Friday, May 17, 2013

অপারেশন ফাশ আউট- লোক কথা by ফরহাদ মজহার

নাম দেয়া হয়েছিল ‘অপারেশান ফাশ আউট’Ñ অর্থাৎ হেফাজতিদের শহর থেকে টিয়ার গ্যাস ছুড়ে গুলি মেরে বোমা ফাটিয়ে যে ভাবেই হোক তাড়িয়ে দিতে হবে। শহর সাফ করতে হবে। শহর ধনী ও বড়লোকদের জায়গা। ভদ্রলোকদের নগর। সুশীলদের রাজধানী।

সঠিক ইতিহাস আর ‘শেখা না-শেখা’

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর বাংলাদেশ সফরের পর সংলাপ-সংলাপ খেলা প্রায় ফাইনাল রাউন্ডে পৌঁছে গেছে বলে মনে হচ্ছে। তাঁর সফর, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক, সংবাদ সম্মেলন ইত্যাদি সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে। ১৪ মের প্রথম আলোর প্রধান শিরোনামও ছিল এই তারানকোর সংলাপসংক্রান্ত আহ্বান। অন্য অনেক সংবাদপত্রও কমবেশি গুরুত্ব দিয়ে এই সংবাদটি ছাপিয়েছে। কলাম লেখা হয়েছে, হচ্ছে (অর্থাৎ অধমের এ কলামসহ) টক শোতে সংলাপকে অবিরাম কচলিয়ে কচলিয়ে লেবু-তেতো করার মতো কর্মযজ্ঞ চলছে। অধমও এই ‘সংলাপ লেবু কচলানো কর্মে’ নিয়োজিত হয়েছি বার কয়েক। রাজনৈতিক নেতারাও প্রায় বিরামহীনভাবে এখন  সংলাপ-সংলাপ ধ্বনি তুলছেন। সংলাপ-সংলাপ জিকির না হলেও অচিরেই সংলাপ নিয়ে কেউ কেউ নিশ্চয় ‘প্রতীকী আমরণ অনশনে’ লিপ্ত হবেন। আমাদের ‘হুজুগে বাঙালি’ তো আর এমনি এমনি বলে না। অধমও নিখাদ হুজুগে বাঙালি, না হলে এ লেখা নিশ্চয় লিখতাম না। অবশ্য শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক রেহমান সোবহানের কথা সম্পূর্ণ আলাদা। সারা জীবন যেভাবে জাতির কল্যাণের জন্য কাজ  করেছেন তত্ত্ব-বিশ্লেষণ আর লেখালেখি দিয়ে, তারই ধারাবাহিকতায় ১৪ মে, ২০১৩-তে প্রথম আলোতে কলাম লিখেছেন ‘ইতিহাস থেকে শেখা না-শেখা’ শিরোনামে। সেই গত শতাব্দীর ষাটের দশকের শেষের দিক থেকে তাঁদের (ড. কামাল হোসেন, হামিদা হোসেন, রেহমান সোবহান ও অন্যান্য) ফোরাম ম্যাগাজিন থেকে ১৪ তারিখের কলাম—প্রায় ৫০ বছর ধরে নিবেদিত লেখালেখি সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার ব্যাপার। তাঁর এই শেখা না-শেখা লেখায় নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে প্রায় সবকিছুই বলা হয়ে গেছে। শুধু জ্ঞানী লোকেরাই পারেন সব বড় বিষয় অল্প কথায় সেরে ফেলতে। অধমেরা পারে লেবু কচলাতে, বিরামহীনভাবে।
দুই
প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন উপলক্ষে, বিভিন্ন কথায় প্রকাশ্যে ‘সত্য ইতিহাসতত্ত্ব’-এর কথা বলে আসছেন। বারবার আহ্বান জানিয়েছেন ‘সত্য ইতিহাস’ বলার, লেখার আর শেখানোর জন্য। ইতিহাস বিকৃতি থেকে বিরত থাকার জন্য। হক কথা।
ইতিহাস বিকৃতির দায়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ বেশ কয়েকবার রিট ক্ষমতা ব্যবহারে স্বপ্রণোদিত হয়ে এবং রিট পিটিশনের ভিত্তিতে রুল জারি করেছেন, কারণ দর্শাতে বলেছেন। ইতিহাস বিকৃতির জন্য সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে অনেক অধ্যাপককে ‘সঠিক ইতিহাস’, ‘ইতিহাস বিকৃতি’ ইত্যাদি অতি জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ব্যাপারে মহামান্য বিচারপতির বক্তব্য, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ শ্রবণ করতে হয় সেই আদালতে উপস্থিত তলবপ্রাপ্ত ব্যক্তি, আইনজীবী, সাংবাদিকদের। এ-সংক্রান্ত রায়গুলো এখনো পড়া হয়ে ওঠেনি। ‘সঠিক ইতিহাস’সংক্রান্ত মহামান্য আদালতের ব্যাখ্যা সব ইতিহাসবিদকে গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। কারণ, খুব কম দেশেরই ইতিহাসবিদদের সুযোগ হয় সঠিক ইতিহাস কী, তা তাঁদের নিজ নিজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে তালিম নেওয়ার।
ঔপন্যাসিকদেরও নিজেদের বঞ্চিত বোধ করার কোনো কারণ নেই। যত দূর মনে পড়ে, মহামান্য আদালত প্রয়াত ঔপন্যাসিক লেখক হুমায়ূন আহমেদকেও তালিম দিয়েছিলেন কীভাবে সঠিক ইতিহাস উপন্যাসে সন্নিবেশ করতে হবে। হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশককে এখন খেয়াল রাখতে হবে যেন সঠিক উপন্যাস সন্নিবেশ না করে হুমায়ূন আহমেদের ইতিহাস বইটি পুনর্মুদ্রিত না হয়!
তথ্য আর ইতিহাসের মধ্যেও যে ছোট্ট একটু পার্থক্য আছে, সেটা কেউই খেয়াল করছে না। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনীর সঙ্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বাহিনীর যুদ্ধ হয়েছিল এবং সেই যুদ্ধে নবাবের বাহিনী পরাজিত হয়েছিল—এটা তথ্য। কেন পরাজিত হয়েছিল অর্থাৎ ঘটনার পেছনের কারণ, তার বিশ্লেষণ আর সেই বিশ্লেষণের জন্য অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত—সেটা হলো ইতিহাস। একটা ঐতিহাসিক ঘটনা বা পটপরিবর্তন কী কারণে হয়েছে তার বিশ্লেষণটা হলো ইতিহাস। ঘটনাটা ইতিহাস নয়, বিশ্লেষণটা হলো ইতিহাস। এবং একজন বিশ্লেষকের বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, কারণের বয়ান, যুক্তি ইত্যাদি অন্য বিশ্লেষক-ঐতিহাসিকের সঙ্গে মিলবে না। মিললে কোনো বড় ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে বই থাকত কুল্লে একটা। পলাশীর যুদ্ধ নিয়ে যত বই লেখা হয়েছে—বলা বাহুল্য, সব পড়িনি তবে ধারণা করছি—তার সব কটিতে যুদ্ধের তারিখ বলা হয়েছে একটাই, যেটা তথ্য। কিন্তু যুদ্ধের আগের পর্বের কারণ, প্রভাব ইত্যাদি বিভিন্ন ঐতিহাসিক নানাভাবে নিজ নিজ যুক্তিতর্ক দিয়ে উপস্থাপন করেছেন। তথ্য আর বিশ্লেষণের মধ্যকার পার্থক্যটা অনেকেরই অগোচরে থেকে গেছে। তাই বোধ হয় ‘সঠিক ইতিহাস’ নিয়ে এত মাতম।
তিন
এক বন্ধু মনে করিয়ে দিয়েছিল—ইতিহাসের শিক্ষা হলো, কেউ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না। নেওয়া সম্ভবও নয়। কারণ, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মতো, কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার হুবহু পুনরাবৃত্তি সম্ভব নয়। যেই ঘটনা ঘটে গেছে—পলাশীর যুদ্ধ—সেটাকে আজ আবার ঘটানো যাবে না। নবাবের বাহিনীর পরাজয়ের জন্য একমাত্র কারণ হিসেবে মীর জাফরকে চিহ্নিত করা যায়। কিন্তু সেটা প্রমাণ করার জন্য মীর জাফরের পরিবর্তে অন্য কোনো সেনাপতির অধীনে সেই পলাশীর যুদ্ধটা পুনর্মঞ্চায়ন সম্ভব নয়। অর্থাৎ ইতিহাসের
সম্পূর্ণ পুনরাবৃত্তি অসম্ভব। কাছাকাছি পুনরাবৃত্তিও অসম্ভব।
আর যেহেতু পুনরাবৃত্তি হবে না, সেহেতু শিক্ষা নেওয়ার কিছু নেই।
আমাদের এ বক্তব্য ‘সরলীকরণ’ দোষে দুষ্ট। অর্থাৎ কথাগুলো খুব বেশি বড় দাগে বলছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকে, আছে। তবে সেটা মুখ্য নয়, মুখ্য হলো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয় না। ইতিহাসচর্চা থেকে জ্ঞান বৃদ্ধি হয়, জ্ঞান কাজে লাগে। শেখার জন্যও কাজে লাগে।
সেই শেখাটা কাজে লাগাতে হলে কিছু জ্ঞান থাকতে হবে। সেই জ্ঞান না থাকলে ইতিহাস কাজে লাগে না।
ইতিহাস থেকে শেখা না-শেখার চেয়ে বড় কথা হলো ‘স্বার্থ’। রাজনীতি হলো ব্যক্তি-পরিবার-গোষ্ঠীর স্বার্থকেন্দ্রিক। স্বার্থের একটা উৎকৃষ্ট উদাহরণ আছে ১৫ মে, ২০১৩-এর ডেইলি স্টার পত্রিকার শেষ পাতার খবরে। রাজশাহীর মেয়রের তাঁর মেয়রকালীন মেয়াদে বার্ষিক আয় বৃদ্ধি করেছেন প্রায় আড়াই লাখ টাকা থেকে ৫৮ লাখ টাকায়। অর্থাৎ ২০০৮ সালে যখন তিনি মেয়র নির্বাচিত হন, তখন তাঁরই দেওয়া হিসাব অনুযায়ী তাঁর আয় ছিল বার্ষিক আড়াই লাখ টাকার কিছু কম। এ বছর ৫৮ লাখ টাকার কিছু বেশি। অবশ্য এই ৫৮ লাখ টাকার মধ্যে মেয়র হিসেবে পারিতোষিক পেয়েছেন ছয় লাখ টাকার কিছু বেশি। অর্থাৎ পাঁচ বছরে কমবেশি ২০ গুণ আয় বৃদ্ধি। তাঁর মতো সৌভাগ্যবান হলে ২০০৮ সালে রাজশাহীর যে রিকশাচালকের মাসে এক হাজার করে বার্ষিক আয় যদি ছিল ১২ হাজার, তাহলে সেই রিকশাচালকের ২০১৩-তে আয় হওয়ার কথা বার্ষিক প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
নির্বাচিত পদে যখন এত মধু, তখন সেই পদ কে ছাড়বে? বা কেন এমন কোনো ব্যবস্থা মেনে নেবে যে ব্যবস্থায় তাঁর পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ কিছুটা মাত্র হ্রাস পায়। অন্যদিকে ঠিক একইভাবে নির্বাচিত হয়ে আয় বৃদ্ধির বিরাট সম্ভাবনা যদি কোনো ব্যবস্থায় বাস্তবায়িত হওয়ার পথে বিন্দুমাত্র বাধার সৃষ্টি করে, সে ব্যবস্থা বিরোধী দল মেনে নেবে না।
নির্বাচনে জেতার জন্য সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে পছন্দের সাবেক বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টা করা, সংবিধান লঙ্ঘন করে (যে সংবিধান লঙ্ঘনের ব্যাপার রায়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল) আপিল বিভাগের বিচারপতিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা এবং শেষতক এসবের কোনো কিছুই যখন কাজে দিল না, তখন নিজ দলের রাষ্ট্রপতিকে প্রধান উপদেষ্টা করা—অর্থাৎ নিজ স্বার্থের জন্য যত অকাম-কুকাম করা সম্ভব, সবই করা। একইভাবে অন্য দলটি ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করে নিজ দলের অধীনে নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকার ব্যবস্থা তাঁদের দৃষ্টিতে পাকা করেছে। অর্থাৎ নির্বাচনে জেতার জন্য হন্যে হয়ে ওঠা—এ অবস্থা থেকে কেউ সরে আসবে না, সহজে।
স্বার্থসিদ্ধির পথে কোনো বাধা, কোনো অন্তরায় কেউই সহ্য করবে না। সংলাপে বসলে উভয় পক্ষকে কিছু ছাড় দিতে হবে। ছাড় দেওয়া মানেই নির্বাচনে নিশ্চিত বিজয়ের ব্যবস্থাপত্র থেকে কিছুটা হলেও সরে আসা বা পিছু হটা।
আর এখন নির্বাচনে হারা মানে নির্বাচনের পর সম্ভব-অসম্ভব নির্যাতন। এটা তো স্পষ্ট যে আগামী নির্বাচনে যে হারবে, তার ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা বর্তমান সময়ের চেয়ে একটু বেশিই হবে। কথাটা বললাম আলতোভাবেই।
অতএব সংলাপ-সংলাপ খেলা চলবে আরও দুই-তিন মাস। চিঠি চালাচালি, এজেন্ডা-ফেজেন্ডা, স্থান-সময়, প্রতিনিধি নির্বাচন এবং আনুষঙ্গিক আয়োজন, আলোচনা-সমালোচনা কলাম লেখা, টক শো ইত্যাদি বহুবিধ কাজে নিয়োজিত থাকতে হবে, নিঃসন্দেহে অন্তত রমজান মাস পর্যন্ত।
আশা, রমজান-ঈদে মাস দেড়েক বিরতি থাকবে। তারপর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ‘ফাইনাল শোডাউন’। এক পক্ষ দাঁড়িয়ে থাকবে,
অপর পক্ষ হবে কুপোকাত-ধরাশায়ী। সে সময়তক আমরা হয়ে যাব ব্যর্থ রাষ্ট্রের ক্ষত-বিক্ষত নাগরিক।
 ড. শাহদীন মালিক: অ্যাডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট; অধ্যাপক, স্কুল অব ল, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

হারানো অধিকার, হারানো জীবন

ঢাকার বাইরে, সাভারে রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে শত শত নারীর লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। তাঁদের মৃত্যুর বিবর্ণতার পিঠে উজ্জ্বল হয়ে ফুটে ছিল পরনের সালোয়ার-কামিজ আর শাড়ি। আর তখন রাজধানীতে ইসলামি চরমপন্থীরা বাস পোড়াচ্ছেন, দোকানপাটে লুটতরাজ চালাচ্ছেন এবং হামলা চালাচ্ছেন পুলিশের ওপর। তাঁদের প্রধান দাবি: একটি ইসলামি রাষ্ট্র, যেখানে নারীরা থাকবেন পুরুষ থেকে আলাদা। কিন্তু তাঁরা অনুধাবন করতে পারেননি যে এসব নারীর মাধ্যমে বাংলাদেশের মূল সম্পদ আসে। বাংলাদেশের মূল আয়ের উৎস পোশাকশিল্প। এর মাধ্যমে এক হাজার ৯০০ কোটি ডলার অর্জিত হয়। আর পোশাকশিল্পের বিশাল অংশজুড়ে রয়েছেন নারী-কর্মীরা। হাড়ভাঙা খাটুনির মাধ্যমে এসব নারী নিজের জীবিকার বাইরেও অনেকের জীবিকা টিকিয়ে রাখছেন; অথচ তাঁদের শ্রম-নিরাপত্তার রেকর্ড ভীতিকর।দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দুই নারীনেত্রীর মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। এর পরও দেশটি, যা আমার স্বদেশ, নারীর ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। ইসলামপন্থীরা ‘নাস্তিক ব্লগারদের’ ফাঁসির দাবিও তুলেছেন। এসব বিক্ষোভকারী ৮৪ জন ব্লগারের একটি তালিকা করে তাঁদের বিচার চাইছেন। অথচ বিক্ষোভকারীদের অনেকে কখনো ইন্টারনেটেই প্রবেশ করেননি। এই তালিকায় আরও নাম থাকতে পারত, কিন্তু রাজীব হায়দার নামের এক ব্লগারকে ইতিমধ্যে হত্যা করা হয়েছে। ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন আসিফ মহিউদ্দিন।
এই ব্লগারদের মাধ্যমেই অনুপ্রাণিত হয়ে শত শত তরুণ রাস্তায় নেমে চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। কিন্তু এ পথে নেমে তাঁরা নিজেরাই চরমপন্থীদের মতো আচরণ করছেন। যাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের সবার মৃত্যুদণ্ড দাবি করছেন তাঁরা। এখানে এসব তরুণ মূল জিনিস থেকে বিচ্যুত। তাঁদের কাছে এটা মনে হয়নি যে দোষী বা নির্দোষ সবার ক্ষেত্রে মানবাধিকার সমানভাবে প্রযোজ্য; এমনকি জঘন্য দুষ্কর্মকারীও একই সুযোগ পাবে।
রাজনৈতিক শ্রেণীর কথা আর কী বলব? প্রধান বিরোধী দল হিসাব-কিতাব করেই ইসলামপন্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েছে। তবে তা হয়েছে ক্ষীণদৃষ্টিসম্পন্ন বিপজ্জনক পদক্ষেপে। সরকারের ভূমিকা যা দেখা যাচ্ছে, তাতে বলছে একটা, করছে আরেকটা। সরকার একটি লৈঙ্গিক সমতার নীতি ঘোষণা করেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে যে আইন, তা বৈষম্যে ভরা। তারা ইসলামি চরমপন্থীদের দোষ দিচ্ছে, কিন্তু গ্রেপ্তার করেছে চারজন ব্লগারকে (মহিউদ্দিনসহ)। এ ছাড়া ‘ইসলামের বিরুদ্ধে নেতিবাচক বিষয়ে উসকানি’ দেওয়ার অভিযোগ এনেছে সংবাদপত্রের একজন সম্পাদকের বিরুদ্ধে।
নিরাপত্তা আইনের লঙ্ঘন বা নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণকাজ, এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার। এতে দেশের লাখ লাখ শ্রমিকের জীবন ঝুঁকির মুখে। রানা প্লাজার ভবনধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে (এক হাজার ১২৭ জনে পৌঁছেছে)। এর আগে একটি পোশাক কারখানা ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় আটজন বা এর বেশি লোক মারা যান।
জীবনভর মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করে আমি যা দেখেছি, তা হচ্ছে—বিভিন্ন সমাজ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে জটিলতা যেমন বাড়ছে, এর সূত্র ধরে অধিকার নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। এতে আবার বৈচিত্র্য রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক অধিকার, নারীর অধিকার, শ্রম অধিকার।
বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের অধিকারের মধ্যে যোগসূত্রটি আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান: নারীর অধিকারের সঙ্গে শ্রম অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গে নারীর অধিকার, বিবেকের স্বাধীনতার সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে বিবেকের স্বাধীনতা। আরও রয়েছে ব্লগারদের যা খুশি লেখার স্বাধীনতা। রয়েছে জীবনের ভয় না করে নারী ও পুরুষের কাজ করে যাওয়া।
মানবাধিকার বিশ্বজনীন। বাংলাদেশের কি এই দৃষ্টিভঙ্গি, সাহস আর রাজনৈতিক ইচ্ছা আছে—চার দশক আগে স্বাধীনতার সময় তারা যেমনটি করেছিল, সে রকম আজ মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকার পুরোপুরি সম্পন্ন করবে? ১৯৭১ সালে আমার দেশের মানুষ কেবল ধার্মিকদের জন্যই লড়েনি, অধার্মিকদের জন্যও লড়েছে। ১৯৭১ সালে আমরা কেবল সাম্প্রদায়িক বৈষম্য দূর করার জন্য লড়িনি, লৈঙ্গিক বৈষম্য দূর করতেও লড়েছি। ১৯৭১ সালে আমরা সব মানুষের অধিকারের জন্য লড়েছি।
কিন্তু বাংলাদেশে সবার জন্য অধিকার অর্জিত হয়নি। রানা প্লাজার বিপর্যয় ও ইসলামপন্থীদের সহিংসতা পরস্পর গ্রন্থিত ব্যাধিরই অংশ। এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, রাজনৈতিক ফায়দা লোটা ও বিশ্বজনীন মানবাধিকারের অবমাননা। যখন আমি কেবল নিজের অধিকার দেখব, আপনারটা নয়, তখন কোনো মানবাধিকারই নিরাপদ নয়।
ইংরেজি থেকে অনূদিত
ষ আইরিন খান: ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক; সাবেক মহাসচিব, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

চরম পন্থা নয়, মধ্যম পন্থা অবলম্বন

ইসলামে চরম পন্থা, বাড়াবাড়ি, সীমা লঙ্ঘন, ফিতনা-ফ্যাসাদ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ, জাতি-গোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান, সম্প্রীতিপূর্ণ ব্যবহার, পরমতসহনশীলতার মনোভাব ও মধ্যম পন্থা অবলম্বন মুসলমানদের চরিত্রের অনুপম বৈশিষ্ট্য। ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থায় যখন কেউ গোঁড়ামির মতো একধরনের মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, তখন মানুষ সাধারণত অন্যের মত ও পন্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করে না, বরং নিজের মত ও পন্থাকে সঠিক বলে মনে করে এবং সেটাই প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কঠোরতা অবলম্বন ও অহেতুক শক্তি প্রয়োগ করতে চায়। অথচ পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘ধর্মে কোনো জোর-জবরদস্তি ও কঠোরতা নেই।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫৬) মানবসমাজে অশান্তি, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য, হানাহানি, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও জানমালের নিরাপত্তায় বিঘ্ন সৃষ্টি করার মতো ঘৃণ্যতম কাজকে ইসলাম অনুমোদন করে না। ফিতনা-ফ্যাসাদ তৈরি, বাড়াবাড়ি করা, কঠোরতা প্রদর্শন, চরম পন্থা অবলম্বন মূলত বিভ্রান্তদের কারসাজি। সন্ত্রাস, বোমাবাজি ও চোরাগোপ্তা হামলা এবং রক্তপাত করে নিরপরাধ মানুষ হত্যার অপচেষ্টা কোনো পুণ্য কর্ম নয়। বরং যে ব্যক্তি-দল বা সংগঠন একজন নিরীহ মানুষ বা পথচারীকে হত্যা করবে, তার আমলনামায় জগতের সব নরহত্যার গুনাহ বা মহাপাপ লেখা হবে। কেননা, মানুষের জীবনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আল্লাহর কালামে পাকে ঘোষিত হয়েছে, ‘নরহত্যা বা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে হত্যা করল; আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে প্রাণে রক্ষা করল।’ (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৩২) চরম পন্থা অবলম্বন ইসলামি আকিদা, বিশ্বাস ও চেতনার সম্পূর্ণ বিরোধী। প্রকৃতপক্ষে ইসলাম হলো মধ্যম পন্থার মানবতাবাদী ধর্ম ও ভারসাম্যপূর্ণ শান্তিময় জীবনব্যবস্থা।  ইসলামের অভ্যুদয় থেকে ১৪০০ বছরের ইতিহাসে ইসলামের মূলধারার কোনো আন্দোলন অসি শক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়নি; বরং ইসলামের আদর্শিক মহানুভবতা, ক্ষমা, উদারতা ও নৈতিক শক্তির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী শান্তির ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলাম ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। ইসলাম প্রচার ও প্রসারে কোমল ব্যবহারের দাবি রাখে। কঠোর অবস্থানে জোরপূর্বক দাবি আদায় বা ইসলামি আইন বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা দাওয়াতের মূল উদ্দেশ্যকে বিনষ্ট করে দেয়। তাই সাময়িক উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে চরম পন্থা গ্রহণ বা বাড়াবাড়ির অবকাশ ইসলামে নেই। যে ব্যক্তি বা দল-মত চরম পন্থা অবলম্বন করে, সে ব্যক্তি-দল বা গোষ্ঠী কখনোই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে না। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোমল
ব্যবহার থেকে বঞ্চিত, সে কল্যাণ থেকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত। কোমলতার ফলে আল্লাহ তাআলা এমন কিছু দান করেন, যা চরম পন্থা অবলম্বনকারীকে দান করেন না।’ (মুসলিম) ইসলামের প্রকৃত মর্মবাণী ও সুমহান আদর্শ প্রচারের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই সন্ত্রাস, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, রক্তপাত ও সংঘাতমুক্ত পৃথিবীর প্রয়োজনে পারস্পরিক সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে ইসলামের শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণধর্মী জীবনাদর্শ এখন সময়ের দাবি। ইসলামে চরম পন্থা, জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো একজন মানুষকে গুপ্তহত্যা করেননি; কারও বিরুদ্ধে কঠোরতা, বাড়াবাড়ি বা চরম পন্থার আশ্রয় নেননি। নবী করিম (সা.) সাবধানবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘তোমরা আগে অস্ত্র উত্তোলন কোরো না বা অস্ত্রের ভয়ভীতিও প্রদর্শন কোরো না।’ পারস্পরিক দয়া, কোমলতা, সরলতা, প্রীতিপূর্ণ ব্যবহার, উত্তম আদর্শ, সুমধুর বাক্যালাপ ছিল মহানবী (সা.)-এর ইসলাম প্রচারের মূল হাতিয়ার। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘আমাকে সরল পন্থা অবলম্বন করার জন্য পাঠানো হয়েছে, চরম পন্থা অবলম্বনের জন্য নয়।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘সহজ, সরল পন্থা অবলম্বন করবে, কঠোরতা প্রদর্শন করবে না। সুসংবাদ দাও, ঘৃণা ছড়িয়ো না।’ (বুখারি)
বর্তমান বিভিন্ন পর্যায়ে সভ্য সমাজে যেভাবে ফিতনা-ফ্যাসাদ ও সন্ত্রাসবাদ চলছে, সর্বস্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে, এতে যেমন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম ব্যাঘাত হয়, তেমনি সামাজিক কর্মকাণ্ডে দারুণভাবে ব্যাঘাত ঘটছে। অথচ উগ্রবাদী, বিপ্লবী ও চরমপন্থীরা বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের সন্ত্রাস, বোমাবাজি, চোরাগোপ্তা হামলাসহ ইসলামবিরোধী মানবতাবিবর্জিত ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। চরম পন্থা অবলম্বন বা কঠোরতা প্রদর্শন ইসলামের জন্য শুধু ক্ষতিকর নয়, বরং এটা মানুষের মধ্যে ঘৃণা-বিদ্বেষ ও সহিংসতা সৃষ্টি করে ইসলামের শান্তির পথকে রুদ্ধ করে দেয়। এ জন্য জোর-জবরদস্তি ও চরম পন্থাকে সম্পূর্ণরূপে পরিহার করা এবং ফিতনা-ফ্যাসাদ প্রতিরোধে সাধ্যমতো সমঝোতার প্রচেষ্টা তথা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, আন্তধর্মীয় সংলাপ, কথা ও কলমের জিহাদ অব্যাহত রাখতে হবে। কেননা, সমাজে ফিতনা-ফ্যাসাদ, বিপর্যয়, নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করাকে হত্যার চেয়েও মহাপাপ সাব্যস্ত করে বলা হয়েছে, ‘ফিতনা হত্যা অপেক্ষা গুরুতর।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৯১)
ইসলামে চরম পন্থাকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও নবী করিম (সা.)-এর ঘনিষ্ঠ সাহাবি এবং ইসলামের তিনজন বিশিষ্ট খলিফার কাউকে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত অবস্থায়, কাউকে মসজিদের মধ্যে চরমপন্থী আততায়ীরা নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের আলেমসমাজ, ধর্মীয় নেতা, মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও খতিবদের উদ্ভূত সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থী বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে তাঁদের সোচ্চার প্রতিবাদ ও শান্তিপূর্ণ বলিষ্ঠ অবস্থান রেখে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় জনগণকে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা সমাধানের একটি সহজ পথ। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ধর্মপ্রাণ মানুষকে চরম পন্থা প্রতিরোধে সজাগ-সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে শান্তির সপক্ষে মধ্যম পন্থা অবলম্বনের ব্যাপক প্রচারণামূলক জাতীয় ঐক্য ও সংলাপের কর্মসূচি হাতে নিয়ে অসাধারণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ষ ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

নারী প্রতিনিধি

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম ইন্টারনেটে মুক্ত পেশা বা ফ্রিল্যান্সিংয়ে অসাধারণ সাফল্য লাভ করেছে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজে এ দেশের ফ্রিল্যান্সাররা বিবিধ সমস্যার মধ্যে পড়েন। ইন্টারনেটের ধীরগতি, ফ্রিল্যান্স প্রশিক্ষণের ভালো প্রতিষ্ঠানের অভাব, বিদ্যুতের সমস্যা, ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য, ইন্টারনেট সংযোগের দুষ্প্রাপ্যতা, ফ্রিল্যান্সিংয়ের ভুয়া প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। এত সব সমস্যা মোকাবিলা করেও আমাদের দেশের তরুণেরা ফ্রিল্যান্সিং করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ফ্রিল্যান্সিং করার জনপ্রিয় সাইট ফ্রিল্যান্সার ডট কমে বাংলাদেশের একমাত্র নারী প্রতিনিধি হিসেবে নাবিলা মোরশেদকে নিয়োগ করা হয়েছে। এর জন্য নাবিলাকে ধন্যবাদ। তাঁর প্রতি অনুরোধ, তিনি যেন ফ্রিল্যান্সিংয়ে এই দেশের তরুণদের আরও সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেন। দেশের সব প্রান্তে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ পৌঁছে দিতে তাঁর সব রকম প্রচেষ্টা নেওয়া উচিত। এই কাজ সহজভাবে যাতে বোঝা যায়, এর জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিদেশ থেকে সহজে কাজ পাওয়া এবং সেই কাজ অত্যন্ত সুচারুভাবে করে দিয়ে টাকা আয় করার জন্য যা যা করা দরকার, সেগুলো শিখিয়ে দিয়ে আমাদের তরুণসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে পড়ালেখা শেষ করে কেউ কেউ এটাকে পেশা হিসেবে নিতে পারেন। কোনো ব্যক্তি যদি ফ্রিল্যান্স সম্পর্কে জানতে চান, তবে তাঁকে অবশ্যই গুরুত্বসহকারে ও আন্তরিকতার সঙ্গে ফ্রিল্যান্স সম্পর্কে যথাযথ তথ্য প্রদান করতে হবে, যাতে তাঁর এ ব্যাপারে আরও আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং সেই ব্যক্তি ফ্রিল্যান্সিংয়ে সম্পৃক্ত হয়ে তাঁর ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন এবং দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অবদান রাখতে পারেন।
মো. আরিফুর রহমান
সহকারী ব্যবস্থাপক, সাধারণ বীমা করপোরেশন।

কাঁকড়া

নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা, ডিমা, ভবানীপুর, রাউতাড়া গ্রামের ওপর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়াভাবে কাঁকড়া (একধরনের মালবাহী ট্রাকটার) চলছে। প্রতিদিনই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। গতিরোধক দিয়েও এসব কাঁকড়ার গতি রোধ করা যাচ্ছে না। ফলে এলাকার লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কাঁকড়ার উচ্চ শব্দে মানুষ অতিষ্ঠ। এই কাঁকড়া চলাচল করায় রাস্তার পাশে ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাউতাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভবানীপুর বালিকা বিদ্যালয় থাকায় স্কুলগামী ছেলেমেয়েদের অভিভাবকেরা বেশি আতঙ্কে আছেন। এসব কাঁকড়া মান্দা উপজেলা থেকে ইট, বালু পরিবহন করে। খোলা অবস্থায় বালু পরিবহনের সময় মানুষের চোখে এসে পড়ছে বালু। আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তারা যেন শিগগিরই এসব কাঁকড়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে এলাকার লোকজনকে রাস্তাঘাটে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করে।
সবুজ সরকার
নিয়ামতপুর, নওগাঁ।

সিটি মেয়রদের ধনদৌলত

সিলেট, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী—এই চার সিটি করপোরেশনের মেয়াদ পূরণ করে নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিশ্চয়ই আনন্দের খবর। আরও আনন্দের খবর হলো, চার সিটির মেয়ররাই আবার প্রার্থী হচ্ছেন। এর মাধ্যমে ভোটাররা তাঁদের আমলনামাটি পরখ করার সুযোগ পাবেন। কিন্তু মেয়র পদপ্রার্থীরা হলফনামায় নিজ নিজ সম্পদ ও আয়ের যে হিসাব দিয়েছেন, তাতে অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার উপক্রম হবে। গত পাঁচ বছরে নগরবাসীর আয় ও সুযোগ-সুবিধা তেমন না বাড়লেও কোনো কোনো মেয়রের বৈধ আয় বেড়েছে শতগুণেরও বেশি।
২০০৮ সালে খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার খালেকের বার্ষিক আয় ছিল তিন লাখ ৬২ হাজার টাকা, বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে চার কোটি ৬৭ লাখ টাকায়। ২০০৮ সালে বরিশাল সিটি মেয়র শওকত হোসেনের বার্ষিক আয় ছয় লাখ ১২ হাজার টাকা হলেও অলৌকিক উপায়ে বর্তমানে তিন কোটি ৪৬ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। সিলেট সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের সম্পদের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। আর এই সম্পদের উৎস হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন প্রবাসী স্বজনদের উপহার ও মেয়র হিসেবে পাওয়া বেতন-ভাতা।
 চার সিটি মেয়রের সম্পদ ও আয়ের স্ফীতি ঘটলেও নগরবাসীর সুবিধা তেমন বাড়েনি। নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর জন্য এই জনপ্রতিনিধিরা সরকারের সঙ্গে জোরালো দেনদরবার করেছেন, তারও প্রমাণ নেই। জনপ্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা নিয়ে তাঁরা কীভাবে ‘ব্যক্তিগত ব্যবসা-বাণিজ্য’ করেন, সেই প্রশ্নও না উঠে পারে না। নির্বাচনের সময় চার মেয়রই নগরবাসীর কাছে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় সরকারের সঙ্গে তাঁদের যথেষ্ট সদ্ভাব ছিল এবং এখনো আছে। অতএব সরকারের অসহযোগিতার কারণে নগরের উন্নয়ন থেমে আছে—এই অজুহাত খাড়া করারও সুযোগ নেই।
আগামী সিটি নির্বাচনে ভোটাররা নিশ্চয়ই মেয়র ও কাউন্সিলর বাছাইয়ের সময় প্রার্থীদের আমলনামা দেখে নেবেন। তবে ভোটারদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বিদায়ী মেয়র ও কাউন্সিলরদেরই উচিত আয়নায় একবার নিজেদের মুখ দেখে নেওয়া।

স্টিফেন র‌্যাপের পর্যবেক্ষণ

যুদ্ধাপরাধ-বিষয়ক বিশেষ মার্কিন দূত স্টিফেন র‌্যাপের বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার-প্রক্রিয়ার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করার বিষয়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই প্রতীয়মান হয়। কারণ, এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মনোভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা কারণে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে। জামায়াত-শিবিরের নাশকতা ও বিপুল রক্তপাতের পটভূমিতে এবারই তারা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উচ্চারণ করল যে বিচার-প্রক্রিয়ায় অগ্রগতিতে তারা সন্তুষ্ট। লক্ষণীয় যে মার্কিন দূত বলেছেন, ‘সুনির্দিষ্টভাবে কোথায় আমার সন্তুষ্টি আর কোথায় আমার উদ্বেগ, এটা আমার বলা ঠিক হবে না।’ এ থেকে ইঙ্গিত মেলে যে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের স্পর্শকাতরতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়েছেন।  বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করার আগ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদারেরা মানবাধিকার বিষয়ে সময় সময় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমরা বিস্মৃত হতে পারি না যে এই সচেতন মহল  কখনোই একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার বিচার অনুষ্ঠানে উৎসাহ জোগায়নি। ক্ষমতাসীন সরকার যখন এই বিচার অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়, তখন আমরা তাকে স্বাগত জানিয়েছি এবং আমাদের অবস্থান হচ্ছে, এই বিচার হতে হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে। র‌্যাপের সফরকে ‘আইনের শাসন’সংশ্লিষ্ট বলা হলেও আমরা দেখিনি যে তিনি সার্বিকভাবে এদিকে নজর দিয়েছেন।  তবে পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বোধগম্য। রাষ্ট্রদূত র‌্যাপ আরও বলেন, সামগ্রিকভাবে অপরাধের ভয়াবহতার কারণে অধিকাংশ মানুষ দোষী সাব্যস্তদের মৃত্যুদণ্ড চান। আমরা অবশ্য জানি না, যুক্তরাষ্ট্র সরকার কোনো ধরনের জরিপের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে কি না। তবে কয়েকটি ফাঁসির রায় এবং জামায়াতের বর্বরোচিত নাশকতার প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রদূত র‌্যাপের ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শন এবং সেখানে মানবতাবিরোধী বিচারের কাজ সঠিকভাবেই এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করা গুরুত্বপূর্ণ। নাশকতা না করে আইন অনুযায়ী আপিলের মাধ্যমে প্রতিকার লাভে সচেষ্ট হতে জামায়াতের প্রতি আহ্বানকে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে তার বিদেশ নীতির স্থায়ী অবস্থানে পরিণত করা। অস্বীকার করার উপায় নেই যে সরকারি দলের অতি উৎসাহীরা এই বিচার-প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবাঞ্ছিত উক্তি করে অনভিপ্রেত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যে কারণে আদালতও তাঁদের একাধিকবার সতর্ক করে দিয়েছেন। আমরা আশা করব, বিচার-প্রক্রিয়ার পদ্ধতিগত ত্রুটি অপনোদনে সরকার তার পক্ষে সম্ভব সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাবে। ত্রুটি শোধরানোর সুযোগ রহিত হয়ে যায়নি। আবার জনগণ কালক্ষেপণ না করে অবশ্যই একাত্তরের গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার দেখতে উদ্গ্রীব। র‌্যাপের সঙ্গে জামায়াতের নেতারা বৈঠকে বসেছেন এবং র‌্যাপের সন্তোষকে তাঁরা নাকচ করেননি। আশা করব, বিচার-প্রক্রিয়া নিয়ে এই রাজনৈতিক দলটি নাশকতার পথ পরিহার করবে। সব বাধাবিপত্তি কাটিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার-প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হোক—সেটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

সম্পদ বাঁচান

বাংলাদেশের অগ্রগতি অনেকাংশেই কৃষক, শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর নির্ভরশীল। তাই তাঁদের নিরাপত্তা ও উত্তরোত্তর উন্নয়ন আমাদের সবার কাম্য। মহাজনের কাছে তাঁর পাইকার একজন সন্তানের মতো। শিল্পমালিকের কাছেও তাঁর কর্মীরা সন্তানতুল্য। শিল্পের আয়, উন্নতি ও সমৃদ্ধি বহুলাংশে কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং শিল্পমালিক ও কর্মীর সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর হওয়া বাঞ্ছনীয়। তাই মালিকপক্ষের কাছে অনুরোধ, কর্মীদের উপযুক্ত বেতন দিয়ে তাঁদের মানবসুলভ জীবনযাপনের সুযোগ করে দিন। কর্মী ভাইদের বলি, যে প্রতিষ্ঠান থেকে আপনাদের রুটিরুজির সংস্থান হয়, তাকে কথায় কথায় আঘাত করবেন না, ভাঙচুর করবেন না। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যেসব মৎস্যজীবী ভাই আছেন, সরকার তাঁদের নিরাপদ জীবনের ব্যবস্থা করুক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলদস্যু, বনদস্যুদের কবল থেকে তাঁদের রক্ষা করুক।
বাংলার কৃষক, শ্রমিক ও কর্মজীবীরা ভালো থাকলে তাঁরাই দেশকে সমৃদ্ধিতে ভরে তুলবেন। তাঁদের বাঁচান, তাঁরাই বাঁচাবেন দেশ। এক গুণ দিলে তাঁদের কাছ থেকে ফেরত আসবে ১০ গুণ।
দিলীপ রায়, বড়দিয়া, নড়াইল।

সংলাপ

দ্রুতই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। জোরালো ইস্যু হিসেবে যা দাঁড়িয়েছে তা হলো ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’। অপরদিকে রয়েছে নির্বাচনের সময় ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’ ব্যবস্থা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা জটিলতা মতপার্থক্য থাকার কারণে। যার কারণে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নানা কৌতূহল। কেননা, মানুষ চায় আনন্দমুখর পরিবেশে ভোটদানের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। আর এ জন্য প্রয়োজন সংলাপ  সংলাপ এমন একটি ব্যাপার, যেখানে আলোচনার মাধ্যমে একদিকে কমবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে টানাপোড়েনের দূরত্ব কমবে, বাড়বে সম্প্রীতি; অন্যদিকে এই আলোচনা অনেক কঠিন সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে পাবে। তৈরি হবে সমঝোতার পথ। সংলাপে না বসে দূর থেকে যত ধরনের কথা বলা হোক না কেন, তাতে কোনো শুভফল পাওয়া যাবে না। বরং সময় হাঁটবে অসময়ের পথে। বাড়বে সাধারণ মানষের ভোগান্তি। সৃষ্টি হবে উৎকণ্ঠা, উদ্বেগজনক পরিবেশ নির্বাচনকে ঘিরে। বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি। এ দেশকে আমরা প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। প্রবাসে যেসব বাংলাদেশি থাকেন, তাঁদের অনেকের হূদয়ের কথাগুলো, কষ্টগুলো (যা শুধু নিজ দেশকে ঘিরে) যখন প্রথম আলোর দূর পরবাসে বিভাগটিতে পড়ি, তখন সেটা আরও বেশি অনুভব করি। আর দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজন আনন্দঘন পরিবেশে সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। যেখানে থাকবে না কোনো দ্বিধা, সংশয়। গজিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে না কোনো অপশক্তি। অব্যাহত থাকবে সুষ্ঠু ও বিশুদ্ধ গণতান্ত্রিক চর্চা।
সঞ্জয় কুমার ভৌমিক
আলীশারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শ্রীমঙ্গল।

অনিশ্চিত সংলাপ- সবাইকে মূল্য দিতে হবে

নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপের সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংলাপের ব্যাপারে বিরোধী দল যতটা আগ্রহ দেখাচ্ছে, ক্ষমতাসীন দল ততটাই দূরত্ব সৃষ্টি করছে।

বক্তব্য নিয়ে আইনমন্ত্রী-র‌্যাপের দুই ধরনের কথা- জোর করে বিতর্কিত কিছুকে স্বচ্ছ বানানো যায় না

বাংলাদেশে বাস্তবে যা হয় তা বলা হয় না; যা বলা হয় তা বাস্তবে ঘটে নাÑ এমন একটি বিষয় দেশের নীতিনির্ধারক ও কিছু কিছু গণমাধ্যমের ব্যাপারে বলা হয়। বিদেশী কূটনীতিক, যারা বাংলাদেশের মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের সাথে কথা বলেন, তারাও মিসকোডের ব্যাপারে বেশ উদ্বিগ্ন।

সংলাপের আগ্রহে ভাটার টানঃ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটছে না

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিবের সফরে দেশের রাজনৈতিক সঙ্কট কেটে যাওয়ার আশা কিছুটা জেগেছিল, অস্বীকার করা যাবে না। দেখা যাচ্ছে তার বিদায়ের পর সে আশা উবে যেতেও সময় লাগেনি।

নির্বাচনকালীন সরকার- সঠিক ইতিহাস আর ‘শেখা না-শেখা’

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর বাংলাদেশ সফরের পর সংলাপ-সংলাপ খেলা প্রায় ফাইনাল রাউন্ডে পৌঁছে গেছে বলে মনে হচ্ছে। তাঁর সফর, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক, সংবাদ সম্মেলন ইত্যাদি সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে।

যুদ্ধাপরাধের বিচার সঠিকভাবেই চলুক- স্টিফেন র‌্যাপের পর্যবেক্ষণ

যুদ্ধাপরাধ-বিষয়ক বিশেষ মার্কিন দূত স্টিফেন র‌্যাপের বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার-প্রক্রিয়ার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করার বিষয়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই প্রতীয়মান হয়। কারণ, এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মনোভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা কারণে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে।

কাবুলে ন্যাটোর বহরে হামলায় নিহত ১৪

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে গতকাল বৃহস্পতিবার সামরিক বহরের ওপর আত্মঘাতী হামলায় ন্যাটো বাহিনীর ছয় সদস্যসহ ১৪ জন নিহত হয়েছে। প্রাণহানির সংখ্যায় গত প্রায় এক বছরের মধ্যে এটা কাবুলে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণ-পূর্ব কাবুলের শাহ শহীদ এলাকায় গতকাল সকাল আটটায় শক্তিশালী গাড়িবোমার ওই হামলা চালানো হয়। এতে নিহত ১৪ জনের মধ্যে দুজন ন্যাটোর সেনা ও চারজন ন্যাটোর ঠিকাদার। নিহত বাকি আটজন আফগান নাগরিক। এ ছাড়া এই ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ৩৭ জন পথচারী, যাদের মধ্যে স্কুলগামী বেশ কয়েকটি শিশু রয়েছে। হিজাব-ই-ইসলামি নামের একটি সংগঠন এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। বোমা হামলার ঘটনায় ন্যাটোর একটি গাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘটনার পর পরই মার্কিন সেনারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আশপাশের রাস্তাগুলো ঘিরে ফেলা হয়। এর আগে গত ৯ মার্চ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেলের আফগানিস্তান সফরকালে কাবুলে বোমা হামলার ঘটনায় নয়জন মারা যায়। তার আগে গত বছরের জুন মাসে তালেবান যোদ্ধারা শহরটির উপকণ্ঠের একটি হোটেলে ১৮ জনকে হত্যা করে।

কম্বোডিয়ায় কারখানার ছাদ ধসে নিহত ৩

কম্বোডিয়ায় জুতা তৈরির একটি কারখানায় গুদামঘরের ছাদ ধসে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অনেকে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির সমাজকল্যাণবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী ইথ সাম হেঙ্গ জানান, রাজধানী নমপেনের ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে তাইওয়ানি মালিকানার একটি কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।  বিধ্বস্ত ভবনের ভেতরে কেউ আটকা পড়ে নেই। তবে কারখানাটির শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য সাম শকনি দাবি করেন, দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন নারী ও একজন পুরুষ। তিনি বলেন, সকাল সাতটায় গুদামের ছাদ ধসে পড়ার সময় কারখানার ভেতরে প্রায় ১০০ শ্রমিক ছিলেন। শ্রমিকেরা জানান, কারখানাটিতে প্রায় সাত হাজার শ্রমিক কাজ করেন। তবে এটির একতলা গুদামঘরে কাজ করেন  প্রায় ১০০ জন শ্রমিক। স্বল্পমূল্যের শ্রমের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে জুতা ও তৈরি পোশাক খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্যমতে, কম্বোডিয়ার রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ফলে এই দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন দেশটির সরকার।

হয়রানির অভিযোগের জেরে মার্কিন রাজস্ব সংস্থার প্রধানের পদত্যাগ

রক্ষণশীল প্রতিষ্ঠানগুলো রাজস্ব বিভাগের হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠার পর গত বুধবার পদত্যাগ করেছেন মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের (আইআরএস) ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্টিফেন মিলার। অভিযোগ তদন্তে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নির্দেশ দিয়েছেন। রক্ষণশীলদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে রক্ষণশীল সামাজিক সংগঠনগুলো রাজস্ব বিভাগের নানা হয়রানি ও তল্লাশির সম্মুখীন হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কঠোর সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আইআরএস তোপের মুখে পড়ে। বিব্রত প্রেসিডেন্ট ওবামাও। শীর্ষ কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে আইআরএসের প্রধানের পদত্যাগ ও অভিযোগ তদন্তের নির্দেশের পরও সমালোচনা থেমে নেই। কংগ্রেসের শুনানিতে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের তলব করা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে কংগ্রেসে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ওবামা। রিপাবলিকান দলের ক্ষুব্ধ আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেছেন, দলীয় পরিচয়ের কারণে হয়রানির প্রমাণ পেয়েছেন তাঁরা। এমনকি আইনপ্রণেতাদের সামনে রাজস্ব কর্মকর্তারা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য উপস্থাপন করেছেন। সমালোচনার মুখে হোয়াইট হাউস থেকে বুধবার সন্ধ্যায় দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘আমি নিজেও বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ।’ তিনি বলেন, ‘আমি কোনো প্রতিষ্ঠানের, বিশেষ করে আইআরএসে এ ধরনের আচরণ সহ্য করব না। আর যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে আমি আমার ক্ষমতা অনুযায়ী সবকিছু করব।’ তিনি বলেন, রাজস্ব বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নতুন নেতৃত্ব গঠন করার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওবামা তাঁর ভাষণে রাজস্ব বিভাগের বৈরী আচরণে মার্কিন জনগণের ক্ষোভ যৌক্তিক উল্লেখ করে এ নিয়ে নিবিড় তদন্ত পরিচালনার ঘোষণা দেন। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে আইআরএসের প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার নির্দেশ দেন তিনি। অর্থমন্ত্রী জ্যাক লিউ আইআরএসের প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকে ওবামার বক্তব্যকে স্বাগত জানানো হয়েছে। রাজস্ব বিভাগে নতুন নেতৃত্ব সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেছে তারা। এর আগে বুধবার সকালে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার কংগ্রেসে চার ঘণ্টা জেরার সম্মুখীন হয়েছেন। তাঁকে আইআরএস বিতর্ক, বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) সাংবাদিকদের ফোনকলের রেকর্ড জব্দ ও লিবিয়ার বেনগাজিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কংগ্রেসের বিচার বিভাগীয় কমিটির কাছে তিনি বলেন, আইআরএসের কর্মীরা আইন লঙ্ঘন করেছেন কি না তা তদন্ত করে দেখতে এফবিআইয়ের সময় লাগবে। বেনগাজি নিয়ে ই-মেইল প্রকাশ: লিবিয়ার বেনগাজিতে মার্কিন কনস্যুলেটে সন্ত্রাসী হামলা-সংশ্লিষ্ট ৯৯ পৃষ্ঠার ই-মেইল বার্তা প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। এতে গণমাধ্যমকে ওই হামলা সম্পর্কে ব্রিফ করার প্রাক্কালে ওবামা প্রশাসনের সদস্যদের বক্তব্য রয়েছে। ২০১২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বেনগাজির ওই হামলায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস স্টিভেনসসহ চার মার্কিন নাগরিক নিহত হন। রিপাবলিকানদের অভিযোগ, গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে হোয়াইট হাউস তখন ওই হামলার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল। সমালোচনা এড়াতেই বুধবার ই-মেইল বার্তাগুলো প্রকাশ করে ওবামা প্রশাসন।

পদের জন্য নওয়াজ শরিফের দলের নেতাদের দৌড়ঝাঁপ

পাকিস্তানে নওয়াজ শরিফের মন্ত্রিসভায় পদ পেতে তাঁর দলের নেতারা ব্যাপক তদবির চালাচ্ছেন। সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) কেন্দ্র এবং পাঞ্জাব প্রদেশে সরকার গঠন করবে। দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের ডন পত্রিকা জানায়, মন্ত্রিসভা গঠনের ব্যাপারে পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ এখন পর্যন্ত দলের কারও সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেননি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি শিগগিরই সৌদি আরব সফরে যাবেন। সেখান থেকে ফিরে তিনি এ-সংক্রান্ত আলোচনা শুরু করবেন। নওয়াজের ছোট ভাই শাহবাজ শরিফ প্রদেশেই থাকবেন, নাকি কেন্দ্রে আসবেন, সে ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি নওয়াজ। তবে শাহবাজ জানিয়েছেন, তিনি আরও এক মেয়াদে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী থাকতে চান। দলের নেতা চৌধুরী নাসির আলী খান পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এখানে তাঁর সম্ভাবনা খুবই সীমিত। কেননা, দলের একটি শক্তিশালী অংশ তাঁর বিপক্ষে। কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে ইশহাক দার ও আহসান ইকবালের নাম শোনা যাচ্ছে জোরালোভাবে। তবে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইশহাককে বসানো হলে ইকবালকে দেওয়া হতে পারে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। আর সারতাজ আজিজ হতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা। তথ্য মন্ত্রণালয় পেতে পারেন সিনেটর পারভেজ রশিদ। ইসলামাবাদের একটি আসন থেকে নির্বাচিত তারিক ফজল চৌধুরীকে জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার করা হতে পারে। তবে এ পদে বিবেচনায় আছেন আরও দুজন। তাঁরা হলেন সুমাইরা মালিক ও সায়রা আফজাল তারিক। আর জাতীয় পরিষদের স্পিকার পদে বেলুচিস্তান অথবা খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোনো একজনকে আনতে চাইছেন পিএমএল-এন নেতৃত্ব। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, পাখতুনখাওয়ার মিল্লি আওয়ামী পার্টির প্রধান মেহমুদ খান আশকজাইকে স্পিকার করতে চান নওয়াজ শরিফ। সম্মতি আদায়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য দলের নেতা সদর আয়াজ সাদিককে দায়িত্ব দিয়েছেন নওয়াজ। তবে মন্ত্রিপরিষদে যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে তার সবই অনুমানের ভিত্তিতে বলে জানিয়েছেন সিনেটর পারভেজ রশিদ। এসব বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি জানান।

সংক্ষিপ্তবিশ্বসংবাদ

সফরের আগে
মিয়ানমারে গতকাল শুক্রবার ২০ জনেরও বেশি রাজবন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন ঐতিহাসিক সফরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র টুইটারে বলেন, ‘ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার’ ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের দৃঢ় সংকল্পের অংশ হিসেবে এটি করা হয়েছে। বন্দীদের রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। এএফপি।
নিবন্ধন বেড়েছে
লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিলে গত আট বছরে আগ্নেয়াস্ত্র নিবন্ধনের হার অনেক বেড়েছে বলে এক গবেষণায় দেখা গেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা ২০০৪ সালের পাঁচ হাজার ১৬১ থেকে গত বছর সাড়ে ৩১ হাজারে ওঠে। আগ্নেয়াস্ত্রের কারণে মৃত্যুহারের দিক থেকে বিশ্বে ব্রাজিলের অবস্থান সপ্তম। বিবিসি।
সম্ভাব্য তিন কারণ
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ঘটা সার কারখানার বিস্ফোরণের সম্ভাব্য তিনটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেছেন, ইচ্ছাকৃত অগ্নিসংযোগ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ত্রুটি, এমনকি গলফ খেলার গাড়ির (বাগি) ত্রুটিপূর্ণ ব্যাটারি থেকে ওই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। গত ১৭ এপ্রিল ওয়েস্ট ফার্টিলাইজার নামের এক কোম্পানির ওই কারখানায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ১৫ জন নিহত ও দুই শতাধিক লোক আহত হন। বিবিসি।
রুবির সাক্ষ্য
অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনির শারীরিক সম্পর্কের মামলায় গতকাল শুক্রবার আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মেয়েটি। কারিমা এল-মাহারুগ নামের মরক্কোর বংশোদ্ভূত ওই নর্তকী ‘রুবি’ নামে বেশি পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, বেরলুসকোনি রুবির সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে সম্পর্ক করার সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৭। দুজনেই অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেছেন।

বোস্টন বোমা হামলার ভুক্তভোগীরা ‘পরোক্ষ ক্ষতি’: জোখার

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ম্যারাথনের সন্দেহভাজন হামলাকারী জোখার সারনায়েভ আহত হয়ে যে নৌকায় লুকিয়ে ছিলেন, সেখানে তাঁর লেখা কিছু কথা পাওয়া গেছে। এতে তিনি ওই হামলার শিকার লোকজনকে ‘পরোক্ষ ক্ষতি’ বলে উল্লেখ করেছেন। নৌকার গায়ে লেখা ওই বার্তায় জোখার লেখেন, ‘ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন হামলার উচিত শাস্তি হচ্ছে এই বোমা হামলা।’ বিদেশে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি নিরীহ বেসামরিক ব্যক্তিদের হতাহতের ঘটনাকে সামরিক কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় ‘পরোক্ষ ক্ষতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নৌকার যে অংশে ১৯ বছর বয়সী জোখার এসব লিখেছেন, সেই অংশ কেটে আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

হাজার হাজার ছবি তুলে সুস্থ ভ্রূণ নির্বাচন

যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক বলেছেন, নির্দিষ্ট সময় পর পর বিকাশমান ভ্রূণের ছবি তোলার মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়া আইভিএফের সাফল্যের হার বাড়ানো সম্ভব। আইভিএফ অর্থাৎ ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতিতে গবেষণাগারে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু নিষিক্ত করে সৃষ্ট ভ্রুণ গর্ভে প্রতিস্থাপন করা হয়। নতুন এ কৌশল অনুযায়ী, সদ্য নিষিক্ত ভ্রূণের কয়েক হাজার ছবি ধারাবাহিকভাবে তোলা হয়। এর মাধ্যমে গর্ভে প্রতিস্থাপনের জন্য সবচেয়ে ‘সবল’ ও ‘সুস্থ’ ভ্রূণ নির্বাচন সম্ভব হয়। তবে অন্য গবেষকেরা বলেছেন, ব্যবহারিক পর্যায়ে যাওয়ার আগে এই বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার। উদ্ভাবনকারী গবেষকেরা নতুন এই আইভিএফ কৌশলের নাম দিয়েছেন, মরফোকিনেটিক অ্যালগোরিদমস টু প্রেডিক্ট সাকসেস (এমএপিএস)। যুক্তরাজ্যের আইভিএফ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ম্যানচেস্টারের কেয়ার ফার্টিলিটির অন্যতম পরিচালক ও বিশিষ্ট বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ সিমোন ফিশেলসহ কয়েকজন চিকিৎসক এই গবেষণা করেন। তাঁদের গবেষণাপত্র অনলাইন সাময়িকী রিপ্রোডাকটিভ বায়োমেডিসিন অনলাইন- এ প্রকাশিত হয়। কেয়ার ফার্টিলিটির ভ্রূণ বিশেষজ্ঞ অ্যালিসন ক্যাম্পবেল বলেন, আইভিএফের প্রচলিত পদ্ধতিতে নিষিক্ত হওয়া ভ্রূণ পাঁচ দিনে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ছয়বার পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু এমএপিএস পদ্ধতিতে ভ্রূণের পাঁচ হাজারের বেশি ছবি তোলা হয়। এই ছবি বিশ্লেষণ করে প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁতভাবে ভ্রূণের বৃদ্ধি লক্ষ করা যায়।

মহানুভব রাজা

ফরচুনা নামে নিজে দুই কোটি ৭০ লাখ ডলার মূল্যের প্রমোদতরীটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্পেনের রাজা হুয়ান কার্লোস। দেশের ব্যাপক অর্থনৈতিক মন্দা ও বেকারত্বের প্রেক্ষাপটে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। একটি ব্যবসায়ী গ্রুপ ২০০০ সালে রাজাকে ৪১.৫ মিটার (১৩৬) ফুট দৈর্ঘ্যের প্রমোদতরীটি উপহার দেয়। কিন্ত সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে প্রমোদতরীটি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় রাজাকে। কারণ এতে একবার তেল ভরতেই খরচ হয় ২০ হাজার ইউরোর বেশি। ১৯৭৫ সালে স্বৈরশাসক ফ্রান্সিসকো ফ্রাংকোর মৃত্যুর পর স্পেনের রাজনৈতিক উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় দেশে শ্রদ্ধার পাত্রে পরিণত হন রাজা হুয়ান কার্লোস।

অনেক সমকামীই পরিচয় প্রকাশে ভীত

ইউরোপের সমকামী, উভকামী ও ট্রান্সজেন্ডারদের দুই-তৃতীয়াংশই এখনো তাঁদের যৌন পরিচয় প্রকাশে ভয় পান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিবেদনে গতকাল শুক্রবার এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল ছিল সমকামীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের দিন ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে অ্যাগেইনস্ট হোমোফোবিয়া’। দিবসটি উপলক্ষে ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ইইউর মৌলিক অধিকার সংস্থা (এফআরএ)। প্রতিবেদনটির জন্য অনলাইনে জরিপ চালানো হয়। বলা হচ্ছে, এটাই এ ধরনের সবচেয়ে বড় জরিপ। এই জরিপের আওতায় ইইউর ২৭টি সদস্যরাষ্ট্র এবং ক্রোয়েশিয়ার মোট প্রায় ৯৩ হাজার ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হয়। উত্তরদাতাদের ২৬ শতাংশ বলেছেন, গত পাঁচ বছরে তাঁরা শারীরিক নির্যাতন অথবা গালিগালাজের শিকার হয়েছেন। কিছুসংখ্যক উত্তরদাতা জানিয়েছেন, প্রথাগতভাবে সহনশীল বলে পরিচিত দেশগুলোতেও পরিস্থিতি দিনে দিনে নাজুক হচ্ছে। ইউরোপজুড়ে বৈষম্য বা নিগ্রহের হার গড়ে ৩২ শতাংশ। বৈষম্যসবচেয়ে বেশি লিথুনিয়ায় (৪২ শতাংশ)। এর পরে রয়েছে যথাক্রমে ক্রোয়েশিয়া (৪১ শতাংশ), বুলগেরিয়া (৪৪ শতাংশ) ও রোমানিয়া (৩৯ শতাংশ), নেদারল্যান্ডস প্রায় ২০ শতাংশ।

ভারতীয় শিক্ষার্থী হত্যার দায়ে অস্ট্রেলীয়র ৪৫ বছর কারাদণ্ড

ভারতীয় এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে একজন অস্ট্রেলীয় তরুণকে গতকাল শুক্রবার ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন সিডনির সুপ্রিম কোর্ট। দণ্ডপ্রাপ্ত তরুণ হলেন ড্যানিয়েল স্ট্যানি-রেজিনাল্ড (২১)। সিডনির এক ছাত্রাবাসে পাশের কক্ষের ভারতীয় ছাত্রী তোশা থাক্কারকে (২৪) তিনি ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ স্যুটকেসে ভরে খালে ফেলে দেন। বিচারপতি ডেরেক প্রাইস এ হত্যার ঘটনাকে ‘ব্যতিক্রম ধরনের নিষ্ঠুরতা’ বলে উল্লেখ করেন। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে তিক্ততা সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতে বিক্ষোভ হয়েছে।

শিশুখাদ্যের কৌটা দিয়ে প্রতিবাদীমানচিত্র

চীনের ভিন্নমতাবলম্বী শিল্পী আই ওয়েইওয়েই শিশুখাদ্যের ১৮শর বেশিক্যান দিয়ে একটি চীনা মানচিত্র তৈরি করেছেন। চীনের মূল ভূখণ্ডে গুঁড়া দুধ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ককে কেন্দ্র করে তিনি এ শিল্পকর্মটি তৈরি করেছেন। ‘বেবি ফর্মুলা ২০১৩’ শিরোনামের ওই মানচিত্র তৈরিতে সাতটি ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধের এক হাজার ৮১৫টি ক্যান ব্যবহার করা হয়েছে। ওয়েইওয়েই গতকাল শুক্রবার এএফপিকে বলেন, ‘এই মানচিত্র কয়েকটি সমস্যার প্রতিবিম্ব।’ তিনি বলেন, একটি সমস্যা হচ্ছে—চীনের মূল বাসিন্দাদের হংকংয়ে গিয়ে গুঁড়া দুধ কেনা এবং তা চীনে নিয়ে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা। চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে হংকংয়ে কোনো পর্যটকের এক কেজি ৮০০ গ্রামের বেশি গুঁড়া দুধ কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীনা সরকার। প্রসঙ্গত, হংকং চীনের একটি বিশেষ প্রশাসনিক এলাকা। সেখানে পৃথক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ২০০৮ সালে চীনে তৈরি গুঁড়া দুধে ক্ষতিকারক রাসায়নিক মেলামিন পাওয়া যায়। এই দুধ খেয়ে ছয়টি শিশু মারা যায়। অসুস্থ হয়ে পড়ে তিন লাখের বেশি শিশু। এ ছাড়া গত বছরও একটি কোম্পানির গুঁড়া দুধে বিষাক্ত  উপাদান পাওয়া যায়। অথচ কর্তৃপক্ষ ২০০৮ সালের ঘটনার পর ঘোষণা দিয়েছিল, আর এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না। ওয়েইওয়েই বলেন, ‘আমরা জানি যে (চীনের) মূল ভূখণ্ডে খাদ্যনিরাপত্তা খুবই মারাত্মক একটি সমস্যা। যথাযথ তদারকির অভাব এবং উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোর নৈতিক অবক্ষয়ের কারণেই এমনটি ঘটছে।’ ভোক্তা গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইউরোমনিটর বলেছে, গুঁড়া দুধের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে চীন। দেশটিতে শিশুদের বুকের দুধ পান করানোর হার খুবই কম।

নারীরা প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে পারবেননা

ইরানের শরিয়াভিত্তিক কর্তৃপক্ষ ‘অভিভাবক পর্ষদ’ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নারীদের প্রার্থী হওয়া অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন। আগামী ১৪ জুন দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৩০ জন নারী নাম নিবন্ধন করলেও এই রায়ের পর নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ যে থাকছে না, তা কার্যত নিশ্চিত। অভিভাবক পর্ষদের অন্যতম সদস্য মোহাম্মাদ ইয়াজদি বলেছেন, সংবিধানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণের অনুমোদন নেই। এই পর্ষদের সদস্য আলেমরা ইসলামি শরিয়ার মানদণ্ডে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রার্থিতার বৈধতা যাচাই করেন। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা মেহ্র নিউজ এজেন্সি মোহাম্মদ ইয়াজদির বরাত দিয়ে বলেছে, ইরানের আইন প্রেসিডেন্ট পদে নারীদের দাঁড়াতে অনুমোদন দেয় না। পর্যবেক্ষকেরা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে ইরানের সংবিধানে দ্ব্যর্থকতা রয়েছে। অভিভাবক পর্ষদের এই রায় সম্ভবত এ নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটাবে। বর্তমানে ইরানের নারীরা পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। আইনপ্রণেতা হিসেবে ইতিমধ্যেই কয়েকজন নারী দায়িত্ব পালন করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী পর পর দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করা যাবে না বলে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ আসন্ন নির্বাচনে লড়তে পারবেন না। এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মোট ৬৮৬ জন নাম নিবন্ধন করেছেন। এঁদের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা আগামী মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, হাতে গোনা কয়েকজনই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হিসেবে যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। ২০০৯ সালের নির্বাচনে নাম নিবন্ধন করা ৪৭৫ জনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত মাত্র চারজনকে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণআছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দাবি করেছেন, সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এসেছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটন সফররত তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর গত বৃহস্পতিবার ওবামা এ কথা বলেন। সিরিয়ায় রক্তপাত বন্ধে রাশিয়ার প্রস্তাবিত শান্তি সম্মেলনের প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে এই দুই ন্যাটো মিত্রের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করলেন। এ সময় তাঁরা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পদত্যাগের ওপর জোর দেন। এর আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, বাশার বাহিনী হেলিকপ্টার থেকে উত্তর সিরিয়ার একটি শহরে বিষাক্ত গ্যাসভর্তি কৌটা ফেলেছে। বাশার সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য শুরু থেকেই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ নাকচ করা হচ্ছে। গত মার্চে উত্তরাঞ্চলীয় শহর খান আল আসালে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারে ২৭ জনের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। এ জন্য বাশার বাহিনী ও বিদ্রোহীরা পরস্পরকে দায়ী করে। গত মার্চ এবং চলতি মাসেও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, এটাই সিরিয়ায় হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ‘চূড়ান্ত’ নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে। এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পরে ওবামা বলেছেন, সিরিয়া প্রশ্নে কূটনৈতিক ও সামরিক—দুই দরজাই খোলা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সিরিয়ার অভ্যন্তরে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ আমরা পেয়েছি। এ বিষয়টি আমাদের বন্ধু, মিত্র ও প্রতিবেশীদের জন্য চরম হুমকি।’ তবে ওবামা এ-ও বলেন, এ অভিযোগের ব্যাপারে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য জরুরি। ওবামার আগে এরদোয়ান দাবি করেন, তাঁরাও সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছেন। ওবামা-এরদোয়ান বৈঠকের মধ্যেই সিআইএর পরিচালক জন ব্রেনান সিরিয়া সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য ইসরায়েল পৌঁছেছেন। এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বাশারকে আর সমর্থন না দেওয়ার বিষয়ে রাশিয়াকে বোঝাতে হবে। এ জন্য আরও বড় ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। শান্তি সম্মেলন চান বান কি মুন: জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন চান, যত দ্রুত সম্ভব রাশিয়ার প্রস্তাবিত শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হোক। গতকাল শুক্রবার রাশিয়ায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর বান কি মুন বলেন, ‘শান্তি সম্মেলন নিয়ে অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তা হওয়া উচিত।’ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গতকালই বৈঠক করার কথা রয়েছে বান কি মুনের।
ক্ষুব্ধ রাশিয়া: রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, সিরিয়ায় রাশিয়ার অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে কেন কথা হচ্ছে তা ‘বোধগম্য নয়’। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম কেন উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছে তা বোধগম্য নয়। সিরিয়ায় অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি তো আমরা গোপন করছি না। এতে আন্তর্জাতিক বা আমাদের নিজস্ব আইনও লঙ্ঘিত হচ্ছে না। তাহলে এত কথা কেন?’

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল: গিবসন by তানজির আহমেদ

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে খুবই জটিল বলে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বৃটিশ হাই  কমিশনার রবার্ট গিবসন। তিনি বলেন, সংঘাতময় পরিস্থিতি এড়িয়ে বাংলাদেশ যাতে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে,

লন্ডনে ড: কামাল- শাপলা চত্বর নিয়ে অপপ্রচার দায়িত্বজ্ঞানহীনতা by সৈয়দ আনাস পাশা

৫ই মে দিবাগত রাতে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের অভিযানকে ‘গণহত্যা’ বলে অপপ্রচারের তীব্র সমালোচনা করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আইনজীবী, সাবেকমন্ত্রী ও বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ড: কামাল হোসেন।