Tuesday, September 20, 2022

পরিপাকতন্ত্রকে কেন দ্বিতীয় মস্তিষ্ক বলা হয়? অন্ত্র সম্পর্কে ৭টি বিস্ময়কর তথ্য

অন্ত্রের রয়েছে স্বাধীন স্নায়ুতন্ত্র।
আপনার শরীরের কোন অংশে মেরুদণ্ডের চাইতেও বেশি নিউরন থাকে এবং কোন অংশটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করে?
সম্ভবত "অন্ত্র" আপনার প্রথম উত্তর ছিল না। কিন্তু সত্যি হচ্ছে, আমাদের অন্ত্র লাখো নিউরনের সঙ্গে সংযুক্ত, যে কারণে অন্ত্রকে মানবদেহের "দ্বিতীয় মস্তিষ্ক" হিসেবে ডাকা হয়।
আমাদের পরিপাকতন্ত্রের কাজ শুধুমাত্র খাবার দাবার শোষণ করা নয়, বরং এর-চাইতেও আরও বেশি কিছু।
আমাদের শরীরে যে পরিমাণ রোগজীবাণু রয়েছে সেগুলো আমাদের শরীরকে অসুস্থ করে ফেলতে পারে।
অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য নির্ভর করে কিনা সে বিষয়ে এখনও গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা।
এবার জেনে নেয়া যাক অন্ত্র সংক্রান্ত কিছু বিস্ময়কর তথ্য:
১. অন্ত্রের রয়েছে স্বাধীন স্নায়ুতন্ত্র:
পুষ্টিবিদ ডা. মেগান রসি বলেছেন, " শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের তুলনায় আমাদের অন্ত্র স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। এটি মস্তিষ্কের কোন কোন সাহায্য ছাড়াই স্বাধীনভাবে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।"
ডা. মেগান রসি একাধারে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এবং অন্ত্রের চিকিৎসা সংক্রান্ত একটি বইও লিখেছেন।
অন্ত্রের এই স্বাধীনভাবে কাজ করাকে অভ্যন্তরীণ স্নায়ুতন্ত্র (ইএনএস) বলা হয়, যেটা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের (সিএনএস) একটি শাখা। যার কাজ শুধুমাত্র পরিপাকতন্ত্রের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা।
এই পুরো ব্যবস্থাটা নিউরনের সমন্বয়ে তৈরি একটি নেটওয়ার্কের মতো কাজ করে। যেটা পাকস্থলী ও হজম-ক্রিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত।
অন্ত্রকে মানবদেহের "দ্বিতীয় মস্তিষ্ক" হিসেবে ডাকা হয়।
অন্ত্রের এই অভ্যন্তরীণ স্নায়ুতন্ত্র মূলত সিম্প্যথেটিক ও প্যারাসিম্প্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
২. আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অন্ত্রের ভূমিকা:
ডাঃ রসি'র মতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার পেছনে অন্ত্রের স্বাস্থ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেননা আমাদের রোগ প্রতিরোধক কোষের ৭০% অন্ত্রের ভিতরে থাকে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে গ্যাস্ট্রো-ইনটেস্টাইনাল বা পরিপাকতন্ত্রের সমস্যাগুলো, সর্দি, কাশি, জ্বরের মতো সাধারণ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।
৩. কতোবার টয়লেট হওয়া স্বাভাবিক?
আমাদের শরীরের বর্জ্য শুধুমাত্র খাদ্যের অবশিষ্টাংশ নয়। বরং এর ৫০% জুড়ে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া।
এরমধ্যে এমন সব ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যেটা কিনা আমাদের শরীরের জন্য আসলেই উপকারী।
এ কারণে, যাদের অন্ত্রে "খারাপ" ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ফিকাল ট্রান্সপ্লান্ট একটি কার্যকর চিকিৎসা হতে পারে।
এই চিকিৎসা স্টুল ট্রান্সপ্লান্ট বা মল প্রতিস্থাপন হিসেবেও পরিচিত। এটি এমন এক প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া যেখানে একজন সুস্থ মানুষের শরীর থেকে মলের ব্যাকটেরিয়া অসুস্থ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।
এই বিষয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে ডাঃ রসির কাছে জানতে চাওয়া হয় আমাদের দিনে কয়বার টয়লেটে যাওয়া উচিত?।
তিনি বলেন, প্রতিদিন তিনবার থেকে শুরু করে সপ্তাহে তিনবার টয়লেট হওয়া গবেষণায় স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়।
৪. অন্ত্র সুস্থতায় খাদ্য নির্বাচন:
আমাদের অন্ত্রে রয়েছে কয়েক ট্রিলিয়ন জীবাণুর বসতি।
এই জীবাণুগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ কেননা তারা নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টিকর উপাদান হজম করতে সাহায্য করে।
প্রতিটি মাইক্রোবায়াল গ্রুপ একেক ধরণের খাবারের উপর কাজ করে।
তাই বিভিন্ন বৈচিত্র্যের খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে, যা আমাদের আরও সুস্থ হয়ে ওঠার সঙ্গে সম্পর্কিত।
"আমি বলতে চাই যে মাইক্রোবসরা আমাদের অভ্যন্তরীণ পোষা প্রাণীর মতো, আপনি যার যত্ন নিতে এবং লালন পালন করতে চান," বলেছেন ডাঃ রসি।
যারা সবসময় একই ধরণে খাবার খায় তাদের অন্ত্রের জীবাণুগুলো এতোটা সক্রিয় বা শক্তিশালী থাকেনা।
৫. অন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত আপনার মেজাজ মর্জি:
ডাঃ রসি বলেছেন যে আপনার যদি অন্ত্রের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে আপনি কতোটা মানসিক চাপে আছেন সেটা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন: "ডাক্তারি অনুশীলনে থাকাকালে আমি সবসময় আমার রোগীদের দিনে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য ধ্যান করার পরামর্শ দিতাম। চার সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ধ্যান করায় এক পর্যায়ে এটি তাদের অভ্যাসে পরিণত হতো। এবং এতে তাদের অন্ত্রের সমস্যাও ঠিক হয়ে যায়।
"তাই মানসিক চাপমুক্ত থাকা সত্যিই অনেক গুরুত্বপূর্ণ।"
আমাদের অন্ত্রের সঙ্গে মেজাজ যুক্ত থাকার পেছনে একটি সাধারণ কারণ হল, আমাদের পরিপাকতন্ত্রে আনুমানিক ৮০% থেকে ৯০% সেরোটোনিন উৎপন্ন হয়।
সেরোটোনিন এক ধরণের রাসায়নিক বার্তাবাহক যার সঙ্গে আমাদের পরিপাক ক্রিয়া থেকে শুরু করে মানসিক রোগ সংক্রান্ত শরীরের নানা কার্যক্রম জড়িত।
এক কথায় সেরোটোনিনের নি:সরণের ওপর নির্ভর করে আমাদের মেজাজ ভাল থাকা, না থাকা।
দীর্ঘমেয়াদী চাপ শরীরে সেরোটোনিন নি:সরণের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে যা আমাদের মন মেজাজ, উদ্বেগের মাত্রা এবং সুখের মতো মানসিক অবস্থা প্রভাবিত করতে পারে।
পশু এবং মানুষের ওপর আগের গবেষণাগুলো থেকে পাওয়া তথ্য প্রমাণ থেকে জানা যায় যে, বিষণ্ণতাসহ অন্যান্য মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর অন্ত্রে মাইক্রোবায়াল গোলযোগ পাওয়া গেছে।
সাইকোবায়োটিক্সের ওপর নতুন একটি গবেষণা চলছে। যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে সুস্থ অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।
৬. বিশ্বাসের নেতিবাচক প্রভাব:
যদি আপনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে কয়েক ধরণের খাবার আপনার জন্য খারাপ, তাহলে আপনার এ সংক্রান্ত নেতিবাচক উপসর্গ দেখা দেবে।
সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা গেছে যে, আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট ধরণের খাবার খেতে ভয় পাওয়া শুরু করেন তবে সেটি খাওয়ার সময় আপনার উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে।
কেননা কিছু মানুষের পাকস্থলী বেশ সংবেদনশীল।
ডাঃ রসি বলেন, "আমার ক্লিনিকে আমি প্রতিনিয়ত দেখেছি যে একটা বিশ্বাস কিভাবে অন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে"। অনেকে বিশ্বাস করে যে গ্লুটেন বা ল্যাকটোস তাদের জন্য খারাপ হবে, বাস্তবে তাদের ওইসব খাবারে এলার্জি বা অসহিষ্ণুতা না থাকলেও শুধুমাত্র বিশ্বাসের কারণে সেগুলো খাওয়ার পরে তারা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।
৭. আপনি চাইলেই পারেন পরিপাক স্বাস্থ্য উন্নত করতে:
ডঃ রসি কিছু অভ্যাস তালিকাভুক্ত করেছেন। যা পরিপাকতন্ত্র সুস্থ রাখার জন্য মেনে চলা প্রয়োজন। সেগুলো হল:
  • অন্ত্রের মাইক্রোবায়াল সক্রিয় ও শক্তিশালী রাখতে বিভিন্ন ধরণের খাবার খান।
  • পছন্দমতো উপায়ে নিজের মানসিক চাপ মোকাবিলা করুন: সেটা হতে পারে, ধ্যান, শিথিলকরণ, বা যোগব্যায়াম।
  • আপনার যদি ইতিমধ্যে অন্ত্র সমস্যা থাকে, তাহলে অ্যালকোহল, ক্যাফিন এবং মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কেননা এ ধরণের উপাদান সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
  • ভালভাবে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, আপনি যদি ঘুমের ধরণ পরিবর্তন করে দেহঘড়ির ছন্দ ব্যাহত করেন তবে আপনার অন্ত্রের জীবাণুগুলির চক্রও বাধাগ্রস্ত হবে। এবং মনে রাখবেন, অন্ত্রের জীবাণুগুলোকে সুস্থ রাখতে তাদের সঙ্গে ভাল আচরণ করা জরুরি।
অন্ত্র ঠিক রাখতে খেতে হবে নানা ধরণের খাবার।

টমাস আলভা এডিসনঃ বধিরতা যার জন্য ছিল আশীর্বাদ… by সাইকা তাসনিম

বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবন অনেকটা খোলা বইয়ের মত। তাদের ব্যর্থতা-সফলতা অনেক কিছুই আমাদের জানা থাকে। কিন্তু তাদের জীবনে এমন আরো অনেক কিছুর উপস্থিতি আছে যা থেক যায় আমাদের সম্পূর্ণ অজানা। তেমনি একজন বিখ্যাত ব্যক্তি ও বিজ্ঞানী হলেন টমাস আলভা এডিসন। হয়ত আমরা অনেকেই টমাস আলভা এডিসনের ব্যাপারে জানি। তার আবিষ্কার, সফলতা সব ব্যাপারেই জানি কিন্তু তার জীবনের এমন কিছু জিনিস রয়েছে যেগুলো আমাদের অজানা। নিচে সেগুলো দেওয়া হল-
টিচারদের অনাগ্রহ
সাত ভাইবোনের মধ্যে টমাস আলভা এডিসন ছিলেন সবার ছোট। তার স্কুলের শিক্ষকরা তাকে খুবই দুর্বল ছাত্র ভেবেছিল। পড়ায় মন বসতো না বিধায় প্রায় সময়ই শিক্ষকরা প্রায় সময়ই তাকে বাসায় পাঠিয়ে দিত। কিন্তু এডিসন তার সাফল্যের জন্য তার সম্পূর্ণ কৃ্তিত্ব তার মাকে দিয়েছেন। তার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তার পাশে তার মাকে পেয়েছেন। তার প্রতি শিক্ষকদের অনীহার কারণে তার মা তাকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে আনেন। তার প্রতি তার মায়ের পুরো আস্থা ছিল। তিনি নিজেই পরবর্তিতে এডিসনের পড়ানোর দায়িত্ব নেন।
প্রথম ল্যাব
ছোটবেলা থেকে এডিসনের তার চারপাশের জিনিসের প্রতি আগ্রহ ছিল অসীম। ৯ বছর বয়স থেকেই তিনি বাসায় ছোট ছোট এক্সিপেরিমেন্ট চালান। তিনি তার হাত খরচের পুরোটাই এক্সপেরিমেন্টের জন্য বিভিন্ন কেমিক্যাল কেনার জন্য ব্যয় করতেন। তিনি এমন কিছু কেমিক্যাল কিনেছিলেন যেগুলো ছিল অমূল্য। তিনি সেগুলোকে সাবধানে একটি বোতলে সংরক্ষন করতেন। বোতলগুলোকে সবার কাছ থেকে দূরে রাখার জন্য সেগুলোকে “বিষ” নামে লিখে রেখেছিলেন। ১০ বছর বয়সে বাড়ির বেজমেন্টে তিনি তার প্রথম ল্যাবরেটরি বানান।
বধিরতা,আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ
এডিসনের কানে শোনায় সমস্যা ছিল। তিনি কানে শুনতে পেতেন না। অনেকের ধারনা তিনি তার বাবার কাছ থেকে বধিরতা পেয়েছেন কারণ তার বাবাও শুনতে পেতেন না। কিন্তু বধিরতার ফলে তার বেশ সুবিধাও হয়েছে। যেহেতু তিনি শুনতে পেতেন না তাই মনযোগ সহকারে কাজ করতে পারতেন। কোন শব্দই তার কানে যেত না যার কারণে তার কাজে কোন বিঘ্ন ঘটতো না। এছাড়াও তিনি কাজপাগল বিজ্ঞানী ছিলেন। বধিরতার কারণে তিনি বেশি সময় ধরে কাজ করতে পারতেন। বস্তুতই বধিরতা তার জন্য আশীর্বাদ ছিল।
প্রথমবার চাকরিচ্যুত হওয়া
১৪ বছর বয়সে এডিসন ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নে টেলিগ্রাফ অপারেটর হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। তিনি দিনের বেলা কাজ না করে রাতের বেলা কাজ করতেন যাতে করে তিনি তার এক্সপেরিমেন্ট গুলো করতে পারতেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই চাকরি রক্ষা করা সম্ভব হয় নি। ব্যাটারিতে সালফিউরিক এসিডের উপর পরীক্ষা চালানোর সময় আগুন ধরে যায়। আগুনে টেলিগ্রাফ অফিস ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আর এই ঘটনার পরেই তার চাকরি চলে যায়।
প্রথম প্যাটেন্ট
নিবার্চনের সময় ভোটিং রেকর্ড করার জন্য এডিসন একটি যন্ত্র আবিষ্কার করে। সেই সময়ে তার বয়স ছিল ২২ বছর। তিনি সেই আবিষ্কারের জন্য প্যাটেন্ট ও নেন। ভোট রেকর্ড করার জন্য ব্যবস্থাপককে প্রত্যেকবার সুইচ পরিবর্তন করতে হত। কিন্তু মেম্বাররা সঠিক ভাবে যন্ত্রটি ব্যবহার করতে পারেনি। ভোট ঠিকমত রেকর্ড করা যায়নি কারণ মেম্বাররা বারবার তাদের ভোট চেঞ্জ করছিল। পরবর্তীতে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান যন্ত্রটি বাতিল করে দেন ও প্যাটেন্ট ও বাতিল হয়ে যায়।
মিনাকে গোপন কোডের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব
এডিসনের স্ত্রী মেরি মারা যাওয়ার ২ বছর পর তার সাথে সুদর্শন মিনা মিলারের সাথে দেখা হয়। এটি উভয়ের জন্যই প্রথম দর্শনে প্রেমে পড়ে যাওয়া ছিল। তারা একসাথে সময় কাটাতো। এডিসন তাকে মোর্স কোড ট্যাপিং ভাষাও শিখিয়েছিল। তারা যখন অন্যান্য মানুষদের সাথে থাকতো তখন মোর্স কোড ট্যাপিং এর মাধ্যমে কথা বলত। একদিন এডিসন মিনাকে মোর্স কোডের মাধ্যমে “. – — ..- .-.. -.. -.– — ..- — .- .-. .-. -.– — .” ম্যাসেজ পাঠায় ও মিনাও তাকে “-.– .” লিখে ফিরতি বার্তা দেয়। এর কিছুদিন পরেই তারা বিয়ে করে।
রহস্যজনক ট্যাটু
মিচুয়াল লাইফ ইন্সুরেন্সের রেজিস্টার মতে এডিসনের বাম হাতে ট্যাটু আঁকা ছিল। ট্যাটুতে মাত্র ৫ টি ডট ছিল। ট্যাটুর ব্যাপারটি সম্পূর্ণই রহস্যজনক ছিল কারণ কেউই এই ট্যাটুর মানে জানতো না। এডিসনই প্রথম আনঅফিসিয়ালি stencil-pen ব্যবহার করে ট্যাটু মেশিন বানায়। ১৮৭৬ সালে তিনি stencil-pen এর জন্য প্যাটেন্ট গ্রহন করেন। পরবর্তীতে Samuel O’Reilly এডিসনের ট্যাটু মেশিনকে কিছুটা পরিবর্তন করেন।
এক্সরে
হাসপাতালগুলিতে ব্যবহৃত আধুনিক ফ্লোরোস্কোপ আবিষ্কারের জন্য এডিসন এক্স-রে ব্যবহার করেছিলেন। সেই সময় এক্স-রে গুলি অনিরাপদ বলে বিবেচিত হতো না। এডিসন তার কর্মচারী ক্লারেন্স ড্যালিকে একটি ফ্লোরোস্কোপ তৈরি করতে নির্দেশ দেন। ক্লারেন্স তার হাতে এক্স-রে টিউব পরীক্ষা করেন এবং এর ফলে তার হাতে সংক্রমণ তৈরি হয়। এই সংক্রামনের ফলে ড্যালিকে শুধু তার হাত নয় বরং তার জীবন ও হারাতে হয়েছিল। এডিসন ড্যালির মৃত্যুর ব্যাপারে খুব কষ্ট পেয়েছিলেন ও হতাশ হয়ে পড়েন। পরে তিনি এক্সরে গবেষনা বন্ধ করে দেন।
কংক্রিটের বাসা
এডিসন এক সময়ে সিমেন্ট ব্যবসা শুরু করার কথা ভেবেছিলেন। তিনি নিই ইয়র্ক শহরের বাসস্থানের সমস্যা সমাধানের করতে চেয়েছিলেন। তিনি ছাচের মাধ্যমে শুধু সিমেন্ট দিয়ে বাড়ি বানাতে চেয়েছিলেন। তিনি বিভিন্ন সাইজের জানালা,সিড়ি ও বাথটাব বানানোর কথাও ভেবেছিলেন ছাচের মাধ্যমে। কিন্তু তার এই পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত ছিল না। তাই এই পরিকল্পনা থেকে তাকে সরে আসতে হয়। যদিও তিনি নিজের জন্য এরকম একটি বাড়ি বানিয়েছিলেন। তিনি কংক্রিটের পিয়ানো ও আসবাবপত্রও বানিয়েছিলেন কিন্তু সেগুলো জনসাধারনের মনযোগ আকর্ষন করতে ব্যর্থ হয়।
হাতি ও এডিসন
একশতের ও বেশি পাওয়ার স্টেশনের মাধ্যমে এডিসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিদুৎ সরবরাহ করত কিন্তু তিনি DC ব্যবস্থায় বিদুৎ সরবরাহের পক্ষপাতিত্ব ছিলেন না। এমন সময়ে তিনি DC ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রমানের জন্য একটি সুযোগ পেয়ে যান। হুট করে সার্কাসের একটি হাতি বন্য হয়ে ওঠে। এই বুনো হাতির আক্রমনে বেশ কিছু মানুষ মারাও যান। হাতিটি একটি হুমকি হয়ে দাড়িয়েছিল ও সার্কাস মালিক একে মেরে ফেলতে চান। যদিও এডিসন হাতিটি মারার পক্ষে ছিলেন না তাও তিনি এটির দায়িত্ব নেন প্রমানের জন্য। তিনি হাতিটির উপর ৬০০০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক AC current ব্যবহার করেন ও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হাতিটি মারা যান।