Tuesday, March 17, 2020

জেনে নিন ডালিমের উপকারিতা

ডালিম রোগীর উপকারি ফল হিসেবে খুবই জনপ্রিয়। ডালিমকে স্বর্গীয় ফল বলা হয়। কারণ এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জাদুকরী গুনাগুন। ডালিম বা বেদানা ফল মোটামুটি সারা বছর পাওয়া যায়। গাছ গুল্ম জাতীয়, ৫-৮ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। পাকা ফল দেখতে লাল রঙের হয়। ফলের খোসার ভিতরে স্ফটিকের মত লাল রঙের দানা দানা থাকে। সেগুলোই খেতে হয়। এর আদি নিবাস ইরান এবং ইরাক। ডালিম ফল ডালিমগাছের পাতা, ছাল, মূল, মূলের ছাল সবই ওষুধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
ডালিম ফল কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে হলুদ এবং লাল হয়। ফলের ভিতরে বীজের কোষ হয় এবং কোষের উপর পাতলা আবরণ থাকে। পাকা ফলে বীজ গোলাপী ও সাদা হয়। ডালিম ফলের মোট ওজনের বৃহত্তর অংশই খোসা ও বীজ। নিয়মিত পরিচর্যা নিলে ডালিম গাছ থেকে সারা বছর ফল পাওয়া যায়।
পুষ্টিমান:- ডালিমের পুষ্টিমান, ওষুধি গুণ ও বহুবিদ ব্যবহার অনেক ধর্মীয় বই থেকে অনেক স্থানে লেখা আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম ডালিমে ৭৮ ভাগ জল, ১.৫ ভাগ আমিষ, ০.১ ভাগ স্নেহ, ৫.১ ভাগ আঁশ, ১৪.৫ ভাগ শর্করা, ০.৭ ভাগ খনিজ, ১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১২ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, ১৪ মিলিগ্রাম অক্সালিক এসিড, ৭০ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ০.৩ মিলিগ্রাম রাইবোফ্লাভিন, ০.৩ মিলিগ্রাম নায়াসিন, ১৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি ইত্যাদি থাকে। আয়ুর্বেদ চিকিত্‍সা বিজ্ঞানে এর ব্যবহার সব জায়গায় পরিচিত।
ঔষধিগুণ:- ডালিম ফল আয়ুর্বেদিক ও ইউনানী চিকিত্‍সায় পৈথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ডালিমে বিউটেলিক এসিড, আরসোলিক এসিড এবং কিছু আ্যলকালীয় দ্রব্য যেমন- সিডোপেরেটাইরিন, পেপরেটাইরিন, আইসোপেরেটাইরিন, মিথাইলপেরেটাইরিন প্রভৃতি মূল উপাদান থাকায় ইহা বিভিন্ন রোগ উপশমে ব্যবহৃত হয়। কবিরাজী মতে ডালিম হচ্ছে হৃদয়ের শ্রেষ্ঠতম হিতকর ফল। এ ফল কোষ্ঠ রোগীদের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। গাছের শিকড়, ছাল ও ফলের খোসা দিয়ে আমাশয় ও উদরাময় রোগের ওষুধ তৈরি হয়। ইহা ত্রিদোষ বিকারের উপশামক, শুক্রবর্ধক, দাহ-জ্বর পিপাসানাশক, মেধা ও বলকারক, অরুচিনাশক ও তৃপ্তিদায়ক। ডালিমের ফুল রক্তস্রাবনাশক।
>>>চলুন জেনে নেই ডালিমের অজানা উপকারিতা সম্পর্কে>>>...
হৃত্‍পিণ্ড ভালো রাখতে:- আমাদের জীবনযাত্রায় অন্যতম আতঙ্ক রোগ হল হৃদরোগ। আর শরীর সুস্থ রাখতে হলে নিজেকে সচল রাখতে হবে। খাওয়া-দাওয়ায় সচেতন থাকতে হবে। আমাদের প্রতিনিয়ত ব্যস্ততার জন্য আমরা খুব বেশি জাঙ্ক ফুড কে খাবার হিসাবে বেছে নিয়েছি এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের হৃদয়। তাই হৃদরোগ আমাদের জীবনযাত্রার সাথে যেন জড়িয়ে গিয়েছে। আর প্রতিদিন এই সকল তেল চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহণ করে থাকার ফলে আমাদের ধমনীর আবরণে চর্বি জাতীয় পদার্থ জমে যাচ্ছে। যার ফলে ধমনী আস্তে আস্তে শক্ত হয়ে সংকুচিত হতে থাকে। হাতের কাছেই আছে হৃদরোগ ভালো রাখার উপায়। মাংস পেশিতে দ্রুত অক্সিজেন পৌঁছে দেয় বেদানা রস। প্রতিদিন একটা বেদানার রস আপনাকে দিতে পারে হৃদরোগের হাজারো সমস্যা থেকে মুক্তি। নিয়মিত বেদানার রস এই চর্বির স্তরকে গলিয়ে পরিষ্কার করে। বেদানায় উপস্থিত থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। যা আমদের শরীরে রক্তের মধ্যে মোনোসাইট কেমোট্যাকটিক প্রোটিন ক্ষতিকর পদার্থ কমিয়ে ফেলে।
ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে:- ডালিম ত্বক সুস্থ রাখতে অনেক উপকার করে। বেদানা বা ডালিম পোমেগ্র্যানেট অয়েল ময়শ্চারাইজার হিসেবে ভালো কাজ করে ও ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণকে প্রতিরোধ তৈরি করে থাকে। ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি, সাইট্রিক আসিড, ট্যানিন সমৃদ্ধ বেদানা ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে বিশেষ উপকারী।
স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধে:- ডালিম বা বেদানার রস ক্যান্সার প্রতিরোধে অনেক উপকারি খাদ্য। এক গবেষণায় দেখা গেছে স্কিন ক্যান্সার ও প্রস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধ করতে বেদানার রস সাহায্য করে। এবং অ্যানিমিয়া রোগীদের জন্য বেদানা রস খুবই উপকারি।
রক্তাল্পতা দূর করতে:- রক্তস্বল্পতা দূর করার জন্য বেদানাতে রয়েছে প্রচুর আয়রন। রুচি বৃদ্ধি করে, কোষ্ট কাঠিন্য রোধ করে। জন্ডিস, বুক ধড়ফড়ানি, বুকের ব্যথা, কাশি, কণ্ঠস্বর পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। পুরনো পেটের অসুখ ও জ্বর সারাতে সাহায্য করে।
হাড় ভালো রাখতে:- হাড়ের সংযোগস্থলে কার্টিলেজ নামে অস্থি রস থাকে যা হাড়ের ক্ষতি করে। বেদানার রসে আছে পটাশিয়াম ও পলিফেনল যা কিনা কার্টিলেজ নামক রোগ রোধ করার জন্য খুবই উপকারী। আর হাড়ের নানাবিধ রোগ যেমন হাড়ের রোগ অস্টিওপোরেসিস থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এই ফলটি থেকে।
দাঁতের যত্নে:- বেদানাতে উপস্থিত রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা কিনা দাঁতে প্লাক জমতে বাধা দেয়। জিন জিভাইটিস নামে মাড়ির রোগ প্রতিরোধ করতে বেদানার ভূমিকা অপরিসীম। আমরা আমাদের দাঁত ভালো রাখার জন্য প্রতিদিন অল্প হলেও বেদানা খাওয়া উচিত।
ডায়রিয়া প্রতিরোধে:- অনেকে ভাবেন ডায়ারিয়া হলে বেদানা খাওয়া ঠিক না। কিন্তু ডায়রিয়া থেকে রক্ষা পেতে বেদানার রস খুবই উপকারি। ডায়রিয়া হলে সকাল-বিকাল বেদানার রস খেলে ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সর্দি-কাশি থেকে বাঁচতে:- শীতের সময় সর্দি-কাশি লেগেই থাকে সর্দি-কাশি থেকে রক্ষা পেতে আমরা বেদানার রস ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করতে পারি। ঠান্ডায় খুব বেশি কাবু হয়ে গেলে বেদানার রস খেয়ে দেখলে পার্থক্যটা নিজেই অনুভব করতে পারবেন। বেদানাতে আছে পটাশিয়াম ও ফাইবার যা ইমিউন সিস্টেম মজবুত রাখতে সাহায্য করে।
কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণে:- বেদানার প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা টক্সিন দূর করে ডিটক্সিফিকেশনে সাহায্য করে। কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রনে বেদানার রসে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এল ডি যা হার্টের মাসলসে অক্সিজেন সরবরাহ ভাল রাখে। ফ্রি রেডিকেলস্‌ প্রতিরোধ করে কোলেস্টরেল বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। নিজেকে সুস্থ রাখতে কৃত্রিম ওষুধের ওপরে নির্ভরশীল না হয়ে, প্রাকৃতিক উপায় গুলোর প্রতি মনযোগী হয়ে উঠতে হবে। প্রকৃতির অসাধারণ সব উপাদান আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে যার অল্প একটু ব্যবহারই প্রতিদিন আমাদের রাখবে সুস্থ-সতেজ ও রোগ মুক্ত। আবার আর্টারি পরিস্কার রাখতে সাহায্য করে বেদানা। বেদানার রস তাই রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে দারুণ কার্যকারী। এর পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি হলে রোজ বেদানার রস খাওয়া উচিত।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:- বেদানার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম ও ভিটামিন 'সি'। প্রতিদিন বেদানার রস খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। এর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট গুণও গ্রিন টি বা রেড ওয়াইনের থেকে প্রায় তিন গুণ বেশি। এর মধ্যে রয়েছে তিন প্রকার অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। ট্যানিন, অ্যান্থো সিয়ানিন ও এলাজিক অ্যাসিড। অ্যান্থোসিয়ানিন দেহ কোষ সুস্থ রাখার ফলে ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে পারে। ফলে ফোলা ভাব কমে যায়, ক্ষয় রুখতেও সাহায্য করে।
রক্তচাপ কমাতে:- প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকার কারণে বেদানা সিস্টোলিক ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে স্ট্রেস, টেনশন কমে। হার্টের সমস্যা থাকলে হার্টের অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।
পেশির ব্যথা দূর করতে:- বাত, অস্টিওআর্থারাইটিস, পেশির ব্যথা কমাতে সাহায্য করে বেদানা। তরুণাস্থির ক্ষয় রুখতেও উপকারী বেদানা।
দেহের ক্যান্সার প্রতিরোধে:- শরীরে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে বেদানা সাহায্য করে। ফলে ক্যান্সার নিজে থেকেই মরে যায়। এই প্রক্রিয়াকে বলে অ্যাপপটোসিস। এর সাহায্যে ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে বেদানা। প্রস্টেট ক্যানসার, ব্রেস্ট ক্যানসারে ভাল কাজ করে বেদানার অ্যান্টিক্যানসার এজেন্ট।

কফির আবিষ্কার, কোন দেশে কী প্রথা এবং কোন অঞ্চলের কফি সেরা - কফি সম্পর্কে ১০টি অজানা তথ্য

বর্তমানে শহরকেন্দ্রিক সমাজ ব্যবস্থায় কফি নিয়ে যতটা হইচই এবং আলোচনা হয়ে থাকে, তা আগে কখনো ছিল না বললেই চলে।
প্রতিদিনের কাজ শুরু করার আগে, দুপুরের লাঞ্চের পর অথবা অলস বিকেলে অনেকটা অভ্যাসবশতই কফি পান করার চল অনেকের মধ্যেই রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে সারা বিশ্বে ৬০ কেজি ওজনের কফির ব্যাগ বিক্রি হয়েছিল ৯ কোটি। এবছর সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ১৬ কোটিতে।

১.কফি আসলে এক ধরণের চেরি ফল

যেই বীজগুলো চোলাই করে কফি উৎপাদন করা হয় সেগুলো আসলে একধরণের ফলের রোস্ট করা বীজ, যে ফলগুলোকে কফি চেরি বলা হয়।
কফির ভেতরের মূল চেরি ফলটিতে কামড় দিলে অনেকটা ডিম্বাকার দুই ভাগ হয়ে যায় বীজটি।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় কফি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের ৫% কফিতে 'পিবেরি' নামক একটি বীজই থাকে।
এই 'পিবেরি' জাতীয় কফি হাতে আলাদা করা হয়। কড়া স্বাদ এবং চমৎকার মিশ্রণের জন্য এই ধরণের কফি বীজ বিখ্যাত।

২.কোথাও কোথাও মানুষ কফি পান করে না, খায়

মানুষ যুগযুগ ধরে কফি পান করে আসলেও কোথাও কোথাও এটি খেতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে মানুষ।
নষ্ট হয়ে যাওয়া কফি চেরি দিয়ে ময়দা তৈরি করে কফি তৈরিকারী অনেক প্রতিষ্ঠানই। এই ময়দা দিয়ে রুটি, চকলেট, সস বা কেক তৈরি করা হয়ে থাকে।
এর স্বাদ পুরোপুরি কফির মত থাকে না; বীজের জাতের ওপর নির্ভর করে এর স্বাদ পরিবর্তিত হয়ে থাকে।

৩.বিষ্ঠা থেকে তৈরি কফি হতে পারে অনেক দামী!

'সিভেট' নামের স্তন্যপায়ী এক ধরণের বিড়াল অথবা হাতি - পৃথিবীর সবচেয়ে দামী কফি এই দুই প্রাণীর যে কোনো একটির পরিপাকতন্ত্র হয়ে মানুষের কাছে পৌঁছায়।
'কোপি লুয়াক' এক ধরণের কফি যা সিভেট নামক একধরণের ইন্দোনেশিয়ান স্তন্যপায়ী বিড়ালের বিষ্ঠা থেকে তৈরি হয়।
বিড়ালের পরিপাকতন্ত্র দিয়ে যাওয়ার সময় স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতে কফি চেরিগুলো গাঁজানো হয়, পরবর্তীতে সেগুলো সংগ্রহ করে বিক্রি করা হয়।
ঐ ধরণের কফির ৫০০ গ্রামের দাম হতে পারে ৭০০ ডলার (প্রায় ৬০ হাজার টাকা) পর্যন্ত।
তবে বর্তমানে এই ধরণের কফিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলছে ব্ল্যাক আইভরি কফি। হাতে আলাদা করা কফি চেরি খাওয়ার পর থাইল্যান্ডের হাতিদের বিষ্ঠা থেকে তৈরি হয় এই জাতের কফি।
ব্লেক ডিঙ্কিন নামের একজন কানাডিয়ান আবিষ্কার করেছিলেন এই ব্ল্যাক আইভরি কফি।
যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ গ্রাম পরিমাণ ব্ল্যাক আইভরি কফির মূল্য প্রায় ৮৫ ডলারের কাছাকাছি।

৪.কফি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভাল

কফিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে। এগুলো আমাদের দেহের কোষগুলোকে ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ ও রাসায়নিকের মিশ্রণ ঠেকাতে সাহায্য করে।
এবছরের শুরুতে প্রকাশিত হওয়া এক গবেষণায় উঠে আসে যে, দিনে অন্তত তিন কাপ কফি পান করলে হার্ট অ্যাটাক সহ অনেক জটিল রোগের সম্ভাবনা কমিয়ে আনা সম্ভব।
১৬ বছর ধরে ইউরোপের দশটি দেশের ৫ লাখ মানুষের তথ্য নিয়ে চালানো হয় ঐ গবেষণাটি।
কফি'র ক্যাফেইন উপাদানটি মানুষের সতেজতা ও ক্রীড়া তৎপরতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৫. তবে অতিরিক্ত পরিমাণেও নয়

স্নায়ু উত্তেজক হিসেবে, অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে ক্যাফেইনের কিছু ক্ষতিকর প্রভাবও দেখা যায়।
গর্ভবতী অবস্থায় ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে আনা ভাল। শিশু জন্মের সময় কম ওজন নিয়ে জন্ম নেয়ার সাথে ক্যাফেইন গ্রহণের উচ্চমাত্রার সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়।
অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যাফেইনের কারণে গর্ভপাত হতে পারে বলেও ধারণা করা হয়।
বৃটিশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে একজন গর্ভবতী নারীর দিনে ২০০ মিলিগ্রামের বেশি কফি (এক মগ পরিমাণ ফিল্টার কফি বা দুই মগ ইনস্ট্যান্ট কফি) পান করা উচিত নয়।

৬.কফি বীজ দুই ধরণের হয়

ইথিওপিয়ায় জন্ম নেয়া কফি গাছ থেকে পাওয়া কফিকে বলা হয় অ্যারাবিকা ।
এই ধরণের কফি সাধারণত মিহি, হালকা এবং সুবাসযুক্ত হয়ে থাকে। এই জাতের কফির দামও অপেক্ষাকৃত বেশি হয়ে থাকে এবং বিশ্বের প্রায় ৭০% কফিই এই জাতের।
স্বাদে কিছুটা তিতকুটে এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন সমৃদ্ধ আরেক ধরণের কফি হলো রোবাস্টা ।
এই ধরণের কফি সাধারণত ইন্সট্যান্ট কফি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু এলাকায় এবং ব্রাজিলে সাধারণত এধরণের কফি জন্মায়।

৭. ইথিওপিয়ায় ছাগলের মাধ্যমে আবিষ্কার হয়েছিল কফি!

পুরোনো কিংবদন্তী অনুযায়ী, নবম শতকে কালদি নামের একজন ছাগল পালক প্রথম তার ছাগলদের বেরি জাতীয় গাছ থেকে ফল খেতে দেখে। পরবর্তীতে সে লক্ষ্য করে যে তার ছাগলগুলো সারারাত না ঘুমিয়ে পার করে দেয়।
একদল সন্ন্যাসীকে তার পর্যবেক্ষণ জানানোর পর ঐ ফল থেকে পানীয় তৈরি করে তারা; উদ্দেশ্য ছিল সারারাত জেগে প্রার্থনা করা।

৮.প্রথম ক্যাফেগুলো ছিল মধ্যপ্রাচ্যে

কফি যে শুধু ঘরেই উপভোগ করা হতো, তা কিন্তু নয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহরে কফির দোকানগুলোকে বলা হতো 'কাহভেহ খানেহ।'
ঐসব কফির দোকানগুলো পরবর্তীতে দৈনন্দিন আড্ডা, জমায়েতের জায়গা হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

৯.তবে সবচেয়ে বেশি কফি পান করে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার মানুষ

আন্তর্জাতিক কফি সংস্থার মতে, ফিনল্যান্ডের অধিবাসীরা গড়ে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ কফি পান করে থাকে।
ফিনল্যান্ডের একজন ব্যক্তির বছরে গড় কফি গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ১২ কেজি।
এছাড়া নরওয়ে ও আইসল্যান্ডের মানুষের গড় কফি গ্রহণের পরিমাণ বছরে ৯ কেজির ওপর। ডেনমার্ক ও সুইডেনের অধিবাসীরাও বছরে গড়ে ৮ কেজির বেশি কফি গ্রহণ করে থাকে।

১০. চা না কফি?

আপনার দেশে কোনটা জনপ্রিয় - চা না কফি?
বৃটিশ কফি অ্যাসোসিয়েশনের মতে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় কফি। প্রতিদিন বিশ্বে প্রায় ২০০ কোটি কাপ কফি পান করা হয়।
কিন্তু সমীকরণটা কি আসলেই এত সহজ?
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দু'টি দেশ - ভারত আর চীন - কফির চেয়ে চা'কেই বেশি প্রাধান্য দেয়।
অ্যামেরিকা আর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে কফি জনপ্রিয়; তবে এশিয়া মহাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলে আর সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে চা'ই এখনো বেশি সমাদৃত।
ভূগোলবিদ ডেভিড গ্রিগ তাঁর ২০০৬ সালে প্রকাশিত এক প্রকাশনায় উল্লেখ করেন যে চা ও কফির এই দ্বন্দ্ব মেটাতে ওজন দিয়ে নয়, কত কাপ চা বা কফি পান করা হলো সেই বিবেচনায় হিসেব করা প্রয়োজন।
তাঁর মতে, তুলনাটা করা উচিত কত লিটার চা বা কফি পান করা হলো সেই হিসেবে।
কারণ ওজনের হিসেবে প্রতিবছর পৃথিবীতে যেই পরিমাণ চা পান করা হয় তার চেয়ে প্রায় ৮০% বেশি কফি পান করা হয়।
কিন্তু এক কাপ চা বানাতে ২ গ্রামের মত চা-পাতা প্রয়োজন হলেও, এক কাপ কফি বানাতে প্রায় ১০ গ্রাম কফি বীজ প্রয়োজন হয়।
এই হিসেব অনুসারে, তাঁর মতে, "এক কাপ কফির সমানুপাতিক হতে পারে তিন কাপ চা।"

তাজমহলের প্রতি বাংলাদেশের ভালোবাসা থেকে শিক্ষা নিতে পারে নব্য মোগলবিদ্বেষী ভারত

২০০৮ সালের শেষ দিকে পুরো বাংলাদেশে খবর ছড়িয়ে পড়ে, তাজমহালের প্রমাণ আকারের প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে ঢাকার উপকণ্ঠে। এ নিয়ে ভারতীয় হাই কমিশনের কর্মকর্তারা তীব্র ও কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেও বাংলাদেশীরা বিপুলভাবে উদ্দীপ্ত হয়। এই সাহসী উদ্যোগের পেছনে ছিলেন ঢালিউডের বর্ণিল প্রডিউসার আহসানুল্লাহ মনি। মূল আকার নিখুঁতভাবে গ্রহণের জন্য তিনি আগ্রায় আর্কিটেকদের পাঠিয়েছিলেন, ইতালি থেকে মার্বেল, বেলজিয়াম থেকে রত্মপাথর আমদানি করেন। বিশাল এই কর্মযজ্ঞে বিনিয়োগ করা হয় ৫৮ মিলিয়ন ডলার।
নারায়ণগঞ্জে নির্মিত বাংলার তাজমহলটি অবশেষে খুলে দেওয়া হয় ২০০৯ সালের ঈদের ঠিক আগে দিয়ে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। মূল আকারে বিচ্যুতি, রঙের বাহুল্য প্রয়োগ ও প্রশ্নবোধক অভিনব নক্সার কারণে এটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
স্থানীয় এক ব্লগার প্রথম পর্যটকদের হতাশা প্রতিফলিত করে বলেন, “তাজমহলটি দেখে আমার মুখ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যে কথা বের হলো তা হলো: ‘শালা, শালা।’”
হিন্দি ছবির নিম্নমানের নকলের জন্য কুখ্যাতি (এখন মোগল স্থাপনার জন্যও) অর্জনকারী মনি বলেন, এই বিনিয়োগ আসলে তার দান-খয়রাত।  তিনি বলেন, প্রত্যেকেই স্বপ্ন দেখে তাজমহল দেখার। কিন্তু ব্যয়বহুল হওয়ায় খুব কম বাংলাদেশীই তা দেখতে পারে।
ঢাকার কাছে তাজমহলের আদলে তৈরি স্থাপনা একটি জনপ্রিয় পর্যটক আকর্ষণ
তার ঘোষণা অনুযায়ী গণমানুষের জন্য ‘ভালোবাসার তাজমহল’ নির্মাণ করেছেন তিনি। লাজুক প্রেমিক-প্রেমিকা ও পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি বেশ ভালো জায়গা। অনেকেই সেখানে গিয়ে সেলফি তোলেন, সস্তা দরের তাজমহল-সংশ্লিষ্ট চীনা পণ্য কেনেন, কাছাকাছি থাকা চাইনিজ রেস্তোরাঁয় খানাপিনা করেন। স্থানটিতে বিন্দুমাত্র রাজনৈতিক, আধ্যাত্মিক বা এমনকি শৈল্পিক ছোঁয়া নেই।
প্রবেশের টিকেটের দাম অনেক বেশি (১০০ টাকা, ভারতের মূল তাজমহলে প্রবেশ করতে লাগে ৪০ রুপির টিকেট) হওয়া সত্ত্বেও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের কাছে এখনো এটি জনপ্রিয় স্থান। এর কারণ হলো বিশ্বের অত্যশ্চার্য স্থানগুলোর একটি তারা বাংলাদেশেই পাচ্ছে।
স্থাপনাটির চিত্র বাংলাদেশের রিকশা আর্টের অন্যতম জনপ্রিয় বিষয়। অসংখ্য রেস্তোরাঁ, কমিউনিটি সেন্টারের নাম এর নামে রাখা হয়েছে। সরকারি অফিস আদালতগুলোতেও এর মার্বেল গম্বুজ দেখা যায়। সরকারি মগ, ক্যালেন্ডারেও দেখা যায় তাজমহল।
অতীতের সাথে সম্পর্ক
সীমান্তের ওপারে পাকিস্তানেও জাতীয় পরিচিতি-সংশ্লিষ্ট বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাজমহল। পাকিস্তানের জনগণ মনে করে মোগল সাম্রাজ্যের সহজাত উত্তরাধিকারী হিসেবে তারাই তাজমহলের ওপর নৈতিক অধিকার রাখে।
ঐতিহাসিকভাবে প্রশ্নবোধকতা ছাড়াও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই পাকিস্তানকেন্দ্রিক ব্যাখ্যা বাংলাদেশের জন্য কিছুটা অপমানজনক। পূর্ব বাংলাও ছিল মোগল সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ১৬০৮ সালে ঢাকা (তখন পরিচিতি ছিল জাহাঙ্গীরনগর হিসেবে) হয় বাংলা প্রদেশের রাজধানী। কলকাতা তখন ছিল দ্বিতীয় শ্রেণীর শহর। এ কারণেই বাংলাদেশে এখনো মোগল স্থাপনা দেখা যায়। এর উদারণ হলো ঢাকার লালবাগ দুর্গ ও সাত গম্বুজ মসজিদ।  অবশ্য সার্বিকভাবে মোগল স্মারক দুর্লভ ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ঢাকার কাছে তাজমহলের আদলে তৈরি স্থাপনা একটি জনপ্রিয় পর্যটক আকর্ষণ
এই তুলনামূলক শূন্যতার আলোকে অনুমান করা চলে, তাজমহলের সৌন্দর্যের প্রতি সম্মান দেখিয়ে (অন্তত চেষ্টা করে হলেও) বাংলাদেশীরা পরাক্রমশালী মোগল গাঁথায় তাদের ভূমিকা পালন করে চলেছে। অধিকন্তু সাংস্কৃতিক দিক থেকে সত্যিকারের তাজমহলের ধর্মীয় দ্যোতনাও আছে। এটি কেবল মুসলিম শাসক নির্মাণ করেছেন বলেই নয়, এখানে এখনো নামাজ হয়।
অবশ্য বাংলাদেশীদের মধ্যে তাজমহলের প্রতি আকর্ষণ মোটামুটিভাবে ধর্মীয় নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশ সরকার কেন তার সরকারি মগে তাজমহলের ছবি রাখে, এ প্রশ্নের জবাবে এক সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা ও ওই মগের গর্বিত মালিক বলেন, ‘খুব সম্ভবত, এটি সুন্দর দেখায় বলে।’
গত বছর বাংলার তাজমহল পরিদর্শনের সময় আরো বেশি আনন্দ লাগল একই ধরনের আকারে মিসরীয় পিরামিডও সেখানে দেখে। মিসরীয় দূতাবাস দৃশ্যত কপিরাইট লঙ্ঘন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেনি।
তাজমহল রেপ্লিকার সামনে বিক্রি হচ্ছে স্যুভেনির