Thursday, February 24, 2011

শিকাগোর নতুন মেয়র রাম ইমানুয়েল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাবেক চিফ অব স্টাফ রাম ইমানুয়েল শিকাগো শহরের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে গত মঙ্গলবার মেয়র নির্বাচিত হন ইমানুয়েল।
সাবেক কংগ্রেসম্যান ইমানুয়েল পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। শিকাগোর নির্বাচনী বোর্ড জানায়, ৯৭ শতাংশ ভোট গণনায় দেখা যায়, ইমানুয়েল ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণে ইমানুয়েল বলেন, ‘শিকাগোর প্রতিটি এলাকার মানুষের ভোট পেয়ে আমি মেয়র নির্বাচিত হয়েছি।

ওমান উপকূলে অপহূত চার মার্কিনকে হত্যা করেছে জলদস্যুরা

ওমানের উপকূল থেকে অপহূত চার মার্কিন নাগরিককে হত্যা করেছে সোমালির জলদস্যুরা। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
গত শুক্রবার ওই চার মার্কিন নাগরিকসহ একটি ইয়ট ছিনতাই করে জলদস্যুরা।
এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ওই চার নাগরিকের সন্ধানে মার্কিন সেনারা অভিযান চালানোর সময় তারা গুলির শব্দ পায়। শব্দ পেয়ে সেনা সদস্যরা জলদস্যুদের নৌযানে পৌঁছার পর তিন মার্কিনিকে মৃত দেখতে পান। ম্যাকে নামের একজন তখনো জীবিত ছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা-সহায়তা দেওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এ সময় দু পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে দুই জলদস্যু নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ছিনতাই হওয়া এস/ভি কোয়েস্ট নামের ৫৮ ফুট লম্বা ওই ইয়টটির মালিক জিন ও স্কট অ্যাডাম দম্পতি। ইয়টটিতে ফিলিস ম্যাকে এবং জিন অ্যাডাম নামের আরও দুই মার্কিন নাগরিক অবস্থান করছিলেন।

‘উসকানিমূলক’ আখ্যা দিলেন সিমন পেরেজ

সুয়েজ খালে ইরানের দুটি জাহাজের অনুপ্রবেশকে ‘রাজনৈতিক উসকানিমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট সিমন পেরেজ।
গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি এটাকে বড় কোনো ঘটনার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি না। আমার ধারণা, রাজনৈতিক উসকানিমূলক তৎপরতার অংশ হিসেবে ইরান এ কাজটি করেছে। আমাদের শান্ত থাকতে হবে। এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।’
গত মঙ্গলবার ইরানের নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ সিরিয়া যাওয়ার পথে সুয়েজ খালে ঢুকে পড়ে।

বাহরাইনের বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবিতে অনড়

বাহরাইনে বিক্ষোভকারীরা সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত পার্ল স্কয়ার থেকে এক চুলও না নড়ার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির বাদশা বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি ও আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও এ ঘোষণা দেয় তারা।
রাজধানী মানামার সড়কে সড়কে গণবিক্ষোভের পর শিয়া আন্দোলনকারীরা আবার গতকাল বুধবার পার্ল স্কয়ারে জড়ো হয়। তারা স্লোগান দিতে থাকে, ‘শিয়া-সুন্নি ভাই ভাই, আমরা এ দেশ ছাড়ব না’ ইত্যাদি। বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছে, তাদের এখন একটাই দাবি, সরকারের পতন।
১৪ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভ শুরুর পর গত মঙ্গলবারই প্রথম দেশটির রাজনৈতিক নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্ষোভে যোগ দেন। তাঁরা সরকারের পদত্যাগ ও শাসনব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভে যোগ দেন। তিউনিসিয়া ও মিসরের পর বাহরাইনেও অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে সরকার পতনের ডাক দেয় বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে গত মঙ্গলবার বাদশা হামাদ বিন ঈশা আল-খাইফ বলেন, ‘সরকারি চত্বর জাতীয় ইস্যুতে কোনো সংলাপ বিনিময়ের জন্য উপযুক্ত জায়গা না। আলোচনার জন্য টেবিলে আসুন।’ সরকারি সংবাদ সংস্থা বাদশার এ বিবৃতি প্রচার করে।

হাইতিতে খেতে দিতে না পেরে সন্তান বেচে দিচ্ছেন বাবা-মা

ভূমিকম্পবিধ্বস্ত হাইতির অসহায় বাবা-মায়েরা খেতে দিতে না পেরে অল্প মূল্যে শিশুসন্তানদের বিক্রি করে দিচ্ছেন পাচারকারীদের কাছে। সম্প্রতি ইউনিসেফের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইতির দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে মানব পাচারকারীরা নিজেদের আখের গোছানোর লক্ষ্যে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক মা-বাবা তাঁদের বাচ্চাদের লেখাপড়া তো দূরের কথা, দুই বেলা দুমুঠো খাবার তুলে দিতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছেন। আর এ অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছে পাচারকারীরা। তারা অসহায় বাবা-মাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে তাদের হাতে তুলে দিলে শিশুসন্তানদের জীবন তুলনামূলক অনেক ভালো হবে। আর এ আশায় বাবা-মায়েরা সামান্য অর্থের বিনিময়ে তাঁদের সন্তানদের তুলে দিচ্ছেন পাচারকারীদের হাতে।
বাস্তব সত্য হলো, পাচার হওয়া কতিপয় শিশু পশ্চিমা দেশগুলোর ধনী পরিবারে আশ্রয় নিয়ে অবস্থার তুলনামূলক উন্নতি ঘটাতে সক্ষম হলেও বেশির ভাগ শিশুকেই জোর করে পতিতাবৃত্তি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নিযুক্ত করা হচ্ছে।
দেশটিতে ৭৬ পেন্সের কম মূল্যে সন্তান বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে। সন্তান বিক্রির অর্থ দিয়ে বাবা-মায়েরা অল্প কিছুদিন চলতে পারলেও সন্তান হারাচ্ছেন চিরদিনের জন্য।
ভূমিকম্পের সময় মা-বাবা হারানো অনেক শিশু খাদ্যের খোঁজে পাশের দেশ ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে চলে যায়। ওই সব শিশুকেও ধরে নিয়ে দেদারছে পাচার করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের সময় যেসব শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাদের আর কেনার প্রয়োজন হচ্ছে না পাচারকারীদের।
ভূমিকম্পের আগে দেশটিতে প্রতিবছর কমপক্ষে দুই হাজার শিশু অপহূত ও পাচার হতো। বর্তমানে এ সংখ্যা চার গুণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি হাইতিতে ৭ দশমিক শূন্য মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় তিন লাখ লোকের মৃত্যু হয়। ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ে। এরপর ধীরগতিতে চলতে থাকে পুনর্গঠনের কাজ। গত বছরের শেষের দিকে বাস্তুহারা মানুষের জন্য নির্মিত অস্থায়ী তাঁবুতে মহামারি ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে।

পন্টিংয়ের হতাশার এমন রূপ!

বোঝাই গিয়েছিল, ড্রেসিংরুমে রিকি পন্টিংয়ের টিভি ভাঙার ঘটনাটা এত দূর যাবে। তাঁকে অবশ্যই জরিমানা গুনতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে আইসিসি।
পন্টিংয়ের ঔদ্ধত্য আচরণে ভারতীয় গণমাধ্যমে শুরু হয়েছে তাঁর মুণ্ডুপাত। ক্রিকেট-বোদ্ধারা বলেছেন, ড্রেসিংরুমের পবিত্রতা নষ্ট করেছেন পন্টিং।
ভারতীয় একটি পত্রিকা লিখেছে, ‘এটাই হলো কুৎসিত অস্ট্রেলিয়ানদের চেহারা।’ আরেকটি পত্রিকার ভাষ্য, ‘ক্রিকেটের জন্যই এটা একটা বিষাদের দিন।’
পন্টিংয়ের আচরণে হতাশ দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি ব্যারি রিচার্ডসের কথা, ‘ড্রেসিংরুম একটা পবিত্র স্থান। সেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটা হতাশার। বিশ্বকাপে এমন খবর কেউই শুনতে চায় না।’
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার অরুণ লালের সমালোচনা আরও কঠোর, ‘এটা জঘন্য ব্যাপার। হতাশায় উন্মত্ত হয়ে ওঠার কোনো কারণ তো দেখছি না। ব্যর্থ হওয়া মানে কোথাও না কোথাও ভুল হয়েছে। কিন্তু পন্টিং যেভাবে জিনিসপত্র ছুড়ে মারল, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটা ছেলেমানুষী।’
ক্ষুব্ধ অরুণ অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ‘ঈশ্বরের দোহাই, তুমি বড় হয়ে ওঠো।’
বাইরে মুণ্ডুপাত চললেও দলের সমর্থন পাচ্ছেন পন্টিং। অস্ট্রেলিয়া দলের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘পন্টিং তাঁর ব্যাট-প্যাড ব্যাগে ছুড়ে মারার সময় এগুলো টিভিতে লাগে। এতে টিভি পর্দার একপাশটা কালচে হয়ে যায়। টিভি নষ্ট হয়নি।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২৮ রানে রান আউট হন পন্টিং। হতাশা নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরেই ঘটান হতাশার বহিঃপ্রকাশ।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি চান থারাঙ্গা

এমনিতেই একটু মুখচোরা স্বভাবের। নিজেকে আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন। মিডিয়ার সামনে সপ্রভিত নন। গুরুতর একটা ‘অভিযোগ’ তোলায় উপুল থারাঙ্গা যেন আরও মিইয়ে গেলেন। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবের গ্যালারিতে বসে মাথা নিচু করে ‘অপরাধী’র হাসি হাসলেন।
একজন বাংলাদেশির কাছ থেকে ওঠা অভিযোগটা গুরুতরই। বাংলাদেশকে পেলেই কেন ইঞ্চি ছয়েক চওড়া হয়ে যায় তাঁর ব্যাট? কেন সেরাটা সব সময়ই জমা রাখেন বাংলাদেশের জন্য? ৯ ওয়ানডে সেঞ্চুরির ৩টিই বাংলাদেশের বিপক্ষে, বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাটিং-গড় (৪৫.৫৩) ক্যারিয়ার গড়ের চেয়ে ১১ বেশি! ‘আমি তো সব সময়ই চেষ্টা করি উইকেটে থিতু হয়ে গেলে বড় ইনিংস খেলতে। সব দলের বিপক্ষেই লক্ষ্য একই থাকে। কেন জানি না বাংলাদেশের বিপক্ষেই লক্ষ্যটা বেশি পূরণ করতে পেরেছি’—থারাঙ্গার উত্তরে যেন মিশে রইল ‘অপরাধ বোধ’।
এমন ‘অপরাধ’ অবশ্য এখন নিয়মিতই করছেন থারাঙ্গা। শুধু বাংলাদেশের বিপক্ষে নয়, সব দলের বিপক্ষেই। সনাৎ জয়াসুরিয়াকে দলে না রাখতে তাই বিন্দুমাত্র ভাবতে হয়নি নির্বাচকদের। সুনামিতে সর্বস্ব হারানো যে তরুণকে ব্যাট-প্যাড কিনে দিয়েছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা, সেই তরুণ এখন তাঁর দলের অন্যতম ভরসা। বয়সভিত্তিক দলগুলোয় রানের বন্যা বইয়ে দেওয়া যে ছেলেকে ভাবা হচ্ছিল শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ, তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মাঝপথেই সেটি কি আরও উজ্জ্বল দেখাচ্ছে না?
তিলকরত্নে দিলশানের সঙ্গে তাঁর জুটিটা মানিয়েও গেছে দারুণ। একপাশে দিলশানের ঝড়, উত্তেজনা, রোমাঞ্চ, ঝুঁকি। আরেক পাশে থারাঙ্গার প্রথাগত সব ক্রিকেট শট আর নির্ভরতা। এই নির্ভরতার জন্যই শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং-অর্ডারে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থারাঙ্গাকে। দিলশান, সাঙ্গাকারা তো বটেই, টি-টোয়েন্টি পাল্টে দিয়েছে জয়াবর্ধনেকেও। এই তিনজনের কাছেই ব্যাটিং এখন রোমাঞ্চের আরেক নাম। তাঁদের সম্ভব সর্বোচ্চ স্ট্রাইক দেওয়ার পাশাপাশি এক পাশ আগলে রাখার কাজটা তাই থারাঙ্গাকেই করতে হয়।
তার পরও আরেক পাশে দিলশানকে এভাবে ডানা মেলতে দেখে তাঁরও কি ইচ্ছে হয় না হাত খুলতে? থারাঙ্গার সাবধানী ব্যাটিং এখানেও, ‘আমি চাইলেও দিলশানের মতো ব্যাটিং করতে পারব না। আর আমি চাইও না, নিজের খেলাটাই চেষ্টা করি। ও সব সময় আক্রমণ করে খেলে বলেই আমি নিজের মতো খেলতে পারি, রানরেট নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। তা ছাড়া আমরা সবাই টিম ম্যান, দলের স্বার্থ দেখতে হবে, বুঝতে হবে দল আমার কাছে কী চায়।’
দল তাঁর কাছে চায় ৪০-৪৫ ওভার পর্যন্ত একপাশ আগলে রাখা, ঝুঁকি খুব বেশি না নিয়ে রানের চাকাটাও সচল রাখা। তবে এ মুহূর্তে তাঁর নিজের কাছে নিজেরও একটা চাওয়া আছে, সেঞ্চুরি! এমন নয় যে তিন অঙ্ক তাঁর কাছে সোনার হরিণ। ১১৩ ওয়ানডেতে ৯টি সেঞ্চুরি হয়ে গেছে। কিন্তু ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসরে ১২ ম্যাচ খেলেও যে সেঞ্চুরি নেই একটি! নেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৩ ম্যাচেও, যে দলের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার পরের ম্যাচ। দুটো অপূর্ণতা একসঙ্গেই ঘোচাতে চান ২৬ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে, ‘বিশ্বকাপে সেঞ্চুরিটাই আমার মাথায় ঘুরঘুর করছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি নেই, এটা মাথায় ছিল না। দুটো একসঙ্গে হলে তো খারাপ হয় না! ওদের বোলিং আক্রমণ দুর্দান্ত। তবে এমন নয় যে এমন বোলিং আক্রমণ প্রথম খেলছি। নিজের খেলাটা খেলতে পারলে আশা করি আমি পারব।’
দলের চাওয়া আর নিজের চাওয়া তো তাহলে মিলেই গেল। এখন শুধু চাওয়া বাস্তবতার সঙ্গে মিলে যাওয়ার অপেক্ষা!

আফ্রিদির স্পিনেই শেষ কেনিয়া

দেখতে দেখতেই ম্যাচটা শেষ। জিততে না পারলেও একটু লড়াই তো করতে পারত কেনিয়া। তা আর হলো কই। শহীদ আফ্রিদির লেগ ব্রেক ঘূর্ণি সামলাতে না পেরে অলআউট মাত্র ১১২ রানে। ১৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তান অধিনায়ক হয়ে গেলেন কেনিয়ার ঘাতক।
উপমহাদেশের উইকেটে স্পিনাররাই গড়বেন ম্যাচের ভাগ্য—বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিশেষজ্ঞরা ঘুরেফিরে কথাটি বলেছেন। কিন্তু আগের ৫ ম্যাচে সেভাবে স্পিনাররা আলোটা কাড়তে পারেননি। ষষ্ঠ ম্যাচ দেখল আফ্রিদি-জাদু।
নিজেরা ব্যাট হাতে করেছেন ৩১৭। কেনিয়া এই রান তাড়া করে জিতবে—বাজি ধরার লোক বলতে গেলে ছিলই না। কেনিয়া আর আগের কেনিয়া নেই—এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে পাকিস্তানের জয়টাই দেখছিলেন অনেকে। এই অবস্থায় কেনিয়া যখন ১৮ ওভার ২ উইকেটে ৬০, জয় তো তখন প্রায় আলিঙ্গনই করে ফেলেছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
১৯তম ওভারে বল হাতে নেন আফ্রিদি। প্রথম প্রথম ওভারে রান দেননি। দ্বিতীয় ওভারে ৪ রান। তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে স্টিভ টিকোলোকে বোল্ড। পঞ্চম ওভারের তৃতীয়, ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয়, সপ্তম ওভারের পঞ্চম, অষ্টম ওভারের প্রথম ও পঞ্চম বলে উইকেট নিয়ে ধসিয়ে দেন কেনিয়াকে।
কেনিয়া তখন ধ্বংসস্তূপ, ৯ উইকেটে ১২২। শেষ উইকেটটা তাঁর নেওয়া হলো না, ওটা যে রানআউট। ওয়ানডেতে এর আগে আফ্রিদির সেরা বোলিং ছিল ৩৮ রানে ৬ উইকেট। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, দুবাইয়ে। শেষ উইকেটটা রানআউট না হয়ে আফ্রিদি নিলে এদিনই নিজের ক্যারিয়ার-সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়তে পারতেন।
নানা বিতর্কের ছায়া নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে পাকিস্তান। অধিনায়ক কাকে করা হবে, সেটা নিয়েও জল ঘোলা হয়েছে অনেক। শেষ পর্যন্ত ওই দায়িত্ব পেয়ে দলটাকে এক সূত্রে গাঁথার কথা বারবারই বলেছেন আফ্রিদি। প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে মাত্র ৭, কিন্তু বল হাতে একাই কেনিয়াকে শেষ করে নেতৃত্ব দিলেন সামনে থেকে। পাকিস্তান তাদের অধিনায়ককে এভাবেই দেখতে চায়। কিন্তু ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী ইমরান খানের জুতোয় কি পা গলাতে পারবেন আফ্রিদি?

টেন্ডুলকারের ‘ডাবলে’ চোখ গেইলের

বীরেন্দর শেবাগের নাকি ব্যাপারটা মাথাতেই ছিল না। ভণিতা করে কথাটা বললেন কি না, কে জানে। তবে ক্রিস গেইলের কোনো ভণিতা নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই মারকুটে ব্যাটসম্যান বলছেন, তাঁর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে ওয়ানডেতে শচীন টেন্ডুলকারের ২০০!
যদিও রেকর্ডটা ভাঙতে পারলে শেবাগ আর গেইলই পারবেন বলে মনে করে অনেকে। গেইল নিজেও সেটি মনে করেন, ‘দ্য মাস্টার-ব্লাটার (টেন্ডুলকার) এটি করে দেখিয়েছেন। শেবাগের পক্ষেও সেটি করে দেখানো সম্ভব। এঁরা এমন খেলোয়াড়, ভালো একটা শুরু পেলে যাঁদের পক্ষে ২০০ রানের ইনিংস খেলা সম্ভব। পুরো ৫০ ওভার যদি ব্যাট করতে পারেন, তাহলে এটা সম্ভব। সুযোগ পেলে অবশ্যই আমি ২০০ রান করার চেষ্টা করব।

এবার সতর্ক পাকিস্তান

প্রায়শ্চিত্ত করতে চায় পাকিস্তান। স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে চায় ২০০৭ বিশ্বকাপের ক্ষত। চার বছর আগে পুঁচকে আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে গিয়েছিল ৩ উইকেটে। এই হারই ছিটকে দেয় তাদের বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে। পাকিস্তানের বিব্রতকর অবস্থাকে আরও বিব্রতকর করে দেয় তাদের ইংলিশ কোচ বব উলমারের ‘সন্দেহজনক’ মৃত্যু। পুলিশি তদন্তের মুখে পড়েন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। উলমারের মৃত্যুকে জ্যামাইকান পুলিশ প্রথমে হত্যাকাণ্ড ভেবে জেরা করে কয়েকজন পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে।
উলমারের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ঘোষণা করার পরও নিস্তার পাননি খেলোয়াড়েরা। দেশে ফিরে আসার পর সমর্থকদের তীব্র রোষের কবলে পড়েন তাঁরা। প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়ায় ক্রিকেটারদের শাস্তি দেওয়ারও দাবি ওঠে।
তাই এবার খুব সাবধানী পাকিস্তান। অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি বলেছেন, ছোট-বড় সব দলকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে তাঁর দল। আগামীকাল কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযাত্রা। মাত্র পরশুই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৯ রানে অলআউট হয়ে ১০ উইকেটে হেরেছে কেনিয়া। অতীতের কথা মনে করে পাকিস্তান হালকাভাবে নিচ্ছে না কেনিয়াকেও। ‘চার বছর আগে আয়ারল্যান্ডের কাছে আমাদের পরাজয়ের মতো অনেক অঘটন হয়েছে বিশ্বকাপে। আমাদের এটা মনে আছে এবং কেনিয়া বা শ্রীলঙ্কা প্রতিপক্ষ যে-ই হোক না কেন, পা আমাদের মাটিতেই থাকবে,’ বলেছেন আফ্রিদি।
বিশ্বকাপ দলে থাকা ইউনুস খান, উমর গুল, মোহাম্মদ হাফিজ ও কামরান আকমল খেলেছিলেন আয়ারল্যান্ডের কাছে হারা সেই ম্যাচটিতে। তবে আফ্রিদি বলেছেন দলের কোনো খেলোয়াড়ই ওই ভয়াবহ পরাজয়টিকে ভুলতে পারেননি। নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই ম্যাচে না খেলা পাকিস্তানি অধিনায়ক বলেছেন, ‘আপনি যদি সতর্ক না থাকেন, তবে যেকোনো সময়ই এটি (অঘটন) হতে পারে। আর আয়ারল্যান্ডের কাছে ওই পরাজয় কখনোই ভোলা যাবে না।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কেনিয়ার শোচনীয় পরাজয় দেখেও রাশ আলগা করছেন না আফ্রিদি, ‘তাদের একটা খারাপ দিন গেছে, তাই তারা আমাদের বিপক্ষে সব শক্তিই প্রয়োগ করবে। যেহেতু আমাদের লক্ষ্য গ্রুপের সব কটি ম্যাচ জেতা, তাই সেভাবেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।’ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সঙ্গে ‘এ’ গ্রুপে আরও আছে শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও কানাডা।
বিশ্বকাপে দলের ভালো ফলাফল পাকিস্তানের ক্রিকেটকে আবার জাগিয়ে তুলবে বলে ভাবছেন কোচ ওয়াকার ইউনুস, ‘এ নিয়ে আমার মনে এতটুকু সন্দেহ নেই যে এই বিশ্বকাপ পাকিস্তানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটার গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ পাকিস্তান ক্রিকেট সম্প্রতি অনেক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।’
পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক বিশ্বকাপের জন্য দলের প্রস্তুতি নিয়ে খুব খুশি, ‘আমরা বাংলাদেশে প্রায় ১০ দিন ছিলাম ও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। এই সময়ে আমরা ফিল্ডিং দক্ষতা ও ফিটনেস বাড়ানোর জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছি।

আয়ারল্যান্ড ম্যাচেই আশরাফুল

মাঠে এসে কাল সাকিব আল হাসানের কাছে প্রথম শুনলেন খবরটা, ‘আপনি পরের ম্যাচে খেলছেন।’ একটু পর নেটে ব্যাটিং করতে যাওয়ার সময় কোচ জেমি সিডন্সও ডেকে বললেন, ‘আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দলে আছ তুমি।’ মোহাম্মদ আশরাফুল তাই ২৫ ফেব্রুয়ারির অপেক্ষায়। সব ঠিকঠাক থাকলে দেশের মাটির বিশ্বকাপে ওই দিনই খেলবেন প্রথম ম্যাচ।
১৯ ফেব্রুয়ারি ভারত ম্যাচের আগেও আশরাফুল ভালোভাবেই আলোচনায় ছিলেন। একটা পর্যায়ে তো এমনও শোনা গিয়েছিল, সাত নম্বরে নাঈম ইসলামের পরিবর্তে আশরাফুল থাকবেন একাদশে। শেষ পর্যন্ত সেটা না হলেও আয়ারল্যান্ড ম্যাচের দলে অন্তত এই পরিবর্তনটা নিশ্চিত। কে বাদ যাবেন—প্রশ্নে সিডন্সের চিন্তায় কাল পর্যন্ত ‘নাঈম কিংবা মাহমুদউল্লাহ’ ঘুরপাক খেলেও জানা গেছে, বাদ পড়তে যাওয়া ক্রিকেটারটির নাম নাঈম ইসলাম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
আশরাফুল ও শাহরিয়ারকে সিডন্স আগেই বলে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে তাঁরা দলের ব্যাকআপ খেলোয়াড়। হঠাৎ জরুরি প্রয়োজনেই কেবল খেলার সুযোগ পাবেন। আশরাফুল যেমন এখন সুযোগ পাচ্ছেন মূলত পাওয়ার প্লের ব্যাটিংয়ের জন্য। সাত নম্বরে ব্যাটিং করবেন, এমনটাই তাঁকে জানানো হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে।
আশরাফুলকে নিয়ে যে রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে তাতে টিম ম্যানেজমেন্টের সুস্থ চিন্তার প্রকাশ ঘটছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গত হোম সিরিজে বাদ দেওয়ার পর জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে বলা হলো তাঁকে অন্তত প্রথম তিনটি ম্যাচে খেলানো হবে। অথচ সুযোগ পেলেন কেবল প্রথম ম্যাচটাতে! কানাডার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। পাকিস্তানের বিপক্ষে পরের ম্যাচে একটা চার মেরে আউট হয়ে গেলেও আউট হলেন খুব ভালো একটা বলে। চার রানের ওই ইনিংস দেখে আশরাফুলকে যাচাই করারও কোনো উপায় ছিল না। এ ছাড়া প্রস্তুতি ম্যাচ নিয়ে সিডন্সের দর্শন শুনেও মনে হচ্ছিল, আশরাফুল হয়তো বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটা খেলছেন। হলো উল্টো।
একজন ব্যাটসম্যানকে যদি প্রতিটি ম্যাচের আগেই মনে করিয়ে দেওয়া হয়, ম্যাচটা তার জন্য হয়ে যেতে পারে শেষ পরীক্ষা, এই ম্যাচে ভালো না খেললে ভবিষ্যৎ অন্ধকার, সেটা চাপ হয়ে বসে যায় বৈকি! আশরাফুল এখন সেই চাপ নিয়েই খেলছেন, খেলবেন আয়ারল্যান্ড ম্যাচেও। প্রতিটি ম্যাচেই এখন তাঁর ওপর থাকছে নিজেকে প্রমাণ করার চাপ। অন্য ব্যাটসম্যানদের বেলায় নীতি যা-ই হোক, তাঁর একটা খারাপ ইনিংস যে কোচ থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শক কেউই মেনে নেবে না, সেটা আশরাফুলও এখন জেনে গেছেন। কে জানে, হয়তো এ কারণেই পূর্ণদ্যুতিতে দেখা যাচ্ছে না তাঁর ব্যাটটাকে। নির্ভার ব্যাটিংয়ের জন্য তো আগে প্রয়োজন নির্ভার আশরাফুলকে!

‘কমলানগর’ হতে পারে ডাচদের প্রেরণা

ভারতের ‘কমলানগর’ নাগপুর ডাচদের পছন্দ হতেই পারে। এ নগরের কমলা সৌন্দর্য থেকেই আজকের ম্যাচে তারা পেতে পারে উজ্জীবিত হওয়ার শক্তি। নয়তো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আজকের ম্যাচটি হতে পারে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আরেকটি ম্যাড়মেড়ে লড়াই।
২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লর্ডসে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল হল্যান্ড। সেই ম্যাচটিও আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে হল্যান্ডের সঞ্জীবনী সুধা। নয়তো, ক্রিকেটীয় প্রজ্ঞা আর অভিজ্ঞতার দৌড়ে ‘কমলা বাহিনী’ যে ক্রিকেটের জনকদের চেয়ে বিপুল ব্যবধানে পিছিয়ে।
হল্যান্ডের যেকোনো ক্রিকেট ম্যাচের আগেই ঘুরে ফিরে আসে ফুটবলের প্রসঙ্গ। বিশ্ব ফুটবলে ডাচদের অবস্থানের সঙ্গে ক্রিকেটে তাঁদের অবস্থানের একটা তুলনামূলক চিত্র উঠে আসে বারবারই। বিশ্বকাপ ফুটবলের সর্বশেষ আসরে যে দেশটি ফাইনালে খেলেছে, বিশ্ব ফুটবলের অনেক নামী তারকার জন্ম যে দেশে, ক্রিকেটে সেই দেশটি যে নিতান্তই শিশুশ্রেণীর। জনপ্রিয়তার দিক দিয়েও ক্রিকেটের কোনো অবস্থান নেই হল্যান্ডে। তার পরও এবারেরটা নিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলতে আসাটা হল্যান্ডের জন্য এক ধরনের সাফল্যই।
১৯৯৬ সালে একদিনের ক্রিকেটের রেকর্ডবুকে নাম লিখিয়েছিল হল্যান্ড। তারপর থেকে ৪৫টি একদিনের ম্যাচে হল্যান্ডের সাফল্য বলতে কেবল বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি জয়। রেকর্ডপত্রে চোখ বুলিয়েই কেবল নয়, খুব কাছ থেকে নিজ দলের শক্তি অনুধাবন করে ডাচ কোচ পিটার ড্রিনেন আজ নাগপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটির আগে বাস্তবেই বিচরণ করতে চান।
‘পঞ্চাশ ওভারের ম্যাচে কীভাবে ব্যাটিং করতে হয়, সে ব্যাপারে হল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের জ্ঞানে ঘাটতি রয়েছে। আমাদের এ ব্যাপারটি নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে। তার পরও ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আজ আমাদেরকে কিছুটা উদ্দীপ্ত করবেই।’ বলেছেন ড্রিনেন।
হল্যান্ডের এই দলটির তারকা বলতে কেবল দুজন। অধিনায়ক পিটার বোরেন ও অভিজ্ঞ বাস জাইডারেন্ট। তার পরও অলরাউন্ডার রায়ান টেন ডয়েসকেট প্রস্তুতি ম্যাচে কেনিয়ার বিপক্ষে ২ উইকেট নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন। আলোচনাটা মূলত এসেক্সের হয়ে তাঁর কাউন্টি অভিজ্ঞতার কারণেই। এ ছাড়া উস্টারশায়ারের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অ্যালেক্সেই কারভেজি হল্যান্ডের শক্তির উত্স হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।
দলের উন্নতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতার অভাবকেই বড় করে দেখছেন কোচ ড্রিনেন। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত খেলতে পারলে আমরা অনেক সমস্যারই সমাধান করে ফেলতে পারতাম।’
ড্রিনেন যত যা-ই বলুন, ক্রিকেটের অভিভাবক আইসিসির কাছেই হল্যান্ডের মতো দলগুলো যে ব্রাত্য হয়ে দেখা দিয়েছে!

‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হল্যান্ডের হারানোর কিছু নেই’

নাগপুরে আজকের ম্যাচ হল্যান্ড ইংল্যান্ডের চেয়ে অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু, সত্যিই কি ইংল্যান্ড আজকের ম্যাচের আগে একেবারে নির্ভার সময় কাটাতে পারবে? তাদের মনে কি দুই বছর আগে লর্ডসের সেই দুঃসহ স্মৃতি বারবার ফিরে ফিরে আসবে না?
২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই হল্যান্ডের কাছেই হেরে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচটির স্মৃতিই আজ নাগপুরে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় অস্বস্তি হয়ে দেখা দিতে পারে।
ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসও স্বীকার করেছেন ব্যাপারটি। বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের আজকের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হল্যান্ডের হারানোর কিছু নেই। আর এটিই শক্তি হয়ে কাজ করতে পারে ডাচ দলের জন্য।’
‘হল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি আমাদের জন্য ভালো পরীক্ষা হয়ে দেখা দিতে পারে।’ স্ট্রাউসের মন্তব্য।
এবারের ইংল্যান্ড দলটিকে একটু অন্য চোখেই দেখা হচ্ছে। ২৪ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ জিতে অন্যতম ফেবারিট হিসেবেই বিশ্বকাপের ময়দানে আবির্ভাব হয়েছে তাঁদের। তবে, বিশ্বকাপের ঠিক আগ দিয়ে সেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই ওয়ানডে সিরিজে ৬-১ ব্যবধানে হার দলটিকে কি মানসিক দিক দিয়ে একটু পিছিয়ে রেখেছে? এমনই এক প্রশ্নের জবাবে স্ট্রাউস জানিয়ে দিয়েছেন, চার বছর পরপর বিশ্বকাপের মতো আসরে খেলতে পারার মজাটাই অন্য রকম। তাই বিশ্বকাপে খেলার গৌরব দিয়েই সব মানসিক পশ্চাত্পদতা জয় করতে চান তাঁরা। ‘একজন ক্রিকেটার ভাগ্যবান হলে তাঁর ক্যারিয়ারে খুব বেশি হলে তিনটি বিশ্বকাপ খেলতে পারে। এমন একটি আসরে খেলতে এসে অতীতের খারাপ অভিজ্ঞতা নিয়ে কেউ পড়ে থাকতে চায় না।’ স্ট্রাউসের বক্তব্য।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে যতটা সম্ভব বেশি ম্যাচ জিততে চান স্ট্রাউস। তিনি বলেন, ‘খুব বেশি হলে গ্রুপ পর্যায়ে এক-দুটি ম্যাচে আপনি হারতে পারেন। এর বেশি নয়। তবে সবগুলো ম্যাচে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লক্ষ্যই থাকবে আমাদের।’
ইংল্যান্ড ইতিমধ্যেই কেভিন পিটারসেনকে দিয়ে ইনিংসে গোড়াপত্তন করার পরিকল্পনা করে কাঁপিয়ে দিয়েছে চারিদিক। ম্যাট প্রিয়রের জায়গায় কেভিন পিটারসেনের ইনিংস ওপেন করার বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখতে চাচ্ছেন স্ট্রাউস। তিনি বলেছেন, ‘অন্য দলের ওপর চাপ সৃষ্টি করার ব্যাপারটি পিটারসেন খুব ভালো পারে। সে জন্যই ম্যাচের শুরুতে চাপটা তৈরি করার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’ পিটারসেন ইনিংসের উদ্বোধন করলে স্ট্রাউসই হবেন তাঁর সঙ্গী। পিটারসেনের সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তন নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত হয়ে আছেন স্ট্রাউস। তিনি বলেছেন, ‘ব্যাপারটি নিয়ে আমি সত্যিই খুব উচ্ছ্বসিত। পিটারসেনের সঙ্গে ইনিংস শুরু করতে পারাটা হবে দারুণ এক অভিজ্ঞতা। আশা করছি, আমরা দুজনে মিলে দারুণ একটা শুরু উপহার দিতে পারব দলকে।’

ডয়েসকেটের সেঞ্চুরিতে হল্যান্ড ২৯২

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরি বলতে দুটি। একটিও অবশ্য বিশ্বকাপ আসরের নয়। বিশ্বকাপ আসরের প্রথম সেঞ্চুরিটাও আজ তুলে নিয়েছেন রায়ান টেন ডয়েসকেট। কপাল পুড়েছে ইংল্যান্ডের। ডয়েসকেটের সেঞ্চুরির ওপর ভর করেই ইংলিশদের প্রতি যে ২৯২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছুঁড়ে দিয়েছে হল্যান্ড!
অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসদের ‘ভুল’ ভেঙে গেছে সন্দেহ নেই। ওরা আবার কী করবে—মুখে না বললেও ডাচদের প্রতি এমন ‘অবজ্ঞা’ থাকটাই স্বাভাবিক ছিল ইংল্যান্ডের। তবে অসহায়ত্ব প্রকাশ নয়, বরং ইংল্যান্ডকে নাড়িয়ে দিয়েছে ডাচরা। ম্যাচের প্রথমার্ধ অন্তত তা-ই প্রমাণ করে। পুরো ৫০ ওভার বোলিং করে হল্যান্ডের মাত্র ছয়টি উইকেট শিকার করতে পেরেছেন ইংল্যান্ডের বোলাররা।
দলীয় ৩৬ রানে প্রথম আর ৫৮ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন। তবে এরপর ৭৮ রানের জুটি গড়েন টম কুপার ও রায়ান টেন ডয়েসকেট। ব্যক্তিগত ৪৭ রানে সাজঘরে ফেরেন কুপার। ডয়েসকেটও ফিরেছেন, তবে এর আগে ঘাম ঝরিয়ে দিয়েছেন ইংলিশদের। ১১০ বলে ৯টি চার ও ৩টি ছয়ে এই ব্যাটসম্যান খেলেন ১১৯ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস।

কাসাবের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট

ভারতের মুম্বাইয়ে ২০০৮ সালের সন্ত্রাসী হামলার একমাত্র জীবিত সন্ত্রাসী আজমল আমির কাসাবের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন মুম্বাইয়ের হাইকোর্ট। নয় মাস আগে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
গতকাল সোমবার মুম্বাই হাইকোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা দেশাই ও আরভি মোরের সমন্বিত ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেন। একই সঙ্গে ওই হামলায় সহায়তাকারী দুই ভারতীয়কে অব্যাহতি দেওয়ার বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্র সরকারের করা আবেদনও নাকচ করে দেন আদালত। উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের অভাবে এ আবেদন নাকচ করা হয়। অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন ফাহিম আনসারি ও সাবাউদ্দিন আহমেদ।
রায়ের আদেশে আদালত জানান, পাকিস্তানি নাগরিক কাসাব সাতজনকে হত্যার জন্য সরাসরি দায়ী এবং ৬৬ জনেরও বেশি লোকের হত্যায় সহযোগিতা করেছেন। এ ছাড়া বাকিদেরও হত্যা করতে তিনি ষড়যন্ত্র করেছেন।
আদালত আরও জানান, ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার কাসাবের রয়েছে। কাসাব আপিল করতে চাইলে তাঁকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
আর্থার রোড কারাগারে আটক কাসাব একটি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে আদালতের রায় শোনেন। এ সময় কাসাব সাদা পোশাক পরা ছিলেন এবং তাঁর মাথা ছিল নিচু। এ কারাগারেই তাঁকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আটক রাখা হয়েছে।
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর কাসাব ও তাঁর সহযোগীরা মুম্বাইয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এতে ১৬৬ জন নিহত হয়।

বেতন কমানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে উইসকনসিনে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কমানোসহ তাঁদের ইউনিয়ন গঠনের অধিকার খর্ব করার সরকারি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে গত শনিবার পঞ্চম দিনের মতো ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। ওই বিক্ষোভে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেয়।
কংগ্রেসে রিপাবলিকান গভর্নর স্কট ওয়াকার প্রণীত এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার থেকে বিক্ষোভ চলছে। বিলটি পাস হলে সরকারি শ্রমিকদের বেতন-ভাতা কমে যাবে।