Tuesday, February 3, 2026

খাশোগি হত্যায় সৌদি যুবরাজকে ফাঁসাতে চেয়েছেন আরব আমিরাতের শাসক

এপস্টেইন নথির তথ্যঃ সৌদি আরবের বংশদ্ভূত সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সদ্য প্রকাশিত এপস্টেইন নথিতে। ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন একাধিক বার্তায় দাবি করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড) সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিয়েছেন।

শুক্রবার প্রকাশিত প্রায় ৩০ লাখ নথির মধ্যে থাকা এসব বার্তায় এপস্টেইনের সঙ্গে আনাস আল রশিদ নামে এক ব্যক্তির কথোপকথনের তথ্য রয়েছে। ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক খাশোগিকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, এই হত্যাকাণ্ডের অনুমোদন দিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

২০১৮ সালের ১২ অক্টোবর পাঠানো এক বার্তায় আনাস আল রশিদ হত্যাকাণ্ডকে ‘কুৎসিত, খুবই কুৎসিত’ বলে উল্লেখ করেন। জবাবে এপস্টেইন লেখেন, এর পেছনে আরও বড় কিছু আছে বলে মনে হচ্ছে। এমবিজেড হয়তো এমবিএসকে ফাঁসিয়েছেন- এতে আমি অবাক হব না। এর উত্তরে আল রশিদ শুধু লেখেন, ‘হুম্ম’।

পরবর্তী বার্তায় আল রশিদ জানান, তথ্য ফাঁসের ধরন অত্যন্ত কৌশলী ও দ্রুতগতির, এবং পুরো বিষয়টি এখন একটি ‘মিডিয়া যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সৌদি আরব যদি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট না করে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন হারাতে পারে। তার মতে, সত্যটা যতই কুৎসিত হোক, সেটাই সেরা প্রতিরক্ষা।

নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, এপস্টেইন দাবি করেন তার এক সূত্র তাকে জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেছিলেন, যা পরে হ্যাক করে সংগ্রহ করা হয়। তবে কে বা কারা ওই ফোন হ্যাক করেছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।

১৩ অক্টোবর আরেকটি বার্তায় এপস্টেইন খাশোগিকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার সম্ভাবনা, একটি গোপন ব্যর্থ অভিযান অথবা ফাঁদ পাতা ষড়যন্ত্র নিয়ে আলোচনা করেন এবং বারবার এমবিজেডের নাম টানেন।

ওই রাতেই, নথি অনুযায়ী, এপস্টেইন এক পরিচিত ব্যক্তির (নাম গোপন) কাছ থেকে বার্তা পান, যেখানে বলা হয়- মোহাম্মদ বিন জায়েদ তার সঙ্গে ‘জরুরি’ বৈঠক করতে চান এবং পরদিন সকালে যাত্রার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে পৃথকভাবে প্রকাশিত একটি এফবিআই নধিদে দাবি করা হয়েছে, জেফ্রি এপস্টেইন মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করতেন। মেমোতে আরও বলা হয়, তিনি ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার অধীনে গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন।

এই নতুন তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

mzamin

বিশ্ব নতুন পারমাণবিক প্রতিযোগিতার মুখে

নব্বইয়ের দশকে স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে এক লাগামহীন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে টিকে থাকা একমাত্র অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে এক সপ্তাহেরও কম সময় বাকি। শেষ মুহূর্তে কোনো নাটকীয় সমঝোতা না হলে বিশ্ব এক নতুন অস্থিরতার মুখে পড়বে।

আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এটি কার্যকর না থাকলে দূরপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। ১৯৭২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও সোভিয়েত নেতা লিওনিদ ব্রেজনেভ এ চুক্তি সই করেছিলেন।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রস্তাব দিয়েছেন, পরবর্তী করণীয় ঠিক করার জন্য সময় পেতে বর্তমান চুক্তির শর্তগুলোই আরও এক বছর বহাল রাখা হোক। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত এর কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেননি। চলতি মাসেই ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, মেয়াদ শেষ হলে হোক, বরং একে আরও উন্নত কোনো চুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোনো রাজনীতিক মনে করেন, পুতিনের প্রস্তাব ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান করা উচিত। এতে ওয়াশিংটন নিজের অস্ত্রভান্ডার বাড়ানোর সুযোগ পাবে, যা চীনের দ্রুত বাড়তে থাকা পারমাণবিক সক্ষমতা মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

ট্রাম্প অবশ্য রাশিয়া ও চীন—উভয় দেশের সঙ্গেই ‘পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ’ নিয়ে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে বেইজিং সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার অস্ত্রভান্ডার তাদের চেয়ে বহুগুণ বড়, তাদের সঙ্গে নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় বসা অযৌক্তিক।

পারমাণবিক চুক্তির গুরুত্ব কেন

স্নায়ুযুদ্ধের সেই অন্ধকার দিনগুলোতে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন একে অপরকে ‘ধ্বংস’ করার হুমকি দিত, তখন থেকেই দুই পক্ষ অস্ত্র সীমাবদ্ধকরণ চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে আসছে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কোনো মারাত্মক ভুল–বোঝাবুঝি বা অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার মতো অস্ত্র প্রতিযোগিতা এড়ানো।

লন্ডনভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান ‘রুসি’র গবেষক দরিয়া দোলজিকোভা বলেন, এই চুক্তিগুলো কেবল ক্ষেপণাস্ত্র বা ওয়ারহেডের সংখ্যার সীমাবদ্ধতা নয়, বরং দুই পক্ষের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি করে। এটি একে অপরের উদ্বেগ এবং লক্ষ্য বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

সোভিয়েত ও রাশিয়ার সাবেক অস্ত্র আলোচক নিকোলাই সকভ মনে করেন, কোনো নতুন চুক্তি না থাকলে প্রতিটি দেশই প্রতিপক্ষের অস্ত্র উৎপাদন ও মোতায়েন নিয়ে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কাজ করতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, এটি একটি চক্রাকার প্রক্রিয়া। আর নিয়ন্ত্রণহীন অস্ত্র প্রতিযোগিতা পরিস্থিতিকে ভয়াবহভাবে অস্থিতিশীল করে তোলে।

নতুন চুক্তি কি খুব সহজ

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র বারবার স্নায়ুযুদ্ধ আমলের চুক্তিগুলো হালনাগাদ করেছে। সর্বশেষ চুক্তি নিউ স্টার্ট ২০১০ সালে বারাক ওবামা ও দিমিত্রি মেদভেদেভ স্বাক্ষর করেছিলেন। এই চুক্তিতে প্রতিটি দেশের জন্য মোতায়েনকৃত কৌশলগত ওয়ারহেডের সংখ্যা ১ হাজার ৫৫০ এবং তা বহনে ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমারু বিমান ৭০০-তে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

তবে এই চুক্তি প্রতিস্থাপন করা এখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। রাশিয়া ইতোমধ্যেই ‘বুরভেস্টনিক’ ক্রুজ মিসাইল বা ‘পসেইডন’ টর্পেডোর মতো নতুন কিছু ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যা বর্তমান চুক্তির কাঠামোর বাইরে। অন্যদিকে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন মহাকাশভিত্তিক ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কথা, যাকে মস্কো কৌশলগত ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা হিসেবে দেখছে।

একই সময়ে চীনের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতাও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেন্টাগনের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে বেইজিংয়ের হাতে হাজারের বেশি ওয়ারহেড থাকবে। ২০২৩ সালের একটি দ্বিপক্ষীয় কংগ্রেসনাল কমিশন সতর্ক করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র এখন একক নয়, বরং রাশিয়া ও চীন—দুই পারমাণবিক শক্তির কাছ থেকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।

দ্বিধাবিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র

পুতিনের প্রস্তাব মেনে নেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন দেখা দিয়েছে। সাবেক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ও নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের পল ডিন মনে করেন, একটি ধ্বংসাত্মক পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা এবং সংকটের মুহূর্তে ভুল–বোঝাবুঝির ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পের উচিত ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া।

কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি আধুনিকায়ন ও পরিচালনার জন্য মার্কিন করদাতাদের প্রায় ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) ডলার গুনতে হবে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর এড মার্কেট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি চুক্তির সীমা লঙ্ঘন করে ওয়ারহেড বাড়ায়, তবে রাশিয়াও তা-ই করবে। আর চীন এটাকে তাদের অস্ত্রভান্ডার বাড়ানোর নতুন অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করবে।’ তাঁর মতে, ট্রাম্প এমন এক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু করতে যাচ্ছেন, যা জেতা সম্ভব নয় এবং এতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিন
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: এএফপি ফাইল ছবি

ইউটিউবে সৌদি যুবরাজের সমালোচনা করে যুক্তরাজ্যে প্রাণহানির শঙ্কায় দিন কাটে আরব তরুণের

প্রকাশ ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ঃ সাত বছর আগের কথা। সৌদি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ইউটিউবার ও কমেডিয়ান ঘানেম আল-মাসারিরের জনপ্রিয়তা তখন তুঙ্গে। বিপুলসংখ্যক মানুষ ইউটিউবে তাঁর ভিডিও দেখত।

যুক্তরাজ্যের ওয়েম্বলি এলাকার এই বাসিন্দা সৌদি রাজপরিবারের তীব্র সমালোচনা করে ভিডিও বানাতেন এবং সেগুলো ইউটিউবে দিতেন। এতে যেমন তাঁর ভক্তসংখ্যা বেড়েছিল, তেমনি আবার শত্রুদের পাল্লাও ভারী হয়েছিল।

একসময় মাসারির খেয়াল করেন, তাঁর মোবাইল ফোনগুলো অস্বাভাবিকভাবে ধীরগতিতে কাজ করছে। ব্যাটারি খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

এরপর এই সৌদি বংশোদ্ভূত ইউটিউবার লন্ডনের বিভিন্ন জায়গায় বারবারই একই মানুষদের তাঁর আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখেন।

সৌদি সরকারের সমর্থক বলে মনে হওয়া কিছু লোক মাসারিরকে রাস্তায় থামিয়ে হয়রানি করতে থাকে এবং ভিডিও ধারণ করে। তখন তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে—সব সময় তিনি কোথায় আছেন, তা তারা জানল কীভাবে?

আল মাসারিরের আশঙ্কা ছিল, তাঁর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তাঁর ওপর গোপনে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পরে সাইবার বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেন, পেগাসাস নামের একটি হ্যাকিং টুল ব্যবহার করে তাঁর ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালানো হয়েছে।

আল–মাসারির বিবিসিকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার কল্পনার বাইরে ছিল। তারা আপনার অবস্থান জানতে পারছে, ফোনের ক্যামেরা চালু করতে পারছে, মাইক্রোফোন চালু করে আপনার কথা শুনতে পারছে। আপনার সব তথ্য, সব ছবি—সবকিছুই তারা হাতে পেয়ে যাচ্ছে।’

ছয় বছরের আইনি লড়াইয়ের পর গত সোমবার লন্ডনের হাইকোর্ট এ ঘটনায় সৌদি আরবকে দায়ী ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন। আল–মাসারিরকে ৩০ লাখ পাউন্ডের (প্রায় ৪১ লাখ ডলার) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সৌদি সরকারকে বলা হয়েছে।

২০১৮ সালে আল–মাসারিরের আইফোন হ্যাক করা হয়েছিল। তিনি তাঁর কাছে আসা তিনটি খুদে বার্তায় থাকা লিংকে ক্লিক করার পর ফোনটি হ্য্যাক হয়ে যায়। বার্তাগুলো দেখে মনে হয়েছিল, এগুলো সংবাদমাধ্যম থেকে পাঠানো বিশেষ সদস্যপদের প্রস্তাব।

ফোন হ্যাক হওয়ার পর আল–মাসারির নিয়মিত নজরদারি, হয়রানি এবং হুমকির শিকার হন। সেই বছরের আগস্টে তাঁকে লন্ডনে মারধরের শিকার হতে হয়।

লন্ডনের হাইকোর্টে শুনানিতে বলা হয়, দুই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি আল–মাসারিরের কাছে গিয়ে চিৎকার করতে থাকেন এবং জানতে চান, সৌদি রাজপরিবার নিয়ে তিনি কথা বলার কে? এরপর তাঁরা তাঁর মুখে লাথি–ঘুষ মারতে শুরু করেন এবং ক্রমাগত আক্রমণ চালান।

পথচারীরা হস্তক্ষেপ করলে ওই দুই ব্যক্তি পিছিয়ে যান। তাঁরা আল–মাসারিরকে ‘কাতারের দাস’ বলে ডাকছিলেন এবং বলছিলেন, তাঁরা তাঁকে ‘শিক্ষা দেবেন’।

হাইকোর্টের বিচারক এই শারীরিক হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত বলে উল্লেখ করেছেন।

বিচারক সাইনি তাঁর লিখিত রায়ে বলেছেন, সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ বা তাদের প্রতিনিধিরা যে এ হামলার নির্দেশ বা অনুমোদন দিয়েছে, সে ব্যাপারে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ আছে।

বিচারক রায়ে আরও উল্লেখ করেছেন, আল–মাসারিরকে সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সমালোচনা থেকে বিরত রাখতে চেয়েছিল কর্তৃপক্ষ।

সেই হামলাই শেষ নয়। এরপরও হয়রানি চলতে থাকে। ২০১৯ সালে কেনসিংটনের এক ক্যাফেতে একটি শিশু আল–মাসারিরের কাছে এসে বাদশাহ সালমানের প্রশংসা করে গান গায়।

এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নিজস্ব হ্যাশট্যাগের ট্রেন্ডিং হয় এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও তা প্রচার করা হয়।

একই দিনে, পশ্চিম লন্ডনের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার সময় এক ব্যক্তি আল–মাসারিরের কাছে এসে বলেন, ‘তোমার দিন শেষ হতে চলেছে।’ তারপর তিনি চলে যান।

আল–মাসারিরের জন্ম সৌদি আরবে হলেও তিনি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তিনি মূলত পোর্টসমাউথে পড়াশোনার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন।

আল–মাসারির এখন ব্রিটিশ নাগরিক এবং ওয়েম্বলিতে থাকেন। তবে এখন আর তাঁর দূরে যাওয়া হয় না। এখন মধ্য লন্ডনে যাওয়াটাও তাঁর জন্য ভয়ের। কারণ, আগে তাঁকে সেখানে হামলার শিকার হতে হয়েছে।

৪৫ বছর বয়সী আল–মাসারির আরবভাষী বিশ্বে তাঁর ব্যঙ্গাত্মক ইউটিউব ভিডিওগুলোর জন্য বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। সেখানে তিনি সৌদি শাসক, বিশেষ করে যুবরাজ ও কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনা করতেন।

আল–মাসারির হাস্যরসাত্মক ভিডিওগুলো প্রায়ই ভাইরাল হতো এবং এগুলো ৩৪ কোটি ৫০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে।

মাসারির সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিওটি ১ কোটি ৬০ লাখ ভিউ হয়েছে। সেখানে তিনি সৌদি আরবে মেয়েদের নাচের একটি ভাইরাল ভিডিও নিয়ে ক্ষুব্ধ হওয়া সৌদি কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছেন। রহস্যজনকভাবে ইউটিউবে সেই ভিডিওর শব্দ ফেলে দেওয়া হয়েছে। অথচ আল–মাসারির জানেন না, কখন বা কীভাবে ভিডিওটি সম্পাদিত হয়েছে।

হ্যাকিং ও হামলার শিকার হওয়ার পর থেকে আল–মাসারির আত্মবিশ্বাস হারিয়েছেন। তিনি হতাশ ও ভীত হয়ে পড়েছেন। এই ব্যক্তি বিবিসির সঙ্গে খুব সীমিত আকারে কথা বলেছেন এবং পুরোপুরি মুখ দেখাতে রাজি হননি।

মাসারির তিন বছর ধরে কোনো ভিডিও পোস্ট করেননি।

টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে সিটিজেন ল্যাবের স্পাইওয়্যার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আল–মাসারির ফোনটি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে হ্যাক করা হয়েছে। তাঁরা একজন বিশ্লেষককে লন্ডনে পাঠিয়েছিলেন। হ্যাকটি সৌদি আরবের নির্দেশে করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন তাঁরা।

পেগাসাস হলো একটি শক্তিশালী ও বিতর্কিত হ্যাকিং টুল। ইসরায়েলের এনএসও গ্রুপ এটি তৈরি করেছে। এনএসও গ্রুপের দাবি, সন্ত্রাসবাদী ও অপরাধীদের ওপর নজরদারি চালাতে তারা এটি শুধু বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে বিক্রি করে।

তবে সিটিজেন ল্যাব দেখিয়েছে, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং বিরোধীদের ফোনে এই পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে।

লন্ডনের হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষকে মোট ৩০ লাখ ২৫ হাজার ৬৬২ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। তবে সৌদি আরব তা পরিশোধ করবে কি না, সেটি নিশ্চিত নয়।

বিবিসি এ ব্যাপারে জানতে লন্ডনস্থ সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আল–মাসারির বলেছেন, তিনি রায় কার্যকর করতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতেও যেতে প্রস্তুত। তবে তিনি মনে করেন, হ্যাকিংয়ের কারণে তিনি যে ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তা কোনো অর্থ দিয়েই পরিশোধ করা সম্ভব নয়।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-01-31%2Fya7t6k20%2FSaudi-1.webp?rect=5%2C0%2C675%2C450&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ঘানেম আল-মাসারি। ছবি: বিবিসির এক্স অ্যাকাউন্ট

ময়মনসিংহ-১১ আসন: বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের সময় মধ্যরাতে আটক, ছয়জনের কারাদণ্ড

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে ছয়জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের বগাজান নামক এলাকায় তাঁদের আটক করে সাজা দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, আবদুল হামিদ (৭৫), মো. তানভীর (৪২), গোলাম রাব্বী (২৩), মেহেদী হাসান (৪০), মো. শামসুদ্দিন (৭৪) ও গোলাম শহীদ (৫০)। তাঁদের কাছ থেকে ৬টি মুঠোফোন, ২৫ হাজার টাকা, হিসাবের খাতা এবং একটি একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভালুকার বগাজান এলাকায় টাকা বিতরণের খবর আসে। ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদের পক্ষে এসব টাকা বিতরণ করা হচ্ছিল। সেখান থেকে সেনাবাহিনীর টহল টিম সাতজনকে আটক করেন। সেখানে ৩০ জনের একটি দল থাকলেও অন্যরা পালিয়ে যান।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম কাউসার জামান গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। আটক ব্যক্তিরা ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। আটক ৭ জনের মধ্যে ৬ জনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে মুচলেকা নিয়ে তাঁর মায়ের উপস্থিতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেন বলেন, ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের সময় আটক করা ছয়জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি হিসাবের খাতাও জব্দ করা হয়েছে। এতে কোন মহল্লায় কবে, কত টাকা বিতরণ করা হয়েছে বা করা হবে, তার হিসাবের তথ্য আছে।

ময়মনসিংহের ভালুকায় ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের বগাজান এলাকায়
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের বগাজান এলাকায়। ছবি : প্রথম আলো

সীমিত পরিসরে গাজার রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খুলছে ইসরাইল

গাজা ও মিশরের মধ্যকার রাফাহ সীমান্ত পারাপার সোমবার থেকে সীমিত আকারে ‘পাইলট পর্যায়ে’ পুনরায় চালু করার কথা জানিয়েছে ইসরাইল। ওদিকে হাজার হাজার আহত ও অসুস্থ ফিলিস্তিনি বিদেশে জরুরি চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন। গাজায় ত্রাণ প্রবেশ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী ইসরাইলি সামরিক সংস্থা সিওজিএটি বা কোগাট রোববার এক বিবৃতিতে জানায়, রাফাহ ক্রসিংটি পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্য গাজার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে উভয় দিকেই খুলে দেওয়া হবে। এ কার্যক্রম মিশর ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ক্রসিংটির কার্যক্রম পরীক্ষা ও মূল্যায়নের জন্য একটি পাইলট পর্ব চালানো হচ্ছে সোমবার। গাজায় প্রবেশ ও গাজা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের চলাচল এদিন শুরু হওয়ার কথা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গাজায় প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য ফিলিস্তিনিদের স্ক্রিনিংয়ের উদ্দেশ্যে একটি জটিল কমপ্লেক্স নির্মাণ শেষ করা হয়েছে। রাফাহ হলো গাজার একমাত্র সীমান্ত পারাপার, যা ইসরাইলের ভেতর দিয়ে যায় না। যুদ্ধ শুরুর আগে এটি ফিলিস্তিনি ও মিশরীয় কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে পরিচালনা করত ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে। কিন্তু ২০২৪ সালের মে মাসে গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইলি বাহিনী রাফাহ দখল করার পর থেকে প্রায় দুই বছর ধরে সীমান্তটি বন্ধ ছিল। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ বলেন, ফিলিস্তিনিরা গাজা ছাড়তে চান। কিন্তু একই সঙ্গে তারা আতঙ্কিত আর ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে। অনেকে বলেছেন, তারা কেবল চিকিৎসা বা পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্যই যেতে চান এবং পরে আবার ফিরে আসতে চান।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা আল জাজিরাকে জানান, ইসরাইলের যুদ্ধে গাজা ছাড়তে বাধ্য হওয়া প্রায় ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি এখন ফিরে আসতে চাইছেন। তিনি আরও বলেন, প্রায় ২২ হাজার আহত ও গুরুতর অসুস্থ মানুষ জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য গাজা ছাড়তে চান। রয়টার্সকে দু’জন মিশরীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববারই কমপক্ষে ৫০ জন ফিলিস্তিনি রোগীকে চিকিৎসার জন্য মিশরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথম কয়েক দিনে প্রতিদিন প্রায় ২০০ রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা রাফাহ সীমান্ত দিয়ে মিশরে যাবেন। একই সময়ে প্রতিদিন ৫০ জন করে গাজায় ফিরে আসবেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত পার হওয়ার জন্য নির্ধারিত ফিলিস্তিনিদের তালিকা মিশর জমা দিয়েছে এবং ইসরাইল তা অনুমোদন করেছে। গাজা ছাড়তে চাওয়া মানুষের মধ্যে রয়েছেন ৬৫ বছর বয়সী আবেদ আল হালিম আবু আসকার। তিনি চার বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন। তার অস্ত্রোপচার নির্ধারিত ছিল ১০ অক্টোবর ২০২৩। কিন্তু তার ঠিক কয়েক দিন আগেই যুদ্ধ শুরু হওয়ায় চিকিৎসা স্থগিত হয়ে যায়। যুদ্ধের প্রথম মাসেই ইসরাইলি বিমান হামলায় গাজা সিটিতে নিহত হন তার ২৮ বছর বয়সী মেয়ে শাইমা, সঙ্গে মারা যান তার স্বামী ও দুই কন্যা। 

mzamin

নতুন নথি প্রকাশ: এপস্টেইনের সঙ্গে মাস্কের সম্পর্ক ধারণার চেয়েও অনেক গভীর ছিল

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত শুক্রবার জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত আরও নথি প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের যোগাযোগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপচারিতা আগে যেমনটা ভাবা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।

প্রকাশিত নথিপত্রের কিছু ই–মেইল থেকে জানা যায়, মাস্ক ও এপস্টেইন অন্তত পৃথক দুটি উপলক্ষ ঘিরে নিজেদের মধ্যে আন্তরিকভাবে বার্তা আদান-প্রদান করেছেন। এতে এপস্টেইনের মালিকানাধীন দ্বীপে মাস্কের ভ্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মাস্ক ও এপস্টেইন ২০১২ ও ২০১৩ সালে ওই ই–মেইলগুলো চালাচালি করেন। এতে দেখা যায়, তাঁরা দুজনে মিলে মাস্ক কবে ‘লিটল সেন্ট জেমস’ দ্বীপে যাবেন, তা ঠিক করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু যাতায়াত সংক্রান্ত জটিলতার (লজিস্টিকস) কারণে মাস্কের সেই দ্বীপে শেষ পর্যন্ত যাওয়া হয়নি।

মাস্ক ২০১৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর এপস্টেইনকে লিখেছিলেন, ‘ছুটিতে আমি সেন্ট বার্তস এলাকায় থাকব। সেখানে যাওয়ার ভালো সময় কোনটা?’

উল্লেখ্য, সেন্ট বার্তস হিসেবে পরিচিত সেন্ট বার্থেলেমি ফরাসি ভাষাভাষি একটি ক্যারিবীয় দ্বীপ। ধনকুবের ও তারকারা অবকাশযাপনে এই দ্বীপে যান।

জবাবে এপস্টেইন লিখেছিলেন, ‘১ থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে যেকোনো দিন। যখন খুশি আসুন। আপনার জন্য সব সময় দরজা খোলা।’

মাস্ক পরবর্তী কয়েকটি ই–মেইলে নিজের সফরসূচি নিয়ে কথা বলেন। দুজনে ২ জানুয়ারি ভ্রমণের তারিখ ঠিক করেন। কিন্তু এপস্টেইন শেষ মুহূর্তে মাস্ককে জানান, তাঁকে নিউইয়র্কে থাকতে হচ্ছে।

এপস্টেইন দুঃখ প্রকাশ করে মাস্ককে লিখেছিলেন, ‘দুঃসংবাদ—কর্মব্যস্ততার কারণে দুর্ভাগ্যবশত আমাকে নিউইয়র্কে থাকতে হবে। আমি সত্যিই খুব আশা করেছিলাম, আমরা একসঙ্গে কিছু আনন্দঘন সময় কাটাব। আমি খুব হতাশ। আশা করি, আমরা শিগগিরই আরেকটি সময়সূচি ঠিক করতে পারব।’

এপস্টেইন ২০১২ সালের নভেম্বরে ই–মেইলে মাস্ককে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘দ্বীপে আসার হেলিকপ্টারে আপনারা কতজন থাকবেন?’ জবাবে মাস্ক লিখেছিলেন, ‘সম্ভবত শুধু তালুলাহ (মাস্কের সাবেক স্ত্রী তালুলাহ রিলি) ও আমি। আপনার দ্বীপের সবচেয়ে বড় পার্টি কবে হবে?’

এপস্টেইন আরেকটি ই–মেইলে মাস্ককে ভ্রমণের জন্য উৎসাহ দিয়েছিলেন এবং তাঁর হেলিকপ্টার ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

এপস্টেইনের ওই ই–মেইলের জবাবে ২০১২ সালের ২৫ ডিসেম্বর মাস্ক লিখেছিলেন, ‘আপনার কি কোনো পার্টির পরিকল্পনা আছে? এ বছর আমি প্রচুর কাজ করছি। তাই আমার বাচ্চারা বড়দিনের পর বাড়ি গেলে আমি সেন্ট বার্তস বা অন্য কোথাও গিয়ে পার্টি করতে এবং মন খুলে আনন্দ করতে চাই। আমন্ত্রণের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। কিন্তু আমি যা চাইছি, তা শান্ত দ্বীপে থাকার ঠিক উল্টো।’

জবাবে এপস্টেইন লিখেছিলেন, ‘বুঝতে পেরেছি। তাহলে সেন্ট বার্তসে দেখা হবে। তবে আমার দ্বীপে (নারী-পুরুষের) অনুপাত তালুলাহর জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।’
জবাবে মাস্ক লিখেছিলেন, ‘অনুপাত তালুলাহর জন্য কোনো সমস্যা নয়।’

এরপর ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি এপস্টেইনকে ই–মেইল করে মাস্ক বলেন, ‘সফরটি আর হচ্ছে না।’ তিনি লেখেন, ‘এবার যাতায়াত সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিয়েছে।’

ইলন মাস্ক সব সময় এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কড়া সমালোচনা করে এসেছেন। তবে এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর নিজের সম্পর্ক থাকার বিষয়টি এত দিন যে তিনি অস্বীকার করে আসছিলেন, নতুন প্রকাশিত ই–মেইলে উল্টো চিত্র দেখা গেছে।

এক অনুষ্ঠানে ২০১৯ সালে তিনি বলেছিলেন, এপস্টেইন স্পষ্টতই একজন খারাপ চরিত্রের মানুষ। তিনি একাধিকবার তাঁকে নিজের মালিকানাধীন দ্বীপে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা নাকচ করে দিয়েছিলেন।’

এর আগে মাস্ক দাবি করেছিলেন, তিনি গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলকে (এপস্টেইনের সহযোগী) চিনতেন না এবং তাঁদের একসঙ্গে তোলা ছবিটি অনাকাঙ্ক্ষিত। এ মার্কিন ধনকুবের আরও দাবি করেছিলেন, তিনি এপস্টেইনের নিউইয়র্কের বাসায় তালুলাহসহ মাত্র ৩০ মিনিটের জন্য গিয়েছিলেন। তালুলাহর লেখা একটি বইয়ের জন্য গবেষণার কাজে তাঁরা গিয়েছিলেন। তবে নির্দিষ্ট তারিখ বলেননি।

এপস্টেইনের সঙ্গে ই-মেইল যোগাযোগের নথি প্রকাশের পর মাস্ক বা তাঁর কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দোষী সাব্যস্ত যৌন অপরাধী এপস্টেইন ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে কারাবন্দী অবস্থায় আত্মহত্যা করেন।

মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। ওয়াশিংটন ডিসিতে, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। ওয়াশিংটন ডিসিতে, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

মোমো’র লোভে ৮৫ লাখ রুপির গয়না উধাও

উত্তরপ্রদেশে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রের মোমো’র প্রতি ভালোবাসা ভয়াবহ ও চমকে দেয়ার মতো পরিণতি ডেকে এনেছে। তার প্রিয় খাবার ‘মোমো’। এর প্রতি আকর্ষণ থেকেই তার পরিবারের প্রায় ৮৫ লাখ রুপির গয়না হারিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়, প্রথমে তার খাদ্যাভ্যাসকে সাধারণ বিষয় বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু সেটাই পরে রূপ নেয় প্রতারণার ঘটনায়। স্থানীয় একটি মোমো’র দোকান চালানো তিন ব্যক্তি নাকি ফ্রি মোমো দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধীরে ধীরে শিশুটিকে ফাঁদে ফেলে। এরপর তারা তাকে বাড়ি থেকে গয়না এনে দেয়ার জন্য রাজি করায়।

বিনিময়ে মিলবে বিনা মূল্যে মোমো। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, বারাণসীর এক মন্দিরের পুরোহিত বিমলেশ মিশ্র জানান, তার ছেলে মোমো খেতে ভীষণ পছন্দ করে। সেই দুর্বলতাকেই কাজে লাগিয়েছে তিন দোকানদার। বিমলেশ মিশ্রের অভিযোগ, দোকানদাররা তার ছেলেকে বলে যে, সে যদি বাড়ি থেকে গয়না এনে দেয়, তাহলে তাকে বিনা পয়সায় মোমো খেতে দেবে। ধীরে ধীরে শিশুটি নিজের ঘর থেকে গয়না নিয়ে ওই তিন ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে তখনই, যখন বিমলেশের বোন বাড়িতে এসে নিজের গয়না খোঁজেন।

আলমারি খুলে পরিবারটি দেখে সব গয়না উধাও। পরে ছেলেকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, ফ্রি মোমো খাওয়ার জন্য সে সব গয়না মোমো বিক্রেতাদের দিয়ে দিয়েছে। এরপর বিমলেশ মিশ্র থানায় লিখিত অভিযোগ করেন এবং তিন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করেন। তিনি জানান, হারিয়ে যাওয়া গয়নাগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮৫ লাখ রুপি। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

https://mzamin.com/uploads/news/main/201613_Abul-6.webp