Tuesday, July 2, 2013

সাম্রাজ্যবাদীদের কৌশল পরিবর্তন by নুরুল ইসলাম বিএসসি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এমন এক সময় জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছেন, যখন আওয়ামী লীগ অস্তিত্বের লড়াইয়ে গাজীপুর নির্বাচনে প্রাণপণ লড়ছে। এর আগেও এই সাম্রাজ্যবাদীরা পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক নাটক করেছে, যাতে করে সরকারের ভিত নড়বড়ে হয়। আমরা লক্ষ্য করেছি, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেন মজিনা ছয়-সাত মাস আগেও গ্রামগঞ্জে ঘুরে নানা মন্তব্যসহ এ দেশের ভালোমন্দের দিকগুলো নিয়ে আলাপ করতেন। রাষ্ট্রদূতের মতামত ছাড়া মার্কিন প্রশাসন কোনো বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়নিÑ এ কথা ধরে নিয়ে বলা যায়, মার্কিনিরা মনে করছেন, এ সরকারের ভবিষ্যৎ ভালো নয়। মার্কিনিদের কথামতো এই সরকার চলে না। সুতরাং সময় ফুরিয়ে গেছে। মার্কিনিদের স্বার্থ উদ্ধারে এই সরকার টুলসের কাজ করবে না ভেবেই হঠাৎ করে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে। মার্কিনিরা যেখানে গেছে, নিজেদের স্বার্থ ছাড়া এক পাও এগোয়নি। ড. ইউনূসকে নিয়ে মার্কিনিদের গোস্বা। ড. ইউনূসের ব্যাপারে সরকারকে সম্মত করাতে ব্যর্থ মার্কিনিরা শেষ পর্যন্ত সরকারকে আঘাত করার মানসে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছে। পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী জিএসপি সুবিধা স্থগিতের বিষয়ে বেগম জিয়ার একটি চিঠি প্রদর্শন করেছেন। তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি, বিএনপির কাঁধেই ভর করে মার্কিনিরা তাদের স্বার্থ উদ্ধারে বেগম জিয়াকে ক্ষমতায় দেখতে চায়? বেগম জিয়ার চিঠি ও মার্কিনিদের অ্যাকশন একই হওয়ার কারণে সন্দেহটা আরও দৃঢ় হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে মার্কিন ব্যবসায়ীরা যে গার্মেন্ট পণ্য কেনে, তা বিশ্বের কোনো দেশ এত সস্তায় দিতে পারার কথা নয়। গার্মেন্ট মালিকরাও যে খুব বেশি লাভ করেন তাও নয়। যেখানে একটা শার্টের দাম মার্কিন বাজারে ৫০-৬০ ডলার, সেখানে তারা বাংলাদেশ থেকে ওটা কেনে মাত্র ৩-৪ ডলারে। কত গুণ লাভ করে, চিন্তা করুন। চীন, ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশ গার্মেন্ট পণ্য রফতানি করে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও ভারত। এ দুই দেশ দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশের গার্মেন্ট কারখানাগুলো নিয়ে বিশ্বে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। উদ্দেশ্য একটাই, বাজার দখল। এই অপপ্রচারের শিকার বাংলাদেশ। জিএসপি সুবিধা স্থগিত করলেও গার্মেন্ট রফতানিতে খুব একটা আঁচর পড়ার কথা নয়। বিশ্বে এমন একটি দেশ পাওয়া যাবে না, যেখানে এত সস্তায় গার্মেন্ট পণ্য পাওয়া যায়। তদুপরি ভৌগোলিক অবস্থানের বিচারে বাংলাদেশ একটি উৎকৃষ্ট স্থান। যেখানে রফতানি সুবিধাসহ সবরকম সুবিধা বিদ্যমান। সুতরাং গার্মেন্টে জিএসপি সুবিধা স্থগিত কোনো ব্যাপারই নয়। চীন কি রফতানি করছে না, বা যেসব দেশ জিএসপি সুবিধা ভোগ করে না, তারা কি রফতানি করছে না? অযথা এটা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে সময় নষ্ট না করে আরও নতুন বাজার সৃষ্টি করার প্রয়াস চালালে ভালো হয়।
অস্ট্রেলিয়ার কেমার্টসহ বড় বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে দেখলাম বাংলাদেশী বস্ত্রে ভর্তি। ক্রেতারাও কিনছেন। হাইকমিশনারের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ায় গার্মেন্ট পণ্য রফতানির পরিমাণ ১৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের মার্কেটগুলোকে ধরে রাখতে হবে। এমনিতে আমাদের উৎপাদনের ছোট একটি অংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়। মার্কিনিরা যেখানে তাদের কথা শোনা হয় না, সেখানেই নানা কৌশলের আশ্রয় নেয়। মিয়ানমারে এরা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। কাজ হয়নি। মিয়ানমার সরকারকে এক ইঞ্চিও নড়াতে পারেনি। বরং ভারত ও চীন মিয়ানমারে তাদের অবস্থান একচেটিয়া করেছে। সম্প্রতি কিছু করতে ব্যর্থ হয়ে স্বয়ং ওবামা সেখানে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন।
আমি আবার বলছি, জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। মার্কিনিরা তাদের স্বার্থেই এদেশ থেকে গার্মেন্ট পণ্য কিনবে। এত সস্তা শ্রমিক পৃথিবীর কোনো দেশেই নেই। তদুপরি মানের দিক থেকেও আমাদের দেশের গার্মেন্ট যে কোনো উন্নত দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় র‌্যাংকিংয়ে থাকে। আমাদের গার্মেন্ট কর্মীরা অত্যন্ত দক্ষ। এখান থেকে গার্মেন্ট কর্মী নিতে অনেক দেশের আগ্রহ দেখা গেছে। সুতরাং চিন্তার কোনো কারণ নেই। ক্রেতারা নিশ্চয়ই জিএসপি সুবিধা না পেলেও এদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না। টাকাই বড়, বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাত থেকে বায়াররা কোটি কোটি ডলার আয় করেন। কেউ নিজের স্বার্থ ত্যাগ করেন না।
নুরুল ইসলাম বিএসসি : সংসদ সদস্য ও কলাম লেখক

বিকল্প জ্বালানির উৎস সন্ধানে by হাসান কামরুল

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দুষ্প্রাপ্যতা ও মূল্যবৃদ্ধির ফলে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব লক্ষণীয়। এ ছাড়া জীবাশ্ম তেলের চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধির ফলে এর মজুদও ধীরে ধীরে কমে আসছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মজুদ আগামী এক শতকের মধ্যেই প্রায় শূন্যের ঘরে নেমে আসবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের উদ্যোগ নিতে হবে। বর্তমানে দেশে গ্যাস মজুদও আশাব্যঞ্জক নয়। এসব কারণে বিকল্প জ্বালানির উৎস অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানির উৎস হিসেবে নবায়নযোগ্য জাট্রোফা থেকে বায়োডিজেল উৎপাদন দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বায়োডিজেল বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ও বহুল আলোচিত একটি বিষয়। জাট্রোফা থেকে বায়োডিজেল উৎপাদনের সম্ভাব্যতা, বায়োডিজেল তৈরিতে ব্যবহƒত গাছের প্রজাতি, জাট্রোফা প্রজাতির চাষ পদ্ধতি, চারা সংগ্রহ, ফল সংগ্রহ ও ফল থেকে তেল উৎপাদনের পদ্ধতি, উৎপাদিত তেলের বাজারজাতকরণ ও নীতিনির্ধারণ করা প্রয়োজন। ইতিমধ্যে জাট্রোফা থেকে বায়োডিজেল উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ২০০৬ সালে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। কমিটি ২০০৭ সালে তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে দাখিল করলেও অদ্যাবধি এ বিষয়ে সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। অথচ জাট্রোফা থেকে বায়োডিজেল পরিবেশসম্মত উপায়ে উৎপাদন করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চেহারা পাল্টে দেয়া সম্ভব। উদ্ভিদ হিসেবে জাট্রোফা বাংলাদেশে নতুন নয়। প্রাচীনকাল থেকেই এ উদ্ভিদ যত্রতত্র জায়গা। বাংলাদেশে এটা ‘সাদা মান্দার’ হিসেবে পরিচিত। জাট্রোফার বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে : জাট্রোফা কারকাস, পুনগাম, জজবা, কুসুম, মহুয়া, নিম, সাল ও সিমারওবা অন্যতম। বাংলাদেশের বায়ু, মাটি, আবহাওয়া জাট্রোফা উৎপাদনের সহায়ক। জাট্রোফার আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকায়। উষ্ণমণ্ডলীয় উদ্ভিদ হিসেবে এশিয়া ও আফ্রিকায় এটি প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়। স্বল্প উচ্চতাবিশিষ্ট এ উদ্ভিদ সাধারণত তিন থেকে পাঁচ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। জাট্রোফার প্রতিটি গাছে ৮শ’ থেকে ৯শ’ ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি ফলে ৩ থেকে ৪টি বীজ হয়। প্রতিটি বীজের ওজন শূন্য দশমিক ৮ গ্রাম থেকে ১ গ্রাম। সে হিসাবে প্রতিটি গাছ থেকে বছরে গড়ে ৪ থেকে ৫ কেজি ফল পাওয়া যায়।
জাট্রোফার চারাগুলো প্রতি ২ থেকে ২ দশিক ৫ মিটার দূরত্বে রোপণ করলে প্রতি হেক্টরে ১০ থেকে ১২ টন বীজ পাওয়া যায়। প্রতিটি শুকনা বীজ থেকে ৩০-৪০ শতাংশ বায়োডিজেল পাওয়া যায়। সে হিসাবে প্রতি হেক্টরে প্রায় প্রতিবছর ৩-৪ হাজার লিটার বায়োডিজেল উৎপাদন করা সম্ভব। গাছ লাগানোর পর ৯ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যেই ফলন শুরু হয়। গাছগুলোর আয়ুষ্কাল গড়ে ২৫ থেকে ৩০ বছর। সাধারণত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে জাট্রোফা ফুল ও ফল দেয়। এর ফল হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে। তেল নিষ্কাশনের জন্য ফলের বীজ রোদে শুকানো হয়। উৎপাদিত বীজ সাধারণ তেল উৎপাদনের ঘানি দিয়ে বায়োডিজেল উৎপাদন করা সম্ভব। এভাবে উৎপাদিত বায়োডিজেল কৃষি পাম্পসহ বাতি জ্বালানোর ক্ষেত্রে সরাসরি ব্যবহার করা যায়। তবে যানবাহনে ব্যবহারের জন্য ঘানিতে উৎপাদিত বায়োডিজেল পরিশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। সেক্ষেত্রে রিফাইনারি প্লান্ট স্থাপন করতে হবে।
বাংলাদেশ বছরে গড়ে প্রায় ৩৭ লাখ টন (পরিশোধিত ও অপরিশোধিত) জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে। এর প্রায় ২৪ লাখ টনই ডিজেল, যার মোট আমদানি মূল্য ১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বিপিসি বেশি দামে ডিজেল কিনে কম মূল্যে জনগণকে সরবরাহ করে। ফলে বিপিসিকে প্রতিবছর হাজার কোটি টাকারও বেশি লোকসান গুনতে হয়। বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে বায়োডিজেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে জাট্রোফা থেকে বায়োডিজেল একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আÍপ্রকাশ করতে পারে। মোট আমদানির ১০ ভাগও যদি জাট্রোফা থেকে উৎপাদন করা যায়, তাহলেও দেশে অন্তত ৩ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে এবং বছরে ৫০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশে বনাঞ্চলের পরিমাণ প্রায় ২৫ লাখ হেক্টর। এর ৪৫ ভাগ অর্থাৎ ১১ লাখ হেক্টর নিবিড় বা গহিন বনাঞ্চল। বাকি ৫৫ ভাগ বনভূমিতে জাট্রোফা চাষের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। দেশে আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় ৭০ লাখ হেক্টর, যার অন্তত ৫ ভাগ অর্থাৎ ৩.৫ লাখ হেক্টর আইল হিসেবে ব্যবহƒত হচ্ছে। এ আইলগুলোকে জাট্রোফা চাষের আওতায় আনা যেতে পারে। দেশের পার্বত্যাঞ্চল, রাস্তা, রেল লাইনের দু’পাশ ও উপকূলীয় বেড়িবাঁধ এলাকায় ব্যাপক হারে জাট্রোফা চাষ করা যেতে পারে। রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চল ক্ষয়জাত ও পতিত জমি। এসব পতিত জমিতে এমনিতেই চাষাবাদ হয় না। এসব জায়গায় বায়োডিজেল উৎপাদনকারী জাট্রোফা চাষ করা যেতে পারে। দারিদ্র্য বিমোচন ও বিকল্প জ্বালানি হিসেবে জাট্রোফা চাষ করে বিপ্লব আনা সম্ভব। দারিদ্র্য বিমোচন, নারী উন্নয়ন, পরিবেশের ভারসাম্য এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জাট্রোফা কার্যকর ভূমিকা পালনে সহায়ক হতে পারে। জাট্রোফা গাছের শিকড় ভূমির সমান্তরালে বৃদ্ধি পায় বলে এর শিকড় মাটিকে আটকে রাখে। ফলে ভূমি ক্ষয়রোধে একে দারুণভাবে কাজে লাগানো যায়। লম্বা শিকড় থাকায় এটি নদীভাঙন রোধে এবং সমুদ্র উপকূলের ভূমি উদ্ধার ও রক্ষা করার কাজে ব্যবহার করা যায়। এটি মাটির বাঁধ হিসেবেও কাজ করে। দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ৫ মিটার হওয়ায় সমুদ্র পাড়ে ঝড় রোধে এ গাছ লাগানো যায়।
বিকল্প জ্বালানির উৎসের সন্ধান পাওয়া না গেলে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা সম্ভব নয়। প্রচলিত জ্বালানি ব্যবস্থার বাইরে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানির উৎপাদন নিয়েই উন্নত বিশ্ব চিন্তিত। কারণ জীবাশ্ম জ্বালানির আধার দিন দিন নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই বাংলাদেশকেও এ বিষয়ে ভাবতে হবে। বাংলাদেশে অতি সহজেই বায়োডিজেল উৎপাদন করা সম্ভব। সরকার এমনিতেই সামাজিক বনায়নের কর্মসূচি পালন করে আসছে, যদি সামাজিক বনায়নেও জাট্রোফা রোপণ ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে বায়োডিজেলের দ্বার উš§ুুক্ত হবে। সরকার গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রণীত সুপারিশমালাকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দেশের যে কোনো অঞ্চলে জাট্রোফার উৎপাদনে পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা দরকার। পাইলট প্রকল্প সফল হলে পরে তা জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া যেতে পারে।
হাসান কামরুল : জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক

অসাংবিধানিক শক্তির ভয় দেখিয়ে লাভ নেই by তারেক শামসুর রেহমান

সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, একবার যদি অসাংবিধানিক শক্তি ক্ষমতায় আসে, তারা ‘রোজ কেয়ামত’ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে। তারা আর নির্বাচন দেবে না। চার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের কথা বারবার বলছেন। তিনি এমন কথাও বলছেন যে, অসাংবিধানিক শক্তি ক্ষমতায় এলে তাকে এবং বেগম জিয়া দু’জনকেই গ্রেফতার করবে! আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান যে ক্ষমতা, যা তিনি সংবিধান থেকে পেয়েছেন, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের ক্ষমতা ভোগ করেন না। এজন্য তাকে দোষ দেয়া যাবে না। ‘মোগল রাজাদের চেয়েও তিনি বেশি ক্ষমতা ভোগ করেন’, কিংবা ‘সংসদীয় সরকারের নামে চলছে প্রধানমন্ত্রীর সরকার’Ñ এ ধরনের কথা অনেকে বলেন বটে, কিন্তু তিনি যে ক্ষমতাই ভোগ করে থাকুন না কেন, সংবিধান তাকে সেই অধিকার দিয়েছে। তার দলের সংসদ সদস্যরাই তাকে এই অধিকার দিয়েছে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী এনে। এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তিনি হলে সেটাও হবেন সংবিধান বলে। এখানেই এসে যায় মূল প্রশ্নটি। ২৫ অক্টোবর যদি সংসদ ভেঙে দেয়া হয় (?), নতুন সরকার দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত তিনিই থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে তিনি ‘রোজ কেয়ামতে’র কথা বলছেন কেন! তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, রাজনৈতিক মনন তাকে যদি বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো আপসরফায় যেতে সাহায্য না করে, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী তার দল এককভাবেই নির্বাচন করবে! আর এর দায়-দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে! এক্ষেত্রে অসাংবিধানিক শক্তির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সেনাবাহিনী এখন যথেষ্ট ‘প্রফেশনাল’। তাদের নেতৃত্ব বারবার বলে আসছেন, তারা সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ। রাজনীতির বিষয়টি দেখভাল করবেন রাজনীতিকরাই। উপরন্তু বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর একটা বৈশ্বিক পরিচয় রয়েছে। অত্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে তারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে বিশ্বে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। দ্বিতীয় আরেকটি ‘এক-এগারো’র জš§ দিয়ে তারা তাদের সেই ভাবমূর্তি নষ্ট করবেন না। তরুণ অফিসারদের মাঝে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এ প্রবণতা তাদের আর্থিক অবস্থানকে অনেক শক্তিশালী করেছে। তাই রাজনীতিতে তারা আর নাক গলাবেন না, এটাই স্বাভাবিক। এটাই বাস্তব।
দেয়ালের লিখন থেকে আমরা কেউ শিখি না। কোন পরিস্থিতিতে সেনানিয়ন্ত্রিত সরকারের আÍপ্রকাশ ঘটেছিল, ইতিহাস তার সাক্ষী। রাজনৈতিক দলগুলো যদি ওই সময়ে ন্যূনতম ইস্যুতে এক হতে পারত, তাহলে সেই পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না। এজন্য কি আমাদের রাজনীতিকরা দায়ী নন? আজ রাজনৈতিক দলগুলোকে এ কথাটা উপলব্ধি করতে হবে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য এই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের ধারণা ভালো। তাতে করে তারা একটা সুযোগ পাবেন, এটা যে তাদের আমলের অবদান ভবিষ্যতে তা তুলে ধরতে। উপরন্তু আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়, সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ তাদের বক্তব্য নিয়ে জনসাধারণের কাছে যাক। জনগণ যদি তা সমর্থন করে, তাহলে তারা আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবেন। এতে তো ক্ষতির কিছু নেই।
একমাত্র আওয়ামী লীগ বাদে প্রতিটি দলই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে। এমনকি মহাজোটের অংশীদার জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টিও চায় একটি নিরপেক্ষ সরকার। এক্ষেত্রে সরকার এ দাবি মেনে না নিলে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই। আর প্রধানমন্ত্রী যখন স্পষ্ট করেই বলেন, ‘ওরা ক্ষমতায় এলে আর নির্বাচন দেবে না’, তখন নানা প্রশ্ন এসে ভিড় করে। কেন প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলছেন বারবার? প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। কেননা কোনো অসাংবিধানিক সরকারের পক্ষে এখন আর ক্ষমতা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তারা চাইলেও পারবেন না। কারণ একদিকে রয়েছে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে বিদেশী দাতাগোষ্ঠীর চাপ। মাঝখানে রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। কারও পক্ষেই আর নির্ধারিত সময়ের বাইরে থাকা সম্ভব নয়। ২০০৭ সালের পরিস্থিতির সঙ্গে আজকের পরিস্থিতিকে মেলানো যাবে না। তবে একজন নির্বাচিত ব্যক্তিও এই নির্বাচন পরিচালনা করতে পারেন। রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে এ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা সম্ভব। আর সেজন্য সংলাপটা জরুরি।
জাতির বৃহত্তম স্বার্থেই সরকারপ্রধান একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তিনি ইতিহাসে তার নাম রেখে যেতে পারবেন, যদি তিনি নির্দলীয় সরকারের ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত দেন। এই নির্দলীয় সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না। এর কাঠামোও হবে ভিন্ন। শুধু প্রয়োজন আন্তরিকতার। না হলে দেশ এক চরম সংকটের মুখে পড়বে। এজন্য একটা সমঝোতা প্রয়োজন। বিএনপি নেত্রী স্পষ্ট করেই বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে তারা কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেন না। জাতীয় পার্টিও অংশ নেবে না বলে মনে হচ্ছে। এর ফলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার দোহাই দিয়ে চলতি বছরের শেষের দিকে সরকার যদি নির্বাচনের আয়োজন করে, তার পরিণতি তৃতীয় (১৯৮৬), চতুর্থ (১৯৮৮) কিংবা ষষ্ঠ (১৯৯৬) জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো হবে। এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। আমাদের মতো একটি গরিব দেশে নির্বাচনের নামে শত শত কোটি টাকা খরচ করা একটি বিলাসিতা মাত্র। তাই আওয়ামী নেতাদের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে। একটি ভুল সিদ্ধান্ত দলকে অনেক পেছনে ফেলে দিতে পারে। নানা ধরনের ফাঁদ তৈরি হয়েছে। দেশী ও বিদেশী শক্তি দশম সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নানা ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। প্রতিটি নাগরিককে আজ এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।
নির্বাচন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে জনসাধারণ নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে। আজ সাধারণ মানুষকে সেই সুযোগটি দেয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী যদি সংসদ ভেঙে দেয়ার পরও থেকে যান, তাহলে সরকারের সাজানো মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন দিয়ে নির্বাচন আয়োজন করলে তাতে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী যে আশংকা প্রকাশ করেছেন, তার কোনো ভিত্তি নেই। অসাংবিধানিক শক্তির পক্ষে আর বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় অংশীদার হওয়া সম্ভব নয়। সেনা নেতৃত্ব বারবার বলছেন, তারা সংবিধানের কাছে দায়বদ্ধ। আমাদের এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী সেনাবাহিনীকে যথেষ্ট বিতর্কিত করেছেন। সুতরাং তারা আর কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে, এটা আমার মনে হয় না। তাই উদ্যোগটি নিতে হবে সরকারপ্রধানকেই। তিনিই পারেন একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে।
স্পষ্টতই বাংলাদেশ এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চারটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের বিজয় বিএনপি কর্মীদের চাঙ্গা করলেও বিএনপির ভেতরে দুটি মতই আছে। নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে জনমত যেমন রয়েছে, ঠিক তেমনি রয়েছে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার পক্ষের মতও। যদিও বর্তমানের সাংবিধানিক কাঠামোয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার পাল্লাটাই ভারি। কাজেই প্রধানমন্ত্রী যে কথাই বলুন না কেন, বিএনপি নেতাদের মন তাতে গলবে বলে মনে হয় না। দিন যতই যাবে, ততই সংকটের মাত্রা বাড়বে। সেটা দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। একটি বহুপাক্ষিক প্রতিযোগিতার জন্য আওয়ামী লীগকে তৈরি থাকতে হবে। জনগণের মুখোমুখি তাদের দাঁড়াতে হবে, যেমনটি তারা দাঁড়িয়েছিলেন ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম পার্লামেন্ট নির্বাচনে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা যতই সরকারের সাফল্যের কথা বলুন না কেন, সাধারণ মানুষের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা অনেক হ্রাস পেয়েছে। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র, ডেসটিনি-হলমার্ক কেলেংকারিতে দলীয় লোকদের সংশ্লিষ্টতা, ছাত্রলীগের দৌরাÍ্য, সুশাসনের অভাব মহাজোট সরকারের জনপ্রিয়তাকে উচ্চতায় নিয়ে যায়নি। সাধারণ মানুষের যে আস্থা ছিল, সেই আস্থার প্রতি সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে মহাজোট সরকার। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে যেভাবে আওয়ামী লীগ তাদের পরিকল্পনা নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে গিয়েছিল, ২০১৩ সালে এসে তাদের কাছেই যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তো বলে দিয়েছেনই, ‘জনগণ ভোট না দিলে নাই’। তার এই বক্তব্যের যথার্থতা প্রমাণের জন্যই চাই নিরপেক্ষ একটি সরকার।
যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর মন্তব্য করেছিলেন, ‘ওয়েক আপ ফল ফর দি রুলিং পার্টি।’ তিনি এও বলেছিলেন, ‘এ থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও বলেছিলেন, ওই ফলাফল ‘একটি অশনি সংকেত।’ প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের মন্তব্য কি প্রধানমন্ত্রী আদৌ বিবেচনায় নিয়েছেন? ওবায়দুল কাদের বারবারই স্পষ্ট কথা বলেন। একজন ছাত্রনেতা ও পরবর্তীকালে রাজনীতিক হিসেবে তিনি জানেন, তাকে আবার জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তাই তিনি বিবেকের কাছে স্পষ্ট থাকতে চান। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই ‘ওয়েক আপ’ কলের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। বিরোধী দলের ওপর দোষারোপ করে তিনি তার বক্তব্য এখনও দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বাহ্যত নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। কারা প্রার্থী হবেন, তার একটি তালিকাও বোধকরি তিনি ইতিমধ্যে তৈরি করে ফেলেছেন। সংবাদপত্রে বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ ১৫০টি আসনে নতুন প্রার্থী দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের আরেক নীতিনির্ধারকের মুখ থেকেও এ ধরনের কথাবার্তা বলা হচ্ছে। তাই স্পষ্ট করেই বলা যায়, আওয়ামী লীগ নির্বাচনের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দল নির্বাচনে অংশ না নিলেও। তাই প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য দলীয় কর্মীদের উৎসাহিত করলেও সাধারণ মানুষের মঝে এ ধরনের বক্তব্য আদৌ কোনো আবেদন সৃষ্টি করতে পারেনি। আসলে সমস্যাটা অসাংবিধানিক শক্তির নয়। সমস্যাটা রাজনৈতিক দলগুলোর, বিশেষ করে সরকারি দলের।
ড. তারেক শামসুর রেহমান : অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

জাবি ভিসির পদত্যাগই সমাধান by ড. শমছুল আলম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনের পদত্যাগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি তুমুল আন্দোলন করছে। এ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির বাধার মুখে গত ২১ জুন কর্তৃপক্ষ আহূত বার্ষিক সিনেট অধিবেশন পণ্ড হয়ে যায়। উপাচার্যের আহবানে কিছুসংখ্যক সিনেট সদস্য ক্যাম্পাসে এসেছিলেন, কিন্তু উপাচার্য তাদের নিয়ে সিনেট হলে প্রবেশ করতে পারেননি। এর আগে অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির উপাচার্য থাকাকালীন তৎকালীন শিক্ষক সমিতি অনুরূপ কর্মসূচি পালন করে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল। ধারণা করি, দেশবাসী ওই সব আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ ভুলে যায়নি। অনেকের মনে হওয়া স্বাভাবিক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কী ঘটনা ঘটছে যে, কয়েক মাস পরপরই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন হচ্ছে? উপাচার্য এখানে এমন কী কাজ করেন যে তাকে সরিয়ে দিতে হবে? যারা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন, তাদের কাছে এমন জিজ্ঞাসা স্বাভাবিক। আসলে এটা তো সত্য যে, একজন মানুষ ভালো কী মন্দ, সে সম্পর্কে তার ঘরের মানুষ ও প্রতিবেশী ভালো বলতে পারেন। আমরা যারা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত, তারা নিশ্চয়ই ভালো বলতে পারি কোন উপাচার্য কেমন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনের দায়িত্বহীন আচরণ এবং গোঁয়ার প্রকৃতির স্বভাবের জন্য ক্যাম্পাসে এখন অশান্তি ও অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার তিনি বিচার করেননি। ২০১২ সালের ১ ও ২ আগস্ট তার ভুল এবং ২০১৩ সালের ১২ ফেব্র“য়ারি একজন ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ করে সংগঠিত নজিরবিহীন ভাংচুর, শিক্ষকদের গালাগাল দেয়া এবং আবাসিক এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির ঘটনার তিনি কোনো বিচার করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক, সামাজিক, একাডেমিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তিনি ভেঙে ফেলেছেন। একজন উপাচার্যের কাজ কী? একজন উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে এগিয়ে নেয়ার নিরন্তর প্রচেষ্টা গ্রহণ করবেন। তিনি নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষীয় সভা যেমন সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল এবং অন্যান্য শিক্ষা-গবেষণা সংশ্লিষ্ট পর্ষদের সভা করবেন। অনুষদ ও বিভাগগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখবেন। কিন্তু আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনের এসব দিকে কোনো খেয়াল নেই।
আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক এজেন্ডা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতি একাÍতা প্রকাশ করতে তিনি লাখ টাকারও বেশি ব্যয় করে বিজয় র‌্যালি নামে একটি শোভাযাত্রা নিয়ে স্মৃতিসৌধে গিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করেছেন। ডিসেম্বরে তিন লাখ টাকার অধিক ব্যয়ে বিজয় কনসার্ট করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজকর্ম ফেলে রেখে তিনি দিনের পর দিন অনুষ্ঠানের নামে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট ঘাটতির বিপরীতে তিনি একের পর এক অনুষ্ঠানের নামে টাকা অপচয় করে চলেছেন। টাকার অপ্রতুলতার জন্য শিক্ষা ও গবেষণায় বরাদ্দ মোট বাজেটের এক শতাংশেরও কম। তিনি এখন পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে নতুন কোনো থোক বরাদ্দ আনতে পারেননি। মাসিক ছাত্রবৃত্তি মাত্র ১২৫ টাকা। এ অবস্থার মধ্যেও তিনি অনুষ্ঠানের মতো অবস্তুগত খাতে ব্যয় করে চলছেন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি বৃদ্ধি পায় শিক্ষা ও গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড দিয়ে। বিভাগগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতি ও তদারক কাজ এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। নিয়মিত একাডেমিক কাউন্সিল সভা এখন আর অনুষ্ঠিত হয় না। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি শিক্ষকদের আন্দোলন দমাতে আদালত এবং জলকামানের আয়োজন করেন। দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরের মধ্যেই তিনি শিক্ষা সংকুচিত করেছেন। সাবেক উপাচার্য হলগুলোর আবাসিক সিটের বাইরেও অল্প পরিমাণ হলেও ছাত্রছাত্রী ভর্তি করিয়েছেন। সেখানে বর্তমান উপাচার্য মানসম্পন্ন শিক্ষার কথা বলে চারশর অধিক সিট কমিয়েছেন। এ কথা অনেকেই জানেন, বর্তমানে দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একমাত্র তিনিই নির্বাচিত উপাচার্য। কিন্তু অনেকেরই জানা নেই যে, তিনি মেয়াদ উত্তীর্ণ সিনেট সদস্য কর্তৃক নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ৩৩ ভোটের মধ্যে ১৩টি ছিল সিঙ্গেল ভোট। উপাচার্য প্যানলের জন্য একটি করে তিনজনকে পর্যন্ত ভোট দেয়া যায়Ñ এমন বিধান থাকলেও ধারণা করা হয় যে, সরকার মনোনীত সিনেট সদস্যরা শুধু অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে সিঙ্গেল ভোট দিয়েছেন। অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র বা শিক্ষক ছিলেন না, এটা তার সমস্যা বা অপরাধ নয়। সমস্যা হলো তার আচরণ, মানসিকতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে উদাসীনতা। আচরণের মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি তার কোনো দায়বদ্ধতা নেই। দীর্ঘ সময় ধরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরস্পরের সামাজিক সম্পর্ক, ভ্রাতৃত্ববোধ, পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ তিনি হƒদয়ঙ্গম করতে ব্যর্থ হয়েছেন। নির্ধারিত বার্ষিক সিনেট সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টিকে তিনি জরুরি বলেছেন। এই জরুরি সম্পর্কে আমাদের কারও দ্বিমত নেই। কিন্তু বেশি জরুরি এ বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচানো। আমাদের সবার সম্মানকে সমুন্নত রাখা আরও জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেই অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনের উপাচার্যের পদ ত্যাগ করা উচিত।
ড. শামছুল আলম : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ভেজাল ও ক্ষতিকর ওষুধ ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী by মুনীর উদ্দিন আহমদ

আসল ওষুধের নামে ও অবয়বে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে নকল উপকরণ বা ভেজাল দিয়ে উৎপাদিত ওষুধকে নকল ওষুধ বলে। ব্র্যান্ড ওষুধের মতো জেনেরিক ওষুধও নকল হয়। অনেক ওষুধে ঠিক উপকরণটি ব্যবহার করা হলেও তা পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। এসব ওষুধকে নিুমানের ওষুধ বলা হয়। নকল, ভেজাল ও নিুœমানের ওষুধ রোগীর জন্য কেন বিপজ্জনক তা খানিকটা বর্ণনা করা যাক। ওষুধ উদ্ভাবনের সময় দীর্ঘকাল ধরে অসংখ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকরা নির্ধারণ করেন, কোন ওষুধে রোগ সারানোর জন্য কী পরিমাণে সক্রিয় উপাদান থাকতে হবে। একটা উদাহরণ দেয়া যাক। একটা প্যারাসিটামল ট্যাবলেটে সক্রিয় উপাদান হিসেবে প্যারাসিটামল থাকে ৫শ’ মিগ্রা। সক্রিয় উপাদানের সঙ্গে আয়তন বাড়ানোর জন্য স্টার্চ, ল্যাকটোজ বা অন্যান্য নিষ্ক্রিয় উপাদান যোগ করাসহ ট্যাবলেটের আকার-আকৃতি প্রদানের জন্য অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে ওষুধের পরিপূর্ণ রূপ প্রদান করা হয়। অনেক সময় সক্রিয় উপাদানের পরিমাণ এত কম থাকে যে, (যেমন ১ মিগ্রা) তা দিয়ে ওষুধের আকার-আকৃতি প্রদান করা যায় না। তাই নিষ্ক্রিয় উপকরণ মিশিয়ে আয়তন বাড়িয়ে ওষুধ তৈরি করা হয়। ওষুধে সক্রিয় উপাদান না থাকলে তাকে ওষুধ বলা যাবে না। প্যারাসিটামল ব্যবহার না করেই শুধু স্টার্চ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে এমন ট্যাবলেট তৈরি করা যায়, যা দেখলে মনে হবে হুবহু একটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট। সক্রিয় উপাদান না থাকার কারণে এমন ওষুধ খেলে ব্যথা-বেদনা বা জ্বর সারবে না। তাই এসব ওষুধকে বলা হয় নকল ওষুধ। সামান্য ব্যথা-বেদনা বা জ্বর সারানোর জন্য নকল প্যারাসিটামল ব্যবহারের কারণে রোগ না সারলেও তা আপনার জীবনের জন্য বিপজ্জনক নাও হতে পারে যদিও তা অস্বস্তিকর ও যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। কিন্তু এমন সব রোগ আছে যে ক্ষেত্রে আপনি ওষুধ সঠিকমাত্রায় সেবন না করলে রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে এবং এক সময় রোগী মারাও যেতে পারে। সংক্রামক রোগের কথাই ধরা যাক। সংক্রামক রোগের প্রতিকারে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার অপরিহার্য। জীবাণু দ্বারা শরীর বা শরীরের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে শরীর ও জীবাণুর মধ্যে টিকে থাকার জন্য যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এক্ষেত্রে শরীর তার প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্বারা বা অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য জীবাণু ধ্বংস করার কাজ চালিয়ে যায়। শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বা নষ্ট হয়ে গেলে এবং কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করা হলে জীবাণু শরীর ধ্বংস করার প্রক্রিয়া শুরু করে। তার অর্থ হল স্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং পরবর্তীকালে অবধারিত মৃত্যু। নকল, ভেজাল ও নিুমানের অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করে কার্যকারিতা না পেয়ে চিকিৎসক বা রোগী একের পর এক অ্যান্টিবায়োটিক পরিবর্তন করতে থাকে। এভাবে নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগে জীবাণু ওষুধের কার্যকারিতাকে নিষ্ফল করে দিয়ে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে শরীরে বহাল তবিয়তে টিকে থাকতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স বর্তমান বিশ্বের ভয়ানক বিপদগুলোর মধ্যে অন্যতম বিপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অন্যদিকে বেশি পরিমাণে সক্রিয় উপাদান থাকলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বিষক্রিয়ায় রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে রোগী মারাও যেতে পারে।
সম্প্রতি ল্যানসেট প্রকাশিত এক গবেষণা প্রবন্ধের মাধ্যমে জানা যায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক-তৃতীয়াংশ ম্যালেরিয়ার ওষুধ নকল। গবেষকরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাতটি দেশে পাঁচ ধরনের ১৪৩৭টি ম্যালেরিয়া ওষুধের নমুনা পরীক্ষা করে দেখতে পান, এসব ওষুধের ৩৬ শতাংশ নকল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০১০ সালে সারা বিশ্বে ম্যালেরিয়ায় ৬ লাখ ৫৫ হাজার মানুষ মারা যায়। নকল, ভেজাল ও নিুমানের ওষুধ এসব মৃত্যুর জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়ী বলে মনে করা হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এসব নকল, ভেজাল ও নিুমানের ওষুধের মধ্যে অধিকাংশ হল অ্যার্টেমিসিনিন ও আর্টেমিসিনিন থেকে রাসায়নিকভাবে উদ্ভাবিত অন্যান্য ওষুধ। আর্টেমিসিনিন ও এই গ্র“পের ওষুধগুলো এখন পর্যন্ত ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর ও অগ্রগামী ওষুধ বলে বিবেচিত হয়। কারণ ম্যালেরিয়ার অন্যান্য ওষুধের বিরুদ্ধে ম্যালেরিয়া প্যারাসাইট ইতিমধ্যে রেজিস্টেন্ট হয়ে গেছে। আচিকিৎসার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া রোগের প্রতিকারে ওষুধের নির্বিচার অপব্যবহার, ম্যালেরিয়ার ওষুধের যথাযথ গুণগত মান নিশ্চিতকরণে ব্যর্থতা এবং অসাধু নকলবাজ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিদানে অনীহা ও ব্যর্থতা উল্লিখিত সমস্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত দশকে ম্যালেরিয়া নির্মূলে যে অভাবনীয় বিনিয়োগ ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল নকল, ভেজাল ও নিুমানের ম্যালেরিয়ার ওষুধের কারণে তা ভেস্তে যেতে বসেছে।
হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপকে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা নীরব ঘাতক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর লাখ লাখ লোক উচ্চ রক্তচাপে মৃত্যুবরণ করে। উচ্চরক্ত চাপের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত দুটো মরণঘাতী রোগ হল হৎদরোগ ও স্ট্রোক। হৎদরোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত মানুষ অকর্মণ্য হয়ে যায় বা মৃত্যুবরণ করে। প্রাকৃতিক উপায়ে অথবা লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে উচ্চরক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না হলে রোগীকে ওষুধ গ্রহণ করতে হয়। ওষুধ যদি আসল ও গুণগত মানসম্পন্ন হয় তবে রোগী ওষুধ সেবন করে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করবে। আর ওষুধ যদি নকল, ভেজাল ও নিুমানের হয় তবে রোগীর কী অবস্থা হবে একবার ভেবে দেখুন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, সারা বিশ্বে বিশেষ করে অনুন্নত দেশগুলোতে অসংখ্য রক্তচাপের ওষুধ নকল হচ্ছে এবং ওষুধ সেবন করে অগণিত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও জীবন দিচ্ছে। ক্যান্সার মরণঘাতী রোগ। এ রোগ প্রতিকারে এখনও খুব বেশি কার্যকর ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। আর যেসব ওষুধ বাজারে প্রচলিত আছে সেগুলোর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। অ্যাভাস্টিন একটি বহুল প্রচলিত ক্যান্সারের ওষুধ। অ্যাভাস্টিনের একটিমাত্র ভায়ালের দাম আড়াই হাজার ডলার (২ লাখ ৫ হাজার টাকা)। গত বছর এ ওষুধের মোট বিক্রির পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। ওষুধ নকলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শাস্তি হল জেল। নকল ওষুধ প্রস্তুতকারকরা খুব অল্প সময়ে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে ফেলতে পারে এবং তারা ধরা পড়লে খুব বেশি হলে ৬ মাসের মতো জেলে থাকতে হয়। নকল ওষুধের জন্য ব্যবসায়ীদের যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য জিনিসের জন্য মাত্র ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ করতে হয়। অল্প খরচে এটা তো অনেক লাভজনক ব্যবসা। এই বছরের ফেব্র“য়ারিতে প্রকাশিত এক সংবাদে জানা যায়, অসাধু নকলবাজ ব্যবসায়ীরা অ্যাভেস্টিনের নকল ভার্সন উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে মাল্টিমিলিয়ন ডলারের লাভজনক ব্যবসা হাতিয়ে নিয়েছে। নকল অ্যাভেস্টিন এখন যুক্তরাষ্টের বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে যার কারণে ক্যান্সারের রোগীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা সেসব ওষুধ বেশি নকল করে যেগুলো বিক্রির দিক থেকে শীর্ষস্থানীয়। ফাইজারের কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ লিপিটর (জেনেরিক : অ্যাটরভ্যাস্টেটিন) বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্লকব্লাস্টার ওষুধ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও লিপিটরের নকল পাওয়া যায়। ২০০৭-২০০৮ সালে নকল হেপারিনের (যে ওষুধ রক্তজমাট প্রতিহত করে) ব্যবহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ১৪৯ জন লোক মৃত্যুবরণ করে। এই নকল হেপারিন চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল।
পরিসংখ্যান মোতাবেক বিশ্বের ১৫ শতাংশ ওষুধ নকল। এশিয়া ও আফ্রিকার কোন কোন দেশে নকল ওষুধের পরিমাণ ৫০ শতাংশ। অ্যাঙ্গোলায় নকল ওষুধের পরিমাণ মোট ওষুধের ৭০ শতাংশ। ২০০৫ সালে ওইসিডির (অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) হিসাব মতে, সারা বিশ্বে নকল ওষুধ বিক্রির পরিমাণ প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার। নকল ওষুধ উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলো হলÑ পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, লাতিন আমেরিকা, পূর্ব মধ্য ইউরোপের অনেকগুলো দেশ, আফ্রিকা এবং ভূতপূর্ব সোভিয়েত ইউনিয়ন। ওসব দেশেই বেশি নকল, ভেজাল ও নিুমানের ওষুধ উৎপাদিত হয়, যেসব দেশে ওষুধশিল্পে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত শিথিল এবং আইনগত বাধ্যবাধকতার অভাব রয়েছে। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকার ও নীতিনির্ধারকদের দুর্নীতির কারণে নকল, ভেজাল ও নিুমানের ওষুধ ও পণ্যের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় না। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, নিউজিল্যান্ড, পশ্চিম ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতে নকল, ভেজাল ও নিুমানের ওষুধের পরিমাণ ১ শতাংশেরও কম। কারণ ওসব দেশে ওষুধ ও ওষুধ শিল্পের ওপর সরকারের কঠোর আইন ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত আছে। চীনে ওষুধ ও খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও নকলের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করার বিধান আছে। ওষুধের অনলাইন বেচাকেনা বিশ্বজুড়ে নকল ওষুধের ব্যবসাকে সম্প্রসারিত করেছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বোর্ড অব ফার্মেসির মতে, ৯ হাজার ৬শ’ অনলাইন ফার্মেসির মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ কোম্পানি গুণগত মানের শর্ত পূরণ করে। এসব ফার্মেসির অনেকগুলোই বিদেশী বলে এদের ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করা অবৈধ। অনেক ওষুধের জন্য আবার প্রেসক্রিপশন লাগে না। এ সুযোগে অসংখ্য নকল ও ভেজাল ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে যায়। নকল, ভেজাল ও ক্ষতিকর ওষুধ প্রতিরোধে স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো হল। ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি, পেশেন্ট অ্যাডভোকেসি গ্র“প, ওষুধ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গবেষক, প্রস্তুতকারক, সিকিউরিটি কোম্পানি, লাইসেন্সপ্রাপ্ত অনলাইন ফার্মেসি এবং ইন্টারনেট টেকনোলজি কোম্পানি। ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে ইউরোপীয় ট্রেড কমিশন অ্যান্টি-কাউন্টারফিটিং ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (নকলবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি) সম্পাদনের কাজ সম্পন্ন করেছে। চুক্তিতে পেটেন্ট রুল সংরক্ষণ, নকল ওষুধ বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ সমস্যা সমাধানে বৃহত্তর সহযোগিতার দ্বার উšে§াচন করার বিধান রাখা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কোরিয়া, মেক্সিকো, মরক্কো, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি সম্পাদনে অংশগ্রহণ করে। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নকল ওষুধের দৌরাÍ্য বহুলাংশে কমে যাবে।
তবে নকল, ভেজাল ও ক্ষতিকর ওষুধ প্রতিরোধ এত সহজ হবে না, বিশেষ করে অনুন্নত ও দরিদ্র দেশগুলোতে। কারণ এসব দেশে মাথাপিছু আয় নগণ্য হওয়ার কারণে দামি ওষুধ কেনার সামর্থ্য না থাকায় মানুষ সস্তায় ওষুধ পেতে চাইবে। ওষুধের দাম বেশি হলে অসাধু ব্যবসায়ীরা নকল ওষুধ উৎপাদনে ও বিক্রয়ে বেশি উৎসাহী হয়। এ ফর্মুলা ওষুধ কোম্পানিগুলোর ক্ষতির পরিমাণ বাড়ায়। বাংলাদেশে সম্প্রতি অসংখ্য ওষুধের দাম দুই থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সুযোগটা দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা গ্রহণ করবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। ৩১ মে দৈনিক যুগান্তরের মনিরুজ্জামান উজ্জ্বলের ‘মিটফোর্ডের অবৈধ মার্কেটে কাঁচামালের জোগান দিচ্ছে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন পড়লাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওষুধ উৎপাদনের নাম করে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি কাঁচামাল কিনে নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা নকল, ভেজাল ও নিুমানের ওষুধ উৎপাদন করে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের নাকের ডগায় বছরের পর বছর ধরে খোলাবাজারে কাঁচামাল বিক্রি হয়ে এলেও রহস্যজনক কারণে তারা এই অবৈধ বেচাকেনা বন্ধ করে না।
জ্ঞান-বিজ্ঞান ও কারিগরি উন্নয়নের ফলে আজকাল আসল আর নকল ওষুধের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শুধু জানা যায়, কোনটা আসল আর কোনটা নকল ওষুধ। তারপরও কিছু চিহ্ন আর বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে নকল ওষুধ চেনা যায়। নকল ওষুধের অদ্ভুত ধরনের গন্ধ, স্বাদ ও রঙ থাকে। নকল ওষুধ অতিসহজে ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায় বা টুকরো টুকরো হয়ে যায়। ওষুধের প্যাকেটের গুণগত মান তেমন ভালো হয় না। লেবেলে নির্দেশনায় ভুল বানানের শব্দ থাকে এবং নির্দেশনায়ও ভুল থাকতে পারে। নকল ওষুধের দাম অত্যন্ত কম হয়। আসল ওষুধের দামের সঙ্গে তুলনা করলে একই নকল ওষুধের দামের তারতম্য ওষুধের গুণগত মান সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। নকল, ভেজাল ও ক্ষতিকর ওষুধ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার কিছু উপায় আছে। উপায়গুলো অবলম্বন করলে নকল ও ভেজাল ওষুধের দৌরাÍ্য থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যাবে।
এক. আপনার পরিচিত দোকান থেকে ওষুধ কিনুন, যে দোকান বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত।
দুই. অনলাইনে ওষুধ কেনা থেকে সাবধান হোন। অনলাইনে ওষুধ কিনতে চাইলে ভেরিফাইড ইন্টারনেট ফার্মেসি প্র্যাকটিস সাইট (ঠওচচঝ) সিলযুক্ত ওয়েবসাইট দেখে কিনুন। অনলাইন ফার্মেসিগুলো বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত না হলে ওগুলো থেকে ওষুধ কিনবেন না। অন্তত ১৫টি ফার্মেসির ঠওচচঝ রয়েছে।
তিন. ওষুধ কেনার পর ওষুধের প্যাকেট ভালো করে পরীক্ষা করুন। নকল ওষুধ হলে প্যাকেটে কোনো না কোনো ভুল বা ত্র“টি ধরা পড়বে। প্যাকেটের ভেতর যে লিফলেট রয়েছে তাও ভালো করে পড়ে দেখুন। সেখানেও অসংখ্য ভুল থাকতে পারে। ওষুধটি ভালো করে পরীক্ষা করুন। আসল ও নকল ওষুধের মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। সন্দেহ হলে ওই দোকান থেকে ওষুধ কিনবেন না।
চার. বিদেশ ভ্রমণকালে আপনার সব ওষুধ সঙ্গে নিন। পথে-ঘাটে ওষুধ কিনবেন না। অচেনা-অজানা জায়গায় ও দোকানে ওষুধ কিনলে তা নকল হতে পারে।
মুনীরউদ্দিন আহমদ : অধ্যাপক, ফার্মেসি অনুষদ, ঢাবি

রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চান স্নোডেন

বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নজরদারি কর্মসূচির কথা ফাঁসকারী সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেন রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন। গত রোববার সন্ধ্যায় তিনি এ আবেদন করেন বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিম শেভচেনকো। তবে ক্রেমলিন এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। রাশিয়ার ইন্টাফ্রাক্স বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, মস্কোর শেরেমেটিয়েভো বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় রাশিয়ার এক কর্মকর্তার কাছে আবেদনপত্র জমা দেন স্নোডেন। এদিকে ইকুয়েডর সরকার ও মার্কিন সরকারের গোপন তথ্য ফাঁস করে আলোড়ন তোলা ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের মধ্যকার সম্পর্কে ‘অবিশ্বাস্য ফাটল’ ধরছে। এডওয়ার্ড স্নোডেনের বিষয়ে অ্যাসাঞ্জের সাম্প্রতিক সংশ্লিষ্টতাকে ঘিরে সম্পর্কের এই অবনতি। প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক দি ইন্ডিপেনডেন্ট গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে ওই খবর জানিয়েছে। ইকুয়েডরের রাজধানী কিটোর একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, উভয়ের মধ্যকার ওই সম্পর্কের উত্তেজনা যদি না মেটে, তবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের লন্ডন দূতাবাসে অ্যাসাঞ্জের নিজের অবস্থানও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারে। যুক্তরাজ্য থেকে সুইডেনে প্রত্যর্পণ এড়াতে অ্যাসাঞ্জ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই দূতাবাসে আশ্রয় নিয়ে আছেন। ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়া তাঁর নিজ দেশের কূটনীতিক ফিদেল নারভায়েজের ওপরও প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে। কেননা, স্নোডেনকে হংকং থেকে রাশিয়ায় নিরাপদ প্রস্থানের ব্যাপারে নারভায়েজ ও অ্যাসাঞ্জ সহযোগিতা করেন। ইকুয়েডর সরকারের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই ওই পদক্ষেপ গ্রহণকে রাফায়েল ‘গুরুতর ভুল’ বলে আখ্যায়িত করেন। বিবিসি, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।

ইইউর সদস্যপদ পেয়ে উল্লসিত ক্রোয়েশিয়া

ক্রোয়েশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৮তম সদস্য হওয়ায় গত রোববার মধ্যরাতে জাগরেবের রাজপথে নেমে উল্লাস করে হাজারো মানুষ। ইইউর সদস্যপদ অর্জনকে দেশের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক’ ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট আইভো জোসিপোভিক। জাগরেবে উল্লসিত জনতার উদ্দেশে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট হোসে ম্যানুয়েল বারোসো  বলেন, ‘ইইউতে স্বাগত!’ ক্রোয়েশিয়া একসময় যুগোস্লাভিয়ার অংশ ছিল। ১৯৯০-এর দশকে রক্তাক্ত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে দেশটি স্বাধীনতা অর্জন করে। সাবেক যুগোস্লাভিয়ার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে প্রথম ইইউর সদস্য হয় স্লোভেনিয়া। ক্রোয়েশিয়ার আগে বুলগেরিয়া ও রুমানিয়া ২০০৭ সালে সর্বশেষ ইইউর সদস্য হয়। ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশও এখন ইইউর আওতায় আসতে উৎসাহিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  ইউরো জোন ও ক্রোয়েশিয়ার নিজস্ব অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশটির আনন্দ উদ্যাপনে কিছুটা ভাটা পড়েছে। ইইউর সদস্য হলেও আঞ্চলিক একক মুদ্রা (ইউরো) ও ভিসামুক্ত শেংগেন চুক্তির আওতার বাইরে থাকবে ক্রোয়েশিয়া। দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ নাগরিক গত বছর ইইউতে অন্তর্ভুক্তির পক্ষে ভোট দেন।  তবে এ প্রক্রিয়ায় সময় লেগেছে ১০ বছরেরও বেশি। বিবিসি ও এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নেভাতে গিয়ে ১৯ কর্মীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য অ্যারিজোনায় দাবানল নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে অন্তত ১৯ জন অগ্নিনির্বাপণকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার অ্যারিজোনার ইয়ারনেল শহরের কাছের পাহাড়ে দাবানল নিয়ন্ত্রণে ২০ জনের একটি দল কাজ করছিল। একপর্যায়ে আগুনে পুড়ে ওই ১৯ জনের মৃত্যু হয়। নিউইয়র্কের বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রে ৯/১১ হামলার পর এটাই যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক অগ্নিনির্বাপণ-কর্মীর প্রাণহানির ঘটনা। টুইন টাওয়ারে উদ্ধারকাজ করার সময় ৩৪০ জন অগ্নিনির্বাপণকর্মীর মৃত্যু হয়। আফ্রিকা সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে ‘ভয়ানক ট্র্যাজেডি’ বলে উল্লেখ করেন এবং নিহত ব্যক্তিদের ‘বীর’ আখ্যা দেন। ইয়ারনেল পাহাড়ে দাবানলের সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার। বজ্রপাত থেকে আগুন লাগে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, কম আর্দ্রতা ও তীব্র বাতাসের কারণে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই দিনটিকে তাঁর জীবনের অন্ধকারতম দিন উল্লেখ করে অ্যারিজোনার গভর্নর জ্যান ব্রুয়ার বলেন, ‘শুকনো মৌসুমে ওই এলাকা এত বেশি শুষ্ক হয়ে ওঠে যে কোথাও আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।’ অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাদাসহ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ চলছে। কোনো কোনো এলাকার তাপমাত্রা ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এটি বিশ্বের সর্বকালের রেকর্ড তাপমাত্রার কাছাকাছি। ১৯৩৩ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসের গ্রিফিথ পার্কে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ২৯ কর্মীর মৃত্যু হয়। তারও আগে ১৯১০ সালে আইডাহোতে ‘ডেভিলস ব্রুম’ নামে পরিচিতি পাওয়া দাবানল নেভাতে গিয়ে মারা গিয়েছিলের ৮৬ জন অগ্নিনির্বাপক। এএফপি ও রয়টার্স।

ইতালি, গ্রিস ও ফ্রান্সকেও লক্ষ্যবস্তু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র তার নজরদারির আওতায় আনতে ইতালি, গ্রিস ও ফ্রান্সকেও লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান-এর নতুন এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে। জার্মান সাময়িকী ডের স্পিগেল মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেনের বরাত দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কার্যালয়ে ‘আড়ি পাতার’ খবর প্রকাশের দুই দিন পরই গার্ডিয়ান এ খবর ছাপল। ২০১০ সালের মার্কিন গোপন নথির বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইতালি, গ্রিস ও ফ্রান্স এই তিন দেশের ৩৮টি দূতাবাস ও মিশনকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ)। এ জন্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, তার ও বিশেষ ধরনের অ্যান্টেনা ব্যবহার করা হয়। একে ‘অসাধারণ পরিসরে’ গুপ্তচরবৃত্তির কৌশল বলে আখ্যায়িত করেছে গার্ডিয়ান। ওই গোপন নথিতে এই কৌশলের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপান, মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও তুরস্কের মতো বেশ কিছু বন্ধুরাষ্ট্রকেও লক্ষ্যবস্তু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৭ সালের মার্কিন গোপন নথির বরাত দিয়ে বলা হয়, ওয়াশিংটনে ইইউর কার্যালয়ে ফ্যাক্স মেশিনেও আড়ি পেতেছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নজরদারির খবরে ইউরোপীয় মহলে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। ক্ষুব্ধ ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ ফ্যাবিয়াস গত রোববার বলেন, ‘এই অভিযোগ সত্যি হলে তা হবে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য বিষয়।’ ইউরোপীয় বিচারবিভাগীয় কমিশনার ভিভাইন রেডিং হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘপ্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর আরও বিলম্বিত হতে পারে।’ জার্মানির আগামী চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী ও গ্রিন পার্টির নেতা জার্গেন ট্রিটিন গতকাল সোমবার বলেন, স্নোডেনের মতো ব্যক্তির ইউরোপে আশ্রয় পাওয়া উচিত। কারণ তিনি তথ্য ফাঁস করে ইউরোপের মানুষ ও প্রতিষ্ঠানকে বড় ধরনের আক্রমণ থেকে রক্ষা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাফাই: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারির পক্ষে গতকাল সাফাই গেয়েছেন। ইইউর কার্যালয় ও কম্পিউটার নেটওয়ার্কে নজরদারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অন্য কোনো দেশের তথ্য খোঁজা অস্বাভাবিক কিছু নয়।’ ব্রুনাইতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে অংশ নিয়ে কেরি এ কথা বলেন। একই সম্মেলনে অংশ নিয়ে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন। এদিকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) বলেছে, ইইউর উদ্বেগের বিষয় নিয়ে মার্কিন সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলেই কথা বলবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলবে সরকার। বিবিসি, রয়টার্স ও এএফপি।

ইতালি, গ্রিস ও ফ্রান্সকেও লক্ষ্যবস্তু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র তার নজরদারির আওতায় আনতে ইতালি, গ্রিস ও ফ্রান্সকেও লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান-এর নতুন এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে। জার্মান সাময়িকী ডের স্পিগেল মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেনের বরাত দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কার্যালয়ে ‘আড়ি পাতার’ খবর প্রকাশের দুই দিন পরই গার্ডিয়ান এ খবর ছাপল। ২০১০ সালের মার্কিন গোপন নথির বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইতালি, গ্রিস ও ফ্রান্স এই তিন দেশের ৩৮টি দূতাবাস ও মিশনকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ)। এ জন্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, তার ও বিশেষ ধরনের অ্যান্টেনা ব্যবহার করা হয়। একে ‘অসাধারণ পরিসরে’ গুপ্তচরবৃত্তির কৌশল বলে আখ্যায়িত করেছে গার্ডিয়ান। ওই গোপন নথিতে এই কৌশলের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপান, মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও তুরস্কের মতো বেশ কিছু বন্ধুরাষ্ট্রকেও লক্ষ্যবস্তু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৭ সালের মার্কিন গোপন নথির বরাত দিয়ে বলা হয়, ওয়াশিংটনে ইইউর কার্যালয়ে ফ্যাক্স মেশিনেও আড়ি পেতেছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নজরদারির খবরে ইউরোপীয় মহলে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। ক্ষুব্ধ ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ ফ্যাবিয়াস গত রোববার বলেন, ‘এই অভিযোগ সত্যি হলে তা হবে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য বিষয়।’ ইউরোপীয় বিচারবিভাগীয় কমিশনার ভিভাইন রেডিং হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘপ্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর আরও বিলম্বিত হতে পারে।’ জার্মানির আগামী চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী ও গ্রিন পার্টির নেতা জার্গেন ট্রিটিন গতকাল সোমবার বলেন, স্নোডেনের মতো ব্যক্তির ইউরোপে আশ্রয় পাওয়া উচিত। কারণ তিনি তথ্য ফাঁস করে ইউরোপের মানুষ ও প্রতিষ্ঠানকে বড় ধরনের আক্রমণ থেকে রক্ষা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাফাই: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারির পক্ষে গতকাল সাফাই গেয়েছেন। ইইউর কার্যালয় ও কম্পিউটার নেটওয়ার্কে নজরদারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অন্য কোনো দেশের তথ্য খোঁজা অস্বাভাবিক কিছু নয়।’ ব্রুনাইতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে অংশ নিয়ে কেরি এ কথা বলেন। একই সম্মেলনে অংশ নিয়ে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন। এদিকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) বলেছে, ইইউর উদ্বেগের বিষয় নিয়ে মার্কিন সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলেই কথা বলবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলবে সরকার। বিবিসি, রয়টার্স ও এএফপি।

নিজস্ব নেভিগেশন নেটওয়ার্ক তৈরি করবে ভারত

নিজস্ব নেভিগেশন নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্দেশ্যে ভারত স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ) উৎক্ষেপণ করছে। দেশটি সাতটি স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে নিজস্ব স্যাটেলাইটভিত্তিক নেভিগেশন-ব্যবস্থা (আরআরএনএসএস) তৈরি করবে। প্রথম স্যাটেলাইটটি গতকাল সোমবারই অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে উৎক্ষেপণ করার কথা। ভারতের নেভিগেশন-ব্যবস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের (জিপিএস) মতোই কাজ করবে। তবে এটি শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে এটি ব্যবহার করা হবে। চীন নিজস্ব নেভিগেশন-ব্যবস্থা তৈরির ঘোষণা দেওয়ার মাত্র এক মাস পরই ভারত এই পদক্ষেপ নিল। ভারত বলেছে, তাদের ব্যবস্থাটি ২০১৫ সালে কার্যকর হবে। এই নেভিগেশন-ব্যবস্থা দেশজুড়ে এবং দেশের সীমান্তের এক হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত কাজ করবে। এএফপি।

ম্যান্ডেলার অবস্থা আগের মতোই ‘সংকটাপন্ন’

নেলসন ম্যান্ডেলা
দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার অবস্থা এখনো ‘সংকটাপন্ন, তবে স্থিতিশীল’। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তিনি এ অবস্থায় আছেন। ম্যান্ডেলার অবস্থা সম্পর্কে সর্বশেষ গত শনিবার সরকারিভাবে জানানো হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা ওই দিন সাংবাদিকদের জানান, ৯৪ বছর বয়সী ম্যান্ডেলা এখনো ‘সংকটাপন্ন, তবে স্থিতিশীল’। এর পর থেকে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে সরকার আর কিছু জানায়নি। রোববার দেশটির সাবেক আর্চবিশপ মানবতাবাদী ডেসমন্ড টুটু বলেন, ম্যান্ডেলার ‘শান্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য’ কামনা করে প্রার্থনা করছে দক্ষিণ আফ্রিকাবাসী। গত ৮ জুন রাজধানী প্রিটোরিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ম্যান্ডেলাকে। সপ্তাহ খানেক আগে বলা হয়, তাঁর অবস্থার অবনতি হয়েছে। তাঁকে যন্ত্রের সাহায্যে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। একপর্যায়ে ম্যান্ডেলার পরিবারের সদস্যরা বলেছিলেন, তাঁর অবস্থা বেশ খারাপ। যখন-তখন যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট ম্যান্ডেলার সাবেক স্ত্রী উইনি মাদিকিজেলা-ম্যান্ডেলা প্রায় প্রতিদিন হাসপাতালে যাচ্ছেন সাবেক স্বামীকে দেখতে। গতকাল তিনি একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, ‘যে অবস্থার মধ্যে দিয়ে তিনি (ম্যান্ডেলা) যাচ্ছেন, তা দেখা খুবই কষ্টকর। তার পরও সবকিছু ঈশ্বরের ইচ্ছা।’ তবে ম্যান্ডেলার মেয়ে জিন্দজি ম্যান্ডেলা গতকাল আইটিভিকে বলেন, তাঁর বাবার অবস্থা মোটামুটি ভালো। হাসপাতালের কক্ষে কেউ ঢুকলে তিনি তাঁকে চিনতে পারছেন। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কারণে ২৭ বছর কারাভোগ করা ম্যান্ডেলা ১৯৯৪ সালে দেশের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এএফপি ও রয়টার্স।

বিশ্বে ক্ষুধা অর্ধেক হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা হাতের নাগালে

বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক সহায়তা দিনে দিনে কমে আসার মধ্যেও জাতিসংঘ বলছে, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের পথে বিরাট অগ্রগতি হয়েছে। এ লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা। জাতিসংঘ তার অষ্টম সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে গতকাল সোমবার একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ‘তেজোদীপ্ত প্রচেষ্টার কারণে ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বের ক্ষুধার্ত মানুষের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এখন দৃশ্যত হাতের নাগালে রয়েছে।’ ১৩ বছর আগে বিশ্বনেতারা এমডিজি নির্ধারণ করেছিলেন। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল দারিদ্র্য কমানো, প্রাণঘাতী এইডস রোগের বিস্তার থামানো, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, লিঙ্গ সমতা, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য এবং টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা। বিশ্বে অতি দরিদ্র মানুষের (যাদের দৈনিক আয় ১ দশমিক ২৫ ডলারের নিচে) সংখ্যা অর্ধেকে নামানোর এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ বছর হাতে রেখে ২০১০ সালেই অর্জিত হয়েছে। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য খাতেও বড় ধরনের অগ্রগতির ওপরে আলোকপাত করা হয়েছে। এর নিদর্শন হিসেবে এইচআইভি বা এইডসের দৌরাত্ম্য হ্রাসের পাশাপাশি ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মায় মৃত্যু হার কমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের যে চূড়ান্ত সময়সীমা রয়েছে, তা শেষ হতে বাকি আর মাত্র এক হাজার দিনেরও কম। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেন, ‘এখনো অগণিত নারী সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় মারা যাচ্ছেন, যেখানে তাঁদের বাঁচানোর উপায় আমাদের হাতে রয়েছে। এ ছাড়া ২৫ কোটির বেশি মানুষ এখনো উন্নতমানের স্যানিটেশন সুবিধা পাচ্ছে না।’ গতকালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বে অপুষ্টির শিকার মানুষের সংখ্যা ১৯৯০-৯২ মেয়াদের ২৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে ২০১০-১২ মেয়াদে ১৪ দশমিক ৯-এ দাঁড়িয়েছে। এত কিছুর পরও ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বের ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার জন্য এ পর্যন্ত হওয়া অগ্রগতিকে যথেষ্ট মনে করছে না জাতিসংঘ। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব যদি ক্ষুধা নির্মূল করতে যথার্থ পদক্ষেপ নেয়, তবে ওই সময়ের মধ্যে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। এএফপি।

সেনা হস্তক্ষেপ চাইছে গণমাধ্যম!

প্রেসিডেন্ট মুরসি
মিসরের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে সমর্থন দিচ্ছে দেশটির অনেক সংবাদপত্র। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি এবং মুসলিম ব্রাদারহুড অগণতান্ত্রিক হয়ে উঠছে। দেশটির বিভিন্ন শীর্ষ পত্রিকার প্রতিবেদক ও বিশ্লেষকেরা এ অভিযোগ করছেন। একজন রাজনৈতিক ভাষ্যকার সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করে জনগণকে ‘স্বাধীনতা’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সেনা হস্তক্ষেপের পক্ষে কথা বলেছে একাধিক পত্রিকা। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পত্রিকা আল-জুমহুরিয়া পর্যন্ত স্বীকার করেছে যে বিপ্লবের আশা পূরণ হয়নি। আল-তাহরির পত্রিকা লিখেছে, মুসলিম ব্রাদারহুড এখন দুঃস্বপ্নের নাম। তারা নিজেদেরকে গণতন্ত্রের চেয়ে বড় মনে করছে। তারা ফ্যাসিবাদী নিপীড়ক, যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে...। তাদের বিতাড়িত করার এখনই সময়। সরকারবিরোধী আল-ওয়াফ্দ পত্রিকা লিখেছে, মুসলিম ব্রাদারহুডের শাসনের অবসান অবশ্যই হবে এবং প্রেসিডেন্ট মুরসির পদত্যাগ অবশ্যম্ভাবী। এই নতুন দখলদারদের হাত থেকে দেশের মানুষকে স্বাধীন করতে সাহায্য করবে মিসরের মহান সেনাবাহিনী। আল-শুরুক পত্রিকা লিখেছে, মানুষের এই ব্যাপক বিক্ষোভ থেকে মুসলিম ব্রাদারহুড এবং প্রেসিডেন্ট মুরসির কাছে এই বার্তা পৌঁছে যাওয়ার কথা যে তাদের জনপ্রিয়তা ব্যাপকহারে হ্রাস পেয়েছে...বিচারক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, কূটনীতিক এবং সাধারণ জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যখন আপনার বিপক্ষে...এর পরও আপনি জোর করে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন...তখন এ কথা বলা খুবই কঠিন যে আপনিই সঠিক আর অন্যরা ভুল করছে। আল-জুমহুরিয়া পত্রিকা তাদের সম্পাদকীয়তে লিখেছে, জানুয়ারির বিপ্লবের পর থেকে যারা দেশ শাসন করছে এবং দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে, তারা ওই বিপ্লবে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের আশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজপথে নামা মানুষের লক্ষ্য ভেদাভেদ সরিয়ে ঐক্যের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করা। আর মুসলিম ব্রাদারহুডের পত্রিকা আল-হুরিয়া ওয়াল আদালাহ লিখেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে বিক্ষোভ থেকে সহিংসতা ছড়াচ্ছে। এই সহিংসতার পেছনে আছে সাবেক সরকারের সমর্থক, বিরোধী ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্ট, তামারদ ও কট্টরপন্থী ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি এবং বামপন্থীরা। এরা সবাই মিলে বিপ্লবের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চাইছে...এমনকি তাতে যদি গৃহযুদ্ধও বেধে যায়। এ অবস্থায় সেনাবাহিনী ক্ষমতা নিয়ে নেবে এবং তাদের পক্ষে দেশ শাসন করবে। বিবিসি।

মুরসিকে এক দিন সময় দিল বিরোধীরা

প্রেসিডেন্ট মুরসির কাটা চিহ্ন ছবিসংবলিত প্রচারপত্র তুলে ধরেছেন
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পুলিশের এক সদস্য ছবি: এএফপি
মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে পদত্যাগের জন্য গতকাল সোমবার এক দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে তাঁর বিরোধীরা। মুরসি স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে পদত্যাগ না করলে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে তারা। কায়রোর তাহরির স্কোয়ারে রোববার লাখো মুরসিবিরোধীর বিক্ষোভের পর রাতভর রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা চলে। এতে ১৬ জন নিহত হয়। কায়রোয় অবস্থিত ক্ষমতাসীন ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির (এফজেপি) আদর্শিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সদর দপ্তরে গতকাল ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। মুরসিবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন তামারুদ মুভমেন্টের ওয়েসবসাইটে গতকাল দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা মোহাম্মদ মুরসিকে পদত্যাগের জন্য ২ জুলাই মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সময় দিচ্ছি। যাতে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে। এই সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন শুরু করা হবে।’ তামারুদের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিচার বিভাগকে ‘জনগণের ইচ্ছার পক্ষে অবস্থান নিতে’ আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে মুরসি পদত্যাগ না করলে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিরোধী দলের নেতা হামদিন সাবাহি। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তৃতীয় স্থানে থাকা সাবাহি বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীকে অবশ্যই হস্তক্ষেপ করতে হবে। কারণ, তারা সব সময় জনগণের পাশেই থাকে। আর সবচেয়ে ভালো হয়, মুরসি যদি নিজের ইচ্ছাতে পদত্যাগ করেন।’ তবে মুরসির মুখপাত্র এহাব ফাহবি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সংলাপের মাধ্যমেই কেবল আমরা সমঝোতায় পৌঁছতে পারি। জাতীয় সংলাপের জন্য প্রেসিডেন্টের দরজা খোলা আছে।’ কায়রোতে মুসলিম ব্রাদারহুডের সদর দপ্তরে গতকাল সকালে কিছু তরুণ প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভাঙচুরের পর অনেককে ওই কার্যালয়ের আসবাব, টেলিভিশন ও নথিপত্র নিয়ে যেতে দেখা যায়। মিসরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কায়রোসহ দেশজুড়ে গত রোববারের সহিংসতায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক ব্যক্তি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ১৭ এবং আহতের সংখ্যা ৭৮১। আরব বসন্তে প্রায় ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকা শাসক হোসনি মোবারকের পতনের পর মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেন মুরসি। ক্ষমতা গ্রহণের ঠিক এক বছরের মাথায় তাঁকেও ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ইসলামপন্থী মুরসি ক্ষমতায় গিয়ে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা সমাধানে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্স।

আসক্তি থেকেই ইয়াবা বিক্রিতে নারী! by আদনান রহমান

গত কয়েকবছরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব ও বিজিবি কয়েক লাখ পিস ইয়াবার চালান আটক করেছে। অহরহই দেখা যায় চালানগুলোর সাথে নারীদের আটক করা হয়।