Monday, August 13, 2018
হতাশ ক্যাথরিন মাসুদ

মিশুক মুনীরের করা মামলায় পরাপর তিন দিন সাক্ষ্য দিতে না পারলে আজ সোমবার দৈনিক মানবজমিনকে এই হতাশার কথা জানান তিনি।
ক্যাথরিন মাসুদ বলেন, ' আজ আমার সাক্ষ্য দেওয়ার কথা থাকলেও তা নেয়া হয়নি। প্রথমে ৮ই আগস্ট নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে তা পিছিয়ে ১২ই আগস্ট করা হয়। এরপর সেটাও পরিবর্তন করে ১৩ই আগস্ট করা হয়। কিন্তু আজও সে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি। আমি বলবো আমরা একটু হতাশ। তারপরও দ্রুত প্রক্রিয়ার মধ্যে সমাধান হবে এমনটিই আশা করছি '।
তবে তারিখ বারবার পরিবর্তন করার প্রশ্নে তিনি মানবজমিনকে জানান, তিনি দেশের বাইরে থাকেন। আসন্ন ১৫ তারিখ আবার আমেরিকা চলে যাবেন। তাই তার স্বাক্ষ্য গ্রহণ নেওয়া দেরি হলে মামলাটির নি®পত্তি হতে আরও সময় লাগবে। ঠিক এই কারণেই বিরোধী পক্ষের আইনজীবীরা বারবার সময় চাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিপূরনের এ মামলাটি একটি চ্যালেঞ্জ। কেননা এ মামলার মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করছি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের। যাতে অন্যরাও ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। আজকের দিনকে শোকের দিন উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সড়কে প্রাণ হারাচ্ছে। দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে সেই পরিবারকেই কষ্ট করতে হয়। ঠিক সেই কারণেই এ মামলায় ক্ষতিপূরনের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের মাধ্যমে এটা দ্রুত সমাধান হবে এমনটি প্রত্যাশা করছি। সুবিচার পাবো সেটিও আশা করছি।’
আজ আদালত এ মামলায় আগামী ১৬ই অক্টোবর পুলিশের জবানবন্দি গ্রহনের জন্য দিন ঠিক করে মুলতবি ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে মানিকগঞ্জের ঘিওরে সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ ৫ জন নিহত হলে ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মানিকগঞ্জে মোটরযান অর্ডিন্যান্সে ১২৮ ধারায় বাস মালিক, চালক ও ইনস্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দুটি মামলা করেন।
পরবর্তীতে সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হাইকোর্টে বদলির নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করা হলে মামলা দুটি হাইকোর্টে চলে আসে। দীর্ঘ শুনানি শেষে গত বছরের ৩রা ডিসেম্বর তারেক মাসুদের পরিবারকে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বাসমালিক, চালক ও সংশ্লিষ্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে নির্দেশ দেন বিচারপতি জিনাত আরা এবং বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
কিন্তু এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করায় মামলাটি আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় আছে।
অপ্রদিকে, মিশুক মুনীরের মামলাটি হাইকোর্টের বিচারপতি জিনাত আরা এবং বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের বেঞ্চে শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘সাক্ষী’ সিসিটিভি ক্যামেরা যখন টার্গেট by মারুফ কিবরিয়া

অপরাধী শনাক্তে সিসিটিভি ক্যামেরা বড় ভূমিকা রাখলেও আদালতে প্রমাণ হিসাবে তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য- এ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। আইনে এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই। অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন এ কারণেই অনেক ক্ষেত্রে আসামিরা পার পেয়ে যায়। সিসিটিভির ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে দুই ব্যক্তি দেয়ালের ভেতরের দিক থেকে বাইরে দাঁড়ানো দু’জনের কাছে একটি মরদেহ তুলে দিচ্ছে। পরে তারা চারজন হাতে পলিথিন পেঁচিয়ে লাশ পেছনের একটি গলিতে ফেলে দেয়। সিসিটিভি ফুটেজে যে চারজনকে দেখা গেছে তারা হলো- মহাখালীর দক্ষিণপাড়ার ফিরোজ, আকিজপাড়ার দীপু, আমতলীর সন্ত্রাসী হাসু ও বনানী থানা যুবলীগের আহ্বায়ক সোহেলের সহযোগী রবি। গত জুলাই মাসের ঘটনা এটি। ১৫ই জুলাই খুন হন মহাখালী এলাকার বাসিন্দা কাজী রাশেদ হোসেন।
পরদিনই পুলিশ ওই বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। তাতেই দেখা যায় এ দৃশ্য। রাশেদ খুনের ব্যাপারে পুলিশের একটি সূত্র বলছে, গুলশান, বনানী ও মহাখালী এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মাদকের আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে রাশেদকে হত্যা করা হতে পারে। এর আগে গত ১৫ই মে রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় খুন হন আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ আলী। ঘটনাস্থলে কোনো সিসি ক্যামেরা না থাকলেও খুনিরা বাড্ডা পুলিশ চৌকিতে গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে। পরে অবশ্য এই খুনের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
গত বছর ১৪ই নভেম্বর রাতে দুর্বৃত্তরা রাজধানীর বনানীর বি ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের মেসার্স এস মুন্সি ওভারসিজে ঢুকে সিদ্দিক হোসাইন মুন্সিকে পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যা করে। তারা যাওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানটির তিন কর্মচারী মোস্তাফিজুর রহমান (৪২), মোখলেসুর রহমান (৩৮) এবং মির্জা পারভেজ আহমেদকে (২৮) গুলি করে। মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সেদিন সন্ধ্যা ৭টা ৪৯ মিনিট ২৩ সেকেন্ডে মেসার্স এস ওভারসিজের প্রধান ফটক দিয়ে প্রথমে দুই যুবক ঢুকে পড়ে। তাদের একজনের কাউ বয় হ্যাট পরা (ক্যাপ), আরেকজনের মাস্ক ও চশমা পরা ছিল। এর ২৪ সেকেন্ড পর আরো দুই যুবক ভেতরে ঢোকে। তাদের একজনের পরনে টি-শার্ট, প্যান্ট ও আরেকজনের পরনে ফুলহাতা ফতুয়া ও ফুলপ্যান্ট রয়েছে।
৭টা ৫২ মিনিট ৪ সেকেন্ডে প্রথমে দু’জন, এরপর আরো দুজন বেরিয়ে যায়। বের হওয়ার সময় এক যুবককে মুঠোফোনে কথা বলতে দেখা যায়। তাদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হবে। গত বছর ৩রা জুলাই রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থেকে অপহরণ করা হয় শিশু সুমাইয়াকে। কয়েকদিনের মধ্যেই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ অপহরণের বিভিন্ন সূত্র যখন খুঁজতে থাকে পুলিশ তখন সেখানকার ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। সিসি ক্যামেরায় দেখা যায় এক যুবতী সুমাইয়াকে নিয়ে যাচ্ছে।
একই বছর মার্চ মাসে রাজধানীর কলাবাগানে নিজ বাসায় নারী ব্যাংক কর্মকর্তা খুনের ঘটনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটনের পেছনে সহায়ক ছিল সিসি ক্যামেরা। ক্যামেরায় ধরা পড়ে ঘটনার সময় তার সাবেক স্বামীর উপস্থিতি ও দৌড়ে পালিয়ে যাবার দৃশ্য। এ সূত্র ধরেই সাবেক স্বামী রবিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া ২০১৬ সালের ২৫শে এপ্রিল কলাবাগানে বাসায় ঢুকে ইউএসএইডের কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও নাট্যকর্মী মাহবুব তনয়কে হত্যা করে দুর্বৃত্তদের দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। গলির ভেতরের একটি ভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তাদের দৌড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ঘটনার রাতেই ভিডিও ফুটেজ জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে একসঙ্গে চার ব্যক্তি ব্যাগ হাতে দৌড়ে যায়।
কয়েক সেকেন্ড পর আরো এক যুবক তাদের পেছনে দ্রুত দৌড়ায়। তার অল্প সময় পর তাদের পেছন পেছনে প্রথমে ১ জন পরবর্তীতে দু’জন ও আরো একজন দৌড়াচ্ছে। তবে তাদের কারো চেহারাই স্পষ্ট নয়। বছর কয়েক আগে রাজধানীর বনানীতে ‘ফিল্মি স্টাইলে’ খুন করা হয় যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক মিল্কীকে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘাতকদের শনাক্ত করতে একটুও বেগ পেতে হয়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজই চিনিয়ে দেয় ঘাতকদের।
রাজধানীসহ সারা দেশে একের পর এক নৃশংস খুনের ঘটনায় সচেতনতার অংশ হিসেবে ২-৩ বছর আগে থেকেই নগরজুড়ে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো শুরু হয়। বিভিন্ন স্তরের ক্রেতা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা কিনছেন। এ কারণে এখন বিভিন্ন আলামতের পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্তে ঘটনাস্থল বা আশপাশের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজই পুলিশের বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু ঘটলেই পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খোঁজে। সেই ফুটেজ থেকেই আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টায় নামে পুলিশ। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে অপরাধীদের অপরাধের চিহ্ন থেকে গেলেও কার্যত অন্য দশটি ঘটনার মতো তদন্ত খুব ধীর গতিতে এগোয় বলেই অনেকের অভিযোগ।
বিশেষ করে ভুক্তভোগীরা বলছেন, ঘটনার দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও কোনো না কোনো কারণে আসামিরা অধরা থেকে যায়। এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা বলছেন, আসামি শনাক্তের পর সুষ্ঠু তদন্তে কিছুটা সময় লেগে গেলেও কোনো অপরাধী আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে না। তবে আমাদের দেশে ১৮৭২ সালের আইন অনুযায়ী সিসি টিভি ফুটেজে অপরাধের সাক্ষী হওয়ার ব্যাপারে কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা নেই দাবি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক খন্দকার ফারজানা রহমান বলেন, ১৮৭২ সালের অ্যাক্ট অনুযায়ী কোথাও বলা নেই যে- এ ধরনের ডিজিটাল এভিডেন্স, এভিডেন্স হবে। এ জন্য অনেকে এ ধরনের প্রমাণ থাকলেও কোর্টে এসে এভিডেন্স একসেপ্ট করতে রাজি হয় না।
কারণ আইনে কোথাও ক্লিয়ার করে বলা নেই। দ্বিতীয়ত হলো- রাস্তায় যেসব সিসি ক্যামেরা আছে সেগুলোতে অনেক কিছু ক্লিয়ার বোঝা যায় না। উদাহরণস্বরূপ, কয়েক বছর আগে পহেলা বৈশাখে শাহবাগে যেভাবে নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে সেটার সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে একটি বেসরকারি টিভি ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট করেও কোনো লাভ হয়নি। কাউকে আইডেন্টিফাই করা যায়নি। চেহারাগুলো খুব স্পষ্ট। বোঝা যায় না। তিন নম্বর হলো- পুলিশের উপর অনেকখানি ভার থাকে, যে একটা এভিডেন্স থাকলে সেটা চার্জশিটে তোলা- তাই সেক্ষেত্রে পুলিশের একটা বড় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। যে ছবিগুলো পাওয়া যায় সেটা খুব ভালোভাবে এক্সপ্লেইন করা। যদি পুলিশ না করে তাহলে ওই ধরনের এভিডেন্সগুলোর আসলে কোনো মূল্য থাকে না।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জোট রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ by সাজেদুল হক ও উৎপল রায়

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে একাধিক মন্ত্রী যোগ দিয়েছেন এই সমালোচনায়। সবচেয়ে কঠোর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামালের বিরুদ্ধে। বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এর আগে এস কে সিনহাকে নিয়ে জুডিশিয়াল ক্যুর ষড়যন্ত্র করেছিলেন। কেন হঠাৎ ড. কামাল হোসেনের এত সমালোচনা?
উদ্যোগ আর তৎপরতা চলছে অনেকদিন ধরেই। নানা জটিলতা। তবে সম্ভবত এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসতে যাচ্ছে জোট রাজনীতির নয়া সমীকরণটি। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে এ ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। আগামী ২২শে সেপ্টেম্বর ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি সমাবেশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওই সমাবেশে ড. কামাল হোসেন ছাড়াও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাবেক প্রেসিডেন্ট বি. চৌধুরী, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মনসুরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা যোগ দিতে পারেন।
দেশের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলকেই এই সমাবেশে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। যদিও শেষ পর্যন্ত সমাবেশের অনুমতি পাওয়া যায় কি-না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এক্ষেত্রে বিকল্প উপায়ে নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে। এর আগে গত মাসেও জোট রাজনীতি ঘিরে বেশ কিছু চাপান-উতোর হয়েছে। রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করে বাম রাজনৈতিক দলগুলোর জোট। আর এ জোটের আত্মপ্রকাশের পরপরই সিপিবি কার্যালয়ে যান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সিপিবির পক্ষ থেকে অবশ্য একে বর্ণনা করা হয়েছে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গেও সেসময় বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদের।
কিশোর আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জোট রাজনীতির আলোচনা অনেটাই মিইয়ে যায়। তবে এখন আবার নতুন করে সে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, আগামী ২২শে সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। জনসভায় অংশ নেয়ার জন্য বিএনপি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, সিপিবিসহ বিভিন্ন দলকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ না জানালেও জনসভায় তাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, আমরা যেটি জাতীয় ঐক্য হিসেবে মনে করছি তাতে জামায়াত ছাড়া তাদের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছি। ২২শে সেপ্টেম্বরই সরকারবিরোধী বৃহৎ জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটবে কি না- এমন প্রশ্নে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘তার আগেও তো হতে পারে। প্রক্রিয়া তো চলছে। একটি নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ- এসব মৌলিক ইস্যুতে আলাপ আলোচনা অনেকদিন ধরেই চলছে। এখন একটি সমাধান হয়তো আসবে।’
তিনি বলেন, ‘সকলেই যার যার অবস্থান থেকে বক্তব্য দিচ্ছে। বাম ফ্রন্ট দিচ্ছে, আমরা দিচ্ছি, বিএনপিও দিচ্ছে। এখন শুধু সরকারকে বলা যে, একটি গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচন, জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর- এগুলো নতুন কথা না। এগুলো আপনারাও (সরকার) অতীতে বলেছেন। এক সঙ্গে আন্দোলনও করেছেন। এখন কেন এগুলো নষ্ট করবেন?’ সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘জোটের ব্যাপারে আমরা সহমত হয়েই আছি। এখন সরকারের কাছ থেকে কিভাবে দাবিগুলো আদায় করবো সেটাই হলো কথা।’
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামী ২২শে সেপ্টেম্বর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে জনসভার জন্য ডিএমপি ও গণপূর্ত অধিদপ্তরে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনসহ আমাদের সাংবিধানিক অধিকারগুলো বাস্তবায়নের জন্যই এই ঐক্য প্রক্রিয়া।
এই প্রক্রিয়ায় আমরা সকল রাজনৈতিক দলকেই আমন্ত্রণ জানাবো। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরেই বিএনপি, গণফোরাম, বিকল্পধারা, জে এস ডি, নাগরিক ঐক্যসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দল নিয়ে সরকারবিরোধী বৃহত্তর জোট গঠন হতে পারে। জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, একটি সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হতে হবে। এখন সরকার যদি পুলিশ আর আমলা দিয়ে নির্বাচন করে তাহলে তো আর সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হলে বিরোধী দলগুলোর ঐক্য নিশ্চিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন রাজনৈতিক জোটের এই প্রচেষ্টা অনেকদিন ধরেই চলছে এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের এ ব্যাপারে সায় রয়েছে। যদিও জোট গঠন নিয়ে বেশ কিছু জটিলতাও রয়েছে। সম্ভাব্য জোটের নেতাদের ওপর এ নিয়ে চাপ ও প্রলোভন দুটিই আসতে পারে। শুরুতে আসন ভাগাভাগি নিয়েও এক ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য জোটের নেতা কে হবেন তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। যদিও বৃহত্তর জোট প্রশ্নে বিএনপি বড় ধরনের ছাড় দিতে রাজি। মালয়েশিয়া মডেল নিয়েও আলোচনা চলছে। শেষ পর্যন্ত জোট রাজনীতি কোন দিকে গড়ায় তা শিগগিরই পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুজবে কান দেবেন না -প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

তাই আমি আশা করবো জনগণ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষানুযায়ী সকলেই তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করবেন। তিনি বলেন, সকলকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। ড্রাইভার ও হেলপারদেরও আইন মানতে হবে। ওভারটেকিং না করে লাইন দিয়ে বাস চালাতে হবে। ওভারটেক করতে গেলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজ চত্বরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুলিশ মহাপরিদর্শকের উদ্দেশে বলেন, সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথভাবে নির্দেশ দিতে হবে যেন কোনোরকম অনিয়ম না হয়। সড়কে ট্রাফিক সম্পর্কিত অপরাধ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক সময় শনাক্ত করতে পারে না এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সকল সড়কে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন ও ডিজিটাল নম্বর প্লেট ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর মাধ্যমে লেজার সিগন্যাল দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অনিয়ম শনাক্ত করা যাবে।
প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি কর্মচারীদের অহেতুক বিলম্ব পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই আন্ডারপাস প্রকল্পটি যথাসময়ে বাস্তবায়িত হলে দুটি অমূল্য প্রাণ হয়তো এভাবে ঝরে যেত না। তিনি শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজের নিহত শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম এবং আবদুল করিম রাজিবের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বক্তৃতা করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামুদ্দিন আহমেদ এবং জ্যেষ্ঠ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল সিদ্দিকুর রহমান সরকার প্রকল্প সংশ্লিষ্ট উপস্থাপনায় জানান, সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং বিগ্রেড ৪৩ মিটার দীর্ঘ এই মাল্টিপারপাস অত্যাধুনিক আন্ডারপাসটির নির্মাণকাজ ১ বছরের মধ্যে শেষ করবে। সরকারের অর্থায়নে এর ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে ৫৪ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল ও কলেজের সামনে নির্মাণাধীন আন্ডারপাস প্রকল্পে বিলম্বে উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, এই আন্ডারপাস আগেই ডিজাইন করা হলেও এতে একটি সামান্য সমস্যা ছিল এবং এটি জানার পর তিনি তা দূর করার উদ্যোগ নেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো নির্মাণ কাজ করতে গেলেই জমির মালিকানা নিয়ে যে সমস্যায় পড়তে হয় সে সমস্যা এখানেও ছিল। রাস্তা কার, জায়গা কার, জমি কার, লেক থাকলে পানি কার এগুলো নিয়ে একটা বিতর্ক থাকে, আমি আশা করি এই সমস্যাগুলো আর হওয়া উচিত নয়। এরজন্য যথাযথ ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। তিনি বলেন, টাকা কে দেবে এজন্য দীর্ঘদিন এই আন্ডারপাসের প্লান করেও বসে থাকা হয়েছে। এখানে যখন রেডিসন হোটেল হলো, মেডিকেল কলেজ হলো, তারপর স্কুল এবং ফ্লাইওভার করার পর থেকেই এই নকশা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সবাইকে অনুরোধ করবো আমাদের এখানে বড় বড় আমলারা আছেন- তাদেরকে বলবো আপনারা যদি কোনো সমস্যা সমাধান করতে না পারেন, আমিতো রয়েছিই। আমাকে জানানো হলে সেই সমস্যার সমাধান করে দিতে পারি। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তার নিজস্ব মোবাইল ফোনে বা অফিসে যোগাযোগের অনুরোধ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তিরা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে যথাযথভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সবার উদ্দেশে বলেন, রাস্তা পারাপারের সময় অন্তত দাঁড়িয়ে একবার ডানে ও একবার বামে দেখে নিতে হবে কোনো গাড়ি আসছে কি-না।
আর রাস্তা পারাপারের জন্য যে জায়গাটি নির্দিষ্ট করা রয়েছে- কোথাও ফুটওভার ব্রিজ, কোথাও জেব্রা ক্রসিং, কোথাও আন্ডারপাস আছে- ঠিক সেসব জায়গা দিয়েই রাস্তা পারাপার হতে হবে। এর বাইরে দিয়ে রাস্তা পার হওয়া মোটেই ঠিক নয়। আর কেউ যদি এ ধরনের কাজ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি সড়কে চলতে পারবে না। হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং যেখানে বেশি মানুষের চলাচল রয়েছে সেখানে ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাস করে দেয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। বক্তৃতায় সরকার প্রধান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং শিক্ষিত জাতি গঠনে তার সরকারের বৃত্তি-উপবৃত্তিসহ নানা সহায়তা প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, নিরাপদে গাড়ি চালানো নিশ্চিত করার জন্য সরকার চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেও অনেক চালক এতেও ফাঁকি দেয়। তারা নিজেরা ভালোভাবে ট্রেনিং করে না। আবার হেলপারদের হাতেও গাড়ি দিয়ে দেয়। তারপরও সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। দুর্ঘটনার দিন বিমানবন্দর সড়কে রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়া বাসের চালক নিয়ম-বহির্ভূতভাবে গাড়ি চালাচ্ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধ ক্ষমা পাবে না। দায়ী চালকদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হবে। তিনি এ সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তার আহ্বানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
২৯শে জুলাই দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলে তাদের দাবি-দাওয়া সরকার মেনে নেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনে যখন দেখলাম স্কুলের ইউনিফর্ম বানিয়ে অনেকে ঢুকে পড়ছে, বুঝলাম তৃতীয় পক্ষ, যারা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়। এটা দেখার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে চিন্তিত হয়ে পড়ি। তখন একটি অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যেতে বলি। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই, তারা সময়মতো ঘরে ফিরে গেছে। শেখ হাসিনা বলেন, যখন আমাদের (ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়) অফিস আক্রান্ত হলো, তখন সেখান থেকে ফোন আসছিল, বলা হচ্ছিল- আমরা তো টিকতে পারছি না, শুধু পাথর ছোড়া হচ্ছে। তখন বলেছি শুধু ধৈর্য ধরতে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, কারা করলো এটা? সে সময় ব্যাপক গুজব ছড়ানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে বিভিন্ন দর্জি দোকানে ইউনিফর্ম বানানোর হিড়িক পড়ে গেছে, এসব কারা করেছে? শিশু কিশোরদের আন্দোলনের সময় সবাই ট্রাফিক আইন মেনে চললেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আবার পুরনো বিশৃঙ্খলা ফিরে আসায় প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যতদিন শিক্ষার্থীরা রাস্তায় ছিল, তারা ট্রাফিক কন্ট্রোল করছিল এবং সবাই কিন্তু তাদের কথা মেনে নিয়েছিল, এটা ঠিক।
কিন্তু যখনই সবাই ফিরে গেল স্বাভাবিক হলো যানবাহন চলাচল, তারপর কী দেখি? রাস্তার পাশেই ফুটওভার ব্রিজ, আমরা দেখলাম ইয়ং ছেলে মেয়ে সামান্য কয়েক কদম হাঁটলে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে পারে, সেটা না করে রাস্তার মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে হাত দেখিয়ে দেখিয়ে। হাত দেখিয়ে দেখিয়ে বেআইনিভাবে রাস্তা পার হওয়া, সেটাও কিন্তু গ্রহণযোগ্য নয়’। নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না। নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। এমনকি বাসেও বিন থাকতে হবে। তিনি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীকেও নির্দেশনা দেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে থাকতে পারে বলেও অভিমত দেন প্রধানমন্ত্রী।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতীয় টিভিতে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আলোচনা

ভারত ভূষণ: সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে স্কুলশিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন বিক্ষোভে বাংলাদেশ গত সপ্তাহে অচল হয়ে পড়ে। বিক্ষোভ শুরু হয় একটি গতিশীল গাড়ির চাপায় দুই স্কুলশিক্ষার্থী মারা যাওয়ার পর। এই ছাত্রবিক্ষোভ নয়দিন ধরে ছিল। কর্তৃপক্ষ লাঠিপেটা, রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলে বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে। বিক্ষোভ ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে পড়লে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হয়। অভিভাবক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও যোগ দেয় প্রতিবাদে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এই জনবিক্ষোভকে অপব্যবহার করার চেষ্টায় লিপ্ত। সাংবাদিকরাও আক্রমণের শিকার হয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ব্যবহার করা হয়েছে আইসিটি আইন।
পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী, আপনাকে দিয়েই শুরু করি। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে স্কুলশিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ কতটা নজিরবিহীন ছিল? কীভাবে ঢাকা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে? এই বিক্ষোভ নিয়ে শুধু দেশীয় মিডিয়ায় নয়, আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও অনেক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
পিনাক: আমি মনে করি এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে যে কারণে, সেটা হলো বেপরোয়া গাড়ি চালনা। এটা ঢাকায় অনেক স্বাভাবিক যে এই মানুষবাহী বাসগুলো রাস্তায় একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামে। যারাই একবার হলেও ঢাকায় গেছেন, তারা বুঝে থাকবেন, এত বাস, রিকশা ও অন্যান্য গাড়ি বেশ বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে। আমি মনে করি, বাসচালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে এই ক্ষোভ অনেক বছর ধরেই কেবল বাড়ছিল। এ কারণে দুই শিক্ষার্থীর দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুতে মানুষ ফুঁসে ওঠে। আমি মনে করি শিক্ষার্থীরা আর নিতে পারছিল না। এ কারণেই তারা রাজপথে নেমে আসে।
ভারত ভূষণ: ড. পত্নায়েক, যেভাবে এই বিক্ষোভ দমন করা হয়েছে, তা নিয়ে আপনি কী মনে করেন? সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ, আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার, এটা শেখ হাসিনার জন্য কত বড় রাজনৈতিক ভুল ছিল? শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কেন? এটা কি এই কারণে যে, তিনি আল-জাজিরায় তুলে ধরেছেন যে, এই প্রথমবারের মতো বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ ছাত্রলীগ গুন্ডাদের কাছ থেকে সাহায্য চেয়েছে?
পত্নায়েক: আমি মনে করি সরকার এটাকে আরও অনেক ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারতো। যেমন, যেই বিবৃতি প্রথমে এক মন্ত্রীর কাছ থেকে এলো যে, এধরনের দুর্ঘটনা অনেক স্বাভাবিক বিষয়- তা শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। সরকারের উচিত ছিল তাকে ক্ষমা চাইতে বলা। তিনি অবশ্য করেছেন, তবে দেরিতে। সরকার এই বছরের শেষে নির্বাচনে যাচ্ছে। আমি মনে করি, সরকার এই মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বললে ক্ষোভ থেকে কিছু জনসমর্থনও আদায় করতে পারতো। এই বিক্ষোভের সঙ্গে সরকার যেভাবে বিরোধীপক্ষকে জড়ালো, সেটা ছিল বেশ অবাক করার মতো। আমার মনে হয়, সরকার অনেক নার্ভাস ছিল। কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। একের পর এক সমস্যা আসছিল খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে। এ কারণেই সরকার হয়তো অনেক নার্ভাস হয়ে ওঠে। আমি মনে করি, সরকার এই বিষয়টি বুঝে যে, তারা খুব একটা জনপ্রিয় নয় এই মুহূর্তে।
ভারত ভূষণ: জয়ন্ত, এই বিক্ষোভে অনেকেই হতাহত হয়েছেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের হটাতে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করাটা আওয়ামী লীগের কতটা রাজনৈতিকভাবে সুবিবেচনাপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল? পুলিশের হাতে ছেড়ে দিলেই কি পারতো না? মানুষ তখন পুলিশকে দায়ী করতো শুধু। এর আগে কোটা আন্দোলনের সময়ও এই ছাত্রলীগকে ব্যবহার করা হয়েছিল।
জয়ন্ত: আমি মনে করি সুশাসনের অভাব এখানে দায়ী। আর বাংলাদেশের রাজনীতির উভয়পক্ষই এক ধরনের আতঙ্কে ভোগে। শেখ হাসিনার সরকার সবসময় ভয় পায় যে, এ ধরনের বিক্ষোভের নেপথ্যে বুঝি বিরোধী দল, এমনকি বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত হলেও। অপরদিকে বিরোধীপক্ষ ভাবে, যা-ই হোক না কেন সেটা সরকারি দলের চাল, কিংবা ভারতের। ভারতকে অনেক কিছু নিয়েই দায়ী করা হয়।
ভারত ভূষণ: কিন্তু দল আর সরকারকে এক করা কেন?
জয়ন্ত: ছাত্রলীগকে ডাকা হয়েছিল আমার মনে হয় এ কারণে যে, সরকার ভেবেছিল বিক্ষোভে বিরোধীপক্ষের ক্যাডাররা অনুপ্রবেশ করেছে। এ কারণেই নিজেদের অ্যাক্টিভিস্টদের আনা হয়েছে এদের মোকাবিলা করতে। যেটা পুরোপুরিই ভুল ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে যারাই ক্ষমতায় থাকে, তারাই এই কাজ করে। আওয়ামী লীগও করছে, বিএনপিও করেছে। কোনো পক্ষেরই হাত পরিষ্কার নয়। কিন্তু বেপরোয়া গাড়ি চালনা, মফঃস্বল দূরে থাক, রাজধানীতেই গাড়িচালকদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। আমি মনে করি এজন্য দায়ী সুশাসনের অভাব।
শ্রুতি: আমি যদি কিছু বলি। বাংলাদেশে সবকিছুই নির্ধারিত হয় রাজপথে। আর ছাত্রলীগ এই ধরনের পরিস্থিতিতে এই প্রথম জড়িত হয়ছে তা নয়। বিরোধী পক্ষ যখন ২০১৫ সালে এই সরকারের এক বছর পূর্তিতে বিক্ষোভ শুরু করে তখন ছাত্রদল ও জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র শিবিরকে ব্যবহার করা হয়েছে সহিংসতা সংঘটনের কাজে। এই সংগঠনগুলো সবসময়ই রাজনৈতিক দলগুলোর গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ভারত ভূষণ: তবে সমস্যা হলো এবার ছাত্রলীগ সরাসরি রাষ্ট্রীয় প্রশাসন কিংবা পুলিশের সঙ্গে একযোগে কাজ করছিল।
শ্রুতি: অতীতেও এমনটা হয়েছে।
ভারত ভূষণ: পিনাক, আওয়ামী লীগের এই দাবিতে কতটা ভিত্তি আছে যে, বিক্ষোভ উস্কে দিয়েছে বাংলাদেশের বিরোধীপক্ষ?
পিনাক: আমার মনে হয়, এটি প্রথমে হয়নি। যদি আদৌ হয়ে থাকে, এটা হয়েছে পরে। কারণ, কোনো বিরোধীপক্ষই এ ধরনের পরিস্থিতিতে চুপ থাকবে কিংবা পরিস্থিতি ব্যবহার করতে চাইবে না। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অনেকে মনে করছিল যে, এই বিক্ষোভে বিএনপি কিংবা জামায়াতের ক্যাডাররা ঢুকে পড়েছে।
ভারত ভূষণ: কিন্তু এখানে সবাই স্কুলের বাচ্চা। কিন্তু ক্যাডাররা তো প্রাপ্তবয়স্ক।
পিনাক: আমাকে বলা হয়েছে, অনেকে ভুয়া ইউনিফর্ম পরে ছিল। একজন আমাকে বলেছে যে, এক হাজারেরও বেশি ইউনিফর্ম রাতারাতি সেলাই করা হয়েছে।
ভারত ভূষণ: তার মানে আপনি বলছেন, অনেক অছাত্ররাও এই বিক্ষোভে ছিল।
পিনাক: আমি সেটাই মনে করি। প্রথমে না হলেও, পরে হয়েছে। প্রথমে অনেকটা স্বতঃস্ফূর্ত ছিল বিক্ষোভ।
ভারত ভূষণ: আপনি যা বলছেন এরকম কিছু বাংলা পত্রিকায় পড়িনি।
পিনাক: না, এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনা চলছে।
ভারত ভূষণ: পাত্নায়েক, বিরোধী দলের জন্য এই প্রতিবাদে যোগ দেয়াটা ভুল হবে কেন? তারা কেন যোগ দেবে না? বিরোধীদের কাজই তো হলো বিরোধিতা করা। যদি মানুষ বলে যে সড়ক নিরাপত্তা বাড়াও, গাড়িচালকদের লাইসেন্স থাকতে হবে, তাহলে বিরোধীদল কেন যোগ দেবে না?
শ্রুতি: আমি পুরোপুরি একমত এ ব্যাপারে। আমার কোনো দ্বিমত নেই এ ব্যাপারে। দ্বিতীয় ইস্যু হলো, ছাত্রলীগের এরা কেউই কিন্তু ছাত্র নয়। তারা অনেক আগে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দিয়েছে। তাদের কেউ কেউ এরপরও হল দখল করে আছে। দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা মানুষের মনে ছাপ ফেলেছে। এ কারণেই সরকার এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। শাহবাগের কথা ভাবুন। শুরু হয়েছিল খুব অল্প মানুষ নিয়ে। পরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। কোটা আন্দোলনও একই ছিল। এই আন্দোলনও একই। তো, সরকার বেশ নার্ভাস ছিল। আবার একই সঙ্গে আমি মনে করি, বিরোধী দল পরিস্থিতি অতটা ব্যবহার করতে পারেনি যতটা তাদের করা উচিত ছিল। আমি যদি বিরোধী দলে থাকতাম আমি নিজেকে বলতাম, তুমি খুব ভালো কাজ করে দেখাতে পারনি।
ভারত ভূষণ: তাহলে বিএনপিকে ব্যর্থ বলা যায়? (হাসি)
শ্রুতি: হ্যাঁ। (হাসি)।
ভারত ভূষণ: জয়ন্ত, আপনি কেন মনে করেন, হাসিনা সরকার এই আন্দোলন নিয়ে এতটা সংবেদনশীল ছিল। এই ধরনের সড়ক সংশ্লিষ্ট বিক্ষোভ কী এর চেয়ে বড় কিছুর ইঙ্গিত বহন করে? ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সরকারের পতন হয় যখন সেনাদের গাড়ির চাপায় বিক্ষোভকারী মারা যায়। ১৯৯২ সালেও বাস ও শিক্ষার্থী নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। সুতরাং, ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা শুধু ব্যবস্থাপনার ইস্যু নয়। এটি কি অন্য কোনো মাত্রা বহন করে?
জয়ন্ত: আমি প্রথমে যেমনটা বলেছি, এটি দুর্বল শাসনের প্রশ্ন। অনেক মানুষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে চিন্তিত। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে-ই সড়ক নিয়ে আন্দোলন করছিল, এটা স্রেফ স্ফুলিঙ্গ। মানুষ পুরো পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্ট। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যেভাবে চলছে, চাকরির কোটা, ইত্যাদি নিয়ে মানুষ অসন্তুষ্ট, তবে এই অসন্তোষ দানা বাঁধছে কিছু একটা নিয়ে।
শেখ হাসিনার সরকার বিএনপির মতোই এক ধরনের আতঙ্কে ভোগে। তিনি হয়তো ভেবেছেন, এই আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনের আগে আগে তার সরকারকে অজনপ্রিয় হিসেবে তুলে ধরা, তাকে অজনপ্রিয় করার চেষ্টা চলছিল। ফলে তিনি যেভাবে একে মোকাবিলা করেছেন, সেটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক অনুমেয় হলেও, সেটা ছিল সংকটের বাজে ব্যবস্থাপনা।
ভারত ভূষণ: পিনাক, বাংলাদেশে যখন ভিন্নমতালম্বীদের নিয়ে কথা বলা হয়, তখন এটাকে তৎক্ষণাৎ ব্লগারদের মৃত্যুর সঙ্গে লিঙ্ক করা হয়। তখন আপনি বলবেন, ও আচ্ছা, এটা তো চরমপন্থিরা, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। কিন্তু এখন তো দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সবচেয়ে বড় হুমকি যে রাষ্ট্রের দিক থেকে আসছে, সেটা অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। সবকিছুকে চরমপন্থিদের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এই ধরনের বিশ্লেষণে কি এটা অগ্রাহ্য করা হচ্ছে না যে, বাংলাদেশে গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ, শিক্ষার্থীদের প্রতি অসহিষ্ণুতা বিরাজ করছে? এমনকি বিরোধী দলও। তাদের দেশের শত্রু বলা হচ্ছে।
পিনাক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটটাই এমন যে, আমি যদি ক্ষমতায় থাকি, তাহলে আমার কর্তৃত্বপরায়ণ হওয়ার অধিকার আছে। এটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেকটা প্রোথিত। আপনি যে-ই দলের কথাই বলেন না কেন। সামরিক একনায়কতন্ত্রের কথা বাদ দিলাম, তাদের প্রকৃতিই হলো কর্তৃত্বপরায়ণ হওয়া। কিন্তু এমনকি তথাকথিত গণতান্ত্রিক দলগুলোও। আর আপনি যদি এক পরিবারের শাসনের দিকে তাকান, যেমনটা বিএনপিও, আমি মনে করি, এ ধরনের প্রবণতা দুই দলের মধ্যেই আছে। বিএনপি আমলেও দেখেছি সব ক্ষমতা খালেদার ছেলে তারেকের কুক্ষিগত ছিল। কিছুই হতো না তার অনুমতি ছাড়া। এখন আপনি দেখছেন যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতেই সব ক্ষমতা। তিনি যদি কিছু না করেন, তাহলে কিছুই হয় না।
ভারত ভূষণ: শ্রুতি, এই বিষয়টা আমাকে অবাক করে যে, কেন শেখ হাসিনা মিডিয়াকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেছেন? তিনি এমনও বলেছেন অনেক সম্পাদক যুদ্ধাপরাধী ছিলেন! যুদ্ধাপরাধীদেরকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। প্রখ্যাত সাংবাদিক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে যে এতগুলো রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির মামলা হলো, সেই ব্যাপারে কী বলবেন? আপনি তার মতো এত ভালো সম্পাদক কিংবা ভদ্রমানুষ সহজে পাবেন না। কিংবা বিরোধীদলীয় ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। মুক্ত গণমাধ্যম মানে তো এ-ও যে, বিরোধীদলীয় পত্রিকাকেও চলতে দিতে হবে। এছাড়া সামপ্রতিক বিক্ষোভে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। আপনি মিডিয়াকে কেন প্রতিপক্ষ বানাচ্ছেন? আপনি ভালো রাজনীতিক হলে, তাদেরকে নিজের পাশে রাখতে বা নিরপেক্ষ রাখতে চাইবেন?
শ্রুতি: আমি মনে করি, এটা এসেছে সংশয় ও অসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি থেকে। দেশের মধ্যে কী হচ্ছে, সেই ব্যাপারে কোনো সমালোচনা আপনি সহ্য করছেন না। অনেক সমালোচনা ভীষণ গঠনমূলক। মাহফুজ আনামের ইস্যু অনেক অবাক করার মতো বিষয়। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিংবা তার আগের সরকারগুলোর সবচেয়ে কড়া সমালোচক ছিলেন তিনি। এ বিষয়টা আসলেই বিস্ময় জাগানিয়া, যেমনটা আপনি বলেছেন।
আমি মনে করি, সরকার এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। যদিও এটি বিরোধী দলকে পুরোপুরি দমন করেছে। বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। এটা তাই বেশ আশ্চর্যজনক যে, সরকার এখনও দুশ্চিন্তায় ভোগে। আপনি গণমাধ্যমের ওপরও দমনপীড়ন চালাচ্ছেন। যেই আইসিটি আইন করা হয়েছে, যেটা খুব বিপজ্জনক। ধরা যাক, আপনি একজন ব্লগার আর আপনি চরমপন্থিদের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছেন। আপনি যদি পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে যান, উল্টো আপনাকে বিপদে পড়তে হতে পারে। আপনি ইন্টারনেটে কী লিখেছেন সেটা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়বেন। আমি মনে করি সাধারণ অর্থে, সমালোচনা অনেক গঠনমূলক হলেও, অসহিষ্ণুতা আছে ব্যাপক।
ভারত ভূষণ: সরকার নিজেই কিছু ধরনের বক্তব্য বা ব্লগিংকে অপরাধ হিসেবে পরিগণিত করেছে। চরমপন্থিরা যদি এসব লেখার কারণে কোনো ব্লগারকে মারতে যায়, সেক্ষেত্রে সেখানে সরকারেরও এক ধরনের দায় থাকে। কারণ, রাষ্ট্র নিজেই কিছু বক্তব্যকে অপরাধ হিসেবে পরিগণিত করেছে। অনেকটা যেন এমন যে, নিজের পরিণতির দায় ওই ব্লগারেরই।
জয়ন্ত: এমনটা অনেক দেশেই হয়েছে। ভারতেও হয়েছে। তবে আসল কথা হলো, সমাজ নিজেও আগের চেয়ে অসহিষ্ণু হয়েছে। এ কারণে উভয়পক্ষের জন্যই সবকিছু সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। এটা একটা সমস্যা। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্ন যখন আসছে, বাংলাদেশের গণমাধ্যম বেশ সরব, অনেক মুক্ত। তবে যে ধরনের আইন আছে, সেগুলো বেশ বিস্তৃত। তবে তার (শেখ হাসিনার) এখানে একটা সমস্যা আছে। ডেইলি স্টার সম্পাদক নিজে স্বীকার করেছেন তিনি মাইনাস টু ফর্মুলা সমর্থন করেছিলেন।
ভারত ভূষণ: তবে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। এটা করা যে উচিত হয়নি সেটা বলেছেন। এটা অনেক ভদ্রোচিত বক্তব্য...
জয়ন্ত: হ্যাঁ, আপনি বলতে পারেন এটা ভদ্রোচিত আচরণ। তার (প্রধানমন্ত্রী) উচিত ছিল তার এই বক্তব্যের দিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে তাকানো। হেসে উড়িয়ে দেয়া। কিন্তু সমস্যা হলো, এক ধরনের সন্দেহ কাজ করে, দুই নেত্রীর মধ্যেই।
ভারত ভূষণ: তাই বলে ৮৩ মামলা সারা দেশজুড়ে?
পিনাক: এটা বাড়াবাড়ি ছিল...
ভারত ভূষণ: পিনাক, আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা নিয়ে কথা বলি। এটা কি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে প্রণয়ন করা হয়েছে? বিএনপির সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধেও ৫৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে। ফটোসাংবাদিক শহীদুল আলমের বিরুদ্ধেও এই ধারায় মামলা করা হয়েছে। ৫৭ ধারার বিপজ্জনক দিক হলো, অনলাইনে নানা কারণে, ধরুন, কাউকে মানহানি করলে, কুৎসা ছড়ালে, দাঙ্গা ছড়ালে, ইত্যাদি কারণে ৭-১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তাহলে বাংলাদেশে স্মার্টফোন সমেত সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহারকারী যে কাউকেই তো এই মামলায় কারাগারে ঢুকানো যাবে?
পিনাক: আমি মনে করি, এটা এতটা বিস্তৃতভাবে সংজ্ঞায়িত ও বাজেভাবে লেখা একটি ধারা যে, ধরুন আমি কালকে লিখলাম, আমি রসগোল্লার চেয়ে সন্দেশ বেশি পছন্দ করি, তাহলে হয়তো আমার বিরুদ্ধেও অভিযোগ গঠন করা হবে! কারণ, আমি তো রসগোল্লার বিরুদ্ধে কুৎসা ছড়াচ্ছি!
ভারত ভূষণ: রসগোল্লা তো কোনো মানুষই নয়...
পিনাক: রসগোল্লা কোনো মানুষ নয়, তবে কে না জানে যে, বাঙালিরা নিজেদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বেশ সংবেদনশীল। অথবা আমি বললাম যে, আমি ইলিশ মাছ পছন্দ করি না! কেউ হয়তো বলতে পারে, আরে দেখ, সে কুৎসা রটাচ্ছে। আমি মনে করি, এটা খুব বাজেভাবে লেখা একটি ধারা।
ভারত ভূষণ: আপনার যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রেগুলেট করতে হবে, আপনার প্রয়োজন নেই একে এভাবে অতিমাত্রায় রেগুলেট করা যে এটা সমালোচকদের দমাতে আপনার অস্ত্র হয়ে উঠে...
পিনাক: তবে একটি কথা আমাকে অবশ্যই বলতে হবে। যেসব সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে রেগুলেট করতে চায়, তাদের পক্ষে একটা কথা আমি বলবো। আসলে, এটা হলো নিউ মিডিয়া। এ ধরনের ডিজিটাল মিডিয়া মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা কোনো সরকারেরই নেই। আসলে, পুরো বিশ্বই এ নিয়ে কসরত করছে যে কীভাবে সাইবারজাগরণকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আমি মনে করি, এখানে কিছু সমস্যা আছে। তবে যারা এই ধরনের ধারা যারা প্রণয়ন করেন তাদের বোঝা উচিত এসবের কিছু সীমা আছে। কিছু সীমা আছে যেগুলো আমাদের অতিক্রম করা উচিত নয়।
ভারত ভূষণ: শ্রুতি, এই বছরের জানুয়ারি নাগাদ, একটি দল বিএনপি থেকেই প্রায় ১২ লাখ লোকের বিরুদ্ধে ৫০ হাজারেরও বেশি মামলা করা হয়েছে। দলটির হাজার হাজার কর্মী কারাগারে। যেমনটা আপনি বললেন, খালেদা জিয়াও পাঁচ বছরের জন্য কারাগারে। তার বিরুদ্ধে আরও মামলা চলছে। আমির খসরু মাহমুদ কিংবা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে। এটা কি বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বাভাবিক? নাকি নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় ন্যূনমাত্রায় প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হচ্ছে?
শ্রুতি: আমি মনে করি এটি কিছুটা স্বাভাবিকই বাংলাদেশে। এমন নয় যে, অতীতে এতটা হয়নি। কিন্তু এবার এই ক্ষেত্রে কিছুটা বাড়াবাড়ি হয়েছে, বিশেষ করে গ্রেপ্তারের বেলায়। এটা হতে পারে এ কারণে যে, সরকার সেখানে টানা দুবার ক্ষমতায়। ফলে মানুষের স্মৃতি শুধু এই সরকারকে নিয়েই। ফলে, এটি এমন কিছু নয় যেটা অতীতে দেখা যায়নি। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, বিরোধীপক্ষের ওপর আক্রমণ, পুলিশ ব্যবহার, সবই হয়েছে। তবে আপনি যেমনটা শিক্ষার্থী বিক্ষোভের কথা বললেন, এছাড়া মাদকবিরোধী যুদ্ধেও অনেকে নিহত হয়েছে। জয়ন্ত যেমনটা বলছিলেন, এসব হলো স্ফুলিঙ্গের মতো। আপনার কোনো মুক্ত গণমাধ্যম নেই, আপনি ব্লগেও লিখতে পারবেন না। আপনি হয়তো আইসিটি অ্যাক্টে মামলা খাবেন। আপনার ক্ষোভ তাহলে প্রশমিত হবে কীভাবে? এই ক্ষোভকে তো কোথাও যেতে হবে। আমি মনে করি, সরকার যে ধরনের পদক্ষেপ নিয়ছে, এটা নজিরবিহীন নয়। এটা হলো বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। তবে এটা ধীরে ধীরে খারাপের দিকেই যাচ্ছে।
ভারত ভূষণ: তাহলে এটা আসলে ন্যূনমাত্রার?
শ্রুতি: হ্যাঁ।
ভারত ভূষণ: জয়ন্ত, ২০১৪ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা ও বিরোধীপক্ষকে ওই নির্বাচন বয়কট করাতে বাধ্য করা কি হাসিনা সরকারের জন্য এটি রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক? এটা তো তার জন্য সহায়ক নয়, কারণ এর ফলে যত আসনই তিনি জিতুন না কেন, সেই জয়ের গ্রহণযোগ্যতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। আমার সঙ্গে একজনের কথা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ট্রেনে আগুন লাগানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে। ওই লোক সিগারেটও খান না। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কেউ কি আমাকে বলতে পারবেন কিভাবে ট্রেনে আগুন লাগায়? আমি বললাম, আমি জানি না। তাহলে কি বিরোধীদলের সামর্থ্য ভেঙে দেয়া হচ্ছে, যাতে তারা নির্বাচনে গেলেও জিততে না পারে? এর ফলে তো নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হলেও সুষ্ঠু হলো না।
জয়ন্ত: আমি মনে করি না এসবের পরিকল্পনা তিনি করে ফেলেছেন।
ভারত ভূষণ: কিন্তু ছয় মাস আগেই যদি এসব না করেন, তাহলে করবেন কখন?
জয়ন্ত: তা ঠিক আছে, তবে আমি মনে করি না, তারা পরিকল্পনা করেছে, বিরোধী দলের সামর্থ্য ভেঙে দিয়ে নির্বাচনে জিতে যাওয়ার। আমি মনে করি এটা অনেকটা তার (শেখ হাসিনা) তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া। তারা (বিরোধী দল) এসবের জন্য দায়ী, তারা মানুষকে উস্কে দিচ্ছে, সুতরাং আমাকে পদক্ষেপ নিতে হবে তাদের বিরুদ্ধে। তবে আমার মনে হয়, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ এক ধরনের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়, যেটা কিছুটা সুষ্ঠুও।
ভারত ভূষণ: তবে দুই জিনিস তো আলাদা। পিনাক, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বনাম সুষ্ঠু নির্বাচন। সুষ্ঠু নির্বাচনে সবাই প্রচারণা চালাতে পারবে, সবাই নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে পারবে ভোটারের কাছে। এটা শুধু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের চেয়ে আলাদা। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে আধামরা দলও অংশ নেবে, পুর্নদ্যোমে শক্তিশালী দলও অংশ নেবে।
পিনাক: আমি মনে করি, শাসক দল আওয়ামী লীগের একটা বড় ট্রাম্পকার্ড হলো, বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ না নেয়, তাহলে দলটির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। যদি আপনি দুবার নির্বাচনে অংশ না নেন, তাহলে এটা হবে। ফলে বিএনপি বেশ উভয় সংকটে আছে। একটা সমস্যা হলো, এত মামলা, বিরোধী পক্ষকে নানাভাবে দুর্বল করা। আরেক সমস্যা হলো, আপনি যদি নির্বাচনে অংশ না নেন, তাহলে নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে।
ভারত ভূষণ: আমি সেটা বুঝতে পারছি। তবে শেখ হাসিনা কী চান?
পিনাক: দেখুন, তিনি চান যে অংশগ্রহণ করুক। তবে সেক্ষেত্রে খুবই দুর্বল বিরোধী দল চান তিনি। যাতে করে তিনি জিতে ক্ষমতায় ফিরতে পারেন। এটা বাংলাদেশে খুবই সাধারণ রাজনৈতিক খেলা। তবে বিএনপি হয়তো বলবে, আমরা এসব করিনি। তবে আমি আসলে তাদেরকে এ ব্যাপারে খুব ক্রেডিট দিতে প্রস্তুত নই। আমি মনে করি, উভয় দলই ক্ষমতায় গেলে এই কাজ করে। আপনার যদি মনে থাকে, এ কারণেই তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল। কারণ, কোনো পক্ষই একে অপরকে বিশ্বাস করে না। কিন্তু ওই সিস্টেম এখন নেই। ফলে নির্বাচন হবে এই সরকারের অধীনে, যেটি নির্বাচনের সময় ক্ষমতায় থাকবে।
ভারত ভূষণ: শ্রতি, আমার শেষ প্রশ্ন। এক কোটি বিশ লাখ নতুন ভোটার আগামী সাধারণ নির্বাচনে ভোট প্রয়োগ করবে। আপনি কি মনে করেন, শিক্ষার্থীদের সামপ্রতিক যেসব বিক্ষোভ আমরা দেখেছি, সেসব নির্বাচনী ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলবে?
শ্রুতি: আমি মনে করি এটি নির্ভর করবে কী ধরনের প্রার্থী বিরোধীপক্ষ দাঁড় করায়। কারণ, সবকিছু সত্ত্বেও সরকারের কিছু অর্জন আছে। যেমন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমেই বাড়ছে। অনেক মানুষ হয়তো তাই রাজনৈতিকভাবে ক্ষুব্ধ হলেও, অর্থনৈতিকভাবে খুশি। তাই আমি মনে করি, কী ধরনের প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরকারকে লড়াই করতে হবে, সেটাই এই নির্বাচনের ফল নির্ধারক হবে।
ভারত ভূষণ: জয়ন্ত, তরুণ গোষ্ঠী নিয়ে আপনার মত কী?
জয়ন্ত: আমি মনে করি তরুণরা বিরোধী দলের পক্ষে বড় ফ্যাক্টর হবে। কারণ, তারা ক্ষুব্ধ। তবে, যেমনটা শ্রুতি বলেছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ভালো ছিল। সবচেয়ে বড় কথা হলো, কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধিও খুব ভালো ছিল। তাই প্রত্যন্ত অঞ্চলও অনেক কিছু নির্ধারণ করবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকজন তাই হয়তো শাসক দলের পক্ষে যাবে।
ভারত ভূষণ: পিনাক, আপনার কাছে শেষ প্রশ্ন। তরুণরা কোনদিকে যাবে?
পিনাক: আমি নির্বাচন নিয়ে আগাম অনুমান করবো না। তবে আমার মনে হয়, তরুণদের ভোট ভাগ হবে। এখানে নির্ভর করবে তাদের পরিবার, অঞ্চলের ওপর। তবে শহুরে তরুণরা মোটা দাগে আওয়ামী লীগের প্রতি সন্তুষ্ট নয়। আপনি দেখেছেন সব বিক্ষোভ। আমি মনে করি, তরুণদের ভোট তাই ভাগ হবে।
ভারত ভূষণ: আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই এই আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্য।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরান-রাশিয়াসহ ঐতিহাসিক কনভেনশনে সই করল ৫ দেশ

কনভেনশন সইয়ের অনুষ্ঠানের ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট নূর সুলতান নাজারবায়েভ এবং তুর্কমেনিস্তানের গুরবাঙ্গুলি বারদিমুখামেদভ উপস্থিত ছিলেন। কাজাখস্তানের বন্দরনগরী আকতাউয়ে আজ (রোববার) এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দুই দশকের বেশি সময় ধরে আলোচনার পর কাস্পিয়ান সাগরের আইনি অবস্থান নিয়ে কনভেনশন সই করা সম্ভব হলো। কনভেনশনে সই করা দেশগুলো হচ্ছে কাস্পিয়ান সাগরের তীরবর্তী দেশ এবং কাস্পিয়ান সাগরের সম্পদের মালিক তারাই।
কনভনেশনে ২৪টি অনুচ্ছেদ রয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ হচ্ছে এই সাগরে বাইরের কোনো দেশের সামরিক উপস্থিতি থাকতে পারবে না। এছাড়া, এ সাগর দিয়ে বাইরে কোনো দেশ কোনো সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন করতে পারবে না। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর কেউ তাদের নিজেদের কোনো সামরিক ঘাঁটি বাইরের কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করতে পারবে না।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ▼ 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...