Thursday, October 31, 2013

পিলারে নগ্ন ছবি তুললেন শারলিন চোপড়া

আবারো আলোচনায় ঝড় তুলেছেন টুইটার বিখ্যাত নায়িতা শারলিন চোপড়া। তিনি এবারে একটি পিলারের সাথে ছবি তুলেছেন, তবে তার গায়ে পিংক রঙের ওড়না ছাড়া আর কিছুই নেই।একটি প্রাসাদের ভেতর পিলারকে ঘিরে আছে তার দুই পা, আর ওড়না উড়ছে নিজের মতো।বলিউড অভিনেত্রী শারলিন চোপড়া একের পর এক নিজের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত আলোচনায় আসতে সক্ষম হয়েছেন। আবারোও নিজের একটি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ফের আলোচনায় এসেছেন এ তারকা।

এর আগে ছবির সেটে দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা নগ্ন থেকে রেকর্ড স্থাপন করেছেন এই বিতর্কিত নায়িকা। শারলিনের আসছে ‘কামসূত্র থ্রিডি’ ছবির সেটে নাকি এই কাণ্ড ঘটিয়েছে তিনি। জানা যায়, নগ্ন থাকাকালীন শারলিন নাকি তার শরীরের বেশ কিছু অংশে রঙও মেখে নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয় শোনা যাচ্ছে শারলিন নগ্ন অবস্থায় এই ছবির জন্য সামনে একটি আইটেম গানেও অংশ নিতে যাচ্ছেন। আইটেম গানটি ছবির প্রমোশনাল কাজে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক রুপেশ পাল।   তবে এ প্রসঙ্গে শারলিন বলেন, আমি ভয়হীন সাহসী নারী। কাজ করতে সাহস লাগে এবং সেই সাহসটুকু আমার আছে। আর সাহস থাকলে নিজের দুর্বলতাগুলো সহজেই শুধরিয়ে নেয়া যায়। আমি প্রথম ভারতীয় নারী হয়ে প্লেবয়ে কাজ করে ইতিহাস নির্মাণ করেছি। সেই অনুভূতি ছিল ব্যতিক্রমী। এখন শুধু দেখার বিষয় ভক্তদের আর কি কি উপহার দেন এ অভিনেত্রী।

নগ্নতা, বিতর্কিত পোশাক ও অভিনয়ের জন্য এরইমধ্যে পরিচিত হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও মডেল শারলিন চোপড়া। তেলেগু, তামিল, হিন্দি ও ইংরেজি মোট চারটি ভাষার ছবিতে অভিনয় করেছেন ২৯ বছর বয়সী এ অভিনেত্রী। তার অভিনীত কয়েকটি ছবি হচ্ছে ইউনিভার্সিটি, বিপার, এ ফিল্ম বাই অরাভিন্দ, দোস্তি: ফ্রেন্ডস ফরএভার, নটি বয়, রাকিব, গেইম, দিল বলে হাড়িপ্পা।

শারলিন চোপড়া বলিউডে সাহসী নায়িকা নামে পরিচিত। একের পর এক নগ্নতার পোজ দিয়ে আলোচনায় আসেন শারলিন। শারলিন চোপড়া প্লেবয়ে শুট করে প্রথম আলোচনায় আসেন, এরপর টুইটারে নিজের ন্যুড ছবি ও পরে ইউটিউবে নুড ভিডিও ফুটেজ পোস্ট করে আবারো আলোচনায় আসেন তিনি। এখন তিনি নিজেকে ‘নগ্নতার দেবী’ বলে দাবি করছেন। নগ্নতার রাজ্যে তিনি নাকি বিপ্লব ঘটিয়েছেন। শারলিন বলেন, আমি ভয়হীন সাহসী নারী। লাইভ কাজ করতে সাহস লাগে এবং সেই সাহসটুকু আমার আছে। আর সাহস থাকলে নিজের দুর্বলতাগুলো সহজেই শুধরিয়ে নেয়া যায়। এক সাক্ষাতকারে শারলিন তার পেহ্মবয়ে শুটের অভিজ্ঞতার কথা জানান, আমি প্রথম ভারতীয় নারী হয়ে পেহ্মবয়ে কাজ করে ইতিহাস নির্মাণ করেছি। সেই অনুভূতি ছিল ব্যতিক্রমী। আমি পেহ্মবয় টিমের সঙ্গে পাঁচদিন কাজ করেছি। তাদের দিকনির্দেশনা থাকলেও আমার সিদ্ধান্তই তারা অগ্রহণযোগ্য মনে করেননি। আমি প্লেবয় শুটে কাজ করে আরো আত্নবিশ্বাসী হই। বিপ্লবী এ নারীকে নিয়ে অবশ্য বেজায় আগ্রহী ভক্তরা। এখন দেখার বিষয় ‘নগ্নতার দেবী’ ভক্তদের আর কি কি উপহার দেন। শার্লিন নিজেকে কোথায় নিতে চান তাই দেখার অপেক্ষা।

সমঝোতা চাইলে ফোনগেট বাধা নয়

ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিতে নিক্সন বিদায় নিয়েছিলেন। স্কাইপগেটে একজন বিচারপতি সরে দাঁড়িয়েছিলেন। দুই নেত্রী অবশ্য রীতিমতো দেশবাসীকে জানান দিয়ে ফোনালাপ করেছিলেন। এটি ফাঁস করে দেওয়ার আইনি ও নৈতিকতার প্রশ্ন কম জোরালো নয়। কিন্তু এটা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ও এডওয়ার্ড স্নোডেনদের নায়কোচিত মর্যাদালাভের যুগ। এটা ওপেন গভর্নমেন্টের যুগ। দুই নেত্রী জানতেন, তাঁরা গোপনীয় আলোচনায় যোগ দেননি। তাঁদের একান্ত কথায় এমন কিছুই আমরা পাইনি, যা তাঁরা নতুন বলেছেন। তাদের কাজিয়ার বিষয়, ভাষা, ভঙ্গি, রুচি—সবই আমাদের অতি চেনা। তাহলে এটা আমাদের লজ্জায় ফেলেছে মানায় না। এসব তাঁরা করেন, করে আসছেন এবং করে চলবেন। এর পরও তাঁদেরই আমরা প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলের নেতা করব। নাগরিক সমাজ সংলাপের সাংস্কৃতিক মান নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেনি। সর্বোচ্চ পর্যায়ে এ রকম আনুষ্ঠানিক ঝগড়াঝাঁটির বিষয়বস্তুই যে অসুখকর, গণতন্ত্রের জন্য ভয়ংকর, তার স্বীকৃতি মেলেনি। তার চেয়ে পত্রিকায় বড় শিরোনাম হয়েছে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ। এখানেও সেই দুই নেত্রীর সুবিধা-অসুবিধার চশমায় আমাদের বিষয়টি দেখতে, স্পর্শকাতরতার তল মাপতে বাধ্য করা হচ্ছে। কেউ বলছেন, যারা এটা প্রকাশ করেছে, তারা গণতন্ত্রের জন্য ভয়ংকর কিছু করেছে। তাদের নাকচ করব না। এখন পর্যন্ত একটা মিথ্যাচার চলছে যে মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনকে ‘যারা’ ডেকেছে তারা রাজনীতিক নয়
 তারা ‘সুশীল সমাজ’। রাজনীতির দীনতা নয়, দায়ী ওই কুচক্রী সুশীল সমাজ। ভবিষ্যতে হয়তো শুনতে হবে, এই কুচক্রী সমাজই ভুল বুঝিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করিয়েছিল! টেপ ছাপিয়ে ‘দণ্ডনীয় ও জামিন-অযোগ্য অপরাধ’ করে এরাই দুই নেত্রীর মধ্যে কৃত্রিম দূরত্ব সৃষ্টি করেছে। অথচ তিন দিনে ১৩/১৪টি লাশ মিলেছে। মানুষ আতঙ্কিত। সামনে যত বেশি কর্মসূচি তত বেশি লাশ। কত লাশের বিনিময়ে ‘সংবিধান অনুযায়ী’ নির্বাচন হবে? না, এ যে ‘শিশু গণতন্ত্র’। সে চিৎকার করে কাঁদছে। কিন্তু সে মুখে ফিডার দিতে মা-খালাদের খবর নেই। স্কাইপগেট জামায়াতের যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে বিএনপিকে প্রচারণার সুবিধা দিয়েছিল। সেটা একান্ত গোপনীয় বিষয় হলেও তার বিষয়বস্তু বিচারে জনস্বার্থে তার প্রকাশ সমর্থন করেছিলাম। ক্ষমতাসীনদের জন্য তা বিব্রতকর হলেও তা তারা তদন্ত করেনি। গণমাধ্যমে ফোনগেট যখন আংশিক ছাপা হলো, তখন বিএনপিকে ক্ষুব্ধ হতে দেখা যায়নি। পরে স্কাইপগেটকে দণ্ডনীয় বর্ণনাকারীরা বলেছেন, ‘এটা রাষ্ট্রীয় সংলাপ। এটা প্রকাশিত হওয়া উচিত।’ সরকার না করলে কারা ফাঁস করল, তার তদন্ত হবে না। সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদমতে, ফোনগেট বিচার্য। এটা বলেছে, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা,
জনশৃঙ্খলা, জনসাধারণের নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের চিঠিপত্রের, যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার থাকবে।’ আমার প্রথম কথা হলো, দুই নেত্রী মুঠোফোনে যে ভাবভঙ্গি প্রকাশ করেছেন, তা ৩৯(২) অনুচ্ছেদের চেতনাকে আঘাত করেছে। দেশের যে পরিস্থিতিতে যে ভাব তাঁরা প্রকাশ করেছেন, সেটা করে তাঁরা সংবিধানের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। সংবিধান তাঁদের এটা করার অনুমতি দেয়নি। কারণ, তাঁদের আলোচনার বিষয়বস্তু ‘জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতা’সম্পন্ন বলে প্রতীয়মান হয় না। এই যোগ্যতা নিয়েই তাঁরা ‘আমি একবার অপজিশনে, আপনি একবার অপজিশনে, আমি একবার সরকারে এবং আপনি আরেকবার সরকারে’ যাচ্ছেন। তাঁদের একমাত্র আতঙ্ক—এই পালাবদল হাতছাড়া না হয়। সুতরাং ফোনগেট প্রচারের বৈধতা খুঁজতে গেলে শিকড়সুদ্ধ টান পড়বে। তাই বিএনপি আর যা-ই করুক, আইনের বরখেলাপের অভিযোগ বা এর কোনো তদন্ত নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে নাগরিকের গোপনীয়তার শিষ্টাচার কি চালু করেছিল? মুঠোফোনে আড়ি পাতা নিয়ে দেশে অব্যাহতভাবে সংবিধানের লঙ্ঘন চলছে। কিন্তু তা নিয়ে আওয়ামী লীগ বা বিএনপিকে পেরেশান হতে দেখিনি। ‘জায়গার অভাবে’ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই ভবনে ‘অস্থায়ীভাবে’ স্থাপিত হয়েছিল আড়ি পাতা যন্ত্র। এর নিয়ন্ত্রণ আইনমতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।
কিন্তু চেষ্টা করেও এর নিয়ন্ত্রণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আজ পর্যন্ত নিতে পারেননি বলেই জানি। ২০১০ সালের এপ্রিলে কথিতমতে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতার মুঠোফোনে গোয়েন্দা সংস্থার দ্বারা আড়ি পাতার ঘটনা ফাঁস হলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে হইচই পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু তার তদন্ত হয়নি। প্রায় পাঁচ হাজার মুঠোফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা ১৯ হাজারে উন্নীত করার সার্মথ্য বৃদ্ধি ঘটেছে কি না, জানি না। মার্কিন সিনেটের ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান ডায়ান ফিনস্টিন ২৯ অক্টোবর আঙ্গেলা ম্যার্কেলদের দিকে তাকিয়ে বলেছেন, বন্ধু দেশের নেতাদের মুঠোফোনে আড়ি পাতা ভুল ছিল। আমাদের দুই নেত্রী গোয়েন্দাদের ওপর নজরদারি করতে কোনো কমিটি করেননি। নাগরিকের অনুকূলে আড়ি পাতা-সংক্রান্ত বিধিব্যবস্থা নিশ্চিত না করতে উভয়ের মধ্যে কোনো কাজিয়া নেই। দুই নেত্রীর বহুল আলোচিত ফোনগেট সম্পর্কে আমার প্রতিক্রিয়া মিশ্র। মির্জা ফখরুলের কথায়, ‘টেপ ফাঁস উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যাতে সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, সংলাপ যাতে না হয়, এ জন্য সরকার নাটক তৈরি করেছে।’ কিন্তু নাটক বিএনপি কি কিছু কম করেছে? শেখ হাসিনা তো যথার্থই বলেছিলেন, ‘আপনার আলটিমেটাম মেনেই আমি ফোন করলাম। এখন তাহলে হরতাল থেকে সরবেন না কেন?’ ১৮-দলীয় জোট নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করার শর্ত তিনি জনসভায় দেননি। ৩২ মিনিট কথা বলার মাথায় বরং খালেদা জিয়া নতুন শর্ত দেন। বলেন, ‘আপনি নির্দলীয় সরকার মেনে নিন। তাহলে আমি এখনই হরতাল প্রত্যাহার করব।’ টেলিফোন আলাপচারিতায় প্রথমই শেখ হাসিনা যখন বললেন, আপনি কেমন আছেন?
তার উত্তরে খালেদা জিয়া আমি ভালো আছি বলার পর বাঙালির সৌজন্য অনুযায়ী আপনি কেমন আছেন কথাটিও তিনি বলতে পারেননি। ৩৭ মিনিটের আলোচনায় পাঁচ মিনিটের কম মূল সংলাপের বিষয় ঠাঁই পেয়েছে। বিকল লাল টেলিফোন ও কেক কাটার মতো পুরোনো কাসুন্দি নিয়ে বাদানুবাদের সময় তাঁদের গলায় জোর ছিল। দুই নেত্রীর কেউই নির্বাচনকালীন সরকারের ফয়সালায় মনোযোগী ছিলেন না। এটা এসেছে বাত কি বাত। অনেক প্রসঙ্গ এসেছে যখন লাইন কেটে যেতে পারত। যেমন ‘২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা আপনারা করিয়েছেন’। আমার একবারের জন্যও মনে হয়নি তাঁরা কেউ কাউকে নির্বাচন বিষয়ে আশ্বস্ত করতে প্রস্তুত ছিলেন। শেখ হাসিনা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন হরতাল প্রত্যাহার করাতে। সংলাপ নিয়ে তাঁর মাথাব্যথা প্রকাশ পায়নি। প্রধানমন্ত্রী এমনকি খালেদা জিয়াকে আহত করেন এই বলে যে, গণভবনে তিনি অন্যান্য দলকেও দাওয়াত দিয়েছেন। সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে দাওয়াত দিচ্ছেন। নিজের উদারতা তুলে ধরতে তিনি জানান, সংসদে তাঁর দলের ৯০ শতাংশ আসন সত্ত্বেও সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব দিয়েছেন। অথচ তাঁর স্মরণ রাখা উচিত ছিল, বিএনপি কখনো ৩৩ শতাংশের নিচে ভোট পায়নি। অন্যদিকে, ‘গ্রেনেড হামলা আপনারা করেছেন’—খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার মুখের ওপর এতটা জোর দিয়ে বললেন কিসের জোরে? কিছুদিন আগে মির্জা ফখরুল আমাকে বললেন, ওই হামলার বিচার-প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপি সরকার ভুল করেছিল। তিনি এ জন্য অনুশোচনাও করলেন। তবে তিক্ততা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দয়া করে হরতাল প্রত্যাহার করুন।’
আবার খালেদা জিয়াও ‘দুঃখিত’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। খালেদা জিয়া স্মরণ করেছেন যে ‘আমরা অনেক কথা বলেছি, এরশাদবিরোধী আন্দোলনে একসঙ্গে কাজ করেছি, আপনার বাসায় বহুবার গিয়েছি। আপনি এসেছেন। এখনো আলোচনা করতে চাই। আবার শেখ হাসিনা পরে বলেছেন, আপনি কখনো অপজিশনে, কখনো আমি। কখনো আমি সরকারে, কখনো আপনি সরকারে। আমরা যা করব, পার্লামেন্টে করব। খালেদা জিয়া তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেন, আপনার সভার সময় চলে যাচ্ছে। টেলিফোনে সব বলা যায় না। আমার একটা নতুন অনুভূতি হলো, শেখ হাসিনার সর্বদলীয় সরকারের যুক্তি হলো মাইনাস টু ভীতি। তিনি খালেদাকে একবারও বলেননি তাঁর আমলের সুষ্ঠু সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কথা। ‘যারা মাইনাস টু করতে চেয়েছিল তাদেরকে আপনি সুযোগ দিতে চান কেন?’ খালেদা জিয়া বলেন, আমি দিতে চাই না, সেটা আপনি দিতে চান। শেখ হাসিনা খালেদাকে নিয়ে নিজেদের জাতীয় ঐকমত্যের অবিসংবাদিত প্রতিভূ মনে করেন। খালেদাকেও সেটা ভাবতে বলেন। আমরাও তো কার্যত তাই মানি। সমস্যা হলো ক্ষমতার লোভ। ত্রয়োদশ সংশোধনীর অপব্যবহার করে খালেদা জিয়া এক-এগারোর আগে যা চেয়েছিলেন, শেখ হাসিনা সেটা বাতিল করে চাইছেন।
এ পর্যন্ত যা কিছু ঘটেছে, তাতে কোনো পক্ষই সংলাপ থেকে পিছিয়ে আসার সু-যুক্তি দিতে পারে। খালেদা জিয়া সতর্ক ছিলেন যে, কে সরকারপ্রধান হবেন, তা তিনি শেখ হাসিনার ওপর চাপিয়ে দিতে পারেন না। ৩৪ মিনিটের মাথায় তাই তিনি বলেন, ‘আলোচনায় ঠিক হবে আমার ফর্মুলা থাকবে, না আপনার ফর্মুলা থাকবে।’ শেখ হাসিনাকে খোঁচা দিয়েই খালেদা জিয়া বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা জামায়াতই আপনাকে দেখিয়েছিল। আমরা অনেকে ফোনগেটে হতাশ হতে পারি, দুঃখ পেতে পারি কিন্তু এটাই বাংলাদেশি বাস্তবতা। সংলাপ চাইলে ফোনগেটের লজ্জা বাধা নয়। লজ্জা ও বিড়ম্বনা হবে একতরফা নির্বাচন করলে। কথায় কথায় জেনারেল মইন উ আহমেদকে শাপান্ত করার বিপদ আছে। ব্যবসায়ী নেতাদের কথায়, সমঝোতা না হলে তৃতীয় শক্তি আসতে পারে। ষড়যন্ত্র নয়, তাঁরা হয়তো স্বাভাবিক যুক্তি দিচ্ছেন। পারভেজ মোশাররফ দেশে টিকে যেতে পারেন, কারণ, তিনি ব্যর্থ হলেও দল করেছিলেন। ভবিষ্যতের মইনউদ্দিনেরা দল করার প্রবণতা দেখাবেন।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

ভর্তি, মান ও দক্ষ জনশক্তি

কিছুদিন আগে এইচএসসির ফল প্রকাশিত হলো। পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে একেবারেই শ্রেষ্ঠ বিবেচিত এই জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৮ হাজার ছাত্রের অনেকেই শুধু তাদের পছন্দের বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, গ্রহণযোগ্য মানের বিশ্ববিদ্যালয়েই যে ভর্তি হতে পারবে না, তা পরিসংখ্যান ছাড়াও বলা যায়। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট নানা সমস্যার সমাধানে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হলো:
১. বর্তমান সরকার গত পাঁচ বছরে শিক্ষাব্যবস্থায় নানা উদ্যোগ নিয়েছে। যেমন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লটারির মাধ্যমে ভর্তি, আরও গোটা দুয়েক পাবলিক পরীক্ষা। অতিসম্প্রতি টিআইবির সমীক্ষা অনুযায়ী, শিক্ষার মতো বিশাল খাতে দুর্নীতিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। তবে এর পরও শিক্ষার মানে যে উন্নয়ন ঘটেছে, তা বলার সুযোগ নেই।
২. প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য যে লটারিপদ্ধতি, তাকে শহরভিত্তিক সমন্বিত করা প্রয়োজন। যেমন ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য শহরে ভর্তি হতে ইচ্ছুক ছাত্রদের অভিভাবকেরা পছন্দের স্কুলগুলো সাজিয়ে দেবেন নিজের ঠিকানাসহ। একটি লটারির মাধ্যমে সব স্কুলের আসনগুলো বরাদ্দ করা হবে।
৩. স্কুলের ওপরের শ্রেণীতে কিংবা কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে অবশ্যই ভৌগোলিক অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আমরা আমাদের দেশকে এমন সমৃদ্ধ করতে পারিনি যে সেখানে শত শত নটর ডেম কলেজ কিংবা ভিকারুননিসা, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের মতো ভালো কলেজ থাকবে। সুতরাং আমাদের ছেলেমেয়েরা সাধারণ স্কুলে পড়বে, এটাই বাস্তবতা। বরং এলাকাভিত্তিক ভর্তিব্যবস্থা চালু হলে নানা এলাকায় ভালো স্কুল-কলেজ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে স্কুল-কলেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানজটও হ্রাস পাবে।
মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার অনুরূপ প্রকৌশল, কৃষি ও অন্য বিষয়সমূহে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সমন্বিত ভর্তি-পরীক্ষা গ্রহণের সময় এসেছে। শাহজালাল ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একসঙ্গে ভর্তি-পরীক্ষা আয়োজন করে এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তবে এ ক্ষেত্রে আরও ভালো হবে যদি আমেরিকার স্যাট পরীক্ষার অনুরূপ একটি পরীক্ষার স্কোরকেও ব্যবহার করা যায়। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় নাম লেখাতে পারেনি। সুতরাং পাবলিক পরীক্ষাসহ সমন্বিত কোনো ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ভর্তি করাতে আপত্তির কিছু দেখি না।
৪. পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল আমাদের সমাজে খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ছাত্রদের মুখস্থনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলছে, সৃজনশীল করে নয়। যদিও সম্প্রতি সৃজনশীল প্রশ্ন দিয়ে আমাদের ছাত্রদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ফলাফলে ধাপের সংখ্যা (গ্রেডিং সিস্টেমের কল্যাণে) এবং ধাপের মানগুলো এতই সাধারণ যে ছেলেমেয়েরা সামান্য চেষ্টায়ই সর্বোচ্চ গ্রেড পেয়ে যাচ্ছে। অফুরন্ত প্রাণশক্তির তরুণদের আমরা গ্রহণযোগ্য চ্যালেঞ্জ দিয়ে তাদের দক্ষতাকে প্রশংসনীয় পরিমাণে বৃদ্ধি করতে পারছি না, যা মেধাস্থানসংবলিত শিক্ষাব্যবস্থা পারত। ছাপার হরফে লোভনীয় ও মর্যাদার সেই তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে ছাত্রদের যে প্রাণান্ত চেষ্টা এবং তার ফলে তাদের যে অর্জন, তা কিন্তু অত্যন্ত প্রশংসনীয় ছিল, যার জন্য না রাষ্ট্র, না পরিবারকে বিনিয়োগ করতে হতো। ছেলেমেয়েদের সুপ্তশক্তির বিকাশের জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে হবে। চ্যালেঞ্জ না থাকলে তাদের মেধা ও দক্ষতা বিকশিত হওয়ার কারণ নেই। আমাদের প্রবর্তিত জিপিএ সিস্টেম সেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারছে না।
৫. আমেরিকা-কানাডাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য স্কুলের পরীক্ষার ফলাফল কিংবা স্যাট স্কোর ছাড়াও সামাজিক কাজে অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কিশোর তরুণদের মধ্যে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা, দেশের প্রতি ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন দেশে ছেলেমেয়েদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগাতে আমাদের কোনো কর্মসূচি নেই। প্রতিটি দেশের, বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম বিকশিত করতে দেশের সেবা করার নানা রকম কর্মসূচি রয়েছে। কোরিয়ায় প্রত্যেক নাগরিককেই দেশের জন্য কাজ করতে হয়। একজন মেধাবী স্নাতক হয়তো অনেক কম বেতনে দেশের জন্য গবেষণা করে এবং এটুকু ত্যাগের মাধ্যমে দেশের প্রতি তার ভালোবাসা দানা বাঁধে। আমাদের দেশে বয়স্কদের জন্য শিক্ষা, স্কুল-কলেজের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কিংবা রাস্তাঘাটের উন্নয়নে কিংবা শ্রী বৃদ্ধিতে পাবলিক পরীক্ষার পর ছাত্রদের অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করা যেতে পারে।
৬. আমাদের শিক্ষার মানকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট প্রতিযোগিতা যেমন অলিম্পিয়াডের কোনো বিকল্প নেই। উন্নত দেশের ভৌত অবকাঠামো কিংবা শিক্ষকদের দক্ষতা ও শিক্ষার সঙ্গে আমাদের তুলনা চলে না। সুতরাং আমাদের শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে আমাদের কোমলমতি তরুণ ছাত্রদের অফুরন্ত প্রাণশক্তিকে জ্ঞানান্বেষণে লাগানোর ব্যয়সাশ্রয়ী পদ্ধতি নেই। আমাদের ছাত্রদের সৃষ্টিশীল করতে চাই সৃজনশীল প্রশ্ন, যার জন্য আমাদের বিনিয়োগ করতে হবে। অবহেলিত জনপদ ও জনগোষ্ঠীর ছাত্ররাও যাতে করে ভালো শিক্ষা পায়, এর জন্য চাই চমৎকার বই এবং অভিজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে সময়সূচি করে টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদান। একজন শিক্ষক পড়াবেন আর ১০ লাখ ছাত্র তা থেকে শিখবে, এর থেকে ভালো আর কী হতে পারে?
৭. কম্পিউটার বিজ্ঞানে সিস্টেমের থেকে উপাত্তকে অধিক মূল্যবান মনে করা হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ডিজিটাল মিডিয়ায় থাকা এই উপাত্তের সর্বোত্তম ব্যবহার আমরা এখনো নিশ্চিত করতে পারছি না। পাবলিক পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের সময় সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ করতে পারলে পরবর্তী সময়ে তথ্যের মধ্যে নানা সম্পর্ক আবিষ্কার করে তা একাধারে যেমন পরিকল্পনায় ব্যবহার করতে পারি, অন্যদিকে ছাত্র ও অভিভাবকদের পড়ালেখার নানা সিদ্ধান্তে যেমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ কিংবা কোনো বিষয়ে ভর্তির সম্ভাবনা ও গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দান করা সম্ভব।
স্বপ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, বিশেষ করে শিক্ষার উন্নয়নে ডিজিটালসহ সব প্রযুক্তির জুতসই প্রয়োগে ব্যয়সাশ্রয়ীভাবে দেশে উন্নত মানের শিক্ষাব্যবস্থা চালু করলে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে যে শিক্ষিত ও দক্ষ মানুষের প্রয়োজন, তা আমরা তৈরি করতে পারব।
মোহাম্মদ কায়কোবাদ: অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ফেলো, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।

অবিলম্বে তফসিল ঘোষণা করা হোক

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে যেকোনো আইন পাস করতে পারেন। তবে সেই আইন নির্বাচনসংক্রান্ত হলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অবশ্যই মতামত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কেননা, যে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়ন করবেন, তাঁদের নির্বাচন-প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো গলদ না থাকে, সেটি দেখা ইসির সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। সেই বিবেচনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদ জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশোধনী সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বিতীয়ত, বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে সরকারি দল যে সংশোধনী পাস করিয়ে নিয়েছে, তাতে ফুটবল খেলোয়াড়দের মতো রাজনীতিকদের জার্সি বদলের প্রবণতা বাড়বে। এ ব্যাপারেও কমিশন নীরব থাকতে পারে না। সংবিধান অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবরের পর জনপ্রশাসনের ওপর নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কথা। কিন্তু সেই কর্তৃত্ব গ্রহণে অনীহা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে যেখানে প্রবল বিভক্তি রয়েছে,
সেখানে কমিশনের উচিত ছিল সেই বিভক্তি থেকে নিজেকে সযত্নে দূরে রাখা। কিন্তু তারা সেটি করতে সফল হয়েছে, সে কথা জোর দিয়ে বলা যাবে না। বিরোধী দলের অভিযোগ, সরকারের ইচ্ছাপূরণেই সচেষ্ট রয়েছে এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। নির্বাচনী আচরণবিধিতে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা নেই; তবে তাঁরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তফসিল ঘোষণার আগে মন্ত্রীরা সরকারি সুবিধা নিয়ে ভোট চেয়ে বেড়ালেও কমিশন তার রাশ টানার প্রয়োজন বোধ করছে না। ফলে জনমনে সন্দেহ বেড়েছে। কমিশনের উচিত ছিল ২৭ অক্টোবরেই জনপ্রশাসনের কর্তৃত্ব যথাসম্ভব নিজের হাতে নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা। সমঝোতার স্বার্থে তাতে পরিবর্তন আনা যেত। এখনো সময় আছে, নির্বাচন কমিশনকে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে অধিকতর সজাগ ও সতর্ক হওয়ার। প্রতিষ্ঠানটিকে অবশ্যই তার নিরপেক্ষ অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। সংবিধানপ্রদত্ত ক্ষমতার সদ্ব্যবহার কেন প্রতিষ্ঠানটি করবে না?
নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির কথা বললেও কীভাবে সেটি তৈরি হবে, এখনো তা বলেনি। যদি জনমনে এই ধারণা হয় যে ইসি সরকার বা কোনো মহলের মুখাপেক্ষী, তাহলে রাজনৈতিক সমঝোতা হওয়ার পরও তাদের পক্ষে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা কঠিন হবে। নির্বাচন কমিশনের মতো একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে যেমন কঠোরভাবে আইনি বিধিবিধান মেনে চলতে হয়, তেমনি জন-আস্থার বিষয়েও সদা সজাগ থাকতে হয়। এই জন-আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল বলেই ২০০৭ সালে এম এ আজিজের নেতৃত্বাধীন কমিশনকে লজ্জাজনকভাবে বিদায় নিতে হয়েছিল। দেশবাসী আগামী নির্বাচন সামনে রেখে তার পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। কেবল কথায় নয়, আচরণেও নির্বাচন কমিশন কথাটি মনে রাখবে আশা করি।

ফোনে আড়িপাতা ও ক্ষয়িষ্ণু মার্কিন প্রভাব by মুহাম্মদ রুহুল আমীন

লাখ লাখ রেড ইন্ডিয়ানের গণকবরের ওপর দাঁড়িয়ে থেকেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার উন্নত আন্তর্জাতিক মূল্যবোধের কারণে বহির্বিশ্বে প্রভাব বিস্তার ও নেতৃত্বদানের প্রেক্ষাপট রচনা করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু বিতর্কিত গুপ্তচরবৃত্তিসহ সাম্প্রতিককালের কয়েকটি ঘটনা বহির্বিশ্বে দেশটির সম্মানহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ নীতি সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি দুর্নাম কুড়িয়েছে। এর বদৌলতে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) যে কোনো নাগরিক ও বিদেশীর ফোনালাপ রেকর্ড করার বৈধতা পেয়েছে। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জেমস আর ক্লেপার স্বীকার করেছেন, বারাক ওবামার গোয়েন্দা নীতির অংশ হিসেবে ফোনালাপ রেকর্ড করার প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত রয়েছে। দেশটির সাবেক এনএসএ কর্মকর্তা অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন ফোন রেকর্ডের তথ্য ফাঁস করে বিশ্বময় হৈচৈ ফেলে দেন। ফোন রেকর্ড ছাড়াও রাজনীতিক, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার, ইমেইল নজরদারির নীতি যুক্তরাষ্ট্রের বহিঃইমেজের গোড়া কেটে ফেলেছে।
স্নোডেনসহ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়িষ্ণু ভাবমূর্তি নিয়ে শংকিত ও উৎকণ্ঠিত। তাদের মতে, সবচেয়ে বিপর্যয়কর পরিণতি হল, এ ধরনের গোয়েন্দা নীতি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতি চপেটাঘাতস্বরূপ। সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা ম্যাকগভর্ন মন্তব্য করেছেন, তার দেশের ফোনে আড়িপাতা এবং কম্পিউটার পর্যবেক্ষণ নীতি নাগরিকদের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যাচ্ছে। তারা আরও মনে করেন, এ ধরনের বিপর্যয়কর জাতীয় নীতি আন্তর্জাতিক নীতি-নৈতিকতার চরম লংঘন। উদাহরণস্বরূপ, গোপনীয়তাবিরোধী কতিপয় গোষ্ঠী এবং সাবেক এনএসএ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটা দল মনে করে, তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আন্তর্জাতিক নৈতিকতার বাধ্যবাধকতা থাকা আবশ্যক। কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা নীতি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অপরাপর রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ধারণা, গোয়েন্দাগিরির ছদ্মাবরণে ফোনে ও কম্পিউটারে আড়িপাতা নীতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে মারাত্মকভাবে। ব্যক্তি যখন স্বাধীনতা ভোগে অনিশ্চিত থাকে, তখন সে এমন সংস্কারের গোলক ধাঁধায় আক্রান্ত হয় যে, তার উদ্ভাবনী শক্তি হ্রাস পায়। ফলে আন্তর্জাতিক উন্নয়নও বিঘ্নিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, স্নোডেন মস্কোতে তার প্রথম ভিডিও বার্তায় বলেছেন, পৃথিবীর সব মানুষ এখন বুঝতে পারছে, আমাদের গোয়েন্দা নীতি সর্বত্র আমাদের নিরাপত্তাহীনতার যন্ত্রণা বাড়াচ্ছে, আমাদের অর্থনীতির বিনাশ ডেকে আনছে, আমাদের দেশকে ধ্বংস করছে এবং সর্বোপরি আমাদের কথা বলার, চিন্তা করার, মুক্তভাবে বসবাস করার, সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানোর এবং সম্পর্ক রচনার অধিকারগুলো সংকুচিত করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা নীতি দেশ-বিদেশে তাই ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তুলেছে। পশ্চিমা সমাজে তরুণ-তরুণীদের দ্বারাই গোয়েন্দা-নীতিবিরোধী তৎপরতা শুরু হয়েছে। অস্ট্রেলীয় জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ, ব্রিটিশ নাগরিক সাবাহ হ্যারিসন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন, গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড ও ব্রাডলিসহ অসংখ্য তরুণ-কলমযোদ্ধা আজ যুক্তরাষ্ট্রের অনৈতিক, অন্যায়, বেআইনি গোয়েন্দা নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে দেশান্তর হয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষ্ঠুর আইনি জুুলুম নির্যাতনের করাল থাবার শিকার হচ্ছেন। তবুও তারা সর্বস্তরের জনগণের প্রশংসা পাচ্ছেন প্রতিনিয়ত, বিদেশীদের দ্বারাও সংবর্ধিত হচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক চার এনএসএ কর্মকর্তার একটি দল স্নোডেনের সঙ্গে মস্কোতে সাক্ষাৎ করে তার মহৎ কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের একজন ম্যাকগভর্ন স্নোডেনকে প্রতীকী মোমবাতির জিয়নকাঠি উপহার দিতে গিয়ে বলে ওঠেন, স্নোডেনের মতো অসংখ্য তরুণ একই অনুভূতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-কৌশলের অন্ধকারগুলো দূর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও ফ্রান্স, মেক্সিকো, জার্মানি ও ইইউসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের উপরোক্ত নীতি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে। ২৫ অক্টোবর লন্ডন থেকে রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ৩৫ জন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব নেতার ওপর, গোয়েন্দাগিরি করে আসছে। ফ্রান্সের দৈনিক পত্রিকা লা মঁদ এবং জার্মানির সাপ্তাহিক ডার স্পাইগেইল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র লাখ লাখ ফরাসির ফোনালাপে আড়ি পেতেছে এবং মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ফিলিপ কালডেরনের ইমেইলে চৌর্যবৃত্তির আশ্রয় নিয়েছে। লা মঁদ জানিয়েছে, ১০ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্সের ৭০.৩ মিলিয়ন ফোনালাপে আড়ি পেতেছে। ব্রাজিলভিত্তিক আমেরিকান সাংবাদিক গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড বলেছেন, তিনি অচিরেই আরও অসংখ্য আড়িপাতা ফোনের তথ্য প্রকাশে বিশ্বের নামকরা পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। ক্রমবর্ধমান আড়িপাতা নীতির খবর প্রকাশের মুখে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের শংকা দূর করতে বারাক ওবামা তাকে আশ্বস্ত করেছেন, তার ফোনে কখনও আড়িপাতা হবে না।
ইইউ দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত গুপ্তচরবৃত্তির নীতিকে মার্কিন ও ইইউ সম্পর্কের ক্ষেত্রে চরম আস্থা ভঙ্গকারী হিসেবে অভিহিত করে মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তির পুনর্মূল্যায়ন দাবি করেছেন। গোয়েন্দাগিরি কৌশল হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নানা গোপনীয় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, টঝ-৯৮৫উ নামক কোড ব্যবহার করে এনএসএ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যে কোনো ফোনালাপ রেকর্ড করতে পারে এবং টেক্সট মেসেজ পাঠ করতে পারে। এমন আরেকটি গোপনীয় কর্মসূচির নাম হল চজওঝগ, যার মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের নজরদারির আওতায় আনা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সম্মান বিনষ্টের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইয়েমেনে ক্রমবর্ধমান ড্রোন আক্রমণ। এই বিষয়ে এ পর্যন্ত অসংখ্য রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, বুরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমসহ অনেক মানবাধিকার সংগঠন এমন রিপোর্ট প্রকাশ করছে। এসব রিপোর্টে ড্রোন আক্রমণকে অন্যায়, অস্পষ্ট, মানবাধিকারের লংঘন, স্বাধীনতা হরণ, অমানবিক এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে উল্লেখ করা হলেও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কার্নি তা অস্বীকার করেছেন। লন্ডনভিত্তিক সংস্থা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের মতে, ২০০৪ সালে পাকিস্তানের প্রত্যন্ত উপজাতি এলাকায় ৪০০টি ড্রোন আক্রমণের ফলে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ মানুষ নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়ক বেন এমারসন এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ৪৫০-এর বেশি বলে জানিয়েছেন। এতদসত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র নিহতের ঘটনা অব্যাহতভাবে অস্বীকার করে চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়িষ্ণু ভাবমূর্তির ওপর আরও একটি ধাক্কা লাগে দেশটির প্রশাসনিক হঠাৎ বন্ধের (শাটডাউন) ঘটনায়। পল টেইলর তার সাম্প্রতিক ইউএস প্রেসটিজ টেইকস এ হিট শীর্ষক নিবন্ধে শাটডাউনের পর যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদা হ্রাসের চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন। ১৭ অক্টোবর বারাক ওবামা স্বীকার করেছেন, ১৬ দিনের শাটডাউন প্রক্রিয়া ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক অবস্থান অত্যন্ত নড়বড়ে করে তুলেছে। তিনি বলেছেন, গত কয়েক সপ্তাহব্যাপী শাটডাউন প্রক্রিয়া বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতায় মারাত্মক চিড় ধরিয়েছে। এটা আমাদের শত্র“দের উৎসাহিত করেছে, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের শক্তিশালী করেছে এবং আমাদের ওইসব বন্ধুকে হতাশাগ্রস্ত করেছে, যারা আমেরিকার বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রতিশ্র“তির দিকে তাকিয়ে আছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোসেফ নাঈ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা নীতির ফলে সৃষ্ট জটিলতা আরও তীব্র হয়েছে দেশটির শাটডাউন ঘটনার মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মর্যাদা ক্ষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির আশু কর্তব্য হল অবিলম্বে তার জাতীয় নীতির পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্নির্ধারণ করা। আমার মনে হয়, শক্তির মাংসপেশি প্রদর্শনের চেয়ে বেশি কার্যকর কৌশল হল আদর্শের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করা। সে লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তার হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারে তৎপর হতে হবে। বিশ্বায়নের এ পৃথিবীতে যুক্তরাষ্ট্র কেবল অন্যদের ওপর চাবুক পেটাবে, আর অন্যরা তা নীরবে সহ্য করবে- এটা অসম্ভব। বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের মুখেও যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক নেতৃত্ব দানের প্রতিশ্র“তি ও যোগ্যতা প্রদর্শন করতে হবে এবং এভাবেই রাষ্ট্রটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী পরিবর্তনের পথে অগ্রসর হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে এমন নীতি অনুসরণ করা, যাতে তারা তাদের সমৃদ্ধ মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক নৈতিকতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বহির্বিশ্বে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারে। বৈশ্বিক নেতৃত্বদানে স্থায়িত্ব লাভ করতে হলে অবশ্যই আমেরিকাকে গোপনে আড়িপাতার নীতি এবং ডিজিটাল যুগের অন্যান্য অনৈতিক কৌশল পরিহার করতে হবে। সভ্যতা জন্ম লাভ করে বেঁচে থাকে তার আদর্শের উৎকর্ষের মাঝ দিয়ে আর সভ্যতা ধ্বংস হয় তার নৈতিকতা বিসর্জনের কারণে। আমেরিকা অবশ্যই ধ্বংস হবে, যদি তার আদর্শের মৃত্যু হয়।
মুহাম্মদ রুহুল আমীন : অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নজরদারির তথ্য পর্যালোচনা করবেন বারাক ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, তিনি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি করা তথ্যের পর্যালোচনা করবেন। গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহারের জন্য তিনিই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকার বলে উল্লেখ করেন। ওবামা আরও বলেন, কিভাবে মার্কিন সংস্থাগুলো বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর কোটি কোটি ফোনে আড়িপেতেছে তাও তিনি খতিয়ে দেখবেন। মঙ্গলবার এ খবর দিয়েছে আলজাজিরা অনলাইন। এদিকে ইউরোপ বিশ্বে মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ নিয়ে বেকায়দায় রয়েছেন ওবামা। একের পর এক অভিযোগে অতিষ্ঠ তিনি।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও তা আর ধোপে টিকছে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থায় ওবামার এ পদক্ষেপ সম্মান বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ইন্টেলিজেন্স কমিটি দেশের গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রমের বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে। কমিটির চেয়ার ডায়ান ফিনস্টিন বন্ধু দেশের নেতাদের মোবাইল ফোনে আড়িপাতা ভুল ছিল বলে উল্লেখ করেছেন। খবর এএফপির। তিনি বলেন, হোয়াইট হাউস তাকে বলেছে, এ ধরনের নজরদারির বন্ধ করা হবে।’ এদিকে মঙ্গলবার রাতে সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সামনে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। সর্বশেষ গণহারে ফোনে আড়িপাতার ঘটনার নিন্দা জানাতে স্পেন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের মতো বিশ্বনেতাসহ ইউরোপের লাখ লাখ সাধারণ নাগরিকের টেলিফোন ও অনলাইন যোগাযোগ ডাটার ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ ঘোষণা দেয়া হল। সিনেটর ডায়ান ফিনস্টিন ন্যাশলাল সিকিউরিটি এজেন্সির কার্যক্রমের বিস্তার সম্পর্কে তার কমিটির আইন প্রণেতাদের ব্রিফ করা হয়নি উল্লেখ করে গোয়েন্দা কার্যক্রমের বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ঘোষণা দেন।

মোদি হত্যা-চেষ্টার কথা পুলিশকে জানিয়েছিল গোয়েন্দা

বিহারের সমাবেশে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদির প্রাণনাশ হতে পারে বলে বিহার পুলিশকে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) পাঁচদিন আগেই জানিয়েছিল। তবে, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার এ খবর অস্বীকার করে বিহার পুলিশকে এমন কোনো তথ্যই কেন্দ্রের তরফে দেয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন। খবর জিনিউজের। ২৩ অক্টোবরই বিহারে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর জয়েন্ট ডিরেক্টর বিবেক শ্রীবাস্তব যে চিঠি পাঠান তাতে বলা হয়, নরেন্দ্র মোদিকে বেশকিছু সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী মুসলিম সংগঠন হত্যার চেষ্টা করতে পারে। মুজাহিদীনের প্রতিষ্ঠাতা ইয়াসিন ভাটকলের গ্রেফতারের প্রতিশোধ নিতেও যে মোদিকে হত্যা করা হতে পারে, সে তথ্যও ছিল বিহার পুলিশের কাছে। রোববার মোদির সমাবেশ শুরুর আগেই পাটনা শহর ধারাবাহিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে।
এসব বিস্ফোরণে ছয়জন নিহত ও ৮৩ জন আহত হন। এসব হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ভাটকলের একজন সঙ্গীও রয়েছে। তাই আবার আইএম মাস্টার মাইন্ড ভাটকলকে জেরা করার কথা ভাবছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ। তবে, এখনও পর্যন্ত ঘটনার দায়িত্ব স্বীকার করেনি নিষিদ্ধ সংগঠনটি। গান্ধী ময়দানে আরও একটি তাজা বোমা উদ্ধার মঙ্গলবার গান্ধী ময়দান থেকে একটি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। শহরে নিয়মমাফিক তল্লাশি চালানোর সময় গান্ধী ময়দানের অদূরে আইজি অফিসের সামনেই পাওয়া যায় বোমাটি। বোমাটি নিষ্ক্রয় করতে ঘটনাস্থলে গেছে তারা। তদন্তে উঠে এসেছে, পাটনা বিস্ফোরণের সঙ্গে জুলাইয়ের বুদ্ধ গয়া বিস্ফোরণের মিল রয়েছে। দুটি ঘটনাতেই নাশকতায় যে টাইমার ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছিল, তা লোটাস নামে একটি সংস্থার তৈরি।