশ্ন তুলছে যেখানে ভারতের বিরোধী নেতাদেরই কাশ্মীরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না, সেখানে কীভাবে এই এমইপি-রা সেখানে ঘুরে দেখার অনুমতি পেলেন?
এদিকে এই সফর থেকে শেষ মুহূর্তে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া একজন ব্রিটিশ এমইপি-ও আজ এই সফরকে একটি 'পিআর স্টান্ট' বলেই বর্ণনা করেছেন। 
বস্তুত মাস-তিনেক আগে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর আজই প্রথম ভারত সরকার সেখানে কোনও বিদেশি প্রতিনিধিদলকে পা রাখতে দিল।
এই দলের ২৭ জন সদস্যর মধ্যে ২২ জনই অবশ্য ইউরোপের বিভিন্ন কট্টর দক্ষিণপন্থী দলের হয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নির্বাচিত।
তাদের মধ্যে ফ্রান্সে জঁ মারি লঁ পেনের প্রতিষ্ঠিত দলের ছ'জন, পোল্যান্ডের একটি উগ্র দক্ষিণপন্থী দলের পাঁচজন, ব্রিটেনের ব্রেক্সিট পার্টির চারজন - এবং ইটালি, জার্মানি, চেক, বেলজিয়াম ও স্পেনের কট্টর দক্ষিণপন্থী দলগুলোরও এক বা একাধিক সদস্য আছেন।
এই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অভিবাসন-বিরোধী নীতির জন্য, কয়েকটি তো আবার কট্টর ইসলামোফোবিক বা মুসলিম-বিরোধী বিবৃতির জন্যও সুপরিচিত।
তারা কাশ্মীরের পথে রওনা হওয়ার আগে গতকালই এই ইউরোপীয় এমপিদের সঙ্গে দিল্লিতে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
পাকিস্তানের নাম না-করে তিনি সেখানে বলেন, "সন্ত্রাসবাদকে যে সব দেশ রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে অনুসরণ করছে তাদের জন্যই গণতন্ত্র আজ হুমকির মুখে - এবং ভারত ও ইউরোপ উভয়েই তার ভুক্তভোগী।"
প্রধানমন্ত্রী মোদী ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পরই এই এমইপিরা আজ (মঙ্গলবার) শ্রীনগরের বিমান ধরেন।
প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য ব্রিটেনের লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের রাজনীতিবিদ বিল নিউটন ডান বলেন, "আমি চাই কাশ্মীরের বাস্তব পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখতে, এবং সেখানকার স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলতে।"
"কাশ্মীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি দ্রুত ফিরে আসুক, মানুষ ভালভাবে দিন কাটাক - এটাই সকলের প্রত্যাশা" বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ইউরোপীয় এমপিদের অবশ্য কাশ্মীর ঘুরে দেখানো হয়েছে অনেকটা সরকারি 'গাইডেড ট্যুরে'র মতোই।
শ্রীনগরের দুটি হোটেলে তাদের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় নেতার বৈঠকেরও ব্যবস্থা করা হয় বলে জানা যাচ্ছে।
ভারত-শাসিত কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও এখন বন্দী, মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা অবশ্য মনে করছেন না এই বিদেশি অতিথিদের সফরে কাশ্মীরের কোনও লাভ হবে বলে।
তিনি বিবিসিকে বলেন, "এই সফর তখনই অর্থবহ হবে যদি তারা মেহবুবা, ওমর আবদুল্লা বা ফারুক আবদুল্লার মতো সাবেক মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন।"
"এবং সেই সঙ্গে এই মুহুর্তে কাশ্মীরে বন্দী-থাকা শত শত রাজনীতিবিদ ও আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।"
ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা আনন্দ শর্মা আবার এই সফর আপত্তি তুলছেন অন্য যুক্তিতে।
তার বক্তব্য, "যেখানে দেশের বিরোধী নেতাদের শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেখানে এই বিদেশি এমপিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে এসে আসলে ভারতের সাংবিধানিক গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বেরই অমর্যাদা করা হচ্ছে।"
কাশ্মীরে সুশীল সমাজসহ সব পক্ষের সঙ্গে দেখা করার প্রথম অধিকার যে তাদেরই, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
ইতিমধ্যে ব্রিটেনের লিবডেম দল থেকে নির্বাচিত এমইপি ক্রিস ডেভিস জানিয়েছেন, সেনা পাহারায় নয় - কাশ্মীরে তিনি স্বাধীনভাবে ঘোরাঘুরি করে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু এটা জানানোর পরই না কি ভারত সরকার তার কাছ থেকে সফরের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে নিয়েছিল।
ফলে কাশ্মীরে এমইপিরা গিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাদের সফর বিতর্ক থামানোর বদলে আসলে আরও উসকে দিচ্ছে।
প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী

স্বাধীনতার ঘোষণা মনিপুরের, লন্ডনে প্রবাসী সরকার

স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের মনিপুর রাজ্যের ভিন্নমতাবলম্বী রাজনীতিকরা। মঙ্গলবার লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে যুক্তরাজ্যে একটি প্রবাসী সরকার গঠনের কথাও জানান তারা। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
১৯৪৭ সালে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে ভারতের স্বাধীনতা লাভের সময় মনিপুর ছিল প্রিন্সলি স্টেট বা রাজা শাসিত স্বতন্ত্র অঞ্চল। এর দুই বছরের মাথায় ১৯৪৯ সালে অঞ্চলটি ভারতের নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে তখন থেকেই স্বাধীনতার দাবিতে সেখানে আন্দোলন চলছে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ‘প্রবাসী মনিপুর সরকার’ গঠনের ঘোষণা আসে। লন্ডনে বসবাসরত দুই মনিপুরি নেতা ইয়ামবিন বিরেন ও নরেংবাম সমরজিত এ ঘোষণা দেন।
লন্ডনের প্রবাসী সরকারের নাম দেওয়া হয়েছে মনিপুর স্টেট কাউন্সিল। কাউন্সিলের মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে ইয়ামবিন বিরেন-কে। আর পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন নরেংবাম সমরজিত। তারা দুইজনই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
প্রবাসী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নরেংবাম সমরজিত বলেন, তারা জাতিসংঘের সমর্থন লাভের চেষ্টা করবেন। লন্ডনে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আমরা আজ থেকে এখান থেকেই প্রবাসী সরকার পরিচালনা করবো। জাতিসংঘের সদস্য হতে বিভিন্ন দেশের সমর্থন চাইবো। আশা করছি, বহু দেশ আমাদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেবে।
ভারতের অন্যতম ছোট রাজ্য মনিপুর। সেখানকার জনসংখ্যা মাত্র ২৮ লাখ। সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যের একটি মনিপুর। মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় এর অবস্থান।
রাজ্যটিতে স্বাধীনতার দাবিতে কয়েক দশক ধরে লড়াই করছে শতাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী। তারা বিভিন্ন মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন দাবি করে আসছে। স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর লড়াইজনিত সহিংসতা মনিপুরের বাসিন্দাদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাগা, কুকি, পাঙ্গালসহ নানা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বাস এই রাজ্যে। এসব গোষ্ঠী নিজেদের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে চায়।
লন্ডনে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সমরজিত বলেন, আমরা সেখানে স্বাধীন নই। আমাদের ইতিহাস ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে, আমাদের সংস্কৃতি বিলুপ্ত হতে চলেছে। সেই কারণে জাতিসংঘকে আমাদের বক্তব্য শুনতে হবে। সারা বিশ্বের কাছে জোরালোভাবে বলছি, মনিপুরে বসবাস করা জনগোষ্ঠীও মানুষ।

যেভাবে নিহত হন ইন্দিরা গান্ধী

ভারতের দুইবারের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী প্রথমে ১৯৬৬-র জানুয়ারি থেকে ১৯৭৭-এর মার্চ পর্যন্ত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালের ১৪ জানুয়ারি আবার প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন।
১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তারই দুই দেহরক্ষীর গুলিতে প্রাণ হারান।

কেমন ছিল সেই দিনটি, কীভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছিল- বিভিন্ন বই পড়ে তারই একটি বিবরণ তুলে ধরেছেন বিবিসির হিন্দি বিভাগের রেহান ফজল।
ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বর শহরের সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর বেশ কিছু স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তবে বেশিরভাগ স্মৃতিই আনন্দের নয়। এই শহরেই তার বাবা জওহরলাল নেহরু প্রথমবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তারপরেই ১৯৬৪ সালের মে মাসে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৬৭ সালের নির্বাচনী প্রচারে এই শহরেই ইন্দিরা গান্ধীর দিকে একটা পাথর ছোঁড়া হয়েছিল, যাতে তার নাক ফেটে গিয়েছিল। সেই ভুবনেশ্বর শহরেই ১৯৮৪ সালের ৩০ অক্টোবর জীবনের শেষ ভাষণটা দিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। প্রতিটা ভাষণের মতোই ওই ভাষণও লিখে দিয়েছিলেন মিসেস গান্ধীর মিডিয়া উপদেষ্টা এইচ ওয়াই শারদা প্রসাদ। কিন্তু ভাষণ দিতে দিতে হঠাৎই লেখা ভাষণ থেকে সরে গিয়ে নিজের মতো বলতে শুরু করেন ইন্দিরা। তার বলার ধরনও পাল্টে গিয়েছিল সেদিন।

তিনি বলেছিলেন, আমি আজ এখানে রয়েছি। কাল নাও থাকতে পারি। এটা নিয়ে ভাবি না যে আমি থাকলাম কী না। অনেকদিন বেঁচেছি। আর আমার গর্ব আছে যে আমি পুরো জীবনটাই দেশের মানুষের সেবায় কাজে লাগাতে পেরেছি বলে। আর শেষ নিশ্বাসটা নেওয়া পর্যন্ত আমি সেটাই করে যাব। আর যেদিন মরে যাব, আমার রক্তের প্রতিটা ফোঁটা ভারতকে আরও মজবুত করার কাজে লাগবে।

কখনও কখনও বোধহয় শব্দের মাধ্যমেই নিয়তি ভবিষ্যতের একটা ইশারা দিয়ে দেয়। ভাষণের শেষে যখন মিসেস গান্ধী রাজ্যপালের আবাস রাজভবনে ফিরেছেন, তখন রাজ্যপাল বিশ্বম্ভরনাথ পান্ডে তাকে বলেছিলেন, একটা রক্তাক্ত মৃত্যুর কথা বলে আপনি আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছেন।

আমি যা বলেছি, তা নিজের মনের কথা। এটা আমি বিশ্বাস করি, জবাব দিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী।

সেই রাতেই দিল্লি ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। খুব ক্লান্ত ছিলেন। সারা রাত প্রায় ঘুমাননি। পাশের ঘরে সোনিয়া গান্ধী ঘুমাচ্ছিলেন। ভোর প্রায় চারটে নাগাদ শরীরটা খারাপ লাগছিল সোনিয়ার। বাথরুমের দিকে যাচ্ছিলেন। সেখানে ওষুধও রাখা থাকত।

সোনিয়া গান্ধী নিজের বই 'রাজীব'-এ লিখেছেন, "উনিও আমার পেছন পেছন বাথরুমে চলে এসেছিলেন। ওষুধটা খুঁজে দিয়ে বলেছিলেন, শরীর বেশী খারাপ লাগলে যেন একটা আওয়াজ দিই। উনি জেগেই আছেন।"

সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে তৈরি হয়ে গিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। কালো পাড় দেওয়া একটা গেরুয়া রঙের শাড়ি পড়েছিলেন মিসেস গান্ধী সেদিন। দিনের প্রথম অ্যাপয়েন্টমেন্টটা ছিল পিটার উস্তিনভের সঙ্গে। তিনি ইন্দিরা গান্ধীর ওপরে একটা তথ্যচিত্র বানাচ্ছিলেন সেই সময়ে। আগের দিন ওড়িশা সফরের সময়েও তিনি শুটিং করেছিলেন।

দুপুরে মিসেস গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেমস ক্যালিঘান আর মিজোরামের এক নেতার সঙ্গে। সন্ধায় ব্রিটেনের রাজকুমারী অ্যানের সম্মানে একটা ডিনার দেওয়ার কথা ছিল মিসেস গান্ধীর। তৈরি হয়েই ব্রেকফাস্ট টেবিলে এসেছিলেন তিনি। দুটি পাউরুটি টোস্ট, কিছুটা সিরিয়াল, মুসাম্বির জুস আর ডিম ছিল সেদিনের ব্রেকফাস্টে। সকালের খাবারের পরে মেকআপ ম্যান তার মুখে সামান্য পাউডার আর ব্লাশার লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তখনই হাজির হন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডাক্তার কে পি মাথুর।

রোজ ওই সময়েই মিসেস গান্ধীকে পরীক্ষা করতে যেতেন তিনি। ভেতরে ডেকে নিয়েছিলেন ডাক্তার মাথুরকে। হাসতে হাসতে বলেছিলেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি রোনাল্ড রেগান কী রকম অতিরিক্ত মেকআপ করেন, যখন ৮০ বছর বয়সেও তার মাথার বেশির ভাগ চুল কালোই রয়েছে।

ঘড়িতে যখন ন'টা বেজে দশ মিনিট, ইন্দিরা গান্ধী বাইরে বের হলেন। বেশ রোদ ঝলমলে দিনটা। তবুও রোদ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আড়াল করতে সেপাই নারায়ণ সিং একটা কালো ছাতা নিয়ে পাশে পাশে হাঁটছিলেন। কয়েক পা পেছনেই ছিলেন ব্যক্তিগত সচিব আর কে ধাওয়ান আর তারও পেছনে ছিলেন ব্যক্তিগত পরিচারক নাথু রাম। সকলের পেছনে আসছিলেন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা অফিসার, সাব ইন্সপেক্টর রামেশ্বর দয়াল।

ঠিক সেই সময়েই সামনে দিয়ে এক কর্মচারী হাতে একটা চায়ের সেট নিয়ে পেরিয়ে গিয়েছিলেন। ওই চায়ের সেটে তথ্যচিত্র নির্মাতা পিটার উস্তিনভকে চা দেওয়া হয়েছিল। ওই কর্মচারীকে ডেকে ইন্দিরা বলেছিলেন মি. উস্তিনভের জন্য যেন অন্য আরেকটা চায়ের সেট বার করা হয়। বাসভবনের লাগোয়া দপ্তর ছিল আকবর রোডে। দুটি ভবনের মধ্যে যাতায়াতের একটা রাস্তা ছিল। সেই গেটের সামনে পৌঁছে ইন্দিরা গান্ধী তার সচিব আর কে ধাওয়ানের সঙ্গে কথা বলছিলেন। মি. ধাওয়ান তাকে বলছিলেন যে, ইন্দিরার নির্দেশমতো ইয়েমেন সফররত রাষ্ট্রপতি গিয়ানী জৈল সিংকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে তিনি সন্ধ্যা সাতটার মধ্যেই দিল্লি চলে আসেন। পালাম বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে রিসিভ করে সময়মতো যাতে রাজকুমারী অ্যানের নৈশভোজ সভায় পৌঁছাতে পারেন ইন্দিরা, সেই জন্যই ওই নির্দেশ।

হঠাৎই পাশে দাঁড়ানো নিরাপত্তাকর্মী বিয়ন্ত সিং রিভলবার বের করে ইন্দিরা গান্ধীর দিকে গুলি চালায়। প্রথম গুলিটা পেটে লেগেছিল। ইন্দিরা গান্ধী ডান হাতটা ওপরে তুলেছিলেন গুলি থেকে বাঁচতে। তখন একেবারে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে বিয়ন্ত সিং আরও দুবার গুলি চালায়। সে-দুটো গুলি তার বুকে আর কোমরে লাগে। ওই জায়গার ঠিক পাঁচ ফুট দূরে নিজের টমসন অটোমেটিক কার্বাইন নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল সতবন্ত সিং।

ইন্দিরা গান্ধীকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখে সতবন্ত বোধহয় কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিল। স্থাণুর মতো দাঁড়িয়ে ছিল। তখনই বিয়ন্ত চিৎকার করে সতবন্তকে বলে 'গুলি চালাও।' সতবন্ত সঙ্গে সঙ্গে নিজের কার্বাইন থেকে চেম্বারে থাকা ২৫টা গুলিই ইন্দিরা গান্ধীর শরীরে গেঁথে দিয়েছিল।

বিয়ন্ত সিং প্রথম গুলিটা চালানোর পরে প্রায় ২৫ সেকেন্ড কেটে গিয়েছিল ততক্ষণে। নিরাপত্তা কর্মীরা ওই সময়টায় কোনও প্রতিক্রিয়া দেখান নি, এতটাই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন সবাই। তারপরে সতবন্ত সিং গুলি চালাতে শুরু করতেই একদম পিছনে থাকা নিরাপত্তা অফিসার রামেশ্বর দয়াল দৌড়ে এগিয়ে আসেন।

সতবন্ত তখন একনাগাড়ে গুলি চালিয়ে যাচ্ছেন। মি. দয়ালের উরু আর পায়েও গুলি লাগে। সেখানেই পড়ে যান তিনি। ইন্দিরা গান্ধীর আশপাশে থাকা অন্য কর্মচারীরা ততক্ষণে একে অন্যকে চিৎকার করে নির্দেশ দিচ্ছেন।

ওদিকে এক নম্বর আকবর রোডের ভবন থেকে পুলিশ অফিসার দিনেশ কুমার ভাট এগিয়ে আসছিলেন শোরগোল শুনে। বিয়ন্ত সিং আর সতবন্ত সিং তখনই নিজেদের অস্ত্র মাটিতে ফেলে দিয়েছে। বিয়ন্ত বলেছিল, আমাদের যা করার ছিল, সেটা করেছি। এবার তোমাদের যা করার করো।

ইন্দিরার আরেক কর্মচারী নারায়ণ সিং সামনে লাফিয়ে পড়ে বিয়ন্ত সিংকে মাটিতে ফেলে দেন। পাশের গার্ডরুম থেকে বেরিয়ে আসা ভারত- তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বা আই টি বি পির কয়েকজন সদস্য দৌড়ে এগিয়ে এসে সতবন্ত সিংকেও ঘিরে ফেলে।

সবসময়ে একটা অ্যাম্বুলেন্স রাখা থাকত ওখানে। ঘটনাচক্রে সেদিনই অ্যাম্বুলেন্সের চালক কাজে আসেন নি।ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাখনলাল ফোতেদার চিৎকার করে গাড়ি বার করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। মাটিতে পড়ে থাকা ইন্দিরাকে ধরাধরি করে সাদা অ্যাম্বাসেডর গাড়ির পিছনের আসনে রাখেন আর কে ধাওয়ান আর নিরাপত্তা কর্মী দিনেশ ভাট। সামনের আসনে, ড্রাইভারের পাশে চেপে বসে পড়েন মি. ধাওয়ান আর মি. ফোতেদার।

গাড়ি যেই চলতে শুরু করেছে, সোনিয়া গান্ধী খালি পায়ে, ড্রেসিং গাউন পরে 'মাম্মি, মাম্মি' বলে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে আসেন। ইন্দিরা গান্ধীকে ওই অবস্থায় দেখে সোনিয়া গান্ধীও গাড়ির পিছনের আসনে চেপে পড়েন। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল ইন্দিরা গান্ধীর শরীর। সোনিয়া তার মাথাটা নিজের কোলে তুলে নেন। খুব জোরে গাড়িটা 'এইমস' বা অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট ফর মেডিক্যাল সায়েন্সের দিকে এগোতে থাকে। চার কিলোমিটার রাস্তা কয়েক মিনিটের মধ্যেই পেরিয়ে যায়।

সোনিয়া গান্ধীর ড্রেসিং গাউনটা ততক্ষণে ইন্দিরা গান্ধীর রক্তে পুরো ভিজে গেছে।

ওই গাড়িটা 'এইমস'এ ঢুকেছিল ন'টা ৩২ মিনিটে। ইন্দিরা গান্ধীর রক্তের গ্রুপ ছিল ও নেগেটিভ। ওই গ্রুপের যথেষ্ট রক্ত মজুত ছিল হাসপাতালে। কিন্তু সফদরজং রোডের বাসভবন থেকে কেউ ফোন করে হাসপাতালে খবরও দেয় নি যে ইন্দিরা গান্ধীকে গুরুতর আহত অবস্থায় এইমস-এ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জরুরী বিভাগের দরজা খুলে গাড়ি থেকে ইন্দিরা গান্ধীকে নামাতে মিনিট তিনেক সময় লেগেছিল। কিন্তু সেখানে তখন কোনও স্ট্রেচার নেই। কোনওরকমে একটা স্ট্রেচার যোগাড় করা গিয়েছিল।

গাড়ি থেকে তাকে নামানোর সময়ে ওই অবস্থা দেখে সেখানে উপস্থিত ডাক্তাররা ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর সাথে তার ব্যক্তিগত সচিব আর কে ধাওয়ান। ফোন করে সিনিয়র কার্ডিয়োলজিস্টদের খবর দেওয়া হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডাক্তার গুলেরিয়া, ডাক্তার এম এম কাপুর আর ডাক্তার এস বালারাম ওখানে পৌঁছে যান।

ইসিজি করা হয়েছিল, কিন্তু তার নাড়ীর স্পন্দন পাওয়া যাচ্ছিল না। চোখ স্থির হয়ে গিয়েছিল। বোঝাই যাচ্ছিল যে মস্তিষ্কে আঘাত লেগেছে। একজন চিকিৎসক মুখের ভেতর দিয়ে একটা নল ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন যাতে ফুসফুস পর্যন্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে। মস্তিষ্কটা চালু রাখা সবথেকে প্রয়োজন ছিল তখন। ৮০ বোতল রক্ত দেওয়া হয়েছিল ইন্দিরা গান্ধীকে। শরীরে যে পরিমাণ রক্ত থাকে, এটা ছিল তার প্রায় ৫ গুণ।

ডাক্তার গুলেরিয়া বলছেন, "আমি তো দেখেই বুঝে গিয়েছিলাম যে উনি আর নেই। কিন্তু নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইসিজি করতে হয়েছিল। তারপরে আমি ওখানে হাজির স্বাস্থ্যমন্ত্রী শঙ্করানন্দকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এখন কী করণীয়? ঘোষণা করে দেব আমরা যে উনি মৃত? তিনি না বলেছিলেন। তখন আমরা মিসেস গান্ধীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাই।"

চিকিৎসকরা 'হার্ট এন্ড লাং মেশিন' লাগিয়েছিলেন ইন্দিরার শরীরে। ধীরে ধীরে তার শরীরে রক্তের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি থেকে কমে ৩১ ডিগ্রি হয়ে গেল। তিনি যে আর নেই, সেটা সকলেই বুঝতে পারছিল, কিন্তু তবুও 'এইমস'এর আটতলার অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে। চিকিৎসকেরা দেখেছিলেন যে যকৃতের ডানদিকের অংশটা গুলিতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। বৃহদান্ত্রের বাইরের অংশটা ফুটো হয়ে গেছে। ক্ষতি হয়েছে ক্ষুদ্রান্ত্রেরও। ফুসফুসের একদিকে গুলি লেগেছিল আর পাঁজরের হাড় ভেঙ্গে গিয়েছিল গুলির আঘাতে। তবে হৃৎপিণ্ডতে কোনও ক্ষতি হয় নি।

দেহরক্ষীদের গুলিতে ছিন্নভিন্ন হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর, দুপুর দুটো ২৩ মিনিটে ইন্দিরা গান্ধীকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সরকারি প্রচারমাধ্যমে সেই ঘোষণা করা হয়েছিল সন্ধ্যা ছ'টার সময়ে।

ইন্দিরা গান্ধীর জীবনীকার ইন্দর মালহোত্রা বলছেন, গোয়েন্দা এজেন্সিগুলো আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে মিসেস গান্ধীর ওপরে এরকম একটা হামলা হতে পারে। তারা সুপারিশ পাঠিয়েছিল যে প্রধানমন্ত্রীর আবাস থেকে সব শিখ নিরাপত্তা-কর্মীদের যেন সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু সেই ফাইল যখন ইন্দিরা গান্ধীর টেবিলে পৌঁছায়, তখন ভীষণ রেগে গিয়ে তিনি নোট লিখেছিলেন, "আরন্ট উই সেকুলার?" অর্থাৎ, "আমরা না ধর্মনিরপেক্ষ দেশ?"

এরপরে ঠিক করা হয়েছিল যে একসঙ্গে দু'জন শিখ নিরাপত্তা-কর্মীকে প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি ডিউটি দেওয়া হবে না। ৩১ অক্টোবর সতবন্ত সিং বলেছিল যে তার পেট খারাপ। তাই তাকে শৌচালয়ের কাছাকাছি যেন ডিউটি দেওয়া হয়।

এইভাবেই বিয়ন্ত আর সতবন্ত সিংকে একই জায়গায় ডিউটি দেওয়া হয়েছিল। যার পরিণতিতে স্বর্ণ মন্দিরে সেনা অপারেশন - 'অপারেশন ব্লুস্টার'এর বদলা নিয়েছিল তারা প্রধানমন্ত্রীকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়ে।

লারা দত্তের ইউরোপ ভ্রমণ

বলিউড অভিনেত্রী লারা দত্ত পরিবার নিয়ে ইউরোপে বেড়াতে গেছেন। স্বামী টেনিস তারকা মহেশ ভূপতি ও মেয়ে সায়রার সঙ্গে এখন ইতালিতে গ্রীষ্মের ছুটি কাটাচ্ছেন তিনি। দেশটির রোম, ফ্লোরেন্সসহ বিভিন্ন শহরের দর্শনীয় স্থানে স্বামী-সন্তানের সঙ্গে ছবি তুলেছেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। ইনস্টাগ্রামে লারা-মহেশ দু’জনই সেসব ছবি পোস্ট করেছেন। ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য রইলো সেগুলো।
লিনিং টাওয়ার অব পিসার কাছে লারা দত্ত, সায়রা ও মহেশ ভূপতি
* ইতালির বিখ্যাত নিদর্শন লিনিং টাওয়ার অব পিসা। এর বৈশিষ্ট্য হেলে থাকা। এর কাছে মজার ভঙ্গিতে ছবি তোলেন লারা, মহেশ ও সায়রা। ক্যামেরার কারসাজিতে মনে হবে তারা বুঝি পিসাকে সোজা করার চেষ্টা করছেন! তাই ক্যাপশনে লারা রসিকতার সুরে লিখেছেন, ‘প্রথমে আমি চেষ্টা করেছি, এরপর আমাদের মেয়ে, অবশেষে পেশীবহুল জনাব লিনিং টাওয়ার অব পিসাকে সোজা করে দিলেন!’
রোমে লারা দত্ত ও সায়রা
* ইতালির রোমে মা-মেয়ের ‘রোমান হলিডে’।
রোমে স্বামী-সন্তানের সঙ্গে লারা দত্ত
* রোমে এয়ারবিএনবির হোটেল কক্ষে ও ঐতিহাসিক নিদর্শন কলোসিয়ামে স্বামী-সন্তানের সঙ্গে লারা দত্ত।
ফ্লোরেন্সে মেয়ে সায়রার সঙ্গে লারা দত্ত
* ছবি দুটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে লারা দত্ত লিখেছেন, ‘ফ্লোরেন্স শহরে পঞ্চমবার এসেছি। এখনও ঠিক প্রথমবারের মতোই রোমাঞ্চিত হই!’
টেমস নদীর তীরে লারা দত্ত
* ইতালির আগে ইংল্যান্ডে বেড়িয়ে এসেছেন লারা দত্ত।

বিধ্বংসী বন্যার ঝুঁকিতে বাংলাদেশের ৪ কোটি মানুষ : সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েক কোটি মানুষ।  নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানো না গেলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিধ্বংসী বন্যার শিকার হবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো। বিশ্বজুড়ে এসব বন্যায় আক্রান্ত হবেন ৩০ কোটি মানুষ। পূর্বের সতর্কতার চেয়ে এই পরিমাণ তিনগুণ বেশি। এর মধ্যে কেবল বাংলাদেশেই আক্রান্ত হবেন ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ। ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে বন্যাক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ কোটিতে পৌঁছতে পারে। মার্কিন ভিত্তিক এনজিও ক্লাইমেট কনট্রোল’র বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে জিএনএ ও আল জাজিরা।
মঙ্গলবার প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হবে এশীয় দেশগুলো। এর মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড।
এই দেশগুলো সবচেয়ে বেশি বন্যার শিকার হবে। এর মধ্যে মুম্বই, সাংহাই ও ব্যাংকক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ৩০ বছরে কেবল এশিয়াতেই বন্যাক্রান্ত হবেন ২৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ।
গবেষণা প্রতিবেদনটির লেখক স্কট কাল্প বলেছেন, এই গবেষণায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শহর, অর্থনীতি, উপকূলীয় অঞ্চল ও পুরো বিশ্বের পরিবর্তন ফুটে ওঠেছে। মাত্র তিন দশকে পানির নিচে পুরোপুরি তলিয়ে যাবে মুম্বই ও সাংহাই। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর ডিনা আয়োনেসকো জানান, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মাপের মানুষ স্থানান্তরের ঘটনা ঘটবে এমনটি হলে। তিনি বলেন, আমরা এ ব্যাপারে সতর্কবার্তা ছড়ানোর চেষ্টা করছি। আমরা জানি যে, এটা আসছে।
গবেষণা অনুসারে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোয় বসববাসরত ৪ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ প্রতি বছর বন্যাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন। চীন, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ভারত মিলে বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে ১২ কোটি ১০ লাখ মানুষ। ভারতে মুম্বই ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশাও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এছাড়া, মিসরের আলেক্সান্দ্রিয়া ও ইরাকের বাসরাও পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চল পুরোটাই বন্যায় ভেসে যেতে পারে শতকের অর্ধেক পার হওয়ার আগে। গবেষণায় উল্লেখিত দেশগুলোর ঝুকিপূর্ণ জনসংখ্যাকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ক্লাইমেট সেন্ট্রালের যোগাযোগ পরিচালক পিটার জিরার্ড বলেন, এই গবেষণার ফলাফল শুনতে যতটাই ভয়ানক লাগুক না কেন, এগুলো আসলে আশার জাগানিয়া ফলাফল। এ থেকে আমরা কোটি কোটি মানুষকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট এড়াতে পারবো।

যে দেশে প্রেম-বিয়ে নির্ভর করে জিন পরীক্ষার ওপর

পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই মানুষ নিজের পছন্দ অনুযায়ী প্রেম কিংবা বিয়ের মতো সম্পর্কে আবদ্ধ হয়। কিন্তু নাইজেরিয়ায় বর্তমানে প্রেম কিংবা বিয়ে করার আগে বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষকে চিন্তা করতে হয় ভবিষ্যত প্রজন্মের বিষয়টি। জিন পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে বিয়ের মতো সম্পর্কের বিষয়ে ভাবতে হয়। কারণ দেশটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের শরীরে এমন কিছু জিন রয়েছে যেগুলো ভবিষ্যতে সিকল সেল ডিজেজের (এসসিডি) জন্য দায়ী হতে পারে।
নাইজেরিয়ার যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ডেমিলোলা ওগুনপেবি সম্প্রতি বিয়ে করেছেন। কিন্তু এই বিয়ে করার জন্য তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ এক পথ। বিয়ের উপযোগী পাত্রীর সন্ধানে তাকে অনেক অনুসন্ধান করতে হয়েছে। এমন অনেককে পছন্দ হলেও দুই জনের জিন পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল না আসায় বিয়ে করা হয়নি। ডেমিলোলা বলেন, আমি আমার বর্তমান সঙ্গীকে খুঁজে পাওয়ার আগে দীর্ঘদিন খোঁজখবর করেছি। উপযুক্ত জিনোটাইপের সমস্যা ছিল। যখনই কারো সঙ্গে ‘ডেটে’ যেতাম প্রথমেই আমাকে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতো—তোমার জিনোটাইপ কি? এইভাবে অনেকের সঙ্গে দেখা করলেও দুই জনের জিনোটাইপের সমন্বয় না হওয়ায় সেসব সম্পর্ক আর সামনে এগোয়নি। মূলত যাদের জিনে সিকল সেল ডিজেজের গুণাগুন থাকে তাদের সঙ্গে বিয়ের মতো সম্পর্ক তৈরিতে অনীহা প্রকাশ করে মানুষ।
সিকল সেল ডিজেজ মূলত উত্তরাধিকারী রক্তের ব্যাধি। অর্থাত্ বাবা-মায়ের রক্তের মাধ্যমে এটি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে যায়। এসসিডিতে আক্রান্তদের রক্তের কোষের গঠন সাধারণত সি আকারের হয়। সুস্থ রক্তের হিমোগ্লোবিন শরীরে অক্সিজেন পরিবহন করে। সুস্থ ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিন সাধারণত মসৃণ, গোলাকার এবং নমনীয় হয়। কিন্তু এসসিডিতে আক্রান্তদের রক্তের হিমোগ্লোবিনের আকার অস্বাভাবিক হয়। এই ধরনের রোগীদের শরীরে অ্যানিমিয়া, অসম্ভব ব্যথা এবং অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়। এই কারণে জিনোটাইপ পরীক্ষা না করে যখন এই ধরনের ব্যক্তিরা বিয়ে করে সন্তান জন্ম দেয় তখন ওইসব সন্তানের সিকল সেল ডিজেজে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। প্রতিবছর নাইজেরিয়াতে দেড় লাখের বেশি শিশু এসসিডি রোগ নিয়ে জন্ম হয় যা কি না বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০০৬ সালে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে গড়ে ২৪ শতাংশ মানুষ সিকল সেল জিন বহন করে। আর প্রতি হাজারে অন্তত ২০টি শিশুর জন্ম হয় সিকল সেল নিয়ে। >>-সিএনএন

উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে বাধার সৃষ্টি করছে সিগারেটের বাট

সিগারেটের উচ্ছিষ্ট ফিল্টার
ফেলে দেয়া সিগারেটের বাট বা সিগারেটের গোঁড়া উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে বাধার কারণ হতে পারে, এমনটাই বলছে একটি গবেষণার ফল।
এ্যাংগলিয়া রাস্কিন ইউনিভার্সিটি নেতৃত্বাধীন একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, মাটিতে সিগারেটের গোঁড়ার উপস্থিতির কারণে সে মাটিতে বীজ থেকে অঙ্কুর হওয়ার সম্ভাবনা কমেছে শতকরা ২৭ থেকে ২৮ ভাগ।
ঘাসের ক্ষেত্রে অঙ্কুরোদগমের সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে ১০% এবং দৈর্ঘ্যের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে ১৩%।
গবেষণায় বলা হচ্ছে যে, প্রতি বছর অন্তত পক্ষে ৪.৫ ট্রিলিয়ন সিগারেট বাট পুরো পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে, যা কিনা উদ্ভিদের জন্যে সবচেয়ে বড় আকারের প্লাস্টিক দূষণ সৃষ্টি করে।
বেশিরভাগ সিগারেটের গোঁড়া বা বাটে থাকে একটি সেলুলোজ এসিসেট ফাইবারের তৈরি ফিল্টার, যা এক ধরনের বায়োপ্লাস্টিক।
একইসাথে গবেষকরা দেখেছেন যে, অব্যবহৃত সিগারেটের ফিল্টারও একইভাবে পরিত্যক্ত ফিল্টারের মতোই উদ্ভিদের বৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলে। তামাকের বিষক্রিয়া ঘটুক আর না ঘটুক, ফিল্টারটিই উদ্ভিদের জন্যে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ইকোটক্সিকোলজি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সেফটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে যে, গবেষকরা ক্যামব্রিজ শহরের আশেপাশে নমুনা সংগ্রহ করে দেখেছেন সেখানে প্রতি বর্গ মিটারে অন্তত ১২৮টি সিগারেটের গোঁড়া পাওয়া গেছে।
প্রধান গবেষক ড্যানিয়েল গ্রিন বলেন, যে সমাজে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ যত্রতত্র ছুড়ে ফেলার সংস্কৃতি রয়েছে সেসব স্থানে পরিবেশের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সিনিয়র জীববিজ্ঞানী হিসেবে ড. গ্রিন বলেন, "আমাদের গবেষণার প্রধান বিষয় ছিল উদ্ভিদের ওপর সিগারেটে গোঁড়ার কি প্রভাব সেটি দেখা।"
"আমরা দেখেছি যে, সিগারেটের এই অবশিষ্টাংশ উদ্ভিদের অঙ্কুরোদগমের সফলতা এবং চারা গাছের কাণ্ডের দৈর্ঘ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ঘাস এবং গুল্মের কাণ্ডের ওজন অর্ধেক হ্রাস করে দেয়।"
তাদের গবেষণায় দেখা গেছে সেইসব উদ্ভিদ থেকে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গবাদি পশুরা। যারা খাদ্য হিসেবে ওই উদ্ভিদ খেয়ে থাকে এবং শহুরে অঞ্চলের মাটিকে সবুজ করে।
মিজ গ্রিন বলেন, "এইসব উদ্ভিদ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করে, এমনকি শহরের উদ্যানগুলোতেও এবং এর মধ্যকার এক জাতের উদ্ভিদ পরাগায়ন ও নাইট্রোজেন বিশ্লেষণ করে পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।"
সহ-গবেষক ড. বাস বুটস এর সাথে যোগ করেন, "যদিও এটি নিশ্চিত হতে আরও গবেষণার দরকার, তারপরও আমরা মনে করি যে সিগারেটের ফিল্টারের রাসায়নিক গঠন উদ্ভিদের ক্ষতির কারণ।"
"এগুলোর বেশিরভাগই তৈরি হয় সেলুলোজ এসিসেট ফাইবার দিয়ে, সেটির সাথে আরও কিছু রাসায়নিক যোগ করা হয় যা প্লাস্টিকটিকে আরও নমনীয় করে তোলে, যাকে বলা হয় প্লাস্টিসিজার। এগুলোই উদ্ভিদের বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিকূলতা সৃষ্টি করে থাকে।"

কী বলছে ব্রিটিশ আইন ?

ব্রিটেনের আইনে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার জন্যে জরিমানার বিধান রয়েছে- সেগুলো যদি সিগারেটের উচ্ছিষ্টও হয়। তবে সেটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে থাকে, কেন্দ্রীয় সরকার নয়।
লন্ডন শহর কর্তৃপক্ষ বলছে, বছরের অন্তত ৬০ লাখ সিগারেটের গোঁড়া শহরটির রাস্তায় ফেলা হয়।
যদিও যেখানে সেখানে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ছুড়ে ফেলা ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পরে না, তবু ব্রিটেন টাইডি নামে একটি দাতব্য সংস্থা ধূমপায়ীদের এই কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়।
সংস্থার প্রধান নির্বাহী অ্যালিসন অগডেন-নিউটন বলেন যে, এই সিগারেটের উচ্ছিষ্টগুলো বিষাক্ত এবং এগুলো ও প্লাস্টিক আমাদের জলজ ও সামুদ্রিক পরিবেশের উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কারণ।
তিনি বলেন যে, এই গ্রহটিকে দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে ধূমপায়ীদের দায়িত্ব নিতে হবে।

পর্নো তারকা কিম্বারলি মনে করেন হতাশার জন্য দায়ী পর্নোগ্রাফি

অনলাইনে খুব সহজেই পর্নোছবি বা সংশ্লিষ্ট উপাদান পাওয়া হতাশা বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করেন নেভাদার সবচেয়ে বড় নিষিদ্ধপল্লী মুনলাইন বানি র‌্যাঞ্চের জনপ্রিয় পর্নো তারকা কিম্বারলি কেন। বহু পুরস্কার বিজয়ী এই পর্নো তারকা ব্যাখ্যা করেছেন যে, কেন তিনি মনে করেন যৌন জীবনে হতাশার জন্য পর্নো দায়ী। তার অনেক ক্লায়েন্ট বা খদ্দের আছেন। তিনি বলেন, তারা যৌনজীবনে হতাশার শিকার। কারণ, তারা অনলাইনে যে পর্নো ছবি দেখেন এবং বাস্তবতার সঙ্গে তাদের অন্তরঙ্গ সম্পর্কের বিষয়ে তা মেলানোর চেষ্টা করনে তা থেকে তাদের মধ্যে একটি ভুল ধারণা জন্ম নেয় এবং এতে তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তিনি মনে করেন, এর জন্য দায়ী অনলাইনে পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা।
তিনি বৃটিশ একটি পত্রিকার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছেন। এ ছাড়া এ নিয়ে তিনি ব্লগ পোস্ট লিখেছেন। তার মতে, যৌন শিক্ষায় ঘাটতি রয়েছে।
এটা অন্যতম একটি কারণ। এ জন্য বিছানায় আত্মবিশ্বাস ফেরাতে লড়াই করতে হয় অনেককে। তিনি বলেন, এসব মানুষ হাজার হাজার ঘন্টা পর্নো ছবি দেখেন। এতে তাদের মধ্যে আস্থা ফেরানোর চেয়ে তাদের ভিতর এক অতৃপ্তি আসে। তারা তাদের গোপন অঙ্গের আকার, আকৃতি নিয়ে ভাবেন। অস্বস্তি বোধ করেন। শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের সময় যদি তার পার্টনার শিৎকার না করেন তাহলে তিনি বা তারা মনে করেন, সঠিকভাবে অগ্রসর হচ্ছেন না তিনি। কোনো ভুল করছেন। তিনি আরো বলেন, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের আগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, যা একজন পুরুষ ও একজন নারীর এমন সম্পর্কের জন্য অত্যাবশ্যক। এর মধ্য দিয়ে দু’জনকে পূর্বেই প্রস্তুতি নিতে হয়। কিন্তু পর্নোগ্রাফিতে সেই অংশগুলো দেখানো হয় না। অন্তরঙ্গ সেই মুহূর্তগুলো মাঝে মাঝে এড়িয়ে যাওয়া হয়।
কিম্বারলি যৌন শিক্ষা সম্পর্কে বলেন, যৌন শিক্ষায় ঘাটতি রয়েছে। এ জন্য কিশোর বা যুবকরা পর্নোছবি দেখেন। তারা এসব ছবি দেখে যৌন জীবন বা যৌন সম্পর্কের বিষয়ে শিক্ষা নেয়ার চেষ্টা করেন। পর্নোগ্রাফি এখনও বিনোদন হিসেবে রয়ে গেছে। এখনও শিক্ষার বিষয় হয়ে উঠতে পারে নি। তিনি আরো বলেন, পর্নোগ্রাফি এবং বাস্তব শারীরিক সম্পর্কের বিষয় আমি ব্যাখ্যা করি একটি প্রশ্নের মাধ্যমে। তাহলো, আপনি পর্নোছবিতে যে সুপারম্যানসুলভ অভিনয় দেখেন তা কি বাস্তব? আপনি কি বিশ্বাস করেন অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সুপারম্যান উড়ে বেড়াচ্ছে? অবশ্যই না।