Saturday, May 11, 2019

রোজা রাখতে পারছেন না উইঘুর মুসলমানেরা

উইঘুর মুসলমান
পবিত্র রমজান মাসে বিশ্বের প্রতিটি দেশেই মুসলমানরা রোজা রাখছেন। নরওয়ে, আইসল্যান্ড হয়ে ফিজি সব দেশেই মুসলিমরা রমজানের ইবাদতে অংশ নিতে পারলেও চীনে মুসলিমদের এ সুযোগ কেড়ে নেয়া হয়েছে। দেশটির কমিউনিস্ট সরকার রমজানে উইঘুরের মুসলিমদের রোজা রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
চীনের অন্যান্য প্রদেশে আইনটি কার্যকর হলেও জিনজিয়াং প্রদেশে এর প্রবণতা বেশি। উপবাস বা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের প্রতি বিশেষ আগ্রহকে চরমপন্থার প্রতীক হিসেবে দেখে চীন সরকার।
রমজান উপলক্ষে জিনজিয়াংয়ের খাদ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, অন্যান্য সময়ের মতো রমজানেও খাবার জায়গাগুলো খোলা থাকবে। এ ছাড়া রমজানে রোজা, তারাবির জন্য রাত জাগরণ ও অন্যান্য ধর্মীয় বিষয় পরিহার করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সি উইঘুর নামে একটি ওয়েসবাইটের তথ্যমতে, পৃথিবীতে চীনই একমাত্র দেশ, যেখানে মুসলমানদের রোজা রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষেধ করা হয়েছে। তিন বছর ধরে জিনজিয়াংয়ের উইঘুরের মুসলমানদের রোজা রাখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্য সূত্রে জানা যায়, রমজান মাসে সরকারি দফতর, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্কুলগুলোতে মুসলিমদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়।
গত বছরের আগস্টে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিটি জানিয়েছিল, চীন সরকার দেশটির ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে বন্দিশিবিরে আটকে রেখেছে। চীনের জাতিগত উইঘুর মুসলমানদের বেশির ভাগ সে দেশের জিনজিয়াং প্রদেশে বসবাস করেন। প্রদেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী উইঘুর সম্প্রদায়ের। জিনজিয়াংয়ের মুসলিম সংখ্যালঘুদের ব্যাপকহারে আটক করা হচ্ছে বলে কয়েক মাস ধরে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জাতিসঙ্ঘের ওই কমিটির কাছে নানা তথ্যচিত্র তুলে ধরে দাবি করেছে, চীনা মুসলমানদের বন্দিশিবিরে আটকে রেখে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
উইঘুর মুসলমানদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস বলেছে, বন্দীদের কোনো অভিযোগ গঠন ছাড়াই আটকে রাখা হচ্ছে এবং সেখানে তাদের চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সেøাগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। বন্দীদের ঠিকমতো খেতে দেয়া হয় না এবং ব্যাপকভাবে নির্যাতন করা হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবথেকে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়গুলো

ঘূর্ণিঝড় 'ফণী'র বাতাসের গতিবেগ বর্তমানে প্রতি ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার। এটি শুক্রবার দুপুর নাগাদ ভারতের উপকূলে আঘাত করতে পারে বলে বলছেন আবহাওয়া কর্মকর্তারা। সেক্ষেত্রে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, বাতাসের গতিবেগের ওপর নির্ভর করবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
বাংলাদেশের সরকারি তথ্য অনুসারে, ১৯৬০-২০১৭ সাল পর্যন্ত মোট ৩৩টি বড় সাইক্লোনের ঘটনার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু করে ২০০৭ সাল থেকে। এর আগে একটা সময় ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের নামকরণ হতো না। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৬০ সাল থেকে ২০০৭ সালে সিডরের পর্যন্ত বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়গুলোকে 'সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম' বা প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৭ সালে প্রথম স্পষ্ট নামকরণ করা হয়।
২২৩ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা এবং ১৫-২০ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাসে নিয়ে আসা সেই ঘূর্ণিঝড় ছিল সিডর যাকে সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম উইথ কোর অব হারিকেন উইন্ডস (সিডর) নাম দেয়া হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে বিবেচনা করা হয় ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড় এবং ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়কে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী ছিল ১৯৭০ এবং ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়। এরপরে তিনি সাইক্লোন সিডরের কথা উল্লেখ করেন।
১৯৭০ সালের ১২ই নভেম্বর সবোর্চ্চ ২২৪ কিলোমিটার বেগে চট্টগ্রামে আঘাত হানা এই প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ১০-৩৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল। যে হিসেব পাওয়া যায় তাতে ১৯৭০ এর সালের প্রবলতম ঘূর্ণিঝড়ে ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়। সেসময় ১০-৩৩ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল এবং অসংখ্য গবাদি পশু এবং ঘরবাড়ি ডুবে যায়। আবহাওয়া বিভাগের সাবেক পরিচালক শাহ আলম বিবিসি বাংলাকে বলেন, অনেকে মনে করেন মৃতের সংখ্যা আসলে ৫ লাখেরও বেশি ছিল।
তিনি বলেন, "৭০ এর সাইক্লোন থেকেই মূলত মোটামুটিভাবে মনিটর করা শুরু হয়। সেই ঘূর্ণিঝড়টা সরাসরি বরিশালের মাঝখান দিয়ে উঠে আসে। ভোলাসহ অনেক এলাকা পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।" ১৯৮৫ সালের ঘূর্ণিঝড়: উরিরচরের ঘূর্ণিঝড় নামে পরিচিত এই সাইক্লোনটি যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ১৫৪ কিলোমিটার। মিস্টার আলম বলেন, "এটা অল্প জায়গায় হয়েছে ফলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি ছিলনা"।
নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে ১৯৯১ সালে এই ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ১২-২২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের প্রবল ঘূর্ণিঝড়টিতে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ২২৫ কিলোমিটার। ১৯৯১ সালের ২৯-৩০শে এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়কে আখ্যা দেয়া হয় 'শতাব্দীর প্রচ-তম ঘূর্ণিঝড়' হিসেবে যাতে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যায় বলে জানা যায়। যদিও বেসরকারি সংগঠনের দাবি অনেক মাছধরার ট্রলার সাগরে ডুবে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন আরও অনেকে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এক কোটি মানুষ। আবহাওয়া বিভাগরে সাবেক কর্মকর্তা মিস্টার আলম বলেন, "এই সাইক্লোনে অনেক পানি হয়েছিল। অনেক মানুষ মারাও গিয়েছে। যদিও পূর্বাভাস ভালো ছিল, ২৭ ঘণ্টা আগে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।" "কিন্তু ছয়ঘন্টা ধরে স্থলভাগে আসে এবং তা-ব চালায় এই সাইক্লোনটি।" তিনি বলেন, "সাধারণত ২/৩ ঘণ্টার বেশি সাইক্লোন থাকেনা। কিন্তু এটি ছয়-ঘণ্টার বেশি সময় বাতাস বইতে থাকে"। মিস্টার শাহ আলম জানান, ২২৪ কিলোমিটার বেগে আসা এই ঘূর্ণিঝড়ে তেলের ট্যাংকার পর্যন্ত ওপরে উঠে গিয়েছিল।
২০০৭ সালের ১৫ই নভেম্বর খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতার প্রবল ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানে যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ২২৩ কিলোমিটার। জোয়ারের সময় হয়নি বলে প্লাবন কম হয়েছে, ফলে তুলনামূলক মানুষ কম মারা গেছে, কিন্তু অবকাঠামোগত অনেক ক্ষতি হয়েছে, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়েগেছে। সিডরে রেডক্রসে হিসেবে ১০ হাজার মারা গেছে বলা হলেও সরকারিভাবে ৬ ছয় হাজার বলা হয়েছিল।
২০০৯ সালের ২৫শে মে পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানা প্রবল ঘূর্ণিঝড় আইলা, যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭০-৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত। মিস্টার আলম বলেন, "বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে '৭০ এবং ৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে"।
বাংলাদেশে উপকূলীয় এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছে দুর্যোগ ফোরাম। এই সংগঠনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহর নাইম ওয়ারা বিবিসিকে বলেন, মানুষ বাতাসকে ভয় পায়না, ভয় পায় পানিকে। আর জোয়ারের সময় ঘূর্ণিঝড় হলে তা বিশাল রূপ নেয়। ৭০ এবং ৯১ সময় সেটাই হয়েছিল। তবে তিনি মনে করেন, ক্ষয়ক্ষতির চিত্রটি সবসময় পূর্ণাঙ্গভাবে উঠে আসেনা। । "কারণ তখন তথ্য সংরক্ষণের ততটা ব্যবস্থা ছিলনা। তাছাড়া কর্তৃপক্ষ ডেডবডি কাউন্ট করে, সরকার ডেডবডি না পেলে মৃত হিসেবে লিপিবদ্ধ করে না। সাগরে যারা হারিয়ে গেছে তাদের হিসাব তো করা হয় না।'' ''সিডরে ১০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল বলেছিল রেডক্রস। কিন্তু সরকার বলেছিল ৬ হাজার। সুতরাং ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সবসময় ঠিকভাবে উঠে আসেনা"। তিনি বলেন "আইলাতে কম মানুষ মারা গিয়েছিল, দিনের বেলায় হওয়াতে অনেকে সরে যেতে পেরেছিল। কিন্তু আইলার ক্ষতি এখনো কাটিয়ে ওঠা যায়নি। শুধু মানুষ না পশু-প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল"।
বাকেরগঞ্জের প্রবল ঘূর্ণিঝড়- ১৮৭৬ সালের ১লা নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড়টি অনেকের কাছে বাকেরগঞ্জের প্রবল ঘূর্ণিঝড় নামে পরিচিত। তাতে প্রাণ হারিয়েছিল ২ লাখ মানুষ, যখন ১০ থেকে ৪৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হয়।
১৯৬০ সালের ৩১শে অক্টোবরের প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ৫ লাখ ১৪৯ জন নিহত হয়। ৬.১ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস ছিল।
১৯৬০ সালের ৩১শে অক্টোবর চট্টগ্রামে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের প্রবল ঘূর্ণিঝড়
১৯৬৬ সালে চট্টগ্রামে ১লা অক্টোবর ২০-২২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের প্রবল ঘূর্ণিঝড়
২০০৮ সালে ঘূর্ণিঝড় নার্গিস এর পূর্বাভাস দেওয়া হলেও পরে তা বার্মার উপকূলে আঘাত হানে। মিয়ানমারে এর প্রভাবে বহু ক্ষতি হয়।
২০১৩ সালের ১৬ই মে নোয়াখালী-চট্টগ্রাম উপকূলে জলোচ্ছ্বাসের ঘূর্ণিঝড় 'মহাসেন'
২০১৫ সালের ৩০শে জুলাই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে ৫-৭ ফুট উচ্চতার ঘূর্ণিঝড় 'কোমেন'
২০১৬ সালের ২১শে মে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূলে ৪-৫ ফুট উচ্চতার ঘূর্ণিঝড় 'রোয়ানু'
২০১৭ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে প্রবল ঘূর্ণিঝড় 'মোরা'।
(বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন থেকে)

বিশ্বে প্রতি দশ মিনিটে একজন লোক জলাতঙ্ক রোগে মারা যায়

বিশ্বের কোথাও না কোথাও প্রতি দশ মিনিটে একজন লোক জলাতঙ্ক রোগে মারা যায়। বছরে মারা যায় ৫৫ হাজার মানুষ। জলাতঙ্ক একটি ভয়ঙ্কর মরণব্যাধি। এ রোগে মৃত্যু হার শতভাগ। শতকরা ৯৫ ভাগের বেশি জলাতঙ্ক রোগটি মূলত কুকুরের কামড় বা আচঁড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ মানুষ কুকুর, বিড়াল, শিয়ালের কামড় বা আচঁড়ের শিকার হয়। যাদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু।  ২৫ হাজার গবাদি প্রাণীও এ রোগের শিকার হয়ে থাকে। দেশে ২০১০ সালের আগে বছরে ২ হাজার মানুষ জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেত।
এই অবস্থায় সরকার ২০২২ সালের মধ্যে জলাতঙ্ক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গিকার করেছে। গতকাল রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ব্যাপকহারে কুকুরের টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টরা এই তথ্য জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি)-এর উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী ১৪ থেকে ২০শে মে সপ্তাহব্যাপী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সকল ওয়ার্ডে ব্যাপকহারে কুকুরের ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।  অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ও লাইন ডাইরেক্টর কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা ২০২২ সালের মধ্যে জলাতঙ্ক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গিকার করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সহযোগীতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম কর্তৃক পরিচালিত জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির বিষয়ে তুলে ধরেন তিনি। যার মাধ্যমে বর্তমানে দেশে এই রোগের আক্রান্তের হার ৫০  ভাগের অধিক কমে এসেছে।
জলাতঙ্ক নির্মূলে ব্যাপকহারে কুকুরের তিন রাউন্ড টিকাদানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন রোগ নিয়ন্ত্রণ পরিচালক। এই কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ১২ লাখ ৩৮ হাজার কুকুরকে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে ১৬ লাখ কুকুর রয়েছে। এর মধ্যে ৮৩ ভাগ কুকুরই রাস্তার। সংশ্লিরা জানান, ২০১৬ সালের মধ্যে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা শতকরা ৯০ ভাগ কমিয়ে আনা এবং ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে জলাতঙ্ক মুক্ত করার লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে জাতীয় জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মূল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের সকল জেলায় মোট ৬৬টি জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত  রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়। হাসপাতালটির বার্ষিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা দেশে ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২১৪৭ থেকে ১৪৪৫ নেমে এসেছে। হাসপাতালটিতে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬০ শতাংশ কমেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, জলাতঙ্ক রোগ নির্মূলের কাজে আমাদের যেভাবে এগিয়ে আসতে হবে, সেভাবেই সমাজের ক্ষতিকারক মানুষ, যাদের আচরণ দেখে মনে হয় জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত, তাদেরও দমন করতে হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ডিএনসিসি মেয়রকে উদ্দেশ্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের খাদ্যে ভেজাল ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার হতে হবে।
এগুলো যাতে ব্যবহার করা না হয়, সে ব্যাপারে কড়া নজরদারি দিতে হবে। গবাদি পশুর খাবারে ট্যানারির বর্জ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয় বলেই, গবাদি পশু থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্যে অ্যান্টিবায়োটিকসহ রাসায়নিক ক্ষতিকর পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। এসব খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এতে করে দেশের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য কোনো দিনই অর্জন হবে না। তাই সবাইকে সমন্বিতভাবে এসব সমস্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এছাড়া রাজধানীতে এখন প্রচুর পরিমাণে শব্দ দূষণ হচ্ছে, এটাও রোধ করতে হবে। পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রাণী হত্যা থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে উলেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, মানুষ ও প্রাণী আদি কাল থেকে একে অপরের উপর নির্ভরশীল। আর সভ্যতার শুরু থেকেই কুকুর মানুষের বন্ধু। এ কারণে কুকুরকে নির্মূল না করে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক, লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ, ডা. উম্মে রুমান সিদ্দিকী প্রমুখ। এর আগে সকালে রাজধানীর খামারবাড়ি এলাকায় কুকুরকে ইনজেকশন ও লাল রঙ দিয়ে চিহ্নিত করার মাধ্যমে কুকুরের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ডিএনসিসির মেয়র।

৯৬ তরল দুধের ৯৩টিতেই ক্ষতিকর উপাদান

বাজারে প্রচলিত তরল দুধের ৯৬টির মধ্যে ৯৩টির নমুনাতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান পাওয়া গেছে উল্লেখ করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ   একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে হাইকোর্টে। তবে কোন কোন কোম্পানির দুধে এই ভেজাল বা রাসায়নিক দ্রব্য মেশানোর সঙ্গে জড়িত, প্রতিবেদনে তাদের নাম-ঠিকানা দেয়া হয়নি। এজন্য আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কোন কোন কোম্পানির দুধে ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে  সেসব কোম্পানির নাম আদালতে উপস্থাপন করতে বলা হয়। আগামী ১৫ই মের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে এই তালিকা দাখিল করতে বলা হয়েছে। গত বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের হয়ে এই প্রতিবেদন দাখিল করেন আইনজীবী ফরিদুল আলম। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন  ডেপুটি অ্যাটর্নি  জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরিতে করা পরীক্ষা নিয়ে তৈরি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনের সার সংক্ষেপে বলা হয়েছে,
১. কাঁচা তরল দুধের ৯৬টি নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
তার মধ্যে অনুজৈবিক বিশ্লেষণ রিপোর্ট অনুযায়ী, ৯৩টি নমুনাতে টিপিসি ও কলিফরম কাউন্ট ক্ষতিকর মাত্রায় বিদ্যমান এবং একটি নমুনায় সালমোনেলা পাওয়া গেছে। রাসায়নিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৫টি নমুনাতে সিসা, ৩টিতে আফলাটক্সিন, ১০টিতে টেট্রাসাইক্লিন, একটিতে সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং ৯টিতে পেস্টিসাইট (অ্যান্ডোসালফান) ক্ষতিকর মাত্রায় পাওয়া যায়।
২. প্যাকেটজাত তরল দুধের ৩১টি নমুনার (দেশি ২১টি এবং আমদানি করা ১০টি) মধ্যে ১৭টি দেশি দুধের নমুনাতে টিপিসি ও কলিফরম কাউন্ট, ১৪টিতে মোল্ডস এবং আমদানি করা তরল দুধের একটি নমুনাতে কলিফরম কাউন্ট ক্ষতিকর মাত্রায় বিদ্যমান। রাসায়নিক বিশ্লেষণে দেখা যায়,  দেশি দুধের একটি নমুনাতে আফলাটক্সিন, ৬টিতে টেট্রাসাইক্লিং এবং আমদানি দুধের তিনটিতে  টেট্রাসাইক্লিং ক্ষতিকর মাত্রায় রয়েছে।
৩. দইয়ের ৩৩টি নমুনার ১৭টিতে টিপিসি, ৬টিতে পলিফরম কাউন্ট, ১৭টিতে ইস্ট/ মোল্ড এবং একটিতে সিসা ক্ষতিকর মাত্রায় বিদ্যমান।
৪. পশু খাদ্যের ৩০টির মধ্যে ১৬টিতে ক্রোমিয়াম, ৪টিতে আফলাটক্সিন, ২২টিতেটেট্রাসাইক্লিং, ২৬টিতে এনরোফ্লক্সাসিন, ৩০টিতে সিফরোফ্লক্সাসিন এবং ২টিতে পেস্টিসাইট (এন্ডসালফান) ক্ষতিকর মাত্রায় বিদ্যমান। এই বিষয়গুলো মানবদেহের দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক, মানুষের কিডনি, যকৃতসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, এই কারণেই আদালত স্বপ্রনোদিত হয়ে জনস্বার্থে এই রুল জারী করেছিলেন।
এর আগে গত ১১ই ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ সারাদেশে গরুর দুধ, দুই এবং গো-খাদ্যে কী পরিমান ব্যাক্টেরিয়া, কীটনাশক, সীসা রয়েছে তা নিরূপনের জন্য একটি জরিপ পরিচালনার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে খাদ্য সচিব, মৎস্য ও প্রাণী সচিব, কৃষি সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, নিরাপত্তার খাদ্য কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যানসহ সকল সদস্য, কেন্দ্রীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি এবং বিএসটিআই চেয়ারম্যানকে জরিপের প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। এরই ধারাবাহিতায় গতকাল মামলাটি শুনানির জন্য আসলে আদালত এই আদেশ দেন ।