Friday, May 1, 2015
খালেদা-শারম্যান বৈঠক, সিটি নির্বাচনে কারচুপিতে অসন্তুষ্ট শারম্যান, হাসিনাকে বান কি-মুনের ফোন
![]() |
| বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সঙ্গে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শারমেন |

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ বিষয়ক শুনানিতে সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা
শেখ হাসিনা যে কর্তৃত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশ শাসন করছেন তাতে যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাধা না দেয়, তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতি আরও সহিংস রূপ পাবে -এমন মন্তব্যও করেন কমিটির এক সদস্য।
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সম্পর্কিত সাব কমিটির এক শুনানিতে কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান দলীয় কংগ্রেস সদস্য ম্যাট স্যালমন বলেন, পরিস্থিতি উপলব্ধি করে গণতন্ত্রের স্বার্থে বাংলাদেশের প্রধান দুই দলের সংলাপে বসা উচিৎ।
বৃহস্পতিবার এ শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে ‘বাংলাদেশ’স ফ্র্যাকচার: পলিটিক্যাল অ্যান্ড রিলিজিয়াস এক্সট্রিমিজম’ শীর্ষক এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে পাঁচজন বক্তৃতা করেন। শুনানিতে বক্তরা গণতন্ত্রের স্বার্থে বাংলাদেশের প্রধান দুই দলের সংলাপে বসা উচিৎ বলেও মত দেন।
রাজনৈতিক সহিংসতা ও দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অচলাবস্থা ২০০৭ সালের মতো আবারও বাংলাদেশকে সামরিক হস্তক্ষেপের পথে নিয়ে যেতে পারে বলে শুনানিতে মন্তব্য করেন হেরিটেজ ফাউন্ডেশন, ডেভিস ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন পলিসি ও এশিয়ান স্টাডিজ সেন্টারের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লিসা কার্টিস লিসা কার্টিস।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যে কর্তৃত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশ শাসন করছেন তাতে যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাধা না দেয়, তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতি আরও সহিংস রূপ পাবে।
বিরোধী দলের যে হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী কারাগারে আছে, তাদের ছেড়ে দিতে অথবা সুষ্ঠু আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বিচার শুরু করতে বাংলাদেশ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ দেওয়া ‘উচিৎ’ বলেও শুনানিতে তিনি মত দেন লিসা কার্টিস।
এ সময় তিনি নিরপরাধ পথচারীদের হত্যার ঘটনায় যারা দায়ি, বিশেষ করে পেট্রোল বোমা ছুড়ে হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদেরও বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন বলেও মত দেন।
বাংলাদেশে মানাবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করা, সব দলের জন্য রাজনৈতিক মত প্রকাশ ও কর্মকাণ্ডের সমান অধিকার নিশ্চিত করা, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ রাষ্ট্রের অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অবসান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে বিরোধীসহ সহিংসতা বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আলী রিয়াজ
শুনানি শেষে আলী রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসন সমস্যার কারণ এবং তা থেকে উত্তরণে কী করা উচিত-তা বোঝার চেষ্টা করছে। এ কারণেই শুনানির আয়োজন।
আবার যদি অনির্বাচিত কোনো সরকার ক্ষমতায় বাংলাদেশে আসে তাহলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বেন দুই দলের শীর্ষ নেতারা। তাই নিজেদের স্বার্থে হলেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে তারা যেন আলোচনায় বসেন, সে বিষয়েও শুনানিতে বক্তারা তাগিদ দেয়া হয় বলে যোগ করে আলী রিয়াজ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অপমানিত হলেন ভোটাররা by শম্পা বসু
আমি চেয়েছিলাম প্রতিটি কেন্দ্রে যাব। সিদ্ধেশ্বরীর একটি কেন্দ্রে ঢুকতে গিয়ে আমি নিজেই বাধা পেলাম। আমার চোখের সামনে দেখলাম ব্যালট পেপারে সিল মারা হচ্ছে। আমি ওই যুবকদের নিজের পরিচয় দিলাম। কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে ওরা জানাল, ওরা শুধু মেয়রের প্রতীকে সিল মারছে। সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের জায়গায় কিছু করছে না।
এটা সবাই জানেন যে নির্বাচনকে টাকার খেলায় পরিণত করা হয়েছে। আসলে আমরা একটা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই আন্দোলন কালোটাকা, সন্ত্রাস ও দখলদারদের বিরুদ্ধে। এবারের নির্বাচনও এসবের মধ্য দিয়েই গেল। টাকা দিয়ে ভোট কর্মী ব্যবহার করার মানসিকতা নিয়ে আমি নির্বাচন করিনি। আমার ওয়ার্ডের ভোটাররা আমার জন্য প্রচার চালিয়েছেন। আমাকে অর্থ সাহায্য পর্যন্ত করেছেন। বস্তুগত কিছু আমি দিতে পারব না জেনেও তাঁরা আমার সঙ্গে আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। প্রতিদিন ভোরে রমনায় যেতাম আমি। নির্বাচনের পরদিন ভোরে আমি আবারও গেলাম। যাঁরা এই কমাসে আমার স্বজনে পরিণত হয়েছেন তাঁদের মধ্যে আমি একটা পরিবর্তন দেখেছি। ধারাবাহিকভাবে ভোটারদের অধিকার লুণ্ঠিত হওয়ায় তাঁদের মধ্যে শাসকদলের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তাঁরা ক্ষুব্ধ। তাঁদের মধ্যে আমি একটা লড়াইয়ের আকাঙ্ক্ষা দেখতে পেয়েছি।
দুঃখ লাগে এটা ভেবে যে নির্বাচনে তরুণ-যুবকদের চেতনাকে কত নিচে নামানো হলো। যারা টাকা ছড়িয়েছে, জাল ভোট দিয়েছে, কেন্দ্র দখল করেছে তারা হয়তো জিতেছে কিন্তু হেরে গেল মানুষের নীতিবোধ, মূল্যবোধ।
শুধু নির্বাচন নয় সমাজের পরিবর্তনে সাধারণ মানুষের সম্মিলিত শক্তি কাজে আসবে। নির্বাচনের আগে যে সব সমস্যা চিহ্নিত করেছি আমরা তার সমাধানে আরও অনেক মানুষকে আন্দোলনে পাশে পাব বলে বিশ্বাস করি। কালোটাকা, সন্ত্রাস, দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে।
প্রকৌশলী শম্পা বসু: সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণের সংরক্ষিত আসন-০৫ (ওয়ার্ড নং ১৩,১৯, ২০) এ কাউন্সিলর পদে প্রার্থী ছিলেন ও সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যে ৬ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে হিলারিকে
১. অভিবাসন সংস্কার: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভের পথ কি পরিষ্কার করবেন হিলারি? আইওয়াতে তার প্রথম ধাপের প্রচারণায় হিলারি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ব্যাপক হারে অভিবাসননীতিতে সংস্কার আনার পক্ষে ছিলেন তিনি। তবে অতীত বলছে ভিন্ন কথা। ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে ৭০০ মাইল দৈর্ঘ্যের কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন হিলারি। নিজের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় তিনি অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স বরাদ্দের বিরোধিতা করেছিলেন। পরে অবশ্য ওই অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হন তিনি। লাখো অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো ঠেকাতে
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত মেয়াদে নির্বাহী আদেশ দিয়েছিলেন। সেটির আবার পক্ষে অবস্থান ছিল হিলারির। প্রায়ই নিজের অবস্থান বদলের জন্য সমালোচিত হয়েছেন তিনি। তার এমন পরিবর্তনশীল অবস্থানের কারণে এ প্রশ্নটি বড় হয়ে উঠছে, তিনি কি অভিবাসীদের নাগরিকত্ব লাভের পথের পক্ষে লড়াই করবেন? প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসী ও বিপুল পরিমাণ লাতিন এ উত্তরের অপেক্ষায় আছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে অন্যতম উজ্জ্বল প্রার্থী জেব বুশও এদের সমর্থনপ্রত্যাশী।
২. পাইপলাইন সম্প্রসারণ: কানাডার আলবার্টা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কার একটি পাইপলাইনকে সংযুক্ত করতে ১১৭৯ মাইলের নতুন একটি পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে চলছে ব্যাপক বিতর্ক। পরিবেশবাদীরা বলছেন, এ পাইপলাইন নির্মিত হলে, ময়লা তেল নিঃসরণের ঝুঁকি বৃদ্ধি করবে। ফলে বাড়বে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত ঝুঁকিও। অন্যদিকে কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল রিপাবলিকান শিবির বলছে, এ পাইপলাইন নির্মাণের প্রকল্পে সৃষ্টি হবে নতুন চাকরি। গত মাসে এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ভেটো দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে চুপ করে আছেন হিলারি। ২০১০ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ওই প্রকল্পে সমর্থন দিতে আগ্রহী ছিলেন তিনি। একেবারে সামপ্রতিককালে তিনি এ ধরনের একটি প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন। রিপাবলিকানরা এ প্রকল্প নিয়ে ছাড় দিতে রাজি নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, রিপাবলিকানরা এ প্রকল্প নতুন করে এগিয়ে নিতে চাইলে হিলারি কি বাধা দেবেন?
৩. কালো টাকা: আইওয়াতে নিজের প্রচারণা সূচনাকালে হিলারি বলেছিলেন, তার চারটি বড় অগ্রাধিকারের একটি হচ্ছে অকেজো রাজনৈতিক পদ্ধতির পরিবর্তন আনা। একই সঙ্গে হিসাববিহীন অর্থায়ন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা। তিনি সম্ভবত সাংবিধানিক সংশোধনের কথা বিবেচনায় নিতে পারেন। এর ফলে সুপ্রিম কোর্টের একটি রুলিং অকার্যকর করাই হবে এর লক্ষ্য। তবে সংবিধান সংশোধন করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে তিন-চতুর্থাংশ সমর্থন ও ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৩৮টির সমর্থন লাগবে। যেটি অত্যন্ত কঠিন। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, তিনিই ছিলেন এ ধরনের চর্চার ফলভোগী। তার বিভিন্ন প্রচারণার জন্য ব্যাপক অর্থ প্রয়োজন হবে। সেসব বিবেচনায় নিয়ে, হিলারি কি নির্বাচনী তহবিলে কালো টাকা অর্থায়নের বিরুদ্ধে সত্যিকারভাবে লড়বেন? এবং তিনি কি ওয়ালস্ট্রিট থেকে অর্থ নেবেন?
৪. ওয়ালস্ট্রিট: ওয়ালস্ট্রিট পছন্দ করে হিলারিকে। পলিটিকো ম্যাগাজিন যেমনটি লিখেছে, বড় ব্যাংকগুলোর কর্তাব্যক্তিরা তাকে বাস্তববাদী ও বন্ধুপরায়ণ ভাবেন। এর কারণেই হয়তো প্রতিবার তাদের অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে এলে হিলারি ক্লিনটনকে ২ লাখ ডলার দিতে রাজি হয় পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া ক্লিনটন পরিবারের বিভিন্ন প্রচারণায় মোটা অঙ্কের অর্থও বরাদ্দ দেয় ওয়ালস্ট্রিটের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। মার্কিন সিনেটর থাকার সময় হিলারির শীর্ষ ১০ দাতার মধ্যে ৫টিই ছিল ওয়ালস্ট্রিটের ব্যাংক। অন্যদিকে ডেমোক্রেট দলে এলিজাবেথ ওয়ারেন ক্রমেই প্রগতিশীল অংশকে মুগ্ধ করেই যাচ্ছেন। যদিও তিনি ডেমোক্রেট দল থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী নন। ওয়ারেন সরকারকে আকাশচুম্বী নির্বাহী ক্ষতিপূরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। ব্যাংক নিয়ন্ত্রকদের ভীরুতার নিন্দা জানাচ্ছেন। এর পরই হিলারিও নিজের ওয়ালস্ট্রিট প্রীতিতে পরিবর্তন আনতে শুরু করেন। অথচ তার এ ব্যাপারে কোন সঠিক নীতির দেখা নেই। সমপ্রতি টাইম ম্যাগাজিনে এলিজাবেথ ওয়ারেনের স্তুতি গেয়ে একটি লেখা লিখেছেন হিলারি। এ ছাড়া সাবেক এক ব্যাংক নিয়ন্ত্রককে নিজের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছেন হিলারি। ওই ব্যাংক নিয়ন্ত্রক ওয়ালস্ট্রিটের জন্য স্বস্তিকর ছিলেন না। প্রশ্ন হলো, ওয়ালস্ট্রিটের দিক থেকে হিলারির এ নতুন মুখ ফিরিয়ে নেয়াটা কত দিন স্থায়ী হবে? এটি কি ওয়ালস্ট্রিটের একটি সত্যিকার সংস্কারের দিকে রূপ নেবে?
৫. সমকামী অধিকার: সমকামী, উভকামী ও হিজড়াদের (এলজিবিটি) অধিকারের ক্ষেত্রে তিনি আসলে কতটা সচেতন? ক্লিনটনের শিবির দ্বার্থহীনভাবে বলেছে, হিলারি ক্লিনটন সমলিঙ্গের বিয়েকে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে গণ্য করেন। এর মাধ্যমে তিনি একটি আগাম সমালোচনা এড়াতে সক্ষম হয়েছেন, যা ডেমোক্রেটদের প্রাথমিক লড়াইয়ে তার জন্য সমস্যা হতে পারতো। ক্লিনটনের এ ঘোষণা ও তার প্রচারাভিযানে বহু সমকামী জুটির ছবি আসায় এলজিবিটি সম্প্রদায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। কেননা, হিলারিই গত বছর ঘোষণা দিয়েছিলেন, সমলিঙ্গের বিয়ের বিষয়টি নিয়ে প্রত্যেক অঙ্গরাজ্যের আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেয়াটাই উত্তম। তবে এদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এলজিবিটি সমপ্রদায়ের অধিকার রক্ষায় কতটা লড়াই করবেন হিলারি? তার প্রশাসন কি সমকামীবিরোধী ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ আইনটি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ লড়াই করবে? তিনি কি মার্কিন সেনাবাহিনীতে হিজড়াদের নিয়োগে বাধা দূর করবেন? এ বিষয়টি এখনও বেশ স্পর্শকাতর। তার স্বামী বিল ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায়ই সামরিক বাহিনীতে সমকামীদের নিয়োগের বিষয়ে ‘ডোন্ট আস্ক, ডোন্ট টেল’ নীতি অনুমোদন করেছিলেন। এ নীতি অনেকটাই অর্থহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে।
৬. প্রশান্ত-মহাসাগরীয় আংশীদারিত্ব: রিপাবলিকানদের সঙ্গে বিরল ঐকমত্য গড়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা ১১টি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে চান। ১৯৯৪ সালের উত্তর আমেরিকানমুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পর এটিই হবে সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী বাণিজ্য চুক্তি। ১৯৯৪ সালের ওই চুক্তিটি করেছিলেন বিল ক্লিনটন। তবে এএফএল-সিআইওসহ বেশ কয়েকটি শ্রমিক ইউনিয়ন বলছে, তারা এ চুক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করবে। অনেক জ্যেষ্ঠ ডেমোক্রেট নেতাও বলছেন, এ চুক্তি আমেরিকার চাকরি ও বেতন-ভাতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। হিলারি ক্লিনটন এ ইস্যুতে বেশ বড় ধরনের বেকায়দায় পড়েছেন। বারাক ওবামা ও বড় ধরনের ব্যবসাকে সমর্থন দেয়ার একটি প্রচ্ছন্ন ইচ্ছা তার রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে তার সমর্থক শ্রমিক ইউনিয়ন ও প্রগতিশীলদের মনও তার রক্ষা করতে হবে। প্রশ্ন হলো, হিলারি কি বাণিজ্য চুক্তিবিরোধী অবস্থান নেবেন, ঠিক যেমনটা তার গতবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণায় নিয়েছিলেন? নাকি তিনি তিন বছর আগে করা তার মন্তব্যেই অটুট থাকবেন? সে সময় হিলারি বলেছিলেন, বাণিজ্য চুক্তিসমূহের মাপকাঠিতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অংশীদারিত্ব চুক্তিটি ‘সোনালি’ পর্যায়ের।
কোন দিকে যাবেন, হিলারি?
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কার নৌকায় কে ডোবে! by ফারুক ওয়াসিফ
![]() |
| মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে লাঞ্ছিত করারে (বাস প্রতীক) সব এজেন্ট বের করে দিয়েছে পুলিশ |
কী করবেন, পারলে কইরেন
কয়েকটি ঘটনা বাদ দিলে তুমুল উৎসাহ ছিল তিনটি সিটি করপোরেশনেই। সেই উৎসাহ নিয়েই মোহাম্মদপুরের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে শুরু করি সকাল নয়টা থেকে। ১০টার দিকে মোহাম্মদপুরের শারীরিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ঢুকছি। রাজশাহী রেঞ্জের ব্যাজ পরা এক পুলিশ সদস্য আটকালেন। বললেন, ‘সাংবাদিকের সঙ্গে পুলিশ থাকবে।’ এবারে নির্বাচন কমিশন বিধিমালা তৈরি করে সাংবাদিকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ খুব কঠিন করে দিলেও কোথাও বলা হয়নি যে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকের সঙ্গে পুলিশ থাকবে। কেবল এতটুকু হলেও কথা ছিল না। ১২০ নম্বর কক্ষে ঢোকা গেল না, বাইরে থেকে দেখে কিছুই বোঝার উপায় নেই। ভবনটির নিচতলায় বারান্দার শেষ প্রান্তের ১০১৫ নম্বর কক্ষ। সেখানে তখন লোকজন নিয়ে ঢুকছেন ঘুড়ি মার্কার কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। তাঁকে একটু আগে মকবুল কলেজের ভোটকেন্দ্রেও তদারক করতে দেখেছি। তিনি কী করছেন, সেটা দেখতে দরজার বাইরে দাঁড়াতেই রাজশাহী রেঞ্জের রফিক নামের একজন সহকারী পরিদর্শক হাতের ইশারায় ডাক দিয়ে একটা ফাঁকা ঘর দেখিয়ে সেখানে বসে থাকতে বললেন। আমি দায়িত্ব পালনের যুক্তি যতই দেখাই, ততই তাঁর কণ্ঠ চড়তে থাকে। একপর্যায়ে ধাক্কা দিয়ে তিনি আমাকে সেই কক্ষের সামনে থেকে সরিয়েই দিলেন। আর বললেন, ‘কী করবেন, পারলে কইরেন।’
বাস মার্কার নিখোঁজ এজেন্টরা
মোহাম্মদপুর এলাকার অন্তত ১০টি ভোটকেন্দ্রের একটিতেও বাস মার্কার পোলিং এজেন্ট পাওয়া যায়নি। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঘড়ি মার্কার ব্যাজ নিয়ে ঘোরাঘুরি করা তরুণ, বাইরে দলে দলে ঘড়ি মার্কার সমর্থকদের পদচারণে ভুলেই যেতে হয়—নির্বাচন মানে প্রতিযোগিতা, নির্বাচন মানে একটি পক্ষের দাপট নয়। অনেক ভোটকেন্দ্রের কক্ষের ভেতরে ঢুকে জিজ্ঞাসা করারও সুযোগ ছিল না, তাবিথ আউয়াল বা জোনায়েদ সাকির পোলিং এজেন্টরা আছেন কি নেই! শুধু শারীরিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের বাইরে কাজ করা বিএনপি-সমর্থক রিয়াদ জানান, গতকাল তাঁদের দুজন এজেন্টকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে।
৪০০ টাকার আনসার-ভিডিপি
কাদেরিয়া মাদ্রাসায় অনিয়ম হচ্ছে শুনে বেলা একটার দিকে হাজির হলাম। এদিন যিনিই কোনো ভোটকেন্দ্রে গেছেন, দেখতে পেয়েছেন সাধারণ পোশাকের ওপর আনসার-ভিডিপির লোগো লেখা জ্যাকেট গায়ে একদল নারী-পুরুষকে কাজ করতে। এঁদের মধ্যে ১৫ বছর থেকে ৫৫ বছর বয়সীরাও আছেন। মোহাম্মদপুরের কাদেরিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে এমন কয়েকজন ‘আনসার’ পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হলেন। তাঁদের কাছ থেকেই জানা গেল, এই কেন্দ্রে এ রকম ১৬ জনকে নিয়ে এসেছেন ‘গুলশান আপা’। মাদ্রাসার চতুর্থ তলায় তাঁকে পেলাম। তিনিও ‘পরিচয়হীন’ গৃহিণী। জানালেন, হাসিনা নামের এক নারী তাঁদের ৪০০ টাকা দিন চুক্তিতে এখানে পাঠিয়েছেন। এর বাইরে তাঁরা আর কিছু জানেন না। এখন শুনছি যে কোথাও কোথাও নকল আনসারের মতো নকল পুলিশও নাকি দেখা গেছে। সকালবেলায়ই পুলিশের উদ্ধত হুমকির পর পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ার সেই সাহস কার থাকে?
ভূমিকম্পাতঙ্ক বনাম ভোটাতঙ্ক
ঢাকাবাসী এদিন ভুলে গিয়েছিল ভূমিকম্পের আতঙ্কের কথা। তার জায়গা নিয়েছিল অন্য এক আতঙ্ক, যার নাম ‘ভোটাতঙ্ক’। ভোটকেন্দ্রগুলো ঘুরে ঘুরে মনে হলো স্বয়ং নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরাও ভোটারদের ভয় পাচ্ছেন। তরুণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নাজমুল নূরজাহান রোডের বেঙ্গল একাডেমি বিদ্যালয়ে সাত-আটজনের ভোটের সারিতে দাঁড়িয়ে গজগজ করছিলেন, ‘একজনের ভোট নিতে এতক্ষণ লাগে, লাইন আগায় না ক্যান?’ জিজ্ঞাসার জবাবে তিনি বললেন, ‘ভোটারদের স্লিপ ও বুথ খুঁজতে সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে না। একটা ভোট কাস্ট করতে অনেক দেরি নিচ্ছে। আমার ফ্যামিলির মহিলারা তো বিরক্ত হয়ে ভোটই দিতে চাইতেছে না।’
দুপুর ১২টায় বেশির ভাগ বুথেই দু-তিনজনের বেশি ভোটার মিলল না। দোতলায় নারীদের বুথে গিয়ে দেখা গেল, বেশির ভাগ কক্ষে ভোটার নেই, শুধু একটি কক্ষের সামনে ৩০-৪০ জনের ভিড়। তাঁদেরও অভিযোগ, ভোট নিতে দেরি করা হচ্ছে। যাঁরা বাচ্চা কোলে এসেছেন, তাঁরা আর অপেক্ষা করতে রাজি হচ্ছিলেন না। এঁরা ছিলেন অবাঙালি ভোটার। এঁদের প্রসঙ্গেই নাজমুল দাবি করলেন, ‘আগের রাতে তাঁর সামনেই বিহারি ভোটারদের হুমকি দেওয়া হয়েছে যে ভোট দিতে গেলে বিহারি ক্যাম্পের গ্যাস ও পানির সংযোগ কেটে দেওয়া হবে।’
সার্বিকভাবে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে—ভূমিকম্প, যানজট, দূষণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নগরের ভোটাররা যখন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে উৎসবের আমেজে স্বাগত জানাচ্ছিলেন, তখন সরকারি আয়োজনের লক্ষ্য ছিল ভোটারদের দূরে রাখা। কোনো সরকার যখন নির্বাচনকে ভয় পায়, তখন ভোটারের রায় দেওয়ার সুযোগ কমে। আর দিনের শেষে ভোটার তো দেশেরই নাগরিক এবং ভরসাপ্রার্থী মানুষ। তাঁদের এভাবে তুচ্ছ করে দিলে হয়তো ক্ষমতা জিতবে, কিন্তু সেই ক্ষমতার রাজনৈতিক ভিত্তির মৃত্যু ঘটবে।
কার নৌকায় কে ডোবে!
এক নৌকায় মাঝি আর যাত্রী মিলে দুজন যাচ্ছেন। হঠাৎ যাত্রী চিৎকার করে উঠলেন, ‘নৌকায় তো ফুটা, ডুবতেছে ডুবতেছে!’ সেটা শুনে নৌকার মালিক ওই মাঝি ধমকে উঠলেন, ‘নৌকা ডুবলে আমার ডুবতেছে, আপনার কী? আপনি বয়া থাকেন চুপচাপ।’ এ রকম অবস্থায় চুপচাপ বসে থাকা কঠিন। কারণ, নৌকার মালিক ডুবতে রাজি থাকতে পারেন, কিন্তু নৌকার আরোহী হিসেবে ডুবব তো আমরা সবাই!
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
bagharu@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গায়েবি ভোটের ময়নাতদন্ত- যেভাবে ৬১ ভোট হয়ে যায় ৩৮১ by সিরাজুস সালেকিন
ভোটের দিন আক্রান্ত হয়েছিলেন ইসি সচিবালয়ের পর্যবেক্ষকরাও!
ভোট গ্রহণের দিন ইসি সচিবালয়ের নিজস্ব ৫৮ জন কর্মকর্তা ভোটকেন্দ্রে পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করেছে সরকারদলীয় প্রার্থীর কর্মী, পুলিশসহ ভোট কর্মকর্তারা। দুজন কর্মকর্তার ল্যাপটপ ও ওয়েবক্যাম ছিনিয়ে নেয়া হয়। এছাড়া একজন পর্যবেক্ষকের ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে তার ছবি মুছে ফেলেন সরকার দলীয় এমপি এখলাস উদ্দিন মোল্লা। কয়েকটি কেন্দ্রে পুলিশ ও প্রিজাইডিং অফিসাররা পর্যবেক্ষকদের ঢুকতে দেননি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার কাছে এমন কোন তথ্য নেই। ওই পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট তিনি পাননি।
নির্বাচনী অনিয়ম তদন্তে সরকার ও ইসিকে বাইরে রাখতে হবে: এম. সাখাওয়াত হোসেন
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অনিয়ম তদন্তে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) বাইরে রাখতে হবে। গতকাল বিবিসিকে এ কথা বলেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, যে যা-ই করুক, দিনের শেষে এটা নির্বাচন কমিশনের দায়দায়িত্ব। সাধারণত, এ ধরনের অনিয়মের তদন্ত কিন্তু নির্বাচন কমিশনই করে থাকে। কিন্তু এখানে এখন প্রশ্নটা হলো যে, তদন্তটা কে করবে? সরকারও করতে পারবে না। ইলেকশন কমিশনের বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ ওঠে, আমি মনে করি, যেহেতু এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, তাহলে সে অভিযোগের তদন্ত আসতে হবে উচ্চ আদালত থেকে। কিন্তু মুশকিলটা হলো, নির্বাচন কমিশন দুর্ভাগ্যজনকভাবে এক ধরনের অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে। তাহলে তদন্ত করতে হলে, এ নির্বাচন প্রক্রিয়াটাকে স্থগিত রাখতে হবে। স্থগিত করে তদন্ত করার পরে একটা সিদ্ধান্ত আসবে।
বিবিসির প্রতিবেদনে গতকাল বলা হয়, বাংলাদেশের সদ্য সমাপ্ত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির যে অভিযোগ উঠেছে, সেটির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে এরই মধ্যে বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এ নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু নির্বাচনে তদন্তের বিষয়ে তারা যে তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছে, সেটি কিভাবে সম্ভব? এ নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মনোভাব কেমন?
জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং বৃটেনের দিক থেকে যে বক্তব্যগুলো এসেছে, তা মোটামুটি একই রকম। তারা সকলেই নির্বাচনে কারচুপি ও ভোট জালিয়াতির বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, এ তদন্ত কে করবে? নির্বাচন কমিশন যদিও বলছে, নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোন অভিযোগ আইনানুযায়ী তাদেরই তদন্ত করার কথা। কিন্তু এ নির্বাচনে খোদ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেই নিষ্ক্রিয়তা আর ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। তাহলে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা কি নিজের তদন্ত নিজেই করবে? নির্বাচন কমিশনের সচিব সিরাজুল ইসলাম বলছেন, তারা শুধু স্থগিত হওয়া তিনটি কেন্দ্রের বিষয়ে তদন্ত করবেন। নির্বাচনে কারচুপি নিয়ে গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষক এবং আন্তর্জাতিক মহল যেভাবে সমালোচনা করছে, সেটি খানিকটা অস্বস্তি তৈরি করেছে সরকারের ভেতর। কিন্তু নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে ব্যাপক তদন্তের বিষয়ে সরকারের দিক থেকে তেমন চিন্তা ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অভিযোগের তদন্ত হবে। তবে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন যেভাবে তদন্তের কথা বলছেন, সে রকম তদন্ত করার কোন আগ্রহ ক্ষমতাসীনদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। অনেকেই মনে করেন, আন্তর্জাতিক মহলের চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত যদি তদন্ত হয়েও থাকে, তাহলেও সেটি কতটা কার্যকরী তদন্ত হবে তা নিয়েও প্রশ্ন থাকবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কৌশলের খেলায় জয়ী কে?
আর পশ্চিমা কূটনীতিকরা হতভম্ব হয়েছেন মঙ্গলবারের নির্বাচনে কারচুপি দেখে। কারণ এ নির্বাচনে হার-জিতের ফলাফল ছিল খুবই সামান্য। এর আগে প্রমাণ হয়েছে, অর্ধ ডজন গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিএনপি সমর্থকরা মেয়র হতে পারলেও তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে কোন ফল দেয়নি। এমনকি তাদের পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। কারও স্থান হয়েছে কারাগারে। তিনটি মেয়র পদ পেলেও বিএনপির ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটতো না। বরং এ নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে হতে দিলে শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হতো। আর তারা যেহেতু ২০১৯ সালের আগে নির্বাচন দিতে চায় না, তাই সিটি নির্বাচনকে অবাধে হতে দিয়ে একটা রাজনৈতিক বৈধতার হাতিয়ার সংগ্রহের সুযোগ তার সামনে ছিল। কিন্তু এ নির্বাচনের কারচুপির খবর এখন সারা দুনিয়াতেই ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র পরিষ্কার করে বলেছে, ভোট জালিয়াতির বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট তারা পেয়েছে। দেশীয় পর্যবেক্ষকরাও বলেছেন, নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য নয়। সব দেশ এবং সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি জানানো হচ্ছে, অনিয়মের তদন্তের। কিন্তু বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন হচ্ছে- তদন্তটা করবে কে? যারা কারচুপি করেছেন তারাই? অনেকে মনে করেন ভাবমূর্তি বা গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির সুযোগ বিবেচনায় নিলে শেখ হাসিনার জন্য সেটা যত বড় সত্য, সেটা সে তুলনায় বেগম খালেদা জিয়ার জন্য তিন সিটিতে বিজয়ও কিছু মাত্র নয়। তবে লাভ যেটা বেগম জিয়ার হয়েছে সেটা অনেকের মতে, বয়কট প্রশ্নে যে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছিল সেটা কেটে গেছে। এ নির্বাচনে টিকে থাকার অর্থই ছিল তিন মেয়রকে একটি ‘ইনক্লুসিভ’ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ‘গৌরব’ অর্জনে সাহায্য করা। এ কারণে বিএনপি শিবির মনে করে, দীর্ঘদিন পর হলেও কৌশলের খেলায় তারা জয়লাভ করেছেন। ভোটের পরপরই হরতালের মতো অকার্যকর কোন কর্মসূচি না দিয়েও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্ব।
আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের নেতা প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ কিছুদিন আগে বিএনপি শিবিরে একটি আচমকা চমক সৃষ্টি করেছিলেন। কারণ তিনি সুপারিশ করেছিলেন, শেখ হাসিনার অধীনেও বিএনপি মধ্যবর্তী নির্বাচনে যেতে পারে। আওয়ামী লীগের অনেক মন্ত্রী দাবি করেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনপূর্ব অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে শেখ হাসিনা বিএনপিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ ৫টি মন্ত্রণালয় দিতে চেয়েছিলেন। এটা কেন নেয়া হয়নি, সেজন্য অনেকে বিএনপিকে করুণা করতেও পিছপা হন না। কিছুদিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ দাবি করেন, বেগম খালেদা জিয়া সুযোগ নষ্ট করেছেন। তিনি নির্বাচনে এলে ‘লাভবান’ হতেন। মঙ্গলবারের ভোট অবশ্য পরিষ্কার করে দিয়েছে, তিনি কেমন লাভবান হতেন।
নির্বাচনে নিরপেক্ষ রেফারির ধারণা একান্তই বাংলাদেশের নিজস্ব। যদিও দুনিয়ার বেশ কয়েকটি দেশেই এখন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়ে থাকে। এ দেশে ক্ষমতাসীনদের ভোটের মাঠ দখলের ইতিহাস নতুন কিছু নয়। দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে নিয়মিতই তা হয়ে আসছে। যে কারণে ক্ষমতাসীনরা কখনোই নির্বাচনে পরাজিত হতেন না। এরশাদের স্বৈরশাসনের অবসানের পর প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যে নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বলা যায়। কিন্তু গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পর বিএনপির আমলেই প্রথম কলঙ্কিত হয় মাগুরার উপনির্বাচন। যে নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিকে সামনে নিয়ে আসে। গণদাবি উপেক্ষা করে ১৫ই ফেব্রুয়ারির গায়েবি ভোট করে বিএনপি। যদিও সে সংসদের মেয়াদ ছিল একেবারেই স্বল্প। ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত তিনটি সংসদ নির্বাচন ছিল গ্রহণযোগ্য। ৫ই জানুয়ারিতে আবারও গায়েবি ভোটে ফিরে যায় বাংলাদেশ। দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে বেশির ভাগ দলই অংশ নেয়নি। এখন তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের পর নির্বাচনে নিরপেক্ষ রেফারির দাবি উচ্চকিত হচ্ছে।
ক্ষমতাসীনদের প্রতি দুর্বল একদল বুদ্ধিজীবী কয়েক বছর ধরে বলে আসছেন নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী হলেই একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। নির্বাচনে সরকারের তেমন কোন ভূমিকা নেই। তবে দিনে দিনে তাদের আওয়াজ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য দেয়ার পর একবার এক কমিশনার দাঁড়িয়ে নিজের মেরুদণ্ড থাকার প্রমাণ দিয়েছিলেন। কিন্তু কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন কমিশনের মেরুদণ্ডের অবস্থা আরও একবার প্রমাণ হলো মঙ্গলবার। যদিও এর আগেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। যখন সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েও একদিন পরেই কমিশন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। এমনকি পৃথিবীর ইতিহাসে খুব সম্ভবত কোন নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো সেনানিবাসে সেনা মোতায়েন করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের অবশ্য কোন অনুশোচনাও নেই। দখল উৎসবের দিন শেষে তিনি অত্যন্ত উৎফুল্ল হয়ে বলেছেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। সবাইকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। আমরাও তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের পরম সৌভাগ্য এমন একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমরা পেয়েছি। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের একটি ভূমিকার কথাও ইদানীং আলোচিত হচ্ছিল। হয়তো এ কারণেই মঙ্গলবারের নির্বাচনের সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তাদের ক্যাডারদের আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য ছিল সাংবাদিকরা। পুলিশ পদে পদে বাধা দিয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ক্যামেরা নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের হামলার শিকার হয়েছেন অন্তত ১৫ সাংবাদিক।
আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো- স্লোগানটি একসময় খুব জনপ্রিয় হয়েছিল বাংলাদেশে। কিন্তু হালজমানায় তৈরি হয়েছে নতুন স্লোগান- আপনার ভোট আমি দেবো। জয়তু, গায়েবি ভোট।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সব দলকে অন্তর্ভুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের তাগিদ যুক্তরাষ্ট্রের
![]() |
| ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক জোরদারে চতুর্থ অংশীদারত্ব সংলাপে বক্তব্য দেন মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শারমেন। ছবিটি আজ সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা থেকে তোলা |
সব দলকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান এবং বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি করার ব্যাপারে আহ্বান জানান তিনি।
শারমেন বলেন, নির্বাচনে অনিয়মগুলো তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পরবর্তী নির্বাচন যাতে উন্নততর হয় তাও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ এটা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিটি নির্বাচনের বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও আলাপ করেছেন বলে জানান।
আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারিত্ব সংলাপ শেষে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ওয়েন্ডি শারমেন। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকও এতে বক্তব্য রাখেন।
শারমের বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর জিএসপি পুনর্বহালের ক্ষেত্রে অনেকগুলো শর্তপূরণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাজে অগ্রগতি হয়েছে। তবে আরো কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- কারখানা পরিদর্শক নিয়োগ এবং পরিদর্শন প্রক্রিয়া তরান্বিত করা। একই সাথে ইউনিয়ন নেতাদের হয়রানির অভিযোগ সুরাহা করা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মোবাইল আমদানিতে বছরে ৪শকোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি by মুজিব মাসুদ
কাস্টমস থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, নামি কোম্পানির ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার মার্কিন ডলারের সর্বাধুনিক ফোনসেট আমদানি করা হচ্ছে মাত্র ৩০০ ডলার দাম দেখিয়ে। ৫শ’ থেকে ১ হাজার ডলার মূল্যের সেট আসছে ১০ থেকে ১৫ ডলারে। ৫০ থেকে ৯০ ডলারের হ্যান্ডসেট আসছে ২/৩ ডলারের রেডিও ইকুইপমেন্টের নামে। মোবাইল সেটকে রেডিও ইকুইপমেন্ট দেখিয়েও দেয়া হচ্ছে বড় অংকের রাজস্ব ফাঁকি।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, এক্ষেত্রে আমদানিকারক এইচএস কোড জালিয়াতি করে দাম কম দেখায়। আর জেনেশুনেও চালান খালাস দিতে হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই ঘোষিত মূল্যের চেয়ে ৫/৬ ডলার কখনও ৫০ সেন্ট কিংবা ৭৫ সেন্ট বেশি দাম ধরে চালান খালাস দিচ্ছে তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রফর্মা ইনভয়েসের এ ধরনের মূল্য জালিয়াতি খোদ বিটিআরসিও অনুমোদন দিচ্ছে। মালামাল খালাসের জন্য বিটিআরসি থেকে এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) নিতে হয়। একটি হ্যান্ডসেটের দাম কত হতে পারে সেটা কাস্টমস কর্মকর্তারা না জানলেও বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ফাঁকি দেয়ার কোনো রাস্তা নেই। তারপরও জেনেশুনে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিটিআরসি ওইসব আন্ডার ইনভয়েসিং করা হ্যান্ডসেটের জন্য এনওসি দিচ্ছে।
কাস্টমস বলছে, এ ক্ষেত্রে তাদের করার কিছুই নেই। তবে বিটিআরসি বলছে, অধিকাংশ সময় কাস্টমস ও আমদানিকারকরা যোগসাজশে বিটিআরসির এনওসি জাল করে মালামাল খালাস করে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, বিটিআরসির অনুমোদন থাকায় ২শ’ থেকে ৭শ’ ডলার মূল্যের মোবাইল ফোন সেটের আমদানি ইনভয়েসে ১৫ থেকে ৩০ ডলারের অনুমোদন থাকায় ব্যাংকগুলোও এলসি খুলতে বাধ্য হচ্ছে!
বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবিব খান জানান, উত্তরা থেকে অভিযান চালিয়ে তারা এ ধরনের অসংখ্য ভুয়া এনওসি উদ্ধার করেছেন। এছাড়া অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে অসংখ্য হ্যান্ডসেট আমদানিকারকের লাইসেন্স বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় অসংখ্য মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, বিটিআরসির দেয়া রেডিও ইকুইপমেন্ট ও ভেন্ডর এনলিস্টমেন্ট সনদ ব্যবহার করে বর্তমানে ২ শতাধিক মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিকারক বছরে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার কোটির বেশি অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। এদের মধ্যে কেউ বৈধ পন্থায় কেউ অবৈধ পন্থায় লাগেজ পার্টির মাধ্যমে হ্যান্ডসেট এনে এই অর্থ পাচার করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার শীর্ষ ৫০ আমদানিকারক আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে ৫ বছর ধরে দোর্দণ্ড প্রতাপে মোবাইল ফোন আমদানি জালিয়াতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। কিছু দিন আগে বিটিআরসি কিছু কিছু দুর্নীতিবাজ ও জালিয়াত কোম্পানির লাইসেন্স স্থগিত এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের সনদ বাতিল করে। কিন্তু তারপরও থেমে নেই এ অসাধু ব্যবসা। একজনের লাইসেন্স বাতিল করলে নামে-বেনামে স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, শ্বশুর, জামাই ও আত্মীয়-স্বজনের নামে লাইসেন্স করে বিটিআরসি থেকে এনওসি নিচ্ছে।
একটি গোয়েন্দা সংস্থা ও বিটিআরসি সম্প্রতি আন্ডার ইনভয়েসিং করে খালাস করা ফোন সেটের তালিকা তৈরি করে। রেডিও ইকুইপমেন্ট লাইসেন্সধারী শীর্ষ ৫০ মোবাইল ফোন আমদানিকারক এসব সেট আমদানি করে। তালিকায় থাকা হ্যান্ডসেটগুলো হল- মটোমেক্স এম২৫, টেলকো এক্স-৯, ইনটেক্স স্টার ওয়ান, উইনমেক্স ডব্লিউআই, ডব্লিউএক্স-২, ডব্লিউএক্স-১৩, ডব্লিউ-২০২, ডব্লিউ-১০৩, এস-২৪, ডব্লিউ-১০৪, ডব্লিউ-২০৬, ডব্লিউ-১১১, নকিয়া ৭৩০/আরএম-১০৪০, নোকিয়া-২১০, জি-ফাইভ এল২২৮, জেড-৫, জি-জি-১, ডব্লিউআই, এ-৯৭, জেড-২, উইনস্টার ডব্লিউ-৮৮, মাইক্রোম্যাক্স এক্স-০৮৮, প্রেসিডেন্ট স্মার্ট-২, ওয়ালটন ১০-এক্স (ওয়ালপ্যাড), প্রিমো জিএফ-২, গ্ল্যালাক্সি জি-৪, এইচ-১, মাইসেল বিইই-৪, অকটেন টি-১২৩১, কিউ ফোন কিউ-১১০, বে-২, এস-১০২, কেএন্ডসি এফ-৩০০, ডি-২৪, অপো আর-১০০১, আর ৮৩১-কে, এন-৫১১১, ম্যাক্সিমাস আইএক্স, এম ২৬৬-এস, স্যামসাং এসএম-বি ৩১০ই, লাভা এক্স-১, টিনমো, টিনমো ট্যাব অন্যতম। আবার অনেক আমদানিকারক এসব ফোনের উৎপাদনকারী কোম্পানিকে না জানিয়ে কম দামে চায়না থেকে হুবহু হ্যান্ডসেট (নকল) বানিয়ে আমদানি করছে।
এক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে দেখা গেছে, এসব হ্যান্ডসেটগুলো যে দাম দেখিয়ে আনা হয়েছে পরে বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেগুলোর গায়ের দামের চেয়ে বেশি দাম ধরে খালাস করেছে। কিন্তু আন্ডার ইনভয়েসিং করার জন্য কোনো কোম্পানীকে দায়ী করা হয়নি।
বিটিআরসির তালিকা অনুযায়ী, সারা দেশে বর্তমানে যেসব কোম্পানি এভাবে আন্ডার ইনভয়েসিং করে হ্যান্ডসেট আমদানি করছে তাদের মধ্যে এম হোসেন ইলেক্ট্রনিক্স, মেসার্স এসকে ট্রেডিং, মেসার্স মোল্লা ইন্টারন্যাশনাল, এমজেড মোবাইল (প্রা.) লিমিটেড, এসএইচ ইন্টারন্যাশনাল, অনিক ইলেক্ট্রনিক্স মিউজিয়াম, সেল টোন, মোবাইল সোর্স, আবীর এন্টারপ্রাইজ, ম্যাপল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, অনন্যা ইলেক্ট্রনিক্স, মেহেদি টেলিকম, নিউ নোকিয়া টেলিকম, নাঈম এন্টারপ্রাইজ, আকাশ ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল, রুবোটেল কমিউনিকেশন, জেসই কম, আক্কাস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, ম্যাক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এসআর এন্টারপ্রাইজ, ভিসা টেলিকম, কাপল ইন্টারন্যাশনাল, এমকে ট্রেডিং, ফয়সল ট্রেডার্স, যোশ টেলিকম, মিম এন্টারপ্রাইজ, সোর্স ট্রেডিং, এশিয়ান ট্রেডিং কোম্পানি, মোবাইল বাংলা, মোবাইল ওয়ার্ল্ড, রহমত টেলিকম, ইয়াজ ট্রেডার্স, ফ্রেস টেলিকম, সিটি কমিউনিকেশন, লোপা এন্টারপ্রাইজ, আইসিই টেলিকম, ডিজি এন্টারপ্রাইজ, বিএম এন্টারপ্রাইজ, টিএম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, তালুকদার ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, স্কাইনেট অন্যতম।
অভিযোগ রয়েছে, দেশে প্রতি মাসে ২০ লাখ মোবাইল ফোনসেট আমদানি হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা দামের ঊর্ধ্বে হ্যান্ডসেট আসছে মাসে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ। বিটিআরসির ছাড়পত্র ছাড়াও বিভিন্ন লাগেজ পার্টির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মোবাইল সেট আমদানি হচ্ছে।
কিছু দিন আগে আমদানি করা ৬০ লাখ পিস মোবাইল ফোনের শুল্কায়ন মূল্য ছিল ১ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা (প্রায় ২৫ কোটি ডলার)। সেটপ্রতি তৎকালীন দর ৩শ’ টাকা হিসাবে এ খাত থেকে ১৮৫ কোটি টাকার আমদানি শুল্ক এবং ৬২ কোটি টাকার এটিভি আদায় হয়েছে বলে ঢাকা কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে। অথচ আন্ডার ইনভয়েসিং না হলে এসব ফোনের প্রকৃত আমদানি মূল্য দাঁড়াত ১শ’ কোটি ডলারেরও বেশি- যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। বিদেশী সরবরাহকারীকে আন্ডার ইনভয়েসিংয়ে আমদানিকৃত ফোনের প্রকৃত মূল্য পরিশোধে এভাবে বছরেই প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে চলে যাচ্ছে।
আমদানিকারককে প্রতিটি ইনভয়েসে ৩ থেকে ১০ লাখ পিস পর্যন্ত বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের মোবাইল ফোন আমদানির জন্য অবাধে ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। অথচ এর বিপরীতে আমদানি করা হচ্ছে মাত্র ২০ হাজার থেকে ১ লাখ পিস। এভাবে অস্বাভাবিক হারে ফোন আমদানির ছাড়পত্র দেয়ায় অবৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার ও এটিভি ফাঁকি দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, আমদানি নীতিতে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে এলসি খোলার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ব্যাংকগুলো তা মানছে না- যা আন্ডার ইনভয়েসিংয়ে মুদ্রা পাচারকে উৎসাহিত করছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একই ব্রান্ডের একই ফোনসেট ৭শ’ ডলারে খালাস দিচ্ছে আবার তা ৩৫ ডলারেও শুল্কায়ন করছে। গত ১৩ ডিসেম্বর টিনমো মোবাইল এফ-৩০০ মডেলের ৪০ পিস মোবাইল আমদানি হয়েছে- যার মূল্য দেখানো হয়েছিল শুল্কসহ প্রতিটি ৩১৭২ টাকা। কিন্তু এই মোবাইল সেটটি বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে ৭ হাজার ৯শ’ টাকায়। আন্ডার ইনভয়েসিং করে এই খাতে প্রতিটি সেট থেক সরকার রাজস্ব হারিয়েছে ১২শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা। একই মাসে প্রেসিডেন্ট স্মার্ট-২ মডেলের ১ হাজার পিস হ্যান্ডসেটের আমদানি মূল্য দেখানো হয় মাত্র ২ হাজার ৫০ টাকা। কিন্তু ওই মোবাইলটি খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫শ’ থেকে ৫ হাজার টাকায়। এই সেটটিও আন্ডার ইনভয়েসিং করে আমদানি করা হয়েছে। নভেম্বর মাসে উইনম্যাক্স ডব্লিউ-২০২ মডেলের ৪ হাজার ৭শ’ পিস মোবাইল আমদানি করা হয়। প্রতিটির আমদানি মূল্য দেখানো হয় মাত্র ৫৬০ টাকা। কিন্তু বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ওই সেটটি বিক্রি করা হচ্ছে ৫ হাজার ৩শ’ টাকায়। এক্ষেত্রে সেটপ্রতি রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে ৯শ’ থেকে ১১শ’ টাকা। ২৪ নভেম্বর ২০১৪ সালে ৪ হাজার ৯শ’ পিস হ্যান্ডসেট আমদানি করা হয় প্রতিটি মাত্র ৬ ডলারে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ১ ডলার বাড়িয়ে শুল্কায়ন করলেও বাজার দর অনুযায়ী সেটপ্রতি কমপক্ষে ১০ ডলার রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।
১১ ডিসেম্বর ওয়ালটন মোবাইল ফোন ওয়ালপ্যাড-১০এক্স মডেলের ১ হাজার হ্যান্ডসেট আমদানি করে। তারা প্রতিটি সেটের বাজার দর দেখায় ১৬১ ডলার। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ শুল্কায়ন করে সেটপ্রতি ৫৫ সেন্ট বাড়িয়ে দিয়ে। একইভাবে ওয়ালটন প্রিমো জি-ফাইভ ২ মডেলের ৭ হাজার ৬শ’ পিস আমদানি করা হয় ৬১.৫৭ ডলারে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নামকাওয়াস্তে মাত্র ১৯ সেন্ট বাড়িয়ে দিয়ে সেটগুলো খালাস দেয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতিটি সেট এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে আমদানি দরের অনেক বেশি দামে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
একই দিন ডব্লিউ-১৫-১ মডেলের ২০ হাজার হ্যান্ডসেট আমদানি করা হয়। শুল্কায়নের সময় প্রতিটির আমদানি দর দেখানো হয় ২৯.৫০ ডলার। কিন্তু বাস্তবে বাজারে প্রতিটি সেট বিক্রি হচ্ছে দেড়শ’ ডলারের বেশি দামে। একই ভাবে নকিয়া-৫১৫ ও ২০০ মডেলের বেশ কিছু হ্যান্ডসেট আমদানি করা হয় যথাক্রমে ৫৬ ও ১১৮ ডলারে। জানা গেছে, এতেও সেটপ্রতি গড়ে ১ হাজার টাকা রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। এই হিসাবে বছরে ৪শ’ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
এ বিষয়ে কাস্টমসের এক কর্মকর্তা জানান, শুল্কায়নের সঙ্গে পরিদর্শক থেকে প্রতিটি শিফট প্রধান পর্যন্ত জড়িত। বিনিময়ে সবাই মোটা অংকের টাকা ভাগ পায়। তিনি বলেন, আইনের ফাঁকফোকর থাকায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ শুল্কায়ন করতে বাধ্য। তাছাড়া বিটিআরসির ছাড়পত্র থাকায় কাস্টমস হ্যান্ডসেটগুলো আমদানিকারকদের দেয়া দরে শুল্কায়ন করতে হচ্ছে। এতে তাদের করার কিছুই নেই।
বিটিআরসি বলছে, কাস্টমসের শুল্কায়ন প্রতিবেদনে ১শ’ ভাগ কায়িক পরীক্ষার কথা লেখা থাকলেও বাস্তবে তা করা হচ্ছে না। এক্ষেত্রে ১ লাখ পিস ফোনকে সহজেই ৫ থেকে ৭০ হাজার দেখিয়ে ফাঁকির ঘটনা অহরহ ঘটছে। এতে আমদানিকারক ও কাস্টমস কর্মকর্তারা লাভবান হচ্ছেন। এছাড়া বিটিআরসির ছাড়পত্রে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফোনের কান্ট্রি অব অরিজিন হাঙ্গেরি, জার্মানি, ফিনল্যান্ড, কোরিয়া উল্লেখ থাকলেও তা আসছে দুবাই, সিঙ্গাপুর, চীন ও হংকং থেকে। এরপরও এসব পণ্য বাজেয়াফত না হয়ে অবাধে খালাস দেয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনার লুৎফুর রহমান জানান, এ ধরনের অভিযোগ তিনি শুনেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করার জন্য শিগগিরই তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বিটিআরসির সঙ্গে বৈঠক করবেন- যাতে আগামী বাজেটে হ্যান্ডসেট আমদানিতে নতুন নীতিমালা তৈরি সম্ভব হয়। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার রোধ হবে।
মোবাইল হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারক কোম্পানি স্যামসাং বাংলাদেশের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ লাখ মোবাইল হ্যান্ডসেট বাংলাদেশে আসছে। এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা দামের ঊর্ধ্বে হ্যান্ডসেট আসছে মাসে ৮০ থেকে ১ লাখ পিস। তারা যেসব হ্যান্ডসেট ২০ থেকে ৬৭ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন কোনো কোনো বাজারে হুবহু একই মানের ও দামের হ্যান্ডসেট ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে। তার প্রশ্ন, তাহলে কিভাবে এই সেটগুলো দেশে আসছে? নিশ্চয় কোনো ধরনের শুল্ক দিতে হয় না তাদের। লাগেজ পার্টি কিংবা কাস্টমসকে ম্যানেজ করে এই সেটগুলো তারা অবৈধভাবে দেশে নিয়ে আসছে। তিনি বলেন, বিষয়টি তারা বিটিআরসিকে জানিয়েছে। কিন্তু দেশের আইন অনুযায়ী এক্ষেত্রে বিটিআরসির কোনো ভূমিকা নেই।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্বাসের সংকটে ভোট
নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হয়নি: ইডব্লিউজি
তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি)। নির্বাচনের দিন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় নির্বাচনী অনিয়ম এবং সহিংসতার ঘটনায় ভরপুর ছিল বলে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের পর্যবেক্ষণ তথ্য তুলে ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার এ জোট। পর্যবেক্ষকদের মতে, জোর করে ব্যালটে সিল, কেন্দ্র দখল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ নানা অনিয়ম- অব্যবস্থাপনা ছিল সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে থাকা ৯৯ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সংস্থাটি। তিন সিটি করপোরেশনের ৬১৯টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছে ইডব্লিউজির সদস্যরা। পর্যবেক্ষকদের দেয়া ভোট চিত্রের তথ্য দেখে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ব্যালট ছিনতাই করে সিল মারার ঘটনা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোট কক্ষ দখল এবং নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে। পর্যবেক্ষিত অনেক ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ কার্যক্রমের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হলেও নানা ধরনের নির্বাচনী অনিয়মের কারণে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সার্বিক সততা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
ইডব্লিউজি পর্যবেক্ষণ করা ভোট কেন্দ্রের মধ্যে জোরপূর্বক ব্যালট পেপারে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে অন্তত ১৩৮টিতে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৫, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৬ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩৭টি। সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ১৬৪টি। তার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৬ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৭২টি। এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে ৭৮টি। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৮, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩১টি। ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে ১০২টি। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ঘটেছে ৩৩, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩৯ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩০টি। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ৫৮টি ভোট কেন্দ্র। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ছয় ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩১টি। এ ছাড়াও পর্যবেক্ষিত ভোট কেন্দ্রের মধ্যে প্রতি সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে দুই জন করে ছয় জনকে কেন্দ্রের ভেতর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি ঘটনার সুনির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়। এসব অনিয়ম ও সহিংস ঘটনা ব্যাপক ঘটনার অংশমাত্র। এসব ঘটনার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে তিন সিটি করপোরেশনে যেসব জালিয়াতির ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা নির্বাচনী ফলকে পরিবর্তনের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিটি ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সামনেই ঘটেছে বলে জানান ইডব্লিউজির সদস্যবৃন্দ। উদাহরণ দিতে গিয়ে তারা জানান, নির্বাচনের দিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আট নম্বর ওয়ার্ডে সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে ২৫-৩০ জন জোর করে কেন্দ্রে ঢোকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভীতিময় পরিবেশ সৃষ্টি করে। ফলে বেশির ভাগ ভোটার আতঙ্কে কেন্দ্র ছেড়ে চলে যান। যারা কেন্দ্র ছেড়ে যেতে পারেননি তাদের মারধর করা হয়। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে দুপুর ১২টা ৮মিনিটে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। বিকাল ৪টার দিকে ওই কেন্দ্রে তিনটি ব্যালট বাক্স পুড়িয়ে ফেলা হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই নম্বর ওয়ার্ডে ১১টা ৩৪মিনিটে ১০-১২ জন একটি কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়। পরে তাতে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে দেয় তারা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সহযোগিতা করে বলে ইডব্লিউজির সদস্যরা জানান। চার নম্বর ওয়ার্ডে ৩০ মিনিট পর্যন্ত মেয়র প্রার্থীর কোন ব্যালট পেপার ভোটারদের প্রদান করা হয়নি। ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ভোটারদের কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেয়নি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্র একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র-যুবকরা দখল করে নেয়। এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের বের করে দিয়ে ব্যালটে সিল দিয়ে বাক্সে ঢুকিয়ে দেয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে এসব ঘটনার পেছনে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীদের কথা বলা হলেও পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইডব্লিউজির সদস্যরা জানান, আওয়ামী লীগ তথা সরকার দল সমর্থিত প্রার্থীদের কর্মীরা এসব ঘটিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইডব্লিউজির এক কর্মী জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বিদ্যালয়ে অবাধে সিল মারার দৃশ্য দেখেন তাদের পর্যবেক্ষক। ওই দৃশ্য দেখার কারণে পিস্তল দেখিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয় তাকে। এসব বিষয়ে ইডব্লিউজির সদস্য তালেয়া রেহমান বলেন, পরে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। এতে নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। কমিশন সম্পর্কে মন্তব্য কি জানতে চাইলে ইডব্লিউজির সদস্যরা জানান, নির্বাচন কমিশন কোথাও কোথাও পুনঃনির্বাচন করছে কি-না তা এখন দেখার বিষয়। এজন্য কমিশন সম্পর্কে চূড়ান্ত কোন মন্তব্য করতে চান না তারা। তবে শুরু থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেছে ইডব্লিউজি। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ১৪০ কার্ডের আবেদন করলেও নির্বাচন কমিশন তাদের মাত্র ৩০টি কার্ড প্রদান করে বলে জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ইডব্লিউজির সদস্য কামরুল হাসান মঞ্জু বলেন, জোর করে ব্যালটে সিল, কেন্দ্র দখল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ নানা অনিয়ম অব্যবস্থাপনা ছিল ৯৯ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে। এ বিষয়ে ইডব্লিউজির সদস্য তালেয়া রেহমান জানান, পর্যবেক্ষিত ভোট কেন্দ্র অনুসারে এটি বলেছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন পাঠ করেন, ইডব্লিউজির পরিচালক ড. মো. আবদুল আলীম। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ।
নজিরবিহীন কারচুপি হয়েছে: টিআইবি
তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি হয়েছে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রনির্ভর নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর ব্যর্থতায় গভীর হতাশা প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন কেন্দ্রে গোলযোগ ও সহিংসতা, ভোট দেয়ায় বাধা, দেশী-বিদেশী সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে অনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি টিআইবি’র। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিতর্কিতভাবে মাঝপথে নির্বাচন বর্জন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার পথে নতুন করে ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় সকল রাজনৈতিক দলকে সংযত, সহনশীল ও গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গতকাল এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও পেশিশক্তির প্রয়োগে ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হওয়ায় সদ্য-সমাপ্ত তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনী আইনপ্রয়োগসহ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থতায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ব্যাপক কারচুপির নির্ভরযোগ্য তথ্য আর প্রমাণ থাকার পরেও কমিশন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে অস্বীকৃতি, মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে নিজেকে বিব্রত করেছে। যথাযথ দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন শুধু যে ব্যর্থ হয়েছে তাই নয়, বরং কমিশন ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক আচরণ করায় সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ও জন-আস্থা ধূলিসাৎ হয়েছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী একদিকে নীরব দর্শক ও অন্যদিকে পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করে শুধু ব্যর্থই হয়েছে তাই নয়, বরং ক্ষেত্রবিশেষে রাজনৈতিক শিখণ্ডি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে নিজেদের প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। উপর মহলের নির্দেশের অজুহাত দেখিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দেশী-বিদেশী সংস্থার প্রতিনিধিদের পর্যাপ্ত সহযোগিতা প্রদানে ব্যর্থ হয়ে এই বাহিনী তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার এরূপ ব্যর্থতা মানুষের ভোটের অধিকার ব্যাপকভাবে খর্ব করেছে এবং একইসঙ্গে দুটি প্রতিষ্ঠানই নিজেদেরকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রত করেছে বলে মনে করছে টিআইবি। অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মাঝপথে নির্দলীয় এই নির্বাচন বিতর্কিতভাবে বর্জন করে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, যার ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নতুন করে ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের সংঘাতময় রাজনীতি থেকে উত্তরণে যে ইতিবাচক সুযোগের সৃষ্টি হয়েছিল, মঙ্গলবারের তিনটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনই সামগ্রিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির ঝুঁকি পুনরায় সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জনজীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সকল দলসমূহকে রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা এবং সর্বোপরি গণতান্ত্রিক চর্চার ধারা অনুশীলন ও তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
জনপ্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রতারণায় পর্যবসিত
আরেকটি ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যক্ষ করলো বাংলাদেশ। ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া প্রতারণায় পর্যবসিত হয়েছে। দুই শহরজুড়ে সরকারদলীয় ক্যাডার, পোলিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কারচুপি ও বাক্সে গণহারে ব্যালট ঢুকিয়ে নির্বাচনে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। নির্বাচন কমিশন শাসক দলের জন্য সকল পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। এ ধরনের নির্বাচন হচ্ছে উচ্চপদস্থ অভিজাতদের বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের মূল কারণ। একটি ত্রুটিপূর্ণ বিচারবিভাগ ও দুর্বল প্রতিষ্ঠান থাকার সুবিধা তারা ভোগ করেন। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি ও সিটি নির্বাচনের মতো ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন রাষ্ট্রের কার্যাবলির প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা আরও বাড়ায়। গতকাল সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে এসব কথা বলেছে হংকংভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন। নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছে তারা। এতে আরও বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন দলেরই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ব্যাপকহারে সহিংসতা হয়েছে। এর ফলে ভোটাররা বুথে গিয়ে ভোট দিতে পারেন নি। দুপুরের মধ্যে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে পুলিশ ও পোলিং কর্মকর্তারা ভোটারদের ভোট না দিয়ে চলে যেতে বলেন। ভোটারদের জানিয়ে দেয়া হয়, তাদের ভোট ইতিমধ্যেই দিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি বহু প্রার্থী স্বয়ং নিজেই ভোট দিতে পারেন নি! শাসক দল সমর্থিত প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ছাড়া আর সকল প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। এজেন্টদের অনেককে আবার আক্রমণ করা হয়েছে, কিংবা গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের কাছে বারবার লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রতিযোগী প্রার্থীরা। তবে তাদের অভিযোগ সত্ত্বেও সহিংসতা ও নির্বাচনে নগ্ন জালিয়াতি থামাতে কোন ভূমিকাই নেয়া হয়নি। এরই ফলশ্রুতিতে বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিকালের মধ্যেই ভোট বর্জন করেন।
পুলিশ সাংবাদিকদের নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দিয়েছে। এ ছাড়া কারচুপির ভিডিও ও ছবি তুলতেও পুলিশ বাধা সৃষ্টি করেছে। অন্তত এক ডজন সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। তাদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে, অথবা ভেঙে ফেলা হয়েছে। চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, গণমাধ্যম সফলভাবে নির্বাচনী কারচুপির খবর সংগ্রহ করেছে। সেসব পত্রপত্রিকা ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারও হয়েছে।
তবে হাস্যকর হলেও, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে’। সিইসি ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কোন বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নেয়নি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সিইসি সকল ধরনের নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তার ভাষায়, সেসব ‘বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা’। প্রকৃতপক্ষে, নির্বাচন কমিশন শাসক দলের জন্য সকল পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। এ দলটিই ‘যে কোন মূল্যে’ সিটি করপোরেশন নির্বাচন জয়ের ইচ্ছার কথা ঘোষণা দিয়েছিল।
এটি একটি প্রকৃত তথ্য যে, বিশ্বাসযোগ্য ও সামর্থ্যবান কোন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব এদেশে নেই। সেটা হোক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, হোক নির্বাচন কমিশন কিংবা বিচার বিভাগ। সাধারণত, বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বাস করে যে, বিরোধী দলের কর্মী ব্যতীত দায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হবে না। ঢাকা ও চট্টগ্রামে যে লজ্জাকর ঘটনাসমূহ ঘটেছে, তার দায়ভার নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বর্তমান সরকার ও পূর্বের সকল সরকারসমূহের ভাগাভাগি করে নেয়া উচিত বাংলাদেশের সুশীল সমাজ নিরপেক্ষভাবে আচরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সমাজে তাদের ভূমিকা পালনে আদর্শ অবস্থান সমুন্নত রাখতেও ব্যর্থ হয়েছে। তাই এ লজ্জার দায়ভার তাদেরও বহন করা উচিত।
বাংলাদেশের এসব ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন দেশটির মৌলিক প্রতিষ্ঠানসমূহের অবস্থার প্রতিফলন ঘটায়। আইনের শাসন সমুন্নত রাখার সামর্থ্য, স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বের ব্যাপক অভাব রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানসমূহে। এসব দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ওপর ছড়ি ঘুরানোটা এক ধরনের বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক সংস্কৃতি। এ ছাড়াও রয়েছে, গঠনমূলক পদক্ষেপের বদলে গায়ের জোরে রাজনৈতিক পদ কেড়ে নেয়ার গেঁড়ে বসা অভ্যাস।
নিকট ভবিষ্যতে একটি প্রগতিশীল ও রাজনৈতিক বাংলাদেশ দেখতে যারা আগ্রহী, তাদের উচিত, ‘কারচুপির তদন্ত হবে’- এমন বিভ্রম থেকে বেরিয়ে আসা। বাংলাদেশে এসব কারচুপিকে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বলা হয়।
সময় ও সমপদ নষ্টের বদলে, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের উপযোগী করে গড়ে তোলাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ জনগণ তাদের করের অর্থ প্রদান করছে, গণতন্ত্র ও সমাজে বৃহত্তর ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম করছে। এসব বাস্তবায়নে বিলম্ব ও ব্যর্থতা ঘটলে, কর্তৃত্বপরায়ণ ও বিশৃঙ্খল শাসনব্যস্থার অধীনে আরও অনেক মানুষের মৃত্যু হতে পারে। আরও হতাশার জন্ম দিতে পারে। এ অবস্থায়, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়তে প্রয়োজনীয় মনোযোগ না দিলে, সবচেয়ে বিপজ্জনক উগ্রপন্থিরাই লাভবান হবে বেশি। তাদের শক্তিবৃদ্ধি জাতীয় নিরাপত্তা ও এ অঞ্চলের বৈদেশিক নিরাপত্তার জন্য আরও বৃহৎ সমস্যা সৃষ্টি করবে।
ভোট কারচুপির তদন্ত চায় জাতিসংঘ
ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট কারচুপির সব অভিযোগের তদন্ত চায় জাতিসংঘ। এজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। পাশাপাশি তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করার জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছেন। সব রাজনৈতিক দলকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের মতপার্থক্য দূর করার আহ্বান জানান বান কি মুন। মহাসচিব বান কি মুনের মুখপাত্র ফারহান হক ২৮শে এপ্রিল নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। এ সময় উঠে আসে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের প্রসঙ্গ। বলা হয়, ব্যাপক ভোট কারচুপি হয়েছে নির্বাচনে। ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। পোলিং স্টেশনগুলোতে আগেই ব্যালট ভরা হয়েছে। এমনকি সাংবাদিকদের প্রহার করা হয়েছে। নির্বাচনের ফল প্রচারে মিডিয়াকে বাধা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য হতাশা প্রকাশ করেছে। ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের এমন সব বিষয়ের জবাব দেন ফারহান হক। তার কাছে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন- আপনাকে ধন্যবাদ, ফারহান। জাতিসংঘ অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু, মঙ্গলবার আমরা বাংলাদেশে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তেমনটা দেখতে পাই নি। ঢাকা ও চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশন নির্বাচন মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় শেষ হয়েছে। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। আগেই ভোটপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পাওয়া গেছে। এমনকি সাংবাদিকদেরও মারধর করা হয়েছে। নির্বাচনী ফলাফলের বিষয়ে প্রতিবেদন করতে গণমাধ্যমকে বাধা দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এরই মধ্যে এ ধরনের ভোট জালিয়াতি ও সহিংসতার বিষয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছে। এ বিষয়গুলোতে আপনার মন্তব্য কি?
উত্তরে ফারহান হক বলেন- কারচুপির অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে মহাসচিব অবগত রয়েছেন। তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সব অভিযোগ তদন্ত করতে এবং বিরোধী দলকে তাদের উদ্বেগ প্রকাশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে সব রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান গুরুত্ব সহকারে পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও বাংলাদেশে সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ব্রিফিংয়ে আলোচনা হয়। সেখানে এক সাংবাদিক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী জেফ রাথকের কাছে জানতে চান- বাংলাদেশে মঙ্গলবার সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়েছে। এ নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরই মধ্যে বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে তিনি সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। বিএনপি মধ্যপথে নির্বাচন বর্জন করেছে। এ বিষয়ে আপনার অবস্থান কি?
তার প্রশ্নের উত্তরে জেফ রাথক বলেন, আমাদের দূতাবাস এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। এর সঙ্গে যোগ করার মতো আমার কাছে আর কিছু নেই। আমি দূতাবাসের ওই বিবৃতিই আপনার জন্য তুলে ধরলাম।
প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে: অধিকার
সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান ও বিভিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়ে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে প্রহসনমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করছে ‘অধিকার’। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার এই সংকট ও এব্যাপারে সৃষ্ট ব্যাপক হতাশাজনক পরিস্থিতিতে অধিকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। অধিকার মনে করে, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া বাতিল করে দেশকে এক চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে ২০১৪ এর ৫ই জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচন এবং ২০১৪ এর উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। অধিকার আশা করে, সব দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবিলম্বে একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দ্রুত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হবে। নতুবা জনগণ প্রতারিত হতেই থাকবে; যা দেশকে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেবে। এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এসব মন্তব্য করে। অধিকার জানায়, তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন অধিকারকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেয়নি। নির্বাচনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে অধিকার-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার কর্মীরা ভোটকেন্দ্রগুলোর বাইরে থেকে নির্বাচনের সার্বিক অবস্থা এবং সহিংস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। আর চট্টগ্রামে মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে জড়িতরা অনুমতি নিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়াও বিভিন্নভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় করে রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়।
অধিকার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি সরকার সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে। নির্বাচনের আগে থেকেই রাস্তায় নামলে গ্রেপ্তার ও বাধার সম্মুখীন হয়েছেন ২০দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের প্রার্থী যেমন গণসংহতি আন্দোলনের মেয়রপ্রার্থী এবং সিপিবি-বাসদের মেয়রপ্রার্থীর সমর্থকদের ওপরও বিভিন্ন জায়গায় হামলা করে সরকার সমর্থকরা। নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িতে গুলিবর্ষণ সহ কয়েকবার হামলা করেছে সরকার সমর্থকরা। সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যাপকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের আগে গত ২৩শে এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন ‘নির্বাচনে কিভাবে জয়ী হতে হয় আওয়ামী লীগ তা ভালোভাবেই জানে’। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাপকভাবে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এর প্রতিবাদে দুপুর ১২টার পর তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল সমর্থিত প্রার্থীরা এবং বামপন্থি রাজনৈতিক সংগঠন গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল কাফী ও বজলুর রশীদ ফিরোজ এবং জাতীয় পার্টির সমর্থিত ঢাকা দক্ষিণের প্রার্থী সাইফুদ্দিন আহমদ মিলন নির্বাচন বর্জন করেন। বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও সহিংস ঘটনা ঘটার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকলেও তাদের নিষ্ক্রিয়তা ছিল দৃশ্যমান এবং অনেক জায়গাতেই তাদেরকে সরকার সমর্থকদের সহায়তা করতে দেখা গেছে। এছাড়া, গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন জায়গায় সংবাদ সংগ্রহ ও ছবি তোলার সময় বাধা দেয়া হয়।
অধিকার তাদের প্রতিবেদনে বলে, নির্বাচনের আগের রাতেই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্র দখলের অভিযোগ পাওয়া যায়। গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোনে এবং প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে একাধিক কেন্দ্র দখলের খবর আসে। কোথাও কোথাও প্রিজাইডিং অফিসারকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। ঢাকা দক্ষিণের খিলগাঁও সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার স্কুলের (কেন্দ্র নং-১৯) প্রিজাইডিং অফিসারকে ছুটি দেয়া হয়েছে বলে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় সরকার সমর্থকরা। সরজমিন সেখানে গিয়ে কেন্দ্রের বাইরে যুবলীগের কর্মীরা পাহারা দিচ্ছে এমন দৃশ্য দেখা যায়। একই রকম চিত্র দেখা গেছে খিলগাঁও সরকারি কলোনি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খিলগাঁও মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র, ঢাকা উত্তর ৩৬ নং ওয়ার্ডের শেরেবাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নাখালপাড়া আলী হোসেন স্কুলেও।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা দক্ষিণের নারিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দরজা বন্ধ করে ভোট দেয়া হয়। এই সময় সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে দেয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় ভোটাররা। এই কেন্দ্রটি আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন ও কাউন্সিলর প্রার্থী সারোয়ার হাসানের এজেন্টরা দখলে নিয়ে নেন। এই কেন্দ্রের ভোটার আবুল কালাম তার পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে ভোট দিতে যান, কিন্তু কেন্দ্রে ঢোকার পর তাদের বলা হয় ‘ভোট দেয়া হয়ে গেছে’। দক্ষিণ মৈশণ্ডি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রবেশ পথে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী সাঈদ খোকন ও কাউন্সিলর প্রার্থী সারোয়ার হাসানের ব্যাজ পরে শতাধিক ব্যক্তি ভোটকেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টায় ঐ কেন্দ্রে ভোটাররা ঢুকতে চাইলে ব্যাজ পরা কয়েকজন যুবক তাদের বাধা দিয়ে বলে ‘ওদিকে যায়েন না। দুইটার পরে আসেন’। ঢাকা উত্তরের মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ইনস্টিটিউট ভোট কেন্দ্র থেকে ২০দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। পুলিশের দাবি তারা মামলার আসামি। ঢাকা উত্তরের মোহাম্মদপুর এলাকার তিনটি ভোটকেন্দ্রে গণমাধ্যমকর্মীদের ছবি তুলতে বাধা দেয় পুলিশ। পুলিশের এস আই গোলাম কবির জানান, ‘পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে গণমাধ্যমকর্মীদের ছবি তুলতে দেয়া হচ্ছে না’। এছাড়া, ঢাকা উত্তরের মিরপুর ১১ নং ওয়ার্ডের বাঙলা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গণমাধ্যমকর্মীদের ঢুকতে বাধা দেয় সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ। ঢাকা উত্তরে এমডিসি মডেল ইনস্টিটিউট ভোটকেন্দ্র ও দক্ষিণে ফরিদাবাদ মাদরাসা ভোটকেন্দ্র ছাড়া আর কোথাও কোন বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে ভোটকেন্দ্রের বাইরে দেখা যায়নি। প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে সরকার সমর্থিত প্রার্থীর লোকজনকে ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে দেখা গেছে। বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের সমর্থকদের ভোটার স্লিপ দিতে দেয়া হয়নি। আবার পুলিশ সরকারি দলের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর পোস্টার সংবলিত ভোটার স্লিপ ছাড়া সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ভোটার। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ইস্টবেঙ্গল ইনস্টিটিউশন ভোটকেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৯টায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী সাঈদ খোকনের ব্যাজ লাগানো কয়েকশ’ লোক ভোটকেন্দ্রের চারপাশে অবস্থান নেয়। এই সময় ২০/২৫ জন কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে। আধাঘণ্টারও কিছু বেশি সময় পর তারা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসে। সুরিটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা দুইজন নারী ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিকারকে জানান, সকাল ৯টায় তারা ভোটকেন্দ্রে এসেছেন। কেন্দ্রে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন লোক এসে তাদের বলেন ‘আপনাদের ভোট দেয়া হয়ে গেছে, আপনারা চলে যান।’ ঢাকা দক্ষিণের পগোজ স্কুল ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে জালভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। এই সময় একপক্ষ কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। ঘণ্টাখানেক পর আবারও ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কিন্তু ততক্ষণে আতঙ্কে সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্র ছেড়ে চলে যান। ফরিদাবাদ মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল মান্নানের ভোটকেন্দ্র সংলগ্ন স্লিপ প্রদান ক্যাম্প ভাঙচুর করে সরকার সমর্থকরা। তেজগাঁও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের একটি ভোটকেন্দ্রে বুথ দখল করে একদল কর্মীকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর প্রতীকে ব্যাপকভাবে সিল মারতে দেখা গেছে। এই সময় ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার নিষ্ক্রিয় হয়ে বসেছিলেন। এই ভোট জালিয়াতির ঘটনা বিবিসি’র এক সংবাদদাতা প্রত্যক্ষ করেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আলী আহমেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট শুরু হলে তিন-চারশ’ যুবক সব ভোটারদের বের করে দিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ব্যালটে সিল মারার পর মিছিল করে। সকাল আনুমানিক ৯টায় ফতেয়াবাদ ছড়ারকুল এলাকার আলি আহমদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের মেরিট বাংলাদেশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গোলাগুলি ছুড়ে দখলে নেয়। এছাড়া, বলিহার হাট সানোয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর বারোটায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশে নির্বাচন পদ্ধতির উন্নয়ন চায় যুক্তরাষ্ট্র
![]() |
| ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং শীর্ষক সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা |
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের পর সামরিক শাসকরা দেশের নির্বাচন পদ্ধতিকে ম্যানিপুলেট করে। এখন বাংলাদেশ সেই অবস্থা থেকে অনেকখানি বেরিয়ে এসেছে। সিটি নির্বাচনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। দ্রুত ভোট গ্রহণ ও স্বচ্ছ গণনায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার চালুর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। ইভিএম চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপলব্ধির প্রশংসা করে শারম্যান বলেন, বাংলাদেশে একদিন ইভিএম চালু হবে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিএনপির নির্বাচন বর্জনকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন মার্কিন এ আন্ডার সেক্রেটারি।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব একেএম শামীম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বৈশ্বিক সন্ত্রাস ও চরমপন্থা মোকাবেলায় বাংলাদেশের পরামর্শ চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাস মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে বলেও মনে করে দেশটি।
শামীম চৌধুরী বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের সফলতার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেছে দেশটি। কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস করতে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে দেয়া হবে না- বাংলাদেশ এ বিষয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সন্ত্রাসীকে সন্ত্রাসী হিসেবেই বিবেচনা করে। সন্ত্রাসীদের কোনো সীমানা ও ধর্ম নেই। বৈশ্বিক সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে অবৈধ অস্ত্র পাচার বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর থেকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নের প্রশংসা করেন ওয়েন্ডি শারম্যান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি পোশাকের দাম বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারিকে সুপারিশ করেন।
সম্প্রতি নেপালে ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পের কথা উল্লেখ করে শারম্যান দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশেষ করে ভূমিকম্প মোকাবেলায় আঞ্চলিক প্রস্তুতির ওপর জোর দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকর্তাকে জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নেপালে সড়কপথে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাতে বাংলাদেশের বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে। বিশেষ করে সৈয়দপুর বিমানবন্দর ও লালমনিরহাট এয়ারস্ট্রিপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জনে বাংলাদেশের সফলতার ভূয়সী প্রশংসা করেন শারম্যান। এ সময় পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারি সংলাপ শুরু : বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চতুর্থ অংশীদারি সংলাপ বৃহস্পতিবার ঢাকায় শুরু হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ সংলাপে যোগ দিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শারম্যান বৃহস্পতিবার বিকালে দিল্লি থেকে ঢাকায় পৌঁছান। তার সফরসঙ্গী হিসেবে অন্যদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল। এর আগে বিকাল ৪টার পর মার্কিন এ কর্মকর্তাকে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। আজ অংশীদারি সংলাপের প্লেনারি অধিবেশনে যোগ দেবেন শারম্যান ও নিশা বিসওয়াল। এদিকে বৃহস্পতিবার ঢাকায় শুরু হওয়া অংশীদারি সংলাপের বিভিন্ন কর্ম-অধিবেশনে ব্যবসা-বাণিজ্য, নিরাপত্তা, রাজনীতি ও উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শুরুর পরপরই মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এক টুইটার বার্তায় বলেন, ‘এ বছর আমরা আলোচনা অনেক বিস্তৃত করেছি। অনেক বেশি জোর দিয়েছি পরিবেশ, স্বাস্থ্য, সংক্রমণ ব্যাধি এবং নীল অর্থনীতির ওপর।’ তার কিছুক্ষণ পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরেক টুইট বার্তায় বলেন, ‘আমাদের দু’দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পৃক্ততাকে আমরা অব্যাহতভাবে পরিশীলিত করছি।’ কর্ম-অধিবেশনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমেরিকা ডেস্কের মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমানসহ অপরাপর কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর আগেই জানিয়েছে যে, এবার ঢাকা সফরকালে ওয়েন্ডি শারম্যান বাংলাদেশ সরকার ও অন্য পক্ষগুলোর কাছে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিসংক্রান্ত ইস্যু তুলে ধরবেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালের অনুরোধ করা হতে পারে।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক আজ : ওয়েন্ডি শারম্যান ও নিশা দেশাই বিসওয়ালের সঙ্গে আজ বিকাল সাড়ে ৪টায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে চলমান পরিস্থিতি বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এ ছাড়া বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও সুশীল সমাজের নেতাদের সঙ্গেও ওয়েন্ডি শারম্যানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতি উপজেলায় কারিগরি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কারিগরি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনটি মহিলাসহ ২৫টি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউশন চালু করা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দেশে বৃত্তিমূলক শিক্ষা সম্প্রসারণ করাই এর লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার উন্নয়নে তার সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার শিক্ষানীতিতে বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখনই দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে টেকসই উন্নয়নের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভিইটি)-সংক্রান্ত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ডিপ্লোমা প্রকৌশল ইন্সটিটিউট (আইডিইবি) এবং কলম্বো প্ল্যান স্টাফ কলেজের (সিপিএসসি) যৌথ উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলন স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান আইডিইবির প্রেসিডেন্ট একেএমএ হামিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সিপিএসসির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ নাইন ইয়াকুব অনুষ্ঠানে কো-চেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সম্মেলনের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যসচিব এবং আইডিইবির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুর রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ছয় বছরে তার সরকার সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে তিনটি মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটসহ প্রায় ৪শ’ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে। এসব ইন্সটিটিউট থেকে অনেক প্রকৌশলী বেরিয়ে আসবে। আওয়ামী লীগ সরকারই প্রথম দেশে ১ হাজার ৮শ’ বেসরকারি বিদ্যালয়ে এসএসসি (ভোকেশনাল) কোর্স চালু করেছে। ৫১টি সরকারি পলিটেকনিকে দ্বিতীয় শিফট চালু করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ৩৭টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং বিদেশগামী শ্রমিকদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের জন্য আরও ৩০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার চালু করার অপেক্ষায় রয়েছে।
ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণ করুন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবেশী নেপালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রেক্ষাপটে ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণ ও বিল্ডিং কোড সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে আমি আপনাদের ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণ এবং কঠোরভাবে বিল্ডিং কোড মেনে চলার ব্যাপারে যথোপযুক্ত তদারকির আহ্বান জানাই। শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো খুবই প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ। সম্প্রতি নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক জানমালের ক্ষতি হয়েছে। এই ভূমিকম্পে বাংলাদেশও কেঁপে উঠেছিল।
প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে টেকসই উন্নয়নের জন্য ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (টিভিইটি)’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনকালে এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা এবং বিএনপি-জামায়াতের সাম্প্রতিক আন্দোলনে নৃশংসতার শিকার ও নেপালের ভূমিকম্পে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
ভূমিকম্পকবলিত মানুষের সহায়তায় আরও ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নেপালে কিছু ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে, যা পর্যাপ্ত নয়। তাদের জন্য আরও ত্রাণসামগ্রী পাঠাতে হবে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা যাতে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে নেপালে ত্রাণসামগ্রী পরিবহন করতে পারে সে জন্য ইতিমধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর, সিলেট বিমানবন্দর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে নেপালে ত্রাণসামগ্রী পরিবহনে সহায়তা করতে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘উপ্রের নির্দেস, চইল্যা আহো!’ by মশিউল আলম
‘না, কোনো বাধা পাই নাই।’ বললেন এক মধ্যবয়সী নারী, তাঁর পাশের কজনও না-সূচক মাথা ঝাঁকালেন।
৩৮৬ নম্বর ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকলাম। নারী ও পুরুষদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বুথে ভোট গ্রহণ চলছে। শান্ত পরিবেশ, কোনো শোরগোল নেই। উভয় বুথে বিভিন্ন প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টরা বসে আছেন। তাঁদের গলায় ঝুলছে নিজ নিজ প্রার্থীর মার্কাসহ ছবি। বিএনপি-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী মির্জা আব্বাস ও তাঁর মগ মার্কার ছবি কারও গলায় ঝুলতে দেখলাম না। এজেন্টদের জিগ্যেস করলাম, এখানে কি মগ মার্কার কোনো এজেন্ট আছেন? এক মধ্যবয়সী নারী বললেন, ‘আছি, আমি আছি।’ আমি তাঁকে জিগ্যেস করলাম, ‘ভোট গ্রহণ সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে?’ তিনি মাথা দুলিয়ে বললেন, ‘হচ্ছে, আপাতত হচ্ছে।’
প্রায় ১০ মিনিট ভেতরে দাঁড়িয়ে ভোট গ্রহণ দেখলাম। বেরিয়ে এসে দেখতে পেলাম, ভোটারদের লাইনগুলো লম্বা হয়েছে, আরও ভোটার এসে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। সকাল সোয়া নয়টায় গুনে দেখলাম পুরুষদের লাইনে ৮১ জন, নারীদের লাইনে ২০ জন।
সকাল ১০:১০ মিনিট। উদয়ন স্কুল ভোটকেন্দ্রের বাইরে রাস্তায় প্রচুর তরুণ-তরুণী। সবার বুকে-গলায় সাঈদ খোকনের ইলিশ মাছ মার্কার ব্যাজ। কিন্তু ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কোনো ভিড় নেই। দোতলায় ভোট গ্রহণের জন্য স্থাপন করা হয়েছে সাতটি বুথ, অধিকাংশ বুথেই ভোটার নেই। ২০৭ নম্বর কক্ষের বুথে ঢুকে দেখতে পেলাম হাত গুটিয়ে বসে আছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা; পোলিং এজেন্ট মাত্র তিনজন। সেখানে মির্জা আব্বাসের কেউ নেই। তাঁর পোলিং এজেন্ট নেই ২০৮ নম্বর কক্ষের বুথেও। ২০৯ নম্বর কক্ষে ঢুকে মগ মার্কার পোলিং এজেন্টের খোঁজ করলে এজেন্টদের মধ্যে থেকে এক পুরুষ তাঁর পাশে বসা এক নারীকে দেখিয়ে বললেন, ‘উনি মগ মার্কার এজেন্ট।’ আমি ওই নারীকে জিগ্যেস করলাম, ‘আপনি মগ মার্কার এজেন্ট?’ তিনি মৃদুভাবে মাথা দোলালেন, মুখে কোনো শব্দ উচ্চারণ করলেন না। ২১৩ নম্বর কক্ষেও একজন নারীকে দেখিয়ে এক পুরুষ এজেন্ট আমাকে বললেন যে ওই নারী মগ মার্কার এজেন্ট।
একটি বুথের সামনে দাঁড়ানো পুলিশের এক সদস্যকে জিগ্যেস করলাম, ‘ভোটার উপস্থিতি কি সকাল থেকেই কম?’ তিনি বললেন, ‘এই রকমই, টুকটাক একজন-দুজন করে আসতেছে, ভোট দিয়ে চলে যাচ্ছে।’
প্রায় ৪০ মিনিট কাটালাম এই কেন্দ্রে। ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে দেখা গেল না।
বেলা ১১টায় ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের সামনে পৌঁছে দেখা গেল গেটের বাইরে প্রচুর ভিড়। মনে হলো, এখানে ভোট জমেছে। ভেতরে তিনটি তলায় তিনটি ভোটকেন্দ্র। নিচতলায় ৩৮২ নম্বর ভোটকেন্দ্র শুধু নারীদের জন্য, মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ২১৪। নারীরা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন, তিনজন নারীকে জিগ্যেস করলাম, পরিবেশ কেমন, তাঁরা কোনো সমস্যা বোধ করছেন কি না। প্রত্যেকেই বললেন, পরিবেশ শান্তিপূর্ণ, কোনো সমস্যা নেই। প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে জিগ্যেস করে জানা গেল, একটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে ১৫ শতাংশ। দোতলায় ৩৮১ নম্বর ভোটকেন্দ্রের সাতটি বুথের মধ্যে শুধু ৪ নম্বর বুথের সামনে লম্বা লাইন। যে ভোটার দরজার মুখে পৌঁছে গেছেন, তাঁকে জিগ্যেস করলাম, তিনি কতক্ষণ ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি বললেন, প্রায় এক ঘণ্টা। এই বুথের ভেতরে ঢুকে প্রথমেই মির্জা আব্বাসের নির্বাচনী এজেন্টকে খুঁজলাম। অন্য এক এজেন্ট বললেন, তিনি বাথরুমে গেছেন। ২ নম্বর বুথে এক যুবক বললেন, তিনি মগ মার্কার এজেন্ট। আমি তাঁকে জিগ্যেস করলাম, এখানে তিনি কোনো সমস্যা বোধ করছেন কি না। তিনি বললেন, ‘না, কোনো সমস্যা নাই।’ ৩ নম্বর বুথে একজন বললেন, এখানে মগ মার্কার কোনো পোলিং এজেন্ট আসেননি। প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে জিগ্যেস করে জানা গেল, বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় ১২ শতাংশ ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনতলায় ৩৮৩ নম্বর ভোটকেন্দ্র ফাঁকা। এক পুলিশ সদস্য জানালেন, এই কেন্দ্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য। আমি জানতে চাইলাম, তাঁরা কি ভোট দিতে আগ্রহী নন? তিনি হেসে বললেন, কে জানে? প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানালেন, ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে ৮ শতাংশ।
ভোটকেন্দ্রের বাইরে এসে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়ালাম। এক ভদ্রলোক আমার কাছে এগিয়ে এসে জিগ্যেস করলেন, ‘আপনি কোন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছেন?’ আমি আমার পেশাগত পরিচয় দিলাম। তিনি বললেন, ‘আপনি যখন ২ নম্বর বুথে ঢুকেছিলেন, তখন আমি সেখানে ভোট দিচ্ছিলাম। যে ছেলেটা আপনাকে বলল যে সে মগ মার্কার এজেন্ট, তাকে আমি চিনি। সে ছাত্রলীগের একজন ক্যাডার।’ আমি তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে, তিনি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বললেন যে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক। তিনি আরও বললেন, ‘কোনো ভোটকেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থীর কোনো পোলিং এজেন্ট নাই। কাউকে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। কার্জন হলে গিয়ে দেখেন, বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত কোনো ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতেই দেওয়া হচ্ছে না।’
তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে ছুটলাম কার্জন হলের ভোটকেন্দ্রে। বিশাল হলঘরের দরজায় নারী ও পুরুষ ভোটারের লম্বা লাইন, ভেতরে একাধিক বুথে ভোট গ্রহণ চলছে। শান্তি–শৃঙ্খলার কোনো ব্যত্যয় চোখে পড়ল না। এখানেও মির্জা আব্বাসের পোলিং এজেন্টের খোঁজ করলাম; একটি বুথে এক যুবক বললেন, ‘আমি মগ মার্কার এজেন্ট।’ কিন্তু তাঁর বুকে ঠেলাগাড়ি মার্কার ব্যাজ দেখে জিগ্যেস করলাম, এই ব্যাজ কেন? তিনি বললেন, ‘লাগাইতে হইছে।’ অন্য বুথগুলোতে জিগ্যেস করলে অন্য এজেন্টরা বললেন, এখানে মগ মার্কার একজন এজেন্টও আসেননি।
বেলা সোয়া ১২টায় বকশীবাজারে বদরুন্নেসা কলেজ ভোটকেন্দ্রের বাইরে রাস্তায় বিরাট জটলা। গেটের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন অনেক তরুণ-যুবক। তাঁরা উত্তেজিত, হইচই করছেন। পুলিশের সদস্যরা তাঁদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। জানা গেল, জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গেটের বিপরীত দিকের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে তিন-চারটি মোটরযানে করে র্যা বের সদস্যরা এসে মুহূর্তের মধ্যে রাস্তা ফাঁকা করে ফেললেন। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে দেখতে পেলাম শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে, কোথাও কোনো উত্তেজনা নেই।
বেলা সোয়া একটা। লালবাগের আমলিগোলা জগন্নাথ সাহা রোডে জগৎমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র। নারী ও পুরুষদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন দুটি ভোটকেন্দ্রে নিরিবিলি, ঝঞ্ছাটহীন ভোট গ্রহণ চলছে। লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের জিগ্যেস করলে তাঁরা বললেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।’ এই সময় কেউ একজন বলে উঠলেন, ‘মগ মার্কার লোকেরা সব চইল্যা যাইতাছে।’ তড়িঘড়ি ভোটকেন্দ্র থেকে রাস্তায় বেরিয়ে এসে দেখতে পেলাম, এক মধ্যবয়সী পুরুষ তিন যুবককে সঙ্গে নিয়ে হনহন করে হেঁটে চলে যাচ্ছেন। আমি তাঁকে জিগ্যেস করলাম, ‘আপনারা কি মগ মার্কার এজেন্ট?’ তিনি বললেন, ‘হ’।
ভোট শেষ না হতেই চলে যাচ্ছেন কেন? আমার এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি চোস্ত ঢাকাইয়া উচ্চারণে বললেন, ‘উপ্রের নির্দেস, চইল্যা আহো!’
একটু পরেই অফিস থেকে সহকর্মীর ফোন: ‘মশিউল, অফিসে চলে আসেন। বিএনপি ইলেকশান বয়কট করেছে।’
ভাবলাম, নির্বাচনী দৃশ্যপটে অনুপস্থিত যে পক্ষটিকে সকাল থেকে খুঁজছিলাম, কিন্তু পাচ্ছিলাম না, সে পক্ষ যখন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিল, তখন এই নির্বাচনের পরিণতিও কি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতোই হবে না?
মশিউল আলম: লেখক ও সাংবাদিক৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1332)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
May
(1015)
-
▼
May 01
(19)
- খালেদা-শারম্যান বৈঠক, সিটি নির্বাচনে কারচুপিতে অসন...
- যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ বিষয়ক শুনানিতে সামরিক হস্তক...
- অপমানিত হলেন ভোটাররা by শম্পা বসু
- যে ৬ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে হিলারিকে
- কার নৌকায় কে ডোবে! by ফারুক ওয়াসিফ
- গায়েবি ভোটের ময়নাতদন্ত- যেভাবে ৬১ ভোট হয়ে যায় ৩৮১ ...
- কৌশলের খেলায় জয়ী কে?
- সব দলকে অন্তর্ভুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের তাগিদ...
- মোবাইল আমদানিতে বছরে ৪শকোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি by ম...
- বিশ্বাসের সংকটে ভোট
- বাংলাদেশে নির্বাচন পদ্ধতির উন্নয়ন চায় যুক্তরাষ্ট্র
- ‘উপ্রের নির্দেস, চইল্যা আহো!’ by মশিউল আলম
- যা ঘটল তা কারও জন্য মঙ্গলজনক নয় -সাক্ষাৎকারে এ টি ...
- লাশের স্তূপ থেকে বেরিয়ে এলো জীবন্ত মানুষ
- বিএনপির ভেতরে–বাইরে নানা প্রশ্ন by সেলিম জাহিদ
- নির্বাচনে অনিয়মের স্বচ্ছ তদন্ত চান শারম্যান
- অবশেষে ছলনাময়ী মারজানা আটক
- জিয়ার মাজারে ভাঙচুর
- আনসারের জ্যাকেট পরে নির্বাচনী দায়িত্বে কিশোর–তরুণ...
-
▼
May 01
(19)
-
▼
May
(1015)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



%2B%E0%A6%B8%E0%A6%AC%2B%E0%A6%8F%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%2B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B0%2B%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87%2B%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87%2B%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%B6.jpg)





