Monday, June 30, 2025
নিজের দুর্নীতির বিচার বন্ধে গাজা যুদ্ধকে কাজে লাগাচ্ছেন নেতানিয়াহু: ইসরায়েলি আইনপ্রণেতাদের অভিযোগ
ডেমোক্রেটিক পার্টির নেসেট সদস্য নামা লাজিমি গতকাল রোববার টাইমস অব ইসরায়েলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেন, ‘(নেতানিয়াহু) ইসরায়েল এবং আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকে তাঁর মামলার সঙ্গে শর্তাধীন করে তুলেছেন।’
নামা লাজিমি বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী মনে করেন যে তিনি ‘তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিনিময়ে একটি রাজনৈতিক মীমাংসা এবং যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে’ প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার অযোগ্য।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার আবারও নেতানিয়াহুকে দুর্নীতি মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
ইসরায়েলকে সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর যে বিপুল অর্থ ব্যয় করে, তা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটি সহ্য করব না এবং কর্তৃপক্ষকে বলেন, নেতানিয়াহুকে ছেড়ে দিন।’
ডেমোক্রেটিক দলের আইনপ্রণেতা গিলাদ কারিভ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টুইটের পেছনে রয়েছে নেতানিয়াহু এবং তাঁর দুর্নীতিগ্রস্ত চক্র। তিনি এর নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আদালতের দণ্ড থেকে রক্ষা পেতে তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা জাতীয় নিরাপত্তা ও জিম্মিদের নিয়ে খেলছেন।
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস একাধিকবার বলেছে, চলমান যুদ্ধের অবসান, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তির বিনিময়ে তারা গাজায় থাকা সব ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিতে প্রস্তুত।
তবে নেতানিয়াহু এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং গাজা উপত্যকায় তাঁর গণহত্যামূলক যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছেন। সেখানে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
দুর্নীতি মামলা
ইয়েশ আতিদ পার্টির নেসেট সদস্য কারিন এলহারার সতর্ক করে বলেন, নেতানিয়াহু ‘ইসরায়েলি জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছেন।’ কারণ, তিনি তাঁর আইনি ভাগ্যকে জিম্মি মুক্তি ও আঞ্চলিক স্বীকৃতি চুক্তির সঙ্গে জুড়ে নিয়েছেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্বাধীন দেশের আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রিলিজিয়াস জায়নিজম পার্টির আইনপ্রণেতা এবং নেসেটের সংবিধান, আইন ও বিচার কমিটির চেয়ারম্যান সিমচা রথম্যান বলেন, নেতানিয়াহুর মামলার অবসান চেয়ে ট্রাম্পের আহ্বান ‘অনুপযুক্ত।’
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ, প্রতারণা এবং বিশ্বাসঘাতকতার মতো অভিযোগে মামলা রয়েছে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নেতানিয়াহু মামলার ১০০০, ২০০০ এবং ৪০০০ নম্বর কেস–সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিচ্ছেন। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০১৯ সালের নভেম্বরে অ্যাটর্নি জেনারেল এসব মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন।
নেতানিয়াহুর বিচার শুরু হয় ২০২০ সালের ২৪ মে। তিনি ইসরায়েলের ইতিহাসে প্রথম একজন দায়িত্বরত প্রধানমন্ত্রী, যিনি ফৌজদারি মামলায় আসামির আসনে বসেছেন।
নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধেও অভিযুক্ত। গাজায় বর্বরতার কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে তাঁর ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
![]() |
| ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে যুদ্ধবিমানের ক্ষয়ক্ষতির জন্য কাকে দায়ী করলেন ভারতের সেনা কর্মকর্তা
গণ্ডিটা কেমন ছিল? শিব কুমার সেই ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানের কোনো সামরিক ঘাঁটি বা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর যেন আঘাত করা না হয়। এই বাধা বা প্রতিবন্ধকতার কারণেই ভারতকে ‘কিছু’ যুদ্ধবিমান হারাতে হয়েছে।
শিব কুমার এই মন্তব্য করেছিলেন কিছুদিন আগে ইন্দোনেশিয়াতেই এক আলোচনা সভায়। এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় গত রোববার রাতে ইন্দোনেশিয়ার ভারতীয় দূতাবাস ‘এক্স’ হ্যান্ডেল মারফত এক বিবৃতি জারি করে বলেছে, ডিফেন্স অ্যাটাশের বক্তব্য সংবাদমাধ্যম প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে ব্যবহার করেছে। তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে সর্বশেষ সংঘাতে ভারত মোট কতগুলো ও কোন কোন যুদ্ধবিমান হারিয়েছে, আজও সরকারিভাবে তা জানানো হয়নি। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের দাবি পাঁচ থেকে ছয়টি। পাকিস্তানের দাবি, রাফাল, সুখোইসহ পাঁচটি যুদ্ধবিমান তারা নামিয়েছে। এই পাঁচটির মধ্যে ৩টি রাফাল, বাকি ২টির ১টি সুখোই ৩০, অন্যটি মিগ ২৯।
অসমর্থিত খবর অনুযায়ী, ওই সংঘাতের সময় একটি ড্রোন ও দুটি এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির এই খতিয়ান আজও সরকার দেয়নি। পেহেলগাম–কাণ্ড ও পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার বিরোধী দাবিতেও সরকার কর্ণপাত করেনি।
পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের শুরুতেই ভারতের যুদ্ধবিমান হারানোর কথা প্রথম স্বীকার করেন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান। সিঙ্গাপুরে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অবসরে বিদেশি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুদ্ধবিমান হারানোর কথা প্রথম স্বীকার করেন তিনি। তবে কয়টি বিমান ভূপাতিত হয়েছে, তা তিনি জানাননি।
জেনারেল অনিল চৌহান বলেছিলেন, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়াটা বড় কথা নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজেদের লক্ষ্য হাসিল হচ্ছে কি না। ক্রিকেটের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছিলেন, কটা উইকেট পড়ল, সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা খেলায় জয় হলো কি না।
অনিল চৌহানকে সেই সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের দাবি উল্লেখ করে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ওরা ছয়টি বিমান ভূপাতিত করার কথা বলেছে। জবাবে জেনারেল চৌহান বলেছিলেন, ওই দাবি ডাহা মিথ্যা।
এবার ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত ডিফেন্স অ্যাটাশে নতুন বিতর্ক বাধালেন ‘কিছু’ বিমান নষ্টের কথা বলে। ‘কিছু’ মানে একাধিক। কিন্তু সেটা কয়টা, তা তিনি নিশ্চিত করেননি।
প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস নতুন করে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। জয়রাম রমেশ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, কেন তিনি সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে সব জানাচ্ছেন না? কেন সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি খারিজ করে দিচ্ছেন?
আরেক মুখপাত্র পবন খেরার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই দেশবাসীকে অন্ধকারে রেখেছেন। ভুল তথ্য দিচ্ছেন। তথ্য লুকিয়ে রাখছেন।
কংগ্রেসের মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনাতেও এই ঘটনার পর মোদি সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী তথ্য গোপন করে চলেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অন্তত ২০ বার বলেছেন, তিনিই যুদ্ধ থামিয়েছেন। বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়ে যুদ্ধ থামিয়েছেন। এর অর্থ বাণিজ্যের জন্য দেশের স্বার্থের সঙ্গে তিনি আপস করেছেন। তাই ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও নীরবতা পালন করছেন।
ডিফেন্স অ্যাটাশে যা বলেছেন, সেটাই ছিল ভারতের প্রাথমিক নীতি। বস্তুত পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আগেই এর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অভিযানের শুরুতে পাকিস্তানকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ভারতের লক্ষ্য সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটি। সেই নীতিই যে ‘কিছু’ যুদ্ধবিমান হারানোর কারণ, এ কথাই ডিফেন্স অ্যাটাশে ক্যাপ্টেন শিব কুমার কবুল করেছেন। জুলাই মাসে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন এ নিয়ে অবশ্যই সরগরম হবে।
| ধাতব ধ্বংসাবশেষ দেখছেন স্থানীয় লোকজন। ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার উয়ান গ্রামে। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানে শাসক বদলের পশ্চিমা চেষ্টা কেন উল্টো ফল দেবে by জাফর এ মির্জা
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে হামলা ছিল সীমিত পরিসরে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইরানের ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে’ কোনো চেষ্টা করছে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস অন্য কিছু বলে।
ইসরায়েল বারবার বিভ্রান্তিকর গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে টেনে এনেছে। প্রথমে ইরাকে, এখন ইরানে।
এই নজির এবং ইরানের দিকে থেকে বলা ‘চিরস্থায়ী পরিণতি’র হুমকি বিবেচনায় নিলে যুক্তরাষ্ট্র যে এখানেই থেমে যাবে, সেটা মনে হয় না। বরং ইসরায়েলের বহুদিনের লক্ষ্যের (ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতন) সঙ্গে ওয়াশিংটনের লক্ষ্য একবিন্দুতে এসে মিলে যেতে পারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অপসারণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে এ ধরনের উদ্দেশ্যের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। কিন্তু ইতিহাসে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই ইসরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমর্থন দেয়। ইরানের ক্ষেত্রে দেখা গেল, প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র।
বাস্তবেও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। এ হামলার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ২৩ জুন ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় ‘প্রতীকী’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর মধ্যে ছিল কাতারের আল-উদেইদে সামরিক ঘাঁটি ও ইরাকের কিছু লক্ষ্যবস্তু।
যাহোক, সংঘাত যদি আরও তীব্র রূপ নেয়, তাহলে ওয়াশিংটন সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারে, যেটিকে অনেকে বলছেন ‘চূড়ান্ত সমাধান’। অর্থাৎ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আনার নামে ইরানে সরকার উচ্ছেদ।
যদিও সোমবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন, কিন্তু সেটা যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। এর কারণ হলো, এ সংঘাতের পেছনে নিহিত উত্তেজনাগুলো এখনো রয়ে গেছে এবং হামলার পেছনে বড় যে কৌশলটা আছে, সেটা অপরিবর্তিত রয়েছে।
ইরানে সরকার পরিবর্তন করা গেলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আসবে, এই প্রভাবশালী ধারণা অনেকের মধ্যে (বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আইনপ্রণেতারা) এখনো বদ্ধমূল রয়েছে।
যাহোক, ভালি নাসরের মতো পণ্ডিতেরা অনেক দিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, এ ধারণা একটি বিপজ্জনক ও বাস্তবতাবিবর্জিত কৌশলের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে।
এটি গভীর একটি প্রশ্নকেও সামনে আনে। ইরানে সরকার পরির্তন সত্যিই কি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মতাদর্শিক কাঠামোকে ভেঙে দিতে পারবে? এ প্রশ্ন নীতিনির্ধারক মহল প্রায়ই উপেক্ষা করে।
মতাদর্শিক ধারাবাহিকতা
খামেনির অপসারণের মধ্য দিয়ে ইরানের রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, এমন ধারণার মধ্যে বড় গলদ আছে।
‘বিলায়াত–ই–ফকিহ’ ধারণাটি ইরানি বিপ্লবের মতাদর্শিক ভিত্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে। এই ধর্মতাত্ত্বিক নীতিটাই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের মেরুদণ্ড।
এটি কয়েক শতাব্দীপ্রাচীন শিয়া মতবাদের দ্বাদশ ইমামীয় ধারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই মতবাদ অনুসারে, দ্বাদশ ইমাম মুহাম্মদ আল-মাহদির অন্তরালে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রবীণ ইসলামি বিচারকদের জনগণের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করার অধিকার দেওয়া হয়েছে।
১৯৭৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইরানি বিপ্লবের সময় বিলায়াত-ই-ফকিহ ধারণাটি সরাসরি রাজনৈতিক পরিসরে যুক্ত করা হয়। এর আগপর্যন্ত সেটি মূলত ধর্মীয় জ্ঞান ও চিন্তার জগতে সীমাবদ্ধ ছিল।
যদিও শিয়া আলেমদের মধ্যে বিচারকদের রাজনৈতিক ভূমিকা কতটুকু হবে, তা নিয়ে মতপার্থক্য আছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইরাকের নাজাফের গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলী সিস্তানি এর রাজনৈতিক প্রয়োগকে সমর্থন করেন না। তবে এ ক্ষেত্রে একটি সাধারণ ঐকমত্য হলো, ইমামের অনুপস্থিতিতে শিয়া মুসলমানদের ধর্মীয় ও আত্মিক পথনির্দেশনার জন্য সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ আলেমকে (মারজা আল-তাকলিদ) অনুসরণ করা উচিত।
ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পরবর্তী উত্তরসূরি কে হবেন, তা এখনো অনিশ্চিত। কিন্তু এটা প্রায় নিশ্চিত যে তিনি কওম শিক্ষাকেন্দ্র থেকেই আসবেন। এটি ইরানে শিয়াদের প্রধান ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র। রুহুল্লাহ খোমেনির আদর্শ, বিশেষ করে বিলায়াত-ই-ফকিহ সম্পর্কে তাঁর ব্যাখ্যা এই শিক্ষাকেন্দ্র প্রচার করে চলেছে।
অন্যভাবে বলা যায়, আলী খামেনিকে সরালেও ব্যবস্থাটি বদলাবে না।
কারণ, ইরান সরকারের এই মতাদর্শিক ভিত্তি শুধু কোনো একক নেতার ওপর নির্ভর করে না। এই মতাদর্শ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইরানের শিয়া মুসলমানদের চিন্তার মধ্যে প্রোথিত এবং রাষ্ট্রের কেন্দ্রে বিপ্লবী মতাদর্শ পুনরুৎপাদন করে চলবে।
প্রভাব সীমান্ত পেরিয়েও
ইরানের বৈশ্বিক সফট পাওয়ারকে (সাংস্কৃতিক, আদর্শিক, কূটনৈতিক প্রভাব) প্রায়ই গভীরভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়। অনেক রাষ্ট্রেরই প্রবাসে তাদের জনগোষ্ঠী রয়েছে। কিন্তু প্রবাসে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে আদর্শিক আনুগত্য সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে ইরান অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের প্রভাব ইরানের সীমানা ও শিয়া জনগোষ্ঠীর গণ্ডি পেরিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। বৈশ্বিক রাজনীতিতে এটি ছিল একটি রূপান্তর সৃষ্টিকারী (বিশেষ করে মুসলিমদের জন্য, প্রধানত শিয়াদের জন্য) মুহূর্ত। এই বিপ্লব (বিশেষ করে বিলায়াত-ই-ফকিহ মতবাদের ক্ষেত্রে) গভীর ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক তাৎপর্য নিয়ে এসেছিল।
যদিও অনেক শিয়া বিলায়াত-ই-ফকিহ মতবাদ নিয়ে খোমেনির রাজনৈতিক ব্যাখ্যাকে অস্বীকার করেছেন। কিন্তু অনেকে বিপ্লবের প্রতি জোরালো মতাদর্শিক আনুগত্য বজায় রেখে চলেছেন।
এই আনুগত্য কেবল ইরানেই সীমাবদ্ধ নয়, পাকিস্তান, লেবানন, ভারত, ইরাক ও আরও অনেক দেশের শিয়া জনগোষ্ঠী এখনো ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।
ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায়—এই বিপ্লবের প্রতি সমর্থন শুধু সেখানে বাস করা ইরানিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটাই ইরানকে অন্যান্য মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ থেকে আলাদা করেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সুন্নি মুসলিমরা হয়তো মক্কা ও মদিনার প্রতি, তাঁদের অনেকে হয়তো ওহাবি ঐতিহ্যের প্রতি আধ্যাত্মিক টান অনুভব করতে পারেন, কিন্তু খুব কমসংখ্যকই সৌদি শাসকগোষ্ঠীকে সমর্থন দেবেন।
এর বিপরীতে, ইসলামি বিপ্লবের প্রতি প্রশংসা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এবং প্রবাসে থাকা শিয়াদের মধ্যে দেখা যায়। জাতীয় আনুগত্যের কারণে নয়, বরং আদর্শিক ও আধ্যাত্মিক সংহতির ভিত্তিতে বিশ্বজুড়ে শিয়ারা ইসলামি বিপ্লবের প্রতি সমর্থন জানায়।
যদি বাইরের কোনো কোনো শক্তি ইরানে সরকার উৎখাত করে, তাহলে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতি মতাদর্শিক সমর্থন আরও গভীর হবে। বাইরের কোনো শক্তি যদি ইরানে বিকল্প কোনো সরকার চাপিয়ে দেয়, তাহলে বিশ্বজুড়ে শিয়া জনগোষ্ঠীদের কাছ থেকে সেটা ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে।
বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক
বৈশ্বিক পৃষ্ঠপোষকদের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে ইরান, যা এখন ছয়টি মহাদেশজুড়ে বিস্তৃত।
বুয়েনস এইরেস থেকে জাকার্তা, আফ্রিকা থেকে ইউরোপ, লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক—এই নেটওয়ার্কগুলো খামেনির অনুসারীদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে চলেছে।
শিয়া সম্প্রদায়গুলো নানা বাধার মুখে পড়তে পারে, কিন্তু তাদের সঙ্গে ইরানের যে আদর্শিক বন্ধন আছে, সেটা অটুট থাকবে।
এই নেটওয়ার্কগুলো শুধু আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনাই দেয় না, দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয়ে ব্যবহারিক পরামর্শও দেয়। এমনকি যদি ইরানের বর্তমান শাসকেরাও বদলেও যায়, এই নেটওয়ার্কগুলো হঠাৎ করে বিলীন হয়ে যাবে না।
সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটিই রয়ে গেছে, ইরানে সরকার পরিবর্তন হলে আসলে কী অর্জন হবে? বাস্তবতা হলো, ইরানে সরকার বদল হলে দেশের ভেতরে ও বিশ্বে বর্তমান সরকারের প্রতি মতাদর্শিক সমর্থনের যে ভিত্তি, সেটা দুর্বল হবে না।
ইরানে সরকার পরিবর্তন যদি সত্যিই ঘটে, তাহলে তাতে নেতানিয়াহুর সম্প্রসারণবাদী উচ্চাকাঙক্ষা আর ইসরায়েলের অতিডানপন্থী সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছাড়া আর কার স্বার্থে লাভ হবে?
এটা সত্যি যে ইরানের সমাজে অবশ্যই বড় ধরনের অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে সেক্যুলার ও সংস্কারপন্থীদের মধ্যে অসন্তোষটা তীব্র।
অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক দমননীতি এবং নাগরিক স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ—এসব গভীর হতাশা তৈরি করেছে। এই বাস্তবতাগুলো উপেক্ষা করা চলবে না।
কিন্তু বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সরকার পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যে কখনোই কার্যকর হয়নি। ইরানও এর ব্যতিক্রম হবে না। বরং এমন একটি পদক্ষেপ প্রায় নিশ্চিতভাবেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, যার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।
* জাফর এ মির্জা, ধর্ম, রাজনীতি ও অভিবাসনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ
- মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ মনোজ দে
![]() |
| আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবিসংবলিত পতাকা নিয়ে তেহরানে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিশুদের হাড্ডিসার দেহ ইসরায়েলের নৃশংসতার সাক্ষ্য
ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত অনাহার ও অপুষ্টিতে ফিলিস্তিনের গাজায় অন্তত ৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। এ জন্য তারা গাজায় ইসরায়েলের সর্বাত্মক অবরোধকে দায়ী করেছে।
গাজার স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের ওপর চাপ বাড়াতে উপত্যকাটিতে কোনো ধরনের ত্রাণ প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ইসরায়েল। এমনকি খাবার, পানি ও ওষুধের মতো জীবনরক্ষাকারী ত্রাণও প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
গত শনিবার গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী অবরোধকে যুদ্ধাপরাধ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজার বেসামরিক মানুষকে নির্মূল করতে ইসরায়েল ক্ষুধাকে যে অস্ত্র হিসেবে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করছে, সেটা এখন দিবালোকের মতো সত্য।
গাজা উপত্যকায় চলমান পরিস্থিতিকে ‘শৈশবের বিরুদ্ধে অব্যাহত অপরাধ’ বলে বর্ণনা করে এর নিন্দা জানিয়েছে সরকারি দপ্তরটি। পাশাপাশি ক্ষুধা, রোগ ও ধীরে ধীরে মৃত্যুর শিকার হওয়া শিশুদের দুর্দশা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের লজ্জাজনক নীরবতারও তীব্র সমালোচনা করেছে তারা।
বিবৃতিতে এ বিপর্যয়ের জন্য ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের দায়ী করেছে সরকারি দপ্তরটি। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। পাশাপাশি জাতিসংঘকে অবিলম্বে গাজার সীমান্ত পথগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিবৃতির কয়েক দিন আগে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ সতর্ক করে বলেছিল, গাজায় অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা ‘উদ্বেগজনক হারে’ বাড়ছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, শুধু মে মাসে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী অন্তত ৫ হাজার ১১৯ শিশুকে তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইউনিসেফ আরও বলেছে, এ সংখ্যা এপ্রিল মাসে ভর্তি হওয়া ৩ হাজার ৪৪৪ শিশুর তুলনায় ৫০ শতাংশের মতো বেশি আর ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ১৫০ শতাংশ বেশি। ফেব্রুয়ারিতে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। এতে সে সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ত্রাণসহায়তা গাজায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।
ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক এডওয়ার্ড বেইগবেদার বলেন, শুধু এ বছর মে পর্যন্ত মাত্র ১৫০ দিনে গাজা উপত্যকায় ১৬ হাজার ৭৩৬ শিশুকে অপুষ্টির চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে হিসাবে গড়ে দিনে ১১২টি শিশুকে অপুষ্টির জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিশুদের এ দুর্দশা ও মৃত্যুর মিছিল খুব সহজে থামানো সম্ভব বলে মনে করেন বেইগবেদার। তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনা প্রতিরোধযোগ্য। তাদের কাছে অত্যাবশ্যক খাবার, পানি ও পুষ্টি চিকিৎসা পৌঁছে দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে মানুষ মারা যাচ্ছে। ইসরায়েলকে জরুরি ভিত্তিতে সব সীমান্ত পথ দিয়ে ব্যাপক পরিমাণ জীবনরক্ষাকারী সহায়তা গাজায় পৌঁছানোর সুযোগ দিতে হবে।
শিশুদের অনাহারে মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করে শনিবার যখন এসব কথা বলা হচ্ছিল, তখন গাজা নগরীর তুফাহ এলাকায় দুই দফায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে অন্তত ২০ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৯টি শিশু রয়েছে।
ত্রাণের আটার ব্যাগে মাদক
এদিকে গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় গত শুক্রবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–সমর্থিত একটি ত্রাণ সংস্থার ত্রাণকেন্দ্রগুলো থেকে বিতরণ করা আটার ব্যাগে ‘অক্সিকোডোন’ নামের মাদক বড়ি পাওয়া গেছে। সরকারি দপ্তরটি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে সরকারি দপ্তরটি বলেছে, ‘আমরা এখন পর্যন্ত চারজনের সাক্ষ্য পেয়েছি। তাঁরা আটার ব্যাগের ভেতরে এই বড়িগুলো পেয়েছেন।’ তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, কিছু মাদক ইচ্ছাকৃতভাবে গুঁড়া বা দ্রবীভূত করে আটার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অক্সিকোডোন একটি শক্তিশালী মাদক, যা মূলত ক্যানসার রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি ও তীব্র ব্যথা উপশমে ব্যবহার করা হয়। এ মাদক অত্যন্ত আসক্তিকর এবং এর জীবননাশক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। এর মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাসে জটিলতা, বিভ্রম ইত্যাদি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে গাজায় বিতরণ করা আটার ব্যাগে বড়ি পাওয়ার ছবি প্রকাশ হয়েছে। পরে গাজা কর্তৃপক্ষ ওই বিবৃতি দেয়। গাজার একজন ফার্মাসিস্ট ওমর হামাদ এ ঘটনাকে ‘গণহত্যার সবচেয়ে জঘন্য রূপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) নামের একটি বিতর্কিত সংস্থা বর্তমানে দক্ষিণ গাজার কয়েকটি জায়গায় ত্রাণ বিতরণ করছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকার অভিযোগে জিএইচএফের তীব্র সমালোচনা করে আসছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। জিএইচএফের ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র থেকে ত্রাণ আনতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ৫৫০ জনের বেশি ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে নতুন করে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টার মধ্যেই গাজায় হামলা আরও তীব্র করেছে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল রোববার জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত ৮৮ জনের মরদেহ গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালগুলোয় আনা হয়েছে। এ সময় আহত ৩৬৫ জনকেও হাসপাতালে আনা হয়।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নির্বিচার হামলা শুরু করে। প্রায় ২০ মাস ধরে চলা এ যুদ্ধে গাজায় কমপক্ষে ৫৬ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪১৯ জন।
![]() |
| ইসরায়েলি হামলায় নিহত স্বজনের দাফনের আগে শিশুকে কোলে নিয়ে এক ফিলিস্তিনি নারীর আহাজারি। গতকাল দক্ষিণ গাজার নাসের হাসপাতালে। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ▼ 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


