Friday, August 26, 2011

গাদ্দাফি লিবিয়ার মজুদ স্বর্ণ বিক্রি করতে পারেন

লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফারহাত বেংদারা বলেছেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিজেকে রক্ষা এবং উপজাতিদের মধ্যে বিবেদ সৃষ্টির বীজ বপন করতে দেশের মজুদ স্বর্ণের একটি অংশ বিক্রির চেষ্টা করতে পারেন।
ফারহাত বর্তমানে বিদ্রোহীদের সমর্থক। তিনি ইতালির দৈনিক কোরিয়ের দেলা সেরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর এই আশঙ্কার কথা জানান। সাক্ষাৎকারটি গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়।
ইতালির ইউনিক্রেডিট ব্যাংকের বর্তমান পরিচালক বেংদারা বলেন, ‘সম্প্রতি গাদ্দাফির এক সহযোগী আমার এক বন্ধুর কাছে ২৫ টন সোনা বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছেন। ওই বন্ধু বিষয়টি আমাকে জানালে আমি তাঁকে ওই সোনা না কেনার পরামর্শ দিই। পরে ওই বন্ধু গাদ্দাফির সহযোগীর দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।’ গাদ্দাফি দেশের মজুদ স্বর্ণের একটি অংশ বিক্রির চেষ্টা করছেন—এই ঘটনা তারই পরিষ্কার ইঙ্গিত বহন করে। বেংদারা জানান, তাঁর ওই বন্ধু লিবিয়ার নাগরিক নন। তাঁর সম্পর্কে এর বেশি কিছু তিনি বলেননি।
বেংদারা বলেন, ত্রিপোলিতে এক হাজার কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণের মজুদ রয়েছে। গাদ্দাফি ওই স্বর্ণের কিছু নিয়ে নিতে পারেন।

রক্তপাত পরিহারের আহ্বান গাদ্দাফির জ্ঞাতি ভাইয়ের

রক্তপাত পরিহার ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার জন্য লিবিয়ার বিদ্রোহীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গাদ্দাফির জ্ঞাতি ভাই আহমেদ গাদ্দাফ আল-দাম। দুবাইভিত্তিক আল আরাবিয়া টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গতকাল বুধবার তিনি এ আহ্বান জানান।
লিবিয়ার বিদ্রোহী পরিষদের প্রধান আবদেল জলিলের নির্দেশ মেনে চলার জন্য লিবিয়ার জনগণের প্রতি আহ্বান জানান গাদ্দাফ আল-দাম। তিনি বলেন, আরও রক্তপাত এড়ানোর জন্য সামরিক-বেসামরিক লোকজনকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আবদেল জলিলের আহ্বানে সাড়া দিতে হবে।
আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার এবং গাদ্দাফির সরকারের লোকজনের ওপর প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে সহযোদ্ধাদের প্রতি গত সোমবার আহ্বান জানান আবদেল জলিল।
মিসরে জন্মগ্রহণকারী লিবীয় বাবা ও মিসরীয় মায়ের সন্তান গাদ্দাফ আল-দাম কায়রো ও লিবিয়া সরকারের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে লিবিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি একজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নেন।

লিবিয়ার লুটের অস্ত্র নিয়ে পশ্চিমের উদ্বেগ

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির বাব আল-আজিজিয়া দখলের পর ব্যাপক লুটপাট চালায় বিদ্রোহী যোদ্ধারা। এ সময় তারা অস্ত্রাগারও লুট করে। গত ছয় মাসের লড়াই চলাকালে আগেও গাদ্দাফি বাহিনীর অস্ত্রাগার লুট হয়েছে। যুদ্ধ শেষে এসব অস্ত্র বিক্রি হয়ে পাশের দেশগুলোতে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কয়েকটি পশ্চিমা দেশের কর্মকর্তারা বলছেন, লিবিয়ায় গাদ্দাফির অস্ত্রাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র বিক্রির নানা খবর তাঁদের কাছে আসছে। তা থেকে মনে হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশ নাইজার ও দক্ষিণ আফ্রিকার আরও কয়েকটি দেশের বিদ্রোহী এবং জঙ্গিদের হাতে চলে যেতে পারে এসব অস্ত্র।
কর্মকর্তারা জানান, তেজস্ক্রিয় বা রাসায়নিক পদার্থ লুট হয়ে যাওয়া বা পুনর্ব্যবহারের চেয়ে বরং প্রচলিত অস্ত্র অন্য দেশে পাচার হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তাঁরা বেশি উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে আছে, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র। ম্যানপ্যাড নামে পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্র মানুষই কাঁধে বহন করে ছুড়তে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্র জঙ্গিদের হাতে চলে যেতে পারে। এরপর তারা বিমান ধ্বংস করার কাজে তা লাগাতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড বলেন, ‘এসব খুবই ভয়ংকর অস্ত্র। আর তা যদি দুষ্কৃতকারীদের হাতে পড়ে, তাহলে সেটি হবে আরও বিধ্বংসী। আমরা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে এমন ভয়াবহ চিত্র দেখছি।’
গাদ্দাফির হাতে সর্বশেষ কী পরিমাণ ও কোন কোন ধরনের অস্ত্র ছিল, তা পরিষ্কার নয়। তবে পশ্চিমা কর্মকর্তারা মনে করেন, অস্ত্রভান্ডারের অনেক অস্ত্র এরই মধ্যে ব্যবহূত হয়ে গেছে এবং অনেক অস্ত্র বিদ্রোহীরা লুট করে নিয়েছে।
তবে গাদ্দাফি তাঁর বাহিনীর জন্য তুলনামূলক অত্যাধুনিক অস্ত্রের বিশাল মজুদ গড়ে তুলেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এই বিশাল অস্ত্রভান্ডারের অনেক কিছু হয়তো ব্যবহারই করা হয়নি।
নুল্যান্ড বলেন, এটা সবাই জানে যে লিবিয়া অস্ত্রে ছেয়ে গেছে এবং তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন।
লিবিয়ার প্রতিবেশীসহ ওই অঞ্চলের দেশগুলোতে ম্যানপ্যাড পৌঁছে গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সেখানে দুটি দল পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডগলাস ফ্রানজ বলেন, ‘আমি লিবিয়ার বিদ্রোহীদের মঙ্গল চাই, তবে গাদ্দাফির অস্ত্রাগার লুটের ঘটনাটি খুবই উদ্বেগের।’ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ করতে রাজি হননি, এটি তার একটি কারণ বলে জানান তিনি।
গাদ্দাফির অস্ত্রভান্ডারে ম্যানপ্যাড ছাড়াও অন্য যেসব অস্ত্র ছিল বলে ধারণা করা হয়, তার মধ্যে আছে ট্যাংক-বিধ্বংসী রকেট, সাঁজোয়া যান, রকেট দিয়ে ছোড়া হয় এমন গ্রেনেড ও বিস্ফোরক।

‘তাঁরা ভাবছিলেন গাদ্দাফিই জিতবেন’

গাড়িতে করে আমাদের যখন বাইরে আনা হলো তখন আমরা বুঝলাম, ত্রিপোলির খুব ছোট্ট একটি জায়গায় আমরা আটকে ছিলাম। আর যে দুই বন্দুকধারী নিরাপত্তারক্ষী আমাদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য এসেছেন, তাঁরা তখনো গাদ্দাফির পক্ষে লড়াই করার কথা ভাবছেন। এই লড়াইয়ে গাদ্দাফিই জিতবেন।’ ত্রিপোলির রিক্সোস হোটেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বিবিসির সাংবাদিক ম্যাথিউ প্রাইস এভাবেই তাঁর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।
লিবিয়ায় বিদ্রোহীদের সঙ্গে গাদ্দাফির অনুগত বাহিনীর লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে গত শনিবার থেকে পাঁচ দিন ধরে রিক্সোস হোটেলে আটকা পড়েছিলেন পশ্চিমা দেশের ৩৫ সাংবাদিক। গত বুধবার তাঁরা ছাড়া পেয়েছেন। তাঁদেরই একজন ম্যাথিউ প্রাইস।
প্রাইস বলেন, ‘আমাদের ছেড়ে দেওয়ার আগ পর্যন্ত নিরাপত্তারক্ষীরা মনে করছিলেন ত্রিপোলিতে এখনো লড়াই চলছে। আমরা হোটেল থেকে বাইরে গেলে বিদ্রোহীরা আমাদের ধরে হত্যা করবে। আমাদের মধ্যে যে নারীরা আছেন, তাঁদের ধর্ষণ করবে।’
রয়টার্সের সাংবাদিক মিসি রায়ান জানান, ওই কয় দিন তাঁরা সবাই মিলে হোটেলের একটি করিডরে ছিলেন। তবে নিরাপদ মনে করায় পরের দিকে হোটেলের একটি কক্ষ তাঁরা ব্যবহার করেন।
রায়ান বলেন, ‘খাবার ও পানি ফুরিয়ে আসছিল। বিদ্যুৎ নেই। বাইরে তুমুল লড়াই ও গোলাগুলির শব্দ পাচ্ছি। কিন্তু আমরা এ খবর বাইরের বিশ্বের কাছে পৌঁছাতে পারছি না। এভাবেই কেটেছে পাঁচটি দিন।’
রয়টার্সের সাংবাদিক বলেন, ‘আমাদের যারা পাহারা দিচ্ছে, খেপে গিয়ে তারাই হয়তো একসময় আমাদের ওপর গুলি চালিয়ে বসতে পারে অথবা বিদ্রোহীদের অতর্কিত হামলা বা গুপ্তঘাতকদের আক্রমণের শিকার হতে পারি।’
রায়ান বলেন, ‘বুধবার সকালে রেড ক্রসের কর্মকর্তারা হোটেলে পৌঁছেই আমাদের জানিয়ে দেন, যার যা আছে তা নিয়েই দ্রুত সরে পড়তে। এর পরই পড়িমরি করে বেরিয়ে পড়ি। আহ, মুক্তি!’

আঙ্গেলা সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সাময়িকী ফোর্বস-এর তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী নির্বাচিত হয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল। গত বুধবার সাময়িকীটি বিশ্বের ১০০ জন ক্ষমতাধর নারীর তালিকা প্রকাশ করে।
ফোর্বস সাময়িকী বলেছে, ‘জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল ইউরোপের এক প্রকৃত বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবিসংবাদিত নেতা।’
২০০৫ সালে ক্ষমতায় আসার পর ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এ তালিকায় টানা চারবার প্রথম হন তিনি। তবে গত বছর চতুর্থ স্থানে চলে যান। সেবার মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা প্রথম স্থানটি দখল করেছিলেন। তিনি এবার অষ্টম অবস্থানে নেমে গেছেন। আর গতবার তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। গত জানুয়ারি মাসে নির্বাচিত ব্রাজিলের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফ রয়েছেন তৃতীয় স্থানে।
এ ছাড়া প্রথম ১০ জনের তালিকায় রয়েছেন যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের কোমল পানীয় পেপসির প্রধান নির্বাহী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইন্দ্রা নুইয়ি, জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ফেসবুকের প্রধান অপারেশন কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গ, জনহিতৈষী মিলিন্ডা গেটস, ভারতের কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা।

দুঃসময় কাটিয়ে চূড়ান্ত পর্বে আর্সেনাল

অধিনায়ক সেস ফ্যাব্রিগাসকে হারিয়েছে। হারিয়েছে দলের অন্যতম তারকা সামির নাসরিকেও। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও শুরুটা হয়েছে এক ম্যাচ ড্র, অন্য ম্যাচ হেরে। কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের ওপরও ছিল উয়েফার নিষেধাজ্ঞার খড়্গ। নতুন মৌসুমে একের পর এক দুঃসংবাদ পাওয়া আর্সেনাল অবশেষে একটা সুসংবাদ পেল। প্লে-অফ রাউন্ড খেলে জায়গা করে নিল চ্যাম্পিয়নস লিগের মূল পর্বে। ইতালির উদিনেসেকে পরশু তাদেরই মাঠে আর্সেনাল হারাল ২-১ গোলে। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে গানাররা জিতেছিল ১-০ গোল। ফলে দুই লেগ মিলে ৩-১ গোলে জিতে চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করল আর্সেনাল।
আর্সেনালের পাশাপাশি চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করেছে অলিম্পিক লিওঁ আর বেনফিকাও। গত বছর চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলা রাশিয়ার রুবিন কাজানের সঙ্গে ফিরতি লেগে ১-১ গোলে ড্র করলেও লিওঁ চূড়ান্ত পর্বে উঠে গেল প্রথম লেগে ৩-১ গোলে জিতে থাকায়। ডাচ ক্লাব এফসি টোয়েন্টের সঙ্গে প্রথম লেগে ২-২ ড্র করা বেনফিকা ফিরতি লেগে জিতল ৩-১ গোলে। এই বড় দলগুলোর পাশাপাশি পরশু চ্যাম্পিয়নস লিগের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করেছে চেক প্রজাতন্ত্রের ভিক্টোরিয়া প্লাজেন আর বেলারুশের বাতে বরিসভ।
প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে থিও ওয়ালকটের একমাত্র গোলে জিতেছিল আর্সেনাল। ব্যবধান ন্যূনতম ছিল বলে ভয় ছিল পা হড়কানোর। নিজেদের মাঠে উদিনেসে এক গোল করলেও অন্তত অতিরিক্ত সময়ে কিংবা টাইব্রেকারে নিয়ে যেতে পারবে ম্যাচটি। সেই ভয়টাই আর্সেনালকে পেয়ে বসেছিল ৩৯ মিনিটে যখন আন্তোনিও ডি নাতালের গোলে এগিয়ে গেল উদিনেসে। পিছিয়ে পড়া আর্সেনাল ৫৫ মিনিটে নতুন অধিনায়ক রবিন ফন পার্সির গোলে সমতা ফেরায়। গানারদের জয় নিশ্চিত হয় প্রথম লেগের গোলদাতা ওয়ালকটের ৬৯ মিনিটের গোলে।
প্লে-অফ রাউন্ড শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে পরশু চূড়ান্ত হয়ে গেছে কোন ৩২টি দল অংশ নেবে এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে। কাল রাতে মোনাকোতে ড্রও হয়ে গেছে। নির্ধারিত হয়েছে গ্রুপ পর্বে কে মুখোমুখি হচ্ছে কার।

শিষ্যদের পাশে পাচ্ছেন মরিনহো

মাথার ওপর ঝুলছে নিষেধাজ্ঞার খড়্গ। তবে হোসে মরিনহো এই ভেবে স্বস্তি পেতে পারেন, রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়-সমর্থকেরা তাঁর পাশেই আছেন।
সুপার কাপের দ্বিতীয় লেগে বার্সেলোনার সহকারী কোচ টিটো ভিলানোভার চোখে আঙুলের খোঁচা মেরেছিলেন হোসে মরিনহো। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এর তদন্ত করছে। ৪ থেকে ১২ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন রিয়ালের পর্তুগিজ কোচ। অনেকে বলেছেন, এই অস্বাভাবিক আচরণের জন্য সর্বসাধারণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত মরিনহোর, বিশেষ করে বার্সেলোনার কাছে তো অবশ্যই। কিন্তু মরিনহো শুধু রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের কাছেই ক্ষমা চেয়েছেন।
রিয়ালের সমর্থকেরাও মরিনহোকে বুঝতে পেরেছে। এই দুর্দিনে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে কোচের। ‘মো, আপনার আঙুল আমাদের পথ দেখাচ্ছে। মো, আপনাকে ধন্যবাদ। মো, আপনার প্রতি আমাদের সমর্থন কখনো ওঠার নয়’—পরশু গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে বার্নাব্যু ট্রফির ম্যাচের সময় বার্নাব্যুর গ্যালারিতে এমন সব ব্যানার লিখে আনে রিয়ালের সমর্থকেরা। সার্জিও রামোস ও করিম বেনজেমার গোলে গালাতাসারাইকে হারিয়ে (২-১) বার্নাব্যু ট্রফি জিতেছে রিয়াল।
কোচকে সমর্থন জানিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের ওয়েবসাইটে ডিফেন্ডার সার্জিও রামোস লিখেছেন, ‘মরিনহোর প্রতি পুরো দলের পূর্ণ সমর্থন আছে। তিনি আমাদের চালান। কোচ যা করতে বলবেন, আমরা তাই করব। তিনি সব সময়ই আমাদের সমর্থন পাবেন, যেমন আমরা সব সময় তার সমর্থন পাই।

সিরিয়ায় সামরিক অভিযান নয়

লিবিয়ায় সফলতা সত্ত্বেও সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। কারণ, সিরিয়ার সরকারবিরোধীরা তেমন সংগঠিত নয়। সেখানে তারা শক্তিশালী এক শাসকগোষ্ঠীকে মোকাবিলা করছে। খবর এএফপির।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, গাদ্দাফির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ন্যাটোর বিমান হামলার ঘটনায় লিবিয়ার বিদ্রোহীদের সুবিধা হলেও সিরিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপ তেমন কার্যকর হবে না।
আরেক বিশ্লেষক বলেন, লিবিয়ার মতো সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালাতে গেলে আরবদের বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সিরিয়ায় হস্তক্ষেপের ফলে বৃহত্তর আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সিরিয়ার বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর অভিযান বন্ধ করতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ওপর আন্তর্জাতিক অবরোধ ও কূটনৈতিক চাপ ব্যর্থ হলে দেশটিতে যৌথ সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে—এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড। এ ক্ষেত্রে তাঁরা মহাত্মা গান্ধী ও মার্টিন লুথার কিংয়ের পথ অনুসরণ করছেন বলে জানান।
লিবিয়ায় সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাঁলে জুপে বলেন, সিরিয়ায় এমন কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না।

২৫০ কোটি ডলার সাহায্য চেয়েছে লিবিয়ার বিদ্রোহীরা

আন্তর্জাতিক দাতাদের কাছে এ মাসের শেষ নাগাদ ২৫০ কোটি ডলার সাহায্য চেয়েছে লিবিয়ায় বিদ্রোহীদের গঠিত জাতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ (এনটিসি)। পরিষদের প্রধানমন্ত্রী মাহমুদ জিব্রাইল গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানান।
কাতারের রাজধানী দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদ জিব্রাইল বলেন, সাহায্যের বিষয়টি আলোচনা করতে এনটিসির সদস্যরা আজ বুধবার যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি, ব্রিটেন, তুরস্ক ও কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দোহায় বৈঠকে বসছেন।
জিব্রাইল বলেন, ‘এখন আমাদের পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আশা করছি, রমজান শেষ হওয়ার আগেই সাহায্য পাওয়া যাবে। এ সাহায্য দিয়ে লিবীয় জনগণের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং আহত ব্যক্তিদের চিকি ৎ সা করা হবে।’
জিব্রাইল আশা করছেন, গাদ্দাফির বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের সময় লিবিয়ার জব্দ হওয়া সম্পদ তাঁরা শিগগির পেয়ে যাবেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জব্দ হওয়া সম্পদ উদ্ধারে চেষ্টা চালাবে। লিবিয়ার প্রায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ হয়েছে। এ ছাড়া তাঁরা নতুন তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
মাহমুদ জিব্রাইল বলেন, যত দ্রুত সম্ভব তেলক্ষেত্রগুলোয় পুনরায় কাজ শুরুর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গৃহযুদ্ধের আগে লিবিয়া প্রতিদিন ১৬ লাখ ব্যারেল তেল উ ৎ পাদন করত। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, তেলক্ষেত্রগুলো সচল করতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের স্বার্থে হরতাল-বন্ধ্ চান না মমতা

পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের স্বার্থে রাজ্যে হরতাল, বন্ধ্, অবরোধ কর্মসূচি বন্ধ করতে চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ লক্ষ্যে তিনি এখন চাইছেন একটি সর্বদলীয় বৈঠক করতে। সব রাজনৈতিক দলের মতৈক্য হলে তিনি এই রাজ্যে হরতাল, অবরোধ ইত্যাদি বন্ধে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবেন।
মমতা অবশ্য স্বীকার করেছেন, ‘বন্ধ্ ও হরতালের রাজনীতি আমরাও একসময় করেছিলাম। কিন্তু রাজ্যের স্বার্থে এখন আর নয়।’
তবে মমতার এ বক্তব্যের পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও সিপিএমের বিধায়ক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, লড়াইয়ের শেষ অস্ত্র হিসেবে ধর্মঘটের অধিকার ছাড়বে না মানুষ। বিরোধী দলে থাকাকালে বরং বন্ধ্-ধর্মঘটের অপব্যবহার করেছে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর দলই।

গাদ্দাফিই লিবিয়ার বৈধ নেতা: চাভেজ

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ গত মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি শুধু মুয়াম্মার গাদ্দাফিকেই লিবিয়ার বৈধ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে যাবেন। গাদ্দাফির পতন ঘনিয়ে আসার মুহূর্তে চাভেজ এই ঘোষণা দেন। খবর এএফপির।
চাভেজ বলেন, লিবিয়ায় শুধু একটি সরকারই আছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন মুয়াম্মার গাদ্দাফি।
চাভেজ আগের মতো আবারও লিবিয়ায় ন্যাটোর বোমা হামলার সমালোচনা করেন। ন্যাটোর হামলা দেশটির গাদ্দাফিবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে।
ভেনেজুয়েলার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে চাভেজ বলেন, ‘আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে লিবিয়ায় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের প্রতি আমাদের সংহতি প্রকাশ করছি।’ চাভেজের বিবৃতি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচারিত হয়।
খনিজ তেল রপ্তানিকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের ১২ সদস্যের অন্যতম হলো ভেনেজুয়েলা ও লিবিয়া। চাভেজ অভিযোগ করেন, পশ্চিমা দেশগুলো ‘হতাশাবাদে’ প্রণোদিত হয়ে উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার মজুদ করা তেল দখলের লোভ করছে। একটি দেশ ও এর ধনসম্পদ দখলের জন্য অভিযান চালানো একটি অজুহাত মাত্র।
গত সপ্তাহে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের সঙ্গে বৈঠক করে লিবিয়ায় ‘সাম্রাজ্যবাদী অভিযান’ চালানোয় পশ্চিমাদের নিন্দা করেছিলেন চাভেজ। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর বিরোধ রয়েছে।
লাতিন আমেরিকায় গাদ্দাফির প্রধান সমর্থক হলেন হুগো চাভেজ। ভেনেজুয়েলার সহযোগী ইকুয়েডরও একই ধরনের কথা বলেছে।
মঙ্গলবার ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিকোর্দো পাতিনো সরকারি অনলাইন সংবাদপত্রকে বলেন, এখন তারা (ন্যাটো ও পশ্চিমা বিশ্ব) ইরাকের মতো লিবিয়ার তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে, যা আগেই অনুমান করা হয়েছিল। তারা ইরাকে হামলা চালিয়ে তেলের নিয়ন্ত্রণ নেয়, সহস্রাধিক লোককে হত্যা করে।

আন্নার অনশন ভাঙাতে বিরোধীদের সহযোগিতা চাইলেন মনমোহন

ভারতে লোকপাল বিলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আহ্বানে সর্বদলীয় বৈঠক হয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এই বৈঠক হয়। এতে তিনি জোরালো লোকপাল আইনের দাবিতে অনশনরত সমাজকর্মী আন্না হাজারে ও তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসনে বিরোধী দলগুলোর নেতাদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন। আন্না হাজারে অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বৈঠকে মনমোহন সিং আন্না ও তাঁর সমর্থক দলের দাবি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, তাঁদের দাবিগুলো হচ্ছে, পার্লামেন্টে উত্থাপিত এর আগের বিলটি প্রত্যাহার করা, চার দিনের মধ্যে পার্লামেন্টে লোকপাল বিল উত্থাপন ও চলতি অধিবেশনেই আলোচনার মাধ্যমে বিলটি অনুমোদন করা।
এর আগে গতকাল সকালে সমাজকর্মী আন্না হাজারের সমর্থকদের পক্ষ থেকে সরকারের বিবেচনার জন্য লোকপাল বিলের খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবটি সরকারি পক্ষের প্রধান মধ্যস্থতাকারী অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির কাছে পাঠানো হবে। সরকার পক্ষের সঙ্গে দেড় ঘণ্টার বৈঠকে আন্নার দল ওই প্রস্তাব পেশ করে।
সূত্র জানায়, বৈঠকের পর উভয় পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনাটি ভালো হয়েছে। তবে তারা এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আন্নার সমর্থক দলের তিন সদস্য অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কিরণ বেদি ও প্রসাদ ভূষণ। সরকার পক্ষে নেতৃত্ব দেন আইনমন্ত্রী সালমান খুরশিদ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পূর্ব দিল্লির সাংসদ সন্দীপ দীক্ষিত ও মুখ্যমন্ত্রী শায়লা দীক্ষিত।
সালমান খুরশিদ বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারলেও আলোচনা ভালো হয়েছে। আবারও আলোচনা হবে।
অচলাবস্থা নিরসনে গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকের পর আন্না ও তাঁর সমর্থক দল সরকার পক্ষের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে সাক্ষা ৎ করার কথা।
এদিকে ভারতের দুর্নীতিবিরোধী সমাজকর্মী আন্না হাজারেকে সমর্থন দিতে গতকাল সকালে দিল্লির রামলীলা ময়দানে আকস্মিকভাবে উপস্থিত হন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংসদ ও গান্ধী পরিবারের সদস্য বরুণ গান্ধী।
বরুণ গান্ধী মৌখিকভাবে আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আন্না হাজারের অনশনস্থল রামলীলা ময়দানে তাঁর এই আগমনের সঙ্গে তাঁর দল বিজেপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, ভারতের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে তিনি রামলীলা ময়দানে এসেছেন। আন্নার আন্দোলনকে তিনি সমর্থন করেন।

আবারও ফাঁসছেন মরিনহো

বার্সেলোনা আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ করেনি। তা বলে হোসে মরিনহো মুক্তি পাচ্ছেন না। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন নিজ উদ্যোগে তদন্ত করছে রিয়াল মাদ্রিদের কোচের বিরুদ্ধে। ৪ থেকে ১২ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন রিয়ালের পর্তুগিজ কোচ।
সুপার কাপের দ্বিতীয় লেগে বার্সেলোনার সহকারী কোচ টিটো ভিলানোভার দিকে তেড়ে গিয়েছিলেন রিয়ালের মাদ্রিদ কোচ। তাঁর চোখে খোঁচাও দিয়েছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।
মরিনহো স্পেনের ফুটবলে পাগুলে কাণ্ডকীর্তি করে আসছেন গত মৌসুম রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকেই। মাঠে প্রায় প্রতিদিনই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন, অথচ রিয়ালকে এনে দিতে পারেননি বড় কোনো শিরোপা। গুঞ্জন ছিল মরিনহো রিয়াল ছেড়ে চলে যাবেন। সেটি একটু থিতিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু আবার তা জোর পেল।
তবে মরিনহো বলেছেন, তিনি এভাবে ছেড়ে যাওয়ার পাত্র নন। ‘আমাকে যারা চেনে না শুধু তারাই এ অবস্থায় আমার রিয়াল ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবছে। প্রাক-মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের পারফরম্যান্সে অনেকেই বিস্মিত। আমি কিছুতেই ক্লাব ছাড়ছি না, এটা সম্ভবত তাদের জন্য আরেকটি বিস্মিত হওয়ার মতো খবর’—ক্লাবের ওয়েবসাইটে সমর্থকদের উদ্দেশে লিখেছেন মরিনহো।
কেন তিনি এখনই রিয়াল ছাড়ছেন না, মরিনহো সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, ‘আমার রিয়াল ছাড়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। দারুণ একজন সভাপতি পেয়েছি। যিনি অনেক বুদ্ধিমান এবং আমার বন্ধু মানুষ।’ সুপার কাপের দ্বিতীয় লেগে নিজে যে আচরণ করেছেন সেজন্য মরিনহোকে অনেকে ক্ষমাও চাইতে বলেছেন। কিন্তু মরিনহো সাধারণভাবে ক্ষমা চাইতে নারাজ, ‘আমি মাদ্রিদের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে পারি। শুধু তাদের কাছেই। কিছু মানুষ ফুটবলে ভণ্ডামির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে। ওরা নিজেদের আসল চেহারা লুকিয়ে রাখে এবং টানেলের অনেক ভেতরে গিয়ে কানে কানে কথা বলে! আমি ভণ্ডামি করতে জানি না এবং করতেও চাই না।’

গ্রুপ পর্বে বায়ার্ন ও ভিয়ারিয়াল

চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নিতে পেরে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল বায়ার্ন মিউনিখ। পরশু সুইজারল্যান্ডের এফসি জুরিখকে দ্বিতীয় লেগে ১-০ গোলে হারিয়েছে চারবারের চ্যাম্পিয়নরা। ৭ মিনিটে স্ট্রাইকার মারিও গোমেজ একমাত্র গোলটি করেন। দুই লিগ মিলিয়ে জয় ৩-০ গোলে। গ্রুপ পর্বে উঠেই লক্ষ্য ঠিক করে ফেলেছে ‘জার্মান দানব’, আগামী বছরের মে মাসে ঘরের মাঠ অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ফাইনাল খেলা। তবে তার আগে গ্রুপ পর্বের সূচিটা হতে হবে মনের মতো। নিশ্চয়ই কঠিন প্রতিপক্ষ এড়াতে চাইবে বায়ার্ন। আজ রাতে হবে গ্রুপ পর্বের ড্র।
লজ্জার হাত থেকে বেঁচেছে স্পেনের ভিয়ারিয়ালও। প্রথম লেগে ডেনমার্কের ওডেন্স ওবির কাছে ১-০ গোলে হেরে চাপে ছিল স্প্যানিশ ক্লাবটি। পরশু নিজেদের মাঠে চাপটা আরও বেড়েছিল প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকায়। শেষ পর্যন্ত ইতালিয়ান স্ট্রাইকার জিউসেপ্পে রসির দুই ও মার্চেনার গোলে ৩-০-এ জিতেই গ্রুপ পর্বে নিজেদের জায়গা করে নেয় তারা। এ নিয়ে তৃতীয়বার গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নিল ‘হলুদ সাবমেরিন’ নামে পরিচিত ভিয়ারিয়াল।
গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নিয়েছে সাইপ্রাসের আপোয়েল নিকোসিয়া, বেলজিয়ামের জেঙ্ক এবং ক্রোয়েশিয়ার ডায়নামো জাগরেব।