Sunday, May 2, 2010

বাংলাদেশের শ্রমশক্তি: সমস্যা ও সম্ভাবনা by সালমা খান

মাত্র বছর দুয়েক আগেও দ্রুত প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় বাংলাদেশকে ১৩টি উদীয়মান দেশের তালিকাভুক্ত করা হলেও (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ২০০৮) সাম্প্রতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সে সম্ভাবনা প্রায় হ্রাস পেতে চলেছে। কৃষি খাতে, বিশেষ করে শস্য উপখাতে প্রবৃদ্ধির হার কম হওয়া, রপ্তানি আয়ের নিম্নমুখিতা (রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ২০০৯-১০), মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে আমাদের প্রবেশগম্যতা লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পাওয়া এবং দেশে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুত্ ও জ্বালানি সংকটের কারণে উত্পাদন ব্যাহত হওয়া এর মূল কারণ। সেই সঙ্গে বিস্ফোরণোন্মুখ জনসংখ্যা, দ্রব্যমূল্যের ক্রম-ঊর্ধ্বমুখিতা এবং জীবনমানের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ শ্রমমজুরি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যসীমা লঙ্ঘনে অপারগ করে তুলেছে, যা বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিকাশের অন্তরায়।
অন্যদিকে, অর্থনেতিক উন্নয়নে শ্রমশক্তি ও উদ্যোক্তার অব্যাহত প্রয়াস—নারীসহ প্রবাসী শ্রমিকের ক্রমবর্ধমান হার প্রায় ৭০ লাখে পৌঁছেছে। পোশাকশিল্পে অব্যাহত শ্রমিক বিক্ষোভ মোকাবিলা করেও এই খাতে বিগত অর্থবছরে প্রায় ১২ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে। এসব তথ্য স্মরণ করিয়ে দেয়, এখনই সময় অর্থনীতির বিশেষ সুযোগগুলো ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর। আমাদের মূল সম্পদ সুবিশাল শ্রমশক্তি। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমে এদের উন্নয়নবান্ধব করে তোলা সম্ভব।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জরিপে (২০০৫-০৬) দেখা যায়, দেশে অর্থনৈতিকভাবে কর্মক্ষম শ্রমশক্তির সংখ্যা চার কোটি ৯৫ লাখ, যার মধ্যে এক কোটি ১৩ লাখ নারী এবং মোট শ্রমশক্তির ৪৮ দশমিক ১০ শতাংশ কৃষি খাতে নিয়োজিত। দিনমজুর শ্রেণীতে ১৮ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং অন্যান্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োগকৃত শ্রমিকের হার প্রায় ১২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, অর্থাত্ দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৭৮ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শ্রমদান করছে। এর মধ্যে তুলনামূলকভাবে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নারীশ্রমিকের আধিক্য লক্ষণীয়। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক কোনো প্রকার শ্রম আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না বিধায় ন্যূনতম মজুরি, গ্রহণযোগ্য কর্মপরিবেশ বা আইনানুগ অন্য কোনো সুবিধাপ্রাপ্তির সুযোগ তাদের নেই। উপরন্তু নারীশ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ অতি সীমিত হওয়ায় তাঁরা মূলত বিনা মজুরিতে পারিবারিক পেশায় শ্রমদান করেন অথবা পুরুষের তিন-চতুর্থাংশ বা অর্ধেক মজুরিতে অনিয়মিত কৃষিশ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক বা গৃহভৃত্য হিসেবে নিয়োজিত থাকেন।
এই শ্রমশক্তিকে দেশের অর্থনৈতিক বিকাশে যথাযথ ভূমিকা পালনের পূর্বশর্তের মূলে রয়েছে প্রশিক্ষণ, ন্যায্য মজুরি ও শ্রমকল্যাণ আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ।
প্রশিক্ষণ: দক্ষতাই একজন শ্রমিকের মূলধন। কিন্তু বাংলাদেশের স্থানীয় বা বিদেশগামী শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের সুযোগ অতি সীমিত। অধিকাংশ ট্রেডের জন্য দেশে তেমন কোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্র নেই। বিদেশগামী শ্রমিকদের জন্য বিএমইটির আওতায় কিছু প্রশিক্ষণকেন্দ্র থাকলেও তা মানসম্মত নয় এবং মাত্র সাতটিতে নারীদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং নারী প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আবাসন সুবিধা সৃষ্টি অপরিহার্য। সেই সঙ্গে দক্ষ প্রশিক্ষক গড়ে তুলতে হবে।
শ্রমমজুরি: যেহেতু আমাদের শ্রমশক্তির সিংহভাগ কৃষি ও অন্যান্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত, সরকারকে প্রথমে এই খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও কর্মঘণ্টা-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে এক সরকারি ইশতেহারের মাধ্যমে কৃষি ও অন্যান্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের জন্য এক হাজার ৫০০ টাকা হারে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ছিল সম্পূর্ণ অবাস্তব। কারণ বর্তমানে একজন দিনমজুর ন্যূনতম দৈনিক ২০০ টাকা হারে কাজ করেন। এ ক্ষেত্রে সব কৃষিশ্রমিক ও কায়িক শ্রমিকের দৈনিক মজুরির হার সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা ধার্য করা যায়। এ প্রসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে বলা যায়, দেশের বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নির্ধারিত মজুরি বা কর্মঘণ্টা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এই যুক্তি আংশিক মেনে নিয়েও বলা যায়, এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারণা ও জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে কৃষিশ্রমিক ও কায়িক শ্রমিকদের পক্ষে ন্যূনতম মজুরি দাবির বাজার সৃষ্টি করা সম্ভব। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সবচেয়ে নিগৃহীত ও বৈষম্যের শিকার গৃহপরিচারিকারা, যার ৯৯ শতাংশ নারী ও শিশু। নারী গৃহপরিচারিকার ক্ষেত্রে আহার ও বাসস্থানসহ ন্যূনতম মজুরি এক হাজার ৫০০ টাকা ধার্য করা যায়। সেই সঙ্গে গৃহকর্মে শিশুশ্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। গণসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এসব নীতি বাস্তবায়ন সম্ভব।
আনুষ্ঠানিক খাতের শিল্পশ্রমিকদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা ও করপোরেশনগুলোয় কর্মরত শ্রমিকেরা প্রযোজ্য সরকারি স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পেয়ে থাকেন, যা অন্যত্র সরকারের অনুরূপ পদের কাজে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সরকারি অনুদান ও ভর্তুকির কারণে অবস্থার লাভ-ক্ষতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্প খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প। সেখানে বর্তমানে প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করে, যার ৮০ শতাংশ নারী। সাম্প্রতিককালে পোশাক শিল্পে অব্যাহত শ্রমিক বিক্ষোভ, কারখানা ভাঙচুর, লুটপাট ইত্যাদি এই অপার সম্ভাবনাময় শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এর বিভিন্ন কারণ থাকলেও মূলত মজুরির হার ও মজুরি প্রদানে অনিয়মিতকেই দায়ী করা হচ্ছে। শ্রমিক আন্দোলনের পক্ষ থেকে ন্যূনতম মজুরি পাঁচ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। আর বিপরীতে সরকারি সুপারিশ রয়েছে মাত্র এক হাজার ৬৬৫ টাকা।
এ ক্ষেত্রে বলা যায়, উভয় মজুরি হারই কিছুটা অবাস্তব। বর্তমান বাজারে শিল্পশ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি এক হাজার ৬৬৫ টাকা, যা দ্রব্যমূল্য ও জীবনমানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যদিকে গার্মেন্টস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের দাবীকৃত অদক্ষ ও শিক্ষানবিশ শ্রমিকের জন্য ন্যূনতম মজুরি পাঁচ হাজার টাকা, যা সর্বমোট সাতটি গ্রেডের মধ্যে প্রথম গ্রেডের জন্য, এটা মালিক পক্ষের দ্বারা গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা অতি ক্ষীণ। কারণ সে ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে উত্তরোত্তর গ্রেডে হাজিরা বোনাস, উত্পাদন বোনাস, ওভারটাইম, যাতায়াত ভাড়া ইত্যাদিসহ গড় মজুরি যে অঙ্কের কোঠায় দাঁড়াবে, তাতে অধিকাংশ গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকে বাস্তবসম্মত সমঝোতায় আসতে হবে। পোশাক শিল্পে সম্প্রতি নারীশ্রমিকের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে কিছু কিছু অঞ্চলে উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। সে জন্য শিল্পমালিকদের যেমন শ্রমিক প্রণোদনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, তেমনি এই শিল্পকে রক্ষা করার জন্য মালিক পক্ষের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে বহিরাগত অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। দুই পক্ষের আন্তরিকতাই পরস্পরের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে।
শ্রমিক-কল্যাণ: বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর (সংশোধিত) আওতায় ফ্যাক্টরি অ্যাক্ট ১৯৬৫-এ মূলত কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, দেশের সব শিল্পকারখানার তুলনায় তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানাগুলো আমদানিকারকদের দ্বারা আরোপিত শর্তসাপেক্ষে আধুনিক ও উন্নত মানের তৈরি হলেও বেশ কিছু কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে চলেছে, যাতে শ্রমিকের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটেছে।
এতে প্রমাণিত হয় যে এসব কারখানা দৃশ্যত আধুনিক হলেও এদের আইনানুগ অগ্নিপ্রতিরোধক ও নির্বাপক ব্যবস্থায় যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পরিবীক্ষণ আরও নিবিড় ও জোরদার করতে হবে। ব্যক্তিমালিকানাধীন কারখানা বা সংস্থায় অধিকাংশ সময় নারীশ্রমিককে তাঁদের প্রাপ্য চার মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পূর্ণ বেতনে দেওয়া হয় না। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী এই ছুটি ছয় মাসে উন্নীত করার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রত্যেক নারীশ্রমিক যাতে পূর্ণ বেতনে মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করতে পারেন, সে জন্য মালিক পক্ষকে দায়বদ্ধ করতে হবে।
আইনানুযায়ী নারীশ্রমিক থাকা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন বাধ্যতামূলক করতে হবে। যেসব নারী-পুরুষ প্রাতিষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কায়িক শ্রমে নিয়োজিত, ভারী বোঝা বহনের কারণে তাঁদের স্বাস্থ্যের যে ক্ষতি হয়, সে কারণে অনেকেরই কর্মজীবন হ্রাস পায় বা তাঁরা পঙ্গুত্বের শিকার হন। ফ্যাক্টরিস রুলস, ১৯৭৯-এর ধারা ৪৮(১) অনুযায়ী, প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সর্বাধিক ৬৮ পাউন্ড এবং প্রাপ্ত বয়স্ক নারী সর্বাধিক ৫০ পাউন্ড ওজন তোলা বা বহন করতে পারেন। কুলি-মজুর শ্রেণীর ক্ষেত্রে এ আইন মানা হয় না এবং শ্রমিকদেরও এই সীমা সম্বন্ধে অবহিত করা হয় না। এই ব্যাপারে কায়িক শ্রমিক ও জনগণকে সচেতন করা প্রয়োজন।
একটি উন্নয়নমুখী উদীয়মান রাষ্ট্র হওয়ার যে সুপ্ত সম্ভাবনা বাংলাদেশের রয়েছে, তা বাস্তবায়ন সম্ভব শুধু একটি দক্ষ, সুশৃঙ্খল উন্নয়নবান্ধব শ্রমশক্তি সৃষ্টির মাধ্যমে; যার সম্মিলিত দায়িত্ব সরকার, মালিক ও শ্রমিকের।
সালমা খান: অর্থনীতিবিদ, নারীনেত্রী।

দিনবদলের জন্য চাই বড় মন ও বড় মাপের নেতৃত্ব by সৈয়দ বদরুল আহ্সান

মাঝে মাঝে মনে হয়, আমাদের এই বাংলাদেশে প্রয়াত পাকিস্তানি সামরিক শাসক আইউব খানের প্রভাব এখনো অনেকখানি রয়ে গেছে। আমরা বরাবরই তাঁকে গালমন্দ করে থাকি—এবং যথার্থ কারণেই—এবং এই দেশে এবং পাকিস্তানে যা কিছু মন্দ, যা কিছু কালো, এর প্রায় সবকিছুর পেছনে যে আইউব খানের অবদান রয়েছে, তা আমরা একটা বড় সত্যরূপে গণ্য করি। হ্যাঁ, এও জানি আমরা যে এ ধরনের উক্তি করার ফলে অনেকেই কিছুটা বিস্মিত কিছুটা রাগাান্বিত হবেন। সে তা হোক গিয়ে। কিন্তু আমরা এ কথা কেন বলছি? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যায়। সর্বত্রই একটা মানসিকতা কাজ করছে, যার মূলে হচ্ছে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার, সবকিছু সীমিত করে দেওয়ার একটি প্রয়াস। এবং এই কাজটি করে যাচ্ছে সরকার নিজেই—যে সরকারের মূল নেতৃত্ব বিগত নির্বাচনের আগে জাতিকে পরিবর্তনের, দিনবদলের আশ্বাস দিয়েছিল। দিনবদল এখনো হয়নি। কবে হবে অথবা আদৌ হবে কি না, আমরা জানি না। যে দেশে সরকারি দলের পক্ষের ছাত্রগোষ্ঠী দিনের পর দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং আইনশৃঙ্খলা ভেঙে ফেলে, সেখানে দিনবদলের আশা করাটা কি ঠিক হবে? এই গেল কিছুদিন আগে বাংলাদেশের মানুষের অতি প্রিয় ও গুণী পাঁচজন শিক্ষক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন সরকারি দল সম্পূর্ণভাবে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে ফেলে। এ ধরনের বক্তব্য তো অতীতে কোনো বড় মাপের মানুষ দেননি। তাহলে এখন কেন দিলেন? এর উত্তর একটাই—অতীতে ছাত্রলীগ টেন্ডার ব্যবসায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলেনি; বরং দেশের গণতান্ত্রিক এবং মুক্তিসংগ্রামে অংশ নিতে গোটা জাতিকে উদু্বদ্ধ করেছে। বর্তমানের ছাত্রলীগ একটি ত্রাস হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা জনগণের মনে আতঙ্ক ও ভয় ছড়িয়ে দিচ্ছে।
ছাত্রলীগকে কি ভালো পথে আনা যায় না? দলের যেসব নেতা-কর্মী দেশে ত্রাসের সৃষ্টি করছে, তাদের কি গ্রেপ্তার করা যায় না? নাকি আমরা ধরে নেব যে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কারণেই এসব টেন্ডারবাজকে ধরা যাবে না? আর যাঁরা এসব বেআইনি এবং অনৈতিক কাছে লিপ্ত, তাঁরা কি কখনো ভাবেন না যে ভবিষ্যতে আবারও পরিবর্তন হবে এবং তখন তাঁরাই নতুন এক সরকারের হাতে তাঁদের অপরাধের জন্য অনেক মাশুল দেবেন? আপনি হয়তো ভাবছেন সেই পুরোনো কথা—ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। খুব একটা ভুল হবে না যদি আপনি ওই মন্তব্যটি করেন। এই আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কথাই ভাবুন। এই কিছুদিন আগে পর্যন্ত উভয় দলই বিগত তত্ত্বাবধায়ক সকারের হাতে নাজেহাল হয়েছে। যেভাবে দুর্নীতির দায়ে এই দুটি দল তাদের নেতা-কর্মীদের করুণ পরিস্থিতির শিকার হতে দেখেছে, তাতে আমাদের মনে একটা ধারণা জন্মেছিল যে দুই দলই তাদের রাজনীতির ধারা এবং পন্থায় পরিবর্তন নিয়ে আসবে। কিন্তু নির্বাচনের পর ১৫ মাস যেতে না-যেতেই উভয় দলই সেই পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে গেছে। জাতীয় সংসদ এবং সংসদের বাইরে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়, তাতে দেশের নাগরিক হিসেবে আপনার আমার সবারই লজ্জা হয়। কিন্তু আমাদের রাজনীতিবিদদের সে ধরনের অনুভূতি বিন্দুমাত্র হয় না। তাঁরা আসলেই বিশ্বাস করেন যে, তাঁদের অতীতের দুরবস্থার জন্য দায়ী ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং দেশে জরুরি অবস্থা। হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রে সেই সরকার বাড়াবাড়ি করেছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই সরকার আমাদের আশার আলো দেখিয়েছে।
সেই আলোয় ঘেরা জায়গাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে—অথবা ছিল—দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন। এবং আমরা সবাই আশা করেছিলাম যে নির্বাচনোত্তর অবস্থায় দুদক আরও কঠোর ও স্বাধীনভাবে কাজ করে যাবে, যেমনটি করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই ও ভারতের সিবিআই। কিন্তু সেটা আর হলো কই? পদে পদে দুদকের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে। কোনো সরকারি আমলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে প্রথমে সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হবে। অদ্ভুত একটি সিদ্ধান্ত। আর তা-ই যদি হয়, তবে দুর্নীতি দমন নিয়ে এত চিন্তাভাবনা কেন? দুদককে বাতিল করে দিলেই হয়। কিন্তু বাতিল করলে যে কী পরিমাণে সরকারকে সমালোচনার সম্মুখীন হতে হবে, সেই সত্যটি সরকার নিজেই অনুধাবন করতে পারে। কিন্তু তাতেই বা আনন্দিত হতে হবে কেন আমাদের? সরকার তো দুর্নীতি দমন কমিশনকে ছোট করার নামে ক্ষমতাহীন করে ফেলার কাজে ব্যস্ত। যে দুদক শক্তিশালীভাবে পরিচালিত হয়েছে হাসান মশহুদ চৌধূরীর তত্ত্বাবধানে, সেই দুদক আর নেই, যদিও বা গোলাম রহমান সাহেব দুদকের মান-সম্মান রক্ষা করার কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। কতটা সফল হবেন তিনি, সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই। সরকার এবং বোধ করি বাংলাদেশের অধিকাংশ রাজনীতিবিদই বলেন যে দুদক যেন আর কোনো দিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে। ওই যে আইউব খানের কথা বলছিলাম? ওই যে তাঁর মৌলিক গণতন্ত্র, Basic Democracy, ওটা আমাদের কাজকর্মে ও মানসিকতায় প্রকটভাবে রয়ে গেছে। এই যে কয়েক দিন আগে যোগাযোগমন্ত্রী সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে সরকারি কাগজপত্র হস্তান্তর করতে অস্বীকার করেছেন এই বলে যে, এর সঙ্গে গোপনীয়তার বিষয়টি জড়িত এতেই বোঝা যায় গণতন্ত্র কী রকমের কোণঠাসা পরিস্থিতিতে আটক রয়েছে। মন্ত্রীকে সংসদীয় কমিটি বাধ্য করল না কেন ওই দলিলপত্রগুলো তার হাতে তুলে দিতে? তিনি কোন সাহসে বলতে পারলেন যে, তিনি কমিটির আবেদন মেনে নেবেন না? যদি যুক্তরাজ্যে টনি ব্লেয়ার ইরাক অনুসন্ধান কমিটির সামনে উপস্থিত হতে পারেন কমিটির প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য, তাহলে আমাদের মন্ত্রীরা কেন সেই একই কাজ জাতীয় সংসদের কমিটির ব্যাপারে করবেন না?
গণতন্ত্র কী ধীরগতিতে এবং পরিষ্কারভাবে তার শক্তি হারিয়ে ফেলছে, সেটা লক্ষ করা যায় উপজেলাগুলোর দিকে তাকালে। দেশে যে শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের একটি বড় ধরনের প্রয়োজনীয়তা আছে, সে বিষয়ে দেশবাসী মোটামুটি একমত। কিন্তু সরকারের মতামত মনে হচ্ছে অন্য রকম। নির্বাচিত উপজেলার ওপর মনে হয় সব শ্রেণীর মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়বে এখন। একবার শুনতে পাই, উপজেলা পরিষদের ওপর বসিয়ে দেওয়া হবে স্থানীয় সাংসদকে। আর তা-ই যদি হয়, তবে নির্বাচিত উপজেলা কেন? এখন আবার ভাবা হচ্ছে, আরও কী করে উপজেলা পরিষদের ক্ষমতা বেশি করে খর্ব করা যায়। এবং হবে যখন উপজেলা কর্মকর্তাকে উপজেলা পরিষদের চেয়েও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হবে। অতএব যতই দিন যাচ্ছে, ততই আমরা মনে করছি যে বাংলাদেশে শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিকব্যবস্থা আর গড়ে উঠবে না। আর সেটা না হলে যে রাষ্ট্র শক্তি হারাবে এবং সমাজ পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি সাধিত হবে না, সেই সত্যটি কত লোকেই বা বোঝে? ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে যে ব্যাপক সুফল আসে, সেই বাস্তব সত্যটি অনুধাবন করতে পারছে না সরকার। আমাদের কেন ধরে নিতে হবে যে সাংসদ এবং সরকারি আমলাই হচ্ছে দেশ পরিচালনার পেছনে মূল শক্তি? আর যদি উপজেলা তথা স্থানীয় সরকার পদ্ধতি এই স্থবির অবস্থায়ই থাকে, তাহলে দেশে যে একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিকব্যবস্থা গড়ে উঠবে, সেই আশা করাটাই বোকামি হবে।
দিনবদলের রাজনীতি ওই সব ব্যক্তি দ্বারাই সম্পন্ন হতে পারে, যাঁরা উদার এবং ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কথা ভাবেন। এবং যাঁরা উদার তাঁরা ভুল করেন ও সেই ভুল স্বীকার করেন এবং স্বীকার করে আবার সঠিক পথ ধরে হাঁটা শুরু করেন। এই যে হাইকোর্টের নবনিযুক্ত দুই বিচারকের শপথ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তার অবসান হওয়া দরকার। সরকারের উচিত হবে দুজনের নামই প্রত্যাহার করা। প্রধান বিচারপতি তাঁদের দুজনের নাম দেখেছেন বা গ্রহণ করেছিলেন কি না, সেটা মুখ্য বিষয় নয়। এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে এই দুজনের নিয়োগের ব্যাপারে জনমনে স্বাভাবিক কারণেই অনেক প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে। সরকারের উচিত হবে না উচ্চ আদালত এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়া। আমাদের সবারই কাম্য একটি স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সরকারকে হলে বর্তমান এই সংকটে নমনীয় হতে হবে। ওই দুই ব্যক্তির নাম প্রত্যাহার করলে সরকারের জনপ্রিয়তার কোনো কমতি হবে না। বরং তা নৈতিক সাহসের পরিচায়ক হয়ে থাকবে।
দিনবদলের রাজনীতি আমাদের সবার মনের কথা। কিন্তু দিনবদল যদি কেবল শাসক বদল বোঝায়, কোনো গুণগত পরিবর্তন বয়ে না আনে, তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যাব। বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকার দেশে দুঃশাসন চালিয়েছে। তাই বলে আওয়ামী লীগ ভালো সরকার পরিচালনা করবে না কেন? যুবদল ও ছাত্রদল আমাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। সেই একই কাজ ছাত্রলীগ করবে কেন? তখনকার সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা কথা বেশি বলেছেন, কাজ করেননি। ওই একই নিয়মে বর্তমান সরকার চলবে কেন? বেগম জিয়া তাঁর ছেলের কারণে অনেক দুর্নাম কুড়িয়েছেন। এরপর কেন শেখ হাসিনা তাঁর নিজের ছেলেকে রাজনীতিতে নিয়ে আসবেন?
হ্যাঁ, আমাদের দিন বদলে দিন—জনগণের ক্ষমতায়নের মধ্য দিয়ে। উপজেলা-ব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন ও অন্যান্য জাতীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা খর্ব করে দিন বদলানো যাবে না। যে রাজনৈতিকব্যবস্থায় দেশের প্রধানমন্ত্রী সব অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবং সব বিষয়ে সব মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন, সেই রাজনৈতিকব্যবস্থায় কেবল দিন আসে আর দিন চলে যায়। দিন বদলায় না। পরিবর্তনের জন্য দরকার উদার চিন্তাশক্তি এবং বড় মাপের ও মনের নেতৃত্ব। তা নাহলে ওই আইউব খানের কথাই বারবার মনে পড়বে আমাদের।
সৈয়দ বদরুল আহ্সান: সাংবাদিক।

মহান মে দিবস

রতিবছরই মে দিবস আসে বিশ্বের শ্রমিকশ্রেণীর আন্তর্জাতিক সংহতি আর সংগ্রামের দিন হিসেবে। ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের শ্রমিকেরা কাজের মানবিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার জন্য বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন। বিশ্বের শ্রমিকশ্রেণীর পাশাপাশি বাংলাদেশের শ্রমিকেরাও অতীতের সংগ্রামী স্মৃতি ধারণ করে, আর বর্তমানের বঞ্চনা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দিনটি পালন করেন। কিন্তু পরিহাস এই যে ১২৪ বছর আগে শিকাগোর শ্রমিকেরা যে দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছিলেন, তা আজও এ দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষকে ন্যায্য মজুরির দাবি আদায়ে এখনো রাজপথে নামতে হয়, এখনো তাঁরা মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত।
মে দিবসের পথ ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমিকদের অধিকার, বিশেষত মজুরি, কাজের পরিবেশ, সুযোগসুবিধা—এসব ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। কিন্তু গত দুই দশকে বিশ্বায়নের ফলে একদিকে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বেড়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের শ্রমিকদের, বিশেষত পোশাকশিল্প ও ইমারত নির্মাণশ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, শ্রমিকের নিরাপত্তা ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করে একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করা যায়নি। শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকারও সর্বক্ষেত্রে স্বীকৃত নয়। তা ছাড়া বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের এখনো মেলেনি শ্রমিকের স্বীকৃতি, তাঁদের জন্য অধিকারের প্রশ্ন তো বহু দূরের। কৃষি খাতের মজদুর বা গৃহস্থালি সহকারীদের জীবন এখনো মানবেতর দশায়ই পড়ে রয়েছে। এ ছাড়া রিকশাচালক বা এ ধরনের স্বনিয়োজিত শ্রমিকদের জীবিকা অর্জন কেবল দুঃসহ হচ্ছে। দুস্থদের মধ্যে আরও দুস্থ হলো নারী ও শিশুশ্রমিকেরা।
শ্রমিক-অসন্তোষের অন্যতম কারণ শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি এবং অন্য সুবিধাদি না পাওয়া। দেশের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক অধিকাংশ শিল্প খাতে ন্যূনতম মজুরির বিধান নেই; আর যেখানে আছে সেখানেও যে সব সময় তা মেনে চলা হয়, তা বলা যাবে না। এ জন্য এখনো মজুরিকাঠামো ঘোষণা না করা শিল্প খাতে দ্রুত মজুরিকাঠামো ঘোষণা এবং তা বাস্তবায়ন অত্যাবশ্যক।
শ্রমিকেরা জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাঁদের স্বার্থরক্ষা ও কল্যাণের দিকটি অবহেলা করে তাই কোনো সত্যিকার উন্নতি সম্ভব নয়। আমরা জনগণের সৃষ্টিশীল অংশ হিসেবে শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নতি চাই, তাঁদের ওপর শোষণের অবসান চাই। শ্রমিকদের স্বার্থ ও শিল্প-কারখানা লাভজনকভাবে টিকে থাকা পরস্পরের পরিপূরক বলেই দেখতে হবে। বাস্তবায়ন করতে হবে দায়িত্বশীল ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার, আট ঘণ্টা শ্রম ও উপযুক্ত মজুরি। মহান মে দিবসে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষকে অভিনন্দন।

অ্যারিজোনার বিতর্কিত অভিবাসন আইনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের নতুন অভিবাসনবিরোধী আইন চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয়েছে। আইনের সমালোচকেরা জানিয়েছেন, নতুন ওই আইনের আওতায় অ্যারিজোনার পুলিশ এখন অনুপ্রবেশকারী সন্দেহ হলেই সেখানকার যেকোনো বাসিন্দাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। এই আইনের শিকার হচ্ছে অ্যারিজোনার সংখ্যালঘু হিসপ্যানিক জাতিগোষ্ঠী।
গত বৃহস্পতিবার ওই সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত একটি খ্রিষ্ট সম্প্রদায় এবং অ্যারিজোনার একজন পুলিশ কর্মকর্তা আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছেন।
আইনে বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসী বা অনুপ্রবেশকারী সন্দেহ হলেই অ্যারিজোনার যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে পুলিশ। ওই ব্যক্তি নিজের বৈধতা প্রমাণ করতে না পারলে তাকে গ্রেপ্তারও করা হতে পারে। অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বাস করে। ধারণা করা হয়, এদের মধ্যে পাঁচ লাখ অবৈধ অভিবাসী, যাদের বেশির ভাগ কাজের আশায় পার্শ্ববর্তী মেক্সিকো থেকে এসেছে। এদিকে ওই আইনের বিরোধিতা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও কলম্বিয়ার পপতারকা শাকিরা।

সাংহাইয়ে বিশ্ব বাণিজ্য মেলা শুরু

চীনের সাংহাইয়ে গতকাল শুক্রবার রাতে বিশ্ব বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ ১ মে থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এ মেলা চলবে। ছয় মাসব্যাপী এ মেলায় সাত কোটি দর্শকের সমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেলায় ১৯৭টি দেশ ও ৫৭টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও মেলার উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি মুয়াং বাক, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট হোসে ম্যানুয়েল বারোসাসহ অনেক বিশ্বনেতা উপস্থিত ছিলেন।
১৮৫১ সালে লন্ডনে প্রথম বিশ্ব বাণিজ্য মেলা শুরু হয়। এরপর এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এই প্রথম চীন বিশ্ব বাণিজ্য মেলা আয়োজনের সুযোগ পেল।
দুই বছর আগে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেমসের পর চীনে এটাই সবচেয়ে বড় মাপের কোনো আয়োজন। এই বাণিজ্য মেলা চীনের অর্থনীতিতে ৫৮০০ কোটি ডলার অবদান রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাণিজ্য মেলায় সবচেয়ে নজরকাড়া ও ব্যয়বহুল প্যাভিলিয়ন তৈরি করেছে সৌদি আরব।
দেশটির ১৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার খরচ করে তৈরি করা প্যাভিলিয়নটি দেখে মেলায় আগত দর্শকেরা রীতিমতো অবাক হচ্ছেন।

চীনে ফের স্কুলে হামলা, আত্মাহুতি হামলাকারীর

চীনে গতকাল শুক্রবার আবারও স্কুলশিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে। এবার এক কৃষক দেশটির পূর্বাঞ্চলের একটি প্রাইমারি স্কুলের পাঁচ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন। এরপর নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। সে দেশে গত তিন দিনে এ ধরনের হামলায় প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এ তথ্য দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সিনহুয়া জানায়, শ্যানডং প্রদেশের উইফ্যাং শহরের শ্যাংঝুয়াং প্রাইমারি স্কুলে সর্বশেষ হামলার এই ঘটনাটি ঘটে। ওয়াং য়ুনগ্লাই নামের ওই কৃষক তাঁর মোটরসাইকেলের সাহায্যে স্কুলের গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এরপর তিনি শিক্ষার্থীদের হাতুড়িপেটা শুরু করেন। একপর্যায়ে স্কুলটির একজন শিক্ষক এগিয়ে এলে ওয়াং তাঁকেও পিটিয়ে আহত করেন। এরপর দুই শিশুকে আঁকড়ে ধরে নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন ওয়াং।
এ ঘটনার পরপরই চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি জরুরি নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তাইজিং শহরের একটি কিন্ডারগার্টেনে এক বেকার ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে ২৯ শিক্ষার্থী ও তিন ব্যক্তি আহত হন।
এ ছাড়া মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ৩৩ বছর বয়সী এক স্কুলশিক্ষকের ছুরিকাঘাতে ১৫ স্কুলশিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক আহত হন। গত বুধবার সে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে এ ঘটনা ঘটে।

ভাঙনের মুখে কংগ্রেস তৃণমূল জোট

জোট বেঁধে ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন করেছে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট। এবার ফের এসেছে পশ্চিমবঙ্গের ৮১টি পৌরসভা এবং কলকাতা পৌর করপোরেশনের নির্বাচন। এ নির্বাচনে বামফ্রন্টকে কলকাতার দৃশ্যপট থেকে মুছে দেওয়ার জন্য জোট বাঁধে কংগ্রেস-তৃণমূল। কিন্তু ক্ষমতার মোহে সেই জোট এখন ভাঙনের মুখে। ৩০ মে ৮১টি পৌরসভা এবং কলকাতা পৌর করপোরেশনের নির্বাচন। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৪ মে।
বামফ্রন্ট ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন পৌরসভা এবং কলকাতা পৌর করপোরেশনের ১৪১টি আসনের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে। অথচ কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস এখনো আসন ভাগাভাগির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। কংগ্রেস চেয়েছে ৫১টি আসন। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসকে ছেড়েছে মাত্র ২৫টি আসন। এই ২৫টি ছেড়ে বাকি আসনে বুধবার প্রার্থিতাও ঘোষণা করেছে তৃণমূল। এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি কংগ্রেস। তারা বলেছে, তাদের ৫১টি আসন দেওয়া না হলে তারা ৮২টি আসনে লড়বে।
কংগ্রেস-তৃণমূল জোটের এ বিরোধ ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য পৌরসভার নির্বাচনেও। কংগ্রেস মুর্শিদাবাদ জেলার ছয়টি পৌরসভার সব আসনে এককভাবে তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে।

ব্যাংককে হাসপাতালে চড়াও বিক্ষোভকারীরা, পরে ক্ষমা প্রার্থনা

হাসপাতালে তল্লাশি চালানোর ঘটনায় গতকাল শুক্রবার ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন থাইল্যান্ডের লাল শার্ট পরা সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। সেনাসদস্যদের খোঁজে একটি হাসপাতালে প্রবেশ করলে কর্তৃপক্ষ গতকাল কিছু রোগী অন্যত্র সরিয়ে নেয়। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
দুই শতাধিক লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারী গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁদের অবস্থানস্থলের কাছে চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চড়াও হন। বিক্ষোভকারীরা ধারণা করেছিলেন, সেনারা হাসপাতালের ভেতরে লুকিয়ে আছে এবং হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু তাঁরা ঘণ্টাখানেক তল্লাশি চালিয়ে কোনো সেনাকে সেখানে খুঁজে না পেয়ে পরে হাসপাতালের মাঠ, লবি ও কার পার্কিংয়ে বিক্ষোভ করে চলে যান।
সংগঠনের নেতা ওয়েং তোজিরাকর্ন রয়টার্সকে জানান, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আমরা বলেছি, এটি একটি ভুল পদক্ষেপ ছিল। অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমাদের কেউ কেউ ধারণা করেছিলেন, এই হাসপাতাল সেনাদের আশ্রয় দিচ্ছে।’
হাসপাতালের পরিচালক এডিসর্ন পাত্রাদুল জানিয়েছেন, হাসপাতালটি খোলা থাকবে। আর যেসব রোগী হাঁটাচলা করতে পারে না, তারা হাসপাতালেই থাকবে।

বোরকা নিষিদ্ধ করে বেলজিয়ামের পার্লামেন্টে বিল পাস

বোরকা পরা নিষিদ্ধ করে বিল পাস করেছে বেলজিয়ামের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ। বিলটি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাস হলে বেলজিয়ামই হবে বোরকা নিষিদ্ধ করা ইউরোপের প্রথম দেশ। তবে এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ১৩৪টি। বিপক্ষে কোনো ভোট পড়েনি। তবে দুজন সাংসদ ভোট দেননি।
বিলে বলা হয়েছে, পার্ক বা রাস্তার মতো প্রকাশ্য স্থানে এমন পোশাক পরা যাবে না যাতে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করতে সমস্যা হতে পারে। এই আইন অমান্যকারীকে ১৫ থেকে ২৫ ইউরো জরিমানা অথবা সাত দিনের জেল হতে পারে।
বিলটি এখন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাঠানো হবে। ধারণা করা হচ্ছে, সিনেটেও বিলটি পাস হবে। তবে কিছু কাটছাঁট বা সংশোধনের জন্য কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। সিনেটে প্রতিনিধিত্বকারী লিবারেলস ও ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটরা জানিয়েছেন, বিলে কিছু ভাষা ও শব্দ প্রয়োগ নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলবেন। তার পরও আগামী জুন অথবা জুলাই নাগাদ আইনটি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বেলজিয়ামে প্রায় পাঁচ লাখ মুসলিমের বসবাস। তবে এদের মধ্যে মাত্র ৩০ জনের মতো নারী বোরকা পরেন। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বিল পাস হওয়ার পর এর সমালোচনা করে মুসলিম এক্সিকিউটিভ অব বেলজিয়াম বলেছে, এতে করে যেসব নারী বোরকা পরেন তাঁরা ঘরের মধ্যে বন্দী হয়ে পড়বেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বেলজিয়াম সরকারের পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বলেছে, এতে করে এক ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।

তালিকায় ভারতীয় নয়জন হিলারির নাম নেই

টাইম ম্যাগাজিন বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির বার্ষিক তালিকা প্রকাশ করেছে গত বৃহস্পতিবার। তারা চার শ্রেণীতে এ তালিকা প্রকাশ করে। প্রতি শ্রেণীতে ২৫ জনের নাম রয়েছে। তবে এ তালিকায় ৩১ জন নারীর নাম থাকলেও হিলারি ক্লিনটনের নাম নেই। এদিকে এ তালিকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংসহ সে দেশের নয়জনের নাম রয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, টক শোর উপস্থাপক অপরাহ উইনফ্রে রেকর্ড সাতবার এ তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। খবর রয়টার্স, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও টাইম ম্যাগাজিন।
নেতাদের তালিকায় শীর্ষে আছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা। এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা (চতুর্থ), ন্যান্সি পেলোসি (অষ্টম) এবং সাবেক রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সারা পেলিন (নবম) রয়েছেন। ভারতীয়দের মধ্যে এ তালিকায় আছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং (১৯তম)।
‘হিরো’র তালিকায় শীর্ষে আছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। এ ছাড়া বীরদের তালিকায় আছেন দক্ষিণ কোরিয়ার স্কেটিং চ্যাম্পিয়ন কিম ইউ না (দ্বিতীয়), ইরানের বিরোধীদলীয় নেতা মির হোসেইন মুসাবি (তৃতীয়) ও টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস (১৯তম)। এ তালিকায় আছেন ভারতের চক্ষু চিকিত্সক পি নামপেরুমালসামি (ষষ্ঠ), বিশ্বনন্দিত ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার (১৩তম), উদ্যোক্তা কিরণ মজুমদার (১৬তম) ও রাহুল সিং (২২তম)। শিল্পীদের তালিকায় শীর্ষে আছেন পপ তারকা লেডি গাগা। এ ছাড়া অপরাহ উইনফ্রে (চতুর্থ) ও জেমস ক্যামেরন (২৫তম)। ভারতীয়দের মধ্যে এ তালিকায় আছেন লেখক চেতান ভাগাত (২১তম)।
উদ্ভাবনী তালিকায় শীর্ষে আছেন জাহা হাদিদ। এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী স্টিভ জবস (১১তম)। ভারতীয়দের মধ্যে এ তালিকায় আছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অতুল গুয়ানদে (পঞ্চম), নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন (২০তম) এবং মানবাধিকারকর্মী সঞ্জিত বুকার রায় (২২তম)।

পাকিস্তানেরই জয় দেখছেন ইনজামাম

আগের দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলার উমর গুল নেই পাকিস্তান দলে। তার ওপর এমন একটা সময়ে তারা বিশ্বকাপ খেলতে গেছে যার আগে দলে অন্তঃকোন্দলের জন্য জরিমানা গুনতে হয়েছে দলের সাত ক্রিকেটারকে। তবে এত কিছুর পরও পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে পারবে বলে মনে করেন ইনজামাম-উল হক, ‘এই দল এমনই ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী যে নিজেদের সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে না উঠলে কোনো দলের কাছে তাদের হারা উচিত নয়।’

আপাতত স্মিথ, সামনে বোল্ট

২০০ মিটার সোজা দৌড়ে ৪৪ বছর ধরে অক্ষত থাকা টমি স্মিথের রেকর্ডটি ভাঙার লক্ষ্য নিয়েই ম্যানচেস্টারে আগামী ১৬ মের গ্রেট সিটি গেমসে অংশ নেবেন টাইসন গে। ১৯৬৮ মেক্সিকো সিটি অলিম্পিকে স্মিথ ১৯.৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে ২০০ মিটার সৌজা দৌড়ে যে রেকর্ড করেছিলেন, সেটি এখনো কেউ ভাঙতে পারেনি। তবে ১৬ মে ম্যানচেস্টার স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ বছর বয়সী এই স্প্রিন্ট কিংবদন্তি হয়তো দেখবেন তাঁর রেকর্ডটি ভেঙে দিলেন গে।
এখন ২০০ মিটার দৌড়টি একটু ঘুরে, যাতে ইতিহাসের তৃতীয় সেরা সময় ২৭ বছর বয়সী গের—১৯.৫৮ সেকেন্ড। আর গত বছর বার্লিনে ১৯.১৯ সেকেন্ড সময় করে নিজেরই আগের বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছেন জ্যামাইকার উসাইন বোল্ট। এ মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা গের আশা ম্যানচেস্টারের সোজা ট্র্যাকে তিনি বেশি গতি তুলতে পারবেন, ‘আমি সারা জীবন বৃত্তাকারই দৌড়ে যাচ্ছি এবং এটা জানা যে ঘোরানো দৌড়ের চেয়ে সোজা দৌড় সব সময়ই দ্রুততর।’
এ মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা গে যদি স্মিথের রেকর্ড ভাঙতে পারেন, অবশ্যই তাঁর অর্জনের খাতা একটু ভারী হবে। কিন্তু গে আসলে ভাঙতে চান বোল্টের রেকর্ড। এ জন্য পাখির চোখ করেছেন আগামী বছর দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১২ লন্ডন অলিম্পিক। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকের আগে ধূমকেতুর মতোই আবির্ভাব ঘটল এই বোল্টের। সেই থেকেই যেন ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টের বিশ্ব রেকর্ডকে সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার জ্যামাইকান তরুণ। বেইজিং অলিম্পিকে ৯.৬৯ সেকেন্ড সময় করে জিতলেন ১০০ মিটার, ১৯.৩০ সেকেন্ড সময় করে বিশ্ব রেকর্ড। গত বছর বার্লিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে গে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন বোল্টকে। বোল্ট যেন সত্যিকারের বিদ্যুত্ হয়ে গেলেন। ১০০ মিটারে ৯.৬৯ সেকেন্ড সময় করলেন গে। কিন্তু বোল্ট রীতিমতো অতিমানব হয়ে সোনা জিতে নিলেন ৯.৫৮ সেকেন্ড টাইমিং করে। কুঁচকির ইনজুরির জন্য ২০০ মিটারে দৌড়াতে পারলেন না গে। তাঁর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও ট্র্যাকে যেন অদৃশ্য কোনো চ্যালেঞ্জ অনুভব করলেন, আর সেটাই বোল্টকে দিয়ে ১৯.১৯ সেকেন্ড সময়ে দৌড় শেষ করিয়ে নিল।
গে মনে করেন, ইনজুরিই তাঁকে বারবার পিছিয়ে দিচ্ছে। সুতরাং এখন থেকে তাঁর চেষ্টাটা থাকবে ২০১২ অলিম্পিক পর্যন্ত সম্পূর্ণ সুস্থ থাকা। এটাই তিনি নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। যে জিনিসটা তাঁর হাতে নেই সেটি উচ্চতা। বোল্ট তাঁর চেয়ে ৬ ইঞ্চি লম্বা, এ জন্য তাঁর পদক্ষেপও লম্বা। বোল্ট বাড়তি সুবিধা পান এই উচ্চতা পার্থক্যের জন্যই। এতে ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি লম্বা গে শুধু ট্র্যাকে বেশি গতিতে দৌড়ানোর চেষ্টা করা ছাড়া আর কী করতে পারেন! দুঃখের সঙ্গে সেটাই বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্প্রিন্টার, ‘ও যে আমার চেয়ে লম্বা এতে অন্যায় কিছু নেই, বরং আমার জন্য বলতে হবে দুর্ভাগ্য।

রুনির আরেকটি পুরস্কার

কদিন আগেই ইংল্যান্ডের পেশাদার ফুটবলারদের ভোটে বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন ওয়েইন রুনি। সেই অর্জনের রেশ কাটতে না-কাটতেই আরেকটি স্বীকৃতি পেলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই স্ট্রাইকার। এবার ইংল্যান্ডের ফুটবল লিখিয়েদের ভোটে নির্বাচিত হলেন বর্ষসেরা। ফুটবল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফডব্লএ) সদস্যদের ৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি। এ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ৩৪টি গোল করা রুনির প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন চেলসির আইভরিয়ান স্ট্রাইকার দিদিয়ের দ্রগবা ও ম্যানচেস্টার সিটির আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার কার্লোস তেভেজ। ১৩ মে লন্ডনে আনুষ্ঠানিকভাবে রুনির হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হবে।

পাকিস্তানকে হারিয়ে দিল জিম্বাবুয়ে

যোগ্যতার মান পড়ে গেছে বলে তারা থাকতে পারে টেস্ট ঘরানার বাইরে, হতে পারে ওয়ানডে ক্রিকেটের দুর্বল দল। কিন্তু খেলাটা যখন টি-টোয়েন্টি তাদের ‘ছোট’ করে দেখার কোনো কারণ নেই। প্রস্তুতি ম্যাচে দুই পরাশক্তিকে হারিয়ে সেটাই জানিয়ে দিল জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। পরশু তারা ১২ রানে হারিয়ে দিয়েছে টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে। এর দুদিন আগে ১ রানে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে। অবশ্য চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হারিয়ে সংক্ষিপ্ততর সংস্করণের ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্য তারা দেখিয়ে দিয়েছে তিন বছর আগেই।
সেন্ট লুসিয়ার বোসেজো স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে চার্লস কভেন্ট্রির অপরাজিত ৪৯ রানের সুবাদে জিম্বাবুয়ে ৭ উইকেটে করেছিল ১৪৩ রান। ২৪ রানে ৪ উইকেট নেন আফ্রিদি। ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান ৬৭ রানে হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ফাওয়াদ আলম (৩২) ও মিসবাহ-উল হক (২১) ৫১ রান তুলে বিপর্যয় এড়ানোর চেষ্টা করেও পারেননি। তবে এই দুজন ছাড়া দুই অঙ্কের রান করেছেন আরও একজন কামরান আকমল (৩৭)। জিম্বাবুয়ের সফল ব্যাটসম্যান চিগুম্বুরা বল হাতেও সফল, ৩ উইকেট নিয়েছেন ১৬ রানে।
দিনের অন্য দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া (১৮৯/৮) ১০১ রানে উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডকে (৮৮) এবং ইংল্যান্ড (১২৭/৫) ৫ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে (১২৫/৫) হারিয়েছে।

ভিয়া আসছেন বার্সেলোনায়!

রিয়াল মাদ্রিদ টোপ ফেলে বসে ছিল অনেক দিন ধরেই। গিলছিল না ভ্যালেন্সিয়া। কিছুতেই ডেভিড ভিয়াকে হাতছাড়া করতে রাজি হচ্ছিল না তারা। অবশেষে ভ্যালেন্সিয়ার সমার্থক হয়ে ওঠা ভিয়া ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর ৫ বছরের সম্পর্কের ইতি টেনে দিচ্ছেন। না, রিয়াল নয়, ভ্যালেন্সিয়া নাম লেখাচ্ছেন বার্সেলোনায়!
কয়েক বছর ধরে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার ভাবা হয় তাঁকে। ২০০৮ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপেও সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। গত মৌসুমেও স্প্যানিশ লিগে ৩৩ ম্যাচে করেছিলেন ২৮ গোল। থিয়েরি অঁরি আর জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের ফর্মহীনতায় দারুণ ভাগে ভুগতে থাকা বার্সা ভিয়াকে এনে শক্তি বাড়াতে চাইছে আক্রমণভাগের। এরই মধ্যে এই দুই ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা হয়ে গেছে বলে খবর দিয়েছে ক্রীড়া দৈনিক মার্কা। ভিয়াকে কিনতে ৪ কোটি ইউরোর পাশাপাশি অ্যালেক্স হ্লেব আর বোজান কিরকিচকেও দিয়ে দিচ্ছে বার্সা।
ওদিকে ম্যারাডোনার জামাই সার্জিও আগুয়েরোর চেলসিতে যাওয়ার ব্যাপারটিও নাকি পাকা। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারকে কিনতে ৪ কোটি পাউন্ড খরচ করছে ইংলিশ ক্লাবটি।
দলবদলের মৌসুমে এ রকম অনেক গুঞ্জনই অবশ্য শোনা যায়। যে কজন খেলোয়াড়কে নিয়ে দলবদলের গুঞ্জন শোনা যায় না, লিওনেল মেসি তাঁদেরই একজন। বার্সা অন্তঃপ্রাণ মেসি কখনো কাতালান ক্লাবটি ছেড়ে যাবেন বলে মনেও হয় না। ইংলিশ দৈনিক ডেইলি মিরর মেসিকে জিজ্ঞেস করেছিল, ক্যারিয়ারের কোনো পর্যায়ে তিনি ইংল্যান্ডে খেলতে আগ্রহী কি না। মুখের ওপর মেসি বলে দিয়েছেন, ‘বাস্তবে দূরের কথা, আমি এটা কল্পনাও করতে পারি না। বার্সেলোনাই আমার জীবন। আজ আমার যা কিছু পাওয়া, সবই তো ওদের জন্যই। কখনো এই ক্লাব ছেড়ে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’

রানের চাপে স্বাগতিক দল

দুই রানের জন্য পরশু সেঞ্চুরি মিস করেছিলেন ডি মিলার। কিন্তু কাল ওপেনার হেনড্রিকসকে (১০৯) সেঞ্চুরি-বঞ্চিত করতে পারেনি স্বাগতিক জিপি-বিসিবি একাডেমি। সেঞ্চুরির পথে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান পিয়েনার (৭৫*)। এই দুজনের কল্যাণে চার দিনের ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩৭১ রান তুলেছে সফরকারীরা। ৩৩৩ রানে এগিয়ে গিয়েও ইনিংস ছাড়েনি সফরকারী দলটি।
কাল ২০৭ বলে ১৩টি ছক্কা ও ২টি চারে ১০৯ রান করেছেন বাঁহাতি ওপেনার হেনড্রিকস। পিয়েনারের ৭৫ রানের ইনিংসে ছিল ১০টি চার। বল হাতে সফলতম নাম বাঁহাতি স্পিনার শাকের আহমেদ, ৯৭ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। শুভাশিস, মাহমুদুল ও সাকলাইন নিয়েছেন ১টি করে উইকেট। এর আগে প্রথম ইনিংসে ২৬০ রান করে অলআউট হয় জিপি-বিসিবি। প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি করেছিল ২২২।

অলক কাপালির আরেকটি সুযোগ

গত মার্চে বাংলাদেশ সফরে আসা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ডাক পেয়েছিলেন বিসিবি একাদশ দলে, তবে অসুস্থ থাকায় খেলতে পারেননি। এবার আরেকটি সুযোগ পাচ্ছেন অলক কাপালি। দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশের ‘এ’ দলকে নিয়ে শুরু হতে যাওয়া ত্রিপক্ষীয় সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচের দলে রাখা হয়েছে এই অলরাউন্ডারকে। ১৪ সদস্যের দলের সহ-অধিনায়কও তিনি। জুনায়েদ সিদ্দিকের ইনজুরিতে চার দিনের ম্যাচের অধিনায়কত্ব পাওয়া শামসুর রহমানের হাতে নেতৃত্ব থাকছে ওয়ানডেতেও।
৫ মে বাংলাদেশ ‘এ’ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’র ম্যাচ দিয়ে শুরু টুর্নামেন্ট, গ্রুপ পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে দুবার করে খেলবে তিন দল। সেরা দুই দলকে নিয়ে ফাইনাল ১৪ মে। সবগুলো ম্যাচই হবে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল এখন চার দিনের ম্যাচ খেলছে, ট্রাভিস ডাওলিনের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দল ঢাকা আসবে আগামী পরশু।
ত্রিপক্ষীয় সিরিজের বাংলাদেশ ‘এ’ দল: শামসুর রহমান (অধি.), অলক কাপালি (সহ-অধি.), উত্তম সরকার, নাজিমউদ্দিন, রকিবুল হাসান, মার্শাল আইয়ুব, ফয়সাল হোসেন, নাজমুল হোসেন (মিলন), ধীমান ঘোষ, ডলার মাহমুদ, নাজমুল হোসেন, তালহা জুবায়ের, নাবিল সামাদ, সাকলাইন সজীব।

গ্ল্যাডিয়েটর গ্যালাকটিকো মুখোমুখি

রাসেল ক্রো কি তবে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিলেন? অভিনয় ছেড়ে এই বয়সে ফুটবল! তাও আবার গোলরক্ষক! আরে না, আসলে ‘গ্ল্যাডিয়টরে’র মুখোমুখি হয়েছিল গ্যালাকটিকো। গ্ল্যাডিয়টর-এর জন্য অস্কার জেতা অভিনেতা রাসেল ক্রো সম্প্রতি দেখা করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের দ্বিতীয় গ্যালাকটিকোসের অন্যতম তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে।
হলিউডের এই নামজাদা অভিনেতা জানিয়েছেন, রিয়াল মাদ্রিদ আর রোনালদোর তিনি দারুণ ভক্ত, ‘আমি তো ওর সঙ্গে দেখা করার জন্য উন্মুখ হয়ে ছিলাম, কারণ ও নিঃসন্দেহে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।’ নতুন ছবি রবিন হুড-এর প্রচারে স্পেন সফর করছেন ৪৬ বছর বয়সী। এক ফাঁকে এসেছিলেন মাদ্রিদের অনুশীলন মাঠে। সেখানে তারকা ফুটবলারদের সঙ্গে দেখা করেছেন। রোনালদোর হাত থেকে উপহার হিসেবে নিয়েছেন ‘আর. ক্রো’ লেখা জার্সি।
রিয়ালের টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ক্রো আরও জানিয়েছেন, শত ব্যস্ততার মধ্যেও খোঁজ রাখেন স্প্যানিশ লিগের, ‘আমি সব সময়ই পয়েন্ট টেবিল বের করে দেখি, রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনার অবস্থান কোথায়। ওদের সঙ্গে দেখা করে অনেক আনন্দ পেয়েছি। সত্যিই, কী দুর্দান্তই না ওদের দলটা!’

মোহামেডানের ‘উজ্জীবনী সভা’

ফুটবলারদের মনোবল ফেরাতে কাল দুপুরে ‘উজ্জীবনী সভা’ করল মোহামেডান।
সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন ক্লাবের ফুটবল ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম (বাবু)। ফুটবলারদের নিয়ে এই সভা কেন, তা না বললেও চলছে। ফরাশগঞ্জের সঙ্গে ড্র করার পর চলমান বাংলাদেশ লিগে আবাহনীর চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়ায় শিরোপার স্বপ্ন প্রায় শেষ মোহামেডানের। এ অবস্থায় নিজেদের করণীয় ঠিক করার পাশাপাশি বাকি ৫ ম্যাচকে কীভাবে নেওয়া হবে, সেই আলোচনার জন্যই ছিল বিশেষ ওই সভা।
দলের পক্ষ থেকে ম্যানেজার সভায় বলেছেন, যা হওয়ার হয়েছে তা আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। বাকি ৫ ম্যাচ জিতে লিগটা শেষ করতে হবে। আবাহনী যদি কোনো সুযোগই না দেয় এবং চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়, তাহলে অন্তত আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচটা জিতলে সান্ত্বনা পাওয়া যাবে। খেলোয়াড়েরা যেন মাঠে নেমে তাঁদের কাজটা করেন।
সতীর্থ খেলোয়াড়দের উদ্দেশে এ সভায় বক্তৃতা করেন গোলরক্ষক আমিনুল। ‘নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই এখন খেলতে হবে মোহামেডানকে’—আমিনুল বলেছেন সেই কথাই। কে কী বলল সেটা না ভেবে বাকি ম্যাচগুলো ভালোয় ভালোয় শেষ করা দরকার। তার পর দেখা যাবে দল কোথায় দাঁড়ায়। আমিনুল তাকাচ্ছেন সামনের দিকে, ‘আবাহনী পয়েন্ট হারালে হয়তো আমাদের সুযোগ চলে আসবে। তবে এ মুহূর্তে সেটা না ভেবে সুপার কাপে যাতে ভালো করতে পারি, সেটা নিয়েই বেশি ভাবছি আমরা।’ তবে আবাহনীও বসে নেই। ক্লাব কর্মকর্তারাও প্রতিদিন দলকে অনুপ্রাণিত করছেন যাতে সামনের কোনো ম্যাচে পা না হড়কে যায়। তাদের পরিকল্পনার সবটাই জুড়ে আছে হ্যাটট্রিক শিরোপা।
সবচেয়ে বড় বাজেটের দল গড়েও কেন এই দুরবস্থা মোহামেডানের—তা খুঁজে বের করার কথা বলছেন ক্লাবের অনেকেই। খেলোয়াড়েরা তাঁদের দায় স্বীকার করে নিলেও কারও কারও মতে, কারও ঘাড়ে দোষ না চাপিয়ে সবকিছু খতিয়ে দেখা উচিত দলটির। তবে সমস্যা হচ্ছে, নির্বাহী কমিটি না থাকায় দায়িত্বটা কে নেবেন, সেটিই হচ্ছে বড় কথা।

মুক্তির পথে মুক্তিযোদ্ধা

অবনমনের চিন্তায় যাদের দিনকয়েক আগেও বিনিদ্র রাত কেটেছে, সেই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র এখন অনেকটাই নির্ভার। পেশাদার ফুটবল লিগে তাদের টিকে থাকাটা এখন মোটামুটি নিশ্চিত।
টিকে থাকার জন্য সর্বশেষ অক্সিজেন সিলিন্ডারটা মুক্তিযোদ্ধাকে জোগান দিয়েছে কালকের ম্যাচ। চলমান বাংলাদেশ লিগের পয়েন্ট তালিকার তলানির দল নারায়ণগঞ্জ শুকতারাকে তাদেরই মাঠে তারা হারিয়ে এসেছে ১-০ গোলে।
৫৯ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছেন অনেকের চোখেই বাতিলের খাতায় চলে যাওয়া অনেক দিনের পোড়-খাওয়া স্ট্রাইকার শাহাজউদ্দিন টিপু। কালকের ম্যাচের পুরোটাই খেলেছেন এবং প্রমাণ করেছেন এখনো তাঁর দেওয়ার আছে।
প্রথম দিকে হারতে হারতে ক্লান্ত হয়ে পড়া মুক্তিযোদ্ধার এটি ষষ্ঠ জয়। আবাহনী, মোহামেডান, শেখ রাসেল বাদে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জিতছে মুমূর্ষু অবস্থা থেকে বেঁচে ওঠা মুক্তিযোদ্ধাই। ১৮ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে দলটি এখন সপ্তম স্থানে।
আগের দিন অবনমন এড়িয়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বাদ্যি বাজিয়ে আনন্দ করেছে ২১ পয়েন্ট পাওয়া ব্রাদার্স। মুক্তিযোদ্ধা তেমন আনন্দ করেনি, তবে কোচ আতিকুর রহমানকে লাগল উচ্ছ্বসিতই, ‘খুবই ভালো লাগছে। চিন্তা মোটামুটি দূর হলো। ২০ পয়েন্ট হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা আর না করলেও চলবে মনে হচ্ছে।’
আরামবাগ-সকার ড্র: এখনো অবনমন অঞ্চলে রয়ে গেছে আরামবাগ। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে তারা ফেনী সকারকে হারাতে পারলে অনেকটা এগিয়ে যেতে পারত। কিন্তু ম্যাচটা গোলশূন্য ছিল।
১৮ ম্যাচে ৫ জয়ে সকারের পয়েন্ট ২২। সাংগঠনিক দক্ষতা আর মাঠের পারফরম্যান্সে তাদের অবনমনের দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে আগেই। ১৮ ম্যাচে ৩ জয় আর ৭ ড্রয়ে আরামবাগের পয়েন্ট ১৬। পয়েন্ট তালিকায় নিচের দিক থেকে আরামবাগ তৃতীয় স্থানে। ১৮ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট বিয়ানীবাজারের। সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্ট পেয়েছে শুকতারা।

মাঠে নেমেই ভোগালেন হ্যারিস

মূল দলে ছিলেন না। প্রথম ম্যাচে দলের স্পিনারের দুর্দশা দেখে জাতীয় দলের মূল স্পিনারকেই ‘এ’ দলের হয়ে খেলতে পাঠিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মাঠে নেমে নিজের গুরুত্বও বুঝিয়ে দিলেন ২৯ টেস্ট খেলা পল হ্যারিস। প্রথমে ব্যাট হাতে করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ৩৯ রান। মূল কাজ যেটি সফল সেখানেও, বিকেলে এক ওভারেই আউট করেছেন নাজিমউদ্দিন ও রকিবুল হাসানকে।
ইয়োহান ফন ডার ওয়াথের জায়গায় দলে আসা কুইন্টন ফ্রেন্ড নিজের প্রথম বলেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শাহরিয়ার নাফীসকে। দ্বিতীয় উইকেটে নাজিমউদ্দিনকে নিয়ে অধিনায়ক শামসুর রহমানের ১০৬ রানের জুটির পর হ্যারিসের ওই আঘাত। প্রথম ম্যাচে ৪৮ ও ৮২ রান করা নাজিমউদ্দিন কালও থিতু হওয়ার পর পারলেন না ইনিংসটাকে বড় করতে। ৮ চারে ৫৩ রান করে উইকেটের পেছনে ধরা পড়লেন থামি সোলেকিলের হাতে। চার বল পর শূন্য রানেই এলবিডব্লু রকিবুল হাসান। দিন শেষে ৬ চার ও ২ ছয় নিয়ে ৫৯ রানে অপরাজিত আছেন শামসুর, ৮ রানে ফয়সাল হোসেন। আলোকস্বল্পতায় দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হয়েছে অনেকটা আগেই।
বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বোলাররা কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন প্রতিপক্ষকে পাঁচ শর নিচে আটকে রাখতে পেরে। ৫ উইকেটে ৩৬০ রান নিয়ে দিন শুরু করা সফরকারীরা কাল যোগ করেছে ১২২ রান। ৯০ রান নিয়ে দিন শুরু করা সোলেকিলে সফরে তাঁর টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেলেও ৮১ রানের সঙ্গে আর কিছুই যোগ করতে পারেননি রিলে রোজু।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’: ১২৭.৩ ওভারে ৪৮২ (সোলেকিলে ১১১, রোজু ৮১, ফিল্যান্ডার ৩৯, হ্যারিস ৩৯*; নূর ৪/১৪৬, ফয়সাল ৩/১১১, নাবিল ১/৬৫, মাহবুবুল ১/৫৮)। বাংলাদেশ ‘এ’: ৩৯.২ ওভারে ১২৮/৩ (শামসুর ৫৯*, শাহরিয়ার ১, নাজিমউদ্দিন ৫৩, রকিবুল ০, ফয়সাল ৮*; হ্যারিস ২/৩৫, ফ্রেন্ড ১/১৯)।

স্মৃতিময় সেই বোশেজো

বিশ্বকাপের ছোঁয়ায় অনেকটাই বদলে গেছে, তার পরও মাঠটায় পা রাখতেই চোখের সামনে নাচতে শুরু করল ছয় বছর আগের সেই দৃশ্যগুলো।
অসাধারণ এক সেঞ্চুরির পর ব্যাট তুলছেন হাবিবুল বাশার। সেঞ্চুরি করে নিজেই অবাক মোহাম্মদ রফিক বলছেন, ‘নয় নম্বরে নাইমা সেঞ্চুরি মাইরা দিছি! আমার নিজেরই তো বিশ্বাস হইতাছে না!’ প্রথম ইনিংসে এই দুজন। দ্বিতীয় ইনিংসে খালেদ মাসুদ। এক ম্যাচে তিন সেঞ্চুরিতে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম বৃষ্টির দাক্ষিণ্যহীন নিজেদের কৃতিত্বে ড্র। খেলা শেষে মাঠে বাংলাদেশ দলের গ্রুপ ছবি।
ছয় বছর হয়ে গেছে! সময় যেন উড়ে উড়ে চলে যায়। মাঝখানে আরও দুবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ঘুরে গেছি। সেন্ট লুসিয়ায় আসা হয়নি। বোশেজো ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গিয়ে মনে পড়ল, এখানে আসার আগে এই নামটার কত বিচিত্র উচ্চারণই না করেছি। ইংরেজি বানানটা লিখলে আপনিও তা-ই করবেন—‘ Beausejour’।
এবার আপনিই বলুন, এর উচ্চারণ বোশেজো কেন হবে? হয়েছে, কারণ শব্দটা ফরাসি। আর ফরাসি মানেই তো উচ্চারণের ফাঁদে ফেলার বন্দোবস্ত। ইংরেজিতে লেখা হবে ‘মিটেরান্ড’ পড়তে হবে মিতেরাঁ; লেখা হবে ‘কানেস’ পড়তে হবে কান...। মনে আছে, ২০০৪ সালের ওই টেস্টের আগে মাঠে বসেই স্থানীয় এক ভদ্রলোকের কাছে ওই বোশেজোর উচ্চারণ ও অর্থ জেনেছিলাম। বো মানে গুড, শেজো মানে ডে—দুটি মিলে গুড ডে।
শহর থেকে একটু দূরে ওই স্টেডিয়াম। চারপাশে টিলাকৃতির পাহাড়। ওখানে স্টেডিয়াম বানানোর কারণ, ওই জায়গাটাতেই নাকি সেন্ট লুসিয়ায় সবচেয়ে কম বৃষ্টি হয়। বৃষ্টি না হওয়া মানেই ‘গুড ডে’, এ কারণেই বোশেজো। স্কুলে থাকতে পরীক্ষায় গল্প-কবিতার নামকরণের সার্থকতা প্রমাণ করতে হতো। বোশেজো দেখি সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনল!
স্টেডিয়ামের ফরাসি নাম থেকেই সেন্ট লুসিয়ায় ফ্রেঞ্চ প্রভাব অনুমান করে ফেলার কথা। এখানে অনেক জায়গারই ফরাসি নাম। ক্যারিবিয়ানের প্রায় সব দ্বীপ নিয়েই ইংরেজ আর ফরাসিরা বিস্তর মারামারি করেছে। সেন্ট লুসিয়াকে পেতে বোধহয় সবচেয়ে বেশি। ১৪ বার হাতবদল হয়েছে এই দ্বীপের মালিকানা। হোটেল রুমে পাওয়া আইল্যান্ড গাইডে দেখলাম, কোন এক ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ সেন্ট লুসিয়ার নাম দিয়েছিলেন—‘হেলেন অব ওয়েস্ট ইন্ডিজ’। হেলেন অব ট্রয়ের অনুকরণে। অনিন্দ্যসুন্দর হেলেনের জন্য যেমন ট্রয়ের যুদ্ধ, সেন্ট লুসিয়াও অমন সুন্দর না হলে কি ইংরেজ আর ফরাসিরা বছরের পর বছর যুদ্ধ করে যায়! শেষ পর্যন্ত ফরাসিরাই বোধ হয় বেশি ছাপ রেখে গেছে এই দ্বীপে।
এক দিক থেকে ক্ষতিই হয়েছে তাতে। ইংরেজি-ভাষী হয়েও সেন্ট লুসিয়ার ক্রিকেট-ঐতিহ্য বলে কিছু নেই। এই তো মাত্র কয়েক বছর আগে সেন্ট লুসিয়া থেকে প্রথম কোনো ক্রিকেটার ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে সুযোগ পেয়েছেন। ড্যারেন স্যামিকে তাই রসিকতা করে অনেকে ‘ফাদার অব সেন্ট লুসিয়ান ক্রিকেট’ বলে ডাকে বলেও শুনেছি।
ক্ষতির কথাটা ব্যাখ্যা করি। ক্রিকেট ক্যারিবিয়ানে পর্যটনেরও বাহন। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এলে রথ দেখা ও কলা বেচা দুটিই একসঙ্গে সেরে নেয় ওই দুই দেশের হাজার হাজার পর্যটক। অনেক বছর সেটি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখার পর সেন্ট লুসিয়াও এর ভাগ নিতে এই বোশেজো স্টেডিয়ামটা বানায়। ২০০৭ বিশ্বকাপ অন্য অনেক দ্বীপকেই আধুনিক সব স্টেডিয়াম উপহার দিয়েছে। তবে এর আগ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে সুন্দর ও আধুনিক স্টেডিয়াম ছিল এই বোশেজোই। স্টেডিয়ামের গুণেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ পেতে শুরু করে সেন্ট লুসিয়া। ক্রিকেট-ঐতিহ্যে অন্য অনেক দ্বীপদেশ এগিয়ে থাকার পরও ২০০৭ বিশ্বকাপের একটা সেমিফাইনাল হয়েছে এখানে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুটি সেমিফাইনালও হচ্ছে এখানেই।
সাগর-সৈকত এসব তো ক্যারিবিয়ানের সব দ্বীপেরই সম্পত্তি। সেন্ট লুসিয়ার অহংকার প্রাকৃতিক সব হারবার নিয়ে। ‘পাম হাভেন’ নামে যে হোটেলে উঠেছি, সবচেয়ে বিখ্যাত হারবারটি সেটির সামনেই। নাম রডনি বে। ইয়ট আর বোটের ছড়াছড়ি। চারপাশে পর্যটক মনোরঞ্জক নানা আয়োজন।
সবচেয়ে বড় আয়োজনটা অবশ্য শুরু হচ্ছে শনিবার থেকে। সেন্ট লুসিয়ার জ্যাজ ফেস্টিভাল ক্যারিবিয়ানে সবচেয়ে বিখ্যাত। এয়ারপোর্টে নেমেই সেটির সাদর আমন্ত্রণ পেয়েছি। বিশ্বের কোন কোন বিখ্যাত জ্যাজশিল্পী আসছেন, সেটির তালিকাসংবলিত প্রচারপত্র। জ্যাজ-ফ্যাজ সেভাবে শুনিইনি, খোঁজখবরও রাখি না। জগদ্বিখ্যাত অমুক, বিশ্ব কাঁপানো তমুক—পড়তে পড়তে নিজেকে একটু গাধা-গাধাই মনে হলো। একটা নামের সঙ্গেও তো আমার পরিচয় নেই!
দেখি, সময়-সুযোগ পেলে একটা চক্কর দিয়ে আসব ওই জ্যাজ ফেস্টিভালে। জ্যাজও শোনা হবে, ওই বিখ্যাত সব শিল্পীর সঙ্গে পরিচয়ও হবে। কোনো ব্যাপারেই আকাট মূর্খ থাকা কোনো কাজের কথা নয়।
৩০ এপ্রিল, সেন্ট লুসিয়া

ম্যাককালাম জেতালেন নিউজিল্যান্ডকে

শিরোনাম ভুল বোঝাতে পারে। ম্যাককালামই জিতিয়েছেন নিউজিল্যান্ডকে, তবে ব্রেন্ডন নয়। কিউইদের জয়ের নায়ক বড় ভাই নাথান, যাঁর মূল কাজ বোলিং। মালিঙ্গার করা ইনিংসের শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১০ রান, তৃতীয় বলে চার আর পঞ্চম বলে লং অফের ওপর দিয়ে সীমানা ছাড়া করে নিউজিল্যান্ডকে ২ উইকেটের জয় এনে দিয়েছেন নাথান (৬ বলে ১৬)। ওয়েবসাইট।
ক্যারিবিয়ানের বদলে যাওয়া উইকেট আর প্রস্তুতি ম্যাচগুলোর ফলাফল আভাস দিয়েছিল এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে লো-স্কোরিং। মাহেলা জয়াবর্ধনের ৫১ বলে ৮১ রানের অসাধারণ একটা ইনিংসের পরও গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামের মন্থর উইকেটে ২০ ওভার খেলে শ্রীলঙ্কা করতে পেরেছে মাত্র ১৩৫। জবাবে প্রথম ওভারেই ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে হারানো নিউজিল্যান্ড ঘুরে দাঁড়ায় দ্বিতীয় উইকেটে রেইডার ও গাপটিলের ৬২ রানের জুটিতে। একটা মিনি ধসের পর কিউইদের জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যায় ওরামের ৬ বলে ১৫ রানের ক্যামিও।
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৩৫/৬ (জয়াবর্ধনে ৮১, চান্ডিমাল ২৯; বন্ড ২/৩৫, স্টাইরিস ১/১৩, নাথান ম্যাককালাম ১/১৭, সাউদি ১/২১, ওরাম ১/২৩), নিউজিল্যান্ড: ১৯.৫ ওভারে ১৩৯/৮ (রেইডার ৪২, গাপটিল ১৯, মুরালিধরন ২/২৫, ম্যাথুস ১/৭, জয়াসুরিয়া ১/১৭, ভেলেগেদারা ১/২১, মেন্ডিস ১/৩৪)।