Showing posts with label ভারতের প্রধানমন্ত্রী. Show all posts
Showing posts with label ভারতের প্রধানমন্ত্রী. Show all posts

Monday, September 8, 2025

ট্রাম্প-সি কারও সঙ্গে সম্পর্ক টিকল না, একলা চলবেন মোদি? by মুজিব মেশাল ও হরিকুমার

নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণঃ নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে স্বাগত জানাতে লালগালিচা বিছিয়ে দিয়েছিলেন। নিজের দেশে চীনা নেতার সঙ্গে নদীর তীরে দোলনায় বসে গল্প করেছিলেন এই আশায় যে চীনের মতো ভারতও একদিন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করবে।

কিন্তু মোদি ও চিন পিংয়ের সেই দোলনাঝুলনের পরপরই সীমান্তে ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে ভয়ংকর উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। সংঘাত হয়েছিল। সেই সংঘাতের সময় চীন ভারতের অনেকখানি ভূমি দখল করে নিয়েছিল।

ওই ঘটনা মোদিকে বিব্রত করে এবং হিমালয় অঞ্চলের উচ্চভূমিতে কয়েক বছর ধরে হাজার হাজার ভারতীয় সেনা মোতায়েন রাখতে বাধ্য করে। এটি ভারতের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে।

ওই ঘটনার পর মোদি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকলেন। শীতল যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ধীরে ধীরে উষ্ণ হতে থাকা সম্পর্ককে দ্রুত এগিয়ে নিতে মোদি নিজের রাজনৈতিক পুঁজি খরচ করলেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই তাঁর সঙ্গে মোদির এমন সম্পর্ক গড়ে উঠল যে তিনি প্রটোকল ভেঙে হিউস্টনের স্টেডিয়ামে ভরা জনসমাবেশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য ভারতীয় মার্কিন ভোটারদের কাছে ভোট চেয়ে বসলেন।

সেবার ট্রাম্প হেরে যাওয়ার পর জো বাইডেন এলেন। বাইডেন প্রশাসন দলীয় রাজনীতি উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ককে চীনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অংশীদারি হিসেবে আরও সম্প্রসারণ করতে লাগল। মোদি এক যৌথ অধিবেশনে বলেছিলেন, ‘“এ. আই” মানে “আমেরিকা অ্যান্ড ইন্ডিয়া”।’

কিন্তু হঠাৎ ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এসে মোদির জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প ভারতকে নিশানা করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, কারণ, ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনছে। ট্রাম্প ভারতের অর্থনীতিকে ‘মৃত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের নেতৃত্বকে ভারতের সমান মর্যাদা দিয়েছেন; যদিও এর আগে তিনি পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক বলেছিলেন। কিছুদিন আগে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে লড়াই বেঁধে যায় এবং কয়েক দিন পর দুই দেশ অস্ত্রবিরতিতে যায়। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর মধ্যস্থতায়ই ভারত-পাকিস্তান বিরোধ মিটেছে।

এসব ঘটনা ভারতের জন্য এক আত্মসমালোচনার মুহূর্ত তৈরি করেছে। কারণ দেখা যাচ্ছে, আকারে বিশাল ও অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান হলেও ভারতের বিশ্বমঞ্চে ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মোদি স্বীকার করেছেন, এই বাণিজ্যবিরোধের কারণে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।

এখন কিছুটা উষ্ণতা ফেরানোর জন্য চীনের সঙ্গে আবার ভারত যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। সাত বছর পর চলতি মাসের শেষে মোদির চীন সফরের কথা রয়েছে। তবে সীমান্ত সংঘাত ও পাকিস্তানের সামরিক তৎপরতায় চীনের প্রকাশ্য সমর্থন সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়িয়ে রেখেছে। পাশাপাশি চীন ভারতকে বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে সন্দেহের চোখে দেখছে।

মোদি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন। তিনি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা (যিনি নিজেও ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্যবিরোধে আছেন) এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। উভয় পক্ষই ‘ভারত-রাশিয়া বিশেষ ও সুবিধাজনক কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পুতিনের নয়াদিল্লি সফরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে মস্কো গেছেন।

হঠাৎ তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ভারতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বপ্নে কিছুটা ধাক্কা দিয়েছে। দুই পরাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের মধ্যে আটকে পড়েছে ভারত। এরা প্রয়োজনে ভারতকে চাপে রাখতে পিছপা হয় না। তাই ভারত আবার সেই পুরোনো নীতি ‘কৌশলগত স্বনির্ভরতা’য় ফিরতে চাইছে। মানে, কোনো বড় জোটে বেশি জড়িয়ে না পড়ে নিজের মতো করে চলতে চাইছে।

ভারতের সাবেক কূটনীতিক নিরুপমা রাও বলেছেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত দুই দশক ধরে গড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্বের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে। তাই ভারত এখন বাস্তবতা মেনে কৌশল বদলাবে, যাতে নিজের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।

ট্রাম্প যে অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক ভারতের ওপর চাপিয়ে দিলেন, সেটি হয়তো ভারতের ওপর চাপ তৈরি করার কৌশল। ভারত যাতে নতুন বাণিজ্যচুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানতে বাধ্য হয়, সে কারণেই সম্ভবত এই নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এটি রাশিয়াকেও চাপ দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে, যেন তারা ইউক্রেন ইস্যুতে ছাড় দেয়।

রাশিয়ার তেলের ব্যাপারটি আলোচনায় আসার আগেই যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের মধ্যে বাণিজ্যঘাটতি কমানো নিয়ে অগ্রগতি হচ্ছিল। ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে রাজি হয়েছিল। কয়েক দফা আলোচনার পর দুই দেশের মধ্যে প্রথম ধাপের চুক্তি প্রায় ঠিক হয়ে গিয়েছিল। এমনকি ভারত নিজের দীর্ঘদিনের সুরক্ষিত কৃষিবাজারও আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

সাবেক জি-২০ দূত অমিতাভ কান্ত বলেছেন, ট্রাম্প অন্য মিত্রদেশগুলোর সঙ্গেও একই কৌশল ব্যবহার করেছেন। তাই এখনো একটি পারস্পরিক লাভজনক চুক্তির সম্ভাবনা আছে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, বাণিজ্য সমস্যা মিটলেও পারস্পরিক বিশ্বাস পুরোপুরি ফিরবে না।

চীনের আগ্রাসনের ঘটনায় দেখা গেছে, মোদি প্রকাশ্যে তেমন হইচই না করে শান্তভাবে সংকট সমাধানের চেষ্টা করেছেন। সীমান্তে চীনের হামলার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও নৌবাহিনীর সহযোগিতা বাড়ালেও সরাসরি চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হাতিয়ার হয়ে কাজ করা থেকে বিরত থেকেছেন। এ কারণে গত অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প যখন ভারতের ওপর বেশি শুল্ক বসালেন, তখন মোদি স্পষ্টভাবে বললেন, ভারত তার কৃষক, জেলে ও দুগ্ধশিল্পীদের স্বার্থে কোনো আপস করবে না। তিনি জানেন, এর জন্য তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে বড় রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে। তবু তিনি প্রস্তুত।

আসলে রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে বিরোধ শুরু হওয়ার আগেই সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল। বছরের শুরুতে ভারত-পাকিস্তানের সীমান্তে গোলাগুলির পর ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি দুই দেশকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করিয়েছেন।

পাকিস্তান এ দাবিকে স্বাগত জানায়, এমনকি নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পকে মনোনীত করে। কিন্তু ভারত এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করে এবং দেখাতে চায়, মোদিই সামরিক শক্তি দিয়ে পাকিস্তানকে পিছু হটতে বাধ্য করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যার মূল কারণ হলো এখন দুই দেশের সম্পর্ক রাষ্ট্রের বদলে দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর নির্ভর করছে। ট্রাম্প আর মোদি দুজনই খুব ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও অহংকারী স্বভাবের। তাই সম্পর্কের ভাঙন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

* মুজিব মেশাল, দ্য টাইমসের দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরোর প্রধান ও হরি কুমার, দিল্লিভিত্তিক সাংবাদিক
- নিউইয়র্ক টাইমস থেকে নেওয়া ইংরেজি থেকে অনূদিত

সি চিনপিং, নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
সি চিনপিং, নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স

Thursday, April 17, 2025

মোদির নতুন চাল by অজয় আশীর্বাদ মহাপ্রশস্ত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজনীতিতে এমন সব পদক্ষেপ নিচ্ছেন যেগুলো যতটা না সরকার পরিচালনা, তাঁর চেয়ে বেশি নিজের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের কৌশল বলে মনে হয়। সাম্প্রতিক ওয়াক্‌ফ সংশোধনী বিল তাঁর সর্বশেষ চেষ্টার একটি দৃষ্টান্ত। এর সাংবিধানিক তাৎপর্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এর রাজনৈতিক ইঙ্গিতও গভীর।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া মোদির জন্য বড় ধাক্কা। এক দশকের বেশি সময় ধরে যে একচ্ছত্র ক্ষমতা তিনি ভোগ করছিলেন, এই নির্বাচন তাকে হঠাৎ করেই প্রশ্নবিদ্ধ করে দিয়েছে। এমন অবস্থায় মোদির সামনে মূল চ্যালেঞ্জ, কীভাবে এই পরাজয়ের অভিঘাত ধুয়েমুছে আবারও নিজেকে অপ্রতিরোধ্য হিসেবে তুলে ধরা যায়।

এর জবাবে তিনি বেছে নেন পুরোনো পথ—জনগণকে জীবনের মৌলিক সমস্যা থেকে দূরে সরিয়ে রাখার রাজনীতি। মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানহীনতা, অর্থনীতির অস্থিরতা কিংবা আদমশুমারির মতো মৌলিক কর্তব্য—সবই চাপা পড়ে যায় ‘দেশদ্রোহীদের’ বিরুদ্ধে একাত্মতার ডাক, বা ‘হিন্দু-মুসলিম’ বিভাজনের রণহুংকারে।

২০২৪ সালে আয়োজিত অযোধ্যার রামমন্দিরের উদ্বোধনকেও মোদি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। কিন্তু তার ফল হয় উল্টো। বিজেপি অযোধ্যার কেন্দ্র ফৈজাবাদে হেরে যায়। উত্তর প্রদেশে সমাজবাদী পার্টি বিজেপিকে ছাপিয়ে যায়। মহারাষ্ট্রেও বিজেপির অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে।

এই পটভূমিতে, মোদি তৎপর হন নিজের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনে। শুরু হয় এক বিস্তৃত প্রচারাভিযান। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল, পরাজয় ও হতাশার স্মৃতি ধুয়ে ফেলা। সংসদে নিজের প্রথম ভাষণেই তিনি বলেন, যাঁরা তাঁর সমালোচনা করছেন, তাঁরা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এর পর থেকে প্রতিটি বক্তৃতায় তিনি একই বার্তা দেন; মোদি মানেই দেশ, দেশ মানেই মোদি।
এই বার্তা ছড়াতে গিয়ে বিজেপি তিনটি কৌশল নেয়। প্রথমত, তারা নিজেদের ভোটে হারার কারণ হিসেবে ‘অপপ্রচার’ আর ‘ভ্রান্ত তথ্য’কে দোষারোপ করে।

দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় সরকারের শক্ত অবস্থানকে নতুন করে জোর দিয়ে তুলে ধরে। মানে, শক্ত হাতে দেশ চালানোই মোদির একমাত্র পথ।

তৃতীয়ত, হেরে যাওয়া রাজ্যগুলোয় বিজেপি জোরালোভাবে ফিরে আসার চেষ্টা চালায়। হরিয়ানায় বিরোধীদের ঘায়েল করে আবার ক্ষমতায় আসে। মহারাষ্ট্রে নজিরবিহীন জয় পায় এবং জম্মু অঞ্চলেও ভালো ফল পায়।

এদিকে উত্তর প্রদেশে লোকসভা নির্বাচনের পরপরই হিন্দু-মুসলিম বিভাজনমূলক বক্তব্য ও ঘটনার পরিমাণ হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এমনকি হোলি-দীপাবলির মতো উৎসবগুলোও ব্যবহার করা হয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণার রাজনীতি ছড়াতে। রাজ্য উপনির্বাচনে মুসলিম ভোটারদের বাধা দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ আবারও নিজেকে ‘হিন্দুত্বের কঠোর রূপ’ হিসেবে তুলে ধরেন।

এরপর মোদির আরও একটি কৌশল নজরে আসে—আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন। লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা বলেছিলেন, তাদের আর আরএসএসের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। এর জবাবে সংঘ পরিবার লোকসভায় সক্রিয় ভূমিকা নেয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। অবশেষে মোদি নিজেই প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাগপুরে আরএসএস সদর দপ্তরে যান, নিজের আনুগত্য জানান। এটি ছিল এক প্রতীকী পদক্ষেপ। তিনি দেখাতে চাইলেন যে সংঘ পরিবার ও বিজেপি এখন আবার এক সুরে কথা বলছে।

আর ঠিক সেই সময়েই আসে ওয়াক্‌ফ সংশোধনী বিল। এটি সংসদে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে পাস হয়। মোদি সরকারের ১১ বছরের শাসনে এটা বিরল ব্যপার। এর আগে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল কিংবা তিন তালাক আইন কার্যকর করার সময় এমন আলোচনা হয়নি।

বিলটি মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থের পরিপন্থী হলেও বিজেপি এটিকে ‘মুসলিমদের কল্যাণের আইন’ হিসেবে তুলে ধরে। বিজেপির একমাত্র মুসলিম সাংসদ গুলাম আলি সংসদে বক্তব্য রাখলেও বিলটির পক্ষে নয়, বরং কংগ্রেসের বিরোধিতা করেই সময় কাটান।

মোদির লক্ষ্য ছিল অন্য জায়গায়। তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও তিনি এখনো আইন পাস করাতে পারেন। জেডিইউ, টিডিপি, লোক জনশক্তি পার্টির মতো ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ মিত্রদের ভোট তাঁকে সেই সুযোগ দেয়।

এই বিলের মাধ্যমে মোদি বার্তা দেন যে তিনিই এখনো সংসদ ও দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি। তবে তাঁর এই শক্তি প্রদর্শনের কৌশল বাস্তব সমস্যাগুলো ঢেকে রাখার চেষ্টা হিসেবেই দেখতে হবে।

ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে অস্থির। মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্ব বেড়েছে। আদমশুমারি ও নারীদের জন্য সংরক্ষণ বিলের এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। দক্ষিণের দ্রাবিড় দলগুলো বিজেপির হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিচ্ছে। আদালতগুলোও এখন কিছুটা সক্রিয়ভাবে কেন্দ্রের স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতাকে প্রশ্ন করছেন। যেমন সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের আইন পাস আটকে রাখাকে ‘অবৈধ’ বলেছেন।

তা ছাড়া বিজেপি যেসব রাজ্যে জিতেছে, সেখানেও তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের হাল ভালো নয়। মহারাষ্ট্রে ‘লাড়কি ব্যাহেন’ প্রকল্প এখনো কাগজেই রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে মোদির এই রাজনৈতিক প্রতিচিত্র নির্মাণের চেষ্টাগুলো যেন পুরোনো কৌশলেরই আধুনিক পুনরাবৃত্তি; হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্ব, জাতীয়তাবাদের ঢাকঢোল, বিরোধীদের দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করা এবং নিজেকে অদ্বিতীয় হিসেবে জাহির করা। এই পুরো প্রচেষ্টা যেন সেই পুরোনো বার্তাটিকেই আবার নতুন করে প্রতিষ্ঠা করতে চায়—মোদি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। যাকে বলে দেয়ার ইজ নো অল্টারনেটিভ (টিআইএনএ)।
কিন্তু এই কৌশল কত দিন চলবে? মোদি কি সত্যিই সব প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে পারবেন? বৈশ্বিক পরিস্থিতি, দেশীয় বাস্তবতা আর তাঁর জনপ্রিয়তার ধস কি শেষ পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে?

বিরোধী দলগুলোর বিভাজন মোদিকে সহায়তা করছে, এ কথা ঠিক। কিন্তু ভারতের গণতন্ত্রের জন্য তা আশঙ্কাজনক। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ‘ইন্ডিয়া’ জোট প্রথম যৌথ বৈঠক করে শক্তিশালী বিরোধী জোট গঠনের ইঙ্গিত দেয়। তখন অনেকে আশা করেছিলেন যে এই মোদিবিরোধী শক্তি এবার নতুন বার্তা নিয়ে আসবে। কিন্তু এরপর তারা আর একবারও একসঙ্গে বসেনি। ব্যতিক্রম শুধু ডিএমকে, যারা দ্রাবিড় জাতীয়তাবাদের অবস্থান বজায় রেখেছে। ওয়াক্‌ফ বিল নিয়ে প্রতিবাদের সময় কিছুটা ঐক্য দেখা গেছে। কিন্তু সেটা ছিল যেন পরিকল্পনাহীন প্রতিক্রিয়া।

এই ভঙ্গুর বিরোধিতার ফাঁকে মোদি তাঁর পুরোনো কৌশলে আবারও সফল। তিনি বিরোধীদের সাংবিধানিক জাতীয়তাবাদের বক্তব্যকে ব্যাহত করে দিয়েছেন। অথচ গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য সেই কথাগুলোরই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
তবু বড় প্রশ্ন থেকেই যায়: কত দিন মোদি এই চালগুলো খেলতে পারবেন? কত দিন তিনি দেশের প্রকৃত সমস্যাগুলো থেকে মানুষের চোখ ঘুরিয়ে রাখতে পারবেন?
সময়ের পালাবদলে সেই উত্তরও ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

* অজয় আশীর্বাদ মহাপ্রশস্ত দা ওয়্যারের রাজনীতিবিষয়ক সম্পাদক
- দা ওয়্যার থেকে নেওয়া ইংরেজির অনুবাদ

নরেন্দ্র মোদি
নরেন্দ্র মোদি। ছবি: এএফপি

Sunday, September 15, 2024

বাছুর কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মোদি

বাড়িতে ঘটেছে নতুন অতিথির আগমন। তাকে নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায়- সদ্য জন্ম নেওয়া গরুর বাছুরটিকে সঙ্গে নিয়ে ঘরের মধ্যে হাঁটছেন নরেন্দ্র মোদি।

এরপর বাছুরটির গলায় একটি মালা এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন পূজায় উপবিষ্ট মোদি। এ সময় সদ্যজাত বাছুরটিকে কোলে তুলে নিয়ে চুমুও দেন তিনি।

এক্সে পোস্ট করা ওই ভিডিওর পরের সিকোয়েন্সে দেখা যায়- অভিজাত একটি সোফায় বাছুরটিকে নিয়ে বসে আছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তার ডানকোলে শুয়ে আছে প্রাণীটি। এ সময় এটির কপালে হালকা করে হাত বুলিয়ে দেন মোদি। বাছুরটিও চুপচাপ নিচ্ছিল এই উষ্ণ আদর।

এরপর ফিল্মি কায়দায় বাছুরটিকে কোলে নিয়ে ঘর থেকে বের হতে দেখা যায় নরেন্দ্র মোদিকে। পরের অংশেই দেখা যায়- গাছপালাবেষ্টিত একটি উদ্যানে আদুরে সদ্যজাত বাছুরটিকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।

ভিডিওর ক্যাপশনে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, বাছুরটির মাথায় রয়েছে সাদা একটি দাগ। যেটির সঙ্গে আলোর সাদৃশ্য রয়েছে। আর মাথায় সুন্দর দাগ থাকায় তিনি বাছুরটির নাম দিয়েছেন ‘দীপজ্যোতি’। 

বাছুর কোলে নিয়ে হাঁটছেন নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত
বাছুর কোলে নিয়ে হাঁটছেন নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত

Friday, September 13, 2024

ইউনূস-মোদি বৈঠক হবে কি?

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের মতো বিতর্কিত বিষয় নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতে রাজি  নন। দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক ‘অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি ইস্যু’ হয়ে উঠেছে।  কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যেকোনো আলোচনার  জন্য ভারতকে আগে যে বিষয়ে ফোকাস করতে হবে তারা এই মুহূর্তে সেই বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইছে। তাদের মধ্যে প্রধান হলো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে উপস্থিতি। কুগেলম্যান  উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের কথা বলেছিল। কিন্তু  দিল্লি তাকে ছাড়তে রাজি হয়নি দেশের অনেক নেতার সঙ্গে হাসিনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে। মোদি যদি ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতেন, তাহলে এই ইস্যুতে আলোচনা এড়ানো তার পক্ষে অসম্ভব ছিল। ভারতীয় মিডিয়া গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে, দিল্লি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি- তারা মোদি এবং ইউনূসের মধ্যে বৈঠকের জন্য ঢাকার অনুরোধে সাড়া দেবে কিনা। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেয়ার জন্য এই মাসের শেষের দিকে দু’জনেরই নিউ ইয়র্কে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। গত মাসে প্রথমে মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ড. ইউনূস এবং তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে- অন্তর্বর্তী সরকার ‘বাংলাদেশের হিন্দু এবং সমস্ত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেবে’। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন রোববার বলেছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে যেকোনো বৈঠক করার জন্য ‘নির্দিষ্ট পদ্ধতি’ অনুসরণ করতে হবে। কারণ এই ধরনের আলোচনা আগে থেকে পরিকল্পনা করা হয়নি।

ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহ শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের শাসনকে উৎখাত করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গত ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান, ড. ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব দেয়া হয়।  রোববার, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বলেছে, আগস্টে গণবিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষ যে মারাত্মক সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছিল সেই বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য হাসিনার  ভারত থেকে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। হাসিনা প্রাথমিকভাবে অল্প সময়ের জন্য ভারতে থাকবেন বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে যে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে আশ্রয় নেয়ার তার প্রচেষ্টা এখনো পর্যন্ত সফল হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, ‘মোদি-ইউনূস বৈঠক যত তাড়াতাড়ি হবে তা দিল্লির জন্যই মঙ্গল। দিল্লিকে বাস্তবতা মেনে নিতে হবে এবং ‘বাংলাদেশ ২.০’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে, যা ভারতের সমীকরণে কখনোই ছিল না।’ ইয়াসমিন মনে করেন, প্রথম বৈঠকের লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘পরিবর্তিত বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেয়া এবং উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলানো। কারণ ভারত হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের উপর বাজি ধরেছিল এবং বাংলাদেশিদের ‘স্পন্দন বোঝার’ চেষ্টা করেনি।

ভারতের জন্য এটা উপলব্ধি করার সময় এসেছে যে, শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা যায় না। ভারতের ৫৩ বছরের বাংলাদেশ নীতিতে দূরদর্শিতার অভাব ছিল বলে উল্লেখ করে ইয়াসমিন জানাচ্ছেন, ‘ভারত এর বাইরে কিছু দেখতে চায়নি, তারা বাস্তবতা থেকে তাই অনেক দূরে ছিল।’ সামপ্রতিক ঘটনাগুলো ভারতের কাছে তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে একটি নতুন  দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পর্ক স্থাপনের বার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে। যদি ভারত একটি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আশা করে, তাহলে দক্ষিণ এশিয়াকে ‘পরিচালনা’ করার পরিবর্তে, এই অঞ্চল থেকে ‘সম্মতির’ প্রয়োজন হবে ভারতের।

হাসিনা তার শাসনামলে ভারতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। জুলাই মাসে তার দিল্লি সফরের সময় সামুদ্রিক সহযোগিতা, ডিজিটাল অংশীদারিত্ব এবং মহাকাশ প্রযুক্তি থেকে রেল সংযোগের ক্ষেত্রে দশটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে তার শাসনকালের সময়টি জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং বিরোধীদের দমনের অভিযোগের দ্বারা বিদ্ধ। তার বিরুদ্ধে দেশটির গত তিনটি সাধারণ নির্বাচনে কারচুপি করার অভিযোগও আনা হয়েছিল, যার মধ্যে সর্বশেষ জানুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি  চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছিলেন। ভারত অবশ্য নির্বাচনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়ে অনেক বাংলাদেশিকে ‘ইন্ডিয়া আউট’ প্রচারাভিযান শুরু করতে প্ররোচিত করেছে। কারণ তারা দিল্লিকে নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য হাসিনাকে সমর্থন করার অভিযোগ তুলেছেন। ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সহযোগী ফেলো সোহিনী বোস বলেন, ‘দিল্লি যখন শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করেছিল, তখন সম্পর্কটি পারস্পরিক  নির্ভরতার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল। বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে ভারতকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ‘অনিবার্যভাবে’ একটি কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।’ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত ‘সূক্ষ্ম’ একটি বিষয় হওয়ায়, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ‘তাড়াহুড়ো’ না করার পরামর্শ দিচ্ছেন সোহিনী বোস। তার মতে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করার সর্বোত্তম উপায় হলো সংযোগ এবং শক্তি প্রকল্পগুলোতে মনোনিবেশ করা। গত নভেম্বরে, দুই দেশ ভারতের সহায়তায় নির্মিত তিনটি প্রধান সংযোগ ও শক্তি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছে, যার মধ্যে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি রেললাইন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কুগেলম্যান বলছেন- ‘যদি দু’দেশের সম্পর্ক বরফ কঠিন হয়ে যায় তাহলে সীমান্ত নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা চালানো কঠিন হয়ে যাবে।’ বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার, অন্যদিকে ভারত এশিয়ায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে ১.৯৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যেখানে মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল ১৪.০১ বিলিয়ন ডলার। কুগেলম্যানের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের নিজ নিজ রাষ্ট্রদূতদের অবিলম্বে তাদের স্বাগতিক সরকারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে, যাতে তারা ‘উচ্চ পর্যায়ের সংযোগের পথ প্রশস্ত’ করতে পারে। হাসিনা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে গভীর পরিবর্তন এসেছে  তার পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কতোদূর যেতে পারে তার সীমাবদ্ধতা থাকবে। অদূর ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগকে ‘আলোচনার বাইরে’ রেখে কুগেলম্যান বলছেন, যে বাংলাদেশি রাজনৈতিক দলগুলো শূন্যস্থান পূরণ করবে তাদের  সমালোচনা, কিছুক্ষেত্রে শত্রুতারও সম্মুখীন হতে পারে ভারত। ঢাকা যুক্তি দিতে পারে যে, এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক ‘উষ্ণ না হলেও’, দু’দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। কিন্তু কুগেলম্যান মনে করেন এটি ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয় হবে। হাসিনার যুগে ভারত যে গভীর, কৌশলগত অংশীদারিত্ব উপভোগ করেছিল, সেই সম্পর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম। নতুন সম্পর্ক সম্ভবত আরও লেনদেনমূলক এবং কৌশলী হবে।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
mzamin

Thursday, September 5, 2024

আদানিদের বিপুল ঋণ মওকুফ করে প্রশ্নের মুখে মোদি সরকার

আদানি প্রীতির জন্য আবারো বিরোধীদের তোপের মুখে মোদি সরকার ! এবার  কংগ্রেসের দাবি, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদির সরকার দেউলিয়া আইনের অপব্যবহার করে আদানি গোষ্ঠীর অধীনস্থ ১০টি ধুঁকতে থাকা সংস্থার প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ( ভারতীয় মুদ্রায় ) ঋণ মওকুফ করেছে ।কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এক্স হ্যান্ডেলে দাবি করেছেন, অল ইন্ডিয়া ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন, সর্বজনীনভাবে উপলব্ধ ডেটার মাধ্যমে প্রকাশ করেছে যে, কীভাবে সরকারী খাতের ব্যাংকগুলি ১০ টি আর্থিকভাবে চাপে থাকা সংস্থাগুলির কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা মাত্র ১৬ হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতির সহজ ভাষায় যাকে বলা হয় ৭৪ শতাংশ 'হেয়ারকাট'। প্রধানমন্ত্রীর প্রিয় পাত্র আদানি ওই সব সংস্থাকে হাতে নেওয়ায় ব্যাঙ্কগুলিকে অত কম টাকা নিতে বাধ্য করা হয়েছে।অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি অনুযায়ী, টাকা দিতে না পারায় দেউলিয়া আদালতে থাকা ১০টি সংস্থার ৬১,৮৩২ কোটি টাকার বকেয়া ঋণ মাত্র ১৫,৯৭৭ কোটিতে রফা করেছে ঋণদাতা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি। অর্থাৎ মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে ৪৫৮৫৫ কোটি টাকা। সবটাই করা হয়েছে আদানি গোষ্ঠী এই সংস্থাগুলি অধিগ্রহণ করার পর। ওই ব্যাঙ্ক কর্মীদের সংগঠনটির দাবি, ওই ১০টি সংস্থা ঋণে ৪২ শতাংশ থেকে ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছে।ব্যাংক কর্মচারি সংগঠনের সভাপতি রাজেন নাগরের অভিযোগ, মোদি সরকার সম্ভাব্য সব উপায়ে আদানিদের সাহায্য করছে। সেজন্য দেউলিয়া আইনকেও ব্যবহার করা হচ্ছে। লোকসান সহ্য করতে বাধ্য করা হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিকে। নাগর বলেন, “অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম টাকা না থাকলে মানুষকে জরিমানা করতে ছাড়ে না ব্যাঙ্কগুলি। এ ভাবে পাঁচ বছরে ৮৫০০ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছে। দেখে মনে হচ্ছে, গরিবদের লুঠ করে ধনীদের বিলিয়ে দেওয়ার নীতিই অবলম্বন করেছে মোদি  সরকার।’’


সূত্র : ইকোনোমিক টাইমস

Saturday, November 8, 2014

ভারতে ২০ কোটি নববধূর বেনারসি প্রয়োজন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বেনারসি শাড়ির বিক্রি বৃদ্ধির জন্য তাঁতী ও ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিলেন। বারাণসী মোদির নিজের নির্বাচনী এলাকা। সেখানকার উন্নয়নের জন্য তিনি বেনারসি শাড়ি ব্যবহার করতে চাইছেন। বাজার চাহিদার কথা বলতে গিয়ে মোদি বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চলা ২০ কোটি মেয়ের জন্য ২০ কোটি বেনারসি শাড়ি প্রয়োজন হবে। এ চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বেনারসি শাড়ির বাজার সম্প্রসারিত করতে ই-কমার্স ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে ভোক্তা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, এ কাজে সফল হতে কারখানাগুলো সংস্কার করতে হবে। তাঁতীদের উদ্দেশে মোদি বলেন, সব মা-ই তার মেয়ের বিয়েতে অন্তত একটি বেনারসি শাড়ি চান... আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ২০ কোটি মেয়ের বিয়ে হবে। এনডিটিভি