Monday, August 30, 2010

মাহে রমজানে সম্পদের জাকাত -সিয়াম সাধনার মাস ধর্ম by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মাহে রমজানের রোজাকে দেহের জাকাতস্বরূপ বলা হয়েছে। জাকাত আদায় করলে যেমন মানুষের উপার্জিত সব ধনসম্পদ পবিত্র হয়, তেমনি রমজান মাসে রোজা পালন করলে সারা শরীর পবিত্র হয়ে যায়। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘যে ব্যক্তি তার সম্পদের জাকাত প্রদান করে, তার সম্পদের দোষ দূর হয়।’ বস্তুর পবিত্রতা হাসিলের জন্য যেমন জাকাত প্রদান করতে হয়, তেমনি মানুষের শরীর তথা আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য সত্যিকারের সিয়াম পালন করতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি বস্তুরই একটি জাকাত রয়েছে, আর মানুষের দেহের জাকাত হলো রোজা।’ (ইবনে মাজা)
ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ও বাধ্যতামূলক আর্থিক ইবাদত জাকাত সমাজে ধনী ও গরিবের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগরণের একটি বিরাট উপকরণ। ইসলামে কোনো ব্যক্তির উপার্জিত অর্থের পুরোটাই এককভাবে তাকে ভোগ করার অধিকার দেওয়া হয়নি, বরং বছরান্তে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ ধন-সম্পদ হলে এর দ্বারা তার গরিব আত্মীয়স্বজন এবং নিঃস্ব, হতদরিদ্র লোকজনকে সাহায্য করতে হয়, যাতে তারাও উপার্জনক্ষম হতে পারে। সম্পদের জাকাত প্রদান করলে জাকাতদাতার সম্পত্তি কিছু কমে না, বরং আল্লাহ এতে অনেক বরকত দান করেন এবং তা বহু গুণ বেড়ে যায়। ইসলামে সর্বপ্রকার ধন-সম্পদ বণ্টনের মূলনীতি সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ঘোষিত হয়েছে, ‘ধন-সম্পদ যেন শুধু তোমাদের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়।’ (সূরা আল-হাশর, আয়াত-৭)
সম্পদের জাকাত দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়ের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও রমজান মাসই জাকাত আদায়ের সর্বোত্তম সময়। রমজান মাসে যেকোনো ধরনের দান-সাদকা করলে অন্য সময়ের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি নেকি হাসিল হয়। তাই রমজান মাসে রোজাদার মুমিন বান্দারা একসঙ্গে জাকাত ও ফিতরা আদায়—এ দুটি আর্থিক ইবাদত করে থাকেন।
দারিদ্র্য দূরীকরণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে রমজান মাসেই অধিক সওয়াবপ্রাপ্তির জন্য ধন-সম্পদের জাকাত দেওয়ার উপযুক্ত ও শ্রেষ্ঠ সময়। রমজান মাস ও অন্যান্য সময় রোজাদার ধনী লোকেরা গরিবদের জাকাত প্রদান করার ফলে সমাজের গরিব-নিঃস্ব ব্যক্তিরা দারিদ্র্যের কশাঘাত থেকে অনেকটা রেহাই পান এবং সমাজের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। ধনী মুসলমানদের অর্থ-সম্পদের মধ্যে আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী অপরের নির্দিষ্ট পরিমাণ আংশিক অধিকার রয়েছে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘জাকাত ইসলামের সেতু।’ (মুসলিম)
মাহে রমজানসহ সারা বছর নিজের ও পরিবারের যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে যদি কোনো মুসলমানের কাছে নিসাব পরিমাণ অর্থাৎ বছরের আয় থেকে ব্যয় বাদ দিয়ে যদি কমপক্ষে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা রৌপ্য অথবা সমমূল্যের ধন-সম্পদ থাকে, তবে তার উদ্বৃত্ত সম্পদের শতকরা আড়াই টাকা হিসেবে আল্লাহর নির্ধারিত খাতে গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বণ্টন করতে হয়, আর এটাই হলো জাকাত। যার ওপর জাকাত ফরজ হয়েছে, তাকে অবশ্যই জাকাত আদায় করতে হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো এবং জাকাত প্রদান করো।’ (সূরা আল-মুয্যাম্মিল, আয়াত-২০)
আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক ধন-সম্পদের ৪০ ভাগের এক ভাগ অসহায় গরিব-দুঃখীদের জাকাত প্রদান করে রোজাদার আত্মিক প্রশান্তি লাভ করে থাকেন। জাকাত গরিবের প্রতি ধনীর অনুগ্রহ নয়, বরং তা গরিবের ন্যায্য অধিকার। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘আর তাদের (সম্পদশালীদের) ধন-সম্পদে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।’ (সূরা আল-যারিআত, আয়াত-১৯)
ইসলামি বিধান অনুসারে জাকাত প্রদানের ফলে সমাজের অসহায় গরিব-দুঃখী, অনাথ, বিধবা, বৃদ্ধ, রুগ্ণ, পঙ্গু, অক্ষম ও ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিরা মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে অভাব মোচন করতে পারে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো বান্দা জাকাত আদায় করে তখন ফেরেশতাগণ তার জন্য এই দোয়া করে—হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি তোমার পথে খরচ করছে, তাকে তুমি আরও দান করো; আর যে ব্যক্তি সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখে, তোমার পথে খরচ করে না তুমি তার সম্পদকে ধ্বংস করে দাও!’ (বুখারি)
মাহে রমজানে যে জাকাত-ফিতরা প্রদান করা হয়, কতিপয় ধনী লোক গরিবদের প্রতি তা দয়া বা অনুগ্রহ বলে মনে করেন। আর গরিব-দুঃখীদের মনে করা হয় করুণার পাত্র। কিন্তু ধনীর অর্থ-সম্পদে দরিদ্র-অসহায়দের অধিকার রয়েছে। রমজান মাসে ধনী লোকেরা জাকাত-ফিতরা দিয়ে সেই দায়িত্বমুক্ত হচ্ছেন মাত্র। আর জাকাত-ফিতরা আদায় না করলে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করেননি বলে দোষী সাব্যস্ত হবেন। জাকাত-ফিতরা বা দান-খয়রাত করুণার বিষয় নয়, এগুলো হলো হক্কুল ইবাদ বা বান্দার হক। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর সাদকা (জাকাত) অপরিহার্য করেছেন, যা তাদের ধনীদের কাছ থেকে আদায় করে দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
রোজা পালনকারী প্রত্যেক ধনী ব্যক্তিরই আল্লাহকে ভয় করে কড়ায়-গণ্ডায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের জাকাত আদায় করা উচিত। জাকাতের প্রকৃত হকদার হচ্ছে তারা, যারা কর্মক্ষমতাহীন এবং যারা কর্মক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও উপার্জনহীন অথবা পর্যাপ্ত পরিমাণে উপার্জন করতে পারছে না। এমতাবস্থায় ধনী লোকেরা যদি রমজান মাসে অগ্রিমও জাকাত আদায় করেন, তাহলে সব ধরনের অভাবী, দুর্দশাগ্রস্ত, দুর্গত মানুষের অভাব দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধান ও পুনর্বাসন করা সহজ হতে পারে। মাহে রমজানে জাকাতকে সঠিক খাতে এবং সহায়-সম্বলহীন গরিব-মিসকিন ও দুস্থ লোকদের পুনর্বাসনের কাজে ব্যবহার করতে পারলে সমাজ থেকে সহজেই অভাব-অনটন ও দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব হবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
dr.munimkhan@yahoo.com

পুলিশের সহায়তায় মাদক পাচার -জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রাপ্য

পুলিশই যদি মাদক পাচারকারীর নিরাপত্তা দেয়, তাহলে মানুষ ভরসা রাখবে কার ওপর? অথচ তেমনটাই ঘটে চলেছে। গত বৃহস্পতিবারের প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, মাদক পাচারকারীদের রক্ষাকবচ টোকেন প্রদান করে তাদের মাদকের নিরাপত্তা দিচ্ছে স্বয়ং পুলিশ। সাংকেতিক চিহ্নসংবলিত কাগজের টুকরার টোকেন সঙ্গে থাকলে মাদক পাচারকারীকে আর পুলিশের হয়রানির মুখে পড়তে হয় না। নিরাপদে তারা মাদকের চালান গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারে। যেখানে পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের জন্য কাজ করার কথা, সেখানে তারা জীবন ধ্বংসকারী মাদকের চালান নিরাপদ করার কাজে সহায়তা করে চলেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। মাদক পাচারকারী চক্রের সঙ্গে একটি সুশৃঙ্খল সরকারি বাহিনীর এরূপ সখ্য দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি অশনিসংকেত।
আমরা দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতার কাজ চালিয়ে আসছি এবং মাদকের বিস্তার রোধে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত তৎপরতার ওপর জোর দিয়ে যাচ্ছি। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার ওপর আমরা গুরুত্বারোপ করেছি। আমরা জানি, পুলিশ আন্তরিক হলে মাদকের পাচার ও ব্যবসা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব। পক্ষান্তরে, পুলিশ-সদস্যরা যদি মাদক পাচারকারীদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে অবাধে মাদক পাচারের নিশ্চয়তা দেন, তবে সমাজের জন্য এর চেয়ে গুরুতর অনিষ্টের আর কী হতে পারে?
টোকেনের মাধ্যমে মাদকের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং এটি ঠিকমতো কাজ করার জন্য এর সঙ্গে বহু পুলিশ জড়িত থাকা প্রয়োজন। নিচ থেকে উচ্চপর্যায়ের পুলিশের সহায়তা ছাড়া এটি ঠিকমতো চলার কথা নয়। যাঁরা এ ধরনের অপকীর্তির সঙ্গে যুক্ত আছেন, তাঁদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যে পুলিশ-সদস্যরা এ কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা তাঁদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছেন এবং তাঁরা আর পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অধিকার রাখেন না।

নুরুন্নবীকে রক্ষার তৎপরতা -আইনকে নিজস্ব পথে চলতে দিন

আওয়ামী লীগের ভোলা-৩ আসনের সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরীর পিস্তলের গুলিতে তাঁরই দলের কর্মী ইব্রাহিম নিহত হয়েছেন। নুরুন্নবী চৌধুরীর বিরুদ্ধে এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের যেসব অভিযোগের খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তা একটি গণতান্ত্রিক ও আইনভিত্তিক রাষ্ট্রে কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইব্রাহিম হত্যা মামলায় নুরুন্নবী চৌধুরীকে যেন কোনো বাড়তি সুবিধা দেওয়া না হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নুরুন্নবীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা দলের অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ইব্রাহিম হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়া উচিত।
কিন্তু নুরুন্নবী চৌধুরীকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার সত্যিকারের কোনো উদ্যোগ নেই; উল্টো বরং তাঁকে এ অভিযোগ থেকে পার পাইয়ে দেওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন দলের একটি শক্তিশালী মহল প্রবল প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নানা অন্যায়-অপরাধে অভিযুক্ত সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের আইনের ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টার যেসব দৃষ্টান্ত লক্ষ করা গেছে, ইব্রাহিম হত্যার ঘটনাটি সেগুলোর একটি মাত্র। ২০০১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মালিবাগে হরতালবিরোধী মিছিল থেকে গুলি করে বিরোধী দলের চারজনকে হত্যা করার মামলায়ও নুরুন্নবী চৌধুরী আসামি ছিলেন। যেমন ছিলেন আওয়ামী লীগের সে সময়ের সাংসদ এইচ বি এম ইকবাল। ওই মিছিলের কয়েকজন অস্ত্রধারীর ছবিও ছাপা হয়েছিল সে সময়ের পত্রপত্রিকায়। গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে ইকবাল ও নুরুন্নবীসহ ১৪ জন আসামিকে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডসহ নানা গুরুতর অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা শত শত মামলা থেকে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের তরফে এই প্রক্রিয়াটির অন্তর্নিহিত দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে আইনের শাসনের নীতিতে বিশ্বাস না করা, আইনকে শুধু নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা, নিজেদের স্বার্থেই আইনকে অকেজো করে রাখা।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ক্ষমতাসীন দলের যেসব নেতা ইব্রাহিম হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত চাইছেন বলে বলছেন, তাঁরা এটা বলছেন যতটা আইনের শাসনের নীতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে, তার চেয়ে বেশি দলের ভাবমূর্তি রক্ষার লক্ষ্যে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা দলের অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কিন্তু প্রকৃত সমস্যা হলো, আইনের শাসনের প্রতি আন্তরিক অঙ্গীকার না থাকলে দলীয় নেতা-কর্মীদের অন্যায়-অপরাধ ঠেকানোর কোনো কার্যকর পন্থা আসলে পাওয়া সম্ভব নয়। নিজের দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উঠেছে, এটা দলের ভাবমূর্তি বা অগ্রগতির জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর। কিন্তু এটাই প্রধান বিবেচ্য বিষয় নয়, মূল বিবেচ্য হচ্ছে ন্যায়বিচার। অপরাধের অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, তা প্রমাণের জন্য আদালত রয়েছেন; অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আদালতে দাঁড়িয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করুন। কিন্তু তা না করে অপরাধীকে যদি আদালতের দোরগোড়া পর্যন্তই নেওয়া না হয়, আইনকে যদি তাঁদের স্পর্শই করতে না দেওয়া হয়, তাহলে ন্যায়বিচার হয় না; তাতে দলের বা সরকারের ভাবমূর্তির ক্ষতিপূরণও ঘটে না।
সরকারকে এটা বিশ্বাস করতে হবে যে দেশ পরিচালনায় সফল হতে হলে, সুশাসন দিয়ে জনসাধারণের আস্থা ও ভালোবাসা পেতে চাইলে অন্যায়-অপরাধের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। আমরা দেখতে চাই, নুরুন্নবী চৌধুরী, এইচ বি এম ইকবালসহ ক্ষমতাসীন দলের যেসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে মামলা রয়েছে, তাঁরা কেউ আইন প্রয়োগ থেকে নিষ্কৃতি পাচ্ছেন না, বরং আইনানুগভাবে মামলায় লড়ে আদালতে দাঁড়িয়ে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করছেন।

পেশোয়ারে নিরাপত্তা রক্ষীদের জিম্মি করেছে আটক জঙ্গিরা

পাকিস্তানের পেশোয়ারে গতকাল শনিবার সন্দেহভাজন জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। সেনাবাহিনীর একটি স্থাপনায় ওই জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। তারাই নিরাপত্তারক্ষীদের কাবু করে ফেলে মার্কিন কনস্যুলেটের পাশে সেনাবাহিনীর একটি ভবনের মধ্যে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। এ সময় তাদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিবিনিময় হয়। তবে প্রাথমিকভাবে হতাহতের ব্যাপারে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
পরে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আতাহার আব্বাস বলেন, ‘ওই কয়েকজন সন্ত্রাসীকে আটকে রাখা হয়েছিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। তারাই দুই নিরাপত্তারক্ষীকে জিম্মি করে।

পুতিন বললেন সংকট কাটেনি

রাশিয়া এখনো অর্থনৈতিক সংকট উতরাতে পারেনি। সংকট মোচনে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে তারা।
গত শুক্রবার রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন এ কথা বলেন। সরকারি বার্তা সংস্থা আরআইএ পুতিনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, বিশ্ব অর্থনীতির মতো রাশিয়ার অর্থনীতিও ধীরে ধীরে সংকট থেকে বের হয়ে আসছে।
পুতিন বলেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন, সংকট মোকাবিলায় নেওয়া কর্মসূচি বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখতে হবে।

কিউবার বিপ্লবী নেতার ভিন্নমতাবলম্বী ছেলে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন

কিউবার বিপ্লবী এক নেতার ভিন্নমতাবলম্বী ছেলে অবশেষে দেশত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্র যেতে পেরেছেন। ভ্রমণের সাত বছরের নিষেধাজ্ঞা থাকার পর কিউবা কর্তৃপক্ষ দেশত্যাগের অনুমতি দিলে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন তিনি। গত শুক্রবার মিয়ামিভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।
হুয়ান হুয়ান আলমেইদা (৪৩) নামের ওই আইনজীবী কিউবার মরহুম বিপ্লবী হুয়ান আলমেইদা বস্কের ছেলে। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর বস্কের মৃত্যু হয়।
২০০৯ সালে অবৈধভাবে কিউবা ত্যাগের চেষ্টা করলে আলমেইদাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দেশত্যাগের অনুমতি পেতে কারাগারে অনশন শুরু করেন তিনি। কমিউনিস্ট-শাসিত কিউবার রোমান ক্যাথলিক প্রধান হেইম ওর্তেগার মধ্যস্থতায় অবশেষে দেশত্যাগের অনুমতি পান আলমেইদা। এই সপ্তাহে কিউবা ত্যাগের পর মেক্সিকো থেকে একটি বিমানে করে গত বৃহস্পতিবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হন।

কোকেনসহ গ্রেপ্তার প্যারিস হিলটন

শোবিজ তারকা প্যারিস হিলটনকে অবৈধভাবে কোকেন রাখার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের পুলিশ গত শুক্রবার রাতে একটি গাড়ি থামিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় ওই গাড়িতে সন্দেহজনক পাউডার পাওয়া যায়। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, এগুলো কোকেন। প্যারিস হিলটনের বিরুদ্ধে এ ব্যাপারে অভিযোগ আনা হবে। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পেতে পারেন।
এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ গত জুলাইয়ে গাঁজা সেবনের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে কোনো ধরনের সাজা না দিয়েই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নাইজেরিয়ায় সিসার বিষক্রিয়ায় ৩০ শিশুর মৃত্যু

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের জামফারা রাজ্যের একটি গ্রামে গত এক সপ্তাহে সিসার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩০ জন শিশু মারা গেছে। চিকিৎসকেরা এ কথা জানান।
এদিকে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তারা মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেননি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খনি থেকে সোনা আহরণের কারণে এই সিসার বিষক্রিয়া হচ্ছে। জামফারা রাজ্যে গত এক বছরে সিসার বিষক্রিয়ায় বহু লোকের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃতের বেশির ভাগই শিশু। মৃত্যুর সর্বশেষ ঘটনা ঘটে আনকা শহরের কাছে একটি গ্রামে।
রাজ্যটিতে গত জুন মাস থেকে এ পর্যন্ত সিসার বিষক্রিয়ায় মোট ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এলাকাটি সফরকালে চিকিৎসকেরা বলেছেন, অঞ্চলটিতে অস্বাভাবিকভাবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা এ ঘটনার জন্য সিসামিশ্রিত দূষিত পানিকে দায়ী করছেন। নিয়মনীতি না মেনে অবৈধভাবে খনি থেকে সোনা আহরণের চেষ্টা করার কারণে পানির উৎসে এ বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে।
জামফারা রাজ্যে স্বর্ণখনি এলাকায় সম্প্রতি একটি চীনা কোম্পানিকে খনি খননের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিবিসি অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছেন ওবামা

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দুই দেশকেই ছাড় দিতে রাজি করাতে আগামী মাসগুলোয় জেরুজালেম ও রামাল্লা সফর করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটাই হবে ওই অঞ্চলে তাঁর প্রথম সফর।
২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা ওবামার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল। এ জন্য তিনি সম্মেলন আয়োজন করেছেন এবং বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে অনেক বৈঠক করেছেন। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দুই পক্ষের সরাসরি বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ওবামা। ইসরায়েলের একটি সংবাদপত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এক বছরের মধ্যেই একটি সমন্বিত শান্তিচুক্তি করতে চাইছে। আগামী ১০ বছর ধরে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন ইহুদি নেতাদের বৈঠকের ফাঁস হওয়া কিছু নথিপত্র থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হবে সীমান্ত ও শরণার্থী সমস্যা এবং আগামীতে জেরুজালেমের অবস্থান কী হবে, এমন কিছু নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে। কোনো বিষয়ে কোনো পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে মার্কিন কর্মকর্তারা সেখানে হস্তক্ষেপ করবেন এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রস্তাবও দেওয়া হবে।
ফাঁস হওয়া নথিপত্র থেকে আরও জানা গেছে, দুই পক্ষের ধারাবাহিক আলোচনা ছাড়াও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নিজেদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক করবেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কৌশলে নেতানিয়াহু খুশি হবেন। কেননা তিনি বারবার দুই পক্ষের সরাসরি বৈঠক দাবি করে আসছিলেন। নেতানিয়াহু গত শনিবার বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে প্রকৃত আলোচনা হতে পারে কেবল বিভিন্ন মৌলিক বিষয়গুলোয় দুই পক্ষের নেতাদের মধ্যে সরাসরি ও ধারাবাহিক বৈঠকে।’

কানাডায় সন্দেহভাজন আল-কায়েদার চার সদস্য গ্রেপ্তার

কানাডার আরসিএসপি পুলিশ অটোয়া ও লন্ডন অন্টারিও থেকে চারজন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে। এঁরা আল-কায়েদার সদস্য বলে পুলিশ দাবি করছে। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পৃথক অভিযান চালিয়ে এঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন হিবা মোহাম্মদ আলজাদেহ (৩০), মিসবাহউদ্দিন আহমেদ (২৬), খুররুম সাইয়েদ শের (২৮)। অন্যজনের নাম জানা যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এঁরা দেড় বছর ধরে অটোয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল। এরা কানাডা, ইরান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও দুবাইয়ের আল-কায়েদা সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিল। দীর্ঘদিন নজরদারির পর প্রমাণ সাপেক্ষে এদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২/১ দিনের মধ্যে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
‘অপারেশন সামোসা’ নাম দিয়ে আরসিএসপি পুলিশ বৃহস্পতিবার বিকেলে অটোয়ার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার টাউন হাউজ থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ তাৎক্ষণিক গণমাধ্যমকে কিছু জানায়নি। তবে তাঁরা দাবি করেছে, কানাডায় বড় ধরনের একটি সন্ত্রাসী হামলা তাঁরা ঠেকিয়ে দিয়েছেন।
পরে শুক্রবার সকালে লন্ডন অন্টারিওতে আরেক সন্দেহভাজন আল-কায়েদা সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া চারজনই কানাডায় নাগরিক। তাঁদের কাছ থেকে ৫০টি বোমা তৈরির ইলেকট্রনিক সার্কিটবোর্ড, উন্নতমানের জেনারেটর, বিস্ফোরক দ্রব্য, আল-কায়েদার প্রকাশিত বেশ কিছু বই উদ্ধার করা হয়।
২৮ বছর বয়সী রোগতত্ত্ববিদ খুররম সাইয়েদ শেরকে আল-কায়েদার গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলে ধারণা করছে কানাডার পুলিশ। মজার বিষয় হলো, দুই বছর আগে মন্ট্রিয়ালে ‘কানাডিয়ান আইডল’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল এই খুররম। এখন অনেকে মনে করছেন, তাঁর এ সব কিছুই ছিল সাজানো এবং নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা। আলজাদেহের বিরুদ্ধে বোমা তৈরীর অর্থ সংগ্রহ ও অস্ত্র চোরাচালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। কানাডায় সক্রিয় এই গোষ্ঠী অর্থ সংগ্রহ করে আফগানিস্তানে যৌথবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত আল কায়েদার জন্য পাঠাতো। আলজাদেহ ঘন ঘন আফগানিস্তান যেতেন।

আফগানিস্তানে মার্কিন ঘাঁটিতে তালেবান জঙ্গিদের হামলা

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে গতকাল শনিবার একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ৩০ জনেরও বেশি তালেবান জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানান। তবে সম্ভাব্য হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু এখনো জানা যায়নি।
তবে ন্যাটো বলেছে, তারা আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে দুটি ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর পোশাক পরে আসা তালেবান জঙ্গিদের পরিকল্পিত হামলা নস্যাৎ করে দিয়েছে। স্থানীয় খবরে বলা হয়, ৫০ জনেরও বেশি তালেবান যোদ্ধা ওই হামলায় অংশ নেয়। ন্যাটো বলেছে, একটি ঘাঁটিতে কমপক্ষে ১৫ জন ও আরেকটিতে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী খোস্ট প্রদেশে সুরক্ষিত মার্কিন ঘাঁটি ফরোয়ার্ড অপারেটিং বেস চ্যাপম্যানে জঙ্গিরা এ হামলা চালায়। সেখানে মার্কিন ও অন্য বিদেশি বাহিনী তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এর আগে এই মার্কিন ঘাঁটিতে গত ডিসেম্বরে তালেবান জঙ্গিদের এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বা সিআইয়ের সাত গোয়েন্দা নিহত হন।
ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ক্যাটি কেনড্রিক হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অজ্ঞাত স্থান থেকে রয়টার্সকে টেলিফোনে জানান, ওই মার্কিন ঘাঁটিতে ৩০ জন যোদ্ধা হামলা করেছেন। এ হামলায় আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীসহ রকেট ও মেশিনগান নিয়ে অন্য হামলাকারীরা অংশ নেয়। এক লাখ ৫০ হাজার বিদেশি সেনার উপস্থিতি সত্ত্বেও বর্তমানে আফগানিস্তানে সহিংসতার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

গমের জিন-নকশা উন্মোচন খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে

বন্যা ও খরার কারণে অনেক দেশে গমের উৎপাদন কমে গেছে। এতে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিন্তু যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা গমের জিন-নকশা (জিনমসিকোয়েন্সস) উন্মোচন করতে সক্ষম হওয়ায় সম্ভাব্য খাদ্যঘাটতি মোকাবিলা করা সহজ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের আশাবাদ গমের জিন নকশা উন্মোচন বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে গমের উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুলের নিল হলের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। নিল হল বলেন, মানুষের জিন নকশা উন্মোচনে সময় লেগেছে ১৫ বছর। কিন্তু ডিএনএ প্রযুক্তির বিপুল উৎকর্ষের কারণে গমের জিন নকশা উন্মোচনে মাত্র এক বছর সময় লেগেছে। গবেষণার ফলাফল সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার ফলে সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা জিনের অণুক্রম বিশ্লেষণ করতে পারবেন ও গবেষণার ফলাফলকে গমের উৎপাদন বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।
সম্প্রতি গমের অন্যতম বড় উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া গম রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মারাত্মক খরা ও দাবানলে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর দেশটি এই পদক্ষেপ নিয়েছে। রাশিয়ার এই পদক্ষেপের কারণে বিশ্বজুড়ে গম ঘাটতির আশঙ্কার সৃষ্টি হয়। এতে গমের দাম বেড়ে যায়। পাকিস্তানে বড় ধরনের বন্যা ও চীনে ভূমি ধসও গমের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কানাডাসহ কয়েকটি দেশে গত বছরের তুলনায় গমের উৎপাদন কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেইজ অ্যান্ড হুইট ইমপ্রুভমেন্ট সেন্টারের গম শারীরবৃত্তবিদ ম্যাথু রেনল্ড বলেন, গমের জিন নকশা উন্মোচনের কারণে এখন গমের আরও উৎপাদনশীল জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে ৪০০ অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে গত তিন দিনে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে চার শতাধিক অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৪৭ জনই নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ রয়েছে।
ইলিনয়, ইন্ডিয়ানা, উইসকনসিন, ক্যানসাস, মিসৌরি, মিশিগান, ওহাইও, মিনেসোটা ও নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যে প্রথমে এই তল্লাশি শুরু হয়। পরে আরো কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও তল্লাশি চালানো হয়।
মার্কিন কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন দপ্তরের শিকাগো কার্যালয়ের মুখপাত্র গেইল মনটেনেগ্রো বলেন, নতুন করে অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর লক্ষ্যে ধরপাকড় বাড়ানো হয়েছে। ব্যাপকসংখ্যক অবৈধ অভিবাসীর অপরাধমূলক তৎপরতায় জননিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন বলেও অভিবাসন বিভাগের ওই মুখপাত্র উল্লেখ করেন। অভিবাসন বিভাগ থেকে বলা হয়, যেসব অবৈধ অভিবাসী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেপ্তারে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিবাসন বিভাগ জানায়, সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুই শতাধিক ব্যক্তি মাদক চোরাচালান ও সহিংসতার দায়ে ইতিপূর্বেই আদালতের মাধ্যমে দণ্ডিত হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অপরাধ চক্রের সদস্য।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় মার্কিন কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এই তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করছে। গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ডিটেনশন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ইতিপূর্বেই দণ্ড পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের নতুন অভিযোগ আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অভিবাসন বিভাগের পরিচালক জন মরটন বলেছেন, আইন লঙ্ঘন করে যারা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

বরিশালে বাংলালায়ন ওয়াইম্যাক্স

ওয়াইম্যাক্স নেটওয়ার্ক বরিশালে নিয়ে এসেছে বাংলালায়ন। আনুষ্ঠানিকভাবে বরিশালে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।
গতকাল শনিবার সকালে নগরের বিডিএস মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলালায়ন তাদের এ যাত্রা শুরু করে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুরের পর বরিশালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু হলো।
সংবাদ সম্মেলনে বরিশালকে একটি তারবিহীন ডিজিটাল শহরে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন বাংলালায়নের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. শফিউল হক চৌধুরী এবং মিডিয়া বিভাগের প্রধান জি এম ফারুক খান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্ট্যাটেজিক সেলস প্রধান তামিম এইচ চৌধুরী, নিউ বিজনেস প্রধান আমানুল ইসলাম, প্লাজা প্রধান মো. নজরুল ইসলাম, আঞ্চলিক বিক্রয় ব্যবস্থাপক জাহির উদ্দিন খান, করপোরেট বিক্রয় ব্যবস্থাপক রেজওয়ান উর রহমান, মিডিয়া ইনচার্জ সৈয়দ নাসিম, সহকারী ব্যবস্থাপক (ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউশন) আরিফুর রহমান, ঊর্ধ্বতন নির্বাহী শওকত পারভেজ প্রমুখ।
বাংলালায়নের প্যাকেজ রয়েছে ১২৮ কেবিপিএস, ২৫৬ কেবিপিএস, ৫১২ কেবিপিএস, ১ এমবিপিএস, ২ এমবিপিএস ও ৫ এমবিপিএস।

১৩ দিন বন্ধ থাকার পর চাতলাপুর দিয়ে ত্রিপুরায় রপ্তানি শুরু

বিএসএফের বাধায় কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর সীমান্তে চাতলাপুর চেকপোস্ট এলাকার উন্নয়নকাজ বন্ধ থাকার ১৩ দিন পর চাতলাপুর স্থলবন্দর দিয়ে উত্তর ত্রিপুরায় বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি আবার শুরু হয়েছে।
গতকাল শনিবার চাতলাপুর স্থলবন্দর এলাকায় সিমেন্ট, চিপ পাথর ও ইটবোঝাই ট্রাকের দীর্ঘ সারি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
চাতলাপুর স্থলবন্দর সড়ক উন্নয়নে বিএসএফের বাধা সম্পর্কে এবং ভারতীয় অংশে শ্মশানঘাট উন্নয়নে বিডিআরের বাধার বিষয়ে ১০ আগস্ট থেকে বিডিআর ও বিএসএফের মধ্যে প্রায় সাতটি বৈঠক হয়েছে।
এসব বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও বিএসএফের বাধায় চাতলাপুর স্থলবন্দর সড়কের উন্নয়নকাজ বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে ১৫ আগস্ট থেকে চাতলাপুর দিয়ে সিমেন্ট, চিপ পাথর, ইট ও মাছ রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়।
চাতলাপুর স্থলবন্দর কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট ও রপ্তানিকারক খন্দকার আতিক সেলিম এবং চাতলাপুর শুল্ক কর্মকর্তা সঞ্জীৎ আচার্য প্রথম আলোকে জানান, ত্রিপুরার ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ও চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে গতকাল শনিবার থেকে সিমেন্ট, চিপ পাথর ও ইট রপ্তানি করা শুরু হয়।
ঠিকাদার মোসাদ্দেক আহমদ মানিক জানান, চাতলাপুর চেকপোস্ট থেকে দেড় শ গজ এলাকার সড়কের উন্নয়নকাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে বাকি পুরো সড়কে পর্যায়ক্রমে কাজ চলছে।

কেঅ্যান্ডকিউর শেয়ার লেনদেন ৫২ মিনিট স্থগিত

কেঅ্যান্ডকিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেডের শেয়ারের মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ আজ রোববার প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন ৫২ মিনিট স্থগিত করে।
এর আগে ডিএসই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে একটি কারণ দর্শানো নোটিশ ইস্যু করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সেই কারণ দর্শানো নোটিশের উত্তর দিতে দেরি করায় আজ সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেনের শুরুতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ডিএসইর নোটিশের উত্তরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কাছে মূল্য সংবেদনশীল কোনো তথ্য না থাকার কথা জানালে বেলা ১১টা ২২ মিনিটে শেয়ার লেনদেন আবারও শুরু হয়। এদিকে ডিএসই কেঅ্যান্ডকিউয়ে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দিয়েছে।

গরম মসলার বাজার বেজায় গরম

কেরালার ভান্দানমিডু ও তামিলনাড়ুর বদিন্যকানু আড়তে আসা এলাচি চাষিরা অনেক মাস ধরেই বেজায় খুশি। সেখানে সাপ্তাহিক নিলামে মসলাটির দাম বাড়ছে আর বাড়ছে। ঢাকার শেয়ারবাজারের মতো রেকর্ডের পর রেকর্ড ভাঙছে এলাচির দর। জুনের শেষে এক হাজার ৯৫০ রুপি ছুঁয়েছিল কেরালার বিখ্যাত অ্যালেপ্পি গ্রিন জাতের এলাচির কেজি। এমন দর কখনো দেখেনি কেউ।
লাগাতার দাম বাড়ছে। আগেও জোগান কমে গেলে দাম বাড়ত। তবে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও আমদানির কারণে সরবরাহ বাড়লে দু-চার মাসের মধ্যেই আবার কমে যেত। কিন্তু এবার হচ্ছে না। কারণ দুই বছর ধরে গুয়াতেমালায় এলাচি উৎপাদন মার খাচ্ছে। এল নিনোর প্রভাবে কখনো অনাবৃষ্টি, কখনো অতিবৃষ্টি ও বন্যায় গুয়াতেমালার এলাচি চাষ বিঘ্নিত হওয়ায় ভারতীয় এলাচির এখন পোয়াবারো।
আগের কয়েক বছরে গুয়াতেমালা থেকে কম দামে রপ্তানি করা এলাচি বিশ্ববাজারে ভারতীয় এলাচির বারোটা বাজিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে সৌদি আরবের মানুষ এলাচি দিয়ে লাল চায় খায়, তাই সেটি এলাচির বড় বাজার। সেখানেও ভারতীয় এলাচি গুয়াতেমালার কাছে মার খেয়েছিল। এবার গুয়াতেমালার রপ্তানি কমায় ভারতীয় এলাচির চাহিদা সব বাজারেই বেড়েছে। তাই পর্যাপ্ত জোগানের অভাবে দামও চড়েছে।
ভারতে চলতি মৌসুমে এলাচি উৎপাদন নয় হাজার টনের বেশি। নিজেরা খেয়ে রপ্তানি করেছে এক হাজার ৭৫০ টনেরও বেশি। এর অনেকটা অবশ্যই এসেছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশি আমদানিকারকেরা এক দশক ধরে গুয়াতেমালা যেতে শিখেছিলেন এলাচি আনতে। এবার সেখানে জোগান কমে যাওয়ায় বেশি দামে আনতে হচ্ছে ভারতসহ অন্য সূত্র থেকে। তাই এলাচির দর এত চড়া।
রমজান মাসের দুই সপ্তাহ পার হয়েছে, অনেকেই আগাম ঈদের বাজার শুরু করেছেন আর হতবাক হচ্ছেন এলাচির কেজি দুই হাজার ৯০০ টাকা দেখে। গত ঈদের আগে এলাচি ছিল এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে।
শুধু এলাচি নয়, লবঙ্গসহ অন্যান্য গরম মসলার বাজারও এবার বেজায় গরম। লবঙ্গ এবার ৮০০ টাকা কেজি, যা গতবারের প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি।
এখানেও বৈরী প্রকৃতি। বিশ্বের অন্যতম লবঙ্গ উৎপাদক মাদাগাস্কারের চাষ লন্ডভন্ড হয়েছে পোকার আক্রমণে। দুই সপ্তাহ আগে খোদ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলেছে, লুকাস্ট পোকার আক্রমণে লবঙ্গের ফলন বিপন্ন হয়ে ঝুঁকিতে পড়েছে সাড়ে চার লাখ গ্রামীণ মালাগাছি চাষি পরিবার; যারা ধান, কফি ও লবঙ্গ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে।
লবঙ্গের বাজারে অবশ্য ভারতের প্রভার নেই। কারণ সে নিজেই আমদানি করে বেশির ভাগ চাহিদা মেটায়। তবে বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, আগামী জানুয়ারিতে মাদাগাস্কার, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিলের ফলন বাজারে না আসা পর্যন্ত বলা যাবে না লবঙ্গের কী হবে। বিশ্ববাজারে প্রতি টন লবঙ্গ জাতভেদে পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি হচ্ছে এখন। এই দর আর শুল্ক দিয়ে বর্তমান বাজারদর থেকে কম দামে লবঙ্গ বেচা সত্যিই কষ্টকর। তবে মসলার আমদানিতে ‘আন্ডার-ইনভয়েসিং ও মিস-ডিক্লারেশন’ করে আমদানি খরচ কমানো হয় অহরহ। তবে তার সুফল ক্রেতারা পাচ্ছেন না এবার।
মৌলভীবাজার ও খাতুনগঞ্জভিত্তিক গুটিকয়েক আমদানিকারক নিয়ন্ত্রণ করেন মসলার সরবরাহ ও মূল্য। তাদের অনেকেই আবার মসলা আনেন চীন ও দুবাইভিত্তিক মধ্যস্বত্বভোগী রপ্তানিকারকদের থেকে, যারা কিনা ভিয়েতনামের গোলমরিচ কিংবা ব্রাজিলের লবঙ্গের মজুদদার। তাদের মুনাফাও বাংলাদেশের ভোক্তাদের পকেট থেকে যায়।
শুধু ঈদ নয়, বাজার বলছে আমাদের গরম মসলার ভোগ বাড়ছে। এর কারণ হচ্ছে, মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছ, মাংস, মিষ্টান্ন ভোগ বাড়ছে সারা বছর ধরে। ফলে বাজারও বাড়ছে। এই বাজারটি প্রায় শতভাগ আমদানিনির্ভর। তাই গুয়াতেমালায় এল নিনো বাংলাদেশে প্রভাব ফেলবে, মালাগাছির পোকা এ দেশের ক্রেতার পকেট কাটবে।
তবে সব পণ্যেরই বিকল্প সূত্র থাকে। তার সঙ্গে আমদানিকারকদের যোগাযোগে ভূমিকা রাখতে পারে সরকার আর নজরদারি করতে পারে যাতে আমদানিমূল্যের চেয়ে বেশি দরে বিক্রি না হয় গরম মসলা।

কেঅ্যান্ডকিউর শেয়ার লেনদেন ৫২ মিনিট স্থগিত

কেঅ্যান্ডকিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেডের শেয়ারের মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ আজ রোববার প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন ৫২ মিনিট স্থগিত করে।
এর আগে ডিএসই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে একটি কারণ দর্শানো নোটিশ ইস্যু করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সেই কারণ দর্শানো নোটিশের উত্তর দিতে দেরি করায় আজ সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেনের শুরুতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ডিএসইর নোটিশের উত্তরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কাছে মূল্য সংবেদনশীল কোনো তথ্য না থাকার কথা জানালে বেলা ১১টা ২২ মিনিটে শেয়ার লেনদেন আবারও শুরু হয়। এদিকে ডিএসই কেঅ্যান্ডকিউয়ে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দিয়েছে।

সাধারণ সূচক বেড়েছে ১৬.৮৭ পয়েন্ট

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ রোববার সাধারণ সূচক বাড়লেও কমেছে আর্থিক লেনদেন। আজ সাধারণ মূল্যসূচক ১৬.৮৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬৭০.১৬ পয়েন্টে।
আজ মোট এক হাজার ১৫৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা গতকালের চেয়ে ৯৪ কোটি টাকা কম। আজ লেনদেন হওয়া মোট ২৪৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ১১২টি প্রতিষ্ঠানের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট ছয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—বেক্সিমকো, বেক্সিমকো টেক্সটাইল, আফতাব অটোমোবাইলস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও বিএসআরএম স্টিল।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—দেশ গার্মেন্টস, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, রহিমা ফুডস, লিগেসি ফুটওয়্যার ও ঢাকা ইনস্যুরেন্স।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—ড্যাফোডিল কম্পিউটার, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, আলফা টোবাকো, ঢাকা ডাইং ও শ্যামপুর সুগার।
এ ছাড়া আজ ডিএসইর বাজার মূলধন ২,৯৮,২০৫ কোটি টাকা।

সেই পাকিস্তানই লজ্জার মুখে

একগুচ্ছ কীর্তি গড়া হয়ে গেছে। আরও একটি গড়ার উপলক্ষ তৈরি করে ফেলেছেন স্টুয়ার্ট ব্রড। ৯২৭ রান আর ৯৪ উইকেট নিয়ে লর্ডস টেস্ট শুরু করেছিলেন। অসাধারণ সেঞ্চুরিটির পথে হাজার রান ছোঁয়া হয়ে গেছে। এরপর বোলিংয়ে এসে তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট (প্রথম ইনিংসে ২ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ১)। আর তিন উইকেট পেলেই প্রথম ইংলিশ ক্রিকেটার হিসেবে গড়বেন একই টেস্টে হাজার রান ও ১০০ উইকেট ছোঁয়ার কীর্তি। টেস্ট ইতিহাসেই এই কীর্তি আছে আর কেবল জন ব্রেসওয়েল, কপিল দেব ও শন পোলকের।
ট্রট ও ব্রডের দুর্দান্ত দুটি সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড করেছে ৪৪৬ রান। দ্বিতীয় দিন লাঞ্চের পরপরই ১০২ রানে ইংল্যান্ডের ৭ উইকেট ফেলে দিয়েছিল যে পাকিস্তান, তারাই এখন বিব্রতকর অবস্থায়। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৭৪ রানে গুঁড়িয়ে যাওয়ায় ফলোঅনের লজ্জা তো জুটেছেই, দ্বিতীয় ইনিংসেও ৪১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান এখন ইনিংস হারের দোরগোড়ায়। ইনিংস হার এড়াতে প্রয়োজন আরও ৩৩২ রান। হাতে ৬ উইকেট।
ব্যাটিংয়ে যা সর্বনাশ করার তো করেছেনই, বল হাতেও পাকিস্তানের ভরাডুবির সূচনা করেন ব্রড। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ফিরিয়ে দিয়েছেন ইয়াসির হামিদকে, পরের ওভারেই রিক্ত হাতে ফিরিয়েছেন মোহাম্মদ ইউসুফকে। ব্রডের এই দুই উইকেটের মাঝে অ্যান্ডারসন আউট করেছেন ফারহাতকে। এরপর স্টিভেন ফিন ৩ ও গ্রায়েম সোয়ান ৪টি উইকেট নিয়ে ফলোঅনে ফেলে দেন পাকিস্তানকে। দ্বিতীয় ইনিংসেও ফারহাতকে দিয়ে পাকিস্তানের পতন শুরু ওই ব্রডের হাতেই। পরে অ্যান্ডারসন, ফিন ও সোয়ান তুলে নেন একটি করে উইকেট।
ট্রট-ব্রড জুটি দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল অষ্টম উইকেটে ইংল্যান্ডের রেকর্ড গড়া থেকে ৩ রান দূরে। কাল দ্বিতীয় ওভারেই রেকর্ডটি গড়ে নেন তাঁরা। পরে গড়েন বিশ্ব রেকর্ডও। ১৬৯ রান করে ব্রডের বিদায়ে ভেঙেছে ৩৩২ রানের জুটি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়ে লর্ডসে দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরিটি পাননি ট্রট।

কোচের সঙ্গী
লর্ডসে ১৮৩-এর বেশি রানের দুটি ইনিংস খেলা দ্বিতীয় ক্রিকেটার ট্রট। বাংলাদেশের বিপক্ষে গত মে মাসে করেছিলেন ২২৬। আগের কীর্তিটি ছিল দলের বর্তমান ব্যাটিং কোচ গ্রাহাম গুচের।

চুক্তিপত্র পাঠানো হয়েছে নতুন ফুটবল কোচকে

বাংলাদেশে আসার আগেই রবার্ট রুবচিচের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলছে বাফুফে। ই-মেইলে এই ক্রোয়েশিয়ান কোচের কাছে চুক্তিপত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দু-একদিনেই তিনি সেটিতে স্বাক্ষর করে পাঠাবেন। আপাতত এক মাসের ছুটিসহ চুক্তিটি এক বছরের। তারপর নতুন ফুটবল কোচকে ঢাকায় আসার বিমানের টিকিট পাঠানো হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে ১০-১২ দিনের মধ্যে বাফুফের ‘প্রধান কোচ’ চলে আসছেন তাঁর নতুন কর্মস্থলে, যেখানে টেকনিক্যাল ডাইরেক্টরের অলিখিত দায়িত্বও থাকবে এই কোচের ওপর।
ক্রুসিয়ানি, ডিডো, জর্জেভিচদের উত্তরসূরি মনোনয়নের কাজটা বেশ কয়েক দিন আগেই সম্পন্ন করেছে বাফুফে। কাল বাফুফে জরুরি কমিটির সভায় তা অনুমোদিত হয়েছে। নতুন কোচের সঙ্গে পারিশ্রমিক নিয়ে দর-কষাকষি চলছিল, শেষ পর্যন্ত বছরে ৫০ হাজার ডলারে তাঁকে রাজি করানো গেছে।

চেলসি ম্যানইউ আর্সেনালের জয়

প্রথম দুই ম্যাচে ছয় ছয় ১২ গোল। তৃতীয় ম্যাচে গোলসংখ্যায় ছয়ের ধারা বজায় না থাকলেও জয়ের ধারা ধরে রেখেছে চেলসি। গতকাল তারা স্টোক সিটিকে হারিয়েছে ২-০ গোলে। জয় পেয়েছে আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও। গার্নাররা ২-১ গোলে ব্লাকবার্ন রোভার্সকে এবং ম্যানইউ ওয়েস্ট হামকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে।

বায়ার্নের হার দ্বিতীয় ম্যাচেই

বুন্দেসলিগার সবচেয়ে সফল দল তারা। গত মৌসুমে ‘ডাবল’ জয়ের কীর্তি গড়েছে। কিন্তু এ মৌসুমে লিগের দ্বিতীয় সপ্তাহেই হোঁচট খেল বায়ার্ন মিউনিখ। বায়ার্ন তাদের দ্বিতীয় লিগ ম্যাচে কাইজারস্লটার্নের কাছে ০-২ গোলে হেরে গেছে।
এ বছরই দ্বিতীয় বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বুন্দেসলিগায় জায়গা পাওয়া একটি দলের কাছে বায়ার্নের হেরে যাওয়াটা বিস্ময়ের। এটা আবার বুন্দেসলিগার পয়েন্ট তালিকায়ও একটা বিস্ময় উপহার দিয়েছে। পরশু বুন্দেসলিগার পয়েন্ট তালিকার ওপরের অংশের চেহারাটা একটু হয়তো অচেনাই লেগেছে সবার কাছে। এদিন পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে ছিল কাইজারস্লটার্ন।
কাইজারস্লটার্নের পরাশক্তি-বধের আনন্দে কিছুটা দুঃখ মিশেছে ম্যাচের ইনজুরি সময়ে। দুই হলুদ কার্ড নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের ক্রোয়েশিয়ান স্ট্রাইকার ইলিসেভিচকে। এই ইলিসেভিচই ৩৬ মিনিটে করেছেন প্রথম গোল, কয়েক সেকেন্ড পর তাঁরই ফাইনাল পাসে দ্বিতীয় গোল করেছেন সারদিয়ান লাকিচ। তবে কাইজারস্লটার্নের ম্যাচ-পরবর্তী উৎসবকে এটা খুব বেশি প্রভাবিত করতে পারেনি। ‘আমরা বায়ার্নের মতো একটা দলকে হারিয়েছি। কোনো কিছুই এর উৎসবে প্রভাব ফেলতে পারে না’—বলেছেন লাল কার্ড দেখা ইলিসেভিচ।
বায়ার্ন অবশ্য পরাজয়টা মানতেই পারছে না। পুরো ম্যাচে ভালো খেলে হেরে যাওয়াটা কেই-বা মানতে পারে? জার্মান ডিফেন্ডার ও অধিনায়ক ফিলিপ লাম বলেছেন, ‘পুরো ৯০ মিনিট আমরা ভালো খেলেছি। গোলের সুযোগও তৈরি করেছি। কিন্তু হেরে গেলাম। যে হারটা আমাদের প্রাপ্য নয়।’ কোচ লুই ফন গল দায়ী করেছেন স্ট্রাইকারদের বাজে ফিনিশিংকে। বিশ্বকাপের সোনার জুতাজয়ী টমাস মুলার নষ্ট করেছেন সহজতম সুযোগ। সুযোগ অপচয় করেছেন মিরোস্লাভ ক্লোসাও। পুরোনো দলের বিপক্ষে নিজেকে ফিরে পেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো স্নায়ুর পরীক্ষায় উতরাতে পারেননি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা!
বায়ার্ন যেমন বুন্দেসলিগার, লিভারপুল তেমনই ইংলিশ লিগের সর্বোচ্চ শিরোপা জেতা দল (রেকর্ডটা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে যৌথভাবে)। বায়ার্নের মতো লিভারপুলের শুরুটাও খুব একটা ভালো হয়নি লিগে। প্রথম ম্যাচেই নিজেদের মাঠে জয়ের অবস্থানে থেকেও আর্সেনালের সঙ্গে ড্র করেছে তারা। পরের ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হেরেছে। আজ ওয়েস্টব্রমের সঙ্গে ম্যাচ তাদের। এই ম্যাচ দিয়েই বাজে অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় লিভারপুল।
এদিকে কাল শুরু হয়েছে পৃথিবী জোড়া ফুটবল-অনুরাগীদের প্রতীক্ষিত স্প্যানিশ লিগ। শুরুর দিনে গতবারের চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপদের কেউ মাঠে নামেনি। তারা মাঠে নামছে আজ। রিয়াল মাদ্রিদ যাচ্ছে রিয়াল মায়োর্কার মাঠে। আর বার্সেলোনা খেলবে রেসিং সান্তান্দারের মাঠে।

ব্রাসেলসেও গে-রাজত্ব

১০০ মিটারে আবারও জিতলেন টাইসন গে। আগের দুটি মিটের মতো উসাইন বোল্টের অনুপস্থিতিতে ডায়মন্ড লিগ অ্যাথলেটিকসের ব্রাসেলস মিটে জিতলেন ৯.৭৯ সেকেন্ড সময় করে। ট্র্যাকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে গে এই দাবিটা প্রতিষ্ঠা করলেন, ১০০ মিটারে তিনিই মৌসুম-সেরা (২০১০)।
তবে ব্রাসেলসের ট্র্যাকে তাঁর শুরুটা ভালো হয়নি। সবাই ভেবেছিল ফলস স্টার্ট করেছেন; যা থেকে ডিসকোয়ালিফাইডও হতে পারতেন। দ্রুতগতির ট্র্যাক, বাতাসও ছিল অনুকূলে। শুরুর বিভীষিকায় না পড়লে হয়তো নিজের সেরা ৯.৬৯ টাইমিংকেও ছাপিয়ে যেতে পারতেন। এই না পারার জন্য আক্ষেপ নেই গের, তবে মেনে নিচ্ছেন দৌড়টা আশানুরূপ ভালো হয়নি, ‘সময় নিয়ে আমি একরকম খুশিই, কিন্তু দৌড়টা নিয়ে নয়। কারণ শুরুটা আমি কাজে লাগাতে পারিনি। ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্সের লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছিলাম। ট্র্যাক দ্রুতগতিরও ছিল কিন্তু সুবিধাটা নিতে পারিনি।’
ফলস স্টার্ট করেননি, এমনটা দাবি করে গে বলছেন, ‘আমার মনে হয়, অন্য কারও বক্স ফসকেছিল, কিন্তু ক্যামেরা ফোকাস করতে লাগল কেবল আমাকেই। এটা আমার মনে কিছুটা ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল, মনোযোগও কিছুটা সরিয়ে দিয়েছিল।’ তবে শেষটা ভালো হওয়ায় সন্তুষ্ট গে, ‘শেষ ৩০ মিটার যেভাবে দৌড়েছি তাতে আমি খুশিই।’
১৪ মিটের ডায়মন্ড লিগ অ্যাথলেটিকসের শেষের তিনটিতে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ বোল্টকে না পাওয়ায় হতাশ নন গে। স্টকহোমে বোল্টকে হারিয়ে শিরোপা জেতা গে বলছেন, ‘আবহাওয়া, সময় ও ইনজুরির কারণে কে কে ট্র্যাকে থাকবে, সেটা আপনি আগে থেকেই বলতে পারেন না।’ বোল্ট ও আরেক জ্যামাইকান আসাফা পাওয়েল না থাকলেও ট্র্যাকে গের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দুই জ্যামাইকান। ৯.৮৫ সেকেন্ড টাইমিং করে দ্বিতীয় হয়েছেন নেস্টার কার্টার, তৃতীয় ইয়োহান ব্লেক (৯.৯১)।
গের সাফল্যের দিনে ব্যর্থ কাস্টার সেমেনিয়া। লিঙ্গ-বিতর্কের ঝড় শেষে গত মাসে ট্র্যাকে ফেরা দক্ষিণ আফ্রিকান এই অ্যাথলেট ডায়মন্ড লিগে নিজের অভিষেকে মহিলাদের ৮ মিটারে তৃতীয় হয়েছেন ১ মিনিট ৫৯.৬৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে। প্রথম হয়েছেন কেনিয়ার জানেথ জেপকসগেই, টাইমিং ১: ৫৮.৮২।

জিমিকে ছাড়াই হকি দলের জার্মানি-যাত্রা



জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ডের সুবাদে গতবছর প্রথম বাংলাদেশের হকি খেলোয়াড়রা ইউরোপের ক্লাবে খেলার সুযোগ পায়। উদ্দেশ্য, ইউরোপীয় হকির সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং নিজেদের হকির মান বাড়ানো। সেই উদ্দেশ্য কতটা সার্থক হয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে আজ আবার জার্মানি রওনা হচ্ছেন বাংলাদেশের ১৭ জন হকি খেলোয়াড়।
যদিও শুরুতে ১৮ জন খেলোয়াড়ের যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাবার অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন রাসেল মাহমুদ জিমি। হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার জামিলউদ্দিন জানিয়েছেন, জিমির বদলি কাউকে জার্মানি পাঠানো হচ্ছে না। কারণ তাঁদের আশা, সাত-আট দিনের মধ্যে জিমিও দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন।
যেতে চান জিমিও। কিন্তু ঘরে তাঁর অসুস্থ বাবা, সাবেক হকি তারকা ও কোচ আব্দুর রাজ্জাককে (সোনা মিয়া) রেখে যেতে মন সায় দিচ্ছে না, ‘বাবার শরীরটা আরও খারাপ হয়েছে। ডাক্তাররা কী বলেন, সেটা দেখি। ভারতেও নিয়ে যেতে হতে পারে। এই অবস্থার একটু উন্নতি না হলে বাবাকে ফেলে কীভাবে যাই!’
খেলোয়াড়দের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া—সব দায়িত্বই আমন্ত্রণকারী ক্লাবের বহন করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ সময়ে গেরহার্ড নাকি জানিয়েছেন, যাতায়াতের টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। এমন সময়ে ফেডারেশনের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে গুলশান ক্লাব।
গুলশান ক্লাবের প্রেসিডেন্ট রুবেল আজিজ ক্লাবের পক্ষ থেকে ফেডারেশনকে ১৮টি ফিরতি টিকিট দিয়েছেন।

পাঁচে পাঁচ হলো না ইন্টারের

বন্ধু সার্জিও আগুয়েরোকে একটা লম্বা ধন্যবাদ দিতেই পারেন লিওনেল মেসি। আগুয়েরো আর তাঁর দল যে মেসির বার্সেলোনার একটা কীর্তি অটুট রাখার নিশ্চয়তা এনে দিল পরশু। মোনাকোয় উয়েফা সুপার কাপে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ২-০ গোলে হারাল ইন্টার মিলানকে। নিশ্চিত হলো, এক বছরে ছয়টি শিরোপা জেতা হচ্ছে না ইতালির ক্লাবটির, ইতিহাসের প্রথম ক্লাব হিসেবে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা যে কীর্তি গড়েছিল ২০০৯ সালে।
চ্যাম্পিয়নস লিগ আর ইউরোপা লিগের দুই চ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি হয় এই সুপার কাপে। তাতে ‘বড় চ্যাম্পিয়ন’ ইন্টার পাত্তা পেল না ‘ছোট চ্যাম্পিয়ন’ অ্যাটলেটিকোর কাছে। ৬২ মিনিটে হোসে রেইয়েস এগিয়ে দেন মাদ্রিদের ক্লাবটিকে। ২০ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আগুয়েরো। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে একটা পেনাল্টি পেয়েছিল ইন্টার। কিন্তু সদ্যই উয়েফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার পাওয়া ডিয়েগো মিলিতোর শট অ্যাটলেটিকোর গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন। ফলে সান্ত্বনার গোলটিও পায়নি রাফা বেনিতেজের দল। হোসে মরিনহোর উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম কোনো ম্যাচ হারলেন বেনিতেজ।
ম্যাচের প্রথম আধঘণ্টা অবশ্য ইন্টারই দাপট দেখিয়েছে। এর মধ্যে সহজ একটা সুযোগও নষ্ট করেছে তারা। ওয়েসলি স্নাইডারের কর্নার জায়গামতো খুঁজে নিয়েছিল একদম অরক্ষিত দাঁড়িয়ে থাকা ওয়াল্টার স্যামুয়েলকে। কিন্তু ইন্টার ডিফেন্ডার সুযোগটা অপচয় করেছেন। নিষ্প্রভ ছিলেন আরেক আর্জেন্টাইন মিলিতোও। কিন্তু অ্যাটলেটিকোর আগুয়েরো বেশ কিছু ঝলক দেখিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, খামোখা তাঁর পিছে ছোটেনি চেলসি। ম্যারাডোনার জামাইও অবশ্য শেষ পর্যন্ত বল জালে জড়াতে পারছিলেন না। ইউরোপের দুই পর্যায়ের টুর্নামেন্টের দুই চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি লড়াইটা প্রথমার্ধ শেষ হয়েছিল নিষ্প্রাণ গোলশূন্য ড্রয়ে।
ম্যাচের লাগামটা আর মুঠোয় পুরে নিতে না পারার মূল্য হিসেবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটাই হেরে বসল এ বছর চারটি শিরোপা জেতা ইন্টার। এই ম্যাচ কি সতর্কবার্তাও দিয়ে গেল লিভারপুল ছেড়ে এই মৌসুমেই ইন্টারে আসা বেনিতেজকে? স্প্যানিশ এই কোচ জানালেন, মরিনহোর ছায়া থেকে দলটাকে বের করে নিতে সময় লাগবে। পরাজয়ের কারণ হিসেবে দায়ী করলেন ক্লান্তিকেও।
ছয়টি না হোক, এক বছরে প্রধান পাঁচটি শিরোপা জেতার সুযোগ কিন্তু ইন্টারের সামনে থেকে যাচ্ছে। এ বছর ডিসেম্বরে আরব আমিরাতে বসবে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের সপ্তম আসর।

ভারতকে গুঁড়িয়ে শ্রীলঙ্কাই চ্যাম্পিয়ন

কদিন আগে টেস্ট সিরিজের সেরা হয়ে একটা গাড়ি পেয়েছিলেন বীরেন্দর শেবাগ। কাল ওয়ানডে সিরিজের সেরা হয়েও আরেকটি পেলেন। নিজের গ্যারেজটাকে মোটরগাড়ি দিয়েই হয়তো ভরিয়ে ফেলবেন ভারতের বিস্ফোরক ওপেনার। কিন্তু একই সঙ্গে মনের মধ্যে একটা শূন্যতারও মালা গাঁথতে থাকবেন। আরেকটা টুর্নামেন্টের ফাইনালেও ভারতকে জেতাতে পারলেন না।
গত জুনে ডাম্বুলার এই রনগিরি স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল ভারত। ‘ফাইনালে ওঠার দল’-এর পরিচয় ঘুচিয়ে তাদের চ্যাম্পিয়ন দলে পরিণত হওয়ার চেষ্টাটা হয়তো গতি পেতে পারত এখান থেকেই। জয় যেমন একটা অভ্যাসের ব্যাপার, চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাও তা-ই। কিন্তু শ্রীলঙ্কা এবার তাদের চ্যাম্পিয়ন হতে দিল না। কাল ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে সব বিভাগে ভারতকে নাস্তানাবুদ করে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাই হলো চ্যাম্পিয়ন। এ টুর্নামেন্টে আগের দুই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ২০০ ও শ্রীলঙ্কার কাছে ৮ উইকেটে হারা ভারত চ্যাম্পিয়ন হলে সেটি হতো অঘটন। শ্রীলঙ্কা অঘটন ঘটতে দেয়নি। ওপেনার তিলকরত্নে দিলশানের সেঞ্চুরি (১১০), অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারার ৭১ রান ও মাহেলা জয়াবর্ধনের ৩৯ রানের সুবাদে ৮ উইকেটে ২৯৯ রান তুলেছিল শ্রীলঙ্কা। এই মাঠের তৃতীয় সর্বোচ্চ এ ইনিংসেই জয়ের গ্যারান্টি পেয়ে যায় সাঙ্গাকারার দল। এত বড় রান টপকে জেতাটা সহজসাধ্য নয়। ফর্মে থাকা একমাত্র ব্যাটসম্যান শেবাগের আরেকটা সেঞ্চুরি হলে সম্ভব ছিল। কিন্তু টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানের মালিকের বারকয়েক রানআউট হওয়ার চেষ্টাটা ‘সফল’ হয় ৩৮ রানের মাথায়, যখন তাঁর রান ২৮। তখনই আসলে ম্যাচটা তার ভাগ্য লিখে ফেলেছে। কিন্তু তার পরও তা ‘কী হয় কী হয়’ উত্তেজনা কিছুক্ষণ ছড়াল বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না ও মহেন্দ্র সিং ধোনির কল্যাণে। ভারত ৪৬.৫ ওভারে ২২৫ রানে অলআউট হয়ে ৭৪ রানে হারের পর অবশ্য বলতে হচ্ছে, ম্যাচটা উত্তেজনা ছড়াতে চেয়েছিল আরকি! জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ৭৪ রান হলে তো আদতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়নি। আসলেও তা-ই। প্রথমে ব্যাটিং, তারপর বোলিং ও ফিল্ডিং দিয়ে পুরোটা ম্যাচে ছড়ি ঘুরিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। মাপা লাইন-লেন্থে বল করে শেবাগ, কোহলি, যুবরাজ, রায়নাদের জায়গাই দেননি মালিঙ্গা, কুলাসেকারা, থিসারা পেরেরা, সুরাজ রণদিভরা। শেষের দুজন নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট। অফস্পিনার রণদিভ শেষ লড়াইয়ের শিখা ধোনিকে (৬৭) বোল্ড করে গুটিয়ে দিয়েছেন ভারতের ইনিংস। একেবারে আদর্শ সমাপ্তি। এই রণদিভের একটা নো বলকে কেন্দ্র করে শ্রীলঙ্কাকে যতটা মনঃকষ্ট সইতে হয়েছে, তার যেন একটা প্রতীকী জবাব এই মুহূর্তটি।
ম্যাচের আগে ভারত থেকে দলের জন্য শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন খোদ শচীন টেন্ডুলকার। কিন্তু এই সিরিজে এর আগে ৮৮, ১০৩ আর ২২৩ রানে অলআউট হওয়া ভারত কতদূর আর যেতে পারত! গেল সামর্থ্যের সর্বোচ্চ সীমা ২২৫ রান পর্যন্ত। টেন্ডুলকারের শুভেচ্ছা রাতারাতি বদলে দিতে পারল না ধোনির ওয়ানডে দলকে।

প্রথম
এটি দিলশানের অষ্টম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। কিন্তু দেশের মাটিতে এই প্রথম।

সূচি অনুযায়ী চতুর্থ দিনের খেলা চলবে: আইসিসি

নতুন লজ্জায় পাকিস্তান ক্রিকেট। জুয়াড়িদের হয়ে খেলার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার এ ঘটনা ফাঁস হওয়ায় আজ রোববার ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে চলতি টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে কি না, এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) জানিয়ে দিয়েছে, সূচি অনুযায়ী চতুর্থ দিনের খেলা চলবে।
আইসিসির এক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, ম্যাচ পাতানোর সন্দেহে একজন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে দলের কোনো ক্রিকেটার বা কর্মকর্তাকে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়নি। রোববার সূচি অনুযায়ী চতুর্থ দিনের খেলা চলবে। বিষয়টি এখন পুলিশের হাতে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এটি এখন পুলিশি তদন্তের বিষয়। আইসিসি, ইসিবি, পিসিবি বা গ্রাউন্ড কর্তৃপক্ষ এমসিসি—এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারবে না।