Thursday, June 8, 2017

সংসদে অর্থমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা : ‌‌'বাজেট শুভংকর ফাঁকি'

সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় তোপের মুখে পড়েন অর্থমন্ত্রী। আগামী অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নানা অসংগতি ও লুটপাটের ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে-এমন অভিযোগে অর্থমন্ত্রীর নেতিবাচক ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। অন্যদিকে বাজেটের ভূয়সী প্রশংসা করেছে সরকারি দল। আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বলেন, বাজেটে আশা করেছিলাম হাওর এলাকা নিয়ে অর্থমন্ত্রী বিশেষ কোন পরিকল্পনা বা বরাদ্দ দেবেন। কিন্তু তা করা হয়নি। ফসল হারানো হাওরের মানুষের জন্য তিনি কিছু করবেন বলে আমার প্রত্যাশা। তিনি বলেন, একটি বাজেট সাধারনত হিসাব-নিকাশের বিষয়। আবার বাজেটে একটি সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা থাকে। এই বাজেট সম্পুর্ন বাস্তবায়নযোগ্য কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এবারের বাজেট কেবল হিসাব-নিকাষের একটি পরিসংখ্যান মাত্র। বিশাল বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা অর্থমন্ত্রীর আছে কি না তা দেখা দরকার। তিনি বলেন, বাজেট বড় মানে এডিবিও বড়। এডিবির লক্ষ্য অর্জনে ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করতে হবে এক মাসের মধ্যে। হিসাব অনুযায়ি প্রতিদিন দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হবে। আসলে এটা সম্ভব নয়। এতে লুটপাটের ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি ঘটনা নিয়ে পরে বলবেন বলে কথা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। অথচ আজ পর্যন্ত এ নিয়ে তিনি আর কোন কথা বলেননি। ওই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন তিনি প্রকাশ করেননি। অথচ ঘোষনা দিয়েছিলেন প্রেস কনফারেন্স করে ঘোষনা দেবেন। তদন্ত রিপোর্টে কাদের নাম এসেছে তাদের বিচারের আওতায় আনেননি অর্থমন্ত্রী। পীর ফজলুর রহমান বলেন, প্রতি বছর ব্যাংক থেকে ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এক বছরে ৭৩ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হযেছে। অথচ জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হয় না। জনগণের ট্যাক্সের টাকা কিছু লুটেরা বাংকের কাছ থেকে ঋণের নাম করে নিয়ে আত্মস্বাত করে। বিদেশে পাচার করে। শেয়ার বাজারের মাধ্যমে যারা রিক্ত-নিংস্ব হয়েছে তারা আজও জানতে পারেননি কারা এর সঙ্গে জড়িত। অর্থমন্ত্রী মনে হয় তাদেরকে রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের বিচার কেন হয় না তা সংসদের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই। তিনি বলেন, আবগারি শুল্ক সাধারণত মাদক বা তামাক থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য আরোপ করা হয়। অথচ এবারের বাজেটে টাকা জমা রাখার ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। মনে হচ্ছে জমানো টাকা যেনো মদ আর গাঁজা। এক লাখ টাকা থাকা মানে তিনি সম্পদশালি-অর্থমন্ত্রী কোন যুক্তিতে এ ধরণের কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী মনে হয় মানুষের ভাষা বুঝতে পারছেন না। তাই এ শূল্ক প্রত্যাহার করা হোক। একই সুরে সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির খোরশেদ আরা হক বলেন, এটা একটি শুভংকর ফাঁকির বাজেট। এটা আবার সুন্দর করে সাজানো হোক। বাজেট তৈরির আগে অর্থমন্ত্রী কারও মতামত নেননি কেন?
উনি তো কারও কথা বুঝেন না। না বুঝেই বাজেট পেশ করেছেন। আপনি যা ইচ্ছা করে যাবেন আর আমরা সহ্য করে যাবো। তার বাজেটে শুধু গরীবরা মরবেন না ধনীরাও তো মরবেন। তিনি বলেন, এই বাজেটে নারীদের জণ্য তেমন কিছু বলা হয়নি। উল্টো নারীরা আরও আর্থিক কষ্টে পড়বেন। টক শো নিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আরও কঠোর হতে হবে। প্রয়োজনে টেলিভিশনের টক শো বন্ধ করে দিতে হবে। খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তার যদি লজ্জা থাকে তাহলে আমাদের কথার ওপর কোন কথা বলবেন না। তার একটি ছেলে তো ক্রিমিনাল। এদিকে সরকারি দলের পঞ্চানন বিশ্বাস আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, বলেন, ব্যবসায়িরা এবারের বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব বলেছেন। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সুবিধাভোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। সরকার তাদের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে গ্রাম-গঞ্জের রাস্তাঘাটের অভূতপুর্ব উন্নয়ন হচ্ছে। তিনি বলেন,এবারের বাজেটে আসলে মানুষের আশা-আকাংকার প্রতিফলন ঘটেছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে মূর্তি সরানো নিয়ে কেউ কেউ হেফাজতের সঙ্গে সখ্যতার কথা বলেছেন। এর আগে জামায়াতের মতো ইসলামি দলের সঙ্গে আতাত করে বিএনপি অপরাজনীতি করেছে। তখন বেগম জিয়া রাজনীতি নিয়ে কম খেলেননি। একইভাবে হেফাজতের ধুর্তরা শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। তারা একটি মূর্তি সরানোর পর দেশের সব মূর্তি সরানোর দাবি জানান। তাদের এ দাবি মানা হলে দেশে মৌলবাদিকে উৎসাহিত করা হবে। তিনি বলেন,সরকারের মনোবল ভাঙ্গার জন্য উগ্র মৌলবাদিরা দেশে নানা ধরণের কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। দলমত নির্বিশেষে এসব ঘটনার সঠিক তদন্ত কওে বিচার না করলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মনোবল সম্পুর্ন ভেঙ্গে পড়বে। হবিগঞ্জের এমপি আবু জাহির বলেন, বাজেট উপস্থাপনের পর সাধারন মানুষের মধ্যে কোন ধরণের উদ্বেগ বা উৎকন্ঠা নেই। অথচ বিএনপি বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানায়। সরকারের উন্নয়ন দেখে বেগম খালেদা জিয়া দিশেহারা। পবিত্র রমজান মাসে তিনি যেভাবে টেলিভিশনের সামনে আসছেন তা দেখে মনে হয় না তিনি রোজা রাখেন।
তারওপর মিডিয়ার সামনে একের পর এক মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। আদালতের মাধ্যমে মওদুদ আহমেদের বাড়ি দখলমুক্ত করার পর বিএনপি নেত্রী বলেছেন, আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকে এবাবে বাড়ি থেকে বের করা হবে। আমি তার এ বক্তব্যর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। কারণ বেগম জিয়া ও মওদুদের বাড়ি দখলমুক্ত করা হয়েছে আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে। এখানে সরকারের কোন হাত নেই। রাজবাড়ির এমপি কাজী কেরামত আলী বলেন,এটা একটি স্বপ্নের বাজেট। তবে ভ্যাটের পরিমাণ কমাতে হবে। সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। আমানতের ওপর শুল্ক কমিয়ে দেয়ার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। আশা করি তিনি এ বিষয়ে কথা রাখবেন। ওয়ার্কার্স পার্টির টিপু সুলতান বলেন, অতীতে বাজেটের যে পরিমাণ বাস্তবায়ন করেছি তাতে মনে হয় এবারও আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো। ১৫ ভাগ ভ্যাট ও আমানতের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। বাজেট আলোচনায় আরও অংশ নেন-নীলফামারি থেকে নির্বাচিত সরকার দলীয় এমপি আফতাব উদ্দিন সরকার, নওগার এমপি আবদুল মালেক আবদুল মজিদ খান,সংরক্ষিত আসনের বেগম আমিনা আহমেদ, কুড়িগ্রামের জেপির রুহুল আমিন প্রমূখ।

খালেদা জিয়ার দুই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৫ জুন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদকে পুনঃ জেরা আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান আসামিপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে হারুন অর রশিদকে পুনরায় জেরা করার অনুমতি দেন। এ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য অসমাপ্ত বক্তব্য দেয়ার দিন ধার্য ছিল। পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে রিকল আবেদনে পুনরায় জেরা করার আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তদন্ত কর্মকর্মাকে আংশিক জেরা করেন। জেরা শেষে সময় আবেদন করলে আদালত ১৫ জুন নতুন দিন ধার্য করেন। একই সাথে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা ও ১৫ জুন শুনানির দিন ধার্য করেন। আদালতের কার্যক্রম শেষে বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে খালেদা জিয়া আদালত অঙ্গন ত্যাগ করেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, জাকির হোসেন ভূইয়া প্রমুখ। এর আগে আজ বেলা ১১টা ১১ মিনিটে জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে বিশেষ আদালতে উপস্থিত হন বিএনপি চেয়ারপারসন। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে পুনরায় ছয়জন সাক্ষীকে পুনরায় জেরা কারার আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী এ মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া ৬, ১২, ১৩, ১৫, ১৬, ১৭তম সাক্ষীকে পুনরায় জেরা করার আবেদন করেন। দুদকের পক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আবেদন নামঞ্জুর করে খালেদা জিয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে বক্তব্য দেওয়া জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেন।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী ক্যাম্পাসসহ একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারায় বিবাদীদের নিষ্ক্রীয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গ্রহণ করা বেতন ভাতা লভ্যাংশসহ কেন ফেরত দেওয়া হবে না এবং মানিলন্ডারিং ও বিশ্বাস ভঙ্গ করার জন্য বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না সে মর্মেও রুল জারি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। আদালতের শুনানিতে ছিলেন রিটকারি আইনজীবী গোলাম সারোয়ার পায়েল। তিনি নিজেই জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও রেজিস্ট্রারকে উক্ত রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। পরে আইনজীবী পায়েল জানান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের শর্ত অনুযায়ী ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো তারা স্থায়ী কোনো ক্যাম্পাস করতে পারেনি। এমনকি স্থায়ী ক্যাম্পাস করার জন্য ঢাকার মধ্যে এক একর অথবা ঢাকার বাইরে দুই একর জায়গা থাকতে হবে সেটিও তাদের নেই। এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই কোনো ভিসি, কোষাধ্যক্ষও নেই। ফলে একজন ভিসি দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে এটি পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমি আদালতে রিট দায়ের করি। আদালত আমার আবেদন শুনানি নিয়ে এ রুল দেন।

তৃণমূল গোছাতে পারছে না মহানগর আওয়ামী লীগ

তৃণমূল এখনো গোছাতে পারেনি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। এক বছর পার হলেও থানা-ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটিই গঠন করতে পারেনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রাণ খ্যাত মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কমিটি। আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মহানগর নেতাদের থানা-ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে একাধিকবার নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ গত ২২ মে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মহানগর নেতাদের ৩১ মে’র মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হলেও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া পর্যন্ত শেষ করতে পারেননি তারা। এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ নয়া দিগন্তকে বলেন, অবস্থা ভালো, রেডি হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কত দিন লাগবে বলা যাচ্ছে না। যাচাই-বাছাই চলছে। এরপর ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং হবে, তারপর বলা যাবে। আর মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান আরো সপ্তাহ খানেক সময় লাগবে বলে জানান। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, সব থানার কমিটি এখনো জমা পড়েনি। তবে মোটামুটি কাজ শেষ। যাচাই-বাছাই চলছে। সপ্তাহ খানেক সময় লাগবে। ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনের তিন বছর তিন মাস পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের তখনকার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। একই সাথে রাজধানীর ৪৫টি থানা এবং ১০০টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নামও ঘোষণা করা হয়। এরপর সাত মাসের মাথায় একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর-দেিণর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দেিণর অন্তর্গত ৪৫টি থানা এবং ১০০টি ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনো ঘোষণা হয়নি।
গত ২২ মে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, আগামী ৩০ মে’র মধ্যে কমিটি দেয়ার কথা থাকলেও আমি আরো এক দিন বাড়িয়ে ৩১ মে পর্যন্ত সময় দিলাম। আপনারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে জমা দেবেন। এর আগে গত ৭ মার্চ ও গত ২ জানুয়ারি দুই দফায় মহানগর নেতাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, থানা ও ওয়ার্ড পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ৯টি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। ওই টিম তৃণমূল থেকে যাচাই-বাছাই করে একটি খসড়া কমিটি করবে। ওই খসড়া কমিটি মহানগর যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করে ঘোষণা করবে। এবার গঠনতন্ত্রে কিছু পরিবর্তন আসায় থানা ও ওয়ার্ডের কমিটির আকার বৃদ্ধি পেয়েছে। থানা শাখায় ৬৭ থেকে ৭১ করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের কমিটি গঠন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে মাতুয়াইল ইউনিয়ন নেতাকর্মীদের মধ্যে সভাপতি সমর্থকেরা ডেমরা থানা ও সাধারণ সম্পাদক সমর্থকেরা যাত্রাবাড়ী থানায় কাজ করতে আগ্রহী। সীমানা জটিলতা নিরসনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা খন্দকার এনায়েত উল্যাহকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক একটি চিঠিও দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও এমপি-মন্ত্রীদের চাপের মুখে হাইব্রিড নেতারা কিছু থানা ও ওয়ার্ড কমিটিতে পদ পেতে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেভাবেই একাধিক থানা কমিটির খসড়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এরপরও থানা-ওয়ার্ডের নেতৃত্ব নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। এ প্রসঙ্গে যাত্রাবাড়ী থানার ৪৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম অনু নয়া দিগন্তকে বলেন, কমিটি গঠনের কাজ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে মাতুয়াইল ইউনিয়নের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। যার ফলে পুরো থানা কমিটি জমা দেয়ার কাজ আটকে আছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সৎ, যোগ্য ও মাঠের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। পল্টন থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তবা জামান পপি নয়া দিগন্তকে বলেন, আমাদের থানার কমিটি গঠনের কাজ শেষ হয়েছে। যারা দলের দুঃসময়ে পাশে ছিল, আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়েছে, ওই সব ত্যাগী নেতাকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম হয়েছে। যেমন দলে একেবারে নতুন এবং কিছু হাইব্রিড নেতাকে কমিটিতে রাখতে হয়েছে।

৪৬ বছরে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি কালো টাকা সাদা হয়েছে

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৩৭২ কোটি কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যা থেকে সরকার ১ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে। তবে ফখরুদ্দিন- মঈনুদ্দিন নেতৃত্বাধীন তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ৯ হাজার ৬৮২ কোটি ৯৯ লাখ কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ১৬তম অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান। সংসদে দেওয়া অর্থমন্ত্রীর তথ্যানুযায়ী, ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ২ কোটি ২৫ লাখ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়। যা থেকে রাজস্ব আয় হয় ১৯ লাখ টাকা মাত্র। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ৫০ কোটি ৭৬ লাখ কালো টাকা সাদা করে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৮১ লাখ টাকা। এরপর ১৯৮১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ৪৫ কোটি ৮৯ লাখ কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। রাজস্ব আয় হয়েছে ৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে ১৫০ কোটি ৭৯ লাখ কালো টাকা সাদা করা হয়। এ থেকে রাজস্ব পাওয়া যায় ১৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। ১৯৯৭ থেকে ২০০০ পর্যন্ত সময়ে ৯৫০ কোটি ৪১ লাখ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়। যা থেকে রাজস্ব এসেছে ১৪১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৮২৭ কোটি ৭৪ লাখ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ হয়। যা থেকে রাজস্ব এসেছে ১০২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এরপর ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ৯ হাজার ৬৮২ কোটি ৯৯ লাখ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়। এ থেকে সরকার রাজস্ব পায় ৯১১ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১ হাজার ৮০৫ কোটি ১ লাখ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ পেয়ে, রাজস্ব দেয় ২৩০ কোটি ৪১ লাখ টাকা। ২০১৩ থেকে অদ্যাবধি ৮৫৬ কোটি ৩০ লাখ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ থেকে রাজস্ব পাওয়া গেছে ৪৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সরকার দলীয় সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক থেকে আমানতকারীদের অর্থ আত্মসাতের খবর প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এলে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক পরিদর্শন দল প্রেরণ করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেয়ার জন্য ব্যাংকসমূহকে কেস টু কেস ভিত্তিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া গ্রাহকদের হিসাবে এধরনের কোনো জাল-জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে কিনা তা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত পরিদর্শনেও খতিয়ে দেখা হয়। একইভাবে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দলও বিষয়টি নিয়মিত নিরীক্ষা করে থাকে এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নত করে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এখন থেকে চেক জাল করে গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ জালিয়াতি বা প্রতারণার ঘটনায় ব্যাংকের নিজস্ব তদন্তে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত রয়েছে প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকের দাবি পূরণ করতে হবে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বস্তিবাসীদের আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে সরকারি দলের সদস্য চট্টগ্রামের এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় ৫ কোটি ৭০ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয়ে নগর বস্তিবাসীদের আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পে ৫ কোটি মার্কিন ডলার বিশ্বব্যাংকের ঋণ এবং বাকি ৭০ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার বাংলাদেশ সরকার প্রদান করবে। মন্ত্রী বলেন, দেশের নগরাঞ্চলের বস্তিবাসী এবং অস্থায়ী বাসিন্দাদের আবসনের ব্যবস্থা করা ও তাদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাংক স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উন্নত জীবনব্যবস্থা শীর্ষক প্রকল্পে ৫০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের সাথে গত বছর ৩০ জুন একটি ঋণচুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যায় হবে ৫৭ দশমিক ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তন্মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বাংলাদেশ সরকার প্রদান করবে ৭ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার। মন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পটির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশন, কুমিল্লা সিটি করর্পোরেশন এবং সিরাজগঞ্জ পৌরসভা এলাকার ১৯টি কমিউনিটিতে বসবাসরত বস্তিবাসী এবং অস্থায়ী বাসিন্দাদের আবাসন, অন্যান্য অবকাঠামো এবং সেবাসমূহ উন্নয়নে বিভিন্নখাতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে তাদের আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধি ও পরিকল্পনা, জমির নিরাপত্তা পরিবেশ উন্নয়ন এবং সামাজিক ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য খাতে সহায়তা প্রদান করা হবে। এরফলে ওই সব এলাকার বসিন্দাদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। নাটোর-১ আসনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সংসদে জানান, দেশের শিক্ষিত বেকার বুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক হতে ঋন প্রদান করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে কর্মসংস্থান ব্যাংক হতে এ পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৮শত ৩৭ জন উদ্যোক্তার মধ্যে ৫ শত ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৮৫৭৬.৭৪ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণ সরকারি দলের সদস্য মো: মামুনুর রশীদ কিরনের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন,
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৮ হাজার ৫৭৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা কৃষি ঋণ হিসেবে বিতরণ করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংক এ ঋণ বিতরণ করেছে।  তিনি বলেন, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহের পাশাপাশি ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে সকল বেসরকারি বাণিজ্যিক ও বিদেশি ব্যাংকসমূহের জন্য কৃষিঋণ বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ৩৮টি বেসরকারি বাণিজ্যক ব্যাংকগুলো ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৮ হাজার ৩৬০ কোটি ৪২ লাখ টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬ হাজার ৫৮৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা কৃষিঋণ ও পল্লীঋণ বিতরণ করছে। তিনি বলেন, এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ১ হাজার ৩১৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ৩৫৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড ২৮৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা, এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড ২৭৬ কোটি ২ লাখ টাকা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড ২৫২ কোটি ৭২ লাখ টাকা, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড ২২৫ কোটি ৪ লাখ টাকা, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড ২১২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং এবি ব্যাংক লিমিটেড ২০৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণ করেছে। সালমা ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নানামুখি পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে আগের তুলনায় অনেক বেশি শৃঙ্খলা পুঁজিবাজারে বিদ্যমান, যা যেকোন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমেয়। আরো অধিকতর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পক্ষে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স ডেপেলপমেন্ট রেগুলেটরী অথরিটি, মাইক্রোক্রেডিট রেগুরেটরি অথরিটি নিয়মিত সভা করছে।

বাড়ি নিয়ে মওদুদের রিট

গুলশান ২ নম্বরের বাড়িতে নোটিশ না দিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানোর বৈধতা চ্যালঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় মওদুদ আহমদ নিজেই রিটটি দায়ের করেন। দুপুর ২টায় বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হবে। এর আগে গতকাল দুপুর ১২টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত মওদুদ আহমদের গুলশান ২ নম্বরের বাড়িতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো শেষে বাড়িটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

ফিতরা সর্বনিম্ন ৬৫, সর্বোচ্চ ১৯৮০ টাকা

এ বছর ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মো. মিজানুর রহমান। সভায় বলা হয়, ইসলামি শরিয়া মতে আটা, খেজুর, কিশমিশ, পনির, যব ইত্যাদি পণ্যের যেকোনো একটি দিয়ে ফিতরা দেওয়া যায়। আটা দিয়ে ফিতরা আদায় করলে এক কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৬৫ টাকা আদায় করতে হবে। যব দিয়ে আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৫৬০ টাকা আদায় করতে হবে। কিশমিশ দিয়ে আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ১২৫০ টাকা আদায় করতে হবে। খেজুর দিয়ে আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ১৬৫০ টাকা আদায় করতে হবে এবং পনির দিয়ে আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ১৯৮০ টাকা আদায় করতে হবে। সভায় বলা হয়, ওপরের পণ্যগুলোর স্থানীয় খুচরা বাজারমূল্যের তারতম্য রয়েছে। সে অনুযায়ী স্থানীয় মূল্যে পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে।

এমপি রানার জামিন আদেশ স্থগিত

টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সংসদ সদস্য (এমপি) আমানুর রহমান খান রানাকে (টাঙ্গাইল-৩ আসন) হাইকোর্টের দেয়া জামিন ৪ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। গত ৮ মে দেয়া এ স্থগিতাদেশের সংশোধনী চেয়ে আনা আবেদনের ওপর আজ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ বেঞ্চ কোন আদেশ দেয়নি। বিষটির ওপর শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ। ফলে তার জামিন স্থগিত খাকছে বলে আইনজীবীরা জানায়। এর আগে গত ১৬ এপ্রিল রানার জামিন গত ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছিলো। ১৮ এপ্রিল শুনানি শেষে গত ৮ মে পর্যন্ত জামিন আদেশ স্থগিত করেছিলো আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্ট।
বিষয়টির ওপর ওইদিন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি হয়। পরে আদালত জামিন আদেশটি ৪ মাসের জন্য স্থগিত করে আদেশ দেয়। গত ১৩ এপ্রিল হাইকোর্ট এমপি রানার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে যায় রাষ্ট্রপক্ষ। আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ফারুক আহমেদকে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এমপি রানা গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে প্রেরণ করে টাঙ্গাইলের বিচারিক আদালত। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। বাসস

আদালতে খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আদালতে হাজির হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ১২ মিনিটে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে হাজির হন। ওই দুই মামলায় এর আগে গত ১ জুন খালেদা জিয়ার পক্ষে সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান ৮ জুন শুনানির জন্য দিন ঠিক করেন।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বস্তিবাসীদের আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় ৫ কোটি ৭০ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয়ে নগর বস্তিবাসীদের আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রকল্পে ৫ কোটি মার্কিন ডলার বিশ্বব্যাংকের ঋণ এবং বাকি ৭০ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার বাংলাদেশ সরকার প্রদান করবে। মুহিত বলেন, দেশের নগরাঞ্চলের বস্তিবাসী এবং অস্থায়ী বাসিন্দাদের আবাসনের ব্যবস্থা করা ও তাদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাংক ‘স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উন্নত জীবন ব্যবস্থা’ শীর্ষক প্রকল্পে ৫ কোটি মার্কিন ডলার প্রদান করবে।
মন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সাথে বাংলাদেশ সরকারের গত বছরের ৩০ জুন একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পটির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এবং সিরাজগঞ্জ জেলার সিরাজগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় ১৯টি কমিউনিটিতে বসবাসরত বস্তিবাসী এবং অস্থায়ী বাসিন্দাদের আবাসন, অন্যান্য অবকাঠামো এবং সেবাসমূহ উন্নয়নে বিভিন্ন খাতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, বস্তিবাসীদের আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধি ও পরিকল্পনা, জমির নিরাপত্তা, পরিবেশ উন্নয়ন এবং সামাজিক ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য খাতে সহায়তা প্রদান করা হবে। মন্ত্রী বলেন, এর ফলে ওই সকল এলাকার বাসিন্দাদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। বাসস

ব্রিটিশ সংসদ নির্বাচনে বাঙালি প্রার্থী যারা

আজ বৃহস্পতিবার ব্রিটেনে পার্লামেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল বলতে গেলে সব কটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি থেকে ৮ জন বাঙালি মনোনয়ন পেয়েছেন। এদের মধ্যে গত নির্বাচনে জয়ী হওয়া তিনজন বাঙালি এমপি রয়েছেন।
তারা হলেন : রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক ও রুপা হক। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি ২০১৫ সালে একজন বাঙালি প্রার্থী দাঁড় করালেও এবার তারা কোনো বাঙালি প্রার্থি দেয়নি। আরেক বিরোধী দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে দু’জন বাঙালি প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আরও দু’জন প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে মোট ১৫ জন বাঙালি প্রার্থী হয়েছেন। সবাই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে আগের যে তিনজন বাঙালি এমপি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ছিলেন তাদেরই পুনর্নির্বাচিত হওয়ার আশা পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত নির্বাচনে বাঙালি প্রার্থী ছিলেন ১১ জন। গতবারের নির্বাচনে জয়ী হওয়া বাঙালি প্রার্থীরা এবার নিজ দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন।
টিউলিপ সিদ্দিক : বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন নির্বাচনী আসন থেকে লড়ছেন। শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানার বড় মেয়ে টিউলিপ। তিনি গতবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন ক্ষমতাসীন দলের এক ক্ষুরধার প্রার্থীকে পরাজিত করে। আসনটি কনজারভেটিভ দলেরই ছিল, গতবার টিউলিপ লেবার পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। অবশ্য তার ভোটের ব্যবধান ছিল সামান্য। টিউলিপ ১ হাজার ১৩৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি ভোট পেয়েছিলেন ২৩ হাজার ৯৭৭টি। নির্বাচিত হওয়ার পর লেবার পার্টির শ্যাডো মন্ত্রিসভায় তিনি স্থান করে নিয়েছিলেন। পরে দলীয় বিভিন্ন সিদ্ধান্তে একমত হতে না পেরে সে পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তিনি পার্লামেন্টের ভেতরে এবং বাহিরে বেশ জোরালো ভূমিকা রাখায় দেশব্যাপী তার নিজস্ব একটি পরিচিতি করে নিয়েছেন।
রুশনারা আলী : ২০১০ সালে ব্রিটেনের পার্লামেন্টে প্রথম বাঙালি হিসেবে নির্বাচিত হন রুশনারা। তিনি পূর্ব লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেট এলাকার বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো এলাকা থেকে নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালের নির্বাচনেও তিনি এ আসন থেকে পুনরায় বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে তার ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ২৫ হাজার। কিন্তু এবার তার সঙ্গে আরেক বাঙালি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি হলেন টিভি ব্যক্তিত্ব আজমল মাশরুর। দুই বাঙালির একই আসনে লড়াই কিছুটা হলেও ভাবিয়ে রেখেছে রুশনারাকে। আজমল এর আগেও একবার এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হয়ে। টাওয়ার হ্যামলেটের আরেক অংশে কেনিং টাউন লাইম হাউসে লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আরেক বাঙালি ওলিউর রহমান। তিনি আগে লেবার পার্টির কাউন্সিলর ছিলেন। পরে জজ গেলওয়ের নবগঠিত রেসপেক্ট পার্টিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লেবার পার্টির বর্ষীয়ান নেতা জিম পেট পেট্রিকের সঙ্গে লড়বেন।
রুপা হক : লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড একটন এলাকা থেকে ২০১৫ সালে লেবার পার্টির প্রার্থী হয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। মাত্র ২৭৪টি ভোট বেশি পেয়ে তিনি জয়ী হন। তার এ আসনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ লেবার পার্টির জন্য। এখানে ক্ষমতাসীন দলের একজন শক্ত প্রার্থীর সঙ্গে তাকে লড়তে হবে। তবে গতবার নির্বাচনে থাকা গ্রিন পার্টি এবার এ আসনে কোনো প্রার্থী না দেয়ায় রুপা হকের জন্য এটি খুশির খবর হতে পারে। কারণ গতবার গ্রিন পার্টির প্রার্থী এ আসনে ১ হাজার ১৮১টি ভোট পেয়েছিল। এবার তারা রুপাকে সমর্থন দিয়েছে।
আনোয়ার বাবুল মিয়া : ইংল্যান্ডের ওয়েলউইন অ্যান্ড হ্যাটফিলড আসন থেকে লেবার পার্টির মনোনয়ন পেয়ে লড়ছেন। তিনি ২০১৫ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী ছিলেন। তার এ আসনটি কনজারভেটিভ পার্টির নিরাপদ আসন। টিভি ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন চ্যারেটি সংগঠনের সঙ্গে তিনি জড়িত। পেশায় তিনি আইনজীবী।
রওশন আরা : লেবার পার্টি থেকে তিনি প্রথম মনোনয়ন পান এবারের নির্বাচনে লড়ার। তার নির্বাচনী এলাকা সাউথ থেনেড। ব্রিটেনের কট্টরপন্থী দল ইউকিপ এ এলাকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইউকিপ স্থানীয় কাউন্সিল দখল করে রেখেছে। এখানে তাদেরই জয়জয়কার। এ অবস্থায় রওশন লেবার পার্টির প্রার্থিতা পেয়ে প্রথম কোনো এশীয় হিসেবে ভোটে লড়ছেন। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত রয়েছেন।
ফয়সাল চৌধুরী : স্কটল্যান্ডের এডিনবারা সাউথ ওয়েস্ট এলাকা থেকে লেবার পার্টির মনোনয়ন পেয়ে ফয়সাল চৌধুরী এমবিই নির্বাচনে লড়ছেন। সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ছাড়াও তিনি ক্যাটারিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি এডিনবারা অ্যান্ড লথেইন্স রিজিওনাল ইকুয়েলিটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। তাছাড়া এডিনবারা বাংলাদেশ সমিতির চেয়ারম্যানও তিনি। লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত। তার আসনটি লেবার পার্টির কাছে নেই দীর্ঘ সময় থেকে। ফয়সল চৌধুরী নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে আসনটি লেবারের দখলে আসবে। আর ইংল্যান্ডের বাহিরে তিনি হতে পারেন প্রথম কোনো বাংলাদেশি এমপি।
সাজু মিয়া : লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাজু মিয়া। তার নির্বাচনী আসন হচ্ছে ওয়াইর ফরেস্ট। তিনি ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলর। পেশায় একজন আইনজীবী। বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে তিনি সব সময় সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। ২০১৬ সালের কাউন্সিলর নির্বাচনে তিনি জয়ী হন।
অন্যান্য : আবদুল্লাহ রুমাল খান ব্রিটেনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। লেবার পার্টি থেকে বাঙালিদের মধ্যে মনোনয়ন পেয়েছেন আমরান হোসেইন।মেরিনা আহমদ মনোনয়ন পেয়েছেন ইংল্যান্ডের বেকেনহ্যাম এলাকা থেকে। এটি কনজারভেটিভ পার্টির নিরাপদ আসন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে আরও যারা বাঙালি প্রার্থী হয়েছেন- আসুক আহমদ লুটন সাউথ থেকে প্রার্থী হয়েছেন। প্রিন্স সাদিক চৌধুরী নর্দাম্পটন আসন থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী। মুহাম্মদ সুলতান ওয়েলস আর্ফস থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হয়েছেন।

উত্তর কোরিয়ার জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

নতুন করে জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। বৃহস্পতিবার সকালে ওনসেন শহরের কাছে ভূমি থেকে জাহাজে নিক্ষেপযোগ্য স্বল্প পাল্লার ক্ষেপাণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি। নতুন এ গাইডেড ক্ষেপাস্ত্র সমুদ্রপৃষ্ঠে ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। গন্তব্যস্থলের কাছাকাছি পৌঁছে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিচে নেমে এসে জাহাজে আঘাত করে। ইতিপূর্বে দেশটি কয়েকবার এ ধরনের ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। তবে তখন পরীক্ষাগুলো সফল হ্য়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'উত্তর কোরিয়ার সব ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সফল না হলেও তারা অব্যাহতভাবে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এগুলো করছে। এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।' উত্তর কোরিয়ার বারবার ক্ষেপাণাস্ত্র পরীক্ষা পারমানবিক অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র উন্নত করার অভিপ্রায় এগিয়ে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তা রুহ জো-চিয়ন বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকা যৌথ সামরিক মহড়া চালানোর পর উত্তর কোরিয়া এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়াকে সতর্ক বার্তা দিলো। গত মে মাসে উত্তর কোরিয়া একই স্থান থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়। সেটি ৪৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিল। এদিকে গত শুক্রবার জাতিসংঘ উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর জারি করা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে।

বদলে গেছে সেই ওমরান বাবার মুখে ভিন্ন সুর

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের প্রতীকে পরিণত হওয়া ছোট্ট শিশু ওমরান দাকনিশের নতুন একটি ছবি চলতি সপ্তাহে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। গত বছরের আগস্টে আলেপ্পোর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ওমরানদের বাড়িতে বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়। বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারের পর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেয়া হয় ওমরানকে। ওই মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে তোলা হয় রক্তাক্ত ও ধুলায় ধূসরিত নির্বিকার বসে থাকা ওমরানের ছবিটি। ছবিটি পুরো বিশ্বকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছিল। সিরিয়ার আলেপ্পোয় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছিল ওমরান। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের। সেদিনের বেঁচে যাওয়া ওমরানের নতুন একটি ছবি রোববার আনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে শিশু ওমরানকে তার বাবা ও বোনের সঙ্গে পূর্ব আলেপ্পোতে তাদের নতুন বাড়িতে দেখা যাচ্ছে। পূর্ব আলেপ্পো এখন পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে। খালেদ ইসকাফ নামে ইরানের এক সাংবাদিক ওই ছবিটি তোলেন। সাংবাদিক খালেদকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওমরানের বাবা মোহাম্মদ দাকনিশ বলেন, সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ চালাতে তার ছেলের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সিরিয়ার বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে আক্রমণ করতে ওমরানের ছবি ব্যবহার করতে চেয়েছে।
তারা আমার ছেলের রক্ত নিয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছে। এজন্য তারা ওমরানের ছবি প্রকাশ করেছে।’ দাকনিশ জানান, ওমরান ওই দিন সামান্য চোট পেয়েছিল এবং তার শরীরের একটি আঘাত থেকেই ওই দিন তার ছেলের মুখমণ্ডলে রক্ত পড়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আমার অন্য সন্তানদের খুঁজছিলাম। ওই সময় বন্দুকধারীরা ওমরানকে নিয়ে যায় এবং একটি অ্যাম্বুলেন্সে বসিয়ে তার ছবি তোলা শুরু করে। এরপর তারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। যদিও তার কোনো প্রয়োজন ছিল না।’ ওমরানের বাবা এমনটা দাবি করলেও আলেপ্পো মেডিকেল সেন্টার (এএমসি) থেকে প্রকাশ করা ভিডিও ফুটেজ বলছে অন্য কথা। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ওমরানকে একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসছে। তার হাতে কোনো অস্ত্র নেই। ওই ব্যক্তি একজন উদ্ধারকর্মী ছিলেন বলেই মনে করা হয়। তিনিই ওমরানকে একটি অ্যাম্বুলেন্সের চেয়ারে বসিয়ে দেন। ওমরানকে যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেখানকার একজন চিকিৎসক ওই সময় বিবিসিকে বলেছিলেন, ওমরান মাথায় চোট পেয়েছে এবং সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়াও সে প্রচণ্ড আতঙ্কে ভুগছে। গত বছরের শেষ দিকে আসাদ বাহিনী আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলের দখল নিলে ওমরানের বাবা পরিবার নিয়ে সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বাস করার সিদ্ধান্ত নেন।

শেরপুরে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় আবদুল গফুর (৫৬) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার উলিপুরপাড়ার ভাড়া বাসা তার লাশ উদ্ধার করা হয়। শেরপুর থানার ওসি খান মো. এরফান যুগান্তরকে জানান, আবদুল গফুর কনস্টেবল (নং-৮১৯) প্রায় দেড় বছর ধরে শেরপুর থানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি থানার কাছে উলিপুরপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের বাসায় স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে বসবাস করতেন। আবদুল গফুর রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মাহদীপুর গ্রামের মৃত ফজল সরকারের ছেলে। তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ওসি আরও বলেন, আবদুল গফুর গত ৬ জুন ৫ দিনের ছুটিতে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে স্ত্রী রান্না ঘরে কাজ করছিলেন। এসময় নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পৌনে ১০টার দিকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওসির ধারণা, মানসিক সমস্যা থেকেই কনস্টেবল গফুর আত্মহত্যা করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের পর জানাজা শেষে লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হবে। এ ব্যাপারে শেরপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। আবদুল গফুরের ছেলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র পায়েল সরকার জানায়, সকালে তাদের গ্রামের বাড়িতে যাবার কথা ছিল। আর এখন বাবার লাশ নিয়ে যেতে হচ্ছে।

ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা

গম বা আটার বাজারমূল্য হিসাব করে এবার সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ৬৫ টাকা। সর্বোচ্চ ১৯৮০ টাকা। বৃহস্পতিবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব ও জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের সভাপতিত্বে কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ইসলামী শরীয়াহ মতে, গম, আটা, খেজুর, কিশমিশ, পনির, যব ইত্যাদি পণ্যের যে কোনো একটি দিয়ে ফিতরা দেয়া যাবে। গম বা আটা দিয়ে ফিতরা আদায় করলে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৬৫ টাকা আদায় করতে হবে। এভাবে খেজুর, কিশমিশ ও পনিরের বর্তমান বাজার মূল্যে সর্বোচ্চ ১৯৮০ টাকা ফিতরা আদায় করতে হবে।
তবে ফিতরা প্রদানকারী নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সাদকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবেন। উল্লিখিত দ্রব্যসমূহের স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্য রয়েছে। স্থানীয় মূল্যে পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে। কমিটির প্রধান ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, এসব পণ্যের বাজারমূল্য হিসাব করে এবার ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা। আর সর্বোচ্চ ১৯৮০ টাকা। ইসলামী আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। নাবালক ছেলেমেয়ের পক্ষ থেকে বাবাকে এই ফিতরা দিতে হয়। আর তা দিতে হয় ঈদুল ফিতরের নামাজের আগেই। প্রসঙ্গত, গত বছরও সর্বনিম্ন ফিতরা ধরা হয়েছিল জনপ্রতি ৬৫ টাকা।

কাতার আমিরকে ট্রাম্পের ফোন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলাপকালে কাতারের আমিরকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সংকট নিরসনে সহায়তার প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়ে কাতারের সরকারি কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে এএফপির খবরে বলা হয়, ফোনে ট্রাম্প আরব দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সংকটের সমাধান খুঁজতে তার প্রস্তুতির কথা প্রকাশ করেন এবং এ অঞ্চলকে স্থিতিশীল করতে তার আগ্রহের কথা জানান। অন্যদিকে ট্রাম্পের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট দেশগুলোর মধ্যে দূরত্ব দূর করতে সহায়তা করার প্রস্তাব দেন। তবে কাতারের সঙ্গে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক ছিন্নের পরপরই সিরিজ টুইট বার্তায় সন্ত্রাসবাদের জন্য কাতারকে দায়ী করেন ট্রাম্প। এমনকি দেশটির সঙ্গে তার প্রতিবেশীদের সম্পর্কচ্ছেদে তার কৃতিত্ব রয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেছিলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যে আমার সফরের সময় বলেছিলাম মৌলবাদী আদর্শে আর কোনো অর্থায়ন করা চলবে না। আর এর পরেই কাতারকে সবাই চিহ্নিত করলো' অপর এক টুইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সফরে সৌদি আরব ও অন্যান্য ৫০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধের অঙ্গিকার করেছিলেন।
আর এ জন্যই কাতার চিহ্নিত হয়েছে। হয়তো এই পদক্ষেপই সন্ত্রাসের ভয়াবহতা বন্ধের শেষ প্রারম্ভ। এর আগে সোমবার সৌদি আরব ও তার তিন মিত্র কাতারের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনকে সমর্থন ও সহযোগিতার অভিযোগ তুলে। পাশাপাশি কাতারের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ করে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশগুলো। প্রথম দফায় সৌদি আরব, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন সম্পর্ক ছিন্ন করলেও পরের দফায় লিবিয়া এবং ইয়েমেনও কাতারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে। এছাড়া মালদ্বীপও কাতারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে। কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা দেশগুলোর নাগরিকদের কাতারে যাওয়া, সেখানে বসবাস করা বা কাতার হয়ে অন্য কোন দেশে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব দেশের নাগরিকদের দুই সপ্তাহের মধ্যে কাতার ছাড়তে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব, আরব আমিরাত এবং বাহরাইনে বসবাসরত কাতারের নাগরিকদেরও একই সময়ের মধ্যে এসব দেশ ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে।

মিয়ানমারের নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ মিলেছে

মিয়ানমারের নিখোঁজ হওয়া সামরিক বিমানটির সন্ধান পাওয়া গেছে। আন্দামান সাগরে এর ধ্বংসাবশেষ মিলেছে। শতাধিক আরোহী নিয়ে বিমানটি বুধবার নিখোঁজ হয়েছিল। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বৃহস্পতিবার তাদের ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নৌবাহিনীর একটি জাহাজ মিয়ানমারের দক্ষিণ উপকূলের লাউংলন থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে সাগরের মধ্যে বিমানের একটি চাকা এবং একটি শিশুসহ তিনজনের লাশ খুঁজে পেয়েছে।
সামরিক বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্য মিলিয়ে ১০৬ জন আরোহী এবং ১৪ জন ক্রু নিয়ে বুধবার দুপুরে দক্ষিণের উপকূলীয় শহর মাইয়েক থেকে রাজধানী ইয়াঙ্গুনের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল চীনের তৈরি ওয়াই-এইট পরিবহন বিমানটি। উড্ডয়নের ২৯ মিনিট পর দাভেই শহরের ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে আন্দামান সাগরে থাকা অবস্থায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটি তখন ১৮ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। যোগাযোগ-বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরই অনুসন্ধানে নামে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বেসমারিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। নৌবাহিনীর ছয়টি জাহাজ এবং সেনাবাহিনীর তিনটি বিমান সাগরে অনুসন্ধান শুরু করে। আজ সকালে সেনাবাহিনী তাদের নিজস্ব ফেসবুকে পেজে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার তথ্য দিয়েছে।

সাংবাদিক অপহরণ: মাথায় ব্যাগ বেঁধে প্রতিবাদ

আজারবাইজানের এক সাংবাদিককে অপহরণ করায় জর্জিয়ার সাংবাদিকরা তাদের মাথা ব্যাগ দিয়ে ঢেকে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন। জর্জিয়ার রাজধানী টিবলিসি থেকে আজারবাইজানের ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক আফকান মাক্সটারলিকে অপহরণ করা হয়। খবর বিবিসির। মাক্সটারলি বহুদিন ধরে জর্জিয়ায় নির্বাসিত জীবন-যাপন করছিলেন। কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি জর্জিয়ার রাজধানী টিবলিসি থেকে নিখোঁজ হন। এরপর তাকে আজারবাইজানের এক আদালতে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে দেশটির সরকার বে-আইনিভাবে সীমান্ত অতিক্রম এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ আনে।
তাই সাংবাদিক মাক্সটারলির প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে এবং তার মুক্তির দাবিতে জর্জিয়ার সাংবাদিকরা তাদের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ব্যাগ দিয়ে মাথা ঢেকে। একটি পার্লামেন্ট অধিবেশন কভার করতে যাওয়া সাংবাদিকরাও তাদের মাথা ঢেকে রেখেছিলেন ব্যাগ দিয়ে। টিভি পিরভেলির একটি জনপ্রিয় কারেন্ট এফেয়ার্স প্রোগ্রাম 'রিয়েকসিটা'র উপস্থাপিতা ইনগা গ্রিগোলিয়া প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে মাথা মুড়ে ক্যামেরার সামনে হাজির হন। জিওর্গি গাবুনিয়া নামের আরেক জনপ্রিয় টেলিভিশন সাংবাদিকও তার অনুষ্ঠানের পুরো সময় জুড়ে একইভাবে মাথা ঢেকে রেখেছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে সরকারের সহকারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তিনি ইন্টারভিউ করবেন বলে কথা ছিল। কিন্তু উপস্থাপক এভাবে মাথা ঢেকে রাখায় মন্ত্রী শেষ পর্যন্ত ইন্টারভিউ দিতে রাজী হননি। এদিকে জর্জিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওই সাংবাদিককে অপহরণ করে আজারবাইজানে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য তিনি সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করছেন। সাংবাদিক আফকান মাক্সটারলির স্ত্রী এবং জর্জিয়ার বিরোধী দলগুলো সরকারের এই বক্তব্য বিশ্বাস করে না।

পাকিস্তানে ঘাঁটি বানাবে চীন

বিশ্বব্যাপী সামরিক আধিপত্য বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে চীন। এরই অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে পাকিস্তানেও সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করতে পারে বেইজিং। মঙ্গলবার পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। আফ্রিকার জিবুতিতে প্রথম বিদেশি ঘাঁটি স্থাপনের পর চীন বিদেশে আরও ঘাঁটি নির্মাণ করবে বলে এতে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেয়া ৯৭ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে বলিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চীন সামরিক খাতে ১৮০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে। এ ব্যয় চীনের দাফতরিক প্রতিরক্ষা ব্যয়ের চেয়েও বেশি। দাফতরিকভাবে চীন সামরিক খাতে প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে থাকে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধীর হলেও চীনের নেতারা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি চীন আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে প্রথম বৈদেশিক নৌঘাঁটি নির্মাণ করেছে। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে। ঘাঁটিটি কৌশলগতভাবে লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খালের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত। ভবিষ্যতে বন্ধুপ্রতীম দেশে চীন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘পাকিস্তানের মতো যেসব দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও একই ধরনের কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে, সেসব দেশে চীন অতিরিক্ত সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করতে চাইবে।’ ভারত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত জিবুতিতে চীনের সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ ইতিমধ্যে উদ্বেগে ফেলেছে ভারতকে।
কারণ নয়াদিল্লি মনে করে, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কাকে দিয়ে ভারতকে ঘিরে ফেলতে চীনের যে প্রয়াস- এটা তারই একটি অংশ। তবে প্রতিবেদনে পাকিস্তানে চীনা ঘাঁটি নির্মাণের বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়ার কথা বলা হয়নি। এতে বলা হয়, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের অস্ত্রের প্রাথমিক বাজার হয়ে গেছে পাকিস্তান। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ওই অঞ্চলে চীন ৯ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে। গত বছর পাকিস্তানের কাছে আট সাবমেরিন বিক্রির চুক্তি করেছে চীন। চীন বিষয়ক সামরিক বিশেষজ্ঞ সাম রোগিভিন বলেন, এ অঞ্চলে আমেরিকার আধিপত্য হ্রাস করার সক্ষমতা চাচ্ছে চীন। এরপর তারা এ অঞ্চলে সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি হতে চায়। এখন পর্যন্ত চীনের লক্ষ্য আঞ্চলিক শক্তি হওয়া। কিন্তু এটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে চীনের বৈশ্বিক উচ্চাভিলাষ রয়েছে। এটা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও সেটি একটি অবয়ব পেতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগর বিতর্কে দেশটি প্রায়শই মার্কিন রণতরী ও বিমানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। চীন নতুন সিল্ক রোড প্রকল্পে যে ৯০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করা শুরু করেছে তার পেছনেও রয়েছে সামরিক সম্প্রসারণবাদ। পেন্টাগনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রশান্ত অঞ্চলে এখন সবচেয়ে বড় নৌশক্তি রয়েছে চীনের। এখানে ৩০০ জাহাজ মোতায়েন করেছে চীন।

কাতার সংকটের নেপথ্যে রাশিয়ার ভুয়া সংবাদ?

এফবিআই বলেছে, কাতার সংকটের পেছনে রাশিয়ার ছড়ানো ভুয়া সংবাদ দায়ী। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করছেন, রাশিয়ান হ্যাকারদের মিথ্যা সংবাদের সূত্র ধরেই কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য মিত্ররা। সিএনএন জানায়, রুশ হ্যাকাররা কাতারের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার ওয়েবসাইট হ্যাক করে তাতে একটি ভুয়া সংবাদ আপলোড করে। আর ওই ভুয়া খবরটিই উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে। কাতার সংকটের ব্যাপারে এফবিআইয়ের চালানো তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থায় একটি ভুয়া রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়টি যাচাই করতে মে মাসের শেষের দিকে কাতার সফরে যান এফবিআইয়ের বিশেষজ্ঞরা। এফবিআইয়ের সংগ্রহ করা গোয়েন্দা তথ্য থেকে জানা যায়, ভুয়া ওই রিপোর্টের সূত্র ধরেই কাতারের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবরোধের প্রক্রিয়া শুরু করে সৌদি আরব। এতে যুক্ত হয় উপসাগরীয় আরও বেশ কয়েকটি দেশ। একে কেন্দ্র করে কয়েক দশকের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে কঠিন কূটনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়। কাতার সরকার বলছে, ২৩ মে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার ওয়েবসাইটে ভুয়া সংবাদ জুড়ে দেয়া হয়। তাতে বলা হয়, কাতারের শাসকদের সঙ্গে ইরান ও ইসরাইলের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ওই রিপোর্টে আরও প্রশ্ন তোলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন?
কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, ‘(রাশিয়ার) ওই হ্যাক ও ভুয়া খবর যুক্ত করা সম্পর্কে নিশ্চিত করেছে এফবিআই। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কাতারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা মনে করি, এ সংকটের পুরোটাই ভুল তথ্যের কারণে।’ তিনি বলেন, এ সংকট শুরু হয়েছে বানোয়াট রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে। হ্যাক করে আমাদের জাতীয় বার্তা সংস্থায় এমন খবর প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়টির প্রমাণ পেয়েছে এফবিআই। যদি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ অভিযোগ সত্যি হয় তাহলে এটা পরিষ্কার হবে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে খর্ব করার চেষ্টা করছে রাশিয়া। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিতে পারে। কারণ, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে বিজয়ী করতে নির্বাচনী ব্যবস্থায় রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল বলে অভিযোগ আছে। এ অভিযোগ ক্রেমলিন অবশ্য অস্বীকার করেছে। সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার অভিযোগে সোমবার কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছেদের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ সাত দেশ। একই সঙ্গে তারা কাতারের সঙ্গে আকাশ, জল ও স্থল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এ দেশগুলো অভিযোগ করছে, উপসাগরীয় ছোট্ট দেশ কাতার উগ্রপন্থী গ্রুপগুলোকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। আরও বলা হয়, সৌদি আরবের ঘোরবিরোধী ইরানের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা দিচ্ছে কাতার। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে জোর দিয়ে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিমানঘাঁটি কাতারে অবস্থিত। তা সত্ত্বেও কাতারকে একঘরে করে রাখার উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ব্রিটেনের পার্লামেন্ট নির্বাচন আজ

আজ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচন। এরই মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। কনজারভেটিভ, লেবার পার্টিসহ প্রধান দলগুলো ভোটারদের কাছে তাদের দলের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ভোট চেয়ে কয়েক সপ্তাহজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করেছে। ম্যানচেস্টার ও লন্ডন ব্রিজে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নির্বাচনী প্রচারে কিছুটা ছেদ পড়ে। দু-দুটি হামলার পর শেষ মুহূর্তে নির্বাচনী প্রচারে নিরাপত্তা ইস্যুই প্রাধান্য পেয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সামগ্রিক বিচারে ব্রেক্সিট, জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিমালা, মানবাধিকার আইনসহ মূল দাবিগুলোকেই প্রচারের আলোতে এনেছেন প্রধান দুই দলের কাণ্ডারি তেরেসা মে ও জেরমি করবিন। এটি গণতন্ত্রকে সূতিকাগার ব্রিটেনের ৫৭তম সাধারণ নির্বাচন। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সাল থেকে আধুনিক ব্রিটেনে এটি ১৯তম পার্লামেন্ট নির্বাচন। ৫ বছর পরপর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনটি হয়ে থাকে। যুগ যুগ ধরে এ চল মেনে আসছে ব্রিটিশ নাগরিকরা। ১৯৭৪ সালে একই বছর দু’বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সংকটে পড়লে ওই বছর ফেব্রুয়ারি এবং অক্টোবরে দু’দফা নির্বাচন করতে হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন অতীতের সব ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর গণতান্ত্রিক এই দেশে নির্বাচন পরিচালনা করতে বরাবরের মতো এবারও প্রস্তুত। এবারের নির্বাচনটি নিয়ম অনুযায়ী ২০২০ সালে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্রেক্সিট (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসা) বাস্তবায়ন প্রশ্নে নিজের ক্ষমতা আরও নিরঙ্কুশ করতে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে হুট করেই মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘোষণা দেন। আজ হাউস অব কমন্সের ৬৫০টি আসনে ভোট হবে। অধিকাংশ প্রার্থীই সাতটি রাজনৈতিক দলের। তবে কয়েকজন স্বতন্ত্র হিসেবেও লড়ছেন। ব্রিটেনের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি ও প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির মধ্যেই। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, ইউকে ইনডিপেনডেন্ট পার্টি, গ্রিন পার্টি, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি-এসএনপি, পেইড কামরু পার্টিও লড়ছে। এর বাইরেও কিছু ছোট ছোট দল থেকে কয়েকজন প্রার্থী হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে ৩ হাজার তিনশ’ চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন তিন হাজার নয়শ ৬৮ জন।
জরিপে এগিয়ে কনজারভেটিভ পার্টি : ২ জুন ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের সবশেষ জনমত জরিপে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি এবং লেবার পার্টির মধ্যে ব্যবধান কমে এসেছে। কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থন ৫৩ শতাংশ, লেবার পার্টির ৪৭ শতাংশ। ডেইলি টেলিগ্রাফের মতে, কনজারভেটিভ ৩১০টি আর লেবার পার্টি ২৫৭টি আসন পেতে পারে। তাদের হিসাবে এবারও কোনো রাজনৈতিক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৩২৬টি আসনের দরকার। অন্যান্য জনমত জরিপেও এখন পর্যন্ত কনজারভেটিভ পার্টি কিছুটা এগিয়ে। যদিও ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। নির্বাচনী প্রচারের শুরুর দিকে লেবার পার্টি অনেক পিছিয়ে ছিল। সম্প্রতি কয়েকটি সন্ত্রাসী ঘটনায় লেবার পার্টির জনমত বেড়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। শেষ মুহূর্তের প্রচার : মঙ্গলবার ছিল প্রচারের শেষ দিন। এ দিনে কনজারভেটিভ দলের নেতা তেরেসা মে বলেন, ব্রেক্সিটেরপর যুক্তরাজ্যে চাকরির পরিমাণ বাড়বে; বাড়বে বাড়িঘর, আরও উন্নত হবে যোগাযোগ ব্যবস্থা। অন্যদিকে লেবার পার্টির নেতা করবিন ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডের র‌্যালিগুলোতে বলেছেন, জাতীয় স্বাস্থ্য খাতকে বাঁচাতে ভোটারদের হাতে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময় আছে। কনজারভেটিভদের নীতিতে জাতীয় স্বাস্থ্য খাত, সামাজিক নিরাপত্তাসহ পুলিশের সংখ্যা এবং পেনশনের পরিমাণ কমে যাবে বলে নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে লেবাররা। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বলছেন, নির্বাচিত হলে তিনি সন্ত্রাসী হামলা মোকাবেলায় প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যের এখনকার মানবাধিকার আইনের সংস্কার করবেন। নির্বাচনের প্রচারণার মধ্যেই মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে দুটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে বেশ জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। তাই শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় প্রধান প্রধান দল জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে একে অন্যের দুর্বলতা খুঁজে ঘায়েল করতেই ব্যস্ত। শুরু থেকেই ক্ষমতাসীনরা বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরমি করবিনকে একজন দুর্বল ও দেশ চালাতে অক্ষম নেতা হিসেবে আক্রমণ করে আসছেন। কিন্তু গত আড়াই মাসে তিনটি সন্ত্রাসী হামলার পর জেরেমি করবিন পাল্টা আক্রমণে। তিনি বলছেন, গত সাত বছরে ক্ষমতাসীনরা পুলিশের বাজেট কাটার কারণে পুলিশ সদস্য প্রায় ২০ হাজার কমে গেছে। তহবিল ঘাটতির কারণে সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় রসদ পুলিশের হাতে নেই। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মেকে তিনি সরাসরি দায়ী করেন। কারণ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনিই ২০১০ সাল থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ম্যানচেস্টার ও লন্ডন ব্রিজ এলাকায় দুই দফা সন্ত্রাসী হামলার কারণে নির্বাচনী প্রচারে ছিল নিরাপত্তার কড়াকড়ি। শেষ দিনে কনজারভেটিভ শীর্ষ নেতা মে প্রচার শুরু করেন লন্ডন থেকে; এরপর যান সাউথ কোস্ট, নরফোক, নটিংহ্যামশায়ার এবং ওয়েস্ট মিডল্যান্ডে। পুরো প্রচারেই মে বলেছেন, ব্রেক্সিটের কথা,
যা নিশ্চিত করতেই ৫০ দিন আগে হঠাৎ করেই আগাম নির্বাচনের ডাক দেন তিনি। মের দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পেছনে আগে যুক্তরাজ্যের যে ব্যয় হতো, তা বেঁচে যাওয়ায় ‘বিশাল উপকার’ হবে। তিনি কনজারভেটিভদের প্রতিশ্রুত ২৩ বিলিয়ন পাউন্ডের ন্যাশনাল প্রডাক্টিভিটি ফান্ডের ব্যাপারে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন; বলেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যজুড়ে বাড়িঘর, রাস্তা, রেল ও ব্রডব্যান্ড যোগাযোগের উন্নতি হবে। মে বলেন, বছরখানেক আগে ব্রিটেনের জনগণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে গিয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণের পক্ষে রায় দিয়েছিল। আমার পরিকল্পনা হচ্ছে, সেই উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে নিশ্চিত করা, যেন তা যুক্তরাজ্যের চারদিকে পৌঁছে যায়; ব্রেক্সিটের সুযোগ আমাদের দেবে আরও বেশি চাকরি, আরও বাড়িঘর, ভালো সড়ক ও রেল যোগাযোগ এবং বিশ্বমানের ডিজিটাল যোগাযোগ, যেখানেই আপনি থাকুন না কেন। অন্যদিকে লেবার পার্টির শীর্ষ নেতা জেরমি করবিন বলছেন, জাতীয় স্বাস্থ্য খাত আরও পাঁচ বছর অর্থ সঙ্কট, কর্মচারী সংকট ও বেসরকারিকরণের মধ্য দিয়ে যেতে পারে না। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বার্মিংহামে গানের অনুষ্ঠানের মতো করে আয়োজিত এক নির্বাচনী র‌্যালিতে তিনি বলেন, কনজারভেটিভরা বলছে, নির্বাচনের পর তারা শক্তিশালী ও স্থায়ী সরকার উপহার দেবেন। প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্ব^ী ছাড়াও প্রচার চালিয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক ও গ্রিন পার্টির নেতারা। লিবারেল ডেমোক্রেটদের শীর্ষ নেতা টিম ফেরন প্রধানমন্ত্রী মেকে ‘খোলা চেক’ না দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। পরপর দুবার ২০১০ এবং ২০১৫ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি সরকার পরিচালনা করে। এর আগে পরপর তিনবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে লেবার পার্টি ১৯৯৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল।

আত্মীয়ের বাসার ফ্লোরে রাত কাটালেন মওদুদ

বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর এক আত্মীয়ের বাসার ফ্লোরে রাত কাটিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। গুলশানের ৫৪ নম্বর সড়কের ৫১ নম্বরে অবস্থিত তার নিকটাত্মীয়ের বাসাটি অবস্থিত। বুধবার রাতে দুই কর্মচারীও তার সঙ্গে ছিলেন। ওই বাসায় তিনি সেহরি খান এবং রোজা রাখেন। বর্তমানে স্ত্রী হাসনা জে আহমদ লন্ডনে অবস্থান করছেন।
বুধবার মধ্যরাতে মওদুদের একান্ত সহকারী মামুনূর রহমান সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সুজন জানান, ‘তাৎক্ষণিকভাবে স্যারের জন্য গুলশান-২ এ তার এক নিকটাত্মীয়ের খালি বাসা রাতযাপনের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে। এদিকে মওদুদের বাসার মালামাল তোলা হয়েছে স্ত্রী হাসনা জে আহমদের গুলশানের ৮৪ নম্বর সড়কের ৫৪ নম্বর ফ্ল্যাটে। জানা গেছে, এ বাসাতেই মওদুদ আহমদ স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন।

এসে রমজান চলে যায় বয়স ফুরায়

রোজার মাধ্যমে আল্লাহ মানুষের কুপ্রবৃত্তিকে দমন করেন। রিপুর তাড়না থেকে তাকে মুক্ত করে তার ভেতর তাকওয়া খোদাভীতি ও আল্লাহপ্রেম জাগ্রত করে দেন। তাকে সেই সত্য-সুন্দরের পথে পরিচালিত করতে চান, যে সত্য-সুন্দরের পথ তাকে নিয়ে যাবে সফলতা ও মুক্তির দরজায়। তার ভেতর সৃষ্টি করে দেবেন প্রেম, আর এ প্রেমই তাকে নিয়ে যাবে পূর্ণ আনুগত্য ও সন্তুষ্টির পথে, সে ক্রমেই পাগলপারা হয়ে উঠবে তার প্রেমিক আল্লাহকে পাওয়ার জন্য। তখন প্রতিটি সৎ কাজ ও আল্লাহর বিধানে সে খুঁজে পাবে প্রশান্তি। অসৎ ও যে কোনো পাপ তাকে পীড়া দেবে। আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি সে হবে দরদি। তার ভেতর জাগ্রত হবে মনুষ্যত্ব, মায়া-মমতা, প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যরে মতো মানবিক গুণাবলী। এর ফলে তার মনে থাকবে না হিংসা-বিদ্বেষ, মারামারি, হানাহানি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অরাজকতা, সাম্প্রদায়িকতা ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ। খতম হবে তার অহমিকা ও আমিত্ববোধ (যা হাজারও অন্যায় ও অনাচারের জন্মদাতা) সৃষ্টি হবে হৃদয়জুড়ে ভালোবাসা। এ উদ্দেশ্যে ও শিক্ষা নিয়েই প্রতি বছর মাহে রমজান মুসলিম উম্মাহর দুয়ারে এসে দাঁড়ায়। এবারও এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, যে শিক্ষা ও উদ্দেশ্য নিয়ে রমজান আমাদের মাঝে এসেছে সে শিক্ষা আমরা অর্জন করতে পারি কিনা? সত্যিকার অর্থে বাস্তবতার প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, রমজানের শিক্ষা থেকে আমরা বঞ্চিত, যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ আমাদের জন্য রমজানের বিধান দিয়েছেন তা আমরা অর্জন করতে পারছি না, রমজান আমাদের জীবনে তেমন কোনোই পরিবর্তন আনছে না। রমজান এলে ইবাদত-বন্দেগিতে ঠিকই হয়তো মনোযোগী হচ্ছি কিন্তু রমজান চলে গেলে সেই আগের মতোই তা ছেড়ে দিচ্ছি। রমজানের আগে যেমন পাপাচার-অনাচারে ডুবেছিলাম রমজানের পরে আবার ডুবে যাচ্ছি। রমজানের আগে যেমন ঘুষ, দুর্নীতি, পণ্যে ভেজাল করা, কালোবাজারি, মজুদদারি, মাপে কম দেয়া, ধোঁকাবাজি, ছলচাতুরি, হিংসা-বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি অমানবিক কর্মে ছিলাম রমজানের পরে ঠিক আগের মতোই এসব করে যাচ্ছি। তাহলে রমজান আমার জীবনে কি পরিবর্তন আনল?
রমজান থেকে আমি কী শিক্ষা অর্জন করলাম? রমজানের আগে যেমন একজন ব্যথিত, পীড়িত মানুষকে দেখে তার জন্য আমার দরদ সৃষ্টি হতো না রমজানের পরেও হচ্ছে না। যুগ যুগ ধরে এটাই আমরা লক্ষ্য করছি। অথচ রাসূল (সা.)-এর সাহাবি ও পূর্বসূরি মনীষীদের জীবনের প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যায় একটি রমজানই তাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। রমজানের পরে তাদের কার্যকলাপে আমূল পরিবর্তন হয়েছে, অথচ আমাদের জীবনে তা হচ্ছে না। তাহলে বোঝা যায়, নিশ্চয় কোথাও আমাদের ত্রুটি রয়েছে। আর সে ত্রুটি হল, আমরা কেবল না খেয়ে থাকা বা উপবাসব্রতকে রোজা বা সিয়াম সাধনা মনে করছি, অথচ পানাহার ও কামবৃত্তি থেকে বিরত থাকা রোজার একটি অংশবিশেষ, এটুকুর নাম রোজা নয়। হাত-পা, কর্ণ-নাসিকা, চোখ-মুখ, মেধা-মনন, অন্তর-আত্মা, চিন্তা-গবেষণা অর্থাৎ শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রয়েছে রোজা। সেগুলোর প্রতি আমরা একটুও খেয়াল করছি না, ফলে রোজা আমাদের জীবনে তেমন কার্যকরী ভূমিকা রাখছে না। সুতরাং ত্রুটিমুক্ত না হয়ে যদি আমরা সিয়াম সাধনা করি তাহলে আমার সিয়াম সাধনা কোনোই কাজে আসবে না। তাই আসুন রোজাদার ভাইরা! রোজার প্রকৃত শিক্ষা ও উদ্দেশ্যের প্রতি যতœবান হয়ে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করি, মানবিক গুণাবলীতে জীবনকে করি আলোকিত। এটা যদি আমরা করতে পারি তাহলে পরস্পরে গড়ে উঠবে মধুর সম্পর্ক, সমাজ থেকে বিদায় নেবে অরাজকতা, অন্যায়-অনাচার। এভাবে দুর্নীতি ও ভেজালমুক্ত হয়ে আদর্শ জাতি হিসেবে আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারব। খুঁজে পাব সফলতা। তা না হলে রমজান আসবে, রমজান যাবে, আমরা কিছুই পাব না। আল্লাহতায়ালা আমাদের এ বিষয়গুলো উপলব্ধি করার তৌফিক দান করুন।
লেখক : শায়খুল হাদিস, খতিব ও প্রাবন্ধিক
muftizahir@gmail.com

এমপি রানার জামিন স্থগিত

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন চার মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের আদেশ সংশোধন চেয়ে এমপি রানার আবেদনে সাড়া না দিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। আদালতে এমপি রানার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দীন মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর আগে গত ৮ মে এমপির রানার জামিন চার মাসের জন্য স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে এই মামলা ৬ মাসের জন্য নিষ্পত্তি করতে নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দেয়া হয়। গত ১৩ এপ্রিল এমপি রানাকে অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না এই মর্মে রুলও জারি করেন আদালত। বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি এএনএম বসির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পরে হাইকোর্টের এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। এর আগে গত ৩০ মার্চ এমপি রানার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। পরে আবারও হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়। আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ফারুক আহমেদকে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আমানুর গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।

রামপাল নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে একটি মহল ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও মনগড়া বক্তব্য দিয়ে সুন্দরবন ধ্বংস হবে বলে গণমাধ্যমে তথ্য প্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত তিনটি জায়গার মধ্যে পরিবেশগত এবং অন্যান্য সার্বিক দিক দিয়ে সবচেয়ে সুবিধাজনক ও গ্রহণযোগ্য হওয়ায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য রামপালকে বেছে নেয়া হয়েছে। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

পুলিশের পোশাক জঙ্গিদের হাতে যাওয়ার আশঙ্কা

জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে পুলিশের পোশাকসামগ্রী চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পোশাক ব্যবহার করে নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত হতে পারে তারা। পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তাই পুলিশের কোনো কর্মকর্তা যেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে পোশাকসামগ্রী না কিনতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হকের পক্ষে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ৩০ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে পুলিশের সব সদস্যকেই সরকারিভাবে সরবরাহ করা পোশাকসামগ্রী ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে পোশাক কেনা বা তৈরির কোনো সুযোগ থাকবে না। বর্তমানে পুলিশের কনস্টেবল থেকে শুরু করে এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তারা সরকারিভাবে সরবরাহ করা পেশাকসমাগ্রী ব্যবহার করেন। কিন্তু পরিদর্শক থেকে শুরু করে আইজিপি পদমর্যদার কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে পোশাক কিনে ব্যবহার করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পোশাকসামগ্রীর মধ্যে প্রায় অর্ধশত আইটেম রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে- শার্ট (হাফ ও ফুল), ফুল প্যান্ট, বুট, মোজা, ফিল্ড ক্যাপ, লেদার বেল্ট, নেম প্লেট, সানগ্লাস, র‌্যাংক ব্যাজ, রেইনকোট, জ্যাকেট, জার্সি, কার্ডিগান, ছাতা ইত্যাদি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনিছুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, প্রস্তাবটি মাত্র এসেছে। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত আছে। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি একভাবে চলছিল।
হঠাৎ করে কেন অন্যভাবে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, তা ভেবে দেখা হচ্ছে। সরকারিভাবে সরবরাহকৃত পোশাক পরা বাধ্যতামূলক করা হলে কর্মকর্তাদের কিট ভাতা (পোশাক কেনা সংক্রান্ত ভাতা) বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পোশাক সরবরাহ করতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হবে কিনা, তাও দেখার বিষয়। তাই প্রস্তাবটি অনেকে ভালো চোখে দেখছেন না। নানা কারণে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি। ভালোভাবে যাচাইয়ের পর এ নিয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে। তবে পুলিশ সদর দফতরের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পরিদর্শক থেকে তার ওপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পোশাক সরকারিভাবে সরবরাহ করতে অতিরিক্ত কোনো অর্থের প্রয়োজন হবে না। এসবি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) ও সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) ছাড়া পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কিট ভাতা বাবদ প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এ টাকা দিয়েই সরকারিভাবে পোশাকসামগ্রী কিনে সরবরাহ করা সম্ভব। সরকারিভাবে সরবরাহ করা পোশাক কেন সবার জন্য ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে- জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক রেজাউল করিম বলেন, কনস্টেবল থেকে এসআই বা সার্জেন্ট পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পোশাক আগে থেকেই সরকারিভাবে সরবরাহ করায় তাদের পোশাকের রং ও মান একই রকম থাকে। কিন্তু পরিদর্শক থেকে ওপরের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে পোশাকসামগ্রী কেনায় পোশাকের রং ও মানে ভিন্নতা দেখা দেয়। এতে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ ড্রেস রুলস যথাযথভাবে মানা হয় না। মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা পুলিশ, এপিবিএন ও এসপিবিএনের পোশাকসামগ্রী ভিন্ন হওয়ায় বদলিজনিত কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পোশাকও পরিবর্তন করা হয়।
এতে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এসব কারণসহ নানা কারণে সরকারিভাবে পোশাক সরবরাহ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকারিভাবে পোশাকসামগ্রী সরবরাহ না করায় অবৈধ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান পোশাকসামগ্রী উৎপাদন ও বিক্রির সুযোগ পেয়ে থাকে। এতে পুলিশের পোশাকসামগ্রী অপরাধীদের কাছে সহজলভ্য হয়ে উঠছে। তাই অপরাধী চক্র এসব পোশাকসামগ্রী ব্যবহার করে অপরাধ তৎপরতায় লিপ্ত হয়। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশে জঙ্গি তৎপরতাসহ অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী পুলিশসামগ্রী বাজার থেকে কিনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশের সব সদস্যকে সরকারিভাবে পোশাক সরবরাহ করা হলে কোনো প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে পুলিশের পোশাকসামগ্রী উৎপাদন ও তৈরি করতে পারবে না। অবৈধভাবে পুলিশের পোশাকসামগ্রী বিক্রির অপরাধে গত বছরের জুনে পলওয়েল সুপার মার্কেটের ৮টি দোকানের ১৩ জন মালিক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা করা হয়েছে। প্রাধিকারভুক্ত (পাওয়ার যোগ্য) পুলিশ সদস্যদের জন্য কেনা পোশাক বিক্রির অপরাধে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিরপুর ১৪ নম্বরের একটি দোকান ও চার মালিক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় মামলা করা হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, পুলিশের পোশাকে শৃঙ্খলা রক্ষা ও পরিদর্শক থেকে তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মনোবল ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরকারিভাবে পোশাকসামগ্রী সরবরাহের অনুমতি দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হল।

তিন লাখ টাকায়ও মন গলেনি ডিবি কর্মকর্তাদের!

রেজাউল করিমের কি অপরাধ তা জানেন না স্ত্রী পারভিন আক্তার। দুই মেয়ে আর স্বামীকে নিয়ে সুখের সংসার তার। হঠাৎ স্বামীর আটকের খবরে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে পারভিন আক্তারের। ২৮ মে গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ৯-১০ জন অপরিচিত ব্যক্তি তার স্বামী রেজাউল করিমকে আটক করে নিয়ে যান। একই সঙ্গে স্বামীর আয়ের উৎস - দুটি মিনি ট্রাকও নিয়ে যান তারা। তখন রেজাউল করিমের স্ত্রী পারভিন আক্তার বগুড়ায় তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। স্বামীর এ খবর পেয়েই তিনি ঢাকায় ছুটে আসেন। কিন্তু কারা তার স্বামীকে আটক করেছেন তা জানতে কেটে যায় ৪ দিন। স্বামীর সন্ধানে যখন গাজীপুর ও  ঢাকার বিভিন্ন থানায় ঘুরে ফিরছিলেন, তখন (১ জুন) হঠাৎ একটি অপরিচিত মোবাইল ফোন নম্বর থেকে কল আসে পারভিন আক্তারের কাছে। ফোনে তাকে জানানো হয়, তার স্বামী ঢাকার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে আছেন। তাকে ডিবি অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়। স্বামীর অবস্থান জানার পর কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন পারভিন আক্তার। ছুটে যান মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে। শুক্রবার (২ জুন) বেলা ১১টার দিকে মিন্টো রোডে ডিবি অফিসের সামনে গিয়ে সেই মোবাইল ফোন নাম্বারে কল দেন পারভিন আক্তার। ফোন রিসিভ করে এক ব্যক্তি তাকে (পারভিন) ডিবি অফিসের সামনেই অপেক্ষা করতে বলেন। সেখানে অবস্থানকালে তিনি ডিবি অফিসের সামনে স্বামীর ওই ট্রাক দুটি দেখতে পান। মঙ্গলবার ডিবি অফিসের সামনে ৫ বছর বয়সী মেয়েকে কোলে নিয়ে অসহায়ের মতো বসে থাকতে দেখে কৌতূহলবশত পারভিন আক্তারের সঙ্গে কথা বলেন এ প্রতিবেদক। তখন তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে উল্লিখিত সব তথ্য জানান। পারভিন আরও জানান, ওইদিন (শুক্রবার) দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর দুপুরের দিকে এক ব্যক্তি ডিবির সদস্য পরিচয়ে তার সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন। পরে জানা যায়, ওই ডিবি সদস্যের নাম মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি (মোয়াজ্জেম) রেজাউল করিমের মুক্তি বাবদ তার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন বলে যুগান্তরের কাছে অভিযোগ করেন পারভিন।
কিন্তু কি অপরাধে তার স্বামীকে আটক করা হয়েছে এবং গাড়ি দুটি নিয়ে আসা হয়েছে, সে প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি ডিবি’র ওই সদস্য। পারভিন আরও জানান, শেষ পর্যন্ত রোববার মোয়াজ্জেম নামের ওই ডিবি সদস্যসহ আরও কয়েকজনের কাছে নগদ ৩ লাখ টাকা গুনে দেন পারভিন আক্তার। এ টাকা দেয়ার আগে তাকে স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দেয়া হয়। তখন গোয়েন্দা কার্যালয়ের সামনে ডিবির ওই সদস্যদের কাছে তিনি স্বামীর প্রাণভিক্ষা চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কিন্তু নাছোড়বান্দা ডিবির ওই সদস্যরা বাকি দুই লাখ টাকা না হলে রেজাউল করিমকে ছাড়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। সর্বশেষ বুধবার পারভিন আক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে ডিবির ওই সদস্যদের জানিয়ে দেয়া হয়, বাকি টাকা দেয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। তাই বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত মুক্তি মেলেনি রেজাউল করিমের। ঘটনাটির নেপথ্য কারণ খুঁজতে গত কয়েকদিন ধরে যুগান্তরের পক্ষ থেকেও অনুসন্ধান চালানো হয়। স্বামীকে ছাড়াতে ডিবি সদস্যদের সঙ্গে পারভিন আক্তার ও তার দেবর (রেজাউলের চাচাতো ভাই) নাজিরের দেন-দরবারের বেশকিছু স্থিরচিত্র এবং কথোপকথন রেকর্ড যুগান্তরের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে। ওই কথোপকথন থেকে জানা যায়, ডিবি সদস্যরা তাদের ক্ষমতার কথা বলে আরও টাকা দাবি করছেন। আর টাকা না দিলে, তারা বড় মামলা দিয়ে রেজাউলকে কোর্টে পাঠাবে বলেও হুমকি দেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন। বুধবার সন্ধ্যায় তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি পরিচয় দিতে রাজি হননি। একপর্যায়ে নিজেকে ডিবির কনস্টেবল পরিচয় দিয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব দেন। ডিবির কত নম্বর টিমে আছেন, অথবা ওই টিমের প্রধান কে- তা জানতে চাইলে তিনি মাফ (ক্ষমা) চাইতে থাকেন। একপর্যায়ে  যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো কিছুই জানি না। এ ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। রেজাউল নামে আমরা কোনো ব্যক্তিকে আটকও করিনি।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডিবি সদস্য মোয়াজ্জেমের মোবাইল নম্বরটি এ প্রতিবেদকের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন। পরে তিনি ফোন করে বিষয়টি জানাবেন বলে সময় নেন। তবে বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত এ ব্যাপারে তিনি আর কোনো কিছু জানাননি। প্রত্যক্ষদর্শী ও ডিবি হেফাজতে থাকা রেজাউল করিমের স্বজনদের ভাষ্য মতে, গত ২৮ মে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে ডিবি পরিচয়ে আটক করা হয় রেজাউল করিমকে। এ সময় তার মালিকানাধীন ঢাকা মেট্রো-ন ১৬৮৮১৫  এবং নম্বরবিহীন আরেকটি ট্রাক আটক করা হয়। এর পর থেকে চার দিন কোনো খোঁজ মেলেনি রেজাউলের। পরিবারের সদস্যরা তখনও জানেন না রেজাউল কোথায় আছেন। তার স্বজনরা রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালের মর্গে ঘুরে রেজাউলের খোঁজ নেন বলে জানান তার স্ত্রী পারভিন আক্তার। পারভিন আক্তার ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে যুগান্তরকে বলেন, ‘পুলিশের সহায়তায় আমি আমার স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। এরপর থেকেই ডিবি পুলিশের সদস্যরা দ্রুত টাকা দিয়ে স্বামীকে ছাড়িয়ে নিতে বারবার চাপ দিতে থাকেন। পরে আমি গ্রামের বাড়ি বগুড়ায় গিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা এনে গত রোববার পুলিশকে দিয়েছি। ডিবি ওই দিন জানায় ‘আগামী মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আপনার স্বামীকে পাঁচশ’ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হবে।’ পারভিন আরও জানান,  পুলিশের দেয়া সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার ছিল পুলিশ হেফাজতে থাকা রেজাউল করিমকে মুক্তি দেয়ার দিন। সে মোতাবেক ওই দিন সকাল থেকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেন পারভিন আক্তার ও রেজাউলের চাচাতো ভাই নাজির হোসেনসহ আরও দুইজন। ওই সময় ফোনে মোয়াজ্জেমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারা। তখন মোয়াজ্জেম তাদের জানান, ‘স্যার অপারেশনে রয়েছেন। তিনি না এলে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে না।’ একই দিন (মঙ্গলবার) বেলা দেড়টার দিকে মোয়াজ্জেম হোসেন পারভিন আক্তারের সঙ্গে দেখা করতে মিন্টো রোডের ডিবির মিডিয়া সেন্টারের সামনে আসেন। সেখানে  তিনি বাকি দুই লাখ টাকা দেয়ার জন্য  চাপ দেন। ডিবির ওই কর্মকর্তা যখন পারভিন আক্তারের সঙ্গে টাকা নিয়ে দেনদরবার করছিলেন সেখানে যুগান্তরের এই প্রতিবেদকও উপস্থিত ছিলেন। ডিবির ওই কর্মকর্তা (মোয়াজ্জেম) গালাগাল দিয়ে পারভিন আক্তারকে বলেন, তিন লাখ টাকায় কি হয়। আরও দ্ইু লাখ টাকা না দিলে তোর স্বামীকে ছাড়া হবে না। এছাড়া গাড়ি উদ্ধার করতে হলে আরও এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে।’ ডিবির ওই কর্মকর্তা হুমকি দিয়ে আরও বলেন, পুলিশ ইচ্ছা করলে কলমের খোঁচায় আসামি খালাস দিতে পারে, আবার জেলেও পাঠাতে পারে। এ সময় ওই মহিলা কান্নাকাটি শুরু করেন। ওই দিন (মঙ্গলবার) বেলা আড়াইটার দিকে ডিবির আরেক সদস্যকে দেখতে পেয়ে ছুটে যান পারভিন আক্তার। সেখানে বেশকিছু সময় ধরে তার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। দূর থেকে প্রতিবেদক এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন। ডিবির ওই সদস্যের সঙ্গে কি কথা হয়েছে তা জানতে চাইলে পারভিন আক্তার যুগান্তরকে বলেন, ‘টাকা নেয়ার সময় ওই অফিসারও ছিলেন। এ জন্য তার সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। তিনি বলেছেন কিছুক্ষণ পর বিষয়টি সমাধান করা হবে।’ রেজাউল করিমের চাচাতো ভাই নাজির হোসেন বুধবার যুগান্তরকে জানান, ‘আজ সকালে আমাদেরকে ফোন দিয়ে ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য বলেছে। আমরা বলেছি কোর্টে চালান দিতে। একপর্যায়ে ডিবির সদস্যরা বলেন নরমাল (দণ্ডবিধির সাধারণ ধারায়) মামলা দিয়ে দেব। আপনারা আসেন।’ নাজির আরও জানান, ‘২৮ মে বিকাল পাঁচটার দিকে রেজাউল ভাই কোনাবাড়ী গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করতে যান। এ সময় ডিবি পরিচয়ে গাড়িসহ তাকে আটক করা হয়। কি জন্য তাকে আটক করা হয়েছে, তা আমাদের জানা নেই।’

উচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মওদুদের আবেদন

গুলশানের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তিনি এ আবেদন করেন। রিট আবেদনে গুলশানের বাসা থেকে উচ্ছেদের বৈধতা এবং নোটিশ না দেয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীরের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে আবেদনটি উপর আজ শুনানি হতে পারে। প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার মওদুদ আহমদের গুলশানের বাসায় অভিযান চালায় রাজউক। রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওয়ালিউর রহমানের নেতৃত্বে বাড়িটিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

আদালতে খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।  বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ১২ মিনিটের দিকে পুরান ঢাকার বকশিবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে পৌঁছান তিনি এর আগে সকার ১০টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন খালেদা জিয়া। বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতের প্রতি খালেদা জিয়া শ্রদ্ধাশীল। তাই মামলার ধার্যদিনে তিনি আদালতে হাজির হয়েছেন। পুরান ঢাকার বকশিবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আকতারুজ্জামানের আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দুটির বিচারকাজ চলছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা (দুদক) মামলা দুটিতে খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক।
এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। মামলায় বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকে আসামি করা হয়। অপরদিকে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে জিয়া অরফানেজ মামলাটি দায়ের করে দুদক। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট দুদক আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান, প্রাক্তন এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রাক্তন সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়। দুই মামলায় খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বিচারক বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করেন।

আদালতের পথে খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেসউইং সদস্য শায়রুল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুরান ঢাকার বকশিবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আকতারুজ্জামানের আদালতে মামলা দুটির বিচারকাজ চলছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা (দুদক) মামলা দুটি খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক।
এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। মামলায় বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকে আসামি করা হয়। অপরদিকে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে জিয়া অরফানেজ মামলাটি দায়ের করে দুদক। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট দুদক আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান, প্রাক্তন এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রাক্তন সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়। দুই মামলায় খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বিচারক বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করেন।

সিরাজগঞ্জে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন

সিরাজগঞ্জে কাজিপুর উপজেলায় শাহিন (২৪) নামে এক যুবক দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। বুধবার রাতে উপজেলার গান্দাইল ইউনিয়নের পশ্চিম খুকশিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহিন একই এলাকার লোকমান আলী শেখের ছেলে। কাজিপুর থানার এসআই আসলাম উদ্দিন বিশ্বাস জানান, বুধবার রাতে একই এলাকায় মামা আবদুল সালামের বাড়িতে বসে টেলিভিশন দেখছিলেন শাহিন। এসময় বাইরে থেকে নক হলে তিনি দরজা খুলে দেন। এরপরই কয়েকজন দুর্বৃত্ত শাহিনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে রাতেই শাহিনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে কে বা কারা এবং কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা জানা যায়নি। এ ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানান এসআই।

মুক্তাগাছায় সংঘর্ষে নিহত ২

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু'গ্রুপের সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও কমপক্ষে ৬ জন আহত হয়েছেন। বুধবার গভীররাত ৩টার দিকে উপজেলার ঘোগা ইউনিয়নের বিজয়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন-  নজরুল ইসলাম (৪৫) ও মাইজউদ্দিন (৪৫)। তারা একই এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নজরুল গ্রুপ এবং মানু গ্রুপের মধ্যে প্রথমে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া হয়। এর এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে প্রতিপক্ষের হামলায় নজরুল গ্রুপের প্রধান নজরুল এবং মানু গ্রুপের মাইজউদ্দিনসহ কমপক্ষে ৬ জন আহত হন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে নজরুলের মৃত্যু হয়। এদিকে মাইনউদ্দিনকে হাসপাতালে নেয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মুক্তাগাছা থানার ওসি আখতার মোর্শেদ জানান, বৃহস্পতিবার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

চাটমোহরে ট্রেনের তেল চুরি, যুবক আটক

পাবনার চাটমোহরে ট্রেনের ২শ' লিটার তেলসহ মিজারুল ইসলাম ওরফে মিজান (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার দিনগত রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের জগতলা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। মিজারুল একই ইউনিয়নের মাঝগ্রাম এলাকার ইন্নাস আলীর ছেলে। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তাপস কুমার পাল যুগান্তরকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ট্রেনের স্টাফদের যোগসাজসে রেলস্টেশন এলাকা থেকে তেল (ডিজেল) নামিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত সোয়া ৯টার দিকে অভিযান চালিয়ে ছয়টি প্লাস্টিকের বস্তাভর্তি ২শ' লিটার চোরাই তেলসহ জগতলা এলাকা থেকে মিজানকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মিজারুলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মিজারুলকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূলহোতাদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

চুয়াডাঙ্গা ও রাজবাড়ীতে 'বন্দুকযুদ্ধে' ২ চরমপন্থী নেতা নিহত

চুয়াডাঙ্গায় র‌্যাবের সঙ্গে ও রাজবাড়ীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই চরমপন্থী নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাতে আলমডাঙ্গার তালুককররা-পারলক্ষ্মীপুরের মধ্যবর্তী কুড়ির মাঠে ও গোয়ালন্দ উপজেলায় ছোট ভাকলা ইউনিয়নের চর দেলন্দী গ্রামে এ 'বন্দুকযুদ্ধ' হয়। নিহতরা হলেন- পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক কমান্ডার ওল্টু মণ্ডল (৪৩) ও কদম আলী ওরফে করম (৩৫)। ওল্টু আলমডাঙ্গার উপজেলার তিয়রবিলা গ্রামের ঝড় মণ্ডলের ছেলে এবং করম  গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপঁচা গ্রামের মৃত কুব্বাত হোসেনের ছেলে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর: র‌্যাব-৬ এর ঝিনাইদহ আঞ্চলিক কমান্ডার মেজর মনির আহমেদ জানান, রাতে র‌্যাবের একটি টহলদল চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়ন এলাকায় টহলে যায়। তালুককররা-পারলক্ষ্মীপুর সড়কে পৌঁছালে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে মাঠ থেকে গুলি ছোড়তে থাকে সন্ত্রাসীরা। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওল্টু মণ্ডলকে উদ্ধার করে রাত ৩টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও আলমডাঙ্গা সার্কেল) তরিকুল ইসলাম এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে জানায়, নিহত ওল্টু চরমপন্থী সংগঠন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক কমান্ডার ছিল। তিনি বলেন, ওল্টুর বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ ৬টি মামলা রয়েছে। এসময় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে রাজবাড়ী ডিবি পুলিশের ওসি ওবাইদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন,  নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন লাল পতাকা বাহিনীর রাজবাড়ী অঞ্চলের কামান্ডার ছিলেন করম। বুধবার বিকালে তাকে ঢাকার হেমায়েতপুর থেকে আটক করা হয়। এরপর তাকে গোয়ালন্দঘাট থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে করম অস্ত্র লুকানোর তথ্য দেয়। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোয়ালন্দঘাট থানার পুলিশের সহযোগিতায় তাকে নিয়ে ওই ভিটায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে যায় পুলিশ। এসময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা করমের দলের সদস্যরা পুলিশকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে করম গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ওসি জানান, করমের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা, একটি অস্ত্র ও একটি মাদক মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি একনালা বন্দুক ও ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আলমডাঙ্গায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চরমপন্থী নেতা নিহত

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক কমান্ডার ওল্টু মণ্ডল (৪৩) নিহত হয়েছেন। এসময় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার তালুককররা-পারলক্ষ্মীপুরের মধ্যবর্তী কুড়ির মাঠে এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে। নিহত ওল্টু মণ্ডল উপজেলার তিয়রবিলা গ্রামের ঝড় মণ্ডলের ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব-৬ এর ঝিনাইদহ আঞ্চলিক কমান্ডার মেজর মনির আহমেদ জানান, রাতে র‌্যাবের একটি টহলদল চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়ন এলাকায় টহলে যায়। র‌্যাব তালুককররা-পারলক্ষ্মীপুর সড়কে পৌঁছালে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে মাঠ থেকে গুলি ছুড়তে থাকে সন্ত্রাসীরা।
র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। বেশ কিছুক্ষণ চলে গুলির লড়াই। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হঁটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে রাত ৩টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত ব্যক্তিকে দেখে এলাকাবাসী জানায়, তার নাম ওল্টু। তিনি চরমপন্থী সংগঠন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক কমান্ডার ছিল বলে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও আলমডাঙ্গা সার্কেল) তরিকুল ইসলাম জানান। তিনি বলেন, ওল্টুর বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ ৬টি মামলা রয়েছে। এদিকে একটি সূত্র জানায়, চরমপন্থী নেতা ওল্টু ১৯৯৯ সালে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। ১৪ বছর কারাগারে থাকার পর ২০১৩ সালে মুক্তি পায়। এরপর তিনি ফের অন্ধকার জগতে পা বাড়ান।

নওগাঁয় পুলিশের গুলিতে দুই ‘ডাকাত’ নিহত

নওগাঁর মান্দায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের গুলিতে দুই ‘ডাকাত’ নিহত হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চৌবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত আরও দুই ‘ডাকাত’কে আটক করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার আমজাদের ছেলে মোজাম্মেল হক (৪০) এবং রাজশাহী জেলার সিনিন্দা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সুজন (৩৫)। আহতদের মধ্যে ইমরান হোসেনের বাড়ি নাচোল এবং সোহেলের বাড়ি জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামে বলে তাৎক্ষণিকভাবে জানা গেছে।   থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার চৌবাড়িয়া বাজারে এক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে টের পেয়ে ‘ডাকাত’ সদস্যরা একটি ট্রাকে ওঠে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ ট্রাকটিকে লক্ষ্য করে ১৫ রাউন্ড গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যান। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে আহত আর দুইজনকে আটক করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মাহবুব আলম দুই নিহতের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।

হার্ট সচল রাখবে ব্যাটারিবিহীন ওয়্যারলেস পেসমেকার

চিকিৎসকরা মানবদেহে অনিয়মিত হার্টবিটের চিকিৎসায় পেসমেকার বসিয়ে থাকেন। আর বিজ্ঞানীরা এবার ব্যাটারিবিহীন নতুন ওয়্যারলেস পেসমেকার প্রযুক্তি ডেভেলপ করেছেন, যা এ চিকিৎসাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জানা যায়, এ পেসমেকারে থাকবে না কোনো ব্যাটারি। ওয়্যারলেস রেডিও ফ্রিকুয়েন্সির মাধ্যমে বাইরে থাকা ব্যাটারির মাধ্যমে চার্জ করা যাবে। এ ছাড়া এ পেসমেকারটি সরাসরি রোগীর হার্টে স্থাপন করা যাবে। হার্টবিটের শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে কাজ করবে এ যন্ত্র। বিশেষজ্ঞরা জানান, বাজারে বিভিন্ন রকমের পেসমেকার রয়েছে।
এসব স্থাপনের পর অনেক সময় রক্তপাত, এমনকি সংক্রমণও হয়ে থাকে। কিন্তু নতুন এ পেসমেকারের ফলে এ ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হবে না রোগীকে। কারণ এটি সরাসরি হার্টে লাগানো যায়। আর এ পেসমেকারটি ৪ মিলিমিটার প্রশস্ত। এ ছাড়া এটি ৮ থেকে ১০ গিগাহার্জের রেঞ্জে চলতে সক্ষম। আর এটি চলতে যে পরিমাণ শক্তি প্রয়োজন, তা রোগীর কাছে থাকা ব্যাটারির মাধ্যমে পেয়ে থাকে। উল্লেখ্য, যাদের হার্টে সমস্যা, তারা এ পেসমেকার ব্যবহার করে থাকেন। এটি বৈদ্যুতিক শক্তির মাধ্যমে হার্টকে সচল রাখে। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

প্রচণ্ড গরমে ঘামাচির যন্ত্রণা

প্রচণ্ড গরমে বড়দের মতো ছোট্ট শিশুরাও নাজেহাল হয়ে পড়ছে। আর গরমের বিব্রতকর সমস্যা হলো ঘামাচি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই রোগটির নাম মিলিয়ারিয়া। এটি ঘর্মগ্রন্থির রোগ। গরমে অতিরিক্ত ঘাম তৈরি হয়, ফলে ঘর্মগ্রন্থি ও নালি ফেটে যায়। ত্বকের নিচে ঘাম জমতে থাকে। এটাই ঘামাচি। অনেক সময় ঘাম ও ময়লা জমে ঘর্মনালির মুখ বন্ধ হয়ে ইনফেকশন হয়। এতে ঘামাচি আরও বেড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ঘামে গন্ধও দেখা দিতে পারে। এসময় ঘাম ও ময়লার কারণে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকজনিত রোগও দেখা দেয়। গরমে ঘামাচির যন্ত্রণা শিশুদের অস্থির করে তোলে। তাই এসময় ঘাম আর ঘামাচি থেকে শিশুকে একটু স্বস্তি দিতে বাবা-মাকে একটু বাড়তি যত্ন তো নিতেই হবে। এসময় শিশুকে ঘাম আর ঘামাচিতে স্বস্তি দিতে করণীয় সম্পর্কে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সাখাওয়াত আলম।
* শিশুরা একটু বেশি ঘামে এবং সেই ঘাম আবার গায়ে শুকিয়ে যায়, তাদের ঠাণ্ডা লাগার আশংকা থাকে। তাই শিশুর গায়ের জামা ঘামে ভিজে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা খুলে দিতে হবে। যাতে ঘাম গায়ে শুকিয়ে না যায়।
* গরমে শিশুর শরীর পাতলা সুতি কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে। এতে শিশু আরাম পাবে।
* গরমে ঘাম শরীরে শুকিয়ে গেলে শিশুর ঠাণ্ডা লাগে। এ কারণে শিশুর জ্বরও হতে পারে। গরমে প্রতিদিন শিশুকে গোসল করাতে হবে।
* স্কুল বা বাইরে থেকে শিশুরা ঘামে জবজবা হয়ে ভিজে ফিরলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে গোসল করাবেন না। কারণ ঘাম শরীরে ঠাণ্ডা পানি দিলেও ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। ঘাম মুছে একটু জিরিয়ে নিয়ে গোসল করাতে হবে।
* গরমে একই পোশাক শিশুকে বেশিক্ষণ পরিয়ে রাখা উচিত নয়।
* গরমে শিশুদের চুলের গোড়াও খুব ঘামে। তাই ঘাম বাতাসে শুকাবে এই অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব চুলের গোড়া ভালো করে মুছে দিন।
* গরমে ঘামাচি থেকে বাঁচতে নিয়মিত শিশুর ঘাম মুছে দিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে যাতে না ঘামে। কারণ ঘাম ও ধুলাবালি থেকেই ঘামাচির জন্ম।
* শিশুর ত্বক খুব কোমল, আর তাই শিশুর ত্বকে গরমে খুব দ্রুত ঘামাচি উঠতে দেখা যায়। এসময় সকাল-বিকাল দুই বেলা গোসল শিশুকে ঘাম আর ঘামাচিতে অনেকটাই স্বস্তি দিতে পারে।
* গোসলের সময় শিশুকে প্রতিদিন সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে দিন আর এক দিন পর পর চুলে শ্যাম্পু করে দিন।
* ঘামাচি বেশি চুলকানো কিংবা নখ দিয়ে স্পর্শ না করাই ভালো। নরম কাপড় ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে আক্রান্ত স্থানে মুছে দিলে ঘামাচি অনেকটাই কমে যাবে।
* এসময় যতটা সম্ভব শিশুকে রোদে কম নিতে হবে এবং রোদে খেলাধুলা থেকে বিরত রাখতে হবে।
* গরমে শিশুর শরীরে ঘামাচিরোধক পাউডার বা ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। তবে পাউডার দেয়ার আগে গা ভালো করে মুছে দিন।
* এ সময় খুব ছোট শিশুকে ডায়পার না পরানোই ভালো। গরমে শিশুর বিরক্তি ও অস্বস্তির কারণ হতে পারে ভেজা ডায়পার। এ থেকে ত্বকে র‌্যাশও হতে পারে।
* খুব ছোট শিশুদের গরমের সময় মাথা ন্যাড়া করে দিন। এতে মাথায় ঘামাচি, খুশকিসহ নানা রকম চর্মরোগ হওয়ার আশংকা কমে যাবে।
* গরমে শিশুকে এমন খাবার দিতে হবে, যাতে শরীর ঠাণ্ডা থাকে। এ সময় শিশুকে বেশি বেশি পানি পান করাতে হবে। বেশি ঘামলে শুধু পানি নয়, এর সঙ্গে পান করাতে হবে লেবুর শরবতও। এসময় শিশুকে দুই-একদিন পর পর খাওয়ার স্যালাইনও খাওয়ানো যেতে পারে। তবে প্রতিদিন নয়।
* গ্রীষ্মে বেল, পেঁপে, আম, তরমুজ, বাঙ্গি, লিচু, জাম প্রভৃতি ফল পাওয়া যায়। এসব ফল খেতে শিশুকে আগ্রহী করে তুলুন। সরাসরি খেতে না চাইলে ফলের শরবত, জুস ইত্যাদি করে খাওয়াতে পারেন।