Friday, August 10, 2018

সিলেটে শিল্পী সোনিয়ার মৃত্যু নিয়ে ‘রহস্য’ by ওয়েছ খছরু

সিলেটের বাউল শিল্পী সোনিয়া সুলতানার মৃত্যু নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে। সোনিয়া নিজে পেট্রোল ঢেলে শরীরে আগুন দিয়েছে, নাকি অন্য কেউ তার শরীরে আগুন দিয়েছে সেটি অজানাই থেকে যাচ্ছে। এদিকে- সোনিয়ার লাশ পুলিশকে না জানিয়ে গোপনে দাফন করা হয়েছে। সোনিয়ার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আফসোস করছেন পরিচিতজনরা। সবাই এ মৃত্যুকেও ‘রহস্যময়’ মৃত্যু মনে করছেন। এদিকে- সোনিয়ার স্বামী কিংবা পিতার পরিবার ঘটনার পর থেকে মুখবন্ধ করে আছেন। তারাও সোনিয়ার রহস্যময় মৃত্যুর ব্যাপারে পুলিশকে অবগত করেননি। আর এখন তারা কোনো ঝামেলাও চাচ্ছেন না। সোনিয়া সুলতানা সিলেটের বাউল  শিল্পী। স্টেইজ পোগ্রাম করেছেন বেশি। সিলেটে পরিচিতি রয়েছে তার। সোনিয়ার বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া আলীনগর গ্রামে। বাবা মো. মজিবুর রহমান পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক। তারা বসবাস করছেন নগরীর সুবিদবাজার এলাকায়। সোনিয়ার বর্তমান স্বামী সাহেদুল ইসলাম শিপলু। সে নগরীর ছরারপাড়ে সুগন্ধা ১২নং বাসার বাসিন্দা। তার পিতা শামসুল আলম ডিসকো ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তিনি রাজনীতিও করেন। পারিবারিক সূত্র জানায়- চলতি বছরের ১১ই ফেব্রুয়ারি সিলেটের আদালতে বিয়ে করেন সাহেদুল ইসলাম শিপলু ও সোনিয়া সুলতানা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ফেসবুকে সম্পর্কের সূত্র ধরে পরিচয় হয়। বিয়ের পর পরিবারকে না জানিয়েই তারা সুবিদবাজার এক্সেল টাওয়ার সংলগ্ন টিনশেড বাসায় গোপনে সংসার করে আসছিলেন। পারিবারিক সূত্র জানায়- সোনিয়ার পরিবার বিয়ের বিষয়টি জানলেও শিপলুর পরিবার জানতো না। যখন বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হয় তখন শিপলুর পরিবার তাতে আপত্তি তুলেন। এদিকে- শিপলুর আগেও সোনিয়া আরো তিন পুরুষের ঘরনি হয়েছিলেন। প্রথম স্বামী পাঠানটুলা এলাকার মোহনা ১৬নং বাসার মদই মিয়ার পুত্র কালামের ঔরসে তার এক সন্তানও রয়েছে। ওই সন্তান বর্তমানে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। এ ছাড়া- ছাতকের জাউয়াবাজার এলাকার এক ছেলের সঙ্গেও তার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ে হলেও সোনিয়া ছিল বেপরোয়া। বাউল গান ও স্টেজ শোর বদৌলতে অনেকের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। এই বেপরোয়া জীবনের কারণে কোনো স্বামীর সঙ্গে সংসার টিকেনি। প্রায় মাস খানেক আগেও সোনিয়া কয়েকজন ধনাঢ্য ব্যক্তির সঙ্গে ভারত সফরে গিয়েছিল। এ কারণে স্বামী শিপলুর সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। গেলো ১৫ দিন ধরে শিপলুর সঙ্গে তার বনিবনা হচ্ছিল না। এ কারণে শিপলু সোনিয়ার সঙ্গ ছেড়ে নিজ বাসা ছরারপাড়ে অবস্থান নেয়। গত ২৬শে জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ সোনিয়া ছরারপাড়ের বাসায় এসে উপস্থিত হয়। এ সময় দরোজা খুলে শিপলু দেখেন- সোনিয়া তার বাসায় এসে হাজির। শিপলু জানিয়েছেন- ‘দরজা খুললে তাকে দেখতে পেয়ে আমি বলি তুমি এখানে কেন এসেছো। সে বলে তুমি বাসায় আসবে না। আমি জবাব দিই তুমি বাসায় যাও, নিজে ঠিক হও তারপর আসবো। এই কথা বলে দরজা বন্ধ করে দিই।’ এর কিছুক্ষণের মধ্যে দরজার বাইরে হঠাৎ চিৎকার শুনতে পেয়ে দরজা খুলে দেখি তিন তলা বাসার ২য় তলার সিঁড়িতে সোনিয়ার শরীরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সঙ্গে সঙ্গে নেভাতে গিয়ে নিজের হাত দগ্ধ হয় বলে জানান শিপলু। এরপর জ্বলন্ত সোনিয়াকে নিয়ে তিনি সিলেট ওসমানী হাসপাতালে যান। এ সময় সোনিয়ার বোন প্রিয়াও সঙ্গে ছিল। ঘটনার দিন রাতেই সোনিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে- ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা গ্রহণের পর ৪ঠা আগস্ট সোনিয়াকে নিয়ে তার স্বামী ও পিতা সিলেটের পথে রওনা হন। পথিমধ্যে সোনিয়া মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এরপর বিষয়টি কাউকে না জানিয়েই লাশ দাফন করা হয়েছে। এদিকে- সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসি মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন- বিষয়টি জানার পর পুলিশ স্ব-উদ্যোগী হয়ে মেয়ের পিতার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং অভিযোগ দাখিলের কথা বলে। কিন্তু মেয়ের পিতা অভিযোগ দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। এরপরও কোনো অভিযোগ এলে পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে কেন ইহুদিবাদী ইসরাইলের ধ্বংস অনিবার্য?

গবেষক ও বিশ্লেষকদের অনেককেই বলছেন, ইহুদি-বর্ণবাদভিত্তিক দখলদার জারজ রাষ্ট্র ইহুদিবাদী ইসরাইলের পতন বা ধ্বংস অনিবার্য। বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের এই মতের পক্ষে কিছু প্রামাণ্য ও অকাট্য যুক্তি তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বিশ্লেষক ও বিশিষ্ট গবেষক জনাব মুনীর হুসাইন খান। বিশ্ব-কুদস দিবসের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি তিনি এইসব অভিমত তুলে ধরেছেন রেডিও তেহরানের কাছে।
ফিলিস্তিন এবং আল-কুদস হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর প্রধান বা সর্ববৃহৎ সমস্যা এবং উম্মুল মাসায়েল অর্থাৎ সকল সমস্যার মূল। কারণ, এই সমস্যার সঠিক ও  সুষ্ঠু সমাধান হলে মুসলিম উম্মাহ এবং ইসলামী বিশ্বের বাকি সব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হওয়া সম্ভব। আজ ৭০ বছর গত হয়ে যাওয়ার পরেও ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান হয়নি। আর তাই কাশ্মির, মরো, পাত্তানি, চেচনিয়া, কারাবাগ, উইঘুর (পূর্ব তুর্কিস্তান)সহ  মুসলিম উম্মাহর কোনো একটি সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হচ্ছে না এবং হবেও না।
ফিলিস্তিন ও আল-কুদস সমস্যার ঠিক তখনই সঠিক, সুষ্ঠু ও ন্যায্য  সমাধান হবে যখন মুসলিম বিশ্ব ভেতর থেকে শক্তিশালী হবে এবং মুসলিম উম্মাহর এ সর্ববৃহৎ সমস্যা সমাধানের জন্য পর্যাপ্ত শক্তি ও জোর প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে। আর তা সম্ভব হলে মুসলিম উম্মাহ কাশ্মীর, মিন্দানাও, পাত্তানি ও রোহিঙ্গা সমস্যার  মতো দীর্ঘ বহু যুগের পুরনো সমস্যাগুলো একের পর এক সমাধান করতে পারবে শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে থাকার কারণে। তাই ফিলিস্তিন সমস্যার ন্যায্য ও সুষ্ঠু সমাধান মুসলিম উম্মাহকে নিঃসন্দেহে শক্তিশালী করবে এবং ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর দুশমনদেরকে করবে ভীত-সন্ত্রস্ত, দুর্বল ও হতভম্ব।
২০০৬ সালে ৩৩ দিনের যুদ্ধে হিজবুল্লাহর হাতে ধ্বংস হওয়া ইসরাইলি ট্যাংক
ফিলিস্তিন ভূখণ্ড জবর দখল করা হয়েছে অন্যায়ভাবে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে , সন্ত্রাসের মাধ্যমে এবং ফিলিস্তিনিদের গণহত্যা ও তাদের  মাঝে ভয় ও ত্রাস সৃষ্টি করে  তাদেরকে তাদের পৈতৃক ভিটামাটি ও বাসা–বাড়ী থেকে উচ্ছেদ ও বহিষ্কার করার মাধ্যমে। যে অবৈধ তথা জারজ রাষ্ট্র (হারামজাদা) ইসরাইলের গোড়া-পত্তন হয়েছে গণহত্যা,লুণ্ঠন, উচ্ছেদ, ভূমি জবর-দখলের মধ্য দিয়ে সেই ইসরাইল কেবল শক্তির ভাষাই বোঝে। তার সাথে শান্তি আলোচনা বৃথা সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নয়। চোরা না শোনে ধর্মের বাণী।
এই দস্যু, লুটেরা ও সন্ত্রাসী ইসরাইল ন্যায়-নীতির ধার ধারে না। আসলে ইসরাইল এবং এব় অবৈধ জন্মদাত্রী ব্রিটেন, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা পাশ্চাত্যের কাছে অধিকার, ন্যায়, মানবতা ও নৈতিক মূল্যবোধের কার্যত: কোনো মূল্য নেই। এগুলোর প্রতি এদের কোনো বিশ্বাসও নেই। এদের কাছে যে জিনিসটির মূল্য রয়েছে তা হচ্ছে অর্থ, বিত্ত, স্বার্থ ও ভোগবিলাস এবং বৈধা-বৈধ যে কোনো পন্থায় তা অর্জন করতে এরা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না। বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তিও এদের কাছে অসার ও মূল্যহীন। তাই শক্তির ভাষায় এব়া ডায়ালগ করে এবং এদের সাথে আলোচনাও শক্তির ভাষাতেই করতে হয়।
ইসরাইল ও পাশ্চাত্যের সাথে আরবদের তথাকথিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনাকে অনেকটা হিংস্র মাংস-খেকো নেকড়ের সাথে নিরীহ গোবেচারা ভেড়া ও মেষের সংলাপ বলা যায়। ফিলিস্তিন সমস্যার নিষ্পত্তি ও সমাধানের নামে এ আলোচনার প্রহসন চললেও নেকড়ের তীক্ষ্ণ চোখা বড় বড় দাঁত দেখেই ভয়ে মেষের প্রাণখানা যেমন নিমিষে পানি হয়ে যায় ঠিক তেমন দশাই হচ্ছে আরব রাজা ও শাসকদের।  ইসরাইল ও পাশ্চাত্যের হুংকার ও চোখ রাঙ্গানিতেই এদের প্রাণবায়ু ভয়ে বের হয়ে যেতে চায়। তাই আরব রাজা-বাদশাহ এবং ডিক্টেটর তথা একনায়ক শাসকরা ফিলিস্তিনের বিনিময় ইসরাইল  ও পাশ্চাত্যের সাথে সন্ধি করে গুটিকয়েক দিন নির্ঝঞ্ঝাটে মসনদে টিকে থাকার স্বপ্ন দেখছে। দেশের তেল সম্পদ ও সবকিছু তুলে দিয়ে পাশ্চাত্য ও ইসরাইলের দয়া-দাক্ষিণ্যে ও প্রোটেকশনে থেকে  রাজত্ব করাটাই হচ্ছে এ সব আরব শাসক ও রাজা-বাদশাহ’র একমাত্র ব্রত। এদের কাছে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করা এবং মজলুম ফিলিস্তিনি জনগণের হৃত অধিকার পুনরুদ্ধারের  সংগ্রাম একদম অর্থহীন।
সৌদি আরব, আরব আমিরাত, জর্দান ও মিসরের মত দেশগুলোর  প্রতিক্রিয়াশীল আরব সরকারগুলোও তাদের প্রভু ইসরাইল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতোই  ইসরাইল ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ফিলিস্তিনি  প্রতিরোধ আন্দোলন ও সংগ্রামকে ধ্বংস করতে চায়। তাই ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত তিন ইসরাইল-গাজা যুদ্ধে আরব প্রতিক্রিয়াশীল শাসক ও রাজা-বাদশাহরাও পাশ্চাত্যের পাশাপাশি ইসরাইলকে সর্বাত্মক সমর্থন ও সহায়তা দিয়েছে। ২০০৭ থেকে অদ্যাবধি প্রায় ১১ বছর ধরে ইসরাইল একতরফাভাবে জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে গাজার উপর সর্বাত্মক প্রাণান্তকর অমানবিক অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। অথচ আরব রাজা-বাদশাহ ও শাসক-চক্র এই অন্যায় অন্যায্য অররোধের বিরুদ্ধে মুখ খুলছে না এবং অতীতেও এর কোন প্রতিবাদ ও আপত্তি করে নি বরং  তারা এ অবরোধেও ইসরাইলের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গাজার মজলুম ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সক্রিয়।
গাজায় ইসরাইল আরোপিত অবরোধ ভাঙ্গা নিয়ে তুরস্ক কিছু নাটক ও লোক দেখানো উদ্যোগ গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে নিজেকে। অথচ দরকার ও উচিৎ ছিল ইসরাইলের সাথে তুরস্কের সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা। ফ্লোটিলার ঘটনার পর তুরস্ক ইসরাইল থেকে কেবল  নিজ রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছিল। ২০০৯-এ  প্রথম ইসরাই-গাজা যুদ্ধে আগ্রাসী ইসরাইল শত শত নিরীহ ফিলিস্তিনি নারী পুরুষ ও শিশুকে নির্বিচার বোমা বর্ষণের মাধ্যমে হত্যা করে। এর প্রতিবাদে ঐ বছর সুইজারল্যান্ডের ড্যাভোসে ইসরাইলী প্রেসিডেন্ট শিমোন পেরেজকে গাজায় গণহত্যাকারী ও ফিলিস্তিনি শিশুদের  ঘাতক বলে আখ্যায়িত করে কনফারেন্স হল ত্যাগ করেছিলেন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী এরদোগান।
কিন্তু তুরস্ক কখনোই ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেনি বরং তুরস্ক হচ্ছে ইসরাইলের সিমেন্ট ও নির্মাণ সামগ্রীর প্রধান যোগান দাতা এবং বিগত ১৭ বছর ধরে ইসরাইলে সিমেন্ট ও নির্মাণ সামগ্রী রপ্তানি করছে। অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনে ( ইসরাইল ) ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে তাদের ভূমি জবর দখল করে ইসরাইল যেসব অবৈধ ইসরাইলি-বসতি বানাচ্ছে ও নিত্য-নতুন আবাসন নির্মাণ করছে সেসব নির্মাণ কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে তুর্কি সিমেন্ট ও নানা ধরনের নির্মাণ সামগ্রী।
মিসরতো বহু বছর আগেই এবং জর্দান ও মরক্কোও বেশ কয়েক বছর ধব়ে ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছে। তিউনিসিয়াও (তিউনিসীয় সরকারে ইখওয়ানুল মুসলিমিনের সাথে সংশ্লিষ্ট ইসলামী আল-নাহদা পার্টির অংশীদারিত্ব থাকা সত্ত্বেও!) ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে। এদিকে আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইন ইতোমধ্যে ইসরাইলের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক চালু করেছে এবং সৌদি আরব ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক, সামরিক, নিরাপত্তা-প্রতিরক্ষা, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক চালু করার লক্ষ্যে প্রায় প্রকাশ্যে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যোগাযোগ করে যাচ্ছে তেলআবিবের সাথে।
ওদিকে সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার সাথেও ইসরাইলের সীমিত কূটনৈতিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। আজারবাইজানসহ সদ্য স্বাধীনতা-প্রাপ্ত মধ্য এশিয় মুসলিম দেশগুলোরও ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। কেবল ইরানসহ বেশ কিছু মুসলিম দেশের সাথে ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে সৌদি আরবের সাথে ইসরাইলের আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু হলে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও মালয়েশিয়ার মতো কিছু মুসলিম দেশও হয়তো ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নিতে পারে।
আমরা একদিকে দেখতে পাচ্ছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বে ইসরাইলকে বৈরী শত্রু হিসেবে নয় বরং বন্ধু দেশ হিসেবে মানিয়ে নেওয়ার জন্য জোরে সোরে চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং এ প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছে সৌদি আরব ও পারস্যোপসাগরীয় রাজশাসিত আরব দেশগুলো। আবার অন্যদিকে ইরানের নেতৃত্বে হামাস, ফিলিস্তিনের ইসলামী জিহাদ, পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনের মতো ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো, লেবাননি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ, সিরিয়া ও ইরাককে নিয়ে গড়ে ওঠা প্রতিরোধ অক্ষ ( মিহওয়ারুল  মুকাওয়ামাহ) প্রতিরোধ ও সংগ্রামের মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে  ইসরাইলের দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আর এভাবে ফিলিস্তিনিদের হৃত অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা আজ বাস্তব পরিণতি ও পূর্ণতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
আজ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে  ইসরাইল বেশি ভঙ্গুর, ক্লান্ত, দুর্বল, আভ্যন্তরীণ বিক্ষিপ্ততা, বিশৃঙ্খলা ও এলোমেলো অবস্থার শিকার। ৪০ - ৫০ বছর আগেকার অপরাজেয় ইসরাইলের মিথ্ আজ আর নেই । ইসরাইল এখন আর ফিলিস্তিনি জনগণ ও প্রতিরোধ সংগ্রামীদের কাছে মোটেও অপরাজেয় শক্তি বলে গণ্য হয় না। বিশেষ করে গত বিংশ শতকের ‘৮০-‘৯০’র দশকে অধিকৃত ফিলিস্তিনে (ইসরাইল) প্রথম ইন্তিফাদা এবং একবিংশ শতকের শুরুতে ২য় ইন্তিফাদা ও দীর্ঘ ১৮ বছরের হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব পরিচালিত দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলী দখলদারিত্ব বিরোধী প্রতিরোধ যুদ্ধে তথাকথিত মহাশক্তিধর ইসরাইলী প্রতিরক্ষা বাহিনীর  (IDF) পরাজয়ের পরিণতিতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলের নিঃশর্ত সৈন্য প্রত্যাহার  এবং সে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপর দীর্ঘ ১৮ বছরের (১৯৮২- ২০০০) ইসরাইলী দখলদারিত্বের অবসান, ২০০৬ সালে হিজবুল্লা-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইলের ব্যর্থতা ও পরাজয়, ২০০৯-২০১৪ সালেও তিন তিনটা ইসরাই- গাজা যুদ্ধে ইসরাইলের ব্যর্থতা ও পরাজয়ের পর ইসরাইলের অপরাজেয় থাকার রূপকথাতুল্য খ্যাতি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। তাই ইসরাইলের এইসব মহা-ব্যর্থতা ও পরাজয়ের পর অপরাজেয় শব্দটি আর ইসরাইলের পাশে লাগানো হয় না।
৩০ –৪০ বছর আগেও বা এর আগের যুদ্ধগুলোতে কোন আরব দেশই  ইসরাইলের ভেতরে যুদ্ধ স্থানান্তরিত করতে সক্ষম হয়নি। সে সময় ইসরাইলের ইচ্ছায় যুদ্ধ সমাপ্ত হতো। কিন্তু ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর সে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। ২০০৬ সালে ইসরাইল–হিজবুল্লাহ যুদ্ধে হিজবুল্লাহ সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে ইসরাইল-আরব যুদ্ধের ইতিহাসে এই প্রথমবার ইসরাইলের ভেতরে যুদ্ধ স্থানান্তরিত হয়। ইসরাইলি দখলদার নাগরিকরা সেবারই প্রথম যুদ্ধের স্বাদ আস্বাদন করে। সে সময় হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বাঁচার জন্য সমগ্র উত্তর ইসরাইলের অধিবাসীদের এক বিরাট অংশ বাংকার ও আশ্রয় কেন্দ্রগুলোয় এবং বিরাট সংখ্যক অধিবাসী  তেল আবিব ও নেগেভ মরু অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছিল।  এ ছাড়াও কয়েক লক্ষ ইসরাইলী প্রাণভয়ে বিদেশে চলে গিয়েছিল।
শুধু তাই নয়, ইসরাইল-গাজা যুদ্ধগুলোতেও মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা আয়রন ডোম থাকা সত্ত্বেও গাজা থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ধ্বংসযজ্ঞ থেকে অক্ষত থাকতে পারেনি ইসরাইলী জনগণ। ফলে ইসরাইলী জনগণের মাঝে ইসরাইলের ভবিষ্যৎ নিয়ে মারাত্মক আতঙ্ক এবং  অনিশ্চয়তাবোধ তৈরি হয়েছে যা অতীতে আর কখনও দেখা যায়নি। কারণ, ইসলামী বিপ্লবের পর ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগ্রাম ও আন্দোলনগুলো ইরানের মতো সত্যিকার পৃষ্ঠপোষক ও সাহায্যকারী পেয়েছে এবং সেই সাথে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছে লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহকে যা হচ্ছে আসলে ইসলামী বিপ্লবের প্রত্যক্ষ ফল এবং এ বিপ্লবেরই মানস সন্তান।
সিরিয় প্রশাসন ইসলামী বিপ্লবের আগ থেকেই ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন ও সংগ্রামী দলগুলোর পৃষ্ঠপোষক ছিল। কিন্তু ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পর সিরিয়ার সাথে বিপ্লবী ইরানের প্রত্যক্ষ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সহযোগিতার সুবাদে সিরিয়া  ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগ্রাম ও আন্দোলনকে আরও ব্যাপক পরিসরে সহায়তা ও সহযোগিতার সুযোগ পায়। ফলে এ অঞ্চলে ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রাম ও আন্দোলন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়েছে।
ইসলামী ও ফিলিস্তিনি স্বার্থ বিকিয়ে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক-করণ এবং শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি সম্পাদন এবং ইসরাইলকে স্বীকৃতি প্রদান তথা কথিত 'টু-নেশন' বা দুই জাতি-তত্ত্বের ভিত্তিতে দুই-দেশ সৃষ্টির নামে ইসরাইলকে মেনে নিয়ে ফিলিস্তিনের খুবই অল্প কিছু ভূখণ্ডে তথাকথিত স্বাধীন  ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে যেসব ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী এবং আরব রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের সাথে আপোষ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তারাও  দিন দিন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। ফিলিস্তিনি জনগণের কাছে তারা ধিক্কৃত হয়েছে ও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।
আসলে ইসরাইল এখন অনেক দুর্বল ও অনিরাপদ এবং এ কারণে স্বাভাবিকভাবে ইসরাইলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন বহু ইসরাইলি নাগরিক উদ্বিগ্ন ও সন্দিহান। শুধু তাই নয়, ভেতর থেকেই ইসরাইলের ধ্বসে-পড়া এবং ধ্বংস ও বিলীন হওয়ার কথা ইসরাইলের পৃষ্ঠপোষকদের কণ্ঠেও ধ্বনিত হচ্ছে। ২০১৩ সালের  ১২ মার্চ Holiday পত্রিকায় মার্কিন লেখক Kevin Barrett প্রণীত 'Kissinger, US intelligence endorse a world without Israel' – এ প্রবন্ধে বলা হয়েছে: কতিপয় সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশ, প্রাক্তন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ হেনরি কিসিঞ্জার এবং আরও ষোলটি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা একমত প্রকাশ করেছেন যে অতি নিকট ভবিষ্যতে ইসরাইল আর টিকে থাকবে না।
‘নিউইয়র্ক পোস্ট’ কিসিঞ্জারের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছে: দশ বছরের মধ্যে ইসরাইল আর থাকবে না। অর্থাৎ কিসিঞ্জারের মতে ২০২২ সালে ইসরাইল আর বিদ্যমান থাকবে না। কিসিঞ্জারের মতো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যদিও নির্দিষ্ট করে সময়-সীমার কথা উল্লেখ করেনি কিন্তু তারা ( ১৬ টি গোয়েন্দা সংস্থা ) ৮২ পৃষ্ঠার একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে এ শিরোনামে:  একটি ইসরাইলোত্তর মধ্যপ্রাচ্যের জন্য প্রস্তুতি ( Preparing for a Post-Israel Middle East ) ( http: www.foreignpolicyjournal.com/ 2012/08/28/ us-preparing- for- a – post – Israel – middle – east/ )
১৬ টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা একমত যে, ইসরাইল আরব বসন্ত, ইসলামী জাগরণ এবং  ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের উত্থানের সমম্বয়ে গঠিত ফিলিস্তিনপন্থী  ভবিষ্যৎ ভয়ংকর প্রলয়ঙ্করী শক্তিকে  মোকাবেলা  ও প্রতিহত করতে পারবে না। ( The sixteen US intelligence agencies agree that Israel cannot withstand the coming pro-Palestinian juggernaut consisting of the Arab Spring , the Islamic Awakening and the rise of the Islamic Republic of Iran.)
ইরানের  ইসলামী বিপ্লবের মহান নেতা আয়াতুল্লাহ আল-উযমা ইমাম খামেনেয়ী  ২০১৬ সালে বলেছিলেন: আগামী ২৫ বছরের মধ্যে ইসরাইলের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।  এ ছাড়া তিনি আরও বলেছেন: ইসরাইল যদি (ইরানকে আক্রমণ করার মতো ) কোনো ভুল বা অন্যায় করে বসে তাহলে আমরা তেল আবিব এবং হাইফা নগরীকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেব।
২০০৭ সালের ১২ ডিসেম্বরে ইসরাইলী  সংবাদপত্র ইয়েদিঔত আহারোনৌত ynet news.com/ opinion : Gabi Sheffer-প্রণীত 'We won’t win in Gaza' তথা 'আমরা গাজায় কখনো জিততে পারব না' শীর্ষক প্রবন্ধও এ প্রসঙ্গে লক্ষণীয়। এতে বলা হয়েছে:
IDF hasn’t won a war in 30 years ; noting that Gaza reoccupation will lead to a  victory false. -অর্থাৎ আইডিএফ তথা ইসরাইলী প্রতিরক্ষা বাহিনী গত ৩০ বছরে একটি যুদ্ধেও জেতেনি। বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য যে গাজা পুনর্দখল করা হলে তা যুদ্ধ জেতার মতো এক  অলীক ( মিথ্যা) ধারণার দিকে পরিচালিত করবে।
এ থেকে প্রমাণিত হয় যে ইসরাইল ২০০০ সালে হিজবুল্লাহর হাতে চরম মার খেয়ে দক্ষিণ লেবানন ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল এবং  ২০০৬ সালের ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধে জিততে পারেনি।  লক্ষণীয় যে , ইসরাইল ২০০৯ থেকে  ২০১৪ পর্যন্ত তিন বার গাজা আক্রমণ করে পরাজিত ও ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যাপারে ইসরাইলী প্রবন্ধকার গাবি শেফার ২০০৭ সালের ১২ ডিসেম্বরেই (উপরোক্ত প্রবন্ধে) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে 'আমরা কখনো গাজায় জিততে পারব না' এবং বাস্তবে তা সত্যও হয়েছে।
তাই এটা স্পষ্ট ইসরাইল এখন  ইরান আক্রমণ ও সেদেশের বিরুদ্ধ যুদ্ধ করা তো দূরের কথা গাজা, লেবানন বা সিরিয়া আক্রমণ করে যুদ্ধ বাঁধিয়ে কোনো সুবিধা অর্জন করতে  এবং যুদ্ধে জিততে পারবে না। ইসরাইলের যুদ্ধে জেতার দিন পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। ইসরাইল যুদ্ধ বাধালে সে যুদ্ধ তার ইচ্ছায় শেষ হবে না। আর যুদ্ধ যদি প্রলম্বিত ও দীর্ঘায়ত হয় তাহলে ইসরাইল ভয়াবহ ও অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হবে এবং তা ইসরাইলের অস্তিত্বকেই করবে হুমকিগ্রস্ত।
ভুয়া আরব বসন্তের ধুয়ো তুলে  ইঙ্গ-মার্কিন- ইউরোপীয় – ইসরাইলী– সৌদি–আমিরাতি তথা অশুভ খবিস-ইবলিসি-শয়তানী অক্ষের মদদপুষ্ট ওয়াহহাবী –তাকফীরী – সালাফী-সন্ত্রাসী জঙ্গি-গোষ্ঠী ও দলগুলো দিয়ে  ৭ বছর ধরে সিরিয়ায়   ইসরাইল বিরোধী  প্রতিরোধ-সংগ্রামী-অক্ষের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে যে রক্তক্ষয়ী ধ্বংসাত্মক গৃহযুদ্ধ চালানো হচ্ছে  আসলে তা হচ্ছে এ গুরুত্বপূর্ণ দেশ সিরিয়া এবং ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ-সংগ্রামী-অক্ষের পতন ঘটিয়ে  পতন্মুখ ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ধ্বংস ও পতনের হাত থেকে দেশটিকে রক্ষা করা। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য সফল হয় নি। ওয়াহহাবী – তাকফীরী – সালাফী সন্ত্রাসী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রামী অক্ষের হিজবুল্লাহ এবং ইরান সক্রিয়ভাবে সিরিয় সরকারকে সহায়তা দিচ্ছে এবং রাশিয়াও গত দুবছর ধরে এ অক্ষের সাথে সক্রিয় সহযোগিতা করছে। এখন ইঙ্গ  - মার্কিন – ইউরোপীয় –ইসরাইলী – সৌদি -আমিরাতি অশুভ-খবিস –ইবলিসি অক্ষের মদদপুষ্ট ওয়াহহাবী– তাকফীরী – সালাফী সন্ত্রাসী জঙ্গি মালঊন নরপশুগুলো একের পর এক রণাঙ্গনে সিরিয় সেনাবাহিনী,মিত্র হিজবুল্লাহ এবং প্রতিরোধকারী গণবাহিনীর হাতে পরাজয় বরণ করে চলেছে যার ফলে ইসরাইল ও উক্ত খবিস-ইবলিসি অক্ষটি ব্যাপকভাবে উদ্বিগ্ন ও শংকাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং এর অর্থ হচ্ছে যে একদিকে যেমন ইসরাইলের মৃত্যু-ঘণ্টা বেজে উঠেছে ঠিক তেমনি অন্যদিকে মুসলিম বিশ্বে প্রতিরোধ সংগ্রাম শক্তিশালী হয়েছে এবং হচ্ছে। অর্থাৎ  ইসলামের দুশমনদের মোকাবেলায় মুসলিম উম্মাহর ক্ষমতায়ন ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে যদিও  এ ক্ষমতা ও শক্তি অর্জনের পথে মুসলিম বিশ্বকে বিশেষ করে সিরিয়া, ইরাক,লেবানন, ইরান, ইয়েমেন, আফগানিস্তান,পাকিস্তান,নাইজেরিয়া ও ফিলিস্তিনের  জনগণকে বহু প্রাণ উৎসর্গ করতে এবং অনেক রক্ত দিতে হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে গত কয়েকমাস আগে জেরুজালেমকে (আল-কুদস বা বাইতুল মুকাদ্দাস) ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মার্কিন দূতাবাসও তেল-আবিব থেকে সেখানে ( আল- কুদস-এ) স্থানান্তরিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও আসলে  মৃত্যু-পথযাত্রী ও  পতন্মুখ ইসরাইলকে অন্তিম লগ্নে কিছুটা চাঙ্গা দেখানোর জন্য এ কাজটা করে থাকতে পারে। তা না হলে সমগ্র বিশ্বব্যাপী এ কাজের জন্য নিন্দা কুড়িয়েও কেন যুক্তরাষ্ট্র তা করতে গেলো?!! আর এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গাজা ও  জেরুজালেমসহ সমগ্র ফিলিস্তিনি অঞ্চল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে ফেটে পড়ে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফিলিস্তিনি ইসরাইলী সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শহীদ এবং বেশ কিছু সংখ্যক ফিলিস্তিনি আহত হন  যার জের আজ পর্যন্ত চলছে। আর এ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের পরবর্তী উর্ধ্বতর পর্যায় হচ্ছে  নাকবাহ দিবসকে সামনে রেখে বিদেশে এবং ইসরাইলের ভেতরে  ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের নিজ  ভিটামাটি ও জন্মভূমিতে প্রত্যাবর্তনের অধিকার পালনের জন্য বিক্ষোভ-মিছিলের কর্মসূচি।   ১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের সবুজ সংকেত পেয়ে ইসরাইলী যায়নবাদী সন্ত্রাসী দল ও গোষ্ঠীগুলো গণহত্যা ও ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে বাড়ী-ঘর ও মাতৃভূমি থেকে নিরীহ নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি জনগণকে উচ্ছেদ ও বহিষ্কার করেছিল। ওই দিবস যা ‘নাকবাহ বা বিপর্যয় দিবস’ হিসেবে খ্যাত, তারই স্মরণে গাজাবাসীরা গাজা-ইসরাইল সীমান্তে ১১ সপ্তাহ ধরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ পালন করে।   ১১ সপ্তাহ’র শান্তিপূর্ণ ওই বিক্ষোভ মিছিলে ইসরাইলী স্নাইপারদের গুলিতে ১৩০ জনেরও বেশি গাজাবাসী শহীদ  এবং ৩০০০-জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এ থেকে বোঝা যায় যে ইসরাইল পাগলা কুকুরের মত ক্ষিপ্ত।  আর এ ধরণের ক্ষ্যাপা পাগলা কুকুরকে বধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। রমজান মাসেও প্রতিদিন গাজাবাসীদের এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অব্যাহত ছিল।
গত রমজানের শেষ শুক্রবার বা জুমআতুল বিদায় পালন করা হয়েছে ৪০তম বিশ্ব-আল-কুদস দিবস। ইরানের ইসলামী বিপ্লবের স্থপতি এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনী (র) বিপ্লব বিজয়ের পর ১৯৭৯ সালে ফিলিস্তিন ও মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-কুদসকে মুক্ত করার লক্ষ্যে পবিত্র রমযান মাসের শেষ শুক্রবারকে বিশ্ব আল-কুদস দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। ইমাম খোমেনীর এ ঘোষণা তখন নিদ্রাচ্ছন্ন  মুসলিম বিশ্বে জাগরণ   এবং হতোদ্যম ফিলিস্তিনি মুক্তি ও প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোকে প্রতিরোধ  সংগ্রামে  উদ্বুদ্ধ করে যার ফলশ্রুতিতে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনে ১৯৮০ এর দশকের শেষের দিকে ফিলিস্তিনি জনতার প্রথম সফল গণ-উত্থান অর্থাৎ ইন্তিফাদার উদ্ভব হয়। এ জাগরণ বেশ কয়েক বছর জারজ ইসরাইল সরকারকে বিপাকে ফেলে দিয়েছিল এবং আপোসকামী কতিপয় ফিলিস্তিনি দলের সাথে  কিছু ধামাধরা আরব রাষ্ট্রের সহযোগিতায় ইসরাইল অসলো চুক্তি করে ফিলিস্তিনিদের দিয়ে ফিলিস্তিনিদের শায়েস্তা করার ও দমনের উদ্যোগ নেয়।
অসলো চুক্তির পর  জর্দান নদীর পশ্চিম তীর ও গাজা নিয়ে আপোসকামী ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী পি.এল.ও কর্তৃক নবগঠিত প্যালেস্টাইন অথরিটির মাধ্যমে প্রথম ইন্তিফাদাকে দমন করা হয়। কিন্তু ২০০০ সালে হিজবুল্লাহর হাতে মার খেয়ে এবং পরাজিত ও অপদস্থ হয়ে ইসরাইলী সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে পলায়ন করলে পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ইসরাইলী দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আবার নতুন করে জাগরণ ও উত্থান শুরু  হয়ে যায় যা দ্বিতীয় ইন্তিফাদা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে এবং ইসরাইল হামাসের শেখ ইয়াসিন, রাআনতীসীসহ ইন্তিফাদার বেশ কিছু নেতাকে হত্যা করে এই ইন্তিফাদা দমনের চেষ্টা করে।
নৃশংস দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ড চালিয়ে বাহ্যত: ফিলিস্তিনি গণ-উত্থান দমন করা হলেও ২০০৫ সালে প্যালেস্টাইন অথোরিটির পার্লামেন্ট নির্বাচনে গাজা ও পশ্চিম তীরে হামাস ও ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ফলে ইসমাইল হানিয়ার নেতৃত্বে প্রথম ইসলামপন্থী প্রতিরোধ-সংগ্রামী সরকার গঠিত হয় যা ইসরাইলের জন্য হয় চক্ষুশূল। ইসরাইল তখন থেকেই ইসরাইল হামাস ও পিএলওর মাঝে বিভক্তি ও গণ্ডগোল লাগানোর চেষ্টা করতে থাকে। ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহর কাছে যুদ্ধে ইসরাইল পরাজিত হলে ইসরাইলের জন্য প্যালেস্টাইন অথরিটির আসনে হামাসকে আর সহ্য করা সম্ভব হয় নি এবং জর্দান নদীর পশ্চিম তীরে (রামাল্লা) পি.এল.ওর সহায়তায় হামাস সরকারের বহু কর্মকর্তাকে ইসরাইল বন্দী করে। কিন্তু প্রধান মন্ত্রী ইসমাইল হানিয়া এবং বেশ কিছু ঊর্ধ্বতন হামাস কর্মকর্তা গাজায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
জর্দান নদীর পশ্চিম তীর যেমন আগে থেকেই আপোসকামী পি.এল.ওর স্ট্রংহোল্ড বা ঘাঁটি ছিল ঠিক তেমনি গাজা আগে থেকেই হামাস, ইসলামী জিহাদ ও অন্যান্য সশস্ত্র ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন ও গ্রুপগুলোর ঘাঁটি বা স্ট্রংহোল্ড ছিল। হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের সশস্ত্র যোদ্ধারা তাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে একযোগে ইসরাইলের দখলদারিত্ব থেকে গাজাকে মুক্ত করতে সক্ষম হয় ২০০৭ সালে এবং ইসরাইল এ পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে ঐ বছরই গাজার বিরুদ্ধে জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে কঠোর প্রাণান্তকর সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করে যা ১১ বছর গত হওয়ার পর আজও অব্যাহত আছে।
আর সিরিয়া, লেবানন,আলজেরিয়া  ছাড়া  সব আরবদেশ এমনকি মিসর পর্যন্ত গাজার বিরুদ্ধে ইসরাইলের  এই চরম নির্মম ও অমানবিক পদক্ষেপ মেনে নিয়েছে এবং কার্যত এ অন্যায় অবরোধ ভাঙ্গার উদ্যোগ নেয়নি। জর্দান নদীর পশ্চিম তীর ( রামাল্লা ) যেখানে প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তর রয়েছে তা ইসরাইলের সাথে বহু দফা শান্তি  আলোচনা করেও ইসরাইলের দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করতে পারেনি আপোসকামী পি.এল.ও এবং ধামাধরা বা সেবাদাস আরব সরকারগুলো।
ইসরাইল এখনও জর্দান নদীর পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিন ভূখণ্ড অধিগ্রহণ ও জবর দখল করে এবং ফিলিস্তিনি অধিবাসীদের উচ্ছেদ করে সেখানে একের পর এক  ইহুদী বসতি গড়েই যাচ্ছে। অথচ এমনটা গাজায় করতে পারছে না ইসরাইল। কারণ গাজা ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন ও সংগ্রামের কারণে  আজ মুক্ত ও স্বাধীন। কিন্তু সেই মুক্তি ও স্বাধীনতার মূল্য কড়ায় গণ্ডায় পরিশোধ করতে হচ্ছে গাজাবাসীদেরকে ইসরাইলের আরোপ-করা চরম অমানবিক অবরোধের নাগ-পাশ তথা বর্বর-পাশবিক-চাপের শিকার হয়ে!!! অথচ আরব ও মুসলিম বিশ্বের সেবাদাস সরকারগুলো  তা হা করে তাকিয়ে দেখছে!! এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সৎ সাহসটুকু  তাদের হচ্ছে না।
১৯৬৭ সালের আরব- ইসরাইল যুদ্ধের আগ পর্যন্ত গাজা ছিল মিসরের শাসনাধীনে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরাইল মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সমগ্র গাজা অঞ্চলটি দখল করে নেয়। অথচ ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে  তিন-তিনটি ইসরাইল – গাজা যুদ্ধে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সামরিক শক্তিতে সজ্জিত এবং মার্কিন ও পাশ্চাত্যের সর্বাত্মক সমর্থনপুষ্ট ইসরাইলী সেনা বাহিনী অবরুদ্ধ ও সব ধরনের সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত এ ক্ষুদ্র অঞ্চলটি দখল করা তো দূরে থাক সামান্য এক-দুই কিলোমিটারেরও বেশি আগাতে পারেনি গাজার প্রতিরোধ যোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধের কারণে। কেবল বোমারু বিমান দিয়ে বোমাবর্ষণ করে নির্বিচারে হাজার হাজার নিরীহ নিরস্ত্র বেসামরিক নারী পুরুষ ও শিশু হত্যা করা ছাড়া আর কোন শৌর্য–বীর্য্য  দেখাতে পারেনি বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ সেনাবাহিনী বলে খ্যাত ইসরাইলী প্রতিরক্ষা বাহিনী (Israeli Defense Force বা IDF )।
যুদ্ধের লক্ষ্যমাত্রা ও উদ্দেশ্য অর্জিত হওয়া ছাড়াই অবশেষে প্রতিটি যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়ে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে ইসরাইল। এত সব নজীর ও উদাহরণ থেকে  বোধগম্য হয়ে যায় যে ইসলামী বিপ্লবের পর বিপ্লবী ইরানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গড়ে-ওঠা ইসলামী প্রতিরোধ সংগ্রামী অক্ষ আজ ইসরাইলকে পতনের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে এবং ইঙ্গ- মার্কিন –ইউরোপীয় –ইসরাইলী - সৌদি –আমিরাতি তথা অশুভ-খবিস-ইবলিসি বা শয়তানী অক্ষের  ইসরাইলী হেজিমোনি ও প্রাধান্যের ‘নয়া মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা’ ভণ্ডুল করে দিয়েছে। তাই তো এই খবিস ইবলিসি-অক্ষ প্রতিনিয়ত চেঁচাচ্ছে আর বলছেঃ ইরান মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অযাচিত ও অবৈধ হস্তক্ষেপ করছে এবং ওদের দৃষ্টিতে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীগুলোকে ( উদ্দেশ্য হামাস ,ফিলিস্তিনি ইসলামী জিহাদ এবং হিজবুল্লাহর মতো মুক্তিকামী প্রতিরোধ আন্দোলন ও দলগুলো)  মদদ দিচ্ছে।
ফিলিস্তিনের জাগ্রত জনতা তাদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে একটানা ১১ সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করেছে। তারা বিক্ষোভ মিছিল করছে ও খালি হাতে রক্ত দিচ্ছে। তাদের ১৩০-এরও বেশি শহীদ এবং ৩০০০-এর বেশি আহত হয়েছে আপাদ-মস্তক অত্যাধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত ইসরাইলী সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর স্নাইপারদের গুলিতে। ইসরাইলী সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড সামরিক ডিক্টেটরদেরকেও হার মানিয়েছে। তাই বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলিম এবং সত্য ও ন্যায়পন্থী বিবেকবান অধিবাসীর প্রতি আহবান আপনারা সবাই মজলুম ফিলিস্তিনিদের  ন্যায্য অধিকার অর্জন এবং আল-কুদস ও ফিলিস্তিন মুক্তির লক্ষ্যে প্রতি বছর রমযানের শেষ শুক্রবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও বিপ্লবী উদ্দীপনা নিয়ে বিশ্ব আল- কুদস দিবস পালন করবেন এবং জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের ফরিয়াদে  সাড়া দিবেন।
(লেখক : মুহাম্মাদ মুনীর হুসাইন খান, গবেষক ও বিশ্লেষক)

বিজেপি হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে ভাগাভাগি করে, আমরা করি না: মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিজেপি হিন্দু ও মুসলিমের মধ্যে ভাগাভাগি করে। আমরা ভাগাভাগি করি না। আজ (বৃহস্পতিবার) আদিবাসী দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রামে এক সমাবেশে তিনি ওই মন্তব্য করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমরা ভাগাভাগি করি না। আমি হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে ভাগাভাগি করি না। শিখ-খ্রিস্টান ভাগাভাগি করি না, আদিবাসী-মাহাতো ভাগাভাগি করি না, এটা বিজেপি দল করে, দিল্লির শাসক দল করে। আমরা করি না,  ওদের সঙ্গে আমরা নেই।"
তিনি বলেন, "খুন করলে রক্ত ঝরে, দাঙ্গা হলে, অশান্তি হলে রক্ত ঝরে, আমি তা চাই না। আমি চাই আমার ভাইবোনেরা ভালো থাকুক, তারা মানুষ তৈরি হোক। আমি চাই আমার আদিবাসী ভাইবোনেরা, তপসিলি ভাইবোনেরা, আমার সংখ্যালঘু ভাইবোনেরা, আমার গরীব ভাইবোনেরা সারা পৃথিবী জয় করুক।"
মমতা বলেন, "আসুন আমরা সকলে মিলে শপথ নিই, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে কোনো জায়গা নয়, জাতিভেদ, সঙ্কীর্ণতাকে কোনো জায়গা নয়, কুৎসা, অপপ্রচার, চক্রান্ত, ষড়যন্ত্রের কোনো জায়গা নেই। আদিবাসী হোক, তপসিলি হোক, ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) হোক, সাধারণ শ্রেণির হোক, হিন্দু হোক, মুসলিম হোক, শিখ হোক, খ্রিস্টান হোক আমরা একসাথে বাঁচব, একসাথে থাকব, একসঙ্গে বাংলা গড়ব, একসঙ্গে দেশ গড়ব, একসঙ্গে সারা  বিশ্বকে পথ দেখাব।"
মমতা বলেন, "সবাইকে নিয়ে বাঁচতে হবে। জগৎটা কাউকে বাদ দিয়ে নয়, জগৎটা  সবাইকে নিয়ে। কেউ কেউ আছে দু’টাকা কামাই করার জন্য আদিবাসীদের কাছে গিয়ে মিথ্যে কথা বলে ভুল বোঝায়। কখনো তারা সংখ্যালঘুদের ভুল বোঝায়, কখনো হিন্দু-মুসলিম ভাগাভাগি করে দেয়। আমি মনে করি সবাই এক। সব মানুষকে নিয়ে চলতে হবে, সবাইকে ভালবাসতে হবে।"
রাজ্যবাসীর কল্যাণে যেসব সরকারি কর্মসূচি চলছে এবং আগামীতে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হবে সেগুলোর ঘোষণা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এতে করে মত প্রকাশের স্বাধীনতা উধাও হয়ে যায় কি না? by শান্তনা রহমান

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতারা মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ৪৬ বছর আগে যখন তারা এই সংবিধান রচনা করেছিলেন তখন তাদের মনে হয়েছিল পরাধীনতা থেকে আমরা স্বাধীন হচ্ছি। মন মানসিকতার পরিবর্তন রাতারাতি হবে না। ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তারা সংবিধানে মত প্রকাশকে মান্যতা দিয়েছিলেন। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিল, প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো এই, স্বাধীনতা বার বার হোঁচট খেয়েছে। সংবিধান রচনার অল্প দিন পরই এই স্বাধীনতা খর্ব হতে থাকে। সেনাশাসনে মত প্রকাশের স্বাধীনতা আশা করা যায় না। মেলাকাল ফৌজি শাসনের কবলে ছিল বাংলাদেশ। এই সময়ে দাবি উঠেছে মত প্রকাশের। সেনাশাসকেরা স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাস করতেন না। তাদের বড্ড ভয় ছিল এই স্বাধীনতা। তাই বারবার সাংবাদিকরা নিগৃহীত হয়েছেন।  জেলে গেছেন। স্বাধীনতার দাবি জোরালো হলেও কোনো সরকারই তা মেনে নেয়নি। বরং কথায় কথায় সংবাদপত্র বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটতে থাকে। এরশাদ জমানার শেষ দিকে একটি যুগান্তকারী রায় আসে আদালত থেকে। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদ মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে রায় দিয়েছিলেন। সাপ্তাহিক খবরের কাগজ নিষিদ্ধ হওয়ার পর বিষয়টি আদালতে নেয়া হলে শাহাবুদ্দীন বিশেষ ক্ষমতা আইনের কতিপয় ধারা বাতিল করে দেন। ‘দুর্নীতিপরায়ণদের উল্লাসের নৃত্য’ কলাম লেখার কারণে পত্রিকাটি নিষিদ্ধ করেছিলেন এরশাদ। মতিউর রহমান চৌধুরীর লেখা এই কলামে রূপক অর্থে সমালোচনা করা হয়েছিল এরশাদের। এরপর থেকে পত্রিকা বন্ধ করার প্রবণতা কমে যায়। দুয়েকটি টেলিভিশন ও পত্রিকা যে বন্ধ হয়নি তা নয়। নব্বই এর পর সাংবাদিকরা পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করতে থাকেন। বের হয়ে আসেন কলঙ্কিত অধ্যায় থেকে।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা এই দুটো বিষয় বাইরের দুনিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। গণতান্ত্রিক শাসনামলে কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তা বহাল ছিল। জরুরি জমানায় আবার ধাক্কা খায়। ফের গণতান্ত্রিক শাসন। শুরুতে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ। আস্তে আস্তে  নিয়ন্ত্রণ আরোপ হতে থাকে। একপর্যায়ে  সেলফ সেন্সরশিপ কাবু করে ফেলে এই স্বাধীনতা। সময় যত যাচ্ছে ততই ‘সমালোচনা’ নির্বাসিত হতে চলেছে। সাংবাদিকরা নির্যাতিত হচ্ছেন রাজপথে যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। এর ফলে গুজবের উপর মানুষের নির্ভরশীলতা বাড়ছে। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনকালে সংবাদ মাধ্যমই রিপোর্ট করেছে কেউ মারা যায়নি। ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেনি। দায়িত্বশীল সংবাদ মাধ্যম এ ব্যাপারে রিপোর্ট না করলে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিতে পারতো। অথচ সংবাদ কর্মীদেরকে যেভাবে রাজপথে হেলমেট বাহিনী পেটালো তা নজিরবিহীন। ইদানিং ফেক নিউজও গিলে খাচ্ছে সাংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতাকে। নয়া এই নিউজের জন্মদাতা সরকারি-বেসরকারি উভয় শিবিরেই। এতে করে মানুষের পক্ষে বাছাই করা কঠিন কোনটা আসল, কোনটা নকল। সম্পাদকদের সঙ্গে তথ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বৈঠকে এ নিয়ে কথা হয়েছে। মন্ত্রী বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমরাও তাই বিশ্বাস করতে চাই। এই মুহূর্তে স্যোশাল মিডিয়ার ওপর এক ধরনের ক্র্যাকডাউন শুরু হয়ে গেছে। পুলিশি অ্যাকশনে অনেক অ্যাকাউন্ট বন্ধ। অনেক সাইটও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার অভিযানে অনেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কথায় কথায় রিমান্ড এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি করেছে। এই আতঙ্ক থাকলে মত প্রকাশ নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এটা গণতান্ত্রিক শাসনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফটোগ্রাফার ড. শহীদুল আলমের গ্রেপ্তার মুক্ত দুনিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। গার্ডিয়ানের সম্পাদকীয় দেখে এটা সহজেই অনুমেয়। পৃথিবীর এমন কোনো মানবাধিকার সংগঠন নেই যারা তার মুক্তি দাবি করেনি। ভারতের সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবীরা সোচ্চার হয়েছেন। এই লেখা যখন লিখছি, তখন শুনলাম দিনাজপুরে একজন ‘খুনি’কে জনতা পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এটা মোটেই ভালো খবর নয়। যাই হোক ভুয়া  খবর, ভুয়া পোস্ট কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। যারা এসব করেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনাটাকে কেউই হয়তো বিরোধিতা করবেন না। কিন্তু দেখতে হবে এই অভিযানে মত প্রকাশের স্বাধীনতাই উধাও হয়ে যায় কি না? ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় দুনিয়াতে যে সব শাসকেরা সমালোচনাকে প্রতিহিংসা ভেবে দমনের চেষ্টা করেছেন তা বুমেরাং হয়েছে। উল্টো ইতিহাস হয়ে গেছেন তারাই।
শেষ কথা: মত প্রকাশের স্বাধীনতা আর ফেক নিউজকে কোনো পক্ষেরই এক করে দেখা ঠিক হবে না। কারণ মত প্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে ফেক নিউজের কোনো সম্পর্ক নেই।

সিইসি’র বক্তব্যে দ্বিমত চার নির্বাচন কমিশনারের

নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে সিইসি’র দেয়া বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন চার নির্বাচন কমিশনার। তারা বলছেন, এটা সিইসি’র ব্যক্তিগত অভিমত। সিইসির এ ধরনের বক্তব্য অনিয়মকারীদের উৎসাহ দেবে। গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, বড় বড় নির্বাচনে অনিয়ম হবে না- এমন নিশ্চয়তা দেয়া যায় না। সিইসি’র এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন মাহবুব তালুকদার। গতকাল এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনি (সিইসি) কোন পরিপ্রেক্ষিতে কেন এই কথা বলেছেন তা বোধগম্য নয়। এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে। আমি কোনোভাবেই এই বক্তব্য সমর্থন করি না। এই ধরনের বক্তব্য- যারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম করতে চায় তাদের উস্কে দেবে। অনিয়ম করার ব্যাপারে তারা অনেক উৎসাহ পাবে বলে আমি আশংকা করি। কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত। আমি ওভাবে মনে করি না। আমরা শপথ নিয়েছি একটা গ্রহণযোগ্য আইনানুগ নির্বাচন করার জন্য। এটার সঙ্গে এই বক্তব্যের কোনো মিল নাই। আমি ওটাকে কমিশনের অভিমত বলে মেনে নিতে পারি না। নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম বলেন, সিইসির বক্তব্যের সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করি। সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্যই আমি শপথ নিয়েছি। এটা কমিশনের বক্তব্য বলেও আমি মনে করি না। আমরা যেহেতু জানি না কোন অনুষ্ঠানে তিনি এটা বলেছেন। সুতরাং এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, আমি সিইসির বক্তব্যকে সমর্থন করি না। এটা তার ব্যক্তিগত মতামত। কমিশনে এমন কোনো আলোচনা হয়নি। সংবিধানের আলোকে আমি শপথ নিয়েছি জেনে শুনেই যে ভালো নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য। আমি সেটাই ধারণ করি। এদিকে সিইসির এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও। সিইসিকে সংযত হয়ে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। গতকাল ওবায়দুল কাদেরের কাছে সিইসি’র বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, আমাদের দেশের বাস্তবতায় সিইসি হয়ত মনে করেছেন- এটাই সত্যি। কিন্তু তার বক্তব্যে আরো সংযত হওয়া দরকার, একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মূল দায়িত্বে তিনি আছেন। কথাবার্তা অবশ্য তিনি ভালোই বলেন, তবে স্লিপ হতেই পারে। আমি আশা করি তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য দেবেন না। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করে। কুমিল্লা ও রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের কারণে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পাঁচ সিটি নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের কারণে ইসি সমালোচনার মুখে পড়ে। এর মধ্যে কয়েকটি সিটিতে কারচুপির অভিযোগ এনে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানায় বিএনপি। নির্বাচনে অনিয়মের কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিদেশিরাও। জাতীয় নির্বাচনের আগে অনিয়মের ঘটনায় ইসির ওপর সকলের আস্থা কমছে বলে পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষকদের।

ডিজিটাল জালিয়াতির বৃহৎ চক্র গ্রেপ্তার

ডিভাইস ব্যবহার করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে সরকারি চাকরি এমনকি বিসিএস পরীক্ষাতেও জালিয়াতি করতো চক্রটি। নিয়োগ প্রার্থীদের কাছে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র পৌঁছে দিতো। এই ডিভাইস চক্রের প্রধান একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলীপ কুমার বিশ্বাস। গ্রেপ্তারের পর গতকাল সিআইডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে  এ তথ্য জানানো হয়।
সিআইডির এএসপি (মিডিয়া) শারমিন জাহান জানান, অলীপ কুমার বিশ্বাসসহ ডিজিটাল জালিয়াত চক্রের নয় সদস্যকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। শারমিন জাহান বলেন, এই চক্রটি গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষাসহ বিসিএস পরীক্ষাতেও জালিয়াতি করে আসছে। পাঁচ দিনের এক সাঁড়াশি অভিযানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ডিজিটাল ডিভাইস চক্রের মাস্টার মাইন্ড বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলীপ কুমার বিশ্বাস, বিএডিসির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, ৩৬তম বিসিএসে নন ক্যাডার পদে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত ইব্রাহিম এবং ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিতে উত্তীর্ণ আয়ুব আলী বাধনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। এছাড়াও পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগে রাজধানীর অগ্রণী স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক গোলাম মোহম্মদ বাবুল, অফিস সহায়ক (পিওন) আনোয়ার হোসেন মজুমদার এবং মো. নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই অভিযোগে ধানমন্ডি গভ. বয়েজ স্কুলের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক হোসনে আরা বেগম এবং পিওন হাসমত আলী শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার গ্রেপ্তারের সময় হাসমতের কাছ থেকে ওই দিনের বিসিএস লিখিত পরীক্ষার কয়েক কপি প্রশ্নপত্র এবং ৬০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। এই ৯ জনসহ এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে ৩৭ জন।
সিআইডি জানায়, বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলীপ কুমার বিশ্বাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির মাস্টারমাইন্ড। কয়েক বছরে সে জালিয়াতির মাধ্যমে তিন কোটি টাকার বেশি আয় করেছে। ইব্রাহিম, মোস্তফা ও বাধন বিসিএসসহ সকল নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির মূল হোতা। এদের চারজনের প্রায় ১০ কোটি টাকার নগদ অর্থ ও সম্পদের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি। তাদের মধ্যে একদম আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যায় ইব্রাহীমের বিলাসী জীবন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান ইব্রাহীম জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৬তম বিসিএসে নন ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে। রাতারাতি হয়েছে বাড়ি-গাড়ি। খুলনার মুজগুন্নী এলাকায় সাড়ে ছয় শতাংশ জমির ওপর চারতলা ভবন নির্মাণ করেছে। নড়াইলে তৈরি করেছে ডুপ্লেক্স বাড়ি। তার ব্যবহৃত গাড়ির ৩৬ লাখ টাকা। গত কয়েক বছরে বিসিএস, বিভিন্ন ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে শতাধিক ব্যক্তিকে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করেছে ইব্রাহীম।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা সিআইডিকে জানিয়েছে, ভর্তি কিংবা নিয়োগ পরীক্ষায় মূলত দুই ভাবে জালিয়াতি হয়। একটি চক্র আগের রাতে প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে। আরেকটি চক্র পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র দ্রুত সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করে। কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁসের পর রাজধানীর আলিয়া মাদরাসা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলের দুটি কক্ষে বসে তারা অভিজ্ঞদের দিয়ে সে প্রশ্নপত্র সমাধান করতো।
গত বছরের ১৯শে অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় রাকিবুল হাসান এছামিসহ ২৮ জনকে। ওই চক্রটি প্রেস থেকে সরাসরি প্রশ্ন ফাঁস করতো। এর প্রধান ছিল এছামি। ওই সময়ে ডিভাইস চক্রের প্রধান বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলীপ কুমার বিশ্বাস গণমাধ্যমে নাম প্রকাশের পর গা-ঢাকা দিয়েছিল। এই কয়েক দিনের অভিযানে রাজবাড়ির বালিকান্দির পুষআমলা গ্রামের অলীপ কুমার বিশ্বাসসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত অন্যারা হচ্ছে- গোপালগঞ্জের জালালাবাদের ইব্রাহিম, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ভেলারায়ের আইয়ুব আলী (বাধন), একই জেলা সদরের পাইককান্দির হাসমত আলী শিকদার, সিরাজগঞ্জের দক্ষিণ কলিকাপুরের মোস্তফা কামাল (২৮), চাঁদপুরের হাজিগঞ্জের সিদলা গ্রামের মনোয়ার হোসেন, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান মধ্যপাড়ার নুরুল ইসলাম, রাজবাড়ির বালিকান্দির বাড়াদীর গোলাম মোহাম্মদ আবুল ও বাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের মহিউদ্দিন নগরের হোসনে আরা বেগম। হোসনে আরা বেগম ও গোলাম মোহাম্মদ আবুল দু’জনেই শিক্ষক।

সাইবার পুলিশ সেন্টার হচ্ছে by দীন ইসলাম

সাইবার পুলিশ সেন্টার গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এ সেন্টারটি সাইবার ক্রাইম তদন্তে কাজ করবে। সিআইডি’র অধীনে এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এরই মধ্যে সাইবার পুলিশ সেন্টার স্থাপনের জনবল প্রস্তাবে সায় দিয়েছে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি। তাই সহসাই সাইবার পুলিশ সেন্টারের জন্য জনবল নিয়োগ করা হবে। এদিকে পুলিশের জন্য নতুন করে চারটি এডিশনাল আইজিপি পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিআইডির সাংগঠনিক কাঠামোতে সাইবার ক্রাইম
ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো গঠন করতে বিভিন্ন পদবির ৫৮৫টি পদ সৃষ্টি, ১০০টি যানবাহন টিওএন্ডইভুক্ত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জননিরাপত্তা বিভাগের প্রস্তাবটি যাচাই বাছাই করে। তারা প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নীতিগত অনুমোদিত ৫০ হাজার পদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে এসব পদকে দেখতে পায়। তাই সিআইডির সাংগঠনিক কাঠামোতে সাইবার পুলিশ সেন্টার গঠন এবং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৩৬৯টি পদ সৃষ্টিতে সম্মতি দেয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়ার পর বিষয়টি অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়। গত ১৬ই জুলাই অর্থ বিভাগের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ অনুবিভাগ ৩৪২টি পদ ও ৪৯টি যানবাহন টিওএন্ডইভুক্ত করতে সম্মতি দেয়। এসব পদের মধ্যে রয়েছে- ডিআইজি ১টি, অতিরিক্ত ডিআইজি ২টি, পুলিশ সুপার ৩টি, এডিশনাল এসপি ৬টি, এএসপি ১৯টি, ইন্সপেক্টর ৬৫টি, এসআই (নিরস্ত্র) ১৩০টি, এএসআই ৩৯টি ও কনস্টেবলের ৭০টিসহ বিভিন্ন পদ রয়েছে। এসব পদে এরই মধ্যে সম্মতি পাওয়া গেছে। এদিকে পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে বিভিন্ন ইউনিটের জন্য চারটি অতিরিক্ত আইজিপি গ্রেড-২ পদ সৃষ্টির প্রস্তাবে সায় মিলেছে। এসব পদের মধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের জন্য একটি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-এর জন্য একটি, হাইওয়ে পুলিশের একটি এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের জন্য একটি পদ রয়েছে। জননিরাপত্তা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গেল বছরের ৪ঠা জুলাই পুলিশ সদর দপ্তর সাংগঠনিক কাঠামোতে ছয়টি অতিরিক্ত আইজিপি’র পদ সৃষ্টির অনুরোধ জানিয়ে জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে তারা উল্লেখ করে, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে বর্তমানে পুলিশে দুই লাখ পাঁচ হাজার ৮৬১ জন সদস্য রয়েছেন। তাদের কার্যক্রম তদারকির জন্য মাত্র দুই হাজার নয়শ’ ৫৩ জন এএসপি থেকে তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার ১২টি পদের মঞ্জুরি রয়েছে। তাই নতুন করে ছয়টি অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার পদ সৃষ্টির অনুরোধ করা হয়। তবে অর্থ বিভাগের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ শাখা চারটি অতিরিক্ত আইজিপি পদ সৃষ্টিতে সম্মতি দেয়। তাই সর্বশেষ প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে চারটি অতিরিক্ত আইজিপি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এতেই সম্মতি দেয় সচিব কমিটি।

১৪০ বার বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল; যুদ্ধ শুরুর আশংকা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ওপর ১৪০ দফা বিমান হামলা চালিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। তেল আবিবের এই বর্বরতার কারণে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা  জোরদার হচ্ছে।
ইসরাইলি বাহিনী আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে বলেছে, তারা গাজা উপত্যকায় ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের ১৪০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ইসরাইল তার ভাষায় দাবি করেছে, গাজা থেকে ১৫০টির বেশি রকেট ছোঁড়ার পর তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। গাজা থেকে ছোঁড়া রকেটের মধ্যে ২৫টিকে তারা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম দিয়ে ভূপাতিত করেছে।
হামাস হামলার কথা স্বীকার করেছে। তারা বলেছে, মঙ্গলবার তাদের দুই যোদ্ধা ইসরাইলি ট্যাংকের গোলায় শহীদ হওয়ার প্রতিশোধ নিতে তারা এ হামলা চালায়। হামাস বলছে, ইসরাইলি হামলা বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল এবং এখন তা পূর্ণ হয়েছে। 
এদিকে, ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হামাস ও ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ইসরাইলকে থামানোর জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা ২২ ছাত্রের জামিন হয়নি

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জেরে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে সড়কে নামা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনার প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঈদের আগে আগাম ছুটি ঘোষণা হয়েছে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়। গত ৬ই আগস্ট থেকে পর্যায়ক্রমে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অবস্থিত কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করে দেয়া হয়। একই সঙ্গে বহিরাগতের হামলা ও পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযানের কারণে আতঙ্কগ্রস্ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এদিকে, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্রকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত। গত ৬ই আগস্ট নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, ব্র্যাক, আহসানউল্লাহসহ আরো কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর আগে ৪ঠা আগস্ট ঝিগাতলায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা চালানোয় এদিন প্রতিবাদ আরো জোরালো হয়ে উঠে। তবে শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ দমাতে অ্যাকশনে নামে পুলিশ। সে সঙ্গে যোগ দেয় হেলমেট পরা একদল যুবক। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি পুলিশের সঙ্গে যারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে তারা ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী। বিশেষ করে বাড্ডার আফতাব নগরে ইস্ট ওয়েস্ট ও বসুন্ধরার নর্থ সাউথে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জের ধরেই  অন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া নোটিশের সূত্রে জানা গেছে, সার্বিক পরিস্থিতির কারণে সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হবে। তবে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েরই ঈদের আগে সেমিস্টার ফাইনাল হওয়ার কথা থাকলেও সেটা ঈদের পরে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আর কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় দু’দিন ক্লাস বন্ধ রেখে আবার ঈদের পর পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করে দিয়েছে। প্রায় সবক’টি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দিলেও নর্থ সাউথ এখনো খোলা রয়েছে। তবে ক্লাস চলছে ঢিলেঢালাভাবে। নোটিশ দিয়ে সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি। গত ৬, ৭, ৮ ও ৯ই আগস্টের সব পরীক্ষার সময়সূচি পিছিয়ে ঈদের পর ২৭শে আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন।
অনির্দিষ্টকালের জন্য  ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয় শান্ত মরিয়ম ইউনিভার্সিটি  অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি। গত ৭ই আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়টি এ ঘোষণা দেয়। আকস্মিকভাবে দুইদিন বন্ধ রাখে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিও। ৮ ও ৯ই আগস্ট কোনো কারণ ছাড়াই বন্ধ ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। তবে ১২ই আগস্ট থেকে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানায় নোটিশে। সার্বিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক। গত ৫ই আগস্ট  রেজিস্ট্রার সরোয়ার আর. চৌধুরীর স্বাক্ষর করা এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। ৮ ও ৯ই আগস্ট দুইদিন পরীক্ষা স্থগিত করে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ৮ই আগস্ট থেকে সেমিস্টার ফাইনাল হওয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ নোটিশ দিয়ে সব পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিও। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, সার্বিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে ৮ই আগস্ট থেকে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষার সময়সূচি পিছিয়ে ঈদের পর নেয়া হয়েছে। এছাড়া নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়েরও পরীক্ষার সময়সূচি বাতিল করে ঈদের পর নেয়া হয়। এছাড়া সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনির্ভাসিটি, প্রাইম এশিয়া সহ আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করে দিয়েছে। এদিকে ঢাকার পাশাপাশি ঢাকার বাইরের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি,  প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝেও বেশ আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ  করে নর্থ সাউথ, ব্র্যাক ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে আছেন। নর্থ সাউথের বিবিএ’র শিক্ষার্থী সামিয়া সুলতানা জানান, আমরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলাম। এখন নিরাপদ ক্যাম্পাসও পাচ্ছি না। যেভাবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলা চালিয়েছে তাতে খুব ভয় পাচ্ছি। আমাদের ছেলে বন্ধুরা যারা বসুন্ধরায় থাকেন অনেকেই আসামির মতো পলাতক। যারা হামলা করেছে পুলিশ তাদের কিছু না বলে প্রতিরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রদের বাসায় অভিযান চালাচ্ছে। এটা কোন্‌ বিচার? সরকার এসব দেখেও না দেখার ভান করছে। এদিকে রাফাত নামের ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী বলেন,  আমরা এখন আর নিরাপদে নেই। সড়ক আন্দোলনে নেমে নিরাপদ ক্যাম্পাসটাই হারিয়েছি। পুলিশ ক্যাম্পাসের সামনে এসে হয়রানি করছে। বিনা বিচারে আমাদের বন্ধুদের ধরে নিয়ে গেছে। তাদের আদালতে নিয়ে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।  এ কোন দেশে বাস করছি  আমরা? সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো নিরাপত্তা নেই।
বুধবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও আশেপাশে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য ব্লক রেইড অভিযানে অংশ নেয়। অভিযানের সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে কাউকে গ্রেপ্তার না করলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ওই এলাকায় থাকেন। এর আগে পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের আগাম ছুটি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।
২২ ছাত্রের জামিন নামঞ্জুর
পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের পৃথক দুই মামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্রকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার এই আদেশ দেন। এর আগে পুলিশ দু’দিনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করে। ছাত্রদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিকেলে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া অভিভাবকদের কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। মঙ্গলবার এই ২২ ছাত্রর প্রত্যেকের দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গ্রেপ্তার আসামিরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, সাউথ ইস্ট ও ব্র্যাকের ছাত্র। এর মধ্যে, বাড্ডা থানা পুলিশ ১৪ ও ভাটারা থানা পুলিশ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীরা ভাঙচুর কিংবা পুলিশের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত না। গ্রেপ্তার ছাত্র ফয়েজ আহম্মেদ আদনানের আইনজীবী একেএম মুহিউদ্দিন ফারুক আদালতের কাছে দাবি করেন, তিনি নিজে দেখেছেন, পুলিশ কীভাবে ছাত্রদের নির্যাতন করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া সবাই ছাত্র অথচ পুলিশ মামলায় তা উল্লেখ করেনি। মামলার এজাহারের বক্তব্য মিথ্যা দাবি করে এই আইনজীবী বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিশু ছাত্ররা যে আন্দোলন করেছে, তাতে এসব শিক্ষার্থী সায় দিয়েছে। যারা ভাঙচুর করলো পুলিশ তাদের ধরলো না। কয়েকজন শিক্ষার্থীর আইনজীবী আদালতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেয়া কাগজ জমা দিয়ে বলেছেন, তারা কোনো আন্দোলনে ছিল না। কোনো ভাঙচুর করেনি। তারা সেদিন ক্লাস করেছে। মাসাদ মরতুজা বিন আহাদের আইনজীবী কামরুদ্দিন আদালতকে বলেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রকে পুলিশ সেদিন মারধর করেছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ। হাত ও ঘাড়ে জখম হয়েছে। আদালত পরে এই ছাত্রকে কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দেন। ছাত্রদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে আরো দাবি করেন, যারা হামলা করেছিল তাদের গ্রেপ্তার না করে নিরীহ ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে মারধর করেছে পুলিশ।

কাবা ঘরের স্থানে পৃথিবীর প্রথম শুষ্ক ভূখণ্ড জেগে উঠেছিল যেদিন

বর্তমান যুগে পবিত্র কাবা ঘর ও এর আশপাশের দৃশ্য
হাজার হাজার বছর আগে ২৫শে জিলকদ তারিখে মহান আল্লাহর নির্দেশে পৃথিবী নামক গ্রহের মহাসাগর থেকে শুষ্ক ভূখণ্ডের প্রথম অংশটুকু জেগে উঠেছিল আর সেই স্থানটি ছিল বর্তমান পবিত্র কাবা ঘরের স্থানটি।
[এ ছাড়াও এই দিনটি ইসলামী বর্ণনামতে হযরত ইব্রাহিম ও ঈসা (আ)'র পবিত্র জন্মদিন। আর এই একই দিনে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) বিদায় হজ পালনের উদ্দেশ্যে মদীনা থেকে মক্কার দিকে রওনা হন।]
এর আগে পৃথিবীর উপরিভাগের সব ভূখণ্ডই ছিল পানির নীচে।  শুষ্ক ভূখণ্ডের যে অংশটুকু সর্বপ্রথম জেগে উঠেছিল সেটাই ছিল পবিত্র কাবা ঘরের স্থান তথা বিশ্বের মুসলমানদের  নামাজ পড়ার কিবলা। এরপর ধীরে ধীরে আরও ভূমি জেগে উঠতে থাকে এবং গড়ে ওঠে নানা মহাদেশ, দ্বীপ ও উপদ্বীপ। কাবা-ঘরের স্থানটিকে পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল বলে উল্লেখ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। বাস্তবেই এই কাবার অংশ হল পৃথিবীর নাভী।
প্রায় শত-বর্ষ আগের কাবা
কাবাকে  উম্মুল কুরাও বলা হয়৷  কারণ উম্ আরবী  শব্দের  অর্থ হল মা ।  আর কু'রা শব্দের অর্থ হল গ্রাম, অর্থাৎ  " উম্মুল কু'রা "  শব্দের অর্থ দাঁডায়  " গ্রামগুলোর মা "। 
আজকের এই দিনটি ইসলামী বর্ণনায় ‘দাহল আরদ’ (ভূমির উন্মেষ ও বিস্তৃতি) নামে পরিচিত। কোনো কোনো ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী এই দিনে আবির্ভূত হবেন মানবতার শেষ ত্রাণকর্তা ও বিশ্বনবী (সা.)’র শেষ উত্তরসূরি তথা বিশ্বনবী (সা.)’র আহলে বাইতের  (নিষ্পাপ বংশধারার) সর্বশেষ সদস্য হযরত ইমাম মাহদী (আ.)। তিনি সারা বিশ্বে ইসলামী হুকুমাত ও পরিপূর্ণ ন্যায়বিচার-ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবেন।
এ দিনে অনেক মুসলমান নফল রোজা পালনসহ বিশেষ ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কোনো কোনো বর্ণনা অনুযায়ী আজ হতে চার হাজার চন্দ্রবছর আগে এই দিনের প্রাক্কালে মসোপটেমিয়া বা প্রাচীন ইরাক অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন হযরত ইব্রাহিম (আ.)। তিনি শীর্ষস্থানীয় ৫ জন রাসুলের অন্যতম। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-কে পবিত্র কুরআনে মিল্লাত বা জাতি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পবিত্র কাবা ঘর ও তার আশপাশের নানা অংশের নাম
কোনো কোনো বর্ণনা অনুযায়ী আজ হতে দুই হাজার ৭১ চন্দ্রবছর আগে এই দিনের প্রাক্কালে জন্মগ্রহণ করেন হযরত ঈসা (আ.)। পিতা ছাড়াই হযরত মারিয়াম (সালামুল্লাহি আলাইহা)'র গর্ভে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি মহান আল্লাহর ইচ্ছায়। হযরত ঈসা (আ.) ও শীর্ষ ৫ জন রাসুলের অন্যতম। হযরত নুহ, হযরত মুসা (আ.) এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হযরত মুহাম্মাদ সা.) এই ৫ জনের অন্যতম। হযরত ঈসা (আ.) শেষ নবী ও রাসুল মুহাম্মাদ (সা.)'র আবির্ভাবের সুসংবাদ দিয়ে গিয়েছিলেন। এ বিষয়টি উল্লেখিত হয়েছে পবিত্র কুরআনের সুরা সাফের ৬ নম্বর আয়াতে। এ ছাড়াও প্রাচীন বাইবেল 'গসপেল অফ সেন্ট জোহন'-এ এবং বার্নাবাসের বাইবেলে ওই সুসংবাদের কথা এসেছে যদিও বাইবেলের বেশিরভাগ অংশই বিকৃত করা হয়েছে।
এ গুরুত্বপূর্ণ দিবসে বেশ কিছু আমল রয়েছে, যেগুলো পালন করলে অত্যন্ত সওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়, এই আমলগুলো হলো:
১। রোজা রাখা; যার সওয়াব সত্তর বছর রোজা রাখা ও ইবাদতের সমতুল্য।
২। দাহউল আরদ্বের রাত্রি জেগে থাকা; অর্থাৎ ২৪শে জিলক্বদের দিবাগত রাত্র জেগে থাকা ও ইবাদত করা। এর সওয়াব এক বছর ইবাদতের সমান।
৩। বিভিন্ন দোয়া ও যিকির পড়া।
৪। দাহউল আরদ্বের নিয়তে গোসল করা ও এ দিবসের বিশেষ নামায আদায় করা। নামাজটি যোহরের পূর্বেই আদায় করতে হবে,
৫। দুই রাকাত নামাজ, প্রতি রাকাতে সূরা হামদের পর ৫ বার সূরা শামস পড়া। নামাজ শেষে لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ الْعَلِیِّ الْعَظِیمِ، লা হাওয়া ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিউল আযীম পাঠ করা।
সূরা শামস:
بِسمِ اللَّهِ الرَّحمـٰنِ الرَّحیمِ
وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا ﴿١﴾ وَالْقَمَرِ اِذَا تَلَاهَا ﴿٢﴾ وَالنَّهَارِ اِذَا جَلَّاهَا ﴿٣﴾ وَاللَّیْلِ اِذَا یَغْشَاهَا ﴿٤﴾ وَالسَّمَآءِ وَمَا بَنَاهَا ﴿٥﴾ وَالْاَرْضِ وَمَا طَحَاهَا ﴿٦﴾ وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا ﴿٧﴾ فَاَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا ﴿٨﴾ قَدْ اَفْلَحَ مَن زَکَّاهَا ﴿٩﴾ وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا ﴿١٠﴾ کَذَّبَتْ ثَمُودُ بِطَغْوَاهَا ﴿١١﴾ اِذِ انبَعَثَ اَشْقَاهَا ﴿١٢﴾ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّـهِ نَاقَةَ اللَّـهِ وَسُقْیَاهَا ﴿١٣﴾ فَکَذَّبُوهُ فَعَقَرُوهَا فَدَمْدَمَ عَلَیْهِمْ رَبُّهُم بِذَنبِهِمْ فَسَوَّاهَا ﴿١٤﴾ وَلَا یَخَافُ عُقْبَاهَا ﴿١٥﴾
৬। এই দোয়াটি পাঠ করা: «یَا مُقِیلَ الْعَثَرَاتِ أَقِلْنِی عَثْرَتِی یَا مُجِیبَ الدَّعَوَاتِ أَجِبْ دَعْوَتِی یَا سَامِعَ الْأَصْوَاتِ اسْمَعْ صَوْتِی وَ ارْحَمْنِی وَ تَجَاوَزْ عَنْ سَیِّئَاتِی وَ مَا عِنْدِی یَا ذَا الْجَلالِ وَ الْإِکْرَامِ» .
৭। এই দিনে ইমাম রেজা (আ)'র যিয়ারতের ফজিলতও অনেক বেশী।