Friday, August 29, 2014

শিক্ষা না বেকার তৈরির কারখানা? by সোহরাব হাসান

একটি চমকে ওঠা তথ্য দিয়েই লেখাটি শুরু করছি। লন্ডনের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) তথ্যমতে, বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের হার সবচেয়ে বেশি। প্রতি ১০০ জন স্নাতক ডিগ্রিধারী তরুণ-তরুণীর মধ্যে ৪৭ জন বেকার। ভারত ও পাকিস্তানে প্রতি ১০ জন শিক্ষিত তরুণের তিনজন বেকার। আর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলছে, বেকারদের মধ্যে চিকিৎসক-প্রকৌশলীদের হার ১৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। নারী চিকিৎসক-প্রকৌশলীদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৩১ শতাংশ। এর পরই আছেন উচ্চমাধ্যমিক ডিগ্রিধারীরা। তাঁদের ক্ষেত্রে বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০টি সর্বাধিক বেকারত্বের দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বাদশ।
শিক্ষিত বেকারের এই অসম্ভব বৃদ্ধির কারণ কী? কারণ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা। আমরা যে শিক্ষা দিচ্ছি, তা না পারছে নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধ তৈরি করতে, না পারছে সময় ও যুগের চাহিদা মেটাতে। আমাদের সমাজে যারা স্বল্পশিক্ষিত কিংবা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত, তারা যেকোনো একটি কাজ পেলেই খুশি হন। কিন্তু শিক্ষিত তরুণদের রয়েছে কায়িক পরিশ্রমের প্রতি প্রচণ্ড অনীহা। সমাজও তাদের হেয় চোখে দেখে।

আগে চাকরি না পেয়ে গ্রামের শিক্ষিত বেকারেরা মিলে একটি স্কুল বা কলেজ করে আরও বেশ কিছু বেকার তৈরি করতেন। এখন স্কুল-কলেজে পড়ে চাকরির সুযোগ যেহেতু কম, সেহেতু পাড়ায় পাড়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলছেন একশ্রেণির স্বঘোষিত শিক্ষা অনুরাগী। যাঁদের প্রধান লক্ষ্য বাণিজ্য, ব্যতিক্রম অবশ্যই আছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ চৌধুরী বলেছেন, কালিমালিপ্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেশি নয়, কম। একটি কালিমালিপ্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও তার উচিত ইউজিসির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানো। কেননা, তাঁকে কালিমালিপ্ত কোনো বেসরকারি বা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দেখভাল করার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কালিমামুক্ত করতে। সম্প্রতি টিআইবি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করলে তিনি তাকে হাস্যকর বলে উপহাস করেছিলেন। পরে তাঁর অফিসের এক কর্মকর্তাই এই অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হন। বালুতে মুখ গুঁজে ঝড় ঠেকানো যায় না।
পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই ১০-১৫ বছর পর পর শিক্ষা পাঠ্যক্রম হালনাগাদ করা হয়। বাংলাদেশে ৪০ বছর ধরে অধিকাংশ বিষয়ের পাঠ্যক্রম অটুট রাখা হয়েছে। কেবল সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে নেতাদের ছবি ও জীবনী বদল হয়। এই ছবি ও জীবনী বদলের শিক্ষা সমাজ ও জীবন—কোনোটারই চাহিদা মেটাতে পারে না।
২.
চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৮৭ হাজার। এদের মধ্যে পাস করেছে ৯২.৬৭ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে প্রায় সোয়া লাখ। একই বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল নয় লাখ ১৪ হাজার ৬০৩ জন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ছয় লাখ ৯২ হাজার ৬৯০।
এই যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী প্রতিবছর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস করে বের হচ্ছে, তারা কোথায় যাচ্ছে? এসএসসি উত্তীর্ণদের বড় অংশ এইচএসসিতে ভর্তি হয় এবং এইচএসসিতে উত্তীর্ণদের বড় অংশ স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হয়। তারপর? পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে মেধাবীরা ভর্তি হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পাস করে বের হবেন, সেই নিশ্চয়তা নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজে যাঁরা ভর্তি হন, তাঁদের চার বছরের কোর্স শেষ করতে সাত বছর লেগে যায়। এরপর মাস্টার্স করতে আরও দেড়-দুই বছর। পড়া শেষ না হতেই চাকরিতে প্রবেশের মেয়াদ শেষ। কমবেশি সেশনজট আছে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই যে মেধা ও তারুণ্যের অপচয়, এর প্রতিকার কী?
প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষার সিঁড়ি পার করলেও জীবনের সিঁড়ি তাঁরা পার হতে পারেন না। হয়তো এমন বিষয়ে পড়েন যার ব্যবহারিক চাহিদা প্রায় শূন্য। আবার এমন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে বের হন যখন চাকরির মেয়াদ পার হয়ে যায়। সরকার শিক্ষানীতি, পরীক্ষাপদ্ধতি ও প্রশ্নপত্র নিয়ে যত মাথা ঘামাচ্ছে, তার সিকি ভাগ সমাজের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাকে মেলানোর চেষ্টা করছে না। ফলে আমরা শিক্ষার নামে বেকার জনশক্তি তৈরি করছি। পাঠ্যক্রম থেকে শুরু করে পরীক্ষাপদ্ধতি নিয়ে বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা হলেও আমাদের শিক্ষা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। শিক্ষার উন্নয়নে চাই নিরন্তর অধ্যবসায়, অনুশীলন ও সময়ের চাহিদা মাফিক পরিবর্তন। কিন্তু রাষ্ট্রের কর্ণধারেরা তাঁদের ব্যক্তিজীবনে যেমন, রাষ্ট্রীয় জীবনেও তেমন অধ্যবসায় ও পরিবর্তনকে ভয় পান।
৩.
বাংলাদেশে অনেক ধরনের অপচয় আছে। সরকারি উন্নয়নকাজে অপচয় আছে, পরিবহন-ঠিকাদারিতে অপচয় আছে। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের নামে শ্রম ও অর্থের অপচয় আছে। নেতাদের নামে ব্যানার-তোরণ নির্মাণে অপচয় আছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি অপচয় হলো তারুণ্যের মেধা ও শক্তিকে কাজে লাগাতে না পারা। এমনকি কাজে লাগানোর তেমন চেষ্টাও নেই। একজন শিক্ষিত তরুণ বা তরুণীর পেছনে তাঁর পরিবারের যেমন বিনিয়োগ থাকে, তেমনি থাকে রাষ্ট্রের বা জনগণের বিনিয়োগও। এই বিনিয়োগ উঠিয়ে আনার উত্তম উপায় হলো চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ একটি শিক্ষাব্যবস্থা। আমরা কর্মক্ষম জনশক্তির বদলে কর্ম-অক্ষম জনশক্তি তৈরি করছি বিপুল অর্থ ও বিশাল যজ্ঞের মাধ্যমে। প্রতিবছরই সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ও শিক্ষার্থীদের পাসের হার বেড়ে চলেছে। কিন্তু সেই তুলনায় চাকরির সুযোগ বাড়ছে না।
প্রতিবছর এই যে লাখ লাখ শিক্ষিত তরুণ-তরুণী শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশের অপেক্ষায় আছেন, রাষ্ট্রনেতারা তাঁদের নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান বলে মনে হয় না। দেশে যেহেতু বিনিয়োগের ক্ষেত্র সীমিত, সেহেতু বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কম। বিদেশে কর্মসংস্থান করার মতো প্রশিক্ষণ ও দক্ষতাও অনেকের নেই। ফলে তাঁরা দুঃসহ বেকারত্বের বোঝা বহন করেন বছরের পর বছর। যাঁদের যেটুকু সম্ভাবনা আছে, তাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সরকারের ভুল নীতি ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে।
পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক চলে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি ছিল, কোটা-পদ্ধতি হ্রাস করে মেধাবী তরুণদের সুযোগ বাড়ানোর। কিন্তু ৪০ বছরেও রাষ্ট্র এ বিষয়ে একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষাপদ্ধতি সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে, তা কতটা মেধাবী তরুণদের জায়গা করে দেবে আর কতটা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করবে, বলা কঠিন। প্রতিবছরই বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও পরীক্ষাপদ্ধতি সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষার পর গত ১০ মাসেও বিজ্ঞপ্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এত দিন পাবলিক পরীক্ষার জট ছিল, এখন বিসিএস পরীক্ষায়ও জট দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য নানা রকমের কোটা ও পরীক্ষাপদ্ধতি আবিষ্কার করেন। কিন্তু তাঁরা মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে কোনো ব্যবস্থা নেন না। প্রশাসনে ও শিক্ষাঙ্গনে মেধাবীদের ধরে রাখার চেষ্টা করেন না।
দেশের লাখ লাখ শিক্ষিত তরুণ গভীর হতাশায় ভুগছেন এ কারণে যে তাঁদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে চাকরির পরীক্ষায় বসারও সুযোগ নেই। চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছিল সাধারণ ছাত্র পরিষদ। এই পরিষদের সভাপতি আল আমিন রাজুসহ কয়েকজন প্রথম আলো কার্যালয়ে এসেছিলেন তাঁদের দাবিদাওয়া জানাতে। তাঁদের মূল দাবি, চাকরির বয়সসীমা ৩০ থেকে ৩৫ বছর করতে হবে। এ ব্যাপারে তাঁরা বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ স্পিকার থাকাকালে তাঁর কাছে ধরনা দিয়েছিলেন। তিনি তাঁদের আশ্বস্তও করেছিলেন। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবে রূপ নেয়নি। স্পিকার হিসেবে তাঁর যে ক্ষমতা ছিল, রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিশ্চয়ই কিঞ্চিত বেড়েছে।
আমরা এই তরুণদের চোখেমুখে গভীর হতাশা ও ক্লান্তি লক্ষ করছি। রাজপথে আন্দোলন করে তাঁরা পুলিশের লাঠিপেটা খেয়েছেন। কিন্তু নীতিনির্ধারকদের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো ফল পাননি। এভাবে আমরা কি একটির পর একটি প্রজন্ম নষ্ট হতে দিতে পারি? পারি না। তাহলে কেন এসব ম্লানমুখ তরুণদের কথা ভাবি না? এই তরুণেরা তাঁরা বাড়ি যেতে পারছেন না লজ্জায়, মা-বাবার কাছে টাকা চাইতে পারছেন না, মেস ভাড়া করে থাকার পয়সা নেই৷ তাই আজ এ-বন্ধুর মেসে, কাল ও-বন্ধুর বাসায় ক্ষণিকের আশ্রয়ী হয়ে থাকেন। তাঁরা জানিয়েছেন, কেউ কেউ রেলস্টেশন কিংবা বাস টার্মিনালেও রাত কাটাচ্ছেন। কয়েক দিন আগে পত্রিকায় পড়লাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা এক তরুণ চাকরি না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কেবল একজন নন, বহু শিক্ষিত তরুণ চাকরি না পেয়ে, জীবনের দিশা হারিয়ে এভাবে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন, কেউ বা লিপ্ত হচ্ছেন অনৈতিক ও অপরাধমূলক কাজে।
আমরা যখন এই তরুণদের হতাশার কথা লিখছি, তখন রাজনীতি-আশ্রয়ী আরেক শ্রেণির তরুণ মারামারি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত। রাজনীতির বড় ভাইয়েরা, সাবেক ও বর্তমান সাংসদেরা তাঁদের প্রভাববলয় বাড়াতে তরুণদের ব্যবহার করছেন। কেউ ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য, কেউ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। এই শিক্ষিত বেপথু তরুণেরা সব সময়ই ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হন। কিন্তু এর বাইরে যে লাখ লাখ তরুণের জীবনের কোনো গন্তব্য নেই, নিশানা নেই; সংসারে তাঁরা পরিত্যাজ্য, রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে অচ্ছুত।
এই তরুণেরা কোথায় যাবেন? তবে এ-ও সত্য যে চাকরির বয়সসীমা বাড়ানো সুষ্ঠু সমাধান নয়। তরুণদের দাবি, সময়মতো শিক্ষাজীবন শেষ করাতে হবে, চার বছরের অনার্স কোর্স সাত বছরে শেষ করা চলবে না। পৃথিবীর আর কোনো দেশে এ রকম অদ্ভুত ও আত্মঘাতী নিয়ম আছে বলে জানা নেই। প্রতিযোগী ভারত বা শ্রীলঙ্কায় যেখানে একজন শিক্ষার্থী ২২-২৩ বছরে শিক্ষাজীবন শেষ করেন, সেখানে বাংলাদেশে ২৯-৩০ বছর কেন লাগে? এই অপচয়ের কী যুক্তি আছে? দয়া করে মাননীয় ও মাননীয়ারা জানাবেন কি?
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabo3@dhaka.net

ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর নীরবতা by যশবন্ত সিং

দুনিয়াটা মনে হচ্ছে ভূরাজনীতির নৈতিক স্খলনের খপ্পরে পড়েছে। কোনো নেতা, গ্রুপ বা প্রতিষ্ঠান দুনিয়ায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারবে, এমনটা মনে হচ্ছে না। অনেকেই আবার এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে শতবর্ষ আগের প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের একটা মিল দেখতে পাচ্ছেন।
হ্যাঁ, নিশ্চিতভাবেই চলমান ঘটনাপ্রবাহ ও সেই চরম সময়ের মধ্যে একটা অদ্ভুত মিল দেখা যাচ্ছে। ইউক্রেনে মালয়েশীয় বিমানের ভূপাতিত হওয়ার সঙ্গে ১৯১৪ সালে আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দের হত্যার ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে। আর কূটনৈতিক লড়ালড়ি যে খুব দ্রুতই সহিংসতায় পর্যবসিত হতে পারে, সে কথা না হয় আর পুনরুক্তি না-ই করলাম।
রাশিয়ার ক্রিমিয়া অধিগ্রহণ ও পূর্ব ইউক্রেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন সত্ত্বেও বিমান সংস্থাটি তার প্রচলিত রুট পরিবর্তন করার কথা ভাবেনি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ভয়ংকর ঘটনাপ্রবাহের প্রতি কীভাবে সাড়া দিচ্ছে, তা এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায়। পূর্ব ইউক্রেনে রুশ বাহিনী বিক্ষুব্ধতায় সরাসরি অংশ নিচ্ছে। ফলে ভ্লাদিমির পুতিন যে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন তা শিগগির দাবানলে পরিণত হতে পারে।
সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের দিন কয়েক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রেজেজিনস্কিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, সোভিয়েত-উত্তর দুনিয়ায় আমরা কী দেখব। তিনি বলেছিলেন, সেই দুনিয়ায় শান্তি আসতে পারে, যদি রাশিয়া শুধু তার ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
তবে পুতিন যে সে পথে হাঁটছেন না, তা পরিষ্কার। ২০০৮ সালে প্রথমে জর্জিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করার পর সম্প্রতি ক্রিমিয়াকে রুশ ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত করেছে, মানে হারানো সাম্রাজ্যের একটি অংশ পুনরুদ্ধার করেছে। ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা যে বলেছিলেন, কমিউনিজমের পতনের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটবে, সেটা বোধ হয় শিগগির ঘটছে না। চীনের মতোই পুতিনের কর্তৃত্বপরায়ণ পুঁজিবাদ পশ্চিমের উদার গণতন্ত্রের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে, অথচ এই উদার গণতন্ত্রেরই জয় হওয়ার কথা ছিল।
পুতিনের দিক থেকে দেখলে ইউক্রেনে রাশিয়ার এই আগ্রহের যথেষ্ট কারণ আছে। পুতিন যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জায়গায় রাশিয়ার নেতৃত্বে ইউরেশীয় ইউনিয়ন বানানোর কথা ভাবছেন, সে লক্ষ্যে ইউক্রেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তদুপরি রাশিয়ার নেতারা ইউক্রেনকে সব সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বাফার হিসেবে দেখে এসেছেন। জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে ইউক্রেন একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট, যে জ্বালানির ওপর ভর করে রাশিয়ার অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে।
ইউক্রেনের পশ্চিমাভিমুখিতায় রাশিয়ার এই উদ্বেগ নতুন কিছু নয়। পুতিন বিশ্বাস করেন, ইউক্রেনের ২০০৪ সালের অরেঞ্জ রেভল্যুশনের পেছনে সিআইয়ের মদদ ছিল। ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের নির্বাচন জালিয়াতির যে প্রচেষ্টা ছিল, তার বিরুদ্ধে যে গণ-আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, সেটাতেও সিআইয়ের মদদ ছিল। কিন্তু আন্দোলনের ব্যাপকতা ও এর প্রতি পশ্চিমের সমর্থনের কারণে পুতিন সে সময় সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারেননি। ফলে সামরিক অভিযানে না গিয়ে পুতিন আর্থিক সহায়তা ও জ্বালানি রপ্তানির মাধ্যমে ইউক্রেনকে নিজের প্রভাববলয়ের মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। আর এবার পুতিন সামরিক অভিযানের পথ বেছে নিলেন। এ সিদ্ধান্তটি রাশিয়ায় বিপর্যয় বয়ে আনছে। পশ্চিমের নিষেধাজ্ঞার কারণে যে হারে পুঁজি পাচার শুরু হয়েছে, সোভিয়েত পতনের পরপরই এমনটা দেখা গেছে, তারপর আর এমনটা হয়নি।
তদুপরি, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রুবলের দ্রুত পতনের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, আর পুতিন পশ্চিমা খাদ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছেন। ফলে জনগণের জীবনমান নিচে নামবে, দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্নও হয়ে পড়বে তারা। এতে পুতিনের জনপ্রিয়তা কমে যাবে।
পূর্ব ইউক্রেনের যুদ্ধ দলবদ্ধ যুদ্ধের রূপ লাভ করেছে, আইনকানুনের কোনো বালাই সেখানে নেই, নিয়ন্ত্রণহীন। ইউরোপীয় ইউনিয়নও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছে, ফলে সংস্থাটির প্রভাবশালী সদস্য যেমন ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। জুলাইয়ের শেষের দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন শেষমেশ একটি সিদ্ধান্ত নিলেও এর ফলে আদতে এক দেশের বিরুদ্ধে আরেক দেশকে লেলিয়ে দেওয়ার সব ক্ষমতা পুতিনের হাতেই দেওয়া হলো, ডাচ এমইপি মারিয়েতজির মতে। এদিকে জিওফ ডায়ার বলেছেন, এই মালয়েশীয় বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আসলে এক ধন্দে পড়ে গেলেন— তিনি কি ইউরোপের সঙ্গে হাঁটবেন, নাকি সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেবেন।
ইউক্রেন সংকটের বিষয়ে পশ্চিম যদি দুর্বল প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাহলে সেটা সজ্ঞানে চোখ বন্ধ করে থাকার শামিল। চীন রাশিয়ার ক্রিমিয়া অধিগ্রহণ ও ইউক্রেনের সংকটে নাক গলানোর বিষয়ে কিছু বলেনি বা সেটাকে অনুমোদন করেছে। ভারতেরও এ বিষয়ে সতর্ক হয়ে যাওয়া উচিত। কারণ, চীন ভারতের কিছু ভূমিতে নিজেদের মালিকানা দাবি করে। কিন্তু এ নিয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কিছু দেখা যায়নি।
ভারতের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সেটা পুরোপুরি মর্মপীড়ক নয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তান দখল করে, তখন ভারত প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেনি। জাতিসংঘে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সেনা প্রত্যাহারে বারবার প্রস্তাব পেশ হলেও ভারত সেখানে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে। অথচ অন্য জোটনিরপেক্ষ দেশগুলো এতে সমর্থন দিয়েছে।
১৯৮০-এর শেষের দিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন আফগানিস্তান থেকে নিরাপদ ও সম্মানজনক বিদায়ের উপায় খুঁজছিল, তখন ভারতের আর কিছু বলার ছিল না। সোভিয়েত ইউনিয়ন সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিলে আফগানিস্তানের পুনর্গঠনেও ভারত কোনো ভূমিকা পালন করেনি।
দুনিয়ার বিধিব্যবস্থার ভিত নড়ে গেলে পরাশক্তিগুলোর এরূপ নিশ্চুপ থাকা ঠিক নয়। উদীয়মান শক্তি যেমন
ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক সবারই উচিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মৌলিক দিকগুলো রক্ষায় সোচ্চার হওয়া। তাদের ভেবে দেখা উচিত, এই ব্যবস্থার কারণেই তাদের অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। তা না হলে দুনিয়ার মাতব্বরেরা যখন শেষ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেবেন, তখন এই দেশগুলো হয়তো দেখবে যে তারা এক কলঙ্কজনক বিপর্যয়ে পতিত হয়েছে। সেখান থেকে উঠে দাঁড়ানোর সুযোগও হয়তো সেদিন আর থাকবে না।
ইংরেজি থেকে অনূদিত, স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
যশবন্ত সিং: ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী।

ভারতের রাজনীতিতে ‘দাগি’ রুখতে প্রস্তুত খসড়া বিল

রাজনীতির অপরাধীকরণ রুখতে নতুন খসড়া বিল প্রস্তুত। কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রণালয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে যে সংশোধন আনতে চলেছে, তা কার্যকর হলে গুরুতর অভিযোগে অভিযোগপত্রভুক্ত রাজনীতিকেরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। বুধবারই ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে বলেন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে অপরাধীদের বাদ দেওয়া হবে কি না, তা ঠিক করবেন প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীরাই। সংবিধান তাঁদের অপার ক্ষমতা দিয়েছে। দেশের স্বার্থেই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে সুপ্রিম কোর্টের আশা। সুপ্রিম কোর্টের সংবিধান বেঞ্চের এই রায়ের পরই সরকারি সূত্রে জানা গেছে, রাজনীতির অপরাধীকরণ রুখতে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া বিল প্রস্তুত করেছে। তা করার আগে আইন কমিশনের সুপারিশও নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেলে খসড়া বিলটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেই তা পাস করানোর চেষ্টা হবে। খসড়া বিলে বলা হয়েছে, গুরুতর কোনো অপরাধে কোনো রাজনীতিকের বিরুদ্ধে যদি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং সেই অপরাধের শাস্তি যদি হয় অন্তত সাত বছর কারাবাস, তা হলে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। সাজার পরবর্তী ছয় বছরও সেই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
অর্থাৎ, সাত বছরের কারাবাস ও ছয় বছরের নির্বাসন, মোট ১৩ বছর সংশ্লিষ্ট রাজনীতিককে নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে হবে। আইন কমিশনের সুপারিশ ছিল পাঁচ বছর সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এ আইনের আওতায় আনা। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় তা বাড়িয়ে সাত বছর করে। মন্ত্রণালয়ের অভিমত, গুরুতর অপরাধকেই এ ক্ষেত্রে গ্রাহ্য করা হচ্ছে। একমাত্র গুরুতর অপরাধেরই কম করে সাত বছর কারাবাস হয়ে থাকে। তা ছাড়া এই প্রথম অভিযোগপত্র ও অভিযোগ গঠনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগপত্রভুক্ত কোনো নেতা আদালতের দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে যাতে ভোটে দাঁড়াতে না পারেন, সেটাই এই আইনের লক্ষ্য। মন্ত্রণালয়ের ধারণা, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের এই সংশোধন হলে রাজনীতির অপরাধীকরণে রাশ টানা সম্ভব হবে। দুর্নীতিবিরোধী লোকপাল বিল নিয়ে আলোচনার সময় অনেকেই রাজনৈতিক চক্রান্তের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছিলেন, প্রায় সব নেতাকেই নানাবিধ চক্রান্তের শিকার হতে হয়। সে ক্ষেত্রে বিশেষ রক্ষাকবচ থাকা জরুরি। এই বিল তৈরির সময় আইন মন্ত্রণালয় সেই রক্ষাকবচের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। খসড়া বিলে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক চক্রান্ত রুখতে শুধু সেই অভিযোগপত্রকে গ্রাহ্য করা হবে, যা ভোটের তারিখ ঘোষণার অন্তত ১৮০ দিন আগে পেশ করা হয়েছে। সরকার আরও ঠিক করেছে, কোনো সংসদ বা বিধায়ক যদি মিথ্যা হলফনামা দিয়ে নির্বাচনে জেতেন, তা হলে তাঁর নির্বাচনও খারিজ হয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্রের কথায়, এই সুপারিশগুলো কার্যকর হলে নির্বাচন সংস্কারের পথে অনেকটাই এগোনো যাবে।

প্রকৃত গণতন্ত্র চাই: ইমরান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান বলেছেন, তিনি বা তাঁর সমর্থকেরা প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের দাবি থেকে কোনোভাবেই সরবেন না। তিনি প্রকৃত গণতন্ত্র চান। অন্যদিকে নওয়াজের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের (এন) নেতা ও কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী সাদ রফিক বলেছেন, পিটিআইয়ের ছয়টি দাবির মধ্যে পাঁচটির সঙ্গে সরকার একমত হলেও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি মানবে না। খবর রয়টার্স, ডন ও জিয়ো টিভির। চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সরকারের সঙ্গে পিটিআইয়ের আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই গত বুধবার শেষ হয়। পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওটাই ছিল শেষ দিন। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন ইমরান। তিনি বলেন, ‘আমি রাজপথ ছাড়ব না। এই সরকারকে মানব না। আমি প্রকৃত গণতন্ত্র চাই।’ নওয়াজের দলের নেতা কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী সাদ রফিক বলেন, অপরাধ প্রমাণ হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। এদিকে ২০১৩ সালের সাধারণ নির্বাচন বাতিলের দাবিতে করা একটি পিটিশন খারিজ করে দিয়েছেন পাকিস্তানের লাহোর হাইকোর্ট।
গতকাল শুনানিকালে আদালতে পিটিশনকারী মোহাম্মাদ সাব্বিরের কাছে জানতে চান, নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগের সপক্ষে তাঁর কাছে কোনো প্রমাণ আছে কি না। জবাবে তিনি জানান, কোনো প্রমাণ তাঁর কাছে নেই। এর এক দিন আগে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে বলে ইমরান খানের দল পিটিআই ও নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব আফজাল খানের তোলা অভিযোগ নাকচ করে দেয়। ইমরানকে উপপ্রধানমন্ত্রী পদ দেওয়া নিয়ে: পার্লামেন্টবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ আফতাব বলেছেন, ইমরান খানকে উপপ্রধানমন্ত্রীর পদ দেওয়ার যে কথা উঠেছে, তা আসলে ছিল রসিকতা। পিটিআই ও সরকারি প্রতিনিধিদের আলোচনায় রসিকতা হিসেবেই তা বলা হয়েছিল। ইমরান গতকাল দাবি করেন, সরকার তাঁকে ঘুষ হিসেবে উপপ্রধানমন্ত্রীর পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। আইন পরিষদ ভেঙে দেওয়ার আবেদন: নওয়াজের পদত্যাগের দাবিতে ইমরানের পাশাপাশি আন্দোলনকারী দল পিএটি গতকাল জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ ভেঙে দেওয়ার জন্য লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করেছে। পিএটি পাঞ্জাবের প্রেসিডেন্ট আবদুল কাইয়ুম খান এই আবেদন করেছেন।
এফআইআরের প্রক্রিয়া: প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ গতকাল বলেছেন, লাহোরের মডেল টাউনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিকের (পিএটি) ১১ নেতা-কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় থানায় প্রাথমিক তথ্য বিবরণীর (এফআইআর) প্রক্রিয়া শুরু করতে সরকার প্রস্তুত। জাতীয় পরিষদে মন্ত্রী আরও বলেন, পিএটির দাবিমতো এফআইআরে প্রধানমন্ত্রী ও অন্য মন্ত্রীদেরও নাম থাকবে। পিএটির নেতা-কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা করতে ১৬ আগস্ট সরকারের প্রতি নির্দেশ দেন আদালত। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ‘কোনো অসাংবিধানিক পদক্ষেপ’ এড়াতে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে করা আবেদনের শুনানি আবার শুরু হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ও হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ওই নির্দেশনা চেয়ে আদালতে আবেদন করে।

গাজায় ফিলিস্তিনিদের উল্লাস

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে রাস্তায়
নেমে উল্লাস প্রকাশ করে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা। গত
মঙ্গলবার গাজা উপত্যকার রাফা শহর থেকে তোলা ছবি। এএফপি
হামাস ও ইসরায়েল দীর্ঘমেয়ািদ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গাজায় আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করেছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে গাজা উপত্যকার ওপর থেকে ইসরায়েলি অবরোধ শিথিল করা হবে—এটাই তাদের আনন্দের মূল কারণ। মিসরের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে গত মঙ্গলবার ওই সমঝোতা হয়। খবর রয়টার্স, এএফপি ও আল-জাজিরার। গাজার হাজার হাজার বাসিন্দা গতকাল বুধবার রাস্তায় নেমে বিজয়সূচক ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়ে যুদ্ধবিরতি সম্পাদনের সাফল্য উদ্যাপন করেছে।
এই চুক্তির মধ্য দিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসান হয়েছে। চুক্তির ফলে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি অবরোধ অবিলম্বে শিথিল হবে বলে সেখানকার অধিবাসীদের জীবন-জীবিকার ওপর সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। চুক্তিতে গাজা উপকূলের আশপাশের এলাকায় মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাও পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। শরণার্থীরা বাড়ি ফিরলে স্কুলগুলোতে আবার লেখাপড়া শুরু করা সম্ভব হবে। মিসরের সঙ্গে সীমান্তের রাফা সীমান্তচৌকি খুলে দেওয়ার পাশাপাশি আরও পাঁচটি চৌকিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হবে। তা ছাড়া, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু হলে দুই পক্ষের সম্মতিতে একটি সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর নির্মাণের প্রসঙ্গ নিয়েও মতবিনিময় হবে। কায়রোর আলোচনা সফল করতে মিসর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ‘ইতিবাচক ভূমিকার’ জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। মঙ্গলবার তিনি বলেন, স্বাক্ষরের দিন থেকেই অস্ত্রবিরতি কার্যকর হয়েছে।
এই চুক্তিকে একটি নতুন জাতি গঠন এবং দখলদারির অবসান ঘটানোর সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও চুক্তিতে তাঁদের সম্মতির কথা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। হামাস গত ১৫ জুলাইয়ের অস্ত্রবিরতি গ্রহণ করলে রক্তপাত এড়াতে পারত বলে দাবি করেছেন ইসরায়েল সরকারের মুখপাত্র মার্গ রেগেভ। এদিকে হামাসের নির্বাসিত উপনেতা মুসা আবু মারজুক দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘প্রতিরোধের বিজয়’ আখ্যা দিয়েছেন। যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে চলার জন্য জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে। হামাসের রকেট ছোড়ার জবাব দিতে গাজায় গত ৮ জুলাই থেকে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এতে এ পর্যন্ত দুই হাজার ১৪২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে যার অধিকাংশই বেসামরিক লোকজন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৪৯০টি শিশু রয়েছে। আর ইসরায়েলি পক্ষের মোট ৬৯ জন নিহত হয়েছে। গাজায় সহায়তা দেবে কাতার: কট্টরপন্থী সংগঠন হামাসের সমর্থক কাতার গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর সেখানকার ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দেশটির সরকারি এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

‘ডাল’ কাটা সাংবাদিকদের কাজ নয় by মশিউল আলম

গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।

তাঁর এই দাবির তাৎপর্য কী? কেন ও কী প্রয়োজনে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে এমন কথা বলতে হচ্ছে? পৃথিবীর যেসব দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে, সেসব দেশের সরকারপ্রধানদের কিন্তু এমন কথা বলতে শোনা যায় না যে সরকার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। কারণ, প্রকাশ্যে এ রকম দাবি করার প্রয়োজন তাঁদের হয় না। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর এটা দাবি করার কী প্রয়োজন দেখা দিয়েছে? কেন তাঁকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি তাঁর সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতে হচ্ছে?
প্রধানমন্ত্রী সেদিন ওই কথাগুলো বলেছেন সাংবাদিকদের উদ্দেশে। তার মানে কি এই যে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের অঙ্গীকার নিয়ে এ দেশের সাংবাদিকদের মধ্যে সংশয় আছে বলে প্রধানমন্ত্রীর মনে হচ্ছে? তিনি কি মনে করছেন, তাঁর সরকার যে সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, এটা সাংবাদিকেরা বিশ্বাস করেন না?
তা যদি হয়, অর্থাৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি সত্যিই অনুভব করেন যে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার নিয়ে সাংবাদিকদের মনে সংশয় আছে, তাহলে এটা একটা আশাব্যঞ্জক ব্যাপার। এর মানে হলো, সরকারের অঙ্গীকার নিয়ে সাংবাদিক সমাজের সংশয় ও নিজেদের কাজের স্বাধীনতা রক্ষার ব্যাপারে উদ্বেগ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এবং এটাও বেশ উৎসাহব্যঞ্জক যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সেই সংশয় ও উদ্বেগ দূর করতে চাইছেন, তাঁদের আশ্বস্ত করতে চাইছেন যে এই সরকার সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।
কিন্তু কীভাবে সেটা সম্ভব? কীভাবে সাংবাদিকদের মনে এমন আস্থা সৃষ্টি করা সম্ভব যে এই সরকার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় আন্তরিকভাবে অঙ্গীকারদ্ধ? শুধু মুখের কথায়?
দেখুন, বাংলাদেশে সব সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার প্রায় সব সদস্য এবং ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ ও নেতাদের বলতে শোনা যায় যে সরকার সংবাদমাধ্যমের পরিপূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, সেই স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও এমন কথা অনেকবার বলতে শোনা গেছে। এমনকি, তাঁকে এমন কথাও বলতে শোনা গেছে যে তাঁর সরকার সংবাদমাধ্যমকে যত স্বাধীনতা দিয়েছে, ততটা তাঁর আগের কোনো সরকারই দেয়নি। কথায় কথায় তাঁরা আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলতেন, আওয়ামী লীগ বাকশাল কায়েম করে মাত্র চারটি সংবাদপত্র ছাড়া সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়ে সংবাদমাধ্যমের যে স্বাধীনতা হরণ করেছিল, বিএনপি সরকার সেই স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছে। এই ‘কৃতিত্ব’ তাঁরা সব সময়ই নিতে চান।
যে কথা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলতেন, সেই একই কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলছেন। কিন্তু তাঁদের এই কথার ওপর সাংবাদিক সমাজের আস্থা নেই বললেই চলে। আস্থা ফেরানোর কাজে এ ধরনের প্রীতিকর কথা ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম, যদি সরকারের কাজে উল্টো লক্ষণ প্রকট হয়ে ওঠে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদের সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তথ্য অধিকার আইন পাস করে প্রশংসিত হয়েছিল। শেখ হাসিনা এখনো এই দেশের প্রধানমন্ত্রী, তাঁরই আমলে গত বছর যে তথ্যপ্রযুক্তি আইন প্রণয়ন ও গ্রহণ করা হয়েছে, তা এক ভয়ংকর কালাকানুন। এই আইন অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর এক মারাত্মক খড়্গ হিসেবে ঝুলে রয়েছে। অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে লেখালেখি, ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকার নিজের ইচ্ছেমতো এই আইনের ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে যেকোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারে এবং বিচারে ওই ব্যক্তি দণ্ডিত হলে তাঁর ন্যূনতম সাত বছর ও সর্বোচ্চ ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও বিপুল অঙ্কের অর্থদণ্ড হতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের ফলে
যখন তথ্য, সংবাদ ও মতামত প্রকাশের বিশাল দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে, সেই যুগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের নামে এক ভয়ংকর কালাকানুন তৈরি করা কি গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকারের প্রকাশ?
তারপর এই সরকারের আমলেই জেলা প্রশাসকদের সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিল করার ক্ষমতা দিয়ে প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস অ্যাক্ট সংশোধন করার তোড়জোড় শুরু হলো! গণমাধ্যমের ‘পূর্ণ স্বাধীনতায়’ বিশ্বাসী কোনো সরকারের আমলে যে এ ধরনের প্রস্তাব আদৌ উঠতে পারে, তা ভেবে বিস্মিত হতে হয়। আওয়াজ শোনা গেল যে সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিল করার ক্ষমতার দাবিটি তুলেছেন জেলা প্রশাসকেরা; বলা হলো, তথ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কিছুই জানে না। কিন্তু জেলা প্রশাসকেরা এমন পশ্চাদ্মুখী ও স্বৈরতান্ত্রিক আইনি হাতিয়ার সৃষ্টির দাবি তোলার সাহস কী করে পান? সংবাদপত্রশিল্প স্বৈরতান্ত্রিক কালাকানুনের যুগ তো ফেলে এসেছে সেই নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই।
এত বছর পর এ দেশের সংবাদপত্রশিল্পকে আবার সেই পেছনের যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার দুর্বুদ্ধি জেলা প্রশাসকদের মাথায় কে ঢোকাল? স্বস্তির বিষয় যে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস অ্যাক্ট সংশোধনের সেই জোড়জোড় থেমেছে। কিন্তু এ রকম একটা ভাবনা যে সরকারের ভেতরে দেখা দিয়েছিল, সেটা তো সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের লক্ষণ নয়, বরং তার উল্টো।
কিছুদিন ধরে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবারের ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অল্পসংখ্যক মানুষ ছাড়া বেশির ভাগই এই নীতিমালা পছন্দ করেছে।’ এর অর্থ, সম্প্রচার নীতিমালার অগ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি সরকারপ্রধানসহ সরকারের নেতারা স্রেফ নাকচ করে দিচ্ছেন। বৃহত্তর সাংবাদিক সমাজ যে এটা গ্রহণ করেনি, এ রকম নিবর্তনমূলক নীতিমালা যে শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়, জনগণের কাছেও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না—সরকার হয় এটা উপলব্ধি করতে পারছে না, নয় জেনেশুনে অস্বীকার করতে চাইছে।
এই সম্প্রচার নীতিমালা কত উপায়ে বেসরকারি বেতার-টিভির স্বাধীনতা খর্ব করতে পারে, কীভাবে এটা বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোকে বিটিভির মতো অকার্যকর ও অজনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমে পরিণত করতে পারে, এই নীতিমালা বাংলাদেশের নবীন টিভি সাংবাদিকতার বিকাশ কী মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে—এসবসহ এই নীতিমালার আরও অনেক উদ্বেগজনক দিক নিয়ে ইতিমধ্যে অনেক আলোচনা হয়েছে। এই লেখার পরিসরে সেগুলোর পুনরাবৃত্তি করার সুযোগ নেই। এই সম্প্রচার নীতিমালা সম্পর্কে সংক্ষেপে এটুকু বলতে হয় যে এটি সম্প্রচারমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার হাতিয়ার ছাড়া কিছু নয়; সম্প্রচারমাধ্যমের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়ে একটি কথাও এই নীতিমালায় নেই, নেই এই শিল্পে বিনিয়োগকারীদের অর্থলগ্নিকে সুরক্ষা দান প্রসঙ্গে কোনো কথা। এই নীতিমালায় রয়েছে শুধু সম্প্রচারমাধ্যমকে সর্বপ্রকারে নিয়ন্ত্রণ করার বিধিবিধান। এর ভিত্তিতে যদি একটি সম্প্রচার আইন প্রণয়ন করা হয়, তবে সেটি হবে ভয়ংকর এক কালাকানুন, যা এ দেশের সম্প্রচারমাধ্যমের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব করবে, এই শিল্পের বিকাশ ভীষণভাবে বাধাগ্রস্ত করবে।
লক্ষ করা দরকার, এই সরকার তথ্যপ্রযুক্তি আইন নামের এক ভয়ংকর কালাকানুন তৈরি করেছে, এই সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকদের সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিল করার ক্ষমতা দিয়ে আইন সংশোধনের তোড়জোড় শুরু হয়েছিল, যা প্রবল প্রতিবাদের মুখে আপাতত চাপা পড়ে আছে এবং এই সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রতি অনুমোদন করেছে সম্প্রচার নীতিমালার নামে এক নিবর্তনমূলক দলিল, যা এ দেশের নবীন সম্প্রচারমাধ্যমের বিকাশ রুদ্ধ করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুখে যতই বলুন, তাঁর সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী, সরকারের এসব পদক্ষেপে তার বিপরীত লক্ষণই প্রকাশ পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী সেদিন আরেকটি কথা বলেছেন, ‘আমি সাংবাদিকদের অনুরোধ জানাব, যে ডালের ওপর [আপনারা] বসে আছেন, সেই ডাল কাটার চেষ্টা করবেন না।’
এই কথার মানে কী? এই ‘ডাল’ কি তাঁর সরকার?
প্রধানমন্ত্রী যদি সেটাই বোঝাতে চান, তাহলে সবিনয়ে বলতে হয়, সাংবাদিকদের কোনো ডালে বসারও প্রয়োজন নেই, কোনো ডাল কাটার চেষ্টা করাও তাঁদের কাজ নয়। তবে যেসব সাংবাদিক বসার জন্য ডাল খোঁজেন, তাঁরা সব সময়ই একটা না একটা ডাল পেয়ে যান। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কিছু নেই।
মশিউল আলম: সাংবাদিক।
mashiul.alam@prothom-alo.info

বিচারকদের ওপর চাপ বাড়বে -বিশেষ সাক্ষাৎকারে খন্দকার মাহবুব হোসেন by সোহরাব হাসান

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করা-সংবলিত একটি সংবিধান সংশোধন বিলের খসড়া সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। এ নিয়ে বিচার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক চলছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেনের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হলো:

প্রথম আলো : ১৯৭২ সালের সংবিধানে সংসদের হাতেই উচ্চ আদালতের বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা ছিল। তখন আপনারা সেটি মেনে নিয়েছিলেন। এখন বিরোধিতা কেন?
খন্দকার মাহবুব হোসেন : ১৯৭২ সালের সংবিধানে কেবল উচ্চ আদালতের বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা ছিল না; নিম্ন আদালতের নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির বিষয়টিও সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগের সব ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়। বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা ব্যক্তি, তথা রাষ্ট্রপতির হাতে অর্পণ করা হয়। এরপর জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল করেন। এতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের দুজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতির সমন্বয়ে এই কাউন্সিল গঠিত হবে এবং কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা অক্ষমতার অভিযোগ এলে তদন্তপূর্বক রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবেন।
প্রথম আলো :পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছাড়া তো কোথাও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল নেই। আপনারা কীভাবে সেটি মেনে নিলেন?
খন্দকার মাহবুব হোসেন : নেই সত্য। কিন্তু আমরা এ ব্যবস্থায় খুশি ছিলাম এ কারণে যে ব্যক্তির হাত থেকে বিষয়টি অন্তত বিচারকদের কাছে চলে এল। এটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা বলেই মনে করি। তা ছাড়া, সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার কথা রয়েছে। এখন বিচারপতিদের অপসারণের বিষয়টি সংসদের হাতে দিলে সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি হবে।
প্রথম আলো : সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল হয়েছিল রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায়। বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থায় তো প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতি কোনো বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। বাকি সবকিছুই তাঁকে করতে হয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ বা ইচ্ছা অনুযায়ী।
খন্দকার মাহবুব হোসেন : সংসদেও তো প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাই প্রতিফলিত হবে। আমাদের সংবিধানের ৭০ ধারাবলে যেভাবে সাংসদদের হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে তো সেটি নেই। অন্যান্য দেশে সাংসদেরা দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন। কিন্তু আমাদের এখানে সংসদীয় দলের নেতা যা বলবেন, সেটাই তাঁদের মেনে চলতে হয়।
প্রথম আলো : তাহলে কি বলতে চান সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদই গণতন্ত্রের প্রধান বাধা?
খন্দকার মাহবুব হোসেন : এটি শুধু বাধা নয়, গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকিও। যত দিন ৭০ অনুচ্ছেদ থাকবে, তত দিন এটি গণতান্ত্রিক সংসদ হতে পারে না। সরকারি দলের নেতারা কথায় কথায় অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ইত্যাদি গণতান্ত্রিক দেশের উদাহরণ টানেন। কিন্তু ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করেন না।
প্রথম আলো :বাংলাদেশের সংবিধানে এ পর্যন্ত যতগুলো সংশোধনী হয়েছে, প্রায় সব কটিই কি ব্যক্তিস্বার্থে হয়নি?
খন্দকার মাহবুব হোসেন : হয়েছে। এ কারণেই সরকার বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, আমরা তার বিরোধিতা করছি। আমাদের আশঙ্কা, সরকার বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক চাপে রাখার জন্যই এই সংশোধনী করতে যাচ্ছে। সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে বিচার বিভাগ আরও দুর্বল হবে। আগে বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হোক। এরপর অন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোও শক্তিশালী হবে।
প্রথম আলো :আপনি বিচার বিভাগ শক্তিশালী করার কথা বলছেন। কিন্তু উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে তার প্রতিফলন আছে কি?
খন্দকার মাহবুব হোসেন : এখন যে পদ্ধতিতে বিচারক নিয়োগ হয়, সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বলছি, বিচারক নিয়োগের নীতিমালা করুন। সরকার সে বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না; বরং মীমাংসিত বিষয় নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করছে।
প্রথম আলো :সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কি মীমাংসিত বিষয়?
খন্দকার মাহবুব হোসেন : মীমাংসিত বিষয় এ কারণে যে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক যখন পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে রায় দিয়েছিলেন, তখনো কিন্তু তিনি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে হাত দেননি। অর্থাৎ তিনি বিচারক ও আইনজীবীদের অনুভূতিকে সম্মান জানিয়েছিলেন। আর এর সঙ্গে কেবল বিচারক বা আইনজীবীদের মর্যাদা নয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নও জড়িত।
প্রথম আলো :আপনাদের আপত্তির মূল জায়গাটি কী?
খন্দকার মাহবুব হোসেন : সংসদের হাতে বিচারকদের অভিশংসনের দায়িত্ব দেওয়া হলে তাঁরা রাজনৈতিক চাপে থাকবেন। স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন না। আইনটি কেমন হবে, সে সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু স্পষ্ট করা হয়নি। ভারতে বিচারকদের অভিশংসনের যে বিধান আছে, তাতে কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে হলে পার্লামেন্টের নিম্ন ও উচ্চকক্ষের যথাক্রমে ৫০+৫০ জন সাংসদের লিখিত সুপারিশের প্রয়োজন হয়। কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে নির্দলীয় সংস্থা দ্বারা তদন্ত করতে হবে। সেই নির্দলীয় সংস্থা হতে পারে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, বার কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের নিয়ে। প্রাথমিক তদন্তের পর তাঁদের সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে হবে।
প্রথম আলো : সরকার ও বিরোধী দলের সমর্থক আইনজীবীরা এক সুরে কথা বলছেন? এতে কি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চেয়ে পেশাগত স্বার্থ বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে না?
খন্দকার মাহবুব হোসেন :বরং আমরা বলব বিচার-প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে এককাট্টা। এখানে যেটি অগ্রাধিকার পাচ্ছে, সেটি হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদা। মাসদার হোসেন মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিচার বিভাগ পৃথক্করণের অধ্যাদেশ জারি হয়। পরে এটি আইনেও পরিণত হয়। সেই আইনানুযায়ী নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির বিষয়টি দেখার কথা সুপ্রিম কোর্টের। কিন্তু এখনো সেটি কার্যত আইন মন্ত্রণালয়, তথা নির্বাহী বিভাগের হাতে রয়েছে। আইনে সুপ্রিম কোর্টকে ক্ষমতা দেওয়া হলেও তার প্রয়োজনীয় লোকবল ও সচিবালয় দেওয়া হয়নি। ফলে প্রধান বিচারপতি বা তাঁর অফিসের পক্ষে আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশগুলো যাচাই-বাছাই করাও সম্ভব হয় না। নিম্ন আদালতের পদায়ন, পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েই গেছে।
প্রথম আলো : আপনাদের আপত্তিটা কোথায়? বর্তমান সংসদ, না নীতিমালা না হওয়া?
খন্দকার মাহবুব হোসেন :দুটোই। বর্তমান সংসদ তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। কিন্তু সত্যিকার অর্থে আমরা যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সংসদও পাই, সেখানেও ৭০ অনুচ্ছেদ বড় বাধা হয়ে আছে। কিন্তু বর্তমান অনির্বাচিত ও একদলীয় সংসদের হাতে এই ক্ষমতা ন্যস্ত হলে বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধসে পড়বে। বিচারকেরা ভয়ভীতি ও চাপের মধ্যে থাকবেন।
প্রথম আলো :আপনি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিকাশের মাধ্যমে গণতন্ত্র টেকসই করার কথা বলছেন। সে ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ কতটা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে?
খন্দকার মাহবুব হোসেন :এ কথা সত্য যে অতীতে বিচারকেরা গণতন্ত্র রক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারেননি। কিন্তু ভবিষ্যতে যাতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারেন, সেই লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।
প্রথম আলো :আপনাকে ধন্যবাদ।
খন্দকার মাহবুব হোসেন : ধন্যবাদ।

আরও বিস্তার ঘটছে ইবোলা ভাইরাসের

পশ্চিম আফ্রিকায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসের আরও বিস্তার ঘটতে যাচ্ছে। এতে এরই মধ্যে দেড় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গতকাল বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার আগে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

>>বন্য প্রাণী ও মানব পর্যায়ে যেভাবে ছড়ায় ইবোলা ভাইরাস
আফ্রিকা থেকে ইবোলা ভাইরাস বাইরেও পৌঁছে গেছে। এর মধ্যে লাইবেরিয়াতেই আক্রান্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন দুই মার্কিন নাগরিক। এঁদের একজন চিকিৎসক, অন্যজন মিশনারি। তবে তাঁদের দুজনই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। তবে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন স্পেনের এক যাজক।
আর ভারতেও ইবোলা পৌঁছে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার লাইবেরিয়া থেকে নয়াদিল্লিতে ফেরেন ১৭ ভারতীয় নাগরিক। তাঁদের পরীক্ষা করে একজন ইবোলা আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হয়। ইবোলার অন্যতম লক্ষ্য জ্বর ও গলাব্যথায় ভুগছেন তিনি। তাঁকে বিমানবন্দরের চিকিৎসা বিভাগে রেখে সেবা দেওয়া হচ্ছে। আর ইবোলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাঁর রক্তের নমুনা পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছে।
প্রকৃতিতে ইবোলা ভাইরাসের মূল বাহক বাদুড়, বিশেষ করে ফলভুক বাদুড়। বাদুড় থেকে এই ভাইরাস ছড়ায় অন্যান্য বন্য প্রাণী যেমন হরিণ ও শিম্পাঞ্জিতে। এরপর ওই সব প্রাণীর সংস্পর্শে বা সরাসরি বাদুড় থেকে মানুষ ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। আবার ইবোলায় আক্রান্ত মানুষের ঘাম, লালা বা শরীরের অন্যান্য তরলের সংস্পর্শে আক্রান্ত হতে পারে অন্যরা। তবে ইবোলা ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না।
ইবোলায় আক্রান্ত হওয়ার পর আট দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে তা দুই থেকে ২১ দিনের মধ্যেও হতে পারে। প্রাথমিক লক্ষণ জ্বর, মাথাব্যথা, মাংসপেশির খিঁচুনি ও পেটব্যথা অনুভূত হতে পারে। কখনো কখনো গলাব্যথা, হেঁচকি ওঠা ও শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্টও হতে পারে। প্রাথমিক লক্ষ্য প্রকাশ পাওয়ার পাঁচ থেকে সাত দিনের মাথায় শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোসকা ওঠা ও বমি, বিশেষ করে রক্তবমি হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসায় সুস্থ করা না গেলে লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাত থেকে ১৬ দিনের মাথায় রোগীর মৃত্যু হতে পারে।
ইবোলা ভাইরাসে প্রথম আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত করা হয় ১৯৭৬ সালে সুদান (বর্তমান দক্ষিণ সুদান) ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে। চলতি বছর পশ্চিম আফ্রিকার লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন, গায়ানা ও নাইজেরিয়ায় এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে মহামারি আকারে।
ডব্লিউএইচওর হিসাব অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ইবোলায় মারা গেছে এক হাজার সাত শতাধিক মানুষ। এর মধ্যে শুধু চলতি বছরের মহামারিতে মারা গেছে প্রায় দেড় হাজার। এর মধ্যে লাইবেরিয়ার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। সেখানে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৬২৪ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৮২ জন।
ইবোলায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫০ থেকে ৯০ শতাংশের মৃত্যু হয়। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর তিন হাজার ৬৯ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। তবে সংস্থাটির আশঙ্কা, এই সংখ্যা দুই থেকে চার গুণ বেশি হতে পারে। কারণ, আফ্রিকার প্রত্যন্ত অনেক অঞ্চলে মানুষ আক্রান্ত হলেও সে খবর পাওয়া যাচ্ছে না। আর এই ভাইরাস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার আগে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ডব্লিউএইচওর মতো মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রও (সিডিসি) আশঙ্কা করছে, ইবোলার আরও বিস্তার ঘটতে পারে। সংস্থাটির পরিচালক টম ফ্রাইডেন গতকাল বলেছেন, ‘আক্রান্তের ঘটনা বাড়ছে। আশা করেছিলাম, এ কথা আমাকে বলতে হবে না। কিন্তু এর পরও বলতে হচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার আগে তা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।’
টম ফ্রাইডেনের মতে, ইবোলা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার জন্য কিছু ভুল ধারণাও দায়ী। আর চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস বলেছে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য এ পর্যন্ত যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা একেবারেই অপর্যাপ্ত। এই অবস্থায় ঘানার রাজধানী আক্রায় গতকাল বৈঠক করেছেন পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা।
কিন্তু এখন পর্যন্ত ইবোলার কোনো বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা নেই। গবেষকেরা দু-একটি ভ্যাকসিন (যেমন যুক্তরাষ্ট্রে জিম্যাপ) আবিষ্কার করেছেন, তবে তা কার্যত তেমন কার্যকর নয়। তবে একটা উপায় বের করতে গবেষণাগারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা।

মানুষের মুখে কীটের বাসা!

মানুষের মুখের প্রতিটি লোমকূপের মধ্যে বাস করছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আট পা-ওয়ালা কীট। মাকড়সার মতো এই পরজীবীগুলো দেখতে আইসক্রিমের মতো। এই পরজীবীগুলো খালি চোখে দেখার উপায় নেই।

>>চুলের ফলিকলের মধ্যে বাস করে তেল শোষণ করে এই ‘ফেস মাইট’
সম্প্রতি গবেষকেরা এই ক্ষুদ্র পরজীবীগুলোর সন্ধান পেয়েছেন। তাঁরা অবশ্য বলছেন, পরজীবীগুলো দেখতে সুন্দর আর আমাদের জন্য উপকারী।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা জানিয়েছেন, পরজীবীগুলো সব মানুষের মধ্যেই রয়েছে। আমাদের ত্বকে দুই প্রজাতির এই ক্ষুদ্র পরজীবী বাস করে। এদের একটি হচ্ছে ডেমোডেক্স ফলিকুলোরাম ও আরেকটি হচ্ছে ডেমোডেক্স ব্রেভিস।

গবেষকেরা বলছেন, ডেমোডেক্স নামের এই পরজীবীগুলো আমাদের চুলের ফলিকলের মধ্যে বসবাস করে। চুলের ফলিকলের মধ্যে লুকানো তেল খায় এই পরজীবীগুলো। চুলের প্রধানত দুটি অংশ। ‘হেয়ার শ্যাফট’ বা বাইরে দৃশ্যমান চুল এবং ‘হেয়ার ফলিকল’ বা ছোট থলির মতো অংশ, যা ত্বকের ভেতরে থেকে গাছের শিকড়ের মতো চুলকে ধরে রাখে।

ফলিকলে থাকা ডেমোডেক্স ব্রেভিস গোলাকার ও আকারে বেঁটে। এটি চুলের ফলিকলের মধ্যে থাকা ফলিকল সেবাম গ্ল্যান্ড বা তৈল গ্রন্থিতেই জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়ে দেয়। ডেমোডেক্স ফলিকুলোরাম অবশ্য এতটা তেলনির্ভর নয়।

নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক মেগান থমেস সংবাদমাধ্যম এনপিআরকে জানিয়েছেন, পরজীবীগুলো থাকায় অস্বস্তির কিছু নেই। বরং এর অর্থ হলো আপনার সঙ্গে সব সময় অনেক বন্ধু রয়েছে।

তিনি মনে করেন, এই পরজীবীগুলো দেখে নাক সিটকানোর কিছু নেই। আসলে এগুলো অনেক সুন্দর। পরজীবীগুলোর আট পা দিয়ে নড়াচড়া দেখলে মনে হবে এরা তেলের মধ্যে সাঁতার কাটছে।

গবেষক থমেস বলেন, ‘যেহেতু সবার মধ্যেই এই পরজীবী বাস করছে আর এগুলো কোনো সমস্যাও তৈরি করছে না, তাই এটা স্বস্তিদায়ক।’

গবেষকেরা তাঁদের এই গবেষণার জন্য ২৯ জনের ডিএনএ পরীক্ষা করেছেন। এর মধ্যে ১৮ বছরের বেশি বয়সী সবাই এই ডেমোডেক্স পরজীবীর ডিএনএ বহন করছেন বলে তাঁরা প্রমাণ পেয়েছেন। পিএলওএস ওয়ান সাময়িকীতে গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে।

থমেস দাবি করেছেন, গবেষকেরা পরবর্তী সময়ে আরও বেশি মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়েও একই ফলাফল পেয়েছেন।

মানুষের মধ্যে কীভাবে আসে এই কীটগুলো? এই পরজীবী একজন থেকে আরেকজনে কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা নেই গবেষকদের। তবে তাঁদের একটি তত্ত্ব অনুযায়ী, মায়ের দুধ পান করার সময় শিশুর মধ্যে এই পরজীবী স্থানান্তরিত হয়। তরুণদের মধ্যে এই পরজীবী বেশি দেখা যায়। রাতের বেলা যখন অন্ধকার থাকে, তখন এই পরজীবীগুলো মুখের ওপর উঠে আসে।

কীভাবে এল এই পরজীবী? এ প্রসঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষক মিশেল ট্রটউইন বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই ডেমোডেক্স আমাদের সঙ্গে বসবাস করছে। আফ্রিকা থেকে আদিম মানুষেরা ছড়িয়ে পড়া যখন শুরু করেছিল, তখন থেকেই তারা সঙ্গে করে তাদের পরজীবীগুলো এনেছিল। এখন ডেমোডেক্স ডিএনএ পরীক্ষা করে মানুষের বিবর্তনের অজানা ইতিহাসও আমরা জানতে যাচ্ছি।’

রমনিকে প্রেসিডেন্ট চায় আমেরিকানরা

২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কে বসতে যাচ্ছেন হোয়াইট হাউসে? যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত এ প্রশ্নের উত্তরে ডেমোক্র্যাট দলের কাছে পরপর দু’বার পরাজিত হওয়া রিপাবলিকান পার্টি এগিয়ে আছে জনপ্রিয়তায়। আর রিপাবলিকানের মিট রমনিকে প্রেসিডেন্ট দেখতে চান আমেরিকানরা। নতুন এক জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তবে ২০১২ সালে নির্বাচনে বারাক ওবামার কাছে হেরে যাওয়া মিট রমনির আগ্রহ নেই ২০১৬ সালের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার।
যুক্তরাষ্ট্রে সাফক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউএসএ টুডের যৌথভাবে পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান থেকে মিট রমনিকে প্রার্থী হিসেবে চান রিপাবলিকান ভোটাররা। ৩৫ শতাংশ ভোটাররা সমর্থন দিয়ে প্রার্থী তালিকায় প্রথম স্থানে রেখেছেন সাবেক ম্যাসাচুসেটস গভর্নর রমনিকে। আরাকানসাসের সাবেক গভর্নর মাইক হুকাবি আছেন দ্বিতীয় স্থানে। তিনি পেয়েছেন ৯ শতাংশ সমর্থন। অন্যদিকে নিউজার্সি গভর্নর ক্রিস ক্রিসটি ও সাবেক সিনেটর রিক সান্তরাম পেয়েছেন যথাক্রমে ৬.৫ ও ৬ শতাংশ সমর্থন। রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়তায় রমনি শীর্ষে থাকলেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী নন তিনি। রমনি বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন বদলে গেছে, আমি ওই প্রতিযোগিতায় আর নিজের মাথা দিতে চাই না।’ এর আগের দুটো জরিপেও রমনিকে রিপাবলিকানদের পছন্দের শীর্ষে দেখানো হয়েছে। গত জুলাইয়ে কুইনিনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশব্যাপী জরিপে জানা গেছে, প্রায় ৪৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, গত নির্বাচনে বারাক ওবামার পরিবর্তে রমনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে আমেরিকা আরও ভালো অবস্থানে থাকত।

পুরুষ খুঁজছে ব্রাজিল দ্বীপের রূপসীরা

গ্রিক পুরানের সেই গল্পটা মনে আছে? চারদিকে পাহাড়। মধ্যখানে একচিলতে সমতল। লোকালয় থেকে হাজার হাজার মাইল দূরের ওই সমতলেই গড়ে উঠেছিল ছোট্ট একটি গ্রাম। নাম ছিল ‘সুন্দরীগাঁও’। সেখানে কোনো পুরুষ ছিল না। অপরূপ সুন্দরী নারীরা সেখানে বাস করত। আর সারাক্ষণই পুরুষ খুঁজে বেড়াত! পৌরাণিক সেই গল্পের মতো সম্প্রতি ব্রাজিলেও এমন একটি দ্বীপের সন্ধান পাওয়া গেছে। নোভিয়া দো করদেইরো। ব্রাজিলের সীমান্ত-সংলগ্ন পুরুষহীন সুন্দরী নারীদের উপত্যকা। বলা হয়, এ দ্বীপের নারীরাই নাকি ব্রাজিলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় নারী। পুরুষ যে একবারেই নেই তা নয়, কিন্তু নারীদের তুলনায় সেই সংখ্যা উল্লেখ না করার মতোই। হাতেগোনা সেই পুরুষরা আবার কাজের খোঁজে চলে যায় অন্য শহরে। তাই পৃথিবীর ‘সবচেয়ে’ রূপসী এসব নারীদের ভালোবাসার কেউ নেই। কেউ ছুঁয়ে দেখে না তাদের সৌন্দর্য। ভালোবাসার আহ্বান নিয়ে সেসব নারীদের একটি দল এবার এসেছে পার্শ্ববর্তী শহরে।
ব্রাজিলের বেলো হরিজন্তে থেকে ৬০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বের গভীর অরণ্যঘেরা উপত্যকার নারীরা পৃথিবীর পুরুষদের কাছে প্রেমের আকুতি জানিয়েছেন। নিলমা ফার্নান্দেজ (২৩) নামের তাদের একজন তরুণী বলেন, ‘আমি কখনও একজন পুরুষকে চুমু দিতে পারিনি। আমরা সবাই স্বপ্ন দেখি প্রেমে পড়ব, বিয়ে করব।’ তবে স্বামীর জন্য নিজের এলাকা ছাড়তে চান না নিলমা। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই পুরুষরা আমাদের ভালোবেসে এখানেই সংসার করুক। তবে শর্ত হচ্ছে তাদের আমাদের নিয়মানুযায়ী চলতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের শহর নারীরা শাসন করে। পুরুষশাসিত অনেক শহরের চেয়েও আমরা অনেক সুখী ও সংগঠিত। কোনো সমস্যা হলে আমরা মহিলাদের কায়দায় সমাধান করি। সংঘর্ষ করি না।’ নারী দলটি সরদার এলিদা দায়সির মতে, পুরুষ নিয়ন্ত্রণ নিলে তাদের স্বাতন্ত্রবোধ নষ্ট হয়ে যাবে। সুন্দরীদের শহর নোভিয়া দো করদেইরোর গোড়াপত্তন হয়েছিল মারিয়া সেনহোরিনহা নামের এক নারীর মাধ্যমে। ১৮৯১ সালে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অপরাধে দেশটির এক খ্রিস্টান চার্চ মারিয়াকে শাস্তি দিয়ে এই দ্বীপে নির্বাসিত করেছিল। কলংকিনী সেই মারিয়াই আজকের এই ‘সুন্দরী উপত্যকা’ বংশমাতা। বংশানুক্রমিকভাবে পাওয়া চার্চের প্রতি তাদের ঘৃণা এতটাই প্রবল যে, তারা কেউই চার্চের নামও শুনতে পারেন না। রোজালি ফার্নান্দেজ (৪৯) বলেন, ‘ঈশ্বর আমাদের হৃদয়ে থাকে। তাই আমরা মনে করি না যে আমাদের চার্চে যাওয়া দরকার। আমাদের সন্তানদের আমরা খ্রিস্টান বানাতে চাই না। টেলিগ্রাফ।

তৃতীয় রাউন্ডে শারাপোভা

ইউএস ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে উঠেছেন ফরাসি ওপেন চ্যাম্পিয়ন মারিয়া শারাপোভা। বুধবার ইউএস ওপেনের তৃতীয় দিন প্রথম সেট পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নেন রাশিয়ান এই টেনিস তারকা।
রুমানিয়ার আলেকজান্দ্রার বিপক্ষে শারাপোভা তেমন সুবিধা করে উঠতে পারেননি প্রথম সেটে। ৬-৪ গেমে হেরে পিছিয়ে পড়েন তিনি। তবে, পরের সেটে ঘুরে দাঁড়ান রুশ কন্যা। পিছিয়ে থেকে ৪-৬, ৬-৩, ৬-২ সেটে জয় নিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে উঠেন শারাপোভা। অন্যদিকে জয় পেয়েছেন রুমানিয়ার টেনিস তারকা সিমোনা হালেপ। তিনি ৬-২, ৬-১ সেটে সরাসরি হারিয়ে দেন স্লোভাকিয়ার জানা কাপেলোভাকে। এ জয়ের মাধ্যমে হালেপও উঠেছেন তৃতীয় রাউন্ডে। ওয়েবসাইট।