Saturday, June 21, 2014
বিহারি বস্তিতে আগুন- বাঙালির নামে, মুসলমানের নামে আগ্রাসন! by আনু মুহাম্মদ

যা-ই হোক, উর্দু ভাষার লেখকদের রচিত গল্প-উপন্যাস-কবিতার কথা শুনেছিলাম সেদিন। জানলাম, বাংলাদেশে এগুলো ছাপার ব্যবস্থা নেই। সুতরাং এগুলো ছাপা হয় মুম্বাই, দিল্লি ও লাহোরে। তবে এসব লেখার বিষয়বস্তু অবশ্যই বাংলাদেশ, তার সমাজ রাজনীতি জীবন আবহাওয়া ফল ফসল। একটা উদাহরণ দিলেন একজন কবি। তাঁর একটি প্রেমের কবিতায় তিনি প্রেমিকার উদ্দেশে যা বলছেন, তার সারকথা হলো, ‘তোমাকে যখন দেখি, তখন আমার হৃদয়ে কালবোশেখির ঝড় বয়ে যায়।’ কবি বললেন, ভারত-পাকিস্তানের উর্দু পাঠকেরা প্রেমের কথা বুঝলেন কিন্তু কালবোশেখির মানে বুঝতে না পেরে চিঠিপত্র পাঠাতে লাগলেন, বহু চিঠি। কালবোশেখি ব্যাপারটা তো একেবারেই বাংলার। বললেন, উর্দু সাহিত্যে বাংলাদেশ এভাবে আগে কখনো আসেনি।
বাংলা ভাষার ওপর উর্দু ভাষা জোর করে চাপানোর পাকিস্তানি নীতির কারণে আমাদের অনেকের মধ্যে এই ভাষার প্রতি প্রচ্ছন্ন বিরাগ তৈরি হয়েছিল ছোটবেলা থেকেই। মাতৃভাষার অধিকার হরণ করার চক্রােন্তর সঙ্গে উর্দু ভাষা এমনভাবে জড়িয়ে গিয়েছিল যে এই ভাষা আমাদের কাছে শুধুই ভাষা ছিল না, আমাদের জাতিগত অস্বস্তি বিলীন করার অস্ত্র মনে হতো। সে জন্য এই ভাষা শেখা হয়ে ওঠেনি কখনোই। অথচ জানি, উর্দু ভাষায় কত সমৃদ্ধ সাহিত্য তৈরি হয়েছে। নির্মম পরিহাসের বিষয়, উর্দু ভাষা জোর করে চাপানোর জন্য পাকিস্তানিরা এত চক্রান্ত করল, মানুষ হত্যা করল; সেই পাকিস্তানে খুব কমসংখ্যক মানুষেরই মাতৃভাষা উর্দু। ১৯৭১ সালে যে সামরিক বাহিনী এখানে নৃশংসতার ভয়াবহতা তৈরি করেছে, তাদেরও মাতৃভাষা উর্দু ছিল না।
আজ যাদের আমরা ‘বিহারি’ নামে জানি, তারা পাকিস্তান থেকে আসেনি, এসেছে ভারত থেকে, শুধু বিহার থেকে নয়, উত্তর প্রদেশসহ অন্যান্য প্রদেশ থেকেও। ভারত ভাগের সেই রক্তনদীর মধ্যে, সাম্প্রদায়িক উন্মত্ততার কালে তারা এখানে আসে মোহাজির হিসেবে। পাকিস্তান তাদের কখনোই নিজের মধ্যে গ্রহণ করেনি, কিন্তু তাদের অসহায়ত্বকে ব্যবহার করেছে। অধ্যাপক আসহাবউদ্দীন আহমদের লেখা থেকে দেখি, ১৯৬৮ সালেও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির চিকনছড়া থেকে এই মোহাজিরদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। পুরো পাকিস্তান আমলেই তাদের সবার স্থিতি হয়নি। এখনো পাকিস্তানে উর্দুভাষী মোহাজিররা মূলধারা থেকে আলাদা।
বাংলাদেশে (পূর্ব পাকিস্তানে) মানুষের সহমর্মিতা ও সহযোগিতার কারণে মোহাজিরদের অনেকে বাঙালি সমাজের সঙ্গে মিশে যেতে পেরেছেন। ঈশ্বরদী, রংপুর, সৈয়দপুর, ঢাকার মিরপুর, মোহাম্মদপুরে তাঁদের অধিক মানুষের আবাস দেখা যায়। রেলওয়ে, কারখানায় এঁদের দক্ষতা-কর্মকুশলতার প্রশংসা অনেক শুনেছি। ষাটের দশকে শক্তিশালী শ্রমিক আন্দোলনে বাঙালি বিহারি একসঙ্গেই পাকিস্তানিদের শোষণ–নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগঠন করেছেন। সে জন্যই বৃহৎ পঁুজিপতি ও পাকিস্তানি শাসকদের জন্য বাঙালি বিহারি দাঙ্গা লাগানো ছিল এক ভয়ংকর কূটকৌশল। আদমজীসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে এই দাঙ্গা উসকে দিয়ে শ্রমিক স্বার্থের আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করা হয়। পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের লড়াইকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা হয়। বাঙালি বিহারি মুখোমুখি হলে ফায়দা নেয় পাকিস্তানি শাসকেরা। ‘বিহারি’দের মধ্যে বাঙালি ভীতি তৈরি করে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়, বিদ্বেষ বাড়ে, দূরত্ব বাড়ে। ১৯৭১ সালে এরই ভয়াবহ পর্ব দেখেছি আমরা।
স্বাধীনতার পর, এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে যাঁরা পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন—তাঁরা, সেই সঙ্গে সচ্ছল পরিবারের অনেকে ঝুঁকি বুঝে পাকিস্তানে চলে যেতে সক্ষম হন। প্রধানত রয়ে যায় তুলনামূলকভাবে দরিদ্ররা। আর মধ্যবিত্তদের মধ্যেও কেউ কেউ, যাঁরা এ দেশকেই নিজের দেশ মনে করেন, তাঁরা থেকে যান অনিশ্চয়তা নিয়েই। ‘বিহাির’দের অবস্থা তখন এখানে স্বচ্ছন্দ বা নিরাপদ ছিল না। যারা পাকিস্তানে যেতে চাচ্ছিল, তাদের নাম হয় ‘আটকে পড়া পাকিস্তানি’। তাদের পাকিস্তানে নেওয়ার ব্যাপারে পাকিস্তানের কোনো সরকারেরই কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। কালক্রমে পাকিস্তানে ফেরত যেতে চাওয়া মানুষেরা সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে। এখন কথিত বিহারি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভোট নিলে দেখা যাবে, তাদের অধিকাংশ বাংলাদেশেই থাকতে চায়। ১৯৭১ সালের পর জন্ম অনেকের, বাংলাদেশই তাদের জন্মস্থান, এখানেই তারা মরতে চায়। কিন্তু আইিন জটিলতায় এখনো দূরত্ব থেকে গেছে। হাইকোর্ট তাদের নাগরিকত্ব দিতে বলেছেন। পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো ঝুলে আছে।
বাঙালি সমাজের মতো এই কোণঠাসা জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠই দরিদ্র। সুতরাং মোহাম্মদপুর ক্যাম্প হোক আর যেখানেই হোক, তাদের প্রধান অংশের জীবন বিস্তর জীবন। গত শবে বরাতের রাতে রাজধানীর কালশীতে এ রকম একটা বিস্ততেই ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো তারা। আক্রান্ত মানুষদের বক্তব্য ও আলোকচিত্রসহ প্রমাণাদি থেকে এটা স্পষ্ট যে পুলিশের সামনেই সন্ত্রাসীরা ঘরের বাইরে তালা লাগিয়ে গানপাউডার ছড়িয়ে আগুন দিয়েছে। আটকে পুড়িয়ে যাদের হত্যা করা হলো, তাদের অধিকাংশ একই পরিবারের। নারী ও শিশুই অধিকাংশ। আক্রান্ত মানুষেরা সবাই স্থানীয় সাংসদ ও পুলিশের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ করেছেন। সাংসদের সহযোগী কে কে হামলায় ছিল, তার নামও বলেছেন। দুই দিন আগে সাংসদের সঙ্গে বিস্তবাসীর বাগ্বিতণ্ডা হয়, নারীরাই প্রতিবাদ করেছিলেন সাংসদের জোরজবরদিস্ত করে বিদ্যুৎ নেওয়ার বিরুদ্ধে। সে জন্যই হয়তো নারীর ওপরই নৃশংস আক্রমণের প্রধান ধাক্কা গেছে!
কালশীর অধিবাসীরা জমি গ্রাসের চক্রান্তের কথাও বলেছেন। জমি গ্রাসের শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে বাঙালি বিহারি চাকমা-মারমা কিংবা হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কোনো তফাত পাওয়া যাবে না। কিন্তু যারা এই জমি গ্রাস করে, তারা কখনো বাঙালি, কখনো মুসলমান উত্তেজনা তৈরি করেই এই অপকর্ম সমাধা করে। প্রশাসনের কোনো না কোনো অংশের সমর্থন ছাড়া জমি-নদী-বিল-পাহাড় দখল সম্ভব নয়।
গত কয়েক দশকে ঢাকা মহানগরে গরিব মানুষের বসতি বা বিস্ততে আগুন লাগা, সন্ত্রাস ও তার আগে পরের ঘটনাবলির মধ্যে বিস্ময়কর সাদৃশ্য পাওয়া যায়। দরিদ্র মানুষ বাঙালি মুসলমান হলেও কি ছাড় পায়? একটুকুও না। জমি দখলে রাখার জন্য প্রথমে বিস্ত করা হয়। তারপর যেসব বিস্ততে বারবার আগুন লাগে বা অশািন্ত চলতে থাকে, সেখানে সবকিছু স্থিত হয় বহুতল ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে। জমির ওপর দখল নিশ্চিত না হলে সুউচ্চ ভবন নির্মাণের মতো ‘উন্নয়ন’কাজ কীভাবে সম্ভব? ঢাকা মহানগরের অনেকগুলো বহুতল ভবনের পেছনের ইতিহাস ঘাঁটলে তাই মানুষের কান্না আর রক্ত পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশের বাঙালিদের দুর্ভাগ্য যে এ দেশে অবাঙালিদের শতকরা হার মাত্র ১ ভাগ। আমাদের সুযোগই হয়নি অন্য জাতি ও ভাষাভাষীদের জানার-বোঝার মতো তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি। ধর্মীয় দিক থেকেও শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মুসলমান। নির্দিষ্ট ভাষা ও ধর্মের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা বহুজনকে অন্যজন সম্পর্কে অজ্ঞ রাখে। আর এই অজ্ঞতার সুযোগ নেয় সমাজের বৈষম্য-নিপীড়নের রাজনীতি। বাঙালি উন্মাদনা সৃষ্টি করে পাহাড়ের পর পাহাড় ব্যক্তির সম্পত্তিতে পরিণত করা, উত্তরবঙ্গে সাঁওতাল, ময়মনসিংহে গারোদের জমি গ্রাস আর কালশীর মতো বিস্তর জমি দখলের পাঁয়তারা। আবার মুসলিম উন্মাদনা তৈরি করে হিন্দু–বৌদ্ধের জমি আর সম্পত্তি দখল।
আক্রান্তদের কপালে কখনো পাকিস্তানের দালাল, কখনো ভারতের দালাল দাগ লাগিয়ে এই দখল, লুণ্ঠন বা সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ফেসবুকেও বাঙালি আর মুসলমানের নামে এই উন্মাদনার সুর শোনা যায়। অন্যদিকে, এই জনপদে আবার হাজার বছরের বৌদ্ধ দর্শন, সুফি দর্শন, লালনের মতো সাধকদের প্রভাব, জাতিগত নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখবার এবং উন্মাদনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোরও শক্তি দেয়। বস্তুত লুটেরা দখলদারদের চিহ্নিত করতে পারলে ভাষা-জাতি–ধর্মনির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ যে খুবই সম্ভব, তা এ দেশেই বহুবার প্রমাণিত হয়েছে।
সবচেয়ে বড় পরিচয় মানুষ। কালশীর এই নৃশংসতার বিচারে কোনো শৈথিল্য তাই আমরা মেনে নিতে পারি না। সাংসদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—যারই দায় থাকুক, তার বিচার হতে হবে। কথিত বিহারিদের মধ্যে এখনো যারা পাকিস্তানে যেতে চায়, তাদের সেখানে পাঠানোর জোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অধিকাংশ—যাদের শ্রম-ঘাম, জীবন-মরণ এ দেশের সঙ্গে বাঁধা—তাদের এ দেশে বৈধ নাগরিকত্ব এবং সব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে বাঙালি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও এ দেশ শুধু বাঙালির নয়। এখানে উর্দুভাষী, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, গারোসহ অনেক ভাষা ও জাতির মানুষ বাস করে। সংবিধান তাদের অিস্তত্ব স্বীকার করে না, এটা আমাদের সবার জন্য লজ্জা ও ক্ষোভের বিষয়। বাংলাদেশে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ কিন্তু এ দেশ শুধু মুসলমানের নয়, এখানে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানসহ বহু ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষ বাস করে। এই বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি।
আনু মুহাম্মদ: অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
anu@juniv.edu
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তিন বছরেও মুক্তি পেল না শায়না অভিনীত 'পুত্র এখন পয়সাওয়ালা' সিনেমাটি

তবে বর্তমানে রায়হান খানের ধারাবাহিক 'কালার'-এর কাজ শেষ করে ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরেছেন শায়না আমিন। হাতে আছে কয়েকটি খণ্ড নাটক আর বিজ্ঞাপন। চলচ্চিত্রেও ব্যস্ত হওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।
নাটকে একজন সহকারী কোরিওগ্রাফারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শায়ানা। শুটিং হয়েছে ব্যাংককে। বিদেশে শুটিং করা নিয়ে অনেক ধরনের সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে।
এ প্রসঙ্গে শায়না বলেন, 'কালার'-এর শুটিংয়ে প্রত্যেক অভিনেতাই যেন একটি পরিবারের সদস্য হয়ে গিয়েছিলাম। সবাই সবার খোঁজ নিচ্ছে। কারো একটু অসুবিধা হলে অন্যরা ছুটে আসছে। শুটিং শেষে যখন ফেরার সময় হলো এত্ত মন খারাপ হলো, যেন পরিবার ছেড়ে যাচ্ছি।
ব্যাংককে শুটিং করার কারণ সম্পর্কে শায়ানা জানান, নির্মাতা চেয়েছেন ভিন্ন আঙ্গিক, ভিন্ন দেশের প্রেক্ষাপট। তাই গল্পটিও তৈরি হয়েছে ব্যাংকককে কেন্দ্র করে। ফলে ব্যাংকক ছাড়া উপায় ছিল না।
নতুন নাটকে কাজ প্রসঙ্গে এই তারকা জানান, জুয়েলের 'মাই এক্স গার্লফ্রেন্ড' এবং ইবনে বকর জোবায়েরের 'কে ভাসাবে সাদা মেঘের ভেলা' ও 'তিতা মিঠা মধুচন্দ্রিমা' নামের তিনটি এক ঘণ্টার নাটকে কাজ শেষ করেছেন।
চলচ্চিত্র নিয়ে বেশ হতাশাগ্রস্থ এই তারকা। আর কেনই বা হবেন না। তিন বছর ধরে তো 'পুত্র এখন পয়সাওয়ালা' ছবিটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে! নানা জতিলতার কারণে ছবিটি এখনো হলের দ্বারগোড়ায় এখনো পৌঁছাতে পারেনি এই ছবিটি। তবে এত হতাশার মধ্যেও বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করার আশা ছেড়ে দেননি শায়না। তিনি বলেন, "নতুন কোনো চলচ্চিত্র এর মধ্যে হাতে নিইনি। ভাবছি দু-একটি বাণিজ্যিক ছবিতেও কাজ করব।"
উল্লেখ্য, শায়না বর্তমানে মডেলিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কয়েকটি পত্রিকা ও ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদের শুট করার সাথে সাথে বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনেও সময় দিচ্ছেন এই তারকা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস: রগ কাটা থেকে গোড়ালি by প্রতীক বর্ধন

১৯৮০-এর দশকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুরূপ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও হামলার মাধ্যমে ইসলামী ছাত্রশিবির জনমনে ভীতির সঞ্চার করে। এই ভীতিই তাদের আধিপত্য বিস্তারের পথে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। ১৯৮৮ সালের ৩১ মে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে প্রকাশ্য দিবালোকে জনপ্রিয় ছাত্রনেতা ও ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জামিল আক্তারকে ছাত্র-শিক্ষকদের সামনে কুপিয়ে হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করে। এ ঘটনার পর থেকে রগ কাটা সংগঠন হিসেবে পরিচিতি পায় ছাত্রশিবির। একই বছর ১৭ জুলাই ভোররাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যখন ঘুমিয়ে, ঠিক তখন বহিরাগত শিবির ক্যাডাররা হলে হামলা চালিয়ে জাসদ ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি ও সিনেট সদস্য আইয়ুব আলী খান, সাধারণ সম্পাদক ও সিনেট সদস্য আহসানুল কবির বাদল ও হল সংসদের ভিপি নওমাদের হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়।
১৯৯৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তাণ্ডবলীলা চালায় শিবিরের ক্যাডাররা। তারা ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। ছাত্রদল ও সাবেক ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের ওপর শিবিরের হামলায় ছাত্রদল নেতা বিশ্বজিৎ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নতুন এবং ছাত্র ইউনিয়নের তপনসহ পঁাচজন ছাত্র নিহত হন। একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর বহিরাগত সশস্ত্র শিবির কর্মীরা শেরেবাংলা হলে হামলা চালিয়ে ছাত্র মৈত্রীর নেতা বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার জুবায়েদ চৌধুরীকে হাত-পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।
দুর্ভাগ্যজনক যে গত তিন দশকে এসব হত্যাকাণ্ডের একটিরও বিচার হয়নি। হত্যাকাণ্ডের অনেকগুলো পুলিশের চোখের সামনেই হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি খুবই ভয়াবহ। এতে মানুষের মধ্যে একধরনের অসহায়ত্ব সৃষ্টি হয়। মানুষ ধীরে ধীরে অন্যায়কে স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নিতে শুরু করে। তখন অপরাধ হওয়াটাই স্বাভাবিকে পরিণত হয়। প্রকাশে্য শিবির নেতার গোড়ালি কেটে ছাত্রলীগ জানান দিল, তাদের রোখার কেউ নেই৷
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পেছনে ছাত্ররাজনীতির উজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। বাঙালির গৌরবময় অর্জন ভাষা আন্দোলনেও ছাত্রসমাজ উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যেদিন ঘোষণা করেছিলেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, সেদিন ছাত্ররাই প্রথম এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। ১৯৮০-এর দশকেও এ ধারা অব্যাহত ছিল। স্বৈরাচারী শাসক এরশাদের ক্ষমতায় আরোহণের বিরুদ্ধে প্রথম সংঘবদ্ধ প্রতিবাদ জানান ছাত্ররাই।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে ছাত্রসংগঠনগুলো একে অপরের সঙ্গে আদর্শিক লড়াইয়ে না নেমে পেশির লড়াইয়ে নেমেছিল, যা এখনো চলছে৷ পুরো আশির দশেক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ একে অপরের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে। ফলে এই দায় যেমন জামায়াতে ইসলামীর, তেমনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপিও কম দায়ী নয়৷ এমনকি প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যেও সংঘাত হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো শিবির ঠেকানোর নীতি গ্রহণ করেছিল। জামায়াত বা শিবির রাজনীতি করবে কি করবে না, সেটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার৷ জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার ছিল, যা এখনো প্রযোজ্য৷ কিন্তু তা না করে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাদের ঠেকানোর লাইন নিয়ে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো আত্মঘাতী পথ বেছে নেয়৷ আর শিবির তাদের আধিপত্য বিস্তারের স্বার্থে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
এমনকি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষও হয়েছে, তাতে যেমন প্রগতিশীল ছাত্রকর্মীরা মারা গেছেন, তেমনি ছাত্রশিবিরেরও নেতা–কর্মীরা মারা গেছেন৷ স্বৈরাচার এরশাদের মদদেই শিবির এসব ঘটিয়েছে৷ এরশাদ তঁার স্বৈরশাসন বজায় রাখতে এদের ব্যবহার করেছেন, এদের লেিলয়ে দিয়েছেন প্রগতিশীলদের ওপর৷ বলা বাহুল্য, তারপর বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়েই এদের ব্যবহার করেছে৷
প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলোকে হটিয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে ছাত্রশিবির এই নৃশংসতার পথ বেছে নিয়েছিল৷ ছাত্রসমাজের মধ্যে তাদের রাজনীতির গ্রহণযোগ্যতা না থাকায় তারা এ পথ বেছে নেয়৷ ফলে তাদের হাতে একসময় প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর বহু নেতা-কর্মী মারা পড়েন, অনেকে পঙ্গু হন৷ ১৯৯০ সালের পর প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো ধীরে ধীরে প্রভাব হারিয়ে ফেলে৷ তারপর ছাত্রলীগই হয়ে ওঠে ছাত্রশিবিরের প্রধান লক্ষ্য৷ ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময়ই ছাত্রশিবির ব্রাশফায়ার করে চট্টগ্রামে আটজন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীকে হত্যা করে৷ এ ছাড়া ছাত্রলীগের অনেক নেতা-কর্মী শিবিরের হাতে মারা পড়েন৷
আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগ অনেক ক্যাম্পাস থেকেই ছাত্রশিবিরকে বিতাড়িত করে৷ িশবিরও এর প্রতিশোধ নিয়েছে বিভিন্ন সময়৷ অন্যদিকে ছাত্রলীগও নিজেদের মধ্যে অনেক মারামারি-কাটাকাটি করেছে৷ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দা থেকে ফেলে দিয়ে নিজ দলের কর্মীকে মেরে ফেলেছে ছাত্রলীগ৷ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও উপদলীয় কোন্দলে নিহত হয়েছেন ছাত্রলীগের দুই কর্মী৷ সর্বশেষ চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ প্রতিদিনই পত্রিকার পাতায় ছাত্রলীগের চঁাদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজির খবর প্রকাশিত হয়৷
উল্লেখ্য, জিয়া ও এরশাদের সামরিক শাসনামলেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু গত আড়াই দশকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আমলে দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় যে ছাত্র প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ ছিল, সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্র সংসদকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে সাংস্কৃতিক চর্চা ছিল, সেটাও কমে আসে। সামগ্রিকভাবে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্ররাজনীতির সুস্থ ধারাও নির্বাসিত প্রায়৷ শুধু শিক্ষাঙ্গনেই নয়, দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রেও এ ধারা দেখা যায়।
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস হলে এর ভুক্তভোগী হন সাধারণ ছাত্ররাই। ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের কারণে চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে৷ ফলে ছাত্রছাত্রীদের জীবন থেকে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হবে৷ এ রকম ঘটনা অতীতেও ঘটেছে৷ কোনো অভিভাবকই চান না, তঁার সন্তান পড়তে গিয়ে সন্ত্রাসের শিকার হোক, দিনের পর দিন ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ থাক৷ সাধারণ শিক্ষার্থীরা কখনো চান না তঁাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সন্ত্রাসের কারণে বন্ধ থাকুক৷ তার পরও সন্ত্রাস হচ্ছে৷ দলীয় আধিপত্য বিস্তারের জন্য কেউ প্রতিপক্ষের হাত–পায়ের রগ কেটে দিচ্ছে৷ কেউবা গোড়ালি কেটে নিচ্ছে৷
এর প্রতিকারে রাষ্ট্রের অভিভাবকদের কি কিছুই করার নেই?
প্রতীক বর্ধন: সাংবাদিক৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আওয়ামী লীগের মুখোশ’ by সোহরাব হাসান

লন্ডন থেকে তারেক রহমান সম্পাদিত ও জিয়া ফাউন্ডেশন প্রকাশিত জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম তাঁর বন্দনা করতে গিয়ে বললেন, ‘বইটি প্রকাশের মাধ্যমে তারেক রহমান আওয়ামী লীগের মুখোশ উন্মোচন করেছেন। ...আওয়ামী লীগের নেতারা যখন চারদিকে মিথ্যার বেসাতি ছড়াচ্ছিল, সত্যকে মিথ্যা বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছিল, তখন তারেক রহমান এই বইটি প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন।’ (নয়া দিগন্ত, ১৬ জুন, ২০১৪)
একটি পত্রিকা শিরোনাম করেছে ‘আওয়ামী লীগের মুখোশ উন্মোচন করেছেন তারেক’৷ দেখে আশান্বিত হয়েছিলাম। সংসদ বাংলা অভিধান অনুযায়ী মুখোশ খোলা বা উন্মোচনের অর্থ হলো প্রকৃত রূপ উদ্ঘাটন৷ বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন মুখ ও মুখোশের খেলা এবং সব দলে সৎ ও নিষ্কলুষ মুখগুলো পেছনে ফেলে মুখোশগুলোরই দোর্দণ্ড প্রতাপ চলছে, তখন তারেক রহমান যদি কারও মুখোশ উন্মোচন করেন, তাহলে তাঁকে সাধুবাদই জানাতে হয়।
কিন্তু তারেক রহমান বা তাঁর বাংলাদেশ প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম বর্তমানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে সারা দেশে যে মুখোশেরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের সম্পর্কে কিছুই বলেননি৷ তাদের কারও নাম উচ্চারণ করেননি৷ তারেক-তরিকুলরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের ‘মুখোশ উন্মোচন’ করছেন৷ বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেতা ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান৷ তাঁর অনুপস্থিতিতে, তাঁরই নামে নয় মাস মুক্তিযুদ্ধটি পরিচালনা করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন মুজিবনগর সরকার৷ জিয়াউর রহমান ছিলেন সেই মুজিবনগর সকারের অধীনে পরিচালিত রণাঙ্গনের একজন সেক্টর কমান্ডার৷ এখন মুজিবনগর সরকার কিংবা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে অস্বীকার করলে মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অবদানকেও কি অস্বীকার করা হয় না?
তারেক-তরিকুলরা বলতে চাইছেন, সাতই মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেশবাসীকে আহ্বান জানাননি, তিনি বাংলাদেশের প্রথম বৈধ রাষ্ট্রপতি ছিলেন না। ১৯৭২ সালে তাঁর নেতৃত্ব গঠিত সরকারটিও বৈধ ছিল না। শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন সরকারটি অবৈধ হলে সেই সরকারের নিয়োগ পাওয়া সেনাবাহিনীর উপপ্রধান জিয়াউর রহমানও যে অবৈধ হয়ে যান, সেই সহজ সত্যটি তারেক রহমান বুঝতে না পারুন, অন্তত তরিকুল ইসলামের মতো একদা কড়া বাম নেতার বোঝার কথা৷
আমরা ভেবেছিলাম, তারেক রহমান বই লিখে বা সম্পাদনা করে বর্তমানে আওয়ামী লীগের যেসব নেতা মুখোশ পরে ঘুরছেন, যাঁরা দলের নামে নানা অপকর্ম করছেন, যাঁরা সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি করছেন, একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটাচ্ছেন, তাঁদের মুখোশ উন্মোচন করতে তৎপর হবেন। কিন্তু তিনি সেদিকে না গিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে টান দিয়েছেন৷ রাজনীতির ক খ পড়া ব্যক্তিরা এটি জানেন যে মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি রাজনৈতিক যুদ্ধ, রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধীনেই সেই যুদ্ধ সংঘটিত ও পরিচালিত হয়েছে। সেখানে জিয়াউর রহমান বা অন্য কোনো সেক্টর কমান্ডারের ভূমিকা রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকাকে ছাপিয়ে যেতে পারে না৷
তবে বিএনপির নেতারা মুক্তিযুদ্ধকালীন আওয়ামী লীগ নেতাদের ‘মুখোশ’ নিয়ে যতই টানাটানি করুন না কেন, বর্তমানে দলটির বর্তমান নেতৃত্বে মুখোশ নিয়ে সম্ভবত বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতে চান না। এই না-চাওয়ার কারণ কি ২০০১-০৬ মেয়াদের বিএনপির শাসন? এর কারণ কি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা? এর কারণ কি কিবরিয়া-আহসানউল্লাহ হত্যার ঘটনা? এই যে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনা ঘটল, ফেনীতে উপজেলা চেয়ারম্যানকে খুন করা হলো, লক্ষ্মীপুরে একের পর এক মানুষ খুন হচ্ছে, সারা দেশে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডারদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ, সর্বশেষ মিরপুরের বিহারিপল্লিতে হামলা চালিয়ে, আগুন দিয়ে ১০ জন মানুষকে খুন করা হলো, বিদেশি বন্ধুদের ক্রেস্ট দেওয়ার নামে সোনা জালিয়াতির ঘটনা ঘটাল, ক্ষমতাসীনেরা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ছোবড়া করে ফেলল, বিএনপি নেতারা এর প্রতিবাদে মতিঝিলে বা নয়াপল্টনে একটি মিছিল পর্যন্ত বের করলেন না৷ কিংবা জনগণের প্রাত্যহিক সমস্যা নিয়েও তাঁরা একিট মানববন্ধন করতে এগিয়ে আসেননি। তাঁরা কি এ কারণে আওয়ামী লীগের নেতাদের মুখোশ উন্মোচন করছেন না যে তাতে তাঁদের মুখোশও খুলে যেতে পারে৷
বিএনপি আট বছর ক্ষমতার বাইরে থাকলেও অতীত তাদের পিছু ছাড়ছে না। তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা করার অভিযোগ এনেছে। কিন্তু ২০০১ সালের বিপুল ভোটে বিজয়ী বিএনপিও গণতন্ত্র সমুন্নত রেখেছে, তার প্রমাণ নেই। নির্বাচনের দিন থেকেই বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর তাণ্ডব চালাল দলীয় ক্যাডাররা৷ অনেকের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে–পুড়িয়ে দিল৷
চাঁদের যেমন নিজস্ব আলো থাকে না, তেমনি আমাদের দেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিজের মহিমায় ক্ষমতায় আসে না। প্রতিপক্ষের অপকর্মের পাল্লা ভারী হওয়ার কারণেই তারা জয়ী হয়। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের অপকর্মের পাল্লা ভারী ছিল বলে বিএনপি জয়ী হয়েছে। ২০০৮ সালে তার বিপরীতটাই ঘটেছিল। ২০১৪ সালে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হলে কী হতো, তা নিয়ে এখন বিতর্ক করে লাভ নেই৷ কেউ বলেন, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচন করলেও বিএনপি জয়ী হতো। কেউ বলেন, আওয়ামী লীগ সেই সুযোগ দিত না৷ কিন্তু বিএনপি তো নির্বাচন করার প্রস্তুতি ও সরকারি দলের ষড়যন্ত্র মোকাবিলার প্রস্তুতিটা নিতে পারত৷ রাজনৈতিক মহলের ধারণা, অন্য কোনো শক্তির ভরসায় তারা সেই প্রস্তুতিটুকুও নেয়নি৷ সম্ভবত তাদের ধারণা ছিল ২০০৭ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটবে৷ কিন্তু তা ঘটেনি৷ আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ পেল৷ ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পাঁচ মাস পরও বিএনপি কেন জনগণের সমস্যা নিয়ে মাঠে নামছে না, তা রহস্যজনক।
আসলেই কি বিএনপি আওয়ামী লীগের মুখোশ খুলতে চায়? চায় না। আওয়ামী লীগের মুখোশ খুললে যদি তাদের মুখোশটিও বেরিয়ে পড়ে! এ কারণেই তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নতুন করে লেখার দায়িত্ব নিয়েছেন। এটি বিএনপির জন্য রাজনৈতিক আত্মহত্যার শামিল হবে বলে অনেকে মনে করেন৷
বিএনপি যদি সত্যি সত্যি আওয়ামী লীগের মুখোশ খুলতে চাইত, তাহলে তারা নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে, ফেনীতে নিজাম হাজারীর বিরুদ্ধে, লক্ষ্মীপুরে আবু তাহেরের বিরুদ্ধে, কক্সবাজারে আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে, মিরপুরে ইলিয়াস মোল্লাহর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতো। অন্তত আর কিছু না পারুক, একটি মানববন্ধন করতে বা মিলাদ পড়তে পারত। কেন্দ্রীয়ভাবে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার চেয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের গডফাদার-মাস্তানদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা অনেক সহজ। তাতে স্থানীয় জনগণের সমর্থনও পাওয়া যেত৷ এমনকি ক্ষমতাসীন দলের সুবিধাবঞ্চিত নেতারাও তা সমর্থন করতেন৷ স্থানীয় জনগণের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যা নিয়ে কথা বললে মানুষ তাতে তাঁদের স্বার্থেই সাড়া দিত।
কিন্তু আমাদের একশ্রেণির বামপন্থী অতীতে যেমন বিপ্লবের চেয়ে এক কণা কম কিছুতে রাজি ছিলেন না, তাঁরা ভোটের বাক্সে লাথি মেরে সুন্দরবনে আস্তানা গাড়তে চেয়েছিলেন, তেমনি বর্তমান বিএনপির নেতারাও শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও নতুন নির্বাচনের বাইরে কিছু দেখছেন না।
পত্রিকান্তরে দেখলাম, বিএনপি দুই কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। এক, বিদেশি কূটনীতিকদের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে নতুন নির্বাচন দিতে বাধ্য করা। নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া বিএনপির নেতাদের মুখে কোনো কথা নেই।
এই যে সারা দেশে সন্ত্রাস-দুর্নীতি চলছে, মানুষ খুন হচ্ছে, একেকটি জনপদ সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে, সেসবের বিরুদ্ধেও তাদের সোচ্চার হতে দেখা যায় না। এমনকি বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সহযোগী ছিল, তারাও অনেকটা দূরে সরে যাচ্ছে। বিএনপির বিগত আন্দোলন-সংগ্রাম ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ দলীয় ও জোটের নেতা-কর্মীদের বাইরে তাতে গণমানুষকে সম্পৃক্ত করতে না পারা। সেই গণমানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও নেই দলের পক্ষ থেকে। ফলে ক্ষমতাসীন দলের অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার মানুষগুলোও আর বিএনপির প্রতি ভরসা করতে পারছে না।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabo3@dhaka.net
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শুধু নির্বাচন সুশাসন নিশ্চিত করবে না by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর

সব দলের অংশগ্রহণ ও অর্থপূর্ণ সংসদ নির্বাচন আয়োজনে বাধা হতে পারে নির্বাচনকালে সরকার–পদ্ধতি। বিএনপিসহ বেশ কিছু দল নির্বাচনের সময় দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। কিন্তু সংশোধিত সংবিধানে সেই সুযোগ নেই। সরকার সাম্প্রতিক উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি করে নিজেরাই প্রমাণ করেছে যে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না। ফলে বিএনপি ও অন্য দলগুলোর পক্ষে ‘তত্ত্বাবধায়ক’ দাবি পরিত্যাগ করা এখন সম্ভব নয়। সর্বোপরি অতিসম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের একটি উক্তি বিএনপি ও অন্য দলের মধ্যে আরও ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। সৈয়দ আশরাফ বলেছেন: ‘কোনো বৈধ পথে শেখ হাসিনাকে আর সরানো যাবে না।’ সৈয়দ আশরাফের এই উক্তি থেকে সন্দেহ হয়, ক্ষমতায় থাকার জন্য আওয়ামী লীগ একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করেছে। এ পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া বিএনপিসহ অন্যান্য দল সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হবে কি না সন্দেহ।
তবু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, অন্যান্য দল ও নাগরিক সমাজ নির্বাচনী সরকার নিয়ে একটা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে বলে আমরা আশা করি। সংবিধান কোনো ধর্মগ্রন্থ নয়। সমঝোতার ভিত্তিতে তা সংশোধন করা সম্ভব। এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ আদালতও নির্দেশনা দিতে পারেন।
সব দলের অংশগ্রহণে একটি অর্থপূর্ণ সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমাদের উদ্বেগ দেখে অনেকের মনে হতে পারে, নির্বাচনই সব সমস্যার সমাধান বলে মনে করি। না, আমরা তা মনে করি না। অর্থপূর্ণ নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি ধাপমাত্র। নির্বাচনের মধ্য দিয়েই আমরা গণতন্ত্রের জগতে প্রবেশ করি। এরপর আরও বহু কাজ বাকি। আমরা চাই আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো একটি ‘গণতন্ত্র সনদে’ একমত হয়ে স্বাক্ষর করুক। কারণ, গণতন্ত্রের অন্যান্য শর্ত মানা না হলে স্বৈরাচারের সঙ্গে তেমন পার্থক্য থাকে না। কোনো রাজনৈতিক দলকে (ও জোটকে) লুটপাটের লাইসেন্স দেওয়ার জন্য অর্থপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করারও প্রয়োজন নেই। এক দিনের গণতন্ত্র নিয়ে আমাদের মোহভঙ্গ হওয়া দরকার। বড় দলগুলো নির্বাচনকে খুব গুরুত্ব দেয়। কিন্তু গণতন্ত্রের অন্য শর্তগুলো পূরণের ব্যাপারে তারা আগ্রহী নয়। তারা আগ্রহী শুধু সংসদ নির্বাচনে। কারণ, সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে তারা জাতীয় সংসদ, সরকারি প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, অন্যান্য সাংবিধানিক সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে পকেটে ভরে ফেলতে পারে। সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কারও পক্ষে কিছু করা সম্ভব হয় না। সরকার এত শক্তিশালী যে সংবিধানকে উপেক্ষা করা তার পক্ষে কোনো কঠিন কাজ নয়। মোট কথা, বাস্তবতা হলো, সরকারের ওপরে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। সরকারই সব। এ দেশে বিজয়ী দলের হাতেই সবকিছু। উইনার্স টেক্স অল—এটা গণতন্ত্র নয়। গণতন্ত্রের এই বিকৃত মডেলকে পরিত্যাগ করতে হবে।
কাজেই আরেকটি নির্বাচনের আগেই আমাদের রাজনীতিকে পরিচ্ছন্ন করতে হবে। পরিচ্ছন্ন করতে হলে আমাদের চিহ্নিত করতে হবে কোথায় কোথায় দুর্বলতা রয়েছে। শুধু রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন ঢুকে পড়েছে বললেও বড় কাজ হবে না। বড় কাজ হবে দুর্বৃত্তায়নের পথগুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের পথ প্রস্তাব করা। এই দুর্বৃত্তায়নে বড় দলগুলো প্রায় সমানভাবে দায়ী, অংশীদার ও পৃষ্ঠপোষক।
দেখা যাক রাজনীতির কোন কোন জায়গায় সংস্কার করতে হবে। একটা চকিত চিন্তা হিসেবে আমরা কয়েকটি জায়গা চিহ্নিত করতে পারি৷ ১. নির্বাচনের বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তন করে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে৷ ২. নির্বাচন কমিশনের আমূল সংস্কার এবং নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা৷ ৩. রাজনৈতিক দলে গঠনতন্ত্রের গণতন্ত্রায়ণ। দলের প্রতিটি কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠন বাধ্যতামূলক করা। একজন তিনবারের বেশি কোনো কমিটিতে কখনো থাকতে পারবেন না। দলপ্রধান ও সরকারপ্রধান এক ব্যক্তি হবেন না। দুবারের বেশি এই পদে কেউ থাকবেন না। দলের কোনো কমিটিতে ১০ বছর কাজ না করলে তাঁকে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন দেওয়া যাবে না ইত্যাদি। দলের গঠনতন্ত্র আরও নানাভাবে গণতন্ত্রায়ণ করা যায়। এই বিধিগুলো মানা হচ্ছে কি না, তা দেখবে নির্বাচন কমিশন। ৪. জাতীয় সংসদকে কার্যকর করা, বিরোধী দলের নেতাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করা, যেমন প্রতি তিন মাসে একবার বিরোধী দলের নেতাকে তাঁর টিমসহ মন্ত্রিসভার বৈঠকে আমন্ত্রণ৷ ৫. সংসদ অধিবেশন িস্পকারের অনুমতি ছাড়া বর্জন বন্ধ করা, সাংসদ নামে-বেনামে সরকারের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবেন না৷ সাংসদকে স্থানীয় সরকারের কাজে যুক্ত না রাখা৷ ৬. হরতাল না করার ব্যাপারে একমত হওয়া৷ ৭. সরকারি ও বিরোধী দলের প্রতিটি শাখাকে একটি বাৎসরিক উন্নয়ন বা সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা (বর্তমানে রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মীদের কোনো গঠনমূলক কাজ নেই)৷ ৮. প্রত্যেক স্থানীয় সরকারকে নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন করা, নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো মামলা হলে তা তিন মাসের মধ্যে নিষ্পন্ন করতে বাধ্যতামূলক করা৷ ৯. স্থানীয় সরকারকে প্রয়োজনীয় বাজেট দিয়ে তাদের বিকশিত হতে সহায়তা করা৷ ১০. সরকাির প্রশাসনের ২৫ শতাংশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (সচিব) দলীয়ভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া, বাকি ৭৫ শতাংশ কর্মকর্তার ব্যাপারে প্রশাসনিক নিয়ম অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া, কোনো সরকাির কর্মকর্তাকে ওএসডি করতে না পারার বিধান৷ ১১. সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিবার্ষিক ভিত্তিতে ছাত্রসংসদ নির্বাচন বাধ্যতামূলক করা৷ ১২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের শাখা ছাত্রসংগঠন নিষিদ্ধ করা৷ ১৩. বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের রাজনীতি বন্ধ করার জন্য ’৭৩-এর আইন পরিবর্তন করা৷ ১৪. সব সাংবিধানিক সংস্থাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে ইত্যাদি।
এই তালিকা বিশেষজ্ঞ ও জ্ঞানী ব্যক্তিরা আরও দীর্ঘ করতে পারবেন। তবে তা হতে হবে সব বড় দলের কাছে গ্রহণযোগ্য। আমাদের ধারণা, ওপরে উল্লিখিত শর্তগুলো পালন করা হলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে কোনো বিঘ্ন হবে না, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও বাধাগ্রস্ত হবে না, জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নেও সমস্যা হবে না।
এগুলো প্রাথমিক ধারণামাত্র। একাধিক গবেষণা ও সেমিনারের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, মিডিয়া এই সনদ রচনা করতে পারে। আমরা যখন সংবাদপত্র, সেমিনার ও টিভিতে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করি, তখন আমাদের রাজনীতির রোগ ও তার ওষুধ চিহ্নিত করা উচিত। শুধু ‘রাজনীতি দূষিত হয়েছে’ বলে চিৎকার করলে রাজনীতি পরিচ্ছন্ন হবে না।
অনেকে দেশের রাজনীতি নিয়ে হতাশ। তাঁরা মনে করেন, আমাদের রাজনীতির যে রোগ, তার কোনো চিকিৎসা নেই। এ ধারণা ঠিক নয়। নাগরিক সমাজ ও মিডিয়া পরিকল্পিতভাবে রোগ ও ওষুধ নিয়ে সোচ্চার হলে রাজনীতি সুস্থ হতে বাধ্য। আমরা সোচ্চার হই না। কারণ, আমরা ভীতু ও সুবিধাবাদী (ব্যতিক্রম খুব কম)৷ তাই নাগরিক সমাজ ও মিডিয়াকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
আমাদের মিডিয়া ও নাগরিক ফোরামের একটা সীমাবদ্ধতা হলো, এগুলো বড্ড বেশি ঢাকাকেন্দ্রিক। দেশের দূষিত রাজনীতি ও এর প্রতিকার সম্পর্কে অন্যান্য জেলার নির্দল সচেতন নাগরিকদের মতামত তেমন শোনা যায় না। প্রতি জেলায় নির্দল নাগরিকদের ‘ফোরাম’ থাকা উচিত, যাতে তাঁরা দেশ, সরকার, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ সম্পর্কে তাঁদের মতামত তুলে ধরতে পারেন। আমাদের মিডিয়ার রাজনৈতিক আলোচনায়ও ঢাকার বাইরের অতিথি তেমন দেখা যায় না। সপ্তাহের এক দিন টক শোতে শুধু ভিন্ন জেলার (ঢাকার বাইরে) অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানোর একটা রীতি গড়ে তোলা যায় না? সুস্থ ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য প্রচারণাও শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হলে সাফল্য আসবে না। দেশের সব জেলা থেকে এই দািবগুলো আসা উচিত।
দিনের শেষে আমাদের লক্ষ্য হবে: সব দল (অন্তত প্রধান ১০টি দল) সুস্থ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি সনদে স্বাক্ষর করবে এবং তা বাস্তবায়ন করবে। তা করা সম্ভব না হলে নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু দল বদল হবে, ব্যক্তি বদল হবে, গডফাদার বদল হবে, ঠিকাদার বদল হবে, দুর্বৃত্ত বদল হবে, অনেক কিছু বদল হবে, কিন্তু দূষিত রাজনীতির কোনো পরিবর্তন হবে না।
আমরা কি তা চাই?
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর: মিডিয়া ও উন্নয়ন কর্মী৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাংসদদের বাড়ি আর গাড়ি by আলী ইমাম মজুমদার

সাংসদের দায়িত্ব পালন করতে হলে কিছু রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার আবশ্যকতা রয়েছে৷ কিন্তু বিবেচনা করতে হবে সেই সুযোগ-সুবিধাগুলোর নৈতিক দিক আর এর পরিসর৷ সাংসদেরা কী কী সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তা ১৯৭৩ সালের ২৮ নম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত৷ সেই আইনে বহুবার পরিবর্তন এসেছে৷ আর পরিবর্তনগুলো হয়েছে সাংসদদের সুবিধাদি অধিকতর বৃদ্ধি করেই৷ সংযোজন হয়েছে কোনোরূপ ট্যাক্স ও ডিউটি ব্যতিরেকে গাড়ি আমদানি আর নিজ নির্বাচনী এলাকায় একটি অফিস রাখার জন্য সরকারি ভাতার বিধান৷ কিন্তু আইনটির কোথাও বিনা ভাড়ায় এবং নামমাত্র সার্ভিস চার্জ দিয়ে এ ধরনের সরকারি ব্যয়ে সজ্জিত ফ্ল্যাট ব্যবহারের বিধান রাখা হয়নি৷ অবশ্য এটা সত্য যে এ উপমহাদেশে সাংসদদের রাজধানীতে অধিবেশন চলাকালে আবাসনসুবিধার প্রথা রয়েছে৷ কিছু ফ্ল্যাট এমনকি বাংলো বরাদ্দেরও ব্যবস্থা রয়েছে দিল্লিতে৷ কিন্তু সংসদের ভেতরে আর বাইরে অফিস রাখার বিধানটি কোথাও আছে? মন্ত্রীরা সচিবালয়ে ও সংসদ ভবনে অফিস পান৷ পেয়ে থাকেন সরকারি ব্যয়ে বিনা ভাড়ায় সজ্জিত বাসভবন৷ এগুলোর পরিষেবা বিলও মেটায় সরকার৷ এরূপ সুবিধা পেয়ে থাকেন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলের নেতা-উপনেতা, সংসদের চিফ হুইপ ও হুইপরা৷ তাঁদের কেউ কেউ নিজ বাসায় থাকলেও একে প্রয়োজনীয় সজ্জিত করা, পরিষেবা বিল পরিশোধ আর বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি বরাদ্দ রয়েছে৷ তাঁদের অফিস ও বাসাগুলোয় নির্বাচনী এলাকা থেকে আগত লোকেরা সাক্ষাৎ করতে পারেন৷ এ কারণে সাংসদদের বসবাসের জন্য নির্ধারিত ফ্ল্যাট কেন বরাদ্দ নিয়ে দখলে রাখতে হবে, তা বোধগম্য নয়৷ এটাকে অনৈতিক বলা কি খুব কঠিন ভাষা হবে? মনে তো হয় না৷ তারপর রয়েছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৮০০ বর্গফুটের এ ফ্ল্যাটগুলোর সার্ভিস চার্জ প্রসঙ্গে৷ ঢাকা মহানগরের এ ধরনের ফ্ল্যাটে বিদ্যুৎ, গ্যাস ছাড়াও অন্যান্য পরিষেবা বিল পাঁচ-ছয় হাজার টাকা আসে৷ এ ক্ষেত্রে এ অযৌক্তিক পরিমাণ অঙ্ক কেন ধার্য করা হলো, তা পুনরায় তলিয়ে দেখার আবশ্যকতা রয়েছে৷
এ ফ্ল্যাটগুলোর বরাদ্দ, সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ, ব্যবহারের নীতিমালা তৈরি—সবই করে ১২ সদস্যবিশিষ্ট সংসদের হাউস কমিটি৷ চিফ হুইপ এর প্রধান৷ বলার অপেক্ষা রাখে না, বিষয়টি তাঁদের সুবিবেচনা পেতে ব্যর্থ হচ্ছে৷ অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দ নিয়ে কেউ কেউ অন্যকে থাকতে দেন৷ অথচ তাঁদেরই প্রণীত নীতিমালা অনুযায়ী সাংসদ, তাঁর স্ত্রী বা স্বামী, ছেলেমেয়ে ও মা-বাবা ছাড়া কেউ এগুলোয় বসবাস করতে পারেন না৷ কিন্তু দুঃখজনকভাবে ব্যতিক্রমই এখানে নিয়ম৷ নবম জাতীয় সংসদের শেষ দিকে এমন একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়, ৬৬ জন সাংসদ শুধু তা-ই করেছেন৷ আর এগুলো যাঁরা করেছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন কয়েকজন তারকা রাজনীতিক৷ এ নিবন্ধে তাঁদের নাম উল্লেখ যথোচিত হবে বলে মনে হয় না৷ এগুলোকে কেউ ব্যবহার করছেন অফিস হিসেবে৷ অথচ বরাদ্দ হওয়ার কথা শুধু আবাসন হিসেবে৷ আরও একটি বিষয় এখানে উল্লেখ করার মতো, সাংসদদের সবার না হলেও বেশ কিছুসংখ্যকের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে রাজধানীতে৷ কারও কারও বাড়ি তো প্রাসাদসম৷ তারাও তো এসব ফ্ল্যাটের দাবি ছাড়ছেন না৷ রাজধানীতে যাঁদের বাড়ি নেই, অন্য কোনো সূত্রে সরকারি বাড়ি বরাদ্দ পাননি কিংবা খুবই ছোটখাটো কোনো বাড়িতে থাকেন, তাঁদের জন্যই তো এ ফ্ল্যাটগুলো৷ হাউস কমিটির নীতিমালা মূলত তাই৷ তবে অনেক নীতিমালার মতো এটাও কার্যত উপেক্ষিত৷ এ সংস্কৃতির সূচনা বেশ কিছুকাল আগে৷ তবে ধীরে ধীরে অবস্থান জোরদার হচ্ছে৷
ট্যাক্স ও ডিউটি ব্যতিরেকে গাড়ি আমদানির বিষয়টি তাদের ওপরে উল্লেখিত প্রাধিকারসংক্রান্ত আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এরশাদ শাসনামলে৷ তবে এর পরে রাজনৈতিক সরকারগুলো এ সুযোগের পরিসর ক্রমাগত বাড়িয়েছে৷ এসব বিষয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রয়েছে চমৎকার ঐকমত্য৷ বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অধ্যাদেশ জারি করে বিধানটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল নৈতিক দিক বিবেচনায়৷ কিন্তু নির্বাচিত সংসদ অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তর না করায় এটার অপমৃত্যু হয়েছে৷ এ সরকারের পান থেকে চুন খসলেই বিএনপি তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে৷ কিন্তু এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব৷ ঠিক তেমনি বিএনপি সরকারের সময়েও আওয়ামী লীগ একই আচরণ করত৷ এসব বিষয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে উদার সহযোগিতা৷ সাংসদদের গাড়ি আমদানিসংক্রান্ত এ ধরনের কোনো সুযোগ নেওয়ার নজির এ উপমহাদেশে নেই৷ ট্যাক্স ও ডিউটি ব্যতিরেকে গাড়ি আমদানির বিধানটি নৈতিক দিক বিবেচনায় অগ্রহণযোগ্য বলে দেশের বিভিন্ন মহল সূচনা থেকেই মতামত দিয়ে যাচ্ছে৷ কিন্তু কোনো সরকারই তা আমলে নিচ্ছে না৷ এসব গাড়ির হাল আমলের ব্যবহারের চিত্র সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা নেই৷ তবে ২০০৭ সালের আগে বেশ কিছু সাংসদ মোটা মুনাফায় তাঁদের গাড়িগুলো বিক্রি করে দিয়েছিলেন৷ সেই ক্রেতা ও বিক্রেতারা এক-এগারোর পর দুই বছর ছিলেন চরম অস্বস্তিতে৷
জাতীয় সংসদ মূলত আইন প্রণয়নের কাজ করে৷ তা ছাড়া, এর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই গঠন করে সরকার৷ সুতরাং, একে অপরের পরিপূরক৷ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিতও করে তারাই৷ সংবিধানের আওতায় সব বিষয়ে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের৷ তাদের নিজেদের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কেও তারাই প্রণয়ন করে আইন৷ অবশ্য তাদেরই তা করার কথা৷ তবে আমাদের সংবিধান এ ক্ষেত্রে ভারসাম্য সৃষ্টি করতে পারেনি—এমন কথা এখন অনেকেই বলছেন৷ তাঁরা দাবি করেন, ক্ষমতার ভরকেন্দ্র নিয়েই নতুনভাবে ভাবার সময় এসেছে৷ তবে এ বিষয়ে প্রধান রাজনৈতিক দল দুটো নীরব৷ মনে হয়, তারা এমনটাই চায়৷ আর তা হলেই নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রয়োগের যথেচ্ছ সুযোগ থাকে৷
চলমান এ সংস্কৃতি থেকে পিছু হটার সময় এসেছে৷ আসবাবে সজ্জিত এসব ফ্ল্যাটের ভাড়া নাই ধরলেন, পরিষেবাসংক্রান্ত প্রকৃত ব্যয়ও তো অন্ততপক্ষে তাঁদের কাছ থেকে আদায় করা সংগত হবে৷ গাড়িসংক্রান্ত বিষয়টিও জনম জনম খোলা না রেখে একটি জায়গায় এনে থামানো দরকার৷ রাজনীতিবিদদের মধ্যে বহু সজ্জন ও বিবেচনাবোধসম্পন্ন ব্যক্তি আছেন৷ তাঁরা কিছুটা সরব হলে এসব বিষয় অনেকটা যৌক্তিক রূপ পাবে৷ সাংসদদের ন্যায্য সুবিধাদির বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব কারও নেই৷ তবে তা বাস্তবভিত্তিক ও দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের নিরিখে নির্ধারিত হওয়া সংগত৷
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিজয় মেনেছি, আকাঙ্ক্ষা ছাড়িনি by পবিত্র সরকার

না, হঠাৎ বদল হল তা বলব না, নিশ্চয়ই বেশ কিছুদিন ধরে তলে তলে ভারতে এ পরিবর্তনের পটভূমি তৈরি হচ্ছিল, আমাদের মতো কিছু মানুষ বুঝেও তা বুঝতে চায়নি। আমরা নরেন্দ্র মোদির সভায় বিশাল জনসমাগম দেখেছি, তার গলার পর্দা ওঠা-নামার সঙ্গে হাতের বীরত্বপূর্ণ বিক্ষেপের অতি-অতিনাটকীয় বক্তৃতায় মানুষকে উত্তাল হাততালি দিতে দেখেছি, কিন্তু কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারিনি যে, এই মানুষটি তার প্রার্থীদের সদলবলে জিতিয়ে এনে ভারতের মসনদ এমন অবলীলাক্রমে দখল করবেন। কংগ্রেসের দুর্গ ছিল কয়েকটি রাজ্য, কিংবা কয়েকটি রাজ্য বিজেপিকে ঠেকিয়ে রেখেছিল- আসাম, মহারাষ্ট্র, কেরালা, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্র, বিহার বা তামিলনাড়ু- এগুলোর অনেকটিতেই ধস নেমেছে। বর্তমান লেখক রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী বা ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে একেবারেই আনাড়ি, তাই বোকার মতো সেও ভেবেছিল হয়তো এবারও কংগ্রেস কান ঘেঁষে বেরিয়ে যাবে। উত্তরপ্রদেশে মজফ্ফরনগরে দাঙ্গার পর ভারতের বিপুলসংখ্যক মুসলমান কি বিজেপিকে বিশ্বাস করবেন? ১৯৯২-এ বাবরি মসজিদের ইতিহাস, ২০০২-এ গুজরাটের ইতিহাস কি তাদের কাছে অলীক হয়ে যাবে? কিন্তু আমাদের কোনো হিসাব মেলেনি। সম্ভবত আত্মরক্ষার আরও জরুরি তাগিদ থেকে মোদিকে মুসলমানরাও প্রচুর ভোট দিয়েছেন।
কিন্তু যাদের সংবাদ মাধ্যম বলা হয়, তারা বোধ হয় বুঝতে পেরেছিলেন, এবারে একটা এস্পার কী ওস্পার হবে। ভোটের আগে যেসব জনমত-সমীক্ষা হয় তার সবটাতেই নরেন্দ্র মোদির জয় চিহ্নিত হয়েছে, ক্রমশ তা আরও বেশি স্পষ্ট হয়েছে এবং শেষকালে দুরাগত সুনামি প্রবল উচ্ছ্বাসে ভারতে এসে আছড়ে পড়ে এ দেশকে প্লাবিত করেছে। আমরা নির্বোধের মতো শেষ পর্যন্ত ভেবেছি যে, না খুব বৈপ্লবিক পরিবর্তন কিছু হবে না। বাংলাদেশে গেলে বাংলাদেশের বন্ধুরা যখন জিজ্ঞেস করেছেন কী হতে চলেছে, তখন তাদের ওই বোকার মতোই আশ্বাস দিয়েছি, চিন্তা করবেন না। কিন্তু আমাদের মতো লোকেরা ভাবেনি ইতিহাসের কাছে আমাদের এমন থাপ্পড় খেতে হবে।
২.
থাপ্পড় না হয় খেলাম, কিন্তু আমরা তো আয়ুষ্কাল ফুরিয়ে বসে সব খুইয়ে বসিনি। আমরা এখন কী আশা করব? কী আশংকা করব? নরেন্দ্র মোদিকে ভারতের মানুষ বিপুলভাবে জয়ী করেছে, মানুষের এই নির্বাচনকে বুদ্ধিজীবীর উঁচু টিলা থেকে যে চোখেই দেখি না কেন, এ তো অস্বীকার করার জো নেই- আগামী পাঁচ বছরের জন্য এ বাস্তব আমাদের সামনে। কী করবেন মোদি? গুজরাটের দাঙ্গার সময় শ্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী তাকে যে আকুল হয়ে বলেছিলেন-‘রাজধর্ম পালন করো’- তিনি কি এবার সেই ‘রাজধর্ম পালনের’ একটি দীর্ঘস্থায়ী দৃষ্টান্ত তুলে ধরবেন? এমন আশা কি আমরা করতে পারি? ভারতের সবাই জানে বিজেপি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, তার পেছনে ছায়ার মতো আছে সামরিক হিন্দুত্ববাদী এক সংস্থা, যার নাম রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। তাদের সঙ্গে বিজেপির পার্থক্যের পাঁচিলটা যত মোটা করে দেখানোর চেষ্টা হোক, তাদের যে একই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক এজেন্ডা আছে তা কারও অজানা নেই। বিজেপি, তারও চেয়ে বড় কথা নতুন প্রধানমন্ত্রী- সেই এজেন্ডাকে কতটা গ্রাহ্য করবেন? ভাই নরেন্দ্র মোদির ওপর সেই আরএসএসের খবরদারি কতটা জারি থাকবে? স্বরাষ্ট্রনীতিতে, বিদেশ নীতিতে, অর্থনীতিতে, প্রজাকল্যাণে, ভারতের দরিদ্র আর বঞ্চিত মানুষের জীবনের পরিবর্তনের প্রকল্পে? এই প্রশ্নগুলোই এখন সবার মনকে তোলপাড় করে চলেছে। তার অগ্রাধিকার কী হবে? ৩৭০ ধারার (ভারতীয় সংবিধানে কাশ্মীরের মানুষের জন্য কিছু বিশেষ সুবিধা) অবলুপ্তি, নাকি গ্রামের গরিবদের গৃহনির্মাণ, পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা? যে আরএসএসের স্লোগান হল ‘গরবসে কহো হম্ হিন্দু হ্যায়!’, সেই আরআরএস কি মোদিভাইকে আরও চরম হিন্দুত্বের দিকে ঠেলবে? তা হলে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় তো মুসলমান আরও মুসলমানত্বের দিকে যাবে, মানুষের অবস্থান থেকে দুয়েই ক্রমশ দুই প্রান্তের দিকে সরে যাবে। মাঝখানে যারা কম কম হিন্দু আর কম কম মুসলমান, কিন্তু বেশি করে মানুষ হয়ে পরস্পরের সঙ্গে থাকার কথা ভেবে এসেছে হাজার বছর ধরে, তাদের কী হবে? প্রশ্নের শেষ নেই।
শপথ গ্রহণের দিন মোদি অবশ্যই কিছুটা আশা জাগিয়েছেন। একটা অভিনব কাণ্ড ঘটিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফসহ সার্ক দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের তিনি আমন্ত্রণ করে এমন একটা নাটকীয় সদিচ্ছার পরিচয় দিয়েছেন, তাতে তিনি আগের প্রধানমন্ত্রীদের টেক্কা দিয়েছেন বলা যায়। নওয়াজ শরিফও এসে তার সেই সৌজন্যের চমৎকার প্রত্যুত্তর দিয়েছেন, ফিরে গিয়ে মোদিজির মাকে শাড়ি পাঠিয়েছেন, সঙ্গে আরও উপহার এবং এতে অগভীর হোক, ভঙ্গুর হোক, অস্থায়ী হোক, একটি সদিচ্ছার আবহ যে তৈরি হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তার মন্ত্রী নির্বাচন মোটামুটি ভালোই হয়েছে বলা যায় (এক স্নাতক ডিগ্রির নিচে আটকে যাওয়া স্মৃতি ইরানিকে শিক্ষা বা মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী করায় কিছুটা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যে বিতর্ক আমাদের মতে তারা এড়াতে পারতেন)। শ্রীমতি সুষমা স্বরাজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রথমেই বাংলাদেশে যাবেন শুভেচ্ছা সফরে, আমি মনে করি মোদি প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চান, সেটি এক ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি নিজেও ভুটানে গেছেন, তারও একটা তাৎপর্য তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী ছোট হোক, তার যে একটা সমান মর্যাদা আছে এবং আমাদের পরস্পরের স্বার্থ যে একসঙ্গে জড়িত- এ সচেতনতা আমাদের আগেকার অনেক সরকারপ্রধানের ছিল না, তারা অনেক সময় ইংরেজিতে যাকে বলে ‘বিগ ব্রাদার’ (এর বাংলা কি হবে ‘জ্যাঠামশাই’?)- সেই রকম একটু হামবড়া ভাব দেখাতেন, যেটা ভারতের উপকারে আসেনি।
অর্থনীতি নিয়েও দুশ্চিন্তা তৈরি হচ্ছে। এ দেশে বিদেশী বিনিয়োগ কতটা হবে, তার ফলে দেশের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা। এ দেশের কর্পোরেট মহল মোদিজির নির্বাচনে যে উল্লসিত হয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। দূরে আমেরিকা পর্যন্ত বিরূপতা ভুলে গিয়ে খুশির হাসি হাসছে। তাদের বাজার বাড়ানোর জন্য এবার তো তারা ঝাঁপিয়ে পড়বে, মোদিকে তারা এক্ষুণি আটলান্টিকের ওপর দিয়ে লাল কার্পেট বিছিয়ে ঘরে নেমন্তন্ন করে নিয়ে যেতে চায়। এর পর ভারতে ওয়ালমার্ট গোছের খুচরা দোকানদাররা এসে যাবে না তো? কিছু কিছু কথা তো দুশ্চিন্তাও বাড়াচ্ছে। বলা হচ্ছে, ভারতের অস্ত্র উৎপাদনে সব বিদেশী বিনিয়োগ হবে। আমি খবরটা দেখে চমকে উঠেছিলাম, ভাবলাম, ভুল দেখছি না তো? তা হলে আবার শুরু হয়ে যাবে সেই হাজার হাজার কোটি টাকা ঘুষের লেনদেন, আগেকার সরকারের কীর্তিকেও তা না ছাপিয়ে যায়। মোদি একটি দুর্নীতিমুক্ত পরিচ্ছন্ন স্বচ্ছ সরকার ভারতকে উপহার দেবেন বলে প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন, কিন্তু বিদেশী বিনিয়োগ টানতে গেলেই দুর্নীতি খালের কুমিরের মতো ঢুকে পড়বে। কারণ যারা বিনিয়োগ করবে তারা বাইরে উৎকর্ষের প্রতিযোগিতায় নামবে, কিন্তু ভেতরে মন্ত্রী বা আমলাদের ঘুষ জোগানোর প্রতিযোগিতাতেও এই উপমহাদেশে দীর্ঘস্থায়ী নিয়ম মতোই নামবে। স্বচ্ছ ও সৎ প্রশাসনের সেখানেই কবর খোঁড়া হবে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী প্রথমে বলেছিলেন, ষাট দিন সময় পেলে দাম-টাম কমিয়ে দেবেন। এখন আর অত নাটকীয় কথাবার্তা বলছেন না, বলছেন পাঁচটা বছর যদি সময় পান, তা হলে ‘অচ্ছে লাগনেওয়ালা’ দিন নিয়ে আসবেন, ‘ফিল গুড’- এর দিন। জানি না আমরা তা দেখে যেতে পারব কি-না। তবে এসেই বিদেশের ব্যাংকে (সুইজারল্যান্ডে বা অন্যত্র) লুকিয়ে রাখা কালো টাকা উদ্ধারের কথা বলে আমাদের চমকে দিয়েছিলেন। ক’দিন তা নিয়ে আর বেশি কথাবার্তা বলছেন না। বরং একদিন খবর বেরোল, তা নিয়ে নাকি হাজার সমস্যা। আচ্ছা, এ তো বড় হাসির কথা হল! সমস্যা তো থাকবেই। তাতেই যদি এ ‘আয়রনম্যান’ প্রধানমন্ত্রী ঘাবড়ে যান, তাহলে অন্যদের থেকে তিনি আলাদা হলেন কোথায়? তার মতো বিপুল জনসমর্থন নিয়ে এ পর্যন্ত ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রী তো আসেননি। তা তার কাছে আমরা একটু বেশি আশা করতে পারি না? অন্যেরা যে সমস্যায় ঘাবড়ে যায়, তিনি কেন তাতে ঘাবড়াবেন? কত লক্ষ হাজার কোটি ডলার বাইরে পড়ে আছে, তার ১০ শতাংশ দেশে আনতে পারলেও ভারতের সব নিরক্ষর শিশুর জন্য পাঠশালা স্কুল বসানো যায়, সবার জন্য হাসপাতাল করা যায়, সবাইকে খাদ্য আর পানীয় জল পৌঁছে দেয়া যায়। মোদিভাই, আপনার মুখে কালো টাকা উদ্ধারের কথাটা একবার যখন শুনেছি, তা আর আপনি আমাদের ভুলিয়ে দিতে পারবেন না। বলতে পারবেন না, ‘কই? ও কথা তো আমি বলিনি!’
সে যাই হোক, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি হোক, পাকিস্তানের মৌলবাদীরা সেখানকার নড়বড়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টায় ব্যর্থ হোক, বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা বা ছিটমহলের সম্মানজনক চুক্তি হোক, বাংলাদেশে হিন্দি টেলিমিডিয়ার দৌরাত্ম্য কমুক, সারা উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-শিখ একসঙ্গে বাঁচার স্বপ্ন দেখুক। আমি আপনার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না মোদিভাই, কিন্তু দেশের মানুষ আপনাকে অনেক আশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রিত্বের আসনে বসিয়েছে, আপনি দেশের মানুষের বিশ্বাস আর আকাক্সক্ষার মর্যাদা রাখুন।
পবিত্র সরকার : সাবেক উপাচার্য, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা; লেখক
pabitra37@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারত- প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের পুনরুজ্জীবন by বরুণ গান্ধী

কৌটিল্যের সদ্গুণ তত্ত্ব অনুসারে পররাষ্ট্রনীতির ছয়টি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে শািন্তপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে হবে, প্রতিদ্বন্দ্বী যদি সমকক্ষ বা শক্তিশালী হয়, তাহলে নীরব থাকতে পারে৷ আর নিজের শক্তি কমে গেলে অন্য কারও আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে যেসব নীতি গ্রহণ করতে হবে, সেগুলো হচ্ছে: সামা (বন্ধুত্ব), দামা (উপহার), ভেদা (বিভাজন) ও ডান্ডা (শাস্তি)৷ এই প্রাচীন নীতি এখনো প্রযোজ্য।
ভুটান একরকম নিঃস্ব হয়ে গেছে। এই দেশটি একটি আদর্শ প্রতিবেশী। চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশটিতে অনুরূপ উত্তেজনা বিরাজ করছে৷ চীন দেশটির দোকলাম এলাকা, যেটা একপ্রকার ভারতের গলার ওপর, নিজেদের বলে দাবি করছে। চীন ভুটানে ক্রমেই সড়কসহ নানা রকম স্থাপনা নির্মাণ করছে, তারা আসলে সেখানকার উচ্চতার সুবিধাটা নিতে চাইছে৷ খোলঙচুর ৬০০ মেগাওয়াট যৌথ বিদ্যুৎ প্রকল্প, চামকারচুর ৭৭০ মেগাওয়াট, ওয়াংচুর ৫৭০ মেগাওয়াট, বানুখার ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো শেষ হয়ে গেছে, অথচ এগুলোর অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা পর্যালোচনা এখনো ঝুলে আছে৷ ভুটানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আরও বেশি সহায়তা করা দরকার, আর এই বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য তাকে আরও বেশি টাকা দেওয়া দরকার। আর যাই হোক, ভুটানকে বন্ধুসুলভ প্রতিবেশীর খাতা থেকে বাদ দেওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিশেষ সম্পর্ক থাকা উচিত৷ অবৈধ অনুপ্রবেশ, রাজ্যপর্যায়ের ক্ষীণ দৃষ্টিভঙ্গি ও পানি বিতর্ক প্রভৃতি কারণে আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিদ্রোহীদের তৎপরতা ও দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত। ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা স্থল সীমানা প্রটোকলে ছিটমহলসংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল৷ এর ফলে আমরা ১১১টি অপ্রবেশ্য ছিটমহলের বিনিময়ে ৫১টি ছিটমহল পেয়েছি। একই সঙ্গে সীমান্ত সংঘাত কমেছে, ট্রানজিট-সুবিধা উন্মুক্ত হয়েছে এবং আঞ্চলিক আস্থা অর্জিত হয়েছে। কিছু প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সীমান্ত বিরোধ বন্ধ করা গেলে উভয় পক্ষই লাভবান হবে৷ পানিবণ্টন চুক্তির সম্ভাবনা যাচাই করে পানিবণ্টনে ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে হবে৷ বাংলাদেশ সরকার বিশেষ ট্রানজিট-সুবিধা দিয়ে ত্রিপুরায় খাদ্য সরবরাহের যে সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তা সিত্যই প্রশংসনীয়। নিবিড় অর্থনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হবে। এর ফলে কলকাতাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কেন্দ্র হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করা যাবে। আর িময়ানমার ও সিঙ্গাপুরে যাওয়ার প্রস্তাবিত সড়কও বাংলাদেশের মধ্য দিয়েই গেছে।
শ্রীলঙ্কা সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। এই সংশোধনীতে তামিলদের আরও বৃহত্তর পরিসরে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য আরও বাড়ানো উচিত। এদিকে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্টও চূড়ান্ত হওয়ার পথে৷ এতে বিনিয়োগ ও সেবা খাতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও বাড়বে। বিদ্যুৎ খাত ও অবকাঠামোতে বিনিয়োগ, রাম সেতু এলাকায় প্রস্তাবিত সেতু ও অভিন্ন বিদ্যুৎ গ্রিড দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ ভারতের উচ্চ হারের প্রবৃদ্ধি শ্রীলঙ্কার জন্যও সুফল বয়ে আনবে৷ আর আমাদের পর্যটকেরাও সেখানকার ক্যাসিনোতে ভিড় জমাচ্ছেন।
এদিকে মালদ্বীপে চীনারা বেশ জাঁকিয়ে বসেছে৷ ইথুরু থিলা ফালহু—দেশটির রাজধানী মালের উত্তর-পশ্চিমে চীনাদের বন্দরসুবিধা দেওয়া হয়েছে৷ সেখানে জাহাজ ভেড়ানো থেকে শুরু করে নৌবাহিনীর জাহাজ মেরামতের সুবিধাও রয়েছে। এ অঞ্চলে চীনের ও ভারতের যে যৌথ স্বার্থ রয়েছে এবং আমাদের যৌথ নৌস্বার্থের কারণে ভারত এ ক্ষেত্রে একটি আদর্শ সহযোগী হতে পারে। বিমানবন্দর বাতিলকরণ নিয়ে যে ডামাডোল শুরু হয়েছিল, তার পুনরুত্থান না হওয়াই ভালো। মুক্তার মালা যদিও ক্রমে বড় হচ্ছে, ভারত মহাসাগরে ভারতের নিয়ন্ত্রণ হারালে চলবে না।
পশ্চিম ইরানকে গ্রহণ করছে, আমাদেরও তাই বসে থাকা চলবে না। পারস্য উপসাগরের অনতিদূরে যে কৌশলগত চব্বার বন্দর রয়েছে, সেখানে একটি বিশাল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স রয়েছে৷ এর ফলে কান্ডলার সঙ্গে সরাসরি জাহাজ যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে, এলএনজি আমদানিও বাড়বে। তেহরান যে তার তেল ও গ্যাসনীতিতে পরিবর্তন আনল, সেখানে তার ভারতীয় বিনিয়োগ আমন্ত্রণ জানানো উচিত। জাতিসংঘে ভারত কোনো এক তাৎক্ষণিকতায় আক্রান্ত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল; ফলে একধরনের তিক্ততা রয়েই গেছে। তা সত্ত্বেও ভারত-ইরান বাণিজ্যের প্রসার হওয়া উচিত। এর জন্য ইরান মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের কেন্দ্র হতে পারে।
আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ভারত রক্ত ও সম্পদ উভয়ই বিনিয়োগ করেছে। যদিও হাক্কানি নেটওয়ার্ক সেখানে ভারতীয় কনস্যুলেটে ক্রমাগত হামলা চালিয়েই যাচ্ছে। ফলে ব্যাপারটা আফগানিস্তানের পক্ষে স্ববিরোধী হয়ে যাচ্ছে৷ এই তালেবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্ক সেখানকার ক্ষমতায় এলে আফগানিস্তানে যে ভঙ্গুর গণতন্ত্র রয়েছে, সেটাকেও নস্যাৎ করে দেবে। যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে সেনা প্রত্যাহার করবে, ফলে সেখানকার স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনতে অনেক দেশেরই সহায়তা লাগবে৷ ইরান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আফগানিস্তান রুট হিসেবে কাজ করতে পারে৷ ফলে ভারতের তরফ থেকেও সেখানকার স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনতে অনেক কিছু করার আছে।
আর পাকিস্তান বরাবরের মতো একটি বিরক্তিকর প্রতিবেশী হিসেবেই থাকবে৷ নৌঘাঁটি ও করাচি বিমানবন্দরে জঙ্গিদের হামলার পর বোঝাই যাচ্ছে, সেখানে একটি ক্ষমতার লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে। সিয়াচেন ও স্যারক্রিকে ঐকমত্য হলে দ্রুতই ফল লাভ হবে, বাণিজ্যও বাড়তে পারে। সবকিছুর সঙ্গেই পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী জড়িয়ে যাচ্ছে৷ ফলে নওয়াজ শরিফের সঙ্গে আলোচনা হওয়া দরকার। বাণিজ্য ও ট্রানজিটের মাধ্যমে কিছু সীমানা মুছে ফেলতে হবে। আর কাশ্মীর, সে বিষয়ে ফয়সালা হতে আরও এক প্রজন্ম আমাদের লেগে যাবে৷
সার্ক পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, সাফটা ও দক্ষিণ এশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরও জোর দিতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের অভিন্ন সংস্কৃতিকে উদ্যাপনের উপলক্ষ করতে হবে। ভিসামুক্ত ভ্রমণ ও পিআইও ধরনের সুবিধার মাধ্যমে সেটা করা যেতে পারে৷ কৌটিল্যেও চার নীতির ওপর ভর করে সম্পর্কের পুনর্নির্মাণ করতে ও জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রাখতে শক্তিশালী নেতৃত্ব দরকার৷ এর জন্য বাস্তব রাজনীতির ধ্যানধারণাও থাকতে হবে। ভাগ্যের সহায়তায় ভারতে আবার একটি শক্তিশালী সরকার এসেছে৷ এই সুযোগ হেলায় হারানো যাবে না। ভারতের কূটনীতিকদের সংখ্যা কম। দেশটির ক্ষমতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে৷ কেন্দ্রের নতুন নীতির কারণে সেটা সঠিক পথে পরিচালিত হবে বলে আশা করা যায়।
হিন্দুস্তান টাইমস থেকে অনূদিত
বরুণ গান্ধী: বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভার সদস্য।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরাক- উপদলীয় কোন্দলে মার্কিন মদদের খেসারত by রামজি বারুদ
এই স্লোগান থেকেই বোঝা যায়, ইরাকের চলমান যুদ্ধের উপদলীয় চেহারা কতটা মারাত্মক৷ সাম্প্রতিক সময়ে এটা আরও চরমে উঠেছে৷ ইসলামি স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড শ্যাম (আইসিস) নামের সংগঠন থেকে এক হাজারের কিছু কমসংখ্যক সেনা ১০ জুন ইরাকের বৃহত্তম শহর মসুলের বিরুদ্ধে অভিযানে নামলে ইরাকের সেনাবাহিনীর প্রায় ৩০ হাজার সদস্য প্রাণের ভয়ে পশ্চাদপসরণ করেন৷ ইরাকের সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ আলী আল-সিস্তানি এক বিবৃতিতে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান৷ কারবালায় শুক্রবারের নামাজে তাঁর পক্ষে এই বিবৃতি পড়ে শোনানো হয়৷ এতে বলা হয়, অস্ত্র হাতে নিতে এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণে সক্ষম ব্যক্তিদের এই মহান লক্ষ্য অর্জনে নিরাপত্তা বাহিনীতে যোগ দেওয়া উচিত৷
সিস্তানি যে সন্ত্রাসীদের কথা বলছেন, তারা এই আইসিস ও এর সদস্য৷ সংখ্যায় তারা বড়জোর সাত হাজার হবে৷ কিন্তু তারা সুসংগঠিত, আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত৷ আচার-আচরণে অত্যন্ত হিংস্র৷ মসুল দখলের এই অসামান্য অর্জনকে স্থায়ী করতে তারা এখন দক্ষিণের শহরগুলোর দিকেও ছুটছে৷ ১১ জুন বাইজি আক্রমণ করে তারা শহরটি দখল করে নেয়৷ একই দিন দখল করে তিরকিত, এটি ইরাকের সাবেক রাষ্ট্রপতি সাদ্দাম হোসেনের শহর৷ সেখানে সাবেক বাথপন্থী যোদ্ধারাও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে৷
দুই দিন ধরে তারা সামারা দখলের চেষ্টা করেছে, কিন্তু পারেনি৷ তারপর তারা জালাওয়ালা ও সাদিয়াহর দিকে চলে যায়৷ আইসিসের দখলে চলে যাওয়া শহরগুলোয় কী হচ্ছে বলা মুশকিল৷ কিন্তু সিরিয়াতে তারা যেরূপ রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছে, তা দেখে এবং সংগঠনটির নিজস্ব অনলাইন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বলা যায়, সেখানকার অবস্থা ভালো নয়৷
কিছুদিনের মধ্যে এত বেশি এলাকা আইসিসের দখলে চলে গেছে যে সেখানে এক নতুন রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন করা অসম্ভব কিছু নয়; ঔপনিবেশিক ফ্রান্স ও ব্রিটেন এক শতাব্দীকাল আগে ঠিক এ রকম স্বপ্নই দেখেছিল৷ ভবিষ্যতে কী আছে, তা বলা মুশকিল৷ আরও একবার ইরাকের ভেতর ঢুকতে হবে, এই চিন্তায় পশ্চিমের ঘুম হারাম হওয়ার উপক্রম৷ পশ্চিমা হস্তক্ষেপের এটাই ছিল আদিরূপ৷ সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ ডব্লিউ বুশের জামানার নব্য রক্ষণশীল কর্তাদের অবিমৃশ্যকারিতার কারণে এই দ্বন্দ্ব-সংঘাত শুরু হয়৷ তাঁরা ভুল স্বীকার করে ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে পিঠটান দেন৷ যদিও তাঁরা আশা করেছিলেন, ইরাকের নতুন শিয়া প্রধানমন্ত্রী নুরি-আল-মালিকির সরকারের ওপর তাঁরা প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন, কিন্তু এ লক্ষ্যে তাঁরা কামিয়াব হতে পারেননি, বরং সবকিছু লেজেগোবরে হয়ে যায়৷ আর এখন বাগদাদে প্রভাবশালী বিদেশি শক্তি হচ্ছে ইরান৷
বাস্তবে ইরাকে বর্তমানে ইরানি প্রভাব এত শক্তিশালী যে বারাক ওবামার প্রশাসন যতই শক্তির আস্ফালন দেখাক না কেন, সেখানে এখন ইরানের সহায়তা ছাড়া এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতার মোড় ঘোরানো সম্ভব হবে না৷ মার্কিন ও ব্রিটিশ মিডিয়ার খবর অনুসারে, শুধু ইরাক নয়, সিরিয়াতেও আইসিসকে ঠেকাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জুটি বাঁধতে যাচ্ছে৷ ইতিহাস লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে চলেছে৷ যেসব জোটের কথা আগে ভাবা যেত না, খুব দ্রুতই সেসব জোট গঠিত হচ্ছে৷ মানচিত্র নতুন করে আঁকা হচ্ছে, আর সেটাও হচ্ছে রাইফেল হাতে খোলা জিপে ঘুরে বেড়ানো মুখোশ পরিহিত সৈন্যদের অঙ্গুলিহেলনে৷ এটা ঠিক, কেউই ভাবেননি পরিস্থিতি এরূপ মোড় নেবে৷ কিন্তু যাঁরা বলেছিলেন, ইরাক যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছিল, তাঁরা আসলে ঠিক এটাই মনে করেছিলেন৷
বুশ যখন আল-কায়েদা হটাতে ইরাকে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তখন এই দলটির কোনো অস্তিত্ব ছিল না৷ আত্মাভিমান, সত্য সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং ইরাকের ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে বুশ প্রশাসন এই ভয়াবহ যুদ্ধ চালিয়েছে৷ লাখ লাখ ইরাকি এ যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে৷ যাদের হত্যা করা হয়নি, তাদের পিটিয়ে বিকলাঙ্গ করা হয়েছে, ধর্ষণ ও নির্যাতন করা হয়েছে৷ অথবা তারা ইরাকের ধু ধু প্রান্তরে দুঃসাহসিক অভিযানে নেমেছে৷
আমেরিকা নানাভাবে ইরাকের সঙ্গে ইঁদুর-বিড়াল খেলা খেলেছে৷ তারা সেনাবাহিনী ভেঙে দিয়েছে, সব সরকারি প্রতিষ্ঠান বাতিল করেছে৷ পেন্টাগন ও ভার্জিনিয়ায় বসে থাকা সিআইএ বিশ্লেষকদের মতামত অনুসারে সেখানে নতুন এক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে৷ মার্কিনরা সুন্নি মুসলমানদের অত্যাচার করেছে৷ শিয়াদের ক্ষমতায়ন করেছে৷ আর পরিণতির কথা না ভেবেই উপদলীয় কোন্দলে তেল-জল জুগিয়েছে৷ যখন সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক হয়নি, তখন তারা কোনো এক শিয়া গ্রুপকে অপর শিয়া গ্রুপের চেয়ে বেশি পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে৷ আবার কোনো কোনো সুন্নি গোষ্ঠীর হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে সামগ্রিকভাবে মার্কিনদের বিরুদ্ধে ইরাকের প্রতিরোধ যুদ্ধ নস্যাৎ করে দিয়েছে৷ এসবের পরিণতি হয়েছে খুব মারাত্মক৷ ২০০৬-০৭ সালে ইরাকের গৃহযুদ্ধে লাখো মানুষ মারা গেছে৷ কোনো ছলচাতুরীর নির্বাচন দিয়ে ক্ষত সারানো সম্ভব ছিল না৷ নির্যাতনের কোনো কৌশলেই বিদ্রোহ দমন করা সম্ভব ছিল না৷ উপদলীয় কোন্দল ও নৃতাত্ত্বিক বিন্যাস নিয়ে যতই জল ঘোলা করা হোক না কেন, কাঙ্ক্ষিত ‘সাম্যাবস্থা’ ফিরিয়ে আনা সম্ভব ছিল না৷
২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে আমেরিকা ইরাক ছেড়ে চলে যায়৷ কিন্তু যে যুদ্ধ তারা শুরু করেছিল, সেটার শেষ তারা দেখে যায়নি৷ ইরাকে এখন যা হচ্ছে, তা মার্কিন সৃষ্ট দাঙ্গা-হাঙ্গামারই অংশ৷ এটা বিশেষ গুরুত্ববহ ব্যাপার যে আইসিসের নেতা আবু বাকের আল-বাগদাদি সামারা থেকে আগত একজন ইরাকি৷ তিনি মার্কিনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন৷ এমনকি ধরা পড়ার পর তাঁকে ইরাকের সর্ববৃহৎ মার্কিন কারাগার ক্যাম্প বুকায় পাঁচ বছর আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়৷
এটা বলা ঠিক হবে না যে ইরাকের মার্কিন কারাগারে আইসিসের জন্ম হয়েছে৷ এই আইসিসকে আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে৷ কারণ এর জন্ম হয়েছে এই চলমান দ্বন্দ্বের গহিন থেকে৷ ধর্মের নামে মুখোশ পরে নির্দয়ভাবে যারা মানুষ মারছে বা গলা কাটছে, তারা আসলে কী কারণে তা করছে, এটা যেমন রহস্যজনক, ঠিক তেমনি এই আইসিসও রহস্যজনক৷
কিন্তু এতে কোনো ভুল নেই যে ইরাকিদের ওপর আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ, বিশেষ করে সুন্নিদের ওপর নিপীড়ন এই আইসিস গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে৷ সংগঠনটির নৃশংসতা চালানোর ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা আছে৷ আইসিস যেসব এলাকা দখল করেছে, তারা তা ধরে রাখতে পারবে কি না, সেটা পরিষ্কার নয়৷ বিশেষ করে যখন শিয়ানিয়ন্ত্রিত বাগদাদ, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একজোট হয়েছে, তখন তাদের টিকে থাকা কঠিন৷ কিন্তু কিছু বিষয় পরিষ্কার: সুপরিকল্পিতভাবে ইরাকের সুন্নি সম্প্রদায়কে ক্ষমতাকাঠামোর প্রান্তে ঠেলে দেওয়াটা অর্থহীন, এটা টিকবে না৷ মার্কিন আগ্রাসনের ফলে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সেখান থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে এক নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক বর্গ তৈরি করতে হবে৷ ইরানের হস্তক্ষেপসহ অন্যান্য দেশের হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য৷
এই বিবাদ এমন জট পাকিয়ে উঠেছে যে ইরাকে কোনো রাজনৈতিক মীমাংসা করতে হলে সিরিয়ার আদলেই তা করতে হবে, যে সিরিয়া বর্তমানে নৃশংসতার ভিত্তিভূমি হয়ে উঠেছে৷ সিরিয়ার সরকার, বিরোধী পক্ষ ও আইসিস—সবাই এর জন্য দায়ী৷ এই মৌলবাদী তৈরির কারখানা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বন্ধ করতে হবে, যাতে করে সিরিয়া ও তার সম্প্রসারণক্রমে ইরাকের ক্ষতও উপশম করা যায়৷
হংকংভিত্তিক এশিয়া টাইমস অনলাইন থেকে নেওয়া; ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন
রামজি বারুদ: মধ্যপ্রাচ্যের সাংবাদিক৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মোদিকে নিয়ে আশা ও শঙ্কা by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

নরেন্দ্র মোদি শপথ নিলেন৷ কত অল্প মন্ত্রী! নতুন সরকারের বিভিন্ন সূত্র থেকে যেসব খবর ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছিল, বেশ লাগছিল সেগুলো শুনতে৷ কম মন্ত্রী, কম সরকার, বেশি প্রশাসন৷ এই তো চাই৷ কোষাগার অপচয়ের একটা বড় দিকই হলো মন্ত্রী-সান্ত্রী পালন৷ কম মন্ত্রী যদি বেশি কাজ দিতে পারেন, তাহলে বেশি মন্ত্রীর দরকারটা কোথায়? দিন দুয়েকের মধ্যেই মোদির দ্বিতীয় নিদান জানাজানি হলো৷ কোনো মন্ত্রী তাঁর নিকট-দূর কোনো আত্মীয়কেই মন্ত্রকের কোনো দায়িত্বে নিয়োগ করতে পারবেন না৷ এটাও বেশ লাগল শুনতে৷ মনে ভেসে উঠল আগের জামানার রেলমন্ত্রী পবন বনসলের কেসটা৷ নিজের ভাগনেকে তিনি মন্ত্রকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন৷ করিতকর্মা সেই ভাগনে একজনকে রেলওয়ে বোর্ড মেম্বারের একটা বিশেষ পদে বসাবে বলে কয়েক কোটি টাকার রফা করেছিল৷
ভারতের সিবিআইয়ের তদন্তের জালে ভাগনে বাবাজি ধরা পড়ল৷ বনসলের চাকরি গেল৷ তঁার আর্তিও শোনা গেল ‘আমি নির্দোষ, কিছুই জানি না গোছের’, যেন ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানেন না! একটা দিন কাটতে না-কাটতেই প্রধানমন্ত্রীর ফের ফরমান৷ সব মন্ত্রীকে তঁার ও পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব-হলফনামা প্রধানমন্ত্রীর অফিসে জমা দিতে হবে৷ এটাও বাহ্ বাহ্ ধ্বনি তুলল৷ লোকজন বলাবলি শুরু করল, প্রধানমন্ত্রী ঠিক করেছেন৷ মন্ত্রী হয়েই যঁারা সাপের পঁাচ পা দেখেন, যঁাদের আঙুল রাতারাতি ফুলে কলাগাছ হয়ে যায়, তঁারা এবার ঢিট হবে৷
মোদি কী ধরনের প্রশাসন চান, কীভাবে কাজ করবেন, কেমনভাবে তঁার টিম সাজাবেন, সেসবও অতি দ্রুত তিনি দেখিয়ে দিলেন৷ কোনো দিন কেন্দ্রে কাজ করেননি৷ গুজরাটের বাইরে পা ফেলতে হয়নি৷ কাজেই গুজরাটনির্ভরতা তঁার থাকবেই৷ ভরসা করার লোকজন তাই তিনি গুজরাট ক্যাডার থেকেই নিয়ে এলেন৷ মুখ্য সচিব নিয়োগ করলেন অর্ডিন্যান্স জারি করে৷ বোঝা গেল, তঁার তাড়া আছে৷ কিছু করে দেখানোর সময় যে স্রেফ পঁাচটা বছর, এ কথাও তিনি বারবার শোনাতে লাগলেন৷ এ-জাতীয় কথাবার্তা মানুষের মধ্যে একধরনের আশা জাগায়৷ হবে কি হবে না, সে তো পরের কথা৷ আমজনতা ভাবে, না, এই মানুষটা কাজের কাজ কিছু করলেও করতে পারে৷ এটা একধরনের মনস্তত্ত্ব৷ সরকার হলো শতকরা ৮০ ভাগ আমলা ও ২০ ভাগ মন্ত্রীর সমন্বয়ের সাফল্য বা ব্যর্থতার কাহিনি৷ গুজরাট শাসনের মধ্য দিয়ে এটাই মোদির মোক্ষম উপলব্ধি৷ আমলাশাহির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে তিনি তাই সুশাসনের বাজি ধরেছেন৷ এটা তঁার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি৷ তঁার বিশ্বাস৷
সবকিছুর মতো সুশাসনের জন্যও একটা আবহ সৃষ্টির প্রয়োজন হয়৷ এই যে বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হয়েছে, ব্রাজিলে তো বটেই, গোটা পৃথিবীতেই তার একটা আবহ সৃষ্টি হয়েছে৷ সিনেমা দেখতে গেলেও প্রেক্ষাগৃহে একটা আবহ সৃষ্টি হয়৷ অন্ধকার, মায়াবী আবহ৷ দেশ শাসনের ক্ষেত্রেও তেমন একটা আবহের সৃষ্টি করেছেন মোদি৷ সংসদে দাঁড়িয়ে যখন তিনি বলেন, ‘সব কা সাথ সব কা বিকাশ’ কিংবা সব রাজ্যেরই কিছু না কিছু ভালো আছে, সেই ভালোটা আমাদের নিতে হবে অথবা কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক দাতা-গ্রহীতার সম্পর্কের মতো নয়, সুশাসনের সেই আবহটা তখনই তৈরি হয়ে যায়৷ যখন তিনি বলেন, তঁার সরকারটা গরিবদের জন্য, ‘স্ক্যাম ইন্ডিয়াকে’ তিনি ‘স্কিলড ইন্ডিয়ায়’ রূপান্তর করতে চান, তখন বিশ্বাস ও ভরসার একটা ফল্গুধারা সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে কুলকুল বইতে শুরু করে৷ সেই আবহটাও তখন সৃষ্টি হয়ে যায়, যেখানে মোদিকে ঘিরে শুরু হয় একটা স্বপ্ন ও কল্পনার মায়াময় জগৎ৷
সেই জগতের জাদু-গালিচায় ভাসতে ভাসতে মোদি তঁার প্রথম বিদেশ সফরের জন্য বেছে নিলেন পাহাড়ঘেরা শান্তিধাম ভুটানকে৷ শপথ গ্রহণে প্রতিবেশী দেশগুলোর রাষ্ট্রনায়কদের আমন্ত্রণ জানিয়ে যে আবহটা মোদি তৈরি করেছিলেন, ভুটান সফর তারই সার্থক পরিণতি৷ প্রতিবেশীদের তিনি এই ধারণা দিতে চেয়েছেন যে তারা অখুশি থাকলে ভারত সুখী থাকতে পারে না৷ গত ১০ বছরে এই ধারণা কেন যে মনমোহন সিং দৃঢ় করতে পারেননি, তা তিনিই জানেন৷ বাংলাদেশ ছাড়া প্রতিবেশী কোনো দেশে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং কোনো দ্বিপক্ষীয় সফরে যাননি৷ সে ক্ষেত্রে ভুটানের পর মোদির সফরতালিকায় দ্বিতীয় প্রতিবেশী দেশ সম্ভবত বাংলাদেশ৷ আবহ ধরে রাখতে এসব তিনি করবেন৷
কিন্তু তবু কেন খচখচ করছে আশঙ্কার কাঁটা?
প্রথম কারণ প্রকৃতি৷ হানিমুন পর্ব শেষ হওয়ার আগেই মোদি-সরকারের সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ বয়ে আনার ভ্রুকুটি দেখাচ্ছে প্রকৃতি৷ প্রবল অনাবৃষ্টির একটা আশঙ্কা কালো মেঘের মতো অতি দ্রুত ছেয়ে ফেলতে চলেছে ভারতের আকাশ৷ এক সপ্তাহ দেরিতে কেরালায় এবার বর্ষা এল৷ এল বটে, তবে এসেই মাধুরীর মতো যাই যাই শুরু করেছে৷ জলদঘন মেঘ ছাইব ছাইব করতে করতেই ফিকে হয়ে গেল৷ অনাবৃষ্টি বা ক্ষণস্থায়ী বর্ষা দেশের অর্থনীতিকে কোন খাতে টেনে নিয়ে যাবে, সেই আশঙ্কাতেই এখন থ মেরে আছে দেশের অর্ধেক জনতা৷ একদিকে খরাজনিত আশঙ্কা, অন্যদিকে ইরাকে হঠাৎ জটিল হয়ে ওঠা যুদ্ধ-পরিস্থিতি অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল-পিছু আচমকাই পঁাচ ডলার বাড়িয়ে দিয়েছে৷ ডলারের তুলনায় টাকার দাম বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু তেলের দাম কড়িকাঠ ছুঁলে কী করে আমজনতাকে স্বস্তি দেবে মোদি সরকার? মাত্র কদিন আগে গোয়া গিয়ে দলীয় বৈঠকে কঠিন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা আগাম শুনিয়ে এসেছেন মোদি৷ বলেছেন, আগামী দিনে ভালো থাকতে হলে এখন কিছুদিন কষ্ট করতে হবে৷ ঠিক এমন ধরনের কথা তিন বছর আগে মনমোহনও বলেছিলেন৷ কিন্তু জনতা তাঁকে রেয়াত করেনি৷ মোদির সৌভাগ্য, আগামী পঁাচটা বছর শরিকদের খামখেয়ালিপনার ওপর তঁাকে নির্ভর করতে হবে না৷ কঠিন কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপযুক্ত সময়ও এটাই৷ কিন্তু তা যদি অসহনীয় হয়ে ওঠে, মারটা যদি প্রকৃতির দিক থেকে আসে, তাহলে বোঝার ওপর তা নিছকই শাকের অাঁটি হয়ে দঁাড়াবে৷ গত দুই বছরে জেরবার মানুষ মোদির সরকারের কাছ থেকে কোনো ‘রিলিফ’ পাবে না৷
নতুন প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতির বিকাশের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন৷ মৌসুম যদি পক্ষে না থাকে, সেই বিকাশও কিন্তু মরীচিকার মতো হয়ে দাঁড়াবে৷ মূল্যবৃদ্ধি রোখাই তখন হয়ে যাবে মোদি প্রশাসনের একমাত্র কাজ৷ বিকাশ দূরে দাঁড়িয়ে হাতছানি দেবে৷
বিকাশের প্রশ্নেই এসে পড়ে দ্বিতীয় আশঙ্কা৷ মুজফফরনগরের দাঙ্গার কথা মনে আছে? উত্তর প্রদেশের পশ্চিম প্রান্তের এই বিস্তীর্ণ এলাকায় সেই দাঙ্গার ক্ষত থেকে আজও রক্ত ঝরছে৷ দাঙ্গার পেছনে কে বা কারা ছিল, কাদের উসকানিতে এত বড় মারণযজ্ঞ ঘটে যায়, সেই গবেষণা আজও অব্যাহত৷ কিন্তু দাঙ্গার রাজনৈতিক নিট ফল? হিন্দু মেরুকরণ৷ ৮০ আসনের উত্তর প্রদেশে বিজেপি ও তার সহযোগী দল ৭৩টি আসন জিতে নিল৷ সরকার গড়ল মোদির বিজেপি৷ এই জয় প্রকট হিন্দু মানসিকতায় এতটাই হাওয়া দিয়েছে যে মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, কর্ণাটক ও কেরালায় শুরু হয়েছে এক অসহনীয় পরিবেশ৷ কোথাও বৌদ্ধদের সঙ্গে সংঘাত বেধেছে কট্টর হিন্দুদের, কোথাও মুসলমানদের সঙ্গে, কোথাও বা খ্রিষ্টানদের সঙ্গেও৷ কোথাও ধর্ম নয়, প্রাধান্য পাচ্ছে স্রেফ অসহিষ্ণুতা৷ মহারাষ্ট্রে হিন্দু রাষ্ট্র সেনা পিটিয়ে মেরে ফেলেছে এক মুসলমান যুবককে৷ যুবটির অপরাধ, সে ফেসবুকে মোদিকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেছিল৷ উত্তর প্রদেশে আম্বেদকরে মূর্তিতে রং লেপার জন্য বিজেপির লোকজনের সঙ্গে দাঙ্গা হয়ে গেছে৷ কেরালার একটি কলেজে ক্রসওয়ার্ড পাজলে মোদিকে তুলনা করা হয়েছিল হিটলার, লাদেন ও সিনিয়র জর্জ বুশের সঙ্গে৷ নয়জন ছাত্রকে সে কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ এই অসহিষ্ণুতা, এই মারধর, এসব দাঙ্গাবাজ কিন্তু ক্রমেই মাথাচাড়া দিচ্ছে৷ এরাই যদি ক্রমে ক্রমে নৈতিক অভিভাবক হয়ে সমাজে লাঠি ঘোরায়, এরাই যদি হয়ে দঁাড়ায় সমাজের স্বঘোষিত অভিভাবক এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাক থাকেন, তাহলে শক্তি চট্টোপাধ্যায় ধার করে বলতেই হবে, ‘সে বড় সুখের সময় নয়, সে বড় আনন্দের সময় নয়৷’
মনটা কু গাইছে এই জন্যই৷ অশান্তির আবহে উন্নয়ন বা বিকাশ হতে পারে না৷ নিরন্তর সন্দেহ কখনো সুস্থতার লক্ষণ হতে পারে না৷ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি বারবার বলেছেন, এখন তিনি দেশের প্রতিটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী৷ কোনো বিশেষ দলের নন৷ তিনি সবাইকে নিয়ে চলার কথা বলেছেন, সবার সঙ্গে এগোনোর অঙ্গীকার করছেন৷ পরমত ও পরধর্মসহিষ্ণুতা পালনের ওপর জোর তঁাকে দিতেই হবে৷ দুঃখের বিষয়, দাঙ্গাবাজদের রুখতে বা স্বঘোষিত সমাজপতিদের রাশ টানতে এখনো তঁার মুখ থেকে একটা বাক্যও উচ্চারিত হয়নি৷ সমালোচনা তিনি যদি না নিতে পারেন, অন্যদেরও তাহলে সহিষ্ণুতা শেখাতে পারবেন না৷ সমাজ যদি অশান্ত থাকে, উন্নয়ন বা বিকাশও তাহলে আড়াল থেকে উঁকি মেরে চলে যাবে৷ ইতিহাস নরেন্দ্র মোদিকে চিহ্নিত করবে সেই নায়ক হিসেবে, যঁার কথায় ও কাজে আসমান-জমিন ফারাক৷
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রথম আলোর নয়াদিল্লি প্রতিনিধি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভাঙা জানালায় প্রবৃদ্ধির সুবাস by মাহফুজ কবীর
ব্যয়বহুল প্রবৃদ্ধির এই গল্প ১৮৫০ সালে ফেদেরিক বাস্তিয়াতের দেওয়া ‘ব্রোকেন উইন্ডো ফ্যালাসি’ বা ভাঙা জানালার ভ্রান্ত যুক্তি ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি দেখিয়েছেন যে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড এবং তা থেকে উত্তরণের জন্য অতিরিক্ত অর্থব্যয় সমাজের জন্য আসলে লাভজনক নয়। বিবিএস সেবা খাতের জিডিপি নির্ণয় করে সেবার আর্থিক মূল্যের অনুমানের ভিত্তিতে, সেবার নিরূপিত পরিমাণের সঙ্গে প্রত্যেকের বাজারমূল্যের গুণফলের ভিত্তিতে নয়। অবশ্য এই আপাতদৃষ্টিতে ‘বোনাস’ প্রবৃদ্ধি, যা কিনা এসেছে লাখ লাখ মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট থেকে, তাকে একই বা কম পরিমাণ সেবার সঙ্গে সমন্বয় করে এর প্রকৃত মূল্য নিরূপণ করা যেত। বিবিএস সম্ভবত চলতি বাজারমূল্যে সেবা খাতের খরচকে হিসাব করে তাকে ভিত্তিবছরের মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করছে। এটা প্রতিষ্ঠানটির পরিসংখ্যান সম্পর্কে সবার কাছে সম্পূর্ণ ভুল বার্তা দিচ্ছে। বরং মোটামুটি সঠিক হিসাব পেতে গত অর্থবছরের সেবার মূল্যের সাপেক্ষে এ বছরের মূল্যস্ফীতির সমন্বয় করে এরপর আবার ভিত্তিবছরের মূল্যের সঙ্গে হিসাবটি সমন্বয় করা যেত। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জীবনযাত্রার সাময়িক অস্বাভাবিক ব্যয়বৃদ্ধির বিষয়টি পরিসংখ্যানিকভাবে সামাল দেওয়া যেত।
বোঝাই যায়, বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে প্রবৃদ্ধির ৬ শতাংশের অন্তরায় কাটিয়ে উঠতে পেরে সরকার বেশ স্বস্তিতেই আছে৷ কেননা, বিবিএসের পরিসংখ্যান চ্যালেঞ্জ করার যথাযথ ‘কর্তৃত্ব’ কারও নেই। অবশ্য ৬ শতাংশকে আজকাল অনেকটা ‘ঘুমন্ত প্রবৃদ্ধি’ মনে করা হয়৷ কেননা, এটি মূলত নিউটনের গতির প্রথম সূত্রের মতো। আর গত বছরের এ রকম ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের পরও যেহেতু প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ পেরিয়েছে, তাই অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতার সময় আগামী অর্থবছরের স্বাভাবিক সময়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ‘সুবাস’ পেয়েছেন বলেই মনে হয়। কিন্তু ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুসারে উঁচু প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চাইলে রাজস্ব কার্যক্রম ও সরকারি বিনিয়োগ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগে একটি ব্যাপকভিত্তিক প্রণোদনা দিতে হবে। বিদায়ী অর্থবছরে এত সংকটের পরেও বাংলাদেশের অর্থনীতি যে সহজাত শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তার মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করতে অবশ্য দ্বৈত সম্প্রসারণ দরকার। বর্তমানে এটি ‘একক’ সম্প্রসারণের মধ্যে রয়েছে, যেখানে রাজস্ব সম্প্রসারণ আশাব্যঞ্জক হলেও মুদ্রানীতি এখনো অনেকটা সতর্ক।
আশা করা যায়, প্রস্তাবিত বাজেটের সঙ্গে মিল রেখে আগামী মুদ্রানীতিও খানিকটা সম্প্রসারণমূলক হবে। তাহলে ৭ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য খুব একটা বড় হবে না।

অনেকে প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ মনে করলেও আসলে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা। আড়াই লাখ কোটি টাকার বাজেটে কিছু প্রণোদনা ও পুনর্বণ্টনমূলক ব্যবস্থা থাকলেও এটি আসলে অর্থনীতিতে শুধু গতির সূচনা করবে। বেসরকারি বিনিয়োগের মূল দুটো সমস্যা অবকাঠামো আর জ্বালানি-সংকটের টেকসই সমাধানের ব্যাপারে ৮০ হাজার কোটি টাকার এডিপিতে দৃঢ় পদক্ষেপের ইঙ্গিত নেই। এর প্রধান কারণ হলো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) আগামী অর্থবছরেও মূলত গতানুগতিক থাকবে—এখানে নিম্ন অভিঘাতসম্পন্ন প্রকল্প থেকে উচ্চ মানসম্পন্ন মধ্যমেয়াদি সরকারি বিনিয়োগ কর্মসূচিতে উত্তরণের কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। তাই টাকা অনেক বিশাল দেখালেও এডিপি মূলত একটি সম্প্রসারণশীল গহ্বরে বিলীন হবে বলে আশঙ্কা হয়। এডিপি বরাদ্দের ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে এবং ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দেওয়া হলেও তা মরুর বুকে কয়েক ফোঁটা পানির মতোই হয়তো সাময়িক কাজ করবে। আগামী অর্থবছরে অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে না বলে ৭ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি উচ্চাকাঙ্ক্ষা হিসেবেই থেকে যেতে পারে। ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডর থেকে জিডিপির অর্ধেকের মতো হলেও এ মহাসড়কটি এ পর্যন্ত ছয় লেনে উন্নীত করার কথা চিন্তাই করা হচ্ছে না। অতি লোভে সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রের অকালপ্রয়াণ হয়েছে বলে চট্টগ্রাম শিল্পাঞ্চল গ্যাস-সংকটে ধুঁকছে। এসব সংকট সমাধানের উদ্যোগ বাজেটে নেই।
অন্যদিকে, অর্থমন্ত্রী অবশ্য দেরিতে হলেও যথাযথই বলেছেন যে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহে আয়করই আমাদের ভবিষ্যৎ। অনেক দিন ধরেই আমাদের আয়বৈষম্যের মাত্রাটি অনেক উঁচু এবং বেশ চেষ্টা-তদবির সত্ত্বেও খুব একটা নিচে নামছে না। তাই আয়ের এই বিরাট অসমতা এবং অল্পসংখ্যক লোকের হাতে ব্যাপক সম্পদ জমা হওয়ার প্রবণতা হ্রাস করতে ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি ব্যক্তিগত আয়ের ওপর একটি অতি-আয়কর ধার্য করেছেন তিনি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো আসে মূলত আমাদের ‘ধারণা’ ও জনপ্রিয় দাবিগুলো থেকে—করের অভিঘাত ও নিট সামাজিক উপকারের বিশ্লেষণ থেকে নয়। এতে উঁচু আয়-অসমতা ও অর্থনীতিতে অন্যান্য ব্যাধি স্থায়ী হচ্ছে। আমাদের আয়কর কাঠামো অনেক দিন ধরেই অধোগতিশীল। প্রস্তাবিত নতুন আয়কর কাঠামোও একে বদলে দেবে না। এতে মধ্যম আয়ের নাগরিকেরা বেশি হারে কর দেবেন এবং উঁচু আয়ের মানুষ আয়কর দেবেন কম হারে। অন্যদিকে, বেশির ভাগ উচ্চমধ্যবিত্ত ব্যক্তি মোট কর দেবেন প্রগতিশীল করের চেয়ে অনেক কম।
কেন্দ্রীয় থেকে স্থানীয় পর্যায়ে বাজেট বরাদ্দের কার্যকর প্রবাহ আঞ্চলিক অসমতা দূর করার এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আদায়ে একটি পূর্বশর্ত। এটি উঁচু প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হিসেবেও কাজ করে। মধ্যমেয়াদি বাজেটকাঠামো ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮-তে স্থানীয় সরকার বিভাগের বাজেটের সিংহভাগ আগামী অর্থছরের বাজেট থেকে স্থানীয় সরকার ইউনিটগুলোয় যাওয়ার কথা ছিল, যাতে তারা যে উন্নয়ন ব্যয় করবে, তা আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়। প্রস্তাবিত বাজেট এ প্রতিশ্রুতি থেকে পুরোপুরি সরে গেছে। এতে বিকেন্দ্রায়ণ ও স্থানীয় সরকার শুধু নিরুৎসাহিতই হবে না, বরং স্থানীয় উৎস থেকে আয় এবং টেকসই স্থানীয় উন্নয়ন অনেকটাই শ্লথ হয়ে পড়বে। দেশের উত্তর-দক্ষিণ ব্যবধান আরও প্রকট হবে।
স্বপ্নের প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য তাই দরকার বেসরকারি বিনিয়োগে একটি দৃশ্যমান উল্লম্ফন, অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে টেকসই ও উঁচু মানের সরকারি বিনিয়োগ কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক অসমতা হ্রাস। অবশ্য প্রথমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হবে। প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁুজিবাজারের জন্য কিছু সুবিধা ঘোষণা করার তাৎক্ষণিক ফল আমরা দেখতে পেয়েছি। আগামী অর্থবছরে প্রত্যাশিত বেসরকারি বিনিয়োগে আস্থার বিষয়টি অবশ্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও অনেকখানি নির্ভর করবে।
তাই আগামী অর্থবছরের বাজেটে নির্বাচনের পরবর্তী অর্থবছরের সুবিধাগুলো নেওয়ার বার্তাটি দেওয়ার দরকার ছিল। আমাদের দেশে অতীতে সব সময়ই এ বছরটি প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ–সহায়ক ছিল। অর্থমন্ত্রী অবশ্য এ বিষয়ে বাজেট পাস হওয়ার আগেই অতিরিক্ত আরও কিছু ঘোষণা দিতে পারেন। সবাইকে অবশ্য মনে রাখতে হবে যে ধ্বংস কখনো অর্থনীতি ও সমাজের জন্য ভালো ফল বয়ে আনে না। আর এটি অর্থনীতির সহজাত অন্তর্নিহিত শক্তিকে ধ্বংস করলে তার পরিণাম সবাইকে ভোগ করতে হয়।
ড. মাহফুজ কবীর: অর্থনীতিবিদ ও গবেষক।
mahfuzkabir@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাষ্ট্র ও শিক্ষা- উচ্চশিক্ষায় নানামুখী সংকট by আবদুল মান্নান

আগের লেখায় আমি কেন নারায়ণগঞ্জ নিয়ে কিছু উল্লেখ করিনি, তার জন্য অনেকে সমালোচনার নামে আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। তাঁদের বোঝা উচিত, আক্রমণ আর সমালোচনা এক জিনিস নয়। যাক, সেটি অন্য প্রসঙ্গ। সময়মতো সেই সভায় উপস্থিত হয়ে কিছুটা বিস্মিত হই, কারণ কদাচিৎ কোনো সভায় এত বিশিষ্টজনের উপস্থিতি দেখেছি। যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের অনেকের সঙ্গেই রাজনীতিরও তেমন সম্পর্ক নেই। অধ্যাপক রেহমান সোবহান, অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক অনুপম সেন, অধ্যাপক হারুন উর রশিদ, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, লেখিকা সেলিনা হোসেন—কেউ বাদ যাননি।
তাঁদের অনেকেই বিভিন্ন সময় সরকারের নানা কাজের সমালোচনা করেন। কদিন আগে অনুজপ্রতিম মুহম্মদ জাফর ইকবাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ করেছেন। অনেকেই মনে করেছিলেন, শিক্ষামন্ত্রী এই সভা সম্ভবত এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য আহ্বান করেছেন। সভায় উপস্থিত থেকে বুঝতে পারলাম, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচিত হলেও শিক্ষার অন্য দিকগুলোও বাদ যায়নি। অভিজ্ঞতা বলে, সব আওয়ামী লীগ সরকারই শিক্ষাবান্ধব ছিল। প্রাইমারি শিক্ষকদের সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা দেওয়া থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কলেজ, চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন, কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানো, বছরের শুরুতে বিনা মূল্যে প্রায় ৩১ কোটি বই স্কুলশিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া—এসব কাজই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হয়েছে। তবে কেউ যদি মনে করেন যে এই কাজগুলোর সবটাই শতভাগ সঠিকভাবে হয়েছে, তাহলে তা সত্যের অপলাপ হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, সরকারের সদিচ্ছা ছিল কি না।
সেদিন শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হলেও সব বিষয়ে স্বল্প পরিসরে পত্রিকার পাতায় আলোচনা করা সম্ভব নয়। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই, কারণ এই পর্যায়ে শিক্ষার সঙ্গে আমি নিজে চার দশকের বেশি সময় ধরে সম্পৃক্ত। সেটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা। বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয়, তখন দেশে শুধু ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল, যার মধ্যে বিশেষায়িত ছিল দুটি। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংখ্যা ২০ হাজারের বেশি নয়। বর্তমানে দেশে ৩৬টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আর ৭৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এ ছাড়া দেশের গাজীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং চট্টগ্রামে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন নামে দুটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। বাংলাদেশ মঞ্জুরি কমিশনের (বিমক) ২০১২ সালের হিসাবমতে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এক লাখ ৯৭ হাজার ২৭৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করেন, যার মধ্যে ৪৫ শতাংশ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ৫৫ শতাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাদে)। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার যে চরম সংকট চলছে, তা নিয়ে সেদিন কিছু আলাপ হলেও তা অসম্পূর্ণ ছিল৷ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার সংকট সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উভয় ক্ষেত্রেই প্রকট।
একটা সময় ছিল, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা ছাত্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চাইতেন। সেটি এখন আর হয় না, কারণ বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক যে বেতন পান, তা অনেক ক্ষেত্রে একজন গাড়িচালকের বেতনের চেয়েও কম। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হলে তাঁর জন্য তাঁর সহকর্মীরা এক দিনের বেতন দেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে একটি পা হারিয়েছেন। তাঁর একটি কৃত্রিম পা সংযোজন করতে প্রায় এক লাখ টাকার প্রয়োজন। অর্থ–সহায়তা চেয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বরাবর আবেদন জানিয়ে অপেক্ষা করছেন। প্রায় সব দেশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন স্কেল আছে, নেই শুধু বাংলাদেশে। অন্য শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কারণ, তাঁরা মানুষ গড়ার কারিগর।
সম্প্রতি এডিবি প্রকাশিত জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সূচকের তলায় আছে বাংলাদেশ। আমাদের নিচে মিয়ানমার। এই সূচক আমাদের মানবসম্পদের মানের অবস্থা নির্ণয় করে। বাংলাদেশে অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ আছে, কিন্তু পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এক হাজার ৬৮৭টি কলেজ আছে, যার অনেকগুলোতেই মাস্টার্স পর্যায়ে শিক্ষাদান করা হয়, কিন্তু এসব কলেজে না আছেন কোনো উন্নত মানের শিক্ষক, না আছে কোনো গ্রন্থাগার অথবা পরীক্ষাগার। আমার সুযোগ হয় পাবলিক সার্ভিস কমিশন পর্যায়ে মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে বসতে। গড়ে সেখানে যে মানের প্রার্থীরা হাজির হন, তা রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো। শিক্ষার্থীদের এই অজ্ঞতার দায়ভার তো তাঁদের নয়; বরং তাঁদের শিক্ষকদের তথা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। শিক্ষক না শেখালে শিক্ষার্থী কোথা থেকে শিখবে? এসব কলেজের অধিকাংশই বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রাজনৈতিক বিবেচনায়। আবার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নত মানের শিক্ষক না পাওয়ার কারণ অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অথবা সংশ্লিষ্ট বিভাগের কতিপয় শিক্ষক। এই শিক্ষকদের অনেকেই নির্বাচনী বোর্ডে অথবা বিভাগের পরিকল্পনা কমিটিতে থাকেন। তাঁদের সব সময় চেষ্টা থাকে, কীভাবে তাঁদের অনুগত একজন অযোগ্য ব্যক্তিকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বিভাগের বারোটা বাজানো যায়। এ রকম একাধিক শিক্ষককে প্রায়ই দেখি বিভিন্ন টিভির টক শোতে জাতিকে নসিহত করছেন।
অন্যদিকে আছে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পৌনঃপুনিক বাজেট বরাদ্দে সব সরকারেরই ভয়াবহ কৃপণতা। গত ৪০ বছরে এই পর্যায়ে বরাদ্দের পরিমাণ শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দের এক ভাগের বেশি কখনো হয়নি। সরকার বলে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজস্ব আয় বৃদ্ধি করতে হবে। তা কী উপায়ে সম্ভব, তা বলা হয় না। কোনোভাবেই ছাত্রদের বেতন বাড়ানো সম্ভব নয়। দুই টাকা বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে উপাচার্যের জীবন নিয়ে টানাটানি শুরু হয়। একশ্রেিণর ছাত্র মনে করেন, শিক্ষা কোনো দান নয়, তাঁদের অধিকার। কিন্তু এই কথাটি প্রাইমারি বা সেকেন্ডারি শিক্ষার বেলায় শতভাগ সত্য, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নয়৷ উচ্চশিক্ষা সব সময় নির্বাচিতদের জন্য। সরকারের উচিত কারিগরি শিক্ষায় যতটুকু সম্ভব ভর্তুকি দিয়ে সেই শিক্ষাকে উৎসাহিত করা আর যাঁরা মেধাবী কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়ার মতো সক্ষমতা নেই, তাঁদের নিখরচায় পড়ার সুযোগ করে দেওয়া। যে ছাত্রটি পকেটে অর্ধলক্ষ টাকার স্মার্টফোন নিয়ে ঘোরেন, তাঁকে কেন ২০ টাকা মাসিক বেতনে পড়তে দিতে হবে?
এ তো গেল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা। গত দুই দশকে দেশে ৭৯টি বেসরকারি পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। এটি ভালো লক্ষণ৷ তবে এখানের সমস্যাগুলো ভিন্নমাত্রার। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সত্যিকার অর্থেই সার্টিফিকেট-বাণিজ্য করে, কিন্তু তাদের আইনের আওতায় আনার সক্ষমতা বিমকের নেই। এই ঢাকা শহরেই একাধিক হাইপ্রোফাইল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, বাজারে যাদের প্রচুর ‘সুনাম’। কিন্তু কজনে জানেন এগুলোর অনেকটাই ‘ওপরে ফিটফাট, ভেতরে সদরঘাট’? এ অবস্থার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী এগুলোর প্রতিষ্ঠাতারা, যাঁরা একটি মুদি দোকান আর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে অক্ষম। তবে এসবের পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া বেশ কটি মানসম্পন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে, তা স্বীকার করতেই হবে।
সরকার ২০১০ সালে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়ন করেছে। তার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। কিন্তু এই আইনে অনেক অসংগতি রয়েছে। বাংলাদেশে জমির পরিমাণ যেখানে এমনিতে কম, সেখানে বলা হয়েছে যে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য এক একর অখণ্ড জমি থাকতে হবে। এটি একেবারেই একটি অপ্রয়োজনীয় ধারা। বিশ্বের সব দেশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ছাত্র অনুপাতে বর্গফুট মাপা হয়, জমির পরিমাণ নয়। কদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের সময় তাঁর সঙ্গে জাপানের দ্বিতীয় পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয় ওসাদায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ হাজার ছাত্র আর সাড়ে ছয় হাজারের ওপরে শিক্ষক আছেন। সেই বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, কোনো এক একর জায়গার ওপর নয়। সরকার বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশে বৈষম্যমূলক শর্তে শাখা ক্যাম্পাস অথবা কোচিং সেন্টার খোলার অনুমতি দিয়েছে। এটি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে। এসব বিষয়ে সেদিনের সভায় কম-বেশি আলোচনা হয়েছে৷ তবে তা কতটুকু ফল বয়ে আনবে, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় আর সরকারের ওপর নির্ভর করে।
শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন থাকবে, তাঁর সেদিনের ডাকা সভাটি যেন নিষ্ফল না হয়, সেদিকে তিনি লক্ষ রাখবেন।
আবদুল মান্নান: সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্যাংককের পরিচ্ছন্নতা, নীরবতা by মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী

এখানকার মানুষ প্রচণ্ড কর্মপাগল, পরিশ্রমী। ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের লাখো লাখো পর্যটক থাইল্যান্ডকে প্রাণবন্ত রাখেন। ব্যাংকক ইউরোপীয় কোনো শহর না হয়েও এখন অভাবনীয় উন্নতির শিখরে। নগরের কোনো কোনো অংশের পরিচ্ছন্নতা ও নীরবতা ইউরোপীয় শহরগুলোর সমতুল্য। নগরবাসীর মধ্যে থুতু ফেলার সংস্কৃতি নেই। খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এটা। অথচ ঢাকার অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে সর্বত্র থুতু ফেলার কী বিশ্রী প্রবণতা! শিক্ষিত কি অশিক্ষিত, এ নোংরা অভ্যাস অনেকের মধ্যে সংক্রমিত। শীতকালে কফ-থুতুর রাজত্বে ঢাকার রাস্তায়-ফুটপাতে পথচলা দায়। অথচ হাজারো রোগ-জীবাণুর বাহক এ কফ-থুতু।
ব্যাংকক শহরের ফুটপাতে প্রত্যুষ থেকে রাত অবধি রকমারি খাবার বিক্রি হয়। এখানকার কর্মজীবীরা রান্নার সময় পান না। গৃহস্থালি রান্নার অবকাশ খুবই কম। এমনকি ইদানীং নতুন অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে রান্নাঘরই রাখা হচ্ছে না। প্রতিটি দোকানি প্লাস্টিক-পলিথিনে যার যার বর্জ্য সংরক্ষণ করছে এবং যথাসময়ে ও যথাস্থানে এ বর্জ্য চলে যাচ্ছে পুনঃ চক্রায়ন–প্রক্রিয়ায়। খাবার বিক্রির সময় সবার হাতেই গ্লাভস পরা। ধুলাবালির যন্ত্রণা বা মশা-মাছির উপদ্রব নেই। উন্মুক্ত স্থানে প্রতিটি খাবার স্বাস্থ্যসম্মতভাবেই তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা শিক্ষিত বা অশিক্ষিত যা-ই হোক, প্রত্যেকে ভীষণ স্বাস্থ্য ও পরিবেশ–সচেতন। ব্যাংকক শহরজুড়ে চলছে বহুতল ভবনের নির্মাণযজ্ঞ। কিন্তু অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। ভবনের ধুলা বা প্রস্তরখণ্ড মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত বা বিপন্ন করছে না। অথচ ঢাকায় আবাসন প্রকল্পের শান্তি হরণকারী উৎপাতে মানুষের রাতের ঘুম হারাম হচ্ছে। রাস্তা পারাপারের প্রয়োজন হলে গাড়ির চালকেরা দূর থেকেই পথচারীদের জন্য গাড়ি থামিয়ে দিচ্ছেন। পথচারী ও গাড়ির মধ্যে প্রতিদ্বিন্দ্বতা নেই, একে অপরের প্রতি হুমড়ি খেয়ে পড়ার প্রতিযোগিতা নেই। মানুষের প্রতি মানুষের কী আশ্চর্য সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও পরিপূরকতা।
পথচারীদের হাতে হাতে পলিথিন ভরা খাবার, আইসক্রিম, স্ন্যাকস। কিন্তু কোথাও খোলা ডাস্টবিন নেই, এক টুকরা বর্জ্য নেই, নেই খোলা ড্রেন। ফুটপাতে-রাস্তায় মানুষের চলাচলে কী অনাবিল শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তা! জাতিসংঘসহ পৃথিবীর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তাদের অধিকাংশ সভা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের জন্য এশিয়ার সর্বোত্তম স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে ব্যাংকক শহরকে। শান্তি, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা ব্যাংকককে আকর্ষণীয় করেছে পর্যটকদের জন্য। এ কারণে থাই অর্থনীতির প্রাণ এ পর্যটন ব্যবসা। ট্যাক্সি বা গণপরিবহনেও অদ্ভুত শৃঙ্খলা-নিরাপত্তা। ট্রাফিক পুলিশের লাঠির শাসন নেই। সিগন্যালেই সব নিয়ন্ত্রণ। প্রযুক্তিতেই সুরক্ষা। রাজপথে দৃষ্টান্তমূলক আইন মান্যতা এবং আনুগত্যশীলতা। রাজপথে বা ফুটপাতে হইচই, ঝগড়াঝাঁটি-উৎপাত নেই। কেউ কারও দিকে তাকানোর ফুরসত নেই।
ব্যাংকক শহরের বিশাল বিশাল অট্টালিকা, হোটেল আর আবাসন প্রকল্পের সবখানে সবুজের সমারোহ। প্রতিনিয়ত পরিবেশকে সযত্নে রক্ষা করা হচ্ছে। সর্বত্র সবুজ বৃক্ষে সাজানো কিংবা একখণ্ড শোভনীয় বাগান বা সবুজের আচ্ছাদন দিয়ে ভবন গড়ে তোলা হয়েছে। নগরের সঙ্গে প্রকৃতির কী অন্তরঙ্গতা, ঘনিষ্ঠতা। কড়া রোদ অথচ দহন নেই, উত্তাপ নেই। হাস্যোজ্জ্বল প্রগাঢ় ভালোবাসা প্রতিটি নাগরিকের চেহারাজুড়ে। আচরণে বিনয়-নম্রতা মুক্তার মতো ছড়িয়ে আছে। সদাচরণের সঙ্গে জুড়ে আছে নির্মল মানসিকতা। এভাবে একটি জাতি ধাপে ধাপে এগিয়ে বিশ্বমানচিত্রে তাদের ঈর্ষণীয় অবস্থানে উন্নীত করেছে! তীর্থযাত্রীদের মতো ঢল স্থানীয় বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশীয়দের যেন মিলনমেলা। দিনরাত রোগী ও তাদের আপনজনদের পদচারণে হাসপাতালটি মুখর অথচ পরিবেশ অসাধারণ পরিচ্ছন্ন। উষ্ণ অাতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবায় ব্যাংকক বিশ্ববাসীর মন জয় করেছে। ব্যাংকক নগরের মাঝখানে প্রবাহিত একটি বড় খাল। দখল বা দূষণের বিন্দুমাত্র ছাপ নেই। অথচ দুই পাশ জুড়ে মনোরম বৃক্ষরাজি, সুদৃশ্য ভবন।
থাইল্যান্ডে ছয় মাস ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও নগরজীবনকে তার বিন্দুমাত্র উত্তপ্ত করেনি। বাংলাদেশ শিক্ষায়, প্রযুক্তিতে ও প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আচরণে ও পরিচ্ছন্নতায় আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে। ব্যাংককের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আসা কিরগিজস্তানের এক ভদ্রমহিলা ঢাকায় বিশ্বব্যাংকে তিন বছর চাকরি করার সুবাদে মন্তব্য করলেন, ‘মানুষের চেঁচামেচি ও ধুলার কারণে ঢাকা আমার ভীষণ অপছন্দ।’ আমাদের নাগরিক জীবনে কেন ভদ্রতা-নম্রতা ও পরিচ্ছন্নতার অভাব? চিন্তাচেতনা-মানসিকতা ও আচরণে কেন আমরা পরিচ্ছন্ন হতে পারছি না? সরকার একা কিছু করতে পারে না। পুলিশিং করে এবং শাস্তি দিয়েও কোনো জাতির পরিবর্তন আসে না। এ জন্য প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির উন্নয়ন, অভিরুচির পরিবর্তন এবং বিবেকবোধের জাগরণ।
মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মিল্ক ভিটা৷
mmunirc@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হুয়ান ইং মেং জিয়া লা- চীনে স্বাগত বাংলাদেশ by আলমগীর স্বপন

এতক্ষণ চীনা ব্যবসায়ী টেংয়ের সঙ্গে আলাপের যে সারবস্তু তুলে ধরলাম তা শুধু এই বিলিওনিয়ারের বিনিয়োগ ভাবনাতেই সীমাবদ্ধ নয়। চীনা ব্যবসায়ীদের একটি অংশ এখন বাংলাদেশকে বিনিয়োগের অন্যতম উপযোগী দেশ মনে করে। কম মজুরি, কর্মক্ষম জনশক্তি আর আকর্ষণীয় মুনাফা এক্ষেত্রে তাদের টানছে বলে মনে করেন তরুণ ব্যবসায়ী স্টিভেন ঝ্যাং। ফোরামের ভোজসভায় ঝ্যাং এসেছিলেন তার বাবাকে নিয়ে। বাংলাদেশের সাংবাদিক দেখে এগিয়ে এলেন। জানালেন, বাংলাদেশে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রাজুয়েশন শেষ করেছেন। এরপর বসে থাকেননি। বাংলাদেশেই ব্যবসা জমিয়েছেন। গার্মেন্ট, টেক্সটাইল, সি ফুড, পাট ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করছেন বাংলাদেশ থেকে। এরই মধ্যে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি করেছেন। ঝ্যাং জানালেন, তাদের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিনিয়োগের পরিস্থিতি যাচাই করতে চীনের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে প্রতি মাসে ৫ থেকে ১০টি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে যাচ্ছে। তার কথা শুনে চীনের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড টেক্সটাইল কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির সদস্য রোজা ডাডা নিজের উচ্ছ্বাস ঢেকে রাখলেন না। তিনি বাংলাদেশে এক বছর ছিলেন। তার অভিজ্ঞতায় জানালেন, ‘গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর হলে তোমাদের দেশ (বাংলাদেশ) আরও এগিয়ে যাবে, হয়ে উঠবে এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি।’
চীনা ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশার এই মানদণ্ডেই বিশ্লেষণ করতে চাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর। সেক্ষেত্রে প্রত্যাশার পারদ যে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বগামী সেই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের প্রস্তাবটি প্রথমে আলোচনায় চলে আসে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে চীন। চীনা কোম্পানি চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং এক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগেও রাজি। সে অনুযায়ী বাংলাদেশের বিনিয়োগ হবে মাত্র ২০ ভাগ। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের আগে জেনেছিলাম, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং ও শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এক্ষেত্রে যৌথ ঘোষণা আসতে পারে। তবে এ প্রত্যাশা আর বাস্তব রূপ নেয়নি দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে। এ নিয়ে আমরা সফরেই জানতে চেয়েছিলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের কাছে। তারা জানিয়েছেন, যৌথ ঘোষণা হবে সরকার কখনও এমনটা বলেনি। কারণ গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেদারল্যান্ডস ও জাপানের প্রস্তাবও বিবেচনায় নিতে চায় বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ আগে দেখা হবে। তাই দুই প্রধানমন্ত্রীর মাঝে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এক্ষেত্রে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তবে চীনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে গিয়েছিলেন এমন একজন ব্যবসায়ী মনে করিয়ে দিলেন ভিন্ন এক তথ্যও। তিনি বলেন, চীন এরই মধ্যে মিয়ানমারে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে বিনিয়োগ করেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় পছন্দ। তাই চীন তার স্বার্থে হিসাব-নিকাশ করেই এক্ষেত্রে বিনিয়োগ করবে। এজন্য গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের বিষয়ে সহসাই সিদ্ধান্ত আসছে না বলে আশংকা তার। তবে এ নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনায় যেন বন্দর ব্যবহারের ওপর জোর দেয়া হয়। কারণ যে দেশই বন্দর নির্মাণ করুক না কেন, নির্দিষ্ট হারে পণ্য পরিবহনের বিষয়টি যেন চুক্তিতে থাকে- এ কথা বলতে ভুললেন না তিনি।
গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রস্তাব নিয়ে সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি না হওয়া বাংলাদেশের জন্য কতটা ভালো বা মন্দ হয়েছে সেই হিসাবে না গিয়ে বলা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরে বাংলাদেশের প্রাপ্তিও কম নয়। বিশেষ করে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণে চীনের সহায়তা আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর মধ্যরাতের কূটনীতিতে মুন্সিয়ানা ছিল। চীনের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে দুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও লি কেকিয়াংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বিকালের দিকে আমাদের জানানো হয়েছিল দুটি চুক্তি, একটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি লেটার অব এক্সচেঞ্জ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের বিষয়টি ছিল না। কিন্তু পরে নৈশভোজে শেখ হাসিনা লি কেকিয়াংয়ের কাছে টানেলের বিষয়টি তুলে ধরেন। আর এতে ইতিবাচক সাড়া পান চীনা প্রধানমন্ত্রীর। পরে স্থানীয় সময় রাত ১২টায় এ নিয়ে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। টানেল নির্মাণে চীন সহজ শর্তে ১০০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেবে আর তা নির্মাণ করবে চীনের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা করেন, দ্রুত এই টানেল নির্মাণের কাজ শুরু করা যাবে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় যে চুক্তি হয়েছে সেজন্যও টানেলটি গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে চীনা উদ্যোক্তারা বাণিজ্য ও বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে। এছাড়া চীন অর্থ সহায়তা দেবে রাজশাহীতে ওয়াসার পানি শোধনাগার প্রকল্প, ন্যাশনাল আইসিটি ইনফ্রা নেটওয়ার্ক প্রকল্প, চট্টগ্রামের কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর উপর দ্বিতীয় রেল-সড়ক সেতু নির্মাণ ও ইস্টার্ন রিফাইনারি এবং সিঙ্গেল মুরিং প্রকল্পে। আর পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে চীনের অর্থ সহায়তা বাংলাদেশের জ্বালানি সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এর আগে প্রতিবছর চীন বাংলাদেশকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিত। এবার তা দ্বিগুণ হয়েছে। এখন থেকে চীন ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান সহায়তা দেবে।
এ সফরে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর স্থাপনের বিষয়টিও। চীন সরকারের উদ্যোগে এ করিডোর বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে বাংলাদেশের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন চীনা প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম-রামু-কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের গুনধুম সীমান্ত পর্যন্ত দ্বৈতগেজ রেললাইন স্থাপনে চীন ৯২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তাও দেবে। আগামী সেপ্টেম্বরে চার দেশের যৌথ সমীক্ষা গ্র“পের সভা হবে কক্সবাজারে। বাংলাদেশ আশা করে, চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার ও ভারত হয়ে চীনের কুনমিংয়ের সঙ্গে সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপন হলে এক ইউরোপের মতো এক এশিয়ার স্বপ্ন অনেকটা এগিয়ে যাবে।
চীন সফরে আলোচনায় ছিল দু’দেশের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি। ২০১২-১৩ সালে চীন বাংলাদেশে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার পণ্য রফতানি করেছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশের রফতানি মাত্র ৪৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বিশাল ঘাটতি কমাতে পাট ও পাটজাত পণ্যে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্র“তি পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশের চিত্র তুলে ধরেন। এতে চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহও দেখা গেছে। তবে এ আগ্রহ ধরে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়েছেন চীনের ব্যবসায়ীরা।
তাই চীন ‘হুয়ান ইং মেং জেয়া লা’ বলে অর্থাৎ ‘বাংলাদেশকে স্বাগত’ জানালেও সম্পর্কের এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। চীনের তিয়েন আন মেন স্কয়ারে বাংলাদেশ-চীনের পতাকা যেভাবে উড়তে দেখেছি, সৌহার্দ্যরে যে বাতাবরণ দেখেছি, কূটনীতি ও অর্থনীতির পাটাতনে তার হিসাব-নিকাশ করতে হবে। আবেগে নয়। দু’দেশের ভাষায় বিস্তর পার্থক্য। পার্থক্য আছে সংস্কৃতি-আচরণেও। আকাশ-পাতাল ফারাক আছে উন্নয়নের ধরন-ধারণ এবং এগিয়ে যাওয়ার কৌশলেও। কিন্তু এতসব পার্থক্য ঘুচে যায় বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও অর্থনীতির কারণে। তাই চীনের কাছে বাংলাদেশের এই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হয়ে ওঠার সুযোগ নিতে হবে সরকারকে। সেক্ষেত্রে সরকারের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করবে সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের অগ্রগতি।
আলমগীর স্বপন : সাংবাদিক
alm-swapn@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
June
(460)
-
▼
Jun 21
(31)
- বিহারি বস্তিতে আগুন- বাঙালির নামে, মুসলমানের নামে ...
- তিন বছরেও মুক্তি পেল না শায়না অভিনীত 'পুত্র এখন পয়...
- শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস: রগ কাটা থেকে গোড়ালি by প্রত...
- ‘আওয়ামী লীগের মুখোশ’ by সোহরাব হাসান
- শুধু নির্বাচন সুশাসন নিশ্চিত করবে না by মুহাম্মদ জ...
- সাংসদদের বাড়ি আর গাড়ি by আলী ইমাম মজুমদার
- বিজয় মেনেছি, আকাঙ্ক্ষা ছাড়িনি by পবিত্র সরকার
- ভারত- প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের পুনরুজ্জীবন by ...
- ইরাক- উপদলীয় কোন্দলে মার্কিন মদদের খেসারত by রামজ...
- মোদিকে নিয়ে আশা ও শঙ্কা by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
- ভাঙা জানালায় প্রবৃদ্ধির সুবাস by মাহফুজ কবীর
- রাষ্ট্র ও শিক্ষা- উচ্চশিক্ষায় নানামুখী সংকট by আব...
- ব্যাংককের পরিচ্ছন্নতা, নীরবতা by মোহাম্মাদ মুনীর ...
- হুয়ান ইং মেং জিয়া লা- চীনে স্বাগত বাংলাদেশ by আলমগ...
- অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন সহযোগিতার কূটনীতি প্রয়োজন ...
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে by আনিসুল হক
- এখানে সোনা ওখানে লাশ, শাবাশ! শাবাশ! by ফারুক ওয়াসিফ
- সেক্স খেলার জন্য ক্ষতিকর! কসরতি সেক্সে স্কলারির না
- রংপুর- পরিকল্পনাহীন উন্নয়নকাজ by তুহিন ওয়াদুদ
- ছবির হাট উচ্ছেদ- সেই ছবি সেই পতাকা কই? by আহমেদ মু...
- অনন্য সাংবাদিক মাহবুবুল আলম by সৈয়দ জিয়াউর রহমান
- দেহ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছ...
- চিলির বিজয় যেভাবে উদযাপন মারলেনের
- ইরাকে মালিকির সময় কি শেষ?
- এই বর্বরতার ব্যাখ্যা কী?
- শরণার্থীর সংখ্যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ
- একতরফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের
- আমারি বধুয়া আঁন বাড়ি যায়
- To Be Thin Again- donteatcows:
- ‘আওয়ামী লীগের মুখোশ’
- রমজানে দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ চাই
-
▼
Jun 21
(31)
-
▼
June
(460)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...