Monday, January 3, 2011

সৃজনশীল শিশু এবং আমাদের দায়িত্ব by সরকার আবদুল মান্নান

প্রতিটি শিশুই অফুরন্ত সৃষ্টিশীলতার আধার। তার ভাবনার পরিধি, কল্পনা করার সীমা ও স্বপ্নের মানচিত্র অফুরন্ত। আমরা যাঁরা বুড়োর দল—মা-বাবা, ভাইবোন, শিক্ষক, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলের মধ্যে তাদের সম্ভাবনার সীমা নির্ধারণ করে ফেলি। এটি আমাদের চতুরতা, বোকামি বা নির্বুদ্ধিতা। আমরা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভাবি; পড়াশোনায় ভালো করা ছাড়া যে ভবিষ্যৎ গড়া যায় না। শিশুকে পড়াশোনায় ভালো করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নিতে হবে, ডাক্তার হতে হবে, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। এই হলো শিশুদের নিয়ে আমাদের প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আমরা শিশুটির ওপর অত্যাচার করব; তার ইচ্ছা-অনিচ্ছা, ভালো লাগা-মন্দ লাগা; তার নিজস্ব শখ-শৌখিনতা ইত্যাকার সবকিছুকে পিষে মেরে আমরা তাকে আমাদের প্রকল্পের জন্য উপযোগী করে গড়ে তুলব। শিশুটি যে আলাদা মানুষ এবং বলতে হয়, সম্পূর্ণই আলাদা, সে বিবেচনা আমরা কখনোই করি না। তার অফুরন্ত সম্ভাবনার মধ্যে বহু কিছু হয়ে ওঠার গোপন প্রক্রিয়ার মধ্যে লেখাপড়ায় ভালো করা না-করা যে মাত্র একটি, এ কথা আমরা বিশ্বাস করি না, মানি না। দোষ দেব কাকে? প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সংগঠনের প্রকৃতিটাই এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে অভিভাবক বা শিক্ষকদের নতুন পথে ভাববার কোনো সুযোগ থাকে না।
আমাদের শিশুশিক্ষার পুরো আয়োজনটি শিশুর নিজের মতো করে বেড়ে ওঠার পরিপন্থী, তার অনন্য প্রতিভার বিকাশের পরিপন্থী, সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পরিপন্থী, মানবিক গুণাবলি এবং সৌন্দর্যবোধসম্পন্ন রুচিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পরিপন্থী, আদর্শ ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হয়ে ওঠার পরপন্থী।
কতগুলো প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করিয়ে পরীক্ষায় ভালো করানো স্কুলের অঙ্গীকার হতে পারে না। এমনকি শিক্ষার্থীকে শেখানোও শিক্ষকের দায়িত্ব নয়। শিক্ষকের দায়িত্ব হলো, শিক্ষার্থীকে শেখার পদ্ধতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। একজন দাবা খেলোয়াড় প্রথমে দাবা খেলার পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হয়, দাবা খেলার নিয়মকানুনের সঙ্গে পরিচিত হয়। কিন্তু সে যখন দাবা খেলে, তখন প্রতিটি নতুন পরিস্থিতিতে সে দাবা খেলার নিয়মের বই দেখে নিশ্চয়ই চাল দেয় না; বরং নিয়মের আওতায় সে তার নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে, সৃষ্টিশীল প্রতিভা দিয়ে প্রতিটি নতুন পরিস্থিতি অতিক্রম করতে চেষ্টা করে। জ্ঞানার্জনের বিষয়টিও একই রকম। শিক্ষক জ্ঞানার্জনের নিয়মনীতি ও পদ্ধতির সঙ্গে শিক্ষার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেবেন। শিক্ষার্থী সব নতুন পরিস্থিতিতে সেই নিয়ম-রীতিকে প্রয়োগ করে সমস্যার একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্তে উপনীত হবে। এ ক্ষেত্রে সে ব্যবহার করতে শিখবে তার যুক্তিমনস্কতা, কল্পনাপ্রতিভা, সৃষ্টিশীলতা, মনন ও বুদ্ধিমত্তা। যদি দক্ষতার এই স্তরে একজন শিক্ষার্থীকে পৌঁছে দেওয়া যায় অর্থাৎ তার পাঠ্যভুক্ত জ্ঞানের জগৎ নিয়ে তাকে চিন্তা করতে শেখানো যায় এবং জীবনযাপনের কোন কোন স্তরে কীভাবে সেই জ্ঞানকে ব্যবহার করা যায়, ইত্যাকার বিষয় সম্পর্কে যদি শিক্ষার্থীকে কৌতূহলী করে তোলা যায়, তাহলে রাত জেগে পাঠ্যপুস্তক কিংবা নোট মুখস্থ করার যন্ত্রণা আর থাকে না। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর এই স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন যে পাঠ্য বিষয়কে সে তার নিজের মতো করে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতে পারবে এবং উক্ত পাঠের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সব বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যাপারটাই কোনো কোনো শিশুর জন্য কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, ওই সব শিশু অপদার্থ। বরং এদের মধ্যে যে বহুতর সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে, সেই সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করার জন্যই স্কুলগুলোতে আছে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম। খেলাধুলা, গান, আবৃত্তি, নৃত্য, নাটক, লেখালেখি, বিজ্ঞান মেলা ইত্যাকার নানা বিষয় সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের অংশ। স্কুলে লেখাপড়ার মতো সমান গুরুত্ব দিয়ে যদি সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যেত, পড়াশোনায় সর্বোচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীর মতো একজন খেলোয়াড় শিক্ষার্থী, একজন আঁকিয়ে শিক্ষার্থী, একজন গায়ক শিক্ষার্থী, একজন লিখিয়ে শিক্ষার্থীকে যদি মর্যাদা দেওয়া যেত এবং শিক্ষার্থীর ভালো লাগার জগৎটিকে তার জন্য উন্মুক্ত ও অবাধ করে দেওয়া যেত, তাহলে লেখাপড়া করে প্রতিষ্ঠিত হওয়াই প্রতিষ্ঠার অবিকল্প বিষয় হতো না। অভিভাবক ও শিক্ষকেরাও শুধু পরীক্ষায় ভালো করানোর জন্য শিক্ষার্থীর ওপর নিরবচ্ছিন্ন অত্যাচার করে যেতেন না।
কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীবান্ধব এই পরিস্থিতি কখনোই ছিল না, আজও নেই এবং কখনোই হবে কি না, তা-ও বলা যায় না। স্কুলগুলোতে খেলাধুলা নেই, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নেই, লেখালেখি করার সুযোগ নেই, আঁকিবুঁকি করার সুযোগ নেই। এককথায় খাতা-কলমে লিখে পরীক্ষা দেওয়া ছাড়া শিক্ষার্থীর বিচিত্র প্রতিভা বিকাশের আর কোনো উপায় নেই। কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বছরান্তে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, খেলাধুলার আয়োজন করে। এসব একান্তই প্রথাগত, কতটা লোকদেখানো। এর সঙ্গে শিক্ষার্থীর অনন্য প্রতিভার স্ফুরণ তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলার কোনো সম্পর্ক নেই। কেননা, বছরান্তে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠান দিয়ে সত্যিকার অর্থেই শিক্ষার্থীদের অনন্য প্রতিভাকে চিহ্নিত করা যায় না।
একটি ইতিবাচক উদাহরণ দিই। ২০০৫ সাল থেকে ‘ঐতিহ্য-গোল্লাছুট-প্রথম আলো গল্পলেখা প্রতিযোগিতা’র আয়োজন করছে। সেই আয়োজনটি বিপুল এক প্রাণের মেলা। কী নিয়ে? শিশুদের গল্প লেখা নিয়ে। কত শিশু যে গল্প লিখছে, প্রতিযোগিতায় গল্প নিয়ে এসেছে, তার ইয়ত্তা নেই। এর মধ্যে অনেক শিশু নিজেকে খুঁজে পেল লেখক হিসেবে। স্বপ্নের এই আহ্বান থেকে, কল্পনা প্রতিভার এই বিস্ময়কর বিকাশ থেকে হয়তো কোনো দিন আর তাকে ফিরে আসতে হবে না। ২০১০ সালের প্রতিযোগিতায় সর্বসেরা গল্পকার লুবাবা নাওয়ার তাই স্বপ্ন দেখে বড় লেখক হওয়ার। আমাদের স্কুলগুলো কি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখাতে পারে—কবি হওয়ার স্বপ্ন, ঔপন্যাসিক হওয়ার স্বপ্ন, গল্পকার হওয়ার স্বপ্ন, নাট্যকার হওয়ার স্বপ্ন, প্রাবন্ধিক হওয়ার স্বপ্ন, খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন, গায়ক হওয়ার স্বপ্ন, গবেষক হওয়ার স্বপ্ন, চিত্রশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন, বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন, মানবদরদি ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন, আদর্শ শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন, জনদরদি রাজনীতিবিদ হওয়ার স্বপ্ন, সৎ ও দক্ষ আমলা হওয়ার স্বপ্ন, দেশপ্রেমিক সৈনিক হওয়ার স্বপ্ন? শিশুর মধ্যে তো স্বপ্নেরা ঘুমিয়ে থাকে। মায়ামমতার সোনার কাঠির স্পর্শে জাগিয়ে তুলতে হয় সেই স্বপ্ন। এর জন্য দরকার স্বপ্নবান শিক্ষক। স্বপ্নের বেসাতি ছাড়া শিশুকে দেওয়ার আর কী থাকতে পারে একজন শিক্ষকের? কিন্তু হায়! সেই শিক্ষক কোথায়? কোথায় সেই আয়োজনে পরিপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান?
ড. সরকার আবদুল মান্নান: প্রাবন্ধিক, গবেষক।

নাইজেরিয়ায় বোমা হামলায় নিহত ১১

নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় নববর্ষের প্রাক্কালে বোমা হামলায় ১১ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছে। আবুজায় সামরিক বাহিনীর ছাউনির কাছে একটি জনবহুল বাজারে গত শুক্রবার রাতে এ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, তিন মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার আবুজায় এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটল।
১৯৯৯ সালে নাইজেরিয়ায় গণতন্ত্র ফিরে আসার পর এবারই প্রথমবারের মতো সামরিক বাহিনীর একটি ছাউনির কাছে বোমা হামলা হলো।আবুজার পুলিশের মুখপাত্র মোসুদ জিমোহ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, বোমা হামলায় ১১ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছে।

ইউক্রেনে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে স্তালিনের ভাস্কর্য

ইউক্রেনে স্থানীয় কমিউনিস্ট পার্টির কার্যালয়ে ঢুকে সাবেক সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্তালিনের ভাস্কর্য উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে জাপোরিঝিয়া শহরে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১১টার দিকে একজন সন্ত্রাসী কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক সদর দপ্তরে প্রবেশ করে। কয়েক মিনিটের মধ্যে সে সেখানে থাকা স্তালিনের ভাস্কর্য লক্ষ্য করে বিস্ফোরক দ্রব্য ছুড়ে মারে। এতে ভাস্কর্যটি ধ্বংস হয়ে যায়।বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনায় পার্টির কার্যালয় বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ‘ডানপন্থীদের পক্ষ থেকে কেউ এই কাজ করেছে। এটি সন্ত্রাসী কাজ বলে মনে করি।’

শ্রীলঙ্কায় আগামী মার্চে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

শ্রীলঙ্কায় আগামী মার্চের মাঝামাঝি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তামিলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অবসানের পর দেশটিতে এটাই প্রথম স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তবে এ নির্বাচনকে ক্ষমতাসীন দলের জন্য বড় ধরনের পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিব মৈথরিপলা সিরিসেনা জানান, মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্থানীয় সরকার প্রশাসন ভেঙে দেওয়া হবে। আগামী মার্চের মাঝামাঝি সময়ে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

উইকিলিকসের পক্ষ নেওয়া হ্যাকারদের চিহ্নিত করছে এফবিআই

উইকিলিকসের পক্ষ নিয়ে পেপ্যালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে হামলাকারী হ্যাকারদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)। মার্কিন গণমাধ্যমে গত শুক্রবার এই খবর প্রকাশিত হয়।
এদিকে মিসরের সামরিক বাহিনীর ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গোপন নথি ফাঁস করে বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রকাশিত নথি থেকে এই তথ্য জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পর মিসরকেই সবচেয়ে বেশি সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে।দ্য স্মোকিং গান-এর ওয়েবসাইটে উইকিলিকসের পক্ষ নেওয়া হ্যাকারদের বিরুদ্ধে এফবিআইয়ের তদন্ত সম্পর্কে অনেক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, এফবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তারা এরই মধ্যে ইউরোপ, কানাডা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন।গোপন নথি ফাঁস করার কারণে পেপ্যাল, ভিসা ও মাস্টারকার্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উইকিলিকসের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করে। এর প্রতিবাদে উইকিলিকসের পক্ষ নিয়ে হ্যাকাররা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা চালায়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় এফবিআইয়ের তদন্তে ধরা পড়ে কানাডা থেকে একজন হ্যাকার সাইবার হামলা চালিয়েছে। এর মূল সার্ভার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। তা-ও জানতে পারেন তাঁরা। প্রায় একই সময়ে জার্মানির ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশের (বিকেএ) তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক একটি কোম্পানির আইপি ঠিকানা ব্যবহার করে পেপ্যালের ওয়েবসাইটে হামলা চালানোর বিষয়টি ধরা পড়ে।
স্মোকিং গান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এফবিআই ওই কোম্পানিতে অভিযানও চালিয়েছে। এফবিআই এখন তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। উইকিলিকসের প্রকাশিত গোপন নথিতে দেখা যায়, মার্কিন কূটনীতিকেরা মিসরের সামরিক বাহিনী নিয়ে হতাশ। যথেষ্ট সহায়তা সত্ত্বেও সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়ন না করায় এই হতাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।

ব্রাজিলের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন দিলমা

নতুন বছরের শুরুতে ব্রাজিলের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন দিলমা রোসেফ। গতকাল শনিবারই তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার কথা। দিলমার দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটির জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভার মেয়াদ শেষ হবে।শনিবার স্থানীয় সময় বেলা সোয়া দুইটার দিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দিলমার দায়িত্ব নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। সেই ভাষণে দেশ পরিচালনার দিকনির্দেশনা থাকবে।৬৩ বছর বয়সী দিলমা দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে চার বছর দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে দিলমা বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট লুলার নীতি নিয়েই এগিয়ে যাবেন। তাঁর প্রধান কাজ হবে দেশের ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমিয়ে আনা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ ও ২০১৬ সালে অলিম্পিক গেমসের আয়োজন তাঁর মেয়াদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
লুলা ২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। পরে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য পুনর্নির্বাচিত হন তিনি। আট বছরের শাসনামলে ব্রাজিলের অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই প্রেসিডেন্ট লুলার বড় অর্জন বলে ধরে নেওয়া হয়।

বৈরিতা নয়, সিউলের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাইল পিয়ংইয়ং

নতুন বছরের শুরুতেই বৈরী রাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের আহ্বান জানাল উত্তর কোরিয়া। গতকাল শনিবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত শীর্ষস্থানীয় তিনটি পত্রিকায় একযোগে প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সংঘাতমূলক অবস্থার দ্রুত অবসান হওয়া উচিত। এ পরিস্থিতি থেকে দুই দেশ যত দ্রুত বের হতে পারবে, ততই মঙ্গল বয়ে আনবে।’ এতে আলাপ-আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতাকে উৎসাহিত করা উচিত। কোরীয় উপত্যকা থেকে যুদ্ধের আশঙ্কা দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় সম্পাদকীয়তে।কমিউনিস্ট শাসিত উত্তর কোরিয়ায় ওই পত্রিকাগুলোতে নববর্ষ উপলক্ষে লেখা সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, আন্তকোরীয় সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য এ বছর তাদের আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আলোচনা ও সহযেগিতার একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করার জন্য তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে। সবকিছুর ওপর স্থান দিতে হবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় স্বার্থকে।তবে, দক্ষিণ কোরিয়ার এই শান্তির পদক্ষেপকে অনেকে দেখছেন দেশটির নতুন নেতার জন্য পথ পরিষ্কারের উদ্যোগ হিসেবে। সিউলের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক ইয়াং মু-জিন মনে করছেন, পিয়ংইয়ং এই মুহূর্তে কোরীয় উপত্যকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চাইছে, যাতে তাদের নতুন নেতা কিম জং উন শান্তিপূর্ণ একটি পরিবেশে দায়িত্ব নিতে পারেন। উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং ইলের ছোট ছেলে উন। স্বাস্থ্যগত কারণে কিম জং ছেলের হাতেই ক্ষমতা ছেড়ে দিতে যাচ্ছেন। উনকে সম্প্রতি জেনারেলের পদে উন্নীত করা হয়, দেওয়া হয় ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষস্থানীয় পদ।সম্পাদকীয়তে অবশ্য কিছু সতর্কবাণীও উচ্চারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, তারা দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া এবং অস্ত্র ও সমরশক্তি বাড়ানোর ওপর নজরদারি অব্যাহত রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়, বাইরের কোনো শক্তি যাতে তাদের নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে না পারে, সে ব্যাপারেও তারা সদা সতর্ক থাকবে।গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার একটি দ্বীপে উত্তর কোরিয়া অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন বেসামরিক দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক নিহত হন। এরপর গত ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ‘পবিত্র যুদ্ধে’র ঘোষণা দেয় উত্তর কোরিয়া। প্রয়োজনে তারা পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে বলেও হুমকি দেয়।

আইভরি কোস্টে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

আইভরি কোস্টে যেকোনো সময় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট লঅন্ত বাগবোকে পদত্যাগ করতে গত শুক্রবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন দেশটির আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সমর্থিত প্রেসিডেন্ট আলাসেন ওয়েতাহা। সেই সময় পেরিয়ে গেলেও পদত্যাগ করেননি প্রেসিডেন্ট বাগবো। তিনি বলেন, তাঁর পদত্যাগের কারণে দেশ বড় ধরনের সহিংসতার মুখে পড়তে পারে।এদিকে ব্রিটেন বলেছে, জাতিসংঘ অনুমোদন দিলে আইভরি কোস্টে সামরিক অভিযান চালানোর পক্ষে সমর্থন দেওয়া হবে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, আইভরি কোস্টে অভিযান চালানো পশ্চিম আফ্রিকার লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনের চেয়ে কঠিন হবে।জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দূত নভি পিল্লাই জানিয়েছেন, আইভরি কোস্টে দুটি গণকবরের খবর তাঁদের কাছে এসেছে। তবে মানবাধিকার দলকে ওই অঞ্চলে যেতে দেওয়া হয়নি।
নভি পিল্লাইয়ের এই তথ্য প্রকাশের পর আলাসেন ওয়েতাহার প্রধানমন্ত্রী গিল্লেউম সোরো প্রেসিডেন্ট বাগবোকে শুক্রবারের মধ্যে পদত্যাগ করতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নতুন বছর শুরুর আগেই পদত্যাগ করলে তাঁর (বাগবো) উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু হবে না। তবে প্রেসিডেন্ট বাগবো জাতির উদ্দেশে দেওয়া নতুন বছরের ভাষণে বলেন, ‘আমরা ক্ষমতা ছাড়ছি না।’ তিনি বলেন, ‘ওয়েতাহা ও তাঁর পক্ষের কিছু বিশ্ব নেতা আমার বিরুদ্ধে আমাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যানার ব্যবহার করছেন।’প্রেসিডেন্ট বাগবোর বিরুদ্ধে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর জোট ইসিওডব্লিউএএসের সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষাবিষয়ক মুখপাত্র কর্নেল মোহাম্মদ ইয়েরিমাহ জানান, আগামীকাল সোমবার ইসিওডব্লিউএএসের প্রতিনিধিরা আবারও আইভরি কোস্ট যাওয়ার কথা।
ইসিওডব্লিউএএসের পক্ষ থেকে বেনিনের প্রেসিডেন্ট থমাস ইউয়েয়ি বোনি, সিয়েরা লিওনের প্রেসিডেন্ট আর্নেস্ট বাই করোমা ও কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো ভেরোনা রদ্রিগেজ পিরেস গত মঙ্গলবার আইভরি কোস্ট সফর করেন। তাঁরা বাগবো ও ওয়েতাহার সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু কোনো সমঝোতা ছাড়াই তাঁদের আইভরি কোস্ট ত্যাগ করতে হয়।
ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হগ বলেন, লন্ডন বাগবোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে সমর্থন করে। তবে তাতে অবশ্যই জাতিসংঘের অনুমোদন থাকতে হবে। তিনি বলেন, পরাজয় মেনে বাগবোর উচিত ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানো। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র পি জে ক্রাউলি বলেন, বাগবোর পদত্যাগ করা উচিত।
গত ২৮ নভেম্বর আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির স্বাধীন নির্বাচন কমিশন বিরোধীদলীয় প্রার্থী ওয়েতাহাকে জয়ী ঘোষণা করে। কিন্তু ওই ফল প্রত্যাখ্যান করে সাংবিধানিক পরিষদের সমর্থন নিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন বাগবো। ওয়েতাহাও পৃথকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।

অস্ট্রেলিয়ার ভয়াবহ বন্যাকে ‘মহাপ্লাবন’ বললেন মন্ত্রী

অস্ট্রেলিয়ায় বন্যার আরও অবনতি হয়েছে। গতকাল শনিবার নতুন বছরের প্রথম দিনটিতে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য কুইন্সল্যান্ডের বান্ডাবার্গ শহর বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। শহরটির হাজার হাজার বাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের অর্থমন্ত্রী বন্যার এ ভয়াবহতাকে ‘মহাপ্লাবন’ বলে উল্লেখ করেছেন। নতুন বছরের প্রথম দিনটিতে এমন বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ায় কুইন্সল্যান্ডবাসীর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। বন্যার তোড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শহরগুলোয় খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় দুই লাখ মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত বান্ডাবার্গে কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের অর্থমন্ত্রী আন্দ্রিউ ফ্রেসার সাংবাদিকদের বলেন, অনেক দিক থেকেই একে মহাপ্লাবন বলা যায়। গত শুক্রবার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড বলেন, বন্যা-পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো বন্যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি। রকহ্যাম্পটনে বন্যার যে ভয়াবহতা দেখেছি, তা আগে কোনো দিন দেখিনি। কুইন্সল্যান্ডের অনেক স্থানে মানুষ অনেক গুরুতর পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।’ রকহ্যাম্পটনে ফিজোরি নদীর তীর ভেঙে গেছে। জরুরি ত্রাণকর্মীরা সেখানে উদ্ধার-তৎপরতা চালাচ্ছেন। ভাঙন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় বহু বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। রকহ্যাম্পটনের বিমানবন্দরও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড বলেছেন, বন্যায় খনি এলাকার মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিছু কোম্পানি চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলছে। ওয়েস্টার্ন ডাউনের মেয়র রে ব্রাউন বলেন, কন্ডামিন শহরে রেকর্ড বন্যা দেখা দিয়েছে এবং শহরটি এক সপ্তাহের জন্য পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হতে পারে। মধ্য কুইন্সল্যান্ডের এমিরাল্ড শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা এবং নোগোয়া নদী প্লাবিত হয়ে প্রায় এক হাজার বাড়ি ডুবে গেছে।রকহ্যাম্পটনের মেয়র ব্র্যাড কনটার বলেন, ‘আমরা জানি আমরা আমাদের সাধ্যমতো প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। যে সব মানুষ তাদের বাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন, তাদের অধিকাংশকেই অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বন্যার পানি বাড়তে থাকায় শনিবার রকহ্যাম্পটন বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা ছিল।

রিয়াল-বার্সার নতুন শুরু

গত বছরটা দুই রকমের অনুভূতি নিয়ে শেষ করেছে স্প্যানিশ দুই পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। লিগে টানা ১০ জয়, এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া—অনেক সুখস্মৃতি ছিল বার্সার। রিয়াল মাদ্রিদের ছিল আক্ষেপ। এল ক্লাসিকোয় শোচনীয় পরাজয়ে বার্সেলোনার চেয়ে ২ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে বছর শেষ করার আক্ষেপ।
এই আনন্দ আর আক্ষেপ নিয়েই নতুন বছর শুরু করছে স্প্যানিশ লিগে শিরোপা লড়াইয়ের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। নিজেদের মাঠে আগামীকাল বার্সেলোনার প্রথম প্রতিপক্ষ নবাগত লেভান্তে। সর্বোচ্চ ৩১ বার লিগজয়ী রিয়াল আগামীকাল নতুন বছর শুরু করছে প্রতিবেশী গেটাফের সঙ্গে ডার্বি ম্যাচ দিয়ে।
রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে গেটাফের তুলনা চলে না। তবে আগামীকাল ডার্বি ম্যাচের আগে গেটাফের আত্মবিশ্বাস আকাশসম। সর্বশেষ ৪টি লিগ ম্যাচ থেকে পুরো ১২ পয়েন্ট নিয়ে রিয়ালের মুখোমুখি হচ্ছে তারা। আর ম্যাচটাও হচ্ছে গেটাফের মাঠে।
নিজেদের মাঠে গেটাফের এ মৌসুমের রেকর্ডটা ভালোই। ১৬ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে থাকা গেটাফে নিজেদের মাঠে ৮ ম্যাচের ৫টিতেই জিতেছে। গেটাফে স্ট্রাইকার নিকোলাস মিকু তো হুমকিই দিয়ে রেখেছেন রিয়ালকে, ‘তাদের (রিয়াল) এমন অনেক খেলোয়াড় আছে যারা যেকোনো ম্যাচের নিয়ন্তা হতে পারে। কিন্তু আমরাও তাদের ধাক্কা দিতে পারি। নিজেদের মাঠে আমাদের রেকর্ডটা ভালোই।’
গেটাফের হুমকি আর ২০১০ সালের হতাশার সঙ্গে চোটও আছে রিয়ালে। গঞ্জালো হিগুয়েইন কবে থেকেই মাঠের বাইরে। এই ম্যাচে কারভালহোকেও পাচ্ছে না রিয়াল। নিষেধাজ্ঞায় আটকে গেছেন চেলসির সাবেক তারকা। তবে কোচ হোসে মরিনহো এসব নিয়ে ভাবেন না। ‘আমরা লিগে ১৩টি ম্যাচ জিতেছি। ইতালি বা ইংল্যান্ডে হলে হয়তো এ নিয়েই শীর্ষে থাকতাম। কিন্তু স্পেনে ব্যাপারটা ভিন্ন। বার্সেলোনা আর আমরা, দুটি দলই প্রায় সব ম্যাচই জিতছি। আমার মনে হয়, শিরোপা-ভাগ্য নির্ধারিত হবে আমাদের দুই দলের মধ্যকার ম্যাচ দিয়েই।’
বার্সেলোনারও লেভান্তের মতো প্রতিপক্ষ নিয়ে না ভাবলেও চলে। আজ যেমন লিওনেল মেসি, কার্লোস পুয়োল আর জেরার্ড পিকে ছাড়াই খেলতে হচ্ছে বার্সেলোনাকে, তবু কোনো দুশ্চিন্তা নেই তাদের। মেসি কোচ পেপ গার্দিওলার কাছ থেকে বিশ্রামের অনুমতি পেয়েছেন। পিকে আছেন নিষেধাজ্ঞায় আর পুয়োল চোটে ভুগছেন।
এঁদের অনুপস্থিতি আজই বার্সা-অভিষেকের সুযোগ করে দিয়েছে ইব্রাহিম অ্যাফিলেকে। বড়দিনের ছুটির মধ্যেই পিএসভি আইন্দহোফেন থেকে বার্সায় নাম লিখিয়েছেন ডাচ মিডফিল্ডার। এখন ব্যাকুল বার্সার জার্সি গায়ে মাঠে নামার জন্য, ‘বার্সেলোনা সেরা ফুটবল খেলে। আমি মেসি, ইনিয়েস্তার মতো বিশ্বসেরাদের সঙ্গে খেলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।

দেশেই ফিরে যাচ্ছেন রোনালদিনহো?

রোনালদিনহোর এসি মিলান-অধ্যায় তা হলে শেষই হচ্ছে? ঘটনা গড়াচ্ছে সেদিকেই। মিলান ত্যাগের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন রোনালদিনহো। এসি মিলানের দুবাই অনুশীলনে যোগ দিলেও সংবাদমাধ্যমে খবর, দুবাই থেকে ব্রাজিলে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুশীলনে অনুপস্থিত রোনালদিনহো।গুঞ্জনটা গ্রীষ্মের দলবদলের সময়ই উঠেছিল, এসি মিলান ছেড়ে আমেরিকান মেজর লিগ সকারের দল লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সিতে যাচ্ছেন রোনালদিনহো। কিন্তু অনেক দিন বাতাসে চড়ে বেড়ানো গুঞ্জনটা মিথ্যে করে দেন মিলান সভাপতি ও মালিক সিলভিও বেরলুসকোনি। ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুতার সুবাদেই রোনালদিনহো থেকে যান ইতালিতেই। কিন্তু কদিন না যেতেই আবার গুঞ্জন, মিলান ছাড়ছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।রোনালদিনহো ফিরে যাচ্ছেন পুরোনো ঠিকানা ব্রাজিলের গ্রেমিওতে। ১৯৮৭ সালে এই ক্লাবেই ছোট্ট রোনির ফুটবলে হাতেখড়ি। ১৯৯৮ পর্যন্ত ১১ বছর যুবদলে কাটানোর পর নাম লেখান গ্রেমিওর সিনিয়র দলে। গ্রেমিও থেকে ২০০১ সালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের হয়ে ইউরোপে আগমন। সেখান থেকে বার্সেলোনা হয়ে ২০০৮-তে যোগ দেন এসি মিলানে।জল যেভাবে গড়িয়েছে, তাতে রোনালদিনহোর মিলান ছেড়ে গ্রেমিওতে যাওয়াটা শুধুই সময়ের ব্যাপার। এসি মিলানের কোচ মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির কথায়ই সেটা স্পষ্ট, ‘আমরা তাঁর আনুষ্ঠানিক বিদায়ের অপেক্ষায় আছি।’ দুবারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের মিলান ত্যাগের কারণ এই কোচ অ্যালেগ্রিই। বেরলুসকোনি রেখে দিলেও কোচ রিজার্ভ বেঞ্চকে বানিয়ে ফেলেন রোনালদিনহোর আসল জায়গা। ফলে এ মৌসুমে খুব বেশি মাঠেই নামা হয়নি নিজেকে হারিয়ে খোঁজা রোনালদিনহোর। তবে আপন ঠিকানায় ফিরে নিশ্চয়ই আবার নিজেকে প্রমাণের চেষ্টাই চালাবেন ৩০ বছর বয়সী ফুটবলার।

আফ্রিদির অধিনায়কত্বে আকরামের অনাস্থা

টি-টোয়েন্টির আদর্শ দল মনে করা হয় পাকিস্তানকে। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে সাফল্যের হার তাদের (৬১.১১) চেয়ে বেশি কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার (৬৭.৫৬)। অথচ তারাই কিনা সিরিজ হারল এমন এক দলের কাছে যারা কদিন আগেই তুলোধোনো হয়েছে বাংলাদেশ-ভারতে। সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরামের ধারণা, নিউজিল্যান্ডের কাছে সিরিজ হারের মূল কারণ শহীদ আফ্রিদির নেতৃত্বের দুর্বলতা।মনোবল তো বিধ্বস্ত ছিলই, টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিউজিল্যান্ড চোটের কারণে পায়নি তাদের মূল দুই ক্রিকেটার ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে। কিন্তু শেষ ম্যাচে জিতলেও প্রথম দুই ম্যাচ হেরে এই দলের কাছেই সিরিজ হারে পাকিস্তান। আকরামের ধারণা, দলকে এককাট্টা করতে পারছেন না আফ্রিদি, ‘দল এক হয়ে খেলতে পারছে না বলেই অনেক সমস্যা হচ্ছে এবং পারফরম্যান্সে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। দলে নেতৃত্বের সংকটটা দেখলেই বোঝা যায় এবং এ জন্যই দল সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারছে না। যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজেও হারবে পাকিস্তান।’তবে আরেক সাবেক অধিনায়ক মঈন খান মনে করেন, বিশ্বকাপের আগে অন্তত অধিনায়ক পরিবর্তন করা ঠিক হবে না, ‘এ মুহূর্তে অধিনায়ক পরিবর্তন করা হবে চরম বোকামি, কারণ বিশ্বকাপ খুব কাছে চলে এসেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় এখন নয়।’

নির্ভার ইংল্যান্ড, চাপে অস্ট্রেলিয়া

‘শাবাশ! দারুণ খেলছ। এগিয়ে যাও।’
সিডনি টেস্টের আগে খোদ জুলিয়া গিলার্ডের বাহবা পেলেন স্ট্রাউস।
অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজের নিমন্ত্রণে গিয়েছিলেন স্ট্রাউসের স্ত্রীও
ছবিটা কাল সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া দলের অনুশীলনের। ডান হাতটা আড়াআড়ি বুকের ওপর রেখে, বাঁ হাত উঁচিয়ে কী যেন দেখাচ্ছেন রিকি পন্টিং। পাশে দাঁড়ানো উসমান খাজা মনোযোগী শ্রোতা। পন্টিংয়ের মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ, বাঁ হাতের কনিষ্ঠায় বাঁধা ব্যান্ডেজ।
এই কনিষ্ঠাই আগামীকাল শুরু অ্যাশেজের শেষ টেস্টে খেলতে দিচ্ছে না পন্টিংকে। তাঁর বদলে দলে অভিষেক হতে চলেছে যাঁর, সেই খাজাকে যেন নিজ হাতে অভিষেক টেস্টের জন্য তৈরি করার দায়িত্ব নিয়েছেন পন্টিং। ফর্মটা যেমনই যাক, ১৫২টি টেস্ট ১২ হাজার ৩৬৩ রানের অভিজ্ঞতার মূল্য তো অপরিসীম।
খাজা কেমন করেন, সেই আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকবে অস্ট্রেলিয়া। চোখ থাকবে আরেকজনের ওপর। মাইকেল বিয়ার। হুট করে দলে এসে আলোচনার জন্ম দেওয়া এই স্পিনারেরও অভিষেক হতে পারে কাল। সিডনির উইকেট বেশ স্পিনার-বান্ধব বলে বাড়তি একজন স্পিনার খেলাতে পারে অস্ট্রেলিয়া। ওয়ার্ন-উত্তর যুগে দশম টেস্ট স্পিনার হিসেবে অভিষেক হতে পারে এই মৌসুমে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে অভিষিক্ত এই বাঁহাতি স্পিনারের।সিডনিতে ভালো স্পিন ধরতে পারে—এই খবরে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাওয়ার কথা গ্রায়েম সোয়ানের। গত বছর টেস্টে ৬৪ উইকেট নেওয়া এই ইংলিশ স্পিনার নতুন বছরের শুরুটাও দারুণভাবে করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন। ২০১০-এর দিকে তাকিয়ে সোয়ান বলছেন, ‘আমার জন্য এটা ছিল স্বপ্নের বছর। জানুয়ারিতে বিয়ে করেছি, বিশ্বকাপ জিতেছি (টি-টোয়েন্টিতে), ডিসেম্বরে অ্যাশেজ ধরে রাখা নিশ্চিত হলো। ২০১১-ও এমন হলে আর কী চাই!’
নতুন বছরের কাছে অস্ট্রেলিয়ার চাওয়া একটাই। সিরিজটা যেন অন্তত ড্র হয়। সিরিজ জেতার আশা তারা মেলবোর্নেই কবর দিয়ে এসেছে। এই ম্যাচ ড্র হলেই ২৪ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ জেতার আনন্দে নাচবে ইংল্যান্ড। নিশ্চিত থাকুন, এবার আর ‘স্প্রিঙ্কলার ডান্স’ নয়, নাচটা হবে উদ্বাহু!ইংল্যান্ডের জেতার প্রশ্ন এখনই তোলাটা হয়তো ঠিক হচ্ছে না। সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য অস্ট্রেলিয়া যে মরিয়া চেষ্টা করবে সেটা ইংল্যান্ড জানে। তবে নিয়মিত অধিনায়ককে হারিয়ে ফেলা, মেলবোর্নের ইনিংস পরাজয়ের ধাক্কা সামলে অস্ট্রেলিয়া আসলেই কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে সেটাই এখন দেখার।রেকর্ড-টেকর্ড ঘেঁটে কিছু বলা মুশকিল। অস্ট্রেলিয়ার এই দল রেকর্ড নতুন করে যে লিখছে, অবশ্যই নেতিবাচক অর্থে। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) গত ১৬ টেস্টের ১৪টিই জিতেছে অস্ট্রেলিয়া, হেরেছে মাত্র একটি। সর্বশেষ সেই পরাজয়টি এসেছিল ২০০৩ সালে। প্রতিপক্ষ? ইংল্যান্ড! মাইকেল ভনের দ্বিতীয় ইনিংসের ১৮৩ আর অ্যান্ডি ক্যাডিকের ৯৪ রানে নেওয়া ৭ উইকেট বিশাল জয় এনে দিয়েছিল ইংল্যান্ডকে।ওই জয় থেকে তো বটেই, সব মিলে এসসিজিতে তাদের রেকর্ড থেকেও প্রেরণা খুঁজে নিতে পারে স্ট্রাউসের দল। অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে বেশি টেস্ট তারা জিতেছে এ মাঠেই (৫৩ টেস্টের ২১টি জয়, ২৫টি পরাজয়)। আত্মবিশ্বাসী ইংল্যান্ড সিরিজ জিততে ড্রয়ের মানসিকতা নিয়ে নামবে না বলেও জানিয়েছে। ইংল্যান্ড যতটা নির্ভার, ততটাই চাপে অস্ট্রেলিয়া। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক অবশ্য সুযোগ্য নেতার মতোই বলছেন, চাপের মধ্যে জ্বলে ওঠার পৌরুষ যে অস্ট্রেলিয়ার আছে, সেটা দেখিয়ে দেওয়ার এই তো সুযোগ। এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র ভরসা হয়ে থাকা মাইক হাসিও সতীর্থদের এই বলে অনুপ্রাণিত করছেন, ‘আমরা আবারও এক নম্বর হতে পারি এবং সেটা শুরু করে দিতে হবে এখান থেকেই।

তৈরি হচ্ছে মেসির ক্লোন!

পারলে লিওনেল মেসির একটা ক্লোন করে রাখতেন ক্রিশ্চিনা কির্চনার। মাস কয়েক আগে এমন মন্তব্যই করেছিলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট। মেসির ক্লাব বার্সেলোনা এখন সেই ব্যবস্থাই করছে। মেসির ক্লোন তৈরির চেষ্টা!
না, গবেষণাগারে নয়; মেসির মতো ফুটবলার বানাতে বার্সেলোনার বিখ্যাত যুব প্রকল্প কাজ করছে আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে। ২০০৭ সালের জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বার্সেলোনা জুনিয়র লুজান। বুয়েনস এইরেসে এই ফুটবল স্কুল ৯ থেকে ১৬ বছর বয়সী প্রতিভাদের পরিচর্যা করছে। বার্সেলোনার লক্ষ্য, এই কিশোর ফুটবলাররা যেন আর্জেন্টিনায় তাদের পরিবারের পাশে থেকেই আর্জেন্টাইন ফুটবলের ছন্দ রপ্ত করতে পারে। যাতে এদের থেকে উঠে আসতে পারে আগামী দিনের মেসি, ম্যারাডোনা, মারিও কেম্পেস কিংবা এনরিকে ওমার সিভরির মতো তারকা।প্রকল্পের পরিচালক হোর্হে র্যাফো রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আর্জেন্টাইন ফুটবলের যে মান, স্বাতন্ত্র্য; সেই উৎসে থেকে আর্জেন্টাইন ফুটবলের নির্যাসটা ধরে রেখে আমরা আগামীর ম্যারাডোনা মেসি, কেম্পেস, সিভরিদের খুঁজছি। যখন আমরা ৯, ১০ কিংবা ১১ বছর বয়সীদের নিয়ে কাজ করি, তখন জানি না, সে ভবিষ্যতে আসলেই ভালো ফুটবলার হতে পারবে কি না। কিন্তু আমরা এটা জানি, সে একজন ভালো মানুষ হবে নিশ্চিত।’আর্জেন্টিনায় বার্সেলোনার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা ড্যানিয়েল ভিতালি মেসির উদাহরণ টেনে বলেছেন, ‘ও যখন আর্জেন্টিনা ছাড়ে, বয়স ছিল মাত্র ১২। এই বিচ্ছেদ ওর এবং ওর পরিবারের জন্যও ছিল বেদনাদায়ক। আমাদের অন্যতম লক্ষ্য তাই এই কিশোরদের যেন এত কম বয়সে দেশ ছাড়তে না হয়। আমরা চাই, ওরা নিজেদের পরিবেশে, পরিবার-পরিজনদের পাশে এবং দেশে থেকেই নিজেদের বিকাশ ঘটাক।’পুরো আর্জেন্টিনায় ছড়িয়ে আছে এই প্রকল্পের প্রতিভা অন্বেষকেরা (স্কাউট)। এই স্কাউটরা ৯ থেকে ১৬ বছর বয়সী ফুটবলারদের বেছে নিয়ে আসে এই প্রকল্পে। এখানকার শিশুদের বাধ্যতামূলকভাবে পড়াশোনা করতে হয় বুয়েনস এইরেসের সেরা স্কুলগুলোর একটিতে। একাডেমিক এই পড়াশোনার পাশাপাশি চলে ফুটবল প্রশিক্ষণ। ৪৫ জন ছাত্র আবাসিক। বাকি ১৫০ জন থাকে তাদের পরিবারের সঙ্গে।আবাসিক ছাত্রদের সবাই বুয়েনস এইরেসের ডন বস্কো স্কুলের ছাত্র। এরা বছরে পাঁচবার ছুটি কাটাতে যেতে পারে তাদের পরিবারের কাছে। অন্য সময়ে বছরে তিন থেকে চারবার তাদের পরিবারের সদস্যরাও ক্যাম্পে এসে দেখে যায় সন্তানদের।
‘আমরা সব সময় বলি, দুটো টুর্নামেন্টে আমরা খেলছি। একটা ফুটবল টুর্নামেন্ট, অন্যটা মানবিক। কেউ ফুটবলার হবে; কেউ হবে স্থপতি, আইনজীবী কিংবা হিসাবরক্ষক’—আর দশটা যুব প্রকল্পের সঙ্গে নিজেদের পার্থক্য বোঝাতে বলেছেন র্যাফো।

শেষ টেস্টেই ইংল্যান্ডের অগ্রগতি যাচাই করতে চান স্ট্রাউস

২৪ বছর পর অ্যাশেজ ধরে রাখার সাফল্যে ভাসছে গোটা ইংল্যান্ড। বহুদিন পর আবার ইংল্যান্ডের সোনালি সময় ফিরে এসেছে, ইংল্যান্ডের এ দলটাই ভবিষ্যতে বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করবে ইত্যাদি কথাবার্তাও শুরু করে দিয়েছেন সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটাররা। তবে এসব আলাপে খুব বেশি কান দিতে চাচ্ছেন না ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ডি স্ট্রাউস। এসব কথা শুনে আত্মতৃপ্তিতে ভুগলে অস্ট্রেলিয়াকেই সিরিজে ২-২-এ সমতা ফেরানোর সুযোগ করে দেওয়া হবে বলে মনে করেন তিনি। বরং শেষ টেস্টটা ভালো খেলে পুরোপুরি সফলভাবে সিরিজ শেষ করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন স্ট্রাউস।
যেকোনো সফলতাকেই ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বিশাল আকারে উপস্থাপন করার খ্যাতি আছে ইংলিশ মিডিয়ার। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর ফল যে খুব একটা ভালো হয় না, সেটা খুব ভালোমতোই জানেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। সিডনি টেস্ট শুরুর আগে শেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘এখন অনেকেই আমাদের পিঠ চাপড়াচ্ছেন। আমরা কত অসাধারণ খেলেছি, সে সম্পর্কে কথাবার্তা বলছেন। কিন্তু পরবর্তী ম্যাচটাতে আমরা কেমন খেলতে পারছি, সেটাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি টেস্টই আমাদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দিন পর আমরা অ্যাশেজ ধরে রাখতে পেরেছি, এটা বেশি বেশি ভাবলে সামনের ম্যাচটা থেকে দৃষ্টি সরে যাওয়ার অনেক আশঙ্কা আছে। আর আমি খুব কঠোরভাবেই সেই মনোভাবটা এড়িয়ে যেতে চাই। সিডনি টেস্টটা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। সেখানে যদি আমরা ভালো পারফরমেন্স দেখাতে না পারি, তাহলে সেটা হবে খুবই হতাশাজনক।’
ইংল্যান্ড যদি শেষ টেস্টটা নাও জিততে পারে, তবু দেশে ফিরে তারা বিরোচিত সম্মানই পাবে। এটা অনেকখানিই নিশ্চিত। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় যে কোনো সিরিজে হারের পর ইংল্যান্ড খুব দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু সাফল্যের যাত্রা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে খুব একটা সফল নয় তারা। এবার এই ধারাটা পরিবর্তনের ব্যাপারে স্ট্রাউস দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এ ব্যাপারটা নিয়ে অনেক কথা বলেছি। আমার ধারণা, এবার সবাই খুব সচেতন। সবাই আমাদের প্রশংসা করছেন। এটা খুব অনুপ্রেরণাদায়ক। গত কয়েক বছরে আমরা অনেক সাফল্য পেয়েছি। কিন্তু আমরা যদি ভুলে যাই যে আমরা কীভাবে এ পর্যন্ত এসেছি, তাহলে আমরা নিশ্চিতভাবেই খুব বিপদে পড়ে যাব।’

শিল্প-অর্থনীতি- বিজয়ের অর্থনীতি ও সম্ভাবনা by মামুন রশীদ

বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট সত্ত্বেও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এ বছর প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশের মতো হবে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে ১০ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। বিদেশি বিনিয়োগ বেশ কিছুটা কমে গেলেও রপ্তানি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ- মুক্তিযুদ্ধের বিজয়লক্ষ্মীর মুখোমুখি by এবিএম মূসা

দিনটি ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১, সময় বেলা তিনটা। কলকাতার গড়ের মাঠ, সাধারণ্যে ময়দান নামে পরিচিত। এদিন সেই ময়দানে ভাষণ দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী। কত লক্ষ নারী-পুরুষের সমাবেশ ঘটেছিল সেদিনের সমাবেশে, তা অনুমান করা দুরূহ ছিল। ময়দানের পশ্চিম প্রান্তে বক্তব্য-মঞ্চ। পাশেই সাংবাদিকদের বসার স্থান। সেখানে দেশি-বিদেশি শতাধিক সাংবাদিকের সামনের সরু পথটি দিয়ে মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেলেন ইন্দিরা।

আলোচনা- একেই কি বলে আমলাতন্ত্র? by শান্তনু কায়সার

সংবাদপত্রের খবরে প্রকাশ, ৯ ডিসেম্বর বরগুনার একটি উপজেলায় একাদশ শ্রেণীর চূড়ান্ত পরীক্ষা বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীরা রোকেয়া দিবসের শোভাযাত্রায় অংশ নিতে বাধ্য হয়। এর আগে হরতালের জন্য এই পরীক্ষা ৯ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরীক্ষার জন্য উত্তরপত্র বিতরণের পর কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘ইউএনও স্যারের’ নির্দেশ, পরীক্ষা রেখে রোকেয়া দিবসের

মুক্তিযুদ্ধ- আত্মসমর্পণের সেই বিকেল by দীপংকর চন্দ

স্বতঃসিদ্ধ নিয়মেই রাত নামে পৃথিবীতে। সকাল হয়। পশ্চিমাকাশে সূর্যের হেলে পড়ার সুবাদে অবসান হয় দুপুরের। প্রতিবেশে জন্ম নেয় বিকেল। কিন্তু সব বিকেলই তো এক রকম নয়! আবহাওয়ার ভিন্নতা ছাড়াও কিছু কিছু বিকেল তো অবশ্যই সমুজ্জ্বল অনন্য মহিমায়, উদ্ভাসিত ব্যতিক্রমী দ্যোতনায়! হিমেল হাওয়া-মাখা শীতের বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের কথা মনে হয় আমাদের। কেমন ছিল বিজয় দিনের অসাধারণ সেই বিকেলটি?

মুক্তিযুদ্ধ- আমরা তাঁদের ভুলতে পারি না by সৈয়দ আবুল মকসুদ

কোনো জাতির স্বাধীনতাসংগ্রাম একটি সর্বোচ্চ রাজনৈতিক বিষয়। সুতরাং তা রাজনৈতিক নেতৃত্বেই হয়ে থাকে। কিন্তু শুধু রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা স্বাধীনতাসংগ্রাম জয়যুক্ত হওয়া অসম্ভব, যদি না সর্বস্তরের জনগণের পূর্ণ সমর্থন থাকে এবং যদি বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা না থাকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাও রাজনৈতিক নেতৃত্বেই অর্জিত হয়েছে। সহযোগিতা দিয়েছে সব শ্রেণীর মানুষ।