Wednesday, February 19, 2025
ট্রাম্প কি গাজা দখলের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন
মিসরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, তাঁদের প্রস্তাবিত গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী বিকল্প পরিকল্পনা সম্পর্কে ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে। এতে তাঁদের সায় আছে বলে মনে হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, আরব বিশ্বের সমর্থনে মিসর গাজা নিয়ে একটি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির কাজ করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিসরের ওই কর্মকর্তা গতকাল মঙ্গলবার বলেন, জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ওয়াশিংটন সফরকালে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপ করেন। এই পরিকল্পনায় ট্রাম্পকে রাজি করানোর ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কায়রো ও আরব বিশ্ব ট্রাম্পের সঙ্গে জর্ডানের বাদশাহর বৈঠককে প্রাথমিক বিজয় হিসেবে দেখছে।
মিসরের ওই কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ওই রুদ্ধদ্বার বৈঠক থেকে দারুন ফলাফল এসেছে।
ট্রাম্পের গাজা উপত্যকা দখলের প্রস্তাব নিয়ে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ প্রকাশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কোনো সমালোচনা করেননি। তবে মিসরের কর্মকর্তা বলেন, বাদশাহ আবদুল্লাহ ট্রাম্পের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে তাঁকে সতর্ক করে বলেছেন, তাঁর এই পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইসলামি উগ্রপন্থাকে’ উসকে দিতে পারে। তাতে হিতে বিপরীত হবে। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের সরকারগুলো টালমাটাল অবস্থায় পড়ে যেতে পারে।
মিসরের কর্মকর্তা আরও বলেন, বাদশাহ আবদুল্লাহর বক্তব্য খুব ‘মনোযোগ সহকারে এবং সহানুভূতির’ সঙ্গে শোনেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
পুনর্গঠনের বিনিময়ে জিম্মিদের মুক্তি
ট্রাম্পের সঙ্গে বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর বৈঠকের সুফলকে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি মিসর। তারা আরও জীবিত ছয় ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্ত করতে গাজার ক্ষসতাসীন হামাসের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যায়। এতে সাফল্যও আসে। অস্ত্রবিরতি চুক্তিকে আরও পাকাপোক্ত করতে এই জিম্মি মুক্তি বেশ কাজে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মিসরের কর্মকর্তা বলেন, হামাস মিসরের জিম্মি মুক্তির প্রস্তাবে রাজি হয়েছে। তবে এতে তাদেরও একটি শর্ত বাস্তবায়ন হতে চলেছে। বিনিময়ে গাজার পুনর্গঠনে ভারী যন্ত্রপাতি উপত্যকায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল।
পাশাপাশি ইসরায়েল গাজায় ভ্রাম্যমাণ বাড়ি ঢোকারও অনুমতি দিয়েছে। এসব ভ্রাম্যমাণ বাড়ি গাজায় ঢুকতে গেলে এর আগে বাধা দিয়েছিল ইসরায়েল। এর আগে হামাস অভিযোগ তুলেছিল, ইসরায়েল গাজায় খাদ্যসহায়তা ঢুকতে না দিয়ে অস্ত্রবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করছে। এ জন্য জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিয়েছিল তারা।
মিসরের কর্মকর্তা বলেন, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল–সিসি আগামীকাল বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ সফরে যেতে পারেন। গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী সরকার কেমন হবে, সেটা নিয়ে তিনি সেখানে আলোচনা করবেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রথমে সিসির সৌদি সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।
ট্রাম্পের গাজা দখল এবং সেখান থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের প্রস্তাব ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বে সমালোচনা শুরু হয়েছিল। ট্রাম্পের এমন বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্রদেরও হতাশ করেছিল। তারা মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা এবং গাজায় ব্যাপক ইসরায়েলি আগ্রাসনের আশঙ্কা করছিল।
যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা
কূটনীতিক ও বিশ্লেষকেরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা দখলের ঘোষণা নিয়ে বেশ ধন্দে ছিলেন। ট্রাম্প কি সত্যিই গাজা দখল করতে চান নাকি আরব বিশ্ব থেকে নিজেদের সুবিধা আদায়ের জন্য এই হুমকি দিয়েছেন, তা নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশায় ছিলেন তাঁরা। ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গাজার নিয়ন্ত্রণ পরের বিষয়। তার আগে আরব দেশগুলোর বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া উচিত।
এর পর থেকেই মিসরের পরিকল্পনা বেশ গতি পেতে থাকে। মনে হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টকেও এই পরিকল্পনা বেশ প্রভাবিত করেছে।
গত সোমবার ইসরায়েল সফরকালে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, যেকোনোভাবেই হোক, যুক্তরাষ্ট্রের গাজা দখলের ‘খুব একটা আগ্রহ’ নেই।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড বুমেন্থাল বলেন, জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ তাঁকে বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আরব রাষ্ট্রগুলোর একটা পরিকল্পনা আছে। তবে এ জন্য আগে ফিলিস্তিনিদের স্বশাসনের বিষয়টি ঠিক করতে হবে। এরপরই ইসরায়েলের সঙ্গে এই অঞ্চলের নিরাপত্তায় প্রতিরক্ষা চুক্তি হতে পারে।
ট্রাম্পের গাজা দখলের ঘোষণার পর ইসরায়েলও হুমকি দিয়েছিল। তারা ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে অন্য কোথাও ‘স্বেচ্ছায় অভিবাসী’ হতে বলা শুরু করেছিল।
তবে ইসরায়েল বলেছে, ‘চলতি সপ্তাহে’ গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শুরু হবে। এতে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার শাসন নিয়েও কথা হবে।
আরব রাষ্ট্র ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ (পিএ) যুদ্ধ–পরবর্তী গাজা উপত্যকার শাসন নিয়ে কয়েকটি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছে। এতে ফিলিস্তিনের ভেতর ও বাইরে থেকে গাজায় সরকার পরিচালনার কথা বলা হয়েছে, তবে সবই হবে হামাসকে বাদ দিয়ে।
পিএ ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফকে বলেছে, গাজা উপত্যকায় একটা সরকার প্রতিষ্ঠা করতে তারা প্রয়োজনে হামাসের মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত।
গাজার ভবিষ্যৎ
মিসরের কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, মিসরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য কোনো ধরনের সংঘাত-সংঘর্ষের প্রয়োজন নেই। কারণ, হামাস গাজায় নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে নিজেদের দূরে রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে তাদের একটিই শর্ত, ওই সরকারে পিএর জ্যেষ্ঠ কোনো কর্মকর্তাকে রাখা যাবে না।
গতকাল বার্তা সংস্থা এপির এক খবর বলা হয়েছে, মিসরের যুদ্ধ–পরবর্তী গাজা পরিকল্পনায় হামাস বা পিএর কোনো কর্মকর্তাকে রাখা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, পিএ পুলিশ বাহিনীর যে অংশ ২০০৭ সাল থেকে গাজায় দায়িত্ব পালন করছে, তারাই গাজা পরিচালনায় কাজ করবে। গাজায় ২০০৭ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে হামাস সরকার গঠন করেছিল।
মিডল ইস্ট আইয়ের গত মে মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গাজার ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের প্রশ্নে হামাস কিছুটা ‘নমনীয়’ থাকবে। তাদের শর্ত হচ্ছে, গাজায় সরকার গড়বে ফিলিস্তিনিরাই। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের আরোপিত সরকার এখানে হবে না।
তবে কথা হচ্ছে, গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে কারা থাকবে। যেমন লেবাননে গৃহযুদ্ধের পর ১৯৯০ সালে নতুন সরকার গঠিত হয়। তবে হিজবুল্লাহ সশস্ত্র অবস্থায় রয়ে গেছে এবং রাষ্ট্রের বাইরে আলাদা সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মিসরের ওই কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, লেবাননের মতো পরিস্থিতি যাতে এখানে না হয়, সে বিষয়টি উপসাগরীয় দেশগুলো নিশ্চিত করতে চায়। এ কারণে ‘গাজা উপত্যকায়’ তাদের সক্রিয় ভূমিকা থাকবে। গাজার পুনর্গঠনে বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা এই ভূমিকা পালন করে যাবে।
গতকাল প্রকাশিত জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের পুনর্গঠনে পাঁচ হাজার কোটি ডলার লাগবে। প্রথম তিন বছরে লাগবে কমপক্ষে দুই হাজার কোটি ডলার।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
![]() |
| মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কুয়েটে কেন এমন সংঘাত, কী হচ্ছে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে by মনোজ দে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর ইটপাটকেল, লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করছে। যুবদলের কাউকে কাউকে রামদা-চাপাতির মতো ধারালো অস্ত্র নিয়েও হামলা করতে দেখা গেছে। এই সংঘর্ষ ও হামলা নিয়ে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পরস্পরকে দায়ী করেছে।
কুয়েটের এই সংঘর্ষের উত্তাপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মিছিল হয়। বুয়েটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারেও একদল শিক্ষার্থী প্রতিবাদ মিছিল করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি পুরোপুরি নিষিদ্ধ, হামলাকারীদের শাস্তি এবং উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও ছাত্র কল্যাণ পরিচালকের পদত্যাগের দাবি জানান। অন্যদিকে ছাত্রদলের দাবি, ‘বৈষম্যবিরোধী আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানার অপব্যবহার করে গুপ্ত সংগঠন শিবির “মব” তৈরি করছে।’
কুয়েটের ঘটনায় কোন পক্ষ দায়ী, তা নিয়ে ফেসবুকে পরস্পরবিরোধী ভাষ্য আসছে। কে প্রথম উসকানি দিয়েছে, তা নিয়েও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। বুধবার ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে কুয়েটে সব ধরনের রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।
ছাত্র প্রশ্ন হচ্ছে, অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলো, যারা জান বাজি রেখে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, অভূতপূর্ব এক ঐক্যের নজির স্থাপন করেছেন, তাঁরাই কেন এ রকম রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লেন? তাঁদের মধ্যে কেন এমন অবিশ্বাস, চাপা অসন্তোষের পরিবেশ তৈরি হলো?
কুয়েটের ঘটনাকে রোগ নয়, রোগের লক্ষণ হিসেবেই দেখা দরকার। কেননা, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এমন সব ঘটনা ঘটেছে যেগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ কম।
দুই.
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়টির হল ও একাডেমিক ভবনগুলোর নাম পরিবর্তন করেছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম বাদ দেওয়ার কারণ আমরা বুঝতে পারছি। এখানে ‘ফ্যাসিবাদ-বিরোধিতা’র বিষয়টি আছে; কিন্তু তাজউদ্দীন আহমদ, শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরী, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, জগদীশ চন্দ্র বসু থেকে শুরু করে নিতান্ত নিরীহ কবি জীবনানন্দ দাশের নাম পরিবর্তনের কারণ কী থাকতে পারে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রল হয়েছে; প্রতিবাদ, সমালোচনাও হয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে নাম পরিবর্তনের ব্যাপারটা রাজনৈতিকভাবে পপুলিস্ট বা জনতুষ্টিবাদী প্রকল্প। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের হিড়িক চলে। কেননা, এখানে মূলধারার রাজনীতি মূলত এক নেতার ভাবমূর্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ফলে চলতি হাওয়াপন্থীরা খুব ভালোভাবেই জানেন, নামকরণের রাজনীতি তাঁদের ভবিষ্যৎ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সুনিশ্চিত বিনিয়োগ।
আওয়ামী লীগ জোর করে চাপিয়ে দিয়ে এবং আইন করে এ ভূমির ইতিহাসকে একাত্তরে, তা-ও আবার একটিমাত্র বয়ানে আটকে রেখেছিল। চব্বিশের অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব যে ব্যাখ্যা-বিবৃতি দিয়েছেন, সেখানে ইতিহাসের সেই এককেন্দ্রিক অচলায়তনকে ভেঙে ফেলার কথাই বলা হয়েছে। ইতিহাসের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বহুত্ববাদী যে সম্ভাবনা, তারই তালাশের কথা তাঁরা জোরেশোরে উচ্চারণ করেছেন।
এখন অন্তর্ভুক্তিমূলক আর বহুত্ববাদের সংজ্ঞা যদি কারও পক্ষের, কারও চিন্তার বাইরের সবাইকে বাদ দেওয়া কিংবা মুছে ফেলা, কিংবা তার চিন্তার ছাঁচে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সমাজে নতুন ফ্যাসিবাদের জন্ম হওয়াটা কি অস্বাভাবিক? আমাদের ইতিহাস নিশ্চিত করেই একাত্তরের একমাত্রিক বয়ানে আটকে থাকার নয়। গত ১৫০ বছরের ইতিহাস বিচার করলে নিঃসন্দেহে যাঁরা এ ভূমির ভূখণ্ড ছাপিয়ে বৈশ্বিক পরিসরের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন, তাঁদের মধ্যে জগদীশ চন্দ্র বসু আর সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে প্রথম কাতারেই রাখতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের বহুমুখী স্রোতকে স্বীকৃতি দিতে হলে তাজউদ্দীন কিংবা আলীম চৌধুরীকে স্থান দিতে হবে। আর কোনো কবি যদি চিন্তায় এ ভূমির মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন, তাহলে সেখানে সামনের কাতারে জীবনানন্দের নামও থাকবে।
তাহলে এই নাম পরিবর্তনের রাজনীতিটা আসলে কী?
তিন.
ছাত্রীদের একটা হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে পোস্ট দিয়েছেন, সেটিকে চরম অসংবেদনশীল চিন্তা ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে অসংবেদনশীল শিক্ষকদের প্রক্টরের পদে বসানোর প্রথা থেকে কেন আমরা বের হতে পারলাম না? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ঘটনার জেরে শিক্ষার্থীদের ওপর বহিষ্কারের খড়্গ নেমে এসেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায় ও দরদ দেখালে ঘটনা কি এই পর্যন্ত গড়াতে পারত?
চার.
অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সমাজে বড় একটি পরিবর্তন ঘটিয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের বয়স ১৪ থেকে ৩০ বছরের মধে৵। এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে খবরদারি, নজরদারি ও কর্তৃত্ববাদী চিন্তা ও সংস্কৃতির জোয়াল থেকে মুক্ত হওয়ার আকাঙক্ষা। ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের আনুষ্ঠানিক পতন হলেও মূল পতন ঘটে গিয়েছিল ১৬ জুলাই রাতে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা প্রবল প্রতাপশালী ছাত্রলীগের দুর্গে প্রথম মোক্ষম আঘাত হেনেছিলেন। হল থেকে তাঁরা ছাত্রলীগের নেতাদের বের করে দিয়েছিলেন। সেই পথ ধরেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হলগুলো থেকে ছাত্রলীগকে বের করে দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে ছাত্রলীগকে বিতাড়ন ছিল কৌশলগত বিজয়। সেই বিজয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁরা ভালো করেই জানতেন যে কোনোভাবে ছাত্রলীগ ফিরে এলে ভয়ংকর প্রতিশোধ নেবে। এর পরও তাঁরা ঝুঁকি নিয়েছিলেন। সেই পথ ধরেই রচিত হয়েছে নতুন বাংলাদেশের ইতিহাস।
আওয়ামী লীগের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়কে এমনভাবে রাজনৈতিকীকরণ করা হয়েছিল যে হলের গেটের দারোয়ানও ছাত্রলীগ হয়ে উঠেছিলেন। নিপীড়ন, লাঞ্ছনা, অবমাননার জীবন থেকে শুরু করে তাঁদের জীবনের প্রতিটি বাস্তবতা নিয়ন্ত্রিত হতো ভয়ংকর কর্তৃত্ববাদী পরিবেশে। এই স্বৈরতান্ত্রিক পরিবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা মুক্তি চেয়েছিলেন। ফলে তাঁরা আর চান না ক্যাম্পাসের পরিবেশ আবার পুরোনো ধারায় ফিরুক। তাঁরা চান না তাঁদের সহপাঠীদের কেউ কেউ তাঁদের প্রভু হয়ে উঠুক। তাঁদের ওপর আধিপত্য করুক।
পাঁচ.
অভ্যুত্থানের যে বিশাল শক্তি তৈরি হয়েছিল, তাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দলীয় লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি থেকে মুক্ত করে দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কারের প্রশ্নটি সবার আগে সামনে আনার দরকার ছিল; কিন্তু সেটি সবার আগে চাপা দেওয়া হয়েছে। উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব বাছাইয়ের দলীয় রাজনীতিকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছিল; কিন্তু সেটি হয়নি। অধিকাংশ পদে দলীয় লোকদেরই বসানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই নীতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কীভাবে জ্ঞান চর্চা ও প্রশিক্ষিত নাগরিক তৈরির কেন্দ্র হিসেবে কীভাবে গড়ে তোলা যায়, সেই প্রশ্নগুলোও চাপা পড়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব আইনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ করে, সেসব আইন-বিধি পাল্টানোর আলোচনাও চাপা পড়ে গেল।
এর বদলে কোথাও কোথাও কেউ কেউ এমন সব দাবি নিয়ে হাজির হতে শুরু করলেন যে বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বাস্তবতা থেকে ভিন্ন এক গ্রহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যান চলাচলে বিধিনিষেধ দেওয়া হলো। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও সেই পথ ধরল। কোথাও কোথাও খবরদারি, কর্তৃত্ব, জবরদস্তির নানা খবর শোনা যাচ্ছে। চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত না মানলে নারী শিক্ষার্থীরা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। কোথাও কোথাও ছাত্র-শিক্ষক কীভাবে চলবেন, সেই নিয়মবিধিও ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে।
আশা করা হয়েছিল, অভ্যুত্থানে ডাকসুসহ ছাত্রসংগঠনগুলোর নির্বাচনের পথ খুলবে; কিন্তু সে পথও রুদ্ধ হয়ে আছে। ছাত্রসংগঠনগুলোর পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে কবে নির্বাচন হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অভ্যুত্থানের ছয় মাস পর কুয়েটে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং অন্যান্য ক্যাম্পাসের ঘটনাপ্রবাহ বলছে, অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্যাম্পাসের স্বৈরতান্ত্রিক পরিবেশ থেকে মুক্তির যে বড় আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা বুঝতে নীতিনির্ধারকেরা ব্যর্থ হয়েছেন। সেই পুরোনো ধারায় রাজনৈতিক শিক্ষকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যেও ক্যাম্পাস নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার সেই একই ধারার রাজনীতি দেখা যাচ্ছে। তাহলে অভ্যুত্থান থেকে কে কোন শিক্ষাটা নিল?
ক্যাম্পাসে দলীয় লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি ও শিক্ষকরাজনীতি কতটা ভয়াবহ সংকট তৈরি করে তা আমরা কয়েক দশক ধরে দেখে আসছি। স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে গণতান্ত্রিক কাঠামোর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে গেলে সংস্কার বলি, পরিবর্তন বলি, তার সূচনা এখান থেকেই করা দরকার। কিন্তু সেটা করা হয় নাই। সে কারণেই প্রশ্নটা উঠেছে, সম-সুযোগ ও সম-অধিকারের কথা বলা হলেও কেউ কেউ কেন বেশি সুবিধা পাবে?
গণ-অভ্যুত্থান সবখানেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নটাকে সামনে এনেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে রাজনৈতিক শিক্ষকদের নিয়োগ দিয়ে, কথিত রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস আশা করা কতটা যুক্তিসংগত? চূড়ান্ত বিচারে এখানে রাজনীতি সমস্যা নয়, সমস্যা পুরোনো ধারার লেজুড়বৃত্তিক ও কর্তৃত্ববাদী কাঠামোর রাজনীতি। কেননা, ছাত্র-জনতা রাজনীতি নিয়ে হাজির না হলে, শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের অবসান হতো না।
* মনোজ দে, প্রথম আলোর সম্পাদকীয় সহকারী
| সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর ইটপাটকেল, লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করছে। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জেলবন্দি কাশ্মীরি নেতা: ভারতের বিরুদ্ধে আইসিজেতে যাওয়ার আহ্বান মুশালের
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে পাকিস্তানে গুপ্তচরবৃত্তি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে বেলুচিস্তানে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ কুলভূষণ যাদবকে গ্রেপ্তার করে। ওই সময় তিনি ছিলেন ভারতীয় নৌবাহিনীর একজন কমান্ডার। পাকিস্তান তখন দাবি করে যে, তিনি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্স অ্যান্ড এনালাইসিস উইং (র)-এর হয়ে কাজ করছিলেন। একই সঙ্গে পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। এ অভিযোগে সামরিক আদালতে তার বিচার হয়। তাতে সন্ত্রাসে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেন কুলভূষণ। তাকে ২০১৭ সালে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এর ফলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক অচলাবস্থায় চলে যায়। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ভারত। তারা বিষয়টি নিয়ে যায় আইসিজেতে। অভিযোগ করে, কন্স্যুলার সুবিধা প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে ভিয়েনা কনভেনশনের অধীনে প্রদত্ত কুলভূষণের অধিকার লঙ্ঘন করেছে। এর জবাবে অন্তর্বর্তী আদেশের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আদেশ দেয় আইসিজে। একই সঙ্গে কুলভূষণকে কন্স্যুলার সুবিধা দেয়ার জন্য পাকিস্তানকে নির্দেশ দেয়। তারপর থেকে পাকিস্তানের হেফাজতেই আছেন কুলভূষণ। তবে তার মামলা নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত আছে।
এই উদাহরণকে সামনে এনে মুশাল মল্লিক পাকিস্তানকে আইসিজেতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বলেছেন, ভারত কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে তার স্বামী কাশ্মীরি নেতাকে আটকে রেখেছে। মুশাল লাহোর হাইকোর্ট বার এসোসিয়েশনে বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি বলেছেন, তার মাকে সম্প্রতি বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে ভারত ছদ্মবেশী অপারেশন চালাচ্ছে বলে তার অভিযোগ। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যদি কুলভূষণ যাদবের ঘটনা আইসিজেতে তুলতে পারে ভারত, তাহলে পাকিস্তান কেন ইয়াসিন মালিকের বিষয় তুলতে পারবে না? এ সময় তিনি ভারতের সঙ্গে সংলাপের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বলেছেন, সংলাপের কোনো মূল্য নেই এবং তা কোনো সমাধানও দেবে না। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত দেন। ভারতীয় বিচার বিভাগেরও সমালোচনা করেছেন মুশাল। তিনি বলেছেন, ভারতের আদালত থেকে কখনোই ন্যায়বিচার পানটি কাশ্মীরীরা। কাশ্মীরী নেতাদের নির্মূলে ধারাবাহিক পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত। এ জন্য তারা আন্দোলনকে দুর্বল করতে সব গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে জেলে বন্দি করছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘যুক্তরাষ্ট্র পুতিনকে সাহায্য করছে’
জেলেনস্কি আরো পরিষ্কার করে বলেন, তার দেশ বিক্রির জন্য নয়। ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্র ৫০০০০ কোটি ডলার দিয়েছে বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তা নিয়েও আপত্তি তুলেছেন তিনি। বলেছেন, একটি খনি অনুসন্ধানের চুক্তির মাধ্যমে এই অর্থ ফেরত দেবে কিয়েভ। এটা গুরুতর কোনো কথা নয়। তিনি বলেন, দেখুন আমরা সবাই বিজয় চাই। ট্রাম্প বিজয়ী হোন, তাও চাই। ইউক্রেন বিজয়ী হোক তা চাই। আমরা সবাই সফল হতে চাই। কিন্তু কোনো কিছুই এখন পরিষ্কার নয়। আমি শুধু ইউক্রেনকে রক্ষা করছি। এ দেশকে বিক্রি করতে পারবো না। সৌদি আরবের যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয় মঙ্গলবার। কিন্তু তা থেকে পুরো অন্ধকারে রাখা হয় কিয়েভকে। ওই বৈঠকের পরদিন বুধবার ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, অনেক বছর ধরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন পুতিন। তাকে সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনের ওপর ইতিবাচক কোনো প্রভাব নেই এতে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে রাশিয়ার আগ্রাসনের জন্য কিয়েভকে দৃশ্যত দায়ী করেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি দ্রুত যুদ্ধবিরতির চুক্তি না করার জন্য জেলেনস্কির সমালোচনা করেন।
অন্যদিকে কিয়েভকে ন্যাটোর সামরিক জোটে নেয়ার চেষ্টায় যুদ্ধ এমন দাবি করে প্রকাশ্যে এবং জোরালোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতা ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেছেন, তিনিই প্রথম এবং একমাত্র পশ্চিমা নেতা, যিনি এই কাজগুলো করছেন। মঙ্গলবার রাতে মার এ লাগোতে ব্রিফিং করেন ট্রাম্প। এতে তিনি জেলেনস্কির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ট্রাম্পের এ অবস্থানকেও স্বাগত জানিয়েছে মস্কো।
জেলেনস্কিকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনে অনেকদিন আগে নির্বাচন হয়েছে। তারপর আর আলোচনার টেবিলেও বসেননি তিনি। ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের শতকরা মাত্র ৪ ভাগ মানুষ সমর্থন করেন জেলেনস্কিকে। এ দাবিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, সর্বশেষ যে জনমত জরিপ হয়েছে তাতে শতকরা ৫৮ ভাগ মানুষ তার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে। আরো বলেন, যুদ্ধ চলাকালে তাকে উৎখাতের যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া শান্তি সংলাপ নিয়ে ইউরোপ কেন উদ্বিগ্ন
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ছায়ার নিচেই বেশি থেকেছে ইউরোপ। কিন্তু হোয়াইট হাউসে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর থেকে নতুন প্রশাসন ইউরোপিয়ান অংশীদার বা তাদের প্রতিরক্ষার সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেয়নি। ফলে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ইউরোপকে এখন ঐক্যবদ্ধ হতে হচ্ছে। অন্যদিকে ইউক্রেন বিষয়ে ওয়াশিংটন ও মস্কোর আলোচনার ওপর নির্ভর করবে তাদের ইউক্রেন বিষয়ক নির্ভরতা। রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আচরণই বা কেমন হবে সেটাও তাদের কাছে বড় প্রশ্ন। তবে ইউরোপিয়ানদের ভয় হলো তাদের মহাদেশের নিরাপত্তা কাঠামো পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।
ন্যাটোকে পূর্বদিকে বিস্তৃত হওয়ার বিরুদ্ধে পুতিন। রাশিয়ার ক্ষুদ্র ও সাবেক সোভিয়েত বাল্টি স্টেট এবং পোল্যান্ড এখন বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদেরকে উদ্ভাসিত মনে করছে। ফরাসি পত্রিকা লা মন্ডে বলছে, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিচ্ছেদ ঐতিহাসিক। তবে ইউরোপকে দেখাতে হবে যে, তারা তাদের নিজেদের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার সক্ষমতা রাখে। এতে বলা হয়, ইউরোপের চোখ বন্ধ করে থাকার দিন মিউনিখে উদ্ভটভাবে শেষ হয়েছে। বর্তমানে তাদের মহাদেশের নিরাপত্তা নির্ভর করে একান্তই ইউরোপিয়ানদের ওপর। একই সঙ্গে তাদের ঐক্য ধরে রাখার ওপরও তা নির্ভর করে।
প্যারিসে ইউরোপিয়ান নেতারা অনানুষ্ঠানিক যে সম্মেলন করেছেন সেখান থেকে দৃশ্যত কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি। ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী মোতায়েনের ধারণায় ব্যাপক বিভক্তি দেখা গেছে তাদের মধ্যে। ফ্রান্স এবং বৃটেন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়েছে। সেনা মোতায়েনের প্রস্তাবে জার্মানি ভিন্নমত দেখিয়েছে। এই সম্মেলনে যোগ দেন জার্মানি, বৃটেন, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, ন্যাটো এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নেতারা। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচনা করেছেন কিয়েভকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেয়া নিয়ে। একই সঙ্গে ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী মোতায়েন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। তিনি ইউক্রেনের জন্য শক্তিশালী এবং বিষ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শান্তিচুক্তি ২০১৪ ও ২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তির মতো ব্যর্থ না হয়। পরে জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি এবং ম্যাক্রন কীভাবে শান্তি অর্জন করা যায় তা নিয়ে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।টেকসই একটি শান্তিচুক্তির জন্য অন্যদের পাশাপাশি বৃটিশ সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িত হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে থাকতে হবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তাই শুধুমাত্র রাশিয়াকে আবার ইউক্রেন আক্রমণে কার্যকরভাবে বিরত রাখতে পারে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, একটি শক্তিশালী শান্তি প্রত্যাশা করে ইউক্রেন। তাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর মাধ্যমে তা করা যেতে পারে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দ্বিতীয় ধাপে ইসরাইলের সকল জিম্মিকে একসঙ্গে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাব হামাসের
এতে বলা হয়, হামাস নতুন করে যে প্রস্তাব দিয়েছে তাতে এখনও কোনো কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইল। বিবৃতিতে কাসেম বলেন, ইসরাইল যদি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং গাজা উপত্যকা থেকে তাদের সৈন্যদের সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নেয় তাহলে সকল জিম্মিকে একসঙ্গে মুক্তি দেয়া হবে। তিনি যোগ করেছেন, মধ্যস্থতাকীরেদের অনুরোধে মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে তারা। যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনারও দাবি করেছে সংগঠনটি।
এই প্রস্তাবের পাশাপাশি গাজা থেকে হামাসকে নির্মুলে ইসরাইলের যে পরিকল্পনা রয়েছে তার প্রবল বিরোধীতা করেছে হামাসের ওই নেতা। বিষয়টিকে হাস্যকর বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। কাসেম বলেন, এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল। হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ তো দূরের কথা প্রতিরোধ সংগ্রামও জারি থাকবে। এক্ষেত্রে গাজার ভবিষ্যত সম্পর্কে যেকোনো সিদ্ধান্ত ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে এখন পর্যন্ত হামাসের নতুন এই প্রস্তাবে সায় দেয়নি ইসরাইল। সোমবার ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার যে বৈঠক হয়েছে তা যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে দ্বিতীয় ধাপের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। ফলত কায়রোতে ইসরাইলি প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করার এখতিয়ার রাখে না।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কুয়েটে হামলা: বহিষ্কার যুবদল নেতা
মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দৌলতপুর থানা যুবদলের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতৃবৃন্দের কোন অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নিবেনা।
এতে যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সাথে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ইতিমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
ঢাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল হামলা করেনি, ছাত্রদলের ওপরই হামলা করা হয়েছে এমন অভিযোগ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় ঢাবি ছাত্রদলের সাথে ঢাকা কলেজসহ ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা যোগ দেন। মিছিলে নেতাকর্মীরা ‘শিক্ষা-মৌলবাদ—একসাথে চলে না’, ‘ছাত্রদলের ওপর হামলা কেন—প্রশাসন জবাব চাই’ এমন স্লোগান দেন বিক্ষোভ মিছিলটি টিএসসি থেকে ভিসি চত্বর ঘুরে ডাস চত্বর সংলগ্ন যাত্রী ছাউনির সামনে সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সহ সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুর আলম ভুঁইয়া ইমন প্রমুখ সভাপতি গনেষ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ৫ই আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে যে ঐক্য হয়েছে আমরা চাই তা যেন অক্ষুণ্ন থাকে। গেটরুম গণরুমের মাধ্যমে জোর করে ছাত্রলীগের কায়দায় কোনো শিক্ষার্থীদের উপর আমরা জাতীয়তাবাদী আদর্শ চাপিয়ে দিতে চাই না। অথচ খুলনায় অতর্কিত ভাবে আমাদের উপরই হামলা হয়েছে
সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন শাওন বলেন পতিত ফ্যাসিবাদের দোসর আমাদের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আপনাদের মধ্যে কি বিন্দুমাত্র কৃতজ্ঞতাবোধ নাই? -ফাহাম আব্দুস সালাম
ফেসবুকে ভাইরাল ছাত্রদল কর্মীর এক স্ট্যাটাসকে উদ্দেশ্য করে লেখা ফাহাম আব্দুস সালামের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ছাত্রদলের একটি ছেলের স্ট্যাটাস দেখলাম ‘শিবির কোবানো জায়েজ ছিলো, আছে, থাকবে। ইনশাল্লাহ।’ সে ‘কোপানো’ লিখছে না কারণ জানে যে ‘কোপানো’ লিখলে ফেইসবুক, স্ট্যাটাস খেয়ে ফেলবে। কিন্তু ‘জায়েজ’ লিখতে তার কোনো আপত্তি নাই। নট ওনলি ছেলেটা একটা ভায়োলেন্ট অপরাধ করার আহবান জানাচ্ছে - সে এই ঘৃণ্য অপরাধকে ইসলাম দিয়ে জাস্টিফাই করার একটা চেষ্টাও করছে। সত্য যে ছেলেটা কোনো গুরুত্বপূর্ণ নেতা-কর্মী না এবং তার আহবানে কেউ সাড়াও দেবে না। কিন্তু এই মানসিকতা আমাকে হতভম্ভ করে। আপনারা কি গত ১৫ বছর দেখেন নাই এই দেশে কী হয়েছিলো? আপনাদের মধ্যে কি বিন্দুমাত্র কৃতজ্ঞতাবোধ নাই যে খোদাতালা কোন জাহেলিয়া থেকে আমাদের মুক্তি দিয়েছেন? সেই জাহেলিয়াতেই আপনারা ফিরে যেতে চান?
তিনি আরও লেখেন, আপনারা কি উন্মাদ হয়ে গেছেন? এটা ইমম্যাটেরিয়াল যে খুঁজে বের করা- দোষ কার? এই ধরনের বাংলাদেশী মারপিটে কখনোই এক পক্ষ দায়ী হয় না। তর্কের খাতিরে স্বীকার করে নিচ্ছি যে কুয়েটে শিবির/বৈষম্যবিরোধীরা ছাত্রদলকে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড করতে দেয় নাই। শুরুতে নিঃসন্দেহে তাদের দোষ ছিল। তাই বলে কি আপনারা সশস্ত্র হয়ে মারপিট করবেন? এই ভয়ের সংস্কৃতি তৈরী করেছিলো আওয়ামী লীগ। আপনারা কি এই দেশের মানুষকে, আপনার প্রিয় প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের সেই জাহেলিয়ায় ফিরে নিয়ে যেতে চান?
আল্লাহর ওয়াস্তে আপনাদের এই মানসিক বিকারের চিকিৎসা করুন। ভায়োলেন্স কোনো সমস্যার সমাধান না। সিভিলাইজড মানুষ কথা বলে, গুডউইল দিয়ে নিজেদের সমস্যা সমাধান করে। আপনারাও সেটা শিখুন। এটা পড়াশোনার চাইতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ, রাজনীতির চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ। কেন আপনাদের এতো রাগ যে মারপিট করে নিবৃত্ত হতে হয় - কখনো ভেবেছেন? এই মানসিক বিকার আপনাদের জীবনের প্রতিটা পর্বকে ধ্বংস করবে। মারপিট করে হেডাম দেখানো অসভ্য মানুষের কাজ। কথা বলে, কনফ্লিক্টের মধ্যে সভ্যভাবে বসবাস করার হেডাম আমরা দেখতে চাই।
তিনি লেখেন, গত ১৫ বছর ছাত্রদল ও বিএনপির হাজার হাজার কর্মী মানবেতর জীবন যাপন করেছে, অকল্পনীয় অত্যাচারের ভেতর দিয়ে গেছে। কবর গিয়েছিলো বেড়ে আর ঘর গিয়েছিলো কমে। আপনাদের জাহিল আচরণ এই দলের নেতাকর্মীদের সব আত্মত্যাগকে মাটি বানিয়ে ফেলে। আপনাদের অসংখ্য বড় ভাই, বাপ-চাচা গত ১৫ বছর জীবনের একটা বড় সময় ব্যয় করেছে আওয়ামী জাহেলিয়া ফাইট করতে। কারো গিয়েছে সংসার, কারো ঘর, কারো যৌবন আর কারো জীবন। তাদের মধ্যে শুধু বিএনপি ছিলো না। হেফাজত, দেশের সাধারণ মানুষ, বাম, জামায়াত - বহু মানুষ জীবনের একটা লম্বা সময় এই অত্যাচার সহ্য করেছে এবং ফাইট করেছে। বহু মানুষ অসময়ে চলে গেছে - আমাদের ছেড়ে। আপনাদের কি অন্তত কোনো রেস্পেক্টও নাই? সেই মাইরপিট-কোপাকুপিতেই আমরা ফেরত যাবো? এই দখলদারিত্বের মানসিকতা থেকে আমরা উত্তরণ করতে চাই। কোনো সরকার, কোনো প্রধানমন্ত্রী আপনার এই অসুখ সারাতে পারবে না। আল্লাহর ওয়াস্তে বোঝার চেষ্টা করুন যে কোপাকুপি এবং মারপিট দিয়ে আপনার নিজের এবং আপনাদের দলের বিন্দুমাত্র লাভ হয় না।
এইসব weak men দের কাজ থেকে নিজেদের মুক্তি দেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কুয়েটে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দফায় দফায় সংঘর্ষ
কুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৫ই আগস্টের পর থেকে কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। অতীতে এই ক্যাম্পাসে রাজনীতির নামে ছাত্রলীগের সীমাহীন অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এমনকি তাদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনে একজন শিক্ষক পর্যন্ত মারা যান। বিপ্লব উত্তর সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল এখানে আর ছাত্র রাজনীতি ফিরবে না। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সোমবার ছাত্রদল কুয়েটে সদস্য সংগ্রহ ফরম বিতরণ শুরু করে।
মঙ্গলবার দুপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে ভিসির কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে। পথিমধ্যে ছাত্রদলের কর্মীদের সাথে মুখোমুখি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এ সময় কুয়েটের পকেট গেট দিয়ে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র, রামদা, চাপাতি, লোহার রড নিয়ে প্রবেশ করে। তারা ছাত্রদলের কর্মীদের সাথে একত্রিত হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামালা চালায়। মুহূর্তে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা ক্যাম্পাস। সাধারণ ছাত্রদের প্রতিরোধের মুখে ছাত্রদল কর্মীরা পালিয়ে গেলেও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সাথে কুয়েটের আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে পাল্টা হামলা করে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপে একের পর শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাদেরকে কুয়েট মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।
এদিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১০ শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছেন প্রীতম বিশ্বাস, শাফি, নাফিস ফুয়াদ, সৌরভ, তাওহিদুল, ইউসুফ খান সিয়াম, দেবজ্যোতি, মাহাদি হাসান, নিলয় ও মমতাহিন।
কুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাহাতুল ইসলাম বলেন, ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবিতে দুপুর ১টায় আমরা সমাবেশ ডেকেছিলাম। সেখানে বহিরাগতদের নিয়ে ছাত্রদল হামলা চালিয়েছে। জানা গেছে, কুয়েটের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী জনৈক ইফাজ ছাত্রদলের হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষের শুরুতে ছাত্রদল কর্মীরা বলেছিল, বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোন পুলিশ প্রশাসন ক্যাম্পাসে আসবে না। তোদেরকে রক্ষা করবে কে? এই বলে তারা হামলা শুরু করে। এদিকে সংঘর্ষ শুরুর দীর্ঘ সময় পরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব, সেনা বাহিনীর সদস্য ও এপিবিএন, বিজিবি ও নৌ কন্টিনজেন্ট সদস্যরা কুয়েটে আসেন। এ সময় ছাত্ররা কুয়েটের মেইন গেট আটকে দিয়ে নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। দুপুর ১টায় সংঘর্ষ শুরুর দীর্ঘ চার ঘণ্টা পর বিকেল ৫টায় কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে এলো এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান রাজিব বলেন, পরিস্থিতি অতি শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আসবে। আমার কুয়েটের ভিসি সহ সব পক্ষের সাথে কথা বলেছি। স্থানীয়দের সাথেও কথা হয়েছে। এঁটা আর বড় রূপ নিতে না পারে সেই চেষ্টা করছি।
এদিকে কুয়েটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর বহিরাগতদের সাথে নিয়ে ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ৮টায় বিক্ষোভ সমাবেশ ডাক দিয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর কারাগার, মৃত্যু ছাড়া নেই মুক্তি by আহাম্মদ উল্লাহ সিকদার
মধ্য আমেরিকার ছোট দেশ এল সালভাদর। ১৯৮০ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত গৃহযুদ্ধে জর্জরিত ছিল দেশটি। তখন হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ক্ষুধা আর দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে অনেকেই পাড়ি জমায় যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে গিয়ে নিজেদের সংখ্যালঘু ভাবা সালভাদেরিয়ানরা অপরাধী চক্র গড়ে তোলে। পরে তাদের ধরে ধরে এল সালভাদরে ফেরত পাঠানো হয়।
দেশে ফেরা সেই অপরাধীরাই এক সময় এল সালভাদরের ত্রাস হয়ে ওঠে। এরপর খুনোখুনির জন্য বিশ্বজুড়ে বদনাম ছড়িয়ে পড়ে দেশটির। কিন্তু গেল কয়েক বছরে এল সালভাদরে অপরাধের মাত্রা ৭০ শতাংশ কমে গেছে। এল সালভাদরে যে গ্যাং কালচার চালু ছিল তা দমাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে ২০২৩ সালে সিকট চালু করেন। নিয়ম করেন ভয়ংকর এই কারাগারে একবার ঢুকলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কেউ বের হতে পারবে না।
রাজধানী সান সালভাদর থেকে গাড়িতে করে সিকটে যেতে লাগে ৯০ মিনিট। লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় এই কারাগারে ৪০ হাজার পর্যন্ত বন্দি রাখা যায়। এখানে বন্দিদের পরিবারের সদস্য বা কোনো দর্শনার্থীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় না। আদালতের বিচারকাজ চলে জুমের মাধ্যমে। কারাগারের দেড় মাইলজুড়ে মোবাইল ফোনের সিগন্যাল ব্লক করে রাখা হয়েছে। এখানেই বন্দি রয়েছে এমএস 13 ও বারিও 18 বা এইটিনথ স্ট্রিট গ্যাংয়ের সদস্যরা।
গ্যাং সংশ্লিষ্টতা থাকলেই যে কাউকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে ২০২২ সালে ক্ষমতা দেন বুকেলে। এরপরই রাতারাতি ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। কুখ্যাত সব অপরাধীদের জেলে ঢুকিয়ে রাতারাতি নিরাপদ দেশগুলোর একটি হয়ে ওঠে এল সালভাদর। একই সঙ্গে এমন অভিযানের কারণে বুকেলের জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়।
কোনো কোনো অপরাধীকে শত বছর বা তার চেয়েও বেশি সাজা দেওয়া হয়েছে। অনেককে অবশ্য এখনো অভিযুক্তই করা হয়নি। কিন্তু কারাগারের পরিচালক জানান, কোনো কারাবন্দিই এখান থেকে বের হতে পারবে না। তার কথা কতটা সত্য, তা কারাগারের নিরাপত্তাই বলে দেয়। কারাগারকে ঘিরে রাখা কাঁটাতারে হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ রয়েছে। কারাবন্দিদের প্রতিদিন মাত্র আধা ঘণ্টার জন্য সেল থেকে বের করা হয়। আর ২৪ ঘণ্টা ধরে জ্বালিয়ে রাখা হয় বাতি।
আবার কয়েদিদের জন্য আলাদা টয়লেটের কোনো ব্যবস্থাই নেই। প্রতিটি সেলের ভেতর দুটি করে উন্মুক্ত টয়লেট রয়েছে। বন্দিদের খাবার খেতে হয় হাতে। কেননা খাবারের সঙ্গে কোনো চামচ দেওয়া হয় না। এক সময় যারা এল সালভাদরের ৯০ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ রেখেছিল, এখন তারাই ভয়াবহ এই কারাগারে বন্দি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার দেশের অপরাধী ও অভিবাসীদের এই সিকট কারাগারে পাঠাতে চান। আমেরিকার এমন প্রস্তাবে রাজিও হয়েছেন বুকেলে।
![]() |
| এল সালভাদরের সিকট বন্দিশালা। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলা: স্বামীকে বাঁচাতে ঢাল হয়ে চিৎকার করছিলেন স্ত্রী
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, কিশোর গ্যাং চক্রটির সদস্যরা উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ভেতরে উচ্চশব্দে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজিয়ে দ্রুত গতিতে চালাচ্ছিল। এ সময় তাদের মোটরসাইকেলে একটি শিশুকে চাপা দেয়ার চেষ্টা করে। পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি মোটরসাইকেলে ভুক্তভোগী দম্পতি এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাদের লোকজন ডেকে রামদা দিয়ে কোপাতে থাকে। এ সময় ভুক্তভোগী নারীর চিৎকারে জড়ো হন লোকজন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে ধরে পিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
ভুক্তভোগী নাসরিন আকতার ইপ্তি (২৮) উত্তরা পশ্চিম থানায় করা মামলায় বলেছেন, আমি টঙ্গীতে চাকরি করি তাই উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ৯/এ রোডের সাত নম্বর বাড়িতে থাকি। সোমবার আমি মার্কেট করার জন্য স্বামীর সঙ্গে তার মোটরসাইকেলে বের হই। মার্কেট শেষে বাসায় ফেরার সময় রাত ৯টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৭ নং সেক্টরের ৯ নং রোডের বাসা নং-১০ এর সামনে রাস্তায় পৌঁছা মাত্র দুটি মোটরসাইকেলে ৩ জন ব্যক্তি আমার মোটরসাইকেলের দুই পাশ দিয়ে এলোমেলো ভাবে বিকট শব্দ করে যায়। টার্নিং ঘোরার সময় এদের মধ্যে একটি মোটরসাইকেল সামনের একটি রিকশাকে ধাক্কা দেয়। তখন রিকশায় ৪ বছরের একটি শিশু তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ছিল। শিশুটির বাবা রিকশা থেকে নেমে এসে ওই মোটরসাইকেল চালকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে একটি থাপ্পড় মারেন। আমার স্বামী মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে আসামিদের বলে ভাই সরি বললেই তো হয়ে যায় এত ঝামেলা করার দরকার কি। তখন রিকশাসহ রিকশার যাত্রীরা চলে যায়। পরে মোটরসাইকেলে থাকা ৩ জন আসামি আমার স্বামীর সঙ্গে তর্কবিতর্ক শুরু করে। একপর্যায়ে আসামিরা আমার স্বামীকে এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে এবং বলে তুই আমাদের চিনিস? আমরা কে? এরকম বলে মোবাইল ফোনে তারা কথা বলতে থাকে। তখন আমরা দুইজন মিলে তিনজনের একজনকে ধরে ফেলি এবং তার মোটরসাইকেল আটকে দেই। আশপাশের কিছু লোক এসে আমাদের সহযোগিতা করেন। তখন আসামিরা দৌড়ে সামনের দিকে যায়। সেখানে ১০ জন রামদা হাতে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত আশপাশের জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ও জনমনে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার স্বামী মেহেবুল হাসানকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ওই সময় আমাদের সঙ্গে থাকা লোকজন ভয়ে দূরে সরে যায়। ওই দৃশ্য দেখে আমি আমার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে গেলে অজ্ঞাতনামা ১ জন আসামি আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে কোপ মারলে আমি আসামির কোপের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমার বাম হাত এগিয়ে দিলে উক্ত কোপ আমার বাম হাতের কনুইয়ের নিচে লেগে রক্তাক্ত জখম হয়। তখন আসামিরা আমার স্বামীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ডান হাতে কনুইয়ের নিচে, বাম পাশের বগলের নিচে, ডান পায়ের গোড়ালিতে মারাত্মকভাবে জখম করে আহত অবস্থায় টেনে অপহরণের চেষ্টা করে।
আমার স্বামী তখন রক্তাক্ত অবস্থায় চিৎকার করে সাহায্য চাইলে আশেপাশের লোকজন ও থানা পুলিশের টহল টিম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় মোবারক হোসেন ও রবি রায়কে গ্রেপ্তার করে। বাকি আসামিরা আজমপুরের দিকে পালিয়ে যায়। পরে আমি ও আমার স্বামীকে উপস্থিত লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার ও আমার স্বামীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। ঢাকা মেডিকেলে যাওয়ার পথে আরও অসুস্থ হলে আমাদের এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার করা হয়। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, মোটরসাইকেলে উচ্চ শব্দ করে দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা একটি শিশুকে চাপা দেয়ার চেষ্টা করে। পাশ দিয়ে আরেকটি মোটরসাইকেলে যাওয়া দম্পতি প্রতিবাদ করে। এরপর কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাদের লোকবল ডেকে দম্পতির ওপর রামদা দিয়ে হামলা চালায়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া গতকাল আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘কব্জি কাটা’ গ্রুপের প্রধান আনোয়ার গ্রেপ্তার
তিনি আরও বলেন, র্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর আনোয়ার স্বীকার করেছে সে তিনজনের কব্জি কেটেছে। কিন্তু র্যাবের তদন্তে আনোয়ার সাত জনের কব্জি কেটেছে বলে তথ্য মিলেছে। হামলা ও ছিনতাইয়ের সময়ে আনোয়ার যে ব্যক্তির ওপর হামলা করবে তার আশপাশের রাস্তায় কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করে। এরপর তারা যানজট কমাতে সহযোগিতা করার নামে কৃত্রিম ব্লক সৃষ্টি করে। এরপর আনোয়ার এসে টার্গেট ব্যক্তির ওপর হামলা করে। পাশাপাশি সে আসার আগে তার সামনে ও পেছনে একাধিক টিম থাকে। সিসি ক্যামেরা থাকলে সেগুলো ভাঙচুর ও নজর রাখে। রাস্তার মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের আদলে যানজট নিয়ন্ত্রণের নাটক সাজিয়ে রাস্তা ব্লক করে। এরপর তারা ফিল্মি স্টাইলে ভুক্তভোগীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে হাতের কব্জি কেটে সবার সামনে দিয়ে হেঁটে চলে যায়।
খালিদুল হক হাওলাদার বলেন, কব্জি কাটা আনোয়ার ছাড়াও এদিন তার দুই সহযোগী মো. ইমন (২০) এবং ফরিদ (২৭)কে আদাবর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র সামুরাই একটি, ছুরি, গাঁজা ৮ কেজি, একটি প্রাইভেটকার ও একটি হাত ঘড়ি উদ্ধার করা হয়।
আনোয়ার ২০০৫ সালে জীবিকার সন্ধানে বাগেরহাট জেলা থেকে ঢাকায় তার বাবার কাছে চলে আসে। ঢাকায় এসে বিশুদ্ধ খাবার পানি পরিবহন করতো। প্রথম পর্যায়ে আনোয়ার অপরাধ জগতে ছিনতাই ও বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি শুরু করলেও ২০২৪ সালে মানুষের কব্জি কেটে ভিডিও বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। সেই থেকে নিজেকে কব্জি কাটা গ্রুপের প্রধান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে এবং কব্জি কাটা ভিডিওটি টিকটক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এলে ধারাবাহিক অভিযানের মুখে বাহিনীর অন্যতম সদস্য ভাগ্নে বিল্লালসহ আরও অনেকে গ্রেপ্তার হয়। এ অবস্থায় আনোয়ার আত্মগোপনে থেকে দুর্ধর্ষ এক সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে।
র্যাব জানায়, কব্জি কাটা আনোয়ার গ্রুপ নিজের শক্তি বৃদ্ধি এবং আধিপত্য বজায় রাখার জন্য এলাকার কিশোরদের মাদক, অস্ত্র ও অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে নিজস্ব দলের ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে তাদের ব্যবহার করে অপরাধ জগৎ থেকে উপার্জিত টাকার মাধ্যমে সে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়। অত্যন্ত কৌশলে বার বার সে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। এলাকায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস করেনি। কব্জি কাটা আনোয়ার বাহিনী প্রথমে যাকে টার্গেট করে তাকে যেকোনোভাবে হামলা করে। গত কয়েক মাসে আনোয়ারের হাতেই ৭ থেকে ৮ জন হামলার শিকার হয়েছেন। কেউ হারিয়েছেন পা, কেউ হাত, আবার কেউ পঙ্গু হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছেন। তার হামলার শিকার ব্যক্তিদের বেশির ভাগই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। তার ভয়ে কেউ মামলা করেন না। মামলা করলে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায় আনোয়ারের গ্রুপের সদস্যরা।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, গত ৫ই আগস্টের পর যৌথ বাহিনীর অভিযানে পাঁচ শতাধিক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। মোহাম্মদপুরে অপরাধের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৫ই আগস্টের পর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এই পরিবর্তনের জের ধরে সন্ত্রাসীরা তৎপর হয়ে ওঠে। ৫ই আগস্টের পর মোহাম্মদপুরে যে পরিমাণ অপরাধ বেড়েছিল, যৌথভাবে অভিযান করে জেনেভা ক্যাম্পসহ মোহাম্মদপুরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। মোহাম্মদপুর ও আদাবরকেন্দ্রিক কোনো সন্ত্রাসী ও গডফাদারের স্থান হবে না। আনোয়ারের পেছনে দীর্ঘদিন লেগেছিলাম। আমাদের কাছে তথ্য আসে মোহাম্মদপুরের এক্সেল বাবু নামে এক ব্যক্তি তাকে মদত দিচ্ছে। সে আড়ালে থেকে আনোয়ারকে ছত্রছায়া দেয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
২৯ বছর পর পাকিস্তানে বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট: আজ শুরু ‘চ্যাম্পিয়নস ট্রফির’ মহারণ by সৌরভ কুমার দাস
সর্বশেষ ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে মাঠে গড়ায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। দীর্ঘ ৮ বছর পর আবার মাঠে ফিরছে ‘মিনি বিশ্বকাপ’ খ্যাত এই টুর্নামেন্ট। সেবার ফাইনালে ভারতকে ধসিয়ে শিরোপা উল্লাসে মাতে পাকিস্তান। এবার ঘরের মাঠে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামবে তারা। প্রথম ম্যাচে মোহাম্মদ রিজওয়ানের দলের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। এই ম্যাচের আগে মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে কিউইরা। কয়েকদিন আগে ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানকে তাদের মাঠে দুবার হারিয়ে শিরোপা জিতেছে মিচেল স্যান্টনারের দল। পাকিস্তানের সর্বশেষ আইসিসি ইভেন্ট হয় ১৯৯৬ সালে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সেবার যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করে দেশটি। ২৯ বছর পর কোনো আইসিসি ইভেন্ট ফিরছে পাকিস্তানে। ২০০৯ সালে পাকিস্তান সফররত শ্রীলঙ্কা দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়। এরপর প্রায় অর্ধযুগ দেশটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিষিদ্ধ ছিল। ২০১৫ সালের পর থেকে আস্তে আস্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরতে শুরু করে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার হচ্ছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি।
তবে এবারো এককভাবে আয়োজন করতে পারছে না তারা। রাজনৈতিক বৈরিতায় প্রায় দেড় যুগ পাকিস্তান সফর করে না ভারত। এর আগে ২০২৩ সালেও ভারত না যাওয়ায় শ্রীলঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে হাইব্রিড মডেলে এশিয়া কাপ আয়োজন করতে হয় পাকিস্তানকে। এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিও হচ্ছে একইভাবে, ভারত তাদের ম্যাচ খেলবে দুবাইয়ে। যদিও তারা ফাইনালে ওঠে তাহলে ফাইনালও হবে সেখানেই।
এবার নিরাপত্তা নিয়ে খুবই কঠোর অবস্থানে পাকিস্তান। লাহোরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন ৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য। কয়েকদিন আগে ঘরের মাঠে পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে পাকিস্তান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৫২ রান তাড়া করে জিতলেও কিউই বোলারদের বিপক্ষে পাকিস্তানি ব্যাটাররা মোটেও স্বস্তিতে ছিলেন না। প্রথম ম্যাচে ৩৩০ রান তাড়ায় তারা হারে ৭৮ রানে আর ফাইনালে আগে ব্যাটিং করে মাত্র ২৪২ রান তুলে। পাকিস্তানের জন্য শক্তির জায়গা হচ্ছে পেস বোলিং বিভাগ। নতুন বলে কিউই ব্যাটারদের অস্বস্তিতে ফেলতে পারেন তারা। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভরসার নাম শাহীন শাহ আফ্রিদি। দুর্দান্ত গতি আর দারুণ অ্যাঙ্গেলে বোলিং করা শাহীন শুরুতেই উইকেট তুলে পাকিস্তানকে এগিয়ে দিতে পারেন ম্যাচে। নাসিম শাহ ও হারিস রউফরাও আছে দারুণ ছন্দে। তবে সেক্ষেত্রে তাদের সামনে বড় বাধা কেন উইলিয়ামসন। ৩ নম্বরে নামা এই ব্যাটার যে কোনো বিপদে দলের হাল ধরতে ওস্তাদ। আইসিসি ইভেন্টে উইলিয়ামসনের চেয়ে ভরসাযোগ্য ব্যাটার কমই আছে। গেল ত্রিদেশীয় সিরিজেও ৩ ম্যাচে ২৫২ রান করেছেন তিনি। ওপেনার ডেভন কনওয়েও আছেন দারুণ ছন্দে। শেষ ৩ ম্যাচে সবমিলিয়ে ৮৮১ রান করেছে নিউজিল্যান্ড, হারিয়েছে ১৫ উইকেট। যেকোনো কন্ডিশনে দ্রুত মানিয়ে নেয়ার জন্য বাড়তি সুবিধা পাবে তারা। লোয়ার মিডল অর্ডারে টম ল্যাথাম ও গ্লেন ফিলিপসও সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ফর্মে আছেন। মিচেল স্যান্টনারের অধিনায়কত্বে বোলিং আক্রমণও দারুণ ব্যালেন্সড দলটির। ফার্গুসন চোটে ছিটকে গেলেও তারা পেয়ে গেছে কাইল জেমিসনকে। অধিনায়ক স্যান্টনার নিজেই স্পিন দিয়ে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন যেকোনো ম্যাচে।
পাকিস্তানের জন্য চিন্তার কারণ বাবর আজমের ফর্ম। দীর্ঘদিন ধরেই রান খরায় ভুগছেন তিনি। তবে ওপেনার ফখর জামান ও অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান আছেন দারুণ ছন্দে। লোয়ার মিডল অর্ডারে সালমান আঘাও অবদান রাখছেন ব্যাট হাতে। বিপিএলে দারুণ পারফর্ম করা দুই অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ ও খুশদিল শাহও আছেন পাকিস্তান স্কোয়াডে। দু’জনেই যেকোনো দলের জন্য সম্পদ হতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত জয় পেতে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ব্যাটারদের বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমাদের ভদ্রতাকে দুর্বলতা মনে করবেন না
মঙ্গলবার বিকালে দলের কারাবন্দি নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে রাজধানীর পল্টন মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে পল্টন মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি জাতীয় প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগ গিয়ে শেষ হয়। এর আগে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পল্টন মোড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের কবলে ছিল। প্রথম নির্যাতন করেছিল জামায়াতে ইসলামীর ওপর। এই সময়ে আজহারের মুক্তির জন্য আমাদের রাস্তায় নামতে হবে কখনো কল্পনাও করিনি। আমরা ভদ্র কিন্তু বোকা নই, ভদ্রতাকে কেউ যেন দুর্বলতা মনে না করেন।
জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফেরতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের নিবন্ধন তো জালিম সরকার কেড়ে নিয়েছিল। সেই জুলুম কি এ সরকার আবার করবে? এজন্য কি হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছিল? আমরা বাংলাদেশে আর কোনো বৈষম্য বরদাস্ত করবো না।
তিনি বলেন, একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন করার জন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি। এই সংগঠন কারও কাছে মাথানত করে না। দলমত নির্বিশেষে আসুন সবাই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াই।
ঢাকা মহানগর জামায়াত আয়োজিত সমাবেশে মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, আজহার ভাইয়ের মুক্তির দাবিতে রাস্তায় আসতে হবে কখনো ভাবিনি। এটা আমাদের ন্যায্য অধিকার। যদি আজহার ভাইকে মুক্তি এবং জামায়াতের নিবন্ধন, দাঁড়িপাল্লা ফিরিয়ে না দেয়া হয়, আমরা পুরা ঢাকা মহানগরীতে বিক্ষোভ করবো।
ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আমরা দেখেছি প্রধান উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা তার মামলা থেকে মুক্তি নিয়েছেন অথচ দীর্ঘ ১৪ বছর যাবৎ অন্যায়ভাবে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছেন আজহার ভাই। কোন কারণে তাকে মুক্তি দেয়া হয়নি। আমরা দেখতে চাই এই ষড়যন্ত্র কারা করেছে। আমরা অবিলম্বে নিবন্ধন ফিরে পেতে চাই, আজহার ভাইয়ের মুক্তি চাই।
তিনি বলেছেন, আমরা চেয়েছিলাম, এই সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের যেন বক্তব্য দিতে না হয়। এই সরকারকে আমরাই বসিয়েছি। কিন্তু আমরা দেখছি, এই সরকারের ভেতর ভারতীয় ভূতের আছর আছে। আজহারুল ইসলামের রায় বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনাল কিংবা সুপ্রিম কোর্ট থেকে ঘোষিত হয়নি। এই রায় ঘোষণা হয়েছে মোদি সরকারের গোপন অন্ধকার কক্ষ থেকে।
মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি হয়েছে ভারতের সিদ্ধান্তে। কামরুজ্জামানের ফাঁসি হয়েছে ভারতের সিদ্ধান্তে। আমাদের সকল নেতার ফাঁসি, জেল-জুলুম সবই শেখ হাসিনার মাধ্যমে ভারত বাস্তবায়ন করেছে।
জামায়াত নেতা বলেন, আমরা ভারতকে মানি না, আমরা মানি বাংলাদেশকে। আমরা মাত্র আন্দোলন শুরু করেছি। ভালোয় ভালোয় আজহারুল ইসলামকে ছেড়ে দিন।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বলেন, একটি বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থার জন্য এই দেশের ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছিল। তারা আশা করেছিল এত বছর ধরে যত জুলুম, অবিচার করা হয়েছে তার মূলোচ্ছেদ করা হবে কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিকে মুক্তি দিলেও অজানা কারণে আজহার ভাইকে মুক্তি দেয়া হয়নি। অবিলম্বে আজহারুল ইসলাম ভাইকে মুক্তি দিতে হবে।
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিমের পরিচালনায় সমাবেশে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার প্রমুখ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তিস্তা পাড়ে উত্তরাঞ্চলবাসীর জনস্রোত ‘পানির হিস্যা কারও করুণার বিষয় নয়’
মঙ্গলবার তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে তিস্তা রেলসেতু লালমনিরহাট পয়েন্টে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গত সোমবার থেকে ৪৮ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় ১১টি পয়েন্টে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি একসঙ্গে শুরু হয়। পদযাত্রাটি লালমনিরহাট প্রান্তের তিস্তা ব্রিজ থেকে শুরু হয়ে রংপুরের কাউনিয়া বাজারে গিয়ে শেষ হয়। তিস্তা বিস্তৃত রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামের ১১টি পয়েন্টে স্মরণকালের এই বৃহৎ কর্মসূচিতে যোগ দেন এ অঞ্চলের সর্বস্তরের লাখো মানুষ। প্রথম দিনের মতো সমাপনী দিনেও সকাল থেকেই ১১টি পয়েন্টে সমাবেশ, পদযাত্রা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করে ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি’। সেইসঙ্গে প্রতিবাদ হিসেবে দেশীয় সংগীত, নৃত্য, খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এই পানি বণ্টন নিয়ে আমাদের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে অপ্রতিবেশীমূলক আচরণ করেই চলেছে। আজকে প্রায় ৫০ বছর হলো ফারাক্কার অভিশাপ থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পায় নাই। এখন তিস্তা বাংলাদেশের জন্য আরেকটা অভিশাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সব আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে আমাদের প্রতিবেশী উজানের গজলডোবায় একটা বাঁধ নির্মাণ করেছে। এটা করে তিস্তার স্বাভাবিক এই পানি প্রবাহকে তারা নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। তাদের এই অপ্রতিবেশীমূলক আচরণের কারণে আজকে উত্তরাঞ্চলের এই কোটি জনগণ বন্যায়, খরায় দুর্বিষহ জীবন পার করছে। পানির অভাবে তিস্তার বুকে আজকে ধু-ধু বালুচর। একদিকে পানির অভাবে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার ফসল। আবার হঠাৎ করেই উজান থেকে ছেড়ে দিচ্ছে পানি! সেই পানির কারণে বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের ঘর-বাড়ি। শস্যের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় লাখ কোটি টাকার।
বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ মনে করে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে প্রয়োজনে সকল অন্যায্য এবং একতরফা যে সকল চুক্তি, এগুলোর পুনর্মূল্যায়ন কিংবা পুনর্বিবেচনা করা দরকার। ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’- আমাদের পররাষ্ট্রনীতির এটাই মূলনীতি। কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে এই নীতিটি পুনর্বিবেচনা করা দরকার।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী ভারত যদি পানির ন্যায্য হিস্যা না দেয় কিংবা দিতে যদি দেরি করে এবং তিস্তা চুক্তি করতে অনীহা দেখায় তাহলে দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমাদেরই আমাদের পথ খুঁজে নিতে হবে। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের জন্য জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট সকল আন্তর্জাতিক ফোরামে জোরালোভাবে বাংলাদেশের দাবি তুলে ধরতে হবে। একইসঙ্গে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেও আমাদের কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করতে হবে। আন্তর্জাতিক উদ্যোগের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলকে মরূকরণ থেকে বাঁচাতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। বিএনপি জনগণের সমর্থনে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব পেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, গণতান্ত্রিক দলগুলোর পক্ষ থেকে জাতীয় নির্বাচনের কথা শুনলেই অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ কেউ বিচলিত হয়ে ওঠেন। আমাদের অবশ্যই মনে রাখা প্রয়োজন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে একেক উপদেষ্টার একেক রকমের বক্তব্য এই খুনি ও মাফিয়া চক্রের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পথ সুগম করে দেয়। এজন্য বিএনপি বারবার এই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তাদের কর্মপরিকল্পার রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে।
ওদিকে দ্বিতীয়দিনের কর্মসূচিতেও সকাল থেকেই তিস্তা নদীর তীরে নামে মানুষের ঢল। তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নসহ পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে তিস্তার দুই পাড়ের এই সমাবেশস্থল। তিস্তাপাড়ে হাজারো মানুষ ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগান সম্বলিত পতাকাসহ ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হন। এই পদযাত্রায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীসহ তিস্তাপাড়ের সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন তিস্তা রক্ষা আন্দোলন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বিএনপি’র রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু।
সমাপনী সমাবেশে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, পানি সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে তিস্তা নিয়ে ভারত আমাদের ব্ল্যাকমেইল করতে না পারে। আর আগামীদিনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কোনো রকম নাক গলাবেন না। আমার দেশ, আমরা সমস্যা। আমরাই সমাধান করবো। সেক্ষেত্রে বিদেশিদের যদি পরামর্শ প্রয়োজন হয়, সেটা আমরা নেবো।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজকে তিস্তাকে দেখে আমার হৃদয়ে রক্তরক্ষণ হচ্ছে। পানির অভাবে এই অঞ্চলে ১৫ লাখ টন চাল কম উৎপাদন হচ্ছে। আর আজকে তিস্তার পানি কেন নাই, কারণ উজান থেকে যে পানি আসছে সেটাকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ন্যায্য পানি পাওয়া থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আর অপেক্ষা করা সম্ভব না। যেকোনো উপায়ে তিস্তার পানি প্রবাহিত করতে হবে।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই পানি আমাদের ন্যায্য অধিকার। এটা আমাদের মানবাধিকার। কিন্তু তিস্তা নদী একতরফাভাবে প্রবাহিত করে ভারত মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।
বিএনপি’র রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রংপুর বিভাগীয় বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক প্রমুখ।
তিস্তার তীরে লক্ষাধিক মানুষের ৪৮ ঘণ্টার অবস্থান
‘কোনঠে সগায়, জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই।’ স্লোগানে, স্লোগানে মুখোরিত তিস্তা নদী অঞ্চল। গতকাল মঙ্গলবার তিস্তা নদীতে নেমে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান আন্দোলনকে ঘিরে তিস্তার তীরে লক্ষাধিক মানুষের ঢল। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে উত্তাল রংপুর অঞ্চলের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, রংপুরসহ পাঁচ জেলা। কৃষক, জেলে, শ্রমিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সর্বস্তরের পদচারণায় মুখোরিত ছিল তিস্তারপাড়। এ যেন এক মিলনমেলা। অন্যরকম দৃশ্য। দুই দিনব্যাপী তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের শেষ দিনেও তিস্তা বেষ্টিত এলাকায় ১১ পয়েন্টে সাজ-সাজ রব। পাঁচ জেলার সর্বস্তরের জনগণ তিস্তা অভিমুখে পদযাত্রা এবং নদীর দুই তীরে ২৩০ কিলোমিটার জুড়ে অবস্থান কর্মসূচি, বিভিন্ন রঙ-বেরঙে সাজানো চোখ ধাঁধানো দৃশ্য। দিন-রাত উৎসবমুখর পরিবেশকে ঘিরে ভাওয়াইয়া গান, পালাগান, পল্লী গীতি, জারিগান, ব্যান্ডপার্টি, বাঁশির সুর, তিস্তাপাড়ের মানুষদের নিয়ে নাটক, হস্তশিল্প, কুটির শিল্পসহ বিভিন্ন স্টল ও দোকানপাট গড়ে উঠেছে। চলছে সমান তালে বেচাকেনা। রাত্রী যাপনের জন্য টাঙানো হয়েছে শত শত তাঁবু। নারীদের জন্য রয়েছিল আলাদা ব্যবস্থা। আন্দোলনে আসা একজোট জনতার এক রঙের টি-শার্ট, মাথায় ক্যাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। ৪৮ ঘণ্টার আন্দোলনের আগের দিন থেকে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন গুড়, চিঁড়া, মুড়ি, খই পুঁটলিতে বেঁধে নিয়ে আসেন খাওয়ার জন্য। আয়োজক কমিটির উদ্যোগে ২৫ হাজার মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। তিস্তা রক্ষা ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে যেন সবাই এক। চোখে-মুখে নতুন স্বপ্ন। তিস্তা ফিরবে আগের রূপে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
February
(308)
-
▼
Feb 19
(15)
- ট্রাম্প কি গাজা দখলের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন
- কুয়েটে কেন এমন সংঘাত, কী হচ্ছে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে...
- জেলবন্দি কাশ্মীরি নেতা: ভারতের বিরুদ্ধে আইসিজেতে য...
- ‘যুক্তরাষ্ট্র পুতিনকে সাহায্য করছে’
- যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া শান্তি সংলাপ নিয়ে ইউরোপ কেন উদ...
- দ্বিতীয় ধাপে ইসরাইলের সকল জিম্মিকে একসঙ্গে মুক্তি ...
- কুয়েটে হামলা: বহিষ্কার যুবদল নেতা
- আপনাদের মধ্যে কি বিন্দুমাত্র কৃতজ্ঞতাবোধ নাই? -ফাহ...
- কুয়েটে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দফায়...
- বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর কারাগার, মৃত্যু ছাড়া নেই মুক্...
- উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলা: স্বামীকে বাঁচাতে ঢাল...
- ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপের প্রধান আনোয়ার গ্রেপ্তার
- ২৯ বছর পর পাকিস্তানে বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট: আজ শুরু ...
- আমাদের ভদ্রতাকে দুর্বলতা মনে করবেন না
- তিস্তা পাড়ে উত্তরাঞ্চলবাসীর জনস্রোত ‘পানির হিস্যা ...
-
▼
Feb 19
(15)
-
▼
February
(308)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

