Wednesday, August 27, 2014

বিজেপিতে মোদিরাজ চূড়ান্ত

লালকৃষ্ণ আদভানি ও মুরলি মনোহর জোশি
বিজেপিতে লালকৃষ্ণ আদভানি ও মুরলি মনোহর জোশির দিন শেষ হয়ে এল। গতকাল মঙ্গলবার দলের নবগঠিত সংসদীয় বোর্ড থেকে প্রবীণ এই দুই নেতাকে বাদ দেওয়া হলো। তাঁদের করা হয়েছে দলের ‘মার্গ দর্শক’ অর্থাৎ কিনা পরামর্শক। দলের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তগ্রহণকারী এ বোর্ড থেকে বাদ পড়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ অটল বিহারি বাজপেয়িও। তাঁকেও মার্গ দর্শক করা হয়েছে। দলে মার্গ দর্শক হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংও। লক্ষ্যণীয়, মঙ্গলবার মার্গ দর্শকের যে তালিকা প্রচারিত হয়েছে তাতে বাজপেয়ির পরে এবং আদভানির ওপরে রয়েছে মোদির নাম। এই বিন্যাসের মধ্য দিয়ে পরিষ্কার, বিজেপিতে বাজপেয়ি, আদভানি, জোশিদের যুগ একেবারে শেষ হয়ে শুরু হলো নরেন্দ্র মোদি ও সভাপতি অমিত শাহর নিরঙ্কুশ প্রাধান্য।
দলে এখন এই দুজনের ভূমিকা এমনই একচেটিয়া যে ১২ জনের সংসদীয় বোর্ডে সেই অর্থে মোদিবিরোধী কাউকেই রাখা হয়নি। বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে অমিত শাহকে। এর মধ্য দিয়ে এটাও বুঝিয়ে দেওয়া হলো সরকারে যেমন মোদিই প্রথম ও শেষ কথা, সংগঠনেও তেমন একমেবাদ্বিতীয়ম্ অমিত শাহ। সংসদীয় বোর্ডের বাকি সদস্যরা হলেন রাজনাথ সিং, অরুণ জেটলি, সুষমা স্বরাজ, ভেঙ্কাইয়া নাইডু, নীতিন গড়কড়ি, অনন্ত কুমার, খেবরচাঁদ গেহলট, শিবরাজ সিং চৌহান, জগদীশ প্রসাদ নাড্ডা এবং রামলাল। এঁদের মধ্যে আদভানির অনুগামী এবং মোদির বিরোধী বলতে একজনই, সুষমা স্বরাজ। কিন্তু দলে এই মুহূর্তে প্রথম সারির নেত্রী বলতে একমাত্র তিনিই। সুষমার পেছনে জনসমর্থনও রয়েছে। বক্তা হিসেবেও তিনি দারুণ। তাই আদভানি, জোশিদের মতো তাঁকে ছেঁটে ফেলা সহজ নয়। তবে সুষমা ছাড়া বাকি সবাই পুরোপুরি মোদি-শাহ ঘনিষ্ঠ। মার্গ দর্শকদের কাজ ঠিক কী হবে, বিজেপি নেতৃত্ব তা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি। দলীয় মুখপাত্র শাহনাওয়াজ হোসেন বলেছেন, মার্গ দর্শকরা সবার ওপরে। তাঁরাই দলকে দিশা দেখাবেন। কংগ্রেস অবশ্য এই নতুন ব্যবস্থাকে ‘বৃদ্ধাশ্রম’ বলছে।

নারী সাহসিকা

খালি হাতে বাঘ মারার কৃতিত্ব এত দিন একমাত্র আফ্রিকার মাসাই সম্প্রদায়ের যোদ্ধাদের দখলেই ছিল। তবে কেনিয়া ও তানজানিয়ায় বসবাসকারী ওই জাতিগোষ্ঠীর সেই কৃতিত্বে এবার ভাগ বসালেন এক ভারতীয়। তাও আবার ৫৬ বছর বয়সী এক নারী! খবর এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমসের। হিমালয়ের কোলের উত্তরাখন্ড রাজ্যের এক গ্রামের ওই নারী আত্মরক্ষার্থে বলতে গেলে খালি হাতেই একটি চিতাবাঘ মেরে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। ঘটনাটি গত রোববারের।
কমলা দেবী নামের ওই প্রৌঢ়া ওই দিন সকালে নিজের চাষের জমিতে কাজ করছিলেন। এমন সময় একটি চিতাবাঘ তাঁকে আক্রমণ করে বসে। স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে ভড়কে গিয়েছিলেন কমলা। কিন্তু সাহায্যের জন্য চিৎকারের পাশাপাশি তিনি সাহস সঞ্চয় করে বাঘটিকে পাল্টা আক্রমণ করেন। কাছে অস্ত্র বলতে ছিল কাস্তেসহ কৃষিকাজের হালকা উপকরণ। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বাঁচা-মরার লড়াই চলার পর লোকজন যখন এগিয়ে আসে, ততক্ষণে কমলা গুরুতর আহত। ওদিকে চিতাবাঘটি মরে ভূত! আহত কমলা হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই শুনিয়েছেন সেই বিভীষিকাময় আধা ঘণ্টার কথা। তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমি খুবই ঘাবড়ে যাই। একপর্যায়ে নিজেকে বাঁচাতে মনে সাহস জোগাই।’ কমলাকে হয়তো আরও কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে হবে। তবে তাঁর কীর্তি এরই মধ্যে স্থানীয় গ্রামাঞ্চলে প্রায় লোককাহিনির মর্যাদা পেতে বসেছে।

রাজপথ ছাড়বেন না ইমরান

ইমরান খান
রাজধানীতে অবস্থান ধর্মঘট অব্যাহত রেখে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, অবস্থান তুলে নিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পিটিআইয়ের জন্য প্রযোজ্য নয়। তিনি আবারও ‘ভোট জালিয়াতির’ সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি চেয়েছেন। এদিকে চলমান রাজনৈতিক সংকট ‘দ্রুততার সঙ্গে’ সমাধানে একমত হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির সেনাপ্রধান। খবর ডন ও এনডিটিভির। ২০১৩ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ১৩ দিন ধরে ইসলামাবাদের কনস্টিটিউশন অ্যাভিনিউসহ কয়েকটি সড়কে অবস্থান নিয়েছেন ইমরান খানের সমর্থকেরা। আধ্যাত্মিক নেতা তাহির-উল কাদরির পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিকের (পিএটি) সমর্থকেরাও একই দাবিতে রাজপথে রয়েছেন। তবে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট গত সোমবার এক পিটিশনের শুনানিকালে বলেন, কনস্টিটিউশন অ্যাভিনিউ থেকে সবাইকে সরে যেতে হবে। কারণ, সড়কটিতে অবস্থানের কারণে বিচারপতিসহ সংশ্লিষ্ট সবার আদালতে যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছে। আদালত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও বলেছিলেন। কিন্তু গতকাল বিকেলেও ওই সড়কটিতে আন্দোলনকারীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।
তাঁদের সরিয়ে দিতে তখন পর্যন্ত পুলিশ বা অন্য কোনো বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। ফলে বিচারকসহ অন্যরা আদালতে যাওয়ার জন্য গতকালও আগের দিনগুলোর মতো বিকল্প পথ ব্যবহার করেছেন। সরকার, পিটিআই ও পিএটির আইনজীবীরা গতকাল আদালতের নির্দেশের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে পৃথক প্রতিবেদন দাখিল করেন। সরকারের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ওই সড়ক থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে পিটিআই বলেছে, তাদের কর্মীরা কোথাও গাড়ি আটকাচ্ছেন না। আর পিএটি বলেছে, বিক্ষোভ করা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। ভারতের টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খান বলেন, ‘তাঁরা (আদালত) কনস্টিটিউশন অ্যাভিনিউকে খালি করতে চান। আমরা ওই সড়কে নেই। সুতরাং আদালতের আদেশ আমাদের জন্য প্রযোজ্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই যেসব ব্যক্তি ভোট জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত, তাঁদের শাস্তি হোক।’ সোমবারের পর নওয়াজ শরিফ সব ধরনের নৈতিক কর্তৃত্ব হারিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন ইমরান। সোমবার পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের (ইসিপি) তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব ২০১৩ সালের নির্বাচনে কথিত ব্যাপক ভোট জালিয়াতির বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। ইসিপির বৈঠক বাতিল: নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির যে অভিযোগ নিয়ে কথা হচ্ছে, তার ওপর আজ বুধবার একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। সূত্র বলেছে, কনস্টিটিউশন অ্যাভিনিউতে চলমান অবস্থান ধর্মঘটের কারণে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা কার্যালয়ে যেতে পারছেন না। মূলত এ কারণেই ওই বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। মিত্রের খোঁজে পিটিআই: ইমরানের পিটিআই এখন পার্লামেন্টের বিরোধী দলগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করছে।
এ বৈঠকের লক্ষ্য হচ্ছে, তাদের পরিবর্তন পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন আদায়। পিটিআই-শিবিরের বিশ্বাস, তারা নওয়াজের পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল-এন) সরকারকে ক্ষমতায় বহাল থাকার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো পথ দেখিয়েছে। সেটা হচ্ছে, নওয়াজ এক মাসের জন্য পদত্যাগ করবেন। তবে পিএমএল-এনই ক্ষমতায় থাকবে। এই এক মাসে প্রস্তাবিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কমিশন ভোট জালিয়াতির অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবে। নতুন এই ফর্মুলার পক্ষে সমর্থন পেতে পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ইমরান খানসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা দেশটির প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লিগসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এখন যোগাযোগ করছেন। প্রধানমন্ত্রী-সেনাপ্রধান বৈঠক: প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ গতকাল তাঁর কার্যালয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। বৈঠকের কিছুক্ষণ পরই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে চলমান সমস্যা দ্রুততার সঙ্গে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে বৈঠকে মতৈক্য হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান রাজনৈতিক সংকটের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘাতের ঘটনা নিয়েও আলোচনা করেছেন বলে বৈঠক-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংসদের মাধ্যমে তদন্ত নয় -বিশেষ সাক্ষাৎকারে শফিক আহমেদ by মিজানুর রহমান খান

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করা-সংবলিত একটি সংবিধান সংশোধন বিলের খসড়া সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। এ নিয়ে বিচার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক চলছে। এই প্রেক্ষাপটে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হলো:
প্রথম আলো : সংসদ বনাম বিচার বিভাগের মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব কি আসন্ন?
শফিক আহমেদ : একে দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তদন্ত না করে কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। বিচারকের আচরণে ব্যত্যয় বা তিনি অসমর্থ হলেন কি না, তা তদন্তে কমিটি বা কাউন্সিল লাগবে। এটা বর্তমানের মতোই বিচারকের হাতে রাখতে হবে।
প্রথম আলো : আইনমন্ত্রী বলেছেন, সামরিক শাসন জায়েজ করার কারণে জিয়া বিচারকদের পুরস্কৃত করেছিলেন। এটা কি বলার সুযোগ আছে?
শফিক আহমেদ : সেটা নেই। আইন কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান তো এটা পঞ্চম সংশোধনীর রায়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল রেখে দিলেন।
প্রথম আলো :  আপিল বিভাগ কিন্তু এটা ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে বাতিল করেছিলেন। আপনারা কী বিবেচনায় এটা ১৫তম সংশোধনীতে রেখে দিলেন? তখন কেন বাহাত্তরে ফিরলেন না?
শফিক আহমেদ : হয়তো বা আমরা তখন লক্ষ করিনি। যখন এটা নিয়ে খসড়া কমিটি বা স্থায়ী কমিটিতে বসেছি, তখন আমরা মিস করেছি। তবে আপিল বিভাগ এ বিষয়ে যখন নির্দেশনা দিলেন, তখন আমরা এটা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে সংসদে একটা ব্ল্যাংকেট আইন করেছিলাম।
প্রথম আলো :  সংসদীয় কমিটিতে গিয়ে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ ও আইনবিদ কাউন্সিলের পক্ষেই মত দেন। ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামসহ অনেক আইনজীবী এর পক্ষে মত দিয়েছেন। আপনি কীভাবে দেখেন?
শফিক আহমেদ : আমি যেটা বলছি, তাতে কিন্তু সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশটাই সংসদে যাচ্ছে।
প্রথম আলো :  সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ আছে। আপনি ১৫তম সংশোধনীতে অধস্তন আদালতের বিচারক নিয়োগ ও অপসারণসংক্রান্ত ১১৬ এবং হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত ৯৫(২)গ অনুচ্ছেদ, যা জিয়ার সামরিক ফরমানে ঢুকেছিল, তা কেন রেখে দিয়েছিলেন?
শফিক আহমেদ : ১১৬ অনুচ্ছেদ কি সামরিক ফরমানে ঢুকেছিল?
প্রথম আলো :  নিশ্চয়। চতুর্থ সংশোধনীতে কেবল রাষ্ট্রপতির হাতে ক্ষমতা যায়। জিয়া সেটা কিছুটা উন্নত করেন, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সম্পূর্ণ ক্ষমতা, যা বাহাত্তরে ছিল, তা আর ফিরিয়ে আনলেন না কেন?
শফিক আহমেদ : এখনো এই ক্ষমতাটা কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের কাছেই ন্যস্ত।
প্রথম আলো :  তাহলে আপনি আইনমন্ত্রী থাকতেই আপিল বিভাগ তাঁদের দেওয়া দুটি রায়ে (মাসদার হোসেন মামলাতেও নির্দেশনা আছে) কেন বললেন, বাহাত্তরের ১১৬ আনতে হবে।
শফিক আহমেদ : আমার পাঁচ বছরে নিরঙ্কুশভাবে সুপ্রিম কোর্টই সব করেছেন।
প্রথম আলো :  সরকার এতটা পূতপবিত্র হলে কেন এখনো বাহাত্তরের কথা বলে অভিশংসনের ৯৬ অনুচ্ছেদ মন্ত্রিসভা খসড়া পাস করল। আর ১১৬ নিয়ে নীরবই থাকল। জিয়ার ফরমানের জোরে নিম্ন আদালতের বিচারক অপসারণে সরকারি প্রভাব ধরে রাখা হবে, আবার জিয়াকে নিন্দা করে উচ্চ আদালতের বিচারক অপসারণে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতাটা নিয়ে নেওয়া হবে। তাই নিশ্চয় একটা অসুবিধা আছে?
শফিক আহমেদ : কোনো অসুবিধা নেই। আমার মনে হয়, বাস্তবে বাহাত্তরের ১১৬ অনুচ্ছেদেরই অনুশীলন চলছে।
প্রথম আলো :  এক-এগারোর অনেক অধ্যাদেশ শুধরে কবুল করলেন। বিচারক নিয়োগের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কমিশনটা নিলেন না। স্বচ্ছ নিয়োগ ও দায়িত্বশীল অপসারণ অবিচ্ছেদ্য বিষয় মনে করেন কি না?
শফিক আহমেদ : এটা অবিচ্ছেদ্য। আমি কিন্তু নিয়োগ নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করে এসেছি। এটা সরকারের বিবেচনাধীন আছে।
প্রথম আলো :  আইনমন্ত্রী থাকতে বলেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন নিয়ে নেবেন?
শফিক আহমেদ : প্রধান বিচারপতির লিখিত পরামর্শক্রমেই আমি এটা করে রেখে এসেছি। সুপ্রিম কোর্ট এটা গ্রহণ করেছেন। এরপর তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়।
প্রথম আলো :  এখন আপনি সরকারে নেই, এটা মানবেন কি না যে, যেসব দেশ দেখিয়ে তারা অভিশংসন আনছে, সেসব দেশে নিয়োগ কমিশন আছে। আপনি মামুলি বিধি দিয়ে করবেন বলে যে নীতিমালা চূড়ান্ত করে এসেছেন, ওটা এ যুগে অচল। আসলে নিয়োগ কমিশন গঠন এবং প্রকাশ্য শুনানি করে বিচারক নিয়োগের চল সারা বিশ্বে।
শফিক আহমেদ : আমি আপনার সঙ্গে একমত যে, একটা কমিশন গঠন করলেই ভালো হয়। ভারতে আগে কেবল কর্মরত বিচারকদের নিয়ে গঠিত কলিজিয়াম বাছাই করত। এখন কমিশন হয়েছে। আইনমন্ত্রী ও দুজন বিশিষ্ট আইনবিদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপসারণের বিধান পরিবর্তনের সঙ্গে নিয়োগ কমিশন করলে সেটা অধিকতর গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে করি। এতে দেশের উপকার হবে।
প্রথম আলো :  কাউন্সিল গঠনের ৩৭ বছর ধরেই এটা মূলত নিষ্ক্রিয়। বিচারকের বিষয়ে দু-একবার, বাকি সাংবিধানিক সংস্থাগুলোর ব্যাপারে কখনো তারা সক্রিয় হয়নি?
শফিক আহমেদ : এটা সত্য।
প্রথম আলো :  বিচারক অপসারণে ভারতের জুডিশিয়াল কাউন্সিলে দুজন কর্মরত ও একজন বিশিষ্ট আইনবিদ নিয়ে গঠিত। বাংলাদেশে কি সুপারিশ রাখবেন?
শফিক আহমেদ : তদন্তে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পরিবর্তন আনতে মত দেব। দুজন কর্মরত বিচারকের সঙ্গে আরেকজন হবেন কোনো অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। পাঁচজনের কমিটিও হতে পারে। কারণ, বিচারকের অসমর্থতা রাজনীতিক বা বাইরের কেউ অধিকতর ভালো বুঝবেন না।
প্রথম আলো :  তাহলে অন্যান্য সাংবিধানিক পদধারীর ক্ষেত্রে কী বলবেন? বিচারকেরা সেটা কেন ভালো বুঝবেন বলে প্রতীয়মান হবে?
শফিক আহমেদ :না, হবে না। আইনে বলে দিতে হবে অন্যান্য ক্ষেত্রের তদন্তে উপযুক্ত বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত হবেন।
প্রথম আলো :  সংসদের মাধ্যমে অপসারণের বিধানে বিচার বিভাগ ঠিক কী কারণে ভীত হতে পারে?
শফিক আহমেদ : এটা সত্যিকার অর্থে কার্যকর করা হলে বিচারকদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই; বরং তাঁদের অবস্থান আরও একটু শক্ত হবে।
প্রথম আলো :  এখন তদন্তে অসদাচরণ প্রমাণিত হলেও তা সংসদে পাস করাতে লাগবে, আবার দুই-তৃতীয়াংশের ভোট দরকার হবে। এত ভোট সব সময় পাওয়া সহজ নাও হতে পারে।
শফিক আহমেদ : একমত। আসলে অভিশংসনে তাদের সেফটিনেট আরও বাড়ছে। রক্ষাকবচ বাড়বে।
প্রথম আলো :  আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপে মনে হয়েছে, তাঁরা বর্তমানের মতো কর্মরত বিচারকদের তদন্তে রাখবেন না, ভয়টা তাই সেখানে। যুক্তরাষ্ট্র ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশে রাজনীতিকেরাই তদন্ত করেন।
শফিক আহমেদ : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা করা সঠিক হবে না। বিচারক ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে।
প্রথম আলো :  ক্ষুণ্ন হবে, নাকি বলবেন রাজনীতিকদের দিয়ে তদন্ত করালে বিচারকের স্বাধীনতা থাকবে না?
শফিক আহমেদ : আমি এটা অবশ্যই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে পারি, তদন্তে রাজনীতিকেরা থাকলে বিচারকের স্বাধীনতা থাকবে না।
প্রথম আলো :  আপনাকে ধন্যবাদ।
শফিক আহমেদ : ধন্যবাদ।

গাজায় এবার সবচেয়ে উঁচু ভবনে হামলা

গাজা অভিযানের ৫০তম দিনে এবার সবচেয়ে উঁচু ভবনে ইসরাইলি হামলায় আরও ২ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে ভবনটির বেশির ভাগ অংশ। এই হামলায় বিপুল গোলাবারুদের বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মকর্তারা। এর আগে, গত শুক্রবার বিমান হামলা চালিয়ে ১১ তলাবিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন ও শনিবার জাফর টাওয়ার নামে ৭ তলাবিশিষ্ট একটি ভবন ধ্বংস করে ইসরাইলি বাহিনী। মঙ্গলবার ভোর হওয়ার আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় নামের এলাকায় ছোট ইতালি হিসেবে পরিচিত একটি ১৬ তলা ভবনে বিমান হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি এফ১৬ যুদ্ধবিমান ৬০টি অ্যাপার্টমেন্টবিশিষ্ট টাওয়ার ব্লক এবং একটি কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সে অন্তত ৬টি রকেট নিক্ষেপ করে। এতে ভবনটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। এর একটু পরেই বিশাল এলাকার ১৪ তলা আল-বাশা ভবনে হামলা চালায় ইসরাইল। এতে কমপক্ষে ১৫ ব্যক্তি আহত হয়। এদিকে ইসরাইল বাহিনী রাতের বেলা ১৫টি বিমান হামলার কথা নিশ্চিত করেছে। তারা দুটি স্কুল ভবনেও হামলা চালিয়েছে। কমপক্ষে ৫টি ইসরাইলি বিমান হামলা চালানো হয় ওই ভবন লক্ষ্য করে। ভবনটিতে প্রায় ৭০টির মতো পরিবার বাস করত।
এছাড়া অফিস ও বিপণিবিতান হিসেবেও ব্যবহার করা হতো ভবনটি। হামলা চালানোর আগে ভবনটির বাসিন্দাদের সতর্ক করায় ভবনটি মারাÍকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ মারা যাননি। এই হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইল। এদিকে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর থেকে গাজা উপত্যকায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রোববার রাত পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। গাজার এক মসজিদে সোমবার ইসরাইলি হামলায় ১৭ বছরের এক তরুণ নিহত ও কমপক্ষে ২৫ জন আহত হন। গত ৭ সপ্তাহের ইসরাইলি হামলায় গাজায় ৭১টির মতো মসজিদ ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এদিকে পূর্বে আঘাত পাওয়া দুই ব্যক্তি সোমবার মারা যাওয়ায় ৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ১৩৫ এ দাঁড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে ইসরাইলি হামলায় আহত হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার ৯১৫ ফিলিস্তিনি। অপরদিকে এই সংঘাতে ৬৪ ইসরাইলি সেনা, ৩ ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিক ও দেশটিতে কর্মরত এক থাই নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

শুভ সূচনা জোকোভিচ ও শারাপোভার

ইউএস ওপেনের দ্বিতীয় পর্বে উঠেছেন মারিয়া শারাপোভা ও নোভাক জোকোভিচ। সোমবার ইউএস ওপেনের এ দুই শীর্ষবাছাই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে পাড়ি দিয়েছেন দ্বিতীয় রাউন্ডে। মারিয়া কিরিলেঙ্কোকে ৬-৪, ৬-০ সেটে উড়িয়ে দিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে প্রবেশ করলেন মারিয়া শারাপোভা। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে দারুণ এক জয় দিয়েই এবারের ইউএস ওপেন শুরু করলেন টেনিস সুন্দরী শারাপোভা। প্রথম সেটে ২-৪ গেমে পিছিয়ে পড়েও জয় নিয়ে ফিরেছেন তিনি।
টুর্নামেন্টের শীর্ষবাছাই ম্যাচ জয়ের পর বলেন, ‘কিরিলেঙ্কোকো ও আমি কোর্টে একসঙ্গে প্র্যাকটিস করি। সে আমার ভালো বন্ধু। কিন্তু কোর্টে আপনাকে সেই ব্যক্তিকেও প্রতিপক্ষ হিসেবেই নিতে হবে। জয়ের জন্যই নামতে হয়।’ এদিকে সহজেই জিতলেন জোকোভিচ। সোয়ার্টজম্যানকে ৬-১, ৬-২, ৬-৪ সেটে হারালেন তিনি। জয়ের পর জোকোভিচ বলেন, ‘এই জয় হল গভীর রাতের আনন্দ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি খুব খুশি। কারণ ইউএস ওপেন সুন্দরভাবে শুরু করাটা মোটেই সহজ নয়।’ আর সোয়ার্টজম্যানের ভাগ্যটা মন্দই বলতে হবে। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টুর্নামেন্টে এসেই প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হতে হয়েছে প্রতিযোগিতার শীর্ষবাছাই জকোভিচের। ওয়েবসাইট।

গুঞ্জন শুনি

অনেকটা বিপদের মধ্যেই রয়েছেন বলিউড তারকা প্রিয়াংকা চোপড়া। কিছুদিন ধরেই বিব্রত তিনি। র‌্যাম্প মডেল থেকে বলিউডি ছবিতে নাম লেখানো এ তারকা নাকি এখন র‌্যাম্পেই হাঁটতে পারেন না। যেসব কৌশল অবলম্বন করে প্রিয়াংকা র‌্যাম্পে হাঁটতেন এখন তার অনেক কিছুই গিলে ফেলেছেন। অথচ র‌্যাম্পে হেঁটেই তার এই জনপ্রিয়তা। এ নিয়ে তার ভক্তদের মাঝেও ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে তিনি এ বিব্রতকর অবস্থা নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন।
সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। সামনেই প্রিয়াংকা অভিনীত নতুন ছবি ‘মেরি কম’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ছবিটি পর্দায় গড়াবে। তবে ছবি মুক্তির আগে প্রিয়াংকার র‌্যাম্পে হাঁটতে না পারা নিয়ে কি কোনো সমস্যায় পড়তে হবে তাকে? এমনই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন ছবির সঙ্গে র‌্যাম্পের কোনো সম্পর্ক নেই। ছবিতে সে ধরনের প্রভাব পড়বে না। গুঞ্জন রয়েছে, র‌্যাম্পে হাঁটতে না পারার বিষয়টি আসলে প্রিয়াংকার নতুন ছবির জন্য এক ধরনের পাবলিসিটি স্ট্যান্ট।