Thursday, July 14, 2016

কাশ্মীরে আরও অশান্তির আশঙ্কা

কাশ্মীরে গতকালও বিক্ষোভ হয়। এএফপি
অশান্ত কাশ্মীর ক্রমেই শান্ত হচ্ছে। যদিও পঞ্চম দিনেও গোটা উপত্যকা থমথমে। এ অবস্থায় ভারতীয় গোয়েন্দারা আগামী দিনে আচমকাই ফের অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন। সে জন্য রাজ্য প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ আশঙ্কার কারণ দুটি। প্রথম কারণটি হলো পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর থেকে হিযবুল মুজাহিদীনের সুপ্রিমো সৈয়দ সালাহউদ্দিন এ উপত্যকায় নিহত বুরহান ওয়ানির উত্তরসূরি হিসেবে মেহমুদ গজনবির নাম ঘোষণা করেছেন। গত মঙ্গলবার এ ঘোষণা হয় বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। দ্বিতীয় কারণটি অস্ত্র লুট।
গত শুক্রবার দক্ষিণ কাশ্মীরে বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর অশান্ত উপত্যকার বিভিন্ন জেলার থানা থেকে ৭০টি অস্ত্র ও প্রচুর গুলি লুট হয়েছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, লুট হওয়া এই অস্ত্র শিগগিরই পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর ব্যবহৃত হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে জানায়, বুরহানের জায়গায় নতুন কমান্ডার যিনি হলেন তাঁকে শিগগিরই নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে। সালাহউদ্দিনও গতকাল জানিয়েছেন, দ্বিগুণ উৎসাহে তাঁদের তৎপরতা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। গতকাল কাশ্মীর উপত্যকা মোটামুটি শান্ত ছিল। ইতিপূর্বে সহিংসতায় আহত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আরও তিনজন মারা যাওয়ায় মোট নিহত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪।
গৃহবন্দী হুরিয়াত নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানি গতকাল বাড়ি থেকে বেরিয়ে এক বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শান্তির আবেদন জানানোর পর জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিও নতুন করে শান্তি প্রতিষ্ঠার আবেদন জানান। এ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে, কেন্দ্র যেন সরকারি হাসপাতালের জন্য কয়েকজন ভালো চোখের ডাক্তার পাঠান। গত কয়েক দিনের অশান্তিতে আহত ও অসুস্থদের অধিকাংশেরই চোখে আঘাত।

ওলাঁদের চুলের পেছনে মাসে খরচ ১০ হাজার ডলার!

ফ্রাসোঁয়া ওলাঁদ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রার্থী ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসনের চুলের স্টাইল বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। কিন্তু ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোঁয়া ওলাঁদের চুল কখনোই ‘খবর’ হয়ে ওঠেনি। এবার সেই ঘটনা ঘটাল দেশটির সাপ্তাহিক সংবাদ সাময়িকী লা ক্যানার্ড এনচেইনে। গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে তারা বলেছে, সমাজতন্ত্রী রাজনীতিক হয়েও ওলাঁদ চুলের যত্নে মাসে খরচ করেন ৯ হাজার ৮৯৫ ইউরো (১০ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলার)। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের এ অর্থের প্রায় পুরোটাই যায় অলিভার বি নামের তাঁর চুল পরিচর্যাকারীর পকেটে।
খবরটি প্রকাশের পরপরই ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল ফ্রন্টের (এফএন) এক জনপ্রতিনিধি টুইটারে ওলাঁদকে বিদ্রূপ করে ‘মহামান্য’ (হিজ ম্যাজেস্টি) বলে সম্বোধন করেছেন। অন্য ব্যবহারকারীরাও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের ছবির ওপর নানা ঢঙের হেয়ারস্টাইল যুক্ত করে পোস্ট করছেন। কয়েকজন টুইটার ব্যবহারকারী তো ২০১৭ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কয়েকজন ন্যাড়া মাথার প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এতে করে করদাতাদের কিছু অর্থ বেঁচে যাবে।
লা ক্যানার্ড এনচেইনে তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, বেতনের পাশাপাশি ওলাঁদের এই চুল পরিচর্যাকারী আবাসন ভাতা ও পারিবারিক অন্যান্য সুবিধাও পেয়ে থাকেন। প্রেসিডেন্টের বেশির ভাগ বিদেশ সফরেও তিনি তাঁর সঙ্গে থাকেন। পরিচর্যাকারীর সঙ্গে চুক্তির শর্ততে বলা হয়েছে, নিজের কাজের ব্যাপারে অবশ্যই তিনি গোপনীয়তা বজায় রাখবেন এবং দায়িত্ব পালনের সময় তিনি যেসব তথ্য জানবেন, তার সবই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি গোপন রাখবেন।

আলু পোড়া র সুযোগ কে হারাতে চায়!

কারও ঘর যখন পুড়ছে তখন তা নেভানোর চেষ্টা না করে সুযোগ বুঝে সেখানে আলু পোড়া দিয়ে খাওয়ার লোভ আমাদের রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে ভালোভাবেই শিকড় গেড়েছে। গুলশান ও শোলাকিয়ার ঘটনা ঘটিয়ে জঙ্গিরা যে আগুন লাগিয়েছে, সেখানে কেউ আলু পোড়া দিয়ে খেতে চাইবে না, তা কী করে হয়! যে ঘরে আগুন লাগিয়েছে জঙ্গিরা, তার মালিক জনগণ। এই আগুনে তারা যখন পুড়ছে, তখন সেখানে আলু পুড়িয়ে খাওয়ার লোভটি মনে হয় কেউ–ই সামলাতে পারছে না। বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ ও দল, সরকারি দল অথবা ডান-বাম কে-ই বা বাদ থাকছে! গুলশান ও শোলাকিয়ার ঘটনার পর ঈদের দিনের এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের অভাবে দেশে একের পর এক জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটছে। সরকারের উচিত ব্যর্থতার দায় নিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়া। খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যের সমালোচনা করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন লিখেছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের বাস মিস করে তিনি এখন যত তাড়াতাড়ি একটা নির্বাচন করা যায় তার জন্য ব্যস্ত। এখনো তিনি তাঁর পূর্বতন দাবি অনুযায়ী কেবল তথাকথিত নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অংশ নিতে চান। সেই স্বপ্ন তিনি ছাড়েননি। গুলশান-শোলাকিয়ার ঘটনা তাঁর জন্য এক মোক্ষম সুযোগের সৃষ্টি করেছে।
তিনি তাই “ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পোড়া” দিতে চান। গুলশান বা শোলাকিয়ার ঘটনায় তিনি যতখানি না নিন্দা করেছেন, তার চেয়ে বেশি নিন্দা করেছেন সরকারকে। ঈদের দিন সমাগত অনুগতদের সামনে বক্তৃতায় তিনি শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদকে “স্বাস্থ্যবান” করার অভিযোগ এনেছেন এবং শেষে পরিষ্কার করে বলেই ফেলেছেন জঙ্গিরা তাঁর কাজ করে ফেলেছে। এখন সরকারের উচিত পদত্যাগ করে নির্বাচন দেওয়া। জঙ্গির দেওয়া আগুনে তিনি এই আলুই পোড়া দিতে চান। আমাদের দুর্ভাগ্য, এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে আমরা পড়েছি, যেখানে যেভাবেই হোক ক্ষমতায় যাওয়া বা ক্ষমতায় গেলে যেকোনোভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকাই হচ্ছে মূল কথা। দেশের এই দুর্যোগের সময় বিএনপি বা এর প্রধান খালেদা জিয়া যদি রাশেদ খান মেননের কথা অনুযায়ী ঘর পোড়ার সুযোগে আলু পোড়া দেওয়ার স্বপ্ন দেখে থাকেন, তবে আমাদের মতো জনগণের অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জ্বালানো-পোড়ানোতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর খুব আপত্তি আছে বলে মনে হয় না। আর বিএনপির অবরোধ আন্দোলনের সময় পেট্রলবোমা ও মানুষ পুড়িয়ে মারা তো এই সেদিনের ঘটনা। এখন জঙ্গিদের জ্বালানো আগুনে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার আলুপোড়া দিতে চাইবে, এটাই তো আমাদের রাজনীতি! খুব স্বাভাবিকভাবেই বিএনপি বা খালেদা জিয়ার এখন আগ্রহ যেভাবেই হোক একটি নতুন নির্বাচন ও তার মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ নেওয়া।
জঙ্গিবাদের ছড়িয়ে পড়া আগুন আদৌ তাঁদের মাথাব্যথার কোনো বিষয় নয়। গুলশান ও শোলাকিয়ার ঘটনার পর আমরা তাই জঙ্গিবাদের বিপদ নিয়ে তাঁর মুখে তেমন কিছু শুনলাম না। খালেদা জিয়া স্বীকার করতে পারলেন না যে জঙ্গিবাদ তাঁদের শাসন আমলেও চরম আকার নিয়েছিল, বাংলা ভাই বা জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করা তাঁদের ভুল ছিল। বর্তমান সরকারের সেই ভুল করা ঠিক হবে না। তাঁদের ভুল থেকে বর্তমান সরকার যেন শিক্ষা নেয় এবং সরকার ব্যর্থ হলে এই আগুনে আমাদের সবার পুড়তে হবে। তিনি নির্বাচনই চাইলেন। তাঁর নির্বাচনের দাবি তাই রাশেদ খান মেননের কথায় ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পোড়া দেওয়ারই চেষ্টা। এখন রাশেদ খান মেননের কাছে কিছু পাল্টা প্রশ্ন তুলতে চাই, বিএনপি না হয় ঘর পোড়ার সুযোগে আলু পোড়া দিতে চাইছে, কিন্তু তিনি, বর্তমান সরকারি দল বা জোটও কি তা-ই করছে না? জঙ্গিদের এই জ্বালানো আগুন যেন সরকারি দল ও তাদের নেতাদের বিএনপিকে আরও একহাত নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। গুলশান ও শোলাকিয়ার ঘটনার পর সরকারি দল ও জোটের সবাই তো দেখি বিএনপিকে গালাগালি দিতে নেমে পড়েছেন। এখন সরাসরিই দায়ী করা শুরু হয়েছে বিএনপিকে। বিরোধী রাজনৈতিক দলকে দমনে সরকারের যতটা মরিয়া ভাব, জঙ্গি দমনে তো তা চোখে পড়ে না। জঙ্গিদের বিচারে সরকারের অনুমতির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা কেন?
দেশে জঙ্গিবাদের বিকাশের পেছনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মন্তব্য অনুযায়ী বিভাজনের রাজনীতি বা দুর্বল গণতন্ত্রের দায়কে মানতে রাজি হননি রাশেদ খান মেনন। তাঁর কাছে জানতে চাই, বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতার পেছনে দেশের বিভক্ত রাজনীতি বা গণতন্ত্রের দুর্বলতার যদি কোনো ভূমিকা না-ই থাকে, তবে তো বাংলাদেশের জঙ্গি তৎপরতাকে বিশুদ্ধ আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের অংশ হিসেবেই দেখতে হবে। সরকার তবে কেন এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগসূত্র বাতিল করে দিয়ে হোমগ্রোন হোমগ্রোন বলে জিকির করে যাচ্ছে?
ফ্রান্স বা বেলজিয়ামে কেন জঙ্গি হামলা হচ্ছে, সে প্রশ্নও তুলেছেন রাশেদ খান মেনন। বলেছেন, সেখানে তো বিভক্ত রাজনীতি নেই, গণতন্ত্রের অবস্থাও দুর্বল নয়। এ ধরনের সরল যুক্তির উত্তরে বলা যায়, ওই সব দেশে হামলাকারীরা বিদেশি বংশোদ্ভূত ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবেই ওই দেশগুলোর স্বার্থে আঘাত হেনেছে। আমাদের দেশের মতো দেশি জঙ্গিরা নিজের দেশের স্বার্থের ওপর আঘাত হানছে না। যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা দুনিয়া আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিন, ইরাক বা সিরিয়া নিয়ে যে রাজনীতি করেছে, এসব হামলা কার্যত তারই প্রতিক্রিয়া। এর সঙ্গে সেই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সম্পর্ক নেই। আর এ ধরনের হামলার পেছনে বিরোধী দলকে দায়ী করার সংস্কৃতিও সেখানে নেই। সেসব দেশে সরকার বা বিরোধী দল কেউই ঘরপোড়ার মধ্যে আলুপোড়ার সুযোগ নেয় না। আর রাশেদ খান মেননের কথা অনুযায়ী, বিএনপি বা তার সহযোগী জামায়াত যদি দেশের এই চরম বিপদের মধ্যে বা যখন ঘর পুড়ছে তখন আলু পোড়ার মতো জঘন্য কাজে জড়িয়ে পড়ে, তবে তো এর জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই দায়ী করতে হচ্ছে। এর পেছনে বিভক্তির রাজনীতি বা দুর্বল গণতন্ত্র যা–ই থাক না কেন। আসলে ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পোড়ার সুযোগ কেউই হারাতে চায় না। প্রশ্ন হচ্ছে সবাই আলু পোড়ানোর সুযোগ নিলে আগুন নেভাবে কে? জনগণকে মনে হয় পুড়তেই হবে!
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com

এখনো যৌতুকের জন্য নির্যাতন!

বিয়ে হয়েছে ভালোবাসায়, কিন্তু প্রতিদান হিসেবে পেয়েছেন বর্বর নির্যাতন। রাজশাহীর রিফাহ তাসফিয়া স্বামীর যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় ভয়ানক নির্যাতনের শিকার হয়ে এখন হাসপাতালে। নির্যাতক স্বামীও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। যৌতুকের অভিশাপ কেবল নিরীহ মেয়েটিকেই অসহনীয় পরিস্থিতিতে ফেলেনি, পরিবারকেও এর চাপ বইতে হবে। আর সুষ্ঠু বিচার হলে যৌতুক চাওয়া ও নারী নির্যাতনের অপরাধে পুরুষটির কঠিন শাস্তি হওয়ার কথা। এরপরও কি যৌতুক নামক অমানবিক চর্চার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে না সব মানুষ?
এখনো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যৌতুকের কারণে বহু পরিবারে অশান্তি, আর্থিক দুর্দশা এবং নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে। এই একবিংশ শতাব্দীতেও নারীকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন এমনকি স্বামীর কাছে অপমানিত ও নির্যাতিত হতে হয়! গতকাল বুধবারের প্রথম আলোয় রাজশাহীর তরুণী বধূ রিফাহ তাসফিয়ার আহত অবস্থার ছবি প্রকাশিত হয়েছে। চাহিদামাফিক যৌতুক না পাওয়ায় তাঁর তরুণ স্বামী, যিনি কি না এখনো কলেজের ছাত্র, তাসফিয়াকে জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। নির্যাতনে মেয়েটির দুই হাত, পা, মাথা ও বুকের হাড় ভেঙে গেছে। সামিউল অসুস্থ মস্তিষ্কে নিজের স্ত্রী, নিজের সন্তানের মায়ের ওপর এই বর্বরতা চালিয়েছেন—এমনটা বলার সুযোগ নেই। কারণ,
এই নির্যাতন চলে আসছিল দিনের পর দিন। পরিবারের সমর্থন ছাড়া সামিউলের পক্ষে এভাবে বারবার নির্যাতন চালানো কঠিন ছিল। যৌতুক নামক কুৎসিত প্রথাটি যে কোথাও কোথাও সামাজিকভাবে পরিবারের সম্মতিতেই টিকে আছে, রাজশাহীর ঘটনা তার সাক্ষ্য দেয়। এ ধরনের ঘটনা কেবল লজ্জায় আমাদের মাথাই হেঁট করে দেয় না, মানুষের ওপর বিশ্বাসকেও নাড়িয়ে দেয়। সামিউলকে তাসফিয়ার আত্মীয়দের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন দ্রুত তদন্ত করে বিচারকাজ শুরু করা দরকার। যৌতুক ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় আপসহীন বিচারই পারে এর অবসান ঘটাতে।