Friday, August 2, 2019

ভারতে মালদ্বীপের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্রেফতার

ভারতের তুতিকরিন সমুদ্রবন্দরের ইমিগ্রেশন মঙ্গলবার মালদ্বীপের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ আদিবকে আটক করেছে।

ভিরগো ৯ নামে একটি টাগ বোটে অনিবন্ধিত ‘এক্সট্রা পারসন’ হিসেবে তাকে দেখানোর কথা ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম প্রকাশ করে। এর কয়েক ঘন্টা পর মালদ্বীপ পুলিশ আদিবের গ্রেফতারে বিষয়টি নিশ্চিত করে। পুলিশ জানায় যে তিনি সাগরপথে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।

পুলিশ জানায়, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট তার দেশত্যাগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলো।

পুলিশ জানায় দেশের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি কেলেংকারি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ৯০ মিলিয়ন ডলার চুরির ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে বুধবার তলব করা হয়েছিলো।

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয় যে আদিবকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

মুখপাত্র রাভিশ কুমার বলেন, নির্দিষ্ট পয়েন্ট দিয়েই দেশে প্রবেশ করতে পারেন বিদেশীরা। তার জন্য বৈধ ভ্রমণের কাগজপত্র থাকতে হয়। এক্ষেত্রে তিনি কোন বৈধ পথে বা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে ভারতে আসেননি। তাই তাকে ভারতে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয়নি।

আদালত অবমাননার দায়ে ১৫ দিন গৃহবন্দী থাকার পর আদিব দুই সপ্তাহ আগে মুক্তি পান। ভারতে চিকিৎসা করানোর পর জুলাইয়ের শুরুর দিকে দেশে ফিরেন তিনি।

বিয়ের নেশা অতঃপর... by রুদ্র মিজান

মা-বাবার একমাত্র সন্তান। ঢাকা শহরে নিজেদের বহুতল বাড়ি একাধিক। কথা বলেন গুছিয়ে। এসবই তার পুঁজি। সুশ্রী, বিধবা বা চাকরিজীবী নারীদের টার্গেট করেন তিনি। নিজের ব্যবহার, চেহারা ও সম্পত্তি দেখিয়েই প্রলুব্ধ করেন নারীদের। বিশেষ কৌশলে মিশে যান তাদের সঙ্গে । তারপর প্রেমের প্রস্তাব।
এভাবেই ধীরে ধীরে এগিয়ে যান। প্রতিশ্রুতি দেন বিয়ের। বিয়েও করেন। বিবাহিত পরিচয় গোপন করেই একের পর এক প্রেম ও বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্ত্রীর সর্বস্ব লুটে মগ্ন হন অন্য নারীতে। হুমকি-ধমকি, মারধর করে তাড়িয়ে দেন ‘স্ত্রীদের’। এরকম অনেক অভিযোগ পুলিশের কাছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, বিয়ে করাই তার নেশা। বিয়ে নেশাগ্রস্ত ৩৫ বছর বয়সী এই যুবকের নাম উজ্জ্বল। পুরো নাম কোরবান আলী। একাধিক মামলার এই আসামি পুলিশের কাছে পলাতক হলেও ঘুরে বেড়াচ্ছেন বীর দর্পে।

কল্যাণপুর প্রধান সড়কের বহুতল ৪৪/২ নম্বরসহ ছয়টি বাড়ির মালিক উজ্জ্বল। দিনভর বাসার পাশে কল্যাণপুরের তিন নম্বর রোডের প্রধান ফটকের পাশে আড্ডা দিতেন। ক্যারাম খেলতেন। ওই এলাকার একটি বাসাতেই শিশু সন্তান ও কলেজ পড়ুয়া নিজের খালাতো বোন, গৃহপরিচারিকাকে নিয়ে  থাকতেন এক ডিভোর্সী নারী। পরিচালনা করতেন দর্জি দোকান। পাশাপাশি উপস্থাপনা করতেন একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুষ্ঠান। ওই নারীর প্রতিই দৃষ্টি পড়ে উজ্জ্বলের। আসা-যাওয়ার পথে কথা বলার চেষ্টা করেন তার সঙ্গে। কিন্তু ওই নারী এড়িয়ে যাচ্ছিলেন শুরু থেকেই। এবার বাসার বাইরে পেলেই কথা বলেন ওই নারীর শিশু সন্তানের সঙ্গে। চিপস, লজেন্স কিনে দেন। সখ্যতা গড়েন। তারপর ওই শিশুর মাধ্যমেই সখ্যতা গড়েন ওই নারীর সঙ্গে।

ভুক্তভোগী নারী জানান, তারপর থেকে প্রায়ই উজ্জ্বলের সঙ্গে কথা হতো। উজ্জ্বল জানিয়েছিলেন, তিনি আগে একটা প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরি করতেন। আপাতত চাকরি নেই। তার স্ত্রী নেই। ডিভোর্স হয়ে গেছে। একজন সঙ্গী খুঁজছেন তিনি। একসময় ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ২০১১ সালের ২৫শে নভেম্বর বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পর প্রকাশ পায় তার অন্য রূপ। এখন না আরও পরে.. নানা বাহানা দিয়ে নিজের বাড়িতে নেয়া থেকে দুরে থাকতেন।  বেকার উজ্জ্বল ধুমপান থেকে শুরু করে যাবতীয় টাকা নিতেন স্ত্রীর কাছ থেকে। মাঝে-মধ্যে উধাও হয়ে যেতেন। ফোন বন্ধ। চার-পাঁচ দিন পর ফিরতেন।

২০১২ সালের ঘটনা। একদিন উজ্জ্বলের এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারেন অন্য তরুণী নিয়ে কক্সবাজারে আছেন তিনি। ওই দিনই ওই নারী যান কক্সবাজারে। নির্দিষ্ট আবাসিক হোটেলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ঘটনা সত্য। দুচোখে অন্ধকার দেখতে পান। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন সুন্দর জীবনের জন্য। তারপর মুখোমুখি না হয়েই ফিরে আসেন ঢাকায়। এ নিয়ে পরে কলহ হয় দুজনের। হঠাৎ তালাকের নোটিশ পাঠান উজ্জ্বল। অথচ তখনও সংসার করছিলেন তারা।

বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। মামলা করেন ওই নারী। কিন্তু উজ্জ্বলের হুমকি-ধমকিতে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। দুরে সরে যান মামলা পরিচালনা থেকেও। তিন বছর পর আবার ফেরে ওই নারীর কাছে। নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চায়। এভাবে কয়েক মাস। নতুন করে তাকে গ্রহণ করতে চান না ওই নারী। পরিচিতজনরা পরামর্শন দেন সমঝোতার। গত বছরের ২১শে মার্চ নতুন করে আবার বিয়ে হয় তাদের। এরমধ্যেই জানতে পারেন বরিশালেও একটি বিয়ে করেছেন উজ্জ্বল। আসমা নামের উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা ওই নারীর কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা নিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন। এ নিয়ে মামলার পর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসে মিরপুর মডেল থানায়। এসব জানার পর উজ্জ্বলকে চাপ দেন দ্রুত তাকে বাসায় উঠাতে। উজ্জ্বল তাল-বাহান করেন। ওই নারী এবার নিজেই যান উজ্জ্বলের মায়ের কাছে। এবার আকাশ থেকে পড়েন তিনি। বাড়িতে আছে নিপুন নামে তার আরেক স্ত্রী। ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা করেন উজ্জ্বলের মা আনোয়ারা বেগম। ওই নারী রাজি হন না। তিনি সংসার করতে চান। এবার বাসায় ওই নারী ও তার খালাতো বোনকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। হামলা চালান উজ্জ্বল, নিপুন ও আনোয়ারা। মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত করা হয় ওই নারীকে। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে। পরে অভিযান চালিয়ে উজ্জ্বলের মা, স্ত্রী, গৃহপরিচারিকাসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পালিয়ে যান উজ্জ্বল। এ বিষয়ে মামলা করার পর হুমকি-ধমকি দেন উজ্জ্বল। এমনকি ওই নারীর কলেজ পড়ুয়া খালাতো বোনকে নিউ মার্কেট এলাকা থেকে অপহরণ করার চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে তাকে শ্লীলতাহানি করেন উজ্জ্বলসহ চার যুবক।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে আইরিন নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেন তিনি। তারপর একে একে চার নারীকে বিয়ে করেন। এরমধ্যেই তিন নারীই তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। বিয়ে ছাড়া মিথ্যা পরিচয় প্রলোভন দিয়ে অন্তত অর্ধশত নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়েছেন বলে জানান ভুক্তভোগী নারীরা। এসব কারণেই উজ্জ্বলের সঙ্গে সংসার করা হয়নি তাদের। তারা প্রত্যেকেই তার বিচার দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির বলেন, কোরবান আলী উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে একটি মামলার চার্জশিট গত বছরই আদালতে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও অন্য একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পায়নি আড়াই মাসের শিশু রায়নাও

মাত্র আড়াই মাস বয়স মেলিসা ইসলাম রায়নার। পৃথিবীর আলো-বাতাস কেবল দেখতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে পৃথিবীর নিষ্ঠুরতার শিকার হতে হলো। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন সে ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তি।

শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ঘুমিয়ে রয়েছে ছোট্ট রায়না। ক্ষণিকের মধ্যেই সে কেঁদে উঠল। পাশেই বসে থাকা তার নানু রোকেয়া বেগম কোলে নিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করছেন।

রায়নার মা ফাতেমা আক্তার আর বাবা আবু মফিজুল ইসলাম। তারা থাকেন রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে। সেখানেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে রায়না।

রায়নার নানু রোকেয়া বেগম বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে রায়নার মা সবসময় মশারি টানিয়ে রাখতো। কিন্তু মাঝেমধ্যে তো বাইরে বের হতে হয়। এর মধ্যেই হয়তো রায়নাকে মশা কামড় দিয়েছে।’

রায়নার শারীরিক অবস্থা এখন মোটামুটি ভালো বলেও জানান রোকেয়া বেগম।

শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শিশু হাসপাতালে অবস্থান করে দেখা যায়, প্রচুর মানুষ জ্বর নিয়ে শিশু হাসপাতালে আসছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা। হাসপাতালটির সাড়ে পাঁচশ সিট পূর্ণ থাকায় একবারে মুমূর্ষু রোগী না হলে কাউকে ভর্তি করছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সাড়ে পাঁচশ সিটের মধ্যে ১২৮ জন ডেঙ্গু রোগী রয়েছে বলেও জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম সূত্র জানা গেছে, সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে গত দু'দিনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ৪০৫ রোগী। আর গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১ হাজার ৬৮৭ রোগী। বর্তমানে সারাদেশের হাসপাতালে ভর্তিকৃত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৫৮২।

আতঙ্ক নয় প্রয়োজন সচেতনতা by ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ

প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সবচেয়ে লক্ষণীয় এবং আতঙ্কের কারণ হলো- এ বছর ডেঙ্গু জ্বরের ধরন ও লক্ষণে বেশকিছু পরিবর্তন এসেছে। ফলে যে সমস্ত রোগী নিজেরাই ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত করতে পারতেন, এসব লক্ষণ পরিবর্তনে রোগীরা সহজে বুঝতে পারেন না। আর এ কারণে জ্বর হলে রোগীরা চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করছেন। এমনকি ২ থেকে ৩ দিনের জ্বরে অনেক চিকিৎসকও সামান্য জ্বর মনে করে ডেঙ্গু জ্বর শনাক্তকরণে দেরি করছেন। কারণ ধরন পাল্টে যাওয়ার ফলে ডেঙ্গু জ্বরের স্বাভাবিক যেসব লক্ষণ থাকে, সেগুলো এ বছর অনেক রোগীর মাঝেই পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর হলে রোগীর প্রচণ্ড জ্বর (১০৩ থেকে ১০৬ ডিগ্রি), শরীর এবং গিরায় গিরায় ব্যথা, যাকে বলে হাড়ভাঙা জ্বর বা ব্রেকবোন ফিভার, ৪ থেকে ৫ দিন পরে জ্বর কমে যায় এবং গায়ে র‌্যাশ উঠে। এই সময় জ্বর কমে যাওয়ার পরপরই রক্তের প্লাটিলেট কমে যায় ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে।

আর বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বরের ধরন পাল্টে যাওয়ার কারণে দেখা যায়, জ্বর অল্প অল্প থাকে, শরীরে তেমন ব্যথাও হয় না, এমনকি অধিকাংশ রোগীর গায়ে র‌্যাশও হচ্ছে না। আবার এমনও দেখা যায়, জ্বর হওয়ার ২ থেকে ৩ দিন পরই প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে, আর এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে। এ বছর যারা মারা গেছেন তারা কিন্তু সামান্য জ্বর মনে করে অবহেলা করেছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শও হয়তোবা নেননি। এ কারণে রোগীরা বুঝে ওঠার আগেই প্লাটিলেট কমে রক্তক্ষরণ এবং ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গুতে রক্তক্ষরণ শুরু হলে মৃত্যু ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

অতীতে ডেঙ্গু জ্বর হলে রোগীরা লক্ষণগুলো বুঝতে পারতেন এবং নিজেরাই ডেঙ্গু জ্বর ধারণা করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতেন। কিন্তু এখন তেমন কোনো লক্ষণ না থাকায় রোগীরাও তা বুঝে উঠতে পারেন না। ফলে আক্রান্ত রোগীরা মনে করেন, সামান্য জ্বর বা ভাইরাস জ্বর হয়েছে, তাই চিকিৎসকের কাছে যাননি বা দেরি করে গিয়েছেন। আবার অনেক চিকিৎসকও সামান্য জ্বর মনে করে বিষয়টিকে গুরুত্ব নাও দিয়ে থাকতে পারেন। জ্বর হওয়ার পর যদি ডেঙ্গু পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যেত, তা হলে ঝুঁকি কম হতো।  ডেঙ্গু  জ্বরের প্রভাব দীর্ঘ দিন থাকতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বর প্রথমবার হলে বেশি জটিল হয় না। যারা দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি। যাদের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে, তারা আগে সম্ভবত আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। এ জন্য রোগীদের প্রতি পরামর্শ, যেহেতু বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি, তাই যেকোনো ধরনের জ্বর হলে অবহেলা করা যাবে না। সামান্য জ্বর হলেও তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এবং ডেঙ্গু হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। বিশেষ করে যারা প্রথমবার আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাদের দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলেই ঝুঁকিটা অনেক বেশি। তাই এ ধরনের রোগীদের খুবই সতর্ক থাকতে হবে।

রোগীদের প্রতি আরো পরামর্শ, জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল এবং তরল জাতীয় খাদ্য যেমন পানি, শরবত ইত্যাদি বেশি খেতে হবে। প্রচণ্ড ব্যথা হলেও অন্য কোনো ব্যথার ওষুধ দোকান থেকে কিনে খাওয়া যাবে না, এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়বে। মনে রাখতে হবে, শরীরের যেকোনো অংশ থেকে রক্তক্ষরণ হলে, খেতে না পারলে বা প্রচণ্ড বমি হলে, গর্ভবতী কোনো মহিলা আক্রান্ত হলে এবং যারা অন্যান্য রোগে ভোগেন যেমন হৃদরোগ, লিভার বা কিডনির রোগ, তাদের অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

এ বছর বৃষ্টি বেশি হওয়ায় ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে, তবে মহামারি নয়, প্রকোপ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কোনো রোগে আক্রান্তের মৃত্যু হার যদি এক শতাংশের বেশি হয়, তাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে গণ্য করা হয়। আমাদের দেশে যে পরিমাণ মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন, সেই হিসেবে মৃত্যুর হার কম। ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে এ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং ডেঙ্গুর পরীক্ষা করিয়ে তা নিশ্চিত হতে হবে। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতেই চিকিৎসা সম্ভব, তবে প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

>>>লেখক: সাবেক ডিন ও চেয়ারম্যান, মেডিসিন অনুষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দুধের উপাদান জানা আমার অধিকার by খালেদ মুহিউদ্দীন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, হঠাৎ একজন প্রফেসর গবেষণা করেছেন বলেই আপনি জানতে পেরেছেন যে দুধে অ্যান্টিবায়োটিক আছে৷ দুধে কেন অ্যান্টিবায়োটিক থাকতে পারে তার একটি ব্যাখ্যাও আপনি দিয়েছেন৷
হয়তো আপনার গবেষকেরা বিষয়টি আপনাকে জানিয়েছেন অথবা আপনি নিজে ভেবেই এটি বের করেছেন৷ যেকোনো উপায়েই এটি আপনি জেনে বা মেনে থাকুন, এটি আপনার এখতিয়ার৷

আমি বলতে চাই, আমি কী খাচ্ছি বা আমার দুধে অ্যান্টিবায়োটিক আছে, নাকি সুন্দরবনের মধু আছে তা জানা আমার অধিকার৷ এখন অ্যান্টিবায়োটিকসহ দুধ খেতে চাইলে আমি খাবো৷ এমনিতেও জেনেশুনে অনেক বিষই আমরা খাই, না হয় অ্যান্টিবায়োটিকসহ দুধই খেলাম আর খেতে থাকলাম৷

আর গবেষকের কথা বলতে হয়, তিনি কিন্তু দেশি পাস্তুরিত বা বিদেশি গুঁড়া কোনো দুধই বন্ধ করতে বলেননি৷ তিনি শুধু গবেষণা করে দেখিয়েছেন যে, বাজারে লভ্য পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিক আছে৷ এখন আপনি চাইলে এমন আইন করতে পারেন, যাতে সবাই সেই অ্যান্টিবায়োটিকসহ দুধ খেতে বাধ্য হয়, আবার চাইলে দুধে অ্যান্টিবায়োটিক যাতে না যায় সেদিকে মনোযোগ দিতে পারেন৷ আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে দুধে অ্যান্টিবায়োটিক থাকলে আপনার কোনো সমস্যা নেই৷ ভালো কথা, সমস্যা না-ও থাকতে পারে৷ হয়তো জাতি হিসেবেই আমাদের কিছু বাড়তি অ্যান্টিবায়োটিক দরকার; আর তা পরপর তিন বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার চেয়ে বেশি কে জানবেন? কিন্তু আমাদের একটু স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলে ভালো হয় আমাদের কি এটাও জানার অধিকার নেই যে, আমাদের প্রতিদিনের খাবারে কী কী উপাদান রয়েছে?

আপনি বলেছেন, জনৈক প্রফেসরের গবেষণার উপর ভিত্তি করে আদালতে রিট হয়েছে আর একে একে সব দুধ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে৷ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কি সিদ্ধান্ত এই যে, দেশের আইন-আদালতগুলো এভাবে কাজ করে? তার চেয়েও বড় আদালতের সিদ্ধান্তে যে আবার দুধের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ চালু হয়েছে তা সম্পর্কে আপনার কী মত, মাননীয়?

দুধের খামারিদের নিয়ে আপনার উদ্বেগ আমি রাষ্ট্রনায়কোচিত বলেই মনে করি৷ কিন্তু মুশকিল হলো, এই অ্যান্টিবায়োটিক কোত্থেকে আসছে তা হয়তো খামারিরাই ভালো বলতে পারবেন৷ তারা যদি সতর্ক না হন তবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হয়তো শিশুতোষ বা রোগীর পথ্যমূলক খাবার খেয়েই বেঁচে থাকতে হবে, এটাও কী ভেবেছেন? নাকি আপনি নিশ্চিত জানেন যে, অ্যান্টিবায়োটিক যে দুধের সঙ্গে ফ্রিতে পাওয়া যাচ্ছে এই আমাদের মস্ত লাভ?

গবেষকের কথায় ফিরে আসি৷ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, একটি কথা বললে তার পারিষদেরা যে শতগুণ উৎসাহ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন তার উদাহরণ আমরা বারবার দেখেছি৷ এই গবেষণা স্পষ্টতই আপনার মনমতো হয়নি৷ এখন আপনার ভক্ত, অনুসারীরা সেই গবেষক আর অধ্যাপকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন, তার নামে দিতে পারেন দেশের আনাচেকানাচে অজর মামলা৷ প্রমাণ করতে চেষ্টা আসতে পারে যে, তিনি আসলে রাষ্ট্রবিরোধী বা স্বাধীনতাবিরোধী৷

আমরা কিন্তু দ্ব্যর্থহীন বলতে চাই, দুধে অ্যান্টিবায়োটিক আছে বলে তিনি কোনো অন্যায় করেননি৷ খাওয়া না খাওয়া বা মানা না মানা আপনার ইচ্ছা৷

বাজারে পাস্তুরিত দুধের সংকটের বিষয়ে ৩০ জুলাই লন্ডন থেকে এক জরুরি টেলিকনফারেন্সে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ তিনি বলেছেন, ‘‘আমি জানি না হঠাৎ করে একজন প্রফেসর সাহেব কী পরীক্ষা চালালেন, আর এই পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে আদালতে রিট হলো৷ একে একে সব কোম্পানির দুধ উৎপাদন বন্ধ৷ এর ফলে দুধের ঘাটতিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ৷ আবার যারা খামার করছে তারাই বা কীভাবে জীবনযাপন করবে আর গরুকেই বা কী খাওয়াবে?'' প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘‘গবাদি পশুকে রোগমুক্ত রাখতে অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হয়৷ সেক্ষেত্রে দুধে কিছুটা অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি থাকতে পারে৷ তবে দুধের যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার কাজ করছে৷''
খালেদ মুহিউদ্দীন। প্রধান, ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগ

লন্ডনের আদালতে দুবাইর শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে তার পালিয়ে যাওয়া স্ত্রীর আইনি লড়াই

শেখ আল-মাখতুম এবং প্রিন্সেস হায়া
দুবাইর শাসক শেখ মোহাম্মদ আল-মাখতুম এবং তার পালিয়ে যাওয়া এক স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া বিনত আল-হুসেইনের মধ্যে এক আইনি লড়াই লন্ডনের এক আদালতে শুরু হয়েছে।
শেখ মোহাম্মদ আল-মাখতুম মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ক্ষমতাবান এবং প্রভাবশালী নেতাদের একজন। অন্যদিকে প্রিন্সেস হায়া জর্দানের বাদশাহ আবদুল্লাহর সৎ বোন। তিনি পড়াশোনা করেছেন ব্রিটেনের প্রাইভেট স্কুলে এবং ঘোড়দৌড়ে অলিম্পিকে অংশ নেয়া প্রতিযোগী।
প্রিন্সেস হায়া কয়েক মাস আগে দুবাই থেকে পালিয়ে আসেন। বলা হচ্ছে, প্রাণনাশের আশংকায় তিনি এখন লন্ডনে লুকিয়ে আছেন।
মূলত সন্তানরা কার কাছে থাকবে, তা নিয়েই লন্ডনের আদালতে এই দুজনের মধ্যে আইনি লড়াই হচ্ছে।
প্রিন্সেস হায়া ২০০৪ সালে শেখ মোহাম্মদকে বিয়ে করেন। তিনি হচ্ছেন শেখ মাখতুমের ছয় নম্বর স্ত্রী। শেখ মোহাম্মদের বয়স এখন ৭০। বিভিন্ন স্ত্রীর গর্ভে তার মোট ২৩ জন সন্তান।
শেখ মোহাম্মদেরও ঘোড় দৌড় নিয়ে আগ্রহ আছে। তিনি ব্রিটেনের নামকরা একটি ঘোড়ার আস্তাবল গোডোলফিন হর্স রেসিং স্ট্যাবলের মালিক।
প্রিন্সেস হায়া প্রথমে দুবাই থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন জার্মানিতে। সেখানে তিনি নাকি রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়ারও চেষ্টা করেন। কিন্তু এমাসে জানা গেল যে তিনি এখন লন্ডনের কেনসিংটনে তার দশ কোটি ডলারের বেশি দামের এক বাড়িতে থাকছেন।
প্রিন্সেস হায়া এখন ব্রিটেনেই থাকতে চান বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু দুবাইর শাসক যদি এখন তার স্ত্রীকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানান, সেটা ব্রিটেনের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনৈতিক সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বলা হচ্ছে প্রাণনাশের আশংকায় প্রিন্সেস হায়া এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন
শেখ মোহাম্মদ তার স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার পর ক্রুদ্ধ হয়ে একটি কবিতা লেখেন। সেখানে তিনি নাম উল্লেখ না করে একজন নারীর বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ করেন। এই কবিতা তিনি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিলেন।

প্রিন্সেস হায়া কেন পালিয়ে গেলেন

প্রিন্সেস হায়ার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দাবি করছে, তিনি সম্প্রতি শেখ মোহাম্মদের এক কন্যা শেখ লতিফাকে রহস্যজনকভাবে যেভাবে দুবাই ফিরিয়ে আনা হয়, সে ব্যাপারে কিছু বিচলিত হওয়ার মতো তথ্য জানতে পেরেছেন। তারপরই তিনি নিজে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
শেখ লতিফা এক ফরাসী পুরুষের সাহায্য নিয়ে দুবাই থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন সমূদ্রপথে। কিন্তু ভারতের সশস্ত্র রক্ষীরা তাদের আটক করে আবার দুবাইর হাতে তুলে দেয়।
সেসময় এই ঘটনার সমালোচনা হলে প্রিন্সেস হায়া দুবাইর শাসকের পক্ষ নিয়ে বলেছিলেন, শেখ লতিফা দুবাইতেই নিরাপদ। কিন্তু মানবাধিকার সংস্থাগুলো তখন বলেছিল, শেখ লতিফাকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে অপহরণ করে দুবাইতে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
কিন্তু প্রিন্সেস হায়ার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এখন দাবি করছে, এঘটনার ব্যাপারে তিনি এখন নতুন কিছু তথ্য জানতে পেরেছেন। আর এ কারণে তিনি তার স্বামীর পরিবারের দিকে থেকে প্রচন্ড চাপের মুখে ছিলেন।
লন্ডনের আদালতের বাইরে শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

বন্যার কারণে আগেই বেচে দিচ্ছেন কোরবানির গরু by আবুল কালাম আজাদ

শুকনো জায়গার খোঁজে।
গাইবান্ধার ভরতখালী ইউনিয়নের কসিরন বেগম বন্যায় একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।
যে প্রধান সড়কে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন সেই রাস্তার প্রায় দেড়শ ফুট ভেঙে কসিরনের বাড়িঘর বসতভিটা সব তছনছ হয়ে গেছে। কসিরন বেগমের বাড়ি যেখানে ছিল সেখানে এখনো অথৈ পানি।
তিনি বলছিলেন, "আমার সব শেষ হয়ে গেছে। চারটা ঘর গেল। এক কাপড়ে ঘর থেকে বার হইছি। কিচ্ছু আনার পারি নাই।"
এক রাস্তা ভেঙে কসিরন বেগমের মতো ঘরবাড়ি বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন ১৮টি পরিবার।
গাইবান্ধায় এবার বন্যায় ৬ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৩ হাজার ঘরবাড়ি।
সরকারি হিসেবেই সারাদেশে অন্তত ২৮টি জেলা প্লাবিত হয়ে লাখ লাখ মানুষ এবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শতাধিক মানুষের মৃত্যু ছাড়াও ঘরবাড়ি, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, ফসলি জমি, মাছের খামার ভেসে গেছে বন্যায়। হাঁস-মুরগি আর গবাদি পশুর খামারিরাও হয়েছেন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত।
গাইবান্ধার এক পশুর হাটে কোরবানির গরু নিয়ে আসা শাজাহান বলছিলেন বন্যায় গোখাদ্যের চরম সংকট তৈরি হয়েছে।
১০-১২দিন টানা রাস্তায় থাকার পর বাধ্য হয়ে গরু হাটে এনেছেন তিনি। বলছিলেন, ঈদের দু'তিনদিন আগে তার পালের গরুটি বেচার ইচ্ছা ছিল। বন্যার কারণে আগেই বেচতে বাধ্য হচ্ছেন, কিন্তু বিক্রি হবে কিনা নিশ্চিত নয়।
"এখনো রাস্তায় আছি। বাড়ির মধ্যে পানি শুকায়নি। গরুকে তো খানাদানা দিতে পারি না। এজন্যই নিয়ে আইছি। বন্যার কারণে গরুর শরীল শুকায় গেছে। আগে ৮০-৯০ হাজার দাম উঠছে, এখন বলছে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার।"
এবার বন্যায় শাহজানের মতো বহু মানুষকে বাড়ির গবাদি পশু নিয়ে রাস্তাঘাট কিংবা উঁচু বাধে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
২২টি গরু ছাগল ও ভেড়ার একটি পাল নিয়ে নদীর তীরে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে জুলহক ইসলাম। বন্যায় তার একটি গরু মারা গেছে।
"এই গরু-বাছুরই আমার সম্পদ। মনে করেন চরে নিয়ে গেছি, ঘাস পাতা খাওয়াইছি। এখন তো বন্যায় চরও তলায় গেছে। এখন এই পল (খড়ের গাদা) আছে একটু করে দিই কোনোরকম জীবনটা বাঁচুক।"
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন জানায় এবারই প্রথম ত্রাণের সঙ্গে দেয়া হয়েছে গোখাদ্য। বন্যার পানি নামলেও এখনো নিজের বসতভিটায় ফিরতে পারেননি এমন বহু মানুষ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। উদাখালী ইউনিয়নের বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেয়া অনেকের সঙ্গে কথা হয়। তাদের অভিযোগ একটি চাপকল ছাড়া ত্রাণ সাহায্য মেলেনি সেখানে।
দুর্গত এলাকার প্রবীণ নারী পুরুষরা বলছেন, তাদের বাড়িতে এবার ১৯৮৮ সালের বন্যার চেয়েও বেশি পানি উঠেছে।
ষাটোর্ধ তুলি বেগম বলেন, "পাঁচদিন বন্যার পানি খাইছি। পানি কোথায় পাব।"
চার সন্তান ও স্বামীর সাথে দুই সপ্তাহ ধরে তাঁবু টানিয়ে আছেন আজেনা বেগম। তার ভাষায়, "বাথরুম তো নাই-ই। পানির কষ্ট, খাওয়া-দাওয়ার কষ্ট, শোবার কষ্ট..."
মর্জিনা বেগম নামের আরেকজন নারী বলেন, "আগে এত পানি দেখি নাই আর এত ক্ষতিও হয় নাই। মানুষির এবার মেলা জিনিস ক্ষতি হলো। ধান চাউল যা আছিলো আইনবারও পারি নাই।"
বাঁধে আশ্রয় নেয়া অধিকাংশেরই অভিযোগ তারা কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি। তবে স্থানীয় মেম্বার একটি টিউবওয়েল বসিয়ে দিয়েছেন।
ত্রাণ যে সবাইকে দেয়া যাচ্ছে না সেটি স্বীকার করেছেন উড়ীয়া ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মোহাম্মদ হায়দার আলী। এদিন ২৫টি পরিবারের জন্য বরাদ্দ ১০ কেজি করে চাল ৫০টি পরিবারের মধ্যে পাঁচ কেজি করে ভাগ করে দিচ্ছিলেন তিনি।
"উপজেলা থেকে দুইবার শুকনা খাবার পাইছিলাম দুইশ দুইশ চারশো ব্যাগ। কিন্তু মানুষ প্রায় সাড়ে চার হাজার। আর ২৫টি পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে চাল পাইছি ৬ বার। ব্যাপক চাহিদা। সবারই তো ধান তলায় গেছে। কারো চাইল নাই। এখন গেরস্তরা এসেও ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেছে, যেহেতু তাদের ধান চাইল ডুবে গেছে, কিন্তু আমরা তো সেটার চাহিদা মেটাতে পারবার লাগছি না।"
কসিরন বেগম।
গাইবান্ধা জেলায় এবার ৩৬টি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে বন্যার পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। জেলার প্রায় ৬ লাখ মানুষ হয়ে পড়ে পানিবন্দী। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬৩ হাজার ঘরবাড়ি। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ১৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল।
শুধু গাইবান্ধাই নয় এবার সারাদেশের বন্যার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অনেক। প্লাবিত হয়েছে অন্তত ২৮টি জেলা। প্রাণহানি ঘটেছে অন্তত ১১৯ জনের।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেবে প্রায় ৬১ লাখ মানুষ এবার পানিবন্দী হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি আর ১ লক্ষ ৫৪ হাজার একর ফসলি জমি। বন্যায় ক্ষতির তালিকায় ৪ হাজার ৯শ ৩৯টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ৭ হাজার ২৭ কিলোমিটার সড়ক, ২৯৭টি ব্রিজ-কালভার্ট ও ৪৯৫ কিলোমিটার বাঁধ।
এবছর বন্যায় দেশব্যাপী ১ লক্ষ ৫৪ হাজার একর ফসলী জমি তলিয়েছে। আমনের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বহু কৃষক যাদের একজন গাইবান্ধার মোফাজ্জল হোসেন।
মাঠের পানি নেমে যাওয়ায় নতুন করে এবার রোপা আমনের বীজ ফেলছিলেন তিনি। ৫ বিঘা জমিতে আবাদ করেন মি. হোসেন।
গরুকে খাওয়ানোর ঘাসও নেই কোথাও।
"সরকারি লোকে তো বলতেছে আমরা বীজ দেব, বিনামূল্যে সার দেব। কই আমরা তো পাই না!"
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মতিন দাবি করেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক, কোনো সমস্যা নেই। পুনর্বাসন প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, এবার গোখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। এটা কিন্তু আগে ছিল না।
"শিশু খাদ্যও সরকার দিয়েছে। যাদের ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে তাদের ঘরবাড়ি মেরামত করে দেয়া হবে। যাদের ফসলি জমি নষ্ট হয়ে গেছে তাদেরকে প্রয়োজনীয় বীজ সরবরাহ করা হবে। যাদের মাছের খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সহায়তা দেয়া হবে।"
দুর্গত মানুষের জন্য সরকারি নানারকম বরাদ্দ থাকলেও প্রশ্ন রয়েছে তার সবটা সময়মতো দুর্গতদের কাছে পৌঁছায় কিনা। বন্যার সময় সরকারি, বেসরকারি এবং ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকেই দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ায়। কিন্তু পানি কমার পরে যে সংকট শুরু হয় সেটি থেকে যায় অনেকটা আড়ালে। যে কারণে ঘরবাড়ি আর ফসল হারানো অসহায় মানুষের জন্য বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনটাই বেশি জরুরি।
বন্যা থেকে বাঁচতে ভাসমান শস্য চাষ হচ্ছে বাংলাদেশে

২৪ ঘন্টায় ২ ফিলিস্তিনি শিশুকে ইসরাইলের তলব

ইহুদিবাদী ইসরাইল আরো এক ফিলিস্তিনি শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে পাঠিয়েছে। ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে দু’টি ফিলিস্তিনি শিশুকে থানায় ডেকে পাঠালো দখলদার ইসরাইলি বাহিনী।
বায়তুল মুকাদ্দাসে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একটি টহল ইউনিটকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগে তাদেরকে ডাকা হয়েছে। পুলিশ তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। ফিলিস্তিনি তথ্যকেন্দ্র জানিয়েছে,দ্বিতীয় যে শিশুটিকে থানায় গিয়ে পুলিশের মুখোমুখি হতে বলা হয়েছে তার নাম কেইস ওবায়েদ, বয়স ছয় বছর।
এর আগে চার বছরের এক শিশুকে তলব করা হয়। তার নাম মোহাম্মাদ আলিয়ান। ওবায়েদের কাছে পাঠানো নির্দেশনামায় বলা হয়েছে, খুব দ্রুত থানায় হাজির হতে হবে।
মাত্র চার ও ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে থানায় ডেকে পাঠানোর কারণে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কারণ ইহুদিবাদী ইসরাইল আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শিশু হত্যাকারী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
কেইস ওবায়েদ

মারণাস্ত্রের বিরুদ্ধে পাথর নিয়ে লড়ছে ফিলিস্তিনিরা
 ৭ এপ্রিল ২০১৮: হুমকি উপেক্ষা করে ভূমি দিবসের কর্মসূচি সফল করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে ৫ ফিলিস্তিনি। জাতিসংঘের সতর্কতার তোয়াক্কা না করে এদিন গাজা উপত্যকার নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর ধেয়ে আসে ইসরায়েলি মারণাস্ত্রের আঘাত, আহত হয় শত শত ফিলিস্তিনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ৫ জন নিহত এবং ৭৮০ জনের আহত খবর দিয়েছে। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এরইমধ্যে ৭ জনের প্রাণহানির কথা জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা আগেই শুক্রবারের কর্মসূচিতে গাজার রক্তাক্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা বলেছিলেন।
ভূমি দিবস উপলক্ষে ফিলিস্তিনিদের টানা ছয় সপ্তাহের বিক্ষোভের দ্বিতীয় পর্বে শুক্রবার দিন জোরালো বিক্ষোভের কর্মসূচি সফল করতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয় ফিলিস্তিনিরা। বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান বৃহস্পতিবারই গুলি ছোড়া অব্যাহত রাখার হুমকি দিয়ে রাখেন। রাষ্ট্রীয় রেডিওতে তিনি বলেন, ‘কোনও ধরনের উত্তেজনা দেখা গেলে গত সপ্তাহের মতো করেই কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে।’শুক্রবার ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি গাজার সীমান্ত বেড়ার পাঁচটি স্থানে  জড়ো হলে গুলি ছুঁড়ে জবাব দেয় ইসরায়েলের সেনাবাহিনী।
হুমকি উপেক্ষা করে ভূমি দিবসের কর্মসূচি সফল করতে মাঠে নামে ফিলিস্তিনিরা। পরিত্যাক্ত টায়ার আর পাথর নিয়েই তারা মুখোমুখি হয় ভারি ইসরায়েলি অস্ত্রশস্ত্রের। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন গাজা সীমান্তের নিরাপত্তা বেড়ার পাঁচটি স্থানে বিক্ষোভে সামিল হয়। হারেৎজের খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের নাবলুস, আল-বিরেহ, রামাল্লাহ ও হেবরন এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমটির খবরে দাবি করা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে থেকে  ইসরায়েলের সেনাবাহিনীকে প্রতিরোধে পাথর ও মলোটোভ ককটেল ছোঁড়া হয়। সেনাবাহিনী গুলি ছুঁড়ে পাল্টা জবাব  দেয়।
আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার পাঁচজন নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন কর্মসূচিতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৬ জনে। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সাফা প্রেস এজেন্সি এরইমধ্যে ৭ জনের নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাত নারী ও ৩১ শিশুসহ শুক্রবার আহত হয়েছে ৭৮০ ফিলিস্তিনি।
গাজার উম্মাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান আবু আমির আগেই আশঙ্কা করেছিলেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদেরকে মুক্তভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেবে না। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ইসরায়েল এ বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করবে।’ সেই কথাকে সত্যি প্রমাণ করে ভয়াবহ দমন প্রক্রিয়া জারি করে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে গুলিতে নিহত ৫ জনের নাম পরিচয় জানানো হয়।
ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ আন্দোলনকে ‘সংগঠিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দেয় ইসরায়েল। সহিংসতার জন্য গাজা এলাকা নিয়ন্ত্রণে নির্বাচিত সংগঠন হামাসকে দায়ী করে দেশটি। তবে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিবছর ৩০ মার্চ ইসরায়েলের দখলদারিত্বের প্রতিবাদে ‘ভূমি দিবস’ পালন করছে ফিলিস্তিনিরা। ওইদিন নিজেদের মাতৃভূমির দখল ঠেকাতে বিক্ষোভে নামলে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ৬ ফিলিস্তিনি নিহত হন। তাদের স্মরণেই পালিত হয় ভূমি দিবস। ২০০৭ সাল থেকে গাজা অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। সেখানকার ৭০ শতাংশ মানুষই ফিলিস্তিনের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিতাড়িত হয়ে সেখানে এসে বাস করছেন। এবছর ওই দিনটি স্মরণে বিশাল বিক্ষোভের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলবে। দ্য গ্রেট রিটার্ন মার্চ’ নামে এই বিক্ষোভটি প্রতি বছর আয়োজিত হলেও এবার এতে ভিন্নতা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েরেলের রাজধানী স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা এবারের ভূমি দিবসকে ভিন্নতা দিয়েছে।










জম্মু-কাশ্মির পরিস্থিতি: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রতিনিধিদের সাক্ষাত

জম্মু-কাশ্মিরের ন্যাশনাল কনফারেন্সের এক প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাত করে রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁকে অবগত করেছেন। বৃহস্পতিবার সেরাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ, ওমর আব্দুল্লাহ ও হাসনাইন মাসুদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। এসময় তাদের মধ্যে কমপক্ষে ২০ মিনিট ধরে রাজ্যের বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়।

এ নিয়ে ওমর আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, রাজ্যটিতে যেন এমন কোনও পদক্ষেপ না নেয়া হয় যাতে সেখানকার পরিস্থিতি খারাপ হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সময় ৩৫-এ ও ৩৭০ ধারার বিষয়টিও উঠে আসে। এর পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মিরে বিধানসভা নির্বাচন করার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে খুব আন্তরিক ও  সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ওমর আব্দুল্লাহ।

কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি রাজ্যটিতে অতিরিক্ত দশ হাজার আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান মোতায়েনের নির্দেশ দেয়ায় সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৫-এ ধারায় গরমিল করতে পারে অথবা ওই ধারার বিলোপ ঘটাতে পারে বলে সেখানে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আমি কেন্দ্রীয় সরকারকে বলতে চাই যে, ৩৫-এ ধারা গরমিল করার চেষ্টা বারুদে আগুন ধরানোর মতো হবে। যদি কোনো হাত ৩৫-এ ধারা স্পর্শ করার চেষ্টা করে তবে কেবল সেই হাতই নয়, পুরো শরীরও পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।

সেখানকার স্থানীয় রাজনৈতিক দলের মধ্যে এনিয়ে আশঙ্কা ও উদ্বেগ জোরালো হওয়ায় অবশেষে গভর্নর সত্যপাল মালিক গত বুধবার সাফাই দিয়ে ওই ধারা তুলে দেয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন। গভর্নর বলেন, আমি আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি যে এই মুহুর্তে ৩৫-এ ধারাটি বাতিল করার কোনও স্তরের কোনও পরিকল্পনা নেই। আপনারা যা শুনছেন তা হল গুজব যা স্বার্থান্বেষী কিছু লোক ছড়িয়ে দিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘উদার আকাশ’ প্রত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ বৃহস্পতিবার রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ ও ওমর আব্দুল্লাহর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। কাশ্মিরে শান্তি ফেরাতে এই বৈঠক জরুরি ছিল। কাশ্মিরি জনতাকে অশান্ত করে দেশবাসী শান্তিতে থাকতে পারে না। সেজন্য কাশ্মিরকে শান্ত রাখার জন্য আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় সরকার সঠিক পদক্ষেপ নেবে সেই আশা করি।’

কাশ্মির শান্ত থাকলে গোটা দেশের মানুষ শান্তিতে কাশ্মিরে ভ্রমণ করতে পারবেন। সেখানকার মানুষের মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার সেই সংশয় দূর করতে এগিয়ে আসুক বলেও ফারুক আহমেদ মন্তব্য করেন।

পুরনো দ্বন্দ্ব বাড়িয়ে তুলবেন না: আমেরিকাকে চীন

আমেরিকা ও এশিয়ার বাইরের কয়েকটি দেশকে হুঁশিয়ার করে চীন বলেছে, দক্ষিণ চীন সাগরের পুরনো দ্বন্দ্ব বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করবেন না।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে এক বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং ই বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরের আচরণবিধি নিয়ে চীন ও আসিয়ানের সদস্যরা সন্তোষজনক অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই কাঙ্ক্ষিত অর্জন এই কথা পরিষ্কার করে দেয় যে, এ অঞ্চলের দেশগুলো যৌথভাবে দক্ষিণ চীন সাগরের সবকিছু ঠিক করবে এবং শান্তি রক্ষা করবে।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, তার দেশ এ অঞ্চলে অন্য যেকোনো দেশের হস্তক্ষেপের বিরোধী। তিনি আরো বলেন, চীন ও আসিয়ানের অন্য সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক মতপার্থক্য রয়েছে- অতীতের মতো এমন ধারণা তৈরি করা এ অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর উচিত হবে না।  
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও যখন থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন এবং তার সঙ্গে ওয়াং ই’র বৈঠকের কথা রয়েছে তখন তিনি এসব কথা বললেন।
দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী

এ বছরের সবচেয়ে বয়স্ক হাজি কে?

এ বছরের সবচেয়ে বয়স্ক হাজি হচ্ছেন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক উহি ইদ্রোস সামারি। তার বয়স ১৩০ বছর। পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে গতকাল (বুধবার) তিনি সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।
উহি ইদ্রোস সামারিকে স্বাগত জানাচ্ছেন সৌদি কর্মকর্তারা
জেদ্দা বিমান বন্দরে সৌদি কর্মকর্তারা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তার হাতে কিছু উপহার তুলে দিয়েছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক এই হাজির মেয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, তার বাবার দীর্ঘ দিনের ইচ্ছা আল্লাহ পূরণ করেছেন। এটাই তার বাবার প্রথম হজ।

এদিকে, এ বছর ইরানের সবচেয়ে বয়স্ক হাজির বয়স হচ্ছে ৯৯ বছর। তিনি ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় গুলেস্তান প্রদেশের অধিবাসী। তবে তার নাম উল্লেখ করে নি ইরানের হজ সংস্থা। এবারের হজে ইরান থেকে ১০৭ বছর বয়সী একজন অংশ নেবেন বলে এর আগে মক্কা থেকে ইরানের চিকিৎসক দলের প্রধান জানিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি হজে যান নি বলে জানা গেছে।

হোটেলে চুরি আর চেঁচামেচি করে দুনিয়ায় নাম ডোবাচ্ছেন ভারতীয় ট্যুরিস্টরা?

বিবিসি বাংলা: দেশের গন্ডী ছাড়িয়ে ভারতের পর্যটকরা এখন ছড়িয়ে পড়ছেন আর্জেন্টিনা থেকে আর্মেনিয়া - দুনিয়ার সর্বত্র। তাদের স্বচ্ছলতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাসপোর্টও এখন দুনিয়াভর চরকি কাটছে, কিন্তু এই পর্যটকরা বিশ্বে ভারতের বদনাম করছেন কি না- তা নিয়েই এখন ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলকালাম!

আর এই বিতর্কের মূলে আছে দুটো ঘটনা। প্রথম ঘটনাটিতে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে একটি হোটেলের ঘর থেকে শ্যাম্পু-সাবান, তোয়ালে, হেয়ার-ড্রায়ার, এমন কী রুমে সাজানো পেইন্টিং পর্যন্ত স্যুটকেসে ভরে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি ভারতীয় পরিবার হোটেল কর্মীদের কাছে ধরা পড়ে যান।

তাদের জিনিসপত্র তল্লাসি আর বিব্রত পরিবারটির চরম লজ্জা আর অস্বস্তির মুহুর্ত গোটাটাই মোবাইল ফোনের ভিডিওতে ধরা পড়েছে। আর সেই ভিডিওটি গত বাহাত্তর ঘন্টায় ভারতে ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়েছে।

দ্বিতীয় ঘটনাটিও সুইস আল্পসের শৈল শহর জিস্টাডে আর্ক-অন-সিয়েল নামে একটি হোটেলের। সেই হোটেলে ভারতীয় অতিথিরা যাতে ব্রেকফাস্ট বুফে থেকে খাবার না সরান এবং হোটেলের করিডর ও ব্যালকনিতে প্রচন্ড চেঁচামেচি না করে অন্য অতিথিদের অসুবিধে না ঘটান, সেই মর্মে হোটেল কর্তৃপক্ষ একটি নোটিশ ঝুলিয়েছিলেন।

সেই নোটিশটি বিশিষ্ট ভারতীয় শিল্পপতি হর্ষ গোয়েঙ্কার চোখে পড়ার পর তিনি সেটির ছবি টুইট করেন এবং লেখেন সেটি দেখে তিনি কতটা ক্রুদ্ধ, অপমানিত বোধ করেছেন এবং কীভাবে তার প্রতিবাদ করতে চেয়েছেন।

"তবে পরক্ষণেই আমার মনে হল ট্যুরিস্ট হিসেবে আমরা সত্যিই তো খুব উগ্র, চিৎকারবাজ ('লাউড'), উদ্ধত ('রুড') এবং অন্যের সংস্কৃতির প্রতিও সংবেদনশীল নই।"

"আমাদের এই ছবিটা সত্যিই পাল্টানো দরকার", টুইট করেন গোয়েঙ্কা।

ভারত যখন বিশ্বে একটি আন্তর্জাতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, তখন এই পর্যটকরাই যে দুনিয়ায় দেশের 'সেরা রাষ্ট্রদূত' সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। এই দুটো ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটারে ভারতীয় পর্যটকদের পক্ষে-বিপক্ষে চলছে ধুন্ধুমার তর্কবিতর্ক।

কেউ কেউ মেনে নিচ্ছেন, দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে গড়পড়তা ভারতীয় পর্যটকদের আচরণ সত্যিই লজ্জাজনক।

অনেকে আবার বলছেন, মাত্র কয়েকজনের স্বভাবের জন্য ঢালাওভাবে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় ট্যুরিস্টকে দায়ী করা মোটেও ঠিক নয়।

বালির হোটেল থেকে জিনিসপত্র চুরির ঘটনাটির ভিডিও শেয়ার করে হেমন্ত নামে জনৈক টুইটার ব্যবহারকারী যেমন লিখেছেন, "ভারতের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে গিয়ে যারা সেখানে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন সরকারের উচিত তাদের পাসপোর্টই বাতিল করে দেওয়া!"

এই প্রস্তাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাকেও ট্যাগ করেছেন তিনি পোস্টে।

ওই একই ভিডিও শেয়ার করে ভারতের জনপ্রিয় পলিটিক্যাল স্যাটায়ারিস্ট, 'দেশভক্ত' আকাশ ব্যানার্জি লিখেছেন, "আন্তর্জাতিক শক্তি হয়ে ওঠা মানে শুধু অর্থনীতির বহর বা পরমাণু বোমা নয়। আমাদের মেনে নেওয়া উচিত কোথাও একটা সমস্যা নিশ্চয় আছে।"

হোটেল থেকে তোয়েল বা হেয়ার-ড্রায়ার চুরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও একজন লিখেছেন, "যখন একজন বিদেশি হোটেল ম্যানেজার আমাদের মনে করিয়ে দেন এখানে প্রশ্নটা পয়সার নয়, বরং সম্মানের - তখন একজন ভারতীয় হিসেবে আমার লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়।"

প্রসঙ্গত, বালির হোটেলের ভিডিওতে যখন তল্লাসির সময় ভারতীয় ওই পরিবারটির স্যুটকেস থেকে একে একে হোটেলের নানা জিনিসপত্র বেরোচ্ছিল, তখন তাদের বারবার বলতে শোনা যায়, "আমরা ওগুলোর দাম মিটিয়ে দেব।"

তার জবাবেই হোটেলের ম্যানেজার বলেছিলেন যে এখানে বিষয়টা তাদের সম্মানের - পয়সার নয়!

ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন হোস্ট ও অভিনেত্রী মিনি মাথুরও টুইট করেছেন, বিদেশের হোটেল থেকে এই ধরনের 'ক্যাজুয়াল স্টিলিং'-কে যারা কোনও অপরাধ বলেই মনে করেন না তারা দেশের কলঙ্ক।

ভিডিও-র একেবারে শেষ দিকে আরও দেখা যাচ্ছে পরিবারের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য হোটেল কর্মীদের একজনের কাঁধে হাত রেখে অন্য দিকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন - খুব সম্ভবত তাকে 'ম্যানেজ' করার চেষ্টায়।

মিনি মাথুর লিখেছেন, "আর ওই আঙ্কল একজন হোটেল কর্মীর পিঠে হাত রেখে যেভাবে সরিয়ে নিয়ে গেলেন - সেটা তো জাস্ট অসহ্য!" বালির ঘটনায় ভারতীয় পরিবারটিকে 'ডিফেন্ড' করার মতো কন্ঠস্বর তেমন শোনা যাচ্ছে না।

তবে সুইস আল্পসের হোটেল আর্ক-অন-সিয়েলের বিরুদ্ধে অনেক ভারতীয়ই মুখ খুলেছেন। দিল্লির কাছে গুরগাঁওয়ের বাসিন্দা দেবযানী সিনহাকে একজন গ্লোবট্রটার পর্যটক বলেই বর্ণনা করা যায়।

সেই দেবযানী বলছিলেন, "এখানে শুধু ভারতীয়দের যেভাবে স্টিরিওটাইপিং করা হয়েছে তাতে আমার যেমন ভীষণ খারাপ লেগেছে, তেমনই প্রচন্ড অবাক হয়েছি।"

"কারণ ব্রেকফাস্ট বুফে থেকে একটা আপেল বা দুটো কলা নিয়ে যেতে আমি শুধু ভারতীয়দেরই নয়, বহু ইউরোপীয়ানকেও দেখেছি।"

অনেকে তো সার্ভিয়েটে মুড়ে মাফিন বা ক্রঁসোও নিয়ে যান, কেউ কিছু বলেও না! আর চেঁচামেচির কথাই যদি ওঠে, হ্যাঁ আমরা ভারতীয়রা একটু জোরে কথা বলি ঠিকই। কিন্তু চিৎকার বা হইচইয়ে চীনা, কোরিয়ান, স্প্যানিশ বা ইতালিয়ান ট্যুরিস্টরাও মোটেই কম যায় না- সুতরাং শুধু ভারতীয়দের দোষ দেওয়াটা মোটেই ঠিক না।

ভারতে অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী সুইস আল্পসের ওই হোটেলটি বয়কট করারও ডাক দিয়েছেন। তুমুল প্রতিবাদের মুখে হোটেল কর্তৃপক্ষ একটি বিবৃতি দিয়ে দুঃখ প্রকাশও করেছে।

ভারত থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটককে যারা বিদেশ ভ্রমণে ও লাক্সারি ক্রুজে পাঠান, এমনই একটি নামী ট্র্যাভেল সংস্থার কর্ণধার সুমিত ব্যানার্জি।

সুমিত ব্যানার্জি বলছিলেন, "দুচারজন লোকের মিস অ্যাডভেঞ্চারকে কিন্তু একটা গোটা জাতির ব্যবহার বা জাতীয় আচরণের টেমপ্লেট বলে ধরে নেওয়াটা ঠিক হবে না।"

"আর তা ছাড়া আন্তর্জাতিক হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রিও যথেষ্ঠ ম্যাচিওরড, যাতে তারা প্রতিটা আলাদা ঘটনাকে তার মেরিটের ভিত্তিতেই ডিল করতে পারে। আমি যেটা বলতে চাইছি তা হল, ভারতের বহির্মুখী (আউটবাউন্ড) ট্র্যাভেল ইন্ডাস্ট্রি কিন্তু এমনি এমনি বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত বিকাশশীল (ফাস্টেস্ট গ্রোয়িং) বাজারের তকমা পায়নি।"

"আর বিদেশের মাটিতে 'ডু'জ আর ডোন্ট'জ', অর্থাৎ কোনটা করণীয় এবং কোনটা করা উচিত নয়, ভারতীয় পর্যটকদের সে ব্যাপারে সেন্সিটাইজ করার জন্য আমাদের নিরন্তর চেষ্টাও অব্যাহত আছে", বলছিলেন সুমিত ব্যানার্জি।

বালি বা সুইস আল্পসে যে ভারতীয় পর্যটকদের জন্য বিদেশে ভারতের বদনাম হয়েছে তারা হয়তো সত্যিই সংখ্যায় খুব বেশি নন। দকিন্তু দেশের সম্মান বজায় রেখে বিদেশে ঘুরে বেড়াতে হলে ভারতীয়দের কিছু কিছু অভ্যাস যে এখুনি পাল্টাতে হবে, সে বিষয়ে কিন্তু অনেকেই একমত দেখা যাচ্ছে। বিবিসি বাংলা।

ডেঙ্গু, নয়া সংকট

প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। বাড়ছে মৃত্যু। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় আতঙ্কিত মানুষ জ্বর হলেই ছুটছেন রক্ত পরীক্ষা করাতে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে দিনভর ভিড় করছেন আতঙ্কিত মানুষ। এতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। অনেক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু  পরীক্ষার কিট ফুরিয়ে গেছে। অনেক হাসপাতালে মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি। এমন অবস্থায় অব্যাহতভাবে ডেঙ্গু রোগী বাড়তে থাকলে ডেঙ্গু পরীক্ষা নিয়ে ভয়াবহ সঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য এক লাখ কিট চেয়েছে। বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো তাদের নিজস্ব এজেন্টদের মাধ্যমে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট আনার চেষ্টা করছে। তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিটের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া চাহিদা অনুযায়ী কিট সরবরাহ করতে পারছে না। এদিকে দ্রুত গতিত সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ব্যাপকহারে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। এ পর্যন্ত সরকারিভাবে জেলা পর্যায়ে সীমিতভাবে কিট সরবরাহ করা হচ্ছে। রোগী আরও বাড়লে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়েও বড় ধরণের সঙ্কট দেখা দিতে পারে।

অনেকে বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সতর্ক বার্তা দেয়ার পরও দুই সিটি করপোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ না নেয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মশার ওষুধ অকার্যকর হলেও তা নিয়ে  কেউ মাথা ঘামায়নি। এখন জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও মশার ওষুধ আনা যাচ্ছে না। এতে সহসাই মশা এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর মওসুম। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও প্রকট হতে পারে বলে তাদের ধারণা। এমন অবস্থায় ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সঙ্কট দেখা দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

গত মঙ্গলবার কিট না থাকায় তিন ঘণ্টা ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ ছিল আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি’তে। কিট না থাকায় নোটিশ দিয়ে ওই সময় ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ রাখে প্রতিষ্ঠানটি। পরে অবশ্য জরুরি ভিত্তিতে কিট সংগ্রহ করে তারা আবার পরীক্ষা শুরু করে। কিট না থাকায় ডেঙ্গুর মূল পরীক্ষা (এনএস-১) গতকাল থেকে বন্ধ রেখেছে রাজধানীর মগবাজারের ব্যস্ততম মা ও শিশু হাসপাতাল আদ-দ্বীন। আদ দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তারা কিট বা রিএজেন্ট সংগ্রহের জন্য চাহিদাপত্র দিয়েছেন। কিন্তু তা কখন সরবরাহ হবে বা হাতে পৌঁছাবে সেটি এখনও অনিশ্চিত। তারা এ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নিয়মিত আপডেট করছেন বলেও জানান হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই চিকিৎসক। তিনি বলেন, আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন এবং ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় নীতিমালা অনুয়ায়ী চিকিৎসা দিয়ে থাকি। সেক্ষেত্রে এনএস-১ বন্ধ থাকলেও আমরা সিবিসি দেখে কিছুটা ধারণা পেতে পারি। তবে হুবহু একটি টেস্টের বিকল্প আরেকটি টেস্ট হয় না, কাছাকাছি হতে পারে।

রাজধানীর ব্যস্ততম বেসরকারি ডায়াগনস্টিক মর্ডান, পপুলার ও ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বাড়তি রোগীর চাপে তাদের মজুত থাকা কিট ফুরিয়ে আসছে। বিকল্প ব্যবস্থায় দ্রুত কিট আনার চেষ্টা করছে। নতুন কিট আনতে দেরি হলে মাঝে সঙ্কট দেখা দিতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে গতকাল বিকাল চারটায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এতে উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে ডেঙ্গু, বন্যা, নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ঈদ যাত্রা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি জানান, ডেঙ্গু সনাক্তকরণ কিটের চরম সঙ্কট রয়েছে। এজন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ ডেঙ্গু রোগ সনাক্তকরণ কিট চেয়েছে সরকার। পাশাপাশি ডেঙ্গু তথ্যের অধিকতর বিশ্লেষণ ও রিপোর্ট তৈরিতে সহায়তার জন্য কন্ট্রোল রুমে একজন ইপিডেমিওলজিস্ট নিয়োগে সহায়তা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে জাতীয় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ও সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে ভেক্টর নিয়ন্ত্রণে একযোগে কাজ করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে অভিজ্ঞ এনটোমলজিস্ট নিয়োগ দেয়ার অনুরোধ করা হয়। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ল্যাব এইড, পপুলার ও মর্ডাণসহ বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শাখা রয়েছে। এসব সেন্টারে খোঁজ নিয়ে ডেঙ্গু কিটের সঙ্কটের কথা জানা যায়। ধানমন্ডিতে আনোয়ার খান মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ল্যাবের প্রধান নজরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, সরবরাহকারীদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী ডেঙ্গু কিট পাচ্ছি না। এখন তারা কিটের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে। এমন অবস্থায় ডেঙ্গু টেস্ট করতে সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। তবে মর্ডান সব সময় আধুনিক মানের টেস্ট করছে। পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার মিরপুর ব্রাঞ্চের ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ডেঙ্গু সনাক্তকরণ কিটের চরম সঙ্কটের কথা জানালেন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ৫/৭ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু সনাক্তকরণ কিট না আনতে পারলে সমস্যা হতে পারে। চাহিদা অনুযায়ী আমরাও যোগান কিছুটা কম পাচ্ছি। তবে পপুলার মানুষকে সেবা দিতে কোন ধরনের কার্পণ্য করছে না। এদিকে দেশের অধিকাংশ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুদ নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জেলা-উপজেলা শহরের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু জ্বর শনাক্তকরণে বিনামূল্যে যেসব কিট পাঠানোর কথা, গতকাল পর্যন্ত অনেক হাসপাতালেই তা পৌঁছায়নি। তবে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জানানো হয়, ঢাকাসহ সারা দেশে এ পর্যন্ত ৪২ হাজারের বেশি ডেঙ্গু টেস্ট কিট বিতরণ করা হয়েছে। সভায় বলা হয়, কিট বিতরনের এ হার অপ্রতুল। এজন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়।

কুরবানির ঈদে ‘টাইটানিক’ by শাহেদ মতিউর রহমান

টাইটানিক নামের গরু
এবার ঈদে কুরবানির পশুর হাট কাঁপাতে ঢাকায় এসেছে টাইটানিক। অষ্ট্রেলিয়ান ব্রাহমা জাতের বিশাল দেহের এই গরুটি দেখার জন্য ইতোমধ্যে মোহাম্মপুরের ভাংগা মসজিদ এলাকার সাদীক এগ্রো ডেইরী ফার্মে ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। প্রায় দেড় হাজার কেজি ওজনের টাইটানিক স্বভাবে খুবই শান্ত শিষ্ট। ধারণা করা হচ্ছে এবার ঈদে এটিই হবে সবচেয়ে বড় গরু।

ঢাকার নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিন টাইটানিককে দেখতে সাদীক এগ্রো ফার্মে লোকজন ভিড় করলেও টাইটানিকের কাছে যাওয়ার অনুমতি নেই কারো। তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনিতে রাখা হয়েছে টাইটানিককে। নির্দিষ্ট সময়ে এবং বালাইনাশক স্প্রে ব্যবহারের পরেই টাইটানিকের কাছে যায় খোদ এর পরিচর্চাকারীরা। বাইরের কোনো লোকজনের ভেতরে প্রবেশের অনুমতিই নেই।

শুধু টাইটানিক নয়, সুদূর আমেরিকা থেকে এই ফার্মে আনা হয়েছে আরো তিনটি ভিন্ন জাতের গরু। এগুলোও আকারে বিশাল বড়। নামেও মধ্যেও অনেকটা বৈচিত্র্য আছে। একটির নাম বস্ । অন্য দুটির নাম টাইগার ও রোজো । আছে মেসি নামের একটিও। এগুলোর প্রতিটির ওজনও সাড়ে ১২ শ’ থেকে ১৪ শ’ কেজি। বড় গরুর খবর শুনে কোনো এক পোশাক কারখানার মালিক ১৪শ কেজি ওজনের বস নামের গরুটি ৩৭ লাখ টাকায় ইতোমধ্যে কিনে নিয়েছেন। গরু কিনলেও ঐ মালিক ফার্ম থেকে গরু নেবেন ঈদের একদিন আগে। গরুর পরিচর্চা ও খাবার খরচ ঈদের আগের এই সময়ের জন্য ফার্ম মালিকই শর্ত মোতাবেক বহন করবেন।

টাইটানিকের দাম কত হলে বিক্রি করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে এক কর্মকর্তা জানালেন দাম হাঁকা হচেছ ৪৫ লাখ টাকা। যতদূর বেশি দামে বেচা যায়।

তিনটি নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে বেশ আয়েশী ভাবেই দিন কাটাচ্ছে টাইটানিক, বস, টাইগার, মেসি ও রোজো। নির্দিষ্ট সময়ে গোসল, বিশ্রাম আর খাওয়া। তবে উন্নত জাতের এই গরুগুলোর জন্য আরো একটু বাড়তি শান্তি দিতে বসানো হয়েছে গরুর ম্যাসেজ রোলার। অনেকে হঠাৎ দেখলো হয়তো একটু অবাকই হবেন। কেননা বিদ্যুৎ চালিত এই রোলার মেশিনের পাশে দাঁড় করিয়ে প্রতিটি গরুর শরীরে দেয়া হয় আয়েশী ম্যাসেজ। রোলারের গায়ে প্লাস্টিকের পিন বসানো। সকালে ও বিকালে টাইটানিকসহ বড় জাতের প্রত্যেকটি গরুর শরীর ১০ মিনিট করে ম্যাসেজ করা হয়।

বিশেষ জাতের এই বড় আকৃতির গরুগুলোর জন্য খাবার দাবারে রয়েছে বেশ বাছ-বিচার। সব খাবার এগুলোকে খাওয়ানো যায় না। তাই এই গরুগুলোকে কাচা ঘাস,সাদা ভুট্টার ভুষি, গমের ভুষি,ছোলা, সয়াবিনের খৈল খাওয়ানো হয়। গরমের কারণে সার্বক্ষণিক বৈদ্যুতিক পাখা চালু রাখতে হয়। এখানে রয়েছে জেনারেটরেরও ব্যবস্থা।

সাদীক এগ্রো ফার্মের ম্যানেজার সুমন খান নয়া দিগন্তকে জানান, সারা বছর এখানে গরু লালন পালন করা হয়। তবে কুরবানির ঈদের আগে আমরা বিশেষ করে কুরবানির জন্য বেশ কিছু গরু বাছাই করি। এগুলোর জন্য আলাদা কর্মী বাহিনী নিয়োগ করি। আমরা ক্রেতার পছন্দমতো ছোট মাঝারি বা বড় গরু দেয়ার জন্য চেষ্টা করি। ক্রেতা তার পছন্দমতো গরু কিনে রেখে চলে যান, আমরা ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এই গরু লালন-পালন করি, খাবার ও ওষুধ খাওয়াই এবং ঠিকানামতো ক্রেতার বাসায় গরু পৌছে দেয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করি। এর জন্য বাড়তি কোন চার্জ ক্রেতাকে পরিশোধ করতে হয় না। তিনি আরো জানান, গরুর পাশাপাশি এই ফার্মে রয়েছে কুরবানির জন্য ছাগল বা খাসী, রয়েছে বেশ কিছু মহিষও। এই ফার্মে ঈদ উপলক্ষ্যে ১৫শ’ থেকে ১৬শ’ গরু আনা হয়েছে। এই গরুর পরিচর্চার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে অভিজ্ঞ ৬০ থেকে ৭০ জন কর্মী।

টাইটানিক যে শেডে রাখা হয়েছে তার সাথেই পৃথক পৃথক শেডে রাখা হয়েছে অন্য বড় গরুগুলোও। বাইরের কেউই এখানে প্রবেশ করতে পারেন। সব সময়েই প্রবেশ গেটে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়। গেটে বড় করে লাল অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘প্রবেশ নিষেধ’।

এর পরেও গেটের বাইরে থেকেই অনেকে উৎসুক জনতা লোহার রেলিংয়ের বাইরে দাঁড়িয়েই এই বড় গরুগুলো দেখতে ভিড় করছেন সারাদিন। আসা যাওয়ার পথেও স্কুল কলেজের ছাত্ররা ভিড় করছে এখানে। বিশাল আকারের এই গরুগুলো নিয়ে সবারই কৌতুহল।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সবাইকে যার যার ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করবেন। পাশাপাশি দেশবাসীকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে শোকের মাসে কৃষক লীগ আয়োজিত রক্তদান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে লন্ডন থেকে টেলিফোনে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি অনুষ্ঠানস্থল থেকে লন্ডনে চিকিৎসার জন্য অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোবাইল ফোন যোগে সংযুক্ত করেন। তার ফোনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন, যা মাইক দিয়ে শোনানো হয়।
এসময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে নেতাকর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ইদানিং আমাদের দেশে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। ডেঙ্গুর প্রভাব। ডেঙ্গুর প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ইতোমধ্যে আমি কতগুলো নির্দেশনা দিয়েছি। এসময় শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে জাতির পিতা রক্ত দিয়েছেন। তার রক্ত ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে, বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। তিনি কষ্ট করে গেছেন। তার সেই মহান ত্যাগ কখনো বৃথা যেতে পারে না। একসময় বিভিন্ন স্মৃতিচারণ ও পিতার স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকারের কথা বলতে গিয়ে আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী কৃষকলীগের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করার পটভূমি তুলে ধরে বলেন, আজকে আমরা জাতির পিতার উদ্দেশ্যে আমাদের পরিবেশকে রক্ষা, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আসা এবং মানুষের জীবনকে উন্নত করার জন্যই আমরা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। জাতির পিতা রক্ত দিয়ে গেছেন। তিনি বলেছিলেন, প্রয়োজনে রক্ত দেবো। তিনি ঠিকই রক্ত দিয়ে গেছেন। তার রক্ত ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। আমরা প্রতিবছর ১৫ই আগস্ট উপলক্ষে রক্তদান কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। রক্ত মানুষের জীবন বাঁচাতে সহযোগিতা করে। রক্ত দিলে কিন্তু রক্ত কমে না, রক্ত কিন্তু বাড়ে। আর একজন মূমুর্ষ রোগীর জীবন রক্ষা পাওয়ার জন্য একটু ত্যাগ স্বীকার যে কোন মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা মানবতার জন্য দরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশ আজকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য, জাতির পিতার স্বপ্ন ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশ্বে অন্যতম অবস্থান। আমাদের  মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের শ্রমিক অর্থনীতি অত্যন্ত শক্তিশালী। আমরা সবচেয়ে বৃহৎ বাজেট দিয়েছি। আমরা অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে যাচ্ছি। আমরা সবদিকেই বেশ এগিয়েছি। তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছি। সবার পড়ালেখার সুযোগ করে দিচ্ছি, উচ্চ শিক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। আমরা পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছি। কাজেই বাংলাদেশ সার্বিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। আমার কেবল একটা কথাই মনে হয়। যেমনভাবে একটি ভাল কাজ হয়। দেশের মানুষ ভাল থাকে। আমার মনে হয়, এতে বাবার আত্মা শান্তি পায়। তখন আমি চিন্তা করি নিশ্চয়ই তিনি বেহেশত থেকে দেখেন, তার দেশের মানুষ আজকে ক্ষুধায় কাতর হয় না। কষ্ট পান না। একথা চিন্তা করে তার আদর্শকে ধারণ করেই জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে দেশের মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। আমি দেশের মানুষেরও দোয়া চাই। আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আর্তমানবতার সেবা করা, মানুষের জন্য আত্মত্যাগ করা, এটা প্রত্যেক মানুষের কর্তব্য। এর থেকে যে তৃপ্তি পাওয়া যায়, আনন্দ পাওয়া যায়, সেটা ভোগে পাওয়া যায় না, ত্যাগেই পাওয়া যায়। মহৎ অর্জনের জন্য মহৎ ত্যাগের প্রয়োজন হয় এটা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশকে আমরা গড়ে তুলবো। আমরা ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবো। দারিদ্রের হার আমরা কমিয়েছি, আরও কমাব। এই দেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। এছাড়াও প্রত্যেক নাগরিককে তিনটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ করা দরকার। আমি প্রত্যেককে তিনটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানাচ্ছি। এতে একটি পরিবারের আয়ের উৎসও তৈরি হয়। জলোচ্ছ্বাস, দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে উপকূলে সবুজ বেষ্টনী একান্ত দরকার। লন্ডনে ৩রা আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান চোখের চিকিৎসার কাজে লন্ডনে অবস্থান করা শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে ‘কৃষকের  কণ্ঠ’ শীর্ষক একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এরপরই রক্তদান কর্মসূচি শুরু করার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ডেঙ্গু রোগীদের রক্ত সরবরাহের লক্ষ্যে ২০০ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হবে বলে জানান আয়োজক সংগঠনের নেতারা। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের  প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ড. আবদুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহউদ্দিন নাছিম, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুর নাহার লাইলীসহ কৃষক লীগের নেতারা। কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা সভাপতিত্ব করেন এবং সভা পরিচালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সমীর চন্দ দে।

শোকের মাস এলেই অপশক্তিগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে: কাদের
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারানো শোকের মাস আগস্ট এলেই জঙ্গি, নাশকতাকারী ও সামপ্রদায়িক অপশক্তিগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তি?নি ব?লেন, শোকের মাসে ১৫ই আগস্ট আমাদের চেতনায় শক্তি সঞ্চার করে। একদিকে আমাদের হারানোর বেদনা, আবার নতুন করে হারানোর সেই শঙ্কা কাজ করে আমাদের মধ্যে। ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল যুবলীগ আয়োজিত মাসব্যাপী সংবাদ চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করার সময় তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘৭৫ পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। আগস্ট মাস এলে আমাদের প্রিয় এই নেতাকে ঘিরেই বিপদের আশঙ্কা থাকে। কারণ এই সময় অশুভ তৎপরতা যারা চালায়, তারা জেগে ওঠে। তাদের বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে। যুবলীগকে সর্তকতার সঙ্গে সব অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি করে একটি দল, তারা ১৫ই আগস্ট হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তারা এই হত্যাকান্ডের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে, পেছন থেকে মদত জুগিয়েছে, খুনিদের পুর্নবাসিত করেছে। ইনডেমনিটি আইন জারি করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। তারা কারা? তাদের নেতা জিয়াউর রহমান। এদেশে রাজনীতিতে হত্যাকারীদের পুনর্বাসন করেছে জিয়াউর রহমান। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের উদার রাজনীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা জানেন ১৫ই আগস্ট হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা ছিল। শেখ হাসিনা জানেন, দেশের জনগণ জানেন ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার নেপথ্যে কারা ছিল। তারপরও গণতন্ত্রের স্বার্থে, সুশাসনের স্বার্থে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজের সম্পর্ক রাখতে চাই। যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ।

সামাল দেয়া যাচ্ছে না ডেঙ্গু পরিস্থিতি

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ নেই মশা মারার। সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতার বোঝা বহন করে চলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। রাজধানীর প্রতিটি হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করেও সামাল দেয়া যাচ্ছে না। রোগীর সংখ্যা শুধুই বাড়ছে। গতকালও সর্বোচ্চ সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। রাজধানীর সাথে প্রায় সমান তালে বাড়ছে দেশের অন্যান্য স্থানেও। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গুর রোগী রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে। রাজধানীর হাসপাতালগুলোসহ দেশের প্রতিটি জেলা থেকে আক্রান্তের খবর আসছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭১২ জন ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। গত জুন মাসের ৩০ দিনে ডেঙ্গু রোগী ছিল মাত্র এক হাজার ৮৬৩ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিল ১৯ হাজার ৫১৩ জন। জুলাই মাসের ৩১ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৬১৪ জন। মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও চলছে লুকোচুরি। সরকারি হিসাবে মাত্র ১৪ জন মারা যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এ দিকে গতকাল বিকেলে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে মাদারীপুরের বাসিন্দা শারমীন নামে এক তরুণী মারা গেছেন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা: মোজাহেরুল হক বলেন, ডেঙ্গু মহামারীর দমন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয়, এটি স্থানীয় সরকারের কাজ। আজ স্বাস্থ্য তথা হাসপাতালগুলোতে ব্যাপক চাপ পড়েছে স্থানীয় সরকার তথা সিটি করপোরেশনের মশা মারা ব্যর্থতার জন্য। তারা যথা সময়ে বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেই মশা মারতে মারলে ডেঙ্গু ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ত না। তার মতে, ‘অনাকাক্সিক্ষত ডেঙ্গু চিকিৎসা করতে গিয়ে হাসপাতালগুলোতে জটিল রোগী চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।’
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে মানুষ যথেষ্ট আতঙ্কগ্রস্ত। কতটা আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ তা রাজধানীর হাসপাতালে গেলেই প্রমাণিত হয়। সামান্য জ্বর হলেই মানুষ হাসপাতালে চলে আসছে ডেঙ্গু সন্দেহে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সন্দেহজনক ডেঙ্গু রোগীতে সয়লাব বলতে গেলে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এ কয়েক দিনে ডেঙ্গু সন্দেহে ১৬০০ শিশু এসেছে। এদের প্রাথমিক পরীক্ষা (এসএস১) করার পর ২৪ শিশুকে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত করেছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ডা: রফিকুল আলম জানিয়েছেন। এই ২৪ শিশুর সবাইকেই ভর্তি করা হয়েছে ডেঙ্গু সেলে। গতকাল এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে অধ্যাপক মো: রফিকুল আলম জানান, গতকাল বেলা ২টা পর্যন্ত তাদের ডেঙ্গু সেলে ১৩৯ জন ভর্তি চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ হাসপাতালে বহির্বিভাগে গত পাঁচ দিনে ৫০০-এর বেশি রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। মেডিক্যাল এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০ পর্যন্ত একসাথে ভর্তি করা যাবে। এ হাসপাতালে তিনজন রোগী আইসিইউয়ে এবং সাতজন রোগী এইচডিইউয়ে চিকিৎসাধীন আছে। গতকাল ডেঙ্গু আক্রান্ত একজন গর্ভবতী মহিলা আইসিইউয়ে মারা গেছেন। তিনি শক সিনড্রোমে ভুগছিলেন।
গতকাল দুপুর পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই ২২২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে। মিটফোর্ডে ৮১ জন, শিশু হাসপাতালে ২৫ জন, হলিফ্যামিলি হাসপাতালে ৪৩, শহীদ সোহরাওয়ার্দীতে ৯৫ জন, বারডেমে ৩২ জন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ জন, পুলিশ হাসপাতালে ৩৯ জন, মুগদা হাসপাতালে ৮৬ জন, বিজিবি হাসপাতালে আটজন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৪৩, কুর্মিটোলা হাসপাতালে ৫৫ জন অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালে ৩৮৭ জন। অবশিষ্ট ৫৬২ জন রাজধানী ঢাকার বাইরের ৮ বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। উপরে উল্লিখিত সবাই ডেঙ্গু সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত। এর বাইরে তিনজন রয়েছে ডেঙ্গু হেমোরেজিকে আক্রান্ত। বেসরকারি হাসপাতালের ৩৮৭ জনের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩০, ইবনে সিনা হাসপাতালে ২৭, স্কয়ার হাসপাতালে ২৫, শমরিতায় ১২, ল্যাবএইডে ৭, সেন্ট্রাল হাসপতালে, গ্রিন লাইফে ২৩, ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে ২৭ জন।
ফরিদপুরে তরুণীর মৃত্যু :  ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুর মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালে মারা গেলেন তরুণী শারমীন (২২)। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মারা যান তিনি। শারমীন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট এলাকার মো: রুবেলের মেয়ে। ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কামদা প্রসাদ সাহা জানান, গত রোববার শারমীন টেকেরহাটস্থ নিজ বাড়িতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। গত ২০ জুলাই থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ফরিদপুরের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে মোট ১২৭ জন। এর মধ্যে তিনজনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ৯৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জেলায় চিকিৎসা নেয়া ১২৭ রোগীর মধ্যে ১৪ জন ফরিদপুরে অবস্থানকালেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। বাকিদের বড় অংশ এসেছেন ঢাকা থেকে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ১৯ জন :  জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু সেল খোলা হয়েছে। বর্তমানে ১৯ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন রোগী ঢাকা থেকে ডেঙ্গু জীবাণুু বহন করে নিয়ে আসে। কক্সবাজারে বসবাসকারীদের মধ্যে ছয়জন রোগী পাওয়া গেছে। কক্সবাজারে গত এক সপ্তাহে ৩৩জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।
ঝিনাইদহে ১৯ নতুন রোগী : জেলার সদর হাসপাতালে গত ৭২ ঘণ্টায় ১৯জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এই নিয়ে ঝিনাইদহে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৩৫জন। সিভিল সার্জন ডা: সেলিনা বেগম জানান, জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই।
বরগুনায় বাড়ছে রোগী :  বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নতুন করে আরো সাত ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। আমতলী উপজেলায় দুইজন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একজন ভর্তি হয়েছেন আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অপরজন পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সিভিল সার্জন ডা: হুমায়ুন শাহিন খান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত বরগুনায় ২৭জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে।
রংপুরে ৭ জন নিজ বাড়িতে আক্রান্ত : রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত ১৩ দিনে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু শনাক্ত ৬৫ রোগী ভর্তি হয়েছেন। রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ কে এম শাহেদুজ্জামান নয়া দিগন্তকে জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ৬৫ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৭ জন রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় নিজ বাড়িতে আক্রান্ত হয়েছেন। বাকি ৫৯ জন ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার যন্ত্রপাতি কেনার জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে, খুব শিগগিরই তা কেনা হবে। এ দিকে রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার পক্ষ থেকে গত ২৫ জুলাই থেকে নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ চলছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ছয়জন করে ৩৩টি ওয়ার্ডে মোট ১৯৮ জন শ্রমিক ঝোপঝাড় এবং নর্দমা পরিষ্কারের কাজ করছেন।
মানিকগঞ্জে অসুস্থ ৫৪ জন : গত ১০ দিনে ৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন মানিকগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন সাতজন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে ৭ জনকে। বাকিরা ভর্তি রয়েছেন জেলা হাসপাতালে। নারী, পুরুষ ও শিশুদের পৃথক তিনটি সেল গঠন করে সাধ্য অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। গতকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা: লুৎফর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য চারজন চিকিৎসক সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন। এ ছাড়াও ডেঙ্গুর যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে এই হাসপাতালে।
সাতক্ষীরায় শনাক্ত ২৮ : এখন পর্যন্ত জেলায় ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরুর পাশাপাশি মশক নিধনে জেলা শহরের প্রায় সর্বত্রই পৌরসভার পক্ষ থেকে ওষধ ¯েপ্র করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলার সদর হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়। এর মধ্যে ১৪ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। সিভিল সার্জন ডা: শেখ আবু শাহিন জানান, সদর হাসপাতালে বর্তমানে ৮ রোগী ভর্তি আছেন। সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, সেখানে চারজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন।
নবাবগঞ্জে আরো ৩০ রোগী : নবাবগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালে গতকাল বিকেলের পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩০ জন রোগী ভর্র্তি হয়েছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। বেড না পেয়ে ফ্লোরে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। তবে ঝুঁকিপূর্র্ণ রোগীদের ঢাকার হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। কয়েক দিনের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ রোগী ভর্তি হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সবাই। বেশ কয়েকজন রোগীকে ঢাকার হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
আগৈলঝাড়ায় নেই পরীক্ষার সুযোগ : ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে উপজেলা হাসপাতালে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আট রোগী ভর্তি হওয়ার পর তাদের বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন চিকিৎসকেরা। হাসপাতালে ডেঙ্গু হেল্প ডেস্ক খোলা হলেও নেই কোনো পরীক্ষার সুযোগ। ৫০ শয্যা হাসপাতালটির ভারপ্রাপ্ত ইউএইচএএফপিও ডা: বখতিয়ার আল মামুন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার জোবারপাড় গ্রামের সুজন মিস্ত্রির ৯ মাসের মেয়ের শরীরে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। তাকে বরিশাল পাঠান চিকিৎসকেরা।
মমেক হাসপাতালে ১৬৮ জন : ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৮ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩৪ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: এ বি এম শামসুজ্জামান জানান, ২১ জুলাই থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানে ভর্তি হন ২৩৭ জন। সাতটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন সব রোগীর অবস্থা ভালো। আক্রান্ত সবাই ঢাকা থেকে এসে এখানে ভর্তি হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
টাঙ্গাইলে ভর্তি ৬৪ :  জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর বাইরেও অর্ধশতাধিক রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আলাদা সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে ৩৬ জন, মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ২৮ জন ভর্তি রয়েছেন। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: নারায়ণ চন্দ্র সাহা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এ হাসপাতালে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
চাপে কুমেক হাসপাতাল :  কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (কুমেক) এবং বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত শতাধিক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিতে কুমেকে ভর্তি হয়েছে। জানা যায়, গতকাল দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬৫ জন ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪৬ জন এবং অন্যান্য হাসপাতালে ১৯ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। কুমেকের পরিচালক ডা: স্বপন কুমার অধিকারী বলেন, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর পরিমাণ ক্রমে বাড়ছে। অর্ধশতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে অর্ধশত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রতিদিনই ৮-১০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। হাসপাতালটি ৫০০ শয্যার। ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে আমরা বাড়তি চাপের মধ্যে রয়েছি।
মির্জাগঞ্জে দুইজন ভর্তি : মির্জাগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন রোগী ভর্তি হয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অনুপ দাস ঢাকায় অনেক দিন ধরে চাকরি করছিলেন। এদিকে আক্রান্ত রিফাতের বাবা বলেন, তার ছেলে গ্রামের বাড়িতে ছিল। চার-পাঁচ দিন আগে তার জ¦র হয়।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ব্যর্থ হয়ে যায়: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ সব সম্ভাবনা হারিয়ে ফেলে এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ব্যর্থ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্টের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ব্যর্থ করে দেওয়া হয়। পারিবারিকভাবে আমরা সব কিছু হারিয়ে ফেলি, কিন্তু বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলে সব সম্ভাবনা।’

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বিকালে লন্ডন থেকে টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ কৃষক লীগের রক্তদান কর্মসূচি ও বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য একটি কালো দিন। ব্যক্তিগতভাবে আমি ও শেখ রেহানা বাবা-মা ও ভাইসহ সবকিছুই হারিয়েছি। ১৫ আগস্ট আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে বিপর্যয় নিয়ে আসে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের জন্যও বিপর্যয় নেমে আসে।’

প্রধানমন্ত্রী দুস্থ মানুষের সেবা করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তাদের সেবা করা প্রতিটি ব্যক্তির দায়িত্ব।’ বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বড় অর্জনের জন্য বড় ত্যাগ প্রয়োজন।’

শেখ হাসিনা মশার প্রজনন রোধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণেরও নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রভাব থেকে পরিত্রাণে আমি এরইমধ্যে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছি। আমার নির্দেশ পালনের মাধ্যমে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মশা থেকে আপনি নিজে, পরিবারকে এবং ঘরবাড়িকে রক্ষা করুন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে দেশ স্বাধীন করেন।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জনগণকে দরিদ্রমুক্ত করতে চেয়েছিলেন, যাতে তারা উন্নত জীবন লাভ করে, সুন্দরভাবে বাঁচতে এবং মাথা উঁচু করে চলতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তিনিও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ এবং সবকিছু ত্যাগ করে দেশবাসীর সেবা করে যাচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে আমি জনগণের দোয়া কামনা করছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে। তাদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবো। আমরা দারিদ্র্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছি এবং এটি আরও হ্রাস করবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।  ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আমরা জাতির পিতার লক্ষ্য, চিন্তা-চেতনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণ বিচার করবে আমরা কী করছি, আর কী করতে পারিনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ ও জনগণের জন্য বঙ্গবন্ধু রক্ত দিয়েছেন। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা তার রক্তের ঋণ শোধ করবো।’

রক্তদান ও বৃক্ষ রোপণ অভিযান কর্মসূচি গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ কৃষক লীগকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা ব্যাপকভাবে রক্তদান কর্মসূচি গ্রহণের জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে সংকটাপন্ন রোগীরা সহজে রক্ত পেতে পারে।

পরিবেশ রক্ষাসহ প্রকৃতি ও দেশের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বৃক্ষ রোপণ পছন্দ করতেন।’ তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষ রোপণ প্রয়োজন।’ এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা প্রত্যেককে কমপক্ষে তিনটি গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানান। এর মধ্যে একটি হবে কাঠের জন্য, একটি ফলের জন্য এবং একটি ওষুধি গাছ। বাসস

শিশুর মুখ থেকে ৫২৬টি দাঁত অপসারণ!

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য! ভারতের চেন্নাইয়ে এক বালকের মুখ থেকে অপারেশন করে তুলে ফেলা হয়েছে অতিরিক্ত ৫২৬টি দাঁত। ওই অপারেশন ও দাঁত তুলে এনে প্রামাণ্য আকারে তা সবার সামনে তুলে ধরা হয়েছে ভিডিওর মাধ্যমে। মাত্র ৭ বছর বয়সী বালক রবীন্দ্রনাথের নিচের চোয়ালে মাড়ির পাশে অবস্থান করছিল এসব দাঁত। এতে তার মুখ ফুলে গিয়েছিল। কিন্তু খালি চোখে তা দেখা যেতো না। মুখ ফোলা নিয়ে তার অভিভাবকরা তাকে নিয়ে যান চেন্নাইয়ের সবিতা ডেন্টাল কলেজে। সেখানকার চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখতে পান তার মাড়ির পিছনে নিচের চোয়ালে মাংসের ভিতর অবস্থান করছে ওইসব দাঁত। এসব দাঁত কোনো স্বাভাবিক দাঁত নয়।
তারা বিষয়টি বুঝালেন রবীন্দ্রনাথের পিতামাতাকে। তারা অনুমতি দিলেন। অবশেষে ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা রবীন্দ্রনাথের মুখে অস্ত্রপচার করে বের করে আনেন ৫২৬টি দাঁত। এতে তাদের সময় লাগে প্রায় ৫ ঘন্টা। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এর ফলে ৭ বছর বয়সী রবীন্দ্রনাথ এখন বেদনাহীন হাসি হাসার সুযোগ পেয়েছে। অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে।