Saturday, May 28, 2016

হিরোশিমার ক্ষত শুকানোর নয়

হিরোশিমা মেমোরিয়াল পাক স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন
শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে করমর্দন
করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। জি-৭
সম্মেলনের শেষ দিন শুক্রবার ঐতিহাসিক হিরোশিমা
সফরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের (হিবাকুশা)
সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ওবামা। এসময় ওবামা পারমানবিক
অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন -ডেইলি মেইল
হিরোশিমার ক্ষত শুকানোর নয়। হিরোশিমার নীরব কান্না থেকেই আমাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। ৭১ বছর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পারমাণবিক বোমার আঘাতে জাপানের যে নগরী মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছিল, শুক্রবার সেই হিরোশিমা সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এসব কথা বলেন। খবর এএফপি, রয়টার্স ও ডেইলি মেইলের। দুই দিনব্যাপী জি-৭ সম্মেলনের শেষদিন শুক্রবার ইসেশিমা থেকে স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে হিরোশিমা পৌঁছেন ওবামা। ৫টা ৪০ মিনিটে হিরোশিমা মেমোরিয়াল পার্কে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে নীরবতা পালন করেন তিনি। পরে শিনজো আবেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর স্থানীয় খোলা মাঠে পারমাণবিক বোমায় আক্রান্তদের অংশগ্রহণে এক স্মৃতিচারণ সভায় বক্তৃতা দেয়ার সময় বারাক ওবামা বলেন, ‘৭১ বছর আগে আকাশ থেকে মৃত্যু পড়েছিল এবং পরিবর্তন ঘটেছিল বিশ্বে। আমি এখানে কেন এসেছি- এ প্রশ্ন অনেকে করতে পারেন, কিন্তু আমি এসেছি মানবিক বিবেচনায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ভাষায় হিরোশিমা দুদর্শার কথা বর্ণনা করা কঠিন।’ এক লাখের বেশি নিহতের স্মরণ করে ওবামা বলেন, ‘চলুন আমরা এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সন্তানদের বলি, নৃশংসতা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা আজ বুঝতে শিখেছি,
এ ধরনের যুদ্ধ মানব সভ্যতার জন্য কতটা হুমকি হতে পারে।’ ক্ষমা চাওয়ার বিষয় আগেই নাকচ করলেও এদিন ওবামা বলেন, ‘আমরা কৃতজ্ঞচিত্রে যুদ্ধের সময় নিহতদের স্মরণ করছি। ইতিহাস থেকে আমরা সরাসরি শিক্ষা নিয়েছি। তাই পারমাণবিক অস্ত্র আর কখনও মানব সভ্যতার প্রয়োজন পড়বে না।’ ওই সভায় শিনজো আবে বলেন, ‘আমরা এ ধরনের ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না। যারা আজ বেঁচে আছেন তাদের কাছে আমাদের অঙ্গীকার হবে, পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন নতুন বিশ্ব।’ জাপানি ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের স্মরণ করিয়ে আবে বলেন, ওবামার ঐতিহাসিক সফর মনে করে দিচ্ছে, পারমাণবিবক অস্ত্র কতটা ভয়ানক। এরপর ওবামা হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমায় আক্রান্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তাদের কষ্টের কথা শোনেন। এ সময় তিনি বৃদ্ধ এক ব্যক্তিকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এতে ওই ব্যক্তি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ৯১ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তির সঙ্গে করমর্দনের পর ধূসর রংয়ের স্যুট পরা অপর এক ব্যক্তিকে জড়িয়ে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে ওবামা হিরোশিমার স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। দায়িত্বে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামাই প্রথম হিরোশিমা সফর করলেন। ওবামার আগে ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি হিরোশিমা সফর করেন। উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমার আঘাতে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। এর তিন দিন পর ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা হামলায় মারা যান আরও ৭৪ হাজার মানুষ।

এশিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে জি-সেভেন

জি-৭ সম্মেলনের শেষ দিন শুক্রবার ফটোসেশনের ফাঁকে
দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সেরে নিচ্ছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী
ডেভিড ক্যামেরন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিনশেষে
দ্বিপাক্ষিক আলোচনার টেবিলেও বসেন দুই নেতা।
অন্যদিকে আয়েশি ভঙ্গিমায় হাঁটছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
বারাক ওবামা -বিবিসি
বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর দুই দিনব্যাপী আয়োজিত জি-সেভেন সম্মেলন শেষ হয়ে গেল শুক্রবার। এবারের মূল বিষয় ছিল অর্থনীতির বিকাশ এবং বাণিজ্যের বিস্তৃতি। এ ক্ষেত্রে ধনীদের দুর্নীতি ও কর ফাঁকির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন জি-সেভেনের শীর্ষ নেতারা। এ ছাড়া মধ্যবিত্তদের জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর বিষয়ে মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এবারের সম্মেলনে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি চলমান রাখার বিষয়টি আলোচনার টেবিলে থাকলেও মূলত সবার দৃষ্টি ছিল এশীয় রাজনীতিতে। চীনকে মোকাবেলা করতে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধাসহ ঠিকাদারি দেয়া হয়েছে জাপানকে। জাপান-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি : ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি রাষ্ট্রের সঙ্গে অবাধ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার পথে এগিয়ে গেল জাপান। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, ‘জাপান-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি দ্রুতই চাঙ্গা হয়ে উঠবে।
কারণ তখন আরও ন্যূনতম ৩৪০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে অর্থবাজারে।’ বর্তমানে ইইউ-জাপান দ্বিপাক্ষিক ব্যবসার পরিমাণ বছরে ৮৯ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছে এক্সপ্রেস নিউজ। এ ছাড়া ইসলামি মৌলবাদ দমন, চীনের একচেটিয়া বাজার দখল রোধ এবং ইউরেশিয়াতে রাশিয়ার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়গুলোতে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে জাপান-ইইউ। এ ব্যাপারে জি-সেভেন নেতারা বলেন, ভারসাম্যপূর্ণ বৈশ্বিক অর্থনীতি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জাপান-ইইউ অবাধ বাণিজ্য দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট রোধে ভোক্তা কর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জাপানের : বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে জাতীয় অর্থনৈতিক নীতিতেও পরিবর্তন আনছে জাপান। পূর্ব প্রস্তাব অনুসারে জাপানের ভোক্তা কর ৮ থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করার কথা ছিল। তবে শুক্রবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্থরতার কথা বিবেচনা করে জাপান ভোক্তা কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত করছে।’ তবে জাপানি অর্থনীতিবিদ মাসাকি কুয়াহারা জাপান টাইমসকে বলেন, ‘সিনেটের আসন্ন উচ্চকক্ষের নির্বাচনকে সামনে রেখেই প্রধানমন্ত্রী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জি-সেভেন সম্মেলনকে সফলভাবে ব্যবহার করলেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এ সিদ্ধান্ত ক্ষতির কারণ হতে পারে।’
ব্রেক্সিটের বিপক্ষে সরব জি-সেভেন : ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকে বিশ্বের অর্থনীতির জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন জি-সেভেন নেতারা। তারা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্য বেরিয়ে গেলে বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের পথে তা অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে। এ ছাড়া বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পথেও তা বড় ধরনের হুমকি হয়ে দেখা দেবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, ‘ইইউতে থাকার মধ্যেই ব্রিটেনের সার্বিক মঙ্গল নিহিত আছে। এর ব্যতিক্রম কিছু ঘটলে বিনিয়োগ এবং ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়বে।’ জি-সেভেন সম্মেলনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্যামেরনকে বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকাটাই আপনার দেশের জনগণকে উপকৃত করবে।’ এ বছরের ২৩ জুন ইইউতে থাকা না-থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে ব্রিটেনে। উদ্বাস্তু ইস–্যকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিতকরণ : অভিবাসী এবং উদ্বাস্তু সমস্যাকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন জি-সেভেন নেতারা। তারা বলেন, উদ্বাস্তু সমস্যা একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এ সমস্যা নিরসনে বিশ্বের সব রাষ্ট্রেরই ভূমিকা রাখা উচিত। গত বছর সিরিয়া এবং ইরাক থেকে ১৩ লাখ মানুষ ইউরোপে আশ্রয় নিয়েছে। এদের এক-তৃতীয়াংশই আছে জার্মানিতে। এ ব্যাপারে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে অভিবাসী এবং উদ্বাস্তু সমস্যা নিরসনে সতর্ক নজর রাখবে জি-সেভেন। বিশেষ করে ইরাকের প্রতি আলাদা ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ ইরাক থেকেই স্রোতের মতো মানুষ বের হয়ে গেছে।’ প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের ঘোষণা : বৈশ্বিক জলবায়ু সমস্যা নিরসনে ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে জি-সেভেন। বৈশ্বিক তাপমাত্রা ন্যূনতম ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমিয়ে আনার ব্যাপারে তারা সর্বোচ্চ সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে।

সাতক্ষীরার খেলোয়াড় গড়ার কারিগর

ঘরোয়া আসর তো বটে, মালদ্বীপ লীগেও হ্যাটট্রিকের পর হ্যাটট্রিক করেছেন বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড সাবিনা খাতুন। সাবিনা খাতুন ছাড়াও সুরাইয়া খাতুন ও মিরানার মতো তারকা ফুটবলার তৈরির কারিগর আকবর আলী। সাতক্ষীরার এই ক্রীড়াবিদ তৈরির কারিগরের হাতে দীক্ষা নিয়ে জাতীয় কাবাডি দলে খেলছেন মিতা খাতুন পাখি, মানসুরা খাতুন ও আজমিরা খাতুন দোলারা। দেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তারও তার হাতে তৈরি। তার দুই মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস রিক্তা ও ফাতেমাতুজ জোহরা মুক্তা জাতীয় ফুটবল ও খোখো দলের সদস্য। আকবর আলী এবার অ্যাথলেট গড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। নিজে ছিলেন অ্যাথলেট। দুই মেয়েও খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত। ছেলেটা পড়াশোনায় ব্যস্ত। তাই বলে সাতক্ষীরার আকবর আলী ও তার স্ত্রীর সংসার ছোট নয়। বাড়িতে ১৫ জন। নিজের বাড়িতে ১৩ জন মেয়েকে নিয়ে আকবর আলী গড়ে তুলেছেন জ্যোতি ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আগে ছিল অনাবাসিক। গেল তিন বছরে এ আবাসিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় অর্ধশত ক্রীড়াবিদ বিভিন্ন জাতীয় দলে খেলছেন। আকবর আলী এবার পাঁচ তরুণ অ্যাথলেটকে নিয়ে এসেছেন জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায়। বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) মহিলা ফুটবল দলের কোচ আকবর আলী দীর্ঘদিন ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে জড়িত।
তার দুই মেয়ে রিক্তা ও মুক্তা পড়ছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সায়েন্স অ্যান্ড ফিজিক্যাল অ্যাডুকেশনে তৃতীয় বর্ষে। আকবার আলী ও তার দুই মেয়ে নিজেদের অর্জিত সব অর্থ খরচ করেন ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নে। সাতক্ষীরার চালতেতলা বাজারে নিজের বাড়িতে ২০০৮ সালে জ্যোতি ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি। বর্তমানে ১৩ জন মহিলা ক্রীড়াবিদ এখানে খেলাধুলা শিখছেন। আকবর আলী বলেন, ‘বিজেএমসিতে আমি কোচ হিসেবে এবং আমার দুই মেয়ে চাকরি করে যে টাকা পাই, তা দিয়েই এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালাই। এখানে ১৩ জন মেয়ের পড়াশোনা, থাকা-খাওয়া আমাদের অর্থে চলে। অ্যাথলেটিক্স, হ্যান্ডবল, ভলিবল, কাবাড়ি, ফুটবল ও খোখো খেলা শেখানো হয়। নতুন যোগ হয়েছে ক্রিকেট, থ্রোবল ও সেপাক টাকরো। নিঃস্বার্থ এ ক্রীড়াকোচ এবার পাঁচ তরুণ অ্যাথলেট নিয়ে জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সে এসেছেন। সবাই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের মধ্যে নয়ন হোসেন অন্যতম। বাবা রমজান আলী ইটভাঙা গাড়ির দিনমজুর। মা গরু খামারি। বর্ষা মৌসুমে বাবার কাজ বন্ধ থাকলে মা সংসার চালান। তাদের নিয়েই আগামী ক্রীড়াঙ্গনের স্বপ্ন দেখছেন আকবর আলী। তার কথায়, ‘আমার স্বপ্ন একদিন জ্যোতি ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্রীড়াবিদ তৈরির বড় কারখানায় রূপান্তরিত হবে। সেই স্বপ্ন নিয়েই কাজ করছি।’

বাবা তোমার হাতটা একটু ধরি

বাবা তোমার হাতটা একটু ধরি। অনেকটা আবেগী কথন। ছেলের উদ্দেশে মায়ের এমন আবদার। এই আবেগী বাক্যটাই নাটকের নাম হিসেবে বেছে নিলেন আবুল হায়াত। ঈদের জন্য এ নামেই নির্মাণ করছেন একটি নাটক। এতে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাহানারা আহমেদ। ছেলের ভূমিকায় রয়েছেন শাহেদ শরীফ খান। নাটকে পরিচালক আবুল হায়াতও স্কুল মাস্টারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করেই নাটকটি নির্মাণ করছি।
যেহেতু ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়িতে থাকেন এবং পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঈদের অনুষ্ঠানগুলো দেখার চেষ্টা করেন। তাই পারিবারিক শিক্ষামূলক একটি নাটক রচনা এবং নির্মাণ করার চেষ্টা করেছি। সমাজের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই আমি এ নাটকটি নির্মাণ করছি। আশা করি দর্শকের ভালো লাগবে।’ জাহানারা আহমেদ বলেন, ‘হায়াতের এ নাটকের গল্প আমার খুব ভালো লেগেছে।’ শাহেদ শরীফ খান বলেন, ‘সবসময়তো গৎবাঁধা গল্পের নাটকে অভিনয় করি। সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসা গল্পের নাটক এটি। আমি নাটকে নাম ভূমিকায় অভিনয় করছি। খুব ভালো লাগছে কাজটি করতে।’ নাটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন মৌটুসী বিশ্বাস।

স্পেন হারল ইংল্যান্ডে

ছেলে পিয়েরফিলিপ্পোর বিয়ে আর স্পেনের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচটা পড়ে গেল একই দিনে। বাবা ফ্যাবিও ক্যাপেলো খেলাটাকেই বেছে নিলেন পেশার টানে। তাই পরশু ইতালির মিলানে যখন বাজছিল ছেলে পিয়েরফিলিপ্পোর বিয়ের সানাই, ইংল্যান্ড কোচ ক্যাপেলো ব্যস্ত ওয়েম্বলির ডাগ-আউটে।
তবে ছেলের বিয়েতে উপস্থিত থাকতে না পারার কষ্টটা হয়তো এই রাতে ভুলেই গেছেন ক্যাপেলো। ইংল্যান্ড যে প্রীতি ম্যাচে হারিয়ে দিয়েছে বিশ্ব ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে। জয় এসেছে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের একমাত্র গোলে।
ছেলের বিয়ের একটু আমেজ যেন তাই ৬৫ বছর বয়সী ক্যাপেলো টেনে এনেছিলেন ওয়েম্বলির কোলাহলপূর্ণ স্টেডিয়ামেও। ডাগ-আউটে এসেছিলেন গায়ে দামি সুগন্ধি মেখে। সেই সুগন্ধির সঙ্গে জয়ের সুবাস মিশে ম্যাচ শেষে যেন পুরো ওয়েম্বলিই ভাসছিল আনন্দের মৌতাতে।
কয়েক বছর ধরেই অন্যগ্রহের ফুটবল খেলতে থাকা স্পেন প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়েও তাদের খেলাটাই খেলেছে। পাসিং ফুটবলের পসরা সাজিয়ে পুরো সময়েই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ করে স্প্যানিশরা। শুধু গোলটাই তারা করতে পারেনি। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে হেড করে স্পেনের পোস্টে বল পাঠিয়ে দেন ল্যাম্পার্ড।
গত ৩১ বছরে ডিফেন্ডিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন কোনো দলের বিপক্ষে এটাই ইংল্যান্ডের প্রথম জয়। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ইংল্যান্ড সর্বশেষ জিতেছিল ১৯৮০ সালে, এই ওয়েম্বলিতেই ১৯৭৮-এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। তরুণ ম্যারাডোনাও ছিলেন সেই দলে। ক্যাপেলো কোচ হওয়ার পর ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর কোনো দলের বিপক্ষে এটা ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় জয়, আর স্পেনের বিপক্ষে ১০ বছর পর। ওয়েম্বলির কথা বললে, স্পেনের বিপক্ষে জয়টা ৪৩ বছর পর। এখানে স্পেনকে সর্বশেষ তারা হারিয়েছিল ১৯৬৮ সালে।
ম্যাচ শেষে ক্যাপেলো ছিলেন উচ্ছ্বসিত, ‘ছেলের বিয়ে এবং ইংল্যান্ডের জয়, সত্যিই এটা আমার জন্য অসাধারণ এক মুহূর্ত।’ জয়ের কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন তরুণ খেলোয়াড়দের। নিয়মিত অধিনায়ক জন টেরি চোটের কারণে খেলতে পারেননি। অধিনায়কের বাহুবন্ধনী পরেন চেলসি তারকা ল্যাম্পার্ড। আর অধিনায়কই জিতিয়েছেন দলকে। ইংল্যান্ডের পক্ষে এটি তাঁর ২৩তম গোল। তাঁর কথা, ‘এই রাতটি আমি কখনোই ভুলব না। আমি হয়তো শেষবারের মতো ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব করলাম। কিন্তু ওয়েম্বলিতে যা করেছি এরপর এটা নিয়ে আমার আর কোনো দুঃখ নেই।’
এই ম্যাচ দিয়েই আন্দোনি জুবিজারেতার স্পেনের পক্ষে সর্বোচ্চ ১২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস। কিন্তু রেকর্ড ছোঁয়ার রাতে ক্যাসিয়াসকে ছুঁল হতাশা, ‘খুবই খারাপ লাগছে যে আমরা জিততে পারিনি।’ কোচ দেল বস্কের কণ্ঠেও হতাশা, ‘আমি হতাশ এবং খারাপ লাগছে যে আমরা জিততে পারিনি। কিন্তু আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে আমি খুশি।’

পাপাদেমোসের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রিকের সমর্থন

গ্রিসের নতুন প্রধানমন্ত্রী লুকাস পাপাদেমোসের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রিকদের সমর্থন রয়েছে। গতকাল রোববার দুটি পত্রিকায় প্রকাশিত জনমত জরিপের ফলাফলে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গ্রিসের ঐকমত্যের সরকারকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গত সপ্তাহে পাপাদেমোসকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
পাবলিক ইনস্টিটিউটের পরিচালিত একটি জনমত জরিপে এক হাজার ২০০ জন অংশ নেয়। এ জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ৫৫ শতাংশ গ্রিক নতুন প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন দিয়েছে। ১৮ শতাংশ পাপাদেমোস সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেছে।
কাপা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালিত আরেকটি জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ গ্রিক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাপাদেমোসের নিয়োগ সঠিক বলে মত দিয়েছে।