Monday, June 21, 2010

দীর্ঘ বাজেট বত্তৃদ্ধতায় বলা হলো না অনেক কিছুই by শওকত হোসেন

অনেক কথা যাও যে ব’লে কোনো কথা না বলি।/ তোমার ভাষা বোঝার আশা দিয়েছি জলাঞ্জলি\’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বাজেট বক্তৃতা পড়ে রবীন্দ্রনাথের গানের এই দুটি লাইন মনে পড়ল। তবে অর্থনীতির ছাত্র ও অর্থনৈতিক সাংবাদিক হিসেবে বাজেটের ভাষা বোঝার আশা জলাঞ্জলি দেওয়া গেল না। এবারের বাজেটে অর্থমন্ত্রী অনেক কথা বলেছেন ঠিকই, কিন্তু আবার অনেক কথাই বলেননি। বাজেটে প্রকাশিত তথ্যের চেয়ে লুকানো তথ্যই মনে হলো বেশি।
অর্থমন্ত্রী ১০ জুন যে বাজেটটি দিলেন সেটি দেশের ৩৯তম বাজেট। আবার এটিকে ৪০তম বাজেটও বলা যায়। কারণ, দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২ সালের ৩০ জুন একসঙ্গে ১৯৭১-৭২ এবং ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট দিয়েছিলেন। এরপর থেকে মোটামুটি একই ধাঁচের বাজেট বক্তৃতা দিয়ে আসছেন অর্থমন্ত্রী বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। অগ্রগতি যা হয়েছে তা বক্তৃতায় নয়, উপস্থাপনায়। ১৯৯২ সালে ব্রিটিশ সাহায্য সংস্থা ডিএফআইডির সহায়তায় অর্থ মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প শুরু করেছিল। বাজেটীয় বরাদ্দ এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সংস্কার নামের এই প্রকল্পটি রিবেক (রিফর্মস ইন বাজেটিং অ্যান্ড এক্সপেনডিচার কন্ট্রোল) নামেই পরিচিত। এর ফলে বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনেক স্বচ্ছতা এসেছে। আগে বাজেটের সময় দেওয়া অসংখ্য পরিসংখ্যান-সমৃদ্ধ বই থেকে কিছু উদ্ধার করা কঠিন ছিল, এখন মোটামুটি সহজেই বাজেট পরিসংখ্যান বোঝা যায়।
এর পর থেকে গণমাধ্যমে বাজেট নিয়ে রিপোর্টিংয়ের ধারা অনেকখানি পাল্টে গেছে। বাজেটের আকার যদি এক লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা হয়, তাহলে এই পরিসংখ্যান তুলে দেওয়ার মতো সহজ সাংবাদিকতা এখন আর নেই। বরং সাধারণ মানুষের ওপর বাজেটে প্রভাব কী পড়ছে, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেটিই এখন গণমাধ্যমে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, বাজেটের একগাদা পরিসংখ্যান নয়।
এবারের বাজেট বক্তৃতাটি বেশ দীর্ঘ। পরিশিষ্ট বাদ দিলে ৯২ পৃষ্ঠার বাজেট বক্তৃতার ৭৬ পৃষ্ঠা পর্যন্ত তিন অধ্যায়ে অর্থমন্ত্রী শুকরিয়া আদায় থেকে শুরু করে অর্থনীতি এবং এর সংশ্লিষ্ট অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু রাজস্ব কার্যক্রমের বর্ণনা দিয়েছেন শেষ অধ্যায়ে মাত্র ১৩ পৃষ্ঠার মধ্যে। এর সঙ্গে ১৯ পৃষ্ঠাজুড়ে রয়েছে রাজস্ব-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের বিবরণ। নতুন অর্থবছরে মানুষের যাপিত জীবন কেমন যাবে, তা এই রাজস্ব কার্যক্রম থেকেই জানতে পারার কথা। কিন্তু সেই নিরিখে এবারের বাজেটকে অস্বচ্ছই বলা যায়। বাজেট থেকে সাধারণ মানুষ কী জানতে চায়? কত টাকার বাজেট, আয় কত, ব্যয় কত, ঘাটতি কত, সর্বোচ্চ বরাদ্দ কোন খাতে, সুদ পরিশোধে কত বরাদ্দ, এসব? নাকি কোথায় কোথায় নতুন করে বা বেশি হারে কর দিতে হবে সেটি? অর্থমন্ত্রী সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় এ কথাগুলোই বলেননি।
২০০৯-১০ অর্থবছরের সংশোধিত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৭৯ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা। আর আগামী অর্থবছরের জন্য আয়ের পরিকল্পনা ৯২ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী অর্থবছরে জনগণকে বাড়তি কর দিতে হবে ১৩ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী যে কেবল করের আওতা বাড়িয়েছেন তা নয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে করের হারও বাড়িয়েছেন। এর ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় বেশি হবে বলেই মনে করছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসছে, কোন কোন খাতে কর বসল, কত হারে বসল।
অস্বচ্ছতার কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যায়। অর্থমন্ত্রী ৮১ নম্বর পৃষ্ঠায় উৎস মূলে আয়কর সংগ্রহের হার যৌক্তিকীকরণ করা প্রয়োজন বলে এর বিস্তারিত পরিশিষ্টের পঞ্চম অংশে উল্লেখ করেছেন। পরিশিষ্ট পড়ে জানার কোনো উপায় নেই যে আমদানি পর্যায়ে উৎসে আয়করের হার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মোট আমদানির পরিমাণ ছিল দুই হাজার ২৫০ কোটি টাকা। ২০১০-১১ অর্থবছরে এর পরিমাণ আরও বাড়বে। এর বড় অংশ থেকেই উৎসে আয়কর কেটে নেওয়া হবে। এতে বাড়তি রাজস্ব আদায় হবে এক হাজার কোটি টাকার অনেক বেশি। এর অর্থ হচ্ছে প্রায় সব ধরনের আমদানি পণ্যের দাম বাড়ছে, যা অবশ্যই বাজারে প্রভাব ফেলবে। এত বড় একটি সিদ্ধান্তের কথা অর্থমন্ত্রী বাজেটে উল্লেখই করলেন না।
সঞ্চয়পত্র নিরাপদ বিনিয়োগ নামেই পরিচিত। গৃহিণী থেকে শুরু করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিসহ অসংখ্য ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাই সঞ্চয়পত্র কিনে থাকেন। শেয়ারবাজারের রমরমা অবস্থাতেও ঝুঁকির কারণে তাঁরা সেখানে যাবেন না। অনেকেরই জীবন চলে সঞ্চয়পত্রের আয় থেকে। সঞ্চয়পত্রের প্রতি আগ্রহ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ১১ হাজার ৯৭ কোটি টাকার, আর চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই বিক্রি হয়েছে ১৮ হাজার ৯০৭ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। এত দিন এই সঞ্চয়পত্রের আয় দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ছিল আয়করমুক্ত। আর পেনশনভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যে বিশেষ সঞ্চয়পত্র, তা ছিল সম্পূর্ণই করমুক্ত।
অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতার ১৬ পৃষ্ঠায় বলেছেন, ‘অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা হিসেবে এ স্কিমগুলো তাঁদের উপকারে আসে।’ এ কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী কেবল বলেছেন, ‘আগামী অর্থবছরে আমরা ঋণসীমা, ঋণের পরিমাণ ও সুদের হারসমূহের যৌক্তিকীকরণের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য নীতিমালা প্রণয়নের আশা করছি।’ এ কথা বলা হলেও আসলে বাজেটে সঞ্চয়পত্রকে সম্পূর্ণভাবে আয়করের আওতায় আনা হয়েছে। এমনকি পেনশনভোগীরাও আর ছাড় পাচ্ছেন না। অথচ বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্তের কথা জানানোরই প্রয়োজন বোধ করলেন না।
দেশজুড়ে আছেন অসংখ্য খুচরা ও ক্ষুদ্র দোকানদার। তাঁদের বছরে নির্দিষ্ট হারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) দিতে হয়। নতুন বাজেটে সবার কর বাড়ানো হয়েছে। যেমন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য এত দিন দিতে হয়েছে চার হাজার ২০০ টাকা, নতুন অর্থবছর থেকে দিতে হবে ছয় হাজার টাকা, অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকায় দিতে হতো তিন হাজার ৬০০ টাকা, বাড়িয়ে করা হয়েছে চার হাজার ৮০০ টাকা, অন্যান্য জেলা শহর ও পৌর এলাকায় এর পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৪০০ টাকা, করা হয়েছে তিন হাজার ৬০০ টাকা এবং দেশের বাকি এলাকায় এই মূসকের পরিমাণ এক হাজার ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে।
আবার আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম ব্যবসায় মূসকের হারও (এটিভি) ২ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসকের হার ছিল দেড় শতাংশ, করা হয়েছে ৩ শতাংশ।
সারা দেশের দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা কর বাড়ানোর এই তথ্য কোথা থেকে জানবেন? জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করলেই কি যথেষ্ট? বাজেট বক্তৃতার মাধ্যমে দেশের সবাইকে একসঙ্গে জানানোর সুযোগটা নিলেন না কেন অর্থমন্ত্রী?
এবার আসা যাক কালো টাকা প্রসঙ্গে। চলতি বাজেটে কালো টাকা সাদা করার ব্যাপক সুযোগ দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। পরে সমালোচনার মুখে এই সুযোগ ২০১০ সালের জুন পর্যন্ত রাখা হয়। ফলে এমনিতেই ৩০ জুন কালো টাকা সাদা করার সুযোগের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী কিন্তু বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আবার দিয়েছেন। অথচ বাজেট বক্তৃতায় তিনি সে কথা উচ্চারণই করেননি। ৭৯ পৃষ্ঠায় তিনি একটি ভৌত অবকাঠামো অর্থায়ন তহবিল গঠনের কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘এই তহবিলের ইস্যুকৃত বন্ডে জুন ২০১২ সাল পর্যন্ত ১০ শতাংশ হারে কর প্রদান সাপেক্ষে বিনিয়োগের বিধান প্রবর্তন করা হবে।’ অর্থবিল ঘেঁটে দেখা গেল, এটি আসলে কালো টাকা সাদা করারই সুযোগ। কেননা, আয়কর অধ্যাদেশে ১৯সি নামে একটি ধারা সংযোজন করে বলা হয়েছে, এই তহবিলে বিনিয়োগ করলে অর্থের উৎস সম্বন্ধে কোনো প্রশ্নই করা হবে না।
এ রকম অনেক কথাই নেই বাজেট বক্তৃতায়। আদতে এবারের বাজেটে লুকানো আছে অনেক কিছুই। এই অস্বচ্ছতার কারণও বোঝা গেল না। বাজেট তৈরির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আলাদা বিভাগ আছে। তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত যেসব কথা বাজেট বক্তৃতায় লেখা থাকে, সেসব পাঠায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। আর রাজস্ব কার্যক্রম অংশটি তৈরি করে দেয় এনবিআর। এসব পেয়ে নিজস্ব বক্তব্য ও দর্শন ঢুকিয়ে অর্থমন্ত্রী তৈরি করেন বাজেট বক্তৃতা। সুতরাং এনবিআর কেন সবকিছু পরিষ্কার করল না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
মানুষ কম জানলেই কি বাজেট সমালোচনা কম হয়?
শওকত হোসেন: সাংবাদিক।
massum99@yahoo.com

ক্রুইফ সেই সুন্দরের পূজারি

রাইনাস মিশেল আর ইয়োহান ক্রুইফের যৌথ প্রযোজনার ফসল ছিল ‘টোটাল ফুটবল’। আক্রমণই ছিল যে ফুটবলের শেষ কথা। মিশেল পাঁচ বছর আগে গত হয়েছেন। মারা গিয়েই বরং বেঁচে গেছেন! বেঁচে থাকা ক্রুইফকেও যে দেখতে হচ্ছে, তাঁর ফুটবল-দর্শনকে কীভাবে মেরে ফেলা হচ্ছে গলা টিপে! কীভাবে ফল আর শিরোপার পেছনে অন্ধ হয়ে ছুটতে থাকা দলগুলো সরে আসছে আক্রমণাত্মক ফুটবল থেকে। খোদ তাঁর ফেলে আসা দল হল্যান্ডও সগর্বেই ঘোষণা করল, এখন আর আক্রমণাত্মক ফুটবল নয়, লক্ষ্য তাদের কেবলই জয়!
না, ক্রুইফ হতাশ নন। তাঁকে হতাশ হতে দিচ্ছে না স্পেন আর লিওনেল মেসি। ‘প্রথম রাউন্ডের খেলাগুলো দেখে আমার মনে হয়েছে, ফুটবলের ওপর নির্যাতন চলছে। “কোনোমতেই হারব না” নীতির কারণে ফ্রান্স, ইতালি আর ব্রাজিলকে ধুঁকতে দেখার পর আমার খুব খারাপ লেগেছে। মাত্র দুটো ক্ষেত্রে ক্ষুধা আর অবিচল মানসিকতা খুঁজে পেয়েছি। স্পেনের খেলায়, যদিও ওরা হেরে গেছে। আর দেখেছি মেসির মধ্যে।’
সুন্দর ফুটবলের আজন্ম পূজারি ক্রুইফের কাছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জার্মানি আর ডেনমার্কের বিপক্ষে নিজ দেশ হল্যান্ডের বড় জয়েরও কোনো মূল্য নেই। ‘জার্মানির ৪-০ কিংবা হল্যান্ডের ২-০ গোলের জয় নিয়ে আমার কাছে কোনো কথাই বলবেন না। জয়টাই শেষ কথা নয়। আমরা ফুটবল ইতিহাসের এক ক্রান্তিলগ্নে চলে এসেছি। গত কয়েকটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেলা তো মনে বেদনার জন্ম দেয়। খেলায় কোনো স্টাইল নেই, কোনো নির্দিষ্ট দর্শন নেই। লক্ষ্য যেন একটাই—কোনোমতেই ম্যাচ না হারা। স্পেন আর মেসিই কেবল ব্যতিক্রম।’
খেলোয়াড়-কোচ দুই ভূমিকাতেই শিরোপার সাফল্য-বিধৌত ক্যারিয়ার আছে তাঁর। সাফল্যের জন্য নিজের ফুটবল-দর্শনের কাছে কখনোই আপস করেননি। আয়াক্স-বার্সেলোনার এই সাবেক কিংবদন্তি খেলোয়াড় জানেন, এখন তাঁর দর্শন অনেকের কাছেই অচল, ‘জানি, নিন্দুকেরা বলবে, আমি স্রোতের বিপক্ষে চলি। ওরা মনে করে, আমি স্রেফ একটা বিতর্ক চালু করে দেওয়ার জন্য এসব বলছি। কিন্তু এমনটা ভাবা স্রেফ মূর্খামি।’
বড় আশা নিয়ে তাই স্পেন আর মেসিদের জয় দেখার অপেক্ষায় আছেন ক্রুইফ। তাতে জয় যে তাঁরও হবে!

সাংবাদিকদের সঙ্গে লেগেই আছে দুঙ্গার

কার্লোস দুঙ্গার সাংবাদিক বিরাগের কথা কারও অজানা নয়। সাংবাদিকদের থেকে পারতপক্ষে দূরেই থাকতে পছন্দ করেন ব্রাজিল কোচ। এর মধ্যেই ব্রাজিলিয়ান মিডিয়ায় খবর এল, গোলকিপার হুলিও সিজার আর জিলবার্তো সিলভা নাকি ইনজুরিতে পড়েছেন! দুঙ্গার দাবি, খবরটা ভুয়া। এই দুজনের কেউ ইনজুরিতে পড়েননি, কাল হয়ে যাওয়া আইভরিকোস্টের ম্যাচের আগে অনুশীলনেও ছিলেন নিয়মিত। ব্রাজিলের সংবাদ সম্মেলনে দুঙ্গা তাই রীতিমতো ক্ষোভ ঝাড়লেন সাংবাদিকদের ওপর, ‘খবরটি শুধু উদ্ভটই নয়, আতঙ্কও ছড়িয়েছে। ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে ওই সাংবাদিকদের দায়বদ্ধতা আছে। ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের কাছে তাদের অবশ্যই ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

বিলেতে বিশ্ব-বাঙালির মিলনমেলা by শামীম আজাদ

গত বারো বছরে লন্ডনের বৈশাখী মেলা এত বড় হয়েছে যে জনসমাগমের দিক থেকে এখন নটিং হিল গেট ফেস্টিভ্যালের পরেই এর স্থান। বাংলাদেশ, ভারত, ইউরোপ ও ইংল্যান্ডের বাঙালি-অবাঙালিসহ বিভিন্ন জাতি-ধর্ম ও বর্ণের লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়েছে। শুরুটা হয়েছিল বারো বছর আগে। শত আশা-আকাঙ্ক্ষা, হতাশা, প্রতিকূলতা, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার আস্তর ভেদ করে অবশেষে ২০১০-এ এসে তা এক
কাঙ্ক্ষিত রূপ নিল।
এবার অ্যালেন গার্ডেন, আলতাব আলী পার্ক, উইভার্স ফিল্ড মিলে তিন-তিনটি পার্ক আর পুরো ব্রিকলেন এবং ব্রাডি ও অক্সফোর্ড হাউস, আর্টস সেন্টার মিলে হলো বাঙালির নববর্ষ উদ্যাপন। শোভাযাত্রা শুরু হলো সেই বিশপস গেট থেকে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শিল্প ও সাহিত্য সংগঠন বাংলাদেশের থিম নিয়ে গত কয়েক মাসের করা ওয়ার্কশপ থেকে তৈরি করা ইমেজ ও উপাদানে সজ্জিত হয়ে ঢোল, নাচ আর গানে মাতিয়ে ছিল দশদিক। বহুজাতিক মানুষেরা ভিড় করেছিল বাংলাদেশের সংগীত, নৃত্য, সংস্কৃতি ও শিল্প-নমুনা চাখতে।
জনসমাগমের দিক থেকে এ মেলা এখন বিলেত ও ইউরোপের একটি অন্যতম বড় মেলা হয়ে গেছে। যেন তিন প্রজন্মের বাঙালি ও অবাঙালিদের এক মহাসম্মেলন। এবারের শোভাযাত্রা আরও গোছানো ও বাংলার সাজে সেজেছে। এর উল্লেখযোগ্য হলো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নকশি কাঁথার মাঠ, সত্যেন সেন স্কুল অব পারফর্মিং স্কুলের লক্ষ্মী পেঁচা, তাল-তরঙ্গের যান্ত্রিক বিবাহ শকটের সামনে বেদের মেয়েরা আর লাঠিখেলা। আরও শাড়ি, লুঙ্গি, ধুতি, গামছা পরে বাংলাদেশের শাপলা ও পতাকা নিয়ে ঢোলের তালে তালে নৃত্য।
দিনটি ছিল চকচকে, আর এক লাখ মানুষের জন্য ছিল নানা স্থানে নানা উপাচার। সবার জন্য কিছু না কিছু্। উইভার্স ফিল্ড পার্কে মূল মঞ্চ হলেও যেন পুরো বাংলাটাউনই উৎসবে মেতেছিল, এমনভাবে আয়োজন হয়েছে। টমাস বাস্কটন রোডে জীবজন্তুর খামারের পাশেই ছোট ছোট ওয়ার্কশপ আর শিশুদের জন্য আয়োজনসহ মঞ্চে স্থানীয় শিল্পীদের কিছু ফিউশন। আলতাব আলী পার্কে এ সময়ের বিলেতের শিল্পীদের পরিবেশনা আর সেটা শেষ করলেই পুরো ব্রিকলেনে ছিল বাংলাদেশি অথেনটিক ফুডসহ আমাদেরই উদ্ভাবন ‘ব্রিটিশ কারি’র সুগন্ধ। এবার মেলা ব্যাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশি খাবারের ম ম গন্ধ ভরেছিল বেথনাল গ্রিন রাত হারোটা পর্যন্ত। এই বিলেতে, আমাদের নববর্ষ মেলায়! ভাবা যায়?
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল শুধু এ মেলার অন্যতম উদ্যোক্তা নয়, ধারকও বটে। মেলাকে বুকে ধারণ করে তার স্থানও সংকুলান করে আসছে এখানকার মানুষই। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান ও ইংলান্ডের নানা জায়গা থেকে আসা এ অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য আগে থেকেই করতে হয় বাড়তি বাজার। মেলার আগের দিনই আমাদের বাড়ি ভরে গেছে দূর-দূরান্তের আত্মীয়স্বজনে। প্রতিটি হাউসিং স্টেট, দোকানপাট, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে এমনকি ফুটপাতের মোড় সেজেছিল ভিন্ন পোশাকে আর মেতে উঠেছিল আনন্দের আবাহনে। দেখা গেছে কেবল লাল-সাদার সমারোহ। তরুণদের মাথায় বাঁধা বাংলাদেশের পতাকার ফেটি, শিশুদের হাতে পতাকার লাল-সবুজ, বড়দের গায়ে দেশি ফতুয়া বা পাঞ্জাবি আর মেয়েদের বর্ণীল শাড়ি। তরুণ-তরুণীদের গালে ও কপালে আঁকা বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের পতাকা।
প্রতিবছরের মতো এবারও আপন মেজাজে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সাহিত্য উৎসব ‘বইলিট’ সম্পন্ন করে। ওদিকে উইভার্স ফিল্ডে যখন কুমার বিশ্বজিৎসহ অন্যান্যের গানে দুলে উঠেছে মানুষের মহাসমুদ্র, তখনই লাগোয়া অক্সফোর্ড হাউসে কিছুটা নিভৃতে শুরু হয় কেন্দ্রের অনুষ্ঠান। ঠিক ছয়টা বাজতেই ‘আলো আমার আলো ওগো আলোয়...’ গানের সুরে সুরে ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এবার সমবেত কণ্ঠে ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’র সঙ্গে দর্শকেরাও যোগ দিল প্রদীপের পেছন
থেকে উদ্ভাসিত হয়ে উঠে কেন্দ্র থেকে করা নকশি কাঁথার মাঠ। সঞ্জীবের বাঁশির সুরে মূর্ত ওঠে আমাদের একতারা, রূপাসাজুর উপাখ্যান, মাটির সরা, কুলা ও বাংলাদেশের বিমূর্ত রূপ।
তারপর একে একে পরিবেশিত হয় নব উৎসব ও বহুজাতিক ঐতিহ্য নিয়ে ইংরেজি কবিতা পাঠ। কেন্দ্রের আবাসিক লেখক ও কবি স্টেভেন ওয়াটস পাঠ করেন কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কন্যা সুমনা খানের কবিতা। তারপর ‘টেজু চৌজেন’ পড়েন সমসাময়িক ইংরেজি কবিতা। নিবিষ্ট দর্শকদের উৎসাহ পেয়ে জমে ওঠে এবারের বাংলা একাডেমী একুশে বইমেলায় প্রকাশিত বিলেতের চার কবির বই নিয়ে আলোচনা ও আবৃত্তি। প্রতিথযশা আবৃত্তিকার রূপা চক্রবর্তী ও উদয়শংকর দাশ যখন দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু, মুজিব ইরম, আবু মকসুদ ও মিলটন রহমানকে মঞ্চে নিয়ে পাঠ ও আলোচনায় জমিয়ে তুলেছেন পুরো আসর, তখন দরজার বাইরে দেড় শতাধিক সাহিত্যপ্রেমী লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ভেতরে প্রবেশ করার জন্য। কিন্তু ততক্ষণে হাউসফুল। বহুজাতিক উপস্থিতিতে তারপর হয়ে গেল নাটক বউ, কবিতা আলেখ্য, তাসাদ্দুক আহমেদ এমবিই সেরা স্বেচ্ছাসেবক পদক প্রদান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতার বিশেষ পরিবেশনা, নাটক ভীম বধ এবং বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথি শিল্পী নিলুফার বানুর ‘পুরোনো দিনের গান’। দুটো নাটকই অকাল প্রয়াত রাজিব দেব মান্নার স্মরণে উৎসর্গ করা হয়। এই রাজিবই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে নাট্য বিভাগের মধ্যমণি ছিলেন।
ঠিক মাঝামাঝি সময়ে তাসাদ্দুক আহমেদ এমবিই সেরা কর্মী পদক প্রদান করতে নবনির্বাচিত সাংসদ রুশনারা আলী প্রবেশ করেন। কেন্দ্রের অকৃত্রিম বন্ধু রুশনারা আলী সাংসদের হাতে বিজয়ীর সনদ গ্রহণ করে খাদিজা রাহমান আপ্লুত হয়ে পড়েন।
হলভর্তি মানুষ এ অনুষ্ঠান উপভোগ করতে থাকলেও ততক্ষণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে গেছেন বিলেতের বেশ কিছু গুণীজন। নিরেট একটি সাহিত্যবিষয়ক আয়োজনে এমন সাড়া ভাবা যায়!
সবশেষে আমি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে গিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। এই বিশ্ব-বাঙালির মিলনমেলা, একই সময়ে মুসার এভারেস্ট বিজয় আর রুশনারা আলীর বিলেতের পার্লামেন্ট প্রবেশ—সব মিলে এ যেন হয়ে উঠেছিল বিলেতের বাঙালির স্বপ্নপূরণ উৎসব। বাংলা টাউন পালিত বাংলা নববর্ষের উৎসবে বাংলাদেশের মানুষের অসাম্প্র্রদায়িক শিল্প ও ঐতিহ্য প্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ।
শামীম আজাদ: কবি ও লেখক।
shetuli@yahoo.com

অনুতপ্ত আনেলকা

কিংবদন্তি না হোক, বড় খেলোয়াড় হওয়ার সব গুণ নিয়েই এসেছিলেন তিনি। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েম্বলির অভিষেকেই জোড়া গোল করে দলকে জিতিয়েছিলেন ২-০ গোলে। সে রাতেই অভিভূত অধিনায়ক দিদিয়ের দেশম বলেছিলেন, ‘আমরা আমাদের রোনালদো পেয়ে গেছি।’
এবার বিশ্বকাপে কোচের প্রথম পছন্দ হয়ে ‘রোনালদো’ হয়ে ওঠার একটা সুযোগও পেয়েছিলেন। কিন্তু হায়! বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদোর মতো নায়ক হওয়া তো হলোই না, হয়ে গেলেন কলঙ্কিত এক নাম। কোচকে অশ্লীল গালিগালাজ করে বিশ্বকাপের দল থেকে বহিষ্কৃত নিকোলাস আনেলকা!
যা করেছেন, এরপর আর আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো উপায় থাকে না। তার পরও আত্মপক্ষ সমর্থন করে যাচ্ছেন। তবে মাথা পেতে নিয়েছেন নিজের বহিষ্কারাদেশ, ‘ফ্রান্স দল থেকে আমার বহিষ্কারাদেশ আমি মেনে নিচ্ছি। এবং সেই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লা ব্লুদের জন্য রইল শুভকামনা।’
প্যারিসের শহরতলি ট্রাপিসে বেড়ে ওঠা আনেলকার প্রতিভা নিয়ে যেমন কারও সংশয় ছিল না, তেমনই সেই ছোটবেলা থেকেই পরিচিত তিনি রুক্ষ মেজাজ ও হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়ার জন্য। এর আগেও বিভিন্ন সময় দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। জাতীয় দলের কোচ জ্যাঁক সান্তিনির সঙ্গে গোলমাল করার ইতিহাস আছে তাঁর। দল থেকে বাদ পড়ায় সান্তিনিকে হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন আনেলকা। এরপর ডমেনেখ জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত আর দলেই ডাক পাননি এই স্ট্রাইকার।
সেই আনেলকা যে বদলাননি, তার প্রমাণ মিলল আবার। নিজেই স্বীকার করছেন, কোচ রেমন্ড ডমেনেখের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল। কিন্তু পত্রিকায় বিষয়গুলো কীভাবে এল তা নিয়ে বিস্মিত আনেলকা, ‘কোচের সঙ্গে আমার ঘটনাটা লকার রুমে অন্য খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের সামনেই ঘটেছে। এটা লকার রুমের বাইরে যাওয়া উচিত হয়নি। আমি জানি না এসব ছড়িয়ে কার উপকার হবে; দলের যে উপকার হবে না, সেটা নিশ্চিত।’
একটু যেন অনুতপ্তও এই চেলসি তারকা, ‘ফ্রান্স দলের প্রতি, সতীর্থদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। ফ্রান্স দলকে অনেক শ্রদ্ধা করি, দলটাকে কলঙ্কিত করার কোনো ইচ্ছাই আমার ছিল না।’
ইচ্ছা থাক আর নাই থাক, কলঙ্ক আনেলকা গায়ে মেখেছেন। যদিও ফ্রান্সের অধিনায়ক প্যাট্রিস এভরা বলছেন, পুরোনো ইতিহাস বা নতুন এই ঘটনা দিয়ে আনেলকাকে বিচার করা ঠিক হবে না, ‘যারা তাকে ভালো করে চেনে না, তারা বলবে ও একটা খারাপ ছেলে। কিন্তু আমি তাকে ভালো চিনি, সে আসলে এ রকম নয়। ও একজন ভদ্রলোক।’

ইয়েমেনে গোয়েন্দা দপ্তরে হামলায় নিহত ১১

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগর এডেনে গোয়েন্দা সদর দপ্তরের ভবনে গতকাল শনিবার সন্ত্রাসী হামলায় ছয় নিরাপত্তারক্ষীসহ কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, এ সময় একদল সশস্ত্র লোকে রকেটচালিত গ্রেনেড ছোড়ে ও মেশিনগান থেকে গুলিবর্ষণ করে।

আর্জেন্টিনার গ্রিস-ভাবনা

মেসি-ম্যারাডোনা জাদু বেশ ভালোমতোই উপভোগ করছে ফুটবল বিশ্ব। অনেক ফুটবল বোদ্ধাই এবারের বিশ্বকাপের সেরা দল হিসেবে অভিহিত করতে চান মেসি-ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে। পরপর দুই ম্যাচ জিতে দ্বিতীয় রাউন্ডও নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে গ্রিসের বিপক্ষে নিজেদের আরও ভালো করে মেলে ধরতে পারলে দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হওয়ার আগে প্রতিপক্ষের চেয়ে মানসিকভাবে ভালো অবস্থানে চলে যাওয়া যাবে বলে মনে করছেন ম্যারাডোনার শিষ্যরা। নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মেসি ও গঞ্জালো হিগুয়েইন প্রমাণ করে দিয়েছেন, প্রতিপক্ষকে ভড়কে দিতে সব অস্ত্রই শানিয়ে রেখেছেন কোচ ডিয়েগো ম্যারাডোনা।
গ্রিসের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয়েছিল এর আগে একবারই। ১৯৯৪ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনা গ্রিসের বিপক্ষে সেই ম্যাচটিতে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের তীব্র শটে দর্শনীয় এক গোল করেছিলেন। ওই সময় গ্রিসের বিপক্ষে ম্যারাডোনা যেখানে শেষ করেছিলেন, তাঁর প্রিয় শিষ্য লিওনেল মেসিকে দিয়ে সেখান থেকেই শুরু করাতে চান ম্যারাডোনা। মেসি প্রথম দুই ম্যাচে গোল পাননি, তবে গোল করিয়েছেন। গ্রিসের বিপক্ষে তাঁর গোল পাওয়াটা যে বড় বেশি প্রার্থিত হয়েই দাঁড়িয়েছে মেসি-ভক্তদের কাছে! মেসি গোল না করলে যে আনন্দে পরিপূর্ণতা আসছে না।
তবে গ্রিসের বিপক্ষে ম্যাচটি একটি সমস্যা নিয়েই খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড পেয়ে যাওয়ায় গ্রিসের বিপক্ষে ম্যাচটি মিস করবেন জোনাস গুইতিয়েরেজ। অধিনায়ক হাভিয়ের মাসচেরানোকে নিয়ে শঙ্কায় থাকবেন ম্যারাডোনা। হলুদ কার্ডের তালিকায় তাঁরও নাম থাকায় মনেপ্রাণে সবাই চাইবে মাসচেরানো যেন নিরাপদেই গ্রিসের বিপক্ষে খেলাটি শেষ করতে পারেন।
কিন্তু ম্যারাডোনা এখন গ্রিসের বিপক্ষে ম্যাচের চেয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রতিপক্ষ নিয়েই যে বেশি ভাবছেন!

আফগানিস্তানে নিযুক্ত ‘ব্ল্যাকওয়াটার’

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সে দেশের বিতর্কিত বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকওয়াটারকে আফগানিস্তানের নিরাপত্তাকাজে নিযুক্ত করেছে। এ কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ১২ কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ওয়াশিংটন। সিবিএস টেলিভিশন নেটওয়ার্কের এক খবরে এ কথা বলা হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র সিবিএস নিউজকে বলেছেন, জি সার্ভিসেসের (ব্ল্যাকওয়াটারের নতুন নাম) সঙ্গে দেড় বছরের জন্য গত শুক্রবার এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তি অনুযায়ী, জি সার্ভিসেস আফগানিস্তানের হেরাত ও মাজার-ই-শরিফে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনসুলেটের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।
২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের নিসার স্কয়ারে ব্ল্যাকওয়াটারের নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিতে ১৪ জন নিরস্ত্র ব্যক্তি নিহত ও ১৮ জন আহত হয়। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে একপর্যায়ে ব্ল্যাকওয়াটারের নাম পরিবর্তন করে জি সার্ভিসেস রাখা হয়।
ইরাকে ব্ল্যাকওয়াটারের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগে ২০০৯ সালের মে মাসে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকার চুক্তি বাতিল করে। এ মাসের শুরুর দিকে ইরাক সরকার উত্তর ক্যারোলাইনাভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানের ২৫০ জন সাবেক কর্মীকে সে দেশ থেকে বহিষ্কার করে।

বিটলসের গানের কথা নিলামে, ১২ লাখ ডলারে বিক্রি

জনপ্রিয় ব্রিটিশ গানের দল বিটলসের দলনেতা জন লেননের হাতে লেখা একটি গানের কথা নিলামে ১২ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে। গত শুক্রবার লন্ডনে সদবিস নিলামঘরে এই নিলাম হয়। বিটলসের জনপ্রিয় অ্যালবাম সার্জেন্ট পেপারস লোনলি হার্টস ক্লাব ব্যান্ড-এর শেষ গানটির বাণী সংগ্রহ করেন একজন মার্কিন সংগ্রাহক।
‘এ ডে ইন দ্য লাইফ’ গানটির কথা একটি কাগজের উভয় পিঠে হাতে লিখেছেন জন লেনন। নিলামে তোলার আগে নিলামকারীরা যে ধারণা করেছিলেন, তার চেয়ে পাঁচ থেকে আট লাখ ডলার বেশি দামে বিক্রি হয়েছে এই গানের কথা। সংগীতবিষয়ক সাময়িকী রোলিং স্টোন-এর তৈরি করা সর্বকালের সেরা ৫০০ গানের তালিকায় ‘এ ডে ইন দ্য লাইফ’ ২৬ নম্বর স্থানে রয়েছে।
১৯৬৭ সালে বিটলসের সার্জেন্ট পেপারস অ্যালবামটি প্রকাশের পর ওই গানটি নিষিদ্ধ করে বিবিসি। কারণ হিসেবে জানানো হয়, গানে ‘আই উড লাভ টু টার্ন ইউ অন’ কথাটি দুবার উল্লেখ রয়েছে, যার মাধ্যমে ইঙ্গিতে মাদকের ব্যবহার সমর্থন করা হয়েছে। একই কারণে এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ওই সময় এই গানটি ছাড়াই সার্জেন্ট পেপারস অ্যালবামটি বিক্রি করা হয়।

স্পেনের গৌরব পুনরুদ্ধারের ম্যাচ



জং তায়ে-সেকে প্রথম ম্যাচেই মনে ধরেছে আমার। বিশেষ করে জাতীয় সংগীত বাজছিল যখন, জংয়ের চোখ বেয়ে ঝরেছে আবেগের অশ্রুজল। মানসিকভাবে ও কিন্তু খুবই দৃঢ়। আজও পর্তুগালের বিপক্ষে উত্তর কোরিয়ার মূল ছক হবে পাল্টা আক্রমণ। এবং স্ট্রাইকার জংই থাকবে তার নেতৃত্বে।
যেমনটা বললাম, কোরীয়দের কৌশল হবে ঠাসবুনুনির রক্ষণ, মাঝমাঠে জায়গা বেশি না দেওয়া, বল পায়ে এলেই গতি দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে আচমকা হামলা চালানো। আইভরিকোস্ট ম্যাচে পর্তুগালের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মাত্র একবারই জ্বলে উঠেছিল, যখন ওর শট গিয়ে লাগল পোস্টে। আজ কোরীয়দের বিপক্ষে ওকে আরও বেশি করে জ্বলে উঠতে হবে। কারণ এই ম্যাচটায় পর্তুগালের জন্য তিন পয়েন্টের বিকল্প কিছু নেই।
কোচ কার্লোস কুইরোজ অবশ্য তাঁর রক্ষণ নিয়ে চিন্তামুক্তই আছেন। পাওলো ফেরেইরা, কারভালহো, ব্রুনো আলভেজ, কোয়েন্ট্রাও প্রথম ম্যাচে ভালো খেলেছে। মাঝমাঠে ওদের মূল খেলোয়াড় রাউল মিরেলেস, তার সঙ্গে থাকছে পেদ্রো মেন্দেজ আর ডেকো। একমাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে লিডসনকে খেলানো হলেও প্রথম ম্যাচে তেমন কিছুই সে করে দেখাতে পারেনি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় ছিল না। রোনালদো শুনলাম বলেছে, গোল নাকি ক্যাচাপের মতো। একবার বের হতে শুরু করলে বেরোতেই থাকে!
আজকের ম্যাচে ক্যাচাপের বর্ষণ দেখানোর জন্য রোনালদোর উচিত হবে শুরু থেকেই প্যাকেটের গায়ে চাপ দেওয়া। আমি কী বলছি, রোনালদো নিশ্চয়ই বুঝতে পারছে। না হলে কী হবে? সেই ক্যাচাপ দিয়ে পর্তুগালকে স্যুপ বানিয়ে খেয়ে ফেলবে উত্তর কোরিয়া!
‘এইচ’ গ্রুপের দুই চমক হলো চিলি আর সুইজারল্যান্ড। স্পেনের হাত যেখানে এখনো শূন্য, এই দুই দলই তিনটি করে পয়েন্ট কুড়িয়ে নিয়েছে। হন্ডুরাসের বিপক্ষে চিলি মাত্র এক গোলেই জিতেছে। কিন্তু ফুটবলটা খেলেছে ওরা খুবই সুুন্দর। ইজলা আর মেদেল তো গাত্তুসোর মতো খেলল। এদের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়া আছে রক্ষণের আরও দুই সেনানি পোন্স আর ভিদালের। কোচ বিয়েলসা এমনভাবে দলটা গড়ে তুলেছেন, যেন এটি একটি ক্লাব। ক্লাবেই ফুটবলাররা বেশি সময় খেলে বলে সেখানকার সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়াটাও ভালো থাকে। এই দলে আমি সেটাই দেখতে পাচ্ছি। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই নিজের পজিশন আর কাজ সম্পর্কে সজাগ। আক্রমণে ভালদিভিয়াকে সামনে রেখে একটু পেছনেই থাকছে সানচেজ আর বোশেজোর জুটি।
প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ড স্পেনকে হারিয়ে দিয়েছে মূলত অটুট রক্ষণ আর মিডফিল্ডার জেলসন ফার্নান্দেজের আচমকা গোলে। ওরা ৪-২-৩-১ এমনই ঠাসা রক্ষণাত্মক ছকই পছন্দ করে। ওদের গোলরক্ষক বেনাগলিও দুর্দান্ত। স্পেনের মুহুর্মুহু আক্রমণ প্রতিহত করে এসেছে রক্ষণ। আলাদা করে প্রশংসা আর নাইবা করলাম। কোচ ওটমার হিজফেল্ড দলটাকে সুসংগঠিত আর রক্ষণে সুশৃঙ্খল করে তুলেছেন। একঘেয়ে, কিন্তু মানতেই হবে বেশ কার্যকর। পয়েন্ট টেবিলের যে অবস্থা, তাতে দুই দলই হার এড়াতে চাইবে। ফলে ম্যাচটা গোলশূন্য ড্র হয়ে যেতে পারে।
কাগজে-কলমের হিসাব বলছে, হতশ্রী হন্ডুরাসের ওপর আজ প্রতিশোধস্পৃহ স্পেন ঝাঁপিয়ে পড়বে। আগের ম্যাচের দলটাই খেলাবেন দেল বস্ক। তবে তোরেস আজ শুরু থেকেই থাকবেন মাঠে। আক্রমণে তাঁর সঙ্গী ডেভিড ভিয়া। তারকাবহুল মাঝমাঠে থাকছে জাভি-ইনিয়েস্তারা। সুইজারল্যান্ড ম্যাচে একক আধিপত্য থাকার পরও স্পেন জেতেনি। কারণ বক্সের সামনে এসে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছিল। তবে হন্ডুরাসের রক্ষণ কিন্তু সুইসদের মতো অতটা অটুট নয়। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণ করে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি, সেই চাপে সৃষ্টি হওয়া ফাটল দিয়ে গোল—এটাই হবে স্পেনের সরল কৌশল।
তবে আমার চোখে হন্ডুরাসের এখন পর্যন্ত সেরা খেলোয়াড় ওদের গোলরক্ষক। আজও ভ্যালাদারেসকে দুর্দান্ত কিছু একটা করতেই হবে। এই বিশ্বকাপ এরই মধ্যে ফরাসি, জার্মান, ইংলিশ আর স্প্যানিশদের বুঝিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ এখন আর কারও জন্যই সহজ নয়। স্পেনকে তাই এই টুর্নামেন্টে নিজেদের হূতগৌরব ফিরিয়ে আনতে হলে আজকের ম্যাচে কর্তৃত্ব খাটাতেই হবে।

বেলুনকে মনে করেছিলেন শত্রুপক্ষের ছত্রীসেনা!

শখ করে আকাশে কিছু বেলুন ছেড়েছিল বিদ্যালয়ের শিশুরা। আর এতেই ঘটে যায় বিপত্তি। এক লোক পাহাড়ের ধারে বেলুন উড়তে দেখে ভেবে বসেন, শত্রুপক্ষের ছত্রীসেনা নামছে। ব্যস, সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানান তিনি। এরপর তা নিয়ে বেধে যায় হুলস্থুল। শেষে প্যারাস্যুটের জায়গায় গ্যাস ভরা বেলুন আবিষ্কার করে সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের অদূরে এ ঘটনা ঘটে।
সিউলের কাছে আনসান এলাকার এক বাসিন্দা দূরে পাহাড়ের ধারে ৪০-৫০টি বড় বেলুন উড়তে দেখেন। বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজডুবির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললে টানাপোড়েন চরমে ওঠে। কাজেই বেলুন দেখে প্যারাস্যুট বলে সন্দেহ হয় ওই বাসিন্দার। তিনি ভেবে বসেন, শত্রুপক্ষের ছত্রীসেনা নামছে। বিষয়টি তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানান। এতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে হুলস্থুল পড়ে যায়। যৌথ অভিযানে নেমে তারা আবিষ্কার করে, এসব আসলে প্যারাস্যুট নয়, হিলিয়াম গ্যাস ভরা বেলুন। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিশুশিক্ষার্থীরা এসব বেলুন ছাড়ে।

পাকিস্তানের বিশাল সংগ্রহ

এশিয়া কাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের দুঃস্বপ্ন আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে। শেষ ম্যাচে পাকিস্তান বাংলাদেশের বোলিংকে অসহায় বানিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে তুলে নিয়েছে ৩৮৫ রান। পাকিস্তানের অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি ৬০ বলে ১২৪ রান করে বাংলাদেশের দুঃস্বপ্নে সবচেয়ে বড় ভূমিকাটি নিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে সফল বোলার’ শফিউল ইসলাম নিজের কোটার ১০ ওভার বল করে ৯৫ রান খরচ করে নিয়েছেন ৩ উইকেট। মাশরাফি বিন মুর্তজা বোধহয় বোলিং করাই ভুলে গেছেন। ৫ ওভার পর তাঁকে বোলিংয়ে নিয়ে আসার চিন্তাই করেননি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সাকিব নিজেও ১০ ওভার বল করে ৭৩ রান দিয়েছেন।
টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা প্রথম থেকেই চড়াও হন বাংলাদেশের বোলারদের ওপর। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শাহজিব হাসান ও ইমরান ফরহাত করেছেন ৫০ ও ৬৬ রান। উমর আকমলের সংগ্রহ ৫০ রান।
কোনো দল ৩৮৫ রান করে ফেলার পর সম্মান রক্ষার আর কিছু থাকে না। দুঃস্বপ্নের এশিয়া কাপের শেষটা তারা কীভাবে করবেন , তা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাই জানেন!

দার্জিলিংয়ে আবার অনির্দিষ্টকালের বন্ধ্ বিপর্যস্ত জনজীবন

পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র পাহাড়ি জেলা দার্জিলিংয়ে আবার গতকাল শনিবার থেকে শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের বন্ধ্। দার্জিলিংকে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য হিসেবে ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনরত গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা এই বনেধর ডাক দিয়েছে। তবে এবার অন্য ইস্যুতে তারা বন্ধ্ আহ্বান করেছে।
গত মাসে জনমুক্তি মোর্চার হাতে নিহত হন দার্জিলিং গোর্খা লিগের সভাপতি মদন তামাং। এই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ চার জনমুক্তি মোর্চার সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে। মদন তামাংয়ের হত্যা মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। এতে সন্তুষ্ট নয় জনমুক্তি মোর্চা। তাই এই হত্যা মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে জনমুক্তি মোর্চা এই বন্ধ্ ডেকেছে।
একই সঙ্গে জনমুক্তি মোর্চা দাবি করেছে, উত্তরবঙ্গের আইজি কে এল টামটা এবং কার্শিয়াংয়ের মহকুমা পুলিশ প্রশাসক রাকেশ সিংকে অবিলম্বে সরাতে হবে। তাঁদের নির্দেশেই বুধবার জনমুক্তি মোর্চার কার্শিয়াং থানা ঘেরাও অভিযানের সময় পুিলশ লাঠিচার্জ করে।
এই বনেধর জেরে দার্জিলিং জেলার তিনটি মহকুমা কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং দার্জিলিং সদর মহকুমার জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এখন দার্জিলিংয়ে চলছে পর্যটন মৌসুম। এই মৌসুমে অনির্দিষ্টকালের বন্ধ্ ডাকায় বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষজন। দোকানপাট বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা পড়েছেন ক্ষতির মুখে। পাশাপাশিজনগণকেও পোহাতে হচ্ছে ব্যাপক দুর্ভোগ।
জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুংয়ের শুক্রবার বন্ধ্ ঘোষণা দেওয়ার পরই দার্জিলিং ছেড়ে চলে আসেন অধিকাংশ পর্যটক। তবে এখনো বেশ কিছু পর্যটক আটকে আছেন দার্জিলিংয়ে। যানবাহন চলাচল না করায় পর্যটকেরা বিপাকে পড়েছেন।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ছয় কোটি ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য নতুন সহায়তা হিসেবে ছয় কোটি ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এ সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। জাতিসংঘের রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সির (ইউএনআরডব্লিউএ) কাছে এ অর্থ হস্তান্তর করা হবে। খবর এএফপির।
বিশ্ব শরণার্থী দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে হিলারি ক্লিনটন বলেন, ৪৭ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনের মানোন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এই অর্থ ব্যয় হবে। ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জন্য এ বছর এর মধ্যে সাড়ে নয় কোটি ডলার সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ করা হয়। ওয়াশিংটন গত বছর ইউএনআরডব্লিউএ-কে ২৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার দিয়েছে। এই সংস্থার বার্ষিক বাজেট হচ্ছে ৬০ কোটি ডলার।

হিরোশিমায় আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই গতকাল শনিবার জাপানের হিরোশিমা নগরে পৌঁছান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ওই নগরে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু বোমা ফেলার ৬৫তম বর্ষপূর্তি সামনে রেখে তিনি ওই নগরে যান। সেখানে এটিই তাঁর প্রথম সফর।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, কারজাই তাঁর ঐতিহ্যবাহী পোশাকে হিরোশিমার পিস মেমোরিয়াল পার্কে যান। সেখানে আণবিক বোমায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় কারজাই আনবিক বোমা ফেলার স্থান পরিদর্শন করেন।
১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় পরমাণু বোমা ফেলা হয়। এতে এক লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি লোক প্রাণ হারায়

কুয়েতে চাচার গুলিতে প্রিন্স নিহত

কুয়েতের এক প্রিন্স তাঁর চাচার গুলিতে নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘাতক চাচাকে গ্রেপ্তার করলেও তাঁর পরিচয় প্রকাশ করেনি। সরকারিভাবে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তাতে প্রিন্সের হত্যাকাণ্ডকে সাধারণ মৃত্যু হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কেও তেমন কিছু জানা যায়নি। বিভিন্ন আরব গণমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।
কুয়েতের শাসক আদালত থেকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাঁরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছেন, শেখ বাসেল সালেম সাবাহ আল সালেম আল সাবাহ মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।
অবশ্য বিভিন্ন আরব গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসেলকে তাঁর এক চাচা গুলি করে হত্যা করেন। রাজপ্রাসাদের সাপ্তাহিক সভায় গাড়ি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে ওই চাচা বাসেলকে লক্ষ্য করে কয়েকবার গুলি করলে তিনি মারা যান।

ক্ষতিপূরণের দায় মেটাতে সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ বিপির

মেক্সিকো উপসাগরে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত তেলক্ষেত্রের দায়িত্ব পাওয়া কোম্পানি ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি) এই দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণের তহবিল জোগাড় করতে প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য তারা ব্রিটিশ ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টাডের শরণাপন্ন হয়েছে। গত শুক্রবার ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা টাইমস এ খবর জানিয়েছে। ওই খবর অনুযায়ী, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংককে এক হাজার কোটি ডলার মূল্যের সম্পত্তি বিক্রিতে সাহায্য করার অনুরোধ জানিয়েছে বিপি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের কাছে ওই তেলক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় তেল বেরিয়ে আসা নিয়ন্ত্রণের বিপির সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ব্রিটিশ নাগরিক টনি হেওয়ার্ডের পরিবর্তে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মার্কিন নাগরিক বব ডাডলিকে দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটেনের পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের যথেষ্ট তহবিল সংগ্রহে আগামী ১২ মাসে বিক্রির জন্য এক হাজার কোটি ডলার মূল্যের সম্পত্তির তালিকা তৈরি করতে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংককে অনুরোধ করেছে বিপি। এ ছাড়া জরুরি তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি ব্যাংক থেকে একসঙ্গে ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করছে ব্রিটিশ তেল কোম্পানিটি। এদিকে ব্যাংকগুলো থেকে বাণিজ্যিক শর্তে ঋণ পাওয়া বিপির জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। তেলক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পর কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৪০ শতাংশ কমেছে।
গতকাল এক সাক্ষাৎকারে বিপির চেয়ারম্যান কার্ল-হেনরিক এসভানবার্গ বলেন, ‘বিস্ফোরণের পর পরই হেওয়ার্ড দুর্ঘটনাস্থলে যান এবং তখন থেকেই দুর্ঘটনা মোকাবিলার পুরো কর্মসূচির দায়িত্বে রয়েছেন। তবে আমি মনে করি, আমাদের আরও দ্রুত কাজ করা দরকার। এখন থেকে তেল বেরিয়ে আসা বন্ধের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বব ডাডলি। পরে হেওয়ার্ড আবার এই দায়িত্বে ফিরবেন।’ দায়িত্ব পরিবর্তনের এই ঘোষণা চলতি মাসের শুরুতেই দেওয়া হয়। কিন্তু তখন এ ব্যাপারে কোনো সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে মেক্সিকো উপসাগরে তেলক্ষেত্রটির আরেক মালিকপক্ষ অ্যানাদার্কো পেট্রোলিয়াম বলেছে, বিপির অসতর্কতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব বিপির। তবে বিপি এই অভিযোগের ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করেছে। চুক্তি অনুযায়ী তেলক্ষেত্রের পরিচালন ব্যয় ও ক্ষয়ক্ষতির আংশিক দায় অ্যানাদার্কোরও বহনের কথা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যানাদার্কো পেট্রোলিয়াম ও বিপি যৌথভাবে এই তেলক্ষেত্রের পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত।

কিরগিজস্তানের শরণার্থীদের জন্য সহায়তা চেয়েছে জাতিসংঘ

জাতিগত সহিংসতায় বিপর্যস্ত কিরগিজস্তানের সংখ্যালঘু উজবেক শরণার্থীদের জন্য সাত কোটি ১০ লাখ ডলারের জরুরি ত্রাণ-সহায়তা চেয়েছে জাতিসংঘ। গত শুক্রবার জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন জানান, এ ব্যাপারে সদস্য দাতা দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যান অ্যাফেয়ার্সের প্রধান জন হোমস।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, কিরগিজস্তানে জাতিগত সহিংসতায় প্রায় চার লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে। সে দেশে সংখ্যাগুরু কিরগিজ ও সংখ্যালঘু উজবেক জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে এই সহিংসতায় কমপক্ষে ১০ লাখ নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান রোজা ওতুনবায়েভা বলেছেন, সহিংসতায় প্রাণহানির সংখ্যা দুই হাজার হতে পারে।
কিরগিজস্তান থেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়া শরণার্থীদের বেশির ভাগ প্রতিবেশী উজবেকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছে। উজবেকিস্তানের সরকারও তাদের দেশের জন্য একই ধরনের ত্রাণ-সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের কাছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, কিরগিজস্তানের শরণার্থীদের জন্য মূলত খাদ্য ও বাসস্থানবিষয়ক সহায়তা চাওয়া হচ্ছে। সেখানে হাসপাতাল ও অন্যান্য চিকিৎসা সেবার প্রতিষ্ঠানগুলোয় ওষুধ ফুরিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, দেশের ভেতরে প্রায় তিন লাখ কিরগিজ নাগরিক উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া আরও প্রায় এক লাখ নাগরিক উজবেকিস্তানে পালিয়ে গেছে। তাদের মধ্যে ৮০ হাজার সেখানকার বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন দূত রবার্ট ব্লেক এই জাতিগত সহিংসতা উসেক দেওয়ার জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট কুরমানবেক বাকিয়েভকে দায়ী করেছেন। গতকাল শনিবার তিনি বিপর্যস্ত কিরগিজস্তান পরিদর্শন করেন।
ব্লেক বলেন, নিশ্চিতভাবেই ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট দেশ ছাড়ার আগে তাঁর অনুগত ব্যক্তিদের রেখে গেছেন। যাঁরা স্থানীয় প্রাদেশিক সরকারের বিরোধী। উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইসলাম করিমভ শুক্রবার টেলিফোনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে কথা বলেন। তিনিও সহিংসতার কারণ হিসেবে বহিঃশক্তির সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করেন। তবে বর্তমানে বেলারুশে নির্বাসিত বাকিয়েভ এই সহিংসতায় তাঁর কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঐতিহাসিকভাবে জাতিগত উজবেক ও কিরগিজদের মধ্যে শত্রুতা রয়েছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের ধারণা, গত কয়েক দিনের এই সহিংসতার পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত। গত এপ্রিলে এক অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট বাকিয়েভ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলছে।

এসিআইয়ের ১০৫ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) লিমিটেড ২০০৯ সালের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে।
ঢাকার শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কোম্পানির ৩৭তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এই লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির চেয়ারম্যান এম আনিস উদ্ দৌলা।
সভায় এসিআই লিমিটেডের পরিচালক ওয়ালিউর রহমান ভুঁইয়া, গোলাম মহিউদ্দিন, নাজমা দৌলা, সুস্মিতা আনিস সালাম, ওয়ালিউর রহমান; ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ দৌলা এবং পরিচালক ও কোম্পানি সচিব সীমা আবেদ রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, তীব্র প্রতিযোগিতা ও উৎপাদনে বাধা সত্ত্বেও ২০০৯ সালে এসিআইয়ের হেলথ কেয়ার বা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বিক্রি বেড়েছে ২৪ শতাংশ।

পুঁজিবাজারে আরোপিত কর প্রত্যাহারের দাবি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি) ২০১০-১১ অর্থবছরে বাজেটে শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রে যেসব কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলোর কোনোটি কমানোর ও কোনোটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
সমিতি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার লেনদেনের আয়ের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ হারে কর কমিয়ে ৫ শতাংশে নির্ধারণ এবং তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা পরিচালক বা শেয়ারধারীদের ওপর ৫ শতাংশ আয়কর ও শেয়ার ছাড়তে গেলে প্রিমিয়াম মূল্যের ওপর ৩ শতাংশ হারে আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
গতকাল শনিবার ঢাকায় একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএপিএলসির পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। এতে মূল বক্তব্য রাখেন সমিতির সভাপতি সালমান এফ রহমান। খবর ইউএনবির।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য রাজস্ব আয়ের প্রয়োজন রয়েছে। আর তাই সরকার প্রতি বিও হিসাবের বিপরীতে ৫০০ টাকা মাশুল ধার্য করতে পারে। এতে করে বর্তমানে যে ২৫ লাখ বিও আছে, তা থেকে সরকারের বছরে ১২৫ কোটি টাকা আয় হবে।
করের আওতা বাড়াতে পরবর্তী বছরের (২০১১-১২) বাজেটে শেয়ারবাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে মূলধনী মুনাফার ওপর কর আরোপ করা যেতে পারে বলেও অভিমত প্রকাশ করা হয়।
বিএপিএলসির সভাপতি বলেন, বর্তমান বাজারে প্রধান সমস্যা হলো চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা।
সালমান এফ রহমান বলেন, ‘প্রিমিয়াম মূল্যের ওপর ৩ শতাংশ হারে করারোপের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।’
বর্তমানে উদ্যোক্তা শেয়ারধারীদের শেয়ার বেচাকেনার ক্ষেত্রে তিন বছরের বিধিনিষেধ আছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন যে এর ফলে তাঁরা যেকোনো ধরনের ফটকা কারবারের বাইরে থাকতে বাধ্য।
সালমান রহমান বলেন, ‘আমরা আশা করি, সরকার আমাদের সুপারিশগুলো গ্রহণ করবে। আর তাহলে শেয়ারবাজারের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে। কারণ, দেশের সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তর করার মাধ্যম হিসেবে শেয়ারবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’

জার্মানিজুড়ে হতাশা

জার্মানদের কাজপাগল বলে খ্যাতি আছে। কাজ ছেড়ে, সবকিছু ফেলে রেখে খেলা দেখতে বসে পড়াটা জার্মান-রীতির মধ্যে পড়ে না। কিন্তু এ তো যেনতেন খেলা নয়—বিশ্বকাপ বলে কথা! তার ওপর আবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ শুরু করেছিল জার্মানি। জার্মানিজুড়ে সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দেখার ধুম পড়ে গিয়েছিল তাই। কিন্তু যে জার্মানি প্রথম ম্যাচে দেশকে আনন্দে ভাসিয়েছিল, তারাই ডোবাল হতাশায়।
জার্মানির পরাজয়ে রাতারাতি আট কোটি মানুষই যেন হয়ে উঠল জার্মানি দলের কোচ। এটা করলে দল জিতত বা কে পেনাল্টি শট নিলে মিস হত না, এ রকম কত না বিশ্লেষণ। পরদিন পত্রপত্রিকাগুলোও একই ভাষায় কথা বলতে শুরু করল। সারা ইউরোপে গত শনিবারের পত্রপত্রিকার অন্যতম খবর জার্মানির পরাজয়। পাশাপাশি রেফারি আলবার্তো উনদিয়ানোর আচরণ নিয়েও সরব পত্রপত্রিকাগুলো।
সার্বিয়ার বিপক্ষে হারের জন্য খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দায় দেওয়া হচ্ছে রেফারিকেও। ম্যাচে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে দুটি হলুদ কার্ড দেখানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই রেফারির খেলা পরিচালনার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।
অবশ্য পুরো জার্মানিই যে হতাশ হয়ে পড়েছে, মুষড়ে পড়েছে; এমন ভাবার কারণ নেই। মিরোস্লাভ ক্লোসার লাল কার্ডে বিদায় এবং লুকাস পোডলস্কির পেনাল্টি থেকে গোল করার ব্যর্থতা নিয়ে জার্মানরা যখন মুষড়ে পড়েছে, তখনই উৎসবে মেতে উঠেছে সার্বিয়ানরা। জার্মানিতে বসবাসরত আধা মিলিয়ন সার্বিয়ান অধিবাসী শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত আনন্দ-উৎসব করল।

বিশ্বকাপ শেষ হলেই বুফনের অস্ত্রোপচার

চার মাসের জন্য ফুটবলকে ছুটি জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জিয়ানলুইজি বুফন। বাধ্য হয়েই। বিশ্বকাপের পর অস্ত্রোপচার করাবেন ইনজুরি থেকে মুক্তি পেতে। অস্ত্রোপচারের কারণে চার মাস মাঠের বাইরে থাকতে হবে ইতালির এই গোলরক্ষককে।
যত দ্রুত সম্ভব অস্ত্রোপচার করালেই ভালো। তবে আজ চোটের কারণে নিউজিল্যান্ড ম্যাচটা খেলতে না পারা বুফন চাইছেন, বিশ্বকাপ শেষ হলেই সার্জনের ছুরির নিচে যেতে। কারণ ইতালির পরের ম্যাচগুলো খেলতে চান জুভেন্টাসের এই ৩২ বছর বয়সী তারকা গোলরক্ষক। অস্ত্রোপচারের ফলে সিরি ‘আ’র পরের মৌসুমের শুরুতে খেলতে পারবেন না বুফন।

সমর্থকদের রোষানলে

খেলাশেষে মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ক্যামেরার একবারে সামনে এসে কী যেন বলে গেলেন ওয়েইন রুনি। চারপাশের শব্দের জন্য টিভিতে ঠিক বোঝা যায়নি ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার কী বলছিলেন। চারপাশের শব্দটা কিন্তু ভুভুজেলার নয়। কিছুক্ষণের জন্য হলেও কেপটাউনের গ্রিন পয়েন্ট স্টেডিয়ামে পরশু ভুভুজেলার শব্দকে ছাপিয়ে গিয়েছিল আরেকটি আওয়াজ—ইংল্যান্ড-সমর্থকদের দুয়োধ্বনি! কেবল ইংল্যান্ড থেকেই উড়ে এসেছিল ৩০ হাজার সমর্থক, স্থানীয় সমর্থকেরা তো ছিলই। গ্যালারির বেশির ভাগ সমর্থকই তাই ছিল ইংল্যান্ডের, দুয়োধ্বনির চিৎকার তো ভুভুজেলাকে ছাপিয়ে যাবেই!
পরে জানা গেল কী বলেছিলেন রুনি, ‘নিজেদের সমর্থকদের কাছ থেকে দুয়োধ্বনি উপহার পেতে দারুণ লাগে!’ ক্ষোভে-দুঃখেই হয়তো এমনটা বলেছেন। কিন্তু সমর্থকদের মন রাখার মতো কিছু আসলেই কি তাঁরা করতে পারলেন? কোচের জন্মদিন, গ্যালারিভরা সমর্থন কিংবা দুই রাজপুত্র হ্যারি ও উইলিয়ামের উপস্থিতি—কিছুই অনুপ্রাণিত করতে পারেনি ইংল্যান্ডকে। পুরো ম্যাচেই দলটা ছিল নিষ্প্রভ, সবচেয়ে বড় ভরসা রুনির পারফরম্যান্সই ছিল সবচেয়ে হতাশাজনক। শুধু এ ম্যাচেই নয়, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানো এবং বাছাইপর্বে সব মহাদেশ মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা রুনি চরম হতাশ বোধ করেছিলেন প্রথম ম্যাচেও।
সমর্থকদের ক্ষোভ শুধু দুয়োধ্বনিতেই সীমাবদ্ধ থাাকেনি। এক উগ্র সমর্থক কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন ইংল্যান্ডের ড্রেসিংরুমে। ঢুকেই সামনে পেয়ে যান ডেভিড বেকহামকে, শুরু করেন ইচ্ছেমতো গালিগালাজ। নিরাপত্তাকর্মীরা অবশ্য দ্রুতই সরিয়ে নিয়ে যান ওই সমর্থককে।
এই ঘটনায় ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) ইতিমধ্যেই ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে। দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের চেয়েও এফএ বেশি চিন্তিত নিরাপত্তা নিয়ে। আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এফএ জানিয়েছে, ‘ফিফার কাছে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেছি। এ ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভাগ্য ভালো বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।’ পরশু ইংল্যান্ডের ড্রেসিংরুমে গিয়েছিলেন দুই রাজপুত্র হ্যারি ও উইলিয়াম। ড্রেসিংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে এফএ চিন্তার এটাও একটা কারণ।

ঘানা-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ ড্র

একটি হ্যান্ডবল, আর তা থেকে একটি পেনাল্টি; ঘানাকে বাঁচিয়ে দিল ২৩ মিনিটের এই ঘটনাই। ম্যাচের ১১ মিনিটেই হলম্যানের গোল ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিল ঘানাকে। কিন্তু ২৩ মিনিটে গোললাইনে হ্যান্ডবল করে বসেন অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি কেওয়েল। লাল কার্ড দেখেন তিনি। পেনাল্টি থেকে গোল করে ঘানাকে ম্যাচে ফেরান আসামোয়া গায়ান। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্র হয় ১-১ গোলে। এই ড্রয়ে ভালোভাবেই বেঁচে থাকল প্রথম ম্যাচে সার্বিয়াকে ১-০ গোলে হারানো ঘানার দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার স্বপ্ন। প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ০-৪ গোলে হেরে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ারও এখনো সম্ভাবনা আছে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার। গ্রুপের শেষ ম্যাচে ঘানা মুখোমুখি হবে জার্মানির, অস্ট্রেলিয়া খেলবে সার্বিয়ার বিপক্ষে।
ম্যাচটি ১-১-এ ড্র হলেও দুই দলই খেলেছে উন্মুক্ত ফুটবল। আক্রমণ আর প্রতি-আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসেছিল দুই দলই। তবে নম্বর দিতে হলে এগিয়ে রাখতে হবে ঘানাকেই। আক্রমণ আর রক্ষণ—দুই জায়গাতেই অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ভালো ছিল আফ্রিকার এ দলটি।

রোমাঞ্চের শেষ ভারতের জয়ে

বিশ্বকাপ ফুটবলের ডামাডোলে একেবারে আড়ালে এশিয়া কাপ ক্রিকেট। তার পরও ডাম্বুলায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি অন্যরকম উত্তেজনা ছড়াল কাল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের ক্রিকেটীয় লড়াইয়ে বরাবরই যেমন রোমাঞ্চের পসরা থাকে, কালও এর ব্যতিক্রম ছিল না। শেষ ওভারে গড়ানো ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে জিতল ভারত। সালমান বাট (৭৪) ও কামরান আকমলের (৫১) হাফ সেঞ্চুরিতে ২৬৭ রান তোলে পাকিস্তান। শেষ ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে হরভজন ম্যাচ জেতান ভারতকে। সর্বোচ্চ ৮৩ রান করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন গৌতম গম্ভীর। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ৪৯.৩ ওভারে ২৬৭ (বাট ৭৪, ফারহাত ২৫, মালিক ৩৯, উমর ২১, আমিন ৫, আফ্রিদি ৩২, কামরান ৫১, রাজ্জাক ৩, আমির ৩, শোয়েব ৩*, আজমল ০; প্রাভিন ৩/৫৩, নেহরা ০/৫৮, জহির ২/৪১, হরভজন ২/৪৭, শেবাগ ০/১৯, জাদেজা ১/৪৩)। ভারত: ৪৯.৫ ওভারে ২৭১/৭ (গম্ভীর ৮৩, শেবাগ ১০, কোহলি ১৮, ধোনি ৫৬, রোহিত ২২, রায়না ৩৪, জাদেজা ৬, হরভজন ১৫*, প্রাভিন ৩*; আজমল ৩/৫৬, রাজ্জাক ১/১৮, আফ্রিদি ১/৪১, মালিক ১/২৮)। ফল: ভারত ৩ উইকেটে জয়ী।

দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৯২/৬

ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনটি ছিল সফরকারীদেরই। সেন্ট কিটসে তারা ৩ উইকেটে তুলেছিল ২৯৬ রান। কাল দ্বিতীয় দিনে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে স্কোরটাকে নিয়ে গেছে ৪৯২-এ। ক্যারিয়ারের ২১তম সেঞ্চুরির সঙ্গে পরশু ৭০০০ টেস্ট রানও পূর্ণ করেছেন গ্রায়েম স্মিথ। ২৩৮ বলে ১৩২ রান করা স্মিথকে বোল্ড করেছেন পেসার কেমার রোচ। সেঞ্চুরি হয়েছে আরও দুটি—ক্যালিস ক্যারিয়ারের ৩৫তম সেঞ্চুরি করে আউট হয়েছেন ১১০ রানে। ১০৪ রানে ব্যাট করছিলেন ডি ভিলিয়ার্স, এটি তাঁর দশম টেস্ট সেঞ্চুরি। শিলিংফোর্ড নিয়েছেন ৩ উইকেট। বাকি দুটি রোচ ও বেনের।

ফ্রান্সে মহা বিরক্ত বেকেনবাওয়ার

সপ্তাহও পার হয়নি, কোচ ক্যাপেলো আর তাঁর ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়দের তীব্র সমালোচনা করেছেন জার্মান কিংবদন্তি ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ফ্রান্সকে এক হাত নিলেন অধিনায়ক-কোচ দুই ভূমিকাতেই জার্মানিকে বিশ্বকাপ শিরোপা জেতানো ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার।
ফরাসিদের প্রতি তাঁর অভিযোগটা আরও বেশি গুরুতর। মেক্সিকোর বিপক্ষে ০-২ গোলের হারের পর গালাস-এভরা-আনেলকাদের দেশপ্রেমকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছেন কাইজার। তাঁর মতে, মেক্সিকোর বিপক্ষে ফ্রান্স যে খেলাটা খেলেছে, সেটা নাকি বিশ্বকাপের সঙ্গে যায় না। দলে কোনো সমন্বয় নেই। বেকেনবাওয়ার তাই ফ্রান্সের এই দলটা সম্পর্কে বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় হতাশার নাম ফ্রান্স। যে ঢঙে তারা খেলল, (মেক্সিকোর বিপক্ষে) সেটা বিশ্বকাপের সঙ্গে যায়ই না। দেখে মনে হচ্ছিল, তারা বুঝি ওয়ার্মআপ ম্যাচ খেলছে!’
মোট কথা, এবারের বিশ্বকাপের ফ্রান্সকে কোনো দলই মনে হচ্ছে না বেকেনবাওয়ারের, ‘তারা যেভাবে হার মেনে নিল, সত্যিই আমি মর্মাহত। একজনও লড়াই করে ফিরে আসার মানসিকতা দেখাল না। সত্যিকারের কোনো দলই মনে হয়নি তাদের।’
ইংলিশদের পক্ষ থেকে পাল্টাটা নগদই পেয়েছেন বেকেনবাওয়ার। তবে ফরাসিদের কাছ থেকে পাল্টা ঢিলটা না আসার সম্ভাবনাই বেশি। ফরাসিরা যে আসলেই স্বস্তিতে নেই।

ব্রাজিলের কাছে চাওয়াটা আরও বেশি

শেষ পর্যন্ত আমার আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। ইতালির প্রথম ম্যাচের আগে লিখেছিলাম, ম্যাচটা ১-১ ড্র হবে। যুক্তিবোধ তা-ই বলছিল। কিন্তু ইতালি ড্র দিয়ে শুরু করুক, সেটি আমি মন থেকে অবশ্যই চাইনি।
প্যারাগুয়ে ম্যাচে ড্রয়ের পরও কিন্তু ইতালির খেলা আমার ভালোই লেগেছে। তবে মুষলধারে বৃষ্টি স্বাভাবিক খেলা খেলতে দেয়নি। প্রথমার্ধে আলকারাজের গোলও ইতালিকে ঝামেলায় ফেলেছিল। ম্যাচে একটা সুযোগ পেয়ে সেটিই কাজে লাগিয়েছে ওরা।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আজও লিপ্পি আগের ম্যাচের ছকেই খেলাবেন বলে আমার ধারণা। বুফনের জায়গায় থাকবে কেবল ক্যালিয়ারির তরুণ গোলরক্ষক মার্চেত্তি। জামব্রোত্তা, ক্যানাভারো, চিয়েলিনি আর ক্রিসিতোরা গত ম্যাচে ভালো খেলেছে। গত ম্যাচে গোল করে সমতা ফেরানো ডি রসি আমার চোখে সেরা খেলোয়াড়। ডান উইংয়ে পেপের খেলা ছিল মুগ্ধতা ছড়ানো। তবে ইয়াকুইন্তা আর জিলার্দিনোর পেছনে খেলা মন্টোলিভো আর মারচিসিওকে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। ইতালিয়ান ফরোয়ার্ডদেরও অবশ্য জাল খুঁজে পেতে কষ্ট করতে হচ্ছে। আজও একই ঘটনা ঘটলে লিপ্পি হয়তো বাধ্যই হবেন পাৎজিনি আর ডি নাতালেকে আগে নামাতে।
ইতালির বিপক্ষে এক পয়েন্ট পেলেও বর্তে যাবে নিউজিল্যান্ড। ফলে ওরা আজ রক্ষণাত্মক ফুটবলই খেলবে। লেসেন, স্মিথ, বার্টস আর ভিচেলিচ কিউইদের রক্ষণ সামলায়। গত ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে গোল করা রিড ডিফেন্ডারদের নেতৃত্বে থাকছে। গত বছর একটি প্রীতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের স্ট্রাইকার কিলেন ইতালিকে রীতিমতো তুলির নাচন নাচিয়েছিল। ওই ম্যাচে জোড়া গোলও করেছিল। বাতাসে স্মেল্টজও ভয়ংকর। আমার ধারণা, আজ এরা সেটপিস থেকে গোল বানানোর চেষ্টায় মত্ত থাকবে। অবশ্য সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করলে ইতালির খেলোয়াড়েরাই মানের দিক থেকে অনেক এগিয়ে। আজ চ্যাম্পিয়নদের সহজ একটা জয়ই আশা করছি। আশা করছি, আগের পূর্বানুমানের মতো আজও আমার পূর্বানুমান লেগে যাবে।
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফেবারিট যে খেলাটা খেলেছে সেটিকে নিখুঁত বলা চলে, মনোমুগ্ধকর নয়। কাকা আর ফ্যাবিয়ানো এখনো নিজেদের সেই ছন্দটা খুঁজে পায়নি। কেবল রবিনহোকেই দেখে মনে হয়েছে নিজের সেরা ফর্মের কাছাকাছি আছে। মাইকনের গোলের পর শীতের কোট পরে সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কোচ কার্লোস দুঙ্গাকে দেখে মনে হয়েছে, যেন তাঁর বুক থেকে পাথরবোঝা নেমে গেছে। ওদের দ্বিতীয় গোলটি ছিল নান্দনিক উদাহরণ। রবিনহো-এলানোর যৌথ প্রচেষ্টার ফসল। দুঙ্গা নিশ্চয়ই এ রকম গোলই আরও বেশি করে পেতে চাইবেন।
আইভরিকোস্টের কোচ সভেন গোরান এরিকসন ৪-৪-২ ছক নিয়েই খেলতে চাইবেন। রক্ষণে থাকবে দেমেল, তোরে, জোকোরা আর তিয়েনে। মাঝমাঠে এবু, ইয়া তোরে, তিয়োতে আর কালু। এদের কাজ হবে বিশ্বমানের স্ট্রাইকার দ্রগবা আর জারভিনহোকে সমর্থন জুগিয়ে যাওয়া। ব্রাজিলকে ওরা বেশি জায়গা দিতে চাইবে না। রক্ষণাত্মক খেলাটাই খেলবে এবং পাল্টা-আক্রমণ হবে ওদের মূল লক্ষ্য। ব্রাজিল তাদের মতো করে ৪-৩-১-২ ছকেই খেলবে। ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগে আছে মাইকনের মতো খেলোয়াড়, যে কিনা ডান দিক দিয়ে উঠে গিয়ে আক্রমণে শরিক হয়। যেখানে আছে এলানো, কাকা, মেলো, ফ্যাবিয়ানো আর রবিনহো। আইভরিকোস্টের গোলমুখের তালা খোলার চাবি থাকবে এদেরই হাতে।
ব্রাজিলই এই ম্যাচে ফেবারিট। তবে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে যে খেলাটি ওরা খেলেছে, তার চেয়ে অনেক ভালো খেলতে হবে আজ।
স্লোভাকিয়া আগের ম্যাচেই বিশ্বকাপে তাদের প্রথম জয়টি পেতে পারত। কিন্তু নিউজিল্যান্ড ম্যাচে একেবারে শেষ বাঁশি বাজার আগেই মারাত্মক ভুলটা করে বসল। ইতালিয়ান লিগে নাপোলির হয়ে খেলার সময় মারেক হামসেকের খেলা আমি দেখেছি। আমার মনে হয়, স্লোভাকিয়ার জয়ের নায়ক হয়ে ওঠার সামর্থ্য আছে ওর। মাঝমাঠে ভেইস আর সেসটাকের আরও ভালো খেলা আশা করছি। কোচ ভ্লাদিমির ভেইস ৪-৩-১-২ ছকে খেলাতে পছন্দ করেন। রক্ষণ থেকেই খেলাটা বানানোর প্রক্রিয়া ওরা শুরু করে। কিন্তু সেই গতিটা না থাকায় আখেরে শেষ ফলটা ওরা পাচ্ছে না।
স্লোভাকিয়ার প্রতিপক্ষ আজ প্যারাগুয়ে। ওদের আক্রমণভাগ তো দুর্দান্ত। ব্যারিয়স আছে, সান্তা ক্রুজ আর বেনফিকার গোলমেশিন অস্কার কার্দোজো। আমার ধারণা, কোচ জেরার্দো মার্টিনো শুরু থেকেই স্লোভাকিয়ার রক্ষণে হামলা চালাতে চাইবেন।