Monday, July 1, 2019

কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় কিশোরীকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে এক কিশোরের (১৫) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার রাতে মেয়েটির মামা বাদী হয়ে ওই মামলা করেন।
পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত কিশোর নাজিরপুরের একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ওই কিশোরীর মা-বাবা ভারতে থাকেন। মেয়েটি মামার বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। সাত মাস আগে তার মামার বাড়ির এলাকার এক কিশোর মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। এরপর থেকে সে মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে আসছিল। চার মাস আগে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। কিশোরী বিষয়টি কিশোরকে জানায়। এতে কিশোর ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোরীকে হত্যার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। পরে মেয়েটি ভয় পেয়ে বিষয়টি গোপন করে রাখে। সম্প্রতি প্রতিবেশীরা মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে বিষয়টি তার নানিকে জানান। এরপর মেয়েটি তার নানির কাছে শারীরিক সম্পর্ক ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কথা স্বীকার করে। মেয়েটির স্বজনেরা বিষয়টি মীমাংসা করতে ব্যর্থ হয়। পরে স্থানীয় থানায় মামলা করেন মেয়েটির মামা। মামলার পর থেকে ওই কিশোর পলাতক।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুনিরুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালে মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পিরোজপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ওই কিশোরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী তাড়াব: বিজেপি নেতা

কৈলাস বিজয়বর্গীয়। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ক্ষমতায় এলে বিজেপি দুই কোটি অনুপ্রবেশকারীকে তাড়িয়ে দেবে বলে হুমকি দিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক ও পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। গতকাল রোববার তিনি উত্তর ২৪ পরগনার পলতায় শান্তিনগর স্কুল ময়দানে নিখিল ভারত উদ্বাস্তু সমন্বয় সমিতি আয়োজিত এক সভায় যোগ দিয়ে এ হুমকি দেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকারের মেয়াদ রয়েছে আরও দুই বছর। বিজয়বর্গীয়ের মতে, এই তৃণমূল সরকার দুই বছরও টিকবে না। মেয়াদের আগেই বিদায় নিতে হবে।
বিজয়বর্গীয় বলেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) চালু করে এই রাজ্যে অবৈধভাবে বাস করা দুই কোটি অনুপ্রবেশকারীকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। মমতা এই রাজ্যে নিজের ভোটব্যাংক বানাতে গিয়ে দেশের নিরাপত্তাকে বিসর্জন দিয়েছেন। এ কারণে দুই কোটি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী আশ্রয় নিয়েছে এই রাজ্যে।
বিজয়বর্গীয় বলেছেন, এই বাংলা থেকে এখনই তৃণমূলের বিদায় নেওয়া উচিত। কারণ, এই সরকার থাকলে বাংলার উন্নয়ন হবে না। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলেই এই বাংলায় চালু করা হবে এনআরসি। এরপর এই বাংলা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে ফিরিয়ে দেওয়া হবে তাদের নিজেদের দেশে। তাঁর মতে, তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে এই বাংলার নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকবে না, দ্বিতীয় কাশ্মীর হয়ে যাবে।
আরেক বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেন, এই বাংলায় আশ্রয় দেওয়া হবে শরণার্থীদের। তবে আশ্রয় পাবে না অবৈধভাবে আসা অনুপ্রবেশকারীরা।

‘এত করে কলাম, আমারে মারিস না’ by সুহাদা আফরিন

দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত শাহীন
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ছবিটি। তাতে দেখা যায়, রক্তাক্ত এক কিশোর বসে আছে, তাকিয়ে অপলক দৃষ্টিতে। হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে দুর্বৃত্তদের কাছে কাকুতি-মিনতি করেছিল যশোরের ওই কিশোর শাহীন আলম (১৬)। কিন্তু নিস্তার মেলেনি। চেতনা থাকা অবস্থায় মাঝে মাঝেই চিৎকার দিয়ে শাহীন বলে উঠছিল, ‘এত করে কলাম, আমারে মারিস না। ওরা কয় তোর নিস্তার নেই।’
শাহীন এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের বাইরে ঠায় বসে আছেন তার মা মোসাম্মত খাদিজা। তিনি জানান, চেতনা থাকা অবস্থায় মাঝে মাঝেই চিৎকার করে উঠত শাহীন। বলে উঠত, দুর্বৃত্তদের কাছে তার মিনতির কথা। আহত শাহীন স্বজনদের শুধু এটুকুই বলতে পারছিল।
শাহীনকে শনিবার রাতে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। রাতে অপারেশন শেষে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শাহীনের মা খাদিজা প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুক্রবার সকালে সাতটার সময়ে শাহীন ভ্যান নিয়ে বাইর হয়ে যায়। দুপুরে গ্রামের মেম্বার ফোন করে শাহীনের কথা জানায়। প্রথমে শুনেছিলাম ও মারা গেছে। পরে ওরে আমরা খুলনা হাসপাতালে নিয়ে যাই। পথের মধ্যেই বারবার চিল্লায়ে উঠতেছিল, “এত করে কলাম, আমারে মারিস না। ওরা কয় তোর নিস্তার নেই।’”
যশোরের কেশবপুরের গোলাঘাটা দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহীন গত শুক্রবার দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়। ওই দিন যাত্রীবেশী কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ভ্যানটি ভাড়া নেয়। শাহীন তাদের নিয়ে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার ধানদিয়ার নামক এলাকায় যাচ্ছিল। পথে একটি পাটখেতের পাশে শাহীনের ভ্যানটি দাঁড় করায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তারা শাহীনের মাথায় আঘাত করে ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়। আঘাত ও রক্তক্ষরণের ফলে অচেতন হয়ে পড়েছিল শাহীন। পরে চেতনা ফিরলে কাঁদতে শুরু করে সে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানায় খবর দেয়।
শাহীনের খালু রবিউল বাশার প্রথম আলোকে বলেন, ভ্যান ও শাহীনের সঙ্গে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন—সবই নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। শাহীন মারা গেছে ভেবে ওরা ফেলে রেখে চলে যায়। প্রথমে শাহীনকে সাতক্ষীরা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে খুলনার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে নেওয়া হয়। খুলনার চিকিৎসকেরা জানান, শাহীনের মাথায় মারাত্মক জখম হয়েছে, ঢাকা মেডিকেলে নিতে হবে। শনিবারই ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয় শাহীনকে।
কেশবপুর থানার মঙ্গলকোট গ্রামে শাহীনদের বাড়ি। বাবা হায়দার আলী মোড়ল একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যান কিনেছিলেন। বাড়তি রোজগারের আশায় পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে শাহীনও ভ্যান নিয়ে বেরিয়ে পড়ত। মা খাদিজা বলেন, তাঁর ছেলে পড়াশোনায় ভালো। ছোট দুই বোনের পড়াশোনার প্রতিও নজর ছিল শাহীনের।
সংসারের উপার্জনের বাহনটি ছিনতাই হলেও মায়ের চিন্তা এখন শুধুই ছেলের সুস্থতা নিয়ে। কখন ছেলের জ্ঞান ফিরবে, সেই আশায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের বারান্দায় স্বজনদের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন খাদিজা। তিনি বলেন, ‘ছেলে আমার জানে বাঁচি গেছে। আল্লাহ এখন ওকে সুস্থ করে দিলেই আমার শান্তি।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অসিত চন্দ্র সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘শাহীনের মাথার হাড় ফেটে ভেতরের দিকে ঢুকে গেছে। গতকাল ভর্তি হওয়ার পর পরই অপারেশন হয়েছে। ওর ইনজুরিটা একটু ক্রিটিক্যাল। তাই আইসিইউতে আছে। ওর চিকিৎসায় সাত সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।’
শাহীনের বাবা হায়দার আলী মোড়ল বাদী হয়ে গতকাল শনিবার পাটকেলঘাটা থানায় মামলা করেছেন। সাতক্ষীরা থেকে প্রথম আলোর প্রতিবেদক জানান, অপরাধীদের ধরতে সাতক্ষীরা ও যশোরের পুলিশ যৌথ অভিযান চালাচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, শনিবার রাত থেকে অভিযান শুরু করেছে। দ্রুতই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম আলোয় শাহীনকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর একজন ইতালিপ্রবাসী তাঁর কাছে শাহীনের বাবা-মাকে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন,  যশোর থেকে ঢাকা মেডিকেলে আসা এবং অপারেশন থেকে শুরু করে চিকিৎসার সব কাজে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা–কর্মীরা সহায়তা করেছেন। তিনি পোস্টে আরও লিখেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর বিশেষ সহকারী  বিপ্লব বড়ুয়াও যোগাযোগ রাখছিলেন।
দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত যশোরের কিশোর শাহীন এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে আছে। বাইরে তার মা মোসাম্মত খাদিজা ছেলের সুস্থতার জন্য অপেক্ষা করছেন। ৩০ জুন, ঢাকা। ছবি: সুহাদা আফরিন

আত্মগোপনে দুবাইয়ের শাসকের স্ত্রী

দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ মাকতুমের স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল হুসেইন দেশ থেকে পালিয়ে লন্ডনে গিয়ে আত্মগোপন করে আছেন। সেখান থেকে তিনি জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ চাইছেন। কিন্তু তাকে ফেরত পেতে তৎপর দুবাই। এতে কোনো সাড়া মিলছে না। এ নিয়ে দুবাই ও বার্লিনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে বৃটিশ মিডিয়ায়। ওদিকে প্রিন্সেস হায়া ও তার সৎমেয়ে প্রিন্সেস লতিফার পক্ষে প্রচারণায় নেমেছে অধিকার বিষয়ক প্রচারণাকারীরা। তারা প্রিন্সেস হায়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আপনি এখন মুক্ত।
আপনার মেয়েকে সাহায্য করুন।
এর মধ্য দিয়ে প্রিন্সেস হায়া’র সৎমেয়ে প্রিন্সেস লতিফাকে (৩৩) উদ্ধারে তার সহায়তার কথা বলা হয়েছে। মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী প্রিন্সেস লতিফাও এর আগে দুবাই থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ফলে তাকে দুবাইয়ে আটকে রাখা হয়েছে। প্রচারণাকারীরা বলছেন, তাকে ‘ড্রাগ’ দিয়ে রাখছে শাসকগোষ্ঠী, যাতে ভেতরের কোনো কথা বাইরে প্রকাশ না হয়। তাই প্রিন্সেস লতিফার চিকিৎসা ও তাকে উদ্ধারে প্রিন্সেস হায়া’র সহায়তা চেয়েছেন তারা। বৃটিশ মিডিয়ায় এ নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করা হচ্ছে কয়েকদিন ধরে।
প্রথমে দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ মাকতুমের স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল হুসেইন জার্মানিতে পালিয়ে গেছেন বলে খবর দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে বলা হচ্ছে, তিনি স্বামীকে ফেলে পালিয়ে গেছেন লন্ডনে। তার স্বামী বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধনীদের অন্যতম। কোনো কোনো রিপোর্টে বলা হচ্ছে, নতুন জীবন শুরু করতে প্রিন্সেস হায়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়ার আগে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন ৩ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড। এখন তিনি শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ মাখতুমের কাছ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ চাইছেন।
গত বছর দুবাই থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ মাখতুমের এক মেয়ে প্রিন্সেস লতিফা। কিন্তু তাকে ধরে ফেলা হয়। তারপর থেকে এখন অবধি দুবাইয়ে তাকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। আটক করার আগে প্রিন্সেস লতিফা ধারাবাহিকভাবে কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তিনি তাতে বলেছেন, তার জীবন কলঙ্কিত। এর মধ্য দিয়ে তিনি কি বুঝিয়েছেন তা পরিষ্কার নয়। এর আগে তিনি একবার পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। সে জন্য তাকে দু’বছর জেলে রাখা হয়েছিল।
তাকে আটক করার পর তার পক্ষে প্রচারণাকারীরা তাকে মুক্ত করার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। তারা বলছেন, তাকে নেশাদ্রব্য প্রয়োগ করা হচ্ছে। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। তার পিতাকে যেন কোনো বিব্রতকর অবস্থায় তিনি ফেলতে না পারেন সে জন্য এমনটা করা হচ্ছে। এখন এই প্রচারণাকারীরাই চাইছেন, প্রিন্সেস হায়া দেশ থেকে পালাতে পেরেছেন। তারই উচিত এখন প্রিন্সেস লতিফার চিকিৎসার জন্য মুখ খোলা। তবে দুই সন্তানের মা প্রিন্সেস হায়া এখন কোথায় অবস্থান করছেন তা অজানা। এ অবস্থায় জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। উল্লেখ্য, লন্ডনে কেনসিংটন রাজপ্রাসাদের কাছেই রয়েছে তার ৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড মূলের একটি বাড়ি।
প্রিন্সেস লতিফাকে মুক্ত করার জন্য একটি প্রচারণা টিম গঠন হয়েছে। এর নাম ফ্রি লতিফা। এর অন্যতম নেত্রী টিনা জুহিয়াইনেন বলেন, দুবাইয়ে নিষ্পেষণমূলক শাসকের বিরুদ্ধে বিরাট কারাকে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারই স্ত্রী। এটা উল্লেখ করার মতো একটি বিষয়। আমরা প্রিন্সেস হায়া’র প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি তিনি যেন তার বৈশ্বিক ক্ষমতা ও প্রভাবকে ব্যবহার করেন লতিফাকে মুক্ত করতে। পিতার নির্যাতনমূলক আচরণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন লতিফা। তার জীবন রক্ষা করতে সহায়তা করার সুযোগ আছে প্রিন্সেস হায়া’র। প্রিন্সেস লতিফার জীবন ঝুঁকিতে। তিনি হতে পারেন একজন প্রিন্সেস। কিন্তু স্বাধীনতা ও সমান অধিকার নেই। আমরা আশা করবো প্রিন্সেস হায়া ও তার সন্তানরা নিরাপদে থাকবেন। আমাদের সঙ্গে প্রচারণায় যোগ দেবেন।

হাসিনা কি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ করছেন? -দ্য স্টেটসম্যানের সম্পাদকীয়

৩০শে জুনের দ্য স্টেটসম্যান থেকে: ১লা জুলাই থেকে ৫ই জুলাই পর্যন্ত বহুল প্রচারিত ও প্রত্যাশিত সফরে চীনে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছর শেষের দিকে নির্বাচনে বড় বিজয়ের পর তিনি দৃশ্যত রাজনৈতিক নিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে মনে হয়।
গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একজন নেতা বা নেত্রীর মর্যাদাকে ব্যাপক হারে দেয়া ম্যান্ডেট জাতীয়ভাবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বৃদ্ধি করে। এই ব্যতিক্রমী বিজয়কে সঙ্গে করে, এবং তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষগুলো কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে, এ অবস্থায় হাসিনা গত ৬ মাসে বেশ কিছু দেশ সফর করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার ‘কাউন্ডারপার্টস’দের সঙ্গে যখন আলোচনা করেছেন তখন তার ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ ইঙ্গিত দিয়েছে, তার আস্থা বাড়ছে এবং দেশের ভিতরে সব অসন্তোষ ভালভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
২৮ শে জুন ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। এতে তিনি এরই মধ্যে শেখ হাসিনার বহুল প্রচারিত চীন সফর নিয়ে আরো কিছু আশা যোগ করেছেন। এতে মনে হতে পারে, চীনের কাছে এমন অনুভূতি পাঠানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ যে, দুই দেশ এরই মধ্যে বিশেষ এক সম্পর্ক উপভোগ করছে এবং প্রস্তাবিত এই সফর তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো জোরালো করবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হাসিনার সফরসঙ্গী মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যাবেন উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে যে, শেখ হাসিনা বেইজিং থাকা অবস্থায় দুই দেশের মধ্যে ৮টি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হবে। এগুলো মূলত বিদ্যুত খাতকে কেন্দ্র করে। এছাড়াও দুই পক্ষ ব্রহ্মপুত্র নদ সহ নদী সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আরো খাত অবমুক্ত করার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ঋণ ও বিভিন্ন পর্যায়ের ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী হাসিনার প্রধান ফোকাস হতে পারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমার যাতে ফেরত নেয় তার বোধোদয়ের জন্য চীনকে চেষ্টা করতে এবং মিয়ানমারকে এ বিষয়ে চীন যেন চাপ দেয়। এসব রোহিঙ্গাকে ২০১৭ সালের আগস্টে সামরিক নৃশংসতার পর বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এখন এসব শরণার্থীর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ৭ লাখ পেরিয়ে গেছে। চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে অসাধারণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিদ্যমান। সেখানে এটা হবে এক দুঃসাধ্য চ্যালেঞ্জ। তবু বাংলাদেশ আশা করে যে, তার পক্ষে চীন কথা বললে তা শুনবে মিয়ানমার। এ ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মাটিতে এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার উপস্থিতি থেকে সন্ত্রাসের উদ্বেগের বিষয়টি যুক্তি হিসেবে তুলে ধরতে পারেন। এসব রোহিঙ্গা উগ্রপন্থি হয়ে উঠতে পারে।
২০১৬ সালে ঢাকা সফর করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সে সময়ে যেসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল সেগুলোর বাস্তবায়ন চাইবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এখন বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে নিজেকে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমানে শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজমান। ফলে বিভিন্ন দেশ ও তাদের এই সম্পর্কের মধ্যে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে সমীকরণ। এ অবস্থার মধ্যে হাসিনার চীন সফরকে মূল্যায়ন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্রীষ্মকালীন ডাভোস সম্মেলনে যোগ দেবেন হাসিনা। তিনি এতে অংশগ্রহণ করলে তা এমনই ইঙ্গিত দেবে যে, বাংলাদেশের ফোকাস হলো অর্থনৈতিক ইস্যুতে। পাশাপাশি ২০২১ সালের মধ্যে তিনি বাংলাদেশকে অর্থনীতির পাওয়ারহাউজ হিসেবে যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন সেই লক্ষ্য পূরণ হিসেবে দেখা হবে। এর সঙ্গে মিশে থাকছে ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি।
প্রধানমন্ত্রীর অফিস সহ বাংলাদেশে সক্রিয় শক্তিশালী চীনপন্থি লবি। এই লবি দীর্ঘ সময় ধরে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশকে গতিশীল অংশীদারিত্বের জন্য চীনের দিকে ঝুঁকতে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষাকে উন্নত করতে নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য এর আগে চীনের সাবমেরিন কেনার ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। এতে ভারতের কোনো কোনো মহলে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু এতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কোনো ক্ষতি করবে না, এমনটা ভারতকে নিশ্চিত করার পর, ওই উদ্বেগে প্রশমিত হয়েছিল। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে আলাদা আলাদা ‘ওয়ান-টু-ওয়ান’ বৈঠক করবেন হাসিনা। তার সম্মানে একটি ভোজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী। এটা হতে পারে আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে বেশি কিছু। হতে পারে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ করার একটি উপায়।
শেখ হাসিনা একজন বিচক্ষণ রাজনীতিক। ভারতের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অঙ্গীকার আছে তার। তিনি হয়তো এমন কোনো কার্ড নিজের কাছে রাখবেন, যা দিয়ে অবশ্যই তিনি ভারত ও চীনের সঙ্গে তার সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করবেন।
বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাই কমিশনার ছিলেন পিআর চক্রবর্তী। তিনি তার এক লেখায় বলেছেন, ভারতের প্রতিবেশী ও আফ্রিকায় চীনের ‘ডেবট ট্রাপ ডিপ্লোম্যাসি’তে পড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যখন চীনা কার্ড খেলছে তখন আগের দিনের বাংলাদেশ খুব সতর্কতার ক্ষেত্রে পা ফেলছে।  এই সতর্কতা ভাল। এমনকি এখনও, যখন হাসিনা দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক উদ্বেগজনক বিষয়গুলো নিয়ে চীনের সঙ্গে কথা বলবেন।
এর আলোকে, বাংলাদেশের দিকে ভারত বাজপাখির মতো ঘনিষ্ঠভাবে নজরদারি করা শুরু করেছে, আসলেই চীনের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছে কিনা বাংলাদেশ। হাসিনা ৬ই জুলাই তার চীন সফর শেষ করবেন। তারপর চীন ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়টি মূল্যায়ন করা হবে। এটাই তখন গুরুত্ব পাবে।
(৩০শে জুনের দ্য স্টেটসম্যান থেকে অনুবাদ)

রিফাত হত্যাকাণ্ড: মুখোমুখি দুই প্রভাবশালী নেতা by মো. মিজানুর রহমান

বরগুনায় রিফাত শরীফের খুনিরা রাজনৈতিক পরিচয়েই ক্ষমতাধর। বরগুনা জেলার প্রভাবশালী দুই রাজনৈতিক নেতা হলেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র  দেবনাথ শম্ভু এবং একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন। এ দুই আওয়ামী লীগ নেতার দ্বন্দ্বের বিষয়টিও বরগুনাবাসীর জানা। নৌকার প্রার্থী হয়েও একবার দেলোয়ার হোসেনের কাছে সংসদ নির্বাচনে হেরেছেন শম্ভু। আলোচিত এ দুই প্রভাবশালী নেতার মধ্যে চরম বিরোধ থাকলেও নিজেদের প্রভাব বিস্তারে এ দুইজনের কাঁধেই ভর করেছিল রিফাত হত্যার মূল আসামি নয়ন বন্ড, রিফাত ও রিশান ফরাজী। হত্যা মামলার মূল আসামিরা বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের চিরচেনা দুই প্রতিপক্ষের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে ওঠার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বরগুনায় এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর পক্ষের লোকজনের অভিযোগ, রিফাতের হত্যাকারী রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সাবেক সংসদ সদস্য দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে। দেলোয়ার হোসেনের প্রশ্রয়েই এ দুই ভাই রিফাত হত্যার মতো অপরাধে দুঃসাহসী হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে দেলোয়ার হোসেন দাবি করেছেন, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে এবং জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুনাম দেবনাথের ছত্রছায়ায় রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ডসহ অন্যরা বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে বলে তিনি শুনেছেন।
বরগুনা সরকারি কলেজের দক্ষিণ-পশ্চিমে বরগুনা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে নয়ন বন্ডের বাসা। নয়নের বাবা মৃত ছিদ্দিকুর রহমান। দুই ভাইয়ের মধ্যে নয়ন ছোট। নয়নের বড় ভাই মিরাজ দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরে শ্রমিকের কাজ করেন। মাকে নিয়েই ওই বাসায় বসবাস করছিল নয়ন। নয়ন নিজেও ছাত্রলীগের সমর্থক; কিন্তু সক্রিয় কর্মী নয়। তার পদও নেই। তবে অভিযোগ রয়েছে তার পৃষ্ঠপোষক সংসদ সদস্য শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথ। এর আগে জেলা ছাত্রলীগের একাংশ সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছিল সুনাম মাদক কারবারি। এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছিল। যেহেতু নয়ন মাদক কারবারি, তাই সুনামের সঙ্গে তার যোগসূত্রের কথা খোদ স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাই বলছেন। তারা বলছেন, রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় না থাকলে এত বড় অঘটন ঘটানো সম্ভব নয়। তাছাড়া একাধিক মামলার আসামি প্রকাশ্যে আসতেও পারে না।
রিফাত হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি রিফাত ফরাজী ও তার ভাই রিশান ফরাজী বরগুনা সদর উপজেলার রায়েরতবক গ্রামের দুলাল ফরাজীর ছেলে। দুলাল ফরাজী সাবেক জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মরহুম লতিফ ফরাজীর ভাতিজা। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে তারা। মামলার অন্যতম প্রধান আসামি হলেও পুলিশ তাদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। রিফাতের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগে বরগুনা সদর থানায় অন্তত চারটি মামলা রয়েছে। বরগুনা সরকারি কলেজে বখাটেপনার দায়ে পুলিশ তাকে দুইবার আটক করেছিল। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো মামলা না দেয়ায় পুলিশ মুচলেকা রেখে রিফাতকে ছেড়ে দেয়। সমপ্রতি জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় রিফাত ঘটা করে জন্মদিন পালন করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামলার চার নম্বর আসামি চন্দন ও ছয় নম্বর আসামি মো. রাব্বি আকন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তারা জেলা ছাত্রলীগের সদস্য। এ ছাড়া কিলিং মিশনে অংশ নেয়া আরেক যুবক সুহার্ত, বরগুনা জেলা যুবলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন সাবুর ছেলে। গ্রুপ ০০৭ থেকে ফাঁস হওয়া এক ছবিতে তাকে রামদা হাতে বসে থাকতে দেখা গেছে। বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিকের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিভিন্ন সময়ে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা গেছে। তাছাড়া কিলিং মিশনে অংশ নেয়া অন্যান্য আসামিরাও জুবায়ের আদনান অনিকের অনুসারী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিটিং মিছিলে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।
রিফাত হত্যার পর গত ২৭শে জুন হত্যাকারীদের ফাঁসি চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন সুনাম দেবনাথ। এতে তিনি রিফাত হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজীকে বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে উল্লেখ করে এ দুই ভাইয়ের বিভিন্ন সময়ে ঘটানো কিছু অপকর্মের চিত্র তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে দেলোয়ার হোসেনের কাছে গেলে তিনি অভিযোগকারীদের নানাভাবে অপদস্থ করতেন। আর তার এমন প্রশ্রয়ে ওই দুই ভাই এতো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তবে সুনাম দেবনাথের এ ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে কথা উঠলে তিনি স্ট্যাটাসটি ‘হাইড’ করে ফেলেন।
এদিকে সুনাম দেবনাথের ফেসবুক স্ট্যাটাস নজর এড়ায়নি দেলোয়ার হোসেনের। এ নিয়ে শুক্রবার রাতে বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এ সময় তিনি হত্যাকারীদের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করেন এবং হত্যাকারীদের ফাঁসি চান।
২৭শে জুন হ্যাশট্যাগ দিয়ে ফেসবুকে সুনাম দেবনাথ লিখেন, ‘আমার ভাইয়ের জীবন গেলো রক্ত-স্রোত-বন্যায়/ক্ষমতাধরের ভায়রার ছেলে, মুখ খোলা তাই অন্যায়!’ এরপর তিনি লিখেন, ‘প্রথমেই আমরা স্পষ্ট হবো নাম নিয়ে। কারণ যে মারা গেছে আর যারা মেরেছে তাদের নাম এক হওয়াতে আমরা গুলিয়ে ফেলছি। কাকতালীয়ভাবে দুইজনের বাবার নামও এক। যে ছেলেটিকে হত্যা করা হলো তার নাম রিফাত শরীফ, পিতার নাম দুলাল শরীফ, সাং: ৬ নং ইউনিয়ন। আর হত্যাকারীদের মধ্যে প্রধান হচ্ছে নয়ন এবং তার সহযোগী হচ্ছে রিফাত ফরাজী, পিতা দুলাল ফরাজী, সাং বরগুনা ধানসিঁড়ি রোড এবং আরেক সহযোগী হচ্ছে রিফাতের ছোট ভাই রিশান ফরাজী, পিতা ও সাং: ওই। এই রিফাত ও রিশানের অন্য এক পরিচয় রয়েছে, তারা দুইজনই সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান জেলা চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে। যারা আদর করে তাকে (দেলোয়ার হোসেন) বাবা বলেই সম্বোধন করে।’
সুনাম দেবনাথের স্ট্যাটাসে বলা হয়েছে, ‘নয়ন (নয়ন বন্ড) সব থেকে বেশি নজরে এসেছে তখন, যখন সে একটি বড় ধরনের মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল। প্রায় ১২ লাখ টাকার মাদক নয়নের কাছ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। রিফাত ফরাজীর বিভিন্ন অপকর্মের নালিশ থানায় দেয়ার পাশাপাশি তার খালু জেলা চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের কাছেও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বারবার নালিশকারীদের সেখান থেকে অপমান, অপদস্থ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। মূলত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রভাবেই তারা অনেকটাই বেপরোয়া।’
স্ট্যাটাসটিতে সুনাম দেবনাথ উল্লেখ করেন, “যে ছেলেটির (তরিকুলের) ঘটনা প্রথমেই বলেছি, সে বর্তমান ঘটনার (রিফাত হত্যা) প্রেক্ষিতে ফেসবুকে লিখেছে, ‘২০১৭-তে আমার ঘটনার বিচার হলে আজ রিফাতের প্রাণ হারাতে হতো না’। লেখাটি কতটা গুরুত্ববহ, এখন আমরা বুঝতে পারছি।” সুনাম দেবনাথের দাবি, ‘রিফাত শরীফ আমাদের খুব কাছের ছোট ভাই ও কর্মী ছিল। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের সঙ্গে থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা করেছে। নিজের কাছে খুব খারাপ লাগছে, রিফাতের মৃত্যু সংবাদে। তবে এ খুনের পেছনে আরো অনেক রহস্য আছে। বিভিন্ন মিডিয়ায় যাকে এখন হিরো বানানো হচ্ছে; মূল ভিলেন সে নিজেও হতে পারে। রিফাত শরীফের বন্ধুদের থেকে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে, তাতে এটাই বোঝা যায়, আর একটু সময় পার হলে হয়তো আরো ক্লিয়ার হওয়া যাবে।’
ফেসবুকে এ স্ট্যাটাসের ব্যাপারে সুনাম দেবনাথ বলেন, ‘আমি স্ট্যাটাসে যা লিখেছিলাম, সেটা দিনের আলোর মতো সত্য। আমি বলেছিলাম, রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে। আমি কোথাও বলিনি, তিনি খুনি বা তার নির্দেশে এই খুন হয়েছে।’ ‘আমাদের কাছে নয়ন, রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আসতো, তখন তার (দেলোয়ার হোসেন) কাছে পাঠালে তিনি বিচার না করে বরং উল্টো আমাকে নিয়ে বাজে কথা বলতেন। কিন্তু সেই সময় যদি উনি তার ভায়রার ছেলেদের সঠিক বিচার করতেন, তাহলে আজকে তারা আর এত বড় অপরাধ করার সাহস পেতো না।’
আপনার ছত্রছায়ায় নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী বিভিন্ন অপকর্ম করতো, বিভিন্ন সময় আপনি তাদের শেল্টার দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে, এ কথার জবাবে সুনাম দেবনাথ বলেন, ‘দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক বিরোধিতা দীর্ঘদিনের, সেটা বরগুনাবাসী জানে। এক্ষেত্রে তার লোকজনকে প্রশ্রয় দেয়ার তো প্রশ্নই আসে না। বরং বিভিন্ন সময় আমি তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। কিন্তু তারা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আবার বের হয়ে যেত।’
অপরদিকে, সুনাম দেবনাথের স্ট্যাটাসের জের ধরে শুক্রবার রাতে বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘রিফাত হত্যার ঘটনায় জড়িতদের আমি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এই খুনের মূলহোতা নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী। ফেসবুকে দেখি, আমাকে নিয়ে একটা নোংরা খেলা শুরু হয়েছে। কারণ রিফাত ফরাজী আমার আত্মীয়। ওদের সঙ্গে আমার কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই। ওরা আমার ছেলেও না, ভাইও না, ভাইয়ের ছেলেও না, বোনের ছেলেও না, কিচ্ছু না। বিয়ের সূত্রে রিফাত আমার আত্মীয়। এমন অনেক আত্মীয় থাকে সবারই। তারা কেউ ভালো হয়, কেউ খারাপ হয়, কেউ চোর হয়, কেউ সন্ত্রাসী হয়, ডাকাত হয়। সুতরাং এখানে আমার ওপর দোষ চাপিয়ে দেয়ার কারণটা কী, আমি ঠিক বুঝতে পারি না। আমি এদের কোনোদিন প্রশ্রয় দিইনি।’
সুনাম দেবনাথের ফেসবুক স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ওদের (রিফাত ফরাজী ও রোশান ফরাজী) সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই গত ৪-৫ বছর ধরে; কোনো সম্পর্কই নেই।’
আপনার কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলে আপনি নাকি অভিযোগকারীদের অপমান-অপদস্থ করতেন, এ প্রশ্নের জবাবে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট কথা।’ এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমি নয়ন বন্ডকে চিনি না। কিন্তু শুনেছি, এই নয়ন নাকি সুনামের শিষ্য। সুনামের নেতৃত্বেই নয়নরা বিভিন্ন অপকর্ম করতো।’
এ ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু সূত্র জানায়, বিভিন্ন মামলায় নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী কারাগারে গেলে মোতালেব মিয়া ও হুমায়ন কবির পল্টু নামের দুই আইনজীবীর মাধ্যমে তারা শিগগিরই মুক্ত হয়ে যেত। এই দুই আইনজীবী দেলোয়ার হোসেনের খুব কাছের লোক।
এ বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘রিফাত ও রোশান যখন মাদকে জড়ায়, তারপর থেকে আমি ওদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করি। আমার স্ত্রীকেও তাদের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলি।’ তাদের সঙ্গে আমার পারিবারিকভাবেই কোনো সম্পর্ক নেই। ডাকবাংলোয় রিফাতের জন্মদিন পালন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে অবগত নই।
গ্রেপ্তার আরো ৩
এদিকে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আরো তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলো মো. তানভীর, মো. সাগর ও মো. কামরুল হাসান সাইমুন। এর আগে সন্দেহভাজন মো. নাজমুল হাসান ও এজাহারে নাম থাকা চন্দন ও মো. হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলে এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
গতকাল দুপুরে বরগুনার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন এসব তথ্য জানান। এ সময় পুলিশ সুপার বলেন, ‘আসামি ধরা ঘণ্টাব্যাপী বা সেকেন্ডব্যাপী হয় না। টেকনিক্যাল অনেক বিষয় আছে? আসামি কোথায় আছে না আছে? কখন নক করলে আসামিকে আমি সুবিধাজনকভাবে ধরতে পারবো, নাকি আসামি পালিয়ে যাবে; এরকম অনেক বিষয় থাকে। তার মানে এটা না যে এত ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আসামি ধরলাম না, বা আসামি আমাদের নজরদারির বাইরে চলে গেছে বা আমাদের গাফিলতি আছে। আমরা রাতদিন বিষয়টি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমার আস্থা আছে, আমার টিমের প্রতি, আমার কাজের প্রতি, তাই আমি কনফিডেন্টলি বলতে পারি; আমরা শিগগিরই আসামি ধরতো পারবো।’
এখন পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কতজনকে আটক করা হয়েছে জানতে চাইলে এসপি বলেন, ‘এটা এই মুহূর্তে বলা যাবে না, কারণ অনেকেই গোপনে আমাদের কাছে এসে ইনফরমেশন দিচ্ছেন। আবার অনেককেই আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনছি, এই বিষয়টি আপাতত গোপন থাক।
এ সময় তিনি পুলিশ কনস্টেবল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ রিফাত হত্যায় পরিকল্পনাকারী গ্রুপের সদস্য সাগরের বিষয়ে বলেন, ‘সে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু, আমরা যখন জানতে পারি, এই গ্রুপে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তখনই তাকে গ্রেপ্তার করি। মিডিয়া জেনেছে আজকে, কিন্তু আমরা তাকে আগেই গ্রেপ্তার করেছি। শনিবার দিবাগত রাতে বরিশালের নানার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখলো মার্কিন প্রতিনিধিদল আজ ঢাকায় বৈঠক

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সরজমিনে দেখতে বাংলাদেশ সফর করছেন মার্কিন কংগ্রেস সংশ্লিষ্ট দু’জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা (কংগ্রেশনাল স্টাফার)। তারা হলেন- রবার্ট কারেন, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইজার ফর সিনেট ম্যাজোরিটি লিডার মিচ ম্যাককনেল এবং পল গ্রোভ, সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েট কমিটি (সেক) এর ফরেন অপারেশনস অ্যান্ড রিলেটেড প্রোগ্রামস দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রফেশনাল স্টাফ মেম্বার। দু’জন গতকাল কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। দুদিন আগে ঢাকায় আসা মার্কিন প্রতিনিধি দলটির আজ ঢাকায়  বাংলাদেশ সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণে রেখেছে এ ইস্যুতে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক এবং মানবিক- সর্বোতভাবে সহায়তা দেয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কেবল ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিই নয়, দেশটির আইন প্রণেতা এবং তাদের প্রতিনিধিরাও পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। প্রতিনিয়ত তারা ঢাকা এবং ইয়াংগুন থেকে রিপোর্ট নিচ্ছেন। ইস্যুটি নিয়ে কথা বলছেন, যা বৈশ্বিক জনমত ধরে রাখার ক্ষেত্রে সহায়তা করছে।
রোহিঙ্গা সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ এবং টেকসই সমাধানে বাংলাদেশ তার বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সহায়তায় দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় দু’টি পথেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা আলোচনার দ্বার যেমন খোলা রাখছে তেমনি বৈশ্বিকভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপও অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু কোন কিছুতেই অং সান সু চি সরকারকে বাগে আনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সময় যত যাচ্ছে, ইস্যুটি ততই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। যা বাংলাদেশ তথা মানবাধিকার সংবেদনশীল রাষ্ট্রগুলোকে ভাবিয় তুলছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের পশ্চিমা বন্ধুরা এ নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ব্যুরো অব পপুলেশন, রিফিউজিস এন্ড মাইগ্রেশন ইয়াংগুন অফিস এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা কক্সবাজার সফর করেন। সেখানে তারা প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুতকৃত ইউএনএইচসিআর-এর ট্রানজিট ক্যাম্প এবং ইউনিসেফ লার্নিং সেন্টার পরিদর্শন করেন। তারা আশ্রয় ক্যাম্পগুলোও পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতি সরজমিনে দেখা ছাড়াও রোহিঙ্গা শরণার্থী ও নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীতে বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার কক্সবাজার এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্প কুতুপালং পরিদর্শন করেন। ক্যাম্পের বিভিন্ন প্রোগ্রাম ছাড়াও তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ইউএনএইচসিআর এর ‘শরণার্থীর সাথে সংহতি’ ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে তাদের উদারতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ এবং সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

ছাত্রীদের যেভাবে ফাঁদে ফেলতো শিক্ষক আরিফ by বিল্লাল হোসেন রবিন

সর্বত্র আলোচনার ঝড় ব্ল্যাকমেইল করে অক্সফোর্ড হাইস্কুলের ২০-এর অধিক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনা। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ঘটনার মূলহোতা বিদ্যালয়ের সহকারী সিনিয়র শিক্ষক আরিফুল ইসলাম। কীভাবে দিনের পর দিন সে শিক্ষার্থীদের ধর্ষণ করেছে, বিষয়টি টের-ই পেলো না কেউ। এ নিয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, ধিক্কার, চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে অভিভাবকমহল ও এলাকাবাসীর মধ্যে। চতুর আরিফ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাউকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, কাউকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আবার কাউকে ব্ল্যাকমেইল করে দিনের পর দিন তার শয্যাসঙ্গী করেছে। এরমধ্যে কারো বিয়ে হয়ে গেছে, কেউ অবিবাহিত। আবার কেউ মেয়ের সর্বনাশের বিষয়টি টের পেয়ে গোপনে মেয়েকে নিয়ে এলাকা ছেড়েছেন। আবার অনেকেই ঘটনা টের পেলেও লোক লজ্জার ভয়ে চুপ থেকেছেন।
আর এই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে লম্পট আরিফ। শুধু তাই নয়, এ ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। গোপনে আরিফ তাদের ওষুধ খাইয়ে বাচ্চা নষ্ট করেছে। এখানেই শেষ নয়, ঘটনা যাতে প্রকাশ না পায় এ জন্য আপত্তিকর ভিডিও এবং ছবি সংরক্ষণ করে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখে আরিফ। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্যই দিয়েছে সে।
এদিকে আরিফের জবানবন্দিতে ধর্ষিতা শিক্ষার্থীদের নাম প্রকাশ পাওয়ার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে অভিভাবক মহলে।
আরিফের লালসার শিকার কয়েক শিক্ষার্থীর ঘটনা:
র‌্যাব, এলাকাবাসী, ও অভিভাবকমহলের তথ্যমতে, আরিফের প্রথম শিকার ২০১৪ সালে ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রী। তার সঙ্গে পরিচয় হয় আরিফের। এবং ধীরে ধীরে ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিভিন্ন সময়ে আরিফ ওই ছাত্রীকে তার ফ্ল্যাটে ১০ থেকে ১২ বার ডেকে নেয়। এরমধ্যে ৪ থেকে ৫ বার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখে আরিফ। দুইবার ওই শিক্ষার্থীর পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায়। অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে দুইবার পিল খাওয়ায় আরিফ। বর্তমানে ওই ছাত্রীর বয়স আঠারো।
আরেক ছাত্রী বর্তমানে বিবাহিত। সে আরিফের দ্বিতীয় শিকার। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে আরিফ। ৯ম শ্রেণিতে পড়াকালীন তার সঙ্গে কৌশলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে আরিফ। এরমধ্যে ২ থেকে ৩ বার ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে সেও অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে আরিফ বাসায় তাকে ওষুধ খাইয়ে বাচ্চা নষ্ট করে। তবে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে বিয়ের পরও তিন্নির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে আরিফ।
তমা (ছদ্মনাম)’র বর্তমানে বয়স ১৭। সে অবিবাহিতা। স্কুলে পড়াকালীন তাকে আরিফ  ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে। এবং স্কুলের ৩য় তলায় ছাদে নিয়ে প্রায়ই আলিঙ্গন ও চুমু দিতো। মাঝে মধ্যে তমার বাসায়ও যেত আরিফ। এরমধ্যে দুইবার তমাকে ধর্ষণ করে সে।
১৬ বছরের আরেক ছাত্রীকে ২০১৭ সাল থেকে বাসায় গিয়ে পড়াতো আরিফ। এরমধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে অসংখ্যবার ধর্ষণ করেছে সে। এরমধ্যে একবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে তাকে এমএম কিট ট্যাবলেট খাওয়ায় আরিফ। ২০১৮ সালে যাত্রাবাড়ীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে তার গর্ভপাত ঘটানো হয়।
কে এই লম্পট আরিফ: আরিফুল ইসলাম (৩০) মাদারীপুর সদর থানার শ্রীনদী (শিরখাড়া) এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে সবার বড়। সিদ্ধিরগঞ্জের পশ্চিম মিজমিজি মাদ্রাসা রোড এলাকায় বুকস গার্ডেনে ফ্ল্যাট নিয়ে বসবাস করতো। ২০০৪ সালে মাদারীপুরের হাসানকান্দি ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সি গ্রেডে (জিপিএ ২.৯৪) এসএসসি পাস করে। ২০০৬ সালে ঢাকার সরওয়ার্দী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। ২০১২ সালে কবি নজরুল কলেজ থেকে বিবিএস ও ২০১৫ সালে গুলশানের মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ (এইচআরএম) পাস করে। তবে ২০০৯ সালে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজিতে অক্সফোর্ড হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেয়। বর্তমানে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক।
র‌্যাবের কাছে যা বলেছে আরিফ: র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ জানায়, ২০০৯ সালে অক্সফোর্ড হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর ২০১৩ সাল পর্যন্ত সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা পেশায় জড়িত ছিল সে। ২০১৪ সালে প্রথম এক ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ায়। ধীরে ধীরে সম্পর্কের তীব্রতা বাড়তে থাকে। এবং দু’জন দু’জনকে বিয়ে করার চিন্তা করে। পরে আরিফ ওই ছাত্রীর মায়ের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি নাকচ করে দেন। এর মধ্যে ওই ছাত্রী মাঝে মাঝে আরিফের বাসায় যেত। এবং প্রায় ৪ থেকে ৫ বার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায় আরিফ। মাঝে একবার ছাত্রীর পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায়। পরে বড়ি খাওয়ানোর পর পিরিয়ড আবার শুরু হয়। কিন্তু তার মা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে নিয়ে অত্র এলাকা ছেড়ে চলে যায়। আরিফ জানায়, আরেক ছাত্রী আমার প্রতি অনেক পাগল হয়। আগের কষ্ট ভোলার জন্য তার সঙ্গে রিলেশন করি। যেটা দশম শ্রেণি পর্যন্ত ছিল। এর মাঝে ২ থেকে ৩ বার শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হয় আরিফ। একবার অসচেতনাবশত সেক্স করলে পরের দিন ঘড়ৎরংশ ট্যাবলেট খাওয়াই। এর মাঝে ৯ম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় ওই ছাত্রীরও বিয়ে হয়ে যায়। আরিফ জানায়, আরো দুই ছাত্রী আমার বাসায় এসে পড়তো। সুযোগ ও সময় পেলে ওদের সঙ্গে শারীরিকভাবে মিলিত হতাম। ২০১৫ সালে তারা বিদ্যালয় থেকে চলে যাওয়ার পর ওদের সঙ্গে আর তেমন দেখা ও কথা হতো না। আরিফ আরো জানায়, এক ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক একেবারে অল্পদিনের। ৪ থেকে ৬ মাসের সম্পর্ক। কিন্তু ও আরেক ছেলেকে ভালোবাসতো বিধায় আমাকে ছেড়ে দেয়। তবে ওর সঙ্গে ১/২ বার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। আর একবার বিদ্যালয়ের ৩য় তলায় গিয়ে কিছু ছবি তুলি এবং আলিঙ্গন ও কিস করি। ২০১৭ সালের শেষ থেকে এখন পর্যন্ত এক ছাত্রীর সঙ্গে রিলেশন আছে। আমরা একে অপরকে বিয়ের প্রস্তাব দেই। এবং দুজনেই তাতে রাজি হই। কিন্তু ওর বয়স কম হওয়ায় বিয়ে করা সম্ভব হয়নি। যদিও আমাকে অনেকবার চাপ দেয় সে। এই ছাত্রী আমার বাসায় প্রাইভেট পড়তো। তাই ওর সঙ্গে অনেকবার শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হই। ওকে ২ বার ওষুধ খাওয়াই।
উল্লেখ্য, সিদ্ধিরগঞ্জে মিজমিজি মাদ্রাসা রোড এলাকায় অক্সফোর্ড হাইস্কুলের ২০-এর অধিক শিক্ষার্থীকে ব্ল্যাকমেইলিং করে ধর্ষণের অভিযোগে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের সহকারী সিনিয়র শিক্ষক আরিফুল ইসলাম ও তাকে সহায়তাকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১১। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলায় আরিফ ৬ দিন ও রফিকুল ইসলাম একদিনের রিমান্ডে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মুখোমুখি অবস্থান কি অর্থ বহন করে আফগানিস্তানের জন্য

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনার মাত্রা আরেক দফা বেড়ে গেছে যখন ২০ জুন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন ভূপাতিত করে। ওমান উপসাগরে একটি তেল ট্যাঙ্কারকে হামলার দায়ে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের দোষারোপ করার পর ওই ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা ঘটে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে দাবি করেন যে, তিনি ইরানের উপর পাল্টা হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন, তবে কেউ হতাহত না হওয়ায় সে আদেশ তিনি ফিরিয়ে নেন। তবে, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী হামলার আশঙ্কা পুরোপুরি বাতিল করেননি ট্রাম্প। এবং সবশেষ ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর দুই দেশের এই মুখোমুখি অবস্থান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলকে ব্যাহত করবে যেটার যথেষ্ট প্রভাব পড়বে আফগানিস্তান ও এই অঞ্চলের উপর এবং এমনকি এই অঞ্চলের বাইরেও।
উত্তেজনাপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক সম্ভবত সঙ্ঘাতের দিকে যাচ্ছে এবং ইরানের উপর অব্যাহত প্রবল চাপের একটা বড় ধরনের প্রভাব পড়বে আফগানিস্তানের উপর। স্থলবেষ্টিত আফগানিস্তান ঐতিহাসিকভাবে ট্রানজিট রুটের জন্য পাকিস্তানের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণে তাদের ট্রানজিট বাণিজ্যের সম্পর্কও টালমাটাল হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগানিস্তান ইরানের বন্দর নগরী বন্দর-ই-আব্বাসে তাদের ট্রানজিট রুট সরিয়ে নিয়ে গেছে। হিসেবে দেখা গেছে পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে আফগানিস্তান যে ট্রানজিট বাণিজ্য করতো সেটা ২০০৮-০৯ সালে ছিল ৬০ শতাংশ। কিন্তু সেটা ২০১৬ সালে কমে ৩০ শতাংশে চলে এসেছে। অন্যদিকে ইরানের ভেতর দিয়ে আফগানিস্তানের বাণিজ্যের পরিমাণ ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশ হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আফগানিস্তান এমনকি ইরান থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য নিজস্ব পরিবহন লাইন স্থাপনের জন্যও কাজ করছে। ইরান থেকে তেল আমদানির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পাচ্ছে আফগানিস্তান। কিন্তু ইরানের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের যে ট্রানজিট বাণিজ্য, সেটা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে, কারণ কোন ছাড়ই পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে পারবে না।
এই পরিস্থিতি থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখার রয়েছে আফগানিস্তানের। ইরানের বন্দর ই আব্বাসের দিকে ট্রানজিট বাণিজ্য স্থানান্তরিত হওয়ার কারণ ছিল দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অতি ব্যয়বহুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অদক্ষ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সিস্টেম, এবং পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের অবৈধ ফি আদায়। ২০১৫ সালে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের পর এই মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ইতোমধ্যে, উত্তরাধিকার সূত্রে আঞ্চলিক ট্রান্সপোর্ট করিডোর প্রকল্প হাতে পান আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি – যেটা হলো চাবাহার ও লাপিস লাজুলি। দুটি প্রকল্পই কার্যকর হতে যেখানে অনেক সময় লাগবে, তার পরও আফগান প্রেসিডেন্ট এই বাণিজ্যের স্থানান্তরকে বড় অর্জন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছেন। অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন যে, ট্রানজিটের জন্য আফগানিস্তান আর পাকিস্তানের উপর নির্ভরশীল নয়।
কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থেকে এটাও বোঝা গেছে যে, ট্রানজিট বাণিজ্যের জন্য ইরানের উপর নির্ভর করলে সেখানেও বিপদ রয়েছে। তার বদলে, এখনই সময় কাবুল আর ইসলামাবাদের ভেতরকার সমস্যা মিটিয়ে ফেলার। আফগানিস্তান-পাকিস্তান ট্রানজিট ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এপিটিটিএ) স্বাক্ষরিত হয় ২০১০ সালে। এবং প্রয়োজন হলে দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে পাঁচ বছরের মধ্যে সেটা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এপিটিটিএ’র প্রধান বিধানগুলো কঠোর ও অনৈতিক ছিল। ফলে আফগানিস্তানের জন্য ট্রানজিট বাণিজ্যটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে গেছে। এপিটিটিএ’র শর্তগুলো নিয়ে পুনরায় দর কষাকষি করা প্রয়োজন যাতে আফগানিস্তানের ট্রানজিট রুটটা সংক্ষেপ হয় এবং ইরানের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হলে আফগানিস্তান যাতে কোন সমস্যায় না পড়ে।
হরমুজ প্রণালীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কথা ভাবলে, এবং ওয়াশিংটন থেকে যে বার্তা আসছে, তাতে আগামীতে দুই দেশের মুখোমুখি অবস্থানের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের উত্তেজনা আরও বাড়লে সেটা নিশ্চিতভাবে আফগানিস্তানের, এই অঞ্চলের এবং এমনকি এই অঞ্চলের বাইরেও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

মালদ্বীপে ধর্মীয় স্বাধীনতার অভাব থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত একটি রিপোর্টে মালদ্বীপে ধর্মীয় স্বাধীনতার অভাব থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
গত বছরও একই ধরনের বক্তব্য ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের রিপোর্টে। এতে বলা হয় যে মালদ্বীপের সংবিধান ও আইনে ইসলাম ছাড়া আর কোন ধর্মকে অনুমোদন দেয়া হয়নি।
দ্বীপদেশটিতে ব্লাসফেমি ও ইসলামকে নিয়ে কটুক্তি করার বিরুদ্ধে কঠোর আইন থাকার কথা রিপোর্টে উল্লেখ করে বলা হয় দেশটির সরকার ইসলাম ধর্মকে শক্তিশালী করতে উৎসাহ দেয়। হিজাব পড়ার ব্যাপারে মালদ্বীপের নারীদের উপর সামাজিক চাপ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এতে বলা হয়, ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের বিদেশী শ্রমিক বা পর্যটকরা প্রকাশ্যে তাদের ধর্ম পালন করতে পারে না। খুন, ভ্যাবিচার, সমকামিতা, চুরির মতো অপরাধগুলোর শাস্তি হিসেবে পাথর ছোঁড়াসহ বিভিন্ন শারিয়া আইন বলবৎ রয়েছে।
ইসলামের বিরুদ্ধে নিন্দামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পুলিশ লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। যারা ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে সামাজিক গণমাধ্যমে তাদেরকে নানা ধরনের হুমকি দেয়া হয় বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুনির্দিষ্ট বাণিজ্য সহযোগিতার লক্ষ্যে দ্বিতীয় রুশ-ভারত-চীন সম্মেলন

চীন সোমবার নিশ্চিত করেছে যে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙ জাপানের ওসাকায় অনুষ্ঠেয় আসন্ন জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়া ও ভারতের নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন। মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিরগিজ রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ বৈঠকের সময়ই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে দ্বিতীয় রুশ-ভারত-চীন সম্মেলনের ধারণা দেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তিন দেশেরই বাণিজ্য উত্তেজনা থাকার প্রেক্ষাপটে ত্রিদেশীয় বৈঠকটি নিশ্চিতভাবেই ওসামা জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের সর্বোচ্চ মনোযোগ আকর্ষণ করবে।
এই তিন দেশের নেতারা (তারা বিশ্বের শীর্ষ ১০ অর্থনীতির দেশ) এই প্রথম জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন এমন নয়। আগেও অনানুষ্ঠানিক রাশিয়া-ভারত-চীন সম্মেলন হয়েছে। বিশেষ করে বুয়েনেস আয়ার্সে গত জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের সময়ও তারা বসেছিলেন।
অবশ্য, গত জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের সময় রাশিয়া ও চীনের সাথে যৌথভাবে বাণিজ্য সংরক্ষণবাদের বিরোধিতা করলেও ভারত কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানি নেতাদের সাথে বসে সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কথা বলেছে। ভারত ধারাবাহিকভাবে তার ইউরেশিয়া প্রতিবেশী ও ইন্দো-প্যাসিফিক মিত্রদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে উভয়ের কাছ থেকেই কিছু সুবিধা লাভ করছে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আছে এবং দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদার। তবে তা সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের সর্বশেষ শিকার হয়েছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ৫৪ বিলিয়ন ডলারের ভারতীয় পণ্যের ওপর থেকে জিএসপি সুবিধা বাতিল করেছে। জবাবে মার্কিন ২৮টি পণ্যের ওপর করারোপ করেছে ভারত।
আর রাশিয়া ও চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দপা অবরোধ আরোপ করেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এখন পূর্ণ মাত্রায় বাণিজ্য যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চীন ও রাশিয়া চলতি মাসের শুরুর দিকে তাদের সম্পর্ককে ব্যাপকভিত্তিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের দিকে নিয়ে যেতে সম্মত হয়। তারা একে অন্যের আরো নির্ভরযোগ্য অংশীদারে পরিণত হতে রাজি হয়। মোদির দ্বিতীয় রাশিয়া-ভারত-চীন শীর্ষ বৈঠকের উদ্দেশ্য যাই থাকুক না কেন, এবারের ত্রিদেশীয় বৈঠকটি বাণিজ্যযুদ্ধের বর্তমান অবস্থার বিরুদ্ধে আরো সুনির্দিষ্ট ফলাফল বয়ে আনবে বলে আশা করা যায়।
ত্রিদেশীয় বৈঠকটিকে আরো বাস্তববাদী অবস্থায় নিয়ে যেতে হলে ভারতের পরিকল্পনাগুলো পরোক্ষভাবে সমর্থন প্রদান করার বদলে চীনকেই নিজস্ব প্রস্তাব নিয়ে সামনে আসতে হবে। শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা কেবল স্লোগান দিয়ে হাসিল করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এসসিও কাঠামো বা ব্রিকস কাঠামোকে কিভাবে আরো সহযোগিতার জন্য কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে। এর আগে রাশিয়া ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে আন্তসংযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে তাদের মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় ইন্টারন্যাশনাল নর্থ সাউথ ট্রান্সপোরটেশন করিডোরকে সংযুক্ত করা সম্ভব কিনা তা বিবেচনা করা।
অধিকন্তু ভারত সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সহযোগিতায় বিশেষভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধের কারণেই ভারত এই উদ্যোগ নিয়েছে, তা বোঝা যায়। ভারত হলো ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক। চীন হলো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি আমদানিকারক, ভারত হলো চতুর্থ। দেশ দুটি বিপুল পরিমাণে তেলও আমদানি করে। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তাদের বিপুল ক্রয় শক্তি রয়েছে। ভারতীয় মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, ভারত ও চীন তেলের মূল্য প্রশ্নে প্রধান প্রধান তেল সরবরাহকারীর প্রভাব হ্রাস করার জন্য একটি ক্রেতা ব্লক গঠনের পরিকল্পনা করছে।
এদিকে মার্কিন অবরোধের ফলে সৃষ্ট আর্থিক ঝুঁকি এড়ানোর জন্য রাশিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডলারকে বাদ দিয়ে একটি ব্যবস্থা প্রবর্তনের চেষ্টা করছে। এই তিন দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা ও ডলার-বহির্ভূত মুদ্রায় জ্বালানি লেনদেনের একটি সহযোগিতা প্রতিষ্ঠিত হওয়া খুবই সম্ভব।
কারিগরি সহযোগিতার ক্ষেত্রে তিন দেশেরই কিছু সীমাবদ্ধতা ও অসুবিধা রয়েছে। তবে তারপরও অনেক ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সহযোগিতা সৃষ্টি হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চীন ও রাশিয়া ২০১৮ সালের নভেম্বরে তাদের বৈশ্বিক নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেমের (চীনের বেইদু ও রাশিয়ার গ্লোনাস) মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি সই করে।
(সাংহাই ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো লিউ জংগাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাতকারের ভিত্তিতে লেখাটি তৈরি)

তরুণের হাত বিচ্ছিন্ন: ক্ষতস্থানে সংক্রমণ না হলে শঙ্কামুক্ত ফিরোজ, মামলা-মানববন্ধন

যাত্রীবাহী বাসটি রাজশাহীর পুঠিয়ায় এসে বেপরোয়া গতিতে চালাতে থাকে। কলেজছাত্র ফিরোজ সরদার এই বাসের পেছনের আসনে বসে সামনের একটি আসন ধরেছিলেন। বাসটি কাটাখালী এলাকায় পৌঁছলে আরেকটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা খায়। ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জানালা দিয়ে রাস্তায় পড়ে যায়।
এভাবেই নিজের হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার বর্ণনা দিলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন ফিরোজ। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ক্ষতস্থানে সংক্রমণ না হলে শঙ্কামুক্ত ফিরোজ। এদিকে এ ঘটনায় ফিরোজের বাবা মামলা করেছেন।
ফিরোজ যে গাড়িতে আসছিলেন, সেটির ইংরেজিতে নামের প্রথম দুই অক্ষর ‘এম, ও’ বলে জানান। এ ছাড়া গাড়িতে ওঠার সময় খেয়াল করেছিলেন গাড়ির সামনের কাচ ছিল ফাটা। আর গাড়ির দরজার সঙ্গে যে জানালা থাকে তার একটিতে কোনো কাচ ছিল না। ফিরোজ জানান, নন্দীগ্রামে বাসে ওঠার সময় চেইন মাস্টার তাঁকে জানিয়েছিলেন, গাড়িটি বগুড়া থেকে আসছিল। আজ শনিবার সকাল থেকেই রাজশাহীতে ছড়িয়ে পড়ে ‘মোহাম্মদ’ নামের বাসে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আজ দুপুরে মোহাম্মদ বাসটিকে রাজশাহী নগরের শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান বাস টার্মিনালের পশ্চিম পাশে দেখা গেছে। গাড়ির কোনো লোক পাওয়া যায়নি। টার্মিনালের লোকজন জানিয়েছেন, বগুড়া-রাজশাহীর মধ্যে চলাচলকারী বাসের এই টার্মিনালে রাখার কথা নয়। এই গাড়ি ট্রিপ শেষে নগরের নওদাপাড়া টার্মিনালে এনে রাখা হয়। স্থানীয় লোকজনের ধারণা ঝামেলা এড়াতে বাসটিকে এই টার্মিনালে রাখা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই বাসের মালিক সেরেকুল হাজি। কথা বলার জন্য সেরেকুলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এই গাড়ির ছবি তুলে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফিরোজকে দেখালে তিনি গাড়িটি শনাক্ত করেন। তিনি বলেন, এই গাড়িতেই তিনি গত শুক্রবার নন্দীগ্রাম থেকে উঠেছিলেন।
ফিরোজ বলেন, আসার পথে নাটোর পর্যন্ত বাসটি অনেক জায়গায় থেমেছে আর দেরি করেছে। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা সদর পার হওয়ার পর বাসের গতি বাড়তে থাকে। পুঠিয়ার বেলপুকুর থেকে খুবই বেপরোয়া গতিতে চলছিল। দুটি গাড়ির চালকের দোষে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই দুই চালকের শাস্তি চান তিনি।
ফিরোজ জানান, তিনি বাসের একেবারে শেষের সিটে বসে ছিলেন। ডান হাত দিয়ে তিনি জানালার ভেতর দিয়েই সামনের সিট ধরে ছিলেন। হঠাৎ একটা ঝাঁকুনিতে তার হাত সিট থেকে আলাদা হয়ে জানালার বাইরে চলে যায়। তখনই বিকট শব্দে পাশের গাড়ির সঙ্গে বাসটি ধাক্কা খায়। এতে চাপা পড়ে তার হাত কেটে পড়ে যায়। হাত কেটে যাওয়ার পরও হাসপাতাল আসা পর্যন্ত তাঁর চেতনা ছিল। কিন্তু যে গাড়ির সঙ্গে চাপা লেগে তার হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে সেটি তিনি চিনতে পারেননি।
মানববন্ধন:
দুপুর ১২টায় রাজশাহী কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ফিরোজের হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনার জন্য দোষীদের শাস্তি দাবি করে মানববন্ধন করেছেন। এই সময় কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান বলেছেন, পুলিশ এখনো পর্যন্ত গাড়ি শনাক্ত করতে পারেনি। এটা পুলিশের পাঁচ মিনিটের কাজ। শিক্ষার্থীরা বলেন, বাস মালিককের এই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তা ছাড়া কলেজ চত্বরের এই মানববন্ধন নগরের রাস্তায় চলে যাবে। মানববন্ধনে ফিরোজ সরদারের বড় ভাই আরিফুল ইসলাম ছিলেন। তিনি সরকারের কাছে তাঁর ভাইয়ের কর্মসংস্থান দাবি করেন।
মামলা:
ফিরোজের বাবা মাহফুজ আর রহমান শনিবার বিকেলে বাদী হয়ে রাজশাহী নগরের কাটাখালী থানায় মামলা করেছেন। এ মামলায় আসামি হিসেবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। পুলিশ তখন পর্যন্ত গাড়ি শনাক্ত করতে পারেনি।
কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, তারা বাস শনাক্ত করতে মাঠে নামবেন। মোহাম্মদ পরিবহনের বর্ণনা শুনে তিনি বলেন, তারা ওই গাড়িটাকেই সন্দেহ করছেন।
ফিরোজরা তিন ভাই-বোন। তাদের বাবা কৃষক। তার কয়েক বিঘা জমি আছে। ফিরোজের বড় ভাইয়ের প্রসাধনসামগ্রীর দোকান আছে নন্দীগ্রাম উপজেলা সদরে। ফিরোজ ২০১০ সালে নন্দীগ্রাম পাইলট হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক, ২০১২ সালে নাটোরের সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং বগুড়ার সৈয়দ আহমেদ কলেজ থেকে ২০১৭ সালে সমাজকর্ম বিভাগ থেকে ¯স্নাতক পাস করেছেন। এরপর স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন রাজশাহী কলেজে। ২২ জুন তাঁর স্নাতকোত্তর পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তিনি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দিতে বাড়িতে গিয়েছিলেন।
তার বড় ভাই আরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সবার ছোট ফিরোজকে নিয়ে তাদের পরিবারের বড় স্বপ্ন ছিল। সে স্বপ্ন এখন ফিকে। চিকিৎসক তাদের জানিয়েছেন, শরীরের হাত ছাড়া কোথাও কোনো সমস্যা নেই। হাতের কাটা অংশ যদি এখন শুকিয়ে যায় তাহলে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু এতে যদি এখন ইনফেকশন দেখা দেয় তাহলে বিপদ। এ জন্য উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা চাই সরকার ফিরোজের চিকিৎসার ব্যবস্থা করুক। আর সুস্থতার পর যেন তার একটা চাকরির ব্যবস্থা করা হয়। এর পাশাপাশি দোষী চালকদেরও যেন শাস্তি নিশ্চিত হয়।
এক বাসের সঙ্গে আরেক বাসের ধাক্কায় হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে ফিরোজ সরদারের। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাজশাহী, ২৮ জুন। ছবি: প্রথম আলো

ভারতে টাইমস গ্রুপ, এবিপি গ্রুপ, দ্য হিন্দুর বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ -স্ক্রল ডট ইনের রিপোর্ট

ভারতের সংবাদপত্র বিষয়ক তিনটি বড় গ্রুপের সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ অথবা কমিয়ে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়ে জানিয়েছে এরা হলো টাইমস গ্রুপ, এবিপি গ্রুপ এবং দ্য হিন্দু পত্রিকা। টাইমস গ্রুপ নিয়ন্ত্রণকারী বেনেট, কোলম্যান অ্যান্ড কোং-এর একজন নির্বাহী বলেছেন, প্রকাশিত কোনো কোনো রিপোর্ট নিয়ে সরকার অসন্তুষ্ট হওয়ার কারণে সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়া হয়ে থাকতে পারে। বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়ার এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বিরোধী কংগ্রেস পার্টি। তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞাপন বিষয়ক এজেন্সি হলো ব্যুরো অব আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন। এর মহাপরিচালক সত্যেন্দ্র প্রকাশের সঙ্গে এ বিষয়ে ইমেইল ও ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেন রয়টার্সের সাংবাদিক। কিন্তু তিনি এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেন নি।
এ খবর দিয়ে ভারতের অনলাইন স্ক্রল ডট ইন বলছে, বেনেট, কোলম্যান অ্যান্ড কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করে টাইমস গ্রুপকে। এর একজন নির্বাহী বলেছেন, (বিজ্ঞাপন) বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হতে পারে এ জন্য যে, কিছু রিপোর্টে তারা (সরকার) অসন্তুষ্ট হয়েছে। টাইমস গ্রুপের মোট বিজ্ঞাপনের শতকরা প্রায় ১৫ ভাগই আসে সরকারি পর্যায় থেকে। এই গ্রুপটি প্রকাশ করে প্রভাবশালী টাইমস অব ইন্ডিয়া ও দ্য ইকোনমিক টাইমস।
ওদিকে এবিপি গ্রুপের দু’জন কর্মকর্তা বলেছেন, গত ৬ মাসে তাদের সরকারি বিজ্ঞাপন কমে গেছে শতকরা ১৫ ভাগ। একজন নির্বাহীর ভাষায়, যদি আপনার সম্পাদকীয় কাভারেজ সরকারি নিয়মের অধীনে না থাকে এবং আপনি যদি সরকারের বিরুদ্ধে কিছু লেখেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে শাস্তি দিতে তাদের একমাত্র উপায় হলো বিজ্ঞাপন সরবরাহ  বন্ধ করে দেয়া। আরেকজন নির্বাহী বলেছেন, বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো কিছুই তাদেরকে জানানো হয়নি। এক্ষেত্রে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে অবশ্যই অক্ষুন্ন রাখতে হবে। এসব সত্ত্বেও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতাকে অব্যাহত রাখতে হবে। এই গ্রুপটি প্রকাশ করে দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকা। এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে জাতীয় নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বেকারত্ব সব বিষয়ে যে রেকর্ড রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল।
স্ক্রল আরো লিখেছে, দ্য হিন্দু পত্রিকায়ও সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বিজ্ঞাপন কমে গেছে বলে তারা দেখতে পেয়েছে। তারা ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে রাফালে বিমান কেনা নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে তাতে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। এরপর থেকেই তাদের বিজ্ঞাপন কমা শুরু হয়েছে।
এর সমালোচনা করেছেন লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সরকার থেকে বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়ার অগণতান্ত্রিক ও জোর যার মুল্লুক তার স্টাইল হলো মিডিয়ার প্রতি এই সরকারের একটি বার্তা। তা হলো, তাদের নিয়ন্ত্রণে বা তাদের নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপির মুখপাত্র নলিন কোহলি। তিনি বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে সংবাদপত্রে ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচুর সমালোচনা হচ্ছে। এটাই তো মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রমাণ। কিন্তু বিজেপি মুক্ত সংবাদ মাধ্যমের গলা টিপে ধরেছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা হাস্যকর।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১৪০তম। আফগানিস্তান, মিয়ানমার, ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো থেকেও নিচে অবস্থান করছে ভারত। যখন এই সূচক ২০০২ সালে প্রথম প্রকাশ হওয়া শুরু করে তখন ১৩৯টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ছিল ৮০তম।

‘আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে’’, জম্মু ও কাশ্মীরে আগামী ৬ মাসেই নির্বাচনের সম্ভাবনা; অমিত শাহ

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার জানালেন, সরকার জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদকে খতম করতে অনেক পদক্ষেপ করেছে। এবং এখন সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই ভাল হয়েছে। আগামী ছ’মাসের মধ্যে সেখানে বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন করা যেতে পারে। অমিত শাহ লোকসভায় রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ বাড়ানোর বিল পেশ করলে সেখানে বিধানসভা নির্বাচনের দাবি ওঠে। ওই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দাবি দীর্ঘদিনের। গত বছরের জুন মাসে বিজেপি মেহবুবা মুফতির ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সঙ্গে জোট ভেঙে দিলে জম্মু ও কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। বছরের শেষে সেখানে নির্বাচন করতে গেলেও রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন।
সন্ত্রাসের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ ও সন্ত্রাসবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে বিজেপি সরকার ওই রাজ্যে অনেক পদক্ষেপ করেছে সেকথা জানান অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘‘অতীতে এখানে নির্বাচনের সময় রক্তের স্রোত বইতে দেখেছি আমরা। কিন্তু এখন নির্বাচনের সময় কোনও রক্তপাত ঘটে না। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মানুষকে তাদের অধিকার দিতে চেষ্টা করছি আমরা। মাত্র এক বছরে বহু ইস্যুর সমাধান‌ করা গিয়েছে।”
গত মার্চে, পুলওয়ামা জঙ্গি হানার ঘটনা ৪০ জন সেনার মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশন জম্মু ও কাশ্মীরে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজন করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু রাজ্য সরকার আপত্তি জানায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে। নিরাপত্তা প্রসঙ্গ খতিয়ে দেখে কাশ্মীরের অনন্তনাগে তিন পর্বে লোকসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়।
রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ ছিল, বিজেপি রাজ্যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি প্রয়োগ করতে দিচ্ছে না। গত মাসে কমিশন ইঙ্গিত করে নির্বাচন নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে সবুজ সঙ্কেত মিলেছে।
অমিত শাহ জানান, ‘‘রমজানের সময় নির্বাচন করা সম্ভব নয়। এরপরেই রয়েছে অমরনাথ যাত্রা। ওখানে সঠিক সময়েই নির্বাচন হবে যদি বিলটি পাস হয়ে যায় এবং সম্প্রসারিত রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ শেষ হয়।”

ইসরাইলের সঙ্গে ভারতের ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপনাস্ত্র চুক্তি বাতিল by অমিতাভ রঞ্জন

ইসরাইলের কাছ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের স্পাইক এন্টি-ট্যাংক মিসাইল কেনার চুক্তি বাতিল করেছে ভারত। ইসরাইলী প্রতিরক্ষা ঠিকাদার রাফায়েল এডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমের কাছ থেকে ক্ষেপনাস্ত্রগুলো কেনার কথা ছিলো। ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদক প্রতিষ্ঠান – ডিফেন্স রিসার্স এন্ড ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) দুই বছরের মধ্যে স্পাইকের বিকল্প সরবরাহ করতে পারবে বলে দাবি করার পর ভারত সরকার ওই সিদ্ধান্ত নেয়।
চুক্তিটি অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে চুক্তিটি চিরতরে বাতিলের ব্যাপারে ইসরাইলকে অবহিত করা হয়েছে। ডিআরডিও দাবি করছে যে তারা ভিইএম টেকনলজি লি.-এর সহায়তায় আরো কম মূল্যে একই ধরনের প্রযুক্তি সরবরাহ করতে পারবে।
কর্মকর্তারা জানান যে দেশীয় উৎপাদনকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ডিআরডিও একটি ম্যান-পোর্টেবল এন্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল তৈরির পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এর দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ডিআরডিও জানায় যে তারা গত সেপ্টেম্বরে আহমেদনগরের রেঞ্জে ক্ষেপনাস্ত্রটির পরীক্ষা চালিয়েছে।
তবে ডিআরডিও তার দাবি অনুযায়ী সময়মতো প্রয়োজন পূরণ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সেনাবাহিনী সন্দিহান। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় চায় ডিআরডিও যেন সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি পূরণ করে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন যে মন্ত্রণালয় এখন সময়ক্ষেপনকারী আমদানি প্রক্রিয়ার চেয়ে দেশে তৈরি এন্টি-ট্যাংক মিসাইলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, ভারত গত বছর রাফায়েলের সঙ্গে স্পাইক মিসাইল চুক্তি বিলম্বিত করে। কারণ ফ্রান্স থেকে রাফাল জেট কেনা নিয়ে যে বিতর্ক চলছিলো এই চুক্তি তাতে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারতো।
তখন বলা হয়েছিলো যে দেশের উচ্চ তাপমাত্রার পরিবেশে স্পাইকের ইনফ্রারেড ব্যবস্থা ভালোভাবে কার্যকর কিনা তা প্রমাণের জন্য স্পাইক মিসাইলের আরো পরীক্ষা চালাতে হবে। বলা হয় যে পাকিস্তান সংলগ্ন পশ্চিম সীমান্তে এই ক্ষেপনাস্ত্র কার্যকর হবে কিনা তা নিয়ে সেনাবাহিনীর সন্দেহ রয়েছে।
কিন্তু ডিআরডিও ২০২১ সালের মধ্যে কয়েক হাজার দেশে তৈরি এ ধরনের ক্ষেপনাস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্পাইক মিসাইলগুলোর সরবরাহ পেতেও প্রায় এ রকম সময়েরই প্রয়োজন হতো।
২০১৪ সালের অক্টোবরে প্রথম ভারত ৩২১টি স্পাইক ল্যান্সার ও ৮,৩৫৬টি ক্ষেপনাস্ত্রের জন্য ইসরাইলের সঙ্গে চুক্তি করে। কিন্তু ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ডিআরডিও’র অনুকূলে চুক্তিটি বাতিল করা হয়।
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরাইল সফরের পর কাজটি আবারো রাফায়েলকে দেয়া হয়। সে অনুযায়ী গত বছর আগস্টে ভারতের কল্যাণি গ্রুপের সঙ্গে একটি উৎপাদন ফ্যাসিলিটিও উদ্বোধন করে।

শেষ দিনে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তুলতে ভিড়: ১০ শতাংশ উৎসে কর বহালই থাকলো

সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে ১০ শতাংশ প্রস্তাব রেখেই অর্থবিল, ২০১৯ পাস হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর বর্ধিত কর প্রত্যাহার করা হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি প্রত্যাহার হয়নি। আগের মুনাফা ৩০শে জুনের মধ্যে না উত্তোলন করলে বাড়তি কর কেটে নেয়া হবে। এ কারণে গতকাল অর্থবছরের শেষ কার্যদিবসে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তুলতে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকে। এছাড়া রাজধানীর গুলিস্তানের জেনারেল পোস্ট অফিস (জিপিও) ও সোনালী ব্যাংকেও ভিড় দেখা গেছে। সব জায়গায় ছিল গ্রাহকের দীর্ঘ লাইন। এতে সেবা দিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে হিমশিম খেতে হয়েছে।
প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর বাড়ানোর ঘোষণার পরই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
জানা গেছে, গত ১৩ই জুন সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর থেকে যেসব বিষয়ে বেশি আলোচনা সমালোচনা হয়েছে সেগুলো হলো- বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে টিআইএন নম্বর বাধ্যতামূলক করা এবং সঞ্চয়পত্রের উৎসে করহার বৃদ্ধির প্রস্তাব। আগে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের মুনাফার ওপর উৎসে কর (চূড়ান্ত দায়) দিতে হতো ৫ শতাংশ, নতুন অর্থবছর থেকে তা বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু এ দুটি বিষয়ে কোনো সংশোধনী আনা হয়নি। প্রস্তাবিত বাজেটের প্রস্তাবই বহাল রাখা হয়েছে পাসকৃত অর্থবিলে।
উল্লেখ্য, ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার।
এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, শেষ পর্যন্ত করহারে পরিবর্তন করা হয় নাই। তাই ১লা জুলাই থেকে বর্ধিত হারে উৎসে কর কাটা শুরু হবে। পুরোনো গ্রাহকদের যারা ১লা জুলাইয়ের পর মুনাফা তুলতে যাবেন, তাদেরও এই বাড়তি কর দিতে হবে। অনেক গ্রাহক আছেন, যারা নিয়মিত মুনাফা না তুলে কয়েক মাস পর একবারে তোলেন। তারাও ১লা জুলাইয়ের আগে মুনাফা তুলতে এসেছেন। এ কারণেই বিভিন্ন ব্যাংক, ডাকঘরে মুনাফা তুলতে গ্রাহকের উপচে পড়া ভিড়। এদিকে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে সাধারণ করদাতারা নির্দিষ্ট হারে কর রেয়াত-সুবিধা পান। তাই কর রেয়াত-সুবিধা নিতে অনেক করদাতা ১লা জুলাইয়ের আগে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন।
মতিঝিলের একাধিক ব্যাংক ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই সঞ্চয়পত্র কেনা, মুনাফা উত্তোলনের জন্য গ্রাহকের দীর্ঘ লাইন। যাদের বেশির ভাগই প্রবীণ ও মহিলা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ে দেখা গেছে, মুনাফা তুলতে দীর্ঘ ৪টি সারিতে দাঁড়ানো কয়েক হাজার গ্রাহক। এক কর্মকর্তা বলেন, আগে দৈনিক সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ জনকে সেবা দেয়া হতো। বাজেট ঘোষণার পর প্রতিদিন সেবা নিতে আসছেন ৫ হাজারের বেশি গ্রাহক। যারা চারটার মধ্যে টোকেন নিতে পারছেন, তাদের সবাইকে সেবা দেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে কথা হয় মিরপুরের বাসিন্দা মরিয়ম বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, পরিবার সঞ্চয়পত্রে তার ১০ লাখ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। প্রতি মাসেই মুনাফা পেলেও তা উত্তোলন করেন ছয় মাস পরপর। জুলাইয়ে মুনাফা উত্তোলন করলে ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হবে। তাই আগে ভাগেই সব মুনাফা তুলতে এসেছেন তিনি।
দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে মোহাম্মদপুর থেকে এসেছেন আমিনুল ইসলাম। বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের নিচতলায় অপেক্ষা করছিলেন মুনাফার টাকা তোলার জন্য। তিনি বলেন, পেনশন থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনে রেখে ছিলেন। সঞ্চয়পত্রের মুনাফাই এখন তার পরিবারের আয়ের বড় উৎস। তিনি বলেন, গ্রামের বাড়িতে সামান্য জমি আছে। সেখানে কিছু ফসল হয়। আর নগদ আয় বলতে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা। এই দিয়েই সংসার চলে। শুনেছি ৩০শে জুনের পর থেকে বাড়তি কর কাটবে ব্যাংক। এ কারণে মুনাফার টাকা তুলতে এসেছি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, অনেকে সময়মতো মুনাফা উত্তোলন করেন না। কর বাড়ানো হবে, এমন খবরে সবাই মুনাফা তুলে ফেলছেন। আবার অনেকে নতুন করেও সঞ্চয়পত্র কিনছেন। এর ফলে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে গ্রাহকের চাপ বেশি।
মতিঝিলের সোনালী ব্যাংকের নিচতলায় ক্যাশ কাউন্টারে কথা হয় সেলিম উদ্দিনের সঙ্গে। ষাটের বেশি বয়সী এই লোকটিও এসেছেন মুনাফার টাকা তুলতে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার সঞ্চয়পত্রের সুদ কমাল না, কিন্তু আয়ের ওপর কর বাড়াল। আমার পরিবার চলেই এই টাকার ওপর। সরকার এখানে কর না বসালেও পারত।
বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে ১১ শতাংশ করে সুদ নির্ধারণ করা আছে। প্রতি তিন মাস পর এই সুদ বা মুনাফা বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশিসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ এই সঞ্চয়পত্রে বেশি বিনিয়োগ করে বলে জানা গেছে। অনেক অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীর আয়ের একমাত্র উৎস এই সঞ্চয়পত্র। এই টাকাতেই তাদের সংসার চলে। এ কারণে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর বাড়তি কর আরোপ করায় এসব সীমিত আয়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা কাজ করছে।

নীতা আম্বানির হাতব্যাগের দাম ২ কোটি ৬ লাখ রুপি

নীতা আম্বানি ও তাঁর ব্যাগ
ভারতের সর্ববৃহৎ শিল্প রাজ্য রিলায়েন্স গোষ্ঠীর কর্ণধার মুকেশ আম্বানির সহধর্মিণী এবং রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নীতা আম্বানি একটি হাতব্যাগ ব্যবহার করেন। ব্যাগটির দাম মাত্র ২ কোটি ৬ লাখ রুপি। সেটি আবার কুমিরের চামড়া দিয়ে তৈরি। শুধু কি তা–ই, এই ব্যাগ আবার মোড়ানো রয়েছে ১৮ ক্যারেটের সোনা দিয়ে। এই ব্যাগে ২৪০টি হীরা রয়েছে।
নীতা আম্বানি মূল্যবান এই ব্যাগ কিনেছেন। শুধু কেনেননি; বলিউড তারকা কারিশমা ও কারিনা কাপুরের সঙ্গে ছবিও তুলেছেন। সেই ছবি আবার পোস্ট করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
রোববার কলকাতার সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে এই হাতব্যাগ যুক্তরাজ্যের নিলাম সংস্থা ক্রিস্টিজে উঠেছিল। সেদিন এই ব্যাগ বিক্রি হয়েছিল ২ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯ রুপিতে। ক্রিস্টিজ সেদিন দাবি করেছিল, এর আগে এত বেশি দামে নারীদের কোনো হাতব্যাগ নিলামে ওঠেনি। তবে সেই সময় ব্যাগটি কে কিনেছিলেন, তা জানানো হয়নি। এখন ব্যাগটি ভারতের রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নীতা আম্বানির হাতে এসেছে।
ব্যাগটির পোশাকি নাম ‘হিমালয়ান বার্কিন ব্যাগ’। ক্রিস্টিজ জানায়, ব্যাগটি নীল নদে থাকা সাদা কুমিরের চামড়া দিয়ে তৈরি। বিখ্যাত ব্রিটিশ নায়িকা ও গায়িকা জেন বারকিনের নামেই রাখা হয়েছে এই হাতব্যাগের নাম।

একটি দাবার ঘুঁটির দাম ১১ কোটি টাকা!

ড্রয়ারে প্রায় ৫৫ বছর ধরে পড়েই ছিল দাবার খেলার একটি ঘুঁটি। প্রহরীর ছোট্ট মূর্তির মতো ঘুঁটি; যার মাথায় হেলমেট, হাতে তলোয়ার। উচ্চতা ৮.৮ সেন্টিমিটার এই একটা দাবার ঘুঁটির দাম যে এত হতে পারে তা কোনো দিন সেই পরিবারের কেউ কল্পনা করতে পারেনি।
চলতি বছরের জুলাই মাসে নিলামে তোলা হচ্ছে এ দাবার ঘুঁটিটি। নিলামে এ ঘুঁটির দাম প্রায় ১ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১১ কোটি টাকা।
জানা গেছে, ১৯৬৪ সালে স্কটল্যান্ডের এক অ্যান্টিক জিনিসপত্রের বিক্রেতা আরেক অ্যান্টিক জিনিসপত্র বিক্রেতার কাছ থেকে ৫ পাউন্ডের বিনিময়ে এ দাবার ঘুঁটিটি কিনেছিলেন। ওই বিক্রেতার মৃত্যুর পর থেকে ঘুঁটিটি তার মেয়ে পরিবারের একটি আসবাবপত্রের ড্রয়ারে যত্ন করে রেখে দিয়েছিলেন।
ঘুঁটিটির ‘অলৌকিক ক্ষমতা’ রয়েছে বলে বিশ্বাস করে পরিবারটি। এখনও ওই পরিবারের সংগ্রহে থাকা অসংখ্য অ্যান্টিক দেখতে ভিড় জমান বহু মানুষ। একদিন অ্যান্টিক সংগ্রহ দেখতে গিয়ে সেই দাবার ঘুঁটির দিকে নজর পড়ে প্রত্নতত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার ক্যাডারের। তারপর ঘুঁটিটি নিয়ে টানা ৬ মাস ধরে গবেষণা চালিয়ে এটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হন তিনি।
আলেকজান্ডার জানান, ১৮৩১ সালে স্কটল্যান্ডের লুইস আইলের এক বালির স্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় ‘ওয়ালরাস টাস্ক ওয়ারিয়র চেসম্যান’-এর দাবার সেট। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে সেখানকার যোদ্ধাদের অনুকরণে সিন্ধু ঘটকের দাঁত দিয়ে ঘুঁটিটি নরওয়েতে তৈরি করা হয়েছিল।
দাবার সেটের সঙ্গে মোট ৯৩টি ঘুঁটি উদ্ধার হয়, যার ৮২টি ঘুঁটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে আর বাকি ১১টি স্কটল্যান্ডের ন্যাশনাল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে। ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা জানান, ওই দাবার সেটের বিশেষত্ব হলো- এটির মোট ঘুঁটির সংখ্যা ৯৮টি। এর মধ্যে ৯৩টি ঘুঁটি উদ্ধার হয়েছে এবং ১টি যোদ্ধা ও ৪টি প্রহরীর খোঁজ মেলেনি।
আলেকজান্ডারের দীর্ঘ গবেষণায় জানা গেছে, স্কটল্যান্ডের ওই পরিবারে ৫৫ বছর ধরে সংরক্ষিত দাবার ঘুঁটিটি আসলে ‘ওয়ালরাস টাস্ক ওয়ারিয়র চেসম্যান’-এর দাবার সেটের ওই যোদ্ধার, যেটি বিগত প্রায় ২০০ বছর ধরে ‘নিখোঁজ’ ছিল।
চলতি বছরের ২ জুলাই লন্ডনের সদবির ‘ওল্ড মাস্টার স্কালপচার অ্যান্ড ওয়ার্ক অব আর্ট’-এ নিলামে ওঠবে এই দুষ্প্রাপ্য দাবার ঘুঁটিটি। তার আগে সেখানে সর্বসাধারণদের দেখার জন্য একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

‘নয়ন বন্ড’ ও 007 গ্রুপ by এম জসীম উদ্দীন

সাব্বির আহম্মেদ নয়ন
পুরো নাম সাব্বির আহম্মেদ। এলাকায় পরিচিত নয়ন নামে। তবে কয়েক বছর আগে থেকে সাব্বির নিজের নামের সঙ্গে বন্ড জুড়ে দিয়ে ‘নয়ন বন্ড’ নামে নিজের পরিচয় দেওয়া শুরু করেন। বন্ধু মহল থেকে শেষতক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপরাধীর তালিকাতেও তিনি বনে যান নয়ন বন্ড।
হলিউডি অ্যাকশন থ্রিলার ঘরানার জেমস বন্ড সিরিজের চলচ্চিত্রগুলো এ দেশেও ভীষণ জনপ্রিয়। ‘বন্ড, জেমস বন্ড’ বলে নিজের পরিচয় দেওয়া ওই চলচ্চিত্রগুলোর প্রধান চরিত্রটির কাণ্ডকারখানা অতিমানবীয়। কোনো বাধাই তাঁকে রুখতে পারে না, নারী মহলেও সবাই তাকেই চায়, তবে তিনি কোনো বাঁধনে জড়ান না। এ রকম কোনো মোহ থেকেই হয়তো বরগুনার সাব্বির আহম্মেদ নিজের নামের সঙ্গে বন্ড লাগিয়েছিলেন বলে ধারণা এলাকাবাসীর। গড়ে তুলেছিলেন জেমস বন্ডের এজেন্ট নম্বর ধরে ‘007’ নামে ফেসবুক গ্রুপ। পার্থক্যটা হচ্ছে চলচ্চিত্রগুলোতে জেমস বন্ডের ভাবমূর্তি নায়কোচিত। আর বরগুনা শহরে সাব্বিরকে সবাই চেনেন প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা সন্ত্রাসী হিসেবেই। 007 গ্রুপের সদস্যরাও এলাকায় বখাটে হিসেবেই পরিচিত, যার কারণে কেউ টুঁ শব্দটি না করেই এত দিন ধরে তাঁর সব গুন্ডামি সহ্য করে গেছেন।
বরগুনার সরকারি কলেজ এলাকায় প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে স্বামী রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড এখন সারা দেশেই আলোচিত। পুলিশ বলছে, তাঁকে হন্যে হয়ে খোঁজা হচ্ছে। সাব্বিরসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অপরাধীরা যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন, সেজন্য সতর্ক থাকতে বলেছেন হাইকোর্ট।
বরগুনা সরকারি কলেজের পেছনেই একটি সেমি পাকা ঘরে মাকে নিয়ে থাকেন সাব্বির। বাবা আবু বক্কর সিদ্দিকী বেশ কয়েক বছর আগে মারা যান। তাঁর একমাত্র বড় ভাই সিঙ্গাপুরপ্রবাসী। মূলত প্রবাসী ভাইয়ের আয়েই চলে সংসার। ২০১১ সালে বরগুনা জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাসের পর শহরের আইডিয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন সাব্বির। এরপর তিনি নিজেকে বরগুনা সরকারি কলেজের স্নাতক শ্রেণির ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতিদিন নিয়ম করে কলেজে যেতেন। তবে কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ গতকাল বলেন, ‘সাব্বির আমাদের কলেজের ছাত্র নয়।’
শহরের ধানসিঁড়ি এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, মাদক সেবনের টাকার জন্য কয়েক বছর আগে ছিঁচকে চুরি, মুঠোফোন ছিনতাই, ছোটখাটো চাঁদাবাজি শুরু করেন সাব্বির। পেছনে ছিলেন স্থানীয় এক প্রভাবশালীর ছেলে। তাঁর সন্ত্রাসীপনায় অতিষ্ঠ হলেও তেমন কিছু করার ছিল না। একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে আবার ফিরেছেন এলাকায়। পরে হেরোইন ব্যবসা ও সেবনের কারণে শহরের প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তবে তাঁর সব কর্মকাণ্ড ছিল সরকারি কলেজকেন্দ্রিক।
কোনো পদ-পদবি না থাকলেও সাব্বির কখনো নিজেকে ছাত্রলীগের কর্মী বা নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টিও জানতেন এলাকার লোকজন। আর এসব কারণে বরগুনা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দাপট ধরে রেখেছেন।
তবে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান বলেন, ‘ও (সাব্বির) কোনো দিনই ছাত্রলীগের রাজনীতি কিংবা কোনো কমিটিতে ছিল না। কেউ প্রমাণও দিতে পারবে না। এটা অপপ্রচার। সাব্বির কাদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব করত, সেটা এই শহরের সবাই জানে।’
পুলিশ জানায়, সাব্বিরের বিরুদ্ধে কয়েক বছর আগে মাদক ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা হলেও জামিনে বের হয়ে যান। মাস দুয়েক আগেও আরেকটি মামলায় কারাগার থেকে জামিনে বের হন সাব্বির। তাঁর বিরুদ্ধে বরগুনা থানায় মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ নানা অপরাধে আটটি মামলা রয়েছে।
বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন প্রথম আলোকে জানান, সাব্বিরের বিরুদ্ধে মাদকের দুটি, অস্ত্রের একটি এবং মারামারির পাঁচটি মামলা রয়েছে। সেগুলোর সব কটিতেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাব্বিরের বিষয়ে পুলিশ কখনোই কঠোর ছিল না। কারণ, এলাকার প্রভাবশালী মহল তাঁর প্রশ্রয়দাতা।