Tuesday, May 15, 2018

কালোদের প্রাধান্য কান উৎসবে by আলমগীর কবির কান

ব্ল্যাকস ম্যান ছবির কলাকুশলীদের সংবাদ সম্মেলন
৭১ বছর আগে যখন কান চলচ্চিত্র উৎসবের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তখন থেকেই গুরুত্ব পেয়ে আসছে সামাজিক বৈষম্যগুলো। এ ব্যাপারগুলো দূর করতে যেসব চলচ্চিত্রে জোর দেয়া হয়েছে সেগুলোকেই উৎসাহ দেয়া হয়েছে। এখন সে জায়গা দখল করেছে ‘ইউনিভার্সাল ক্রাইসিস’। বৈশ্বিক শান্তি এবং সমৃদ্ধি স্থাপনে চলচ্চিত্র এই ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করে কর্তৃপক্ষ। এ দিক বিবেচনায় এবারের আসরে সবচেয়ে আধিপত্য দেখা গেছে কৃষ্ণাঙ্গদের।
উৎসবের অষ্টম দিনে মঙ্গলবার সকালে ব্ল্যাকল্যান্সম্যান ছবির সংবাদ সম্মেলনে এসে কলাকুশলীরা সে কথাই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিলেন সবাইকে। আগের দিন সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে হয়েছে এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার। প্রদর্শনী শেষে পর্দায় ব্ল্যাকল্যান্সম্যান ছবির কলাকুশলীদের নাম ভেসে ওঠার পর থেকে চার মিনিট করতালি দিয়েছেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। এরপর ছয় মিনিট দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান তারা। এ ছাড়া মাঝে গুনে গুনে ১২ বার হাততালি পড়েছে প্রেক্ষাগৃহে। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিখ্যাত নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান। প্রিমিয়ারের পর স্পাইক লিকে জড়িয়ে ধরেন তিনি।
উদ্বোধনী প্রদর্শনীর আগে পালে দো ফেস্টিভ্যাল ভবনের সামনে লাল গালিচায় হাজির হয়ে নজর কাড়েন স্পাইক লি। তার দুই হাতে ছিল দু’টি আংটি। একটিতে লেখা লাভ। আরেকটিতে হেট। পায়ে ছিল একজোড়া নাইকি জুতা। এর একটি সাদা, অন্যটি কালো। দু’টি জুতাতেই উল্লেখ রয়েছে ব্ল্যাকল্যান্সম্যান।
সত্তর দশকের কু ক্লাস ক্ল্যান (কেকেকে) আন্দোলনই এ ছবির বিষয়বস্তু। কালোদের পক্ষে সোচ্চার হওয়ার সুবাদে নব্বই দশকে আফ্রিকান আমেরিকান কমিউনিটির মুখপাত্র শিল্পী হয়ে দাঁড়ান স্পাইক লি। সেই অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগিয়েছেন তিনি।
এ ছবির গল্প কলোরাডোর আফ্রিকান-আমেরিকান পুলিশ অফিসার রন স্ট্যালওর্থকে ঘিরে। কেকেকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়ে শ্বেতাঙ্গ পরাক্রমশালী একটি সংগঠনের বেশ কয়েকটি কাজ ভেস্তে দিতে সক্ষম হন তিনি। তাকে এ ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় শ্বেতাঙ্গ পুলিশ। এ দু’টি চরিত্রে অভিনয় করেছেন হলিউড অভিনেতা ডেনজেল ওয়াশিংটনের ছেলে জন ডেভিড ওয়াশিংটন ও স্টার ওয়ারস তারকা অ্যাডাম ড্রাইভার।
ব্ল্যাকল্যান্সম্যান তৈরি হয়েছে রন স্ট্যালওর্থের আত্মজীবনী অবলম্বনে। নিজের ছবির মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জাতিগত ও সামাজিক বৈষম্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন স্পাইক লি। ১৯৯৭ সালে নির্মিত তার ফোর লিটল গার্লস প্রামাণ্যচিত্রে তুলে ধরা হয় অ্যালাবামায় বার্মিংহ্যামের ব্যাপটিস্ট চার্চে কেকেকে আন্দোলনে চার সদস্যের আক্রমণ। ১৯৬৩ সালের ওই ঘটনায় চার তরুণী নিহত হন। এ কারণে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে আফ্রিকান আমেরিকান কমিউনিটি।
ব্ল্যাকল্যান্সম্যান ছবিতে অ্যাডাম ড্রাইভার ও জন ডেভিড ওয়াশিংটন ২৭ বছর পর কানের মূল প্রতিযোগিতায় পাওয়া গেল স্পাইক লির ছবি। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো কানে অফিসিয়াল সিলেকশনে স্থান করে নিলো তার কাজ। এর মধ্যে মূল প্রতিযোগিতায় ছিল ডু দ্য রাইট থিং (১৯৮৯) ও জঙ্গল ফিভার (১৯৯১)। ১৯৯৬ সালে গার্ল সিক্স দেখা গেছে আউট অব কম্পিটিশন বিভাগে। ২০০২ সালে তার টেন মিনিটস অর্ডার জায়গা পায় আঁ সার্তেন রিগার্দে। ডিরেক্টরস ফোর্টনাইটে ছিল ‘সামার অব স্যাম’।
১৯৮৯ সালে ডু দ্য রাইট থিং ছবির জন্য স্পাইক লি পাম দর জিততে যাচ্ছেন বলে ধরে নিয়েছিল সবাই। কিন্তু মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারকদের প্রধান উইম ওয়েন্দার্স পুরস্কারটি দিয়ে দেন স্টিভেন সোডারবার্গকে (সেক্স, লাইস অ্যান্ড ভিডিওটেপ)।
কাকতালীয় ব্যাপার হলো, একদিন আগে (১৩ মে) কানের এবারের আসরে জার্মান নির্মাতা উইম ওয়েন্দার্সের বানানো ‘পোপ ফ্রান্সিস : অ্যা ম্যান অব হিজ ওন ওয়ার্ড’ প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী হয়েছে। এ ছবির মতো ব্ল্যাকল্যান্সম্যানও পরিবেশনার দায়িত্ব নিয়েছেন ফোকাস ফিচার্স।
যুক্তরাষ্ট্রে ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিল শহরে কট্টর শ্বেতাঙ্গ ও বর্ণবাদবিরোধীদের মধ্যকার দাঙ্গার ঘটনার এক বছর পূর্ণ হওয়ার সময় আগামী ১০ আগস্ট ছবিটি মুক্তি পাবে।
এ দিকে বর্ণবাদবিরোধীদের সোচ্চার কণ্ঠস্বর ছিলেন যিনি, সেই নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মশতবর্ষ চলতি বছরই। এ উপলক্ষে এবারের কান উৎসবের সপ্তম দিনে স্পেশাল স্ক্রিনিং বিভাগে স্থান পেয়েছে ফ্রান্সের নিকোলাস শপো ও জিল পোর্ত পরিচালিত দ্য স্টেট অ্যাগেইনস্ট ম্যান্ডেলা অ্যান্ড দ্য আদারস।
সোমবার রাত ৮টায় সাল দ্যু সোসানতিয়েমে দেখানো হয় এটি। ১৯৬৩ ও ১৯৬৪ সালের ঐতিহাসিক বিচারকার্যক্রম ছিল ম্যান্ডেলাকে কেন্দ্র করে। তবে তার মতো মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়া আরো আটজন ছিলেন সেখানে। নির্মম জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল তাদেরকেও। আদালতের সেসব অডিও নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রামাণ্যচিত্র। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে এতে।

ফুঁসছে ফিলিস্তিন, বিশ্বনেতাদের নিন্দা, তুরস্কে ৩ দিনের শোক

ইসরাইলি সেনাদের নৃশংস হামলায় কমপক্ষে ৫৫ জন নিহত হওয়ার পর ক্ষোভে ফুঁসছে পুরো ফিলিস্তিন। আজ মঙ্গলবারও সেখানে নতুন করে ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা থাকবে বিশেষ করে গাজায়। সোমবার সেখানে যেসব মানুষকে হত্যা করেছে ইসরাইলিরা আজ তাদেরকে দাফন করার কথা। ইসরাইলের এই হত্যাযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ব।  সহিংসতার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেছে কুয়েত। এতে তীব্র ক্ষোভ ও বেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু কুয়েতের উদ্যোগকে জাতিসংঘে আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মঘেরিনি ও বৃটেন উভয় পক্ষকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিক্রিয়া দিয়েছে জার্মানিও। তারা বলেছে, আত্মরক্ষার অধিকার আছে ইসরাইলের। কিন্তু সেটা হতে হবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নৃশংস হামলার কড়া নিন্দা প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের ‘গণহত্যা’র দায় যুক্তরাষ্ট্রের। এমন কথা বলেছে তুরস্ক। তারা প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতদের তলব করার কথা জানিয়েছে। তবে সবচেয়ে কড়া প্রতিবাদ ও নিন্দা এসেছে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের হাই কমিশনার জায়েদ রাদ আল হোসেনের পক্ষ থেকে। তিনি এতগুলো মানুষ হত্যায় হতাশা প্রকাশ করে নিন্দা জানিয়েছেন। বলেছেন, ইসরাইলের সরাসরি গুলিতে এত মানুষ মরেছেন। আহত হয়েছেন কয়েক শত। অন্যদিকে ইসরাইলে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দক্ষিণ আফ্রিকাও। তারা ইসরাইলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বলেছে,  ইসরাইলের সর্বশেষ এই হামলা বৈষম্যমুলক ও ভয়াবহ প্রকৃতির। সোমবার ছিল ফিলিস্তিনিদের কাছে ‘নাকবা’ বা ধ্বংসযজ্ঞ দিবসের ৭০তম বার্ষিকী। ১৯৪৮ সালে ইসরাইলকে সৃষ্টি করার পর এদিন হাজার হাজার মানুষকে পালাতে হয়েছিল। এ ছাড়া সোমবারই যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমে তার দূতাবাস উদ্বোধন করেছে। এ নিয়ে বিশ্বজোড়া ক্ষোভ ও বিতর্ক রয়েছে। বিশ্বের কারো কথায় কান দিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কোনো প্রেসিডেন্টের পথ অনুসরণ না করে, পররাষ্ট্রনীতির তোয়াক্কা না করে, একতরফাভাবে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে গত ডিসেম্বরে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। ঘোষণা দেন তেল আবিবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস সেখানে স্থানান্তর করবেন। সেই কথামতো সোমবার দূতাবাস স্থানান্তর কর হয়। এ দুটি ইস্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ফিলিস্তিনিরা। কারণ, তারা পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দাবি করেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যে স্বীকৃতি ইসরাইলকে দিয়েছে তাতে ফিলিস্তিনিরা মনে করছেন, পুরো জেরুজালেমের নিয়ন্ত্রণ ইসরাইলের হাতে থাকবে আর তাতে সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবারের সহিংসতা নিয়ে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, নিহত হওয়া ছাড়াও ওইদিন কমপক্ষে ২৭০০ মানুষ আহত হয়েছে। ২০১৪ সালে গাজায় যে যুদ্ধ করে ইসরাইলিরা তারপর এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার দিন। তবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উল্টো দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, গাজার ইসলামপন্থি শাসকগোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামুলক ব্যবস্থা নিয়েছে ইসরাইলের সেনাবাহিনী। হামাস চায় ইসরাইলকে ধ্বংস করতে। কিন্তু তার এ দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তারা এই হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছে। ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে কথা বলেছে জাতিসংঘ।  এর ফলে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসির জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে তুরস্ক। সোমবার তুরস্ক সরকারের এক মুখপাত্র এ কথা বলেছেন। তুরস্কের আহ্বানে ৫৭ সদস্যের এই সংগঠনের বৈঠক ডাকা হয়েছে শুক্রবার। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস সরানোকে কেন্দ্র করে ও গাজা সহিংসতায় সবচেয়ে কড়া সমালোচনাকারী দেশ তুরস্ক। গাজায় সোমবার যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে তাদের জন্য তুরস্কে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান ইসরাইলকে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

‘ওদের পুড়িয়ে ফেল, গুলি করো, মেরে ফেল’ -মার্কিন দূতাবাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসরায়েলিদের উল্লাস

পৃথিবীর বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগার খ্যাত গাজা উপত্যকা ও ইসরায়েলের দখলীকৃত জেরুজালেমের মধ্যকার দূরত্ব মাত্র ৭৫ কিলোমিটার। সোমবার জেরুজালেমে সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে যখন মার্কিন দূতাবাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হচ্ছিলো, গাজায় তখনও নিহত ফিলিস্তিনিদের মরদেহ গোনার কাজটি সম্পন্ন হয়নি সম্ভবত। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেখানে বিক্ষোভে নামা নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর এদিন বেদম প্রহারের পাশাপাশি আটক-গ্রেফতারসহ নানান ধারার দমনপীড়ন চালানো হয়। আর যে ইসরায়েলিরা সেই অনুষ্ঠান দেখতে এসেছিলেন, তারা এতে উল্লাস প্রকাশ করে। তারা শ্লোগান তোলে বিক্ষোভরতদের পুড়িয়ে কিংবা গুলি করে হত্যা করা হোক।
গত বছরের শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের একক রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়ে  মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। সোমবার যে সময়ে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাসের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা বাস্তবায়িত হচ্ছে বাইরে তখন বিক্ষোভ করছেন ফিলিস্তিনিরা। মিডলইস্ট আই তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দূতাবাসের বাইরে অনেক নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিকে বেদম পেটানোর পাশাপাশি গ্রেফতারসহ বিভিন্ন ধারার নিপীড়ন চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।  আর ইসরায়েলিরা সেই নিপীড়নের ঘটনা উপভোগ করেছে।
উল্লেখ্য, ইহুদি ধর্মের নামে, ‘জায়নবাদ’ নামের মতবাদের মধ্য দিয়েই ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইসরায়েল রাষ্ট্র। জায়নবাদ ইহুদি ধর্মের দর্শন নয়, এটি একটি রাজনৈতিক মতবাদ; অলীক রূপকথায় যে মতবাদের শরীর গড়ে উঠেছে। জায়নবাদের ভাষ্য, জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত পবিত্র নগরীতে স্রষ্টা তাদের অধিকার ফিরিয়ে নিতে বলেছিল! ইতিহাসে নজর ফেরালে দেখা যায়, ১৮ শতক থেকে জায়নবাদ নামের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ইউরোপসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ইহুদিরা তাদের বর্ণবাদী ধারণার বিস্তার ঘটিয়ে দখল হওয়া ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম দেন। জায়নবাদের মাধ্যমে তখন থেকে আজ পর্যন্ত ইহুদি জনগণের মনে ফিলিস্তিনবিরোধী বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান। সেই বিদ্বেষ বুকে নিয়ে এদিন জেরুজালেমে ইসরায়েলি দূতাবাস স্থাপনের পক্ষে আনন্দ-মিছিলে অংশ নেওয়া ইসরায়েলি নাগরিকরা বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সেনাদের দমনপীড়ন উপভোগ করেছে। তারা শ্লোগান তুলেছে,  ‘ওদের পুড়িয়ে ফেল’, ‘গুলি করো’, ‘হত্যা করো’ বলে ।
১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ অবৈধ বসতি নির্মাণের প্রতিবাদ করায় ছয় ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়। পরের বছর থেকে ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত পরবর্তী ছয় সপ্তাহকে ভূমি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ফিলিস্তিনিরা। সোমবার দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে জোরালো হওয়া বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে সীমান্ত এলাকার ওই বিক্ষোভে অংশ নেন লাখো মুক্তিকামী ফিলিস্তিনি। এদিন নিহত ৫৮ ফিলিস্তিনিকে নিয়ে গ্রেট রিটার্ন মার্চ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে নিহত হওয়া ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এদিনের কর্মসূচিতে নিহতদের মধ্যে ছয় শিশু এবং একজন প্যারামেডিক রয়েছেন। ২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একদিনে এত সংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনা এটাই প্রথম।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের প্রশংসা করে একে ‘ঐতিহাসিক’ মুহুর্ত বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। নেতানিয়াহু বলেন, ‘ কী আনন্দের দিন! প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ইতিহাসকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে আপনি ইতিহাস রচনা করেছেন।’ নেতানিয়াহু বলেন, ‘আজ এখানে পৃথিবীতে সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র, আমাদের সবচেয়ে ভালো মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস চালু হলো।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই শহরে দূতাবাস খোলার মাধ্যমে সর্বত্র সত্য ছড়িয়ে দেবে’।
জেরুজালেমে হোয়াইট হাউসের দুই গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প যখন সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ করছিলেন, ফিলিস্তিনিরা তখন হতাহতদের নিয়ে ব্যস্ত। বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ম্যাসাকার আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। হতাহতদের স্মরণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন তিনি।

সিলেটে কাউন্সিলর শেপীর ‘ক্ষোভ’ by ওয়েছ খছরু

এবার ক্ষুব্ধ সিলেটের কাউন্সিলর সালেহা কবির শেপী। আর সেই ক্ষোভের বিচার পেতে যাচ্ছেন সহকর্মী কাউন্সিলরদের দ্বারে দ্বারে। তিনি অপমানের বিচার চান। সিটি করপোরেশনের ভেতরেই তাকে অপদস্থ করা হয়েছে। এর আগে তার মতো মহিলা কাউন্সিলর দিবা রানী দে, আমেনা বেগম রুমি, অ্যাডভোকেট রোকশানা বেগম শাহনাজ ও শামীমা স্বাধীনকে বিভিন্ন সময় অপদস্থ করা হয়েছিল। কোনো বিচার হয়নি। বরং প্রতিটি ঘটনাই ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। এ কারণে সিলেট সিটি করপোরেশন থেকে অনেক মহিলা কাউন্সিলর ক্রমেই বিমুখ হচ্ছেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের ২২, ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সালেহা কবির শেপী। তিনি এ নিয়ে পরপর তিনবারের সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর। বিএনপি দলীয় এই মহিলা কাউন্সিলর ব্যাপক জনপ্রিয় এলাকায়। মানুষের সুখে দুঃখে তিনি সব সময় ছুটে যান। এ কারণে এলাকার উন্নয়ন করতে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই চেষ্টার অংশ হিসেবে ১৫ দিন আগে তিনটি মসজিদ ও একটি গোরস্তানকে আলোকিত করতে সিলেট সিটি করপোরেশনের ইলেট্রনিক শাখার প্রধান রুহুল আলমের কাছে ৫টি এলইডি লাইট চান। কাউন্সিলর শেপীর দাবির প্রেক্ষিতে তাকে লাইট দেয়ার বিষয়ের আশ্বস্ত করেন রুহুল আমীন। এরপর তিনি কিছুদিন কর্মস্থলের বাইরে ছিলেন। ফিরে আসার পর গত বৃহস্পতিবার সিলেট সিটি করপোরেশনে যান কাউন্সিলর সালেহা কবির শেপী। তিনি ইলেকট্রিক শাখার প্রধান রুহুল আলমের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। কিন্তু রুহুল আলম তাকে সামনের চেয়ারে বসিয়ে রেখে প্রায় ১৫ মিনিট মোবাইল ফোনে কথা বলেন। এ সময় তার আচরণে আহত হন কাউন্সিলর শেপী। শেপী জানান, ‘রুহুল আলম তাকে চেয়ারে বসিয়ে রেখে উল্টোদিকে ঘুরে দেয়ালে পা তুলে মোবাইল ফোনে কথা বলতে থাকেন। একজন মহিলা কাউন্সিলরকে সামনে রেখে এ রকম আচরণ করায় তিনি অপমান বোধ করেন।’ প্রায় ১৫ মিনিট কথা বলার পর তিনি উল্টোদিকে ঘুরে কাউন্সিলর শেপীর কাছে জানতে চান, ‘কেন এসেছেন’। এ সময় শেপী বলেন, ‘আমাকে ৫টি এলইডি লাইট দেয়ার কথা ছিল।’ জবাবে- ‘ইলেকট্রিক শাখার প্রধান জানান কোনো লাইট নেই। দেয়া যাবে না।’ কাউন্সিলর শেপী সিটি করপোরেশনের ইলেট্রনিক শাখার প্রধানের আচরণে ক্ষুব্ধ হন। তিনি কথা না বাড়িয়ে সরাসরি চলে যান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কক্ষে। এ সময় নিজেদের স্টাফদের নিয়ে বসা ছিলেন মেয়র। তার কাছেও ৫টি এলইডি লাইট চান শেপী। পাশাপাশি তিনি ইলেট্রনিক শাখার প্রধানের আচরণের বিষয়টিও তুলে ধরেন মেয়রের কাছে। শেপীর কথা শুনে মেয়র ফোন দেন ইলেট্রিক শাখার প্রধানকে। ফোন রেখে মেয়র শেপীকে বলেন, ‘তোমাকে তো দেয়ার কথা ছিল না।’ এ সময় শেপীকে মেয়র জানান, ‘আপনি আমাদের আন্ডার ইস্টিমেট করেন বিধায় স্টাফরা আমাদের আন্ডার ইস্টিমেট করে।’ এ কথা বলার পর মেয়র আবারো ক্ষুব্ধ হন। এবং যা ইচ্ছে তাই আচরণ করেন বলে জানান শেপী। এদিকে শেপীর কথায় ক্ষুব্ধ মেয়র আরিফ আরো রেগে উঠেন। এবং নানা ভাবে শাসাতে থাকেন। এ ঘটনার পর মেয়রের কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে কাউন্সিলরদের কক্ষে যান শেপী। তার সঙ্গে ইলেট্রনিক শাখার প্রধান রুহুল আমীন ও সর্বশেষ মেয়রের আচরণের বিচার দেন। তার কথা শুনে উপস্থিত সিনিয়র কাউন্সিলররাও আহত হন। তারা বিষয়টি নিয়ে মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান। এদিকে উদ্ভূত ঘটনা নিয়ে শনিবার নিজের বাসায় বৈঠক ডাকেন কাউন্সিলর সালেহা কবির শেপী। ওই বৈঠকে উপস্থিত হন মহিলা কাউন্সিলররা। এর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কাউন্সিলর শাহানারা বেগম, আমেনা বেগম রুমী, বাবলী রানী দে, রেবেকা বেগম রেনু, জাহানারা ইয়াসমিন মিলন। তাদের সঙ্গে বৈঠকে শেপী মেয়র আরিফ ও ইলেট্রনিক শাখার প্রধানের আচরণের ঘটনা জানান। এ সময় সিটি কাউন্সিলররাও তাদের সঙ্গে অতীত আচরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। মহিলা কাউন্সিলররা জানিয়েছেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে সব সময় রূঢ় আচরণ করেন। এসব আচরণের মাত্রা এখন ক্রমেই বাড়ছে। এজন্য অনেক মহিলা কাউন্সিলর নীরব হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ সিটি করপোরেশন থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছেন। এছাড়া নিয়মিত মাসিক সভা না হওয়ার কারণে মহিলা কাউন্সিলররা কথা বলার জায়গা পাচ্ছেন না। এতে করে মহিলা কাউন্সিলররা যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন তারা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছেন। গতকাল সিলেট সিটি করপোরেশনের সিনিয়র মহিলা কাউন্সিলর শাহানারা বেগম জানিয়েছেন, মহিলা কাউন্সিলররা নানাভাবে অপদস্থ হচ্ছেন- এটা সত্য। কিন্তু কোনো প্রতিকার মিলছে না। তিনি নিজেও ৪-৫ মাস ধরে সিটি করপোরেশনে যাচ্ছেন না। সিলেট সিটি করপোরেশনের মহিলা কাউন্সিলর শামীমা স্বাধীন কয়েক মাস আগে অপদস্থ হয়েছিলেন। তাকে কয়েক ঘণ্টা সিটি করপোরেশনের একটি কক্ষে বন্দি করে রাখা হয়। পরবর্তীতে শামীমাকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছিলেন কর্মকর্তারা। শামীমা স্বাধীন বলেন, ‘নারী কাউন্সিলররা সিটি করপোরেশনের যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না।’ এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের ইলেক্ট্রনিক শাখার প্রধান রুহুল আলম জানিয়েছেন- কাউন্সিলর শেপী এলইডি লাইট চেয়েছিলেন। কিন্তু সিটি করপোরেশনে কাছে লাইট ছিল না। এ কারণে তাকে দিতে পারেননি। তবে- তার সঙ্গে কোনো দুর্ব্যবহার করা হয়নি। পরবর্তীতে মেয়রের কক্ষে তিনি চলে যান। এর বেশি কিছু তিনি বলতে পারেননি।

ডিএসসিসি নির্ধারিত মাংসের দাম ডিএনসিসিতেও চলবে? by শাহেদ শফিক

রমজান উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে রাজধানী ঢাকার মাংসের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কিন্তু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এখনও মাংসের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর পাশাপাশি মাংস বিক্রেতাদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। 
মাংসের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে ডিএনসিসির কর্মকর্তারা বলছেন, এই এলাকায় মাংসের মূল্য নির্ধারণ না করলেও ডিএসসিসি নির্ধারিত দামেই বিক্রি হবে। আর মাংস ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিএসসিসি নির্ধারিত দাম ডিএনসিসিতে কার্যকর থাকবে না। তবে তারা রোজাদারদের জন্য সাধ্যমতো কম দামে মাংস বিক্রি করবেন।
এদিকে, রমজানে মাংসের দাম নির্ধারণ করার লক্ষ্যে ব্যসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। সোমবার দুপুরে নগরভবনের ব্যাংক ফ্লোরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মেয়র গত রমজানের তুলনায় ২৫ টাকা কমিয়ে এবার রমজানে দেশি গরুর মাংসের কেজি নির্ধারণ করেন ৪৫০ টাকা। বিদেশি গরুর মাংসের দাম ২০ টাকা কমিয়ে ৪২০ টাকা কেজি নির্ধারণ করে দেন। এছাড়া মহিষের মাংসের দাম গত বছরের তুলনায় কেজিপ্রতি ২০ টাকা কমিয়ে ৪২০ টাকা এবং ভেড়া ও ছাগলের মাংসের দামও গত বছরের তুলনায় ২০ টাকা কমিয়ে ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সুপার শপগুলোতেও একই দামে মাংস বিক্রির নির্দেশ দেন তিনি।
তবে ডিএসসিসি নির্ধারিত এই দাম ডিএনসিসি এলাকায় কার্যকর হবে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বৈঠকে তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ডিএসসিসি নির্ধারিত দাম শুধু ডিএসসিসি এলাকায় কার্যকর থাকবে। ডিএনসিসি এলাকায় তারা এই দামে বিক্রি করতে পারবেন না।
এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘সাধারণত আমরা যে দর নির্ধারণ করি, ডিএনসিসিও তাই করে। গত বছরও দুই সিটি করপোরেশনের মাংসের দাম একই ছিল। এই দাম না মানলে মাংস বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, উত্তর সিটি করপোরেশন এই দাম মেনে চলতে বাধ্য নয়।’
ওই বৈঠকে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রবিউল আলম বলেন, ‘গরুর হাটের ইজারাদারের সন্ত্রাসীরা মাংস ব্যবসায়ীদের বেঁধে রাখে। রাতের অন্ধকারে তাদের কাছে টাকা আদায় করে। আর ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা লুটের টাকার অংশ নিচ্ছে। কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছে।’
ডিএসসিসি মেয়রের উদ্দেশে রবিউল আলম বলেন, ‘গাবতলীর সন্ত্রাসীদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করুন। আপনি উত্তরের মেয়রকে একটা ফোন করুন। আমাদের অন্য কোনও দাবি নেই। সরকার যে রেট নির্ধারণ করে দিয়েছে আমরা সেই রেটে টাকা জমা দিতে চাই। এটা করলে তিনশ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করা সম্ভব।’
জানতে চাইলে রবিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গাবতলী হাটে অবৈধভাবে অতিরিক্ত খাজনাসহ গরু ব্যবসায়ীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। ইজারাদার ও ডিএনসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। যে কারণে গরুর দাম বেশি হচ্ছে। যার প্রভাব মাংসের ওপরে পড়েছে। সরকারের আইন অনুযায়ী খাজনা আদায় করলে আমরা ৩০০ টাকায় মাংস বিক্রি করতে পারবো।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এই অনিয়মের সঙ্গে ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জড়িত। বারবার অভিযোগ করলেও ডিএনসিসি কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ কারণেই আমরা কম মূল্যে মাংস বিক্রি করতে পারছি না। এ বিষয়ে আমরা আগামীকাল সংবাদ সম্মেলন করবো।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা কয়েক বছর ধরে মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করছি না এটা ঠিক। কিন্তু ডিএসসিসির বৈঠকে আমাদের প্রতিনিধি থাকে। যেহেতু দুই সিটি করপোরেশন একই শহরে অবস্থিত, সে জন্যই আমরা দক্ষিণ সিটি যে দাম নির্ধারণ করে, আমাদের এখানেও সে অনুপাতে চলবে। যদিও বৈঠকে ডিএনসিসির কোনও প্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি।’ মাংস ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যাই করি আইন মোতাবেক করি। যদি ডিএনসিসি আইন অমান্য করে থাকে তাহলে ব্যবসায়ীরা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।’
ডিএসসিসি নির্ধারিত মাংসের দাম ডিএনসিসি এলাকায় বলবৎ থাকবে কিনা এ বিষয়ে চানতে চাইলে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির নেতা রবিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেহেতু ডিএনসিসি আমাদের সঙ্গে কোনও বৈঠক করেনি সে কারণে সেখানে কোনও মাংসের দাম নির্ধারণ হয়নি। তাদের কারণেই আমরা মাংসের দাম বাড়িয়েছি। তবে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করবো আসন্ন রমজানে মাংসের দাম কম রাখতে। কিন্তু ডিএসসিসি নির্ধারিত দাম সেখানে কার্যকর হবে না।’

নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গাদের ওপর ধ্বংসলীলার বর্ণনা দিল বৃটেন

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও ধ্বংসলীলা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছে বৃটেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এ নিয়ে শুনানিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফরে আসা জাতিসংঘে নিযুক্ত বৃটিশ রাষ্ট্রদূত ক্যারেন পিয়ার্স তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি জাতিসংঘে বৃটেনের স্থায়ী প্রতিনিধি। সাক্ষ্যে তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান নেই। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ভূমি ও গ্রামগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে সব। মিয়ানমারে অবস্থানরত যেসব রোহিঙ্গা জাতিসংঘ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদেরকে খুঁজছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের। তাদেরকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আগে থেকেই তাদেরকে মুখ খুলতে বারণ করা হয়েছিল। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সঙ্কটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান কি সে বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য পান নি তিনি। ১৪ই মে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তার বক্তব্য তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি রোহিঙ্গা সঙ্কট প্রত্যক্ষ করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করেন জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল। তাতে ছিলেন বৃটিশ রাষ্ট্রদূত ক্যারেন পিয়ার্স। তিনি এ নিয়ে জাতিসংঘে যে বিবৃতি তিনি ৫ দফা পর্যবেক্ষণ বা সুপারিশ উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেছেন, রাখাইন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। আমরা হেলিকপ্টারে করে উত্তর রাখাইন পরিদর্শন করেছি। এ সময় আমাদের সঙ্গে ছিলেন মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী ইউ কিয়াও তিন এ ছাড়া ইউনিয়ন এন্টারপ্রাইজ ফর হিউম্যানিটারিয়ান এসিসট্যান্স, রিসেটেলমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ইউইএইজআরডি) বিষয়ক মন্ত্রী ড. অং হতুন থেট। ক্যারেন আরো বলেছেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের টিমের সদস্যরা আক্রান্ত এলাকার ওপর দিয়ে উড়ে গিয়েছেন। এ সময় দেখা গেছে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে। মিয়ানমার সরকার ফেরত যাওয়া রোহিহিঙ্গাদের জন্য যে আবাসনের ব্যবস্থা করেছে তা পর্যবেক্ষণ করেছি আমরা। এর মধ্যে তালাত এলাকায় রয়েছে একটি অভ্যর্থনা কেন্দ্র ও একটি ট্রানজিট সেন্টার। সেখানে ৩০ হাজার মানুষকে আবাসিক সুবিধা দেয়া হতে পারে। ক্যারেন বলেন, উত্তর রাখাইনের স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে আমরা সাক্ষাত করেছে। কথা বলেছি মুসলিম ও হিন্দু গ্রুপগুলোর সঙ্গে। আরসা কট্টরপন্থিদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছি। যেসব রোহিঙ্গার বাড়ি সরকার নির্মাণ করে দিয়েছে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। সিতওয়ে বিমানবন্দরে আমাদের সঙ্গে সাক্ষাত হয়েছে নাগরিক সমাজের সদস্যদের। এরপরই নিজের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরেন তিনি। ক্যারেন বলেন, আমরা যা প্রত্যক্ষ করেছি সেখান থেকে কিছুটা নিরাপত্তা পরিষদের সামনে তুলে ধরবো।
১. প্রথমত আমি যে বিষয়টিতে নজর দেবো তা হলো ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা। আমার পেশাগত জীবনে এমন একটি ক্যাম্প এর আপগে কখনো দেখি নি। শরণার্থীরা সেখানে কি পরিমাণ প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছে, সরকার কি অবস্থায় ছিল, জাতিসংঘ সেখানে কি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে তা দেখে আমি অত্যন্ত বিস্মিত। আকাশ থেকে আমরা দেখতে পেয়েছি ব্যাপক ধ্বংসলীলা। এ টাই বাংলাদেশে এত বিশাল শরণার্থী শিবিরের একটি বড় কারণ।
২. দ্বিতীয়ত মিয়ানমার সরকাররকে তার দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে হবে। তাদের সাড়া বৃদ্ধি করতে হবে। তাদেরকে সহায়তা করতে শর্তহীন সুযোগ দিতে হবে জাতিসংঘকে। শুধু জাতিসংঘের আছে টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ। তারা জানে কিভাবে এই ভয়াবহ মাত্রার ঘটনা মোকাবিলা করতে হয়। মিয়ানমারে দুটি রিসিপশন সেন্টার আছে। এ দুটি সেন্টার দিয়ে তারা দিনে সর্বোচ্চ ৩০০ মানুষকে ফেরত নিতে পারবে। এমনিতেই সেখানে আছেন ৯০ হাজার শরণার্থী। ফলে এতটা জায়গা সেখানে নেই, যাতে খুব বেশি সংখ্যক শরণার্থী দেশে ফিরে যেতে পারবে। আমি বলেছি, এ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘকে জড়িত করা উচিত। কারণ বিশ্বে এটিই একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান যাদের এত বড় ভয়াবহতায় সহায়তা দেয়ার সক্ষমতা আছে।
৩. দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান কি সে সম্পর্কে আমাদেরকে যথেষ্ট তথ্য দেয়া হয় নি। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা জানতে পেরেছেন যে, শরণার্থীরা ফিরে গেলে তাদেরকে অস্থায়ী ভিত্তিতে ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখা হবে। কিন্তু কিভাবে এবং কোন সময়সীমার মধ্যে তারা প্রকৃতপক্ষে তাদের গ্রামে ফিরে যেতে পারবেন সে বিষয়ে আস্থা রাখা যায় এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি। নিরাপত্তা পরিষদ এটা জেনে আহত হয়েছে যে, ২০১২ সাল থেকে সিতওয়েতে এমন ক্যাম্প আছে।
৪. আমার চতুর্থ পর্যবেক্ষণ হলো, ইউইএইচআরডির উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা জানতে পেরেছেন। এ পরিকল্পনায় বেসরকারি পর্যায়ে অর্থায়ন করা হচ্ছে। এর অধীনে রয়েছে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া আয়োজানের সুস্পষ্ট আয়োজন। এক্ষেত্রে আমার দুটি পয়েন্ট আছে। তা হলো- বেসরকারি অর্থায়নের ঝুঁকি রয়েছে। রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণ ছাড়া যাই করা হোক তাতে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। এটা কোনো সমাধান নয়। রাখাইনের উন্নয়ন নিয়ে মিয়ানমার সরকার যে গভীরভাবে সচেতন সে বিষয়টি আমরা মেনে নিয়েছি। তবে এ াবস্থায় রোহিঙ্গাদেরকে দেশে ফেরত পাঠানো শুরু হলে তা নিরাপদ হবে না। মিয়ানমার সরকার ও সমস্যার গভীরতার প্রেক্ষিতে আমি আহত হই। রাজনৈতিক ইস্যু মোকাবিলায় সামান্যই অগ্রগতি আছে। রাজনৈতিক এসব ইস্যুতে সুপারিশ উত্থাপন করেছেন আনান কমিশন। তারা বলেছেন, সাম্প্রদায়িক পুনরেকত্রীকরণের কথা। রোহিঙ্গাদেরকে নিয়মিত নাগরিক দেয়ার কথা। স্বাধীনভাএব চলাচল ও শিক্ষা ও জীবিকা নির্বাহের মতো স্বাধীন অধিকারগুলো তাদেরকে দিতে হবে। আরসার হামলা চালানো সম্পর্কে আমরা কিছু গ্রামবাসী ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। তাই সব মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে অভিযোগ আছে তা জবাবদিহিতায় আনা উচিত। তবু আমি আবার পয়েন্টে ফিরে আসছি। তাহলো আমরা গিয়েছিলাম রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে। এ সঙ্কটের সবচেয়ে বড় অংশ হলো রোহিঙ্গা।
৫. সম্প্রতি আমরা রিপোর্ট পাচ্ছি। তাতে বরা হচ্ছে, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের যারা কথা বলেছেন তাদেরকে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা হুমকি দিচ্ছে। তারা আগেই রোহিঙ্গা গ্রামবাসীকে হুমকি দিয়েছিল। বলেছিল, কোনোভাবেই যেন নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তারা অবাধে কথা না বলে। কিন্তু তারা বলেছেন। তাই নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার জন্য কাউকে হুমকি, ভীতি প্রদর্শন করা হবে এটা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি আশা করি এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকার জরুরি ভিত্তিতে ব্যাখ্যা দেবে।

বুধবার মুক্তি পাবেন আনোয়ার ইব্রাহিম

মালয়েশিয়ার সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের জেল থেকে মুক্তি স্থগিত করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার তিনি মুক্তি পেতে পারেন। রাজা ইয়াং ডি-পারতুয়ান আগং মঙ্গলবার তাকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। এরপর এ বিষয়ে সরকারের সাধারণ ক্ষমা বিষয়ক বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল আজই। কিন্তু সেই বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে বুধবার পর্যন্ত। ওই বৈঠকে  রাজা ঘোষিত সাধারণ ক্ষমা নিয়ে আলোচনা হবে। এরপরই জেল থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি ২০১৫ সাল থেকে জেলে রয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এ বিষয়ে রাজা ইয়াং ডি-পারতুয়ান আগংয়ের অফিস থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আনোয়ার ইব্রাহিমের মুক্তির সব বিষয়ে সন্তুষ্ট তিনি। এরপরই সাধারণ ক্ষমা বিষয়ক বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নতুন প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ অনুরোধ করেছেন, বোর্ড যেন ১৬ই মে পর্যন্ত ওই বৈঠক স্থগিত রাখে। এ বিষয়ে রাজপ্রাসাদের কর্মকর্তা আহমাদ দাহলান বলেছেন, ১৬ই মে এ বিষয়টি চূড়ান্ত করার বিষয়ে যে অনুরোধ রাখা হয়েছে তাতে সম্মতি রয়েছে ইয়াং ডি-পারতুয়ান আগংয়ের। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মাহাথিরের সঙ্গে আলোচনা করেছেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও আনোয়ার ইব্রাহিমের স্ত্রী আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল। আনোয়ার ইব্রাহিমের জামিন বুধবার পর্যন্ত স্থগিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আনোয়ারের দল পার্টি কেদিলান রাকাইয়াত (পিকেআর) ও তার নিজের আইনজীবী আর সিবারাসা। তিনি বলেছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে আনোয়ার ইব্রাহিমের মুক্তি দাবি করে আবেদন জানানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল, তিনি ভুল বিচারের শিকার হয়ে শাস্তি ভোগ করছেন। এ ছাড়া তার বর্তমান স্বাস্থ্যগত অবস্থার কথা তুলে ধরা হয়েছিল। উল্লেখ্য, আনোয়ার ইব্রাহিম বর্তমানে রাজধানী কুয়ালালামপুরে ছেরাস রিহ্যাবিলিটেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার কাঁধে একটি অপারেশন হয়েছে। আস্তে আস্তে তিনি সুস্থ হযে উঠছেন। এর আগে আনোয়ার ইব্রাহিমের মেয়ে নুরুল ইজ্জাহকে উদ্ধৃত করে শনিবার চ্যানেল নিউজ এশিয়া জানিয়েছিল, আনোয়ার ইব্রাহিমকে মঙ্গলবারই মুক্তি দেয়া হবে। ওদিকে তিনি মুক্তি পেলেই কি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হবেন কিনা এমন গুঞ্জনও আছে। তবে তার স্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী আজিজা বলেছেন, তাকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য কোনো তাড়াহুড়ো নেই। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাহাথিরের ওপর আস্থাশীল। বুধবারের নির্বাচনে মাহাথিরের নেতৃত্বাধীন পাকাতান হারাপান জোট ২২২ আসনের পার্লামেন্টে ১১৩ আসনে বিজয়ী হয়। এর মধ্যে আনোয়ারের পিকেআর পায় ৪৮ আসন। এখন মাহাথির প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়ালে তিনিই হবেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী- জোট গড়ার আগে এমনই চুক্তি হয়েছে তাদের মধ্যে। কিন্তু এরই মধ্যে বলা হয়েছে, ক্ষমতার প্রথম দু’বছর দায়িত্বে থাকবেন মাহাথির। এ সময়ে সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে আনোয়ারকে তিনি মুক্তি দেবেন। একটি আসনে উপনির্বাচনে তাকে বিজয়ী করে আনবেন। তারপর তার হাতে ক্ষমতা তুলে দেবেন। আনোয়ার ইব্রাহিমের বয়স এখন ৭০ বছর। সমকামিতার অভিযোগে ২০১৫ সালে তাকে ৫ বছরের জেল দেয়া হয়। এ অভিযোগকে তিনি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংসের জন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেন।

ইসরাইলি সেনাদের গুলি ও টিয়ারশেলবৃষ্টি, রক্তাক্ত গাজা

ড্রোনের সাহায্যে বৃষ্টির মতো টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে ইসরাইলি সেনারা
পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাসে (জেরুজালেম) মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনের দিনে ইহুদিবাদি ইসরাইলি সেনারা নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। তাদের গুলি ও টিয়ারশেলের আঘাতে ৫২ ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ২,৪০০ জন আহত হয়েছেন। ২০১৪ সালের গাজা যুদ্ধের পর একদিনে ফিলিস্তিনি হতাহতের এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।
বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনের প্রতিবাদে গাজা উপত্যকার ইসরাইলি দেয়াল ঘেঁষে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীর উপর গাজার আকাশ থেকে ইসরাইলি ড্রোন হামলা হয়। কাটাতাঁরের বেড়ার ওপার থেকে ইসরাইলি সেনারা ছুঁড়তে থাকে গুলি। বিক্ষোভকারীদের দমন করতে ইসরাইলি সেনাদের ছোঁড়া টিয়ারশেল আকাশ থেকে পড়তে থাকে বৃষ্টির মতো। আর এ ঘটনায় হাজারো বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনি গুলি আর টিয়ারশেলের আঘাতে হতাহতের শিকার হয়। হুইল চেয়ারে বসে ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে গুলতি নিক্ষেপ করছেন এক ফিলিস্তিনি
স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় এদিনের বিক্ষোভে অনেক বেশি ফিলিস্তিনি অংশ নিয়েছে। এছাড়া পশ্চিম তীর, বেথেলহেমেও বিক্ষোভ করেছে হাজারো ফিলিস্তিনি। সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী ৬ শিশু এবং হুইলচেয়ারে চলাফেরা করা এক ব্যক্তিও আছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে হুইলচেয়ারে বসা এক ফিলিস্তিনিকে গুলতি দিয়ে পাথর ছুড়তে দেখা যায়।
নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্যে গত ৩০ মার্চ থেকে ভূমি দিবস পালন করছেন ফিলিস্তিনিরা। তখন থেকে আজকের আগ পর্যন্ত ইসরাইলি সেনারা গুলি করে ৪৫ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে।
ইহুদিবাদি ইসরাইল প্রতিষ্ঠার ৭০তম বর্ষপূর্তির দিনে বায়তুল মুকাদ্দাসে মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু করা নিয়ে তেল আবিব উৎসবের ঘোষণা দেয় যা ফিলিস্তিনিদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। কারণ প্রতি বছর এই দিনটিকে ফিলিস্তিনিরা নাকাবা বা বিপর্যয়ের দিন হিসেবে পালন করে থাকেন।
১৯৪৮ সালের এই দিনে ইহুদিবাদী ইসরাইল হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে তাদের ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে।তখন থেকে এসব ফিলিস্তিনি বিভিন্ন দেশে উদ্বাস্তু হিসেবে জীবনযাপন করছেন।
 
 
 
 
 
 
 

বায়তুল মুকাদ্দাসে মার্কিন দূতাবাস চালু: গাজায় ৫২ ফিলিস্তিনি শহীদ

জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন। উপস্থিত ছিলেন ইভানকা ট্রাম্প।
পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাসে (জেরুজালেম) মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনের দিনে ইহুদিবাদি ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে অন্তত ৫২ ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ২,৪০০ জন আহত হয়েছেন। ২০১৪ সালের গাজা যুদ্ধের পর একদিনে ফিলিস্তিনি হতাহতের এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।
আজ (সোমবার) ইসরাইলের স্থানীয় সময় বিকাল চারটার দিকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প ও ইভানকার স্বামী জেরার্ড কুশনার। কুশনার-ইভানকা দম্পতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিফেন মিউচিন ও উপ-পরাষ্ট্রমন্ত্রী জন সুলিভান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী ঘোষণায় ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রেইডম্যান বলেন, “আজ আমরা ইসরাইলের জেরুজালেমে আমেরিকার দূতাবাস খুলছি।”
অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বক্তব্য রাখেন ভিডিও লিংকের মাধ্যমে। তিনি বলেন, “ইসরাইল একটি সার্বভৌম জাতি। তাদের নিজেদের রাজধানী নির্ধারণের অধিকার আছে। কিন্তু বহুদিন ধরে আমরা এই সুষ্পষ্ট বিষয়টিকে স্বীকৃতি দিতে পারিনি।”
একটি দীর্ঘস্থায়ী ‘শান্তি প্রক্রিয়া’ ত্বরান্বিত করার জন্যও ট্রাম্প প্রতিশ্রুতিব্ধ বলে জানান।
এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দূতাবাসের উদ্বোধনী বক্তব্যে ট্রাম্পকে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং দিনটিকে ইসরাইলের জন্য ‘গৌরবোজ্জ্বল দিন’ বলে বর্ণনা করেন।
অন্যদিকে, দূতাবাস খোলার আগে থেকেই গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ করেছে ফিলিস্তিনিরা। এসময় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীর উপর গাজার আকাশ থেকে ইসরাইলি ড্রোন হামলা হয়। কাটাতাঁরের বেড়ার ওপার থেকে ইসরাইলি সেনারা ছুঁড়তে থাকে গুলি। বিক্ষোভকারীদের দমন করতে ইসরাইলি সেনাদের ছোঁড়া টিয়ারশেল আকাশ থেকে পড়তে থাকে বৃষ্টির মতো। আর এ ঘটনায় হাজারো বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনি গুলি আর টিয়ারশেলের আঘাতে হতাহতের শিকার হয়।
স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় এদিনের বিক্ষোভে অনেক বেশি ফিলিস্তিনি অংশ নিয়েছে। এছাড়া পশ্চিম তীর, বেথেলহেমেও বিক্ষোভ করেছে হাজারো ফিলিস্তিনি। সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী ৬ শিশু এবং হুইলচেয়ারে চলাফেরা করা এক ব্যক্তিও আছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে হুইলচেয়ারে বসা এক ফিলিস্তিনিকে গুলতি দিয়ে পাথর ছুড়তে দেখা যায়।
নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্যে গত ৩০ মার্চ থেকে ভূমি দিবস পালন করছেন ফিলিস্তিনিরা। তখন থেকে আজকের আগ পর্যন্ত ইসরাইলি সেনারা গুলি করে ৪৫ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্ব উদ্বেগ প্রকাশ করলেও যুক্তরাষ্ট্র দখলদার ইসরাইলকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় জাতিসংঘ: রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা

দেশের সর্বজনীন মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের এক শুনানিতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। মানবাধিকার কাউন্সিলে থার্ড সাইকেল ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ’তে (ইউপিআর) বাংলাদেশ সরকার দেশের মানবাধিকার বিষয়ে যে কান্ট্রি পেপার বা অবস্থান পত্র উত্থাপন করেছে তার ওপর আলোচনা করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শেখ হাসিনার মানবিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বলে সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পু এক টুইট বার্তায় জানানÑ ওই আলোচনায় অংশ নেয়া জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ দিয়েছেন। সেখানে বলপূর্বক গুম, বাল্যবিবাহ, মৃত্যুদণ্ড, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর তরফে বিভিন্ন সুপারিশ ছিল। সেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।
গতকাল সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওই শুনানি হয়। তবে, সেখানে দেশের সর্বজনীন মানবাধিকার বিষয়ে কোন দেশ কি অবভারভেশন বা রিজারভেশন দিয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার কোনো উল্লেখ ছিল না। জাতিসংঘের তরফেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু করা হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুনানিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত শামীম আহসানসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পর্যালোচনায় র‌্যাপোর্টিয়ারের দায়িত্ব পালন করে রুয়ান্ডা, আফগানিস্তান ও ইউক্রেন। ইউপিআর ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে ৭ থেকে ১৮ই মে পর্যন্ত বাংলাদেশসহ ১৪টি রাষ্ট্রের পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম এবং ২০১৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইউপিআর পর্যালোচনা করা হয়েছিল। সূচনা বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মানবাধিকার সুরক্ষা ও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। শুনানিতে অংশ নেয়া ১০৭ দেশ মানবাধিকার রায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টা ও প্রত্যয়ের প্রশংসা করে। আরো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে তারা সুপারিশ করেছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা, বাল্য বিবাহ বন্ধ, মানবপাচার বন্ধ, জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সমতা বৃদ্ধি এবং বৈষম্য দূর করতে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশে শ্রম অধিকার নিশ্চিতে অগ্রগতির কথাও জানিয়েছে তারা। আগামী ১৭ই মে শুনানির ওপর বাংলাদেশের ইউপিআর প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হবে। এদিকে জেনেভা ডেটলাইনে প্রকাশিত এক আগাম রিপোর্টে বাংলাদশ সরকারের জমা দেয়া মানবাধিকার পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যার ওপর ভিত্তি করে গতকালের পর্যালোচনা হয়েছে। সেখানে সরকারের চোখে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চমৎকার অগ্রগতি হয়েছে। তবে জাতিসংঘে বেসরকারি প্রতিবেদনে বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে বলে জানানো হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই রিপোর্টে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি-না তা নিয়েও কয়েকটি দেশের জিজ্ঞাসা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছেÑ ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশ মানবাধিকারের ক্ষেত্রে চমৎকার অগ্রগতি করেছে বলে জাতিসংঘকে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার পেশ করা প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রের আগাম উত্থাপিত প্রশ্নমালায় গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, বিরোধীদলীয় সদস্যদের  গ্রেপ্তার, মতপ্রকাশের অধিকার সংকোচন, ৫৭ ধারা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, নারী ও শিশুর নিরাপত্তাহীনতা এবং বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যের যেসব পরিসংখ্যান ও তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তা একেবারেই ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। ২০১৩ সালের ইফপিআর-এ বাংলাদেশের জন্য ১৯১টি সুপারিশ গৃহীত হয়েছিল। একই বিষয়ে অনেকগুলো সুপারিশেরও নজির রয়েছে। সরকারের পেশ করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দ্বিতীয় ইফপিআর’র যেসব সুপারিশ বাংলাদেশ গ্রহণ করেছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সরকার  সেগুলোর প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। যেসব ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে সেগুলো বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক শরিকদের সহযোগিতায় আরও জোরালো উদ্যোগ  নেয়ার কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষা আইন, খাদ্য নিরাপত্তা আইন, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন, শিশু আইন, বাল্যবিবাহ নিরোধক আইনসহ ২০১৩ থেকে ২০১৭ সময়ে প্রণীত অধিকারবিষয়ক আইন এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যনীতি, সম্প্রচারনীতি, পুষ্টিনীতি, ওষুধনীতি, অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গৃহীত নীতিগুলোর কথা সরকারি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ধর্মপালনের অধিকার-বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার এবং শরণার্থীবিষয়ক র‌্যাপোর্টিয়ারের বাংলাদেশে সফরের কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার কথাও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে  বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পেশ করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বিগত ইউপিআর’র সুপারিশমালা গ্রহণ করা সত্ত্বেও বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম এবং যথেচ্ছ গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। একটি প্রতিবেদনে ২০১৩ সালের মে থেকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৮৪৫টি বিচারবহির্ভূত হত্যা, ৩০০ জন গুম এবং ৪৮ জনের নির্যাতনে মৃত্যুর রেকর্ডের কথা বলা হয়েছে। ২০১৩ সালে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন তৈরির পরও পদ্ধতিগতভাবে নির্যাতনের প্রচলন ব্যাপক বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই সময়ে ৪৫ জন গুম হওয়ার কথা জানিয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গত নির্বাচন এবং ২০১৫ সালে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বেআইনি গ্রেপ্তার, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং মাত্রাতিরিক্ত শক্তিপ্রয়োগের ঘটনাগুলো তদন্তের কথা বলেছে। একই সঙ্গে কমিশন নির্যাতন নিরোধক আইন কার্যকরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এবং ইন্টারন্যাশনাল জুরিস্টস কাউন্সিল এসব গুমে আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর জড়িত থাকার কথা বলেছে।

অবরোধ বিক্ষোভ ধর্মঘট

ছবি: নাসির উদ্দিন, মানবজমিন
সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ঘোষণার প্রজ্ঞাপন দাবিতে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে সারা দেশে কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচিও অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সকাল থেকে দেশব্যাপী সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। তালা দেয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে। বন্ধ ছিল সব বিভাগের ক্লাস। তবে কয়েকটি বিভাগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রাজধানী শাহবাগ মোড়ের সড়ক অবরোধ করে। এসময় আশেপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। তবে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত ছিল। কোটা সংস্কারের দাবিতে গঠিত প্ল্যাটফরম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কোটা বাতিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার ৩২ দিনেও প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় বেশ কয়েক দফায় আলটিমেটাম শেষে গত রোববার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফরম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এদিকে দুপুর থেকে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। তবে পূর্বঘোষিত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জনান আন্দোলনকারীদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নুর। এদিকে একই দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হয়। এরপর দুপুর ১১টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল কলা ভবন, মল চত্বর, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, সূর্যসেন হল, প্রশাসনিক ভবন, ভিসি চত্বর, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, কার্জন হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আন্দোলনকারীরা। এরপর দুপুর পৌনে ১টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে তারা। সেখানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে ‘প্রজ্ঞাপন নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না’; ‘আর নয় কালক্ষেপণ, দিতে হবে প্রজ্ঞাপন’; ‘হামলা করে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না’; ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নেই’; ‘কোটা দিয়ে কামলা নয়, মেধা দিয়ে আমলা চাই’; ‘শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত, বৃথা যেতে দিবো না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে জানায় তারা। কোনো অনুপ্রবেশকারী আন্দোলনে ঢুকে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে সে লক্ষ্যে কর্মসূচি ঘিরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবককে দায়িত্ব দেয়া হয়। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ বলছে, এর বাইরে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে তারা দায় নেবেন না। এছাড়া, দুষ্কৃতকারী পেলে প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়া হবে। এসময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক বলেন, ‘যতক্ষণ কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি হবে না ততক্ষণ আমাদের অবরোধ কর্মসূচি চলবে। প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দেয়ার এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, তাই আমরা বাধ্য হয়ে আবারো অন্দোলনে নেমেছি।’ তিনি বলেন, ‘এবার আমরা দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরে যাবো না। যতক্ষণ আমাদের দাবি পূরণ (প্রজ্ঞাপন জারি) হবে না ততক্ষণ আমরা শাহবাগে অবস্থান করবো। কেউ ঘরে ফিরে যাবো না।’
বিকালে আন্দোলনকারীদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় আন্দোলনকারীরা। এসময় আন্দোলনকারীদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটা বাতিল ঘোষণার ৩৩ দিন পরও প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় ছাত্র সমাজ বিক্ষুব্ধ হয়েছে। এছাড়া আমাদের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর সারা দেশে হামলা করায় তারা ক্ষুব্ধ। আমরা আমাদের দাবি আদায়ে আজকের অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করছি। তবে পূর্বঘোষিত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলবে।
এদিকে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। জেলায় জেলায় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরাও গতকাল একই আন্দোলন করেছে। বিক্ষোভের পাশাপাশি তারা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। পালন করেছে অবস্থান কর্মসূচি। কোটাবিরোধী মিছিলে প্রদক্ষিণ করেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। যোগ দেয় শত-সহস্র শিক্ষার্থী। এতে বিভিন্ন জেলায় যান ও ট্রেন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। দৈনিক মানবজমিনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে জানা যায়-
জাবিতে বিক্ষোভ: জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণাকে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার সোয়া ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ জাবি ইউনিট’র ব্যানারে মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে তা শেষ হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে বন্ধ রয়েছে বেশ কয়েকটি বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা।
জাবিতে সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণায় ছাত্রসমাজের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করেছে। কিন্তু সেই ঘোষণাকে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ না করায় বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। সরকারের মন্ত্রীরা বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দেয়ায় তা আরো বাড়ছে। এ সময় দ্রুত কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের দাবি জানান তারা। বিক্ষোভ মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
চবিতে শাটল ট্রেন অবরোধ: কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষণার পর সোমবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ জেলার প্রায় সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে ধর্মঘট পালন করেছে। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর ষোলশহর রেল স্টেশনে সমবেত হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেন আটকে দেয় আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তারা সোমবার সকাল থেকে ধর্মঘট পালন শুরু করেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক ধর্মঘট চলবে।
সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের চবি শাখার প্রধান সমন্বয়ক আরজু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে সরকারি চাকরি থেকে সব ধরনের কোটা বাতিলের ঘোষণা দেয়ার পর এক মাস পেরিয়ে গেলেও গেজেট জারি না হওয়ায় এ ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সোমবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে নগরীর ষোলশহর রেল স্টেশনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা রেললাইন অবরোধ করে রাখেন। এতে বন্ধ হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় রুটে শাটল ট্রেন চলাচল। ফলে চট্টগ্রাম শহর থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি।
ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. শাহাবউদ্দিন জানান, আন্দোলকারী কিছু শিক্ষার্থী সকালে ক্যামপাসগামী প্রথম শাটল ট্রেনটি আটকে দেয়। দ্বিতীয় শাটল ট্রেনটিও নগরীর কদমতলি বটতলী রেল স্টেশন থেকে ছাড়া সম্ভব হয়নি।
রাবি শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন: দ্রুত কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ক্লাস বর্জন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা ‘গেজেট প্রজ্ঞাপনে কত দেরি পাঞ্জেরি’, ‘আর নয় কালক্ষেপণ, জারি কর প্রজ্ঞাপন’, ‘আর কোনো দাবি নাই, কোটা বাতিলের গেজেট চাই’, ‘আর নয় ছলচাতুরী, প্রজ্ঞাপন চাই তাড়াতাড়ি’ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয়। বেলা ৩টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে আবার সেখানে গিয়ে শেষ হয়।
আন্দোলনকারী সংগঠনের রাবি শাখার সমন্বয়ক মাসুদ মোন্নাফ বলেন, প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন চলবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, আন্দোলনকারীরা সকালে বাস চলতে দেয়নি। তবে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হওয়ায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে তাদেরকে বাধা দেয়া হয়নি।
শাবিতে অবস্থান কর্মসূচি: একই দাবিতে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘট এর সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার সকাল ৮টায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ডাকা ছাত্রধর্মঘটের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান ফটক হতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে এসে শিক্ষার্থীরা সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। কিন্তু তার কোটা বাতিলের নির্দেশ দেয়ার এক মাসের বেশি সময় অতিক্রম হওয়ার পরও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় আমরা আশাহত হয়েছি। আমাদের আন্দোলন সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। কোনো সরকারবিরোধী আন্দোলন নয়। আজ যদি প্রজ্ঞাপন জারি হয়, আজই আমরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাব। এদিকে বিভিন্ন বিভাগে চলমান সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ধর্মঘটের আওতামুক্ত থাকায় বিভিন্ন বিভাগে ক্লাস ও পরীক্ষা অব্যাহত ছিল। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।
ইবিতে মানববন্ধন: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। সোমবার বেলা ১১টা থেকে একই সংগঠনের ব্যানারে ওই কর্মসূচি পালন করে তারা। দুই ঘণ্টাব্যাপী ক্লাস বর্জন করে তারা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসের ডায়না চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বিভিন্ন অনুষদ ও সড়ক প্রদক্ষিণ করে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিবের সামনে গিয়ে জড়ো হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। বাড়তে থাকে সমাবেশ। পরে তারা মেইন গেট পেরিয়ে খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন করে। এ সময় তারা কোটা সংস্কার ও প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা রমজানের মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রের সকল কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে কর্মসূচি শেষ করা হয়।
উল্লেখ্য, বর্তমানে সরকারি চাকরির ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত। বাকি ৪৪ শতাংশ পদ পূরণ হয় সাধারণ প্রতিযোগিতায়। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ১০ শতাংশ নারী, ১০ শতাংশ জেলা, ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও ১ শতাংশ পদ প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত। ওই কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি তুলেছিল আন্দোলনকারী ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। একই সঙ্গে কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে তা পূরণের দাবিও ছিল তাদের। ওই আন্দোলনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ই এপ্রিল জাতীয় সংসদে আর কোনো কোটাই থাকবে না বলে ঘোষণা দেন। এর এক মাসেও প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় আবার মাঠে নেমেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বরিশালে মাদরাসা শিক্ষক লাঞ্ছনায় তোলপাড়

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে হেরে এক ইমামের মাথায় মলমূত্র ঢেলে লাঞ্ছিত করেছে পরাজিত জাপা নেতা জাহাঙ্গীর খন্দকার ও তার লোকজন। সেই সঙ্গে মলমূত্র ঢালার ওই দৃশ্যটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয় তারা। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে। এ পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে। এরা হচ্ছে বাদল (২৫)। সে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নূর মোহাম্মদের ছেলে। সোহাগ বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আ. মজিদ সরদারের ছেলে। ১২ নম্বর রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামের মৃত মো. হাসেম মুসল্লির ছেলে মিনজু (৪৫)। গতকাল দুপুরে বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১০-১২ জন। এদের সকলকে গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। এদিকে দুর্বৃত্তদের বিচারের দাবিতে বুধবার (১৬ই মে) মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে স্থানীয় আলেম সমাজ।
গতকাল দুপুরে বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বরিশালে বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নে ন্যক্কারজনক ঘটনার শিকার লাঞ্ছিত ইমাম আবু হানিফা (৫০) কাঁঠালিয়া ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদরাসার সুপার ও নেছারবাগ বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম।
অভিযুক্তরা হলো- পরাজিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম খন্দকার, সহযোগী জাকির হোসেন জাকারিয়া, মো. মাসুম সরদার, মো. এনামুল হাওলাদার, মো. রেজাউল খান, মো. মিনজু, সোহেল খন্দকার ও মিরাজ হোসেন। অভিযুক্ত সবার বাড়ি কাঁঠালিয়ায়।
ইমাম আবু হানিফা ও স্থানীয়রা জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁঠালিয়া ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হন এইচ এম মজিবর ও জাহাঙ্গীর খন্দকার।
এই নির্বাচনে ইমাম আবু হানিফা সভাপতি প্রার্থী এইচ এম মজিবর রহমানের পক্ষ নেন। নির্বাচনে বিজয়ী হন এইচ এম মজিবর রহমান। পাশাপাশি সভাপতি প্রার্থী জাহাঙ্গীর খন্দকার হেরে যায়। এ নিয়ে আবু হানিফার সঙ্গে জাহাঙ্গীর খন্দকারের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
পাশাপাশি বিভিন্ন সময় ইমাম আবু হানিফাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল পরাজিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর খন্দকার ও তার সহযোগীরা। গত শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আবু হানিফা মসজিদ থেকে বের হলে তার পথরোধ করে পরাজিত প্রার্থী ও তার লোকজন।
এ নিয়ে ইমামের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরাজিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর খন্দকারের এক সহযোগী ইমাম আবু হানিফার হাত ধরে ফেলে। পাশাপাশি জাহাঙ্গীর খন্দকার ইমামকে ধরে রাখে। এ সময় তার আরেক সহযোগী হাঁড়ি ভর্তি মলমূত্র এনে ইমাম আবু হানিফার মাথায় ঢেলে দেয়। এতে উল্লাসে ফেটে পড়ে। পরে দৃশ্যটি ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয় তারা।
এ বিষয়ে রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি শুনেছি এবং দেখেছি। যতই বিরোধিতা থাকুক সমাজের একজন সম্মানিত ইমামকে এভাবে কেউ অপমানিত করতে পারে ভাবতেও ঘৃণা লাগে। বিষয়টি দেখে খুবই কষ্ট পেয়েছি। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল হক জানান, মাদরাসার সুপার আবু হানিফা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।
পুলিশ সুপার জানান, তিনি ঘটনাটি জানতে পেরেই দ্রুত বাকেরগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দেন আসামিদের ধরতে। সেই সঙ্গে তিনি বাদী ও তার ভাইয়ের সঙ্গে নিজে কথা বলেন। এরপর ১৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ সুপারের নির্দেশ পেয়েই স্থানীয় পুলিশ দুইজনকে আটক করে। অপর আসামিদের যে কোনো মুহূর্তে ধরা হবে বলে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান। তিনি বলে এটি ধিক্কারযোগ্য একটি ঘটনা। মাদরাসা সুপারের মাথায় মানুষের মল ঢেলে লাঞ্ছিত করার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। খবরটি জানার পর থেকেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও মামলায় অভিযুক্ত সবাইকে আটক করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যে ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও চিত্রের বাইরে পুরো ঘটনার সঙ্গে ১০ থেকে ১২ জন জড়িত। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড চাওয়া হবে। অন্যদের দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান এসপি সাইফুল।

উফ! কী মর্মান্তিক

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় কেএসআরএম শিল্প গ্রুপের বিতরণ করা ইফতার পণ্যসামগ্রী নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ১১ জন নারীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪০ জন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নে কেএসআরএম-এর মালিক শাহজাহানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহত ৯ নারীর লাশ উদ্ধার করে চমেক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। বাকি ২ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম।
নিহত ৯ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নের ছগির আহমেদের মেয়ে হাছিনা আক্তার, একই ইউনিয়নের আহমদ শফির মেয়ে রশিদা আক্তার, ঢেমশা ইউনিয়নের মো. হাসানের স্ত্রী রিনা বেগম, একই ইউনিয়নের আবুল কালামের স্ত্রী সাকি, লোহাগাড়ার কলাউজান ইউনিয়নের ছালেহ আহমদের মেয়ে টুনটুনি, একই ইউনিয়নের আব্দুল হাফেজের স্ত্রী জোসনা বেগম, মো. আলাউদ্দিনের মেয়ে নুর জাহান, বান্দারবানের মো. ইব্রাহীমের স্ত্রী নুর আয়েশা এবং দোহাজারীর নুরুল ইসলামের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম।
নলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাসলিমা আক্তার ১১ নারী ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে নিহতের কথা নিশ্চিত করলেও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা বলেছেন, দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে হিটস্ট্রোকে এসব নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, নিহতদের বেশিরভাগের বয়স ৫০ বছরের বেশি। তবে নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের কয়েকজনকেও চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা।
তিনি জানান, আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নে কেএসআরএম শিল্পগ্রুপের মালিক মো. শাহজাহান প্রতি বছরের ন্যায় সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুস্থদের মাঝে ইফতার পণ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু করেন। এ সময় একটু ভিড় জমে। লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে হুড়োহুড়ি-চাপাচাপির ঘটনায় ১১ নারীর মৃত্যু ঘটে।
নলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাসলিমা আক্তার জানান, ইফতার নিতে আসা হাজার হাজার মানুষের চাপে পদদলিত হয়ে ওই ১১ নারীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২০০৮ সালেও এখানে ইফতার নিতে গিয়ে ৬ জন নিহত হয়েছিল। সম্পূর্ণ অনিরাপদ ও অব্যবস্থাপনার কারণে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
কেএসআরএমের কর্মকর্তা মো. রফিক বলেন, আমাদের কোমপানির পক্ষ থেকে সকালে দুস্থ-গরিবদের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছিল। সে সময় ভিড়ের মধ্যে পড়ে ঘটনাস্থলে ৯ জন নারী ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পথে আরো ২ জন নারীর মৃত্যু ঘটে। তবে অনিরাপদ ও অব্যবস্থাপনার কারণে এই মৃত্যুর ঘটনা মানতে নারাজ তিনি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম জানান, সাতকানিয়ায় ইফতার সামগ্রী নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মৃত্যু হওয়া ১১ নারীর লাশ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদের ৯ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, ১০ নারীর মৃত্যুর ঘটনায় কেএসআরএম গ্রুপের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে জেলা প্রশাসন।

ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ৪৩ ফিলিস্তিনি নিহত

ফিলিস্তিনিদের বা নাকাবা দিবস ও জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। শুধুমাত্র গাজায় ইসরাইলি সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায়ই বিক্ষোভ করেছেন ৪০ হাজারের বেশি মানুষ। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ৪৩ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৭০০’র বেশি। এর মধ্যে ইসরাইলি বাহিনীর উন্মুক্তভাবে চালানো গুলিতে আহত হয়েছেন ৪৫০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী। এ খবর দিয়েছে দ্য হারেৎস ও আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, আজ মঙ্গলবার ফিলিস্তিনিদের ৭০তম ‘নাকাবা দিবস’ (বিপর্যয়) বার্ষিকী উপলক্ষে কয়েক সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ দ্য গ্রেট মার্চ অফ রিটার্নে অংশগ্রহণ করেছে প্রায় ৪০ হাজার বিক্ষোভকারী। তারা অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইল সংলগ্ন সীমান্তে বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই সীমান্ত বেষ্টনী ভেঙে ইসরাইলি ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের দমাতে উন্মুক্তভাবে গুলি, কাঁদানে গ্যাস ও আগুনে বোমা ছুড়েছে ইসরাইলি বাহিনী।
গ্রেট মার্চ অফ রিটার্ন
আজ মঙ্গলবার ফিলিস্তিনিদের ৭০তম নাকাবা দিবস। ১৯৪৮ সালে এইদিনে তাদের জন্মভূমি (বর্তমান ইসরাইল) থেকে গাজায় বিতাড়িত করা হয়েছিল লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে। গাজার ৭০ শতাংশের বেশি জনগণই বিতাড়িত শরণার্থীদের বংশধর। ওই ঘটনাকে ফিলিস্তিনিরা নাকাবা বা বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করে থাকে। প্রতি বছরই দিনটিকে নাকাবা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে তারা। এই বছর ৩০শে মার্চ থেকে ইসরাইলে ফিরে যাওয়ার দাবিতে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইল সংলগ্ন সীমান্তে টানা বিক্ষোভ করে আসছে ফিলিস্তিনিরা। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিক্ষোভ হয়েছে গতকাল। ইসরাইলি সীমান্তের কাছে বিক্ষোভ করেছে প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি। এর মধ্যে অনেকে সীমান্ত বেষ্টনী অতিক্রম করার চেষ্টা চালিয়েছেন। যদিও ইসরাইল বিক্ষোভের আগেই সীমান্ত থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্ক করে লিফলেট ছড়িয়ে দিয়েছিল। তবে বিশাল এই বিক্ষোভের আয়োজনকারীরাও লিফলেটের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে এই প্রচেষ্টা সফল করে তোলার আহ্বান জানায়।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ৩০শে মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনীর হাতে বিক্ষোভরত অবস্থায় সাংবাদিকসহ মারা গেছেন কমপক্ষে ৯০ জন। আহত হয়েছেন ৯ হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে গতকালকের বিক্ষোভে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩ জন। আহত হয়েছেন, ১ হাজার ৭০০ মানুষের বেশি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবারের বিক্ষোভে নিহতদের মধ্যে কমপক্ষে পাঁচজনের বয়স ১৮ বছরের কম। এর মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। অন্যদিকে ১ হাজার ৭০৩ জন আহত ব্যক্তির মধ্যে, অন্তত ১২২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক, ৪৪ জন নারী ও ১১ জন সাংবাদিক রয়েছেন। এর মধ্যে সরাসরি ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে আহত হয়েছেন ৭৭২ জন ও গ্যাস হামলায় আহত হয়েছেন ৭৩৭ জন। স্থানীয় সাংবাদিক মারাম হুমাইদ বলেন, সোমবারের বিক্ষোভে নজিরবিহীন মানুষ অংশ নিয়েছে। বিগত কোনো বিক্ষোভেই এত পরিমাণ মানুষ অংশ নেয়নি।
এদিকে, বিক্ষোভে ইসরাইলি বাহিনীর গুলি চালানোর প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মিশর। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইল অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করছে।
মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর
এদিকে, আরব বিশ্বের নীরবতার মধ্য দিয়েই আজ জেরুজালেমে স্থানান্তর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। পশ্চিমা শক্তিধর অন্যান্য দেশ ও প্রতিষ্ঠানের এতে আপত্তি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে এর মধ্যদিয়ে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দিচ্ছেন। দিনটিকে ইসরাইলের ইহুদিরা জেরুজালেম দিবস হিসেবে উদযাপন করছে।
এতে বলা হয়েছে, বিশ্ব নেতাদের সমালোচনা সত্ত্বেও আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি পেলো জেরুজালেম। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন দূতাবাসের ফলক থেকে পর্দা সরিয়ে এর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামেপর মেয়ে ইভানকা ট্রামপ ও জামাতা জারেড কুশনার ও ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট রিওভেন রিভলিনসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।
কুশনার তার বক্তব্যে বলেন, অবশেষে এই সত্যের স্বীকৃতি মিলেছে যে, জেরুজালেমই ইসরাইলের রাজধানী। তিনি বলেন, এখানে আমাদের দূতাবাস স্থানান্তর করে আমরা আবারো বিশ্বের কাছে প্রমাণ করলাম যে, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায়।
দূতাবাস স্থানান্তর নিয়ে ট্রামপ বলেন, ইসরাইল একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র ও তাদের নিজেদের রাজধানী ঠিক করার অধিকার আছে। ট্রামপ আরো বলেন, ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তিচুক্তির ব্যবস্থা করতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে পদক্ষেপটির কট্টর সমালোচনা করেছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ জারিফ বলেন, এটি একটি মহা লজ্জার দিন। এক টুইটে তিনি বলেন, ইসরাইলি প্রশাসন অগণিত ফিলিস্তিনিদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় কারাগারে বিক্ষোভ করার জন্য ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করে। অন্যদিকে ট্রামপ অবৈধ দূতাবাস স্থানান্তর উদযাপন করে ও তার আরব সহযোগীরা অন্যদিকে মনোনিবেশ করছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে ওল্ড সিটি হিসেবে পরিচিত জেরুজালেমে নেমে আসে কয়েক হাজার ইহুদি বসতি স্থাপনকারী। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে পুলিশ। ১৪ই মে’কে ইসরাইল জেরুজালেম দিবস হিসেবে পালন করে বার্ষিক ভিত্তিতে। ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়ার পর থেকেই তারা এ দিবসটি পালন করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প ও জামাতা জারেড কুশনারসহ একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল আগেভাগেই ইসরাইলে পৌঁছান।
ওল্ড সিটিতে এতিমদের একটি সংগঠনের প্রধান আফাফ আল দাজানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তর করানোর ফলে অবশ্যই আমরা দুর্ভোগের শিকার হবো। এখনই বসতি স্থাপনকারীদের উপস্থিতির কারণে আমরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। দূতাবাস স্থানান্তর এই অবস্থাকে আরো জটিল করে তুলবে।

গাজা সীমান্তে ইসরাইলি স্নাইপারদের তাণ্ডব; ৫২ ফিলিস্তিনির শাহাদাত

ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে আহত এক ফিলিস্তিনিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে
গাজা সীমান্তে ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর ইহুদিবাদী সেনাদের নির্বিচার গুলিবর্ষণে ৫২ ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন।
ভূমি দিবস উপলক্ষে গত ছয় সপ্তাহ ধরে গাজায় ইসরাইল বিরোধী যে বিক্ষোভ চলছে তারই ধারাবাহিকতায় আজ বাইতুল মোকাদ্দাসে মার্কিন দূতাবাস খোলার দিনে এ ভয়াবহ হামলা চালানো হলো।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত অন্তত ৫২ ফিলিস্তিনি শহীদ হওয়া ছাড়াও অপর ২,৪০০ জন আহত হয়েছেন। গাজা সীমান্ত জুড়ে অবস্থান নেয়া দখলদার ইসরাইলি স্নাইপাররা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি
নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্যে গত ৩০ মার্চ থেকে ভূমি দিবস পালন করছেন ফিলিস্তিনিরা। তখন থেকে আজকের আগ পর্যন্ত ইসরাইলি সেনারা গুলি করে ৪৫ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা হলেও ইসরাইলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মার্কিন সরকার ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো এ বর্বরোচিত গণহত্যাকে সমর্থন করেছে।
কুদস দখলদার ইসরাইলি সেনারা গাজা সীমান্তকে সামরিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। আজ আরো পরে অধিকৃত বায়তুল মোকাদ্দাস শহরে মার্কিন দূতাবাস খোলার কথা রয়েছে।

ভোট পরীক্ষা by রোকনুজ্জামান পিয়াস

খুলনা মহানগরের প্রায় পাঁচ লাখ ভোটারের অপেক্ষার প্রহর শেষ। আজ ভোট উৎসবের দিন। দিনভর সারা দেশের মানুষের দৃষ্টি থাকবে এ  শিল্পনগরীতে। এ নির্বাচন প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সামনেও কঠিন পরীক্ষা। সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে দলীয় প্রার্থী বিজয়ী করার সরকারি দলের সামনে এক চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে বিরোধী জোট মরিয়া এ সিটিতে জয়ী হয়ে নিজেদের প্রতি মানুষের আস্থার প্রমাণ দিতে। জাতীয় নির্বাচনের আগে এ সিটিতে শান্তিপূর্ণ ভোট করার বড় পরীক্ষা নির্বাচন কমিশনের সামনে। আজ বিকালেই ভোট গ্রহণ শেষে জানা যাবে হার-জিতের আসল চিত্র। এদিকে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে প্রচার-প্রচারণা শেষ হওয়ার পর ভোটের আগের রাতে উত্তাপ ছড়িয়েছেন প্রার্থীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রার্থী ও তাদের কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ এসেছে ভোটের আগের রাতেও। নিজ দলীয় এক কাউন্সিলর প্রার্থীর বাড়ি পুলিশ ঘেরাও করার অভিযোগে রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থান করে প্রতিবাদ জানান বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করছিলেন। খুলনার পুলিশ কমিশনারকে প্রত্যাহার, নগরীর হোটেলে অবস্থান নেয়া বহিরাগত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও কাউন্সিলর প্রার্থীর বাড়ি ঘেরাওকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে তিনি সেখানে অবস্থান করেন। নির্বাচন সামনে রেখে গত কয়েকদিন ধরে খুলনার পরিস্থিতি সারা দেশের মানুষের নজর কেড়েছে। তাই তাদের উৎসুক চোখও থাকবে এ মহানগরীর দিকেই। শুধু ভোটের মাঠের দিকে নয়, মানুষের নজর থাকবে নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন পরিচালনাকারী নানা ব্যক্তি-গোষ্ঠীর দিকে। কারণ এ কমিশনের অধীনে কোনো বড় ধরনের নির্বাচন এটাই প্রথম। খুলনার মানুষের ভাষ্য, কমিশনের জন্য এটা একটা এসিড টেস্ট। এ নির্বাচনে কমিশনের ভূমিকা কেমন হবে তার ওপরই নির্ভর করবে আস্থা-অনাস্থার বিষয়। এদিকে গতকাল দিন ও রাতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী, এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অ্যাকশন দেখা গেছে। এ নির্বাচনের অধিকাংশ কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হয়েছে। নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ মেয়র প্রার্থী সরকারি দলের তালুকদার আবদুল খালেক ও বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তফসিল ঘোষণার প্রথম থেকে প্রতিদিনই নানা কারণে কমিশনে অভিযোগ করেছে বিএনপি প্রার্থী। কিন্তু কোনোটারই সুরাহা হয়নি এ পর্যন্ত। জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত বিএনপি ২৯টা অভিযোগ করেছে কমিশনে। এদিকে উৎসবে ভোট হলেও নগরীজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকাল দিনভর ও রাতের বিভিন্ন সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার করতে তাদের বাড়িতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ওইসব নেতৃবৃন্দকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের হুমকি ধমকি দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, খুলনা ছেড়ে যেতে। এতে আতঙ্কে অনেক নেতাকর্মীই এলাকা ছাড়া হয়েছেন। ভুক্তভোগী নেতাদের বক্তব্য, গ্রেপ্তারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রশাসন তা মানছে না। অপরদিকে গতকাল থেকেই মহানগরীর বাইরে থেকে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন হোটেলে এসে জড়ো হয়েছে- এমন খবর চাউর হয়েছে। এ ব্যাপারেও অভিযোগ দিয়েছে বিএনপি। সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার ও ভোট কেন্দ্রের অনেক আনসারও দলীয় বিবেচনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পর্যবেক্ষক নিয়োগেও দলীয়করণের অভিযোগ রয়েছে। সূত্রমতে, আওয়ামী সমর্থক স্বপন গুহ পরিচালিত এনজিও রূপান্তর ও বিতর্কিত এনজিও উত্তরণ-এর কর্মীদেরকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এসব এনজিও’র আড়ালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে মাঠ পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত নগরজুড়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের আধিপত্য ছিল। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী নিজে ছাড়াও প্রতিদিনই তার পক্ষে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খণ্ড খণ্ডভাবে প্রচারণা চলেছে। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর প্রচারণা তেমনটা চোখে পড়েনি। তার পক্ষে নেতাকর্মীরা মাঠে নামলেই গ্রেপ্তারসহ নানাভাবে হয়রানি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ নিয়ে খুলনাবাসীর মধ্যেও নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের বক্তব্য, এই জুলুম-নির্যাতন করে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুর জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নীরব বিপ্লব হবে এমনটাও মন্তব্য করেছেন অনেকে। ভাসমান ভোটারদের বেশির ভাগের মনেই এই গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা গেছে। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা ভোট দিতে চান। কিন্তু আদৌ সে সুযোগ পাবেন কিনা- এমন আশঙ্কা রয়েছে তাদের মধ্যে। গতকাল কথা হয় পিকচার প্যালেস মোড়ে অবস্থিত একটি সেলুনের কর্মচারী তাপসের সঙ্গে। তিনি জানান, নির্বাচন হবে। তবে তা হবে এক তরফা। নজরুল ইসলাম মঞ্জুর ভোটাররা মাঠেই যেতে পারবে না। তারা যেন ভোট দিতে না পারে, সেভাবেই আগে থেকে সবকিছু সেট করা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই সেলুন কর্মচারী। নগরীর অধিকাংশ ভোটারের সঙ্গে কথা বলে একই রকম মন্তব্য পাওয়া গেছে।
এদিকে গতকাল দিন ও রাতের বিভিন্ন সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন এলাকায় তালিকা ধরে ধরে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ২৬ নং ওয়ার্ডের ভোটার কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা গালিব ইমতিয়াজ নাহিদের বাড়িতে দুপুর সোয়া ২টার দিকে পুলিশ অভিযান চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, অভিযানের খবর পেয়ে নাহিদ আগেই বাড়ি থেকে সরে পড়ে। পরে পুলিশ বাড়িতে থাকা নাহিদের পিতা-মাতাকে শাসিয়ে যায়। নাহিদকে তাৎক্ষণিকভাবে খুলনা ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেয় তারা। অন্যথায় তাদেরকেও ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। জানা গেছে, প্রথমে দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন সাদা পোশাকের পুলিশ যায়। এরপর একটি পিকআপ ভ্যান অভিযানে অংশ নেয়। ওই অভিযানের নেতৃত্বে ছিল সোনাডাঙ্গা থানার এসআই শহিদুল ইসলাম। এরপর বিকালের দিকে আবারো অভিযান চালায়। এই ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম বাবু জানান, পুলিশ তার বাড়িতেও বিকাল তিনটার দিকে অভিযান চালিয়েছে। এলাকা ছাড়ার জন্য তার বাবা মাকেও শাসিয়ে গেছে। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা রুবেল আহমেদের বাড়ি গিয়ে হুমকি ধমকি প্রদান করে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ। রুবেলকে না পেয়ে তার ছোট ভাইকে তুলে নিতে যায়। তবে কৌশলে পালিয়ে যায়। কাউকে না পেয়ে বাড়ির মহিলা সদস্যদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে তারা। রাত আটটার দিকে সোনাডাঙ্গা পুলিশ গ্রেপ্তার করে মহানগর বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম তুহিনকে।
নগরীর কিছু কিছু এলাকায় সরকার দলীয় প্রার্থীর লোকেরা সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর খবরও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বিহারী ক্যাম্পগুলোতে সরকারদলীয় নেতাদের প্রভাব থাকে বরাবর। ১, ৫ ও ৭ নম্বর বিহারী ক্যাম্প এলাকায় এবং নগরীর রেললাইন এলাকার নিম্নবিত্ত কিছু ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই এলাকার কিছু ভোটারকে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য সরকারদলীয় প্রার্থীর লোকেরা হুমকি দিয়েছে। বিসিক শিল্প নগরীর কয়েকজন কারখানা শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের এলাকায় দলে দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর লোকজন আসে। সাধারণ শ্রমজীবীদের টার্গেট করে ভোট কেনে।
জাতীয় নির্বাচনের বার্তা দিতে চায় ইসি: সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনায় বিরাজ করছে জাতীয় নির্বাচনের আবহ। ভোটের পরিবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র পরস্পরবিরোধী অবস্থান ও প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনীতিতে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বছরের শুরুতে এ সিটি নির্বাচনের দিকে এখন সবার নজর। নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটার- সবার কাছে এ নির্বাচনের বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এ নির্বাচন থেকেই বার্তা যাবে আরো চার সিটির ভোটের। জাতীয় নির্বাচনও কেমন হবে তার আভাসও মিলবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে সুষ্ঠু নির্বাচনের বার্তা দেয়ার কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। গতকাল তিনি বলেন, সামনে সংসদ নির্বাচন। আরো সিটি ভোট রয়েছে তার আগে। খুলনার মাধ্যমে আমরা সবাইকে বার্তা দিতে চাই-সুষ্ঠু নির্বাচনে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। সব সময় সুষ্ঠু নির্বাচন করবো আমরা। কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর গত বছর কুমিল্লা ও রংপুর সিটিতে ভোট করে সব মহলের প্রশংসা কুড়ায়। কুমিল্লায় বিএনপি ও রংপুরে জয় পায় জাতীয় পার্টি। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসি সংলাপে নিবন্ধিত সব দলসহ অংশীজনের মতামত নেয়। তাতে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির পথও প্রশস্ত হয়। কিন্তু এ বছরের শুরুতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপ- নির্বাচন এবং উত্তর-দক্ষিণের নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডের ভোট আটকে যাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে ইসি। তবে বছর শেষে সংসদ নির্বাচনের আগে গাজীপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি ভোটের পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে সব মহলের। এ অবস্থায় ১৫ই মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ দেয়া হয়। মাঝপথেই গাজীপুরের ভোট আটকে যাওয়ায় সরকার ও ইসির দিকে সমালোচনার তীর। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হচ্ছে না জানিয়ে ক্ষমতাসীন দলটি বলেছে, এমপি-মন্ত্রীরা প্রচারে নামতে পারেনি। অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডার বলেও অভিযোগ করে ক্ষমতাসীন দল। অন্তত এক ডজন দাবি নিয়ে লিখিত সুপারিশও দেয় আওয়ামী লীগ। নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল কমিশনকে বলেছে, খুলনার পুলিশ কমিশনারসহ তিন পুলিশ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
সরকারের পাশাপাশি ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দলটি। রিটার্নিং অফিসারকে প্রভাবিত করতেই ইসি’র একজন যুগ্ম সচিবকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। সেনা মোতায়েনের পক্ষে-বিপক্ষে দলগুলো বক্তব্য দিলেও কমিশন শুরুতেই বলে দিয়েছে, স্থানীয় সরকারে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে না। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হবে। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটের সামগ্রী পৌঁছে গেছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী মাঠে টহল ও কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। দলীয় এ ভোটে প্রার্থীদের বাকযুদ্ধ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থাকলেও শেষ মুহূর্তে ভোটের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, খুলনা সিটি এলাকা এখন ঠাণ্ডা অবস্থা। ভোট নিয়ে কারও কোনো আর শঙ্কা নেই। যারা অভিযোগ করেছে তাদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছি-অভিযোগগুলো সত্যি নয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সিটি করপোরেশনে ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ড, ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। ভোটকেন্দ্র ২৮৯টি ও মোট ভোটকক্ষ ১ হাজার ৫৬১টি। ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। মেয়র পদে প্রার্থী পাঁচজন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন এবং সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জনসহ মোট ১৯১ জন প্রার্থী খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটগ্রহণ উপলক্ষে খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ২২ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রতি ওয়ার্ডে পুলিশের মোবাইল ফোর্স এবং প্রতি তিন ওয়ার্ডের জন্য একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যাবের একটি করে মোবাইল টিম টহল দিচ্ছে। নির্বাচনী এলাকায় ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ২০ জন পর্যবেক্ষক ও ৯ জন পর্যবেক্ষক সহায়ক নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া ৬০ জন এক্সিকিউটিভ এবং ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেখান থেকে সার্বক্ষণিক নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ এবং নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।