Friday, September 25, 2015

নেপালে ভারতীয় সরবরাহ বন্ধ, অঘোষিত অবরোধ আরোপ?

ভারত থেকে নেপালগামী জ্বালানিসহ সব ধরনের সামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ অব্যাহত রয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এজন্য নেপালে বিক্ষোভকে দায়ী করছে। কিন্তু অনেকে মনে করছে, বিক্ষোভকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে নেপালে অঘোষিত অবরোধ আরোপ করে কাঠমান্ডুকে শায়েস্তা করতে চাচ্ছে। অনেকের কাছে এটাকে ১৯৮৯ সালের অবরোধ বলে মনে হচ্ছে। স্থলপরিবেষ্টিত নেপাল তাদের সরবরাহের জন্য ভারতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
নতুন সংবিধানকে কেন্দ্র করে ভারতপন্থী হিসেবে পরিচিতি মদেশি জনগোষ্ঠী সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা অভিযোগ করেছে, নতুন সংবিধানে তাদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। ভারত আলোচনার মাধ্যমে এই সঙ্কট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে।
কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়, নেপালের তরাই অঞ্চলে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ভারতীয় কাস্টমস কর্মকর্তারা নেপালগামী পণ্যবাহী যান, এলপিজি বুলেট এবং তেল ট্যাংকারগুলো চলাচলে বাধা দিচ্ছে। বিরাটনগর, কাকাদহিটা, বিরগঞ্জ, ভাইরাহাওয়া ও নেপালগঞ্জ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মালবাহী ট্রাক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা আরোপ করা হয়েছে।
নেপাল টাইমসের খবরে প্রশ্ন করা হয়েছে, এটা কি ১৯৮৯ সালে নেপালের বিরুদ্ধে ভারতের আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধের পুনরাবৃত্তি? কাঠমান্ডু এখন নয়া দিল্লির কাছে এই প্রশ্নের জবাব চাচ্ছে।
নেপালের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাগ রাজ অধিকারি শুক্রবার এ বিষয়ে নেপালে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। ভারত অবশ্য অবরোধ আরোপের কথা অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, বিরাজমান পরিস্থিতিতে তাদের পণ্য যেতে পারছে না।
ভারত অস্বীকার করলেও অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে নেপাল ওয়েল করপোরেশন (এনওসি) বৃহস্পতিবার থেকে তেল আমদানি করতে পারছে না। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী নেপালি ট্যাংকারচালকদের কাজে বাধা দিচ্ছে বলেও নেপাল টাইমসের খবরে বলা হয়েছে। পূর্ব নেপালে যেখানে কোনো বিক্ষোভ নেই, সেখান দিয়েও ভারত কোনো পণ্য নেপালে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। অন্যদিকে পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়েছে, নেপালের নতুন সংবিধানবিরোধী শত শত বিক্ষোভকারী গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ রুটগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে নিত্যপণ্য, রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস, পেট্রোলিয়াম পণ্যবোঝাই শত শত ট্রাক আটকা পড়ে আছে। পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যাপারে নেপাল ইন্ডিয়ান ওয়েল করপোরেশনের কাছে পুরোপুরি নির্ভরশীল। প্রায় এক মাস ধরে চলমান সঙ্ঘাতে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে। পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়, নেপালের বাণিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রণালয় চীনের সাথে দুটি বাণিজ্য পয়েন্ট খোলার জন্য কূটনৈতিক প্রয়াস শুরু করেছে।

নেপালের আগুন ভারতে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

নেপালের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজার পত্রিকায় একটি বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে। অগ্নি রায়ের বিশ্লেষণটি এখানে তুলে ধরা হলো।
পাঁচ মাস আগে নেপালে ভূকম্পের সময় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ভারত। চিনের সঙ্গে পাল্লা কষে ত্রাণকার্যে নেতৃত্ব দিয়েছিল। প্রশংসা কুড়িয়েছিল কাঠমান্ডু-সহ গোটা বিশ্বের।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রতিবেশী-নীতিতে নেপালকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। শুধু ঘোষণাই নয়, আই কে গুজরালের পর তিনিই প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যিনি কাঠমান্ডু সফরে যান। সেটিই ছিল তাঁর দ্বিতীয় বিদেশ সফর (ভুটানের পর)। নতুন বিদেশসচিব হওয়ার পর এস জয়শঙ্করও দফায় দফায় কাঠমান্ডু গিয়েছেন। নতুন সংবিধান রচনার দু’দিন আগেও কার্যত হত্যে দিয়ে পড়েছিলেন কাঠমান্ডুতে।
এই প্রবল কূটনৈতিক সক্রিয়তা সত্ত্বেও নেপাল নীতিতে শেষপর্যন্ত চূড়ান্ত ব্যর্থ হল সাউথ ব্লক। ভারতের উপর্যুপরি অনুরোধের মুখে কার্যত ঝামা ঘষে নেপালের দক্ষিণ প্রান্তের থারু ও মদেশীয় জাতিগোষ্ঠীকে অবজ্ঞা করা হল নতুন সংবিধানে। যার জেরে মদেশীয়দের আন্দোলনে নেপাল বিশেষত তরাই অঞ্চল যখন অশান্ত, সীমান্তবর্তী দেশ হিসেবে আতঙ্কিত বিবৃতি দেওয়া ছাড়া আর কিছু করণীয় থাকছে না ভারতের। সামনেই নেপাল-সীমান্তবর্তী রাজ্য বিহারের নির্বাচন। আশঙ্কা, এই গোলমালের রেশ এসে পড়তে পারে নির্বাচনের মুখে দাঁড়ানো বিহারের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও। এই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিতে নেপালের নতুন সংবিধানকে জোর গলায় স্বাগত জানিয়েছে বেজিং এবং ইসলামাবাদ। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের বক্তব্য, ‘‘নেপালের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আমরা বার বার সতর্ক করেছি ওই অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে। উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হলে আজ এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি হতো না।’’ বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্তার কথায়, ‘‘বার বার বলা হয়েছে, রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার জন্য নেপালের সর্বস্তরের জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা প্রয়োজন। বল প্রয়োগ করে এর সমাধান করা যাবে না।’’
কূটনৈতিক শিবিরের মতে, চিনের ক্ষেত্রে যেমন তিব্বতিরা, তেমনই নেপালে এই ভারতীয়-বংশোদ্ভূত মদেশীয় জাতিগোষ্ঠীর উপর ভারতীয় প্রভাব যথেষ্ট। অনেক সঙ্কটের সময়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক প্রভাব খাটানোর প্রশ্নে সুকৌশলে ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী এই জনগোষ্ঠীকে কাজেও লাগিয়েছে। অতীতে নেপাল থেকে ব্যবসা বাণিজ্য করতে আসা মানুষ অনেক সময়েই ভারতীয় মহিলাদের বিয়ে করে সংসার পাততেন। তাঁদের সন্তানেরা বিভিন্ন সময়ে ফিরে গিয়েছেন নেপালে। বসবাস করেছেন সীমান্তের কাছের তরাই অঞ্চলে। এই গোষ্ঠী থেকেই মদেশীয় সম্প্রদায়ের জন্ম।
নেপালের নয়া সংবিধান তৈরির সময়ে কিছু নির্দিষ্ট দাবি তুলেছিলেন মদেশীয় সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁরা চাইছিলেন, মদেশীয় সম্প্রদায়ের জন্য আটটি জেলা নির্দিষ্ট করা হোক। কিন্তু বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি সংবিধানে। শুধু বলা হয়েছে একটি কমিশন গঠন করে পরে এই বিষয়ে মীমাংসা করা হবে। নেপালের পার্লামেন্টে তাঁদের জন্য সংরক্ষিত আসনের শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও একটি বিষয়ে পদক্ষেপ করেছে নেপালের গণ পরিষদ। নয়া সংবিধান অনুযায়ী, কোনও নেপালি নারী বিদেশি পুরুষকে বিয়ে করলে সন্তানকে নতুন সংবিধান অনুযায়ী নেপালের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না, যতক্ষণ না সেই ভিনদেশি পুরুষটি নেপালের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন। মদেশীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের মতে, যেহেতু তারা সীমান্ত অঞ্চলে বসবাস করেন, তাঁদের ভারতীয়দের সঙ্গে প্রণয়বদ্ধ হওয়ার ঘটনাও আকছারই ঘটে। সেক্ষেত্রে তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মকে নেপালের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করে প্রান্তিক করে দেয়ার চক্রান্ত করা হয়েছে নতুন সংবিধানে।
নেপালের নতুন সংবিধান তৈরির প্রক্রিয়া যখন প্রায় চূড়ান্ত সে সময় (গত সপ্তাহেই) জয়শঙ্কর উপস্থিত ছিলেন কাঠমান্ডুতে। প্রেসিডেন্ট রামবরণ যাদবের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করেন তিনি। দরবার করেন মদেশীয় ও থারু সম্প্রদায়ের দাবি নিয়ে। দিল্লি ফিরে বিদেশসচিব বেশ ইতিবাচক ঢংয়েই বলেছিলেন, ‘‘আমরা আশা করছি, এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে নেপালের রাজনৈতিক নেতারা পরিণতমনস্ক হওয়ার পরিচয় দেবেন। আমরা চাই এমন একটি সংবিধান সে দেশে রচিত হোক যা সব জনজাতির মান্যতা পায়।’’
কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল, মদেশীয় বা থারুদের দাবি মানা তো হয়ইনি, বরঞ্চ তাদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। ফলে, এখন আগুন জ্বলছে নেপালে। যার আঁচ ভারতে পড়ার সম্ভাবনায় উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লিও।

তারা মিয়ার সেই ষাঁড়টি বিক্রি হলো পানির দামে by মোহাম্মদ হাসান ফয়জী

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার তারা মিয়ার সেই ২২ লাখি ষাঁড়টি বিক্রি হয়েছে পানির দামে। ১০-১২ লাখ টাকায় বিক্রি হবে বলে অনেকেই মনে করেছিল। সাত লাখ টাকা অনেকে বলেও ছিল। কিন্তু আরো দাম পাওয়ার আশায় তিনি অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু ভারতীয় গরুর আগমন এবং নানা আশঙ্কায় তিনি গরুটি বিক্রি করে দেন মাত্র ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। '২২ লাখ টাকার ষাঁড় দেখতে তারা মিয়ার বাড়িতে প্রচণ্ড ভিড়' শিরোনামে দৈনিক নয়া দিগন্ত অনলাইনে সংস্করণে গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে সারা দেশে এ ষাঁড় নিয়ে ফেসবুকে ঝড় উঠে। রাতে এ সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে দেখা যায়, দৈনিক নয়া দিগন্ত ফেসবুক পেজ থেকে এ নিউজটি ৭ হাজার ৭ শত ৫৩ জন শেয়ার করেছেন, লাইক দিয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ১২ জন, কমেন্টস পড়েছে ২ হাজার ৫ শ'র মতো, অনলাইনে ও ফেসবুকে এ নিউজটি প্রচার হওয়ার পর গত ২১ শে সেপ্টেম্বর প্রিন্ট নয়া দিগন্ত ছাড়াও অন্যান্য জাতীয় পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হয়। এর পর তারা মিয়ার বাড়িতে ভিড় আরো বাড়ে এ ষাঁড়টি দেখতে।
জানাযায়, সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটী গ্রামের তারা মিয়ার পালের একটি ষাঁড় বাছুরটি সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতি শখের বসে পালতে থাকেন। খাওয়াতে থাকেন খড়, ঘাষ, ভুট্ট্রা, চাল, গমের গুরা এবং বিশেষ করে ছোলা ভিজিয়ে খাইয়ে লালন করতে থাকেন। কোনো প্রকার ওষুধ ছাড়াই গরুটির পরিচর্যা করতে থাকেন তিনি। গত বছরই তারা মিয়ার ষাঁড়টি ৩ লাখ টাকা দাম উঠে, কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়াতে তার ষাঁড়টি বিক্রি না করে আবার পালতে শুরু করেন, এ বছর গত ১৮ সেপ্টেম্বর তারা মিয়ার ষাঁড়টি লম্বায় ৯ ফুট, উচ্চতা ৮ ফুট ২ ইঞ্চি, বেড়ে ৮ ফুট এবং ওজন ২২ মুন পরিমাপ করা হয়। এ ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে মানুষ জড়ো হন।
তারা মিয়া জানান, বাড়ি থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাম উঠে এ ষাঁড়টির, কিন্তু তারা মিয়া ২২ লাখ টাকা দাম হাকান, অপেক্ষা করতে থাকেন আরো দামের আশায়। তারা মিয়ার ধারনা করেন, সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে ষাঁড়টি পালাতে এর ভালো দাম পাবেন, তাই তিনি আরো দামের আশায় ষাঁড়টি বাড়িতেই রাখেন।
পত্রিকায় নিউজ আসায়, অনেক পাঠক এ প্রতিবেদককে ফোন দিয়ে তারা মিয়ার মোবাইল নাম্বার নিয়ে তার সাথে কথা বলেন, ষাঁড়টির দাম বলেন এবং এর খোঁজখবর নেন।
তারা মিয়ার ২২ লাখ টাকার ষাঁড়টি গত শনিবার ঢাকার গাবতলী হাটে নিয়ে যায়, হাটের নামার সাথে এমন দেশী জাতের ষাঁড়টি ৭ লাখ টাকা দাম উঠে। কিন্তু অতি বৃষ্টি এবং ভারতীয় গরুর আমদানির ফলে হাটে গরুর দাম পড়ে যায়। তারা মিয়া এ ষাঁড় এ বছরও বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে সতর্কতার জন্য সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের ভেটেনারী সার্জন ডা: আব্দুল মান্নানের সাথে তারা মিয়া কথা বলেন। ডাক্তার তারা মিয়াকে বলেন ২২ মন ওজনের এ ষাঁড়টি আরো এক বছর রাখলে কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমন আশঙ্কা প্রকাশ পাওয়ার তারা মিয়া তার ষাঁড়টি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে গত সোমবার ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা ভেটেনারী সার্জন ডাঃ আব্দুল মান্নান জানান, তারা মিয়ার এ দেশীয় পদ্ধতির ষাঁড়টি ৭-৮ লাখ টাকা দাম পেত, বাজার পড়ে যাওয়ায় তারা মিয়া উপযোক্ত দাম পাননি।
স্থানীয় গরু ব্যাবসায়ী শাহিনুর, শখা মিয়া জানান, ভারতীয় গরু না এলে এবং গরুর দাম না পড়ে গেলে, তারা মিয়ার গরুটি ১০-১২ লাখ টাকা দাম ওঠত। তাই তারা মিয়ার গরু ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিক্রি করতে হয়েছে, তাও ভালো হয়েছে। কারণ এ ষাঁড়টির বয়স হয়েছিল ৩ বছর ৬ মাস, ওজন হয়েছিল, ২২-২৩ মন। তারা মিয়ার এটিকে আরও এক বছর লালন পালন করতে গেলে, অনেক ব্যয় হতো। প্রতিদিন ৩০০ টাকার খাবার খরচ, তাছাড়া এত ওজন যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তাই ষাঁড়টি বিক্রি করা ভালো হয়েছে।

সৌদি সরকারকে দুষলেন বেঁচে যাওয়া হাজিরা

মিনায় পদদলিত হয়ে সাত শতাধিক হাজির মৃত্যুর জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছেন বেঁচে যাওয়া হাজিরা। এখন তাঁরা হজ পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা পালন করতেও ভয় পাচ্ছেন।
সৌদি আরবের মিনায় পবিত্র হজ পালনকালে গতকাল বৃহস্পতিবার পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ৭১৭ জন হাজির মৃত্যু হয়। আহত হন আট শতাধিক হাজি।
ভয়াবহ ওই পরিস্থিতির হাত থেকে মাসহ বেঁচে গেছেন লিবিয়ার আহমেদ আবু বকর (৪৫)। তিনি ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, ‘প্রচণ্ড ভিড় ছিল। পুলিশ একটি ছাড়া হাজি ক্যাম্পের সব প্রবেশ ও নির্গমন ফটক বন্ধ করে দিয়েছিল।’
এই হাজি আরও বলেন, ‘আমার সামনে অনেক মৃতদেহ পড়েছিল। অনেকে আহত হয়েছেন। অনেকের দমবন্ধ হয়ে আসছিল। পুলিশের সঙ্গে আমরাও অনেককে সরিয়েছি। সেখানে থাকা পুলিশদের কর্মকাণ্ড দেখে বোঝা গেছে তারা কতটা অনভিজ্ঞ। তারা মিনাকে ঘিরে থাকা রাস্তাঘাট ও এলাকাগুলো পর্যন্ত চেনে না।’
মক্কা ভিত্তিক ইসলামিক হেরিটেজ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইরফান আল-আলাবি বলেন, প্রচুর পুলিশ ছিল, কিন্তু তাঁরা যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলেন না। এমনকি বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজিদের সঙ্গে কথা বলার মতো ভাষাজ্ঞানেরও অভাব রয়েছে তাঁদের। কী করে এসব মানুষের সঙ্গে মিশতে হয় তাঁরা সেটাও জানেন না।
মিসরের ৩৯ বছরের মোহাম্মদ হাসান। তিনি আরেক প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিতি আবারও ঘটতে পারে। ঘটনার সময় এক জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল নিরাপত্তাকর্মীরা।’ তিনি অভিযোগ করেন, মিসরীয় হাজিদের মৃতদেহ শনাক্ত করার জন্য যখন তাঁকে ডাকা হয়, নিরাপত্তাকর্মীরা তখন তাঁর জাতীয়তা নিয়ে তাঁকে অপমান করেন।
মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘তারা কেন এভাবে আমাদের অপমান করে? আমরা এখানে হজ করতে এসেছি। অন্য কিছু না।’
রাগ প্রকাশ করে এই মিসরীয় বলেন, হাজিদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বাহিনীর উচিত সড়কগুলো বিন্যস্ত করা।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেনারেল মনসুর আল-তুর্কি বলেন, মিনা থেকে জামারায় পাথর ছোড়ার জন্য লাখো হাজি চলেন কাতারে কাতার। হঠাৎ দুটি সড়কের সংযোগস্থল কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায়। কিন্তু পেছন থেকে একই গতিতে আসা হাজিরা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। তাই তাঁরা সামনেই অগ্রসর হতে থাকেন। ফলে মাঝখানের ভিড়ে চাপা পড়েন ও পদদলিত হয় শত শত মানুষ। সামনে বা পেছনে যাওয়ার কোনো উপায় না থাকায় সেখানকার পরিণতি ছিল শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যাওয়া।
তবে সৌদি আরবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ ঘটনার জন্য হাজিদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেন হাজিরা হজ নিয়ম না মানার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে।
তবে সেখান থেকে বেঁচে যাওয়া এক মিসরীয় বলেন, হাজিদের কোনো দোষ ছিল না। সৌদি আরব হজের জন্য প্রচুর খরচ করে কিন্তু এখানে কোনো সংগঠন নেই। তিনি বলেন, হাজিদের যাওয়ার জন্য একটি রাস্তা ও ফিরে আসার জন্য একটি রাস্তা রাখতে পারত। যদি প্রতিটি রাস্তার মুখে একজন করে পুলিশ থাকত এবং হাজিদের ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করত তাহলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না।

মিনা বিপর্যয় নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

মুসলমানদের পবিত্র শহর মক্কার কাছে মিনা উপত্যকায় প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে ৭১৭ জন মারা যাবার পর প্রবল সমালোচনার মুখে পরেছে সৌদি আরব সরকার।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল সৌদি আরবকে ‘অযোগ্য’ এবং ‘অদক্ষ’ অভিহিত করে তাদেরকে এই ব্যাপক মৃত্যুর জন্য দায়িত্ব স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি স্বাস্থ্যমন্ত্রী খালেদ আল-ফালিহ বিপর্যয়ের জন্য হাজিদেরই দায়ী করে বলেছেন তারা নিয়মকানুন অনুসরণ না করায় ঘটনাটি ঘটেছে। কিন্তু সবাই তার কথা মানতে রাজি নয়।
নাইজেরিয়ার হাজি দলের নেতা কানো প্রদেশের আমীর মুহাম্মাদি সানুসি বলেন ভিড়ের চাপ আসে যখন জামারাত পিলারে যাবার এবং সেখান থেকে আসার নির্ধারিত রাস্তায় ভিন্নমুখী জনতার স্রোত মুখোমুখি হয়, যেটা হবার কথা না।
“আমরা সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যাতে তারা নিয়ম না মানার কারণে হাজিদের দোষারোপ না করেন”, সানুসি বলেন।
সৌদি আরবরে হজ কমিটির প্রধান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করে ‘দ্রুত ফল’ প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছেন।
মিনার বিপর্যয়ে সব চেয়ে বেশি সংখ্যক নাগরিক মারা গেছে ইরানের – ১৩১ জন, এবং সৌদি আরবরে এই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী থেকেই সবচেয়ে তীব্র সমালোচনা এসেছে।
“আসল কথা হচ্ছে, হজ ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরব অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে, এবং এই ঘটনার জন্য রিয়াদকে দায়িত্ব স্বীকার করতেই হবে”, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল-এর মুখপাত্র কেয়ভান খোরসাভি বলেন।
ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান আলাদিন বরুজেরদি অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোকে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।
মৃতদের জাতীয়তা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য :
ইরান – ১৩১
ভারত – ১৪
মিসর – ৮
পাকিস্তান – ৬
তুরস্ক – ৪
ইন্দোনেশিয়া – ৩
কেনিয়া – ৩
ভিড়ের চাপ সৃষ্টি হয় বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ছ’টায়, যখন লক্ষ লক্ষ হাজি ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে হজ্জের শেষ রীতি পালন করছিলেন।
হাজিরা ‘জামারাত’ নামের কয়েকটি পিলার লক্ষ্য করে সাতটি পাথর ছুঁড়ে মারেন, যেখানে বলা হয় শয়তান নবী ইব্রাহীমকে প্রলোভন দেখানের চেষ্টা করেছিল।
মিনার পাঁচ-তলা জামারাত সেতুর কাছে হাজিদের দুটো বিশাল লাইন দুই রাস্তা দিয়ে এসে একে অপরের মুখোমুখি হয়।
গত ২৫ বছরে এটাই ছিল হজ্জের সময় সব চেয়ে ভয়াবহ ঘটনা।
তবে এটা ছিল দু’সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বিপর্যয়। এ’মাসের ১১ তারিখে মক্কার মসজিদ আল-হারামে একটি বড় ক্রেন ভেঙ্গে পরলে ১০৯ জন মারা গিয়েছিলেন।
নয় বছর আগে আরেকটি বড় বিপর্যয়ের পর সৌদি আরব অবকাঠামো উন্নয়ন করার জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে। একই সাথে, প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ হাজি আসায় সৌদি অর্থনীতিও কোটি কোটি ডলার আয় করে।
সূত্র : বিবিসি

ঈদের দিন কাশ্মিরি নেতারা গৃহবন্দি, বন্ধ ইন্টারনেট

গরু জবাই ও গোশত বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ করায় কাশ্মিরে হুররিয়াত কনফারেন্স এবং অন্যান্য কাশ্মিরি নেতাদের গৃহবন্দী করেছে পুলিশ। ঈদুল আজহায় আইন-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ন রাখতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কাশ্মির উপত্যাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল থেকে আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে। পুলিশ বলছে, সমস্ত কোম্পানির মোবাইল পরিষেবা এবং ব্রডব্যান্ড পরিষেবা বন্ধ থাকবে। হিন্দি সংবাদ চ্যানেল ‘আজতক’ অবশ্য জানিয়েছে,  শুক্রবার সকাল ৫ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত ইন্টারনেট এবং ডাটা সার্ভিসে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।     রাজ্যে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে সম্প্রতি গরুর গোশতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ মানুষজন এ নিয়ে এরইমধ্যে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ক্ষমতাসীন পিডিপি-বিজেপি জোটের মধ্যে এ ব্যাপারে তীব্র মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।   পিডিপি সাফ জানিয়ে দিয়েছে গরুর গোশতের ওপরে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা চলবে না। কাশ্মিরের হুররিয়াত নেতারাও গরুর গোশতে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তীব্র আপত্তি এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি’র  দাবি হাইকোর্টের নির্দেশ কঠোরভাবে পালন করতে হবে। এ নিয়ে রাজ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে  হুররিয়াত নেতা সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানিসহ শাব্বির শাহ, নঈম খান, ইয়াসীন মালিককে গৃহবন্দী করা হয়েছে। এদের বাড়ির বাইরে পুলিশের বড় দল মোতায়েন করা হয়েছে।     এদিকে, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক কে রাজেন্দ্র বলেছেন, ‘ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাজ্যের কোথাও বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে না। যে ধরণের গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে, ঈদ উপলক্ষে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে, আসলে এ সব কিছুই হবে না।’     তিনি বিশেষ করে যুব সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে পবিত্র ঈদ উৎসব উপলক্ষে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। পুলিশের মহানির্দেশক বলেছেন, ঈদ উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ রাখতে সমস্ত মসজিদ এবং ঈদগাহের বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।- সংবাদসংস্থা

আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে কারাগারে পরিণত করেছে : খালেদা জিয়া

আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
বৃহস্পতিবার পূর্ব লন্ডনের ফেয়ারলোপ ওয়াটার কান্ট্রি পার্কে দলের প্রবাসী নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুরবানির ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপির যত নেতাকর্মী আছে, প্রত্যেকের নামে মামলা দিয়েছে, এই হলো বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ ঠিক মত ঘুমাতে পারে না। কোথায় ঘুমাবে? দেশে কোনো মৌলিক অধিকার নাই, মানবাধিকার নাই, আইনের শাসন নেই, গণতন্ত্র নেই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইংগিত করে বিএনপিনেত্রী বলেন, এই আওয়ামী লীগ কিছুতেই ক্ষমতা ছাড়বে না। উনি গদি ছাড়বেন না। এতো লুটপাট ও খুন সরকার করেছে যে ক্ষমতা ছাড়লে তারা পার পাবে না।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যেও ভালো লোক ও দেশপ্রেমিক আছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবং তাতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাদের সঙ্গে নিয়েই তিনি দেশকে সামনের দিকে চালিয়ে নিতে চান।
খালেদা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে এখন সরকার বিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হচ্ছে না। পুলিশের মাধ্যমে এ সরকারকে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কাউকে কথা বলতে দেওয় হচ্ছে না।
দেশের মানুষ একদিন রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী জোবাইদা রহমানও অনুষ্ঠানমঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : এ ওয়ান নিউজ

ক্রমাগত কর্তৃত্বপরায়ণতার পথে ধাবিত বাংলাদেশ

ক্রমাগত কর্তৃত্ব-পরায়ণতার পথে ধাবিত হচ্ছে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর গুম, বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের খেয়াল-খুশিমতো গ্রেপ্তার, সমালোচনাকারী মিডিয়ার মুখ বন্ধ করে দেয়ার ঘটনা সাধারণ ব্যাপার হয়ে উঠেছে এখানে। সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে সম্পাদক, ব্লগার, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সদস্যদের অভিযুক্ত করার ঘটনা। অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কণ্ঠরোধ করতেই সরকার গুমের পথ বেছে নিচ্ছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত ৭ বছরে গুমের ঘটনা ঘটেছে কমপক্ষে ২১২টি। গুম বন্ধ, এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কাউন্সিলের শুনানিতে বাংলাদেশ বিষয়ে এসব কথা বলা হয়েছে। এ শুনানিতে অংশ নেয় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, এশিয়ান লিগ্যাল রিসোর্স সেন্টার, এফআইডিএইচ, এএফএডি। গুমের বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, বিচার ও এর জন্য যারা দায়ী, তাদের শাস্তি দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের যে বাধ্যবাধকতা আছে তা তুলে ধরা হয় শুনানিতে। যেসব দেশের পরিস্থিতিতে মানবাধিকারবিষয়ক কাউন্সিলের গুরুতর উদ্বেগ বা সচেতনতা প্রয়োজন- তা নিয়ে আলোচনা হয় সেখানে। এতে বাংলাদেশ সম্পর্কে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বিরোধীদলীয় হাজার হাজার সদস্য ও প্রতিবাদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলে রয়েছেন অজ্ঞাত সংখ্যক। বিরোধী দলের অনেক নেতা হয়তো দেশ ছাড়ার অথবা আত্মগোপনে থাকার পথ বেছে নিয়েছেন। নাস্তিক মত প্রকাশকারী ব্লগারদের নিরাপত্তায় যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে শুধু ২০১৫ সালেই নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন ৪ ব্লগার। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর শ্রম আইন সংস্কার করার পর শ্রমিক ইউনিয়ন করার পথ সহজ হলেও গবেষণায় দেখা গেছে যে, তৈরী পোশাক খাতে যারা শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করতে বা এতে যোগ দিতে চাইছেন তাদের বিরুদ্ধে চলছে দমন-পীড়ন। পর্যায়ক্রমিক সরকারগুলোর সময়ে নিরপেক্ষভাবে প্রামাণ্য হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ঘন ঘন তারা যে নিয়মের লঙ্ঘন করেন তা তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী এসব বিষয়ে প্রায় পুরোপুরি দায়মুক্তি ভোগ করছে। ওই শুনানিতে বাংলাদেশে অব্যাহত জোরপূর্বক গুমের বিষয়ে জরুরিভিত্তিতে নজর দেয়ার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। ‘এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিজঅ্যাপেয়ারেন্সেস’ (জোর করে অথবা স্বেচ্ছায় গুম) বিষয়ের ওপর শুনানিতে যৌথ বিবৃতি দেয় এশিয়ান লিগ্যাল রিসোর্স সেন্টার (এএলআরসি), এফআইডিএইচ, এএফএডি। এতে বলা হয়, এতে বাংলাদেশে চলমান গুম ও দায়মুক্তির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় কাউন্সিলের। বলা হয়, এসব অপরাধের সঙ্গে নিপীড়ন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। যৌথ ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে এ বছর আগস্ট পর্যন্ত মানবাধিকার সংস্থাগুলো বাংলাদেশে কমপক্ষে ২১২টি জোরপূর্বক গুমের ঘটনা প্রামাণ্য আকারে উপস্থাপন করেছে। অনেক প্রত্যক্ষদর্শী তাদের সাক্ষ্যে বলেছেন, এসব গুমে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার এজেন্টরা। অপহরণের ধরন ও অপহৃতের প্রোফাইল যে সাক্ষ্য দেয় তাতে দেখা যায় যে, বিরোধী রাজনৈতিক দলকে নীরব করে দিতেই সরকার গুমের পথ বেছে নিয়েছে। গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবার তার সম্পর্কে তথ্য ও বিচার চাওয়ার বিষয়টিকে পুলিশ ও আদালত কর্তৃক অবজ্ঞা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আদর্শ বিষয় হলো দায়মুক্তি। সম্প্রতি গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার সংগঠিত হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু এক্ষেত্রে তাদেরকে ভয়ভীতি ও প্রতিবন্ধকতা দেয়া হয়েছে। ওই সাক্ষ্যে গুমের শিকার ব্যক্তিদেরকে তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দিতে আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও এ অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়। এতে বলা হয়, আইসিসি’র রোম স্ট্যাচুট অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে তারা জোর করে গুমকে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। এতে আরও বলা হয়, প্রটেকশন অব অল পারসনস এগেইনস্ট ইনভলান্টারি ডিজঅ্যাপেয়ারেন্সেস বিষয়ক ১৯৯২ সালের ঘোষণায় নিশ্চিত করে বলা হয়েছে যে, যেকোন দেশে জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ করতে বা বিলুপ্তি ঘটাতে প্রতিটি দেশকে কার্যকর আইনি, প্রশাসনিক, বিচারিক ও অন্যান্য পদক্ষেপ নিতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, জোরপূর্বক গুমের ইতি ঘটানোর লক্ষ্য অর্জনে এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, বিচার ও জড়িতদের শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে বাধ্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগুলো ও মানবাধিকারবিষয়ক কর্মীদের কথা বলা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে ও তাদেরকে নিরাপত্তা দিতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা বাংলাদেশ সফরের অনুরোধ করছি ওয়ার্কিং গ্রুপকে। ঘটনার জরুরি বিষয়টি বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকারকে এমন একটি সফর মেনে নিতে আহ্বান জানানো হয়।

কয়েক শ কোটি ইউরো সহায়তার আভাস

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা শরণার্থী সংকট নিয়ে গতকাল বুধবার ব্রাসেলসে জরুরি সম্মেলনে বসেছেন। সম্মেলনে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে কোটার ভিত্তিতে শরণার্থী নেওয়ার বিষয়টিই মূল আলোচ্য বিষয়। তবে ওই সম্মেলন থেকে সিরিয়ার শরণার্থীদের সহায়তার জন্য কয়েক শ কোটি ইউরোর প্রতিশ্রুতি আসতে পারে। খবর রয়টার্সের। ১ লাখ ২০ হাজার শরণার্থীকে নির্দিষ্ট সংখ্যা বা কোটা অনুযায়ী আশ্রয় দেওয়া নিয়ে ইইউ দেশগুলোর মধ্যে এখনো মতভেদ রয়েছে। যদিও বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে গত মঙ্গলবার ইইউ দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বাধ্যতামূলক কোটাপদ্ধতি অনুমোদন করেন। রোমানিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি এ ধরনের কোটা মানতে রাজি নয়। এর বিরুদ্ধে স্লোভাকিয়া আইনি ব্যবস্থা নেবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে। শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে নেতাদের মধ্যে বিতর্ক হলেও তাঁদের অনেকেই অচলাবস্থা কাটিয়ে সামনে এগোতে চান। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত সিরীয় শরণার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা বরাদ্দের বিষয়টি সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ওই শরণার্থীদের জন্য কয়েক শ কোটি ইউরো সহায়তার প্রতিশ্রুতি আসতে পারে ইইউ নেতাদের সম্মেলন থেকে। এ ছাড়া ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন উপকূলে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার ওপরও জোর দিচ্ছেন ইইউ নেতারা। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সম্মেলন শুরুর প্রাক্কালে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের ‘নৈতিক সাম্রাজ্যবাদ’ প্রত্যাখ্যান করেছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। তিনি গতকাল বলেন, শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় পুরো বিশ্বকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বৈশ্বিক নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত। তিনি আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সম্মেলনে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব দেবেন।ক্রোয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ গতকাল বলেছে, দেশটিতে গত মঙ্গলবার নয় হাজার শরণার্থী প্রবেশ করেছে, যা দেশটিতে একদিনে শরণার্থী প্রবেশের রেকর্ড। এদিকে গ্রিসের লেসবস দ্বীপে প্রায় ৪০টি ডিঙি নৌকায় চড়ে গতকাল সকালে অন্তত ২ হাজার ৫০০ শরণার্থী পৌঁছায়।
এদের অধিকাংশই আফগানিস্তানের নাগরিক। বিবিসির খবরে বলা হয়, ইউরোপে শরণার্থীদের নিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে জটিল সংকট মোকাবিলায় ইইউর নেতারা একটি কার্যকর সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আশ্রয় আইন অমান্য করার অভিযোগে ইইউর ১৯টি দেশকে ইউরোপীয় কমিশন গতকাল সতর্ক করে দিয়েছে। গতকালের জরুরি সম্মেলনের প্রাক্কালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ আলোচনায় মিলিত হন। সিরিয়া যুদ্ধের সমাধান খুঁজে বের করতে পারলে শরণার্থী সংকট সমাধানের কার্যকর উপায় বের হবে বলে তাঁরা একমত হন। ইইউর সীমান্তে নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য সহায়তা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো তাঁদের আলোচনায় গুরুত্ব পায়। সিরিয়া থেকে বিপুলসংখ্যক শরণার্থী এসব দেশে আশ্রয় নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশ থেকে হাজার হাজার শরণার্থী কয়েক সপ্তাহ ধরে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপীয় উপকূলে পৌঁছায়। এদের অনেকেই ইইউভুক্ত তুলনামূলক সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে যেতে আগ্রহী। দেশটির চ্যান্সেলর মেরকেল গত মাসে আরও বেশি সিরীয় শরণার্থীকে জায়গা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে কয়েকটি ইইউ দেশের সমালোচনার মুখে পড়েন। জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর অভিযোগ, মেরকেলের ওই ঘোষণার কারণেই বেশি বেশি শরণার্থী ওই অঞ্চলে যেতে শুরু করে। এদিকে ইইউর নির্বাহী কমিশন ইউরোপ মহাদেশের শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত ১৯ হাজার কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইইউর বাজেট কমিশনার ক্রিস্তালিনা জর্জিয়েভা গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। ওই তহবিল ইইউর অভ্যন্তরে জরুরি ভিত্তিতে শরণার্থীদের জায়গা দেওয়া এবং বেশি শরণার্থীর চাপ রয়েছে—এমন দেশগুলোর সামর্থ্য বৃদ্ধির কাজে ব্যয় করা হবে।

এ বার গাড়ি ছুটবে ঘন্টায় ১৫০০ কিমি স্পিডে!

‘ব্লাডহাউন্ড’-এর মডেল। লন্ডনের প্রদর্শনীতে
গাড়িই তো! নাকি, ‘রকেট’?
‘ব্লাডহাউন্ড’ ছুটবে ঘন্টায় দেড় হাজার কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে!
একেই কি বলে ‘উল্কার গতি’? গল্প নয়। সত্যি! এই ‘সুপার-সোনিক’ গাড়ি রাস্তায় নেমে যাবে আগামী বছরেই। বুলেট ট্রেনে’র মতোই এই গাড়ির চলার জন্য বানানো হয়েছে বিশেষ ‘ট্র্যাক’। দক্ষিণ আফ্রিকায়। দু’দশক আগেকার একটি গাড়ির গতির রেকর্ড ভাঙতে।
কথায় বলে, গাড়ি ভালোবাসেন ব্রিটিশরা। আর মার্কিনিদের পছন্দ ‘গতি’! কিন্তু, দু’দশক আগে সবচেয়ে দ্রুত গতির গাড়িটা বানিয়েছিলেন ব্রিটিশরাই। ‘থ্রাস্ট-এসএসসি’। যার গতি ঘন্টায় ৭৬৩ মাইল বা, ১,২২৮ কিলোমিটার। ব্রিটিশদেরই বানানো ‘ব্লাডহাউন্ড’ এ বার সেই ‘থ্রাস্ট’-কে টপকে যাবে। তার গতি হবে ঘন্টায় এক হাজার মাইল বা, ১,৬১০ কিলোমিটার। ‘ব্লাডহাউন্ডে’র চাকাগুলি বানানো হয়েছে নিখাদ অ্যালুমিনিয়ামে। গাড়িটিকে প্রথম বার ‘রেকর্ড’ গতিতে ছোটানো হবে দক্ষিণ আফ্রিকার হাক্সকিন প্যানে, আগামী বছরের মাঝামাঝি। কম গতিতে ছোটার জন্য ওই গাড়িতে লাগানো যাবে রাবারের চাকাও। গাড়িটিতে থাকবে তিনটি আলাদা ‘পাওয়ার ইউনিট’। এই ‘রকেট’ গাড়ির ৯৫ শতাংশই বানানো হয়ে গিয়েছে। গবেষণা, নকশা চূড়ান্ত করা আর তার নির্মাণ-প্রক্রিয়া চলেছে গত আট বছর ধরে। তার একটি ‘মডেল’ আজ রাখা হয়েছে লন্ডনের ক্যানারি হোয়ার্ফে ইস্ট উইন্টারগার্ডেনে। তিন দিনের প্রদর্শনীতে।