Sunday, August 3, 2014
সংঘাত নয়, সমঝোতাই প্রত্যাশিত by বদিউল আলম মজুমদার
এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হুমকিতে নাগরিকেরা উদ্বিগ্ন। কারণ, বিরোধী দল রাস্তায় নামলে সরকারি দল তা প্রতিহত করার চেষ্টা করবে। এ কাজে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করবে। সাম্প্রতিক সময়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির ঘরোয়া বৈঠকও সরকার করতে দেয়নি। এমনকি রাস্তায়ও তাদের দাঁড়াতে দেয়নি। তাই অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় যে বিরোধী দল শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি দিলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা ছত্রভঙ্গ করে দেবে। আর বিরোধী দল হরতাল-অবরোধ ডাকলে সরকার তা কঠোরভাবে দমন করবে। নিঃসন্দেহে এর ফলে সহিংসতার সৃষ্টি হবে। এর পরিণতিতে জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হবে। তাই শান্তিপ্রিয় নাগরিক হিসেবে আমরা রাজপথে আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা চাই না।
আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলের শক্তির মূল উৎস হলো রাজপথে তাদের সহিংসতা সৃষ্টির ক্ষমতা। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার। গত দুই দশকের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্রমবর্ধমান দলীয়করণের কারণে এখন ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে বল প্রয়োগের বৈধ সরকারি ক্ষমতা অবৈধভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা সম্ভবপর হচ্ছে। ফলে পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই এখন দলীয় ক্যাডারদের পরিবর্তে বিরোধী দলের দমন-পীড়নে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাই হয়তো সরকারি দল এখন নিজেদের অপ্রতিরোধ্য ভাবতে শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুবিধা হলো যে তাদের হামলা-মামলা দুই কাজেই ব্যবহার করা যায়, যা ক্রমবর্ধমান হারে ঘটছে।
আমাদের জানমালের নিরাপত্তার খাতিরে বিরোধী জোটকে রাজপথে সহিংসতা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করব। অনুরোধ করব তাদের কর্মকাণ্ড যেন অশান্তি সৃষ্টি ও জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না করে। কিন্তু বিরোধী জোট আন্দোলন থেকে বিরত থাকলেই আমাদের বিরাজমান বিরোধের, বিশেষত নির্বাচন নিয়ে বিরোধের অবসান হবে না। বরং তাতে সমস্যা আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেবে, যা আমাদের এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বর্তমান রাজনৈতিক বিরোধের মূল কারণ গত ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন, যে নির্বাচনে ১৫৩ সাংসদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘নির্বাচিত’ হয়েছেন এবং এসব নির্বাচনী এলাকায় বসবাসকারী ৫২ শতাংশ ভোটার তাঁদের ভোট প্রদানের মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক কালে উচ্চ আদালত ভোটাধিকারকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এ ছাড়া ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৪১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে মাত্র ১২টি অর্থাৎ ২৯ শতাংশ দল অংশ নিয়েছে। ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের ব্যালট বইয়ের মুড়ি গুনে তৈরি হিসাব অনুযায়ী, ১৪৭ আসনের নির্বাচনে ৩০ শতাংশ বা সার্বিকভাবে তথা ৩০০ আসনের বিপরীতে ১৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচন ঘিরে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটেছে। অর্থাৎ ব্যাপক গণ-আন্দোলনের মুখে এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে, ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের কলঙ্কজনক নির্বাচন ছাড়া, যে নির্বাচনের ফলাফল স্থায়িত্ব অর্জন করেনি—মোটামুটিভাবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদানের যে ঐতিহ্য গড়ে উঠেছিল, ৫ জানুয়ারি তা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ে। ফলে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেওয়ার যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল, তা বিনষ্ট হয়ে গেছে। এটাই বর্তমান রাজনৈতিক বিরোধের মূল উৎস।
প্রসঙ্গত, বর্তমান রাজনৈতিক বিরোধ শুধু আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই বিরাজ করছে না, দেশের বিরাট জনগোষ্ঠীও এ বিরোধের অংশ। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষও ‘ভাত ও ভোটের’ অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিদার আওয়ামী লীগকেই ৫ জানুয়ারির কারসাজিমূলক নির্বাচনের জন্য দায়ী করছে।ভোটাধিকার-বঞ্চিত এই বিরাট জনগোষ্ঠী ক্ষুব্ধ, কিন্তু তাদের অনেকেই চায় না আন্দোলনের মাধ্যমে শান্তিশৃঙ্খলার অবনতি ঘটুক এবং তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হোক। এ ছাড়া এদের অনেকের কাছেই বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা নেই। তঁারা মনে করেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অপকর্মের মধ্যে তেমন তফাত নেই; বরং আওয়ামী লীগের বর্তমান অপশাসন বিএনপির অতীতের অপশাসনের ধারাবাহিকতারই ফসল।তদুপরি জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির আঁতাত, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে তাদের দোদুল্যমানতা এবং দলে পরিবারতন্ত্রের প্রভাবও বহু গণতন্ত্রকামী নাগরিককে বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করেছে। উপরন্তু অনেকের মতে, অদূর ভবিষ্যতে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই জাতির জন্য একটি সর্ব-রোগ-হর মহৌষধ নয়। তঁারা বিরাজমান সমস্যার একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান চান। তঁারা চান কতগুলো সুদূরপ্রসারী সংস্কার। আওয়ামী লীগের ‘দিনবদলের’ অঙ্গীকারে প্রলুব্ধ হয়ে তঁারা প্রতারিত হয়েছেন, কিন্তু তঁারা বিএনপির ব্যাপারেও চরমভাবে সন্দিহান। কারণ, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে কী করবে, সে ব্যাপারে বিএনপি সম্পূর্ণ নিশ্চুপ।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এবং সরকারের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ নাগরিকদের অধিকাংশের অনীহার কারণে বিএনপি আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমানে হয়তো রাজপথে পরাস্ত করতে পারবে না। তবে এ জন্য আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগীরা যদি মনে করে যে তারা অপ্রতিরোধ্য, তাহলে তারা ভুল করবে বলেই আমাদের ধারণা। কারণ, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের ‘জন্মই’ শুধু বিতর্কিত নয়, তাদের গত ছয় মাসের ‘কর্মও’ হতাশাব্যঞ্জক।
অতীতের দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন, সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মহোৎসব এখন যেন নতুন উদ্যমে অব্যাহত রয়েছে। এ মহোৎসব ভবিষ্যতেও চলমান থাকলে সরকারের জনপ্রিয়তা আরও কমবে এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকারকে ক্রমাগতভাবে বলপ্রয়োগ এবং নাগরিকের অধিকার হরণ করতে হবে, যার আলামত ইতিমধ্যেই আমরা লক্ষ করছি।ব্যক্তিতন্ত্র, সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং সত্যিকারের বিরোধী দলবিহীন রাজনৈতিক অঙ্গন সরকারের বাড়াবাড়ি করার ক্ষমতাকে এখন যেন অনেকটা সীমাহীন করে তুলেছে। তবে পৃথিবীর ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে কোনো দেশেই কোনো সরকার বল প্রয়োগ করে চিরকাল ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। তাই বর্তমানে বাংলাদেশে একটি সম্ভাব্য অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
অস্থিতিশীল পরিস্থিতির আরেকটি কারণও রয়েছে। সরকারি দলের নেতারা বারবার বলছেন যে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র সুসংহত হয়েছে—যদিও সরকারের সমর্থকদের কারও কারও মতে এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে ‘গণতান্ত্রিক একনায়কত্ব’ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছে। তবে আমরা মনে করি যে সাম্প্রতিক তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একধরনের ‘টক্সিক’ বা ‘বিষাক্ত গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
একটি রাষ্ট্রের কার্যকারিতা নির্ভর করে কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও পদ্ধতির কার্যকারিতার ওপর। আমাদের এক সাবেক প্রধান বিচারপতির মতে, আমাদের বিচারাঙ্গনে ইতিমধ্যেই প্রলয় ঘটেছে। আমাদের নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দলীয় ক্যাডারের মতো আচরণ করছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনও এখন পর্যন্ত তাদের নিরপেক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে পারেনি। এদিকে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা খর্ব করার পাঁয়তারা চলছে। এসব প্রতিষ্ঠান আরও কার্যকারিতা হারালে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হতে বাধ্য। এটা অনেকটা আগুন নিয়ে খেলা, যা পুরো জাতির জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এমনি পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের কাছে আমাদের নিবেদন থাকবে, তারা যেন সহিংস আন্দোলন থেকে বিরত থাকে। একই সঙ্গে সরকারি দলের কাছে আবেদন থাকবে, তারা যেন বিরাজমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সংলাপের আয়োজন করে, যাতে বিবদমান বিষয়গুলোর ব্যাপারে সমঝোতায় পৌঁছা যায় এবং সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধান হয়।
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনীতিতে রাজনীতি কোথায়? by শান্তনু মজুমদার
সামরিক শাসকেরা বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে রাজনীতিকে নেই করে দেওয়ায় বিপুল সাফল্য দেখিয়েছিলেন। নব্বই-পরবর্তী সংসদীয় গণতান্ত্রিক আমলে পুরোনো বুদ্ধিজীবীদের স্থলাভিষিক্ত হওয়া সুশীল সমাজের একাংশ এই ধারাটিকে জ্ঞাতসারে অথবা অজ্ঞাতে বেশ পুষ্ট করছেন। মূলধারার রাজনীতির একটি অংশের ওপরে ক্রোধবর্ষণ করতে গিয়ে এঁরা রাজনীতি শব্দটিকেই ঘৃণিত করে তুলছেন; আর রাজনীতিকমাত্রই খারাপ, এ ধরনের একটা ধারণা নিরন্তর নির্মাণ করে চলেছেন। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বদৌলতে এই ধারণা সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে। এঁদের সঙ্গে আছেন শিক্ষিত মধ্যবিত্তের সেই অংশটি, যাঁরা তাঁদের সন্তানের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের মাটিতে দেখতে এতটুকু প্রস্তুত নন। খারাপ রাজনীতিকের কাছ থেকে খারাপ-খারাপ সুযোগ নেওয়া (কথার কথা, অন্যায় প্রমোশন-পোস্টিং ব্যবসা) এই অংশটি সুযোগ পেলেই রাজনীতিক ও রাজনীতিকে গালাগাল করে এবং অন্যদেরও একই কর্ম করতে শেখায়। নিজের সন্তানকে শেখায় সবার আগে। এসব নেতিবাচকতার নিট-ফল হচ্ছে খুব রাজনীতিবিমুখ, রাজনীতিবিরোধী আত্মকেন্দ্রিক ভোগসর্বস্ব একটি তরুণ সম্প্রদায়, যাদের চোখের ভাষা পড়লে ভয় লাগে। রাজনীতিতে ‘মেধাবীদের’ প্রবেশে রাস্তা বন্ধ থাকা নিয়েও আহাজারি ও ক্রোধ করতে দেখা যায় রাজনীতি ঘৃণাকারীদের। ‘মেধাবী’ বলতে কী বোঝানো হয় কে জানে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি আসনের জন্য ৬০-৭০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। যারা ভর্তি হয়, তারা কি ‘মেধাবী’ নয়? তাহলে এই ‘মেধাবীদের’ মধ্যে মূলধারার রাজনীতিতে আসা অনেকেই কীভাবে বখে যায়? মেধার অভাবে মূলধারার রাজনীতির এই দশা এমন সরল সমীকরণ বিরক্তির উদ্রেক করে মাত্র; কাজের কাজ কিছু হয় না। আর রাজনীতির ময়দানে গোলাপ ফুল ছিটিয়ে রাখা হবে আর মেধাবীরা এসে রাজনীতি করে ধন্য করে দেবে, এমন হাস্যকর কথা আমাদের দেশেই সম্ভবত বলা হয়। আসলে তথাকথিত ‘মেধা’ নয়, দরকার কমিটেড রাজনৈতিক কর্মী।
এখন কাজের কাজ হচ্ছে, রাজনীতিতে রাজনীতি ফিরিয়ে আনা। তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ করা; রাজনীতিক মাত্রই খারাপ, এ রকম একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ধারণা না দেওয়া। তা না হলে রাজনীতির নামে কোন্দল, উপদলে-উপদলে হানাহানি, সিন্ডিকেটবাজি, সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদী তৎপরতা চলতেই থাকবে। বিএনপি সরকার ফেলে দিতে চায়, তাতে সাধারণ মানুষের কী? নির্বাচনের অসংগতি এতটুকু স্বীকার না করার আওয়ামী অবস্থানে সাধারণ মানুষের স্বার্থ কোথায়?
শান্তনু মজুমদার: রাজৈনতিক বিশ্লেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অনশনের মানুষ ও ক্ষমতার বিকার by আনু মুহাম্মদ
অন্যদিকে জনগণের জীবন চলেছে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা, যানজট, দ্রব্যমূল্য, খুন, গুম, ক্রসফায়ার, রিমান্ড, চাঁদাবাজি, ছিনতাই নিয়ে আতঙ্কে-উদ্বেগে। সরকারের এখন একচেটিয়া ক্ষমতা। বিরোধী দল নেই, সুতরাং দখল, চাঁদাবাজি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলেরই বিভিন্ন গ্রুপের মরণপণ সংঘাত চলছে দেশের নানা প্রান্তে। সরকারের নানা সিদ্ধান্তও চলছে একতরফা। সুন্দরবন ধ্বংসের নানা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। বিশাল সমুদ্রসম্পদ জনগণের স্বার্থে ব্যবহারের জন্য জাতীয় সক্ষমতা বিকাশে অতীতেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, এখনো সে রকম কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
অথচ ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির পর যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রাশিয়া ও চীনের কোম্পানিগুলোর লবিস্টদের প্রচার-প্রচারণার তৎপরতা বেড়েছে। সরকারের লোকজন তাদের সুরেই কথা বলছে। জ্বালানি খাতে দুর্নীতি ও ভুল নীতি নিয়ে কোনো প্রশ্ন যাতে কেউ না তুলতে পারে, কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া যায়, তার জন্য সরকার আবারও দায়মুক্তি আইনের মেয়াদ আরও চার বছর বৃদ্ধি করছে। পরীক্ষায় দুর্নীতি, নিয়োগ-বাণিজ্য, সন্ত্রাস—সবকিছুতেই সরকারের অস্বীকারের প্রবণতাও এখন আরও বেড়েছে।
পোশাকশ্রমিকসহ অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষের কাজ ও মজুরি নিয়ে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাহীনতা তো বরাবরের বিষয়। এর চরম চেহারা দেখা গেছে তোবা গ্রুপে। বিশ্বকাপের জার্সির কাজ পেয়েছিল এই গ্রুপের কয়েকটি কারখানা। শ্রমিকেরা কাজও করেছেন। মজুরি বকেয়া থাকায় এর আগেও শ্রমিকেরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে আবার কাজে যোগও দিয়েছেন। গত ১৭ মে তোবা ফ্যাশনসের কারখানার ম্যানেজার তাঁর স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে শ্রমিকদের গত এপ্রিল মাসের বেতন ২০ মের মধ্যে এবং মে মাসের বেতন ১০ জুনের মধ্যে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু মে মাসের বেতন আবার বকেয়া হয়।
২৬ জুন তোবা গ্রুপের পাঁচটি কারখানার পরিস্থিতি নিয়ে বিজিএমইএর প্রতিনিধিসহ তাদের অডিটরিয়ামে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী মে মাসের মজুরি ৩ জুলাই, জুন মাসের মজুরি ১৫ জুলাই, ঈদ বোনাস ও জুলাই মাসের ১৫ দিনের মজুরি ২৬ জুলাই দেওয়ার কথা। এই চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকেরা ২৭ জুন থেকে আবারও বিপুল উদ্যমে কাজ শুরু করেন। কিন্তু এবারও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হয়। এর মধ্যে অর্ডারের সব কাজ শেষ হয়, সেগুলো বিশ্বকাপের আনন্দ বৃদ্ধি করে। আর তখনই মালিকপক্ষ জানায়, তাদের টাকা নেই। ব্যবসা হয় ৬০ কোটি টাকার, চার কোটি টাকার মজুরি দেওয়ার টাকার আকাল! মালিক, বিজিএমইএ ও সরকারের যৌথ প্রযোজনার নির্মম খেলায় বলি হন শ্রমিকেরাই। যে ছুটির সময় স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা, সে সময় তাঁদের থাকতে হলো অনশনে। পোশাকমালিকদের রক্ষার জন্য আছে শিল্প পুলিশ। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তাদের পাওনা অধিকার থেকে যখন বঞ্চিত হয়, তখন তাই সরকারের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।
এখনো রানা প্লাজায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। নীতিমালাও হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে শ্রমিকদের সহায়তার নামে তোলা ১০০ কোটি টাকার ওপর এখনো পড়ে আছে। এর মধ্যে বিজিএমইএ সরকারের কাছ থেকে তিন হাজার কোটি টাকার বাড়তি সুবিধা আদায় করেছে, মার্কিন সরকার সাত হাজার কোটি টাকার শুল্ক আদায় করেছে, ব্র্যান্ডগুলো তাদের মুনাফা আরও বাড়িয়েছে। আর শ্রমিকদের জন্য ঈদের ‘উৎসব’ গেল রানা প্লাজায় বিপর্যস্ত কয়েক হাজার পরিবারের সঙ্গে মজুরি ও বোনাস না পাওয়া অসংখ্য শ্রমিকের আহাজারি ও ক্ষোভ নিয়ে।
আমাদের দেশে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে এত উৎসাহ, এত উচ্ছ্বাস, এত পতাকাযুদ্ধ! কিন্তু নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য সারা দেশের খেলার মাঠ দখলমুক্ত করার দাবি ওঠে না ঠিকমতো। এত উচ্ছ্বাস জার্সি নিয়ে, অথচ সেই জার্সি সেলাই করেন যে শ্রমিকেরা, তাঁদের মজুরি যে মাসের পর মাস অনাদায়ি থাকে, সে বিষয়ে সমাজে মনোযোগ দেখা যায় না।
উন্নয়নের ঢাকঢোল পিটিয়ে নদী, বন, মাঠসহ দেশের সম্পদ দখল ও বিনাশ করে দেশি-বিদেশি গোষ্ঠী। অথচ এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য চিন্তা ও শ্রমে সারা সমাজে এখনো অনেক আলস্য।নিজেদের স্বার্থ নিয়ে এই অমনোযোগ আর নিষ্ক্রিয়তার ফাঁকেই তৈরি হয় ক্ষমতাবানদের ক্ষমতার ক্যারিকেচার।কৃত্রিম গলাবাজি আর স্বার্থের ঐক্যের রাজনীতির ডিগবাজি।
আনু মুহাম্মদ: অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
anu@juniv.edu
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তোবা শ্রমিকের অনশন- এ কেমন দেশ হলো আমাদের? by ফারুক ওয়াসিফ
উচ্চ আদালতের অবকাশকালীন বেঞ্চ থেকে দেলোয়ার হোসেন জামিন নেন ঈদের আগের কার্যদিবসের শেষ দিনে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, যেদিন এই জামিনের শুনানি চলছে, সেদিন আদালতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল উপস্থিত ছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর দায়িত্ব ছিল এই চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামির জামিনে আইনানুগ বাধা দেওয়া। সেটাই নিয়ম। ক্রিমিনাল মামলার জামিনের শুনানি করতে হলে আগে সরকারপক্ষকে জানানো বাধ্যতামূলক। সুতরাং যা ঘটেছে সরকারের গোচরেই ঘটেছে।
তাজরীন ফ্যাশনসে ১১১ জন শ্রমিকের পুড়ে মৃত্যুর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরই তৈরি করা তদন্ত কমিটি দেলোয়ার হোসেনকে আটক করার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু ধাক্কা-তত্ত্বের জনক তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই সুপারিশ আমলে নেননি। তা হলেও নিহতদের আত্মীয়রা লোকটির বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত সেই মামলা আমলে নেন এবং একপর্যায়ে তাজরীন ফ্যাশনসের মালিক দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। আশা ছিল, বিচার হবে।
এর মধ্যে ঈদ এল। যে শ্রমিকেরা ছুটি পান না, ঈদ তাঁদের জন্য আনন্দের খনি। যাঁরা মাসের পর মাস পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকেন, ঈদই তাঁদের সঙ্গে মেলার সুযোগ। ঈদ তাঁদের উৎসব-বিলাস না, অতিপ্রয়োজনীয়। যাঁরা সারা বছর ঋণ করেন, ছেলেমেয়েদের ভালো কিছু দিতে পারেন না, ঈদের বোনাসে তাঁরা ঋণ শোধ করেন, ভালোমন্দ খান ও পুত্রকন্যা-ভাইবোনদের নতুন জামা পরান। তোবা গ্রুপ শুধু শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন ও ঈদের বোনাসই আটকে দেয়নি, ঈদের ছুটিটাকেও জিম্মি করেছে। অথচ বেতনের টোপ দিয়ে তিন মাস কাজ করিয়ে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা ইতিমধ্যে করা সারা। অতি পরিশ্রমে শ্রমিকের ঘাম আজকাল শুকায় না, তাই ঘাম শুকানোর আগেই মজুরি দেওয়ার ধর্মীয় বিধানও কেউ মানে না!
ঈদের দিন থেকে আজ পর্যন্ত ষোলো শ শ্রমিক জীবনের দাবিতে অনশন করছেন। এ পথে তাঁদের ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এটা তাঁদের সেলফ ডিফেন্স, আত্মরক্ষার হাতিয়ার। এই ষোলো শ শ্রমিক যখন অনশন করছেন, তখন প্রধানমন্ত্রী ঈদ সংবর্ধনা নিচ্ছেন ও দিচ্ছেন। একের পর এক শ্রমিকেরা অসুস্থ হয়ে যখন হাসপাতালে যাচ্ছেন, তখন শ্রম প্রতিমন্ত্রী গ্রামের বাড়িতে ঈদ করছিলেন। এত কিছু যখন ঘটছে, তখন বিজিএমইএর সভাপতি কানাডানিবাসী পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে গেছেন। অনেক মালিকই তখন থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ইত্যাদি দেশে বেড়াতে গেছেন। তাঁদের অনেকেরই ঈদের বাজার দেশে হয় না, বিদেশে হয়।
এহেন দেশের শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক শ্রমিকের কান্না শুনতে পান না। তিনি শুনেছেন তাজরীনের মালিক দেলোয়ার হোসেনের ডাক। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘তোবা গ্রুপের মালিক দেলোয়ার হোসেনের জামিন হয়েছে। আশা করছি, আগামী রোববার-সোমবারের মধ্যে তিনি যদি মুক্ত হয়ে আসেন, তাহলে সমস্যাটা সমাধান হয়ে যাবে।’ আরও বলেছেন, ‘আমার দৃঢ়বিশ্বাস, রোববার-সোমবারের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন নিশ্চয়ই মুক্ত হবেন।’ পাঠক খেয়াল করেন, এটা তাঁর ‘আশা’ এবং শত শত মানুষের মৃত্যুর দায়ে বিচারাধীন আসামির জামিন হওয়ায় তাঁর দৃঢ়বিশ্বাস। এরপর শ্রম মন্ত্রণালয়ের নাম হওয়া উচিত মালিক কল্যাণ মন্ত্রণালয়। কখনো এই মন্ত্রণালয় শ্রমিকের কাজে আসে না।
প্রথম আলোর ওই সংবাদে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘বিজিএমইএ ও তোবা গ্রুপের কর্মকর্তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, ঈদের আগেই শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করবেন। তবে খুবই দুঃখজনক, আজকে পর্যন্ত পাওনা পরিশোধ হয়নি।’ পাওনা পরিশোধ করেনি, আবার জামিনও দেওয়া হলো। মালিকদের জন্য তাঁর অপার আশা, অপরাধীর প্রতি তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস।তাই বলতে পারেন, ‘জেল থেকে বেরিয়ে আসলেই শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা হবে। আর যদি না করেন, তবে সরকারপক্ষ থেকে যে সমস্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সবই করা হবে। এ ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত সজাগ।’ তিন মাসের বেতন আটকে রাখার পরও আপনারা ব্যবস্থা নেননি। ঈদের আগে বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পরও আপনি তাঁদের বিরুদ্ধে আঙুল নড়াননি। এখন বলছেন, ‘সরকার অত্যন্ত সজাগ’!!! জি, মালিকদের বাঁচাতে তাঁদের অঢেল মুনাফা নিশ্চিত করতে মন্ত্রী মহোদয় সজাগ বটে।
তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন লাগানোর সময় কোনো অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা কাজ করেনি। আগুনের তাপে ছটফট করা শত শত শ্রমিককে আটকে রাখা কলাপসিবল গেটের তালা কেউ খুলে দেয়নি। অথচ দেলোয়ার হোসেনের জন্য জেলের তালা খোলার ব্যবস্থা হলো। রানা প্লাজার কুখ্যাত রানা একের পর এক মামলায় জামিন পাচ্ছেন। তাঁর বেলায় আইন কাজ করছে না, কিন্তু শ্রমিকদের আন্দোলন দমাতে আইনের হাত পুলিশ অত্যন্ত কঠোর। রানা প্লাজায় সরকারিভাবে বারো শ, বেসরকারিভাবে দুই হাজারের ওপর শ্রমিকের মৃত্যুর পরও অনুশোচনা জাগেনি যাঁদের মনে, তাঁরা মানুষ নন। তাঁরা হলো মুনাফা মেশিন। এই মেশিনের একদিকে মানুষ ঢোকে, অন্যদিকে বের হয় মুনাফার ঢল। নিচে, উচ্ছিষ্ট হিসেবে পড়ে থাকে শ্রমজীবী মানুষের ঘাম-রক্ত-লাশ।
ডুবন্ত বিপন্ন মানুষের জন্য একটিও লাইফবোট নেই। নেই আইনের জীবনবিমা। নেই আস্থার সনদ। এবং নেই আশা। এ দেশে গডফাদার আর মুনাফামত্তরাই শুধু আশাবাদী। এ কেমন দেশ হলো আমাদের?
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
bagharu@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেন বারবার লক্ষ্যবস্তু গাজা?
![]() |
| ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকায় প্রতিদিন হতাহত হচ্ছে অনেক শিশু। গতকাল আহত এক শিশুকে রাফা শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ছবি: এএফপি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেড়ে নিয়েছে শিশুর প্রাণ -যুদ্ধবিরতি ভেঙে হামলা জোরদার

গাজার রাজনৈতিক নিয়ন্তা হামাসও থেমে নেই। ইসরায়েলের দিকে তারাও রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে। তবে সেসব হামলায় প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে এ রকম একটি নাজুক পরিস্থিতিতে মার্কিন কংগ্রেস ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘আয়রন ডোমে’র জন্য ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তহবিল অনুমোদন করেছে। আয়রন ডোমের সাহায্যে ইসরায়েল হামাসের ছোড়া রকেট আকাশেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতার যুক্তি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ইতিমধ্যে সে দেশেই মজুত মার্কিন সমর উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। খবর এএফপি, বিবিসি ও আল-জাজিরার।
গত ৭ জুলাই থেকে চলা ইসরায়েলের এ অভিযানে গাজা উপত্যকায় এ পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৬৫০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় নয় হাজার। হতাহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই সাধারণ মানুষ। পক্ষান্তরে ইসরায়েল ৬৬ জনকে হারিয়েছে; যাঁদের মধ্যে ৬৩ জনই সেনাসদস্য।
জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল আটটায় আরেক দফা মানবিক যুদ্ধবিরতিতে যায় ইসরায়েল ও হামাস। কিন্তু ঘণ্টা দুয়েক যেতে না-যেতেই গাজার দক্ষিণে রাফা শহরে ফের আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামাসের চোরাগোপ্তা হামলায় তাদের দুজন সেনা নিহত হওয়া ছাড়াও এক সেনা অপহৃত হয়েছে। তবে হামাস এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, কথিত অপহৃত সেনাটি সংঘর্ষে নিহত হয়ে থাকতে পারে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, রাফা শহরে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো শুরু হয়। গতকাল সকালেও তা অব্যাহত ছিল। হামলায় গাজা শহরে অবস্থিত ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই হামলার ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ইমতিয়াজ তায়েব বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন হামলা চালানো হলো, তা স্পষ্ট নয়। তবে গাজার পরিস্থিতি কতটা অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এ ঘটনা এটাই প্রমাণ করে।’
দুই পক্ষকে ওবামার আহ্বান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ‘নিখোঁজ’ ইসরায়েলি সেনার ‘নিঃশর্ত’ মুক্তি দাবি করেছেন। পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন, গাজার বেসামরিক লোকজনকে রক্ষায় ইসরায়েলকে আরও অনেক পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিকে ইসরায়েলের এ অভিযানকে ‘বোকামি’ ও ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাজ্যের জোট সরকারের অংশীদার লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টির সাবেক নেতা লর্ড অ্যাশডাউন। তিনি উভয় পক্ষকে সহিংসতার পথ ছেড়ে শান্তি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। অ্যাশডাউন বলেন, ‘বিশ্বের সেরা ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা হাতে থাকার পরও সামরিক অভিযান শুরু করা ইসরায়েলের জন্য বোকামি হয়েছে।’ পাশাপাশি সাবেক ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রক্ষণশীল দলের এমপি পিটার লাফ প্রধানমন্ত্রীকে চলমান গাজা-সংকটের বিষয়ে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে ক্ষমতাসীন দলটির আরও কয়েকজন এমপি অনুরূপ আহ্বান জানিয়েছেন।
অস্ত্রবিরতির আহ্বান মিসরের: দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি গতকাল বলেছেন, মিসরের অস্ত্রবিরতি পরিকল্পনাই গাজায় সংঘাত নিরসনের ‘সুবর্ণ সুযোগ’ হতে পারে। তিনি এই অস্ত্রবিরতি পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘এটাই উপযুক্ত সময়। ফিলিস্তিনে রক্তপাত বন্ধে ও গাজার আগুন নেভাতে আমাদের দ্রুত এর সুবিধা নিতে হবে।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তিনটি যুদ্ধ দেখেছে গাজার ছয় বছরের শিশুরাও
![]() |
| হাসপাতালে চিকিৎসকদের এক টেবিলে যন্ত্রণাকাতর তিন শিশু। গাজার রাফা শহরের আল-নজর হাসপাতালে গতকাল চিকিৎসা দেওয়া হয় ইসরায়েলি হামলায় আহত শিশুদের। এএফপি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেড়ে নিয়েছে শিশুর প্রাণ -যুদ্ধবিরতি ভেঙে হামলা জোরদার

গাজার রাজনৈতিক নিয়ন্তা হামাসও থেমে নেই। ইসরায়েলের দিকে তারাও রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে। তবে সেসব হামলায় প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে এ রকম একটি নাজুক পরিস্থিতিতে মার্কিন কংগ্রেস ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘আয়রন ডোমে’র জন্য ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তহবিল অনুমোদন করেছে। আয়রন ডোমের সাহায্যে ইসরায়েল হামাসের ছোড়া রকেট আকাশেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতার যুক্তি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ইতিমধ্যে সে দেশেই মজুত মার্কিন সমর উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। খবর এএফপি, বিবিসি ও আল-জাজিরার।
গত ৭ জুলাই থেকে চলা ইসরায়েলের এ অভিযানে গাজা উপত্যকায় এ পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৬৫০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় নয় হাজার। হতাহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই সাধারণ মানুষ। পক্ষান্তরে ইসরায়েল ৬৬ জনকে হারিয়েছে; যাঁদের মধ্যে ৬৩ জনই সেনাসদস্য।
জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল আটটায় আরেক দফা মানবিক যুদ্ধবিরতিতে যায় ইসরায়েল ও হামাস। কিন্তু ঘণ্টা দুয়েক যেতে না-যেতেই গাজার দক্ষিণে রাফা শহরে ফের আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামাসের চোরাগোপ্তা হামলায় তাদের দুজন সেনা নিহত হওয়া ছাড়াও এক সেনা অপহৃত হয়েছে। তবে হামাস এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, কথিত অপহৃত সেনাটি সংঘর্ষে নিহত হয়ে থাকতে পারে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, রাফা শহরে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো শুরু হয়। গতকাল সকালেও তা অব্যাহত ছিল। হামলায় গাজা শহরে অবস্থিত ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই হামলার ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ইমতিয়াজ তায়েব বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন হামলা চালানো হলো, তা স্পষ্ট নয়। তবে গাজার পরিস্থিতি কতটা অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এ ঘটনা এটাই প্রমাণ করে।’
দুই পক্ষকে ওবামার আহ্বান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ‘নিখোঁজ’ ইসরায়েলি সেনার ‘নিঃশর্ত’ মুক্তি দাবি করেছেন। পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন, গাজার বেসামরিক লোকজনকে রক্ষায় ইসরায়েলকে আরও অনেক পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিকে ইসরায়েলের এ অভিযানকে ‘বোকামি’ ও ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাজ্যের জোট সরকারের অংশীদার লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টির সাবেক নেতা লর্ড অ্যাশডাউন। তিনি উভয় পক্ষকে সহিংসতার পথ ছেড়ে শান্তি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। অ্যাশডাউন বলেন, ‘বিশ্বের সেরা ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা হাতে থাকার পরও সামরিক অভিযান শুরু করা ইসরায়েলের জন্য বোকামি হয়েছে।’ পাশাপাশি সাবেক ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রক্ষণশীল দলের এমপি পিটার লাফ প্রধানমন্ত্রীকে চলমান গাজা-সংকটের বিষয়ে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে ক্ষমতাসীন দলটির আরও কয়েকজন এমপি অনুরূপ আহ্বান জানিয়েছেন।
অস্ত্রবিরতির আহ্বান মিসরের: দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি গতকাল বলেছেন, মিসরের অস্ত্রবিরতি পরিকল্পনাই গাজায় সংঘাত নিরসনের ‘সুবর্ণ সুযোগ’ হতে পারে। তিনি এই অস্ত্রবিরতি পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘এটাই উপযুক্ত সময়। ফিলিস্তিনে রক্তপাত বন্ধে ও গাজার আগুন নেভাতে আমাদের দ্রুত এর সুবিধা নিতে হবে।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একতরফা প্রেমে নার্গিস ফকরি

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এরশাদের নাটক

মতবিনিময় সভায় এরশাদ যা বলেন: শনিবার দুপুরে বনানীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এরশাদ বলেন, যে সরকার জনগণের নিরাপত্তা দিতে পারে না, সুশাসন দিতে পারে না সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। দেশের মানুষ দুই দলকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। সরকারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে জাতীয় পার্টি রাস্তায় নামবে। তিনি বলেন, মানুষ এখন পরিবর্তন চায়, স্বস্তিতে থাকতে চায়, বাঁচতে চায়, নির্ভয়ে নিঃশ্বাস ফেলতে চায়। তিনি বলেন, কত মানুষ নিরুদ্দেশ। ছেলে-মেয়েরা তাদের জন্য অপেক্ষায়। তারা ফিরে আসবে কিনা, তা কেউ জানে না। কে কখন কাকে তুলে নিয়ে যাবে তা-ও কেউ জানে না। এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমরাও সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নামবো। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হলে গণতন্ত্রের মূল্য থাকবে না। মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করছে। দখলদারী, দুঃশাসন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের কারণে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। মানুষ এ থেকে পরিত্রাণ চায়। দু’টি দল জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাদের ক্ষমতায় থাকা এবং ক্ষমতায় যাওয়ার কোন অধিকার নেই। বিএনপির মতো পেট্রল দিয়ে মানুষ মেরে বা জ্বালাও-পোড়াও করে আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না। আমাদের আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ। সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ বলেন, পেট্রল দিয়ে মানুষ মেরে ক্ষমতায় যাওয়া যায় না। আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে। এজন্যই এখন মানুষ বিএনপিকে দেখতে পারে না। তবে মানুষ পরিবর্তন চায়। তিনি বলেন, নতুন করে আমাদের সংগঠিত হতে হবে। অতীতে কি হয়েছে তা ভুলে যেতে হবে। সময় এসেছে। আমরাও রাস্তায় নামবো। আমরা মানুষকে অনেক দিয়েছি। এবার ক্ষমতায় গিয়ে নিরাপত্তা দেবো। এরশাদ বলেন, আমার বিরুদ্ধেও আন্দোলন হয়েছে। তবে সারা দেশে হয়নি। আন্দোলন হয়েছে শুধুমাত্র ঢাকায়। হাতে রক্ত লাগিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া যায় না। আমরা কাকে মারবো? ওরা তো আমাদেরই ভাই, সন্তান। এরশাদ দুঃখ করে বলেন, এখন নিঃশ্বাস নেয়ার মতো অবস্থা নেই। মুখেই সংসদীয় গণতন্ত্র। মানুষ এ থেকে বাঁচতে চায়। আমরা সুশাসন দিয়েছিলাম। আর এই সরকারের সময় ! ব্যাংক থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে। এই লুটপাটের কারণেও সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে এরশাদ বলেন, সরকারের ব্যর্থতা এলাকায় গিয়ে তুলে ধরতে হবে। খুন, গুম, দলীয়করণ আর দখল ছাড়া কিছুই নেই সরকারের। এ ভাবে দেশ চলতে পারে না। মানুষকে এসব বলতে হবে। আগামীতে আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই। আমাদের লক্ষ্য ১৫১ আসন। এই জন্য দল গোছাতে হবে। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। সভায় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ, শরীয়তপুর জেলা জাতীয় পার্টি নেতা এডভোকেট মাসুদুর রহমান ও জাফর খান কামাল বক্তব্য রাখেন। এ সময় পার্টির প্রেসডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, দফতর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন শিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
August
(332)
-
▼
Aug 03
(10)
- সংঘাত নয়, সমঝোতাই প্রত্যাশিত by বদিউল আলম মজুমদার
- রাজনীতিতে রাজনীতি কোথায়? by শান্তনু মজুমদার
- অনশনের মানুষ ও ক্ষমতার বিকার by আনু মুহাম্মদ
- তোবা শ্রমিকের অনশন- এ কেমন দেশ হলো আমাদের? by ফা...
- কেন বারবার লক্ষ্যবস্তু গাজা?
- কেড়ে নিয়েছে শিশুর প্রাণ -যুদ্ধবিরতি ভেঙে হামলা জো...
- তিনটি যুদ্ধ দেখেছে গাজার ছয় বছরের শিশুরাও
- কেড়ে নিয়েছে শিশুর প্রাণ -যুদ্ধবিরতি ভেঙে হামলা জো...
- একতরফা প্রেমে নার্গিস ফকরি
- এরশাদের নাটক
-
▼
Aug 03
(10)
-
▼
August
(332)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

