Wednesday, November 13, 2019

শরণার্থী থেকে প্রেসিডেন্ট!

পাঁচ বছর বয়সী ভায়রা। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
যুদ্ধবিধ্বস্ত লাটভিয়া থেকে পরিবারের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিল ছোট্ট মেয়েটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির নাৎসি বাহিনী ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যের দখলদারিতে পড়ে তার দেশ। ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে অন্য দেশে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে। যখন নিজ দেশে ফিরলেন, তখন তুমুলভাবেই ফিরলেন। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত লাটভিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হন তিনি। শিশু শরণার্থী থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া এই নারীর নাম ভায়রা ভিকে-ফ্রেইবের্গা।

তবে জীবনের বড় একটি অংশ অন্য দেশে কাটালেও লাটভিয়ান হিসেবেই বড় হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভায়রা। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা-মা কখনোই আমাকে ভুলতে দেননি যে আমি লাটভিয়ান।’

১৯৪১ সালের জুলাই মাসে জার্মানরা লাটভিয়ায় ঢুকে পড়ে এবং অনেক সোভিয়েতকে বন্দী করে। ছোটবেলায় দেশের উত্তাল পরিস্থিতির কিছু কিছু বেশ মনে আছে ভায়রার। বিশেষ করে ১৯৪৪ সালের কথা। ওই সময় তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর। রাশিয়ার সেনাদল কমিউনিস্ট রেড আর্মি লাটভিয়ায় ফিরে এল।

ওই সময়ের কথা বলতে গিয়ে ভায়রা বলেন, ‘লাল পতাকা ও মুঠিবদ্ধ হাতের সেনাদের দেখে অভিভূত হতাম। তাদের কেউ কুচকাওয়াজ করার সময় পতাকা হাতে হাত মুঠিবদ্ধ করলে আমিও আমার হাত উঁচিয়ে মুঠি করে চিৎকার করে বলতাম “হুররে!” ওই সময় মাকে দেখতাম ল্যাম্পপোস্টে হেলান দিয়ে অসহায় ভঙ্গিতে তাকিয়ে থাকতেন। তাঁর গাল বেয়ে নামত অশ্রু। বলতেন, না মা, এটা কোরো না। লাটভিয়ার জন্য আজ খুব কষ্টের দিন।’
১৯৪৯ সালে জার্মানির শরণার্থীশিবিরে ভায়রা। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
ভায়রা মনে করতে পারেন, ওই সময় বাবা রেডিওতে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস শুনতেন। যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, তা বোঝার চেষ্টা করতেন। একপর্যায়ে তিনি লাটভিয়া ছেড়ে যাওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন।

সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ভায়রা লাটভিয়া ছাড়েন। প্রথমে যুদ্ধবিধ্বস্ত জার্মানি, পরে ফ্রান্সশাসিত মরক্কো এবং তারও পরে কানাডায় গেলেন। ১৯৯৮ সালে ৬০ বছর বয়সে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এর আট মাসের মধ্যে তিনি প্রেসিডেন্ট হন।

বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে শরণার্থীজীবনের কথা বলতে গিয়ে ভায়রা বলেন, ‘১৯৪৫ সালে নববর্ষের রাতে জাহাজে উঠি আমরা। ওটা একটা পণ্যবাহী জাহাজ ছিল। রণসজ্জায় সজ্জিত সৈন্যরা ছিল। তবে জাহাজটিতে কিছুসংখ্যক বেসামরিক লোকজনকে নেওয়া হয়েছিল, যাঁরা যেকোনো মূল্যে সমাজতন্ত্রের শাসন থেকে পালাতে চান। লাটভিয়ানরা জাহাজের ডেকে জড়ো হয়ে বসতেন এবং লাটভিয়ার জাতীয় সংগীত গাইতেন।’

ভায়রার পরিবার প্রথমে জার্মানির শরণার্থীশিবিরে গিয়ে আশ্রয় নেয়। তখন পরিস্থিতি খুবই খারাপ ছিল। তাঁর ১০ মাস বয়সী ছোট বোন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এর এক বছরের মধ্যে ভায়রার মা একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। ওই বয়সেই জীবনের কঠিন দিকটি দেখা হয়ে যায় ভায়রায়। তাঁর মায়ের সঙ্গে একই কক্ষে ১৮ বছর বয়সী একটি মেয়ে থাকত। ওই মেয়েটি একটি মেয়েসন্তানের জন্ম দেন। রুশ সৈন্যদের গণধর্ষণের কারণে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় শিশুসন্তানটিকে সহ্য করতে পারতেন না। চেহারাও দেখতে চাইতেন না। নার্সরা শিশুটিকে নিয়ে এলে দেয়ালের দিকে পাশ ফিরে শুয়ে কাঁদতেন। নার্সরাই পরে শিশুটির নাম ভায়রার মৃত বোন মারার নামে রাখেন।

সেই ঘটনা বলতে গিয়ে ভায়রা বলেন, ‘এক মারা জন্ম নিয়েছে, বাঁচার লড়াই করছে এবং এই পৃথিবীতে অনাকাঙ্ক্ষিত। আর আমাদের মারা, যাকে আমরা প্রচণ্ডভাবে চেয়েছিলাম, যাকে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হলো। আমি উপলব্ধি করলাম, জীবন সত্যি খুব অদ্ভুত এবং অন্যায্য।’
মরক্কোতে ১১ বছর বয়সী ভায়রা। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
১১ বছর বয়সে ভায়রার পরিবার জার্মানি থেকে মরক্কোতে চলে যায়। মধ্যরাতে একটি ট্রাক থেকে ছোট একটি গ্রামে নামিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের। ওই গ্রামটাই যেন ছিল একটি মিনি বিশ্ব। ফরাসি, ইতালীয়, রাশিয়ার পুরোনো অভিবাসীরা ছিল। একদিন বাবার এক আরব সহকর্মী শিশু ভায়রাকে বিয়ে করার প্রস্তাব করেন।

বাবা বাড়িতে ফিরে মাকে সেই প্রস্তাব নিয়ে বলছিলেন, ‘তিনি (আরব সহকর্মী) বিয়ের যৌতুক হিসেবে ১৫ হাজার ফ্রাঁ দিতে চেয়েছেন। সেই সঙ্গে দুটো গাধা ও বাছুর। পরে তিনি যৌতুকের অর্থ আরও বাড়াতে থাকেন। আমি তাঁকে বললাম, মেয়ে তো বাচ্চা, ওর স্কুল আছে। সেটা শুনে তিনি বললেন, ঠিক আছে, আমরা তাকে (ভায়রা) স্কুল শেষ করতে দেব।’ এই আলোচনা করে বাবা-মা হাসছিলেন। কিন্তু ভায়রা সতর্ক হয়ে যান। ভয় ঢুকে যায় তাঁর মনে।

এরপর ভায়রার পরিবার কানাডায় যেতে সক্ষম হয়। ওই সময় ভায়রার বয়স ছিল ১৬ বছর। তিনি একটি ব্যাংকে চাকরি নেন। পাশাপাশি রাতের স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যান। পরে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোতে তিনি পড়েছিলেন। সেখানে লাটভিয়া থেকে আরেক নির্বাসিত ইমান্টস ফ্রেইগবার্গের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তাঁরা বিয়ে করেন।

ভায়রা মনোবিজ্ঞানে পড়তেন। ১৯৬৫ সালে তিনি পিএইচডি করেন। তবে পড়াশোনার বিভাগ বাছাইয়ে তিনি তত মনোযোগী ছিলেন না বলেন জানান। এ ব্যাপারে মজার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, রেজিস্ট্রারের কাছে রাখা বিভিন্ন বিষয়ের দীর্ঘ তালিকায় নজর বুলাতে বুলাতে একটি লম্বা শব্দের ওপর তাঁর চোখ আটকায়। শব্দের শুরুটা ‘পি’ দিয়ে আর শেষ ‘ওয়াই’ অক্ষর দিয়ে। তিনি তাতে আঙুল রেখে বলেন, ‘স্যার, এই বিষয়টি নিতে চাই।’
১৯৫৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোতে ভায়রা। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
ভায়রা খুব দ্রুত জেনে যান, মেয়েদের অভ্যর্থনা জানানোর বদলে সবকিছু সহ্য করেই যেতে হয়। একদিন এক অধ্যাপক এক সেমিনারে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক এক বক্তব্য রাখেন। ভায়রা বলেন, ‘আমাদের প্রিয় অধ্যাপক বলছিলেন, এই পিএইচডি প্রোগ্রামে আমাদের তিনজন বিবাহিত নারী আছেন। এটা অপচয় ছাড়া কিছু নয়। কারণ, তাঁরা বিয়ে শাদি করে সন্তান নেবেন। সত্যিকারের বিজ্ঞানী হতে পারত—এমন একটি ছেলের জায়গা তাঁরা নিয়ে নিয়েছেন।’

ভায়রা জানান, ওই সেমিনারে উপস্থিত সব মেয়ে সারা জীবন অধ্যাপকের ওই কথাগুলো মনে রেখেছিলেন। ওই মেয়েরা সংকল্প করেছিলেন, অধ্যাপককে দেখিয়ে দেবেন, তাঁর প্রিয় ছেলেদের চেয়েও নারীরা সফল হতে পারেন।

ভায়রা ইউনিভার্সিটি অব মন্ট্রিয়েলে ৩৩ বছর শিক্ষকতা করেন। তিনি পাঁচটি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন। বই লিখেছেন ১০টি। ১৯৯৮ সালে ৬০ বছর বয়সে তিনি প্রফেসর ইমেরিটাস হন এবং অবসরের সিদ্ধান্ত নেন। ওই সময় এক সন্ধ্যায় তাঁর ফোন বেজে ওঠে। ফোনের অপর প্রান্তে ছিলেন লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভায়রাকে লাটভিয়ার একটি নতুন ইনস্টিটিউটের প্রধান হওয়ার প্রস্তাব করেন। তবে দেশে ফিরে খুব শিগগির নিজেকে লাটভিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে দেখতে পান তিনি। নির্বাচনে লড়তে নিজের কানাডীয় পাসপোর্ট হস্তান্তর করেন। দেশে ফেরার মাত্র আট মাসের মধ্যে তিনি লাটভিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

তাঁর পক্ষে ব্যাপক সমর্থন থাকলেও সমালোচনাও কম হয়নি। কিছু সংবাদমাধ্যমে সমালোচনা করা হয়, তিনি অপব্যয়ী, সুবিধাভোগী। সারা জীবন পশ্চিমে বিলাসিতায় জীবন কাটিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগকে বানোয়াট বলেছেন ভায়রা। ২০০৩ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি।

২০০৭ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভায়রার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হয়। কয়েক মাস আগে ৭০ বছরে পা রেখেছেন। সাবেক নেতাদের নিয়ে গড়ে তোলা ক্লাব দে মাদ্রিদের সহপ্রতিষ্ঠাতা তিনি। সংস্থাটি গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব ও সুশাসনের লক্ষ্যে কাজ করে। তিনি নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিতে বেশি জোর দিয়ে থাকেন।

কানাডায় নারীবিদ্বেষী সেই অধ্যাপককে এখনো খুঁজে ফেরেন ভায়রা। যদিও জানেন, এ যুদ্ধ জয়ে এখনো বহু পথ বাকি।
২০০৩ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর স্বামীর সঙ্গে ভায়রা। ছবি: এএফপি

আলুর ভেতর ঘুম!

বিগ আইডাহো পটেটো হোটেল
আলুর ভেতর ঘুম, থাকা, খাওয়া, গোসলসহ দৈনন্দিন সব কাজ করা যাচ্ছে! ব্যাপারটা অদ্ভুত শোনালেও যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের বয়েজে শহরে চালু হয়েছে আলু আকৃতির একটি হোটেল। এখানে থেকে অদ্ভুত মজা পাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
গত ২২ এপ্রিল ২০১৯ বিগ আইডাহো পটেটো হোটেলের উদ্বোধন হয়। গ্রামীণ পরিবেশে থাকা ছয় টন ওজনের এই আলু তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে স্টিল, প্লাস্টার ও কনক্রিট। এর দৈর্ঘ্য ২৮ ফুট। আর এটি ১২ ফুট চওড়া ও ১১ দশমিক ৫ ফুট লম্বা।
বিগ আইডাহো পটেটো হোটেলের সামনে ক্রিস্টি ওলফ
বিগ আইডাহো পটেটো হোটেলের সামনে ক্রিস্টি ওলফ
যদিও শুরুতে এটি হোটেল ছিল না। ২০১২ সালে বিশাল নকল আলুটি তৈরি করে আইডাহো পটেটো কমিশন। আমেরিকার এই অঙ্গরাজ্যে প্রচুর আলু উৎপাদন হয়। তাই আইডাহোর অন্যতম জনপ্রিয় পণ্যের প্রচারণায় এটি বানানো হয়।
ট্রাকের পেছনে বিশাল নকল আলু
ট্রাকের পেছনে বিশাল নকল আলু
টানা ছয় বছর একটি ট্রাকের পেছনে এই নকল সবজি আইডাহো জুড়ে ঘুরে বেড়িয়েছে। ২০১৮ সালে এক নিলামে কমিশনকে আলুটির ভেতরের অংশ পর্যটকদের উপযোগী আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন নারী ডেভেলপার ক্রিস্টি ওলফ। তিনি এই কাজে দারুণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিগ আইডাহো পটেটো হোটেল
বিগ আইডাহো পটেটো হোটেল
হোটেলটিতে রয়েছে কিং-সাইজের বিছানা, লাউঞ্জ এরিয়া, টয়লেট, মেটাল বাথটাব, ওয়াশ বেসিন, গরম নিবারণের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, শীতকালের উপযোগী ইনডোর ফায়ারপ্লেস, হিটিং মেশিন, ঊষ্ণ জল। হোটেল প্রাঙ্গণে আছে ফ্রি পার্কিং ব্যবস্থা। সেখানে দাঁড়িয়ে চোখধাঁধানো ওয়াইহি পর্বত দেখা যায়। তবে ভেতরে কোনও জানালা নেই। 
বিগ আইডাহো পটেটো হোটেল
বিগ আইডাহো পটেটো হোটেল
আলু আকৃতির হোটেলে একসঙ্গে দুই জন থাকা যায়। প্রতি রাতের ভাড়া ২০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৭ হাজার টাকা)। এয়ারবিএনবির মাধ্যমে এটি বুকিং দেওয়া যায়। তবে আগামী মাস পুরোটাই বরাদ্দ নিয়েছেন ভ্রমণপ্রেমীরা।
দৈনিক পত্রিকা আইডাহো স্টেটসম্যানকে ক্রিস্টি ওলফ বলেন, ‘আমার ছোট্ট একটা বাড়ি আছে। নকল আলুটি দেখে মনে হলো, আমার ঘরের মতোই জায়গা আছে এতে। সত্যি বলতে এটি আমার বাড়ির চেয়েও বড়। ভাবলাম এর ভেতরটাকে অনায়াসে হোটেলে রূপান্তর করা যেতে পারে।’
বিগ আইডাহো পটেটো হোটেল
বিগ আইডাহো পটেটো হোটেল
জুতসই জমি পাওয়ার পর আলুর নকশাটিকে বাসযোগ্য করে তোলেন ক্রিস্টি ওলফ। এজন্য লেগেছে ১০ লাখ কাঠের টুকরো! নিজের কাজ নিজে করায় বিশ্বাসী তিনি। তাই হোটেলের পুরো সাজসজ্জা নিজেই করেছেন ক্রিস্টি। টয়লেটে রেখেছেন বিভিন্ন গাছপালা। তার আশা, আনন্দে ছুটি কাটানোর স্পট হিসেবে বিগ আইডাহো পটেটো হোটেল জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। এর আশেপাশে আছে ৪০০ একর কৃষিজমি ও স্বল্প-ব্যবহৃত রেলপথ।

গাফিলতির বলি এতগুলো প্রাণ! by জাবেদ রহিম বিজন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্দভাগে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক যাত্রী। গতকাল ভোর প্রায় ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর তূর্ণা-নিশীথা সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসের একটি বগিতে প্রচণ্ডগতিতে আঘাত হানে। এতে উদয়নের ওই বগিটি কাগজের  মতো দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরেকটি বগি। তূর্ণা-নিশীথার ইঞ্জিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার জন্য তূর্ণা-নিশীথার চালককে দায়ী করছেন সবাই। উদয়ন তূর্ণাকে পাস দিতে পাশের লাইনে সরে যেতে থাকে।
শেষ দিকের ৩টি বগি বাকি থাকতেই ওই ৩ বগির মধ্যেরটিতে আছড়ে পড়ে তূর্ণার ইঞ্জিন। এতে বগিটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এই দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকা ও সিলেটের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৮ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ট্রেন ঢাকাগামী তূর্ণা-নিশীথা মঙ্গলবার ভোর রাত ২টা ৪৮ মিনিটে শশীদল রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করে মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের দিকে রওনা করে। মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার স্টেশনে প্রবেশের আগেই আউটারে থামার জন্য লালবাতি জ্বালিয়ে সংকেত দেয় তূর্ণা-নিশীথাকে (ট্রেন নম্বর ৭৪১)। অপরদিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ৭২৪) কসবা রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ পথে স্টেশন মাস্টার তাকে মেইন লাইন ছেড়ে দিয়ে ১ নম্বর লাইনে আসার সংকেত দেন। ওই ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৬টি বগি ১ নম্বর লাইনে প্রবেশ করার পর পেছনের ৩টি বগি মেইন লাইনে থাকতেই তূর্ণা-নিশীথার চালক সিগনাল (সংকেত) অমান্য করে দ্রুত গতিতে এসে ওই ট্রেনের শেষ ৩টি বগির মধ্যেরটিতে আঘাত করে। এতে উদয়ন ট্রেনের তিনটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ওই বগির ১০ যাত্রীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায় আরো ৬ জন। আহত হন আরো একশ’ যাত্রী। কিন্তু ইঞ্জিন ছাড়া তূর্ণা-নিশীথার কোনো ক্ষতি হয়নি। ট্রেনের সব বগি অক্ষত অবস্থায় মেইন লাইনে ছিল। মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. জাকের হোসেন চৌধুরী বলেন, নিশীথা ট্রেনটিকে আউটারে মেইন লাইনে থামার সংকেত দেয়া হয়েছিল। উদয়ন ট্রেনটিকে মেইন লাইন থেকে ১নং লাইনে আসার সংকেত দেয়া হয়েছিল। সেই হিসাবে উদয়ন ট্রেন ১ নম্বর লাইনে প্রবেশ করছিল। এসময় নিশীথা ট্রেনের চালক সংকেত অমান্য করে উদয়ন ট্রেনের উপর উঠে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই আশেপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন রেলপথমন্ত্রী। তার আগে সেখানে ছুটে আসেন রেলসচিব। ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে উদ্ধার কাজ তদারকি করেন জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ- দৌলা খান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। আখাউড়া ও লাকসাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ছুটে আসে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন উদ্ধারে। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। এদিকে  ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে মরদেহগুলো স্থানীয় বায়েক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখা হয়। এরপরই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সদস্যরা নিহতদের হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে তাদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ শুরু করে। খবর পেয়ে তাদের আত্মীয়-স্বজনরা ছুটে আসেন সেখানে। তারাও লাশ শনাক্ত করেন।
নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৬ জন মহিলা ও ৩ জন শিশু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৬ জন মহিলা ও ৩ জন শিশু। তাদের মধ্যে ১৫ জনের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক। নিহতরা হচ্ছেন- চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও গ্রামের মজিবুর রহমান (৫৫), অজ্ঞাত মহিলা (৩২), হবিগঞ্জ সদরের অজ্ঞাত মহিলা (৪১), অজ্ঞাত মহিলা, হবিগঞ্জ, চুনারুঘাটের সুজন আহমেদ (২৪), হবিগঞ্জ সদরের ইয়াছিন আরাফাত (১২), রিপন মিয়া (২২), মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গলের গাজীপুর গ্রামের জাহেদা খাতুন (৩০), চাঁদপুর হাজীগঞ্জের কুলসুম বেগম (৩০), হবিগঞ্জের মদনমূড়কের আল আমিন (৩০), অজ্ঞাতনামা শিশু (৪), হবিগঞ্জ পৌরসভার আলী মোহাম্মদ ইউসুফ (৩২), হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের আদিবা (২) ও সোহামনি (৩), নোয়াখালী মসজিদপাড়ার রবি হরিজন (২৫) ও চাঁদপুরের ফারজানা (১৫)।
আহত যারা: আশুগঞ্জের তারুয়ার শুভ (৪৫), আখাউড়া গোলখারের বোরহান (১৭), চাঁদপুরের মাহিমা (৪), সিলেট বালাগঞ্জের রুবেল (৩৫), হবিগঞ্জের আলমগীর (৪০), নবীগঞ্জ মাঠবাজারের লোকমান (২২), আফসা (১৪), আসমা (২৪), ১ বছর বয়সী শিশু ওহাল, হবিগঞ্জ বলুলার আলমগীর (৪৩), বানিয়াচংয়ের আশিক মিয়া (৩২), সুব্রত (৪৫), মিম (৭), নাজমা (৩০), রেনু, চুনারুঘাটের রাজন (২৮), মাধবপুরের আনোয়ারা (৩৩), হবিগঞ্জ সৈয়দপুরের রায়হান (২০), বাগলখাল গ্রামের ধলাই (৬৫), খালিশপুর গ্রামের রাকিব (২৮), দীঘলবাঁশ গ্রামের হাসান আলী (৭০), নারায়ণপুর গ্রামের আবুল কালাম (৫২), চুনারঘাটের জনি (২৪), সিলেট জৈন্তাপুরের আক্তার আলী (৬০), শ্রীমঙ্গল গাজীপুরের ইমন (১৮), সুমি (২১), কুমিল্লা দাউদকান্দির বোরহান (৪০), মনির (৪০), মঈন (৩৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়া ধোপখলার বৃষ্টি (১৪), বাকাইলের শাহবুদ্দিন (৫০), উত্তর কালিসীমার মিতু (২৫), সাহিদা (৪০), আখাউড়ার সুরাইয়া (২৬), নোয়াখালী মাইঝদির নারায়ণপুর গ্রামের তারা সুরাইয়া (৩০), চাঁদপুর সাতরাশি গ্রামের রহিমা (৪৫), কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের আবুল কাশেম (৪০), ঢাকা গাজীপুরের ইমন (১৮), নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের সৈকত (৩৫), আখাউড়া ধরখারের লিটন (৪২), নোয়াখালীর সোনাপুর গ্রামের অলিউল্লাহ (৩৬)। এ ছাড়াও কুমিল্লা হাসপাতালে ১৩ জন, কসবা ও আখাউড়া হাসপাতালে ৪ জন আহত ভর্তি হন।
এদিকে নিহতদের প্রত্যেককে রেল মন্ত্রণালয় ১ লাখ টাকা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়। আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতাল, কসবা, আখাউড়া ও কুমিল্লা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মো. শাহআলম জানান, জেলা সদর হাসপাতালে ৪৪ জন, কসবা ও আখাউড়ায় ৪ জন এবং কুমিল্লা হাসপাতালে ১৩ জনকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ৩ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। জেলা সদর হাসপাতালে মৃত্যু হয় ২ জনের। 
কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কে.এম হুমায়ুন কবির জানান, কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন মারা গেছে। তারা ২৯ জনকে চিকিৎসা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই-তিনজন ছাড়া বেশির ভাগই গুরুতর আহত।
এদিকে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় মন্ত্রী জানান, তাৎক্ষণিকভাবে তূর্ণা-নিশীথার লোকোমোটিভ মাস্টার ও সহকারী মাস্টারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে উদয়ন এক্সপ্রেসের কোনো ত্রুটি দেখছি না। রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি। ঘটনার তদন্তে রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।  রেল সচিব মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন তার আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি সাংবাদিকদের জানান, রেলওয়ের পক্ষ থেকে ২টি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলের দু’টি কমিটির একটিতে প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পূর্বাঞ্চল) মিজানুর রহমানকে প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনকে প্রধান করে ৪ সদস্যের আরেকটি কমিটি এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিতু মরিয়মকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের  নেতাকর্মীরাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করে।  উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট রাশেদুল কায়সার ভুঁইয়া জীবন বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে উদ্ধার কাজ করি এবং উভয় ট্রেনের যাত্রীদের জন্য খাবার ও তাদের গন্তব্যে যাওয়ার ব্যবস্থা করি।

হার্টের রোগীদের জন্য সুখবর!

ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা হৃদরোগীদের জন্য এক বিশেষ ধরনের ‘পট্টি’ তৈরি করেছেন। পট্টির মাধ্যমে ছেঁড়া কাপড় যেমন জোড়া লাগানো যায়, ঠিক তেমনি হার্ট অ্যাটাকের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হৃদপিন্ডের পেশিগুলোকে সারিয়ে তুলতে এ ‘পট্টি’ তৈরি করা হয়।
লক্ষ লক্ষ জীবন্ত দেহকোষ দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরণের ‘পট্টি’ নিয়ে বিজ্ঞানীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তারা এটির নাম দিয়েছেন হার্ট প্যাচে। এই প্যাচটি প্রায় তিন সেন্টিমিটার বা এক ইঞ্চি দীর্ঘ। এটি রোগীর নিজ দেহের কোষ থেকেই ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হবে।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের বিশেষজ্ঞরা ম্যানচেস্টারে এক সম্মেলনে তাদের এই গবেষণার ফল তুলে ধরেন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন এটিকে একটি তালি বা পট্টির মতো করে ক্ষতিগ্রস্ত হৃদপিন্ডের ওপর সেলাই করে দেওয়া হবে এবং তা ধীরে ধীরে সুস্থ পেশিতে পরিণত হয়ে হৃদপিন্ডের সাথে মিশে যাবে।
তারা বলছেন তারা খরগোশের দেহে এ পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখেছেন যে এটি নিরাপদ। দু বছরের মধ্যেই মানবদেহের ওপর এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হবে।
শরীরের কোন একটি ধমনী যখন সরু হয়ে যায় - তখন হৃদপিন্ডের পেশিতে রক্তের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে পেশিগুলোতে অক্সিজেন আর পুষ্টিকর উপাদানের অভাব ঘটে। তাই হৃদপিন্ডের রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে দেখা দেয় হৃদরোগ।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

সুইডেন: যে দেশে এমপিদের বাড়তি সুযোগ সুবিধা না পাওয়াটাই রীতি

সুইডেনের এমপি প্রি-অর্নে হাকানসন
রাজনীতিবিদ হিসাবে পেশাটি হয়তো অনেক দেশেই অর্থনৈতিকভাবে বেশ সুবিধাজনক একটি ব্যাপার।
কিন্তু সুইডেনের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একেবারে আলাদা।
এই দেশে রাজনীতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়, যা তাদের কাছে জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে একটি চাকরির মতো।
ফলে খুব ভালো অংকের হাতখরচ আর নানারকম বাড়তি সুযোগ সুবিধা পাওয়া তো দূরের কথা, বরং জনগণের করের টাকা খরচের ব্যাপারে সুইডেনে অত্যন্ত কড়াকড়ি রয়েছে সংসদ সদস্যের ওপরে।
'সাধারণ নাগরিক'
''আমরা হচ্ছি দেশের সাধারণ নাগরিক'' বলছেন প্রি-অর্নে হাকানসন, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একজন সংসদ সদস্য।
সুইডেনের একমাত্র রাজনীতিবিদ হিসাবে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী সরকারি গাড়ি পান
''সংসদ সদস্যের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা পাবার বিষয়টি কোনভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়, কারণ আমাদের কাজ হচ্ছে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা, তারা যে অবস্থায় বা যেভাবে বসবাস করছেন, সেটাকেই তুলে ধরা।''
''আমরা শুধু এটা বলতে পারি, আমাদের সুবিধা এটাই যে, আমরা এই কাজটি করতে পারছি আর দেশ পরিচালনায় প্রভাব রাখতে পারছি,'' বলছেন হাকানসন।
সুইডেনের সংসদ সদস্যরা পাবলিক পরিবহনে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারেন।
কিন্তু অনেক দেশের মতো তারা নিজের জন্য কোন গাড়ি বা চালক পান না।
এমনকি সুইডেনের পার্লামেন্টের মাত্র তিনটি ভলভো এস-এইটটি আছে, যা শুধুমাত্র সরকারি অনুষ্ঠানের কাজে পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট এবং তিনজন ভাইস-প্রেসিডেন্ট ব্যবহার করতে পারেন।
''আমাদের কোন ট্যাক্সি সার্ভিস নেই,'' ব্যাখ্যা করে বলছেন রেনে পোডকে, পার্লামেন্টের একজন কর্মকর্তা।
''সংসদ সদস্যদের বাড়িতে বা কাজের স্থানে আনা নেয়া করার জন্য এসব গাড়ি নয়।''
আসলে দেশটিতে শুধুমাত্র যে একজন রাজনীতিবিদকে সরকারিভাবে গাড়ি দেয়া হয়েছে, তিনি হচ্ছেন সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী।
অনেক দেশের রাজনীতিবিদের তুলনায় সুইডেনের এমপিরা অনেক কম আয় করেন
মজুরি
সুইডেনের সংসদ সদস্যরা মাসে আয় করেন গড়ে ৬৯০০ ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের একজন কংগ্রেসম্যানের মাসিক বেতনের অর্ধেক।
সুইডেনের কর্মীদের গড় মাসিক আয় প্রায় ২৮০০ ডলারের মতো।
'অর্থনৈতিকভাবে আকর্ষণীয়'
যেসব সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকা স্টকহোমের বাইরে, তারা 'ট্রাটামেন্ট' নামের একটি বিশেষ ভাতা দাবি করতে পারেন। সেটি হচ্ছে যে কদিন তারা রাজধানীতে থাকবেন, ততদিনের জন্য একটি দৈনিক ভাতা।
কিন্তু সেটা কতো? প্রতিদিনকার জন্য প্রায় ১২ ডলার, যা দিয়ে স্টকহোমে একবেলার জন্যও খুব বিলাসী কোন খাবার কেনা যাবে না।
কফি কেনার জন্যও তাদের নিজেদের খরচ দিতে হয়।
তবে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত সুইডেনের সংসদ সদস্যরা কোন মজুরিও পেতেন না। তার বদলে দলের কর্মীরা এই সংসদ সদস্যদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতেন।
১৯৫৭ সাল থেকে সুইডেনের পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা ভাতা পেতে শুরু করেন
পার্লামেন্টের নথিপত্রে দেখা যায়, বেতন দেয়ার বিষয়টি এজন্য চালু করা হয়েছে যাতে কোন নাগরিকের জন্য রাজনীতি করা কঠিন হয়ে না পড়ে। কিন্তু সুইডিশরা এটাও চান না যেন এই বেতন আবার তাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
বিশ্বের অনেক দেশের মতো সুইডেনের সংসদ সদস্যরা ভর্তুকি মূল্যের আবাসন পেতে পারেন। তবে শুধুমাত্র তারাই পাবেন, যারা স্টকহোমে থাকেন না।
সিঙ্গেল বেড
আর তাদের সেই থাকার জায়গাটি আহামরি কোন বিলাসবহুল স্থান নয়। প্রি-অর্নে হাকানসন বলছেন, তিনি থাকেন মাত্র ৪৬ বর্গমিটারের একটি অ্যাপার্টমেন্টে।
সরকারি পরিচালনার অনেক স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের আকার মাত্র ১৬ বর্গমিটার।
সরকার পরিচালিত অ্যাপার্টমেন্টগুলোয় সামান্যই আসবাবপত্র থাকে
আর এসব ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন বা ডিসওয়াশারের মতো আসবাবপত্রও থাকে না। আসবাব বলতে সেখানে শুধুমাত্র একজনের থাকার মতো একটি সিঙ্গেল বেড রয়েছে।
কারণ জনগণের অর্থ শুধুমাত্র একজন সংসদ সদস্যের খরচের জন্য, এসব অ্যাপার্টমেন্ট একরাত থাকতে হলে তার সঙ্গী বা পরিবারের সদস্যদের অর্থ দিতে হবে। যদি কোন সংসদ সদস্য যদি তার সঙ্গীর সঙ্গে থাকতে চান, তাহলে ভাড়ার অর্ধেক তাকে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে।
ভাড়ার সীমা
''শুধুমাত্র সংসদ সদস্য ছাড়া আর কাউকে এসব অ্যাপার্টমেন্টে থাকার খরচ আমরা দেবো না,'' বলছেন পার্লামেন্টের কর্মকর্তা আনা অ্যাস্পেগ্রেন।
সংসদ সদস্যরা চাইলে অন্য কোথাও থাকতে পারেন এবং সেটি ভাড়া নেয়ার জন্য পার্লামেন্টের একটি আবাসন তহবিল থেকে কিছুটা অনুদান নিতে পারেন। কিন্তু তার সীমা রয়েছে, প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৮২০ ডলার, যা স্টকহোমের কেন্দ্রস্থলের ভাড়ার হারের তুলনায় অত্যন্ত কম।
কফি খেতে হলেও এমপিদের খরচ দিতে হয়
১৯৯০ সাল পর্যন্ত আবাসনের চিত্রটি ছিল আরো করুণ। তখন সংসদ সদস্যদের জন্য ভর্তুকি মূল্যের কোন আবাসন ব্যবস্থা ছিল না।
তাদের তখন নিজেদের অফিসে ঘুমাতে হতো, যা ছিল মাত্র ১৫ বর্গমিটারের।
ব্যক্তিগত সহকারী বা উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে সুইডিশ সংসদ সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে।
বরং যে রাজনৈতিক দল থেকে এমপিরা আসেন, সেই দল একটি বিশেষ ভাতা পায়, যা দিয়ে তারা একটি কর্মী বাহিনী নিয়োগ করতে পারে, যারা সব দলের এমপিদের জন্যই কাজ করবে।
একজন সুইডিশ এমপির কার্যালয়
বিনামূল্যের কাজ
সুইডেনের আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে এই খরচের কড়াকড়ির ব্যাপারটি আরো কঠিন।
অনেক দলের কাছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তাদের মূল পেশার পাশাপাশি বলে বিবেচনা করা হয়। দেশটির প্রায় ৯৪ শতাংশ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কোন বেতন পান না শুধুমাত্র যারা নির্বাহী কমিটিতে কাজ করেন, তারা পার্টটাইম বা ফুল-টাইম হিসাবে ভাতা নিতে পারেন।
ক্রিশ্চিয়ানা এলফোর্স-জোডিন এর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে বলছেন, ''এটা একটি স্বেচ্ছামূলক কাজ, যা আমরা আমাদের অতিরিক্ত সময়ে ভালো মতোই করতে পারি।''

হাঁচি থামানোর প্রাকৃতিক উপাদান

এলাচ, আমলকী, আদা, তুলসি ইত্যাদি কাজে আসবে হাঁচি থামাতে।
সর্দি-জ্বর, অ্যালার্জি ইত্যাদি কারণে বিরামহীন হাঁচি হতে পারে। শরীর থেকে অস্বস্তিকর উপাদান কিংবা জীবাণু বের করে দেওয়ার জৈবিক একটি উপায় এই হাঁচি। তবে তা অনবরত চলতে থাকলে ব্যাপারটা যেমন বিব্রতকর তেমনি ডেকে আনতে পারে নানান জটিলতাও। এমতাবস্থায় বেছে নিতে পারেন প্রাকৃতিক উপাদান।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হল উপাদানগুলো সম্পর্কে।
দস্তা: বিরামহীন হাঁচি হলে দস্তা মানে জিঙ্ক আপনার পরম বন্ধু। প্রচুর পরিমাণে দস্তা আছে এমন খাবার কিংবা ‘সাপ্লিমেন্ট’ যে কোনোটাই বেছে নিতে পারেন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করায় দস্তা অতুলনীয়। এর প্রাকৃতিক উৎসগুলোর মধ্যে আছে বাদাম, শিম, মটর ও শুঁটি-জাতীয় খাবারে।
কালো এলাচ: সবার রান্নাঘরেই এলাচ আছে, যা হাঁচি বন্ধ করতে পারে। এলাচের কড়া গন্ধ এবং এতে থাকা ‘এসেন্সিয়াল অয়েল’ ‘মিউকাস’য়ের প্রবাহ রোধ করে এবং অস্বস্তি সৃষ্টিকারী উপাদান বের করে আনে। অ্যালার্জিজনীত হাঁচিতে এটি বিশেষ কার্যকর। খেতে হবে চিবিয়ে।
আমলকী: পুষ্টিকর একটি ফল তা সবারই জানা। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে, এতে থাকা শক্তিশালী ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’ নাকের রাস্তা পরিষ্কার করে, ফলে হাঁচি থেমে যায়। খেতে পারেন সরাসরি কিংবা শরবত বানিয়ে। দিনে সর্বোচ্চ তিনবার আমলকীর শরবতে পান করা যায়।
আদা ও তুলসি: এই দুটোর মিশ্রণ সর্দি-জ্বর এবং অ্যালার্জি থেকে আরাম দেওয়ার একটি শক্তিশালী উপায়। এজন্য তিন-চারটি তুলসি পাতা ও ছোট এক টুকরা আদা পানিতে ফুটাতে হবে এবং সেই পানি পান করতে হবে। সরাসরি আদার বদলে আদার গুঁড়াও ব্যবহার করা যেতে পারে।
রসুন: এর গন্ধটা সবার কাছে সহনশীল না হলেও রান্নায় স্বাদ আনতে এই মসলা অনন্য, সেই সঙ্গে তাড়ায় অ্যালার্জিও। এতে থাকে এক বিশেষ সক্রিয় উপাদান ‘অ্যালিসিন’, যা বন্ধ নাক খুলে দিতে অত্যন্ত কার্যকর, পাশাপাশি বাড়াবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও। কাঁচা-আদা সরাসরি চিবিয়ে খেতে পারেন কিংবা সামান্য ঘিয়ে ভেজে নিতে পারেন।
তবে মনে রাখতে হবে
শুধু ঘরোয়া টোটকার উপর ভরসা করে থাকা সবসময় ঠিক নয়। তাই অবস্থা বেগতিক দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে অ্যালর্জিজনীত কারণে হাঁচি হলে চিকিৎসকের কাছ থেকে জানতে হবে অ্যালার্জির কারণ।
>>ছবির মডেল: শিহাব শাহরিয়ার।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন গাড়ির ব্যবহার by নাফিস কোরাইশী

পথচারী সতর্কতা
আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। সংবাদপত্র খুললেই আমরা মৃত্যুর খবর পাচ্ছি। এটা আমাদের পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করছে। এ প্রবন্ধে আমি যানবাহনগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এমন কিছু স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রস্তাব করছি, যা নিশ্চিতভাবে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা হ্রাস করতে কিছুটা হলেও সহায়তা করবে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বেশির ভাগ গাড়ি উৎপাদন কোম্পানিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যানবাহন তৈরিতে কাজ করছে, যা চালককে সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়। এসব প্রযুক্তি বর্তমান বাজারে বিদ্যমান। বেশির ভাগ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ওয়ার্নিং সিস্টেম সাধারণত রাডার, ক্যামেরা, লিডার ও ম্যাপ সেন্সর ব্যবহার করে থাকে। এসব সেন্সর একটা সেন্ট্রাল ব্রেইনকে গাড়ির পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দেয়। সেন্ট্রাল ব্রেইন চালককে আগেভাগেই সতর্ক করে কোনো ধরনের সংঘর্ষের সম্ভাবনা থাকলে। নিশ্চিত দুর্ঘটনা ঘটবে এমন বুঝলে গাড়ির নিয়ন্ত্রণও নিতে পারে।
পথচারী সতর্কতা
গাড়ির কাছে কোনো পথচারী অথবা অবকাঠামো থাকলে সিস্টেম বিপ (একধরনের শব্দ) শুরু করবে। বিপের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়তে থাকবে যত দূরত্ব কমে আসতে থাকবে। বাস অথবা ট্রাকে এই সিস্টেম ভালো সহযোগিতা করে থাকে। কারণ চালকের পক্ষে গাড়ির চারপাশের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয় না। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম সাধারণত ক্যামেরা, রাডার ও আলট্রাসনিক সেন্সর ব্যবহার করে যেকোনো বিপদ সম্পর্কে জানান দিয়ে থাকে।
লেন পরিবর্তন সতর্কতা 
লেন পরিবর্তন সতর্কতা
সাধারণত এই ফিচার গাড়িকে লেনে ধরে রাখতে সাহায্য করে থাকে। ক্যামেরার সাহায্যে লেন লাইন ডিটেক্ট করা হয়। চালক অনিচ্ছাকৃত দাগ পার হলে স্টিয়ারিং টর্ক প্রয়োগ করে গাড়িকে লেনে ধরে রাখে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম সাইড রাডারের সাহায্যে কোনো গাড়ির উপস্থিতি জানান দিয়ে থাকে। গাড়ির চিহ্ন সম্পন্ন আইকন সাইড গ্লাসে দৃশ্যমান হয়, যদি কোনো গাড়ি পার্শ্ববর্তী লেনে বিদ্যমান থাকে। এ ক্ষেত্রে চালক লেন পরিবর্তনে অগ্রিম সতর্ক থাকবেন।
অসতর্ক চালকের জন্য সতর্কতা 
অনেক চালক আছেন যাঁরা গাড়ি চালাতে চালাতে ফোনে কথা বলেন। টেক্সট মেসেজ করেন বা পাশের কারও সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠেন। আইন করেও এ অভ্যাস বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর ফলে চালকের ঘুম চলে আসতে পারে। চালকের মনোযোগ পর্যবেক্ষণ করার জন্য স্টিয়ারিং হুইলের মাঝে ক্যামেরা বসানো থাকে, যা চালকের চোখের নড়াচড়া থেকে বুঝতে পারে চালক অমনোযোগ কি না এবং চালককে সতর্কতা দিয়ে থাকে।
সামনের সংঘর্ষের অগ্রিম সতর্কতা 
অসতর্ক চালকের জন্য সতর্কতা
সামনে গাড়ি, মানুষ বা পশু থাকলে এ ধরনের ব্যবস্থা অগ্রিম চালককে সতর্কতা দিয়ে থাকে। যদি সংঘর্ষ হওয়ার মতো দূরত্বে চালক চলে আসেন কিংবা অনেক সময় সংঘর্ষ নিশ্চিত হলে এ সিস্টেম নিজেই ব্রেক করে থাকে। সাধারণত রাডার ও ক্যামেরা দিয়ে থ্রেট অবজেক্ট শনাক্ত করা হয়। চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চালাতে পারবে, যা দুর্ঘটনার মাত্রা কমানোর সামর্থ্য রাখে। এ ব্যবস্থা দিন বা রাতে সমানভাবে কার্যকর।
এ রকম আরও অনেক ফিচার বর্তমানে উন্নত দেশগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০২০ সালের মধ্যে সব গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। আমাদের সময় হয়েছে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো। হয়তো কিছুটা ব্যয়বহুল। কিন্তু মানুষের জীবনের থেকে বেশি নয়।
>>>নাফিস কোরাইশী: চালকবিহীন (অটোনমাস) গাড়ি টেকনোলজি বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল মোটরসে (GM) কর্মরত।
সামনের সংঘর্ষের অগ্রিম সতর্কতা

বিবর্তন প্রক্রিয়ায় বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেলো যে পাখি প্রজাতি

আলদাবরা আতোল হলো ভারত মহাসাগরে অবস্থিত চারটি প্রবাল দ্বীপগুচ্ছ। একসময় সেখানে ওড়ার সক্ষমতাহীন আলদাবরা রেল (ফ্লাইটলেস রেল) পাখিদের বসবাস ছিল। এতোদিন ধারণা ছিল, ১ লাখ বছরেরও বেশি সময় আগে সেখান থেকে আদিম প্রজাতির পাখিগুলো পুরোপুরিভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবে এবার এ প্রজাতির পাখি নিয়ে নতুন করে আশার বাণী শুনিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, আতোল দ্বীপ থেকে ওই আদিম আলদাবরা প্রজাতির পাখি একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। সে একই প্রজাতি থেকে সেখানে নতুন করে বিবর্তিত হয়েছে উড্ডয়ন ক্ষমতাহীন পাখি। আলদাবরা আতোল প্রবাল দ্বীপগুচ্ছ থেকে পাওয়া জীবাশ্ম পরীক্ষার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম এবং পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এ দাবি করেছেন। এ সপ্তাহে লিনিয়ান সোসাইটির জুলোজিক্যাল জার্নাল-এ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, আলদাবরা আতোল দ্বীপগুচ্ছ হলো রেলিডে পরিবারের আলদাবরা রেল নামক পাখি প্রজাতির আবাসস্থল। হোয়াইট থ্রোটেড রেল প্রজাতি থেকে এর উদ্ভব। আলদাবরা রেল প্রজাতির পাখি উড়তে না পারলেও হোয়াইট থ্রোটেড রেল প্রজাতির পাখিরা উড়তে পারে। মুরগী আকৃতির এ পাখি মূলত মাদাগাস্কারের বাসিন্দা। তবে তারা অন্য নির্জন দ্বীপগুলোও ভ্রমণ করে থাকে এবং সেখানে আবাস গড়ে তোলে। 
আলদাবরা আতোলে আবাস স্থাপনকারী হোয়াইট থ্রোটেড রেল প্রজাতির পাখিরা শেষ পর্যন্ত বিবর্তিত হতে হতে এমন এক পর্যায়ে দাঁড়ালো যে তারা তাদের ওড়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলো। তারা ফ্লাইটলেস রেল প্রজাতির পাখিতে পরিণত হলো। সেখানে কোনও শিকারী না থাকায় তাদের ওড়ার প্রয়োজন পড়লো না। ওড়ার সক্ষমতা হারানোর কারণে একসময়ে এসে এ পাখি প্রজাতি আবার বড় ধরনের সমস্যায় পড়ে গেলো। ১ লাখ ৩৬ হাজার বছর আগে আতোল দ্বীপ ভারত মহাসাগরে তলিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার প্রাণী ও উদ্ভিদও বিলুপ্ত হয়ে গেলো। একই পরিণতি বরণ করতে হলো উড্ডয়ন সক্ষমতাহীন (ফ্লাইটলেস) রেল প্রজাতির পাখিকেও।
এ ঘটনার ৩৬ বছর পর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আবারও কমে গেলো এবং আতোল দ্বীপে আবারও হাজির হলো উড্ডয়ন সক্ষমতাহীন পাখি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীবাশ্ব রেকর্ড থেকে ইঙ্গিত মিলেছে হোয়াইট থ্রোটেড রেল প্রজাতির পাখি আবারও দ্বীপটিতে আবাস স্থাপন করেছিল এবং আবারও তারা বিবর্তিত হয়ে উড্ডয়ন সক্ষমতাহীন উপ প্রজাতিতে পরিণত হয়েছিল।
ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের প্রধান গবেষক জুলিয়ান হিউম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অনন্য এ জীবাশ্ম এমন এক অকাট্য প্রমাণ হয়ে উঠেছে যে, রেল পরিবারের এক সদস্য সম্ভবত মাদাগাস্কার থেকে এসেছে এবং প্রত্যেকবারই স্বতন্ত্রভাবে উড্ডয়ন সক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছে।’  গবেষকরা বলছেন, পুনরাবৃত্তিমূলক বিবর্তনের উল্লেখজনক ঘটনা এটি। এর মানে হলো, ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এ পাখি বার বারই একই আদিম প্রজাতি থেকে বিবর্তিত হয়েছে।

সঙ্ঘাত-জর্জরিত আফগানিস্তান ১০ বছরে কিভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতি করল by স্বগতা যাদবর

২০০১ সালে তালেবানের পতনের পর এবং সঙ্ঘাত থেকে উদ্ধার পেতে থাকা দেশ হিসেবে আফগানিস্তান ছিল বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ স্বাস্থ্যসূচকধারী দেশগুলোর অন্যতম। ২০০৪ সালে প্রতি দুটি শিশুর অন্তত একটি (৫৪%) ছিল খর্বাকার, প্রতি ১০টি শিশুর চারটি (৩৯%) ছিল কম ওজনের। মানব উন্নয়ন সূচকে এর অবস্থান ছিল ১৮১/১৮২।
কিন্তু সঙ্ঘাত ও ব্যাপক দারিদ্র্য সত্ত্বেও মাত্র ১০ বছরে আফগানিস্তান স্বাস্থ্য সূচকে ব্যাপক অগ্রগতি হাসিল করেছে। পাঁচ বছরের কম বয়সে মৃত্যুর হার ২৯ ভাগ কমেছে, বামনত্ব হার ২০০৪ সালের ৫৪% থেকে কমে ২০১৩ সালে ৪০ ভাগ, কম ওজনের শিশু ৩৯ ভাগ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০ ভাগ হয়েছে।
মাতৃত্বকালীন পরিচর্যাও বেড়ে ১৬ ভাগ থেকে হয়েছে ৫৩ ভাগ। দক্ষ ব্যক্তির উপস্থিতিতে জন্মদান ১৪ ভাগ থেকে হয়েছে ৪৬ ভাগ। একইসময় শিশুদের টীকাদান ৪০ ভাগ থেকে হয়েছে ৮০ ভাগ।
আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নজর দেওয়ার ফলেই এ ধরনের অর্জন সম্ভব হয়েছে। গণস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গণপুষ্টির পরিচালক হুমায়ূন লুদিন নয়া দিল্লি সফর করেছিলেন। এ উপলক্ষে তার দেওয়া সাক্ষাতকারের অংশবিশেষ এখানে তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন: বামনত্ব হ্রাস করার কার্যক্রম কখন গ্রহণ করে আফগানিস্তান?
জবাব: শুরু হয়েছিল ২০০২ সালে। আমরা গণস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে গণপুষ্টি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করি। কয়েক বছরের মধ্যে বোঝা যাচ্ছিল না আমরা কিভাবে আমাদের লক্ষ্য স্থির করব। তারপর আমরা ২০০৬ সালে নতুন মাত্রায় যাত্রা শুরু করি। হাসপাতালগুলোকে শিশুবান্ধব, মাবান্ধব করে গড়ে তোলা হতে থাকে। ওই বছর আমাদের প্রেসিডেন্টও শিশু বামনত্বের প্রতি আগ্রহ দেখান।
প্রশ্ন: অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে কিভাবে একত্রিত করলেন একই লক্ষ্যে?
জবাব: আমরা খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিবিষযক একটি এজেন্ডা তৈরি করি। এতে সব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ব্যবস্থা করা হয়। ‘আফগানিস্তান খাদ্য ও পুষ্টি’ এজেন্ডায় ১৭টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা সম্পৃক্ত রয়েছেন।
আমাদের প্রধান নির্বাহী (সিইও) সবাইকে নিয়ে ২০১৭ সালে একটি সম্মেলনের আয়োজন করেন। প্রতি মাসে মন্ত্রীরা তাদের পরিকল্পনা পেশ করেন। পুষ্টির ব্যাপারে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব পরিকল্পনা থাকে। তারা সে অনুযায়ী কাজ করে। উদাহরণ হিসেবে পল্লী পুনর্বাসন কিংবা পানি ও পয়োনিষ্কাষণ মন্ত্রণালয়ের কথা বলা যায়। তারাও পুষ্টির ব্যাপারে কাজ করছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও পুষ্টি নিয়ে নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে।  আবার ধর্মীয় লোকজনকে এতে সম্পৃক্ত করা হয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরাও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের বক্তৃতায় পুষ্টি নিয়ে কথা বলেন।
প্রশ্ন: বামনত্ব নিয়ে উন্নতি কখন লক্ষ্য করলেন?
জবাব: ২০০৪ সালে আমরা প্রথম জাতীয়ভিত্তিক জরিপ করি। তখন বামনত্ব হার ছিল ৫৪ ভাগ। ২০১৩ সালে তা নেমে আসে ৪০ ভাগে। মাতৃদুগ্ধ পানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ৩০ ভাগ থেকে হয়েছে ৫৮.৪ ভাগ। মাতৃদুগ্ধ পান বামনত্ব হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ও পয়োনিষ্কাষণ ও পানি সরবরাহব্যবস্থার উন্নতিও এতে অবদান রেখেছে।
প্রশ্ন: মায়ের দুধ পানের ব্যাপারে মন্ত্রণালয় কেন জোর দিয়েছে?
জবাব: শিশুকে মায়ের দুধ পান করানো স্বাস্থ্য ও পুষ্টির জন্য মৌলিক একটি বিষয। মা যখন তার শিশুকে নিয়ে পরিকল্পনা করেন, আমরা তখন মায়েদের বলি, তাদের নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দিতে। ধর্মীয় নেতারাও স্বাস্থ্যবান শিশুর জন্য স্বাস্থ্যবান মায়ের প্রতি জোর দিচ্ছেন।
মহানবী (সা.) বলেছেন, একজন শক্তিশালী মুসলিম একজন দুর্বল মুসলিমের চেয়ে ভালো। এ কারণে আমরা বলি, আমরা যদি মায়েদের সমর্থন করি, তবে আমরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী শিশু পাবো।
প্রথমে আমরা গর্ভকালীন প্রথম নয় মাস নারীদের যত্ন নেই। আমরা আশা করি, এতে জন্মকালীন শিশুর ওজন হবে ৩.৫ কেজি।
শিশুর পুষ্টির জন্য মায়ের দুধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাছাড়া দুধ পান করানো হলে মায়েদের স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
প্রশ্ন: আফগান সমাজে মায়ের দুধ পান করতে বলা কি কঠিন কাজ? কোনো নারী কি অন্য পুরুষদের এ ব্যাপারে কথা বলতে দেবে?
জবাব: আমাদের সমাজে যখন কেউ কথা বলে, তখন সবাই, এমনকি ধর্মীয় নেতারাও শোনেন। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে আমি ২০০ ধর্মীয় ব্যক্তির সামনে বক্তব্য রাখি। তারা আমার যুক্তি গ্রহণ করেন।
আর মায়ের দুধ পান করানোর বিষয়টি স্বামীদের মাধ্যমেও করা যেতে পারে। স্বামীরা এ বিষয়ে জ্ঞান পেতে পারে জুমার নামাজে খুতবায় ইমাম সাহেবের কাছ থেকে।
প্রশ্ন: ভারতে আপনি কয়েকটি ডে কেয়ার সেন্টার পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে ব্যবধান কতটা বলে আপনি মনে করেন?
জবাব: প্রথমে চাহিদা সৃষ্টি করতে হবে। তারপর তা পূরণের কথা আসে। আবার সরবরাহ করতে না পারলে চাহিদা সৃষ্টি করলে সমস্যার সমাধান হবে না। আমরা এ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।
প্রশ্ন:  আর্থিক সীমাবদ্ধতা নিয়েও আপনারা কিভাবে কাজ করে যাচ্ছেন?
জবাব: আমাদের দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে আমরা যে সম্পদ আমাদের আছে তথা মানবসম্পদই কাজে লাগাই।
আমাদের ২০০০ স্বাস্থ্য স্থাপনা ও ১০০ হাসপাতাল আছে। আমাদের স্টাফদের প্রশিক্ষণ দিতে প্রতি ব্যাচে প্রয়োজন আট থেকে ১০ হাজার ডলার। আপনি যদি ১০০ হাসপাতালকে ১০ হাজার দিয়ে গুণ করেন, তবে দেখবেন অঙ্কটি কত বড়। ফলে আমরা প্রতিটি হাসপাতলের দুজনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে দিয়ে অন্যদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। ফলে কোনো বাজেট ছাড়াই আমরা এ কাজ সম্পন্ন করতে পারি।
প্রশ্ন: শিশুবান্ধব হাসপাতাল উদ্যোগটি কেমন?
জবাব: শিশুটি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করলে আমরা জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের দুধ পানের ব্যাপারে জোর দেই। তাছাড়া আমাদের হাসপাতালগুলোতে মায়ের দুধের বিকল্প কোনো খাবারের প্রচারণা চালানোর সুযোগ নেই। বিজ্ঞাপন, ফ্রি গিফট ইত্যাদি পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এখন পর্যন্ত আমরা ৮০টি হাসপাতালকে শিশুবান্ধব বলে স্বীকৃতি দিয়েছি।

গুলশানের বাটলার্স চকোলেট ক্যাফে: ব্রেকফাস্ট করুন মধ্যরাতে by আজম খান

চকলেট প্রেমীদের জন্য ঘোষণা! সম্ভাবনা আছে যে ঢাকার গুলশানের উত্তরাংশের এই স্মার্ট ক্যাফেগুলোতে খাবারের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাবেন আপনি। এটা বাটলার চকোলেট ক্যাফে এবং কাস্টমারদের এখানে বিভিন্ন চকলেট, কফিসহ বিভিন্ন জিনিসের বিশেষ স্বাদ নেয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রধান আকর্ষণ হলো বাটলারের লাভা কেক। মৌচাকে মৌমাছিরা যেমন ভিড় করে, চকলেট প্রেমীরা তেমন এই কেক খেতে ভিড় করে। আকাঙ্ক্ষায় গা ভাসানো ছাড়া অন্য কিছু বলা যায় না এটাকে। ছোট্ট কেকটা দেয়া হয় লম্বা সাদা ট্রেতে। একদিকে এক স্কুপ ভ্যানিলা আইসক্রিম আর অন্যদিকে সামান্য চকোলেট সস। কেকের মধ্যে চামচ ডোবালেই লাভার মতো ঘন, মিষ্টি চকোলেট বেরিয়ে আসবে। এরপর কেকের সাথে আইসক্রিম আর চকলেট সস মিশিয়ে খাওয়ার পালা। একেবারে স্বর্গীয় স্বাদ যেন! অবাক হওয়ার কিছু নেই যে বহু মানুষ এখানে প্রতিদিন ভিড় করছে। বিশেষ করে বাইরে ডিনার করার পর এখানে এসে অসাধারণ এই ডেজার্ট দিয়ে খাবারের ইতি টানা আর কি।
সেই সাথে রয়েছে বাটলারের সিগনেচার সানডে.. আইসক্রিম, কুকিজ আর ক্রিম, সিরাপ ও আরও নানা সুস্বাদু জিনিসে ভর্তি। একবার শুরু করলে গ্লাসের তলা পর্যন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত থামতে ইচ্ছা করবে না।
সবচেয়ে ভালো মিল্কশেকটাও সম্ভবত এখানেই পাবেন আপনি – ঘন, সুগন্ধযুক্ত, ঠাণ্ডা ও মিষ্টি। বেশি মিষ্টি? হয়তো কারো কারো জন্য, কিন্তু যাদের মিষ্টি পছন্দ, তারা এক বাক্যে স্বীকার করেন যে, শহরের সেরা এটাই।
  • *এই আইরিশ ক্যাফেতে যাদের সমাগম ঘটে, সেটাও বেশ মজার। প্রায়ই এখানে দেখা যাবে রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিককে – ববি নামেই যিনি বেশি পরিচিত – প্রধানমন্ত্রীর এই ভাইপো রাজনীতিতে বেশ পরিচিত মুখ। ক্রিকেট স্টার নাসের হোসেনও প্রায়ই আসেন এখানে। আসেন ফেরদৌসের মতো মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, মিঠু সাত্তারের মতো ব্যাংকার্স, মাহফুজ আনাম, জাফর সোবহানের (রেহমান সোবহানের ছেলে) মতো মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, ফাইজ সোবহানের (ফারুক সোবহানের ছেলে) মতো থিঙ্ক–ট্যাঙ্কার।
যারা চকলেট বা চিনির স্বাদ পছন্দ করেন না, তাদের জন্য সুসংবাদ হলো এখানে সবকিছুই শুধু মিষ্টি নয়। মেন্যুতে বিভিন্ন স্বাদের খাবার রয়েছে, আর সেখানে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো পিজ্জা। বিফ/চিকেন বারবিকিউ পিজ্জা পছন্দের অন্যতম। স্মোকি ফ্লেভার, অতিরিক্ত চিজ নেই, পিজ্জাটাতে পাতলা ক্রাস্ট রয়েছে আর খেয়ে তৃপ্তি পাওয়া যায়।
ব্রেকফাস্টের সময়েও নিয়মিত কাস্টমার থাকে এখানে, বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানি এলাকাগুলোতে। ডিমের শানি-সাইড আপ, টোস্ট, ক্রয়সেন্ট, সসেজ, হ্যাশ ব্রাউন আরও অনেক কিছু দিয়ে আইরিশ নাস্তা করতে পারেন আপনি। সব শেষে থাকবে এক কাপ ইংলিশ ব্রেকফাস্ট চা অথবা আর্ল গ্রে চা অথবা হট চকোলেট। আর এই নাস্তা সারা দিনই পাওয়া যাবে।
খাবারের তালিকায় আরও রয়েছে পাস্তা, পানিনি, চিকেন স্ট্রিপস, স্পাইসি রাইস, বিভিন্ন ধরনের সালাদ এবং আরও নানা খাবার।
বাটলার্স এখন বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের খাবারের গন্তব্য – এদের মধ্যে কূটনীতিক থেকে নিয়ে তরুণ রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতা এবং শহরের প্রখ্যাত ব্যক্তিরা রয়েছে। গণ্যমান্যদের সবাইকেই পাবেন এখানে।
তরুণ উদীয়মান এক ব্যাংকার হাসলেন। “আমার বিশ্বাস অফিসের চেয়ে এখানেই আমি বেশি ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলি। সত্যিই! বাটলার্স আমার কাছে একটা কফি পয়েন্টের চেয়েও বেশি কিছু। এটা নেটওয়ার্কিংয়ের জায়গা, পেশাদার আলাপের জায়গা”।
ইউরোপিয় একটি দেশের সিনিয়র এক কূটনীতিক বললেন, “আমি এখানে নিরাপদ ও পরিচিত বোধ করি। এটা শুধু বাড়ির কাছাকাছিই নয়, বরং এই জায়গার অনুভূতিটাও একই সাথে খুবই কসমোপলিটান আবার নিজের বাড়ির মতো। আমি নিউ ইয়র্ক, লন্ডন, প্যারিস বা যে কোন জায়গায় নিজেকে ভাবতে পারি.. এটার সেই বৈশিষ্ট্য রয়েছে”।
মালিক হাবিব ঘিওয়ালা থাকেন আয়ার‍ল্যান্ডে। এই আউটলেটগুলোর দেখভালের জন্য প্রায়ই তিনি ঢাকা আসেন। “ঢাকায় ডাবলিন-ভিত্তিক এই আউটলেটগুলো গড়ে তুলতে অনেক সময় নিয়েছি আমি। শুধু জায়গা বাছাইয়ের জন্যই আমি তিন বছর সময় নিয়েছি। এতে লাভ হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য জায়গার চেয়ে ঢাকা বাটলার্স বেশি লাভজনক হয়েছে। বাংলাদেশীরা যে বাটলার্সকে তাদের এক নাম্বার পছন্দে পরিণত করেছে, এ জন্য বাংলাদেশীদের আমি অবশ্যই ধন্যবাদ দেই”। বাটলার্সের পাকিস্তানে তিনটি, দুবাই ও আয়ার‍ল্যান্ডে একটি করে আউটলেট রয়েছে।
আর এই আইরিশ ক্যাফেতে যাদের সমাগম ঘটে, সেটাও বেশ মজার। প্রায়ই এখানে দেখা যাবে রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিককে – ববি নামেই যিনি বেশি পরিচিত – প্রধানমন্ত্রীর এই ভাইপো রাজনীতিতে বেশ পরিচিত মুখ। ক্রিকেট স্টার নাসের হোসেনও প্রায়ই আসেন এখানে। আসেন ফেরদৌসের মতো মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, মিঠু সাত্তারের মতো ব্যাংকার্স, মাহফুজ আনাম, জাফর সোবহানের (রেহমান সোবহানের ছেলে) মতো মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, ফাইজ সোবহানের (ফারুক সোবহানের ছেলে) মতো থিঙ্ক-ট্যাঙ্কার, সারা হোসেনের (কামাল হোসেনের মেয়ে) মতো আইনজ্ঞ, কনার মতো গায়িকা এবং আরও অনেকে।
আগের প্রজন্মের তারকা ববিতা এবং চম্পার মতো নায়িকারাও মাঝে মাঝে কফি খেতে ঢুঁ মারেন এখানে। নিয়মিত কাস্টমারদের মধ্যে আজকের সময়ের তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল ব্যক্তিরাও রয়েছেন। রয়েছেন সালমান রহমানের মতো ব্যক্তির ছেলে মেয়েরা, লোটাস কামাল, মোরশেদ খান, আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্যরা। এই ব্যক্তিরা নিজেরাই এই গন্তব্যের মর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং বাটলার্স নিজেও শতাব্দির এই ভিড়কে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।
ব্যবসা বা বিনোদন, যে কাজেই কেউ ঢাকা সফরে আসছেন, তারা একবার হলেও বাটলার্স ঘুরে দেখতে পারেন। এটা মজাদার, দেখার মতো একটি জায়গা এবং এখানকার অভিজ্ঞতাটাও মজার।
মজার ব্যাপার হলো, এখানকার কফিটা যদিও শহরের সবচেয়ে মজাদার নয়, এরপরও জনপ্রিয়তা পেয়েছে এটা। সম্ভবত বিভিন্ন ধরনের জন্য – ক্যাপাচিনো, মোচাস, এসপ্রেসো – সব ধরনের ফ্লেভার রয়েছে এখানে। আর এখানকার নিজস্ব পরিবেশ তো রয়েছেই।
বাটলার্সের দাম বেশি হবে এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু দামের ব্যাপারে সচেতন মানুষরাও ভিড় করেন এখানে। বাইরে বিএমডাব্লিউ থেকে অডিস, মার্সিডিজ থেকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পার্ক করা চকচকে এসইউভি দেখলেই সেটা আঁচ করা যায়। গুলশান নর্থ এভিন্যুয়ের অনেকটা জায়গায় দখল করে থাকে এই গাড়িগুলো।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো এটা বহু রাত পর্যন্ত খোলা থাকে। এর দরজা বন্ধ হয় রাত একটায়। মাঝরাতে স্ন্যাকস খেতে চান? মধ্যরাতে ব্রেকফাস্ট?