Friday, May 31, 2019

তিন কিশোরের হাতে সহপাঠী খুন!

ফারদিন আলম রূপক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে তিন কিশোর তাদের এক সহপাঠীকে খুন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ওই তিনজনকে আটক করেছে। কিশোরেরা সবাই চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে দুজন ফল জিপিএ-৫।
নিহত কিশোরের নাম ফারদিন আলম ওরফে রূপক (১৬)। শুক্রবার দুপুরে পৌর শহরের বঙ্গবন্ধু সরণি সড়ক লাগোয়া একটি ভবনের ছাদ থেকে তার গলাকাটা বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রূপককে শুক্রবার রাতে হত্যা করা হয়।
পুলিশ ও রূপকের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রূপক ও অভিযুক্ত কিশোরেরা সবাই শহরের সরকারি কেবি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। এদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি তিনজন চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে নিহত রূপক পায় জিপিএ-৩.৮৯। আর আটক তিন কিশোরের মধ্যে একজন নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। অপর দুজন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পায়।
আটক কিশোরেরা পুলিশ ও গণমাধ্যমকরীদের ঘটনার বিবরণ দেয়। তাদের ভাষ্য, চাকরির জন্য টাকা লাগে। তাই তারা ভবিষ্যতের জন্য টাকা জোগাড় করতে চাচ্ছিল। একপর্যায়ে বন্ধুকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে তারা। তবে অপহরণের পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই হত্যা করে ফেলে। পুরো ঘটনা ঘটাতে তাদের ৩০ মিনিটের মতো সময় লেগেছে।
আটক কিশোরেরা আরও জানায়, জিপিএ-৫ পাওয়া দুই বন্ধু ‘পার্টি’ দেবে—এ কথা বলে তারা রূপককে মুঠোফোনে ডেকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, আটক কিশোরদের দুজনের পরিবার একই ভবনে থাকে। নিহত ও আটক কিশোরদের সবার পরিবারই অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। নিহত রূপকের বাবার নাম নূরে আলম বিপ্লব। তিনি পেশায় রড-সিমেন্টের ব্যবসায়ী। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে রূপক বড়। তাদের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার গৌরীপুর গ্রামে। পরিবার নিয়ে তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে ভৈরব শহরের টিনপট্টি এলাকায় বসবাস করছেন।
রূপকের চাচা সজীব আহমেদ বলেন, শুক্রবার রাত ৯টা ২১ মিনিট পর্যন্ত রূপকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সচল ছিল। সাড়ে দশটার পর ফোন বন্ধ হয়ে যায়। পরে সকালে একই ভবনে বসবাসরত দুই কিশোরের কাছে রূপকের সন্ধান চাওয়া হয়। তখন তারা বলে, রাতে তাদের সঙ্গে রূপকের দেখা হয়েছিল। তিনি জানান, কথা বলার সময় ওই দুই কিশোরের চেহারায় সন্দেহের ছাপ পাওয়া যায়।
আটক এক কিশোরের চাচা প্রথম আলোকে বলেন, সকালে ভাতিজাকে দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসার একপর্যায়ে সে রূপক হত্যার কথা স্বীকার করে। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।
ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বাহালুল আলম খান জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আটক তিন কিশোর রূপক হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। নিহত কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। তাদের থানায় রাখা হয়েছে। শনিবার আদালতে পাঠানো হবে।

বিশ্বকাপে ব্যতিক্রমী বাংলার ‘বাঘ’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সুপারফ্যান শোয়েব আলী (৩১)। তিনি ঢাকায় একজন কার মেকানিক। খুব বেশি আয় নয় তার। কিন্তু স্বপ্ন তার বিশাল। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যেখানে, সেখানেই হাজির শোয়েব আলী। তিনি সারা শরীরে বাঘের শরীরের আদলে পেইন্ট করেন। মুখও বাদ যায় না। এ জন্য খ্যাতি পেয়েছেন।
সবাই তাকে এখন মডেল হিসেবে চেনেন। বাংলাদেশের ম্যাচের সময় টাইগাররা যখন মাঠের মধ্যে রণে লিপ্ত, তখন গ্যারারিতে হুঙ্কার ছাড়েন শোয়েব, যেন সুন্দরবনের বাঘ গর্জন করছে। তার এই নেশা মেটাতে গিয়ে অনেক সময় তাকে আহত হতে হয়েছে। উৎকোচ দিতে হয়েছে। সর্বোপরি তিনি সারাজীবনে যা সঞ্চয় করেছেন, তার সবটা খরচ করে দিতে কার্পণ্য করেন না। তাতে শোয়েব আলীর কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি টাইগারদের খেলা দেখেন মাঠে বসে। তাদের উৎসাহ দেন, যেন বাংলাদেশকে উজ্জীবিত করেন।
তিনি মানেন খেলায় উত্থান-পতন আছে। জয় পরাজয় আছে। তাই বলে ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে তিনি থাকবেন না, তাই কী হয়! নিজেকে স্থির করেছেন। এই বিশ্বকাপেও তিনি ফিকচারে নিজেকে হাজির করছেন, যেখানে রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশে।
বাংলাদেশি ফাস্ট বোলার শাহাদত হোসেনের গাড়ি মেরামত করে দিয়েছেন শোয়েব আলী। ওই শাহাদতই তার ক্রিকেট নেশা দেখে প্রথম খেলার একটি টিকেট দিয়েছেন শোয়েবকে। বিষয়টিকে ল্যান্ডমার্ক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
এর আগে এশিয়া কাপে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে যদিও শচীন টেন্ডুলকর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শততম সেঞ্চুরি করেছিলেন। এ বিষয়ে শোয়েব বলেন, ওই ম্যাচে বাংলাদেশ জেতার পর আমি গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে আনন্দ ধরে রাখতে পারিনি। অবিরাম কেঁদেছি। আনন্দেও মানুষ কাঁদে সেই প্রথম অনুভব করলাম। ওই সময় আমি ভারতীয় বিখ্যাত ফ্যান সুধীর গৌতমকে দেখতে পাই। তার শরীর ভারতের জাতীয় পতাকায় রাঙানো। তাকে ভারতের ম্যাচ হলেই সারা বিশ্বে দেখা যায়। তাকে দেখে আমিও সেদিন সিদ্ধান্ত নিলাম, আমিও তার মতো হবো। বাংলাদেশ যেখানেই খেলুক আমি সেখানে হাজির থাকবো।
শোয়েব আলী ১৩ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে দেন। তারপর থেকে তিনি দেশে মাত্র একটি খেলা মিস করেছেন। বিদেশে খুব একটা মিস করেননি। ফলে বিষয়টি তার জীবনে নিয়ে আসে এক অ্যাডভেঞ্চার। শোয়েব আলী ২০১৩ সালে প্রথম বিদেশে বাংলাদেশে খেলা উপভোগ করেন। তিনি দেখতে পান শ্রীলঙ্কায় টেস্টে প্রথম পরাজয় ঠেকাতে বাংলাদেশকে। খেলাটি কৃতিত্বপূর্ণ ড্রতে শেষ হয়। ওই ম্যাচের আগে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় আটটি টেস্ট ম্যাচ হেরেছে। এর মধ্যে সাতটি হেরেছে ইনিংসে। ওই ম্যাচ দেখতে তিনি পকেটে মাত্র ২৫০ ডলার নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কা। সেখানে শ্রীলঙ্কান এক ভক্তের সঙ্গে একটি গ্যারেজে ঘুমিয়েছেন বেশ কয়েক রাত। ওই সময় তাকে খাদ্য কেনার জন্য অর্থ দিয়েছিলেন বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা ও কর্মকর্তারা।
কিন্তু বিপর্যয় ঘটে একই বছর জিম্বাবুয়ে সফরের সময়। শোয়েব আলী জিম্বাবুয়ে যাওয়ার সময় তার ভিসা সংক্রান্ত সব ডকুমেন্ট ফেলে যান ঢাকা বিমানবন্দরে। জিম্বাবুয়ের হারারেতে, অভিবাসন বিষয়ক কর্তৃপক্ষ তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তখনই কৌশল অবলম্বন শুরু করেন শোয়েব আলী। কী করেছিলেন ওই মুহূর্তে? শুনুন শোয়েব আলীর জবানিতে, শুধু একটি ফোনকল করার অনুমতি দিতে একজন কর্মকর্তার হাতে ১০ ডলার ঘুষ ধরিয়ে দিলাম। তারপর ফোনে বাংলাদেশ টিমের কর্মকর্তাদের জানালাম আমার অবস্থা। তখন তারা ছিলেন প্রশিক্ষণ মাঠে। প্রতিশ্রুতি দিলেন আমাকে কোনো সাহায্য করতে পারেন কি না। তখন আমার মনে হলো, একজন অসুস্থ মানুষকে অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তারা দেশে ফেরত পাঠাতে পারবে না। আমি দেয়ালের সঙ্গে সজোরে মাথা আঘাত করে পড়ে গেলাম।
এমন অভিনয় করলাম যাতে তারা মনে করে আমি কিছু সময়ের জন্য বেহুঁশ হয়ে গেছি। শোয়েব বলেন, বিমানবন্দরেই একটি রাত কাটালাম। বাংলাদেশি কর্মকর্তারা আমার ডকুমেন্টে আনালেন এবং আমাকে নিয়ে গেলেন হারারে।
এখানেই শেষ নয়। বাংলাদেশি এই ক্রিকেটপাগল ভক্তের আরো আছে কাহিনী। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ খেলা দেখার জন্য তাকে ভিসা দিচ্ছিল না অস্ট্রেলিয়া। তবে এখন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা তাকে খেলা দেখার জন্য স্পন্সর করে। এতে তিনি খুশি। তিনি আশা করেন ইংল্যান্ডে তার উপস্থিতিতে ভালো করবে দল। শোয়েব বলেন, আমি যখন মাঠে খেলা দেখতে যাই, তখন বেশির ভাগ ম্যাচই জেতে বাংলাদেশ। আশা করি, একই রকম সৌভাগ্য তাদের জন্য বহন করতে পারবো বিশ্বকাপ ক্রিকেটে।
নিজের শরীরে, মুখে বাঘের মতো করে পেইন্ট ব্যবহার করার জন্য তার স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে তাকে। তা সত্ত্বেও শোয়েব আলী থামবেন না। তিনি মুখ, শরীরে রঙ লাগিয়ে নিজেকে ‘বাঘ’ বানিয়েই ছাড়বেন। সেই বাঘকে এবারও দেখা যাবে ইংল্যান্ডে। শোয়েব বলেন, অনেক মানুষ আমাকে সতর্ক করেছেন। বলেছেন, এভারে পেইন্ট করানোতে ত্বকের ক্যানসার হবে। কিন্তু তাতে আমি কুচ পরোয়া করি না। আমার দেশের চেয়ে বড়, গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না।

চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত

অবশেষে চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কৃষক পর্যায়ে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। এবার বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হলেও ধানের দাম কম থাকায় চাষের খরচ উঠানো নিয়েই দুশ্চিন্তায় লাখ লাখ কৃষক। এ অবস্থায় কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে ধান-চাল ক্রয় কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি চাল রপ্তানির বিকল্প চিন্তা করে সরকার। যদিও এই মুহূর্তে আফ্রিকার কিছু দেশ ছাড়া বাংলাদেশের চাল রপ্তানির সুযোগ কম। আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম কম থাকায় রপ্তানিতে ভর্তুকি দেয়ারও চিন্তা করা হচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে ঘাটতির কথা বলে চাল আমদানি অব্যাহত রাখায় বাজারে যে বাড়তি মজুত তৈরি হয়েছে এর কারণে কৃষক ধানের দাম পাচ্ছে না। সরকারীভাবে প্রায় ১২ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মনপ্রতি ১০৪০ টাকা। তবে মাঠ পর্যায়ে এখন ধানের দাম রয়েছে সাড়ে চারশ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন এ দামে ধানের উৎপাদন খরচই উঠবে না। এতে ক্ষতির মুখে পড়বে কৃষক।
গতকাল সচিবালয়ে ধানের বাজারমূল্যের বিষয়ে সরকারের নেয়া কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন কৃষিমন্ত্রী। ১০ থেকে ১৫ লাখ টন চাল রপ্তানির সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, রপ্তানির বাজারে যাওয়া কঠিন। তারপরও ভারত, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, কেউ যদি চাল রপ্তানির আবেদন করে, এক-দু’দিনের মধ্যে অনুমতি দেয়া হবে। সব ধরনের চালই রপ্তানির করতে পারবে। চাল রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রণোদনার পরিমাণ বাড়ানো হবে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী আমাদের বলেছেন দরকার হলে তিনি আরও বাড়িয়ে দেবেন। অর্থমন্ত্রী এখন বিদেশে আছেন।
প্রণোদনা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ বা ৩০ শতাংশ দেয়া যেতে পারে। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষককে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ধান কেনা হচ্ছে। আমরা আমদানির ওপর শুল্ক বাড়িয়েছি, চালের আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫৫ শতাংশ করা হয়েছে। আমদানি আর হবে না। গত ২০১৭ সালের চাল আমদানির শুল্ক রেয়াতের পর চাহিদার অতিরিক্ত চাল আমদানি, উৎপাদন বৃদ্ধি ও শ্রমিকের অভাবে এবার ধানের মূল্য কমে গেছে। কৃষি মন্ত্রী বলেন, এবার বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এক কোটি ৯৬ লাখ টন। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আমরা আশাও করিনি এতটা উৎপাদন হবে। তিনি বলেন, রপ্তানি করব এটাও তো একটা বিরাট ম্যাসেজ। রপ্তানি করতে পারলে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটবে। যারা তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে ধান বিক্রি করেছে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারা বড় চাষী তারা ধান ঘরে রেখে দেয়।
চাষীদের সারের উপর আরও কিছু প্রণোদনা দেয়া যায় কি-না তা দেখছি। আর কৃষি যান্ত্রিকীকরণের প্রক্রিয়াকে দ্রুত করতে হবে। সরকার ৩ হাজার কোটি টাকা ইমিডিয়েট যান্ত্রিকীকরণে ব্যয় করবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিটা সবসময়ই অনিশ্চিত। শুধু আমাদের দেশে নয়, ফ্রান্স ও ইউরোপীয় দেশে দেখবেন টমেটো হাইওয়েতে  ঢেলে দিচ্ছে, দুধ ঢেলে দিচ্ছে। পচনশীল পণ্য, উৎপাদন বাড়লে দাম কমে যায়, এটার সমাধান করা যায় না। আমি সেটা বলছি না, আমরা গুদাম করলাম না কেন? বাংলাদেশে সম্পদ সীমিত। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। রাস্তাঘাট করতে হবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের খাদ্যশস্য সংরক্ষণে গুদামের ধারণ ক্ষমতা ২১ লাখ টন। আরও ৮ লাখ টন ধারণ ক্ষমতার গুদাম নির্মাণাধীন। মন্ত্রী জানান, ধানসহ কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের লক্ষ্যে কৃষকের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে ফসলের ক্রয়মূল্য অগ্রিম নির্ধারণ করে মৌসুমের শুরুতেই সরাসরি কৃষক পর্যায় থেকে ধান সংগ্রহসহ এমন বেশকিছু দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
শ্রমিক সঙ্কট নিরসনে কৃষিকাজে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়োগের পরামর্শ দিয়ে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ২০১৭ সালে চাল আমদানির শুল্ক রেয়াতের পর চাহিদার অতিরিক্ত চাল আমদানি, উৎপাদন বৃদ্ধি ও শ্রমিকের অভাবে এবার ধানের মূল্য কমে গেছে। তিনি বলেন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো শ্রমিক পাওয়া যায় না। তিনবেলা খাবারের সঙ্গে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দিয়ে কামলা রাখতে হয়। এ কামলার টাকা দিয়ে কিছুতেই ধান কাটতে পারছে না। অস্বাভাবিকভাবে চাষির উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এর কী সমাধান। কতগুলো পত্রিকায় প্রতিদিনই লেখে, একটি পত্রিকাও আজ পর্যন্ত এর কী সমাধান তা লেখেনি। কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিকাজে কেউ আসতে চায় না। শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা কাজ করে না। কারও কোনো অভাব নেই। তাই কেউ মাঠে যাবে না। কৃষিমন্ত্রী বলেন, ইউরোপের দেশগুলোতে গ্রীষ্মকালে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকে। মূল কারণ হলো এ সময় ছেলেমেয়েরা গিয়ে কাজ করে, তারা মাঠেও কাজ করে। আপনারাও চিন্তা করেন, এ ধরনের চিন্তা আমরা ভবিষ্যতে করব কিনা।

জাকাত ট্র্যাজেডি: চার বছরেও থামেনি স্বজনহারাদের কান্না by আতাউর রহমান জুয়েল

‘মায়ের মুখখানি কত দিন দেখি না। চার বছর কেটে গেছে। কিন্তু একদিনের জন্যও মাকে ভুলে থাকতে পারিনি। আসলে মায়ের অভাব পূরণ হওয়ার নয়। ঈদের আগে-পরের দিনগুলো খুব অসহ্য লাগে। মায়ের অভাবে চোখের জলে ভিজে আসে আমাদের ঈদ।’
কথাগুলো শেষ না হতেই ডুকরে কেঁদে ফেলেন মিতু। চার বছর আগে ময়মনসিংহ মহানগরীর নুরানি জর্দা ফ্যাক্টরির মালিক শামীম তালুকদারের বাসায় জাকাতের কাপড় আনতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মারা যান মিতুর মা খোদেজা খাতুন। এখনও মা হারানোর যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন মিতু।
২০১৫ সালের ১০ জুলাই্ (২৫ রমজান) ভোররাতে নুরানি জর্দা ফ্যাক্টরির মালিক শামীম তালুকদারের বাসায় জাকাতের কাপড় আনতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ২৭ জন নিহত হন। ওই সময় আহত হন আরও অন্তত দুই শতাধিক হতদরিদ্র মানুষ। এ ঘটনায় জর্দা ফ্যাক্টরির মালিক শামীম তালুকদারসহ ৮-১০ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ভাই রাব্বিকে নিয়ে এখনও থানাঘাট বস্তিতেই থাকেন ডেইজি আক্তার মিতু। তিনি জানান, নতুন কাপড়ের আশায় ২৫ রমজান রাতে আরও অনেকের সাথে শামীম তালুকদারের বাসার সামনে অপেক্ষা করছিলেন তার মা। ভোরবেলা বাসার গেট খোলার পর হুড়োহুড়ি করে ঢুকতে গিয়ে পদদলিত হয়ে তার মা মারা যান।
তিনি আরও জানান, তার মা গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সেই আয়েই চলতো তাদের সংসার। মায়ের মৃত্যুর পর তারা অকূল পাথারে পড়েন। তখন কলেজে পড়তেন মিতু। মায়ের মৃত্যুর পর লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার অবস্থা তৈরি হয়েছিল। পরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের একটি প্রকল্পে কাজ পান তিনি। বর্তমানে মিতু আনন্দ মোহন কলেজে রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স করছেন।
মিতু বলেন, ‘এক মুহূর্তের জন্যও মাকে ভুলে থাকতে পারি না। রমজান মাস আসলেই হাহাকারটা আরও বাড়ে। ঈদের দিনগুলো কাটে চোখের জলে।’
তিনি জানান, যখন তিনি ৪র্থ শ্রেণিতে, তখন তার বাবা আব্দুল খালেক তাদের ছেড়ে অন্যত্র চলে যান; নতুন করে বিয়ে করে সংসার বাধেন। মায়ের মৃত্যুর পর অনেক দুর্যোগের মধ্য দিয়ে গেছেন তারা; কিন্তু কেউ কখনও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসেনি।
শুধু মিতু নন; জাকাত ট্র্যাজেডিতে স্বজন হারানো মানুষগুলো এখনও রমজান মাস আসলে নীরবে চোখের জল ফেলেন। ঈদের আগের-পরের দিনগুলো কাটে বুকচাপা কান্না আড়ালের মধ্য দিয়ে।
২০১৫ সালের ১০ জুলাই্ জাকাতের কাপড় আনতে গিয়ে পদদলনে নিহত হন থানাঘাট বস্তির বিদ্যুৎমিস্ত্রি নুর ইসলামের স্ত্রী সখিন খাতুন ও তার দুই বছরের কোলের কন্যা লামিয়া আক্তার। স্ত্রীর মৃত্যুর পর আর বিয়ে করেননি নুর। ছেলে শরিফুল ইসলাম সুপ্তকে (১৫) নিয়ে দিনযাপন করছেন তিনি।
নুর জানান, সারা দিন কাজ শেষে রাতে বাসায় ফিরলেই সখিনা ও লামিয়ার কথা মনে পড়ে তার। ছেলে সুপ্তও তার মায়ের কথা ভুলতে পারেনি। মায়ের কথা মনে পড়লেই একা একা কাঁদে সে।
জাকাত ট্র্যাজেডিতে আহত হন আবুল কালাম। তিনি জানান, রোজা আসলেই সেই দিনের স্মৃতি চোখে ভেসে ওঠে; কিছুতেই তা ভুলে যেতে পারেন না। হতাহতদের সাহায্যে সরকারি কোনও সহায়তা এখনও তারা পাননি বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, জাকাত ট্র্যাজেডির হতাহতদের পরিবারকে সহায়তায় একটি তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। ওই সময় নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল।

ঢাকায় ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীতে। ২৪ ঘণ্টায় ৫ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন। মে মাসেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩০জন। এছাড়া এবছর ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২ জন। চলতি বছরের এই পর্যন্ত ২০৫ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. আয়েশা আক্তার মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন। এডিস মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু জ্বর মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হচ্ছে। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতালে প্রচুর ডেঙ্গু রোগী আসছেন। রাজধানীর ধানমন্ডি সেন্ট্রাল হাসপাতালে ৪০ জন, ইসলামিক ব্যাংক হাসপাতাল কাকরাইলে ২৮ জন, এ্যাপোল হাসপাতালে ২জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন, আদ-দ্বীন মেডিকেল হাসপাতালে ১৪ জন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ১০জন, স্কয়ার হাসপাতালে ১৫ জন, সালাউদ্দিন হাসপাতালে ১১ জন, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন, ইবনে সিনা হাসপাতালে ১৮ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ১১ জন, বিএসএমএমইউতে ৪ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৬ জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ৪ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন।
কন্ট্রোল রুম সূত্র জানা গেছে, জানুয়ারিতে ৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফের্রুয়ারিতে এই সংখ্যা ছিল ১৭, মার্চে ১৩, এপ্রিলে ৪২ এবং ২৯শে মে পর্যন্ত ১৩০ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে ১৩ জন ছাড়া অন্যরা সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেছেন। বেসরকারি হাসপাতালের অথবা প্রাইভেট চেম্বারের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী আসছেন। ভাইরাসজনিত এ জ্বরের ব্যবস্থাপনা এখন জানা আছে বলে চিকিৎসায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ২০০০ সালে ঢাকায় পাঁচ হাজার ৫৫১ ডেঙ্গু রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ওই বছর ৯৩ জন মারা যান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ডেঙ্গু অথবা চিকুনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্তদের আমরা হাসপাতালে ভর্তি করতে চাই না। কারণ এটা ঘরে রেখেই চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। এ সম্বন্ধে এখন মানুষ বেশ সচেতন। জ্বরের রোগী ভর্তি করলে আমরা অন্য গুরুতর রোগীর চিকিৎসা করতে পারব না। অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডেঙ্গু অথবা চিকুনগুনিয়ার প্রায় একই ধরনের চিকিৎসা। কেবল প্যারাসিটামল ছাড়া কোনো ব্যথানাশক অথবা স্টেরয়েড দেয়া যাবে না রোগীকে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু অথবা চিকুনগুনিয়া জ্বরই হোক তা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মশার বিস্তার কমাতে হবে। এডিস মশার দুইটি প্রজাতি এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবুপিকপকটাসের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়াচ্ছেন আবার মানুষ থেকে মশার মাধ্যমে আসছে। পরে মশা থেকে আবার মানুষকে সংক্রমিত করছে। একবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে বার বার ডেঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যান্য মশা ময়লা নোংরা পানিতে বংশ বিস্তার করলেও এডিস মশা এর ব্যতিক্রম, পরিষ্কার পানিতে ডিম ছাড়ে। সহজে চোখে পড়ে না এমন জায়গার পরিষ্কার পানিতে এ মশা ডিম ছাড়ে। ফলে শহরে বিশেষ করে অভিজাত এলাকায় এডিস মশা বেশি দেখা যায়।
ডেঙ্গুর চিকিৎসা সম্বন্ধে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ডেঙ্গুজ্বর হলে প্রচুর পানি পান করতে হবে ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। জ্বর বাড়লে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ অথবা আরো বেশি জ্বর হলে তা কমিয়ে রাখার জন্য সাপোজিটরি ব্যবহার করতে হবে। ডেঙ্গুর চিকিৎসা বাড়িতে রেখেও হতে পারে। বেশি দুর্বল বা শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়লে, নাক ও দাঁত দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকলে হাসপাতালে নেয়াই ভালো। ডেঙ্গুজ্বর সাধারণত ১০ দিনের মধ্যে সেরে যায়। কিন্তু দুর্বলতা আরো কিছু দিন থেকে যেতে পারে। ভাইরাসজনিত জ্বর বলে এর কোনো চিকিৎসা নেই। কেবল লক্ষ্মণ বুঝেই চিকিৎসা দিতে হবে।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুলাহ বলেন, মে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বর হয়ে থাকে। শীতের সময় কমে আসবে। তিনি বলেন, এই সময়ে জ্বর বা গায়ে ব্যথা হলে ডেঙ্গুর কথা মাথায় রাখতে হবে। সাধারণ ডেঙ্গু জ্বর তেমন মারাত্মক রোগ নয়। ডেঙ্গু রোগীর যখন বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের প্রমাণ মেলে (যেমন মাড়ি বা নাক থেকে রক্তক্ষরণ, মলের সঙ্গে রক্তক্ষরণ ইত্যাদি) তখন একে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বলা হয়। অধিক রক্তক্ষরণের ফলে শরীরের জলীয় উপাদান কমে যায়। ডেঙ্গুজ্বর হলে প্রচুর পানি পান করতে হবে ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। জ্বর বাড়লে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ অথবা আরো বেশি জ্বর হলে তা কমিয়ে রাখার জন্য সাপোজিটরি ব্যবহার করতে হবে।
স্থাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ১০ হাজার ১৪৮ জন। মারা গেছে ২৬ জন। ২০১৭ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭৬৯ জন। মারা গেছেন ৮ জন। ২০১৬ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬০৬০ জন, মারা গেছে ১৪ জন। ২০১৫ সালে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ১৬২ জন, মারা গেছে ছয়জন। ২০১৪ সালে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৭৩ জন। কেউ মারে যায়নি। ২০১৩ সালে ১৪৭৮ জন, ২০১২ সালে ১২৮৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ২০১১ সালে ১৩৬২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ২০১০ সালে ৪০৯ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। এই সালে ছয়জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ২০০৯ সালে ৪৭৪ জন, ২০০৮ সালে ১১৫৩ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগী হাসপাতলে আসেন।

গান্ধী পরিবারের রাজনীতির সমাপ্তি? by গীতা পান্ডে

যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভূমিধস বিজয় নিয়ে মহীরূহ হিসেবে আবির্ভূত হলেন, তখন অন্যপ্রান্তে নেহরু-গান্ধী পরিবারের উত্তরাধিকারী ও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত।
গান্ধী পরিবারের প্রধানতম রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী এখন রাহুল। তার প্র-প্রপিতামহ জওহরলাল নেহরু ছিলেন ভারতের প্রথম ও সর্বচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী। রাহুলের দাদি ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। আর তার পিতা রাজীব গান্ধী ছিলেন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী।
২০১৪ সালের নির্বাচনকে যদি কংগ্রেসের সবচেয়ে খারাপ পারফরমেন্স হিসেবে দেখা হয় তাহলে, এবারের নির্বাচনের ফল রাহুল গান্ধীর প্রতি তারই ডাবল আঘাত। এ নির্বাচনে কংগ্রেস বিজয়ী হয়েছে ৫০টির মতো আসন। তার প্রতিপক্ষ মোদির বিজেপি পেয়েছে তিন শতাধিক আসন। যদি তাও তার জন্য বাজে পারফরমেন্স না হয় তাহলে বলা যায়, তিনি উত্তর প্রদেশে পারিবারিক ঘাঁটি আমেথিও হারিয়েছেন। এ আসনে নির্বাচন করে তিনি হেরেছেন।
তারপরও তিনি পার্লামেন্টে একটি আসনে বসতে পারবেন। কারণ, তিনি কেরালায় ওয়ানাদে দ্বিতীয় আসন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন।
কিন্তু আমেথি রাহুল গান্ধীর কাছে ছিল প্রেস্টিজ লড়াই। এটা সেই আসন, যেখান থেকে তার পিতা রাজীব গান্ধী ও মা সোনিয়া গান্ধী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছিলেন। তারপর ১৫ বছর ধরে এই আসন ধরে রেখেছেন রাহুল। এমনকি নির্বাচনের আগে আমেথির প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে ‘মেরা আমেথি পরিবার’ বা আমার আমেথি পরিবার শীর্ষক একটি আবেগময় চিঠি পৌঁছে দিয়েছিলেন রাহুল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি তাদের মনে স্থান পান নি। আমেথির জনগণের কাছে তিনি অপদস্থ হয়েছেন। বিজেপির হাই প্রোফাইল অভিনেত্রী কাম রাজনীতিক স্মৃতি ইরানির কাছে তিনি ধরাশায়ী হয়েছেন।
উত্তর প্রদেশের কেন্দ্রীয় এলাকা। উত্তর প্রদেশ হলো ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য। বলা হয় এ রাজ্যে যিনি বিজয়ী হন তিনিই নাকি ভারত শাসন করেন। ভারতে এ পর্যন্ত যে ১৪ জন প্রধানমন্ত্রী এসেছেন তার মধ্যে রাহুল গান্ধীর প্র-প্রপিতামহ, দাদি ও বাবাসহ আট জনই এই রাজ্যের। এই রাজ্যে সবচেয়ে বেশি এমপি নির্বাচিত হন। ভারতের ৫৪৫ আসনের নিম্নকক্ষে এ রাজ্যে আসন সংখ্যা ৮০। এমনকি নরেন্দ্র মোদি, যিনি এসেছেন গুজরাট থেকে, তিনি পর্যন্ত এমপি হিসেবে তার অভিষেক ঘটনা উত্তর প্রদেশ থেকে ২০১৪ সালে। ওই সময় তিনি প্রাচীন শহর বারানসি থেকে নির্বাচন করেছিলেন।
খুব বেশি মানুষ প্রত্যাশা করেন নি যে, এবার বড় জয় পাবে কংগ্রেস। তবে তারা এটা নিশ্চিত ছিলেন, ২০১৪ সালের তুলনায় এবার কংগ্রেস ভালো করবে। এ জন্যই এবারের নির্বাচনের ফল দলের ভেতরে ও বাইরে সবাইকে হতভম্ব করে দিয়েছে। কংগ্রেস হয়তো এবার পার্লামেন্টে নিস্তেজ হয়ে পড়বে। তবে বহু মানুষের মনে প্রশ্ন- এর অর্থ কি গান্ধী যুগের অবসান? না কি দলের ভাগ্য ফেরানোর জন্য এর শেষ হওয়া উচিত?
কংগ্রেস কি চায়?
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি মোদির কাছে পরাজয় মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনগণ তাদের রায় দিয়েছে এবং তারা বেছে নিয়েছে বিজেপিকে। কংগ্রেস পার্টির পরাজয়ের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নেন। এমন কি তার আসন আমেথিতে তখনো তিন লাখের বেশি ভোট গণনা করার বাকি যখন, তখন তিনি স্মৃতি ইরানির কাছে পরাজয় স্বীকার করে নেন। রাহুল বলেন, আমি তাকে অভিনন্দন জানাই। তিনি বিজয়ী হয়েছেন। এটাই গণতন্ত্র। আমি জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। তবে কংগ্রেসের পারফরমেন্স অথবা এর পরবর্তীতে কংগ্রেসের করণীয় কি হবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। রাহুল বলেন, এসব বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি বৈঠক করবে। সেখানে এসব নিয়ে আলোচনা করা হবে।
রাহুল গান্ধী কংগ্রেস নেতাকর্মীদের, যারা বিজয়ী হয়েছেন এবং যারা পরাজিত হয়েছেন, তাদের সবাইকে আশা না হারানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা কঠোর পরিশ্রম করবো এবং আমরা এরপর বিজয়ী হবো। কিন্তু লক্ষ্ণৌতে কংগ্রেস অফিসের চিত্র ভিন্ন। রাহুল গান্ধী ভবিষ্যতে বিজয়ী হওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাতে দৃশ্যত নেতাকর্মীদের হতাশ দেখা গেছে, তারা টিভির পর্দায় আঠার মতো লেগে ছিলেন। দলীয় বর্ষীয়ান নেতারা যখন একে একে ভূপাতিত হচ্ছিলেন তখন যেন দলের রক্তক্ষরণ দেখছিলেন তারা। দলীয় একজন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা একেবারে নিম্ন পর্যায়ের। আমাদের প্রতিশ্রুতিতে মানুষের আস্থা নেই। আমরা যা বলি তাতে তাদের কোনো বিশ্বাস নেই। নরেন্দ্র মোদি তার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু মানুষ তাকে বিশ্বাস করে এখনো।
কিন্তু এমনটা কেন?
এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরাও তো বুঝতে পারি না কেন!
এখন কংগ্রেসের যে বাজে পারফরমেন্স তাতে অনেক প্রশ্ন উঠবে। তার মধ্যে বড় প্রশ্ন উঠতে পারে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়ে। অনেক বিশ্লেষক এরই মধ্যে দলীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন। তারা চান, রাহুল দলীয় প্রধানের পদ ত্যাগ করুন। কিন্তু অতীতের মতো, এবারো এসব আহ্বান বা ডাক এসেছে দলের বাইরে থেকে। এমন আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে দলের নেতৃত্ব থেকে। এ অবস্থায় রাহুল গান্ধী পদত্যাগ করতে চেয়েছেন বলে দিল্লিজুড়ে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। তবে কংগ্রেসের রাজনীতিক মণি শঙ্কর আইয়ার বিবিসিকে বলেছেন, দলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলবে না কংগ্রেস। যদি রাহুল গান্ধী পদত্যাগ করতে চান তাহলে তা গৃহীত হবে না। তিনি আরো বলেন, দলের এমন পরাজয়ের জন্য নেতৃত্ব দায়ী নয়। এর অন্য কারণ আছে, আমাদেরকে তা খুঁজে বের করতে হবে।
লক্ষ্ণৌতে দলের স্থানীয় একজন মুখপাত্র ব্রিজেন্দ্র কুমার সিং ব্যাখ্যা করেন যে, সমস্যাটা রাহুল গান্ধীর ক্ষমতার মধ্যে নয়। সমস্যা হলো দলের ভেতরে আভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুর্বল নির্বাচনী প্রচারণা। তিনি আরো বলেন, দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে রয়েছে দুর্বলতা। আছে পদ নিয়ে আভ্যন্তরীণ কোন্দল। উত্তর প্রদেশ ও বিহারে আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করা ছিল একটি খারাপ আইডিয়া। কংগ্রেসের কোনো নেতা এখনো পর্যন্ত পরাজয়ের দায় রাহুল গান্ধীর ওপর চাপান নি। তবে তারা এর জন্য দায়ী করেছেন সাংগঠনিক ও নির্বাচনী প্রচারণার কৌশলকে।
ব্যক্তিত্বের প্রতিযোগিতা?
কংগ্রেস বিষয়ক বহু বিশ্লেষক ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেন যে, ব্যক্তিত্বের প্রতিযোগিতায় রাহুল গান্ধী ছিলেন পরাজিত পক্ষে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা ছিলেন ‘ব্রান্ড মোদি’। এ কথা সবাই স্বীকার করেন। ব্রিজেন্দ্র কুমার সিং বলেন, এমন কি প্রধানমন্ত্রী মোদি গত নির্বাচনে দেয়া তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হলেও তিনি মানুষকে তার সরকারের নীতির বিষয়ে আশ্বস্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। মোদির হাতে বিধ্বস্ত হওয়ার মতো এমন ঘটনা রাহুল গান্ধীর কাছে এটাই প্রথম নয়। ২০১৪ সালে তার দল এ যাবৎকালের সবচেয়ে খারাপ ফল করে। তখন কংগ্রেস জেতে মাত্র ৪৪ আসনে।
বেশ কিছু রাজ্যে কংগ্রেস পরাজিত হয়েছেন। দূরে দূরে থাকা এবং নাগালের বাইরে থাকার জন্য রাহুল গান্ধী সমালোচিত হয়েছেন। তাকে সামাজিক যোগাযোগ মিডিয়ায় আনাড়ি, ক্লুহীন নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। নেহরু-গান্ধী পরিবারের সঙ্গে যোগসূত্র থাকায় পারিবারিক রাজত্বের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে রাহুল গান্ধীকে। আর পোড় খাওয়া জীবন থেকে উঠে আসা প্রধানমন্ত্রী মোদি তাই বার বার তাকে খোঁচা মেরেছেন। বলেছেন, রাহুল গান্ধী শীর্ষ পদে উঠে এসেছেন মেধার জোরে নয়। তিনি উঠে এসেছেন পারিবারিক সম্পর্কের জোরে।
ব্যক্তিগত পর্যায়ের আলাপচারিতায় কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা রাহুল গান্ধীকে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তারা বলেন, বিরোধী পক্ষকে ঘায়েল করার বাসনা নেই তার মধ্যে। তাহলে কি এই ব্যর্থতা একজন রাহুল গান্ধীর ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হবে না কি গান্ধী ব্রান্ডের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হবে?
ঐতিহ্যবাহী পরিবারটির নাম সাম্প্রতিক সময়ে তার জেল্লা হারিয়েছে। বিশেষ করে শহরে ভোটার ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী যুবকদের মধ্যে তাদের সেই সুনাম কমে গেছে। এই দুটি শ্রেণির অবদান নেহরু ও ইন্দিরার জন্য ছিল বড় বিষয়। সে বিষয়টি এখন অনেক দূরের অতীত। এখন গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তাদের সেই সংশ্লিষ্টতা নেই। এ শ্রেণিটি ২০০৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসের ক্ষমতার ১০ বছরকে সামনে নিয়ে আসেন তারা। ওই সময় সরকার নানা রকম বিতর্ক ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার নির্বাচনের ফল আবার দেখিয়ে দিলো, কংগ্রেসের প্রতি ভোটারদের আস্থা এখনো অনেক নিম্ন এবং তাদের কাছে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন রাহুল গান্ধী।
গান্ধীর পুনর্জন্ম
দলের এমন অবস্থা হলেও দলীয় মেশিনারি এর জন্য রাহুল গান্ধীকে দায়ী করেন নি অথবা পরাজয়ের জন্য তার নাম উচ্চারণ করেন নি। দলীয় একজন নেতার মতে, রাহুল গান্ধীর হওয়া উচিত একজন ‘অমিত শাহ’। যিনি মোদির জয়কে ত্বরান্বিত করেছেন। প্রথমে গুজরাটে। পরে দিল্লিতে। তবে প্রকাশ্যে কেউ রাহুল গান্ধীকে দায়ী করবেন বলে মনে হয় না। যদি এক্ষেত্রে অতীত হয় নির্দেশক তাহলে তারা তার পিছু ধাবন করবেন।
গত দুই বছরে রাহুল গান্ধীর ক্যারিয়ারের গ্রাফ উন্নত হতে শুরু করেছে। তিনি ছায়ার ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছেন। রাজনৈতিক রূপ ধারণ করেছেন। তার সামাজিক আন্দোলন আগের থেকে স্মার্ট হয়েছে। তিনি কথা বলেছেন, সরকারের বহু বিতর্কিত মুদ্রা বাতিল, কর্মসংস্থানের অভাব, দেশের ভেতর ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা এবং অর্থনীতির ধীরগতি নিয়ে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ প্রচারণায় ছিলেন রাহুল। ডিসেম্বরে রাজস্থান, ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ে নেতৃত্ব দেন তিনি। এতে ধারণা করা হয় তিনি নতুন এজেন্ডা সেট করেছেন এবং দলকে নুতন করে জীবিত করে তুলছেন। এরপর আসে ফেব্রুয়ারি। এ সময়ে তার ক্যারিশমাটিক বোন প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্রকে উত্তর প্রদেশ (পূর্ব) সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত করেন। এর মধ্য দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হয়, গান্ধী পরিবারের এই উত্তরসূরিও অনেক কিছু। প্রিয়াংকাকে অনেকে তার দাদি ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করেন। অনেকে মনে করতে থাকেন প্রিয়াংকা গান্ধী পরিবারের রাজনীতিকে সুরক্ষিত রাখবেন। যেকোনো কারণেই হোক তিনি সেই রাজনীতির শিখা জ্বালিয়ে রাখতে অর্থাৎ রাজনীতিতে পা রাখতে ছিলেন অনিচ্ছুক। এখন রাহুল ও তার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। রাহুলকে সরিয়ে দেয়ার মতো কোনো পরিকল্পনাও নেই তার। তবে তিনি রাহুলকে সমর্থন দিতে আরো বড় ভূমিকা নিতে পারেন।
দিন শেষে এটাকে দেখা হচ্ছে কংগ্রেসের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ব্যর্থতা। দলীয় একজন কর্মকর্তা বীরেন্দ্র মদন বলেছেন, আমাদের মেনিফেস্টো দেখুন। এটাই সেরা। আমরা যে পলিসি ঘোষণা করেছি, যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা সেরা। আমরা ভোটারদের কাছে ভোট প্রত্যাশা করেছিলাম, তাদের সমর্থন প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু তা পাই নি। তিনি বলেন, দিল্লিতে দলীয় নেতারা এবং রাজ্য পর্যায়ের নেতারা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বৈঠক করবেন। তারা বের করবেন ভুলটা কি ছিল। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের ফল যাই হোক নেতৃত্বের পাশে থাকবে না এমন বিষয় নেই পার্টিতে। তার ভাষায়, শুধু রাহুল গান্ধীই নন। আরো অনেক নেতাই বিজয়ী হতে পারেন নি। নির্বাচন আসবে এবং যাবে। কোনোটাতে আপনি জিতবেন। কোনোটাতে হারবেন। ১৯৮৪ সালের কথা স্মরণ করুন। ওই সময় বিজেপি মাত্র দুটি আসন পেয়েছিল। তারা কি ফিরে আসে নি? আমরাও ফিরে আসবো।
(অনলাইন বিবিসিতে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

জিততে হলে আমাদের সেরাটাই দিতে হবে by ইশতিয়াক পারভেজ

কার্ডিফ থেকে প্রস্তুতির মিশন শেষে এখন লন্ডনে বাংলাদেশ দল। লন্ডনের টেমস নদীর কাছে রিভার ব্যাংক হোটেলে উঠেছে মাশরাফি বিন মুর্তজারা। গতকাল কোনো অনুশীলন না থাকায় হোটেল রুমে বিশ্রামে আর ঘুরে ফিরেই সময় কেটেছে তাদের। আর একদিন পরেই ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে টাইগারদের ২২ গজের যুদ্ধের দামামা বাজবে। ওভাল স্টেডিয়ামে টাইগারদের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। আজ আনুষ্ঠানিক অনুশীলনও করবে টাইগাররা। তবে এই ম্যাচকে ঘিরে টাইগারভক্তদের চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
যারা টিকিট সংগ্রহ করতে পারেনি তাদেরও চলছে দৌড়ঝাঁপ।
এ জন্য তারা কালোবাজারি থেকে বেশি দামে টিকিট কিনতেও দ্বিধা করছে না। বিশেষ করে বাঙ্গালী পাড়া খ্যাত ইস্ট লন্ডনের প্রায় সব এলাকাতেই চলছে প্রস্তুতি। স্যাডওয়েল স্টেশন সংলগ্ন প্রায় সব দোকানের মালিকই বাংলাদেশি। এমনকি সেখানে যারা কাজ করেন তারাও। বেশির ভাগ দোকানে ঢুকলেই খেলা নিয়ে প্রশ্ন শুনতেই হবে। কেমন হবে শুরুটা? ভক্ত-সমর্থকদের জন্য অবশ্য দলের তরুণ সদস্য লিটন কুমার দাস জানিয়ে দিলেন উত্তরটা। তিনি বলেন, ‘আসলে যে ভাবে চিন্তা করছি কোন কিছুই সহজ হবে না। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং- বোলিং ভাল। এই কন্ডিশনেও দারুণ অভ্যস্ত। যে কারনে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ থাকবে। আবার এমন নয় যে পারবো না। জিততে হলে আমাদের সেরাটাই দিতে হবে।’
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছিলেন শুরুটা ভালো করতে হবে। এবার নতুন ফরম্যাটে ৯ টি দলের বিপক্ষেই খেলবে টাইগাররা। এরমধ্যে শুরুতেই প্রতিপক্ষ শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকা। তাই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচেই থাকবে জয়ের চাপ। একটি হারলেই পরেরটিতে জয় দিয়ে ফিরতে হবে। নয়তো সেমিফাইনালের স্বপ্ন  হয়ে পড়বে ভীষণ কঠিন। তাই প্রথম ম্যাচ থেকে শেষ পর্যন্ত জয়ের চাপই থাকছে বলে মনে করেন উইকেটকিপার লিটন। তিনি বলেন, ‘জয়ের চাপ সেটি প্রথম ম্যাচ বলেন আর শেষ প্রতিটিতে আছে। আমরা এখানে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই  এসেছি। আর হার-জিত থাকবেই। কিন্তু আমাদের প্রতিটি ম্যাচে থাকবে জয়ের শক্তমানসিকতা।’
অন্যদিকে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট লিটন দাস। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে আমরা একটা ত্রিদেশীয় সিরিজ খেললাম। আমরা এই অনুশীলনটা যদি বাংলাদেশে করতাম তাহলে এত উন্নতি হতো না। আমার কাছে মনে হয় এখানে খেলাতে ভালো হয়েছে, কদিন ক্যাম্পও করেছি। ভারতের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেললাম।’ আয়ারল্যান্ড সিরিজ থেকে শুরু করে প্রস্তুতি ম্যাচ লিটনকে পরীক্ষাই দিতে হয়েছে। কারণ ওপেনিংয়ে তামিম ইককালের সঙ্গে দারুণ অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন সৌম্য সরকার। তাই লিটন প্রথম ম্যাচের একাদশে থাকবে কিনা তা নিয়েও রয়েছে বেশ প্রশ্ন। এ নিয়ে লিটন বলেন, ‘একাদশে খেলার দাবিদার ১৫ জনই। কিন্তু খেলবে তো ১১ জন। অনেক ভালো ভালো খেলোয়াড় অনেক সময় সাইডবেঞ্চে থাকে। দলের যেটায় কাজে আসবে, আর সেই কাজে আসায় আমি যেন থাকি সেই চেষ্টা করব। এতদিন ওপেনিং খেলেছি। যে পজিশনেই দিক চেষ্টা করব ভালো করতে।’ সেই সঙ্গে জানিয়ে দেন সুযোগ পেলে ভালো করার কথাও। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলে তো অবশ্যই ভালো খেলার চেষ্টা করব। সুযোগের অপেক্ষায় থাকব। দলের জন্য যেকোনো কিছুই করতে প্রস্তুুত। টিম ম্যানেজমেন্ট আমাকে যে দায়িত্ব দেবে চেষ্টা করব সেটা পালন করতে।’
ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ হবে ব্যাটসম্যানদের স্বর্গরাজ্য। এখানে ৩০০ এমনকি ৪০০ রান হচ্ছে ৫০ ওভারের ম্যাচে। তবে নিয়মিত ৩’শ স্কোর করা বা তা তাড়া করে জয়ের খুব একটা রেকর্ড নেই টাইগারদের। এ বিষয়টাই হবে দলের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ। তবে লিটন বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘আমরা সবশেষ যে ম্যাচগুলো খেলেছি সবগুলোই ৩০০ এর কাছাকাছি রান করেছি। মনে হয় না এটা ম্যাটার করবে যে ৩০০ বা ৩০০? প্লাস। যদি ৩০০ এর বেশি লক্ষ্য তাড়া করতে হয় আমরা সে লক্ষ্য নিয়েই খেলব। ব্যাটিংয়ে গেলে ওটা মাথায় নিয়ে নামবো।’  অবশ্য তার জন্য উইকেট নিয়ে ভাবতে চান না তিনি। লিটন বলেন, ‘উইেকেট নিয়ে কিছু বলার নেই। ভালো খেললে সবটাই ভালো, খারাপ হলে সবটাই খারাপ।’

উন্নত এশিয়া গড়তে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ ধারণা পেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত এশিয়া গড়ে তোলার লক্ষ্যে পাঁচটি ধারণা পেশ করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সংলাপের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে চায়। যা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলার ক্ষেত্রে বিশ্ববাসীর জন্য একটি উদাহারণ হতে পারে।
বৃহস্পতিবার জাপানের টোকিওতে স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত নিক্কেই সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মূল প্রবন্ধে এ কথা বলেন। নিক্কেই সম্মেলনের শিরোনাম হচ্ছে ‘এশিয়ার ভবিষ্যৎ’। সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য ‘বিশৃঙ্খলা দূর করে একটি নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা চাই।’
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন এবং ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুতার্তে সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।
এশিয়ার নেতৃবৃন্দের সামনে একটি সমৃদ্ধ এশিয়া গড়ে তোলার জন্য পাঁচটি ধারণা উপস্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একে বাস্তবে রূপদান করতে সরকার হিসেবে আমরা আমাদের ভূমিকা পালন করেছি এবং এ সম্পর্কে আপনাদের অভিমত ব্যক্ত করার জন্য এখানে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
প্রথম ধারণা
প্রথম ধারণায় শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান বিশ্ব বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন এবং সংঘাতে পরিপূর্ণ। তাই আমাদের বৃহৎ উদারতায় বিশ্বকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করা প্রয়োজন, বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জগুলো যৌথভাবে মোকাবিলা করা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার সুরক্ষা করা এবং উদ্ভাবনী ধারণা এবং পদক্ষেপের ব্যবহার করে সহযোগিতার নতুন উদ্দীপনা জোরদার করা।
দ্বিতীয় ধারণা
দ্বিতীয় ধারণায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দলগত কর্মকাণ্ডকে অতিক্রম করে অর্থনীতিকে উদ্ভাবনী চর্চার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সম্মানের ওপর ভিত্তি করে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে, জনগণের লাভের জন্য এবং সাধারণ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সবার জন্য সমান সুবিধাজনক কৌশল গ্রহণ করতে হবে।’
তৃতীয় ধারণা
তৃতীয় ধারণায় শেখ হাসিনা বলেন, এশীয় দেশগুলোকে খোলা মন নিয়ে পরস্পরের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে, অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে, সমতা, অংশীদারত্ব এবং যৌথ অনুদানের ভিত্তিতে।
চতুর্থ ধারণা
চতুর্থ ধারণায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সবার জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই এবং সমতাভিত্তিক উন্নয়নের ওপর এশিয়ার ভবিষ্যত নির্ভর করছে। তিনি বলেন, আমাদের সংঘবদ্ধভাবে উন্নয়ন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। সে জন্য আমরা একটি গোত্রবদ্ধ হয়ে দলগতভাবে বিশ্ব শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করতে পারি, যার লক্ষ্য হবে একটি বহুমুখী বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা, উন্নয়নশীল দেশগুলোর যথাযথ অধিকার এবং স্বার্থকে সংরক্ষণ করা।
পঞ্চম ধারণা
যোগাযোগ সম্প্রসারণের প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা যোগাযোগব্যবস্থারই একটি গতিশীলতা, যেটি বিশ্বজুড়ে শান্তি এবং সমৃদ্ধির ভিত রচনা করেছে। অবকাঠামো, মুক্ত বাণিজ্য এবং সহজ বিনিয়োগ এশিয়ার উন্নয়নের ভিত্তি।
উন্নত এশিয়া গড়তে নিক্কেই সম্মেলনে পাঁচটি ধারণা পেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টোকিও, জাপান, ৩০ মে। ছবি: বাসস

ইয়াবা হোতা সাইফুল ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ নিহত

বহুল আলোচিত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায়লয়সহ সকল গোয়েন্দা তালিকায় মাদককারবারীদের মধ্যে শীর্ষে থাকা হাজী সাইফুল করিম (৪৫) পুলিশের সঙ্গে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে টেকনাফ স্থল বন্দরের সীমানা প্রাচীরে শেষ প্রান্তে এ বন্ধুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থল থেকে ৯ টি এলজি, ৪২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩৩ রাউন্ড কার্তুজের খোসা, ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় তিন জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতরা হচ্ছে, এসআই রাসেল আহমদ, কনস্টেবল ইমান হোসেন ও মো. সোলেমান। হাজী সাইফুল করিম টেকনাফ সদর ইউনিয়নের শীলবুনিয়া পাড়ার ডা. মো. হানিফের পুত্র। সে ইয়াবা ব্যবসা করে দেশের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তি এবং মোস্ট ওয়ান্টেড আসামী। সাইফুল গত শনিবার ইয়াঙ্গুন থেকে একটি প্রাইভেট বিমানে করে দেশে ফেরেন।
পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দর থেকেই তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস জানান, গত কয়েক দিন পূর্বে ইয়াবার একটি বড় চালান ইঞ্জিন চালিত বোট যোগে মায়ানমার হতে টেকনাফ স্থল বন্দরের সীমানা প্রাচীরের শেষ প্রান্তে নাফ নদীর পাড়ে মজুদ করেছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে আটক হাজী সাইফুল করিমসহ ইয়াবা উদ্ধারের জন্য ৩০ মে দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে উক্ত স্থানে পৌঁছলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রধারী ইয়াাবা ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। এতে ঘটনাস্থলে পুলিসের তিন সদস্য আহত হয়। তাৎক্ষণিক নিজেদের জীবন ও সরকারী সম্পত্তি রক্ষার্থে পুলিশও ৫২ রাউন্ড গুলি করে। এক পর্যায়ে আটককৃত হাজী সাইফুল করিম (৪৫) গুলিবিদ্ধ হয়। গোলাগুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে পুলিশ গুলি করা বন্ধ করে।
পরে গুরুতর আহত গুলিবিদ্ধ হাজী মো. সাইফুল করিম কে রাত দেড়টার দিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ওসি আরো জানান, নিহত হাজী সাইফুল করিমের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মাদক, অস্ত্র ও মানি লনডারিংয়ের একাধিক মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
ব্যবসায়ী হাজী সাইফুল করিম আত্মগোপনে চলে যায়। পরে সরকার আত্মসমর্পনের সুযোগ দিলে প্রথম ধাপে ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করে। তখন থেকে সাইফুল করিমও দ্বিতীয় ধাপে আত্মসমর্পনের সুযোগ খুঁজে। কিন্তু বন্ধুক যুদ্ধে নিহত হওয়ায় সে সুযোগ রইলো না। ফলে দেশের দক্ষিণ সীমান্তের এক শীর্ষ মাদক ইয়াবা স¤্রাটের পতন ঘটে। এই ইয়াবা ব্যবসায়ীর নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে বলেও জানা যায়।
গত বছরের ৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের হালিশহরে এক চালানে ১৩ লাখ ইয়াবা বড়ি আটক হওয়ার পর কক্সবাজার ও মিয়ানমারের মূল চোরাকারবারিদের নাম বেরিয়ে আসে। তাঁদের একজন সাইফুল করিম। ১৩ লাখ ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত দুই আসামি রশিদ ওরফে মুন্না ও আশরাফ আলী চট্টগ্রামের আদালতে সাইফুল করিম এবং মিয়ানমারের চোরাকারবারি আবদুর রহিমকে জড়িয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাতে ১৮ কোটি টাকা লেনদেনের বিষয়টি উঠে আসে।
২০১৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১১৫১ জনের মাদক কারবারির তালিকার এক নম্বরে ছিল এই সাইফুল করিমের নাম।  ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম ইয়াবার চালান এনেছিলেন। দেশের লাখ লাখ তরুণ-তরুণীকে মাদকাসক্ত করার পেছনে তাঁর ভূমিকা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় ১ নম্বর, কক্সবাজারের গডফাদারের তালিকায় ২ নম্বরে ছিল সাইফুলের নাম।
কাগজে কলমে সাইফুল করিম টেকনাফ স্থলবন্দরের একজন সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী। কিন্তু আমদানী-রফতানির আড়ালে তিনি মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে আসতেন। সরকারের সর্বশেষ তালিকায় এক নম্বর ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে তার নাম উঠে আসে। এমনকি প্রত্যেক গোয়েন্দা রিপোর্টের শীর্ষে সাইফুল করিম এবং তার পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে। গত মাসেও দুদকের পক্ষ থেকে তার নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার পাঁচ ভাইয়ের বিরুদ্ধেও ইয়াবা ব্যবসায় স¤পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ৩ মে সাইফুলের ছোট ভাই মাহবুব করিম ও রাশেদুল করিমকে টেকনাফ নিজ বাড়ি থেকে ১০ হাজার ইয়াবা ও ৪টি অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ।

যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব দিতে প্রস্তুত চীন

বাণিজ্য যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের উন্মুক্ত অর্থনৈতিক সন্ত্রাস হিসেবে আখ্যায়িত করেছে চীন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত অর্থনৈতিক উস্কানির জবাব দিতে চীন প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছে দেশটি। গত মাসে চীনের অনেকগুলো পণ্যের ওপর নতুন করে কর বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চীনা কোমপানি হুয়াওয়েকে কালো তালিকাভুক্ত করায় বিশ্বের বৃহৎ দুই অর্থনীতির এই দেশ দুটির মধ্যে সমপর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
বৃহসপতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের রাশিয়া সফরের পূর্বে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে চীনের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী ঝাং হানহুই বলেন, আমরা এ ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমরা একে ভয় পাই না। যুক্তরাষ্ট্র যা করছে তা নিশ্চিতভাবে অর্থনৈতিক সন্ত্রাস।
বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি আরো বলেন, চীন সব সময়ই অবরোধ ও শুল্ক আরোপের মতো বিষয়গুলোর বিরোধিতা করে। বাণিজ্য যুদ্ধে কেউ বিজয়ী হবে না। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এই বাণিজ্য যুদ্ধ ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলেও হুঁশিয়ার করেন ঝাং।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিবাদে চীনও মার্কিন পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধি করছে। এটি আগামী জুন থেকে কার্যকর হবে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বিরল উপাদান (রেয়ার আর্থ ম্যাটেরিয়াল) রপ্তানি বন্ধ করে দেবে চীন। এসব পদার্থ দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র উচ্চ প্রযুক্তির সকল কিছু তৈরি করে থাকে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির একজন মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আমরা পরামর্শ দিচ্ছি, চীনকে ছোট করে দেখা উচিত নয়। চীন নিজের উন্নয়ন ও স্বার্থরক্ষায় সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্র যাতে পরে না বলতে পারে আমরা তাদের সাবধান করিনি। উল্লেখ্য, চীন একাই পৃথিবীর ৯৫ ভাগ রেয়ার আর্থ ম্যাটেরিয়াল উৎপাদন করে। এবং যুক্তরাষ্ট্র আমদানির ক্ষেত্রে ৮০ ভাগই নির্ভর করে চীনের ওপর।
রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব আরো গভীর করছে চীন: ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনাকে সামনে রেখে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছেন শি জিনপিং। এ লক্ষ্যে রাশিয়া সফর ও সেখানে বেশ কয়েকটি বাণিজ্য সম্মেলনে অংশ নেবেন শি। জুনের ৫ থেকে ৭ তারিখের মধ্যে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। এ ছাড়া সেন্ট পিটাসবার্গের বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের এক বৃহৎ সম্মেলনেও বক্তৃতা দেয়ার কথা রয়েছে তার। এ বিষয়ে ঝাং বলেন, বাণিজ্য যুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর অবস্থান একই পাশে। চীন ও রাশিয়া নিজেদের অর্থনীতি উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমপর্ক বৃদ্ধি করছে। এ ছাড়া আরো অনেক ক্ষেত্রেই দেশ দুটির মধ্যে রয়েছে সহযোগিতামূলক সমপর্ক। তিনি আরো বলেন, রাশিয়া ও চীনকে নানান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আমাদের যা করতে হবে তা হলো, নিজেদের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে হবে এবং দুই দেশের জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পদে আনুষ্ঠানিক প্রার্থীতা ঘোষণা করলেন সাজিদ জাভিদ

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে নবম প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নাম নিশ্চিত করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ। আগামী মাসে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচন করার কথা রয়েছে এবং নির্বাচিত নেতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। গত সোমবার রাতে টুইটারে এক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই ব্রিটিশ মন্ত্রী নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করেন।
ভিডিও বার্তায় সাজিদ জাভিদ বলেন, কনজারভেটিভ পার্টির পরবর্তী নেতা ও দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করছি। ব্রিটেনজুড়ে আমাদের বিশ্বাস ও ঐক্য ফিরিয়ে আনতে হবে এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সবার আগে ও প্রথমত আমাদের ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে হবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে গত শুক্রবার ঘোষণা করেন, তিনি আগামী ৭ জুন তার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তবে নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলে জানান। কনজারভেটিভ পার্টির সিনিয়র নেতারা দলের পরবর্তী প্রধান নির্বাচিত করার জন্য আগামী জুলাই মাসের শেষ  পর্যন্ত সময় পাবেন।
থেরেসা মে পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার পর ডাউনিং স্ট্রিটের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নেতাদের মধ্যে সর্বশেষ প্রার্থী সাজিদ। থেরেসা মে ৭ জুন দায়িত্ব ছাড়ার পর ১০ জুন থেকে টরি পার্টির নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। অন্য প্রার্থীরা হলেন, মাইকেল গোব, ররি স্টুয়ার্ট, জেরেমি হান্ট ও ডমিনিক রাব, এস্টার ম্যাকভে ও আন্দ্রেয়া লিডসম।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির হার ও নবগঠিত ব্রেক্সিট পার্টির জয়ের ফলে ধারণা করা হচ্ছে সম্ভাব্য টরি নেতাদের সবাই ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াতেই গুরুত্ব দেবেন।
পাকিস্তানি অভিবাসী বাস-চালকের ছেলে সাজিদ জাভিদ ২০১৮ সালের এপ্রিলে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান।  সাবেক এ বিনিয়োগ ব্যাংকার যদি থেরেসা মে’র স্থলাভিষিক্ত হন, তবে তিনি হবেন দেশটির প্রথম কোনো মুসলমান প্রধানমন্ত্রী।

হোয়াইট হাউসের বাইরে জ্বলন্ত মানুষ

হোয়াইট হাউজের বাইরে একটি পার্ক। সেখানে পুরো শরীরে আগুন জ্বলছে। সেই আগুন নিয়ে শান্ত মাথায় হেঁটে বেড়াচ্ছেন এক যুবক। ভয়াবহ এমন দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে ওয়াশিংটন ডিসির ডাউনটাউনে ইলিপস পার্কে। এ স্থানটি হোয়াইট হাউজ থেকে এক মাইলেরও কম দূরত্বে। বুধবার সেখানে অকস্মাৎ দেখা যায়, এক পরিপাটি এক যুবকের পুরো শরীরে আগুন জ্বলছে। তার টি-শার্টে লেখা ‘ইউএসএ’। কয়েক সেকেন্ড পরে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের স্টাফদের দেখা যায় দৌড়ে তার কাছে যেতে এবং ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার দিয়ে আগুন নিভাতে।
পরে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু ততক্ষণে তার শরীরের শতকরা ৮৫ ভাগ এলাকা পুড়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ওয়াশিংটন মল এলাকায়। এ স্থানটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল।
ওই যুবকের পরিচয় জানা যায় নি। তবে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ঘটনার সময় চারদিক ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। কমপক্ষে ৭০ সদস্যের কর্মকর্তারা ছুটে যান সেখানে। বিভিন্ন এজেন্সির লোকজন চারদিকে অবস্থান নেয়। এ সময় ওই পার্কে পর্যটক ও ভিজিটররা উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা কেউ আহত হন নি। এ বিষয়ে মন্তব্য করেন নি হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র হোগান গিডলে। অফিসিয়াল শিডিউল অনুযায়ী, ওই সময় ওভাল অফিসে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

দুঃশাসনের রাজত্ব চলছে দেশে: ফখরুল

সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদাতবার্ষিকী পালন করেছে বিএনপি। সেই সঙ্গে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা ও হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শপথ গ্রহণ করেছে বিএনপি। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, পোস্টার প্রকাশ ও কালো ব্যাজ ধারণ, কালো পতাকা উত্তোলন, সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, ফ্রি হেলথ ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ, দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য ও বস্ত্রসামগ্রী বিতরণ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, বইমেলার কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপিসহ দলটির নানা অঙ্গসংগঠন।
বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত, কালো পতাকা উত্তোলন ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে মাজার প্রাঙ্গণে দোয়া-মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাতে দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষি  অংশ নেন। গতকাল বেলা সোয়া ১১টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। দেশে একটা দুঃশাসনের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই দিনে স্বাধীনতার শত্রুরা জিয়াউর রহমানকে নিমর্মভাবে হত্যা করেছিলো।
তাই এই দিনটিকে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।
স্বল্প দিনের রাজনৈতিক জীবনে জিয়া দেশের মৌলিক পরিবর্তন করেছিলেন। জিয়াউর রহমান এ দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন। বাক্‌?স্বাধীনতা দিয়েছেন। কিন্তু আজকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়, গণতন্ত্রের মাতাকে একটি মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে তার দর্শন ও আদর্শকে সামনে নিয়ে তাকে অনুসরণ করে শপথ গ্রহণ করছি- খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব এবং গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করব। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, হাজার চেষ্টা করলেও জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া যাবে না। জিয়াকে এদেশের মানুষ কখনো ভুলবে না। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ততদিন শহীদ জিয়াকে মানুষ স্মরণ করবে। কারণ একদলীয় শাসনের প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
সেই আন্দোলনে এখনো আমরা আছি। তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া জেলখানায় আছেন। কিন্তু বিএনপি এখনো সজাগ, সচেষ্ট ও শক্তিশালী। আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে যাবো যতদিন পর্যন্ত গণতন্ত্র- ফিরে না আসবে। যতদিন আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরে না আসবে ততদিন পর্যন্ত বিএনপি মানুষের সঙ্গে থাকবে এবং আন্দোলনে করে যাবে। মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পনের সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, ডা. সিরাজউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, কেন্দ্রীয় নেতা দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী, শামীমুর রহমান শামীম, শহিদুল ইসলাম বাবুল, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, সেলিম রেজা হাবিব, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতউল্লাহ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার, মহানগর উত্তরের সাধারণ আহসান উল্লাহ হাসান, যুবদল কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, কৃষক দল সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিনসহ বিএনপি ও অঙ্গদলের হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির পর মহানগর বিএনপি, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মহিলা দল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবী দল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদসহ  বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে আলাদা আলাদাভাবে জিয়ার মাজারে পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়।
এদিকে জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দুপুরে বিএনপি মহাসচিব তেজগাঁওয়ের আজরত পাড়ায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত একটি দুঃস্থদের মধ্যে ইফতার সামগ্রি বিতরণ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। অন্যদিকে মহানগর দক্ষিণের পুরান ঢাকার নয়াবাজারে মহানগর কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল ও ইফতার সামগ্রি বিতরণ করেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সকালে নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাবের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প খোলা হয়। সেখানে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪০জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ২০০জন দুঃস্থ রোগীদের মেডিসিন, সার্জারি, চর্মরোগ, সার্জারি, চক্ষু রোগ, চোখ ও নাক, কান গলা; ও শিশু রোগ বিষয়ে পরামর্শপত্র দেন। তাদের বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ করা হয়।
বিএনপি মহাসচিব এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব বলেন, অত্যন্ত পরিস্কার করে আমরা বলতে চাই- নির্বাচনের নামে যে নাটক হয়েছে, অবিলম্বে সে নির্বাচন বাতিল করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নতুন নির্বাচন করে সত্যিকার অর্থেই জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি সংসদ গঠন করতে হবে। আজকের দিনে এটাই আমাদের শপথ। মির্জা আলমগীর বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অকালমৃত্যু বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও দেশের গণতন্ত্রকে দুর্বল করেছে। মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করেছে। তার উত্তরসূরি খালেদা জিয়া এই পতাকাকে ধারণ করে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দর্শন আদর্শকে প্রতিষ্ঠাতা করেছেন। কিন্তু আজ তিনি কারাগারে। আজ আমরা এই শপথ নেবো, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আর্দশকে অনুসরণ করে দেশনেত্রীকে মুক্ত করব। এ সময়ে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফরহাদ হালিম ডোনার, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ড্যাবের সভাপতি ডা. হারুন অর রশীদ ও মহাসচিব ডা. আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, বিগত দিনগুলোতে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেই সব ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দিয়েছে জাতীয়বাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, সহ-সভাপতি গোলাম সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, যুগ্ম সম্পাদক সাদরেজ জামানসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগশের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মির্জা আলমগীর বলেন, জিয়াউর রহমান তার স্বল্প রাজনীতিক জীবনে এই দেশের অগ্রগতির জন্য কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের মৌলিক পরিবর্তন করেছিলেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন। বাক স্বাধীনতা দিয়েছিলেন এবং অর্থনীতিকে মুক্ত করেছিলেন। আজ গণতন্ত্র হত্যা ও দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে পুরো দেশে কায়েম করা হয়েছে দুঃশাসন।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সেনাবাহিনীর একদল বিপথগামী সদস্যের অভ্যুত্থানে নিহত হন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। সেই থেকে এইদিনকে ‘শাহাদাৎ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে বিএনপি। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি ২৫মে থেকে দশ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শুরু করে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পুস্পমাল্য অর্পনেব নেতৃত্ব দিতেন। ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি তিনি কারাগারে যাওয়ার পর থেকে এই কর্মসূচিটি দলের সিনিয়র নেতারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

আল আকসা মসজিদ ইসলাম ও ফিলিস্তিনিদের আসল পরিচিতি

আজ বিশ্ব কুদস দিবস। গত প্রায় ৭০ বছর ধরে ইহুদিবাদী ইসরাইল ফিলিস্তিন ভূখণ্ড জবর দখল করে আছে। ফিলিস্তিন জবর দখলের এতো বছর পরও ইসরাইল বর্বর নির্যাতনের ধারা অব্যাহত রেখেছে।
ইহুদিবাদী ইসরাইলের এই ন্যক্কারজনক আগ্রাসনের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা শক্তিগুলো। তা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের মজলুম জনতা তাদের দেশের ভূখণ্ডকে স্বাধীন করার তথা ইহুদিবাদী দখলমুক্ত করার দৃঢ় ইচ্ছা বাস্তবায়নে বিন্দুমাত্রও হাল ছাড়ে নি। বরং ফিলিস্তিনিদের মনোবল ও সংগ্রাম আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেগবান হয়েছে। ইরানের জনগণ সেই বিপ্লব বিজয়ের আগে থেকেই ফিলিস্তিনের মজলুম জনগোষ্ঠীকে সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে। কিন্তু ইরানে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের মাধ্যমে ইসলামী সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। ইরানের ইসলামী বিপ্লব বিজয় ছিল ইহুদিবাদী ইসরাইলের জন্য চপেটাঘাত। কেননা ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনী (রহ) কেবল ইরানের জনগণকেই নয় বরং বিশ্বের সকল মুসলমান ও স্বাধীনচেতা মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনদের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য। ইমামের ওই ডাকে সাড়া দিয়ে প্রতি বছর রমজানের শেষ শুক্রবার বিশ্ব কুদস দিবস পালিত হয়।
ইরানে ইসলামী বিপ্লবের রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনী (রহ) ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যের বুকে বিষাক্ত টিউমার বা ক্যান্সার বলে অভিহিত করেছেন। ফিলিস্তিনের সংগ্রামী জনগণের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের অধিকারের প্রতি সাহায্য-সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার জন্যে রমযানের শেষ শুক্রবারে নানা কর্মসূচি, অনুষ্ঠান ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি পরিপূর্ণ সমর্থন ঘোষণার আহ্বান জানান। বিশ্ববাসী বিশেষ করে মুসলিম বিশ্ব তাঁর এই আহ্বানে ব্যাপক সাড়া দেয় এবং এই দিনকে কুদস দিবস হিসেবে পালন করতে থাকে। এই দিনে বিশ্বজুড়ে জনগণের এই ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি ফিলিস্তিনিদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত রাখা এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রতি বিশ্ব মুসলমানের ঘৃণা প্রকাশের মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।
এ বছর এমন সময় বিশ্ব কুদস দিবস পালিত হতে যাচ্ছে যখন মার্কিন নতুন ষড়যন্ত্রের কারণে ফিলিস্তিন সংকট অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক সমাজের ব্যাপক প্রতিবাদ সত্বেও তেলআবিব থেকে বায়তুল মোকাদ্দাসে দূতাবাস স্থানান্তর করে আমেরিকা। আমেরিকার এ পদক্ষেপ দখলদার ইসরাইলের সম্প্রসারণকামীতাকে পূর্ণতা দিয়েছে যা কিনা মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক পরিণতি ডেকে আনবে। বায়তুল মোকাদ্দাসে দূতাবাস স্থানান্তরের মাধ্যমে আমেরিকা ফিলিস্তিনিদেরকে এ বার্তাই পৌঁছে দিয়েছে যে, ইসরাইলের স্থিতিশীলতা ও দখলদারিত্বের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন রয়েছে। আল আকসা মসজিদ ইসলাম ও ফিলিস্তিনিদের আসল পরিচিতি। এটি মুসলমানদের প্রথম কেবলা হওয়ার কারণে শুধু ফিলিস্তিন নয় বরং সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে এর ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। মুসলমানদের সবচেয়ে তিনটি পবিত্র স্থানের মধ্যে বায়তুল মোকাদ্দাস হচ্ছে অন্যতম। অথচ আমেরিকা দূতাবাস স্থানান্তরের মাধ্যমে শুধু যে মুসলমানদের অবমাননা করেছে তাই নয় একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রীতি ও জাতিসংঘের ২৩৩৪ ও ৪৭৮ নম্বর প্রস্তাবও লঙ্ঘন করেছে।
দূতাবাস স্থানান্তরের মাধ্যমে আমেরিকা দু'টি লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্য গঠনের যে পরিকল্পনা রয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করা। আর দ্বিতীয় লক্ষ্য হচ্ছে, লেবানন ও ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগ্রামীদেরকে নির্মূল করা যাতে দখলদার ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
বর্তমানে আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন নিয়ে দখলদার ইসরাইল পূর্ব বায়তুল মোকাদ্দাসের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইসরাইল গাজার নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে তা তারা গত সাত দশক ধরে চালিয়ে আসছে। অথচ জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী আগ্রাসীদের মোকাবেলায় অস্ত্র ধারণা করার অধিকার ফিলিস্তিনিদের রয়েছে।
আমেরিকা তেলআবিব থেকে বায়তুল মোকাদ্দাসে দূতাবাস স্থানান্তর করায় এর প্রতিবাদে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলি সেনাদের হামলায় প্রথম দিনেই ৬০ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হন। প্রকৃতপক্ষে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের প্রধান শরীক হচ্ছে আমেরিকা। এ কারণে ফিলিস্তিনের স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, "ফিলিস্তিনি জনগণ আর তাদের সংকট সমাধানের জন্য আমেরিকাকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মেনে নেবে না।" তিনি বলেন, "এই অপরাধযজ্ঞের ঘটনায় 'ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়ায়' আমেরিকার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা কার্যত শেষ হয়ে গেছে।" তবে সব ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ ও অন্যায় আচরণ সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিরা তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চালিয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমানে আমেরিকা নতুন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের আসল পরিচয় অর্থাৎ বায়তুল মোকাদ্দাসের পরিচিতি ধ্বংসের চেষ্টা করছে যাতে ফিলিস্তিনিদের আর কিছুই অবশিষ্ট না থাকে। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইল-মার্কিন ষড়যন্ত্রে নতুন করে যোগ দিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি-ইসরাইল সম্পর্ক এতদিন গোপন থাকলেও এখন তা প্রকাশ্যে এসেছে। সৌদি আরবের সাবেক সামরিক কমান্ডার জেনারেল আনোয়ার এশকি বলেছেন, তার দেশ ইসরাইলি দখলদারিত্বের মুখে ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করতে বাধ্য নয়।" তিনি বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, "ফিলিস্তিনিদের রক্ষার বিষয়ে সৌদি আরবের বাড়তি কোনো দায়িত্ব নেই। ফিলিস্তিনিরা যেহেতু সৌদি নাগরিক নন সে কারণে রিয়াদের কাছ থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার তারা রাখেন না।"  তিনি বলেন, "ইসরাইলকে শুধু শুধু শত্রু ভাবা হয়।”
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইমাম খোমেনি দখলদার ইসরাইলের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র ও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভালোভাবেই অবহিত ছিলেন। বিশ্ব কুদস দিবস পালন সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, "কুদস দিবস কেবল ফিলিস্তিনিদের দিবস নয়। এটি এমন একটি দিবস যে, বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোকে এটা বুঝিয়ে দেয়া, তারা আর কোনো মুসলিম ভূখণ্ডকে এভাবে গ্রাস করতে পারবে না।" ইমাম খোমেনি(র.) আরো বলেছিলেন, "বিশ্ব কুদস দিবস পালনের মাধ্যমে আমরা বলদর্পী শক্তিগুলোকে এমন একটি হুঁশিয়ারি সংকেত দিতে চাই যে তারা মুসলমানদের ওপর আর আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না এবং কুদস দিবস বিশ্ব মুসলমানদের প্রেরণা ও বেঁচে থাকার দিবস।"
ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, "ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করা সব মুসলমানের দায়িত্ব।"
ইহুদিবাদী ইসরাইলের নির্যাতনের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে যে, আলোচনার মাধ্যমে তাদেরকে কখনোই দমানো যায় নি বরং কুদস দিবস পালন কিংবা মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ চাপের মাধ্যমে তাদেরকে কিছুটা দমানো সম্ভব হয়েছে। এবারের বিশ্ব কুদস দিবস ইসরাইল ও তাদের মিত্রদের জন্য এ বার্তাই পৌঁছে দেবে যে, ফিলিস্তিনের ওপর দখলদারিত্ব ও জুলুম নির্যাতনের দিন শেষ হয়ে এসেছে। সারা বিশ্বের মুসলমানদের উচিত মুসলমানদের প্রথম কেবলা আল আকসা উদ্ধারে বিশ্ব কুদস দিবসে শরীক হওয়া যাতে ইসরাইলের দখল থেকে ফিলিস্তিন ভূখণ্ড উদ্ধারকে আরো তরান্বিত করা যায়।

উন্নত এশিয়া গড়তে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ ধারণা পেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত এশিয়া গড়ে তোলার লক্ষ্যে পাঁচটি ধারণা পেশ করেছেন বলেছেন, বাংলাদেশ সংলাপের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে চায়। যা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলার ক্ষেত্রে বিশ্ববাসীর জন্য একটি উদাহারণ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল জাপানে স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত নিক্কেই সম্মেলনে অংশ নিয়ে তাঁর মূল প্রবন্ধে একথা বলেন। নিক্কেই সম্মেলনের শিরোনাম হচ্ছে ‘এশিয়ার ভবিষ্যত’।
সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য ‘বিশৃঙ্খলা দূর করে একটি নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা চাই।’
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন  সেন এবং ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুতার্তে সম্মেলনে যোগ দেন। এশিয়ার নেতৃবৃন্দের সামনে একটি সমৃদ্ধ এশিয়া গড়ে তোলার জন্য পাঁচটি ধারণা উপস্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একে বাস্তবে রূপদান করতে সরকার হিসেবে আমরা আমাদের ভূমিকা পালন করেছি এবং এ সম্পর্কে আপনাদের অভিমত ব্যক্ত করার জন্য এখানে উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রথম ধারণায় তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন এবং সংঘাতে পরিপূর্ণ। তাই, আমাদের বৃহৎ উদারতায় বিশ্বকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করা প্রয়োজন, বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জগুলো যৌথভাবে মোকাবেলা করা, স্বচ্ছতা ও ন্যায় বিচার সুরক্ষা করা এবং উদ্ভাবনী ধারনা এবং পদক্ষেপের ব্যবহার করে সহযোগিতার নতুন উদ্দীপনা জোরদার করা।
প্রধানমন্ত্রী তার দ্বিতীয় ধারনায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, দলগত কর্মকাণ্ডকে অতিক্রম করে অর্থনীতিকে উদ্ভাবনী চর্চার মধ্যদিয়ে যেতে হবে।
পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সম্মানের উপর ভিত্তি করে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে, জনগণের লাভের জন্য এবং সাধারণ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সকলের জন্য সমান সুবিধাজনক কৌশল গ্রহণ করতে হবে। তৃতীয় ধারণায় তিনি বলেন, এশীয় দেশগুলোকে খোলা মন নিয়ে পরস্পরের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে- অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে, সমতা, অংশীদারিত্ব এবং যৌথ অনুদানের ভিত্তিতে। চতুর্থ ধারণায় শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সবার জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই এবং সমতাভিত্তিক উন্নয়নের ওপর এশিয়ার ভবিষ্যত নির্ভর করছে। তিনি বলেন, আমাদের সংঘবদ্ধভাবে উন্নয়ন চ্যালেঞ্জগুলো  মোকাবিলা করতে হবে। সে জন্য আমরা একটি গোত্রবদ্ধ হয়ে দলগতভাবে বিশ্ব শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করতে পারি, যার লক্ষ্য হবে একটি বহুমুখী বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর যথাযথ অধিকার এবং স্বার্থকে সংরক্ষণ করা।
যোগাযোগ সম্পসারণের প্রতি গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, এটা  যোগাযোগ ব্যবস্থারই একটি গতিশীলতা যেটি বিশ্বজুড়ে শান্তি এবং সমৃদ্ধির ভিত রচনা করেছে। অবকাঠামো, মুক্ত বাণিজ্য এবং সহজ বিনিয়োগ এশিয়ার উন্নয়নের ভিত্তি।
তিনি বলেন, আমরা অফুরন্ত সম্পদ এবং সম্ভাবনা দেখেছি, জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি, ব্যাপক সংখ্যক জনগণের শিক্ষা লাভের সুযোগ, শিশু মুত্যুহার হ্রাস, অতি দারিদ্রের হার এমন একটি পর্যায়ে নামিয়ে আনা যা এক সময় কল্পনা করাও কঠিন ছিল।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে জোর পূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় প্রদান করেছে। আমরা কেবল মানবিক আবেদনেই সাড়া দেইনি আমরা সমস্যাটির ব্যাপারে সচেতন ছিলাম যাতে এই সমস্যাটি এই অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চরম উত্তেজনা ও সংকটের মুখেও বাংলাদেশ দ্বন্দ্ব নিয়ে সংলাপ ও ঐকমত্য চেয়েছিল। তিনি বলেন, এটি আমাদের অঞ্চলের এবং বিশ্বের জন্য সংকটময় মুহূর্তে শান্তির, মানবতা এবং উন্নয়নের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা এবং দ্বন্দ্ব নিরসনের একটি পাঠ ছিল। বিশ্বকে শান্তির পথে ধাবিত করার জন্য এশীয় নেতৃবৃন্দকে নেতৃত্ব প্রদানের আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবতা এবং শুভ শক্তির বিজয় অনিবার্য। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব সমপ্রদায় আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, উদীয়মান এশিয়া, উদ্ভাবন, আকুল আকাঙ্খা ও নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকে অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জনগণের সুবিধার্থে শান্তি ও অগ্রগতির জন্য আমাদের পক্ষ  থেকে সবসময়ই জোরদার প্রচেষ্টা করা হয়েছে। একটি বহুমুখী বিশ্বের মধ্যে, আমরা জাতিসংঘের সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে এবং সকল দেশের জন্য বহু-পক্ষীয়তা জোরদার করার চেষ্টা করব।  মূল প্রবন্ধের শেষ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের যেকোন খাতে জাপানের যে  কোন ধরনের চিন্তা-ভাবনা এবং বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়। দেশের সার্বিক উন্নয়নে গত দশ বছরে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের একটি দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তিনি বলেন, আমরা গত একদশকে গড়ে ৬.৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি এবং গত তিন বছরে এই প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮.১৩ শতাংশ।  শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশে উত্তরণের সকল শর্ত ইতোমধ্যেই পূরণ করেছে এবং ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত দেশে পরিণত হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাওয়ায় আমি আস্থাশীল  যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শিগগিরই ডাবল ডিজিটে উন্নীত হবে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (এসডিজি) অর্জনে দীর্ঘ মেয়াদি সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০১৬-২০২০ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে  শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুবিধা সকল নাগরিকের কাছে পৌঁছে দেয়া নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। এছাড়াও সম্পদের বণ্টন নিশ্চিত করতে সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপান্তরে নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ একটি অন্যতম ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে। আমাদের নারীরা শুধু উদ্যেক্তা হিসেবেই নয়, প্রতিরক্ষা, কূটনীতি এবং রাজনীতির মতো অপ্রচলিত খাতেরও নজির স্থাপন করছেন। নারী ও মেয়ে শিশুদের শিক্ষায় আমরা বিপুল বিনিয়োগ করেছি, এর ফলে নারীরা সমাজের প্রতিটি খাতে এগিয়ে রয়েছে এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় ৪০ শতাংশ।
তিনি বলেন, ‘আমরা জাপানী বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক জোনসহ সারাদেশে ১শ’টি অর্থনৈতিক জোন তৈরি করেছি। আইসিটি খাতে উন্নয়নের জন্য আমরা একাধিক শিল্প পার্ক তৈরি করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বিদেশী বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ অত্যন্ত উদার। বিনিয়োগকারীদের জন্য রয়েছে আইনী সুরক্ষা। ট্যাক্স সুবিধা ও মেশিনারী আমদানীতে শুল্ক রেয়াদ সুবিধা।

মুসলমান এমপির সংখ্যা বেড়েছে ভারতে

ভারতে এবারের লোকসভা নির্বাচনে বেড়েছে মুসলমান এমপির সংখ্যা। সদ্য মেয়াদ শেষ হওয়া ১৬তম লোকসভায় মুসলমান এমপি ছিলেন ২২ জন, যা ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে কম। তবে এবার সেই সংখ্যা ৫ জন বেড়ে হয়েছে ২৭।
গত পার্লামেন্টে ২২ মুসলমান এমপির মধ্যে একজন ছিলেন ক্ষমতাসীন বিজেপির, বাকি সবাই বিরোধী দল বিশেষ করে কংগ্রেসের। আর এবারের নির্বাচনে বিজেপি জোট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন দুই জন এমপি, বাকি ২৫ জন বিরোধী দলগুলো থেকে।
গত পার্লামেন্টে পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণুপুর থেকে নির্বাচিত সৌমিত্র খান ছিলেন বিজেপির একমাত্র মুসলমান এমপি। এবারের নির্বাচনেও তিনি জিতেছেন একই আসন থেকে, পাশাপাশি তার সাথে যুক্ত হয়েছেন মাহবুব আল কায়সার। বিজেপি জোটের শরিক জনসংস্কৃতি পার্টির এই এমপি জিতেছেন বিহারের খাগারিয়া আসন থেকে।
ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মুসলমান এমপি নির্বাচিত হয়েছিল ১৯৮০ সালে, সংখ্যায় সেবার ছিল ৪৯ জন। ২০০৯ সালের নির্বাচনে জিতেছিল ৩৩ জন মুসলমান প্রার্থী।
এবারের নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি মনোনয়ন দিয়েছিল ৬ জন মুসলমান প্রার্থীকে। এর মধ্যে তিনজন কাশ্মিরে ও দুই জন পশ্চিমবঙ্গে।
তাদের মধ্যে কাশ্মিরের তিনজন সুফি ইউসুফ (১০,২২৫ ভোট), মোহাম্মদ মকুবুল (৭,৮৯৪ ভোট) ও শেখ খালিদ জাহাঙ্গীর (৪,৬৩১) হেরেছেন ব্যাপক ব্যবধানে। পশ্চিমবঙ্গের প্রার্থীদের মধ্যে মাহফুজা খাতুন তৃতীয় হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি মুসলমান এমপি নির্বাচিত হয়েছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস ও পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক দল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে। এই দুটি দল থেকেই নির্বাচিত হয়েছেন ৫ জন করে।
এছাড়া উত্তর প্রদেশের দুই আঞ্চলিক দল সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৩ জন করে। উত্তর প্রদেশের ২০১৪ সালের নির্বাচনে কোন মুসলমান প্রার্থী পাস করতে পারেননি। এবার কাশ্মিরের আঞ্চলিক দল জম্মু এন্ড কাশ্মির ন্যাশনাল কংগ্রেস- দল থেকেও নির্বাচিত হয়েছেন ৩ জন। সূত্র: জি নিউজ অনলাইন

বিজেপিকে আমি ঘৃণা করি, বিধানসভায় ওরা একটা সিটও পাবে না : মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিজেপিকে আমি ঘৃণা করি, ঘৃণা করি, ঘৃণা করি। তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিতে ঘরছাড়া দলীয় কর্মীদের ঘরে ফেরানোর উদ্দেশ্যে এক সমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন।
লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে রাজ্যে বিজেপির উত্থানের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নৈহাটি, হালিশহর, ভাটপাড়া কাঁকিনাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু তৃণমূল কর্মী ঘরছাড়া হয়ে পড়েছেন।
মমতা আজ সেখানে গিয়ে যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কথা বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দেন এবং ওই এলাকায় কোনো গোলযোগ হলে পুলিশের ডিজির কাছ থেকে তা বুঝে নেবেন বলে জানান। গোলযোগ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও মমতা মন্তব্য করেন।  
তিনি এদিন বিজেপির তীব্র সমালোচনায় সোচ্চার হন। মমতা বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা আমাদের হাতে ছিল না। নির্বাচন কমিশনের হাতে ছিল সেই সুযোগে দুটো গাদ্দারের নেতৃত্বে কয়েকজন গাদ্দার এখানে অনেক অত্যাচার করেছে। যদি মনে ভাবে এটা মুক্তাঞ্চল, এখানে বিজেপির সন্ত্রাসের উড়ন্তপুরী বানাবেন সেই বিজেপির মত দলকে আমি ঘৃণা করি, ঘৃণা করি, ঘৃণা করি। আমি বাংলার সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করি। কিন্তু এত তেল কোথা থেকে হল? এত তেল কোথা থেকে এল? এত তেলের টাকা কে দিল?’ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যে একটা আসনও পাবে না বলে এদিন মমতা দৃঢ়ভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 
তিনি বিজেপির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা বাংলায় লোকসভার যে আসন পেয়েছি তাতেই পার্লামেন্ট বুঝিয়ে দেবো আমরা কী। আর বাংলায় ৪০ কেন ১০০ বিধায়ক টাকা দিয়ে কিনে নিলেও আমাদের কিচ্ছু হবে না।’ মমতা এদিন ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণ তালিকা তার কাছে তুলে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন।

বিপদ বুঝে পালাল ‘চাঁদাবাজ’ হাতি

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হাতি নিয়ে ভৈরব পৌর শহরের ফাতেমা রমজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করলেন মাহুত। দোকানি, পথচারী আর অটোরিকশা চালকদের সামনে শুঁড় উঁচিয়ে টাকা চাইছিল হাতি। একপর্যায়ে গণমাধ্যমের কর্মীসহ সবার প্রতিরোধের মুখে হাতি নিয়ে মাহুত পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
বুধবার সকাল সোয়া ১০টায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের উত্তরপাড়ার ফাতেমা রমজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় লোকজনের সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ভৈরবপুর উত্তরপাড়ার দোকানে দোকানে গিয়ে দোকানিদের সামনে শুঁড় উঁচিয়ে টাকা দেওয়ার বার্তা দেয় হাতি। মাঝসড়কে দাঁড়িয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গতি রোধ করে চালকদেরও একই সংকেত দেয়। হাতির খপ্পর থেকে বাদ পড়েননি পথচারীরাও। নিরুপায় দোকানি, চালক ও পথচারীরা ১০-২০ টাকা করে দিয়ে নিজেদের রক্ষা করছিলেন। ১০ টাকার কম দিলে নিচ্ছিল না হাতি। এই বিষয়ে মাহুতের স্পষ্ট বয়ান, ‘ঈদ সেলামি, আমার হাতি ১০ টাকার নিচে নেয় না’। এই ইস্যুতে বেশ কয়েকজন দোকানি ও চালকের সঙ্গে মাহুতের তর্কও বাধে।
একপর্যায়ে পথচারী ও দোকানিরা প্রতিরোধে নামেন। এগিয়ে আসেন গণমাধ্যমের কর্মীরাও। জনগণের প্রতিরোধ আর গণমাধ্যমের কর্মীদের ক্যামেরা তাক করা দেখে হাতি শুঁড়ে আর টাকা তুলছিল না। মাহুতও স্থান ত্যাগ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। শেষে মুখে গামছা বেঁধে দ্রুতগতিতে হাতি নিয়ে নিজেকে আড়াল করেন মাহুত।
নাম-পরিচয় প্রকাশ করতেও রাজি হননি মাহুত। শুধু বলছিলেন, কিছুদিন আগে অন্য একটি জেলায় সাংবাদিকদের কারণে তাঁর হাতি বিপদে পড়েছিল। কয়েক দিন থানায় বাস করতে হয়েছে। আর তাঁকে গুনতে হয়েছে ৩০ হাজার টাকা।
স্থানীয় লোকজন জানান, কিছুদিন পরপর এলাকায় হাতির প্রবেশ ঘটে। হাতির প্রবেশ মানে দোকানি ও অটোচালকদের টাকা খসা। সমস্যা হলো ১০ টাকার নিচে দিলে ক্ষুব্ধ হয় হাতি। উল্টোপাল্টা আচরণ করে। দোকানের জিনিসপত্র ফেলে দিতে চায়। বিশাল দেহের হাতি যখন ক্ষুদ্র দোকানির সামনে দাঁড়িয়ে টাকা দাবি করে, তখন বাক্সে টাকা আছে কি নেই, সে কথা ভাবার সুযোগ নেই দোকানির। এক কথায় হাতির এই উপদ্রব ভয়াবহ। ফলে বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে হাতিকে তুষ্ট করতে হয় সাধারণ মানুষের।
চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল পাশের উপজেলা কুলিয়ারচরের আগরপুর বাসস্ট্যান্ডে ১০ টাকা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হাতি মো. বাতেন নামের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার এক চালককে শুঁড়ে তুলে আছাড় দিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়। এতে চালক গুরুতর আহত হন। বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেশ কিছু দিন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছাড়লেও কর্মে ফিরতে পারেননি তিনি।
পৌর শহরের চন্ডিবের এলাকার দোকানি ফারুক মোল্লা। এরই মধ্যে তিনি একাধিকবার হাতির চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন। ফারুক বলেন, ‘কোনো কথা নাই। এসেই মুখের সামনে শুঁড় নাড়াচাড়া করে। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত মাফ নাই। এবার এসে ঈদ সেলামি চায়, দেইনি। শেষে পালাইছে।’
সড়কে হাতির ঘন ঘন উপদ্রবে বিরক্ত স্থানীয় সমাজ সচেতন ব্যক্তিরাও। রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নানা ধরনের চাঁদা দিয়ে আমাদের এখন সমাজে টিকে থাকতে হচ্ছে। এই অবস্থায় যুক্ত হলো হাতির চাঁদাবাজি।’ হাতির উপদ্রব থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় কিছু করা প্রয়োজন বলে মনে করেন রফিকুল ইসলাম।
জনতার প্রতিরোধ ও সাংবাদিকদের ক্যামেরা তাক করতে দেখে টাকা না নিয়েই পালাল চাঁদাবাজ হাতি। ছবিটি বুধবার সকালে ভৈরব পৌর শহরের চন্ডিবের এলাকা থেকে তোলা। ছবি: সুমন মোল্লা, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রথম আলো, ভৈরব

চট্টগ্রাম কারাগারে শীর্ষ সন্ত্রাসী খুন নানা প্রশ্ন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে ৩২ নম্বর সেলে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত অমিত মুহুরি খুন হয়েছে। বুধবার মধ্যরাতে রিপন নাথ নামে যুবলীগের এক কর্মীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চট্টগ্রাম   কারাগারের মধ্যে অমিত মুহুরি ও তার খুনি রিপন নাথ সমর্থিতদের মধ্যে সংঘর্ষও হয়। পরে কারাপুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নাছির আহমেদ অমিত মুহুরি খুন ও সংঘর্ষ হওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলাও দায়ের করা হয়েছে। মামলায় রিপন নাথ (২৭)কেই আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে তাকে একটি নির্জন সেলে রাখা হয়েছে।
ওদিকে এ হত্যার পর চট্টগ্রামে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সুরক্ষিত কারাগারে এমন ঘটনা অথচ কারা রক্ষীরা কেউ জানলো না? হাজতিদের কারো কাছে কোন ধরনের অস্ত্র থাকার কথা নয়। প্রশ্ন উঠেছে, রিপন নাথ ধারালো অস্ত্র পেলো কোথা থেকে?
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নাছির আহমেদ জানান, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ৩২ নম্বর সেলের একটি কক্ষে থাকতেন অমিত মুহুরি ও অপর দুই কয়েদি রিপন নাথ ও বেলাল। বুধবার দিনগত রাত ১০টার দিকে সেলের ওই কক্ষে কথা কাটাকাটির জেরে অমিত মুহুরিকে প্রথমে ইটের টুকরো দিয়ে মাথায় আঘাত করে রিপন। ধারালো অস্ত্র নিয়ে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে রিপন নাথ। কারারক্ষীরা গুরুতর আহত অমিতকে উদ্ধার করে প্রথমে কারা হাসপাতাল এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে।
রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খুরশীদ আনোয়ার চৌধুরী জানান, মাথায় গুরুতর জখম অবস্থায় অমিতকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার মাথায় ২৬টি সেলাই পড়েছে। ভারি কোনো বস্তু দিয়ে তাকে মাথায় আঘাত করা হয়েছে। মারামারির কারণ এবং কারাকক্ষের ভেতরে ইট ও ধারালো অস্ত্র কীভাবে আসলো তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রিপন নাথকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল হক ভুঁইয়া জানান, রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে অমিত মুহুরিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। এর আগে তাকে ২৮ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। কিন্তু রাত ২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
নগর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, অমিত মুহুরি একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির ১৫টি মামলা রয়েছে। পূর্বাঞ্চল রেলের কোটি টাকার দরপত্র নিয়ে জোড়া খুনের মামলার আসামিও তিনি। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-অর্থবিষয়ক সমপাদক হেলাল আকবর চৌধুরী ওরফে বাবরের অনুসারী ছিলেন অমিত।
তিনি জানান, ২০১৭ সালের ১৩ই আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের এনায়েতবাজার এলাকার রানীরদিঘি এলাকা থেকে একটি ড্রাম উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে বোমা রয়েছে ভাবা হলেও ড্রাম কেটে ভেতরে লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ গলে যাওয়ায় তখন পরিচয় বের করা যায়নি। পরে এ ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে ৩১শে আগস্ট ইমাম হোসেন ও শফিকুর রহমান নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানায়, ড্রামের ভেতরে পাওয়া লাশটি অমিতের বন্ধু নগর যুবলীগের কর্মী ইমরানুল করিমের। ৯ই আগস্ট নগরের নন্দনকানন হরিশ দত্ত লেনের নিজের বাসায় ইমরানুলকে ডেকে নেন অমিত। এরপর বাসার ভেতরেই তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ২রা সেপ্টেম্বর অমিতকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
অমিত মুহুরি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা সদরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডা. মনোরঞ্জন মুহুরি চেয়ারম্যান বাড়ির অজিত মুহুরির ছেলে। অমিত এমইএস কলেজের সাবেক ছাত্র। অপরদিকে রিপন নাথ সীতাকুণ্ড উপজেলার মৃত নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলে। নগরীর পাহাড়তলী থানার একটি অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন রিপন।
ওসি জানান, রিপন নাথ (২৩) গত ৯ই এপ্রিল সন্ধ্যায় ছুরি নিয়ে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার সাগরিকা এলাকায় অর্গানিক জিন্স নামে একটি পোশাক কারখানা জিম্মি করার ঘটনা ঘটান। ওই সময় তিনি হাতে থাকা কাগজে মোড়ানো একটি ছুরি নিয়ে কারখানায় ঢুকে পড়েন। কারখানার নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে বাধা দিলে এক নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে তার ধস্তাধস্তিও হয়। পরে তিনি কারখানার কনফারেন্স রুমে ঢুকে যান। তখন রুমে পোশাক ক্রেতাদের সঙ্গে কারখানার কর্মকর্তাদের সভা চলছিল। এ অবস্থায় রিপন রুমে ঢুকে তার হাতে থাকা ছুরি নিয়ে সবাইকে জিম্মি করে ফেলেন।
খবর পেয়ে পাহাড়তলী থানা পুলিশের একটি টিম কারখানায় ছুটে আসে। সবাই মিলে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও কিছুতেই সে তা শুনছিল না। উল্টো রুমে থাকা কয়েকজনকে হত্যার হুমকি দিতে থাকে সে। নানাভাবে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে একপর্যায়ে তাকে তার পছন্দসই খাবার খাওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। এতে রাজি হলে তাকে চাহিদামতো খাবার সরবরাহ করা হয়। পরে কৌশলে পুলিশ তার ছুরিটি জব্দ করে তাকে আটক করতে সমর্থ হয়।
এ ঘটনায় কারখানার শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এমনকি নিরাপত্তাকর্মীরাও ভীত হয়ে পড়ে। এতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ ছিল কারখানার কাজকর্ম।
অমিত ছিল রিপনের বন্ধু: বুধবার দিনগত রাত দুটায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সামনে অমিত মুহুরির পিতা অজিত মুহুরি বেশ কয়েকবার বলেছেন, রিপন তো অমিতের বন্ধু ছিল। বন্ধুই যদি হয়ে থাকে, কারাগারের ভেতরে কেন তারা প্রাণঘাতী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল? মনে হচ্ছে এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যা।
অমিত মুহুরির উত্থান যেভাবে: খুন দিয়েই অপরাধজগতে অমিত মুহুরির হাতেখড়ি। এ কারণে অপরাধজগতে নামার শুরু থেকেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেন তিনি। নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দেয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই পরিচিতি পান তিনি। অপরাধ কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় হয়ে পড়েন অমিত মুহুরি।
ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হিসেবে নগরীর নন্দনকানন, সিআরবি থেকে শুরু করে লালদীঘি, আন্দরকিল্লা পর্যন্ত তার একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম হয়। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখল- বেদখলের ঘটনায় নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি এ এলাকার অপরাধের সকল ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন তিনি।
নন্দনকাননকেন্দ্রিক যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের অনুসারী হিসেবে যুবলীগের রাজনীতিতেও তিনি হয়ে উঠেন প্রভাবশালী। দুঃসাহসিকতার জন্য দলে ছিল অমিত মুহুরির আলাদা সমাদর। নেতৃত্বের গুণাবলী এবং খুব সহজে অন্যকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা মাত্র আড়াই বছরে তাকে চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। পরিচিতির ব্যাপকতা আসে সিআরবির ডবল মার্ডারের মাধ্যমে। বারে বারে অপরাধ করেও পার পেয়ে যাওয়া অথবা গ্রেপ্তার হলেও অল্প সময়ের মধ্যে বের হয়ে আসা তাকে আরো বেপরোয়া করে তোলে।
নগরীর নন্দনকানন এলাকার বাসিন্দা অজিত মুহুরির বড় ছেলে অমিত। গ্রামের বাড়ি রাউজান পৌরসভা এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। এসএসসি পাস করেন রাউজান পৌরসভার সুরেশ বিদ্যায়তন থেকে। এর পর চট্টগ্রাম শহরে এসে ওমর গণি এমইএস কলেজে ভর্তি হলেও উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোতে পারেন নি। বন্ধুকে ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে মেরে মুহুরির উত্থান।
অমিত মুহুরি গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি ভয়ঙ্কর অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। কয়েকজনকে নৃশংস কায়দায় খুন করেন। আরো কয়েকজনকে মারাত্মক আহত করেন। সিআরবিতে জোড়া খুনের অন্যতম আসামি তিনি। ২০১৩ সালের ২৪শে জুন টেন্ডারবাজির ঘটনায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবলীগ কর্মী সাজু পালিত ও হেফজখানার ছাত্র আরমান হোসেন মারা যান। ওই ঘটনায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে গ্রেপ্তার হন অমিত মুহুরি। কিছুদিন পর জামিনে বের হয়ে এসে যুবলীগের নেতা পরিচয় দিতে শুরু করেন অমিত। এরপর এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং একইসঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়িয়ে দেন অমিত মুহুরি। ২০১৭ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি নগরীর আমতল এলাকায় খুন হন ছাত্রলীগ কর্মী ইয়াছিন আরাফাত। এ ঘটনায় অমিত মুহুরির জড়িত থাকার প্রমাণ পায় পুলিশ। অমিত মুহুরির বিরুদ্ধে একাধিক খুনসহ অন্তত ১৩টি মামলার খোঁজ পাওয়া গেছে। আরো বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

দুবাইয়ের নাইটক্লাব থেকে ৪ বাংলাদেশি কিশোরী উদ্ধার

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি নাইটক্লাব থেকে ৪ বাংলাদেশি মেয়েশিশুকে উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। গত মঙ্গলবার (২৮ মে) এসব শিশুকে আদালতে তোলা হয়। তাদের যৌনবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে দুবাই পুলিশ। গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, আল মুরাকাব্বাত এলাকার একটি নাইটক্লাবে ড্যান্সার হিসেবে কাজ করতে ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী এসব শিশুকে গত বছর আমিরাতে আনা হয়েছিল।
চলতি বছরের মার্চ মাসে দুবাই পুলিশ খবর পায় সেখানকার হোটেলে মেয়েশিশুদের ড্যান্সার হিসেবে কাজ করানো হচ্ছে। পরে হোটেলের নাইটক্লাবে অভিযান চালিয়ে ১৯ নারী ও ৫ সন্দেহভাজন অপরাধীকে আটক করে পুলিশ। সন্দেহভাজন এসব অপরাধীর বয়স ২০ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধার হওয়া সব নারী সেখানে ড্যান্সার ও যৌনবৃত্তিতে জড়িত ছিল। তাদের চার জন বাংলাদেশ থেকে আসা মেয়েশিশু।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা ওই নাইটক্লাবে অভিযান চালাই আর ভিকটিমদের উদ্ধার করে দুবাইয়ের একটি নারী ও শিশু আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাই। তিনি আরও বলেন, ‘সন্দেহভাজন অপরাধীরা মেয়েশিশুদের বয়স বেশি দেখিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে তাদের এ দেশে এনেছিল’।
১৭ বছর বয়সী এক মেয়েশিশু বলেছে, পরিবারকে সাহায্য করতে সে দুবাই আসতে রাজি হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিশু জানিয়েছে, এক লোক তার পাসপোর্ট তৈরি করার আর দুবাই আসার খরচ দেয়। ওই শিশুটি জানায়, ‘আমি ড্যান্সার হিসেবে কাজ করতে রাজি হয়েছি। কারণ, আমার পরিবার গরিব, আর তাদের টাকার দরকার’। নাইটক্লাবটির ম্যানেজার যৌনবৃত্তিরচক্র চালাতো বলে নিশ্চিত করে ওই শিশু জানায়, ‘এই দেশে আসার চারদিনের মাথায় তারা আমাদের নাইটক্লাবে নিয়ে আসে। আর জানিয়ে দেয় নাইটক্লাবে ড্যান্সার হিসেবে আমাদের কাজ করতে হবে। এছাড়া প্রতিমাসে তিন ক্রেতার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।’
গালফ নিউজের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত বছর বিভিন্ন সময়ে এসব নারীকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আনা হয়। আটক পাঁচ সন্দেহভাজন অপরাধীর বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আদালতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা। আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত মামলা মুলতবি রাখা হয়েছে। ওইদিন প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য শুনবেন আদালত।

গোয়াইনঘাটে বিলের টাকার ন্যায্য হিস্যা চাওয়ায় খুন রহিম

গোয়াইনঘাটের খাটিয়া লুম বিলের ইজারাদার লাকী গ্রামের মানুষ। প্রায় তিন বছর ধরে বিলের লভ্যাংশের কোনো টাকা পান না গ্রামবাসী। স্থানীয় মাতব্বর মনির উদ্দিনসহ কয়েকজন তিন বছরের জমানো কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টা চালায়। এতে প্রতিবাদ করেছিলেন গ্রামের আব্দুর রহিম। এ প্রতিবাদের জের ধরে গত ১৯শে মে আব্দুর রহিমকে উপর্যুপরি কুপিয়ে খুন করে মাতব্বররা। এ ঘটনার জের ধরে লাকী গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে, আহতদের গুরুতর অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় সিলেটের গোয়াইনঘাট থানায় নিহত আব্দুর রহিমের বড় ভাই ফরিদ আহমদ বাদী হয়ে মনির উদ্দিনকে   প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মৃত ইন্তাজ আলীর পুত্র সমছুল ইসলাম, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পিপড়াখাই গ্রামের মৃত হারিছ আলীর পুত্র মছব্বির আলী (৪৭), লাকী গ্রামের সমছুল ইসলামের পুত্র ছইল মিয়া, আইয়ুব আলীর পুত্র কুতুব উদ্দিন, মৃত আব্দুল করিমের পুত্র জয়নাল মিয়া, মৃত ইছরাইল আলীর পুত্র তৈয়বুর রহমান, মৃত আরজদ আলীর পুত্র আব্দুল মতিন, মৃত সোনা মিয়ার পুত্র জিয়াউর রহমান, মৃত আব্দুল খালিকের পুত্র ময়না মিয়া, মৃত খলিলুর রহমানের পুত্র আব্দুর রহিম। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়- গত ১৯শে মে বিকাল সাড়ে ৫টায় তোয়াকুল বাজার পুরাতন হাইস্কুলের মাঠে কাঠমিস্ত্রী শহিদ মিয়ার দোকানের সামনে এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। বাদীর লিখিত অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, লাকী গ্রামবাসীর মালিকানাধীন ছোট ছোট কুড়ি, বিল অর্থাৎ (জলমহাল) বিক্রির টাকা বিবাদী সমছুল ইসলাম, তৈয়বুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও ময়না মিয়া গণের কাছে জমা ছিল। ঘটনার দিন সকালে রহিম উদ্দিনসহ লাকী গ্রামের ৭-৮ জন লোক ওইসব মুরব্বিদের কাছে গ্রামের ছোট বড় কুড়ি অর্থাৎ জলমহালের টাকার বিষয়ে জানতে চান। এতে মুরব্বিরা ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন এবং আব্দুর রহিমসহ উপস্থিত ওই ৭-৮ জন লোককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এরই সূত্র ধরে ঘটনার পদন রহিম উদ্দিন তোয়াকুল বাজার পুরাতন হাইস্কুল মাঠের পাশে বসে ভলিবল খেলা উপভোগ করছিলেন। হঠাৎ মনির উদ্দিনসহ গ্রামের জলমহালের টাকা আত্মসাৎকারীরা আব্দুর রহিমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ফলে আব্দুর রহিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। এই খবরে লাকী গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষে ২০ জনের অধিক আহত হয়েছেন। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, লাকী গ্রামের ছোট বড় বেশ কয়েকটি জলমহাল রয়েছে। এইসব জলমহাল থেকে প্রতি বছর ৮০-৯০ লাখ টাকা আয় হয়। কিন্তু গ্রামের শক্তিশালী ও লাঠিয়াল বাহিনী সমছুল ইসলাম, তৈয়বুর রহমান, জিয়াউর রহমান, ময়না মিয়াসহ ১৫-১৬ জনের একটি কুচক্রি মহল প্রতি বছর ওইসব টাকা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আত্মসাৎ করেন। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরের ও বিভিন্ন জলমহাল থেকে আয়কৃত সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করার হীন উদ্দেশ্যে এ কুচক্রি মহলটি নানা টালবাহানা চালিয়ে আসছিল। ফলে আব্দুর রহিমসহ এলাকার যুব সমাজ ওইসব কুচক্রি মহলের কাছ থেকে গ্রামের টাকা আদায় করে গরিবদের মাঝে বণ্টনের চিন্তায় মগ্ন ছিলেন। এতে ঘটে বিপত্তি।

খুলনায় মানসিক ভারসাম্যহীন ভিক্ষুকের ব্যাগে ৫ লাখ টাকা

খুলনা নগরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক বৃদ্ধের ময়লা কাপড়ের ঝুলিতে প্রায় ৫ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে কৌতুহলবশত স্থানীয় কয়েকজন যুবক খালিশপুর (পিপলস) জুট মিল গেট এলাকায় তাঁর ব্যাগ তল্লাশি করলে ওই টাকা পাওয়া যায়। পরে পুলিশ টাকাসহ ওই ব্যক্তিকে নিজেদের জিম্মায় নেয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরের দৌলতপুর বাজার, বিএল কলেজ, খালিশপুর পিপলস গোল চত্বর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যক্তিকে দেখা যায়। কারও কাছে তিনি কখনো টাকা চান না। লোকজন এমনিতেই তাঁকে টাকা ও খাবার দিত।
খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরদার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁর নাম জেবাল হক বলে জানা গেছে। স্বাধীনতার পর থেকেই সে খালিশপুর অঞ্চলে পথে পথে ভিক্ষা করে। বাড়ির ঠিকানা জানতে চাইলে সে বলেছে, “লাশখানা থেকে লঞ্চে খুলনা আসছি”। বেশি টাকা হলেই সে ১০০ ও ৫০০ টাকার নোট বানিয়ে ব্যাগের মধ্যে রাখত।’
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের খালিশপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) তারিক রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তির কাছে ৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা ছিল। এই পরিমাণ টাকা একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের কাছে থাকা, যিনি রাস্তাঘাটে শুয়ে থাকেন, তা তাঁর জীবনের জন্য হুমকি। এ কারণে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। জব্দ তালিকায় টাকার ওই পরিমাণ দেখিয়ে সংরক্ষণের জন্য টাকাগুলো সরকারি কোষাগার (ট্রেজারিতে) রাখা হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য ওই ব্যক্তিকে চ্যারিটি অব মাদার তেরেসা নামের একটি সংগঠনে পাঠানো হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর তাঁর টাকা তাঁকে ফেরত দেওয়া হবে। তারপরের বিষয় তাঁর কাছে।’
খুলনায় মানসিক ভারসাম্যহীন এই ব্যক্তির ব্যাগে মিলেছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদির শপথ

দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের নেতা নরেন্দ্র মোদি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় তিনি শপথ নিয়েছেন। তার সঙ্গে শপথ নিয়েছেন মন্ত্রিসভার আরো ৫৫ জন সদস্য।
রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনে এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে প্রায় ৮ হাজার অতিথির উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ সকলকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন। ৫৫ মন্ত্রী এদিন পূর্ণমন্ত্রী, রাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
গত মন্ত্রিসভার প্রবীণ ও অভিজ্ঞদের মধ্যে অনেকেই স্বপদে বহাল আছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে দুই এক জায়গায়। এর মধ্যে সবার আগে রয়েছে, বিজেপির সভাপতি অমিত শাহকে মন্ত্রী করা।
মোদির পরপরই শপথ গ্রহণ করেন তিনি। এ ছাড়া সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্করকে মন্ত্রী করা হয়েছে।
এদিকে, মোদির গত মন্ত্রিসভার দু’টি বড় মুখ থাকছে না এবারের মন্ত্রিসভায়। এর মধ্যে প্রথম হচ্ছেন অসুস্থতার কারণে নির্বাচনে না লড়তে পারা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। দ্বিতীয় হচ্ছেন, সাবেক মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। তিনিও অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। অনেকে ধারণা করছেন, জেটলির জায়গায়ই বসতে পারেন অমিত শাহ। তবে এই পদের আরেকজন প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন স্মৃতি ইরানি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তার পারিবারিক আসন আমেথিতে হারিয়ে পুরো দেশকেই অবাক করে দিয়েছেন সাবেক এই অভিনেত্রী।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে মন্ত্রী করা হয়েছে বাবুল সুপ্রিয় এবং দেবশ্রী চৌধুরীকে। বাবুল অবশ্য আগের মন্ত্রিসভাতেও ছিলেন। তবে দেবশ্রী এবারই প্রথম রায়গঞ্জ থেকে জয়ী হয়েছেন। মন্ত্রিসভায় একমাত্র সংখ্যালঘু মুখ হলেন- মুক্তার আব্বাস নকভি। গত দু’দিন ধরে মোদি এবং শাহ একাধিকবার ম্যারাথন বৈঠক করে মন্ত্রীদের নাম চূড়ান্ত করেছেন। এদিন দুপুরের পর থেকে বিজেপি সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ভাবী মন্ত্রীদের কাছে টেলিফোনে বিকালে প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে দেখা করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
এদিন পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে ২৪ জন শপথ নিয়েছেন। এরা হলেন- রাজনাথ সিং, অমিত শাহ, নিতীন গড়গড়ি, নির্মলা সীতারমন, রবিশঙ্কর প্রসাদ, প্রকাশ জাভড়েকার, ধর্মেন্দ্র প্রধান, পীযূষ গোয়েল, সদানন্দ গৌড়া, রামবিলাস পাশোয়ান, নরেন্দ্র সিং টোমার, হরসিমরিত কাউর বাদল, টি সি গেহলট, এস জয়শঙ্কর, রমেশ পোখরিয়াল নিশান্ত, অর্জুন মুণ্ডা, স্মৃতি ইরানি, হর্ষবর্ধন, মুক্তার অব্বাস নকভি, প্রহ্লাদ যোশী, মহেন্দ্র নাথ পাণ্ডে, অরবিন্দ সাবান্ত, গিরিরাজ সিং ও গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত। এ ছাড়া রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন, সন্তোষ গাঙ্গোয়ার, কিরেণ রিজিজু, ইন্দ্রজিৎ সিং, জীতেন্দ্র সিং, প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল, আর সিং, হরপ্রিত সিং পুরী, মনসুখলাল মাণ্ডারিয়া, ফগন সিং পুলন্ত, অশ্বিনী চৌবে, অর্জুন রাম মেঘাওয়াল, জেনারেল ভিকে সিং, কৃষ্ণপাল গুর্জর, রাওসাহেব দানবে, জি কিষাণ রেড্ডি, পুরুষোত্তম রূপালা, রামদাস অটওয়ালে, সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি, বাবুল সুপ্রিয়, সঞ্জীব কুমার বালিয়ান, সঞ্জয় সামরাও, অনুরাগ সিং ঠাকুর, সুরেশ সিং বসাপ্পা, নিত্যানন্দ রাই প্রমুখ। এনডিএ’র শরিক দলগুলো থেকে একজন করে মন্ত্রী হয়েছেন। ২০১৪ সালে মোদির সঙ্গে ৪৬ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন।
পরে অবশ্য তা বেড়ে ৭০ জনে পৌঁছেছিল। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ, তার পত্নী রাশিদা খানম এবং মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এ ছাড়া যোগ দেন শ্রীলঙ্কা, কিরঘিজিস্থান, ও মিয়ানমারের রাষ্ট্র প্রধান এবং নেপাল, ভুটান ও মরিশাসের প্রধানমন্ত্রীরা। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে দেশটির কৃষিমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিমসটেকভুক্ত দেশের প্রধানদেরই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানে দেশটির সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সহ ভারতের সব রাজ্যের রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
এবারই প্রথম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকে এখন পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের সন্ত্রাসে নিহত ৫৪ জন বিজেপি নেতা ও কর্মীর পরিবারের আমন্ত্রিতরা । উপস্থিত ছিলেন, পুলওয়ামায় জঙ্গি হানায় নিহত জওয়ানের পরিবারও। তবে এদিনের অনুষ্ঠানে নিহত বিজেপি নেতা ও কর্মীদের পরিবারের উপস্থিতির প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সৌজন্যের আবহ নষ্ট করে রাজনৈতিক ‘প্রতিহিংসা’ চরিতার্থ করার অভিযোগ তুলে অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন। উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি লোকসভার ৫৪২টি আসনের মধ্যে ৩০৩টি আসন পেয়ে এককভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। আর জোট হিসেবে এনডিএ ৩৫৩টি আসনে জয়ী হয়েছে।