Showing posts with label কমল জোহা খান. Show all posts
Showing posts with label কমল জোহা খান. Show all posts

Tuesday, July 23, 2019

আলোচনা–ভাবনায় আবারও আড়িয়াল বিল by কমল জোহা খান

আড়িয়াল বিল
প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে আবারও আলোচনায় এসেছে মুন্সিগঞ্জের আড়িয়াল বিল এলাকার নাম। এই এলাকায় বিমানবন্দরটির নির্মাণকাজ সরকারের উচ্চ মহলেরও ইচ্ছে রয়েছে। বলা হচ্ছে, যাঁরা আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণে বিরোধিতা করে আন্দোলন করেছিলেন, তাঁরাও আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণের দাবি জানাচ্ছেন। তবে স্থানীয় সাংসদসহ আড়িয়াল বিল এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২০১০ সালে মুন্সিগঞ্জ জেলার আড়িয়াল বিল এলাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু পরের বছর জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হলে আন্দোলন শুরু করে আড়িয়াল বিল এলাকার মানুষ। এই আন্দোলনের মুখে সেখানে বিমানবন্দরের নির্মাণ প্রকল্পটি স্থগিত করা হয়।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিষয়ে জানতে চাইলে গত মঙ্গলবার ২ জুলাই বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব মো. মহিবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, আড়িয়াল বিলের বিমানবন্দরের বিপক্ষে যাঁরা ছিলেন, তাঁরাই সেখানে বিমানবন্দর চাইছেন। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলা হবে। তা ছাড়া যেসব এলাকা বিমানবন্দরের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে, সেসব এলাকার সাংসদদের উপস্থিতিতে একটি প্রেজেন্টেশন থাকবে। সেখানে বিমান প্রতিমন্ত্রী থাকবেন। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হবে।
সিদ্ধান্ত বদলের কারণ জানতে কথা হয় আড়িয়াল বিল রক্ষা কমিটির কার্যকরী পরিষদের সদস্য বরাইখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আমরা জুন মাসে ঢাকায় শিক্ষা ভবন মিলনায়তনে বৈঠক করি। আমাদের পরবর্তী বৈঠক ৬ জুলাই শ্রীনগর উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত হবে।’
ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের জমি এমনিই তো ডেভেলপার কোম্পানি কিনে নিত। তার চেয়ে আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর অনেক ভালো। আগে আন্দোলনের সময় আমাদের বলা হয়, ভূমিদস্যুরা জমি দখল করবে। এলাকার স্কুল-কলেজ, ঘরবাড়ি কিছু থাকবে না। তা ছাড়া বিমানবন্দর হবে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার একর এলাকাজুড়ে।
এদিকে প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। ওই বছরের জানুয়ারি থেকে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় নতুন করে বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য জায়গা চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে। প্রকল্পটির জন্য মাদারীপুরের শিবচরের চর জানাজাত, ঢাকার দোহারের চর বিলাসপুর, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের কেয়াইন ও লতব্দি এলাকাকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়। পরের বছর ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নতুন করে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সঙ্গে এক চুক্তির মাধ্যমে জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিপ্পন কোয়ি লিমিডেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি নতুন বিমানবন্দরের জন্য ১৮ মাসের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই, স্থান নির্ধারণ ও বিমানবন্দরের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করবে বলে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, নিপ্পন কোয়ি লিমিটেড প্রাথমিকভাবে মাদারীপুর জেলার শিবচর ও শরীয়তপুর জেলার জাজিরায় নতুন বিমানবন্দরের জন্য সম্ভাব্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। কিন্তু দুটি এলাকা ঘন জনবসতিপূর্ণ। এ ছাড়া এসব এলাকায় খাসজমি বেশ কম। তাই জাজিরা ও শিবচর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য অনুপযোগী। এ কারণে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নিপ্পন কোয়ি লিমিটেডকে বিমানবন্দর নির্মাণের স্থান হিসেবে কম ঘনবসতিপূর্ণ ও খাসজমি বেশি রয়েছে এমন এলাকা বেছে নিতে বলে বেবিচক।
বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চলতি জুলাই মাসে বেবিচকের কাছে নতুন বিমানবন্দরের সম্ভাব্য এলাকার বিষয়ে উপস্থাপনা তুলে ধরবে নিপ্পন কোয়ি লিমিটেড। সম্ভাব্য স্থানগুলোর ভালো–মন্দ সব বিষয় সম্পর্কে এই উপস্থাপনায় ধারণা পাওয়া যাবে।
বেবিচকের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান নাইম হাসান প্রথম আলোকে বলেন, সম্ভাব্য সব এলাকা নিয়ে প্রেজেন্টেশন (উপস্থাপনা) দেবে জাপানিরা। আড়িয়াল বিলও এর মধ্যে রয়েছে। বিমানবন্দর আগের মতো এলাকা নিয়েই নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। লম্বায় ৮ কিলোমিটার ও প্রস্থে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিমানবন্দরটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের ব্যাপারে ২০১০ সালের ২৯ আগস্ট অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকে প্রকল্পটি সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। ২০১০ সালে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য প্রাক্‌-সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটি সাতটি স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করে তিনটি স্থানের নাম প্রস্তাব করে। এর মধ্যে একটি স্থান ছিল ময়মনসিংহের ত্রিশাল। অন্যটি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর। পরে ওই তিনটি স্থান থেকে সরে আসে সরকার। এরপর এ-সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশে ২০১০ সালের নভেম্বরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য মুন্সিগঞ্জের আড়িয়াল বিলকে চূড়ান্তভাবে বেছে নেওয়া হয়।
কিন্তু আড়িয়াল বিলে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হলে এলাকাবাসী বিরোধিতা করেন। ২০১১ সালের শুরুতেই বিমানবন্দরের বিরোধিতা করে ‘আড়িয়াল বিল রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা বলেন, আড়িয়াল বিলের প্রতি একর জমিতে ১০০ মণ ধান হয়। শুষ্ক মৌসুমে হয় রবিশস্য। বর্ষায় মাছ চাষ ছাড়াও লাখ লাখ টাকার শামুক হয়। এ শামুক বিক্রি করেও অনেকের জীবিকা চলে। বিমানবন্দর নির্মাণ করা হলে আড়িয়াল বিল এলাকার লোকজন এসব কিছুই হারাবেন। জীবিকা নির্বাহের আর কোনো পথ থাকবে না।
ওই বছর ৩১ জানুয়ারি গ্রামবাসী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। আহত হয় কয়েক শ লোক। এরপর সরকার আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণের প্রকল্পটি স্থগিত ঘোষণা করে।
যে কারণে নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: বাংলাদেশে আকাশপথে বিমান চলাচলের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। তাই নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের প্রয়োজন বলে বেবিচক সূত্রে জানা গেছে। ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নিপ্পন কোয়ি লিমিটেডের সঙ্গে সমীক্ষা চুক্তির পর বেবিচকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি রানওয়ে আছে। এর যাত্রী ধারণের ক্ষমতা বছরে ৮০ লাখ। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই বিমানবন্দরের ধারণক্ষমতার সবটুকু ব্যবহৃত হয়ে যাবে। তাই ২০১০ সালে জাতির পিতার নামে নতুন এই বিমানবন্দর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তা ছাড়া ১৯৬৫ সালে শাহজালাল বিমানবন্দরের নকশা করা হয়েছিল। ১৯৮১ সালে বিমানবন্দরটি চালু হয়। এটি প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো হয়েছে। আধুনিক বিমানবন্দরের সুযোগ-সুবিধা শাহজালাল বিমানবন্দরে নেই বললেই চলে। তাই নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ করা ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় নেই।
আড়িয়াল বিল ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জ জেলা এবং পদ্মা নদীর মাঝখানে ছিটমহলসম জলাভূমি অঞ্চল। বিলের দৈর্ঘ্য ২৬ মাইল এবং প্রস্থ ১০ মাইল। অর্থাৎ মোট আয়তন ২৬০ বর্গমাইল বা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬০০ একর। ২০১০ সালে প্রস্তাবিত প্রকল্পে ১০ হাজার একর জমি বিমানবন্দরের জন্য এবং ১৫ হাজার একর বঙ্গবন্ধু সিটির জন্য অধিগ্রহণ করা হবে। শ্রীনগর উপজেলার ১৪টি মৌজা, নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৮টি মৌজা ও দোহার উপজেলার ৭টি মৌজা থেকে এই ২৫ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি আড়িয়াল বিলে প্রস্তাবিত বিমানবন্দর ফিরিয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান বিকল্প ধারার বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মুন্সিগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর) আসনের সাংসদ মাহী বি চৌধুরী।
আড়িয়াল বিল। ছবি: সুহাদা আফরিন



Friday, June 7, 2019

‘কাতার ইমিগ্রেশন আমাকে আটক করেনি’ -পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ by কমল জোহা খান

প্রথম আলো, ০৭ জুন: পাসপোর্ট ছাড়া কাতারে গেলেও দোহার হামাদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ চৌধুরীকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। কাতারে অবতরণের পর পাসপোর্ট না পেয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এরপর হামাদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের ভেতরে হোটেলে ছিলেন। বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট যাওয়ার পর ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন ফজল মাহমুদ। এখন তিনি কাতারেই অবস্থান করেছেন। খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন বলে জানান ফজল মাহমুদ।
আজ শুক্রবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে এসব কথা বলেন তিনি।
নিজের ভুলের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে জানিয়ে ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত ৩ জুন ডলার এনডোর্স করতে ঢাকার একটি ব্যাংকে গিয়েছিলাম। ব্যক্তিগত একটি ছোট ব্যাগে পাসপোর্টটি ছিল। ব্যাংকের কাজ শেষ করে শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্লাইট অপারেশন অফিসে যাই। সেখানে ব্যাগটি রেখে আসি। অফিসের সহকর্মীরা ব্যাগটি দেখে আমার লকারে রেখে দেন।’
ফজল মাহমুদ জানান, ৫ জুন রাতে ফ্লাইটে ঢাকা থেকে দোহায় যান তিনি। ঢাকায় শাহজালাল বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে তাঁর দুই আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। এরপর পাসপোর্টও দেখতে চাওয়া হয়নি। রাতে দোহায় বিমান অবতরণের পর অফিশিয়াল ব্যাগ থেকে খুঁজতে গিয়ে পাসপোর্ট পাননি। তখন দোহা এয়ারপোর্টে বিমানের স্টেশন ম্যানেজারের সঙ্গে যোগযোগ করেন। এ ছাড়া ঢাকায় বিমান অফিসে কথা বলেন। তখন লকারে থাকা তাঁর ব্যক্তিগত ছোট ব্যাগে পাসপোর্ট রয়েছে বলে জানাতে পারেন। পরে অন্য ফ্লাইটে পাসপোর্টটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পাসপোর্ট না থাকায় তিনি দোহা বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে যাননি। বিমানবন্দরের ভেতরে অরিক্স এয়ারপোর্ট হোটেলে ছিলেন। পরদিন ৬ জুন পাসপোর্ট পেয়ে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করান। কাতার ইমিগ্রেশনের পক্ষ থেকে পাসপোর্টের বিষয়ে ফজল মাহমুদের কাছে কিছু জানতে চাওয়া হয়নি বা আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। এমনকি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেও কোনো অভিযোগ করেনি।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, ফজল মাহমুদ প্রায় ৩০ বছর ধরে বিমানের পাইলট হিসেবে ফ্লাইট পরিচালনা করছেন। অভিজ্ঞতার কারণে বিমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটগুলো তিনিই পরিচালনা করে থাকেন।
ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ বলেন, ‘আমার দীর্ঘ পেশাগত জীবনে এ ধরনের ভুল কখনো হয়নি। পাসপোর্ট না থাকলে বিদেশের বিমানবন্দরগুলো থেকে ওই যাত্রীকে ফিরতি ফ্লাইটে ফেরত পাঠানো হয়ে থাকে। ফ্লাইটে না ওঠা পর্যন্ত ইমিগ্রেশন থেকে বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে থাকতে হয়। ৬ মে দোহা বিমানবন্দরে পাসপোর্ট না থাকায় আমি ওখানকার ইমিগ্রেশন যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত অরিক্স এয়ারপোর্ট হোটেল থাকি। পাসপোর্ট পেয়ে ৬ জুন রাতে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করি।’
বিমানের ফ্লাইট পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের যেকোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট ছাড়ার আগে পাইলট, কেবিন ক্রুদের জেনারেল ডিক্লারেশন ফরম পূরণ করতে হয়। এই ফরমে পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ, গন্তব্যসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ করতে হয়। এ ছাড়া তাঁদের ব্যক্তিগত পাসপোর্ট অবশ্যই সঙ্গে নিতে হয়। এরপর বিদেশে পৌঁছানোর পর ওই দেশের বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট দেখিয়ে বিমানবন্দর থেকে বের হতে হয়।
ফিনল্যান্ড সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে গতকাল বুধবার রাতে বিমানের একটি ফ্লাইটে করে ঢাকা ছেড়ে কাতারের উদ্দেশে রওনা দেন ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ। কিন্তু পাসপোর্ট না থাকায় দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের স্টাফদের জন্য নির্ধারিত হোটেলে যেতে পারেননি তিনি। এরপর কাতার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদকে আটক করেনি বলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়। এ ব্যাপারের বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ প্রথম আলোকে বলেন, পাসপোর্টবিহীন থাকার কারণে ফজল মাহমুদকে কাতার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আটক করেনি। এ বিষয়ে ভুল তথ্য এসেছে।
এ ব্যাপারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মুহিবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের পাসপোর্টটি কাতারে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বদলে বিকল্প পাইলট কাতারে যাচ্ছেন। যিনি ওখানে রয়ে গেছেন, তাঁর দেশে ফিরে আসতে হলেও তো পাসপোর্টটি পাঠিয়ে দিতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না? জানতে চাইলে বিমানসচিব বলেন, ‘তাঁকে পানিশমেন্ট (শাস্তি) দিতে হলেও তো পাসপোর্টটি পাঠাতে হবে। তিনি দেশে ফিরে আসার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে পাসপোর্টবিহীন অবস্থায় কাতার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে ‘আটক’ হয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে আজ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ক্যাপ্টেনসহ পাসপোর্টবিহীন বিমানে ভ্রমণ এবং ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করার জন্য আন্তমন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চার সদস্যের এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগমকে।
কমিটিকে ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ চৌধুরীর পাসপোর্টবিহীন অবস্থায় দোহা ভ্রমণের কারণ অনুসন্ধান, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষে দায়িত্ব অবহেলার বিষয়ে দায়দায়িত্ব নিরূপণ এবং বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কার্যপদ্ধতির ত্রুটি নিরূপণ করতে বলা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গঠিত কমিটিতে তিন কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে একটি প্রতিবেদন দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহন করতে কাতার যাওয়া উড়োজাহাজের পাইলটের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ চৌধুরীকে। তাঁর পরিবর্তে বিমানের জ্যেষ্ঠ পাইলট ক্যাপ্টেন আমিনুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আজই তাঁর কাতার যাওয়ার কথা রয়েছে।

Thursday, February 21, 2019

ছবি হাতে রোহানের খোঁজে স্বজনেরা by মোশতাক আহমেদ ও কমল জোহা খান

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র তানজিল হাসান রোহান বন্ধুদের সঙ্গে গত রাতে খেতে গিয়েছিলেন চকবাজার এলাকায়। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল রাত ১০টা ১০ মিনিটে নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুড়িহাট্টা মসজিদ গলির ওয়াহেদ ম্যানসনে আগুন লাগে। এরপর সেই আগুন পাশের কয়েকটি ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে।
রাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, ওয়াহেদ ম্যানসন পাশে বেশ কিছু রেস্তোরাঁ রয়েছে। যেগুলোর প্রতিটিতে চার থেকে পাঁচটি করে গ্যাসের সিলিন্ডার রয়েছে। আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার কারণে গ্যাস সিলিন্ডারগুলো বিস্ফোরিত হয়।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী সকাল সাড়ে আটটার দিকে ব্রিফিংয়ে জানান, ৭০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও লাশ থাকতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর রোহানের স্বজনেরা মর্গে রোহানের লাশের খোঁজ করছেন। এসেছিলেন ছোট ভাই, মা, নানি। রোহানের খোঁজে দুপুরে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের ঢাকা মেডিকেলে এসে আহাজারি করতে দেখা যায়। তাঁরা জানান, রোহানসহ ৫ বন্ধু মিলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। ওয়াহেদ ম্যানসনের পাশে হোটেল খেতে গিয়েছিলেন তাঁরা।
স্বজনেরা জানান, রোহানের মোটরসাইকেলে ছিলেন আরাফাত। আরাফাতের লাশ পাওয়া গেছে। বাকি তিনজন বেঁচে আছেন। ওই তিনজন ছিলেন আরেক মোটরসাইকেলে।
রোহানের বাসার গৃহশিক্ষক তারেকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে রোহানের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এখন রোহানের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর খোঁজ করা হচ্ছে। রাত থেকে কোথাও তাকে না পেয়ে শেষে হাসপাতালে খুঁজতে এসেছেন। কিন্তু এখনো সন্ধান পাননি।
হাসপাতালের মর্গের সামনে তাঁর স্বজনেরা ছবি নিয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে যাচ্ছেন। সেখানে বয়স্ক এক ব্যক্তি একটি ছবি হাতে পুলিশের কাছে রোহানের খোঁজ করছিলেন। তাঁর নাম লোকমান খান। তিনি রোহানের চাচা।
লোকমান খান বলেন, গতকাল রাত এগারোটার পর থেকে রোহানের খোঁজ নেই। তাদের বাসা পুরান ঢাকার আগামসি লেনে। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে।
লোকমান খান বলেন, তার ভাতিজা নর্থ সাউথের বিবিএ পড়ত। গতকাল রাতে বন্ধুদের সঙ্গে খেতে যাওয়ার পর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত তাকে শনাক্ত করা যায়নি। রোহানরা তিন ভাই এক বোন। তাদের মধ্যে রোহান বড়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এখন অনেক শোকার্ত মানুষের ভিড়। কেউ স্বজন হারিয়েছেন। কেউবা তাদের খোঁজে এসেছেন। ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ জানান, এখানে ৬৭টি লাশ আনা হয়েছে। এর মধ্যে বেশকিছু লাশ পুড়ে কয়লার মতো হয়ে গেছে। কিছু লাশ আছে চেহারা দেখে শনাক্ত করা যাবে।

Thursday, June 11, 2015

বিধি বামে ধরা খেল তিন ছিনতাইকারী by কমল জোহা খান

থানা থেকে আদালতে যাওয়ার পথে
ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার তৌহিদুল
ইসলাম। ছবি : কমল জোহা খান
অস্ত্রশস্ত্র কিছুই নেই। আছে কেবল দুই ফুট লম্বা স্টিলের একটি দণ্ড। দণ্ডের মাথায় হুক। প্রাইভেট কারে বসে এই দণ্ড দিয়েই রাজপথে থাকা পথচারী ও যাত্রীদের ব্যাগ ছিনিয়ে পালায় তারা। এভাবেই চলছিল। বিধি বাম হওয়ায় অবশেষে ধরা পড়েছে তিনজনের ছিনতাইকারী দলটি।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের কাছের সড়কে ওই তিনজন ধরা পড়ে। তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে। আজ বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া তিন ব্যক্তি হলেন তৌহিদুল ইসলাম (৩৫), মো. জসিম (৩৫) ও মাসুদ রানা (৩০)।
আজ সকালে আদালতে পাঠানোর সময় পুলিশের প্রিজনভ্যানে উঠতে উঠতে গ্রেপ্তার হওয়া তৌহিদুল বলেন, ‘এমন কাম আর করুম না। ভুল করছি।’
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, গতকাল রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের সড়কে রীতা চৌধুরী নামের এক রিকশাযাত্রীর ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে প্রাইভেট কারে (ঢাকা মেট্রো গ ১২-০০৬৫) করে পালাচ্ছিল একটি ছিনতাইকারী দল। পালানোর সময় গাড়িটি যানজটে আটকে যায়। পুলিশ ও জনতা দৌড়ে গিয়ে তাদের ধরে ফেলে। উত্তেজিত জনতা তাদের মারধরও করে। পরে ওই তিনজনকে আটক করে শেরেবাংলা নগর থানায় নেয় পুলিশ। দিবাগত রাত ১২টার দিকে একই থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন ছিনতাইয়ের শিকার রীতা চৌধুরী।
ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার
রীতা বলেন, ছিনতাইকারীরা ধরা পড়ার পর ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও খুচরা টাকা ফেরত পেয়েছেন তিনি। তবে ব্যাগের ভেতরে থাকা ২৭ হাজার টাকা পাওয়া যায়নি বলে তাঁর দাবি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এক সহকর্মীকে নিয়ে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক থেকে রিকশায় করে ন্যাম ভবনে আসছিলেন তিনি। পেছন থেকে প্রাইভেট কারে আসা ছিনতাইকারীরা আচমকা তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগটি টান দিয়ে নিয়ে যায়।
রীতা বলেন, ‘তাকিয়ে দেখি, গাড়ির ভেতরে বসা এক ব্যক্তির হাতে থাকা একটা দণ্ডের মাথায় আমার ব্যাগটি ঝুলছে। গাড়িটি দ্রুত চলে যাচ্ছে।’ তাঁর ভাষ্য, ঘটনার পর চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ওই গাড়িটিকে ধাওয়া করে। পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানও এগিয়ে আসে। একপর্যায়ে গাড়িটি খেজুর বাগানের সামনে যানজটে আটকে যায়। তাদের ধরে ফেলে পুলিশ ও জনতা।
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে টহল পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘খেজুর বাগানের সামনের সড়কে প্রচুর গাড়ি আটকে ছিল। ছিনতাইকারীদের ব্যবহার করা গাড়িটি সেখানে আটকে যায়। পরে গাড়ির ভেতরে থাকা তিনজনকে আটক করা হয়।’
শেরেবাংলা থানা সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। ২০১২ সালে তেজগাঁও এলাকায় মাদকসহ আটক হয় জসিম। সপ্তাহ দু-এক আগে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সাদাপোশাকে থাকা পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) ওপর হামলা করেছিল এই ছিনতাইকারী দলটি।