Wednesday, June 1, 2011

রোনালদোর ‘মেসি-চিকিৎসা’

খেলছেন রোনালদো, আর দর্শকেরা চিৎকার করছে ‘মেসি’ ‘মেসি’ বলে! ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে খেপানোর এই অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কারের কৃতিত্ব সাইপ্রাসের দর্শকদের। গত সেপ্টেম্বরে ইউরো বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে সাইপ্রাসে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতাই হয়েছিল পর্তুগাল অধিনায়কের। তবে ঢিল ছুড়ে পাটকেলই খেতে হয়েছে। ওই ম্যাচে পর্তুগাল জিতেছিল ৪-০ গোলে। রোনালদো নিজে করেছেন ২ গোল!
পর্তুগিজ তারকা সেই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেছেন, ‘ওরা যেকোনো ধরনের কথা বলে চিৎকার করুক কিংবা চুপ করে থাকুক, এই দুইয়ের মধ্যে আমার কাছে কোনো পার্থক্য নেই। এ ধরনের কথাবার্তা আমাকে মোটেও উত্তেজিত করে না। আমার খেলায় এতে কোনো প্রভাবও পড়ে না। আমি এসবে থোড়াই কেয়ার করি।’
লিওনেল মেসির সঙ্গে তাঁর একটা কল্পিত দ্বৈরথ চলছে, এটা ভাবতে সবাই পছন্দ করে। মুখে দুজন যতই অস্বীকার করুন, দেখা যায়, পাল্লা দিয়েই তাঁরা গোল করে চলেছেন। গত মৌসুমে মেসি ৫৩টা গোল করলেন, গুনে গুনে রোনালদোও করলেন ৫৩টা!
সামনেও ফিফা ব্যালন ডি’অরের পুরস্কারেও মেসির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাঁর। তবে ২০০৮ সালের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় দাবি করলেন, এই পুরস্কার নিয়ে তিনি মোটেও মাথা ঘামাচ্ছেন না। তা হলে কী নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন? রোনালদোর উত্তর, শুধুই রিয়াল মাদ্রিদ।

বাজার তদারকি

দ্রব্যমূল্যের তদারকি প্রাথমিকভাবে একটি প্রশাসনিক বিষয় হলেও, এর কোনো বাস্তব উপস্থিতি লক্ষ করা যায় না। এই প্রেক্ষাপটে বাজার তদারকিতে হঠাৎ সাংসদদের সম্পৃক্ত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ‘সদিচ্ছা’ নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। এ খবরে আপাতদৃষ্টিতে একটা গণমুখী ভাব থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন না উঠে পারে না। কারণ বাজার নিয়ন্ত্রণ নির্বাহী বিভাগের কাজ। সেই কাজ যেখানে প্রায় ষোলোআনাই নৈবচ নৈবচ, সেখানে রাজনৈতিক তদারকি কী সুফল দেবে? বাজারের ওপর ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় জনপ্রশাসন তথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো উদ্যোগ ভোক্তাগোষ্ঠীর গোচরীভূত হয়নি। ভোক্তার অধিকার কথাটি এখন পর্যন্ত বলা চলে কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ। সংসদীয় কমিটির আগে দেখা উচিত, বাজার শাসনের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও লোকবল আছে কি না এবং তা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছে কি না।
সময়ে সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তরফে নানাবিধ কড়াকড়ির কথা শুনি। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অর্থহীন বাগাড়ম্বর বৈ কিছু নয়। এখন পর্যন্ত কোনো ‘অসাধু’ রুই-কাতলার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কোনো তথ্য জানা যায় না। বিগত জোট সরকারের আমলে ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটি ছিল বহুল উচ্চারিত শব্দ। বর্তমান আমলে সিন্ডিকেট কথাটির জোশ নেই। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে দেশের বাজার ব্যবস্থাপনা এখন সিন্ডিকেটের অভিশাপমুক্ত হয়েছে। বরং অনেকে এই ভেবে বিস্মিত যে, সেই সিন্ডিকেট গেল কোথায়? তাদের কোনো একজনকেও কি সরকার বিচারের কাঠগড়ায় সোপর্দ করতে সক্ষম হয়েছে? সংসদীয় কমিটি কি আমাদের এর কারণ জানাবে?
বহু বছরের আন্দোলনের পর ২০০৯ সালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন পাস হলো। কিন্তু সেই আইনের বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ নেই। ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনকানুনের আকাল কখনো ছিল না। আকাল ছিল সরকারের সদিচ্ছার। মুক্তবাজার অর্থনীতি মানে যত ইচ্ছা তত মুনাফা করার অধিকার নয়। পরিহাস হলো, ব্যবসায়ীপ্রধান সংসদ হওয়া এবং বাজার প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বাণিজ্যস্বার্থ প্রকট থাকার কারণে বাজার ব্যবস্থাপনা দাঁড়াতেই পারছে না। সুতরাং সাংসদ নয়, সর্বাগ্রে চাই ভোক্তা অধিকার আইনের বাস্তবায়ন এবং সে কাজ করতে হবে প্রশাসনকেই। সংসদীয় কমিটির উচিত হবে এই বিষয়টির তদারক আগে নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই! by জোবাইদা নাসরীন

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের বহু আগে থেকেই এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন আদিবাসীর বসবাস। তবে এটা জোর দিয়েই বলা যায়, ‘আদিবাসী’ পরিচিতির সঙ্গে তাদের এ দেশে আগে-পরে আগমনের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এ ধরনের সম্পর্ক খোঁজাও একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার অংশ। এই বিশেষ প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য কী, তা আমরা সবাই কম-বেশি জানি। যদিও সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে শুরু করে নিম্নস্তর পর্যন্ত বেশির ভাগ কর্তাব্যক্তিই এ-জাতীয় সরল সংজ্ঞায়নে ‘আদিবাসী’ শব্দটির অর্থ বের করার চেষ্টা করেন কিংবা অন্যদের বিশ্বাস করাতে চান। আর এই প্রক্রিয়া থেকেই সমস্যার বিস্তার। দিনে দিনে আমাদের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে পরিচিতি নির্মাণের রাজনীতির নানা কলাকৌশল। এরই অংশ হিসেবে আর একে ঘিরে সর্বশেষ জাতিসংঘে দেওয়া হলো বাংলাদেশ মিশন প্রতিনিধির বয়ান।
বেশ কিছুদিন থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দটিকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ দেশের আদিবাসী জনগণের পরিচিতি নির্মাণের রাজনীতি জোরদার হয়। রাষ্ট্রের তরফ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে এ দেশের আদিবাসীরা তিনটি পরিচিতি পায়। এর একটির সঙ্গে তারা একাত্ম বোধ করে, বাকি দুটির সঙ্গে নয়। বর্তমান সময়ে এ পরিচিতি নির্মাণের বিষয়টি জোরালোভাবে হাজির হয়েছে। তারা চাচ্ছে, আদিবাসী পরিচয়ে তাদের সাংবিধানিক পরিচয় তৈরি হোক। অন্যদিকে সরকারি পক্ষ বলছে অন্য পরিচিতির কথা। এই তর্কে নতুন করে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে ইকবাল আহমেদের বক্তব্য। জাতিসংঘের আদিবাসীবিষয়ক স্থায়ী ফোরামের দশম অধিবেশনে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের প্রথম সেক্রেটারি ইকবাল আহমেদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী মানুষ নাই।’ কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাহলে যারা আছে, তারা কারা? তিনি অবশ্য তাঁর বক্তব্যে বিষয়টি খোলাসা করেননি। কোন ক্ষমতাবলে তিনি এমন ধরনের ‘মিসিং আইডেনটিটি’ তৈরি করার মুখপাত্র হলেন?
গত বছর আদিবাসী বিষয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিলের মাধ্যমে। আদিবাসীরা চেয়েছিল, বিলটির নাম হোক ‘আদিবাসী প্রতিষ্ঠান বিল’। তাদের দাবি অগ্রাহ্য করে বিলটি সংসদে পাস করা হয়। গত বছরের প্রথম দিকেই পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে নির্দেশিত একটি প্রজ্ঞাপনে পাওয়া যায় রাষ্ট্রের ভিন্ন কথন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘গোপনীয়’ হিসেবে প্রেরিত সেই নির্দেশনাটি ছিল অনেকটা এ রকম—কতিপয় বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ‘উপজাতীয়’ জনগণকে আদিবাসী বলছে, সেটি সরকারের কাছে অভিপ্রেত নয়। তাই এখন থেকে তাদের ‘উপজাতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করার জন্য বলা হয়েছে। তৃতীয় নামকরণটি অবশ্য অনেক দিন থেকেই চলে আসছে। যদিও সরকার এটি মানতে নারাজ। উল্লেখ্য, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা তাঁদের বিভিন্ন ভাষণ, প্রচারপত্র এবং আদিবাসী দিবসের বিশেষ স্মরণিকায় শুভেচ্ছাবাণীতেও ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এই অবস্থায় আদিবাসী বিষয়ে রাষ্ট্রীয় ডিসকোর্সটি জানা প্রয়োজন।
শুধু তা-ই নয়, বর্তমান ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের প্রধান শরিক দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার, শিক্ষানীতি ও সর্বশেষ বাজেটেও আদিবাসী শব্দটি আছে। এ ছাড়া সরকারের মন্ত্রীসহ অনেকেই বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আদিবাসী শব্দটিই ব্যবহার করেছেন। মজার বিষয় হলো, নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিলেও বলা হয়েছে, নৃৃগোষ্ঠী বলতে বাংলাদেশে বসবাসরত আদিবাসীদের বোঝানো হয়েছে। তাহলে কীভাবে একজন সরকারি প্রতিনিধি জাতিসংঘের বিশেষ সেশনে দাঁড়িয়ে বলতে পারেন, বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই? তাহলে এই সরকারের এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ দলিলে কীভাবে এ প্রত্যয়টি যুক্ত হলো?
আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী, আদিবাসী (Indigenous) বলতে যা বোঝানো হয় তা হলো, যেসব জনগোষ্ঠী প্রাক-ঔপনিবেশিক সময় থেকে কোনো অঞ্চলে বসবাস করছে এবং তারা তাদের ভাষা, প্রথা, আইনকানুনসহ সংস্কৃতি অক্ষুণ্ন রেখেছে এবং যারা সে দেশের অধিপতিশীল জনগোষ্ঠীর অংশ নয়, তারাই সে দেশের আদিবাসী বলে বিবেচিত হবে। সে হিসেবে বাংলাদেশে বসবাসরত আদিবাসীরা কেন আদিবাসী হিসেবে চিহ্নিত হবে না, সে বিষয়ে সরকারের বিশদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন। সরকার যদি নিজের মতো করে আদিবাসী সংজ্ঞায়ন শুরু করে (যা এরই মধ্যে করা শুরু হয়েছে), তাহলে তো খুবই মুশকিল। মুশকিল বোধ করি নৃবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে, সমস্যা বোধ করি একজন নাগরিক হিসেবেও।
আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে ‘উপজাতি’, ‘ট্রাইবাল’, ‘হিলম্যান’—এই নামকরণ সবই ঔপনিবেশিক শাসকদের তৈরি, যে নির্মাণের নির্মমতাকে সঙ্গে নিয়ে এত দিন চলেছে এ দেশের আদিবাসী মানুষ। যার পেছনে কাজ করেছে ‘অন্যতা’র রাজনীতি। স্বাধীন দেশে তো সেটি থাকার কথা নয়। কিন্তু এ ভূখণ্ডেও যে এখনো সেই শাসকদের ভূত চেপে আছে, তা আমরা এ বিষয়ে সরকারের প্রতিনিধিদের বক্তব্য থেকে দেখতে পাচ্ছি। ঔপনিবেশিকতার বীজ এখনো আমাদের মস্তিষ্কে আছে, সেটির প্রমাণ আর কতকাল দিতে হবে? মজার ব্যাপার হলো, সরকার কখনো বলে না, কোন সংজ্ঞায় এ দেশের আদিবাসীরা ‘আদিবাসী’ হিসেবে মর্যাদা পাবে না? কী কারণে বাংলাদেশে এই মানুষদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যাবে না? আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে সরকারের কী কী সমস্যা আসলে হবে? এগুলো আমাদের জানা প্রয়োজন। ভীষণভাবে জানা প্রয়োজন।
কাকে কী নামে পরিচয় করানো হবে, সে ক্ষেত্রে তার মতামত না নিয়েই কীভাবে একটি দেশের প্রতিনিধি জাতিসংঘের অধিবেশনে এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন? যদি ধরে নিই, এটি সরকারের বক্তব্য, তাহলে এত দিন বলে আসা এবং নির্বাচনী ইশতেহার, বাজেট ও শিক্ষানীতিতে যোগ হওয়ার পর হঠাৎ কী এমন ঘটল যে সরকারকে বলতে হচ্ছে, এ দেশে কোনো আদিবাসী নেই? সরকারের এই স্ববিরোধিতার পেছনের রাজনীতি আসলে কী? সরকার নিশ্চিতভাবেই জানে, জাতিসংঘে সরকার-প্রতিনিধির এ ঘোষণা বাংলাদেশে বসবাসরত আদিবাসীর পরিচিতির সংকট তৈরি করছে ও করবে। সংকট তৈরি নয়, বরং আদিবাসী হিসেবে পরিচিতি দেওয়াই হবে আদিবাসী মানুষের প্রতি সরকারের সবচেয়ে স্বাধীন ও সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি।
জোবাইদা নাসরীন: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
zobaidanasreen@gmail.com

আফগানিস্তানে দুটি বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে গতকাল সোমবার আত্মঘাতী হামলাসহ পৃথক দুটি বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৩০ জন। এ মাসের শুরুতে তালেবান জঙ্গিরা আফগানিস্তানে ব্যাপক হামলা চালানোর হুমকি দেওয়ার পর থেকে সেখানে সহিংসতা বেড়েছে।
হেরাতের গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, প্রথম হামলাটি হয় শহরের কেন্দ্রস্থলে। এটি ছিল রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ। পশ্চিমাঞ্চলীয় ইরান সীমান্তের অদূরে ঘটা ওই হামলায় শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
অপর হামলাটি চালানো হয় ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন প্রভিন্সিয়াল রিকনস্ট্রাকশন টিমের (পিআরটি) ঘাঁটিতে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হামলার পর গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। আরও কেউ হতাহত হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পিআরটির ঘাঁটিতে বেশ কয়েকজন হামলাকারী ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলেও অন্তত দুজন আত্মঘাতী হামলা চালাতে সক্ষম হয়।
আফগানিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে পিআরটি গঠিত হয়েছে। পুরো আফগানিস্তানে ২৮টি পিআরটি কাজ করছে।

৩০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে ইরান

ইরান ৩০০ মাদক পাচারকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে। দেশটির বিচার বিভাগ গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে।
তেহরানের প্রসিকিউটর জেনারেল আব্বাস জাফারি দোলাতাবাদির বরাত দিয়ে শার্ক পত্রিকা জানায়, মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধে ৩০০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ন্যূনতম ৩০ গ্রাম মাদক বহনকারীকেও ওই দণ্ড দেওয়া হয়। শিগগির তাদের দণ্ড কার্যকর করা হবে। জাফারি আরও বলেন, ৩০০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও তাদের মধ্যে মাদকচক্রের কোনো হোতা নেই। তাদের সবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, বিশ্বে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দেশ হিসেবে ইরানের অবস্থান দ্বিতীয়।

সিয়াচেন নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের আলোচনা

তিন বছর পর ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা সিয়াচেন হিমবাহের বিরোধ নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু করেছেন। গতকাল সোমবার নয়াদিল্লিতে দুই দিনব্যাপী এ আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষাসচিব প্রদীপ কুমার ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষাসচিব সৈয়দ আতহার আলী এ আলোচনায় নিজ নিজ দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দক্ষিণ এশিয়ায় একটি স্থিতিশীল শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করাই এ আলোচনার উদ্দেশ্য।

ডায়াবেটিস নিয়ে ৮৫ বছর

বহুমূত্র (ডায়াবেটিস) রোগ নিয়ে ৮৫ বছর বেঁচে থাকার রেকর্ড গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বব ক্রাউজ। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ক্রাউজের শরীরে ডায়াবেটিস রোগ ধরা পড়ে। এ রোগ নিয়ে এত দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ডায়াবেটিস গবেষণা প্রতিষ্ঠান জসলিন ডায়াবেটিস সেন্টার বব ক্রাউজকে সম্মাননা দিয়েছে। ১৯২১ সালে মিশিগানে তাঁর জন্ম। গত সপ্তাহে ক্রাউজের বয়স ৯০ বছর পূর্ণ হয়েছে।
ক্রাউজের শৈশবে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা এখনকার মতো এত উন্নত ছিল না। ইনসুলিন নেওয়ার পাশাপাশিখাদ্যনিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত শরীরচর্চা করে তিনি বহুমূত্র রোগ নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
ক্রাউজের চিকিৎসক বলেন, ডায়াবেটিস রোগ নিয়ে ক্রাউজের এমন দীর্ঘজীবী হওয়ার পেছনে খাদ্যাভ্যাসে তাঁর সংযম কাজ করেছে বলে ধারণা। ক্রাউজ বলেন, ‘এখন আমি একদম বুড়িয়ে গেছি। তবে হাল ছাড়িনি।’ এ বয়সেও সাধ্যমতো ব্যায়াম করেন ক্রাউজ। সকালে হালকা খাবার দিয়ে নাশতা করেন তিনি। দুপুরে তেমন খান না। সন্ধ্যায় শাকসবজি খান। ক্রাউজ বলেন, ‘আমি শুধু খাওয়ার জন্য বা আনন্দের জন্য খাই না। শরীরকে সচল রাখতে যেটুকু খাবার প্রয়োজন, তা-ই খাই।’

গাদ্দাফির ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ শেষ হওয়ার পথে

ন্যাটোর মহাসচিব অ্যান্ডারস ফগ রাসমুসেন বলেছেন, লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ শেষ হওয়ার পথে। গত সোমবার বুলগেরিয়ার ভারনা শহরে ন্যাটোর পার্লামেন্টের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে এ কথা বলেন তিনি।
এদিকে গতকাল লিবিয়ার গ্লিতান শহরে ন্যাটোর বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা জানার এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি।
ন্যাটোর মহাসচিব বলেন, তিনি (গাদ্দাফি) দেশে ও বিদেশে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। গাদ্দাফির ঘনিষ্ঠজনেরা স্বপক্ষ ত্যাগ করছেন, পলায়ন করছেন কিংবা তাঁকে ছেড়ে যাচ্ছেন। গাদ্দাফির ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার সময় এসেছে এখন। তিনি বলেন, ‘লিবিয়ায় আমাদের অভিযানের লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে। গাদ্দাফি তাঁর লক্ষ্য পূরণ করতে পারছেন না। গত দুই মাসে এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।’ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার লিবিয়া সফরের প্রাক্কালে অ্যান্ডারস এসব কথা বলেন।
গতকাল বিকেলে জ্যাকব জুমা ত্রিপোলি পৌঁছান। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গাদ্দাফির নিরাপদে সরে যাওয়ার পথ তৈরির ব্যাপারে আলোচনা করতেই জুমা এই সফরে গেছেন।
এ ধরনের খবর নাকচ করে দিয়ে সফরের আগে জুমার কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশটিতে ত্রাণসহায়তা পাঠানোর জন্য অবিলম্বে অস্ত্রবিরতি কার্যকর করা এবং গাদ্দাফি ও বিদ্রোহীদের মধ্যকার লড়াইয়ের অবসান ঘটানো তাঁর এই সফরের উদ্দেশ্য।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার বিমান মুখোপাধ্যায়

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বিমান মুখোপাধ্যায় গতকাল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভার স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। বামফ্রন্ট কোনো প্রার্থী না দেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি নির্বাচিত হন।
স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর বিমান মুখোপাধ্যায় বলেন, সব দলের সহযোগিতা ছাড়া বিধানসভার ঐতিহ্য রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই সব দলের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দলতন্ত্র নয়, বিধানসভায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। বিরোধীদলীয় নেতা সিপিএম বিধায়ক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, ‘বিধানসভার ঐতিহ্য মেনে আমরা স্পিকারকে সহযোগিতা করব।’ এরপর বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা নতুন স্পিকারকে শুভেচ্ছা জানান।

২০২২ সালের মধ্যে জার্মানির সব পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্ত

জার্মানি ২০২২ সালের মধ্যে দেশটির সব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিবেশমন্ত্রী নরবার্ট রোয়েটগেন গতকাল সোমবার ক্ষমতাসীন জোটের এক বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেন।
পরিবেশমন্ত্রী রোয়েটগেন জানান, দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর জোটের সব পক্ষ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধের ব্যাপারে একমত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত আর পরিবর্তন করা হবে না।
জার্মানিতে ১৭টি পারমাণবিক স্থাপনা আছে। এর মধ্যে আটটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এই আটটির মধ্যে সাতটি আবার দেশটির সবচেয়ে পুরোনো পরমাণু স্থাপনা। ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে জাপানের ফুকুশিমায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপর্যয়ের পর গত মার্চে তিন মাসের জন্য এগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। অষ্টমটি উত্তর জার্মানিতে অবস্থিত। এটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বছর খানেক ধরে বন্ধ রয়েছে।
রোটগেন জানান, বন্ধ আটটি স্থাপনা আর চালু করা হবে না। উপরন্তু আরও ছয়টি স্থাপনা ২০২১ সালের শেষ নাগাদ এবং সবচেয়ে আধুনিক বাকি তিনটি স্থাপনা ২০২২ সালের শেষ দিকে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিই প্রথম আণবিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিল। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি দেশটির বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর উপায়ও খুঁজে বের করতে হবে। কারণ, জার্মানির ২২ শতাংশ বিদ্যুতের চাহিদা মেটে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে। তবে পরিবেশমন্ত্রী কোনো ধরনের বিদ্যুৎ-ঘাটতি হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন দেশবাসীকে। তিনি বলেন, ‘সব গ্রাহকের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ অটুট রাখার নিশ্চয়তা দিচ্ছি আমরা।’ তবে কীভাবে তা করা হবে, সে ব্যাপারে কিছু জানাননি মন্ত্রী।
জাপানে ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপর্যয়ের পর জার্মানিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল পরমাণু শক্তিকেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণ করতে একটি প্যানেল গঠন করেন। প্যানেল রোববার পরমাণু কেন্দ্রগুলো সম্পর্কে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর মেরকেলের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন জোটের অন্য শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ইয়েমেনে গুলিতে ২০ বিক্ষোভকারী নিহত

ইয়েমেনে সেনাদের গুলিতে ২০ জন সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। গুলিতে আরও অনেকে আহত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর অনুগত সেনারা গতকাল সোমবার ভোরে তাইজ শহরে সরকারবিরোধী একটি অবস্থান কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করতে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় বলে বিক্ষোভের একজন আয়োজক জানান। এদিকে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সন্দেহভাজন আল-কায়েদার জঙ্গিরা চার সেনাসদস্যকে হত্যা করেছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, সেনাবাহিনী ও রিপাবলিকান গার্ডের সদস্যদের সমর্থনপুষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর তাইজের কেন্দ্রস্থলে ফ্রিডম স্কয়ারে প্রেসিডেন্ট-বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হন। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালান ও তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেন। বিক্ষোভের একজন আয়োজক বলেন, হামলায় কমপক্ষে ২০ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র ও আয়োজকেরা বলেন, ট্যাংকবহর নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা একটি অস্থায়ী হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ৩৭ জন আহত ব্যক্তিকে আটক করেন। তাঁরা ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
বুশরা আল-মাকতারি নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘এটা গণহত্যা। পরিস্থিতি দুর্বিষহ। তারা আহত ব্যক্তিদের রাস্তা থেকে ধরে টেনেহিঁচড়ে আটককেন্দ্রে নিয়ে গেছে।’
বিক্ষোভকারীরা জানান, ফ্রিডম স্কয়ার পুরোপুরি খালি হয়ে গেছে। ইয়েমেনের বিরোধী জোট কমন ফোরাম প্রেসিডেন্ট সালেহর ‘অবশিষ্ট সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনী এবং সশস্ত্র মিলিশিয়াদের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
এদিকে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে জিনজিবার শহরের বাইরে সন্দেহভাজন আল-কায়েদার জঙ্গিরা একটি সেনাবহরের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়েছে। এতে চার সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রকে বিন লাদেনের সন্ধান দিয়েছিলেন তালেবান নেতা

আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনের অবস্থান সম্পর্কে এক তালেবান নেতা যুক্তরাষ্ট্রকে তথ্য দিয়েছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন কমান্ডো বাহিনী পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওসামাকে হত্যা করে। গণমাধ্যমের নতুন একটি প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
অ্যাবোটাবাদের ওই বাড়ি থেকে পাওয়া গোপন মার্কিন নথির বরাত দিয়ে সানডে মিরর পত্রিকা জানিয়েছে, ওসামা বিন লাদেনের অবস্থানের গোপন তথ্য আল-কায়েদার ঘনিষ্ঠ মিত্র ও তালেবানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল ঘানি বরোদার মার্কিন তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে ফাঁস করেছিলেন। এর প্রতিদান হিসেবে ওসামা নিহত বা আটক হওয়ার পর আফগানিস্তান থেকে ওয়াশিংটন তাদের সেনা ফিরিয়ে নেবে মর্মে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বরোদার একটি সমঝোতা হয়েছিল। এই মাসের শুরুর দিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে অ্যাবোটাবাদের ওই বাড়িতে মার্কিন কমান্ডোরা একচেটিয়া অভিযান চালিয়ে ওসামাকে হত্যা করে। অভিযানের পর সেখান থেকে একটি গোপন নথি পাওয়া যায়। ওই নথি থেকে সমঝোতার বিষয়টি বেরিয়ে আসে।
ওই গোপন নথির বরাত দিয়ে সানডে মিরর-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বরোদার ও আল-কায়েদার অন্যান্য গুপ্তচর লাদেনের অবস্থান সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছেন।
এখন পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছে, আবু আহমেদ আল-কুয়েতির মুঠোফোনের সূত্র ধরে ওসামা বিন লাদেনের অবস্থান শণাক্ত করা হয়। ওসামার কুয়েতি একজন বিশ্বস্ত বার্তাবাহক ছিলেন। ওসামার সঙ্গে তিনিও মার্কিন অভিযানে নিহত হন। তবে তাদের নথির বরাত দিয়ে সানডে মিরর জানিয়েছে, বরোদারই ওসামার অবস্থান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে তথ্য সরবরাহ করেছিলেন।
তালেবান নেতা মোল্লা ওমরের ঘনিষ্ঠ মিত্র বরোদার গত বছর পাকিস্তানের করাচিতে সফর করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন। এরপর কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদের পর একই বছরের অক্টোবরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। মোল্লা বরোদার পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন কোয়েটা শুরারও নেতা।
যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ নেইল ডয়লে জানান, ‘ওসামা ও মোল্লা ওমরের ঘনিষ্ঠ মিত্র বরোদার আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে, ওসামা নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তারা পাকিস্তান থেকে সেনা হ্রাসের পরিকল্পনা করছে। ঘটনাটা এ অনুমানকে উসকে দিতে পারে, তালেবানের সঙ্গে করা চুক্তির প্রতিদান কি ওয়াশিংট দিতে শুরু করেছে?’
নেইল আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারাও বলছেন, ঘনিষ্ঠ কয়েকজন মিত্রের সঙ্গে ওসামার সম্পর্কে ফাটল দেখা দিয়েছিল বলে তাদের কাছে তথ্য আছে।’

যশোরে কৃষি ও অটোমোবাইল শিল্পাঞ্চল স্থাপনের সুপারিশ

যশোরে উৎপাদিত মাছের রেণুপোনা, সবজি, ফুল এবং মোটরগাড়ির বডি ও যন্ত্রাংশ বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করে দেশের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে গতিশীল হচ্ছে দেশের জাতীয় অর্থনীতির চাকা।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০’-এর আওতায় এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক ও অটোমোবাইল শিল্পাঞ্চল স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রস্তাব শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসক মো. নুরুল আমিন এবং যশোরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত সমীক্ষাপত্র দুটি খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিসিকের সমীক্ষাপত্রে বলা হয়েছে, শহরের আশপাশের আবাসিক ও অনাবাসিক এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে শতাধিক অটোমোবাইল শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় মোটরগাড়ির যন্ত্রাংশ ও বাস-ট্রাকের কাঠামো উৎপাদন, অটোরিকশা ও থ্রি হুইলার সংযোজন এবং মোটরগাড়ি মেরামত করা হয়।
এই সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, বিক্ষিপ্তভাবে কারখানাগুলো গড়ে ওঠার কারণে এ অঞ্চলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তাই একই জায়গায় সমন্বিত অবকাঠামোগত সুবিধা দিয়ে কারখানাগুলো গড়ে তোলা হলে জাতীয় অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি এ অঞ্চলের পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হবে।
এ লক্ষ্যে শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে যশোর-নড়াইল সড়কের দাইতলা সেতুর পাশে ফতেপুর গ্রামের ফতেপুর মৌজায় এই শিল্পাঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই স্থানে শিল্পাঞ্চল স্থাপন করা হলে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত ও শিল্পের কাঁচামাল পরিবহনের জন্য ঢাকা ও বেনাপোলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে।
এ ছাড়া এই স্থানের পাশেই পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। ফলে শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সহজ হবে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যবস্থা রয়েছে। স্থানটি পৌর এলকার বাইরে হওয়ায় অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে জমি অধিগ্রহণ করা যাবে। জমির ওপর ঘরবাড়ি ও গাছগাছালিও তুলনামূলক অনেক কম।
এই এলাকা ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার নানা যৌক্তিকতা তুলে ধরে সমীক্ষাপত্রে নয় দফা সুপারিশ করা হয়েছে।
৮ মে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো সমীক্ষাপত্রে বিসিক যশোরের শিল্প সহায়ক কেন্দ্রের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন চাকলাদার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা আতিয়ার রহমানও স্বাক্ষর করেছেন।
অটোমোবাইল শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে যশোর বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুস্তাক আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘মোটর পার্টস উৎপাদনের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রামের পরেই যশোরের অবস্থান। সবজি, ফুল ও মাছের রেণুপোনা উৎপাদনের জন্যও যশোর অত্যন্ত সমৃদ্ধ, যার জন্য যশোরে অটোমোবাইল ও কৃষিভিত্তিক পৃথক দুটি শিল্পাঞ্চল স্থাপনের দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের।’
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার বণিক প্রথম আলোকে বলেন, যশোর শহরের চাঁচড়া এলাকায় উৎপাদিত মাছের রেণুপোনা, ঝিকরগাছার গদখালীর ফুল ও সবজি এ অঞ্চলের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। কিন্তু সবজি ও ফুল প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় প্রান্তিক চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন করা হলে কৃষকেরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি অর্থনীতির চাকাও সচল হবে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের নির্বাচন আজ

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (সিএমসিসিআই) নির্বাচন আজ মঙ্গলবার বিকেলে সংগঠনের আগ্রাবাদের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
গত বছরের ৩ জানুয়ারি সংগঠনিট আত্মপ্রকাশের পর এটাই প্রথম নির্বাচন। আজকের নির্বাচনে সংগঠনের সাত সদস্যবিশিষ্ট প্রেসিডিয়াম গঠনের জন্য ভোট গ্রহণ করা হবে। মোট ৪১ জন পরিচালক ভোট দিতে পারবেন। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ করা হবে। সভাপতি পদ ছাড়াও প্রথম সহসভাপতি, চারজন সহসভাপতি ও একটি কোষাধ্যক্ষ পদের জন্য ভোট গ্রহণ করা হবে।
সূত্রমতে, সিএমসিসিআইর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম সভাপতি পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করার পর ছালাম সিএমসিসিআইর পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাই তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না।
জানা যায়, এবার সিএমসিসিআইর সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুজন। একজন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম সহসভাপতি খলিলুর রহমান। অন্যজন পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিএমসিসিআইর প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি সুফি মিজানুর রহমান।
সিএমসিসিআইর প্রতিষ্ঠাতা অপর তিনজন সহসভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ হচ্ছেন যথাক্রমে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ, বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলী হোসেন আকবারালী, স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক পূর্বকোণ-এর সম্পাদক তসলিম উদ্দিন চৌধুরী এবং এমইবি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আবছার।
এঁদের এবারও নিজ নিজ পদে নির্বাচিত করার ব্যাপারে ইতিমধ্যে পরিচালকদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে জানা যায়।

অর্থবছরের নয় মাসে শিল্পঋণ প্রবাহ বেড়েছে ৩০ শতাংশ

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে মেয়াদি শিল্পঋণ বিতরণ দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় সাড়ে সাত শতাংশ কমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে নয় মাসে শিল্পঋণ বিতরণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়কালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মেয়াদি শিল্পঋণ হিসাবে ২৪ হাজার ৪৮৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। আর ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়কালে বিতরণকৃত মেয়াদি শিল্পঋণের পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৪১৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ, ২০১১) মেয়াদি শিল্পঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। আর দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১০) বিতরণকৃত শিল্পঋণের পরিমাণ ছিল নয় হাজার ৪৫০ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
তবে চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বিতরণকৃত শিল্পঋণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। ২০০৯-১০ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে মেয়াদি শিল্পঋণের পরিমাণ ছিল ছয় হাজার ২১২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বিতরণকৃত মেয়াদি শিল্পঋণের পরিমাণ ছিল সাত হাজার ৪৭৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
ধারণা করা হয়, ডিসেম্বরে এসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ শুরু করার প্রভাব পড়েছে শিল্পঋণের প্রবাহের ওপর। আবার আগে বিতরণকৃত শিল্পঋণের কিছু অংশ শেয়ারবাজারে ধাবিত হয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ বিতরণে তদারকি বাড়িয়েছে। এই কড়াকড়িও শিল্পঋণ-প্রবাহের গতি তৃতীয় প্রান্তিকে সামান্য কমিয়ে দিয়েছে।
অবশ্য গত অর্থবছরেও একই প্রবণতা দেখা দিয়েছিল। প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে শিল্পঋণ বেশ বাড়লেও তৃতীয় প্রান্তিকে তা খানিকটা কমে যায়। তবে চতুর্থ প্রান্তিকে এসে আবার তা বাড়ে।
সামগ্রিকভাবে গত অর্থবছরে শিল্প খাতে মেয়াদি ঋণপ্রবাহ আগের অর্থবছরের তুলনায় সাড়ে ২৯ শতাংশ বেড়েছিল। জ্বালানি ও অবকাঠামো সংকটে দেশের শিল্প খাতে শ্লথ অবস্থার সময় সামগ্রিকভাবে শিল্প খাতে মেয়াদি ঋণপ্রবাহের ব্যাপক বৃদ্ধিতে খোদ ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরাই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক অনুসন্ধান ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতীয়মান হয় যে শিল্পঋণের নামে নেওয়া অর্থের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ শেয়ারবাজারে খাটানো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক-গ্রাহক পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে এটি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকের অজ্ঞাতসারে এটি ঘটেছে।
চলতি অর্থবছরেও এ প্রবণতা কিছুটা বহাল রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে রপ্তানি আয়ের উচ্চ প্রবৃদ্ধিতে শিল্পঋণের চাহিদাও এ বছর বেড়েছে। তাই শিল্পঋণ বিতরণে উচ্চ প্রবাহ বজায় আছে বলে ব্যাংকারদের অনেকেই মনে করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বকেয়া শিল্পঋণ আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৬ শতাংশ বেশি। ২০০৯-১০ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়কালে শিল্পঋণ আদায়ের পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ২০৫ কোটি টাকা।
শুধু তাই নয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে আদায়কৃত বকেয়া শিল্পঋণ গত অর্থবছরের আদায়কৃত মোট বকেয়া শিল্পঋণকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে আদায়কৃত মোট বকেয়া শিল্পঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৯৮২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পাঁচ হাজার ৯১৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকার বকেয়া শিল্পঋণ আদায় করেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে হয়েছে যথাক্রমে ছয় হাজার ৫৩৩ কোটি ৮৮ লাখ ও ছয় হাজার ৮৫৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

পুঁজিবাজারে আজও সূচক ও লেনদেন বেড়েছে

দেশের পুঁজিবাজারে আজ মঙ্গলবারও চাঙাভাব দেখা গেছে। গত তিন দিনের মতো আজও দুই স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। তবে বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে আজও বিনিয়োগকারীরা মতিঝিলে ডিএসইর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। আজ বেলা একটা থেকে তাঁরা বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন।
বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সিংগেল পার্টি এক্সপোজারের সময় সীমা বাড়ানোর কারণে অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাজারে সক্রিয় হয়েছে। আগে এই সময়সীমা ৩০ জুন পর্যন্ত ছিল। এ ছাড়া গত রোববার এসইসির নতুন দুই সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—যাঁরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছেন। এই বিষয়টিও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করছে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী আবারও সক্রিয় হচ্ছেন।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক ১৫৪.৬৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৭৫৮.২৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। আজ হাতবদল হওয়া ২৫৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৪৮টির, কমেছে ১০৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৭৩০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গত দিনের চেয়ে ২৪৯ কোটি টাকা বেশি।
আজ ডিএসইতে সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের পাঁচ মিনিটের মাথায় সাধারণ মূল্যসূচক ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সূচক দ্রুত বাড়তে থাকে। বেলা দেড়টার দিকে দিকে সূচক ২৫৪ পয়েন্ট বেড়ে যায়। যদিও এর পর থেকে সূচক বাড়ার হার কিছুটা কমে যায়।
আজ লেনদেনে শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে এমআই সিমেন্ট, বেক্সিমকো, ইউনাইটেড এয়ার, বিএসআরএম স্টিল, তিতাস গ্যাস, এনবিএল, বেক্সটেক্স, ফার্স্ট লিজ ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, পিপলস লিজিং ও ইউসিবিএল।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক আজ ৩৫৪.২৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৬,০২৮.১৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে হাতবদল হওয়া ২০২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৪১টির, কমেছে ৪৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ মোট ১০৬ কোটি টাকা লেনদেন, যা গতকালের চেয়ে ৪৬ কোটি টাকা বেশি।

জুলাই থেকে ডিএসইতে ইন্টারনেটভিত্তিক লেনদেন চালু হচ্ছে

আগামী জুলাই মাস থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ইন্টারনেটভিত্তিক লেনদেন চালু হচ্ছে। এ জন্য বর্তমানে চালু থাকা লেনদেন সফটওয়্যার ‘টেসা’র পরিবর্তে এমএসএ-প্লাস নামের অত্যাধুনিক সফটওয়্যার ব্যবহার করা হবে।
এটি ব্যবহারের ফলে বিনিয়োগকারীরা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে দৈনন্দিন লেনদেন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। লেনদেনের জন্য তাঁদের আর সশরীরে ব্রোকারেজ হাউসে যেতে হবে না। ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে এমন যেকোনো ডিভাইস (যেমন-ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন) ব্যবহার করেই লেনদেন করা যাবে।
এমএসএ-প্লাস বিষয়ে ডিএসইর সদস্য ব্রোকারেজ হাউসগুলোর অনুমোদিত প্রতিনিধিদের জন্য আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গতকাল সোমবার স্টক এক্সচেঞ্জটির পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
এ সময় ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসানুল ইসলাম বলেন, এমএসএ-প্লাস সফটওয়্যারে একজন বিনিয়োগকারীর কী পরিমাণ টাকা বা শেয়ার জমা রয়েছে, তা উল্লেখ থাকবে। তাই কোনোভাবেই অতিরিক্ত শেয়ার কেনাবেচা করা সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসইসির সদস্য হেলাল উদ্দিন নিজামী।
এ ছাড়া সংস্থাটির নবনিযুক্ত দুই সদস্য আমজাদ হোসেন ও আরিফ খান ছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিআইসিএমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হান্নান জোয়ার্দার, ডিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সতীপতী মৈত্র, ডিএসইর পরিচালক শরীফ আতাউর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী।
খায়রুল হোসেন বলেন, এমএসএ-প্লাস চালু হলে পুঁজিবাজার ডিজিটালাইজেশনের কাজে বড় ধরনের অগ্রগতি সাধিত হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যকার দূরত্ব অনেকখানি কমে আসবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এমএসএ-প্লাস লেনদেন ব্যবস্থায় যে কেউ ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেনদেনের যাবতীয় তথ্য দেখতে পারবেন। তবে লেনদেনের জন্য বিনিয়োগকারীকে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউস থেকে একটি গোপন নম্বর (পাসওয়ার্ড) সংগ্রহ করতে হবে, যা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করানোর পরই তিনি লেনদেনে অংশ নিতে পারবেন।
তবে এ পদ্ধতিতে এখনই বিনিয়োগকারীদের দেওয়া ক্রয় বা বিক্রয় আদেশ সরাসরি কার্যকর হবে না। বিনিয়োগকারীদের ক্রয় বা বিক্রয় আদেশ ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে মূল ট্রেড সার্ভারে যাওয়ার জন্য মাঝখানে কয়েক সেকেন্ড সময় প্রয়োজন হবে।

শীর্ষে শেখ জামাল

খেলার তখনো মিনিট দশেক বাকি। আমিনুল হক অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড খুলে সুজনের হাতে পরিয়ে দিলেন। দলের অধিনায়ক ও প্রধান গোলরক্ষক উঠে এলেন মাঠের বাইরে। তরুণ অসীম দাস বাকি সময় ভালোভাবেই পার করলেন। জয় নিশ্চিত জেনেই দ্বিতীয় গোলরক্ষককে সুযোগ করে দিয়েছিলেন আমিনুল। গ্রামীণফোন বাংলাদেশ লিগে কাল দুর্বল চট্টগ্রাম মোহামেডানের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জিতে মাঠ ছেড়েছে জাতীয় দলের মোড়কে গড়া শেখ জামাল।
এই জয়ে ১৮ ম্যাচে ৪১ পয়েন্ট হলো শেখ জামালের। মুক্তিযোদ্ধাকে টপকে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে উঠল শেখ জামাল। লিগের এখন যা অবস্থা তাতে শিরোপার জন্য প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ তাদের জন্য। শিরোপা দৌড়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধা, শেখ রাসেল আর ঢাকা আবাহনী—নিঃশ্বাস-দূরত্বে দাঁড়িয়ে প্রতিটি দল। ১৭ ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে মুক্তিযোদ্ধা, ১৮ ম্যাচে ৩৮ পয়েন্ট পাওয়া শেখ রাসেল তৃতীয়। এর পরই ১৬ ম্যাচে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনী।
গত ম্যাচে ফেনীতে গিয়ে ফেনী সকারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে এসেছিল শেখ জামাল। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কালকের ম্যাচটা তাই তাদের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকা শেখ জামাল প্রথম গোলটি পায় ৮ মিনিটে। কর্নার থেকে হেডে দর্শনীয় গোলটি করেন জাতীয় দলের ডিফেন্ডার সুজন (১-০)। ৪৩ মিনিটে ফেমির পাস থেকে প্লেসিং শটে ক্যামেরুনিয়ান ইমানুয়েল আউক করেন দ্বিতীয় গোল (২-০)। ৫০ মিনিটে আবারও সেই ইমানুয়েল, এবারের উৎস ওয়ালী ফয়সাল। গোল একটি শোধ দিতে পারত চট্টগ্রাম মোহামেডান। কিন্তু দুর্ভাগ্য তাদের, ৫৪ মিনিটে ফরহাদের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। দ্বিতীয়ার্ধে সার্জিও চিকোর বদলে খেলতে নামা এমিলি ৭০ মিনিটে করেন ম্যাচের চতুর্থ গোল। উচ্ছ্বাসে জার্সি অর্ধেক খুলে ফেলে দেখেছেন হলুদ কার্ড। এমিলি গোল পেলেও পুরো সময় খেলে নিষ্প্রভ এনামুল গোল পাননি। চট্টগ্রামের বদলি গোলরক্ষক জেমস পলকে একা পেয়েও তিনবারের চেষ্টায় গোল করতে পারেননি।
প্রথমবারের মতো লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে দারুণ খুশি কোচ পাকির আলী, ‘পয়েন্ট টেবিলে সবার ওপরে উঠতে পেরে অবশ্যই ভালো লাগছে। এই ম্যাচে আমরা জিতব, ম্যাচের আগেই এটা অনেকটা নিশ্চিত ছিলাম। লিগ শীর্ষে ওঠার ব্যাপারটা দলের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পরের ম্যাচে আরও ভালো খেলতে সাহায্য করবে।’
আজকের খেলা: রহমতগঞ্জ-ফরাশগঞ্জ (বিকেল ৪-১৫ মি., বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম)।

না খেলেই সেমিতে জোকোভিচ

ফ্রেঞ্চ ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন পুরুষ এককে রাফায়েল নাদাল, হুয়ান ইগনাসিও চেলা, গায়েল মনফিলস ও মহিলা এককে চীনের লি না। সেমিফাইনালে চলে গেছেন নোভাক জোকোভিচ। রাশিয়ার ইয়েলেনা ভেসনিনাকে সঙ্গী করে মহিলা দ্বৈতের সেমিতে উঠেছেন ভারতের সানিয়া মির্জা।
এর মধ্যে ইতিহাস গড়েছেন লি না। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের রানারআপ লি না প্রথম চীনা খেলোয়াড় হিসেবে পৌঁছেছেন ফ্রেঞ্চ ওপেনের শেষ আটে। শেষ ষোলোতে চেক প্রজাতন্ত্রের পেত্রা ভাইতোভাকে ২-৬, ৬-১, ৬-৩ গেমে হারিয়েছেন তিনি। কাল রাদওয়ানস্কাকে হারিয়ে শেষ আটে উঠে গেছেন মারিয়া শারাপোভাও।
একটি বল না খেলেও ফ্রেঞ্চ ওপেনের সেমিফাইনালে উঠে গেলেন নোভাক জোকোভিচ। কোয়ার্টার ফাইনালে সার্বিয়ান তারকার প্রতিপক্ষ ইতালির অবাছাই খেলোয়াড় ফ্যাবিও ফগনিনি চোটের কারণে সরে দাঁড়িয়েছেন। ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল আজ। সেমিতে জোকোভিচ প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবেন ফেদেরার বা গায়েল মনফিলসকে।
কাল ফ্রান্সের মনফিলস ৫ সেটের ম্যারাথন লড়াইয়ে ৬-৪, ২-৬, ৭-৫, ১-৬, ৮-৬ গেমে হারিয়েছেন স্পেনের ডেভিড ফেরারকে। দুই দিনব্যাপী চলা ম্যাচটি শেষ হয়েছে ৪ ঘণ্টা ৭ মিনিটে। টানা ২৭টি গ্র্যান্ড স্লামের কোয়ার্টারে উঠে রেকর্ড করা ফেদেরারের মুখোমুখি হবেন মনফিলস।
ছয়টি ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের রেকর্ড ছুঁতে চলা রাফায়েল নাদাল শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টারে উঠেছেন সহজেই, যদিও কাল প্রথম সেটে ইভান লুবচিচ বেশ চ্যালেঞ্জের মুখেই ফেলে দিয়েছিলেন বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়কে। পাঁচটি ফ্রেঞ্চ ওপেনজয়ী নাদাল লুবিচিচকে হারিয়েছেন সরাসরি ৭-৫, ৬-৩, ৬-৩ গেমে। আর্জেন্টিনার হুয়ান ইগনাসিও চেলা চতুর্থ রাউন্ডে কলম্বিয়ার আলেহান্দ্রো ফ্যালাকে হারিয়েছেন ৪-৬, ৬-২, ১-৬, ৭-৬ (৭/৫), ৬-২ গেমে।

তবু নেই গেইল

আইপিএল জয় করেছেন, কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের মন জয় করতে পারেননি ক্রিস গেইল। গত পরশুই প্রধান নির্বাহী আর্নেস্ট হিলাইরে বলেছিলেন, চাইলে গেইলকে নিতে পারেন নির্বাচকেরা। কিন্তু কাল দল ঘোষণার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেই বোর্ড জানিয়েছে, নিজে এসে দেখা না করা পর্যন্ত নেওয়া হবে না গেইলকে। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের ‘ত্রিনিদাদ অংশের’ দলে তাই জায়গা হয়নি আইপিএলের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকের। সিরিজের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ও পাঁচ ওয়ানডের প্রথম দুটি হবে ত্রিনিদাদে।
‘লাইন অ্যান্ড লেন্থ নেটওয়ার্কে’ সেই বিতর্কিত ইন্টারভিউ তো আছেই, গেইলকে না নেওয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে তাঁর সাম্প্রতিক এক টুইটও। আইপিএল ফাইনালের পর গেইল টুইটারে লিখেছিলেন, ‘ফাইনালে শূন্য রানে আউট হওয়ার পরও পুরো টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সের জন্য বিশ্বের নানা জায়গা থেকে যেভাবে ভালোবাসা ও প্রশংসা পেয়েছি, তার তুলনা হয় না। এমন সম্মান ওয়েস্ট ইন্ডিজে কখনোই পাইনি!’ এএফপি, ওয়েবসাইট।
গেইলের জায়গা না হলেও কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সই না করা বাকি দুজন—কাইরন পোলার্ড ও ডোয়াইন ব্রাভোকে নেওয়া হয়েছে ওয়ানডে দলে। টি-টোয়েন্টি দলে আবার রাখা হয়নি দুজনের কাউকেই। ত্রিনিদাদ অংশের জন্য বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে কেমার রোচকে। টি-টোয়েন্টি দলে একমাত্র নতুন মুখ বাঁহাতি পেসার ক্রিশমার সান্টোকি।
প্রথম দুই ওয়ানডের দল: লেন্ডল সিমন্স, কার্ক এডওয়ার্ডস, ড্যারেন ব্রাভো, মারলন স্যামুয়েলস, রামনরেশ সারওয়ান, ডোয়াইন ব্রাভো, কাইরন পোলার্ড, ড্যারেন স্যামি (অধিনায়ক), কার্লটন বাফ, আন্দ্রে রাসেল, অ্যান্থনি মার্টিন, দেবেন্দ্র বিশু, রবি রামপল।
টি-টোয়েন্টি দল: আন্দ্রে ফ্লেচার, লেন্ডল সিমন্স, ড্যারেন ব্রাভো, মারলন স্যামুয়েলস, ডেঞ্জা হায়াত, ড্যারেন স্যামি (অধিনায়ক), ক্রিস্টোফার বার্নওয়েল, আন্দ্রে রাসেল, অ্যাশলি নার্স, দেবেন্দ্র বিশু, রবি রামপল, ক্রিশমার সান্টোকি।

ফিফায় সংকট নেই, সমস্যা আছে: ব্ল্যাটার

তাঁকে নিয়েই যত বিপত্তি। ফিফার দীর্ঘদিনের সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি দুর্নীতিবাজ। অভিযোগের আঙুলটা ফিফার সভাপতি পদের নির্বাচনে তাঁর প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ বিন হাম্মামের। ব্ল্যাটারের বিপক্ষে অভিযোগ তুলে বিন হাম্মাম অবশ্য নিজেই এখন অভিযুক্ত। সভাপতি পদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বহিষ্কৃত হয়েছেন ফিফার নির্বাহী কমিটি থেকে। সরে দাঁড়াতে হয়েছে তাঁর এত দিনের পদ এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতির পদ থেকে।
ব্ল্যাটার-হাম্মামের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ফুটবল রাজনীতি। কিন্তু যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো ঠান্ডা মাথায় বিশ্লেষণ করে দেখলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুর্নীতি নিয়ে সত্যিই শঙ্কিত হয়, ফিফার মতো সংস্থার নৈতিকতাও হয়ে যায় প্রশ্নবিদ্ধ। পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তোড়ে ঘটনাপ্রবাহ এগিয়ে চললেও এত দিন চুপচাপই ছিলেন সেপ ব্ল্যাটার। গতকাল জুরিখে ফিফার প্রধান কার্যালয়ে সব নীরবতা ভেঙেই ডেকে বসলেন সংবাদ সম্মেলন। আর সেই সংবাদ সম্মেলনেই তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ফুটবল বিশ্বে কোনো সংকট ও অচলাবস্থা নেই। যা রয়েছে, সেগুলো কিছু সমস্যা। যা অচিরেই সমাধানযোগ্য।
‘সংকট! কীসের সংকট? ফুটবল বিশ্বে কোনো সংকট নেই। কিছু সমস্যা থাকতে পারে—সেগুলো খুব তাড়াতাড়িই সমাধান হয়ে যাবে।’ সংবাদ সম্মেলনে কিছুটা উত্তেজিত হয়েই যেন এ কথাগুলো বললেন ব্ল্যাটার।
ব্ল্যাটার আরও বলেন, ‘২০২২ সালের বিশ্বকাপ কাতারকে দেওয়া নিয়েও কোনো সমস্যা নেই। এ বিশ্বকাপের বিড নতুন করে অনুষ্ঠানের প্রশ্নই ওঠে না।’
ব্ল্যাটারের অভিমত, ‘২০১৮ সালের বিশ্বকাপ যে পদ্ধতিতে রাশিয়াকে দেওয়া হয়েছে, সেই পদ্ধতিতেই কাতারের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তাই নতুন করে বিড আয়োজন করা হবে কেন?’
আগামীকাল ফিফার সভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিন হাম্মাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ব্ল্যাটারের সামনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এ অবস্থায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই ব্ল্যাটার চতুর্থবারের মতো ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন—এতে সন্দেহের বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই। তবে সংবাদ সম্মেলনে ব্ল্যাটারের প্রতি প্রশ্ন ছিল বিন হাম্মাম সরে দাঁড়ানোর পর নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা রয়েছে কি না। উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন তার আপন গতিতেই চলবে।’ তিনি বলেন, ‘যদি নির্বাচনের ব্যাপারে কেউ ভিন্ন চিন্তা করার ক্ষমতা রাখেন, তাঁরা হলেন ফিফার সদস্যরা। তারা ইচ্ছা করলে অনেক কিছুই করতে পারেন।

আগে দেশ, না আইপিএল?

ক্লাব বনাম দেশ বিতর্কটা বেশ ভালোভাবেই জমে উঠেছে। এবার দুই রকম প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে ভারতের সাবেক দুই অধিনায়কের কাছ থেকে। কপিল দেবের অভিমত, কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত অধিকার। কপিলের বক্তব্য মেনে নিয়েছেন সুনীল গাভাস্কার,
তবে তাঁর দাবি, দেশের আগে কেউ ক্লাবকে বেছে নিলে তাঁকে আর জাতীয় দলে নেওয়া উচিত নয়।
গৌতম গম্ভীরের কাঁধের চোট থেকে এই বিতর্কের সূত্রপাত। অনেকের ধারণা, বিশ্বকাপ ফাইনালে চোট পাওয়ার পরও ঝুঁকি নিয়ে আইপিএল খেলাতেই আরও বেড়েছে চোট। তাঁকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ভারতের অধিনায়ক করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর এই চোটের কারণে অধিনায়কের দায়িত্ব চাপানো হয়েছে সুরেশ রায়নার ঘাড়ে। এর আগে বীরেন্দর শেবাগও কাঁধের পুরোনো চোট নিয়ে আইপিএল খেলেছেন, পরে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। বিশ্বকাপের পর আইপিএল খেলে ক্লান্ত টেন্ডুলকার-জহিররা বিশ্রাম চেয়ে নেওয়ার পর বিতর্কের আগুনে আরও ঘি পড়েছে।
একটি মোবাইল ফোনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে কলকাতায় এসেছিলেন কপিল। চলমান বিতর্কে নিজের অভিমতটা জানিয়েছেন সেখানেই, ‘দেশের আর দশটা মানুষের মতো ক্রিকেটারদেরও অধিকার আছে দেশের হয়ে খেলবে না ক্লাবের হয়ে, এটা বেছে নেওয়ার। আমি দেশের হয়ে খেলতে ভালোবাসতাম এবং সেটাই করেছি। কিন্তু সময় বদলে গেছে, পরিস্থিতিও বদলেছে। এই সময়ে কোনো একজনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল। যে যা করতে চায়, তা করতে দেওয়া উচিত।’
জবাবে কপিলের সাবেক সতীর্থ গাভাস্কারের মন্তব্য, ‘দেশ বা ক্লাবের একটিকে বেছে নেওয়া ক্রিকেটারদের অধিকার ঠিকই। কিন্তু এই বেছে নেওয়ার জবাবদিহি থাকা উচিত। কোনো ক্রিকেটার যদি দেশের আগে ক্লাবকে বেছে নেয়, তাহলে তাকে জাতীয় দলে বিবেচনা না করার অধিকার থাকা উচিত নির্বাচকদের।

হাম্মামের প্রতি অনুগত নয়া এএফসি প্রধান!

ফুটবল বিশ্বে বিভক্তির বলিরেখাটা খুব স্পষ্ট হয়ে দেখা দিয়েছে। এশিয়া বনাম ইউরোপ। কনকাকাফ বনাম ইউরোপ। ইউরোপ বনাম বাকি ফুটবল বিশ্ব। সভাপতি পদে নির্বাচন নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ির একপর্যায়ে ফিফা থেকেই বিতাড়িত হয়ে গেলেন বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল মহাদেশ এশিয়ার ফুটবল অধিকর্তা মোহাম্মদ বিন হাম্মাম। বর্তমান সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে নিজেই পড়ে গেছেন দুর্নীতির অভিযোগের প্যাঁচে। অনৈতিক কর্মকাণ্ড তদন্তে গঠিত ‘নৈতিকতা কমিটি’ সেপ ব্ল্যাটারকে সব অভিযোগ থেকে ‘মুক্তি’ দিলেও হাম্মামকে বলির পাঁঠা হতেই হলো। ফিফার নির্বাহী কমিটির পদ থেকে গলাধাক্কা দিয়ে বার করে দেওয়া হল তাঁকে। এ মুহূর্তে নিয়মানুযায়ী তিনি ব্রাত্য নিজের সংস্থা এএফসির সভাপতি পদেও। তাঁর জায়গায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে নিয়োগ পেয়েছেন চীনের জাং জিলং। জাং অবশ্য সভাপতির চেয়ারে বসেছেন ঠিকই। কিন্তু গণমাধ্যমকে সামনে পেয়েই হাম্মামের প্রতি প্রকাশ করে দিয়েছেন তাঁর আনুগত্য। বলেছেন, ‘বিন হাম্মাম এখনো এএফসির সভাপতি।’
‘ফিফার কোনো অধিকার নেই বিন হাম্মামকে এএফসির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার। মানছি, তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে, কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার আগে ফিফা একটা অবৈধ ব্যাপার ঘটাল।’ জাং জিলংয়ের স্পষ্ট অভিমত।
বিন হাম্মামের বিরুদ্ধে ‘নৈতিকতা কমিটি’ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছে। সেই সঙ্গে শুরু করেছে তাঁর কর্মকাণ্ডের তদন্ত। তবে এই ফাঁকে ফিফা তাঁকে সব ধরনের ফুটবল-সংক্রান্ত সাংগঠনিক কাজকর্ম থেকে বহিষ্কার করেছে।
এদিকে এএফসির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাং জিলং বিন হাম্মামের প্রতি নিজের আনুগত্য প্রকাশ করলেও এশীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা এএফসি এক বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছে ফিফার নির্দেশ মেনে সহসভাপতি জাং জিলংকে সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এএফসির বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ‘এএফসি এ তদন্তকে স্বাগত জানাচ্ছে। আমরা সব সময়ই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পক্ষে এ তদন্ত অনুসরণ করব। আশা করছি, এ তদন্ত বিশ্ব ফুটবলের জন্য শুভ ফল বয়ে নিয়ে আসবে।

‘ফিফায় থাকা উচিত সাবেক খেলোয়াড়দের’

পুরো ফুটবল দুনিয়াই নড়েচড়ে বসেছে ফিফার সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারি, দুর্নীতির অভিযোগে। ফুটবলের এই শীর্ষ সংস্থার পরিচালনা পদ্ধতি, সদস্য নির্বাচন নিয়েও উঠেছে নানাবিধ প্রশ্ন। এই সব সমস্যার একটা কার্যকরী সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার কার্লোস আলবার্তো তোরেস। সাবেক খেলোয়াড়দের দ্বারাই ফিফা পরিচালিত হওয়া উচিত্ বলে মত দিয়েছেন ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের এই অধিনায়ক।
গতকাল সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে আলবার্তো বলেছেন, ‘ফিফা পরিচালনায় একটা সাধারণ পরিবর্তন আনা দরকার। এটা পরিচালনার ভার দেওয়া উচিত্ সাবেক খেলোয়াড়দের। এরকম অনেক ভালো ভালো প্রাক্তন খেলোয়াড় আছে। যেমন, প্লাতিনি খুব চমত্কারভাবে উয়েফা পরিচালনা করছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের সাফল্যটা খেয়াল করলেই এটা বোঝা যায়। কিংবা বেকেনবাওয়ারের কথাই চিন্তা করেন। তিনি খুবই চমত্কারভাবে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপটা আয়োজন করেছিলেন।’
দুর্নীতির অভিযোগে কনকাকাফের প্রধান জ্যাক ওয়ার্নার ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের প্রধান মোহাম্মদ বিন হাম্মামকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে ফিফার নৈতিক কমিটি। অথচ, ফিফার বর্তমান সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে পরবর্তী নির্বাচনে দাঁড়ানোর ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে ফিফার পরিচালনা পর্ষদে এখন নতুন কাউকেই আনা উচিত্ বলে মন্তব্য করেছেন আলবার্তো। তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, এখন নতুন কাউকেই পরিচালক পদে নিয়ে আসা উচিত্। একজন মানুষ এতদিন ধরে ক্ষমতায় থাকলে সেটা অনেকের মনেই সন্দেহের উদ্রেক ঘটায়।

স্ট্রাউস উল্লসিত নাটকীয় জয়ে

‘এ রকম অসাধারণ ক্রিকেট ম্যাচ কেউ খুব কমই খেলেছে।’ গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কার্ডিফ টেস্টে ১৪ রানের অতি নাটকীয় জয়টাকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। সত্যিই তো! বৃষ্টি-বিঘ্নিত শেষ দিনে মাত্র ৯৬ রানের লিড নিয়ে পাওয়া জয়টাকে তো এভাবে বর্ণনা করতেই পারেন বিজয়ী দলের অধিনায়ক।
কার্ডিফ টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ৪০০ রান তুলে প্রথম ইনিংস শেষ করেছিল সফরকারী শ্রীলঙ্কা। এরপর ৪৯৬ রান তুলে গতকাল পঞ্চম দিনে ইনিংস ঘোষণা করেছিল ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কা-ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজটা ড্র দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে, এমনটাই ধরে নিয়েছিলেন সবাই। এমনকি খোদ ইংলিশ ক্রিকেটাররাও ভাবেননি যে তাঁরা জয়ের স্বাদ পাবেন। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ট্রেমলেট, সোয়ান আর স্টুয়ার্ট ব্রডের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ৮২ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ইনিংস ও ১৪ রানের এ অবিস্মরণীয় জয়ের পর অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস বলেছেন, ‘পঞ্চম দিনের শুরুতেও আমি বলেছিলাম যে এটা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম নিষ্ফলা একটা ম্যাচ। কিন্তু হঠাত্ নাটকীয়ভাবে সবকিছু বদলে যেতে শুরু করল। এর চেয়ে স্মরণীয় সমাপ্তি আর কিছুতেই হতে পারত না। আমি খুবই উল্লসিত। গত অস্ট্রেলিয়া সফরে আমরা আমাদের সামর্থ্যের ভালো প্রমাণ দিয়েছিলাম। এটা সেই সাফল্যের অগ্রযাত্রায় আরও একটি মাইলফলক হিসেবে থাকবে।’

অবসর নিলেন পল স্কোলস

২০০৪ সালেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে বিদায় বলেছিলেন। এবার একেবারেই ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণাটা দিয়ে দিলেন তিনি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে আরও একটা মৌসুম তিনি খেলবেন কিনা, তা নিয়ে কথাবার্তা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। কিন্তু শেষপর্যন্ত অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটাই বহাল রাখলেন ম্যানইউ মাঝমাঠের অন্যতম নির্ভরযোগ্য এই ফুটবলার।
এই স্কোলসের ক্যারিয়ারে একটা দারুণ ব্যাপার রয়েছে। ১৯৯৪ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর একেই নিজের ঠিকানা বানিয়ে ফেলেছেন তিনি। কখনোই দল বদল না করে এক ক্লাবেই কাটিয়ে দিলেন সতের বছরের ক্যারিয়ার। আজ সোমবার ক্লাবের ওয়েবসাইটে ঘোষণা দিয়েই তিনি বিদায় নিলেন ক্লাব সমর্থক ও ভক্তদের কাছ থেকে।
বিদায় বেলায় তিনি কেবল বলেছেন, ‘সিদ্ধান্তটা হঠাত্ই নিইনি আমি। অনেক চিন্তা-ভাবনার ফসল-এই সিদ্ধান্ত। ভেবে দেখেছি, বিদায় বলার এটাই উপযুক্ত সময়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলে আমি অনেক পেয়েছি। অতৃপ্তি নেই এতটুকুও। বিশেষ করে ১৯তম লিগ শিরোপাজয়ী দলের সদস্য হতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত।

দলে ফিরলেন না গেইল

অনুমান করা হচ্ছিল আইপিএলে ‘প্রলয়ংকরী’ পারফরম্যান্স ক্রিস গেইলকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ফেরাচ্ছে। উইন্ডিজ বোর্ডের প্রধান নির্বাহী আর্নেস্ট হিলাইরের মন্তব্যেও তেমন কিছুর ইঙ্গিত মিলছিল।
তবে চির অনিশ্চিত ক্যারিবীয় ক্রিকেট বোর্ড আজ আরও একটি নাটকের জন্ম দিয়েছে ভারতের বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় একটি টি-টোয়েন্টি ও প্রথম দুটি ওয়ানডেতে ক্রিস গেইলকে দলে না নিয়ে।
‘গেইলের সঙ্গে আলোচনা করেই তাঁকে দলে নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গেও এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে।’ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এমন কথাই বলেছে উইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড।
গেইলের সঙ্গে আলাপ করা হয়েছে, এ কথা জানালেও তাঁকে এ মুহূর্তে দলে না নেওয়ার কারণটা কিন্তু ভিন্ন। সম্প্রতি জ্যামাইকার একটি রেডিও চ্যানেলের সঙ্গে সাক্ষাত্কারে গেইল বলেছেন, তাঁর সাম্প্রতিক একটি ইনজুরি সমস্যায় তিনি বোর্ডের কাছ থেকে দারুণ অবহেলা পেয়েছেন। বোর্ড সেই ইনজুরিমুক্তির জন্য তাঁকে কোনো সাহায্যই করেনি।
গেইলের এ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ক্রিকেট বোর্ড বলেছে, তারা গেইলের ইনজুরির ব্যাপারে একেবারেই অন্ধকারে ছিল। গেইল কখনোই তাদের সেই ইনজুরি সম্পর্কে জানায়নি।
এর পাশাপাশি ক্যারিবীয় ক্রিকেটের আরও একটি নিয়ম অনুযায়ী ক্রিস গেইলকে দলে বিবেচনা করা হয়নি। এ নিয়মে একজন খেলোয়াড় তখনই উইন্ডিজ দলের জন্য বিবেচিত হবেন, যখন তিনি ক্যারিবীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলবেন। দল ঘোষণার আগ দিয়ে একজন খেলোয়াড়কে অবশ্যই ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ খেলতে হবে। সেই হিসেবে গত ক্রিস গেইল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঘরোয়া ক্রিকেটে অনুপস্থিত প্রায় চার-পাঁচ মাস।
ঘোষিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল: ড্যারেন স্যামি, সিমন্স, এডওয়ার্ডস, ড্যারেন ব্র্যাভো, ডোয়াইন ব্র্যাভো, মারলন স্যামুয়েলস, রামনরেশ সারোয়ান, কিরেন পোলার্ড, কার্লটন বাগ, আন্দ্রে রাসেল, অ্যান্তোনি মার্টিন, দ্রেবেন্দ্র বিশু ও রবি রামপাল।
টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে এ দলটিতেই অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন দানজা হায়াত, ক্রিস্টোফার বার্নওয়েল, অ্যাশলে নার্স ও ক্রিশমার সান্টোকি।
টি-টোয়েন্টি দলে নেই ডোয়াইন ব্র্যাভো ও রামনরেশ সারোয়ান।

জাদুঘরে জোয়াকিম লোর সোয়েটার

২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির কোচ জোয়াকিম লোর পোশাক-পরিচ্ছদ নজর কেড়েছিল অনেকেরই। নীল একটা সোয়েটার গায়ে শান্ত ভঙ্গিতে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যেত তাঁকে। এত দিন পর সেই নীল সোয়েটারটির জায়গা হতে যাচ্ছে জার্মানির ফুটবল ফেডারেশনের জাদুঘরে।
সেমিফাইনালে চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে হেরে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয়ের স্বাদ পাওয়া হয়নি জার্মানির। কিন্তু জোয়াকিম লোর শিষ্যদের দুর্দান্ত পারফরমেন্স মুগ্ধ করেছিল সবাইকেই। লোর এই নীল সোয়েটারটাকে জার্মানির সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবেও বর্ণনা করেছেন অনেকে। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া ও ঘানার বিপক্ষে জয়ের দিন এই সোয়েটারই ছিল লোর গায়ে। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, সার্বিয়ার বিপক্ষে জার্মানি যেদিন হারের স্বাদ পেয়েছিল, সেদিন এই সোয়েটারটি পরেননি এই জার্মান কোচ। এরপর নকআউট পর্বে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ের দুই দিনই আবার লোর গায়ে ছিল এই সোয়েটারটি। দলের অনেকেই নাকি তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন সোয়েটারটি ওয়াশিং মেশিনে না দিতে।
এত সাধের সোয়েটারটি জাদুঘরে জায়গা পেতে যাচ্ছে, এ খবরটা শোনার পর লো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটা খুবই ভালো খবর। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের একটা অবিস্মরণীয় স্মারক হয়ে থাকবে এই সোয়েটারটা। সবারই মনে পড়বে কী উত্তেজনাপূর্ণ কয়েকটা দিন আমরা কাটিয়েছি!

চটেছেন গাভাস্কার!

ইনজুরি ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে ভারতীয় দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাচ্ছেন না শচীন, যুবরাজ, ধোনি, শেবাগ, গম্ভীরদের মতো ক্রিকেটাররা। এঁদের অনুপস্থিতিতে একেবারে দ্বিতীয় সারির একটি দল নিয়েই ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে খেলতে যাচ্ছে ভারত। আর ব্যাপারটি একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না সাবেক গ্রেট সুনীল গাভাস্কার। বলেছেন, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে কোনো খেলোয়াড় জাতীয় দলের হয়ে খেলবে না—এটা মেনে নেওয়া যায় না।
গাভাস্কার এ ব্যাপারে নির্বাচকদের আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যদি কোনো খেলোয়াড় ব্যক্তিগত কারণে জাতীয় দলের হয়ে সফরে যেতে না চায়, তাহলে ভবিষ্যত্ সফরগুলো থেকেও তাকে বাদ দিতে হবে। সেটি হবে সেই খেলোয়াড়ের জন্য উপযুক্ত শাস্তি।’
গাভাস্কার আইপিএল বা ক্লাব ক্রিকেটের চেয়ে জাতীয় দলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
তবে গাভাস্কারের এ মন্তব্যের সঙ্গে একমত হতে পারছেন না সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটাররা। ভারতের সাবেক উইকেটরক্ষক ও প্রধান নির্বাচক কিরণ মোরে বলেছেন, ‘একজন ক্রিকেটার আইপিএলকে বেশি গুরুত্ব দিতেই পারে। এটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিরুচি। আবার ব্যক্তিগত কারণে জাতীয় দলের হয়ে না-ও খেলতে পারে। কিন্তু এ ব্যাপারে নির্বাচকদের ভূমিকা খুবই সীমিত। জাতীয় দলের হয়ে যখনই সে খেলতে চাইবে, তাঁকে দলে নিতে হবে।’
এদিকে সাবেক আরেক ভারতীয় ক্রিকেটার আংশুমান গায়কোয়াড় বলেছেন, ‘ক্রিকেটটা বড্ড বেশি হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ক্রিকেটারদের দিকটাও দেখতে হবে। কারণ, তারা মানুষ। বিসিসিআইয়ের উচিত অতিরিক্ত ক্রিকেটের অসুবিধার ব্যাপারগুলো বেশি করে ভেবে দেখা।

বার্সাকে ভিদিচের স্যালুট

এবারের ইউরোপীয় মৌসুমের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার নেমেনজা ভিদিচ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অধিনায়ক হিসেবে একটি দুর্দান্ত মৌসুমই কাটিয়েছেন তিনি। এর পরও চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে বার্সা ফরোয়ার্ডদের তৈরি আক্রমণের প্লাবন তিনি সামাল দিতে পারেননি। তবে নিজ দলের ৩-১ গোলের পরাজয়ে অবশ্য তিনি খুব একটা দুঃখিত নন। কারণ, যোগ্যতা ও প্রতিভার কাছে এই পরাজয় গৌরবের বলেই মানছেন ভিদিচ।
‘চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যোগ্যতর দলের কাছেই পরাজিত হয়েছে। এই পরাজয় অগৌরবের নয়।’ বলেছেন ভিদিচ।
তিনি পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনাকে সত্যিকারের ‘চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, ‘আমি তাদের স্যালুট জনাই।’
তিনি বলেন, ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এর আগে বার্সেলোনার মতো এত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে কখনোই খেলেনি। তারা আমার দেখা সবচেয়ে প্রতিভাবান ও যোগ্য দল।’
‘আমরা চাপিয়ে খেলতে চেয়েছি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পেরেছিও। গোলগুলো খেয়েই আমরা খেই হারিয়ে ফেলেছি। তা ছাড়া বার্সেলোনার দুর্দান্ত সব ফরোয়ার্ডদের আটকানোর কৌশল আমরা কাজে লাগাতে পারিনি।’ ভিদিচের অভিমত।

ম্যানইউকে ঢেলে সাজাতে চান ফার্গুসন

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম পরাশক্তি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে অ্যালেক্স ফার্গুসনের নামটা জড়িয়ে আছে ওতোপ্রতোভাবে। আর কিছুদিন পরেই ম্যান ইউয়ের কোচ হিসেবে তিনি পূর্ণ করবেন ২৫ বছর। আর এ বছর তিনি নিজে পা রাখবেন ৭০ বছরে। এত দীর্ঘ একটা পথ পাড়ি দেওয়ার পরও কোনো ক্লান্তির চিহ্ন নেই ফার্গুসনের মধ্যে। এখনই অবসরে যাওয়ার কথা যে তিনি ভাবছেন না, এটাও জানিয়ে দিয়েছেন স্পষ্টভাবে। একমাত্র শারীরিক অসুস্থতাই তাঁকে কাজ করা থেকে বিরত রাখতে পারে বলে ঘোষণা দিয়েছেন এ সময়ের অন্যতম সফল এই কোচ। আরও তিন বছর ম্যান ইউয়ে থেকে ক্লাবটাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতে এবারের মৌসুমটা মোটামুটি সফলভাবেই শেষ করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপাটা জিততে পারলে অপূর্ণতা বলতে আর কিছুই থাকত না। কিন্তু ২০০৯ সালের মতো এবারও ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে হেরে রুপালি ট্রফিটা হাতে তোলার স্বপ্নটা পূরণ হয়নি ফার্গুসন শিষ্যদের। তবে এবার তিনি ম্যানইউকে বার্সেলোনার চেয়েও ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবেন বলে ফার্গুসনের বিশ্বস্ত সূত্র মারফত জানা গেছে।
আগামী মৌসুম শুরুর আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অনেক পুরোনো খেলোয়াড়ই চলে যাবেন অবসরে। গোলরক্ষক এডউইন ফন ডার সার ও গ্যারি নেভিল তাঁদের মধ্যে অন্যতম। মাঝমাঠের অন্যতম প্রধান সেনানী ওয়েন হারগ্রেভাসের সঙ্গেও তাদের চুক্তি শেষ হয়েছে এই মৌসুমে। এ জায়গাগুলো পূরণের জন্য ইতিমধ্যেই বেশ কিছু তারকা ফুটবলারের দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন ফার্গুসন। ইন্টার মিলানের ডাচ মিডফিল্ডার ওয়েসলি স্নাইডারকে দলে ভেড়ানোর জন্য ইতিমধ্যেই তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে ম্যান ইউ। টটেনহ্যামের লুকা মোড্রিককেও আগামী মৌসুমে ওল্ড ট্রাফোর্ডে দেখা যেতে পারে বলে অনুমান করছেন অনেকেই। ম্যান ইউ গোলবারের নিচে ফন ডার সারের বিশ্বস্ত হাতের জায়গাটা হয়তো সহসা পূরণ করতে পারবে না তারা। তবে তার জায়গায় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের তরুণ গোলরক্ষক ডেভিড ডে জিয়াকে দলে টানার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাজয়ীরা।

‘থারাঙ্গার ডোপ বিতর্কে আমরা বিহ্বল নই’

সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ডোপ টেস্টে পজিটিভ প্রমাণিত হয়েছিলেন উপুল থারাঙ্গা। নিষিদ্ধ বস্তু গ্রহণের কারণে লঙ্কান এই ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে শিগগির নাকি তদন্তেও নামতে যাচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। তবে যুক্তরাজ্যের দৈনিক ‘সানডে টাইমস’-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনের ফলে সৃষ্ট বিতর্কে শ্রীলঙ্কা দল বিহ্বল নয় বলে মন্তব্য করেছেন ফাস্ট বোলার ফারভিজ মাহারুফ।
‘আমরা এই খবরে মোটেও বিহ্বল নই। ক্রিকেটারদের মনোবলে ধাক্কা খাওয়া তো দূরে কথা, এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনাও করিনি আমরা’—বলেছেন মাহারুফ।
সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, থারাঙ্গার মূত্র নমুনায় নিষিদ্ধ ‘প্রেডনিসোলন’ পেয়েছে ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সি। পজিটিভ হওয়ার পর লিখিত বিবৃতিতে থারাঙ্গা জানিয়েছেন, অ্যাজমা সমস্যার কারণে তাঁকে এই ওষুধ খেতে পরামর্শ দিয়েছিলেন খ্যাতিমান একজন চিকিত্সক। শচীন টেন্ডুলকার, গৌতম গম্ভীরসহ আরও অনেক ক্রিকেটার কলম্বোতে গিয়ে এই চিকিত্সকের কাছে চিকিত্সা নিয়েছেন।