Saturday, November 2, 2024
নতুন বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখাতে পারেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস by মনদীপ তিওয়ানা
ইউনূস সুশীল সমাজের একজন প্রখ্যাত সদস্য। সত্যিকার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপনের জন্য তিনি বদ্ধপরিকর। সামাজিক সংহতি রক্ষা এবং দেশের অত্যাচারিত অতীতের প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশ চোকাতে বাংলাদেশি সুশীল সমাজের অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগাতে চান ইউনূস। নাগরিক অধিকার রক্ষা ও এটিকে প্রসারিত করার অনেক উপায় রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, বলপূর্বক গুম ও নির্যাতনের জন্য দায়ী নিরাপত্তা ইউনিটগুলো তিনি ভেঙে দিতে পারেন। সুশীল সমাজকে সমর্থনকারী এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোকে সংস্কার করতে পারেন, যেগুলোকে একসময় অপরাধীর তালিকায় রাখা হয়েছিল। বিদেশি অনুদান আইন সংশোধন করে সেগুলোকে আন্তর্জাতিক তহবিল পাওয়ার পথ প্রশস্ত করতে পারেন। তবে ইউনূসকে দ্রুত কাজ করতে হবে। কারণ ইতিহাস বলে সুযোগ সবসময় ক্ষণস্থায়ী হয়। বিপ্লবের মাধ্যমে একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের অপসারণের পর গণতান্ত্রিক কাঠামো অভিজাতদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পরবর্তীতে কী হবে তার পরিকল্পনার অভাবে গণতন্ত্রপন্থী উপাদানগুলো লাইনচ্যুত হতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ক্ষমতার শূন্যতা পূরণ করতে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হয়ে জাতীয়তাবাদী ও কর্তৃত্ববাদী শক্তি মাথাচাড়া দিতে পারে। অনেক সময় সামরিক বাহিনী নিজেই দায়িত্ব নেয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতিনিধি হিসাবে ক্ষমতায় আসা নেতারা সবকিছু বজায় রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেরাই দমন-পীড়নের আশ্রয় নেন।
উদাহরণ স্বরূপ, ২০১৯ সালে সুদানে শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে উৎখাত করার পরে গণতান্ত্রিক উত্তরণের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা হয় এবং অবশেষে ২০২১ সালে একটি সামরিক অভ্যুত্থান হয়। বহু বছর পরে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং বর্তমানে দেশটি সংঘাতে বিধ্বস্ত। অন্যদিকে স্থিতিশীল গণতন্ত্র স্থাপনের লক্ষ্যে ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে একটি প্রাথমিক সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। তার পরে কয়েক দশকের সামরিক শাসন এবং সুশীল সমাজের ওপর আক্রমণ নেমে আসে। ইথিওপিয়ায় যখন প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তির জন্য ২০১৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন, তখন আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য আশা ছিল উচ্চ। তারপর আবি আহমেদ একটি রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যেখানে ব্যাপক নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছিল। সেদেশে এখনো অশান্তি বিদ্যমান। মানবাধিকার গোষ্ঠী কর্তৃপক্ষকে নাগরিক অধিকারের ওপর তাদের দমন-পীড়ন বন্ধ করার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের অধিকারকে সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছে।
অধ্যাপক ইউনূসের সরকার যদি সুশীল সমাজকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তর্ভুক্ত এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশও একই সমস্যায় পড়তে পারে। তবে এগুলো অবশ্যই একমাত্র সম্ভাব্য পরিস্থিতি নয়। একটি বিপ্লবের পরে গণতন্ত্রপন্থী শক্তিগুলো আরোও দৃঢ় অবস্থানে থাকতে পারে এবং আরও ইতিবাচক ও বাস্তব উত্থানকে সক্ষম করতে পারে। শ্রীলঙ্কা, যেখানে ব্যাপক বিক্ষোভের কারণে দুই বছর আগে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হয়েছিল, এটি তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। গত মাসে অনুরা কুমারা দিসানায়েকে আরও ভালো শাসন ও স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।
অভিজাতদের চাপের মুখেও গণতান্ত্রিক শক্তি কীভাবে অটল থাকতে পারে তার আরেকটি উদাহরণ চিলি। অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ২০১৯-২০২২ সালে চিলিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। যেটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পেনশনসহ একাধিক সংস্কারের দিকে পরিচালিত করেছিল। গুয়াতেমালা, যেখানে পুরানো শাসনের দ্বারা ক্ষমতা হস্তান্তর রোধের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছিল। সেখান থেকেও বাংলাদেশের নতুন সরকার দরকারি পাঠ নিতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই সুশীল সমাজ মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। যদিও বিপ্লব ও জনগণের অভ্যুত্থান এই দেশগুলোর কোনওটিতেই নাগরিক অধিকার এবং নিখুঁত গণতন্ত্র ফেরাতে সক্ষম হয়নি।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত এই উদাহরণগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া, যেখানে নাগরিক সমাজ কঠিন ও জটিল পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অর্জন করেছে। এমন ঘটনাগুলো থেকেও শিক্ষা নেয়া উচিত, যেখানে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের পতনে সাহায্য করেছিল।
কোনো নতুন সরকার রাতারাতি সবক্ষেত্রে সন্তোষজনক সংস্কার এবং একটি নিখুঁত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। বিশেষ করে কয়েক দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পরে সেই আশা করাও অবাস্তব। কিন্তু বিশ্বজুড়ে অগণিত উদাহরণ দেখায় যে, দীর্ঘমেয়াদী কর্তৃত্ববাদী নেতাদের রেখে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের ওপর একটি উন্নত ভবিষ্যত গড়ে তোলা তখনি সম্ভব, যতক্ষণ না নতুন নেতৃত্ব গণতন্ত্র স্থাপনের লক্ষ্যে দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে কাজ করে এবং সুশীল সমাজের সাথে সংলাপ চালিয়ে যায়।
ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি একই ভুল করে, অর্থাৎ নাগরিক সমাজ ও বিক্ষোভ দমনের মাধ্যমে যদি গণতান্ত্রিক ভিন্নমতকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা শুরু করে, তাহলে অন্য দেশের পরিবর্তনের সময় যে ভুলগুলো তুলে ধরা হলো তা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও পুনরাবৃত্তি হতে পারে। কিন্তু প্রফেসর ইউনূস যদি অন্যান্য দেশের সফলতার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেন, তাহলে তিনি ম্যান্ডেলার মতো অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়ার যেসব দেশে নাগরিক স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে অবদমিত, সেখানে ইউনূসের বিপ্লব পরবর্তী সফল উত্তোরণ সেসব দেশগুলোর সামনে উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই তাকে সমর্থন করতে প্রস্তুত।
সবশেষে বলতে হয় বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। ইউনূস ও তার উপদেষ্টারা কীভাবে মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতাকে সম্মান করে রাজনৈতিক গতিশীলতাকে নেভিগেট করছেন, তার ওপর নির্ভর করবে দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ। সূত্র: আলজাজিরা

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লেবানন যোদ্ধাদের রকেট হামলায় ইসরায়েলে নিহত ৭
শুক্রবার (০১ অক্টোবর) রকেট হামলায় নিহত ও আহতের এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।
ইসরায়েলে উত্তরাঞ্চলের মেতুলা শহরের রকেট হামলায় নিহত হন এক ইসরায়েলি কৃষক ও চার বিদেশি কৃষি শ্রমিক। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ জানিয়েছেন, নিহত ইসরায়েলি কৃষকের নাম ওমর ওয়েনস্টাইন (৪৬), যিনি কিব্বুৎজ দাফনার বাসিন্দা এবং চার সন্তানের জনক।
এরপর, উপকূলীয় শহর হাইফার শহরতলীতে কিব্বুৎজ আফেক এলাকার জলপাই বাগানে এক ইসরায়েলি নারী ও তার প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে নিহত হন। নিহত নারীর নাম মিনা হাসোন (৬০) এবং তার ছেলে কারমি (৩০)।
হিজবুল্লাহ জানায়, তারা হাইফার উত্তরের ক্রাইয়োত অঞ্চল ও লেবাননের শহর খিয়ামের দক্ষিণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দুটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে সক্ষম হলেও সেগুলোকে প্রতিহত করতে পারেনি। মেতুলা শহরের কাছে এই হামলার সময় নিহতরা সীমান্তের বেড়ার কাছাকাছি কৃষিকাজে ব্যস্ত ছিলেন।
হামলার ফলে চারজন থাই নাগরিক নিহত হয়েছেন, যা নিশ্চিত করেছেন থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিস সানগিয়ামপংসা। এ ছাড়া একজন থাই কর্মী আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সরকার জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর রকেট, ড্রোন ও মিসাইল হামলায় ৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে উত্তরাঞ্চলে ও অধিকৃত গোলান মালভূমিতে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এনটিএমসি’র সোর্স কোড গায়েব! by মরিয়ম চম্পা
সূত্র জানায়, রিমান্ডে জিয়াউল আহসানকে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এনটিএমসি’র মাস্টারমাইন্ড জিয়াউল আহসানের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিকী থেকে শুরু করে বড় বড় রাজনৈতিক নেতা, সেনা কর্মকর্তারা তার কাছে ছিল জিম্মি। কথায় কথায় তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও রাজনৈতিক ফোনালাপ ফাঁস করার হুমকি দিয়ে নানা ভাবে সুবিধা আদায় করতেন। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এনটিএমসিতে টাস্কফোর্স হিসেবে ডেপুটেশনে থাকা বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত নির্দিষ্ট সংখ্যক নিজস্ব কর্মকর্তার সমন্বয়ে এনটিএমসি পরিচালিত হয়। গোয়েন্দা হেফাজতে থাকাকালীন দফায় দফায় মেজর জিয়াউল আহসানকে এনটিএমসি’র (পাসওয়ার্ড) সোর্স কোড সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি, মনে নেই, ভুলে গেছি, হারিয়ে গেছেসহ একেক সময় একেক বক্তব্য প্রদান করেছেন। এদিকে সরকার পতনের আগে এবং পরে যতটুকু সময় পেয়েছেন এই সময়ের মধ্যে জিয়াউল আহসান গুরুত্বপূর্ণ ড্যাটাবেজ নষ্টসহ তার মিশন সম্পন্ন করেন। এনটিএমসিতে কর্মরত এক সূত্র জানায়, মূল সোর্স কোড না থাকায় তারা বিভিন্ন সিম কোম্পানির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পিসিআর সংগ্রহ করে কাজ চালাচ্ছেন। এতে করে সময় বেশি লাগছে। এ ছাড়া সিম কোম্পানিগুলো অনেক সময় তাদের সহযোগিতা করছেন না। সোর্স কোড না থাকায় বর্তমানে, এনটিএমসিতে কর্মরত সদস্যদের পৃথক পৃথকভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
এর আগে সকল বাহিনীর সমন্বিত ড্যাটাবেজ একসঙ্গে করে কাজ করার সুযোগ ছিল। এখন সেটা ব্যক্তি কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সোর্স কোড নষ্ট করে ফেলায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরের দেশের লোকদের হাতে চলে যেতে পারে। এতে দেশের সাধারণ নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে অসংখ্য গুম খুনের সঙ্গে জড়িত সাইলেন্ট কিলার জিয়াউল আহসানের মোবাইল ফোনে অনেক অপকর্মের তথ্য থাকলেও তাকে গ্রেপ্তারের সময় তার মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে পারেনি গোয়েন্দা সংস্থা। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মানবজমিনকে জানায়, জিয়াউল আহসানকে আরেক দফায় রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বর্তমানে গোয়েন্দা কার্যালয়ে বন্দি সংখ্যা অনেক বেশি। তিনটি কক্ষের সবগুলোই আসামিতে পূর্ণ। পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তাকে রিমান্ডে আনতে আদালত বরাবর আবেদন করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তাকে পুনরায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ ও এনটিএমসি অনুবিভাগ) নাসির-উদ-দৌলা ও যুগ্মসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব, এনটিএমসি অধিশাখা) মোহা. আলমগীর হোসেনকে ফোন দিলে তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ৩৬ কোটি টাকার অবকাঠামো তালাবদ্ধ
১০০ শয্যা অনুমোদন হলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারসহ ৫০ জনের অধিক ডাক্তার পদায়ন হবে। নবনির্মিত ভবনে রোগী স্থানান্তর হলে ঘিঞ্জি পরিবেশ থাকবে না। এতে সেবার মান বাড়বে। সকল ধরনের রোগী উন্নত চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। এক্স-রে, ইসিজি, আল্ট্রাসনোসহ পরীক্ষা-নিরীক্ষার আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে তালাবদ্ধ আছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় তালাবদ্ধ থাকায় হয়তো কোটি টাকার এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অনুপোযোগী বা অকেজো হয়ে যাবে। এগুলোর ব্যবহার শুরু হলে দরিদ্র, হত দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা সেবা নিতে পারতো। যা বর্তমানে অধিক মূল্যে বেসরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করাতে হয়। যে পরীক্ষা- নিরীক্ষার উপর মানুষের আস্থা কম। উপজেলার মুমুরদিয়া থেকে চিকিৎসা নিতে আসা পারুল, ফেকামারা গ্রামের ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘বড় বড় বিল্ডিং অইছে। কিন্তু ডাক্তার কম, লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট নেওন লাগে, আবার ডাক্তারের রুমে গিয়া লাইনে খাড়ান লাগে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করন লাগে বাইরের ক্লিনিক থাইক্ক্যা। ওষুধ কিছু দেয়। বাকিগুলো বাইরে থাইক্ক্যা কিনুন লাগে।’ দৃক আলোকচিত্র গ্রন্থাগারের আলোকচিত্র বিভাগ এবং ইমেজ আর্কাইভের প্রাক্তন প্রধান ও কটিয়াদী সাহিত্য সংসদের সদস্য মইন উদ্দিন বলেন, ১০০ শয্যা হাসপাতালের অবকাঠানো নির্মাণ শেষ হয়েছে। দ্রুত এর অনুমোদন ও কার্যক্রম চালুকরণের দাবি জানাই। এটি চালু হলে মূল্যবান যন্ত্রপাতিগুলোর সঠিক ব্যবহার এবং এলাকার মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবে। কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, আমরা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। ১০০ শয্যা হাসপাতালের কার্যক্রম চালু করতে জনবল, লজিস্টিক সাপোর্ট ইত্যাদি কিছু বিষয় রয়েছে। আমরা মানসিকভাবে তৈরি আছি। অনুমোদন পেলেই কার্যক্রম শুরু করতে পারবো। এ ব্যাপারে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। আশাকরি দ্রুত সময়ের মধ্যেই অনুমোদন হয়ে যাবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ভারতীয় মিডিয়া অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছে’
এতে বলা হয়, এখন এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্পের টুইট বাংলাদেশকে আসলে কী বার্তা দিচ্ছে? এটি কি স্রেফ নির্বাচনী প্রচারণা নাকি ইউনূস সরকারকে চাপে ফেলতে ভারত বা মোদি সরকারের কোনো কৌশল? এমন নানা সমীকরণ মেলানো হচ্ছে ডনাল্ড ট্রাম্পের ওই টুইটটি ঘিরে।
ট্রাম্প কেন এসব কথা বললেন: ডনাল্ড ট্রাম্প তার টুইট শুরুই করেছেন এভাবে বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর ‘বর্বর’ সহিংসতা চালানো হচ্ছে এবং তারা হামলা ও লুটপাটের শিকার হচ্ছেন। এসবের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেছেন যে, বাংলাদেশ একটি সম্পূর্ণ ‘বিশৃঙ্খল’ অবস্থার মাঝে রয়েছে। যদিও তার এই শুরুর বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্য দেশের অনেক বিশ্লেষক। তবে ক্ষমতার পালাবদলের পর বাংলাদেশে যে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে সেটিও অস্বীকার করছেন না তারা।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বাংলাদেশ ও মিয়ানমার বিষয়ক সিনিয়র কনসালট্যান্ট টম কিন ডনাল্ড ট্রাম্পের টুইটের প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, তবে এগুলো মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।’ ট্রাম্প বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কতোটা অবগত, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের কিছু ডানপন্থি মিডিয়া ও রাজনীতিবিদ এই ঘটনাগুলোকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছে। তাই এটি রাজনৈতিক চাল হতে পারে। অথবা, তিনি ভুল তথ্য পেয়েছেন ও তা বিশ্বাস করেছেন।’
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবিরও মনে করেন, ডনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফিড করা হয়েছে’। অর্থাৎ, তাকে এটি বোঝানো হয়েছে। ‘নয় তো, তার এই ধরনের কথা বলার কথা না। কিন্তু বাংলাদেশের বিষয়ে যে সমস্ত শব্দ ব্যবহার করেছেন, এগুলো খুবই শক্ত শব্দ।’
দিল্লির কাছে ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করছেন বহু বছর ধরে। তিনিও এই কথা স্বীকার করেন যে, ভারতীয় গণমাধ্যমে এই ঘটনাগুলো অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার হয়েছে। তবে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা যে ঘটেছিল সেটিও মনে করিয়ে দেন তিনি।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ব্যাপারে ভারতের গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতির অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজের সঙ্গেও এ বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বিবিসি বাংলা’র। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ভারতীয় গণমাধ্যম ‘ছোট ঘটনাকে বড় করে’ বলে আসছে যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য ধর্মকে কীভাবে ব্যবহার করা হয়, ট্রাম্পের টুইট তার সুস্পষ্ট প্রমাণ। হিন্দু ধর্মাবলম্বী, প্রধানত ভারতীয়দের ভোট নিশ্চিত করা ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য,’ বলেন তিনি।
মি. রীয়াজ বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংবিধান সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যানও। কেবল আলী রীয়াজ-ই নন, অন্যান্য বিশ্লেষকরাও একমত যে, ট্রাম্পের এই টুইটের মূল লক্ষ্য আসন্ন মার্কিন নির্বাচন।
‘ধর্মকে কাজে লাগাচ্ছেন ট্রাম্প’: সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ে কথা বলার পরই তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমালা হ্যারিসের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মি. ট্রাম্প। ডনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি ক্ষমতায় থাকলে কখনোই ‘এমনটি’ ঘটতো না। কমালা হ্যারিস ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ‘আমেরিকা ও সারা বিশ্বের হিন্দুদের উপেক্ষা করেছেন,’ বলেন মি. ট্রাম্প।
তিনি ‘আমেরিকার হিন্দুদের চরমপন্থি বামদের ধর্মবিরোধী এজেন্ডা থেকে রক্ষা’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টুইটে বলেন, ‘আমরা তোমাদের স্বাধীনতার জন্য লড়বো। আমার প্রশাসনের অধীনে আমরা আমাদের মহান অংশীদার ভারত এবং আমার মিত্র প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করবো।’
ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা অজানা নয়। এর আগেরবার ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় নরেন্দ্র মোদি সমর্থন করেছিলেন। এখন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আগে সেই বন্ধুত্বকেই কাজে লাগাচ্ছেন মি. ট্রাম্প।
সেটিকে উল্লেখ করে মি. কিন বলেন, মি. মোদির ‘কর্তৃত্ববাদী ধরনের জন্য’ ডনাল্ড ট্রাম্প তাকে কিছুটা পছন্দ করেন এবং আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘আমেরিকান হিন্দুদের’ ভোট পাওয়ার জন্য এটি হয়তো ডনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাচনী প্রচারণার অংশ।
শ্রীরাধা দত্তও বলছেন যে, ডনাল্ড ট্রাম্প ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যকার সম্পর্ক সবসময়ই ভালো। সেই সঙ্গে রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সবসময়ই খুব ভালো থাকে। ডনাল্ড ট্রাম্প দীবাবলি’র শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এর মানে হিন্দু ভোটারদের ভোট পেতেই এটা করেছেন তিনি। কিন্তু আমেরিকাতে তো একটা বিশাল সংখ্যক আওয়ামী লীগ সমর্থকও রয়েছেন। তারাও ট্রাম্পের এই স্টেটমেন্ট পছন্দ করবেন। কারণ আওয়ামী লীগ সবসময় মনে করে, তারা হিন্দুদের পক্ষে,’ যোগ করছেন মিজ দত্ত।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম. হুমায়ুন কবিরও মনে করেন যে, নির্বাচন সামনে রেখেই এমনটা করেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। ‘ট্রাম্প আসলে বাংলাদেশকে নিয়ে চিন্তিত না। বাংলাদেশ নিয়ে তার যে খুব মনোযোগ আছে, তাও না। আমার ধারণা, নির্বাচনী ফলাফলকে তার পক্ষে নেয়ার জন্যই এটি করেছেন। যাদের ভোট পেলে তার লাভ হয়, সেই গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছেন,’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।
ড. ইউনূস সরকারকে চাপে ফেলার কৌশল: ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে শীতল সম্পর্ক চলছে, তাতে এই প্রশ্নটা আসা খুবই প্রাসঙ্গিক। প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় লবি বাংলাদেশের পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কাজ করছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছে।’
তিনি আরও মনে করেন যে, ট্রাম্পের এই টুইট থেকে বোঝা যায় যে, স্বৈরাচারী নেতারা অন্য স্বৈরাচারী নেতাদের কীভাবে সহায়তা করে। ‘এটি (টুইট) পরোক্ষভাবে শেখ হাসিনাকে সমর্থন, স্পষ্টত মোদিকে সমর্থন করে। মোদিকে তো স্বৈরাচার ছাড়া আর কিছুই বলার সুযোগ নাই।’
যদিও বাংলাদেশ গবেষক শ্রীরাধা দত্ত ট্রাম্পের এই টুইটকে ‘অ্যান্টি ইউনূস ক্যাম্পেইন’ হিসেবে দেখছেন না। তিনি বরং এটি ‘অ্যান্টি হ্যারিস বা প্রো-হিন্দু ক্যাম্পেইন’ হিসেবে দেখছেন।
মি. কবির মনে করেন, এখানে ইউনূস সরকারকে চাপে ফেলার একটি বিষয় আছে। ‘ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির ব্যক্তিগত পর্যায়ের সখ্য আগেও দেখেছি আমরা। তাই এটা অসম্ভব না। তবে আমি নিশ্চিত না।’
নয়তো, ‘বাংলাদেশ এমন কোনো কাজ এখন করেনি, যাতে করে এই ধরনের বৈশ্বিক নেতিবাচক চাপে আমরা পড়তে পারি,’ বলছিলেন সাবেক এই রাষ্ট্রদূত।
বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা করার কারণ আছে: সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবিরের মতে, ‘সংখ্যালঘু প্রসঙ্গে বিশ্বের কাছে যে ন্যারেটিভটা তৈরি হয়েছে, তা আমাদের জন্য চিন্তার কারণ। আমরা মার্কিন নির্বাচনের রাজনীতির মাঝে ঢুকে গেলাম।’
তবে অধ্যাপক রীয়াজ মনে করেন, ডনাল্ড ট্রাম্পের কথায় বাংলাদেশের চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাপের মুখে ‘অবশ্যই পড়বে না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের অবস্থান নাই। মি. ট্রাম্প এখন প্রার্থী। তার এই অবস্থান রাজনৈতিক কারণে। এটা না বোঝার কারণ নাই। তিনি এর বাইরে খুব বেশিদূর যাবেন বলে মনে করি না।’
‘তার একটি টুইট বড় কিছু পরিবর্তন করে দিবে না। তিনি যদি জিতে যান, সেক্ষেত্রে সেই প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি কী হবে, তা আমরা দেখতে পারবো। সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান আমরা জানি। তিনি এক ধরনের রক্ষণশীল নীতি অনুসরণ করে চলেন। তার বাইরের পৃথিবীর ব্যাপারে কতোটা আগ্রহ থাকবে? এই মুহূর্তে ভোটের কারণে তিনি করছেন। তাই উপসংহারে পৌঁছানোর কারণ নাই।’
তবে মি. কবির ও মি. রীয়াজ, দু’জনই মনে করেন যে, ভারতীয় গণমাধ্যম বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশের বিষয়ে যা প্রতিষ্ঠা করেছে, বাংলাদেশের উচিত সেটির যথাযথ জবাব দেয়া। ‘আমি মনে করি, সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়া দরকার এ বিষয়ে। বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরা উচিত। দুর্ঘটনা কিছু কিছু ঘটছে। কিন্তু সেগুলোকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার মোকাবিলা করা উচিত,’ বলেন মি. রীয়াজ।
মি. কবির বলছেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার নিয়ে কাজ করছেন। কিন্তু এখানকার বাস্তব অবস্থা বাইরের পৃথিবী জানে? এখানকার বাস্তব অবস্থাও বাইরের মানুষের দেখা দরকার।’
তাৎক্ষণিক সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে তিনি দু’টো পথ দেখান। যুক্তরাষ্ট্রে যারা রিপাবলিকান দলের সমর্থক, তাদেরকে বলা যেতে পারে যে, তারা যেন বাস্তব অবস্থা তুলে ধরেন।
সেইসঙ্গে, ‘গ্লোবাল মিডিয়াতে যারা আছেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলা যেতে পারে যে, বাংলাদেশে এসে বাস্তব অবস্থা দেখে রিপোর্ট করো তোমরা,’ বলছিলেন তিনি। তার মতে, ‘হিন্দু ইস্যুটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। এটি গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে।’

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মার্কিন নির্বাচন-২০২৪: কমালা না ট্রাম্প? বিভক্ত বাংলাদেশি কমিউনিটি! by সিদ্দিকুর রহমান সুমন
অভিবাসনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে রিপাবলিকানরা। অন্যদিকে ডেমোক্রেটরা নাগরিক অধিকার, অভিবাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে উদারনৈতিক অবস্থানে। তবে এই উদার ভূমিকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে অবাধে অবৈধ পথে বিভিন্ন দেশ থেকে লোকজন আসায় অভ্যন্তরীণ হাজারো সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে অর্থনৈতিক-সামাজিক এমনকি আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে।
অন্যদিকে রিপাবলিকানরা ক্ষমতায় থাকলে সবার আগে দেশ- এই নীতিতে চলার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলার উপর গুরুত্ব দেয়, অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করার কারণে অন্য কেউ অপরাধ করতে তিনবার ভাবে। নিউ ইয়র্কের বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ এন মজুমদার প্রকাশ্যে কমালাকে সমর্থন দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের প্রার্থী তিনি। ডেমোক্রেট ক্ষমতায় থাকলে অভিবাসনের পথ সহজ হয়, সাধারণ মানুষের উপকার হয়। বাইডেনের হোমকেয়ার-মেডিকেড-স্বাস্থ্য সেবাসহ বিভিন্ন বেনিফিটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের সুরক্ষার জন্য কমালা হ্যারিসের জয়ের প্রয়োজন।
কমিউনিটি নেতা টিটু আহমেদ জানান, তিনি ট্রাম্পকে সমর্থন করেন। কারণ ইমিগ্রেশন, ট্যাক্স, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সহ অন্য বিষয়ে তার নীতি আমেরিকার নিজের স্বার্থ রক্ষা করে। এ ছাড়া বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিও বদলাতে ট্রাম্পের প্রয়োজন বলেও মনে করেন সিলেট সদর থানা এসোসিয়েশনের এই সাধারণ সম্পাদক। মিশিগান প্রবাসী মারুফ খানের মতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। বাইডেনের প্রত্যক্ষ সমর্থন থাকায় গাজায় ধ্বংস করে মুসলিম গণহত্যা চালানোর সাহস পাচ্ছে ইসরাইল- এই তথ্য জানিয়ে সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, মিশিগানে শুধু বাংলাদেশি না- মুসলিম কমিউনিটি এবার ভেবেচিন্তে প্রেসিডেন্ট পদে ভোট দিবে। ব্রঙ্কসের বাসিন্দা বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা আক্তার খান রাজু জানান, ব্যবসা-বাণিজ্য যদি ভালো হয়, তাহলে জীবনযাত্রার মানও ভালো হয়। বর্তমানে অনেক কারণেই বাইডেন সাধারণ মানুষের সমর্থন হারাচ্ছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প দেশকে গুরুত্ব দেয়ার ইকোনমিক সেক্টরের উন্নতি ঘটে, ব্যবসার প্রতি সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করেন, তাই ট্রাম্প আসার পক্ষে তিনি।
নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সাবেক কর্মকর্তা মাসুদ-উর রহমান জানান, বর্তমানে অভিবাসন একটি জটিল সমস্যা, যা রাজনৈতিক এবং বাস্তব উভয় চ্যালেঞ্জকেই উপস্থাপন করেছে। সীমান্তে অবৈধ পারাপার বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে অভ্যন্তরীণ সম্পদের উপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে, অপরাধ বাড়ছে, চাকরির বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা যদি সঠিক পথে থাকে তাহলে অপরাধপ্রবণতা কমে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রিপাবলিকানরা মেধার ভিত্তিতে ইমিগ্রান্ট পদ্ধতি চায় যা আমেরিকার জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে গাজায় গণহত্যা চালানো ইসরাইলের সমর্থনের কারণে ডেমোক্রেটদের প্রতি মুসলিম ভোটারদের ক্ষোভ আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চেয়ারম্যান সাইফুলের দখল সাম্রাজ্য: ক্ষমতার দাপটে অন্যের জমি, সরকারি খাল দখল করে গড়েছেন ফিসারি-খামার
চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। ভারী ট্রাক্টর দিয়ে বালু পরিবহন করায় একদিকে স্থানীয় রাস্তাঘাট নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষদের বাড়িঘর এবং পার্শ্ববর্তী জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অসংখ্য ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় না থাকলেও তার ক্ষমতা কমেনি। এখনো তিনি জবরদখল অব্যাহত রেখেছে। যেই তার বিরুদ্ধে কথা বলতে চায়, তাকেই সে নানাভাবে হয়রানি করে। এর আগে কয়েকবার সংখ্যালঘু ও গ্রামের নিরীহ মানুষের জায়গা-জমি জবরদখল করে মাছের খামার গড়ে তোলার অভিযোগে রয়েছে। প্রশাসনের কাছে বিচার চাইতে গেলে দলীয় প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল সরকারি জায়গায় এবং খাল দখল করে পুকুর খননের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা বলে জানান। এ সমস্ত জমিগুলো তাদের পৈতৃক সম্পত্তি বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং নিরীহ মানুষদের জোরপূর্বক জমি দখলের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা নিয়ে পূর্বে তদন্ত হলেও কোনো প্রমাণ নেই। বালু উত্তোলনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়জুর রহমান বলেন, চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গায় এবং খাল দখল করে মাছের খামার নির্মাণ করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো। আর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুণ কৃষ্ণ পাল জানান, যদি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বা সরকারি জায়গায় দখল করে পুকুর নির্মাণ করে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শহীদ শাহরিয়ারের বাবা বললেন: আমার সন্তানের জীবনের বিনিময়ে দেশটা যেন সুন্দর হয় by ফাহিমা আক্তার সুমি
শাহরিয়ারের বাবা মো. আব্দুল মতিন মানবজমিনকে বলেন, আমার সন্তান মাধ্যমিকে জিপিএ-৪.৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। যখনই সুযোগ পেতো তখন ঢাকায় চলে আসতো। ও আমাদের একমাত্র ছেলে ছিল, অনেক সাধনার ও আদরের ছিল সবার। তার এই অল্প বয়সে চলে যাওয়াটা আমাদের পরিবারের জন্য অনেক কষ্টের। সন্তান শহীদ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের স্বপ্নও শহীদ হয়ে গেছে। আমরা সব হারিয়ে ফেলেছি। সন্তান ছাড়া বেঁচে থাকাটা কষ্টের। সন্তানের স্মৃতি নিয়ে কোনোমতে বেঁচে আছি। ওর মা মমতাজ বেগম সারাদিন কাঁদতে থাকে, ওর একমাত্র বোন মুমতাহিনা বিনতে মতিন কাঁদতে কাঁদতে ভাইকে খোঁজে। আমাকে বলে আব্বু ভাইয়া কোথায় গেছে, ভাইয়াকে নিয়ে আসো। এই ছোট বাচ্চাটাকে কীভাবে বুঝাবো যে, ওর ভাই আর আসবে না। ওর মা ঘুমের ঘোরে কেঁদে কেঁদে উঠে। কী বলে সান্ত্বনা দিবো তাকে। সারা পৃথিবী এনে দিলেও সন্তানের শূন্যতা পূরণ হবে না।
ওইদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ১৮ই জুলাই আমি গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ ছিলাম। মাগরিবের নামাজ পড়ছি- হঠাৎ আমার মোবাইলে একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসে। নামাজ শেষে কল ব্যাক করে শুনতে পাই আমার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তখন আমি আমার ভাগ্নেকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। রাস্তায় নানা বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে রাত ১টায় ঢাকায় এসে পৌঁছাই। ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে দেখি আমার ছেলে আইসিইউতে ভর্তি। তার ডান চোখের উপরে গুলি লেগে মস্তিষ্ক বরাবর ঢুকে যায়। কোনো সিটিস্ক্যান করেনি, কিছু করেনি, খুব মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে ছিল। মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিল আমার সন্তান। তখন তার দুই খালাতো ভাই সঙ্গে ছিল। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মিরপুরের স্থানীয় দু’টি হাসপাতালে নিয়ে যায় তারা। সেখানে ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দিলে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়। আমি মেডিকেলে গিয়ে চিকিৎসকদের অনেক রিকুয়েস্ট করি। তাদের বলি আমার সন্তানকে বাঁচাতে চাই, যেখানে নেয়া লাগে সেখানে আমার সন্তানকে নিবো। তারা বললেন, ‘দেখেন খুব একটা অবস্থা ভালো না।’ গুলিটি বেরিয়ে যাইনি মস্তিষ্কে গিয়ে লাগে। দুইদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ২০শে জুলাই মারা যায়। তিনি বলেন, একদিকে আমার সন্তান হারিয়েছি আরেক দিকে মরদেহ নিয়ে আরেক যুদ্ধ। সেদিন যে আমার সন্তানকে নিয়ে যাবো সেই সুযোগ ছিল না। জিডি করতে মিরপুর মডেল থানায় যাই- সেখানে জিডি নেয়নি। সেখান থেকে হতাশ হয়ে ঢাকা মেডিকেলে গেলে পাশে থাকা এক ব্যক্তি শাহবাগ থানায় জিডি নিচ্ছে বলে জানায়। এ কথা শুনে ছুটে যাই শাহবাগ থানায়। সেখানে রাত হওয়ায় জিডি নেয়নি; সকালে যেতে বলেছিল। পরের দিন শাহবাগ থানায় জিডি করি এবং রাত আটটার সময় আমার সন্তানের মরদেহ বুঝে পাই। সেখান থেকে রাতে ময়মনসিংহ নিয়ে যাই। পরের দিন সকালে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় আমার আদরের সন্তানকে। ওর স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষে বড় ব্যবসায়ী হবে। আমিও তাকে অনুপ্রেরণা দিতাম। অনেক মেধাবী ছিল আমার সন্তান। সেদিন শাহরিয়ার প্রথম আন্দোলনে যায়। ১৬ই জুলাই পর্যন্ত আন্দোলনের বিষয়টি তার মাথায় ছিল না। পরে শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় বেশি অনুপ্রাণিত হয়ে যুদ্ধে নেমে যায়। মাত্র ৫টা পরীক্ষা দিতে পেরেছিল। ২০০৫ সালে ঢাকাতেই ওর জন্ম হয়। আমাদের প্রথম সন্তান ছিল শাহরিয়ার।
তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে বড় ছিল আর মেয়ে ছোট। আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। শাহরিয়ার ময়মনসিংহ ঈশ্বরগঞ্জ আইডিয়াল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছিলো। গত ৯ই জুলাই মাত্র পাঁচটি পরীক্ষা শেষ হয়েছিল। ১০ থেকে ২০শে জুলাই পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা না থাকায় এই সুযোগে চলে আসে ঢাকায়। তার মাও তাকে চলে আসতে বলে। কুড়িল বিশ্বরোডে ভাড়া বাসায় থাকি পরিবার নিয়ে। আমি গ্রামে গিয়েছিলাম তার মা ও বোন বাসায় ছিল। ১৬ই জুলাই ছেলে সারাদিন বাসায় ছিল; সন্ধ্যার দিকে চলে যায় মিরপুর-২ তার খালার বাসায়। সেখান থেকে ১৮ই জুলাই তার খালাতো ভাইদের নিয়ে আন্দোলনে যায়। সেদিনই গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছি। তিনি বলেন, তবে সান্ত্বনাটুকু হলো আমার সন্তান দেশের জন্য জীবন দিয়েছে, ভালো কাজে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছে। আমরা চাই- আমার সন্তানসহ অন্য শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এই অর্জিত স্বাধীনতার মাধ্যমে দেশটা সুন্দর হোক। এখন দুর্নীতি এবং বৈষম্যবিহীন একটি রাষ্ট্র তৈরি হলে আমার সন্তান ও বাকি শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিলেটে শারপিন টিলায় ৫ কোটি টাকার পাথর লুট
তদন্ত রিপোর্টে প্রশাসনের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছিলেন- শারপিন টিলার ১৩৭ একর ভূমির ৭০ ভাগই ইতিমধ্যে কর্তন করা হয়েছে। প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন টিলা ধ্বংস করা হয়েছে। তারা উল্লেখ করেন- ৪০ টাকা দরের প্রায় ৬৩ লাখ ঘনফুট পাথর লুটপাট করা হয়েছে। এর মূল্য ২৫১ কোটি টাকা। তদন্ত প্রতিবেদন পরিবেশ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। এই রিপোর্টের পর সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে কোম্পানীগঞ্জের পাথরখেকোদের ৪৮ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয়েছিল আলোচিত কয়েকজন পাথরখেকোদের। বিশেষ করে র্যাব’র পক্ষ থেকে অভিযান চালানোর পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এরপর অবশ্য শারপিন টিলায় পাথরখেকোদের চোখ পড়েনি। কিন্তু ৫ই আগস্টের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তার সুযোগে ফের পাথরখেকোরা শারপিন টিলায় লুটপাট শুরু করেছে। এখন দিনে ও রাতে চলছে লুটপাট। এখন অবশ্য সিন্ডিকেটে অন্যরা। স্থানীয় চিকাঢর, জালিয়ারপাড়, শারপিন টিলা এলাকার লোকজন জানিয়েছেন- বর্তমানে শারপিন টিলায় জালিয়ারপাড়ের বাসিন্দা বাবুল আহমদের নেতৃত্বে পাথর লুট করা হচ্ছে। তার নেতৃত্বে একই এলাকার ফয়জুর রহমান, ইসমাইল হোসেন ওরফে বাট্টি ইসমাইল, চিকাঢর গ্রামের আইয়ূব আলী, আনোয়ার হোসেন আনাই, আদই মিয়া, মনির মিয়া ও আবুল বশর ওরফে বশর কোম্পানির নেতৃত্বে সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। প্রথম দিকে তারা শারপিন টিলায় খেলার মাঠে পাথর লুটপাট শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে টিলা থেকে পাথর উত্তোলন শুরু করেছে।
আর এই পাথর উত্তোলনে তারা ব্যবহার করছে অবৈধ বোমা মেশিনও। এ কারণে রাতের বেলা বোমা মেশিনের শব্দে পার্শ্ববর্তী ৪/৫টি গ্রামের মানুষের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এলাকার লোকজন জানিয়েছেন- পাথর লুটপাট বন্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে তেমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। প্রতিদিনই টহলে থাকা পুলিশ দল আসতো। তারা চলেও যেতো। কোনো ব্যবস্থা নিতো না। ফলে দিন দিন পাথরখেকোরা আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা বলেন; যেভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে আর কিছুদিন গেলে মাজারের আসন এবং পাহাড়েরই কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার প্রায় তিনঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালায় কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনানের নেতৃত্বে টিলায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে পাথর, বালু ও তিনটি ট্রাক্টরসহ পাথরখেকোদের নিয়োজিত ৭জন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে- পাড়ুয়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে তাজুল মিয়া, কুটি মিয়ার ছেলে ইকবাল হোসেন, রিয়াজ উল্লাহর ছেলে শুভ মিয়া, নারাইনপুর গ্রামের মৌলা মিয়ার ছেলে ফিরোজ মিয়া, তার ছেলে নজরুল ইসলাম, বাহাদুরপুর গ্রামের দ্বীন ইসলামের ছেলে রফিকুল ইসলাম ও সুনামগঞ্জের রানীগঞ্জ ইউনিয়নের মৃত ওয়াহিদ উল্লাহর ছেলে আব্দুল গফ্ফার। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ জানায়- নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে শাহ্ আরেফিন টিলায় অভিযান হয়। অভিযানে ২শ’ ঘনফুট লাল পাথর, ২শ’ ঘনফুট লাল বালিমাটি ও তিনটি হাইড্রোলিক ট্রাক্টর আটক করা হয়। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনান জানিয়েছেন- অভিযানের পর যে মামলা করা হয়েছে সেখানে তারা পাথরখেকোদের আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি আটককৃতদেরও আসামি করা হয়। এরপর থেকে শারপিন এলাকায় পাথর লুটপাট বন্ধ রয়েছে। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন- এখন দিনে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও রাতে সক্রিয় হয়ে ওঠে পাথরখেকোরা। তারা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাথর লুটপাট চালাচ্ছে। আর এসব পাথর বিক্রি হচ্ছে ভোলাগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকার ক্রাশার মিলে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নদীদূষণ ভয়ানক পর্যায়ে পৌঁছেছে : গবেষণা
প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০০১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১০টি ভারী ধাতুর (এএস, পিবি, সিডি, সিআর, এফই, এমএন, সিইউ, সিইউ, সিও, এনআই, জেডএন) দূষণের প্রবণতা পরীক্ষা করে দেশের জলপথের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড পলিউশন রিসার্চ একটি একাডেমিক জার্নাল। এটি জার্মানিভিত্তিক স্প্রিংগার নেচারের শাখা স্প্রিংগার প্রকাশ করে। দেবাশীষ পণ্ডিত ও মোহাম্মদ মাহফুজুল হকসহ একদল বিশেষজ্ঞ প্রিজমা ক্রাইটেরিয়া অনুসরণ করে পদ্ধতিগতভাবে ৫৫টি নথি পর্যালোচনা করেছেন।
গবেষণার ফলাফল দেখা যায়, ২০০১-২০১০ সালে যে পরিমাণ দূষণ হয়েছিল, সেই তুলনায় গত দশকের (২০১১-২০২০) দূষণের মাত্রা অনেক খারাপ ছিল। লক্ষণীয় বিষয় হলো- ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদী বাংলাদেশের সবচেয়ে দূষিত নদী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
গবেষণায় প্রধানত ৩টি বিভাগের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। সেগুলো- ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম। এসব এলাকার নদীগুলোর বেশিরভাগে ভারি ধাতুর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইউএসইপিএ) এবং বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের (ডিওই) নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আর্সেনিক (এএস), সীসা (পিবি), ক্যাডমিয়াম (সিডি), ক্রোমিয়াম (সিআর), লোহা (এফই) ও ম্যাঙ্গানিজের (এমএন) গড় ঘনত্ব তিনটি ঋতুতেই গ্রহণযোগ্য সীমা ছাড়িয়ে যায়। আর গ্রীষ্মের মাসগুলোতে সর্বাধিক দূষণ হয়।
ট্যানারি, টেক্সটাইল ও ইলেক্ট্রোপ্লেটিং কারখানাসহ শিল্প কারখানার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢাকার প্রাণকেন্দ্র দিয়ে প্রবাহিত বুড়িগঙ্গা। এসব শিল্প কারখানা ভারি ধাতুসম্পন্ন অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলে দেয়। এটি পরিবেশগত মারাত্মক সংকট তৈরি করে এবং যা বছরের পর বছর ধরে খারাপ হয়ে চলেছে।
গবেষণায় ভারি ধাতু দূষণের একাধিক উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাকৃতিক আবহাওয়া সম্পর্কিত প্রক্রিয়াগুলোর পাশাপাশি মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কৃষি থেকে সার ও কীটনাশক, খনন, ইলেকট্রোপ্লেটিং, বস্ত্রশিল্প, কয়লা খনি ও শিল্প বর্জ্য যেমন ব্যাটারি ও রং নদীর পানির দূষণের গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এসব দূষক বাস্তুতন্ত্রে জমা হয়, যা জলজ জীববৈচিত্র্য, মানব স্বাস্থ্য এবং পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে।
গবেষণায় দূষণ রোধে সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- পানিসম্পদ রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে শিল্প সংশ্লিষ্টদের ও জনগণকে শিক্ষিত করতে অব্যাহত পর্যবেক্ষণ, ব্যাপক গবেষণা এবং সচেতনতামূলক প্রচার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী অববাহিকা পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে; যা টেকসই সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করে। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের নদীগুলো অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
এই গবেষণার অন্যতম গবেষক মৃত্যুঞ্জয় কুণ্ড জানান, আমাদের নদীগুলোতে বিশেষ করে ঢাকার মতো অঞ্চলে উচ্চমাত্রার বিষাক্ত ভারি ধাতু জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।
![]() |
| রাজধানীর বুড়িগঙ্গায় দূষিত পানি। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চোখের আলো হারিয়ে ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছেন নবী by ফাহিমা আক্তার সুমি
সৈয়দ হাসিবুন নবী মানবজমিনকে বলেন, গত ৬ই আগস্ট থেকে ৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। এরমধ্যে তিনটি অপারেশন হয়েছে। এখন ১৫ দিন পরপর হাসপাতালে যেতে হয়। চিকিৎসকরা বলেছেন, আমার যে কন্ডিশন তাতে ডান চোখে আমি আর কোনো দিন দেখতে পাবো না। লাস্ট অপারেশনের পরে চোখে সবকিছু ঝাপসা দেখি। এই চোখের কারণে বাম চোখেও কিছুটা চাপে আছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, সময় লাগবে অনেক, এভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শও দিয়েছেন। আমার স্ত্রী ও তিন বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। দশ বছর আগে মা হোসনে আরা স্ট্রোক করে মারা যান। বাবা এস এম গোলাম মোর্তজা একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তিনিও মাঝে মধ্যে আমাদের সঙ্গে থাকেন। বাবা অবসরে আসার পরে এখন পর্যন্ত কোনো পেনশনের টাকা-পয়সা পাননি। দুই ভাইবোনের মধ্যে আমি বড়। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর আমি বোনের বাড়িতে থাকি। আমার এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে গত মাসে সাভারে আমার বাড়িতে ডাকাতি হয়। সে সময় ঘরে থাকা স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মালামাল ডাকাতি করে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকাকালীন সময়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। তিন মাস ধরে ঘরে বসে আছি কাজ করার শক্তি পাচ্ছি না। অফিস আমাকে সাপোর্ট দিয়েছে।
সেদিন ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিনের মতো গত ৫ই আগস্ট সংবাদ সংগ্রহ করতে সাভার রেডিও কলোনি বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেই। এ সময় পুলিশের তিনটি গাড়ি আসে। হাইওয়েতে না দাঁড়িয়ে ভেতরের গলির রাস্তায় গিয়ে মোবাইল দেখছি। হঠাৎ মেইন রোড থেকে গাড়ি থেকে নেমে ডিভাইডার ক্রস করে এসে একজন পুলিশ সদস্য শটগান তাক করে দাঁড়িয়ে আছে। তখন আমার হাতে মাইক্রোফোন, আইডি কার্ড ছিল। তারপরও আমি হাত উঁচু করে চিৎকার করে বলি আমি সাংবাদিক, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনে কাজ করি। এভাবে তাকে দ্বিতীয়বার আবার বলি আমাকে ফায়ার করবেন না। তখন আমার আশেপাশে কোন পথচারী, শিক্ষার্থী এমন কেউ ছিল না দোকানপাটও সব বন্ধ। এ সময় ওই পুলিশ সদস্য গাড়িতে থাকা এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বলে, স্যার ইনি তো সাংবাদিক। এ কথা বলার পর গাড়ি থেকে নির্দেশনা আসে আমাকে শুট করার। যখনই এই কথা শুনি তখন ভয়ে কাঁপছিলাম। সাহস নিয়ে আবার তাদের সাংবাদিক পরিচয় দেই। এ সময় পুলিশের ওই কর্মকর্তা খুব অশ্লীল গালি দিয়ে বলে ওঠে, বলেছি না শুট করতে। তখন খুব কাছ থেকে আমাকে লক্ষ্য করে শটগান দিয়ে শুট করে। চোখ, মুখ, মাথা, কপালসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ৯২টি ছররা গুলি বিদ্ধ হয়। এ সময় আমি রাস্তার পাশে ফুটপাথে পড়ে যাই। আমাকে গালি দিয়ে বলে, দৌড় দে। আমার চোখ ও শরীর দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিলো। ভেবেছিলাম আমার চোখ মনে হয় বের হয়ে গেছে। সিঁড়িতে রক্ত ভেসে যাচ্ছিলো। সেখানে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায় আরেকটি ফায়ার করে তখন আমার শরীরে আরও কিছু গুলি লাগে।
তিনি বলেন, পুলিশের গাড়ি থেকে পরে আরেক ব্যক্তি সিভিলে নেমে আসে। তার হাতে একটা স্নাইপার ছিল। তখন মনে হয়েছে এইবার আমাকে মেরে ফেলবে। এ সময় আমি উঠে দৌড়ানোর চেষ্টা করি। কিছুটা দূরে গেলে আরেকটি গুলির শব্দ শুনতে পাই। হঠাৎ বাম পাশে ঘাড়টা ঘুরিয়ে দেখি হলুদ রঙ্গের পাঞ্জাবি পরা এক তরুণ আমার পায়ের কাছে এসে উপুড় হয়ে পড়ে গেল। তার মাথার পেছন দিক থেকে গুলি লেগে চোখ বরাবর বেরিয়ে যায়। এ সময় আমি আরেকটি গলিতে চলে যাই। একজন চা দোকানি আমাকে চিনতে পেরে জাপটে ধরে। একজন ভাড়াটিয়া আমাকে চিনতে পেরে বাসার মধ্যে নিয়ে যায়। পরে তারা এনাম মেডিকেলে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমার গুলি লাগে। সারাদিন-সারা রাত থাকলেও সেখানে আমার তেমন কোনো চিকিৎসা হয়নি। পরে এলাকার একটি বেসরকারি মেডিকেলে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেই। তারা ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠায়। চোখে ১টা, মাথায় ১টা, দাঁতের চোয়ালে ১টা, গলার মধ্যে শ্বাসনালীর পাশে ২টা ও বাকিগুলো শরীরের হাতে, বুকে, পেটেসহ বিভিন্ন জায়গায়। কোথাও কোনো গাড়ি বা এম্বুলেন্স পাওয়া যাচ্ছিলো না। পুরো রাত চেষ্টা করে কয়েকগুণ ভাড়া দিয়ে একটা গাড়ি ম্যানেজ করে ভোর ৪টায় চক্ষুবিজ্ঞানে গিয়ে পৌঁছাই। সেখানে দুপুর আড়াইটায় আমার প্রথম অপারেশন হয়। কোনো গুলি আমার শরীর থেকে বের করা সম্ভব হয়নি। গুলিগুলো বিদ্ধ হয়ে খুব গভীরে চলে যায়।
সৈয়দ হাসিবুন নবী বলেন, স্বপ্ন ছিল একমাত্র সন্তানকে নতুন বছরে স্কুলে ভর্তি করবো। বাবারও বয়স হয়েছে তার জন্য অনেক কিছু করার ইচ্ছা ছিল যেহেতু অল্প বয়সে মা মারা যাওয়ায় তার জন্য কিছুই করতে পারিনি। আমাদের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী। বাবার চাকরির সুবাধে ছোটবেলা থেকেই ঢাকাতে থাকি। বাবা পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি করতেন। তিনি অবসরে আসার পরে কোনো পেনশন পান না। এমন অমানবিক ঘটনা আমার সঙ্গে ঘটবে ভাবিনি। জীবনটা এমন অনিশ্চিত হবে কল্পনা করিনি। আমি আদৌ কি এই চোখে কখনো দেখতে পাবো? আমি কি কাজে ফিরতে পারবো? আলোহীন চোখে এভাবেই আমাকে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হবে। আমি আগের মতো স্বাভাবিক হতে পারছি না, একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। শরীরে এতগুলো গুলির ক্ষত নিয়ে যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারি না। সামনের দিনগুলোতে সংসারের খরচ কীভাবে চালাবো। বৃদ্ধ বাবাকে কীভাবে দেখবো, একমাত্র সন্তানকে কীভাবে মানুষ করবো। ওরা আমার জীবনটাকে অন্ধকার করে দিয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আব্দুস শহীদ উপাখ্যান: মৌলভীবাজারে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও কোন্দল সৃষ্টির ‘মাস্টার মাইন্ড’
অভিযোগ রয়েছে বালু মহাল, জলমহাল, সরকারি, বেসরকারি নানা প্রকল্প। এমনকি শ্রীমঙ্গলের ভুনবির, মির্জাপুরসহ অন্যান্য ইউনিয়নের অবৈধ বালু উত্তোলন থেকে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি পর্যন্ত। বৈধ ও অবৈধ ছোট-বড় সব কাজ ও আয় রোজগারের একটি বড় অংশের টাকার ভাগ আসতো তার হাতে। এর ব্যত্যয় হলেই নানা হয়রানি। এভাবেই তিনি হাতিয়ে নিতেন কোটি কোটি টাকা। তার নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী করতে ৩ ভাই ও বড় মেয়েকে দলীয় পদ-পদবী দিয়ে নিয়ে আসেন জন সম্মুখে। প্রভাব খাটিয়ে তার ছোট ভাই ইমতিয়াজ আহমদ বুলবুলকে কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান, ইফতেখার আহমদ বদরুলকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মোসাদ্দেক আহমদ মানিককে বানান মুক্তিযোদ্ধা ও কমলগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি। আর বড় মেয়ে উম্মে ফারজানা ডায়নাকে পদ দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদকের। উদ্দেশ্যে ছিল আগামীতে সংসদ নির্বাচনে সদস্য বানানো। এজন্য রাজনীতির মাঠে তার সঙ্গেই রাখতেন মেয়েকে। এ নিয়ে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অসন্তোষ ও ক্ষোভকে তিনি পাত্তাই দিতেন না। বলা চলে সংসদ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ, শহীদ পরিবারের ছিল একক আধিপত্য।
সূত্রমতে, মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল) সংসদীয় আসনে ১৯৯১ সাল থেকে নানা কৌশলে পতিত স্বৈরাচারী সরকারের শেষ সময় পর্যন্ত টিকিয়ে রাখেন তার এমপিত্ব। জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বে থাকাকালে জেলা জুড়ে দলীয় অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং দ্বন্দ্ব ছিল চরমে। প্রয়াত সমাজকল্যাণমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসীন আলীর সঙ্গে দলীয় দ্বন্দ্ব ছিল প্রকাশ্যে। ওই সময় দলের একটি বড় অংশকে কোনঠাসা করে রাখতে তিনি তটস্ত ছিলেন। নানা কূট কৌশলে দীর্ঘদিন জেলার শীর্ষ দলীয় পদ ধরে রাখেন। আর ওই ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েন। এমন অভিযোগ দলীয় নেতাকর্মীসহ জেলাবাসীর। এ ছাড়া লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাশে ‘সাবারী টি প্ল্যান্টেশন’ নামে চা-বাগান গড়ে তুলে উদ্যানের ৭-৮ একর পাহাড়ি জমি দখলে নেন। সরকারি খরচে ওই বাগানে বিদ্যুৎ সংযোগসহ স্থাপন করেন ১৫-২০টি ডিপটিউবওয়েল। কাঁঠালকান্দিতে ১০-১৫ একর পাহাড়ি এলাকায় বাগান বাড়ি। সেখানে সরকারি খরচে ডিপটিউবওয়েল ও সৌর প্ল্যান্ট নির্মাণ। হাইল হাওরে বাইক্কা বিলের পাশে প্রায় ১৫-২০ একর জমির বিশাল মৎস্য খামার।
অভিযোগ রয়েছে প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে পাখি ও মাছের নিরাপদ অভায়াশ্রম বাইক্কা বিলের কান্দি থেকে এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পাড় তৈরি করেন ওই খামারের। কমলগঞ্জ মাঝেরছড়ায় কয়েকশ’ বিঘা টিলায় লেবু বাগান। রাজধানীর উত্তরা ১০নং সেক্টর, ২নং রোড ৩৫নং বাসা, ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের জগদীশপুর পেট্রোল পাম্প, ঢাকার ফার্মগেইট এলাকায় ঘরসহ জমি ও দোকান। শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের দিলবরনগরে প্রায় ১০ একর জমিতে লেবু বাগান। শ্রীমঙ্গল শহরের কলেজ রোডে পাঁচতলা ভবন। মৌলভীবাজার রোডে হাউজিং এস্টেটে বাসার জায়গা। কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন বাসা। গ্রামের বাড়িতে সরকারি খরচে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সোলার লাইট স্থাপন ও পুকুর খনন। এ ছাড়া লোক মুখে প্রচলিত আছে তার নামে-বেনামে কানাডা, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে বাড়ি রয়েছে। ২০১২ সালে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি তার চাহিদানুযায়ী বিধি লঙ্ঘন করে গ্রামের বাড়িতে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্যাস লাইন দেয়। ২৯শে অক্টোবর তার গ্রেপ্তারের খবরে নিজ নির্বাচনী এলাকার নির্যাতিত মানুষসহ জেলা জুড়ে আনন্দ মিছিল করে জনতা। এ সময় তারা তার অবৈধভাবে উপার্জিত সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরিয়ে আনাসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তরুণ বিপ্লবীদের নেতৃত্বে ৮৪ বছরের ড. ইউনূস
ঢাকার রাস্তাগুলোর দেয়ালে দেয়ালে এখনো জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতিগুলো জ্বল জ্বল করছে। কোনো দেয়ালে রয়েছে শিকলে বাঁধা হাতের ছবি, অন্য আরেকটিতে আহত এক ছাত্রকে সাহায্যের জন্য ছুটে আসা এক সাইকেল আরোহীর ছবি। আবার কোনো দেয়ালে লেখা ‘শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না’।
বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষে সরকারি চাকরিতে বৈষম্যের বিরুদ্ধে জুলাই মাসে রাস্তায় নামে ছাত্র-জনতা। আন্দোলন দমনে তাদের ওপর পুলিশের গুলি চালানোর প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারা দেশের দেয়ালে দেয়ালে ওই ম্যুরালগুলো আঁকা হয়েছিল। আন্দোলনে নিহত হন শত শত মানুষ। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আন্দোলন আরও তীব্র হলে স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। স্বল্প সময়ের মধ্যে জনগণের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় বিজয়গাথা।
ছাত্ররা একে ‘বিপ্লব’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের বিপ্লবের তিন মাস অব্যাহত গতিতে এগিয়ে চলছে। আগস্টে ছাত্ররা শান্তিতে নোবেলজয়ী ৮৪ বছর বয়সী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হওয়ার আহ্বান জানান। এতে সম্মত হয়ে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যাপক সংস্কারের কাজ শুরু করেছে ড. ইউনূস। তিনি নির্বাচনেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দু’টি বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন দুই ছাত্র নেতা। ইতিমধ্যেই ড. ইউনূস জানিয়েছেন যে, বর্তমান দায়িত্ব পালনের পর রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই তার।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ড. ইউনূস সম্প্রতি বিপ্লবের বিভিন্ন ছবি সংবলিত একটি বই উপহার দেন তাদের। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ছাত্রদের সম্পর্কে ড. ইউনূস বলেছেন, ‘তারা দেশের নায়ক। তারা বিজয়ী। তারাই এই বিপ্লব এনেছে।’
প্রাণশক্তি এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে ড. ইউনূস তরুণদের নিয়ে যে পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন তা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একটি বিরল দৃশ্য। ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ব্লকের পতনের পর মধ্য ইউরোপে যে সংস্কারের ধারা শুরু হয়েছিল তার সঙ্গে ইউনূস সরকারের কাজ কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ। অথবা ২০১১ সালে কয়েক দশক ধরে চলা মিয়ানমারে সামরিক শাসনকে যেভাবে ভেঙে দেয়া হয়েছিল তার সঙ্গেও মিলানো যায়।
দলীয় স্বার্থে পুলিশ এবং আদালতের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারের কারণে আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিবাদের’ সমর্থক বলে অভিযুক্ত করেছেন ড. ইউনূস। ইতিমধ্যেই তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের জন্য কমিশন গঠন করেছেন। দেশের সংবিধান ও নির্বাচনী ব্যবস্থার পুনর্গঠন থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি বিষয়ের সংস্কারের কাজ শুরু করেছে তার সরকার। বিশেষ করে হাসিনার আমলে শত শত বা হাজার হাজার লোকের জোরপূর্বক গুমের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গঠিত হয়েছে কমিশন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগের মতে, হাসিনার গোপন কারাগারে নিয়ে নির্যাতন বা হত্যার বিষয়টিও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ বছরের শেষের দিকে এ বিষয়ে রিপোর্ট জমা দেবে সংশ্লিষ্ট কমিশনগুলো।
এদিকে দেশের ব্যাংক থেকে পাচার হওয়া প্রায় ১৭০০ কোটি ডলার ফেরত আনার চেষ্টা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান মানসুর। তার অনুমান হচ্ছে, হাসিনার শাসনামলে বিভিন্ন ব্যাংকের মালিকরা বিদেশে এই অর্থ পাচার করেছে। বিশালাকার দুর্নীতির মধ্যে হাসিনা ও তার সহযোগীদের এই অর্থ পাচার সামান্যই বটে।
এখন বাংলাদেশের সময় একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মুহূর্তে থাকলেও ছোট দল ও নেতাদের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের পর যাদের রাজনৈতিক যাত্রা বেশ অস্বস্তিকর ছিল। সর্বোপরি বিশ্বের জনবহুল দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম এই দেশটিও বিপজ্জনক মুহূর্তের মধ্যে রয়েছে।
যদিও এক্ষেত্রে সময় অনেক কম যাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৫ই আগস্টের পর বেশ কিছু বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকায় দলটির অনেক নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। যাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যালঘু হিন্দুও ছিল। যে বিষয়টি ভারতের শাসক গোষ্ঠীকে বেশ ক্ষুব্ধ করেছে। কেন না, তারা ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থক। এরমধ্যে হাসিনার আমলে যেসব ইসলামপন্থি দল নিপীড়নের শিকার হয়েছিল তারা এখন মুক্ত হয়েছে। নিজেদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে কাজ শুরু করেছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে। অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে পোশাক খাতের কিছু অর্ডার দেশের বাইরে চলে গিয়েছে। যাতে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বিশ্বের দরিদ্রতম দেশের তালিকা থেকে বের করে আনতে সাহায্য করা এই খাতটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ দেশের লাখ লাখ নারীর কর্মসংস্থানের যোগান দিচ্ছে এই খাত।
এ ছাড়াও আরও বিস্তৃত কিছু প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। তা হচ্ছে- ছাত্ররা আর কতোদিন সরকারে থাকবে? জুলাই-আগস্ট রক্তপাতের জন্য কি কেবল পুলিশেরই বিচার করা উচিত, নাকি বেসামরিকদেরও? দেশের সর্ববৃহৎ এবং প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, দলটির পক্ষে কয়েক কোটি মানুষের ভোটের সমর্থন রয়েছে বলে মনে করা হয়। এক্ষেত্রে দলটিকে কি পুনরায় নির্বাচনে লড়তে দেয়া উচিত? অন্য কথায় বলতে গেলে, ‘বিপ্লব’ মানেই কি তা স্থায়ী?
ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেছেন, ছাত্রদের ‘সরকার দখলের কোনো পরিকল্পনা ছিল না’, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবিকে সামনে রেখে তা বিপ্লবে রূপ নিয়েছে।
আসিফ মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞানের ২৬ বছর বয়সী একজন সাবেক ছাত্র। যিনি বর্তমান সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তাদের কাজ শেষ হয়নি। বিপ্লব এখনো শেষ হয়নি’। তিনি আরও বলেছেন, ‘এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিপ্লবের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে।’
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘এক ভোটে’ প্রেসিডেন্ট, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, ঢাকায় উত্তেজনা by সাজেদুল হক
এ বয়ান ক্যালি শেলের। যিনি ২০০০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী আল গোরের অফিসিয়াল ফটোগ্রাফার ছিলেন। পরে কাজ করেছেন বারাক ওবামার সঙ্গেও। কীভাবে মাত্র একটি ইলেক্টোরাল ভোটের ব্যবধানে জর্জ ডাব্লিউ বুশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন তার রোমাঞ্চকর, উত্তেজনাপূর্ণ বর্ণনা দেন ক্যালি শেল, বিবিসিতে যা তুলে এনেছিলেন রেবেকা কেসবি। শুধু যুক্তরাষ্ট্র কেন, পৃথিবীতেই সম্ভবত এমন নির্বাচন আর হয়নি। একবার বলা হচ্ছিল আল গোর জিতেছেন। পরে খবর পাওয়া যায় বুশ জিতেছেন। ব্যালট গণনা নিয়ে লড়াই গড়ায় আদালতে। ফ্লোরিডার আদালতের রায় পাল্টে যায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে। তাও সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে। এক মাসের আইনি লড়াই শেষে মাত্র একটি ইলেক্টোরাল ভোট প্রেসিডেন্টের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
আরেকটি মার্কিন নির্বাচন একেবারেই দোরগোড়ায়। দুইদিন বাদেই ভোট। ২০০০ সনের জনমত জরিপ যেমন লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল এবারো একই রকম খবর পাওয়া যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ডনাল্ড ট্রাম্প এবং কমালা হ্যারিসের মধ্যে। প্রায় সব জরিপই বলছে তাদের ভোটের ব্যবধান হবে একেবারে সামান্য। কোথাও ট্রাম্প এগিয়ে, কোথাও কমালা। ডেমোক্রেট এবং রিপাবলিকান শিবিরের ঘুম হারাম। যদিও ভোটের আগেই উত্তেজনা তৈরি করেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। সিএনএনে একজন ভাষ্যকার বলছিলেন, ট্রাম্প এমন একটি আবহ তৈরি করতে চাচ্ছেন যেন তার জয়ই সত্য, আর সব মিথ্যা। ট্রাম্প এরইমধ্যে দাবি করেছেন, ‘গড যদি ভোট গনণাকারী হন তবে তিনি ভূমিধস জয় পাবেন।’ পুরো দুনিয়ার চোখ এখন মার্কিন মুল্লুকে। পরিবর্তিত পৃথিবীতেও আমেরিকা বিশ্ব নেতা। সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ইউরোপ এবং ইউক্রেন। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে ইউক্রেনের পাশে আছে যুক্তরাষ্ট্র। ডনাল্ড ট্রাম্প যদি ক্ষমতায় আসেন তাতে পরিবর্তন আসবে এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। মার্কিন নির্বাচনের পর সে অঞ্চলে কী হবে? যুদ্ধ বিস্তৃত হবে? শান্তি ফিরবে? বিশ্ব ব্যবস্থায় কি কোনো পরিবর্তন আসবে? পুতিন যে ট্রাম্পের জয় চাইছেন তা কারও অজানা নয়। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেই হোন চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বড় কোনো হেরফের হবে না।
মার্কিন নির্বাচনের দিকে সবসময় দৃষ্টি থাকে বাংলাদেশেরও। তবে এবার মনে হয় এ ভূমে হাজার হাজার মাইল দূরের নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা কিছুটা বেশিই। শুক্রবার রাতে এক্সে দেয়া ডনাল্ড ট্রাম্পের একটি বার্তা যাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-বিশ্লেষণ। কিছুটা দীর্ঘ বার্তার শুরুতে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। লিখেছেন, ‘আমি বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বরোচিত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দেশটিতে দলবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা ও লুটপাট চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন পুরোপুরিভাবে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে রয়েছে।’ বার্তায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন হিন্দু ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করেছেন তিনি। তবে তার এই বার্তা ঢাকায় কম চাঞ্চল্য তৈরি করেনি। বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গেল বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের সম্পর্ক বিবেচনায় এ বার্তা গুরুত্বপূর্ণ। যদিও কেউ কেউ এর পেছনে গুজব, লবিস্ট ফার্মের ভূমিকা এবং হিন্দুত্ববাদী প্রচারণার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করে আসছে। বিশেষত রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা ও পিটার হাস্ এ নিয়ে অনেক চেষ্টা করেছিলেন। বাইডেন প্রশাসন বাংলাদেশের জন্য ভিসা নীতিও ঘোষণা করেছিল। অবশ্য কাজের কাজ এতে হয়নি। শেখ হাসিনা একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন। তবে গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যান। নতুন এক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যাকে ওয়াশিংটনের পুরনো মিত্র মনে করা হয়। তবে ট্রাম্প শিবিরের ক্ষেত্রে সে মিত্রতার চিত্র কেমন হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরইমধ্যে ভারতের সঙ্গে শীতল সম্পর্ক যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। আমেরিকার ক্ষমতার অন্দরমহলে দিল্লির প্রভাবের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় রয়েছে।
বাংলাদেশের সামনে এখন বেশকিছু প্রশ্ন রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো কবে, আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো সে ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে কিছু ইঙ্গিত মিলছে ২০২৫ সালে নির্বাচন হতে পারে। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ ব্যাপারে রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে। আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো আওয়ামী লীগ রাজনীতি করার বা নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে কি-না? এ দু’টি ক্ষেত্রেই আমেরিকার নির্বাচনের ফল প্রভাব রাখতে পারে। ড. ইউনূস সরকার এক্ষেত্রে কী কৌশল অবলম্বন করে তা হবে দেখার বিষয়। সম্ভবত, ড. ইউনূসের সরকারের চেয়েও বেশি দৃষ্টি নিয়ে মার্কিন নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ। তারা কেমন ফল চান তা ধারণা করা কঠিন কিছু নয়। একইরকম ভাবে সে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি, জামায়াত, ছাত্র নেতৃত্বসহ বিভিন্ন দল ও গ্রুপ।
আমেরিকার কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব কম-বেশি যাই হোক না কেন পুরো বিশ্ব ব্যবস্থার জন্যই এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। একের পর এক জরিপ হচ্ছে। কোথাও কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে না। একেবারেই কাছাকাছি দুই প্রার্থী। একে অন্যের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন। দুই শিবিরই কি কিছুটা নার্ভাস? প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ তার ‘মে ফ্লাওয়ার’ বইতে লিখেছিলেন, ‘আমরা আমাদের দেশে একজন মহিলা রাষ্ট্র প্রধানের কথা চিন্তা করতে পারি। ভাবতে পারি। ওরা (আমেরিকান) তা পারে না। আসছে একশ’ বছরেও এই আমেরিকায় কোনো মহিলা প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট হবে না। অতি সুসভ্য এই দেশ তা হতে দিবে না।’ হিলারি ক্লিনটনের মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তিনি তা হতে পারেননি। কিন্তু কমালা হ্যারিস ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। এবার কি তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন? তিনি কি নতুন ইতিহাস তৈরি করবেন। নাকি ডনাল্ড ট্রাম্প, যিনি সম্ভবত পুরো আমেরিকার রাজনীতির খোলনলচে বদলে দিয়েছেন তিনি আবার হোয়াইট হাউসের বাসিন্দা হবেন। যেই জয় পান না কেন, লড়াইটা যে খুব কঠিন হবে তা একেবারেই স্পষ্ট।
আবার ২০০০ সনে ফিরে যাই। বিবিসি’র বরাতে ক্যালি শেলের বয়ানে। ফ্লোরিডার আদালত প্রতিটি ভোট গণনার পক্ষে রায় দিলেও সুপ্রিম কোর্ট তা পাল্টে দেয়। ৯ জন বিচারকের ৫ জন ভোট পুনঃগণনা বন্ধ করার পক্ষে, ৪ জন বিপক্ষে মত দেন। আদালতের রায় অনুযায়ী জর্জ বুশই ফ্লোরিডায় জয় পান। তার মোট ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট দাঁড়ায় ২৭১। প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল ২৭০ ভোট। সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার সময় আল গোরের কাছাকাছিই ছিলেন ক্যালি শেল। ‘আইনজীবীরা সবাই তখন ফোনে কথা বলছে। আমার মনে পড়ছে, আল গোর তখন বললেন, সব শেষ হয়ে গেছে, ঠিক? আমরা কি আর কিছু করতে পারি?’ আইনজীবীরা বললো, ‘না, সব শেষ, আর কিছু করার নেই। তখন আল গোর বললেন, তাহলে আর কিছু করার নেই, আমাদের সবার এখন ঘুমাতে যাওয়া উচিত। আমার মনে হচ্ছিল, তিনি বেশ দমে গিয়েছিলেন। আল গোর বেশ নিরাশ হয়েছিলেন, যে সিস্টেমের ওপর তিনি এতটা আস্থা রেখেছিলেন, সেটি শেষ পর্যন্ত কাজ করেনি।’ প্রশ্ন হলো এবারের ভোটও কি এমনই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে?

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘জাতিকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে’ -ডা. শফিকুর রহমান
শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের মতো আর কারও উপর বিচারের নামে জুলুম না হোক। যে যার কর্মের ফল বিচারের মাধ্যমে পেলেই বিচারহীনতা সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে। ফলে ভুক্তভোগী মজলুম ন্যায় বিচার পাবে। আওয়ামী লীগ মানুষকে পশুর মতো হত্যা করেছে। শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ কেউ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের গণহত্যা থেকে রক্ষা পায়নি।
তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর আওয়ামী লীগ কেবলমাত্র চারদলীয় জোটের ঐক্যের ফাটল সৃষ্টি করে নিজেদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ পরিষ্কার করতে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। যারা কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দেয় তারা নিজেদের তৈরি করা সংবিধান নিজেরাই মানেনি। কোনো হত্যা মামলা বাদীর সম্মতি ব্যতীত প্রত্যাহার বা বাতিল করার ক্ষমতা কারও নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতা দখল করেই ২৮শে অক্টোবরের ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলা বাতিল করে দিয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এখান থেকেই শুরু হয়েছে।
জামায়াতের আমীর বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা দখল করেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। তাদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতেই ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ তাদের ফ্যাসিবাদের মুখোশ উন্মোচন করেছে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যম সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের ভূমিকা পালন করলে কেউ জালিম হতে পারবে না। গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ উপস্থাপন ও পরিবেশন করার আহ্বান জানাচ্ছি। সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতে হবে। সাংবাদিকতা একটি মহান দায়িত্ব। এই দায়িত্ব জনগণের আমানত। সেজন্য জনগণের আমানত রক্ষায় সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা দলের হয়ে কাজ করা যাবে না। জামায়াত যদি কোনো ভুল করে থাকে সেটিও তুলে ধরতে হবে, আবার জনগণের স্বার্থে যেসব কাজ করে থাকে তাও তুলে ধরতে হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দিনের পথে যারা থাকে তারাই পরস্পর ভাই ভাই। এই সম্পর্ক পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। আগামী দুই বছর দায়িত্বশীলদের আগের সকল পরীক্ষার চেয়ে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানামুখী সংকট, সংঘর্ষ, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র, এই দায়িত্বশীলদেরই মোকাবিলা করতে হবে। তাই দায়িত্বশীলদের কাজে সহযোগিতা করতে উপস্থিত রুকন সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় শপথ অনুষ্ঠানে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির, নায়েবে আমীর এডভোকেট হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মো. দোলোয়ার হোসেন, মু. কামাল হোসাইন, ড. মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান প্রমুখ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় ‘জাতিগত নির্মূল’ ঠেকাতে বিশ্বকে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে: জাতিসংঘ মহাসচিব
গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক বোমাবর্ষণের মুখে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি বাড়তে থাকায় গুতেরেস এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করলেন।
গুতেরেসের এ সতর্কবার্তার আগে গত মঙ্গলবার গাজার বেইত লাহিয়ায় ইসরায়েলের এক হামলাতেই অন্তত ৯৩ জন নিহত হন। এ ঘটনায় জাতিসংঘ বলেছে, গত এক সপ্তাহে গাজায় অন্তত যে সাতটি হামলায় অনেকের প্রাণহানি ঘটেছে, এটি তার একটি।
গাজায় একদিকে প্রাণহানি বেড়েছে, অন্যদিকে যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলি বাধায় এ পর্যন্ত ত্রাণ সরবরাহ সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় গাজার বাসিন্দাদের অন্তত এ উপত্যকার অংশবিশেষ থেকে হলেও ইসরায়েল তাড়াতে চাইছে, এমন অভিযোগ বাড়ছে।
কলাম্বিয়ায় বিশ্ব জীববৈচিত্র্য সম্মেলন ‘কপ১৬’–এর ফাঁকে বক্তব্য দেওয়ার সময় গাজা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব ইঙ্গিত দেন যে এ পর্যন্ত গাজায় ‘জাতিগত নির্মূল’ ঠেকিয়ে রাখা গেছে। ইসরায়েলের প্রচণ্ড চাপের মুখে গাজার বাসিন্দারা বাড়িঘর ছাড়তে রাজি না হওয়ায় এবং সেখান থেকে তাঁদের গণহারে ভিন্ন স্থানে স্থানান্তর আরবরা মেনে না নেওয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে।
এদিকে গুতেরেস দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘সম্ভবত (ইসরায়েলের) অভিপ্রায় হলো, ফিলিস্তিনিরা গাজা ছেড়ে চলে যাক এবং সেখানে অন্যরা দখলদারি প্রতিষ্ঠা করুক।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে এখনো সেটি হয়নি এবং আমি তাঁদের সাহস ও মনোবল এবং আরব বিশ্বের দৃঢ়প্রত্যয়ের শ্রদ্ধা জানাই।’
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘গাজার বাসিন্দারা যাতে নিজেদের ভূমিতে থাকতে পারেন, সেই লক্ষ্যে তাঁদের সহায়তা করতে ও সম্ভাব্য জাতিগত নির্মূল ঠেকাতে আমরা সম্ভব সবকিছু করব। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তরফে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জাতিগত ওই নির্মূল সংঘটিত হতে পারে।’
মহাসচিবের এ বক্তব্যের আগে গত সপ্তাহে জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে বলেছেন, গাজায় এরই মধ্যে জাতিগত নির্মূল অভিযান শুরু হয়েছে। অবশ্য পদ্ধতিগত উপায়ে গাজার বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
![]() |
| জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ছবি : রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী: হামলা বাড়িয়ে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা ‘প্রত্যাখ্যান’ করেছে ইসরায়েল
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে নাজিব মিকাতি বলেন, লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে আগ্রাসনের পরিধি নতুন করে বাড়িয়েছে শত্রু ইসরায়েল। তারা বিভিন্ন শহর ও গ্রাম থেকে সব বাসিন্দাকে সরে যাওয়ার জন্য বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বৈরুতের দক্ষিণের শহরতলিতে তারা নতুন লক্ষ্যবস্তুতে ধ্বংসাত্মক হামলা চালিয়েছে। এসব কিছু এটাই নিশ্চিত করেছে যে শত্রু ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির সব প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলের বিমান হামলায় গাজায় আরও ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় গাজার দেইর আল-বালাহ, নুসিরাত শরণার্থীশিবির ও আল-জাওয়াইদা শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা এরই মধ্যে ৪৩ হাজার ছাড়িয়েছে। লেবাননে নিহত হয়েছেন প্রায় ২ হাজার ৮০০ জন।
শুক্রবার প্রায় একই সময়ে বৈরুতের দক্ষিণের শহরতলিতেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সেখানে অন্তত ১০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এসব স্থানে প্রায় এক সপ্তাহ বিরতি দিয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে। এখানে হামলা চালানোর আগে অঞ্চলটির ১০টি জায়গা থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েল। কিন্তু চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি প্রকাশ করার আগেই ইসরায়েল হামলা শুরু করেছে অভিযোগ উঠেছে।
এসব হামলার আগের দিন বৃহস্পতিবার আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘মার্কিন দূত আমোস হোচস্টেইন বুধবার আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ফোনালাপে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্ভব।’ লেবাননের সম্প্রচারমাধ্যম আল-জাদেদকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার তিনি এসব কথা বলেন।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা। এই প্রচেষ্টার মধ্যেই লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির এই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা লেবানন থেকে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলে যান। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অফিস থেকে তাঁদের জানানো হয়েছে, তাঁরা আপাতত যুদ্ধবিরতি নিয়ে তেমন বেশি ভাবছেন না।
বৃহস্পতিবার স্নাতক শেষ করা ইসরায়েলি সেনাদের এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘সমঝোতা, নথিপত্র এবং প্রস্তাব—এসব কিছু আমাদের মূল বিষয় নয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সক্ষমতা ও সংকল্পই আমাদের মূল বিবেচ্য বিষয়। আমাদের বিরুদ্ধে হামলা ও শত্রুদের হাতে অস্ত্র যাওয়া রোধ করাই আমাদের প্রধান কাজ। সব ধরনের চাপ উপেক্ষা করে যতক্ষণ এসব দরকার, ততক্ষণ তা চলবে।’
![]() |
| নিজেদের সর্বশেষ সহায়-সম্বল আঁকড়ে আছে এক শিশু। লেবানন থেকে সিরিয়া যাওয়ার পথে মাসনা সীমান্ত ক্রসিংয়ে। ২৮ অক্টোবর ২০২৪ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
November
(469)
-
▼
Nov 02
(17)
- নতুন বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখাতে প...
- লেবানন যোদ্ধাদের রকেট হামলায় ইসরায়েলে নিহত ৭
- এনটিএমসি’র সোর্স কোড গায়েব! by মরিয়ম চম্পা
- কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ৩৬ কোটি টাকার ...
- ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ভারতীয় মিডিয়া অতিরঞ্...
- মার্কিন নির্বাচন-২০২৪: কমালা না ট্রাম্প? বিভক্ত বা...
- চেয়ারম্যান সাইফুলের দখল সাম্রাজ্য: ক্ষমতার দাপটে অ...
- শহীদ শাহরিয়ারের বাবা বললেন: আমার সন্তানের জীবনের ব...
- সিলেটে শারপিন টিলায় ৫ কোটি টাকার পাথর লুট
- নদীদূষণ ভয়ানক পর্যায়ে পৌঁছেছে : গবেষণা
- চোখের আলো হারিয়ে ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছেন নবী by ফাহ...
- আব্দুস শহীদ উপাখ্যান: মৌলভীবাজারে রাজনৈতিক দ্বন্দ্...
- তরুণ বিপ্লবীদের নেতৃত্বে ৮৪ বছরের ড. ইউনূস
- ‘এক ভোটে’ প্রেসিডেন্ট, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, ...
- ‘জাতিকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে’ -ডা. শফিকুর রহমান
- গাজায় ‘জাতিগত নির্মূল’ ঠেকাতে বিশ্বকে অবশ্যই ব্যবস...
- লেবাননের প্রধানমন্ত্রী: হামলা বাড়িয়ে যুদ্ধবিরতির চ...
-
▼
Nov 02
(17)
-
▼
November
(469)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


