Saturday, December 19, 2009

ওয়ারিদ টেলিকম কিনে নিচ্ছে ভারতি এয়ারটেল

আবুধাবিভিত্তিক ধাবি গ্রুপের কাছ থেকে বাংলাদেশের মোবাইল ফোন কোম্পানি ওয়ারিদ টেলিকম কিনে নিচ্ছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ভারতি এয়ারটেল লিমিটেড।
ভারতি এয়ারটেলের কাছে ওয়ারিদ টেলিকমের ৭০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির ব্যাপারে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) অনুমতি চেয়েছে ধাবি গ্রুপ। বিটিআরসির চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানান।
ওয়ারিদের শেয়ার কিনতে পারলে ভারতি এয়ারটেলই হবে বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান মোবাইল ফোন মার্কেটে বিনিয়োগকারী এ পর্যন্ত সর্বশেষ বিদেশি প্রতিষ্ঠান।
জিয়া আহমেদ বলেন, ‘ধাবি গ্রুপ ওয়ারিদ টেলিকমের ৭০ শতাংশ শেয়ার ভারতি এয়ারটেলের কাছে বিক্রি করতে চায় বলে গত রোববার আমাদের জানিয়েছে। এ অবস্থায় আমরা উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) কপিসহ আরও কাগজপত্র চেয়েছি।’
এরপর অবশ্য ভারতি এয়ারটেল বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাভুক্ত (সার্ক) দেশগুলোর সম্ভাবনাময় কোম্পানি কিনতে আগ্রহী বলে জানানো হয়েছে। তবে তারা ওয়ারিদ টেলিকম কিনছে কি না, সে ব্যাপারে কোনো কথা বলেনি।
ভারতি এয়ারটেল গ্রুপের উপপ্রধান নির্বাহী অখিল গুপ্ত নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সব সময়ই বলছি, সার্ক দেশগুলোতে আমাদের আগ্রহ রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশেও আমাদের আগ্রহ আছে।’
বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে নিয়ে সার্ক গঠিত।
তবে ভারতি এয়ারটেল ওয়ারিদের ৭০ শতাংশ শেয়ার কিনতে চায় বলে বিটিআরসি যে তথ্য দিয়েছে, সে ব্যাপারে অখিল গুপ্ত কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু না ঘটা পর্যন্ত সে সম্পর্কে আমি কোনো কথা বলতে পারি না।’
ভারতি এয়ারটেল গত সেপ্টেম্বরে বন্ধ হয়ে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার এমটিএন নামের টেলিযোগাযোগ কোম্পানিকে অধিগ্রহণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই জানা গেল, তারা বাংলাদেশের ওয়ারিদের ব্যাপারেও আগ্রহী।
এদিকে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতের মোবাইল ফোন বাজারে বর্তমানে ভারতি এয়ারটেলের ১০ কোটি গ্রাহক রয়েছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ বাজারে নতুন নতুন কোম্পানি আসার কারণে এয়ারটেলের আয়ের প্রবৃদ্ধি কমে আসছে। সে জন্য আয় বাড়াতে কোম্পানিটির এখন বিদেশেও বিনিয়োগ করা প্রয়োজন বলে মনে করছে।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ জানান, ওয়ারিদের ৭০ শতাংশ শেয়ারের মূল্য কত নির্ধারিত হয়েছে, তা বলা হয়নি। তবে ভারতি এয়ারটেল প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশে ৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী। তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, নতুন এই বিনিয়োগের ফলে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে গতিশীলতার নতুন মাত্রা যোগ হবে।’
এদিকে ওয়ারিদের একজন মুখপাত্র এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে কোম্পানিটির নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা স্থানীয় ডেইলি স্টার পত্রিকাকে জানান, এ সম্পর্কিত চুক্তির মূল্যমান ৯০ কোটি ডলার হতে পারে।
বাংলাদেশে ২০০৭ সালে ওয়ারিদ টেলিকম যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় পাঁচ কোটি ২০ লাখ মোবাইল ফোন গ্রাহকের মধ্যে ওয়ারিদের অংশ হচ্ছে ৩০ লাখের মতো।
যেহেতু বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের গ্রাহক দিন দিন বাড়ছে এবং ছয়টি কোম্পানির মধ্যে দামেরও একটি প্রতিযোগিতা চলছে, সেহেতু আগামী ২০১৫ সাল নাগাদ তা ১০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
২০০৪ সালে মিসরীয় কোম্পানি ওরাসকম বাংলাদেশের সেবা নামের মোবাইল ফোন কোম্পানিটির মালিকানা গ্রহণ করে।
এ ছাড়া ২০০৫ সালে সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিংটেল বাংলাদেশ টেলিকমের ৪৫ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়।
গত বছর জাপানের এনটিটি দোকোমো দেশের আরেক মোবাইল ফোন অপারেটর একটেলের ৩০ শতাংশ শেয়ার কিনতে ৩৫ কোটি ডলার পরিশোধ করে। একটেলের অধিকাংশ শেয়ারের মালিক হচ্ছে মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা।

প্রথম বিভাগ ক্রিকেট

মজিদের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিতে (৫৩*) প্রথম বিভাগ ক্রিকেটের সুপার লিগে রূপালী ব্যাংককে (১৩০) ৬ উইকেটে হারিয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর (১৩৩/৪)। অন্য ম্যাচে ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং ক্লাব (২৩৪/৯) ১ উইকেটে হারিয়েছে সিটি ক্লাবকে (২৩০/৭)।

ফ্যাব্রিগাসকে চায় বার্সা

কথাটা অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছে—বার্সেলোনা সেস ফ্যাব্রিগাসকে চায়। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য সান-এর খবর ঠিক থাকলে আগামী মৌসুমেই বার্সেলোনায় দেখা যেতে পারে এই স্প্যানিশ প্লে-মেকারকে।
বার্সেলোনায় শিক্ষানবিশ হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু ১৯৯৭ সালে। ২০০৩ সালে সেখান থেকেই পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। নাম লেখান আর্সেনালে। এখন ‘ঘরের ছেলে’কে ঘরে ফিরিয়ে নিতে চায় বার্সা। তবে এর জন্য তারা কত টাকা খরচ করবে বলতে পারছেন না বার্সেলোনা সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা। ‘অনেক কারণেই সেস ফ্যাব্রিগাসকে চাই আমরা। আগামী মৌসুমে ছেলেটিকে পাওয়ার লড়াইয়ে নামবে বার্সেলোনা। চুক্তির জন্য টাকাটা ঠিক হবে মার্চেই’—দ্য সান লাপোর্তাকে উদ্ধৃত করেছে এভাবেই।
লাপোর্তা টাকার অঙ্ক না বললেও পত্রপত্রিকার খবর অনুযায়ী, ফ্যাব্রিগাসকে পেতে বার্সেলোনা ৪০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করতে প্রস্তুত।

রাজশাহীতে মুক্তি সংঘ হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন

জেলা স্টেডিয়ামে কাল শেষ ম্যাচে ব্রাইট স্টার ক্লাবকে (১৪৭) ৫১ রানে হারিয়ে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মুক্তি সংঘ (১৯৮/৯)। ৯ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট পেয়েছে মুক্তি সংঘ। প্রভাতী সংঘ ও ব্রাইট স্টার দুদলই ১৪ পয়েন্ট করে পেলেও নেট রানরেটে রানার্সআপ হয়েছে প্রভাতী সংঘ।
লিগে সর্বোচ্চ রান (৩৩৬) দিগন্ত প্রসারীর টনির, সবচেয়ে বেশি উইকেট (২৬) প্রভাতী সংঘের জাহাঙ্গীরের। জেলা আম্পায়ার ও স্কোরার সমিতির উদ্যোগে মরহুম বাবু চৌধুরীর স্মরণে লিগের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন ব্রাইট স্টার ক্লাবের আবদুল গাফফার রনি। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম।

জয় দিয়ে লিভারপুলের শ্যাঙ্কলি-স্মরণ

সাবেকদের অমর্যাদা হতে দেননি লিভারপুলের বর্তমান খেলোয়াড়েরা। লিভারপুলের সাবেক ম্যানেজার বিল শ্যাঙ্কলি-স্মরণ দিবস উপলক্ষে পরশু উইগানের বিপক্ষে অ্যানফিল্ডের ম্যাচটিতে নিমন্ত্রণ পেয়েছিলেন শ্যাঙ্কলির অধীনে তিনটি লিগ শিরোপা জেতানো খেলোয়াড়েরা। বেনিতেজের শিষ্যরা তাঁদের উপহার দিয়েছেন ২-১ গোলের জয়। পোর্টসমাউথকে একই ব্যবধানে হারিয়ে জয়ে ফিরেছে চেলসিও। তবে বার্নলির বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করতে হয়েছে আর্সেনালকে। আর টটেনহাম হটস্পারের কাছে ০-৩ গোলে হেরেছে ম্যানচেস্টার সিটি।
লিভারপুল আর চেলসির জন্য যেমন ভালো একটি রাত কেটেছে পরশু, ভালো কেটেছে চেলসির ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড ও ফার্নান্দো তোরেসের জন্যও। দুজনের জন্যই এটি ছিল মাইলফলকের এক রাত। চেলসির জার্সি গায়ে ইংলিশ মিডফিল্ডার ল্যাম্পার্ড খেলেছেন ৩০০তম লিগ ম্যাচ। আর ফার্নান্দো তোরেস লিভারপুলের হয়ে খেললেন শততম ম্যাচ। বিশেষ দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে দুজনই তাঁদের দলের জয়ে ভূমিকা রেখেছেন গোল করে। মজার একটি মিলও ছিল এতে। ল্যাম্পার্ড-তোরেস দুজনই করেছেন দলের জয়সূচক গোল। দুটি গোলই আবার হয়েছে ৭৯ মিনিটে। তবে ল্যাম্পার্ডের গোলটি পেনাল্টি থেকে, আর তোরেসেরটি দারুণ এক হেড থেকে।
নিকোলাস আনেলকার গোলে চেলসি ২৩ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার পর ৫১ মিনিটে পিকিয়ন পোর্টসমাউথকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন। এর পরই ল্যাম্পার্ডের গোল। ওদিকে লিভারপুলের ম্যাচে এনগগের ৯ মিনিটের গোলের পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেছিলেন তোরেস। অন্তিম মুহূর্তে একটি গোল শোধ দিয়েছিলেন উইগানের এন’জগবিয়া।
১৯৫৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর লিভারপুলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন শ্যাঙ্কলি। ৩টি লিগ শিরোপার সঙ্গে লিভারপুলকে প্রথম এফএ কাপ শিরোপা জেতানো শ্যাঙ্কলির লিভারপুলের দায়িত্ব নেওয়ার বার্ষিকী বলে লিভারপুলের কাছে পরশুর ম্যাচটির অন্য মাত্রা ছিল। অন্য মাত্রা পেয়েছিল দুই স্প্যানিশ কোচ রাফায়েল বেনিতেজ ও রবার্তো মার্টিনেজের মুখোমুখি লড়াই বলেও। যে লড়াইয়ে হারতে হয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমানের সর্বকনিষ্ঠ কোচ ৩৬ বছর বয়সী মার্টিনেজকে।
তবে এই জয়ের পরও লিভারপুলের শীর্ষ চারে থাকাটা ঘোর অনিশ্চিত। চতুর্থ স্থানে থাকা অ্যাস্টন ভিলার চেয়ে এখনো ৫ পয়েন্ট পিছিয়ে লিভারপুল। এর পরও এই জয়টা লিভারপুল কোচ বেনিতেজের কাছে অনেক কিছু। ম্যাচ শেষে তিনি বললেন সে রকমই, ‘আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক জয়। আমাদের এখন টানা ম্যাচ জয় খুব দরকার।’
ঠিকই বলেছেন বেনিতেজ। একমাত্র টানা ম্যাচ জিততে পারলেই হয়তো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গত কয়েক বছর ধরে ‘বিগ ফোরের’ যে আধিপত্য সেটা বজায় থাকবে। আর না হলে চার মৌসুম পর আবার চেলসি, ম্যানইউ, আর্সেনাল, লিভারপুলের পর অন্য কোনো ক্লাব চলে আসবে শীর্ষ চারে। চার মৌসুম আগে এই লিভারপুলকে পেছনে ফেলেই শীর্ষ চারে জায়গা করে নিয়েছিল এভারটন।