Tuesday, March 30, 2010

এ কী সমাপন by দ্বিজেন শর্মা

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির ফ্লোরা ও ফ্যনা প্রকল্প, বাংলাদেশ জীব-ইতিহাস জ্ঞানকোষের প্রকাশনা অবশেষে সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার গাঁটে আটকা পড়ে গেল। সরকারি অনুদানে ইতিপূর্বে এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাপিডিয়া ও ‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সমীক্ষামালা’ অনেকটা নির্বিঘ্নেই প্রকাশ করেছে। বিপত্তি ঘটল এই প্রথম এবং তা ঘটল এমন একটি কর্মযজ্ঞে, যা এই উপমহাদেশে বিরল, হয়তো নজিরবিহীনও। ২৮ খণ্ডের (১৪ খণ্ড উদ্ভিদ-বিষয়ক ও ১৪ খণ্ড প্রাণিবিষয়ক) এই গ্রন্থমালায় আছে ব্যাকটেরিয়া ও শৈবাল থেকে অ্যামিবা এবং উল্লুক পর্যন্ত ১২ হাজার ২৬৯ প্রজাতির (উদ্ভিদ ছয় হাজার ৭৫২, প্রাণী পাঁচ হাজার ৫১৭) সচিত্র বর্ণনা অর্থাৎ বাংলাদেশের গোটা জীবকুলের ইতিবৃত্ত।
প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালের অক্টোবরে। শেষ হওয়ার কথা ২০০৯ সালের জুন মাসে। বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞানকর্মীদের নিরলস শ্রমে ইংরেজি ২৮ খণ্ড ও বাংলা ২৮ খণ্ডের ৭ খণ্ড যথাসময়েই প্রকাশিত হয়েছিল। এটুকুই অসাধ্য সাধন। তাই বর্তমান সরকার বাংলা সংস্করণের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সময় বাড়ায় ২০০৯ সালের ডিসেম্বর পর্যপ্ত। বাকি বাংলা সংস্করণের উপকরণ গ্রন্থনা শেষ হওয়ার মুখে হঠাৎ করেই ডিসেম্বরের শুরুতে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পের অর্থপ্রদান বন্ধ করে দেয়। কারণ, সরকারের কিছু নতুন দাবি সোসাইটির কাছে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়নি। বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের ওপর অযৌক্তিক সরকারি হস্তক্ষেপের অনেক ভোগান্তির অভিজ্ঞতা আমাদের আছে; কিন্তু আওয়ামী লীগের মতো একটি প্রগতিশীল সরকারের কাছে তা বড়ই অপ্রত্যাশিত।
এই প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক গুরুত্বের ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন। তবে এটুকু বলাই যথেষ্ট যে পরিবেশ বিপর্যয় ও জীববৈচিত্র্য হ্রাসের পটভূমিতে জীববিদ্যা, বিশেষত টেক্সোনমি বা শ্রেণীকরণবিদ্যা আজ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ২৮ খণ্ডের ইংরেজি ও বাংলা জীব-ইতিহাস প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষয়ে গবেষণা, নীতিনির্ধারণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কতটা সহায়ক হতে পারে, তা বুঝতে পাণ্ডিত্যের প্রয়োজন পড়ে না। কলমের এক খোঁচায় এমন একটি মহত্ উদ্যোগ দাবিয়ে দেওয়াকে কী বলে আখ্যায়িত করা যায়, জানি না।
প্রসঙ্গত, নিজের সামান্য অভিজ্ঞতার কথা বলি। মধ্য-পঞ্চাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদবিদ্যায় পড়ার সময় বাংলাদেশের গাছপালার একটি মাত্র বই-ই আমাদের ছিল—ডেভিড প্রেইনের দুই খণ্ডের ‘বেঙ্গল প্লান্টস’, বহুল ব্যবহারে অতি জরাজীর্ণ এবং ছাত্রছাত্রীদের ছুঁতে মানা। সেই সময় জন্মভূমির লাগোয়া পাথারিয়া পাহাড়ের উদ্ভিদকুল নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু তত্কালে এ ধরনের কাজ তত্ত্বাবধানের যতো যোগ্য বিশেষজ্ঞের প্রকট অভাব ছিল, বইপত্রেরও।
সেই পাহাড় আজ বনশূন্য। কাজটি এখনও সম্ভব, কিন্তু তা হবে সেকালের তুলনায় অসম্পূর্ণ। কেননা অনেক প্রজাতি ইতিমধ্যেই লোপ পেয়েছে। আমার প্রথম চাকরি বরিশাল ব্রজমোহন কলেজে। আমরাই সম্ভবত বেসরকারি কলেজে প্রথম উদ্ভিদবিদ্যার স্নাতক কোর্স চালু করি। লেগে যাই গাছপালা সংগ্রহের কাজে, কিন্তু অচেনা প্রজাতি শনাক্তকরণ নিয়ে বিপদে পড়ি। ‘বোটানিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া’ তখন প্রেইনের বইটির নতুন সংস্করণ ছাপিয়েছে জেনে তাদের একটা চিঠি লিখি। কয়েক মাস পর বরিশালের ডিসি অর্থাৎ জেলা প্রশাসক আমাকে ডেকে পাঠান এবং সরকারকে না জানিয়ে এই চিঠি লেখার জন্য ভর্ৎসনা করেন। এভাবেই শ্রেণীকরণবিদ্যা নিয়ে আমার গবেষণার জলাঞ্জলি। বলা বাহুল্য, এমনটি অন্যদের ক্ষেত্রেও ঘটে থাকবে।
মার্কিন দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ হেনরি অ্যাডামস বলতেন, একজন শিক্ষকের প্রভাব কতটা দূরগামী, তিনি নিজেও তা জানেন না। বইয়ের ক্ষেত্রেও কথাটি সত্য। একটি বই একজন মানুষের জীবনের গোটা ছকই পালটে দিতে পারে। প্রেইনের বইটির খণ্ড দুটি যথাসময়ে পেলে লেখক হওয়ার বদলে হয়তো আমি বিজ্ঞানী হতাম। পাথারিয়া পাহাড়ের উদ্ভিদকুলের অপেক্ষাকৃত সম্পূর্ণ একটি ইতিবৃত্ত লিখতে পারতাম। অন্যরা আরও বড় বড় কাজ করতে পারতেন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ খণ্ডের ‘বাংলাদেশের জীবকুল জ্ঞানকোষ’ গ্রন্থমালার গুরুত্ব অনুধাবনীয়। উল্লেখ্য, শুধু জীবকুলের শ্রেণীকরণ গবেষণার সহায়তাই নয়, এই গ্রন্থমালার প্রভাব হবে বহুমাত্রিক ও সুদূরপ্রসারী। আশা করি, সরকার বিষয়টি সত্বর পুনর্বিবেচনা করবে এবং উদ্যোগটি অচিরেই বাধামুক্ত হবে।
দ্বিজেন শর্মা: উদ্ভিদবিদ, নিসর্গ বিষয়ক লেখক।

আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবতা by সানজিদা সোবহান

আজ ২৯ মার্চ ২০১০ সাল; গত বছরের এই দিনে নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তথ্য অধিকার আইন গৃহীত হয়।
তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সরকার নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আইনের ২ ধারায় যাঁরা তথ্য প্রদান করবেন, তাঁদের কর্তৃপক্ষ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত বা সরকারি তহবিল থেকে সাহায্যপুষ্ট কোনো বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান এবং ‘বিদেশি সাহায্যপুষ্ট কোনো বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান’কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসমূহও তাদের কর্মকাণ্ড-সম্পর্কিত তথ্য জনগণের কাছে প্রকাশ ও প্রদান করতে বাধ্য। আইনানুযায়ী, বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিশ্রুত জনসেবামূলক কাজগুলো সঠিকভাবে পালন না করলে, তাদের কার‌্যাবলি পরখ করার ক্ষমতা জনগণকে দেওয়া হয়েছে।
আমরা জানি, জাতীয় বাজেটের বড় অংশের অর্থ বরাদ্দ করা হয় সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সেবামূলক খাতে। এসব সেবা সম্পর্কে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যথাসময়ে তথ্য না পেলে সে তার জীবন-মানের পরিবর্তনে কোনোভাবেই সক্ষম হবে না। অপরদিকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট সব জনগণকে তথ্য জানিয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি করলে সরকারের জন্য অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সহজ হয়। তথ্যের অবাধ প্রবাহ বয়স্ক-ভাতা, বিধবা-ভাতা, ভিজিএফের সুবিধাভোগী সবাইকে প্রভাবমুক্ত হয়ে তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধাগুলো গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। এমনিভাবে স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও যানবাহন-ব্যবস্থার মতো অধিক সংখ্যক সরকারি কার্যক্রম যদি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা যায়, তাহলে এসব সেবা প্রদানে যেমন স্বচ্ছতা আসে, তেমনি জনগণ সঠিকভাবে সেবাগুলো পেতে পারে। জনগণ তাদের ন্যায্য সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত হলে এ আইন প্রয়োগ করে সেগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের পাওনা বা ন্যায্য সুবিধাগুলো আদায় করে নিতে পারবে। তথ্য অধিকার আইনের মূল চেতনা এখানেই।
তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগ করে শিক্ষা-ব্যবস্থায় সব শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীর জন্য মেধার ভিত্তিতে সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে থাইল্যান্ড উদাহরণ সৃষ্টি করে। একজন মা তাঁর সন্তানকে দেশের একটি অভিজাত স্কুলে ভর্তি করতে অকৃতকার্য হলে প্রথমে তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতকার্য ও অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর সম্পর্কে তথ্য জানতে চান। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁর আবেদনে সাড়া না দিলে তিনি তথ্য কমিশনের কাছে এ আইনের আওতায় আপিল করেন। তাঁর আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায় যে স্কুলটিতে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির সন্তানেরা আপিলকারীর মেয়ের চাইতে কম নম্বর পেয়েও ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধার ভিত্তিতে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করতে হবে মর্মে আদেশ জারি করতে বাধ্য হয়।
এভাবেই তথ্য প্রাপ্তি প্রান্তিক অবস্থানে থাকা নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে থাকে। একজন দিনমজুর জানতে পারেন, একজন ঠিকাদার তাঁর কাজের জন্য বরাদ্দ প্রাপ্য মজুরি তাঁকে দিচ্ছেন কি না; একটি ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারেন, যদি তিনি জানতে পারেন যে দরপত্রে তিনি হেরে গিয়েছেন তাতে অযাচিত প্রভাবের কারণে অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অন্য একজন দরপত্র প্রদানকারীকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ থাকলে এলাকাবাসী তার এলাকায় নির্মীয়মাণ রাস্তার গুণগত মান চুক্তিপত্রে উল্লিখিত নকশা ও উপকরণ অনুযায়ী হচ্ছে কি না, যাচাই করতে পারে।
বাংলাদেশের তথ্য অধিকার আইনটির সব ধারা কার্যকর করা হয় ১ জুলাই ২০০৯ থেকে। এ ক্ষেত্রে তিনটি ধারা বাদ দিয়ে সব ধারা ২০০৮ তারিখে কার্যকর করা হয়েছে। তিনটি ধারার মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার জন্য অনুরোধ, তথ্য না পেলে আপিল এবং অভিযোগ দায়েরের বিধানগুলো কার্যকর করা হয় ১ জুলাই ২০০৯ থেকে। পৃথিবীর উন্নত ও উন্নয়নশীল যেসব দেশে তথ্য অধিকার আইন আছে, সেসব দেশে প্রচলিত তথ্য অধিকার আইনের সব ধারা একসঙ্গে কার্যকর করা হয়নি। সব প্রতিষ্ঠানে তথ্য দেওয়ার জন্য যে সুযোগ, ব্যবস্থা এবং পদ্ধতি চালু থাকা দরকার, সেগুলোকে আইন কার্যকর হওয়ার আগে প্রস্তুত করে নেওয়া হচ্ছে এর মূল উদ্দেশ্য।
আমাদের আইন সংসদে পাস হওয়ার পর তিন সদস্যবিশিষ্ট তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে; ভারতে আইনটি গৃহীত হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে বিধি প্রণয়নের কাজটি সম্পন্ন হয়। জানা গেছে, আমাদের বিধি প্রণয়নের কাজটি চূড়ান্তকরণের পর্যায়ে আছে। ইতিমধ্যে তথ্য কমিশন বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে অবহিতকরণ সভা করেছে; তথ্য মন্ত্রণালয়, তথ্য কর্মকর্তাদের জন্য আইন সম্পর্কে অবহিতকরণ সভা করেছে; প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, অর্থাৎ তথ্য চাওয়া হলে যাঁরা তথ্য দেবেন, তাঁদের তালিকা প্রস্তুত ও ডেটাবেইজে সংরক্ষণের কাজ চলছে। আমরা আশা করি, এ কাজটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসাধারণের জন্য তালিকাটি প্রকাশ করা হবে। এখনো তথ্য অধিকার ও আইন সম্পর্কে তথ্য প্রদানকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও ধারণা সৃষ্টি হয়নি। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যারা তথ্য অধিকার আইনের আওতায় জনগণকে তথ্য দিতে বাধ্য, তাদের প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সম্পর্কে নিজস্ব উদ্যোগে জনগণকে জানানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ বছর ৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী মহাজোট সরকারের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের একপর্যায়ে বলে, ‘আমরা মুক্ত চিন্তা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে চাই। মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সমুন্নত করতে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ সংশোধনের প্রস্তাব ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ ভিত্তিতে তথ্য অধিকার বিধিমালা, ২০০৯ প্রণয়ন করা হয়েছে। তথ্য কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং তারা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।’ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সূত্র ধরে এ মুহূর্তে সব প্রতিষ্ঠানেরই প্রয়োজন তথ্য অধিকার আইন সুষ্ঠু বাস্তবায়নে সব উদ্যোগ গ্রহণ করে সেগুলো দৃশ্যমান করা। নইলে তথ্য অধিকার জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুশাসন ও মানবাধিকারের রক্ষাকবচ—এ চেতনাটি ক্রমশ হারিয়ে যাবে।
সানজিদা সোবহান: তথ্য অধিকার বিষয়ে ফোকাল পয়েন্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।

সবুজ বিপ্লব কি থেমে যাবে by এ এম এম শওকত আলী

অধিকতর কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে ষাট দশকে সবুজ বিপ্লবের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ওই সময় বাংলাদেশে মোট খাদ্যশস্য উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বর্তমানের চেয়ে কম ছিল। একমাত্র কারণ জনসংখ্যা। সবুজ বিপ্লব মূলত তিনটি কৃষি উপকরণের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে সূচিত হয়। এক. উচ্চফলনশীল বীজ (উফশী)। দুই. রাসায়নিক সার এবং তিন. সেচ। এর সঙ্গে যোগ করা যায় উপকরণ ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষিঋণ।
এ উদ্যোগের আওতায় যে দুটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হয় তা হলো—ক. পূর্ব পাকিস্তান পানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কর্তৃপক্ষ (১৯৫৯) এবং খ. পূর্ব পাকিস্তান কৃষি উন্নয়ন সংস্থা (১৯৬১) অর্থাৎ যথাক্রমে বর্তমানের পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বিএডিসি। শেষোক্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর ন্যস্ত করা হয় উল্লিখিত তিনটি কৃষি উপকরণ স্বল্পমূল্যে কৃষকের দোরগোড়ায় সরবরাহের দায়িত্ব। স্বল্পমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন ছিল কৃষি খাতে ভর্তুকি। একই সঙ্গে প্রয়োজন ছিল কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান যাতে করে খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য শস্যের উফশী বীজ উদ্ভাবন ও সরবরাহ করা সম্ভব হয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠানও স্থাপন করা হয়।
আশির দশকের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ভর্তুকি হ্রাসের জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানে সচেষ্ট হয়। তাদের যুক্তি ছিল, ভর্তুকিতে অপচয় হয় প্রচুর এবং ভর্তুকি বন্ধ করে ওই উদ্বৃত্ত অর্থ অন্যান্য খাতে ব্যবহার করা সম্ভব। আশির দশকের শেষ পর্যায়ে এবং নব্বই দশকের প্রথমার্ধে সরকার দাতা সংস্থার পরামর্শে কৃষি উপকরণ বিপণনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বেসরকারীকরণের উদ্যোগ নেয়। বিএডিসির সেচ ও সার বিতরণ কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। দাতাদের তরফ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয় বিএডিসিকে নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ সংক্রান্ত একটি সমীক্ষা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সমাপ্ত করা হলেও এ সংক্রান্ত সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকার ও দাতা সংস্থারা ভুলে যায়।
১৯৯৬-পরবর্তী সময়ে সরকার কৃষি খাতে ভর্তুকি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে। তার পর থেকেই এ ব্যবস্থাকে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এ দৃষ্টিভঙ্গির মূল ভিত্তি ছিল দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি করে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ১৯৯৬-পরবর্তী সময়ে সরকার বিএডিসিকে পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পুনর্গঠিত বিএডিসির রূপরেখা ১৯৯৯ সালে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হয়। সাম্প্রতিক কালে এ বিষয়টিকে অধিকতর মজবুত করার লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় একটি বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করে। কমিটি বর্তমানে কাজ করছে।
কৃষি খাতে ভর্তুকি প্রদানের বিষয়টি এখন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সবুজ বিপ্লবকে অধিকতর সুসংহত ও টেকসই করার জন্যই ভর্তুকির প্রয়োজন। উন্নত দেশে এ খাতে যে পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া হয় তার তুলনায় বাংলাদেশের ভর্তুকির পরিমাণ নিতান্তই নগণ্য। কারণ সম্পদের অপ্রতুলতা। এ জন্য প্রয়োজন কৃষি উৎপাদনসংক্রান্ত কোন উপখাতে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দেওয়া হবে তা চিন্তাভাবনা করে নির্ণয় করা। বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে তিনটি উপকরণের জন্যই ভর্তুকি দিচ্ছে। ভর্তুকির সুফল কী?
সম্প্রতি ভারতে সারের ওপর যে ভর্তুকি দেওয়া হয় তা সেদেশের সরকার পুনর্বিবেচনা করার অঙ্গীকার করেছে মর্মে বিদেশি এক পত্রিকায় ফেব্রুয়ারির ২২ তারিখে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্লেষণধর্মী এ সংবাদে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে আগামী এপ্রিল মাসে ভারত সরকার ভর্তুকি কর্মসূচি নতুন আঙ্গিকে ঢেলে সাজাবে। উদ্দেশ্য এর ফলে কৃষক সুষম সার ব্যবহারে উৎসাহিত হবে। সুষম সার ব্যবহারের সুফল প্রধানত দুটি। এক. এর মাধ্যমে জমির উর্বরতা স্থায়িত্ব লাভ করে। দুই. অধিক ফলনও নিশ্চিত হয়। আলোচ্য সংবাদের প্রতিবেদনটি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে যথোপযুক্ত ভর্তুকির মাধ্যমে সবুজ বিপ্লবকে স্থায়িত্ব দানের বিষয়টির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। কারণ, ভারতে তিন দশক ধরেই সারে ভর্তুকির প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ফসফরাস ও পটাশ সারের তুলনায় ইউরিয়া সারে অধিকতর ভর্তুকি প্রদান, যা তিন প্রকারের সারের সুষম ব্যবহারের পরিপন্থী।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা নতুন আঙ্গিকে ভর্তুকি কর্মসূচির অঙ্গীকার করা সত্ত্বেও ইউরিয়ার জন্য প্রদত্ত ভর্তুকি অপরিবর্তিত রয়েছে। এর ফলে সুষম সার ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না মর্মে প্রতিবেদক মন্তব্য করেছেন। অপরিবর্তিত পরিস্থিতির বিশ্লেষণে দেখা যায় যে কারণটি রাজনৈতিক। ইউরিয়া সারের মূল্য বৃদ্ধি করলে দেখা যায় কৃষকেরা প্রতিবাদমুখী হবে। এটাই হলো আশঙ্কা। এ জন্য ইউরিয়া সারের ভর্তুকির পরিমাণ অপরিবর্তিত রেখে অন্যান্য সারের ভর্তুকি হ্রাস করা হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্তের অন্য কারণটি হলো, ভারতে ইউরিয়া সার উৎপাদনকারীদের একটি শক্তিশালী লবি বিদ্যমান। সবুজ বিপ্লবের ভবিষ্যত্ নিয়ে এ জন্য কৃষক ও বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কামুক্ত নন। একজন কৃষক আরেকটি আশঙ্কার বিষয় উত্থাপন করেছেন। তাঁর মতে, ১৯৬০ সালে যখন তাঁর পিতা প্রথম একটি নলকূপ স্থাপন করেছিলেন তখন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল মাত্র পাঁচ ফুট। বর্তমানে ৫৫ ফুটও পানি উত্তোলনের জন্য যথেষ্ট নয়।
বাংলাদেশের ভর্তুকি নীতি ভারতের অনুরূপ। এ দেশের বিশেষজ্ঞসহ নীতি-নির্ধারকেরা সুষম সার ব্যবহারের সুফল সমন্ধে মোটেই অজ্ঞ নন। কিন্তু তা সত্ত্বেও, ইউরিয়ার ওপর ভর্তুকির পরিমাণ অন্যান্য সারের তুলনায় অধিকতর। এ বিষয়ে ভারত যে ভ্রান্ত নীতি কয়েক দশক ধরে অনুসরণ করেছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ একই নীতি অনুসরণে আগ্রহী। তবে বাংলাদেশে ২০০৯-১০ সালে কিছুটা পার্থক্যের ধারা বিদ্যমান। বর্তমানে ইউরিয়ার মূল্য কেজি প্রতি মাত্র ১০ টাকা। কৃষক পর্যায়ে ১২ টাকা। ভারতে এ সারের মূল্য বাংলাদেশের তুলনায় কেজি প্রতি আড়াই থেকে সাড়ে চার টাকা কম। ডিএপির মূল্য বাংলাদেশে কেজিপ্রতি ৩০ টাকা। ভারতে ১৪.৫১ টাকা। পটাশ সারের কেজিপ্রতি মূল্য বাংলাদেশে ২৫ টাকা। ভারতে মাত্র ৬.৯১ টাকা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যে ডিএপি, টিএসপি ও পটাশ সারের তুলনায় ভর্তুকি অধিকতর। কৃষি মন্ত্রণালয় সাহসের সঙ্গে আগের তুলনায় টিএসপি ও পটাশ সারের তুলনায় অর্ধেক হ্রাস করা সত্ত্বেও ইউরিয়ার মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে। ইউরিয়ার মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সরকার এ বিষয়ে কিছুটা হলেও উদাসীন। এ ছাড়া ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিন প্রকার সারের মূল্যের মধ্যে পার্থক্যের পরিমাণ ভারতে অপেক্ষাকৃত কম। বাংলাদেশে বেশি।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে সুষম সার ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত ভর্তুকি নীতি প্রয়োজনীয় হলেও তা যথেষ্ট নয়। অন্য প্রয়োজনীয় বিষয়টি হলো এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির অব্যাহত প্রচেষ্টা। সাধারণত এ কাজটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর করে থাকে। তবে মৃত্তিকা সম্পদ গবেষণা সংস্থাও এ বিষয়ে কারিগরি তথ্য দিতে সক্ষম। বর্তমানে যে বিষয়টি দৃশ্যমান তা হলো এ দুটি সংস্থাই বিক্ষিপ্তভাবে এ বিষয়ে প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করছে। প্রয়োজন সমন্বিত প্রচেষ্টা। এ ছাড়া মৃত্তিকা সম্পদ গবেষণা সংস্থার সহায়তায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল সারসংক্রান্ত যে নির্দেশিকা প্রকাশ করে, নীতি-নির্ধারক পর্যায়ে প্রদত্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না। যা করা হয়েছে তা হলো দুটি-একটি প্রকল্প। প্রকল্পের মেয়াদ শেষে সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ জন্য প্রয়োজন প্রতিবছর নির্ধারিত কর্মসূচির। মৃত্তিকা সম্পদ গবেষণা সংস্থা কয়েক বছর অন্তর মাটির উর্বরতাভিত্তিক মানচিত্র প্রকাশ করে থাকে। এসব মানচিত্রে শস্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানের মাত্রার হার অনুযায়ী সংকটজনক এলাকাগুলো চিহ্নিত করা। বিএআরসি কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যে প্রতীয়মান হয় যে ১৯৮১-২০০৩ সময়কালে মাটির উর্বরতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উপাদান ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে, মাটিতে উপাদানভিত্তিক চাহিদার হার অপেক্ষাকৃত অধিক। আশঙ্কা এখানেই।
মাটির উর্বরতা হ্রাসের মাত্রা রোধের জন্যই সুষম সার ব্যবহার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সাম্প্রতিককালে টিএসপি ও পটাশ সারের মূল্য আগের তুলনায় অর্ধেক পর্যায়ে নিয়ে আসার ফলে কৃষকেরা এখন এ দুটি সার ব্যবহারে আগ্রহী হয়েছেন। এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে জরিপের মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া বাঞ্ছনীয়। মাটির উর্বরতার ভিত্তিতে উল্লিখিত মানচিত্রে যেসব উপজেলা সংকটময় মর্মে চিহ্নিত করা হয়েছে সেসব স্থানে অচিরেই সুষম সার ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশেও সবুজ বিপ্লবের অব্যাহত ধারা রক্ষা করা সম্ভব হবে না। এর ফলে খাদ্যনিরাপত্তা অধিকতর সংকটে আবদ্ধ হবে।
বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহারের মাত্রা লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বছরওয়ারি বৃদ্ধির হার এখনো অব্যাহত রয়েছে। ১৯৯০ দশকের দ্বিতীয়ার্ধে জাতীয় কৃষি এবং জাতীয় পানি নীতিতে ভূ-উপরিস্থ পানি সেচকার্যে অধিকতর ব্যবহারের স্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করা হয়। এ সত্ত্বেও তা আশানুরূপভাবে অর্জন সম্ভব হয়নি। বিএডিসির এক জরিপমতে, মোট ৫১ লাখ ২৬ হাজার ৮৫১ হেক্টর জমি ২০০৮-০৯ সালে সেচের আওতায় ছিল। এর মধ্যে শতকরা ৭৯ ভাগ জমি ভূগর্ভস্থ পানির মাধ্যমে সেচকার্য করা হয়েছিল। ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচকৃত এলাকার হার ছিল মাত্র শতকরা ২১ ভাগ।
জানা গেছে যে কৃষি মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ভূ-উপরিস্থ পানির অধিকতর ব্যবহারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ এবং অন্তরায়ও প্রচুর। সম্পদের অপ্রতুলতা ব্যতীত, ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতাও কম। সবুজ বিপ্লব থেমে যাওয়ার আশঙ্কা এখানেই।
এ এম এম শওকত আলী: সাবেক কৃষি সচিব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন

জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে মহানগরের স্থানীয় নির্বাচনগুলো বেশি ঘটনাবহুল ও উৎসবমুখর হয়। কিন্তু উৎসাহ-উদ্দীপনার নামে দুই হাতে টাকা বিতরণের যে খেলা বরাবর দেখা যায়, সেটা বন্ধ করতে না পারলে দুর্নীতি ও সহিংসতা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে। পরিণতিতে সামাজিক অবক্ষয় আরও বাড়বে। যদিও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনগুলো নির্দলীয় ভিত্তিতে হয়—এবং সেটা হওয়াই বাঞ্ছনীয়—তাও এটা বাস্তব যে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের অধিকাংশেরই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকে। তাই প্রার্থী মনোনয়নে দেশের মূল রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছা ও দূরদর্শিতার ওপর আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভালোমন্দ অনেকাংশে নির্ভর করে।
নির্বাচন কমিশনের খসড়া বিধিমালায় নির্বাচনী কার্যক্রমে একজন কাউন্সিলর সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ ও মেয়র পদপ্রার্থী সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। কিন্তু ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় কাউন্সিলর পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নামে-বেনামে পোস্টার ছাপিয়ে এলাকাবাসীর আশীর্বাদ চাইতে শুরু করেছেন। অনেক এলাকায় তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব শুরু হওয়ার কথা তফসিল ঘোষণার পর থেকে। তার আগে বিধিমালা চূড়ান্ত হতে হবে। অথচ এত সব প্রস্তুতি বাকি থাকতেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমে গেছেন। টাকা ব্যয় করতে শুরু করেছেন। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা দরকার। হিসাব শুরুর আগেই যদি প্রার্থীরা বেহিসাবি ব্যয় করে বসে থাকেন, তাহলে ব্যয়ের সীমা নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ অর্থহীন হয়ে যায়। নির্বাচন অর্থবহ করার জন্যই এ ধরনের অপরিণামদর্শী কাজ থেকে সংশ্লিষ্ট সবার বিরত থাকা উচিত। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপিরও দায়িত্বশীল অবস্থান নেওয়া দরকার। দলীয় নেতা-কর্মীরা যেন টাকার খেলায় মেতে না ওঠেন, সে ব্যাপারে তাদের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে নির্বাচনে সম্ভাব্য সহিংসতা রোধেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক জরিপে দেখা গেছে, কাউন্সিলর পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত, অনেকে সন্ত্রাসের মদদদাতা। এসব লোক প্রার্থী হলে নিজেরা বা অন্য প্রার্থীরা সন্ত্রাসের শিকার হতে পারেন। তাঁদের ব্যাপারে এখন থেকেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোরও বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে যৌথ বৈঠকের আয়োজন করতে পারে। সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করা ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল—সব পক্ষের অভিন্ন স্বার্থ হওয়া উচিত।
নির্বাচন কমিশনের খসড়া বিধিমালায় মেয়র পদের সব প্রার্থীকে এক মঞ্চে এনে পরিচিতি সভা আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এ ব্যবস্থা করবে। এ ছাড়া ব্যয় নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে মেয়র ও কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের সীমিতসংখ্যক অফিস ও পরিমিত জনসংযোগ কার্যক্রমের প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়া বিধিমালার কোনো কোনো বিষয়ে সরকারের আপত্তি থাকতে পারে; নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে ওই সব বিষয়ে দ্রুত মীমাংসা করা দরকার। সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল। এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে প্রায় তিন বছর আগে। এখন যেন দ্রুত নির্বাচন করা যায়, সে ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা দরকার।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে নারীদের নিয়োগ দিচ্ছে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো

হামাসসহ অনেক জঙ্গি সংগঠন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে নারীদের নিয়োগ দিচ্ছে। নতুন একটি গবেষণায় এ তথ্য জানা গেছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেন ইন্টারনেটের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইসরায়েলের হাইফা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল ওয়েইম্যান। এক দশকের বেশি সময় ধরে সক্রিয় সব সন্ত্রাসী সংগঠনের ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করছেন তিনি।
অধ্যাপক ওয়েইম্যান বলেন, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর আত্মঘাতী হামলায় নারীদের ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কাজে সরাসরি নারীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ওয়েইম্যানের মতে, বাজারজাতকরণ বিশেষজ্ঞরা যেমন জানেন নির্দিষ্ট ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে হলে ওই ক্রেতার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান দিতে হবে, তেমনই সন্ত্রাসী দলগুলোও বুঝতে পেরেছে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে হলে নারী সদস্যদের নিয়োগ দিতে হবে। সেই উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট বার্তা দিয়ে নারীদের মনোযোগ আকৃষ্ট করতে হবে।
২০০৪ সাল থেকে এই প্রবণতা শুরু হয়, যখন আল-কায়েদা তাদের ওয়েবসাইটে শুধু নারীদের জন্য বিশেষ সাময়িকী প্রকাশ করে। পরে তারা নারীদের জন্য অনলাইনে পৃথক সাময়িকী প্রকাশ করা শুরু করে। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিবারের কোনো সদস্য আহত হলে কীভাবে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে, সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়। জিহাদ ও লড়াইয়ের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য কীভাবে শিশুদের বড় করতে হবে সে ব্যাপারেও থাকে নির্দেশনা।
অধ্যাপক ওয়েইম্যান বলেন, এসব ওয়েবসাইট বা ফোরামের আরেকটি বিষয় হচ্ছে তারা নারীদের উপদেশ দেয় শহীদ হতে হলে কীভাবে স্বামী ও সন্তানদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে। জিহাদ ও সন্ত্রাসী কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করা হয় নারীদের।
নারী আত্মঘাতী সন্ত্রাসীদের বীরত্বপূর্ণ কাহিনি প্রকাশ করে এ ধরনের উৎসাহ দেওয়া হয়। বলা হয়, ইসলামে এ ধরনের কাজের অনুমোদন আছে। নির্দেশনা দেওয়া হয় বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের।
কয়েক বছর আগে ওই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বহু নারী আত্মঘাতী সন্ত্রাসী দলে যোগ দেন। অনেকে অল্প বয়সেই যোগ দেয়। বর্তমানে এই যোগ দেওয়ার প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে।
হামাসের শিশুদের ওয়েবসাইটে ‘ফিলিস্তিনি এক বালিকার বীরত্বগাথা’ শীর্ষক শিরোনামে একটি কাহিনি প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়, কীভাবে ছোট্ট একটি মেয়ে ধীরস্থিরভাবে পরিকল্পনা করে আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে।

ইরানের ওপর নতুন অবরোধ চায় না তুরস্ক

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দেশটির ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপের বিরুদ্ধে আবারও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রেসেপ তাইপ এরদোগান। জার্মানির একটি সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি এ অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন। গতকাল রোববার এ সাক্ষাত্কার প্রকাশিত হয়।
জার্মানের চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের তুরস্ক সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী এরদোগানের এ মন্তব্য প্রকাশ করা হলো। আজ সোমবার থেকে চ্যান্সেলর মার্কেলের দুই দিনব্যাপী তুরস্ক সফর শুরু করার কথা।
সাক্ষাত্কারে এরদোগান বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই প্রথমে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে হবে। বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় এমন কিছু না করাই উচিত।

ইইউ ও লিবিয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও লিবিয়া একে অপরের নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ইইউর সভাপতি স্পেন গত শনিবার জানিয়েছে, কালো তালিকা থেকে লিবিয়ার নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এদিকে লিবিয়ার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইইউভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে লিবিয়ার নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হয়েছে।

আরও দুই ব্রিটিশ রাজনীতিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আরও দুজন সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ নিয়ে তদবির করার অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমস ও চ্যানেল ফোরের অনুসন্ধানে সম্প্রতি জানা গেছে, কোনো বিশেষ পক্ষের স্বার্থ রক্ষার জন্য ব্রিটিশ রাজনীতিকেরা বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের নীতি পরিবর্তনের জন্য তদবির করতে ওই সব পক্ষের কাছে অর্থ দাবি করেছেন।
গতকাল রোববার সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাবেক সামরিক বাহিনীবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডাম ইনগ্রাম ও সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী রিচার্ড ক্যাবর্ন তদবির করার জন্য অর্থ দাবি করেছিলেন। তাঁরা দুজনই ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সদস্য। এর আগের আরও তিনজন সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়।
সানডে টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, একটি বিষয়ে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের জন্য দৈনিক দেড় হাজার পাউন্ড চেয়েছিলেন ইনগ্রাম। অন্যদিকে একই ধরনের কাজের জন্য ক্যাবর্ন আড়াই হাজার পাউন্ড দাবি করেছিলেন। তবে ইনগ্রাম দাবি করেছেন, তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ ব্যবহার করার বিনিময়ে কোনো অর্থ দাবি করেননি। আর ক্যাবর্নের আইনজীবী বলেছেন, তাঁর মক্কেল কোনো অনৈতিক কাজ করেননি।
এর আগে সাবেক পরিবহনমন্ত্রী স্টিফেন বেয়ার্স, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্যাট্রিসিয়া হিউইট ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিওফ হুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম। একজন সাংবাদিক ছদ্মবেশে গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে ওই কেলেঙ্কারির চিত্র ধারণ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘লবিস্ট’ (তদবিরকারী) হিসেবে সাবেক এ মন্ত্রীদের তদবিরের জন্য অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

কঙ্গোতে এলআরএর গণহত্যার তথ্য ফাঁস

আফ্রিকার নৃশংসতম গুপ্ত বাহিনী লর্ডস রেজিস্টেন্স আর্মির (এলআরএ) সর্বশেষ গণহত্যার খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলেছে, উগান্ডাভিত্তিক এ ভয়ংকর সংগঠনের ঘাতকেরা গত ডিসেম্বরে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর কয়েকটি গ্রামে হানা দিয়ে কমপক্ষে ৩২১ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করেছে। এ ছাড়া তারা প্রায় ২৫০ জন তরুণ ও শিশুকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছে। ঘটনা ঘটে যাওয়ার তিন মাস পার হয়ে গেলেও এর আগে অন্য কোনো সূত্র বা সংবাদমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেনি।
মানবাধিকার সংগঠন এইচআরডব্লিউ কঙ্গো গণহত্যার ওপর ৬৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করে গতকাল রোববার। ‘ট্রেইল অব ডেথ: এলআরএ অ্যাট্রোসাইটিস ইন নর্থ-ইস্টার্ন কঙ্গো’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে যে হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা আদিম মানুষখেকো বর্বরদের পৈশাচিকতাকেও হার মানাবে বলে বিশ্লেষকেরা মন্তব্য করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ গণহত্যার ঘটনায় এলআরএর সদস্যরা উগান্ডা থেকে নদী পার হয়ে কঙ্গোর প্রত্যন্ত গ্রামে ঢুকে পড়ে। তারা প্রথমে প্রতিরোধ করতে সক্ষম শক্ত-সমর্থ যুবক ও দুর্বল বৃদ্ধদের বেঁধে ফেলে। তারপর চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করে। গাছের মোটা ডাল ও গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়। শহর থেকে বিচ্ছিন্ন অরণ্যসংলগ্ন এলাকায় তারা টানা চার দিন হত্যাযজ্ঞ চালায়। যাওয়ার সময় তারা সেখানকার প্রায় ২৫০ জন ছেলেমেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। লুট করা মাল তাদের দিয়ে বহন করানো হয়। অপহূত ছেলেশিশুদের যোদ্ধা এবং মেয়েশিশুদের যৌনকর্মী হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তাদের অপহরণ করা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এলআরএর দস্যুদের বন্দিদশা থেকে পালিয়ে বাঁচা ১৭ বছরের তরুণ জ্যঁ ক্লাউদে সিংবাতিলে বলে, গত ১৩ ডিসেম্বর উয়েলে নদী পাড়ি দিয়ে উগান্ডা থেকে দস্যুরা তাদের গ্রাম মাবাঙ্গা ইয়া তালোর পাশের একটি বাজারে এসে হাজির হয়। তারা সংখ্যায় ছিল ৪৫ থেকে ৫০ জন। তাদের পরনে ছিল সেনাবাহিনীর পোশাক। গ্রামবাসী প্রথমে তাদের কঙ্গোর সেনা মনে করেছিল।
সিংবাতিলে বলে, দস্যুরা গ্রামবাসীদের তাদের খাবার ও মালামাল নদীর ওপারে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। গ্রামবাসী তাদের কথা মানতে রাজি না হলে তারা রোমহর্ষক হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। অস্ত্রের মুখে তারা সব শক্ত-সমর্থ লোকের হাত-পা বেঁধে ফেলে। তারপর তারা গাছের মোটা ডাল অথবা পাথর দিয়ে কারও কারও মাথার খুলি ফাটিয়ে হত্যা করে। অনেক লোককে তারা তাদের হাতে থাকা চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। নারী ও শিশুদের আর্তচিত্কারও তাদের স্পর্শ করেনি। তাদের এ হত্যাযজ্ঞে অন্তত ৮০ জন শিশুও প্রাণ হারায়।
বেঁচে থাকা ২৫০ জন তরুণ-তরুণীকে বন্দী করে তাদের মাথায় খাদ্যশস্য ও লবণের বস্তা চাপিয়ে দিয়ে বহনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
সিংবাতিলে জানায়, সে কৌশলে দস্যুদের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচতে পেরেছে। তবে অপহূত অন্য ব্যক্তিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা সে জানে না।
কঙ্গোর কর্মকর্তারা বলেছেন, জাতিসংঘের শান্তি মিশন আগেই লোকমুখে শুনেছিল বড়দিন সামনে রেখে কঙ্গোতে এলআরএ হামলা চালাতে পারে। সে অনুযায়ী তারা শহর এলাকায় শান্তি বাহিনী মোতায়েনও করেছিল। কিন্তু দস্যুরা শেষ পর্যন্ত হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে প্রত্যন্ত গ্রামগুলো বেছে নেওয়ায় তারা কিছুই করতে পারেনি।
মূলত উগান্ডার বিদ্রোহী গ্রুপ হিসেবে এলআরএর উত্থান হয়। শুরুর দিকে এ বিদ্রোহীরা উগান্ডায় হিব্রু বাইবেলের (ওল্ড টেস্টামেন্ট) দশ হিতোপদেশ (টেন কমান্ডমেন্টস) অনুযায়ী ‘মুসায়ী ধর্মরাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে তারা সুদান, মধ্য আফ্রিকা ও কঙ্গোর মতো এলাকায় তাদের রক্ত হিম করা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দেয়। তাদের মানুষ হত্যার মূল উদ্দেশ্য কী, তা এখনো নৃতাত্ত্বিকদের কাছে এক রহস্য।

তিন বছরের মধ্যে মুছে যাবে মাওবাদীরা

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে তাঁরা ভারত থেকে মাওবাদীদের পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘তিন বছরের মধ্যেই মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে আমরা তাদের কবল থেকে মুক্ত করতে পারব। মাওবাদীরা বিশ্বাস করে, অস্ত্র ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকারকে উত্খাত করবে। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।’
গত শনিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে জাতীয় কংগ্রেসের আইন শাখার উদ্যোগে আয়োজিত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদ শীর্ষক এক সেমিনারে যোগ দিতে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সেমিনারের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আগেই আমাদের জওয়ানদের বলেছি, তারা মাওবাদী দমন অভিযান করতে গিয়ে যেন গুলি না ছোড়ে। তবে মাওবাদীরা আক্রমণ করলে তারা পাল্টা আক্রমণ করতে পারবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আর ১২ মাস পরেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে বামদের বিদায় নিতে হবে। অসত্য প্রচারের ওপর দাঁড়িয়ে বামদের ক্ষমতায় থাকার দিন শেষ হয়ে এসেছে।’
ভারতের ৩৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে এখন অন্তত ১২টি রাজ্যে মাওবাদীরা কমবেশি তৎপর। তবে ঝাড়খন্ড, ছত্তিশগড়, অন্ধ্র প্রদেশ, বিহার, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদীদের তৎপরতা বেশি।

ইরান আরও পারমাণবিক স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে

ইরান আরও দুটি গোপন পারমাণবিক স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করছেন জাতিসংঘের পরিদর্শকেরা। পশ্চিমা গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরাও একই ধারণা পোষণ করছেন। গত শনিবার নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিরোধিতা সত্ত্বেও ইরান নতুন করে পারমাণবিক স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের শীর্ষ একজন কর্মকর্তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে এ ধারণা আরও দৃঢ় হয়েছে।
ইরানিয়ান স্টুডেন্ট নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি বলেন, প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ যত দ্রুত সম্ভব দুটি নতুন পারমাণবিক স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ওই দুটি স্থাপনা পাহাড়ঘেরা অঞ্চলে স্থাপন করা হবে। বাইরের হামলা থেকে রক্ষার জন্যই এমন অঞ্চলে পারমাণবিক স্থাপনা নির্মাণের কথা ভাবা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আকবর সালেহির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ইরানের নববর্ষে ওই স্থাপনা দুটি নির্মাণের কাজ শুরু করা হতে পারে। ২১ মার্চ ইরানের নববর্ষ শুরু হয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানের কোম নগরে দেশটির গোপন পারমাণবিক স্থাপনার তথ্যপ্রমাণ প্রকাশ করেন।
প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাও (আইএইএ) বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছে। সংস্থাটি ইরানের গোপন পারমাণবিক স্থাপনার বিষয়ে স্যাটেলাইটভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখছে।

গাজায় হামাস শাসনের অবসান ঘটানো হবে

গাজায় হামাস শাসনের অবসান ঘটানোর অঙ্গীকার করলেন ইসরায়েলের এক মন্ত্রী। সম্প্রতি সহিংসতায় গাজায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর দেশটির অর্থমন্ত্রী ইভাল ইস্তিনিজ গতকাল রোববার এ হুঁশিয়ার দেন। তিনি বলেন, আজ হোক কাল হোক, গাজা ভূখণ্ডে ইসলামপন্থী হামাস সরকারের শাসন অবসানের উদ্যোগ নেবে ইসরায়েল।
ইসরায়েলের একটি রেডিওকে ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির এই মন্ত্রী বলেন, তিনি কোনো সময়সীমা বেঁধে দিচ্ছেন না। তবে গাজায় ইসলামপন্থী হামাস সরকারের যে সামরিক শাসন চলছে, সেটা তাঁরা আর বেশি দিন সহ্য করবেন না। আজ হোক কাল হোক, গাজাকে হামাসের শাসন থেকে মুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, গাজায় হামাস প্রতিনিয়ত সামরিক শক্তি বাড়িয়ে চলেছে। সংগ্রহ করছে ক্ষেপণাস্ত্র। এটা ইসরায়েলের জন্য বেশ হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাজায় কোনো সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা ছাড়া আমাদের কোনো পথ নেই।’

মনোযোগ সরাতে ভারতকে দোষারোপ করছে পাকিস্তান

নয়াদিল্লিতে গত মাসে ভারত-পাকিস্তান পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে ইসলামাবাদ যৌথ নদীর পানিবণ্টন নিয়ে নয়াদিল্লির কাছে একটি অনানুষ্ঠানিক পরিকল্পনা হস্তান্তর করেছে। তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, পানিবণ্টন নিয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর তরফ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করার চেষ্টা ছাড়া এ পরিকল্পনায় বাড়তি কিছুই নেই। তাঁদের দাবি, এমন এক সময়ে এ পরিকল্পনা হস্তান্তর করা হয়েছে, যখন পাকিস্তানেই যৌথ নদীর পানিবণ্টন নিয়ে বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। এ দ্বন্দ্ব এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যখন প্রদেশগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে পানি নিয়ে লড়াই করার কথাও বলছে। কিন্তু দেশটির সামরিক বাহিনী অভ্যন্তরীণ এই সমস্যার দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে চাইছে বলেই পানিবিষয়ক নিরাপত্তার দোহাই তুলে ভারতকে দোষারোপ করছে।
ভারতীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পাকিস্তানের অনানুষ্ঠানিক পরিকল্পনায় কোনো সারকথা নেই। দেশটির সরকার অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করতে চাইছে। সম্প্রতি পাকিস্তানি সংগঠন জামাত উদ দাওয়ার প্রধান হাফিজ সাইদ জনসমাবেশে এ নিয়ে কথা বলেছেন। নয়াদিল্লির দাবি অনুযায়ী, ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এই হাফিজ সাইদ।
পাকিস্তানভিত্তিক নিউজ ইন্টারন্যাশনাল পত্রিকায় ১২ মার্চ প্রকাশিত ‘ওয়াটার: এ প্রিমিনেন্ট পলিটিক্যাল ইস্যু’ শিরোনামের মন্তব্য প্রতিবেদনে আহমাদ রাফি আলম নামের একজন আইনজীবী লিখেছেন, ‘পাকিস্তানে সিন্ধু অববাহিকার পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে সিন্ধু নদ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (আইআরএসএ)। ১৯৯১ সালের আন্তঃপ্রাদেশিক পানি চুক্তির আওতায় এ সংস্থাটি গঠন করা হয়। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, সিন্ধুর পানির ন্যায্য হিস্যা দিচ্ছে না পাঞ্জাব প্রদেশ। ওদিকে পাঞ্জাব কর্তৃপক্ষের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য অংশের চেয়ে বেশি পানি আটকাচ্ছে না তারা।
আইআরএসএর গত দুটি বৈঠকে দেখা গেছে, পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে সিন্ধু, পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তান প্রদেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। তবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রচার করতে চাইছে, ভারতের কারণেই এ পানির সংকট তৈরি হচ্ছে—এমন মন্তব্য করেছেন নয়াদিল্লির কর্মকর্তারা।
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানে সিন্ধু নদের সিংহভাগ পানি ব্যবহারকারী পাঞ্জাব প্রদেশের সঙ্গে সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশের দ্বন্দ্ব চরমে রয়েছে। পাঞ্জাবের প্রাদেশিক সরকার চশমা-ঝিলাম ও তৌনসা-পিনজাদ সংযোগখাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করায় অন্য দুটি প্রদেশে সিন্ধু নদের পানিপ্রবাহ কমে যাবে। সিন্ধু প্রদেশের কর্মকর্তারা চশমা-ঝিলাম প্রকল্প নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন এবং তা বাতিল করার জন্য পাঞ্জাবের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। এ জন্য তাঁরা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানিকেও হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সিন্ধু থেকে আরও পানি পাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে পাঞ্জাবও।
পাকিস্তানের পানিসংকটের জন্য ভারত যে দায়ী নয়, তা পাকিস্তানের পানিসম্পদমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফের বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়। গত মাসে পার্লামেন্ট অধিবেশনে রাজা পারভেজ আশরাফ বলেছেন, ঝিলাম ও চেনাব নদীতে বাঁধ নির্মাণের অধিকার ভারতের রয়েছে। পাকিস্তানের পানি বিশেষজ্ঞ এ এন আব্বাসি বলেছেন, সিন্ধু নদের পানি চুরি বন্ধ করা না হলে প্রদেশগুলোর মধ্যে লড়াই শুরু হতে পারে। আরেক পানি বিশেষজ্ঞ নাজির মেনন জানান, সিন্ধু নদ থেকে অতিরিক্ত পানি পেতে পাঞ্জাব ১৬টি ‘ব্যারাজ’ ও দুটি ‘ড্যাম’ নির্মাণ এবং দুটি খাল খনন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
১৯৬০ সালে দুই দেশের মধ্যকার ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ অনুযায়ী পাকিস্তানের অধিকার রয়েছে সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীর ওপর। আর রাভি, বিয়াস ও সুতলেজ নদীর অধিকার ভোগ করবে ভারত। অনানুষ্ঠানিক পরিকল্পনাপত্রে নতুন কোনো জলবিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেচ প্রকল্প সম্পর্কে পাকিস্তানকে যথাসময়ে তথ্য দেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চেনাব, ঝিলাম ও সিন্ধুতে প্রায় ৩৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপারে ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেছে নয়াদিল্লি।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ‘বিশেষ সম্পর্ক’ নেই

যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মধ্যে কোনো ‘বিশেষ সম্পর্ক’ নেই। দুই দেশের মধ্যে এ বিশেষ সম্পর্কের ধারণাটি বাতিল করে দেওয়া উচিত। গতকাল রোববার প্রকাশিত ব্রিটেনের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। ওই প্রতিবেদনে ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা বলেন, ইরাক যুদ্ধ ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে।
প্রতিবেদনের সারমর্ম তুলে ধরে কমিটির চেয়ারম্যান মাইক গেপস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অবশ্যই সুসম্পর্ক বজায় রাখবে ব্রিটেন, তবে যেসব ক্ষেত্রে ব্রিটেনের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে না, সেসব ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই ‘না’ বলতে হবে লন্ডনকে। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিশেষ সম্পর্কের ধারণাটি ভুল। এটি পরিহার করা উচিত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিল যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মধ্যে বিশেষ সম্পর্কের ধারণাটির প্রথম সূত্রপাত করেন।
মাইক গেপস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আশাবাদের জন্য ইউরোপ ও ব্রিটিশ রাজনীতিবিদেরাই দায়ী। আমাদের বাস্তবভিত্তিক চিন্তাভাবনা করতে হবে। বিশ্বায়ন ও ভূরাজনীতিতে পরিবর্তনের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে, এটা আমাদের মেনে নিতে হবে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সমর্থন না থাকা সত্ত্বেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। এ যুদ্ধ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। ইরাক যুদ্ধের সময় ব্রিটেনের আচরণ দেখে মনে হয়েছে, তারা দাসত্ব মনোভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে। ইরাক যুদ্ধে ব্রিটেনের এ ধরনের ভূমিকা ব্রিটিশ নাগরিক ও অন্য দেশের মানুষকে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে। এতে ব্রিটেনের স্বার্থ ও নামধামে চরম প্রভাব পড়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অতীতের যেকোনো মার্কিন প্রশাসনের চেয়ে বর্তমান ওবামা প্রশাসন ব্রিটেনের সঙ্গে অনেকটা বাস্তবভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে।

নরেন্দ্র মোদিকে ১০ ঘণ্টা জেরা সন্তুষ্টি এসআইটি প্রধানের

ভারতের গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বিশেষ তদন্ত দলের প্রধান (এসআইটি) আর কে রাঘবন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিনি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে জানান। প্রশ্নোত্তরের বিষয়ে কিছু না জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মোদি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রতি তাঁর আস্থা আছে।
নরেন্দ্র মোদিকে গুজরাটে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা সম্পর্কে গত শনিবার ১০ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসআইটি। ২০০২ সালে ওই দাঙ্গায় প্রায় দুই হাজার মুসলিম নিহত হয়।
এসআইটির প্রধান রাঘবন গতকাল রোববার বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জিজ্ঞাসাবাদ তদন্তের অগ্রগতির দিকে “একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ”। আমরা সন্তুষ্ট। আশা করি, নির্ধারিত ৩০ এপ্রিল বা তার আগেই আদালতে প্রতিবেদন পেশ করতে পারব।’ তিনি জানান, সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) সাবেক ডিআইজি এ কে মালহোত্রা দুই দফায় মুখ্যমন্ত্রী মোদিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তাঁকে খুব ‘নির্ভার’ দেখাচ্ছিল। মুখ্যমন্ত্রী তদন্ত কর্মকর্তাদের জানান, এসআইটির প্রতি তাঁর আস্থা আছে।
মুখ্যমন্ত্রী মোদিকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এসআইটি প্রধান রাঘবন বলেন, প্রয়োজনে তাঁকে ডাকার অধিকার এসআইটির রয়েছে। তদন্তে পুরো বিষয়টি উদ্ঘাটনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে দীর্ঘ সময় ধরে জেরা করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী মোদি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যা বলার আমি পুরোপুরি বলে দিয়েছি। ভারতের সংবিধান ও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমার কাজ শেষ।’
প্রশ্নোত্তরের ব্যাপারে বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মোদি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তদন্ত দলকে সহায়তা করেছেন তিনি।
২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গোধরায় ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডে ৫৯ জন হিন্দু তীর্থযাত্রী নিহত হন। এর জের ধরে গুজরাটে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এতে ২৮ ফেব্রুয়ারি কংগ্রেসদলীয় সাবেক সাংসদ এহসান জাফরি নিহত হন। তাঁর স্ত্রী জাকিয়া জাফরির অভিযোগের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী মোদিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো। দাঙ্গার জন্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময়ে নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করলেও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্যতম এই নেতা এবারই প্রথম জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন

‘নিষিদ্ধ’ সাঙ্গাকারার যুবরাজ-হতাশা

একের পর এক ম্যাচ হেরেই যাচ্ছে দল। দুই ম্যাচ জরিমানা দেওয়ার পর এবার এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন কুমার সাঙ্গাকারা। সব মিলিয়ে মেজাজটা বিগড়ে থাকারই কথা। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা ঝালটা মিটিয়েছেন যুবরাজ সিংয়ের ওপর। বলেছেন, ‘এখনো পর্যন্ত যুবরাজের পারফরম্যান্স হতাশাজনক।’
সবার নিচে থাকা সাঙ্গাকারার দলের জয় ৬ ম্যাচে মাত্র একটি। পরশু তাদের ৩৯ রানে হারিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। মনোজ তিওয়ারির ৪৭ বলে অপরাজিত ৭৫ এবং সৌরভ গাঙ্গুলীর ৪০ বলে ৫০ রানের ইনিংসে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৩ রান তুলেছিল কলকাতা। ১৬ ম্যাচ পর আইপিএলে ফিফটির দেখা পেলেন গাঙ্গুলী। জবাবে ২০ ওভার খেলেও পাঞ্জাব করতে পারে মাত্র ১৪৪ রান। সর্বোচ্চ রান সাঙ্গাকারার, ২৭ বলে ৩০। দলের মতো অধিনায়কের নিজের অবস্থাও ভালো নয়। ৬ ম্যাচে রান করেছেন মাত্র ৯১। কিন্তু সাঙ্গাকারা হতাশ যুবরাজের পারফরম্যান্সে, ‘যুবির কাছে সবার অনেক প্রত্যাশা। ওকে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে, তবে আমি নিশ্চিত ও ভালো করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।’
এ মৌসুমেই যুবরাজকে সরিয়ে দলের অধিনায়ক করা হয়েছে সাঙ্গাকারাকে। তবে অধিনায়কত্ব উপভোগ করতে পারছেন না। দলের বাজে পারফরম্যান্স তো আছেই, সমানে খালি হচ্ছে নিজের পকেটটাও। স্লো ওভাররেটের কারণে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই ২০ হাজার ডলার জরিমানা দিতে হয় তাঁকে। ২৪ মার্চ রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচে আবারও জরিমানা, দ্বিতীয়বার একই ‘অপরাধের’ জন্য এবার দিতে হয় ৪০ হাজার ডলার, আর বাকি সতীর্থদের সবার ১০ হাজার ডলার। সর্বশেষ কলকাতার বিপক্ষে ম্যাচে আবারও স্লো ওভাররেট, নিয়ম অনুযায়ী এবার এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ। আগামীকাল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে ম্যাচটিতে বাইরেই বসে থাকতে হবে সাঙ্গাকারাকে।

ম্যাককালামও ছেড়ে দেবেন টেস্ট

নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া টেস্টটা কি পাঁচ দিনে গড়াবে? নাকি শেষ হয়ে যাবে চার দিনে? পাঁচ দিনে গড়ালে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের জন্য সেটি হবে আর্থিক ক্ষতির! বিস্মিত হচ্ছেন? ম্যাচটা পাঁচ দিনে চলে যাওয়া মানে ম্যাককালাম কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে ১ এপ্রিলের ম্যাচেও খেলতে পারবেন না। যেটি কলকাতার অষ্টম ম্যাচ। সেমিফাইনালে যেতে না পারলে কলকাতার ম্যাচ বাকি থাকবে আর ছয়টি। যত ম্যাচ তত টাকা—এই হলো আইপিএলে বেতনের হিসাব। সাত লাখ ডলারে চুক্তিবদ্ধ ম্যাককালামের জন্য এক ম্যাচ না খেলা মানেই তো বিরাট ক্ষতি!
মুখে ক্রিকেটাররা যতই বলুন, ‘সবার আগে দেশ, আমি দেশের হয়েই খেলতে চাই’, আইপিএল দিনে দিনে দেশপ্রেম আর টাকা—এই দুইয়ের মাঝখানের ব্যবধানটা বড় করে তুলছে। অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের পথ ধরে ব্রেট লি আর শেন বন্ডরা তো টেস্ট ক্রিকেটই ছেড়ে দিয়েছেন। বন্ডের সতীর্থ ম্যাককালাম টেস্ট না ছাড়লেও পাঁচ দিনের ক্রিকেটে আর উইকেটকিপিং করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে নিউজিল্যান্ডের একটি সংবাদমাধ্যম খবর দিয়েছে, আগের টেস্টে সেঞ্চুরি করা ম্যাককালাম নাকি শুধু টি-টোয়েন্টি খেলার কথা ভাবছেন!
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের (এনজেডসি) প্রধান নির্বাহী জাস্টিন ভন বাস্তব অবস্থাটা বুঝতে পারছেন। তাঁর নিজেরই হিসাবে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে পরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩০০ দিনই নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটারদের মাঠে থাকতে হবে। ‘বাড়িতে সময় কাটানোর সময়ই খুব একটা ওরা পাবে না। হ্যাঁ, ঠিক আছে, এ সময় ওরা টাকাও কামাবে প্রচুর। কিন্তু স্ত্রী আর পরিবারও তো আছে। এই দলের অনেকেরই আবার নতুন সংসার। আমাদেরও নিশ্চিত করতে হবে, দলের মূল খেলোয়াড়দের যেন যথাসম্ভব খেলানো যায়’—বলেছেন ভন।
খেলোয়াড়দের ধাপে ধাপে বিশ্রাম দেওয়া যায় কি না, এখন সেই চিন্তাভাবনা করছে এনজেডসি। জাস্টিন ভন জানিয়েছেন, ‘কদিন পর পর খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দরকার। এটা চালু করার জন্য আমরা ভাবছি। এখন প্রচুর ক্রিকেট হচ্ছে, এই বাস্তবতা তো আমরা অস্বীকার করতে পারি না। তাই ওদের যদি বিশ্রাম দরকার হয়, আমাদের সেটি দিতেই হবে।’
২০১০-১১ মৌসুমের জন্য ক্রিকেটারদের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করতে যাচ্ছে এনজেডসি। ধারণা করা হচ্ছে, আইপিএলে খেলা ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে এ নিয়ে একটা জোরাল আপত্তি উঠতে পারে। গতবারও আইপিএল চলার সময় অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল। এখন গুঞ্জন, কোনো কোনো ক্রিকেটার ‘ফ্রি-ল্যান্স’ পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন। আইপিএলের প্রথম আসরের প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ১৫৮ রানের ইনিংস খেলা ম্যাককালামের নামটাই আসছে সবার আগে।
ভনও স্বীকার করলেন, ‘আমরা ব্রেন্ডনের সঙ্গে কথা বলেছি। ওর ওপর দিয়ে আসলেই খুব চাপ যাচ্ছে। এই শীতে আমরা ওর সঙ্গে কথা বলব কী করা উচিত না-উচিত এটা নিয়ে।’

সবার ওপরে মুম্বাই

আইপিএলে কাল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ৪১ রানে হারিয়েছে ডেকান চার্জার্সকে। ম্যাচের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক, হরভজন সিংহের ১৮ বলে ৪৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস। ১৬.৪ ওভারে মুম্বাইকে ১১৯ রানে রেখে যান দারুণ ফর্মে থাকা অধিনায়ক শচীন টেন্ডুলকার (৪৩ বলে ৫৫)। তখন পড়ে গেছে ৭ উইকেট। এ অবস্থায় হরভজন উইকেটে এসে তাণ্ডব শুরু করেন। ৮টি চার আর দুটি ছয় মেরে মুম্বাইয়ের রান নিয়ে যান ১৭২-এ।
বাকি কাজটা করেন লাসিথ মালিঙ্গা আর জহির খান। দুজনই নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট। মালিঙ্গা দিয়েছেন ১২ রান, জহির ২১। ১৪ বল বাকি থাকতেই ১৩১ রানে অলআউট অ্যাডাম গিলক্রিস্টের ডেকান।
এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে এল মুম্বাই। ৬ ম্যাচে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট তাদের। সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ব্যাঙ্গালোর। কলকাতা আর দিল্লির সঙ্গে সমান ছয় পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে ডেকান।

১৭ বছর পর মার্শেই

তাদের সর্বশেষ জেতা বড় কোনো শিরোপা ছিল সেই ১৯৯২-৯৩ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ। ১৭ বছরের শিরোপা-খরাটা অবশেষে ঘোচাল মার্শেই। পরশু স্টাডে ডি ফ্রান্স স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বোর্দোকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ফ্রান্সের লিগ কাপ শিরোপা ঘরে তুলল তারা। সর্বশেষ যে অধিনায়কের হাত ধরে চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা এসেছিল, সেই দিদিয়ের দেশমই এবার কোচের ভূমিকায় এনে দিলেন এই ট্রফি।

ইউসুফকে হারাতে চান না আফ্রিদি

মোহাম্মদ ইউসুফের অবসরের সিদ্ধান্তটাকে আবেগময় সিদ্ধান্ত মনে হচ্ছে শহীদ আফ্রিদির কাছে। ইউসুফকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অধিনায়ক।
অস্ট্রেলিয়া সফরের ব্যর্থতায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) যে সাত ক্রিকেটারের ওপর কোপ চালিয়েছে, ইউসুফ তাঁদের একজন। ইউনুস খান আর তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। শোয়েব মালিক ও রানা নাভেদ-উল হাসানের বহিষ্কারাদেশ এক বছরের। এ ছাড়া শহীদ আফ্রিদি ও আকমল ভাইদের বহিষ্কারাদেশ ছয় মাসের। শাস্তির এই সিদ্ধান্ত মানতে না পেরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন ইউসুফ। ধারণা করা হচ্ছে, হয়তো আজই অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন তিনি।
ইউসুফকে অবসরের ভাবনা থেকে ফেরানোর শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন শহীদ আফ্রিদি। তাঁর আশা, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন ইউসুফ, ‘ইউসুফ আবেগের বশবর্তী হয়েই সিদ্ধান্তটা নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তবে আমার ধারণা, সে অবশ্যই বিষয়টা আরেকবার ভেবে দেখবে। পাকিস্তানের ক্রিকেটকে এখনো অনেক কিছু দেওয়ার আছে তার।’ ইউসুফের মতো একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের এমন আবেগপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন আফ্রিদি, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাবলিই হয়তো ইউসুফকে এমন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বহিষ্কারাদেশের ঘটনায়ও নিশ্চয়ই হতাশ। তবে তাঁর মতো একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের এমন পরিস্থিতি সামলে নেওয়া উচিত। আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর উচিত হবে না।

প্রথম ম্যাচে হার মোহামেডানের

পিসিএলের প্রথম ম্যাচে সোহরাওয়ার্দী ও ফয়সাল হোসেন মোহামেডানের পক্ষে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু দুজনই ‘বি’ শ্রেণীভুক্ত ক্রিকেটার, এ নিয়েই টপ স্পোর্টসের আপত্তি ছিল শুরু থেকেই। নিয়ম অনুযায়ী বেস্ট পারফরম্যান্স ক্যাটাগরির একজন খেলোয়াড়ই কেবল সেরা একাদশে থাকতে পারবেন। কিন্তু টুর্নামেন্ট কমিটির কাছে তাদের এই অভিযোগ ধোপে টেকেনি। কমিটি তাদের মোহামেডানের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষে আপত্তি উত্থাপনের পরামর্শ দিয়ে ম্যাচ চালিয়ে নেয়। পরে অবশ্য মোহামেডান হেরে যাওয়ায় কমিটি এই যাত্রা কিছুটা রক্ষা পেয়েছে। তবে ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি টপ স্পোর্টসের। ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান বলেন, কো-চেয়ারম্যান আলী আব্বাস মোহামেডান ক্লাবের পক্ষে দুজনকে খেলতে নামিয়ে দেন। এটা নিয়মের পরিপন্থী।
ফয়সাল হোসেন করেছেন ৩৫ রান। নির্ধারিত ২০ ওভারে মোহামেডান ৭ উইকেট হারিয়ে করে ১২৪ রান। সর্বোচ্চ ৩৭ রান করে পিসিএলে ভালো কিছু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন আশরাফুল। জাতীয় দলের ঢোকার সংগ্রামটাকে অন্তত উজ্জ্বল করে রাখলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। তবে তাঁর ৩৬ বলের এই ইনিংস ম্যাচ জেতাতে পারেনি মোহামেডানকে। মোক্তার আলী ও নাসির হোসেন দুটি করে উইকেট পান।
টপ স্পোর্টস পাকিস্তানি তৌফিক উমরের ৪৭ ও শাহরিয়ার নাফীসের অপরাজিত ৩৯-এর সুবাদে ৮ উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে, তৌফিক ম্যাচসেরা।
বিমানের শোচনীয় হার: একসময় বিমানের রান ছিল ৭ উইকেটে ৬০। অষ্টম উইকেটে হাসানুজ্জামান ও মনোয়ার ৪৩ রান যোগ করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে হাসানুজ্জামান আউট হলেন ব্যক্তিগত ৬৩ রানে। ৯ উইকেটে ১২৬ রান তুলল বিমান। টি-টোয়েন্টিতে এই রান আর যা-ই হোক, জয়ের নিশ্চয়তা দেয় না মোটেও। ভারতের বেঙ্গল টাইগারস সেটাই মনে করিয়ে দিল। ২২ বল হাতে রেখে তারা জিতল ৭ উইকেটে। ম্যাচ সেরা বেঙ্গল টাইগারসের অধিনায়ক দীপ দাশগুপ্ত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
 মোহামেডান: ২০ ওভারে ১২৪/৭ (আশরাফুল ৩৭, ফয়সাল ৩৫, শোয়েব মালিক ১১, ব্লিজার্ড ৫; মোক্তার আলী ৪-১৮-০-২, নাসির হোসেন ৪-০-১৬-২, সাকিব ৪-০-৩০-০)। টপ স্পোর্টস: ১৬.৪ ওভারে ১২৬/২ (তৌফিক উমর ৪৭, শাহরিয়ার ৩৯*, সাকিব ১৪)।
 বিমান: ১২৬/৯ (২০ ওভার)—হাসানুজ্জামান ৬৩, মনোয়ার ১৩; সঞ্জয় ১৮/৩, রণদীপ ২৫/২। বেঙ্গল টাইগারস: ১২৮/৩ (১৬.২ ওভার)—দীপ দাশগুপ্ত ৫৪, রশ্মি রঞ্জন ৩৮; শরীফুল ৩৪/২, রবিন ১৮/১

দ্বিতীয় পর্বে বদলাবে কিছু

রথম পর্ব শেষ হয়েছে কোনোরকমে। ৭৮টি ম্যাচ আয়োজনে সময় লেগেছে দীর্ঘ পাঁচ মাস। ছিল না পেশাদারির কানাকড়িও। আকর্ষণ বলতে কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়নি। আজ শুরু তৃতীয় বাংলাদেশ ফুটবল লিগের দ্বিতীয় পর্বে ছবিটা বদলাবে?
বদলানোর আপাত কোনো জোরালো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ‘ঠেলাগাড়ি চলছে, চলুক’—মোটের ওপর এই হলো আয়োজক বাফুফে আর ক্লাবগুলোর মানসিকতা।
বাফুফে একবারে কিছুই করছে না, তা অবশ্য বলার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ লিগ কমিটির ম্যানেজার আবু নাঈম কাল জানিয়েছেন, বাফুফের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় পর্ব শুরুর আগে ঢাকার বাইরের ক্লাবগুলোকে চিঠি দিয়ে ভেন্যু ব্যবস্থাপনা, মাঠ এবং পেশাদারির আবশ্যকীয় উপাদানগুলো নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই পর্বে আর বিরতি দেওয়া হবে না। জুনের প্রথম সপ্তাহে লিগ শেষ করার লক্ষ্য। সেজন্যই হয়তো প্রথম দিনেই রাখা হয়েছে চারটি ম্যাচ।
প্রথম পর্বের লম্বা সময় লিগের আকর্ষণ কমিয়ে দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা অবশ্যই ভালো মাঠের অভাব। ফুটবলার হাসান মাল মামুন চট্টগ্রামের মাঠকে তো তুলনা করেছেন খটখটে রাস্তার সঙ্গে! সিলেট স্টেডিয়ামে খেলে ঢাকা মোহামেডান বলেছে, ধুলাবালি ওড়ে ওই মাঠে। ওটা আদতে মাঠই নয়! নারায়ণগঞ্জ শুকতারার মাঠ খুবই ছোট, শক্ত এবং অসমান। সবচেয়ে বেশি কথা হয়েছে সিলেট ভেন্যু নিয়ে। প্রথম পর্বে সেখানে খেলতে গিয়ে নিরাপত্তাহীন ছিল মোহামেডান এবং তারা স্থানীয় সংগঠক-দর্শকের মারমুখী আচরণের শিকার হয়েছে।
‘আর যা-ই হোক, ঢাকার বাইরে নিম্নমানের মাঠে পেশাদার লিগ হয় না’—ক্ষোভ আবাহনী কোচ অমলেশ সেনের। মোহামেডান গোলরক্ষক আমিনুল বলেছেন, ‘এসব মাঠে খেলে ফুটবলের কোনো উন্নতি হবে না!’
দ্বিতীয় পর্ব শুরুর দিনে চারটি ম্যাচের তিনটিই ঢাকার বাইরে। অথচ সেখানে প্রতিনিধি পাঠাতে বাফুফের সক্রিয় এবং পরিপূর্ণ উদ্যোগ নেই! জানা গেছে, ফেনীতে কেউ যাবে না। সিলেটে একজন যাবে। নারায়ণগঞ্জে একজন যেতে পারেন, তবে নিশ্চিত নয়। পেশাদার লিগ নিয়ে বাফুফে কীভাবে এগোচ্ছে, তা কি আর বলার দরকার আছে!
প্রথম পর্বে মাঠে ডাক্তার-অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়নি (বিশেষ করে ঢাকার বাইরে)। ম্যাচ কমিশনারের সামনে কোনো একজনকে ডাক্তার বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আছে। খেলোয়াড় আহত হওয়ার পর দেখা গেল, ডাক্তার-অ্যাম্বুলেন্স নেই!
দ্বিতীয় পর্বে এই সমস্যা আর থাকবে না, দাবি বাফুফের। ম্যাচ কমিশনারের চিঠি দিয়ে লিগ কমিটি বলেছে, ডাক্তার-অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত না করে তারা কোনোভাবেই দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচ শুরু করতে পারবে না।
মাঠের লড়াই বরাবরের মতো সীমাবদ্ধ আবাহনী-মোহামেডানের মধ্যে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানেকে (১২ ম্যাচে ৩০) ৪ পয়েন্ট পেছনে রেখে এগিয়ে আছে আবাহনী (১২ ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট)। আজ সিলেটে আবাহনী, ফেনীতে মোহামেডান মাঠে নামছে।
মধ্যবর্তী দলবদলে তেমন সাড়া নেই। আবাহনী-মোহামেডান নতুন খেলোয়াড় নেয়নি। বিদেশি খেলোয়াড় নিবন্ধনের সময় আগামীকাল পর্যন্ত। আবাহনী একজন আফ্রিকানকে দলে নিতে পারে। মোহামেডান নিতে পারে গতবার খেলে যাওয়া মিসরীয় খেলোয়াড় হাজেমকে।
খেলোয়াড়েরা নিয়ম-নীতি মানছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। সিলেট বিয়ানীবাজার তাদের খেলোয়াড় ফয়সাল মাহমুদ ও রেজাউল করিমের (বিপ্লব) বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বাফুফের কাছে। এমন অভিযোগ আরও আছে!
বরাবরের মতো পাতানো খেলার আশঙ্কা বেশি থাকছে এই পর্বে। পাতানো খেলা বন্ধ করার সুনির্দিষ্ট উপায় এখনো বের করতে পারেনি বাফুফে। তবে এই পর্বের ম্যাচগুলো ভিডিও করার নিশ্চয়তা দিয়েছে বাফুফে। দেখা যাক, পেশাদারির চর্চা কতটা হয় এই পর্বে!

অব্যবস্থাপনার মধ্যেই পিসিএলের যাত্রা by প্রণব বল

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিবাদে সারা বিশ্বের আরও অনেক স্থাপনার মতো গত পরশু বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন দুবাইয়ের ১৬২তলা বুর্জ আল খলিফা আর দুবাই শপিংমলের আলোও এক ঘণ্টার জন্য নিভে গিয়েছিল। দুবাইয়ের সে আলো আবার জ্বলে উঠলেও পাশের শহর শারজা যেন এখনো অন্ধকারেই তলিয়ে! শারজা স্টেডিয়ামে চট্টগ্রামের পিসিএল টি-টোয়েন্টি কাপ জ্বলে উঠতে পারছে না কোনোভাবেই। চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনা আর সমন্বয়হীনতা ঘিরে ধরেছে বহুল আলোচিত এই টুর্নামেন্টকে।
ভিসা-জটিলতা, সম্প্রচার নিয়ে দুর্ভাবনাসহ আরও অনেক বিশৃঙ্খলার পর টুর্নামেন্টটা কাল শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ালেও অব্যবস্থাপনা এখনো রয়েই গেছে। সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের যুক্তি দিয়েছেন আয়োজকেরা। দিয়েছেন সব ঠিক হয়ে যাওয়ার আশ্বাস। অথচ অব্যবস্থাপনা আর সমন্বয়হীনতা থেকে টুর্নামেন্টটাকে খেলা শুরুর দিনও মুক্ত করা যায়নি। কাল এসবের সঙ্গে যোগ হয়েছে দর্শকখরার হতাশাও। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে কিছুটা ভরে উঠেছিল গ্যালারি।
২০০টি ওয়ানডে ম্যাচ বুকে ধরার গৌরব শারজা স্টেডিয়ামের। একসময় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের উত্তেজনায় ফুঁসে উঠত এই স্টেডিয়ামের গ্যালারি। প্রেসবক্সে পদধূলি পড়েছে কত না ক্রিকেটপণ্ডিতের। পিসিএল কাভার করতে আসা সাংবাদিকদের মতো বিড়ম্বনায় নিশ্চয়ই পড়তে হয়নি কারোই। ভিসা-জটিলতা পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে শারজায় উড়ে আসা সাংবাদিকেরা এখানে এসে মুখোমুখি হচ্ছেন নিত্যনতুন ঝামেলার। ইন্টারনেট সুবিধা অপ্রতুল। ছোট্ট একটা ঘরে ইন্টারনেট-ব্যবস্থা থাকলেও সেটার সেবা নিতে সাংবাদিকদের মধ্যে শুরু হয় মিউজিক্যাল চেয়ার প্রতিযোগিতা। ধুলোমলিন বসার চেয়ার। আর স্কোরার তো ছিলই না প্রেসবক্সে। গত ২৫ মার্চ স্টেডিয়ামে প্রথম ঢুকেই বাংলাদেশি সাংবাদিকেরা প্রেসবক্স পরিষ্কার ও পর্যাপ্ত ইন্টারনেট-সেবা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। আয়োজকেরা আশ্বাস দিয়েছিলেন, ‘হয়ে যাবে হয়ে যাবে, কিচ্ছু চিন্তা করবেন না।’ গলাবাজিই সার। দেশে বসে যারা টেলিভিশনে খেলা দেখেছেন শারজায় আসা সাংবাদিকদের চেয়ে ভাগ্যবানই বলতে হবে তাদের।
শারজা ক্রিকেট ক্লাবকে এসব কারণে দোষ দেওয়ার উপায় নেই। পিসিএলের জন্য তারা মাঠ আর অন্যান্য অবকাঠামো ভাড়া দিয়েছে বাংলাদেশি আয়োজকদের। অব্যবস্থাপনার পুরো দায়-দায়িত্ব তাই পিসিএল কর্তৃপক্ষেরই। টুর্নামেন্ট শুরুর দিনে নতুন অভিযোগ তুলল টপ স্পোর্টস ক্লাব—মোহামেডান নাকি কোটার বাইরের ক্রিকেটার খেলিয়েছে প্রথম ম্যাচে!
স্থানীয় সময় বিকেল তিনটায় মোহামেডান-টপ স্পোর্টসের ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে টুর্নামেন্ট। বেলুন উড়িয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেন। ভিসা-জটিলতায় মমতাজের দেখা না মিললেও শিরিনের পাঞ্জাবীওয়ালা কিংবা মিলার ‘কোমর দোলাইয়া’ গানের সঙ্গে চিয়ারগার্লরা নেচেছেন। প্রথম ম্যাচের পর ৪০ মিনিটের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে ছিল শিশুদের ডিসপ্লে, অ্যারাবিক ও আফ্রিকান গান আর নৃত্য। প্রায় শূন্য গ্যালারিতে যে অল্পসংখ্যক দর্শক বসেছিল, এসবে হয়তো কিছুটা মন জুড়িয়েছে তাদের। তবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের মেলা একটু বাড়াবাড়িই মনে হয়েছে।
এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত একমাত্র আশা-জাগানিয়া কাজটি করেছে এটিএন বাংলা। শনিবার রাতে শারজায় পৌঁছেই তারা প্রথম দিন থেকে ম্যাচের সম্প্রচার নিশ্চিত করেছে।

স্বাধীনতা দিবস ক্রিকেট

আনামুল হকের সেঞ্চুরিতে স্বাধীনতা দিবস ক্রিকেটে বিকেএসপি ২ উইকেটে হারিয়েছে বিসিবি গেম ডেভেলপমেন্ট একাদশকে। পরশু ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৪৫ ওভারে ৭ উইকেটে ২১৭ রান করে বিসিবি গেম ডেভেলপমেন্ট একাদশ। সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন ইকতেদার নাজিফ। জবাবে আনামুলের সেঞ্চুরিতে দুই বল বাকি থাকতেই ৮ উইকেট হারিয়ে এ রান টপকে যায় বিকেএসপি। ১০১ বলে ৯টি চার ও ১ ছক্কায় ১০৩ রান করেন আনামুল। জয়ী দলের আসিফ ৩৭ রানে নিয়েছেন ২টি উইকেট। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন বিকেএসপির আনামুল।

শিরোপা ইকরামুলের

লড়াইটা জমে উঠেছিল দুই রাউন্ড আগেই। শেষ রাউন্ডে এসেও চ্যাম্পিয়নের জন্য অপেক্ষা করতে হলো টাইব্রেকার পর্যন্ত। নাটোরে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে কাল আবদুল্লাহ আল সাইফকে হারিয়ে জাতীয় সাব-জুনিয়র দাবায় শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইকরামুল হক। ৯ খেলায় দুজনই পেয়েছে সাড়ে আট পয়েন্ট। কাল খেলা শেষে পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক মুজিবুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ।

পশ্চিমবঙ্গের কাছে হার বাংলাদেশের

কলকাতায় প্রথমবারের অর্জন ৩০টি সোনা, সেবার ৩৮টি সোনা জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্বাগতিকেরা। ঢাকায় দ্বিতীয় ইন্দো-বাংলাদেশ বাংলা গেমসে বাংলাদেশ ৪৫টি সোনা জিতেছিল, ২৪টি সোনা ছিল পশ্চিমবঙ্গের। এবার তৃতীয় ইন্দো-বাংলা গেমসেও পশ্চিম বাংলার কাছে হেরে গেল বাংলাদেশ। তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ জিতেছে মোট ২৭টি সোনা, বিপরীতে ৩৪টি সোনা জিতে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো পশ্চিমবঙ্গ।
কাল শেষ দিনে বাংলাদেশ মাত্র ১টি সোনা জিতেছে। তাও আবার কাবাডিতে হয়েছে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন! বাকি ১২টি ইভেন্টেই সোনা গেছে পশ্চিমবঙ্গে। মেয়েদের ফুটবলে আগের দুই দিন গোলশূন্য ড্র করলেও কাল আদুরির হ্যাটট্রিকে পশ্চিমবঙ্গের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। বাস্কেটবল ও খো খোতেও রুপা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের।
এবারের ইন্দো-বাংলা গেমসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য এসেছে শ্যুটিংয়ে। মোট ১১টি সোনার মধ্যে ৯টিই জিতেছে বাংলাদেশ। ব্যর্থ বলতে শুধুই আসিফ হোসেন। এসএ গেমসের ব্যর্থতার পর সাঁতারে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ ছিল এই গেমসে। সেই সুযোগটা অবশ্য কাজে লাগিয়েছেন পার্ক তে গুনের শিষ্যরা। ১৪টি ইভেন্টের মধ্যে ১০টিতে সোনা জিতেছেন তাঁরা। তবে বরাবরের মতো এবারও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন অ্যাথলেটরা। ১৮টি ইভেন্টের মাত্র ৭টিতে জিতেছে বাংলাদেশে। অথচ গতবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত গেমসেও ৯টি সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে এই ফলেও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, ‘এসএ গেমসে আমরা প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারিনি এটা সত্যি। কিন্তু এসএ গেমসের সঙ্গে তো এটার তুলনা করা যায় না। তবু বলব, আমরা ইন্দো-বাংলা গেমসে ভালোই করেছি। আমরা বেশ কয়েকটি ইভেন্টে ওদের টেকনিকের কাছে হেরে গেছি।’
অ্যাথলেটিকসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট দ্রুততম মানব-মানবীর খেতাবটা এবারও গেছে পশ্চিমবঙ্গে। তবে শ্যুটিংয়ের সাফল্যে দারুণ খুশি শ্যুটিং ফেডারেশন।

তিন ম্যাচ পর কলকাতার জয়

জয়টা ভীষণ প্রয়োজন ছিল। অবশেষে জয়ের দেখা পেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে টানা তিন ম্যাচ হারের পর কাল তারা ৩৯ রানে জিতল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে। এই জয়ে ৬ ম্যাচে তিনটিতে জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে উঠে এল কলকাতা। সমান ম্যাচে মাত্র একটিতে জিতে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতেই থাকল পাঞ্জাব।
মোহালিতে এসে রানের দেখাও পেয়েছেন সৌরভ। কাল প্রথমে ব্যাট করে মনোজ তিওয়ারী ও সৌরভ গাঙ্গুলীর জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে ১৮৩ রান তোলে কলকাতা। ৪০ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫০ রান করেন সৌরভ। ৪৭ বলে ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো ছিল মনোজের অপরাজিত ৭৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস।
জবাবে খেলতে নেমে ৬ উইকেটে শেষ পর্যন্ত ১৪৪ রান তুলতে পারে পাঞ্জাব। অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা করেন সর্বোচ্চ ৩০ রান। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: কলকাতা: ২০ ওভারে ১৮৩/৫ (মনোজ ৭৫*, সৌরভ ৫০, ম্যাথুস ১৯, গেইল ১৪; শ্রীবাস্তব ২/২৩, ইরফান ২/৪২, পীযুষ ১/৩৫)। পাঞ্জাব: ২০ ওভারে ১৪৪/৬ (সাঙ্গাকারা ৩০, যুবরাজ ২৪, বিসলা ২২, ইরফান ২২, গোয়েল ১৮*; বন্ড ২/২৪, আগারকার ২/৩৩, গেইল ১/২৩, ম্যাথুস ১/২৬)। ফল: কলকাতা ৩৯ রানে জয়ী।

বড় লক্ষ্যেই স্ট্রাউসের ছোট ত্যাগ

বাংলাদেশ সফরে না আসায় ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের কম সমালোচনা হয়নি। ক্রিকেটপণ্ডিত আর সমালোচকেরা স্ট্রাউসের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ। অধিনায়কের সব সময়ই সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। তবে স্ট্রাউসের বিশ্বাস, বাংলাদেশে না আসার সিদ্ধান্ত ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ ধরে রাখায় হবে বড় প্রভাবক।
গুরুত্ব বিবেচনা করলে আসলে বাংলাদেশ সফরটা খুব বড় কিছু ছিল না ইংল্যান্ডের জন্য। তাদের কাছে এর চেয়ে ঢের গুরুত্বপূর্ণ আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় অ্যাশেজ আর ২০১১ বিশ্বকাপ। স্ট্রাউসও বাংলাদেশে না আসার কারণ হিসেবে সেসবই টেনে এনেছেন সামনে, ‘আমি জানি, অধিনায়ককে সব সময় সামনে থাকতে হয়। তারপরও ইংল্যান্ডের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে আমি আমার সিদ্ধান্তকে ঠিকই মনে করি। সামনের দিনগুলো আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জন্য অ্যাশেজ অনেক বড় সিরিজ। ওয়ানডের কথা বললে বিশ্বকাপও বড় ব্যাপারই।’ স্ট্রাউস একা নন, অ্যালিস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন দলে তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দিতে বাংলাদেশ সফরে আসেননি পেসার জেমস অ্যান্ডারসনও।
অ্যাশেজ ধরে রাখতে যে প্রাণশক্তি, যে ছন্দ প্রয়োজন এই কয়দিনের বিশ্রামে সেটা বাড়বে বলেই ধারণা ইংল্যান্ড অধিনায়কের, ‘আমি আন্তরিকভাবেই বিশ্বাস করি, বছরের শেষ দিকে এর সুফল মিলবে। বিশ্রামে কাজ হয়েছে। আমি এখন অনেক সতেজ, মাঠে ফিরতে প্রস্তুত। খেলার জন্য আর তর সইছে না।’
বাংলাদেশ সফরে টুকটাক ভুল হয়তো ছিল কুকের নেতৃত্বে, তবে সেসব না ধরে স্ট্রাউস তাঁর প্রশংসাই করছেন। বাংলাদেশ সফরে স্টিভ ফিন আর টিম ব্রেসনানের পারফরম্যান্সও মুগ্ধ করেছে তাঁকে।্রতবে অ্যাশেজের আগে দলের সবার প্রতিই তাঁর আহ্বান, ‘অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে জিততে হলে অনেক কিছুতেই আমাদের অসাধারণ উন্নতি আনতে হবে। যেটা সম্ভবত এখনো পারিনি আমরা। আগামী নটা মাস কাজে লাগিয়ে কীভাবে আমরা নিজেদের আরও ভালো করতে পারি, তা নিয়ে আমার কিছু পরিকল্পনা আছে। সেটি কাজে লাগানোর সময়ও হয়ে গেছে।’

ব্রডকে লাগাম পরাতে বললেন ফ্রেজার

মাত্রই বছর তিনেকের ক্যারিয়ার। এর মাঝেই আম্পায়ারদের সঙ্গে কম ঝামেলা পাকাননি স্টুয়ার্ট ব্রড। ‘আরেকটু সম্মান আম্পায়ারদের প্রাপ্য’—উত্তরসূরিকে এটা মনে করিয়ে দিয়েছেন সাবেক ইংলিশ পেসার অ্যাঙ্গাস ফ্রেজার। বাংলাদেশের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে আবদুর রাজ্জাককে এলবিডব্লু করে আম্পায়ারের দিকে না তাকিয়েই উদ্যাপন শুরু করেছিলেন ব্রড। পরে অবশ্য নিজে থেকেই ক্ষমা চেয়ে নেন আম্পায়ার রড টাকারের কাছে।
গত দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। ‘বাবা ম্যাচ রেফারি বলেই বড় শাস্তির হাত থেকে বারবার বেঁচে যাচ্ছেন’—এমন অভিযোগ আগেই তুলেছেন সুনীল গাভাস্কার। এসব দেখেশুনে ফ্রেজার বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, ব্রডের উচিত বল্গাহীন আচরণে লাগাম পরানো। দক্ষিণ আফ্রিকায়ও সে কয়েকবার এমন করেছে।’ ইংল্যান্ড অধিনায়কেরও ব্রডকে একটু বোঝানো উচিত বলে মনে করেন ইংল্যান্ডের হয়ে ৪৬ টেস্টে ১৭৭ উইকেট নেওয়া ফ্রেজারের, ‘মাঠে সবাই আবেগ এমনভাবে ঢেলে দেয় যে এমন অনেক কিছু হয়ে যায়, যার জন্য পরে আফসোস করতে হয়। তবে সবকিছুই শিক্ষার অংশ। আমার মনে হয়, অধিনায়কের উচিত ওকে এক পাশে নিয়ে গিয়ে বোঝানো কীভাবে কী করা উচিত।’
অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস অবশ্য নিশ্চিত নিজেকে শুধরে নেবেন ব্রড, ‘আমি যেহেতু বাংলাদেশে ছিলাম না, আমার পক্ষে তাই মন্তব্য করা মুশকিল। ম্যাচ রেফারি তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই ওকে একটু সতর্ক হতে হবে। আমি অবশ্য মনে করি সে নিজেই ভুলটা বুঝতে পারবে এবং নিজেকে শুধরে নেবে।

ফুটবলের আকাঙ্ক্ষা পাতানোমুক্ত খেলা

ফুটবল অঙ্গনের আকাঙ্ক্ষা, অতীতে যা-ই হোক বাংলাদেশ লিগের দ্বিতীয় পর্বে আর পাতানো খেলা হতে দেওয়া যাবে না।
এই আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিমূলে আগের তিক্ত অভিজ্ঞতা। এমন দল পাওয়া কঠিন, যারা পাতানো খেলেনি বলে দাবি করতে পারে। কিন্তু কথিত ‘প্রমাণের’ অভাবে বরাবরই বিষয়টা থেকে গেছে পর্দার আড়ালে।
এবার কি প্রকাশ্যে আসবে? কেউ পাতানো খেলা খেললে কার্যকর শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে? প্রশ্নগুলো নতুন করে উঠে আসছে তৃতীয় পেশাদার লিগের ফিরতি পর্ব শুরুর আগে। আগামীকাল এই পর্ব শুরু হচ্ছে এবং অনেকের শঙ্কা—ফিরতি পর্বে দেদার পয়েন্ট কেনাবেচা চলবে। কেউ চ্যাম্পিয়ন হতে, কেউ অবনমন ঠেকাতে পাতানো খেলবে। যার যেমন দরকার!
বাফুফে কর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা ব্যাপারটা স্বীকার করে নেন, ‘হ্যাঁ, পাতানো হতে পারে এবারও।’ কিন্তু ফলপ্রসূ উদ্যোগ নেওয়ার প্রসঙ্গ এলেই তাঁরা চুপসে যান। অতীতে বহুবার উদ্যোগ নিয়েও এটা প্রমাণ করা যায়নি বলে এড়িয়ে যান কর্তারা।
তবে কাল জানা গেল, বাংলাদেশ লিগের দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচগুলো ভিডিও করা হবে (প্রথম পর্বে ভিডিও হয়নি)। এটা একেবারেই প্রাথমিক একটা উদ্যোগ, তবে তা খেলা পাতানোমুক্ত লিগের নিশ্চয়তা কি দিতে পারছে? বাংলাদেশ লিগ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী বলছেন, ‘আমরা দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচ ভিডিও করব। তারপর প্রয়োজনে পুলিশি তদন্তে যাব।’
পুলিশি তদন্ত! সে সুদূরপরাহত এক ব্যাপার। গতকালই বাফুফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান লিগ কমিটির কর্মকর্তা আনোয়ারুল হকের (হেলাল) দেওয়া তথ্যটা হতে পারে এর অকাট্য প্রমাণ।
‘আমি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক থাকার সময় প্রথম পেশাদার লিগে আবাহনী-মোহামেডানের ম্যাচসহ সাতটি ম্যাচ তদন্ত করতে ঢাকা মহানগরের তত্কালীন পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিলাম। পরপরই ফেডারেশন থেকে পদত্যাগ করলাম, এ বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। অগ্রগতি না থাকলে এ ধরনের বিষয়ে পুলিশ আগ বাড়িয়ে কিছু করবে না’—বলছিলেন দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ফুটবলে পাতানো ম্যাচ দেখে আসা আনোয়ারুল হক।
পাতানো খেলা প্রমাণে পুলিশি তদন্তই এখন বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে কার্যকর পন্থা। সম্প্রতি মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, চীনে পুলিশি তদন্তে পাতানো খেলা প্রমাণিত হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী শাস্তি পেয়েছে অভিযুক্তরা। কিন্তু বাংলাদেশে গুরুতর এবং যৌক্তিক অভিযোগ উঠলেও উল্টো ‘পাতানো হয়নি’ সার্টিফিকেট পাওয়া যায়! পেশাদার লিগেই একবার পাতানো খেলার অভিযোগ উঠলে পুলিশের সাবেক এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি বলেছিল, তারা পাতানো ম্যাচের প্রমাণ পায়নি!
এবার কী হবে কে জানে। তবে ক্লাবগুলোকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করা যায় কি না, সে ব্যাপারে লিগ কমিটির এক কর্মকর্তা প্রস্তাব রাখবেন বলে জানিয়েছেন গতকাল। কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদীর ভাবনা অবশ্য ভিন্ন, ‘ক্লাবগুলোকে আগেই পাতানো খেলো না বলা মানে পাতানো খেলার বিষয়টা মনে করিয়ে দেওয়া। তাই চিঠি দেওয়ার দরকার নেই। তবে আমরা সতর্ক থাকব। যাতে কেউ পাতানো খেলা খেললে ধরা পড়ে।’
ম্যাচ ভিডিও করা, পুলিশি তদন্ত—এসব ব্যবস্থা পাতানো খেলা বন্ধ করতে পারবে না বলে নিশ্চিত জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জুয়েল রানা, ‘যত দিন পর্যন্ত ক্লাব কর্মকর্তারা পাতানো খেলা বন্ধে আন্তরিক এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবেন না, তত দিনে কিছুই বদলাবে না!’

Monday, March 29, 2010

নবীন আমলাদের দৃষ্টিভঙ্গি by প্রণব সাহা |

সরকারি যেকোনো তথ্য জনগণের জানার অধিকার আছে—এই বিবৃতি সম্পর্কে আপনার অবস্থান কী? এটা জানতে চাওয়া হয়েছিল সরকারের প্রশাসনে যোগ দেওয়া নবীন কর্মকর্তাদের কাছে। বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা স্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মত দিয়েছেন। এটি একটি আশার ব্যাপার এ জন্য যে, দক্ষ সরকারি কর্মকর্তা তৈরি করার মূল কেন্দ্র বিপিএটিসি তথ্য অধিকার আইনটি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া বিপিএটিসি তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে প্রশাসনে সদ্য যোগ দেওয়া কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। বিপিএটিসিতে চার মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে তথ্য অধিকার আইনসম্পর্কিত প্রশিক্ষণকে। তিন দিনের একটি কোর্স মডিউল তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত কর্মশালায় যোগ দিয়ে জানা গেল জনগণের জানার অধিকার সম্পর্কে প্রশাসনে সদ্য যোগদানকারীদের অভিমত।
তথ্য কমিশন গঠনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় প্রধান তথ্য কমিশনারের পদ শূন্য হওয়ার বিষয়টি হতাশাজনক। সেদিক থেকে বিপিএটিসির এই উদ্যোগ একটা আশাব্যঞ্জক ঘটনা। তথ্য অধিকার আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য বিপিএটিসি মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে। কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য থেকে জানা গেল, তথ্য অধিকার আইন নিয়ে বিপিএটিসির পক্ষ থেকে একটি ছোট আকারের জরিপও করা হয়েছে। ওই জরিপের ফলাফলেই তথ্য অধিকার আইন নিয়ে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণের সুপারিশ এসেছে। পাওয়া গেছে সরকারি কর্মকর্তাদের অভিমত। এমন মতামতও এসেছে যে, এই আইন শুধু সাংবাদিকদের জন্য উপকারী হবে। আর সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে। জরিপের তথ্য উপস্থাপনকারী কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন জানালেন, তথ্য অধিকার আইন বিষয়ে যে প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তারা খুব বেশি জানেন না, তা পরিষ্কার। ‘ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে কর্মকর্তারা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন’— এমন মন্তব্য এমডিএসের। তবে খুবই উৎসাহজনক তথ্যও পাওয়া গেল তাঁর কাছ থেকে। যেমন সেবাদানকারী হিসেবে তথ্য অধিকার আইনের উপযোগিতাকে নিজের জন্য ভীতিকর বলে উল্লেখ করলেও একই কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে একজন সেবা গ্রহণকারীর জন্য এই আইনের উপযোগিতা অনেক বেশি। সরকারি কর্মকর্তাদের এমন দ্বিমুখী অবস্থানের পরিবর্তন ঘটিয়ে তথ্য অধিকার আইনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরির জন্যই বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা এ কথাও জানিয়েছেন যে ঔপনিবেশিক আমলের পুরোনো আইন ছাড়াও ‘তথ্য গোপনের সংস্কৃতিও’ আইনটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা। এ ছাড়া তথ্য সংরক্ষণ ও সঠিক তথ্য ব্যবস্থাপনা না থাকলেও তথ্য অধিকারের সুফল পাওয়া যাবে না বলেও তাঁরা সঠিকভাবে মত দিয়েছেন বলেই মনে হয়েছে।
তথ্য অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ যেমন ভালো, তেমনি এখনো এই আইনের আওতায় বিধিমালা তৈরির কাজ শেষ করতে না পারাটাও হতাশাজনক। আরও হতাশার বিষয় হচ্ছে, তথ্য কমিশনের প্রধানের পদটি শূন্য থাকার তথ্য। সাবেক সচিব আজিজুর রহমানকে নিয়োগ করা হয়েছিল প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে। দপ্তর গুছিয়ে ওঠার আগেই তাঁকে বিদায় নিতে হয়েছে বয়সের কারণে। তথ্য কমিশন আইনের ১৫(২) ধারায় স্পষ্ট করেই বলা আছে, ‘৬৭ বৎসর অপেক্ষা অধিক বয়স্ক কোনো ব্যক্তি প্রধান তথ্য কমিশনার বা তথ্য কমিশনার পদে নিয়োগ লাভের বা অধিষ্ঠিত থাকিবার যোগ্য হইবেন না।’ স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, কেন আজিজুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়ার আগে দেখা হলো না যে কবে তাঁর বয়স ৬৭ হবে। যখন আজিজুর রহমানের নামটি আলোচিত হচ্ছিল বাছাই কমিটিতে, তখন বয়সের বিষয়টি বাছাই কমিটির নজরে আনা হয়নি কেন?
প্রধান বিচারপতি মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির সভাপতিত্বে বাছাই কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে তথ্য কমিশনের তিনটি পদের বিপরীতে ছয়টি নাম পাঠাবে, আইনে এমন বিধান আছে। এই বাছাই কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দলের দুজন সাংসদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সম্পাদকের যোগ্যতাসম্পন্ন একজন সদস্য থাকেন। আমাদের প্রত্যাশা, পরবর্তী প্রধান তথ্য কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য নাম পাঠানোর সময় বয়সসীমাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে, যাতে করে তথ্য কমিশনের পথ চলার শুরুতেই প্রতিষ্ঠানটিকে অভিভাবকত্বহীনতায় ভুগতে না হয়।
এখন পর্যন্ত তথ্য কমিশনের পূর্ণাঙ্গ জনবল নিয়োগ হয়নি। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের জনবলকাঠামো নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করতে চাই না। তখন এ নিয়ে এত প্রতিবেদন লিখতে হয়েছে যে এক সময় বিরক্তি প্রকাশ করতেন আমাদের সংবাদ ব্যবস্থাপকেরা। তথ্য কমিশনের বিধিমালা প্রণয়নের বিষয়টিও ঘুরপাক খাচ্ছে আমলাতন্ত্রের ঘূর্ণিপাকে। তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে প্রশাসনে যোগ দেওয়া নতুন আমলাদের মনোভাব লেখার শুরুতেই উল্লেখ করেছি। শত বছরের পুরোনো আমলাতন্ত্র ‘লালফিতার’ রং বদলে ‘ধূসর’ করেছে। কিন্তু এখনো তথ্য গোপন করার মানসিকতা ধূসর হয়নি।
গত ১১ জানুয়ারি থেকে প্রধান তথ্য কমিশনারের পদটি শূন্য আছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাছাই কমিটির একটি বৈঠক হয়েছে, তাই খুব দ্রুতই আমরা প্রধান তথ্য কমিশনার পদে নতুন মুখ চাই। তথ্য কমিশনের বিধিমালা ও জনবলকাঠামো দ্রুত অনুমোদন এবং কার্যকর হওয়া জরুরি। বিধিমালার একটি প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর তাতে ত্রুটি ধরা পড়ায় তা কমিশনে ফেরত পাঠানো হয়। কমিশন বিধিমালা সংশোধন করে তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনে আট হাজার বর্গফুটের যে দপ্তর ভাড়া নেওয়া হয় তথ্য কমিশনের জন্য, সেই দপ্তরে এখন বসেন দুজন কমিশনার ছাড়া শুধু সচিব, একজন পরিচালক ও কয়েকজন কর্মচারী। কমিশনের জনবলকাঠামো সংস্থাপন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু নতুন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তথ্য কমিশনের জনবলকাঠামো সচিব কমিটিতে অনুমোদিত হতে হবে। এ ক্ষেত্রেও সরকারি প্রশাসনের শীর্ষপর্যায়ের ইতিবাচক মনোভাব দরকার।
তথ্য কমিশন আইনের বিষয়টি লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে অন্তর্ভুক্ত করার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে, এই আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করা। দেশের আমলাতন্ত্র, গণমাধ্যম ও নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্যোগী নাগরিকসমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এখন মনযোগী হতে হবে আইনটিকে সুষুম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রয়োগ করার কাজে সাহায্য করার জন্য।
প্রণব সাহা: এডিটর, এটিএন নিউজ লিমিটেড।
pranab67@hotmail.com

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ

বহু বছর ধরে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত জনবিস্ফোরণ সমস্যা মোকাবিলার ঢিমে তেতালা অবস্থার একটি চিত্র ফুটে উঠেছে গত বুধবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কাজকর্ম যারপরনাই শিথিল হয়ে পড়েছে। জনবলের সংকট আর নিয়োজিত জনবলের উৎসাহ-প্রণোদনার প্রকট অভাব পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করছে। অবস্থা দেখে মনে হয়, জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় নেই।
যদি থাকত, তাহলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ে এক হাজার ৬৩০টি পদ শূন্য রইত না। দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪টি উপপরিচালকের পদ খালি রয়েছে ১৭ বছর ধরে। অধিদপ্তরের ১৬টি পরিচালকের পদের মধ্যে ১৪টিতে পদায়ন করা হয়েছে প্রশাসন ক্যাডারের আর দুটিতে স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের। শীর্ষস্থানীয় আরও ১৭টি পদে পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তা নেই। পরিবার পরিকল্পনাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনকাজের কোনো নজরদারি নেই অনেক বছর ধরে। কারণ, লোকবলের অভাব।
শুধু লোকবলের অভাব নয়, বিদ্যমান লোকবলের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও গাফিলতি রয়েছে। বিস্ময়কর তথ্য হলো, জনপ্রশাসনের ২৯টি ক্যাডারের মধ্যে এ যাবত্ কোনো পদোন্নতি দেওয়া হয়নি শুধু একটি ক্যাডারের লোকদের, সেটি হচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডার। এর ব্যাখ্যাও সংশ্লিষ্ট কারও কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। দৃশ্যত অধিদপ্তরটি পরিচালিত বা নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে প্রশাসন ক্যাডারদের দ্বারা; আর পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে উপপরিচালকের পদে চিকিৎসকদের নিয়োগ দেওয়ায় বোঝা যায় যে কতটা গুরুত্বহীনভাবে চালানো হচ্ছে এ অধিদপ্তরকে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বর্তমান মোট লোকবল প্রায় ৫৫ হাজার। একটি অধিদপ্তরের জন্য এ লোকবল কম তো নয়ই, বরং অনেক পূর্ণ মন্ত্রণালয়েও এত সংখ্যক লোকবল নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, এ লোকবলের যথাযথ ব্যবহার। সেটা যে অনেক বছর ধরেই ঘটছে না, তা বলাই বাহুল্য। পরিবার পরিকল্পনা একটি ক্যাডার সার্ভিস। এ সার্ভিসের সব শীর্ষ পদে কেন প্রশাসন ও স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়? এভাবে একটি ক্যাডার সার্ভিসের মনোবল ভেঙে দেওয়া হয়; তাঁরা চরম বঞ্চনাবোধ আর হতাশায় ভোগেন। পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের চিন্তাভাবনা চলছে বলে খবরে প্রকাশ। ভালো চিন্তা সন্দেহ নেই। তবে এটাও মনে রাখা দরকার যে মন্ত্রণালয় অনেক আছে, সেগুলোর সব কাজ খুব ভালোভাবে চলছে, এমনটা বলা যাবে না। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এমন এক সমস্যা, যা থেকে তৈরি ও ঘনীভূত হচ্ছে অনেক গুরুতর সমস্যা। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান জনসংখ্যার দক্ষ ব্যবস্থাপনা, জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে পরিণত করার উপায়ও গভীরভাবে ভাবতে হবে এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
আমাদের এ ছোট্ট ভূখণ্ডের দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা পরিবেশগত অবক্ষয়ের শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে জনসংখ্যা বাড়তে থাকলে জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্বের সংকট দেখা দিতে বেশি সময় লাগবে না। জনসংখ্যা এখানে এমনিতেই স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক গুণ বেশি, আরও বাড়তে দেওয়া হবে আত্মহত্যার শামিল। অবিলম্বে আমাদের এ বিষয়ে তৎপর হতে হবে।

কদর বাড়ছে ভোট জোলোকিয়ার

ভোট জোলোকিয়া’ মরিচের কদর বেড়েছে। এ মরিচের কড়া ঝাঁজকে কাজে লাগিয়ে গ্রেনেড তৈরির সফলতা অর্জনের পর ভারতীয় বিজ্ঞানীরা এখন এ জাতের মরিচকে আরও নানা ক্ষেত্রে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ‘বেসামরিক নিরাপত্তা অস্ত্র’ হিসেবেও এ মরিচ ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ বা নিয়ন্ত্রণ এবং নারীদের আত্মরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে এ মরিচ ব্যবহারের চিন্তাভাবনা তাঁদের।
ভোট জোলোকিয়া মরিচের ঝাঁজ অন্য যেকোনো মরিচের চেয়ে হাজার গুণ বেশি। সর্বোচ্চ ঝাঁজের কারণে এরই মধ্যে এর নাম গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে উঠেছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আসামে এ মরিচের চাষ হয়।
বিজ্ঞানীরা বলেন, উচ্ছৃঙ্খল জনতা এবং নারীদের উত্ত্যক্তকারী দুর্বৃত্তদের পরাস্ত করতে এ মরিচ ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া শীতপ্রধান অঞ্চলে দায়িত্বরত সেনাদের খাবারের উপকরণ হিসেবে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। ভোট জোলোকিয়ার তীব্র ঘ্রাণে হিংস্র জীবজন্তু যাতে সেনাছাউনিতে হামলা চালাতে না পারে সে জন্য সেনাছাউনির বেড়ায় এ মরিচ ব্যবহারের চিন্তাভাবনা চলছে। তবে সন্দেহভাজন বিদ্রোহীদের পাকড়াও করার ক্ষেত্রেই এ মরিচের ব্যবহার প্রাধান্য পাবে বেশি।
ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়নবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ডিআরডিও) কর্মকর্তা আর বি শ্রীবাস্তব বলেন, ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতা বা দুর্বৃত্তদের ছত্রভঙ্গ করতে এ মরিচ ব্যবহার করা হবে। তবে এতে তাঁদের প্রাণহানির কোনো সম্ভাবনা নেই।’ তিনি বলেন, গবেষণা করে নির্বিষ এ মরিচের আকারের আরও উন্নয়ন ঘটানো হবে।
ভোট জোলোকিয়া দিয়ে গ্রেনেড তৈরির ক্ষেত্রে সফলতা পাওয়ার পর ভারতের বিজ্ঞানীরা বর্তমানে এর নকশা নিয়ে কাজ করছেন। মরিচ গ্রেনেডের সঠিক আকার দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। এ কাজ সম্পন্ন হলে তাঁরা ব্যাপকভাবে মরিচের গ্রেনেড উৎপাদন শুরু করবেন।
আর বি শ্রীবাস্তব বলেন, ‘মরিচ গ্রেনেডের তীব্র ঘ্রাণে লক্ষ্যকৃত ব্যক্তি পুরোপুরি পরাস্ত হবেন। তার চোখ নরকের মতো জ্বলতে থাকবে। তবে এসব ক্ষতিই সাময়িক সময়ের জন্য।’
এই তীব্র জ্বালাময় মরিচও যে সবাইকে পরাস্ত করছে বা করবে তা নয়। গত বছর আসামেরই এক নারী মাত্র দুই মিনিটে ৫১টি ভোট জোলোকিয়া কচকচ করে খেয়ে রেকর্ড করেছেন। অনন্দিতা দত্ত নামের ওই নারী শত শত লোকের সামনে এ কাণ্ড ঘটান। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোট জোলোকিয়ায় আক্রান্ত হবেন না এমন অনিন্দিতা দত্তের সংখ্যা অনেক, অনেক কম।

রাশিয়ায় নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকায় হিটলারের ‘মাইন কাম্ফ’

জার্মানির সাবেক স্বৈরশাসক অ্যাডল্ফ হিটলারের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ মাইন কাম্ফ-এর বিষয়বস্তুকে চরমপন্থামূলক বলে বিবেচনা করছে রাশিয়া। আর তাই এ গ্রন্থকে নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকায় যুক্ত করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেলের দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রন্থটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়েবসাইটে তা পাওয়া যাবে। বই বিক্রেতারাও তা বিক্রি করতে পারবেন। মাইন কাম্ফের অর্থ হচ্ছে ‘আমার যুদ্ধ’।
রাশিয়ার একটি আদালত মাইন কাম্ফ-এর বিষয়বস্তুকে চরমপন্থামূলক বলে অভিহিত করেছেন। আদালতের সিদ্ধান্তেই গ্রন্থটি নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাশিয়ায় একটি আইন আছে, যাতে জার্মান নািস পার্টির নেতাদের লেখা বইকে চরমপন্থামূলক বলে বিবেচনা করা হয়।

মিয়ানমারে নির্বাচন অক্টোবর বা নভেম্বরে হতে পারে

সামরিকশাসিত মিয়ানমারে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ অথবা নভেম্বরের প্রথমে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে। এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা গতকাল শনিবার এ কথা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার পর প্রচারণার জন্য প্রার্থীরা প্রায় ছয় মাস সময় পাবেন।

মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বিশেষ তদন্ত দল

ভারতের গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ওই রাজ্যে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি)। গতকাল শনিবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ২০০২ সালে ওই দাঙ্গায় প্রায় দুই হাজার মুসলমান নিহত হয়।
দাঙ্গার সময় ২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কংগ্রেস দলের সাবেক সাংসদ এহসান জাফরি নিহত হন। তাঁর স্ত্রী জাকিয়া জাফরির অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত ১১ মার্চ মোদির প্রতি সমন জারি করেন।
গতকাল সকালে গুজরাটের প্রশাসনিক রাজধানী গান্ধীনগরে এসআইটির দপ্তরে যান মোদি। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্যতম এই নেতা দাঙ্গার বিষয়ে এই প্রথম জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গোধরায় ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডে ৫৯ জন হিন্দু তীর্থযাত্রী নিহত হন। এর জের ধরে গুজরাটে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।

আজীবন সম্মাননা পুরস্কারে ভূষিত হামিদ মীর

সার্কভুক্ত লেখক ও সাহিত্যিকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন অব সার্ক রাইটার্স অ্যান্ড লিটারেচার (এফওএস-ডব্লিউএএল) পাকিস্তানের বিশিষ্ট সাংবাদিক হামিদ মীরকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দিয়েছে। নয়াদিল্লিতে তিন দিনব্যাপী সার্ক উৎসবে গত শুক্রবার তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। তবে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি অর্পণা কাউর সাংবাদিক হামিদ মীর সম্পর্কে বিবৃতি পড়ে শোনান। তিনি বলেন, হামিদ মীর পাকিস্তানের একমাত্র সাংবাদিক যিনি ফিলিস্তিন, ইরাক, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেছেন।
হামিদ মীর পাকিস্তানের জিও টেলিভিশনের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গণতন্ত্র, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে হামিদ মীরকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

‘ওসামা বিন লাদেন সুস্থ আছেন’

আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেন সুস্থ আছেন এবং তাঁর অধীনস্থদের সব ধরনের নির্দেশনা দিচ্ছেন। সন্ত্রাসবাদ ও আল-কায়েদার জন্য তহবিল সংগ্রহে জড়িত অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত রাজা লাহরাসিব খান এ কথা জানিয়েছেন।
গত শুক্রবার শিকাগো থেকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) কর্মকর্তারা লাহরাসিব খানকে আটক করেন। তিনি তাঁর সহযোগী ইলিয়াস কাশ্মীরির বরাত দিয়ে ওসামার সুস্থ থাকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি ইলিয়াসকে ‘লালা’ নামে ডাকেন বলে দাবি করেন। কাশ্মীরির সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগের বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ দেন লাহরাসিব, তা আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। ইলিয়াস কাশ্মীরি পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন হরকাত-উল জিহাদ-ই-ইসলামীর প্রধান।
লাহরাসিব বলেন, ‘... আমি লালাকে তাঁর (ওসামা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি (ইলিয়াস) বলেছেন, তিনি (ওসামা) সুস্থ আছেন এবং আল-কায়েদার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’
লাহরাসিব জানান, তিনি ইলিয়াসকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ওসামার সঙ্গে তাঁর কখনো দেখা হয়েছিল কি না। ইলিয়াস জানিয়েছেন, ওসামার সঙ্গে তাঁর কখনো দেখা হয়নি। তবে তিনি (ইলিয়াস) দেখা করতে চান।
লাহরাসিব আরও জানান, ১৫ বছর ধরে ইলিয়াসকে চেনেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ইলিয়াসের বেশ কয়েকবার দেখাও হয়েছে।

বাতি নিভিয়ে উষ্ণতার বিরুদ্ধে সচেতনতা

রাত সাড়ে আটটার দিকে নিভে যায় ১২৫টি দেশের চার হাজারের বেশি শহর ও উপশহরের বৈদ্যুতিক বাতি। অন্ধকারময় থাকে পুরো এক ঘণ্টা। ভাবছেন আমাদের দেশের মতো লোডশেডিং হলো নাকি! না তেমনটি নয়। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে বিশ্বব্যাপী এই ‘বাতি নেভানো’ কর্মসূচি পালিত হয় গতকাল শনিবার রাতে। এক ঘণ্টা বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ রাখার ব্যতিক্রমী এই আন্দোলনের নাম ‘আর্থ আওয়ার’।
এবারের কর্মসূচিতে ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ নিজ নিজ দেশের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত নিজের বাড়ি বা কর্মস্থলে বিজলিবাতি নিভিয়ে রাখে। ৬০ মিনিট উৎসর্গ করে পৃথিবীর জন্য।
বাতি নেভানো কর্মসূচি গতকাল প্রথম পালিত হয় নিউজিল্যান্ডের চাথাম আইসল্যান্ডে। সেখানে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটার সময় বাতি নেভানোর কথা থাকলেও ঘণ্টাখানেক আগে নিভিয়ে দেওয়া হয় সব বৈদ্যুতিক বাতি। নিরাপত্তার জন্য শুধু সড়কের ১২টি বাতি জ্বালিয়ে রাখা হয়। কিছু স্থানে বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে ডিজেলচালিত জেনারেটর চালিয়ে বাতি জ্বালানো হয়।
এর ৪৫ মিনিট পর নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৫০টি শহর ও উপশহরের বাড়িঘর, অফিস ও দোকানের বৈদ্যুতিক বাতি নেভানো হয়। এ ছাড়া নিভিয়ে ফেলা হয় অকল্যান্ডের বিশাল স্কাই টাওয়ার ও ওয়েলিংটনের পার্লামেন্ট ভবনের বাতি।
একই সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ ফিজিতেও পালিত হয় বাতি নেভানো কর্মসূচি। রাত সাড়ে আটটার দিকে নিভে যায় সিডনির ঐতিহাসিক অপেরা হাউস ও হার্বার ব্রিজসহ বাড়িঘর ও অফিসের বাতি।
আর্থ আওয়ারের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ডি রিডলি বলেন, ব্রাজিল থেকে আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারত পর্যন্ত বহু দেশ এ বছরের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।
রিডলি বলেন, এক ঘণ্টা বাতি বন্ধ রাখার মাধ্যমে বিশ্বের উষ্ণতা হয়তো ঠেকানো যাবে না, তবে এটা উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কোটি মানুষের দাবির কথা তুলে ধরবে।
উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে জ্বালানি সংরক্ষণ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশ্বের এক হাজার ২০০-এর বেশি বিখ্যাত ও গুরুত্বপূর্ণ ভবনে এক ঘণ্টা বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ রাখা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আইফেল টাওয়ার, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং ও লিনিং টাওয়ার অব পিসা।
এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কার্বন নির্গমনকারী দেশ চীনের ১২টির বেশি শহরে বাতি নেভানো কর্মসূচি পালিত হয়। বন্ধ থাকে হংকং, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল, ভারতের দিল্লি ও মুম্বাইয়ের বৈদ্যুতিক বাতি।
নিভিয়ে ফেলা হয় লন্ডনের বিগ ব্যান ঘড়ি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ওল্ড ট্রাফোর্ড মাঠ, প্যারিসের নটরডেম ক্যাথেড্রাল ও রোমের ট্রেভি ফাউন্টেনের আলো।
বাতি নেভানোর ফলে এক ঘণ্টার জন্য অন্ধকারে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট রুশমোর, সান ফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন গেট ব্রিজ ও শিকাগোর ১১০ তলার সিয়ার্স টাওয়ারসহ প্রায় ৩০টি রাজ্যের লোকজন।
পরিবেশবাদী সংগঠন ওয়ার্ল্ড লাইফ ফান্ড ফর নেচারের (ডব্লিউডব্লিউএফ) উদ্যোগে ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এক ঘণ্টার বাতি নেভানো কর্মসূচি শুরু হয়।
বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কোপেনহেগেনে জাতিসংঘের দুই সপ্তাহের আলোচনা হয়। কিন্তু উষ্ণতা রোধে দেশগুলোকে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া বা গঠনমূলক পরিকল্পনা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় হতাশ হন পরিবেশবাদীরা।

রাশিয়ায় নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকায় হিটলারের ‘মাইন কাম্ফ’

জার্মানির সাবেক স্বৈরশাসক অ্যাডল্ফ হিটলারের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ মাইন কাম্ফ-এর বিষয়বস্তুকে চরমপন্থামূলক বলে বিবেচনা করছে রাশিয়া। আর তাই এ গ্রন্থকে নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকায় যুক্ত করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেলের দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রন্থটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়েবসাইটে তা পাওয়া যাবে। বই বিক্রেতারাও তা বিক্রি করতে পারবেন। মাইন কাম্ফের অর্থ হচ্ছে ‘আমার যুদ্ধ’।
রাশিয়ার একটি আদালত মাইন কাম্ফ-এর বিষয়বস্তুকে চরমপন্থামূলক বলে অভিহিত করেছেন। আদালতের সিদ্ধান্তেই গ্রন্থটি নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাশিয়ায় একটি আইন আছে, যাতে জার্মান নািস পার্টির নেতাদের লেখা বইকে চরমপন্থামূলক বলে বিবেচনা করা হয়।

যৌথবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মাওবাদী নেতা বিক্রম নিহত

পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী অধ্যুষিত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জঙ্গলমহলে গত বৃহস্পতিবার মাওবাদীদের সঙ্গে যৌথবাহিনীর বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২২ থেকে ২৪ জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে। এ যুদ্ধে মাওবাদী নেতা বিক্রম নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিক্রমের আসল নাম অভিষেক মুখার্জি। এ ছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন আরেক মাওবাদী নেতা বিকাশ, তবে সরকারিভাবে এ মৃত্যুর কথা এখনো স্বীকার করা হয়নি। মাওবাদীরা প্রকৃত সংখ্যা না জানালেও হতাহতের কথা স্বীকার করেছে। অন্যদিকে মাওবাদী নেতা কিষাণজি এখন কোথায় আছেন, তা নিশ্চিত করা যায়নি। যদিও খবর রটেছে, কিষাণজি আহত হয়ে পালিয়ে গেছেন।
বৃহস্পতিবার ভোরে যৌথবাহিনী জানতে পারে, মাওবাদী নেতা কিষাণজিসহ একদল মাওবাদী পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি-লালগড়-ধরমপুর জঙ্গলে জড়ো হয়েছে। এ খবর পাওয়ার পর ৭০০ পুলিশ ও আধা-সেনা গোটা এলাকা ঘিরে অভিযান শুরু করে। এ সময় মাওবাদীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে যৌথবাহিনীর সঙ্গে তাদের প্রচণ্ড বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়।

বারলুসকোনিকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি

ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনিকে হত্যার হুমকি দিয়ে ডাকযোগে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রেরকের নাম-ঠিকানাবিহীন ওই চিঠির সঙ্গে একটি বুলেটও পাওয়া যায়। গতকাল শনিবার দেশটির পুলিশ সূত্র এ তথ্য জানায়।
পুলিশ জানায়, মিলানের উপশহর লিবাতের একটি ডাকঘরে প্রধানমন্ত্রী বারলুসকোনির মিনানের বাড়ির ঠিকানা উল্লেখ করা ওই চিঠি পাওয়া যায়। একটি বড় খামের ভেতর চিঠি ও একটি বুলেট ছিল। চিঠিতে বারলুসকোনিকে ‘ইঁদুরের মতো করে হত্যা’র হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএনএসএর প্রতিবেদনে বলা হয়, খামের ওপর দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইনগাজিও লা রুসাসহ বারলুসকোনির দল পিপল অব ফ্রিডম (পিডিএল) পার্টির চারজন নেতার ছবি আঁকা রয়েছে। সেখানে সবার ছবির নিচে আলাদা করে নামও লেখা আছে।

ইউরোর দাম বেড়েছে

ইউরোজোনের নেতারা ঋণ-জর্জরিত গ্রিসকে অর্থ সাহায্য করতে সম্মত হওয়ার পর ডলার ও পাউন্ডের বিপরীতে ইউরোর দাম বেড়েছে।
গ্রিস যদি তার বিপুল ঋণ পরিশোধে সমস্যায় পড়ে, তবে ইউরোপীয় নেতারা গ্রিসকে ২২ বিলিয়ন ইউরো বা ২০ বিলিয়ন পাউন্ডের সমপরিমাণ অর্থ সাহায্য দিতে রাজি হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপরই গত শুক্রবার ইউরোর দাম ১ সেন্ট বেড়ে ১ দশমিক ৩৩৯৩ ডলারে দাঁড়ায়। গ্রিসের ঋণ সংকটের কারণে গত কয়েক সপ্তাহে ইউরোর দাম পড়ে যাচ্ছিল। পাউন্ডের বিপরীতে ইউরোর দাম গতকাল এক সেন্টের দুই-পঞ্চমাংশ বেড়ে শূন্য দশমিক ৯০ পাউন্ডে দাঁড়ায়।

থাইল্যান্ডে বিক্ষোভের মুখে পিছু হটেছে সেনাবাহিনী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার লাল শার্ট পরা সমর্থকদের আন্দোলনের মুখে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কয়েকটি নিরাপত্তা-চৌকি থেকে সেনাবাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। গতকাল শনিবার ব্যাংককের রাস্তায় রাস্তায় লাল শার্ট পরা প্রায় ৮০ হাজার আন্দোলনকারী প্রচণ্ড বিক্ষোভ শুরু করলে সরকার সংঘাত এড়াতে সেনাবাহিনী সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর কৌশল হিসেবে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীরা এটিকে তাঁদের ‘প্রাথমিক বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন। বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘরে ফিরবেন না। খবর এপি ও এএফপির।
থাইল্যান্ডে ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ত্যাগ করেন। এরপর ২০০৮ সালে সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় থাই সংবিধান সংশোধন করে সাধারণ নির্বাচন দেওয়া হয়। থাকসিনের সমর্থকেরা ওই সংবিধান সংশোধনকে অবৈধ বলে দাবি করেন। ২০০৮ সালে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর থাকসিন দেশে ফেরেন এবং একটি মামলায় আদালত তাঁকে কারাদণ্ড দেন। গ্রেপ্তার এড়াতে সিনাওয়াত্রা আবার দেশ ছাড়েন।
২০০৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে অভিজিত্ ভেজ্জাজিভা ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গত মাস পর্যন্ত সিনাওয়াত্রার সমর্থকেরা প্রায় নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তবে ১৪ মার্চ তাঁরা লাল শার্ট পরে দলে দলে রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু করেন। গত সপ্তাহে প্রায় ৬৫ হাজার বিক্ষোভকারী রাজধানীতে বিক্ষোভ করেন। তাঁদের দমিয়ে রাখতে রাজধানীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অস্থায়ী ক্যাম্প গড়ে সেখানে প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়। তবে গত কয়েক দিনে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। গতকাল প্রায় ৮০ হাজার বিক্ষোভকারী ব্যাংককের রাজপথে নেমে আসেন।
বিক্ষোভকারীরা সেনা প্রত্যাহার করা না হলে আইন ভঙ্গের হুমকি দেন। সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কায় গতকাল সরকার সেনাবাহিনী সরিয়ে নেওয়া শুরু করে।
গতকাল রাজকীয় ময়দান, চিড়িয়াখানা ও দুটি বৌদ্ধমন্দিরসহ মোট চারটি স্থানে বসানো ক্যাম্প থেকে সেনা সরানোর কাজ শুরু হয়। সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ক্যাম্পগুলো থেকে সেনারা যখন তাদের তাঁবু গুটিয়ে সেনাযানে চড়ে ব্যারাকে ফিরছিল, তখন বিক্ষোভকারীরা ফুল ছিটিয়ে তাদের অভিনন্দন জানান। হর্ষধ্বনি দিয়ে সেনাসদস্যদের ধন্যবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধানমন্ত্রী সাথেপ থাউগসুবান বলেছেন, সংঘাত এড়ানোর স্বার্থে সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের কাছে নতি স্বীকার নয়; বরং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার কৌশল হিসেবে তাঁরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে বিক্ষোভকারীদের নেতা আসিম্যান পোংরুংরং বলেছেন, তাঁরা সেনাবাহিনীকে হটিয়ে দেওয়ার জন্য এসেছেন এবং সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, এটি তাদের এবং থাইল্যান্ডের দরিদ্র কৃষকের প্রাথমিক বিজয়। সরকারের পতন ঘটিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘরে ফিরবেন না।
এদিকে বিদেশে আত্মগোপনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা প্রতিদিনই ভিডিওবার্তার মাধ্যমে সরকারবিরোধী আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন দেওয়া না হলে তিনি সমর্থকদের আইন ভঙ্গ কর্মসূচি হাতে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ডলারের বিপরীতে টাকা স্থিতিশীল

দেশে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে গত সপ্তাহে আমদানিজনিত চাহিদা কমায় মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্থানীয় টাকার বিনিময় হার ছিল মোটামুটি স্থিতিশীল। সপ্তাহের শুরুতে প্রতি ডলার ৬৯ টাকা ২৪ পয়সায় লেনদেন হয়, যা সপ্তাহশেষে দাঁড়ায় ৬৯ টাকা ২৫ পয়সায়। তবে সপ্তাহের বেশির ভাগ সময়ই আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের পর্যাপ্ত জোগান দেখা গেছে।
ইউরোপের একক মুদ্রা ইউরোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধি কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে গত সপ্তাহে। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম হারে হ্রাস পেয়েছে। যে কারণে জাপানি ইয়েনের বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার কিছুটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে সপ্তাহের প্রথমে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে গ্রিসের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কোনো মৌলিক সমাধান না হওয়ায় আলোচ্য সপ্তাহে (২০ থেকে ২৬ মার্চ) ইউরোর দর সুইস ফ্রাঙ্কসহ বিভিন্ন মুদ্রার বিপরীতে পড়ে যায়। গত বুধবার প্রায় সব কয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলার কিছুটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
গত বৃহস্পতিবার প্রতি ইউরোর বিনিময় হার ১ দশমিক ৩৩ ডলারে চলে যায়, যা ছিল গত ১০ মাসের মধ্যে ডলারের বিপরীতে ইউরোর সর্বনিম্ন বিনিময় হার। যা হোক, সপ্তাহশেষে প্রতি ইউরো ১ দশমিক ৩৪১৪ ডলার, প্রতি পাউন্ড স্টার্লিং ১ দশমিক ৪৯০৫ ডলার ও প্রতি ডলার ৯২ দশমিক ৫৩ ইয়েনে লেনদেন হয়।

আর্থিক খাত নিয়ে রোড শোর বহর চট্টগ্রামে

আর্থিক খাত নিয়ে রোড শোর বিশাল গাড়িবহর গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছে। ‘উন্নয়নের যাত্রা: টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া’—এই স্লোগানে গত শুক্রবার টেকনাফ থেকে এই রোড শো শুরু হয়। চট্টগ্রামের উডল্যান্ড পার্কে রোড শোর বহর এসে পৌঁছালে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সেখানে মেলা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আর্থিক খাতের চারটি বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এ কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই চারটি বিষয় হচ্ছে: কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অর্থায়ন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন নিয়ে সচেতনতা তৈরি এবং বিদেশ থেকে প্রবাসী-আয় বৈধপথে দেশে পাঠানোকে উৎসাহিত করা।
এর আগে গতকাল সকালে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে রোড শোর গাড়িবহরকে স্বাগত জানায় পথচারীরা। চট্টগ্রামের পথে চকরিয়ায় সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সোনালী ব্যাংক আয়োজিত ঋণ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেয় রোড শোর বহর।
চকরিয়া: এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান চকরিয়ায় কৃষি ও লবণ শিল্পনগরী গড়ে তুলতে ঋণ সহায়তা দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেন। সবজি গুদামজাত করে কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে জন্য চকরিয়ায় হিমাগার নির্মাণে সোনালী ব্যাংক থেকে ঋণ সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি। দেশের সিংহভাগ লবণ উৎপাদন এলাকা চকরিয়ায় লবণের গুদাম তৈরিতে প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
সোনালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) প্রদীপ কুমার দত্তের সভাপতিত্বে এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিচালক সুভাষ চন্দ্র সিংহ রায়, সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ, উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন।
চট্টগ্রাম: চকরিয়া থেকে রোড শোর বহর চট্টগ্রামের উডল্যান্ড পার্কে মেলা ও আলোচনা সভায় যোগ দেয়। এই অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেয় ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড। মেলায় ৩২টি স্টলে বিভিন্ন ব্যাংক নিজেদের সেবা দর্শনার্থীদের মাঝে তুলে ধরে।
আলোচনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহমান সরকার। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুচ ছালাম। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এন্টি মানি লন্ডারিং বিভাগের প্রধান মাহফুজুর রহমান, এবি ব্যাংকের এমডি কাইজার এ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. নওশাদ আলী চৌধুরী প্রমুখ।
রোড শোর বহর তেঁতুলিয়ার উদ্দেশে আজ রোববার চট্টগ্রাম ছেড়ে যাবে। পথে ফেনীতে সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

ঋণমান নির্ণয়ের বিষয়ে ক্রিসেলের আলোচনা সভা

চট্টগ্রামের একটি ক্লাবে সম্প্রতি ক্রেডিট রেটিং তথা ঋণমান নির্ণয়ের বিষয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (ক্রিসেল) চট্টগ্রাম শাখা অফিস এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
চট্টগ্রামে ব্যবসায়রত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের আঞ্চলিক প্রধান ও শাখা ব্যবস্থাপকেরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
‘ব্যাসেল-২’ শীর্ষক কার্যক্রম সম্পর্কে চট্টগ্রামের ব্যাংকারদের ধারণা দেওয়াই ছিল অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে ক্রিসেলের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুজাফফর আহমেদ ব্যাংক-ঋণের মূলধনের পর্যাপ্ততা ও এর পরিপূর্ণতা সম্পর্কে ব্যাংকারদের অবহিত করেন এবং ঋণ ও ঋণসংক্রান্ত ব্যাংক ঝুঁকির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্রিসেলের পরিচালক এ কে চৌধুরী ও মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

ব্র্যাক ব্যাংকের ৩০% বোনাস শেয়ার অনুমোদন

ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড ২০০৯ সালের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩০ শতাংশ বোনাস শেয়ার অনুমোদন করেছে।
ঢাকায় গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ১১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়।
সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ (রুমী) আলী সভাপতিত্ব করেন। এতে ব্যাংকের পরিচালকদের মধ্যে কাজী মো. শরিফুল আলা, শিব নারায়ণ কৈরী, তামারা হাসান আবেদ, হাফিজ জি এ সিদ্দিকী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মুহায়মেন ও কোম্পানি সচিব রেইস উদ্দীন আহ্মাদ উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ এ (রুমী) আলী সভায় জানান, ২০০৯ সালে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালন মুনাফার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আলোচ্য বছরে এ ব্যাংক ১৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকার কর-পরবর্তী মুনাফা অর্জন করে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি।
বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংকের ৬৯টি শাখা, ৫৯টি এসএমই সেলস অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টার, ১৭৯টিরও বেশি এটিএম বুথ, ৪২৯টি এসএমই ইউনিট অফিস এবং সাত হাজারেরও অধিক কর্মী রয়েছে। কার্যক্রম শুরুর মাত্র আট বছরে ব্র্যাক ব্যাংক দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) নিজস্ব অবস্থান সুদৃঢ় করেছে এবং প্রতিনিয়ত রিটেইল, করপোরেট, এসএমই ও প্রবাসী প্রভৃতি ক্ষেত্রে সেবা বিস্তার করে চলেছে।

এডিপি বাস্তবায়নে আইএমইডিকে শক্তিশালী করার প্রস্তাব by ফখরুল ইসলাম

প্রকল্পের দুর্নীতি রোধ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) যথাযথ বাস্তবায়নে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগকে (আইএমইডি) শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আইএমইডির এ সংক্রান্ত সুপারিশ প্রতিবেদন সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আইএমইডির বিদ্যমান জনবল তিন গুণ বাড়ানো, সাত বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে আইএমইডির কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ৪০টি নতুন বিভাগীয় প্রধানের পদ সৃষ্টি এবং ২১ বৃহত্ জেলা পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ ইউনিট ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক স্থাপনা (আইটি সেট-আপ) তৈরির সুপারিশ এতে রয়েছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকারের অনুমোদনে আইএমইডির এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হয়েছে ১৬ মার্চ। বর্তমানে আইএমইডির মঞ্জুরিকৃত পদ ২৭০। নতুন প্রস্তাবনায় প্রথম শ্রেণীর ১৪৭, দ্বিতীয় শ্রেণীর ৪০, তৃতীয় শ্রেণীর ২০২ এবং চতুর্থ শ্রেণীর ২৩০ অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৬১৯ পদ বাড়ানোর কথা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভায় অনুমোদিত হলে আইএমইডির মোট জনবল হবে তখন ৮৮৯।
সরকার মনে করছে, দুর্বল আইএমইডির কারণে উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ দুর্বলতার অন্যতম দিক হলো বিভাগটির জনবল সংকট। জনবলের অভাবে শুধু দুর্নীতি রোধ করা যাচ্ছে না তা নয়, অপচয় হচ্ছে সরকারি সম্পদেরও।
এডিপি বাস্তবায়নের স্বার্থে আইএমইডিকে শক্তিশালী করতে গত বছরের মাঝামাঝি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বলা হয়, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ধারায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রমের বিশেষ অবদান রয়েছে। আর প্রকল্প বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়া ফলপ্রসূ ও কার্যকর করার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আইএমইডি। বিভাগটির কার্যক্রম বিজ্ঞানভিত্তিক, আধুনিক ও বাস্তবসম্মত হওয়া একান্ত প্রয়োজন।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এডিপিতে বরাদ্দকৃত অর্থের কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ, দুর্নীতি ও সম্পদের অপচয় রোধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নের সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছাতে আইএমইডিকে শক্তিশালী করা জরুরি।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইএমইডিকে শক্তিশালী করার নির্দেশনা দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ নির্দেশনার পর আইএমইডির প্রধান খোদেজা বেগমের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি যে সুপারিশ প্রতিবেদন তৈরি করেছে, সেটাই সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে।
সুপারিশগুলো হচ্ছে—সচিবসহ প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি পরিহার করা এবং বিভাগে তাঁদের মেয়াদকাল কমপক্ষে তিন বছর করা, শূন্যপদ পূরণ করা, সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) কার্যক্রমের সঙ্গে প্রকল্প চক্রের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ প্রকল্প বাস্তবায়নের সমন্বয় করা, পরিবীক্ষণের জন্য সার্বক্ষনিক ছয়টি জিপ গাড়ির সংস্থান, ফলাফলভিত্তিক পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা ইত্যাদি।
আইএমইডি সূত্র জানায়, চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির আগে আরও দুটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিল উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি। প্রতিবেদন তিনটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রথম প্রতিবেদনে আইএমইডিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে আনার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় প্রতিবেদনে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয় বিষয়টিকে।
দ্বিতীয় প্রতিবেদনে ঢাকার বাইরে পর্যবেক্ষণ কার্যালয় স্থাপনের কোনো বিষয়ও উল্লেখ করা হয়নি। তৃতীয় প্রতিবেদনে ঢাকার বাইরে পর্যবেক্ষণ কার্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে, কিন্তু উপেক্ষা করা হয়েছে আইএমইডিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে নিয়ে আসার চিন্তাটি। অন্য সুপারিশগুলো রয়েছে তিন প্রতিবেদনেই।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দুর্নীতির সঙ্গে আইএমইডির একশ্রেণীর কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকায় কোনোক্রমেই বিভাগটি নিজে থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে যেতে চায় না।

Sunday, March 28, 2010

ঋণে জর্জরিত গ্রিসকে যুদ্ধজাহাজ কেনার চাপ দিচ্ছে ফ্রান্স-জার্মানি

ঋণে জর্জরিত ইউরোপের দেশ গ্রিসকে যুদ্ধজাহাজ ও বিমান কেনার জন্য চাপ দিচ্ছে ফ্রান্স ও জার্মানি। এ জন্য প্রয়োজনে গ্রিসকে সরকারি ব্যয় কমানোর কথাও বলেছে তারা।
গ্রিসের সরকারি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, অর্থনৈতিক মন্দার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বার্লিন ও প্যারিস অস্ত্র কিনতে এথেন্সকে চাপ দিচ্ছে। ঋণে জর্জরিত হয়ে গ্রিস যখন নিজের প্রতিরক্ষা ব্যয় কমাতে চাইছে, তখন তাদের ওপর এই চাপ আসছে। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপানদ্রুর একজন উপদেষ্টা বলেন, ‘জার্মানি ও ফ্রান্স আমাদের সরাসরি অস্ত্র কেনার কথা বলছে না। কিন্তু বিষয়টা এমন যে অস্ত্র কিনলে তারা আমাদের অর্থনৈতিক সহায়তা দেবে।’ কূটনৈতিক কারণে নাম প্রকাশ করতে চাননি প্রধানমন্ত্রীর ওই উপদেষ্টা।
ফ্রান্স ছয়টি রণতরী, ১৫টি হেলিকপ্টার ও ৪০টি যুদ্ধবিমান কেনার জন্য চাপ দিচ্ছে গ্রিসকে। দুই দেশের কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টির সঙ্গে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি ব্যক্তিগতভাবে জড়িত। দেশের অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় সহায়তার জন্য গত মাসে ফ্রান্স সফর করেন গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপানদ্রু। তখন দুই নেতার মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা।
এদিকে জার্মানিও একটি ডুবোজাহাজ কেনার জন্য এথেন্সকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে। এর আগে গ্রিস ২০০৬ সালে ওই ডুবোজাহাজ কিনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সংস্থার সাবেক প্রধান নিক উইটনি বলেন, ঋণগ্রস্ত দেশ গ্রিসকে সহায়তা দিতে এটা এক ধরনের হাস্যকর পন্থা। তবে তিনি জার্মান কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলেন, এর আগে জার্মানির কাছ থেকে ট্যাংক কেনার পর অর্থ পরিশোধে ঝামেলা করেছিল গ্রিস। এ কারণে বার্লিন এমন করছে।
তবে গ্রিসের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী পানোস বেগলিটিস এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ট্যাংক কেনা নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করতেই কিছুটা সমস্যা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর কোনো ঝামেলা হয়নি। তিনি অবশ্য গ্রিসের মন্দার সুযোগ নিয়ে জার্মানি ও ফ্রান্সের অস্ত্র কিনতে এথেন্সকে চাপ দেওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন।

ওবামার স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার নীতির বিজয় পররাষ্ট্রনীতিকে শক্তিশালী করবে

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাম্প্রতিক বিজয় তাঁর পররাষ্ট্রনীতিকেও শক্তিশালী করবে বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা। গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার বিলে সই করার পর ডজনখানেক বিদেশি সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধান ওবামাকে টেলিফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ থেকেই বোঝা যায় যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়টি নিয়ে বিদেশি নেতারা কতটা মনোযোগী ছিলেন।
তবে ওবামার উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তাঁর এত বড় বিজয় অর্জনের পর আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না বরং কিছুটা সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, আগামী বছরগুলোতে আরও বেশিসংখ্যক মার্কিন নাগরিক স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আসবে—শুধু এই কারণে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করবে না অথবা উত্তর কোরিয়াও আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আগ্রহ দেখাবে না।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ওবামার প্রথম বছরটি কেটেছে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে। তবে এই এক বছরে দেশে ও দেশের বাইরে বেশ কিছু নীতিগত জয় ওবামার অভ্যন্তরীণ নীতি বাস্তবায়ন ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে গতি সঞ্চার করবে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা স্টিফেন হ্যাডলি বলেন, এই বিজয় ওবামার অভ্যন্তরীণ নীতি বাস্তবায়নে সাহায্য করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই বিজয় ওবামার রাজনৈতিক শক্তি প্রমাণ করেছে এবং তাঁর সঙ্গে আলোচনার সময় বিষয়টি মাথায় রাখবেন বিদেশি নেতারা।
ওবামার জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপ-উপদেষ্টা বেন রোডস বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কার নিয়ে ওবামার দীর্ঘ লড়াই তাঁর বক্তৃতাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও অন্যান্য পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতিকে এখন অনেক বেশি অর্থপূর্ণ করে তুলবে। স্বাস্থ্যসেবা বিল নিয়ে বিজয় নেতা হিসেবে প্রেসিডেন্ট ওবামার গুরুত্ব সম্পর্কে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে সবাইকে।’
রোডস আরও বলেন, ‘ওবামা সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে, তিনি বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেন কিন্তু তা বাস্তবায়ন করেন না। এই সমালোচনার সবচেয়ে বড় জবাব স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কারনীতিতে বিজয়।’
তবে পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে এই বিজয়ের প্রভাব এত অল্প সময়ের মধ্যে নজরে আসবে না। মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে অগ্রগতি থমকে থাকলেও পরমাণু অস্ত্র হ্রাস করা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। গত সপ্তাহে অধিকৃত অঞ্চলে বসতি স্থাপন নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ওবামার দুবারের বৈঠক থেকে কোনো ইতিবাচক ফল বেরিয়ে আসেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরমাণু অস্ত্র হ্রাস করা নিয়ে দুই দেশ একটি যৌথ ঘোষণা দেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। কয়েকজন বিশ্লেষক বলেছেন, ওবামার অভ্যন্তরীণ নীতির সাফল্য ও ব্যর্থতাকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে রাশিয়া।

বাবরি মসজিদ ধ্বংসে সমর্থকদের উসকে দেন আদভানি

‘ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করতে সমর্থকদের উসকে দিয়েছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর এক বক্তৃতায় তিনি মসজিদের জায়গাতেই মন্দির নির্মাণের ঘোষণা দেন। এরপর মসজিদে হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করা হয়।’
গতকাল শুক্রবার ভারতের পুলিশ বাহিনীর (আইপিএস) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আনজু গুপ্ত আদালতে এ কথা বলেন। বর্তমানে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ে (আরএডব্লিউ) কর্মরত আনজু ওই সময় বিজেপির নেতা আদভানির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা ছিলেন।
আনজু গুপ্ত আদালতে বলেন, ‘বিজেপির নেতা আদভানিকে ফৈজাবাদ সীমান্তে আমি অভ্যর্থনা জানাই। তাঁকে বাবরি মসজিদ থেকে মাত্র দেড় শ মিটার দূরে রামকথা কুঞ্জে নেওয়া হয়। ওই সময় কালরাজ মিশ্র, মুরলি মনোহর যোশি, উমা ভারতী, বিনয় কাতিয়ার, গিরিরাজ কিশোর, অশোক সিংহল ও প্রমোদ মহাজনসহ দলটির অনেক নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।’
আদভানি তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, বাবরি মসজিদের জায়গাতেই মন্দির নির্মাণ করা হবে। এ সময় বিজেপির নেতা বিনয় কাটিয়ত উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে উপস্থিত সবাইকে খেপিয়ে তোলেন। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘সমথর্করা’ মসজিদ ধ্বংস করতে এগিয়ে যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে গতকাল আদালত আনজু গুপ্তের বিবৃতি রেকর্ড করেন।

ছাত্রলীগকে হতে হবে ছাত্রদের লীগ by আব্দুল কাইয়ুম

আপনি যদি কোনো গুরুতর ব্যাপারে কথা দিয়ে কথা না রাখেন, তাহলে সমাজে হেয় হতে হবে। এটা রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেও খাটে। যদি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল প্রতিশ্রুতির খেলাপ করে, তাহলে তো ছি ছি পড়ে যাওয়ার কথা। ঠিক এ রকমই এক লজ্জাজনক ব্যাপার ঘটে চলেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এই সেদিন নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন করিয়েছে এই বলে যে ছাত্রদের মধ্যে তাদের কোনো অঙ্গসংগঠন থাকবে না; অথচ এর পর থেকে মনে হচ্ছে, অঙ্গসংগঠন ছাড়া বোধহয় তাদের আর কিছু নেই। সম্মেলন থেকে শুরু করে সন্ত্রাসী ঘটনায় সাংসদ ও দলীয় নেতাদের সম্পৃক্ততা এত বেশি যে নির্বাচন কমিশনের পক্ষেও নিশ্চুপ থাকা কঠিন। তারা চিঠি দিয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেছে। এখন রাজনৈতিক দলগুলো কী বলবে?
তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম দাবি করেছেন যে ছাত্রলীগ তাঁদের একটি ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন, অঙ্গসংগঠন নয়। এটা সত্যের অপলাপ। আওয়ামী লীগ এখনো ছাত্রলীগকে তাদের আজ্ঞাবহ একটি সংগঠন হিসেবে ব্যবহার করছে এবং তাদের আদেশ অনুযায়ীই ছাত্রলীগ চলছে। সম্প্রতি ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবু বকর সিদ্দিক নিহত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই ঘটনার কারণ বের করা ও করণীয় নির্ধারণে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ দুজনকে দায়িত্ব দেন। এরই ভিত্তিতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁরা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রশ্ন হলো, ছাত্রলীগের সঙ্গে তো আওয়ামী লীগের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক থাকার কথা নয়। কোন এখতিয়ারে তাঁরা গেলেন সেখানে? আর প্রধানমন্ত্রী নিজে কীভাবে মন্ত্রী-নেতাদের সেখানে পাঠালেন? এরপর আওয়ামী লীগ কি দাবি করতে পারে যে ছাত্রলীগ নিজেদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চলছে? তারা স্বাধীন?
ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী ঘটনায় যদি মন্ত্রী মীমাংসা করতে যান, তাহলে পুলিশ কি কোনো আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস পাবে? আবু বকর সিদ্দিক হত্যার ঘটনা তো ইতিমধ্যেই প্রায় ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন অভিযুক্তকে জেলখানায় পাঠিয়ে এবং তাদের কয়েকজনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেই যথেষ্ট দায়িত্ব পালন করা হয়েছে বলে তাঁরা ধরে নিয়েছেন।
সম্প্রতি যশোরে ছাত্রলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতা ও জেলা ছাত্রলীগের নেতা রিপন হোসেনকে হত্যার পেছনে আওয়ামী লীগের দুই নেতার দ্বন্দ্ব কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একদিকে দলীয় নেতা খালেদুর রহমান টিটো, অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের জোট। তাঁদের মধ্যে দলীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই চলছে, আর প্রাণ দিতে হচ্ছে ছাত্রলীগের নেতার। উভয় পক্ষই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ ও মাদক ব্যবসার মতো অবৈধ বাণিজ্যের বখরা আদায়ে একক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অভিযোগ রয়েছে যে তাঁরা এসব অনৈতিক ও অপরাধমূলক তৎপরতায় ছাত্রলীগকে ব্যবহার করেন এবং তাই অনুগত ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে আনার জন্য খুনোখুনি করতেও তাঁরা দ্বিধা করছেন না। এগুলো কোনো মনগড়া অভিযোগ নয়। যশোর আওয়ামী লীগের নেতারাই প্রকাশ্যে এসব আলোচনা করছেন। পত্রিকায়ও এসব কাহিনী বেরিয়েছে।
আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায়। তাই ছাত্রলীগের সহিংস ঘটনা বড় হয়ে সামনে আসছে। ছাত্রদল তুলনামূলকভাবে নিশ্চুপ। কারণ নির্বাচনে বিপুল পরাজয়ের পর তারা এক কথায় নির্জীব হয়ে পড়েছে। যদি ছাত্রদলের সঙ্গে বিএনপির সম্পৃক্ততা না থাকত, তাহলে নির্বাচনের ফলাফল তো তাদের ওপর খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারত না। হয়তো বিএনপি দুর্বল হয়ে পড়ত, কিন্তু ছাত্রদল মাঠে থাকতে পারত। আজ ছাত্রদলের নির্জীব অবস্থান প্রমাণ করে যে তারাও বিএনপির কার্যত অঙ্গসংগঠন হিসেবেই চলছে। বিএনপির উত্থান-পতনের সঙ্গে তাদের ভাগ্যও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। অবশ্য অঙ্গসংগঠন না রাখার বিষয়টি এসেছে সম্প্রতি। এর আগে ছাত্রদল ছিল ঘোষিতভাবে বিএনপির অঙ্গসংগঠন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৬ সালে রাজনৈতিক দলবিধি (পিপিআর) আইনে সব দলের ছাত্র ও অন্যান্য সংগঠনকে অঙ্গসংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করতে হয়েছে। তখন যুক্তি দেখানো হয়েছিল যে রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্র ও অন্যান্য সংগঠনের কার্যকলাপের পূর্ণ দায়দায়িত্ব না নিলে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। বিশেষভাবে ছাত্র সংগঠনের ব্যাপারে জিয়াউর রহমান অতিমাত্রায় সতর্ক ছিলেন। কারণ ছাত্ররা সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার। তাই তাদের দায়দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের ঘাড়ে চাপানো হয়।
রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ছাত্র সংগঠন আগেও সম্পর্ক রাখত, কিন্তু সেটা ছিল মূলত আদর্শগত। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছাত্রলীগ, ন্যাপ-সিপিবির সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়নের সম্পর্ক ছিল সর্বজনবিদিত। কিন্তু সংগঠন হিসেবে তারা ছিল অলাদা। কোনো ছাত্র সংগঠন তাদের সম্মেলনে বা অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের আমন্ত্রণ জানাত না। জিয়াউর রহমানের আইনের ফলে সংগঠন আর দল একাকার হয়ে গেল। ছাত্রলীগের অফিস নিউমার্কেটের কাছে বলাকা ভবন থেকে সোজা আওয়ামী লীগ অফিসে চলে গেল। স্বয়ং সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের আমন্ত্রণে মেধাবী শিক্ষার্থীদের হিজবুল বাহার জাহাজে করে সমুদ্র ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া হলো। এধরনের প্রমোদ ভ্রমণের আয়োজন চললো আরো কয়েক বছর। তারপর শুরু হলো তাদের দলে ভিড়ানোর পালা। এদেরই উত্তরসূরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র ক্যাডার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। দলীয় ছাত্র সংগঠনের নেতাদের চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।
বিগত বিএনপি সরকারের সময়, ২০০২ সালের ৮ জুন ব্যুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের ক্যাডারদের দুই প্রতিপক্ষ গ্রুপ টেন্ডার ছিনতাইয়ের জন্য বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। গোলাগুলির মধ্যে পড়ে দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী সাবিকুন্নাহার সনি নিহত হন। সে সময় খুনি চক্রের বিরুদ্ধে যে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি, তার কারণ ওই দলীয় সম্পৃক্ততা। ক্ষমতাসীন বিএনপি বহু দিন পর্যন্ত অভিযুক্ত খুনিদের প্রশ্রয় দিয়েছে। এরপর মাসখানেক না যেতেই, ২৩ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে সিট দখলের জন্য ছাত্রদলের নেত্রীরা ছাত্রলীগের কর্মী ও সাধারণ ছাত্রীদের ওপর সহিংস হামলা চালায়। এ কাজে বিএনপির নেতাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে রাতের বেলায় পুলিশ ছাত্রীদের হলে ঢুকে নির্যাতন চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় সেদিন রচিত হয়।
দলীয় সম্পৃক্ততার এসব ভয়াবহ পরিণতি এড়ানোর জন্যই ২০০৯ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনকে মূল রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন না রাখার বিধান করা হয়েছে। বিএনপি সেটা মেনেও নিয়েছে। এরপর এটাই স্বাভাবিক যে তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। কিন্তু তারা তো আগের ধারাতেই চলছে। এমনকি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সম্প্রতি এক সমাবেশে ছাত্রদলকে বিএনপির সংগঠন বলে উল্লেখ করেছেন। যদি অভ্যাসবশে বলে থাকেন, তাহলে তো পরে কোনো উপলক্ষে সেটা উল্লেখ করা যেত। কিন্তু সেটা করা হয়নি। তাতে মনে হয় বিএনপি সচেতনভাবেই ছাত্রদলকে নিজেদের সঙ্গে জড়িয়ে রাখছে। নানা ঘটনায় এই মনোভাব প্রকাশও পাচ্ছে। বিগত ১৭ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদলের বর্ধিত সভা উদ্বোধন করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খালেদা জিয়া ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্র ছাড়া অন্য কাউকে না রাখা, বয়স্কদের স্থান না দেওয়া প্রভৃতি বিষয়ে নীতিনির্ধারণী বক্তব্য দেন এবং পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে ছাত্রদলের একটি স্থায়ী গঠনতন্ত্র করার ‘নির্দেশ’ দেন। প্রশ্ন হলো, একটি স্বাধীন সংগঠন কীভাবে চলবে, সে ব্যাপারে নির্দেশ কেন খালেদা জিয়া দিচ্ছেন? বিএনপির গঠনতন্ত্রে তো ছাত্রদলকে অঙ্গসংগঠন হিসেবে রাখা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া দেশের মূল নেতা। ছাত্র সংগঠন ও ছাত্রনেতাদের ভালোর জন্যই তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। শুধু মুখের কথায় নয়, বাস্তব ক্ষেত্রেও ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে দলের সমস্ত সংশ্লিষ্টতা ত্যাগ করা উচিত। প্রথম কাজ হবে নিজেদের দূরে রাখা। ছাত্র সংগঠনের সম্মেলন বা সভায় তাঁরা যাবেন না। কোনো নেতা বা মন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর আদেশ দিতে হবে। ছাত্রনেতাদের ওপর দলীয় মন্ত্রী-নেতাদের প্রভাব বিস্তারের যেকোনো অপচেষ্টাকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ হিসেবে গণ্য করে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশ্ন হলো তাঁরা নিজেরা সরে দাঁড়াতে কতটা প্রস্তুত? নিজেরা সরে না দাঁড়ালে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া যাবে না।
ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মতো সংগঠনগুলো অবশ্যই থাকবে, কিন্তু ছাত্রলীগ হবে কার্যত ‘ছাত্রদের লীগ’ আর ছাত্রদল হবে ‘ছাত্রদের দল’। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই সরল সমীকরণটি মানতে রাজি কি না, তার ওপর নির্ভর করছে ভবিষতে ছাত্র সংগঠন অতীতের গৌরবোজ্জ্বল ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে পারবে কি পারবে না।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।