Sunday, September 25, 2011

আবার প্রেসিডেন্ট পদে পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ গতকাল শনিবার বলেছেন, ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভ্লাদিমির পুতিনের উচিত আবার ছয় বছর মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়া। জবাবে প্রধানমন্ত্রী পুতিন বলেছেন, মেদভেদেভের এই প্রস্তাব তাঁর জন্য খুবই সম্মানের।
ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড রাশিয়ার বার্ষিক সম্মেলনে মেদভেদেভ বলেন, আগামী বছরের মার্চে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর সরকারের জন্য কাজ করতে তিনি প্রস্তুত। এর মাধ্যমে তিনি এ আভাস দিলেন যে নতুন প্রেসিডেন্টের অধীনে তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।
মেদভেদেভ বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট পদে দলের চেয়ারম্যান পুতিনকে সমর্থন করাই দলের জন্য সঠিক কাজ হবে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে দল জয়ী হবে বলে আমি প্রায় নিশ্চিত। তা যদি হয়, তাহলে দেশকে আরও আধুনিক করার জন্য প্রকৃত কাজ করে যেতে আমি প্রস্তুত।’ সংবিধান পরিবর্তন করে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার বছরের পরিবর্তে ছয় বছর করেছেন মেদভেদেভ। পুতিনের ক্ষমতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে তা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট পদে পুতিনের নাম প্রস্তাব করায় মেদভেদেভকে ধন্যবাদ জানিয়ে পুতিন বলেছেন, ‘আমার জন্য এটা খুবই সম্মানের।’
পুতিন এর আগেই বলেছিলেন, দেশের জন্য ভবিষ্যতে তাঁদের ভূমিকা কী হবে, এ নিয়ে মেদভেদেভ ও তাঁর মধ্যে অনেক আগেই সমঝোতা হয়েছে। পরপর দুই মেয়াদে আট বছর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করার পর ২০০৮ সালে ক্রেমলিন ছাড়েন পুতিন। এরপর প্রেসিডেন্ট হন মেদভেদেভ।

উত্তরাধিকার নিয়ে তাড়াহুড়া নেই দালাই লামার

উত্তরাধিকার নির্বাচনে কোনো তাড়াহুড়া নেই তিব্বতের ধর্মীয় নেতা দালাই লামার। গতকাল শুক্রবার ভারতের ধরমশালায় বৌদ্ধধর্মীয় নেতাদের এক সমাবেশে দালাই লামা এ কথা বলেন।
বৌদ্ধধর্মীয় ৭৬ বছর বয়স্ক এই নেতা বলেন, ‘আমি এখনো যথেষ্ট সুস্থ। আমার এ পদের উত্তরাধিকার কে হবেন, তা একমাত্র আমিই নির্বাচন করব। এটা আমার অধিকার ও ক্ষমতা। আমার বয়স যখন ৮০ বা ৯০ হবে, তখন উত্তরাধিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সবার সামনে তুলে ধরব। এটি নিয়ে কোনো তাড়াহুড়া নেই।

ফিলিস্তিনে উদ্যাপনের প্রস্তুতি ইসরায়েলে সতর্কাবস্থা

জাতিসংঘের সদস্যপদ পেতে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করার কথা ফিলিস্তিনের। আনুষ্ঠানিক আবেদনের পর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনের সদস্যপদের প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দিলে সদস্যপদ পাবে না ফিলিস্তিন।
এদিকে আনুষ্ঠানিক আবেদনের মুহূর্তটি উদ্যাপনে গতকাল ব্যাপক প্রস্তুতি নেয় ফিলিস্তিনের জনগণ। যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দিলে এর প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনিদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলে ২২ হাজার পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
গতকাল গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ১৫৩৫-এ জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের কাছে ফিলিস্তিনের সদস্যপদের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র জমা দেওয়ার কথা প্রেসিডেন্ট আব্বাসের। এরপর জিএমটি ১৬৩০-এ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। ভাষণে জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য সমর্থন পেতে বিশ্বের সব দেশের প্রতি আহ্বান জানাবেন মাহমুদ আব্বাস।
মহাসচিব বান কি মুন জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য ফিলিস্তিনের আবেদন হাতে পেলে এবং তা অনুমোদন করলে পরে তিনি তা নিরাপত্তা পরিষদে পাঠাবেন। প্রস্তাবটি ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত হওয়ার পর কমপক্ষে পরিষদের নয়টি সদস্যরাষ্ট্রের ভোট পেতে হবে এবং স্থায়ী পাঁচ সদস্যরাষ্ট্রের (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীন) কেউ ভেটো না দিলে তা পাস হবে। যদি নিরাপত্তা পরিষদের কোনো স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র ভেটো দেয়, সে ক্ষেত্রে নয় বা এর চেয়ে বেশি ভোট পেলেও প্রস্তাবটি পাস হবে না। নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটি পাস হলে পরে তা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে এবং জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যরাষ্ট্রের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে তা অনুমোদন হতে হবে। তবেই জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ পাবে ফিলিস্তিন। সদস্যপদ পেলে জাতিসংঘের ১৯৪তম সদস্যরাষ্ট্র হবে ফিলিস্তিন।
সদস্যপদের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদনের মুহূর্তটি উদ্যাপনে ব্যাপক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন শহরের কেন্দ্রস্থলে বড় বড় টিভি স্ক্রিন বসানো হয়েছে। এসব স্ক্রিনে প্রেসিডেন্ট আব্বাসের ঐতিহাসিক ভাষণ শুনতে উদ্গ্রীব ফিলিস্তিনের জনগণ।
ফিলিস্তিন জাতীয় কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক কেন্দ্র বলে পরিচিত মুকাত্তায় ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া ১২৫টি দেশের পতাকা টাঙানো হয়েছে। মাঝখানে ফিলিস্তিনের পতাকা রেখে এর চারদিকে এসব দেশের পতাকা টাঙানো হয়।
ইসরায়েলের পুলিশ বাহিনীর মুখপাত্র জানান, দেশজুড়ে ২২ হাজার পুলিশকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। কমপক্ষে শনিবার রাত পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও জানান, ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরের সীমান্ত, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম এবং আরব ইসরায়েলি শহরগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

থানায় হামলা, পুলিশসহ ৩০ জনের বেশি আহত

চীনের দক্ষিণে শিল্প এলাকা হিসেবে পরিচিত গুয়াংদংয়ে শত শত বিক্ষোভকারী একটি থানা ও যানবাহনে হামলা চালিয়েছে। এতে অনেকে আহত হয়। পুলিশের হাতে একটি শিশু নিহত হওয়ার খবরকে কেন্দ্র করে ওই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে বলে গতকাল শুক্রবার সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিবৃতিতে জানায়, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লুফেং শহরের সীমান্তবর্তী একটি থানা ও যানবাহনে হামলা চালায়। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ জন পুলিশও রয়েছে। তা ছাড়া বিক্ষোভকারীরা ছয়টি গাড়ি, স্থানীয় সরকারি দপ্তর, রেস্তোরাঁ ও একটি পোশাক কারখানায় ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি রাস্তাঘাটও অবরোধ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের সঙ্গে জমি নিয়ে একটি চুক্তিকে কেন্দ্র করে গত বুধবার থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ ছিল। এরপর পুলিশের হাতে ওই শিশুর মৃত্যুর খবরে ক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, সহিংসতায় ৩০ গ্রামবাসী আহত হয়।

জাম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট সাতা

জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা মাইকেল সাতা। দেশটির প্রধান বিচারপতি আর্নেস্ট সাকালা গতকাল শুক্রবার তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হয়। জাম্বিয়ার রাজধানী লুসাকা ও তামা খনি শহর কিতওয়ে ও এনডোলায় নির্বাচনী সহিংসতা হয়। এতে নিহত হয় দুজন।
বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রুপিয়াহ বান্দা দ্রুত পরাজয় মেনে নেন। এতে আরও সহিংসতার আশঙ্কা শেষ হয়ে যায়।

কান ও ব্যাননের মধ্যে সরাসরি বিতর্ক হবে

যৌন নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক প্রধান দমিনিক স্ত্রস-কান ও লেখিকা ট্রিসটেন ব্যাননের মধ্যে সরাসরি বিতর্কের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফ্রান্সের সরকারি কৌঁসুলিরা। গতকাল শুক্রবার কৌঁসুলিরা এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছেন। তবে দিনক্ষণ সম্পর্কে জানানো হয়নি।
ব্যাননের অভিযোগ, ২০০৩ সালে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিক স্ত্রস-কান তাঁকে প্যারিসের একটি নির্জন ফ্ল্যাটে আটক করেন এবং তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন করেন। স্ত্রস-কানও ব্যাননের দিকে ‘এগিয়ে’ যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।
ফরাসি কৌঁসুলিরা বিবৃতিতে বলেন, ‘ইন দ্য ব্যানন-ডিএসকে ম্যাটার দ্য প্যারিস প্রসিকিউটর’ কার্যালয় ওই সরাসরি বিতর্ক আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কবে ওই বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি।
ব্যাননের অভিযোগের বিষয়ে বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকেই জেরা করেছে ফরাসি পুলিশ। চলতি সপ্তাহে টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষা ৎকারে ব্যানন বলেছেন, কানের সঙ্গে সরাসরি বিতর্ক করার বিষয়ে তিনি আগ্রহী। এএফপি।

নতুন গোয়েন্দা উপগ্রহ উ ৎক্ষেপণ করেছে জাপান

জাপান গতকাল শুক্রবার একটি নতুন গোয়েন্দা উপগ্রহ সফলভাবে কক্ষপথে উ ৎক্ষেপণ করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা এ খবর জানিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়াতে এটি জাপানের নতুন প্রচেষ্টা বলে জানানো হয়।
গ্রিনিচ সময় সাড়ে চারটার দিকে এইচ-২এ নামের একটি জাপানি রকেট পর্যবেক্ষণ ও ছবি ধারণে সক্ষম গোয়েন্দা উপগ্রহটি নিয়ে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় তানেগাশিমা মহাকাশ কেন্দ্র ত্যাগ করে।
জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির (জেএএক্সএ) কর্মকর্তা নাওকি তাকারাদা বলেন, সফলভাবে রকেটটি উ ৎক্ষেপণ করা হয়েছে। পরে এটি পৃথিবী প্রদক্ষিণে কক্ষপথে ছেড়ে দেওয়া হয়।
১৯৯৮ সালে জাপানি দ্বীপপুঞ্জে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এটাই জাপানের সর্বশেষ পদক্ষেপ। ২০০৯ সালে উত্তর কোরিয়া পুনরায় ছয় হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ত্রিস্তরের তায়েপোদং-২ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।

দুষলে বন্ধুত্ব নষ্ট হতে পারে

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের দ্বৈত অবস্থান রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রকাশ্য মন্তব্য করেছে, এতে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। গতকাল শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার এসব কথা বলে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করেছেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে হিনা খার বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার কয়েকটি ঘটনার সঙ্গে পাকিস্তানকে জড়িয়ে প্রকাশ্যে অভিযোগ অব্যাহত রাখলে ইসলামাবাদের বন্ধুত্ব হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন জিও টিভিকে তিনি বলেন, আপনারা (যুক্তরাষ্ট্র) পাকিস্তান ও দেশটির জনগণের প্রতি সম্পর্ক বিরূপ করার চেষ্টা করতে পারেন না। আর যদি তা করেন, তবে এর মূল্য আপনাদেরই দিতে হবে।
পাকিস্তানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অস্বীকার করে হিনা খার বলেন, এ অভিযোগ অংশীদারির চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মিত্র সম্পর্কে অপমানজনক কিছু বলা বা প্রকাশ্যে অভিযোগ করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক ও সামরিক কোনো ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল নয় পাকিস্তান। পাকিস্তানি নাগরিকদের কাছে এ ব্যাপারটা স্পষ্ট হওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পর পরই এ মন্তব্য করলেন হিনা খার। মুলেন অভিযোগ করেন, আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদ রপ্তানি করছে পাকিস্তান। জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) যোগসাজশ রয়েছে। আইএসআইয়ের সহযোগিতায় হাক্কানি নেটওয়ার্ক চলতি মাসে আফগানিস্তানে ন্যাটোর একটি ঘাঁটিতে আক্রমণ করে। এতে ৭৭ সেনা আহত হন। এ ছাড়া একই জঙ্গি সংগঠন কাবুলে মার্কিন দূতাবাস ১৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে এবং গত জুন মাসে কাবুলের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে হামলা চালায়।

মমতার ভাগ্য পরীক্ষা কাল

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভার দুটি শূন্য আসনে কাল রোববার উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আসন দুটি হলো দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর ও উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাট (উত্তর)। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়ছেন ভবানীপুর আসনে।
ভবানীপুর আসনের বিধায়ক ও রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য সুব্রত বকসী মমতাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দিতে আসনটি ছেড়ে দেন। আর বসিরহাট (উত্তর) আসনের সিপিএম বিধায়ক মোস্তফা বিন কাসেম গত মে মাসে আত্মহত্যা করলে এটি শূন্য হয়।
মমতা এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কোনো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। সংবিধান অনুযায়ী দল তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসিয়েছে। তবে সংবিধান অনুসারে ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে রাজ্যের যেকোনো একটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে আসতে হবে মমতাকে। সেই লক্ষ্যে তিনি ভবানীপুর আসন থেকে উপনির্বাচনে লড়ছেন। নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে ২৮ সেপ্টেম্বর।
মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়েছে বামফ্রন্টের প্রধান শরিক সিপিএম। প্রার্থী হলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক নন্দিনী মুখার্জি এবং বসিরহাট (উত্তর) আসনের প্রার্থী হয়েছেন সিপিএমের স্থানীয় নেতা সুবিদ আলী গাজী।

শ্রীলঙ্কার নতুন কোচ জিওফ মার্শ

শ্রীলঙ্কায় এসেছিলেন বড় ছেলের হাতে ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ তুলে দিতে। কে জানত, এই সফরে তাঁর নিজের ক্যারিয়ারেও যুক্ত হবে নতুন এক অধ্যায়! শ্রীলঙ্কা-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ চলার সময়ই আলোচনা হয়েছে, কাল এল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। শ্রীলঙ্কার নতুন কোচ জিওফ মার্শ! দুই বছরের চুক্তিতে সিনিয়র মার্শ দায়িত্ব নেবেন ২৭ সেপ্টেম্বর।
শ্রীলঙ্কার দায়িত্ব নেওয়ায় আইপিএল দল পুনে ওয়ারিয়র্সের কোচের পদটা ছাড়তে হচ্ছে মার্শকে। পুনে তাঁকে ছাড়তে রাজি হওয়ায় দলটিকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জাগরণ ও অগ্রসরে দুটি ভিন্ন ভূমিকায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে মার্শের। অ্যালান বোর্ডারের অস্ট্রেলিয়া দলের অপরিহার্য অংশ ছিলেন, ছিলেন ১৯৮৭ বিশ্বকাপজয়ী দলে। খেলেছেন ৫০ টেস্ট ও ১১৯ ওয়ানডে। তবে ক্রিকেটার মার্শকে বোধ হয় ছাড়িয়েই গিয়েছিলেন কোচ মার্শ। নিজে একটু আড়ালে থাকতে পছন্দ করেন বলেই হয়তো প্রাপ্য কৃতিত্বটা সেভাবে পাননি। তিনি কোচ থাকার সময়ই বিশ্ব ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার রাজত্ব শুরু। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত কোচিং করিয়েছেন অস্ট্রেলিয়াকে। খেলোয়াড় ও কোচ দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জয়ের একমাত্র কীর্তিটিও তাঁর। ২০০০ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত ছিলেন জিম্বাবুয়ে দলের কোচ। ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকও।

প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে আক্ষেপ

চেহারায় স্পষ্ট বিমানভ্রমণের ক্লান্তি। দুই হাতে ধরা শপিং ব্যাগ ও বড় স্যুটকেস। ফুটবল ফেডারেশন ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি ভেঙে নিচে নামতে ব্যস্ত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ ইমন। ইরাক থেকে চার ম্যাচেই হেরে মাত্রই ঢাকায় ফিরেছে বাংলাদেশ দল। ভ্রমণক্লান্তি উপেক্ষা করেই ইমনকে ছুটতে হলো বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে, জেএফএ কাপ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলে খেলতে।
মহানগর স্কুল ফুটবল একাদশের হয়ে ইমনের সঙ্গে কাল খেলেছে ইরাকফেরত বিজয়, জুয়েল, রাজন ও শুভ। ইমনদের দল ঢাকা মহানগর স্কুল একাদশ ম্যাচে নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেও উঠে গেছে সেমিফাইনালে।
তবে এই আনন্দ উপভোগ করতে পারছিল না ইমন। ইরাকের দুঃস্বপ্নের সফরটা বারবার মনে পড়ছিল। গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রথম ম্যাচেই স্বাগতিক ইরাকের কাছে বাংলাদেশ উড়ে যায় ৭-০ গোলে, ১৬ সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনের কাছে ২-০, ১৮ সেপ্টেম্বর ইরানের কাছে ৩-০ এবং ২০ সেপ্টেম্বর গ্রুপের শেষ ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে হার ৪-০ গোলে।
কেন এই বাজে ফল? ইমনের উত্তর, ‘ভেবেছিলাম, অন্তত দুটি ম্যাচ জিতব। বিশেষ করে, ফিলিস্তিনের সঙ্গে জেতা উচিত ছিল। কিন্তু এভাবে এতগুলো গোল হজম করতে হবে ভাবিনি।’ তার কথা, ‘ইরাকে অতিরিক্ত গরম। আমরা ৪০-৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় খেলেছি। ঘামছিলাম না। কিন্তু আমাদের গলা আর বুক বারবার শুকিয়ে আসছিল।’ গোলরক্ষক শুভ বলেছে, ‘ইরাকের পাহাড়ের ওপর ডুহক স্টেডিয়াম। উচ্চতাও সমস্যা ছিল। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল।’ স্টপার সুশীল অবশ্য দাবি করল, সে ভালোই খেলেছে, ‘আমি একা আর কত খেলব? অন্যরা তো সেভাবে খেলতেই পারছিল না।’
এতসব সমস্যা ছাপিয়ে কোচ নুরুল হক (মানিক) দায়ী করলেন পর্যাপ্ত অনুশীলনের অভাবকেই, ‘এই টুর্নামেন্টের জন্য ইরাক চার বছর ধরে অনুশীলন করেছে, ফিলিস্তিনের মতো দলও ছয় মাস অনুশীলন করেছে। কিন্তু আমরা দুই মাসও অনুশীলন করতে পারিনি।’

টেস্টেও নেই গেইল-সারওয়ান

ওয়ানডের মতো বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দলেও নেই ক্রিস গেইল। কারণটা মোটামুটি সবারই জানা। তার পরও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেটি ব্যাখ্যা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। যেটির মূল কথা, গেইলের সঙ্গে ঝামেলার মীমাংসা এখনো হয়নি। ডব্লুআইসিবি ম্যানেজমেন্ট বোর্ড পরিচালকদের কাছে একটি প্রতিবেদন দেবে, গেইলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে এরপরই। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে গতকালই চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছে গেইলের। বাংলাদেশ সফরের দলে না-থাকা তাঁকে কতটা দুঃখ দেবে বা আদৌ দেবে কি না, কে জানে। তবে গেইলের না-থাকা বাংলাদেশের বোলারদের জন্য অবশ্যই বড় স্বস্তি।
দলে নেই সাবেক অধিনায়ক রামনরেশ সারওয়ান ও অলরাউন্ডার ডোয়াইন ব্রাভোও। তবে ওয়ানডেতে না থাকলেও অনুমিতভাবেই টেস্ট দলে আছেন শিবনারায়ণ চন্দরপল ও ফিদেল এডওয়ার্ডস। ওয়ানডের মতো টেস্ট দলেও ফিরেছেন উইকেটরক্ষক দিনেশ রামদিন। তবে গত কিছুদিনের নিয়মিত উইকেটরক্ষক কার্লটন বাফও আছেন ১৫ সদস্যের দলে। ২০০২ সালের পর এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ সফরে বাংলাদেশে আসছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গেইল-সারওয়ান না থাকায় ওই সফরের শুধু চন্দরপল ও মারলন স্যামুয়েলসই আছেন এবারের দলে।
দলে ফিরেছেন ক্রেইগ ব্রাফেটও। বয়সভিত্তিকসহ বিভিন্ন ধরনের ক্রিকেটে সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি করে নজরকাড়া ওপেনার ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে ছিলেন। ওই সিরিজে খেলা না হলেও অভিষেক হয় গত মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে। তবে বাদ পড়ে যান ২ ইনিংসে ১৫ রান করার পর। নিজের প্রতিভা প্রমাণের আরেকটা সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশ সফরে। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে সুবিধা করতে না পারলেও সারওয়ানের চোটে দলে টিকে গেছেন ওপেনার কাইরান পাওয়েল।
অবৈধ অ্যাকশনের দায়ে গত ডিসেম্বরে নিষিদ্ধ হওয়া শেন শিলিংফোর্ডও ফিরেছেন দলে। অ্যাকশন শোধরানোর পর গত জুনে বৈধতা পেয়েছে তাঁর অ্যাকশন। ৫ টেস্টে ১৪ উইকেট নেওয়া অফ স্পিনারের সঙ্গে আছেন লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশু। স্পিনিং উইকেট বানালে নিজেদের ফাঁদে আটকে যাওয়ার আশঙ্কা ভালোই থাকবে বাংলাদেশের। রামপল-রোচ-এডওয়ার্ডসদের নিয়ে গড়া পেস আক্রমণও যথেষ্টই ধারালো। ঘরের মাটিতেও তাই শক্ত পরীক্ষার মুখোমুখিই হতে হবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের।

মারুফ-আমিনুলদের অন্য মিশন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) মাঠটা কাল সকালে বেশ জমজমাট হয়ে উঠল। শিশু-কিশোরদের সঙ্গে একদল সাবেক-বর্তমান ফুটবলার ও কোচ। শামিয়ানা টানিয়ে অতিথিদের বসার ব্যবস্থা ছিল। বক্তৃতা পর্বও হলো।
এই আয়োজনের উদ্যোক্তা ফুটবল কোচ মারুফুল হক ও সাইফুল বারী এবং সাবেক ফুটবলার জুয়েল রানা, নকীব, আতা। সঙ্গে বর্তমান খেলোয়াড় আমিনুল।
‘ক্রিয়েটিভ ফুটবল স্কুল’ নামে তাঁরা কিশোরদের ফুটবল প্রশিক্ষণকেন্দ্র খুলেছেন। কাল বুয়েটের মাঠে এটিরই যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণ শিবিরে থাকছে অনূর্ধ্ব-১১ ও ১৩ বছরের ছেলেরা। প্রথম দিনে ছিল ৪৮ জন কিশোর। ভর্তি হওয়া কিশোরদের ১৭-১৮ বছর পর্যন্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত বুয়েটের মাঠে সপ্তাহে তিন দিন অনুশীলন। শুরুতে ফি লাগছে না। তবে পরে ফি নেওয়া হবে। যে কেউ চাইলে এই শিবিরে প্রশিক্ষণ নিতে পারবে।
উদ্যোক্তারা এরপর ধানমন্ডি, মিরপুর, বনানী, গুলশান, উত্তরা, নারায়ণগঞ্জে শাখা খুলতে চান। কিন্তু কোথাও নাকি মাঠ পাওয়া যাচ্ছে না। জুয়েল-নকীবরা একসুরেই বললেন, ‘আপাতত বুয়েট মাঠ পেয়েছি আমরা। তবে চাইলেই মাঠ পাওয়া যাচ্ছে না। এই কাজে নেমে বুঝতে পারলাম, ঢাকা শহরে মাঠ কত বড় সমস্যা।’
মারুফুল হক বললেন, ‘আমরা ব্যতিক্রমী কোচিং করাব। গতানুগতিক পথে নয়, একটা কিশোরকে গড়ে তুলতে আধুনিক যেসব কোচিং সূত্র আছে, আমরা তা প্রয়োগ করব।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আমিনুল। গোলাম সারোয়ার টিপু, বুয়েটের উপাচার্য এস এম নজরুল ইসলাম তাঁদের বক্তব্যে এই আয়োজনের সাফল্য কামনা করেন।

‘অসাধারণ এক অধ্যায়ের সমাপ্তি’

একবার তিনি বলেছিলেন, ‘আমার এক চোখ দৃষ্টি হারিয়েছে, কিন্তু আমার লক্ষ্য কখনো দৃষ্টি হারায়নি।’ এক চোখে আলো হারিয়েও তিনি ছিলেন স্বপ্নদ্রষ্টা। ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল তাঁর হাত ধরে। মনসুর আলী খান পতৌদির মৃত্যুতে তাই ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রিকেট-বিশ্বেই। ভারতের প্রধানমন্ত্রী, আইসিসি সভাপতি থেকে শুরু করে বর্তমান-সাবেক অসংখ্য ক্রিকেটার শোকবার্তায় শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ‘টাইগার’কে।
ভারতীয় ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতি আছে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের শোকবার্তায়, ‘তিনি ছিলেন রোমাঞ্চপ্রিয় ও দুঃসাহসী একজন অধিনায়ক, ভারতীয় ক্রিকেটে যিনি এনেছিলেন নতুন আত্মবিশ্বাস। খেলা ছাড়ার পরও ছিলেন আদর্শ, শিষ্টতা ও নিষ্ঠার মূর্ত প্রতীক।’ আইসিসি সভাপতি শারদ পাওয়ারের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে পতৌদির বিশালত্ব, ‘শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ ক্রিকেটারের আদর্শ ছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে পরিচয় ছিল, এটাই তো দারুণ সম্মানের।’
‘টাইগার’ নামটি পেয়েছিলেন ক্ষিপ্রগতির ফিল্ডিংয়ের জন্য। তবে এক চোখ নিয়েও যিনি ৬টি সেঞ্চুরিসহ ৩৪.৯১ গড়ে ২৭৯৩ টেস্ট রান করতে পারেন, তাঁর নাম তো হওয়া উচিত ছিল ‘সুপারম্যান!’ সুনীল গাভাস্কারের শোকবাণীতে উঠে এল এটাই, ‘টাইগার পতৌদি ছিলেন তাঁর প্রজন্মের সবচেয়ে ক্যারিশমাটিক ক্রিকেটার। এক চোখে না দেখেও প্রায় ৩ হাজার রান এবং আধডজন টেস্ট সেঞ্চুরি করাই বলে দেয় তিনি কত বড় জিনিয়াস ছিলেন।’
ভারতের বিখ্যাত ‘স্পিন কোয়ার্টেট’ জন্ম তাঁর হাত ধরেই। সেই চার স্পিনারের মধ্যে সফলতম বিষেন সিং বেদি ফিরে গেলেন ওই সময়টাতে, ‘স্পিনারদের প্রতি তাঁর আস্থা ছিল অবিচল, আমরা সবাই তাঁর নেতৃত্বে প্রস্ফুটিত হয়েছি। খুব শান্ত ও স্থিরভাবে তিনি আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর মতো একজন আমরা আর দীর্ঘ, দীর্ঘ সময়েও পাব না। ভারতীয় ক্রিকেটের অসাধারণ এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।’
স্পিন কোয়ার্টেটে বেদির সঙ্গী ভগব ৎ চন্দ্রশেখরের প্রতিক্রিয়া, ‘এখনো তো তাঁর যাওয়ার সময় হয়নি...মাত্র ৭০ বছর। অসাধারণ একজন অধিনায়ক, সব সময়ই ছিলেন আক্রমণাত্মক।’ শচীন টেন্ডুলকারের কণ্ঠে ছিল একজন ‘নায়কের’ মৃত্যুতে শোক, ‘কয়েকবার তাঁর সঙ্গে দেখা করার সম্মান আমার হয়েছে। বিশ্ব ক্রিকেট তাঁর মতো একজন নায়কের অভাব বোধ করবে।’

এবার ম্যারাডোনার লাথি

সেই বিখ্যাত বাঁ পায়ের কিক! এবারও অবিশ্বাস্য কাণ্ড। না, গোল নয়, সেটার সুযোগই আপাতত নেই। ডিয়েগো ম্যারাডোনার বাঁ পায়ের কিক-এর জ্বালা বুঝেছে এক আল ওয়াসল সমর্থক। পরশু ইস্তিসালাত কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে জিতেছে ম্যারাডোনার দল। দুবাইয়ের দলটির কোচ হিসেবে এটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচে তাঁর প্রথম জয়। কিন্তু সেই দিনটাও ম্যারাডোনা বিতর্কিত করলেন সমর্থককে লাথি মেরে।
ঘটনা ম্যাচ শুরুর আগের। তাঁর দুই মেয়ে দালমা আর জিয়ান্নিনা একটা ব্যানার পাঠিয়েছে বাবার কাছে। ম্যারাডোনার নাতি, সার্জিও আগুয়েরোর আড়াই বছর বয়সী ছেলে বেঞ্জামিনের নামে পাঠানো বড় সেই ব্যানারটি টানানো ছিল গ্যালারির এক পাশে। ‘দাদু, আমি তোমাকে ভালোবাসি, আমি তোমার সঙ্গে আছি, বেনজা’—স্প্যানিশ আর আরবি দুই ভাষাতেই লেখা এই ব্যানারটির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন ম্যারাডোনা।
এমন সময় ব্যানারের পেছন থেকে এক সমর্থক সেটি ওপরে টেনে তুলে ম্যারাডোনাকে দেখার চেষ্টা করছিলেন। এতে ব্যানারটি ভাঁজ হয়ে লেখাগুলো পড়া যাচ্ছিল না। ফলে ছবি তোলাতেও ব্যাঘাত ঘটছিল। দুবার ম্যারাডোনা ব্যানারটি টেনে নামান। কিন্তু তৃতীয়বারও সেই সমর্থক ব্যানারটি তুলে ধরলে আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারেননি। বাঁ পায়ে জোরালো লাথি মেরে বসেছেন ওই সমর্থকের হাতে।
পরে অবশ্য এই আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি, ‘আসলে আমি খুবই আবেগপ্রবণ। আমার স্বভাবটাই এ রকম। খেলোয়াড় আর কোচ হিসেবে আমি সব সময়ই এ রকম ছিলাম। কখনো কখনো তো নিজেকে আল ওয়াসলের খেলোয়াড়ই মনে হয়। আসলে ওই ব্যানারটি আমার নাতি আর ম্যানচেস্টার ও আর্জেন্টিনায় থাকা আমার মেয়ে দুটি পাঠিয়েছে। এর মাধ্যমে ওরা আমার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ওই সমর্থককে আহত করার জন্য ক্ষমা চাইছি। আমি আসলে চাইছিলাম, ব্যানারটি যেন দেখা যায়।’
এই বিতর্কটি বাদ দিলে পরশু দিনটি অবশ্য ভালোই কেটেছে ম্যারাডোনার। কাপের প্রথম ম্যাচে আল-জাজিরার কাছে ৪-৩ গোলে হেরে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়িয়ে এমিরেটসকে ৩-০ গোলে হারানো। ম্যাচের আগেও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন ম্যারাডোনা। প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়ার পরই যে সমর্থকেরা হায় হায় করছিল, তাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘ভয় পেলে মাঠে এসে খেলা দেখার দরকার নেই। ওরা বরং ঘরে বসে ডিভিডি কিংবা কমেডি সিরিজ দেখুক। ফুটবলে ভয়ের জায়গা নেই, এটা আবেগ আর বিনোদনের জায়গা। বিনোদিত হতে চাইলে খেলা দেখুন। আর না চাইলে দূরে থাকুন। আমিও চাই দল জিতুক। দলকে ভালো কিছু এনে দিতেই আমি এসেছি। আল ওয়াসলের সমর্থকদের উদ্বেগের কিছু নেই। আমরা ভালো ফল এনে দেবই।’
ম্যারাডোনার এই আশ্বাস অবশ্য পাত্তা দিচ্ছেন না তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আল-জাজিরার পরিচালক আন্দ্রে ওয়েতজেল। ম্যারাডোনাকেই কোচ হিসেবে পাত্তা দেন না তিনি। তাঁর মতে, ভালো ফলের জন্য নয়, আল ওয়াসল ম্যারাডোনাকে কোচ হিসেবে এনেছে স্রেফ প্রচারের জন্য, ‘এটা স্রেফ মার্কেটিং। ম্যারাডোনা যেখানে ক্যামেরা সেখানেই। আল ওয়াসলের এই সিদ্ধান্তের কারণটা বোঝাই যায়। ম্যারাডোনাকে কোচ বলার কোনো উপায় নেই। তিনি স্রেফ একটা সার্কাস।