Tuesday, April 26, 2011

আইপিএল দারুণ উন্মুক্ত, জমজমাট: গিলক্রিস্ট

দারুণ জমে উঠেছে আইপিএলের চতুর্থ আসর। মুম্বাই ইন্ডিয়ানস, রাজস্থান রয়েলস, কলকাতা নাইট রাইডার্স, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। এই চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজই একে অপরের কাঁধে নিঃশ্বাস ফেলে এগিয়ে চলেছে। শচীন টেন্ডুলকারের মুম্বাই এই মুহূর্তে নিজেদের ছয়টি খেলায় পাঁচটি জয় নিয়ে শীর্ষে থাকলেও কলকাতা, পাঞ্জাব, রাজস্থান বাকি তিনটি দলের যে কেউই উঠে আসতে পারে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। সেদিক দিয়ে এবারের আইপিএলকে জমজমাট ও উন্মুক্ত একটি আসর বলেই মনে হচ্ছে পাঞ্জাব অধিনায়ক অ্যাডাম গিলক্রিস্টের।
তিনি এই আসরে মুম্বাইকে সেরা দল উল্লেখ করে বলেন, ‘সন্দেহ নেই মুম্বাই এবারের আসরের সেরা দল। তবে কলকাতা, রাজস্থান, পাঞ্জাব এই তিনটি দলের যেকোনো একটিই মুম্বাইয়ের অবস্থান টলিয়ে দিতে সক্ষম।
গিলক্রিস্টের মতে, ‘এখন থেকে প্রতিটি দলের প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচগুলোতে কোনো ভুলই পিছিয়ে দিতে পারে যেকোনো দলকে।’
নিজের দল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আগামী দুটো ম্যাচ আমরা জিততে চাই। এই দুটো ম্যাচ জিতলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের অবস্থান সুসংহত হবে।’
দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপক্ষে পরাজয়টিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে গিলক্রিস্ট বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ম্যাচই জিততে চাই। তবে বাস্তবতা হলো আপনি সব সময়ই একই গতিতে জিতে যেতে পারবেন না। কিন্তু নিজেদের সেরাটা দিয়ে যেতে হবে। আমরা মাঠে সেটারই প্রয়াস চালাচ্ছি।’
কলকাতা নাইট রাইডার্সকে দারুণ একটি দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের পরবর্তী ম্যাচ এই দলটির বিপক্ষেই। আমরা সেই ম্যাচটিতে জিততে চাই।

প্রভাষকদের টাইম স্কেল ব্য মাহবুব আলী



অবশেষে বেসরকারি প্রভাষকদের টাইম স্কেল বাদ দিয়ে বেসরকারি সব শিক্ষকের ২০১১ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির বেতন-ভাতার সরকারি অংশ ব্যাংকে পৌঁছেছে। শিক্ষকেরা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দুই মাসের বেতন-ভাতা ব্যাংক থেকে নিজ নিজ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তুলছেন, যখন মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ শুরু হয়ে গেছে। শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড এবং শিক্ষকেরা মানুষ গড়ার কারিগর—সনাতন এসব বাণীর মুখে সরকারি এই অনীহা, জটিলতা এবং শেষমেশ শম্বুকগতির তৎপরতা বেসরকারি শিক্ষকদের ওপর একধরনের আঘাত ছাড়া আর কিছু নয়। কেননা বসন্তের গান বর্ষায় মানায় না। ঘটনা আরও দুঃখ ও অপমানজনক এই যে কলেজ ও মাদ্রাসার ১৮ হাজার প্রভাষক, যাঁরা ২০১০ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরের বেতন-ভাতার সরকারি অংশে টাইম স্কেল পেয়েছিলেন, তাঁদের সেই বর্ধিত অর্থ স্থগিত করা হয়েছে। অর্থাৎ যেসব প্রভাষক টাইম স্কেল পেয়ে ওই দুই মাস তিন থেকে চার হাজার টাকা ন্যায্য হিসেবে পেয়েছিলেন, তাঁদের সেই অংশ ২০১১-এর জানুয়ারি থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১০-এর নভেম্বর ও ডিসেম্বরে প্রভাষকদের টাইম স্কেল বাবদ যে বর্ধিত অর্থ দিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এর যথাযথ ব্যাখ্যা অর্থ মন্ত্রণালয়কে দিতে পারেনি। টাইম স্কেলপ্রাপ্ত প্রভাষকদের বর্ধিত অঙ্ক দিতে ৬৪২ কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রভাষকদের টাইম স্কেল দিয়ে আবার স্থগিত করায় নিন্দা, বিক্ষোভ, মানববন্ধন, মিছিল ইত্যাদি প্রক্রিয়ার সঙ্গে অবিলম্বে টাইম স্কেল চালু করে বকেয়া হিসেবে পূর্ণ বেতন-ভাতাসহ ২০১১-এর মার্চের বেতন দাবি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেননও তাঁদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করেছেন।
দেশে প্রায় ২৭ হাজার এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে বলে এক তথ্যে জানা গেছে, যার মধ্যে কলেজ দুই হাজার ৩৭০টি এবং মাদ্রাসা সাত হাজার ৫৯৭টি। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন তিন লাখ ৫৭ হাজার ২৮৮ জন শিক্ষক-প্রভাষক এবং এক লাখ পাঁচ হাজার ৩৭৪ জন কর্মচারী। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে দেশের অন্যূন ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা শিখে থাকে। এর মধ্যে বৃহদাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো বেতন বা ফি নেওয়া হয় না। কেননা শিক্ষকেরা নিজেদের চাকরি বাঁচাতে অভিভাবকদের অনুরোধ-উপরোধের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী সংগ্রহ করে থাকেন। এরপর সেই ছাত্রছাত্রীকে পাস করানোর জন্য প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালান। এ কথাও সত্য যে শুধু পাস করানোর জন্য বেসরকারি শিক্ষকেরা অনৈতিক কাজও করে থাকেন। কেননা নির্দিষ্টসংখ্যক বা ৩০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী পাস না করলে এমপিও বাতিল হতে পারে। এ জন্য কোনো কোনো অনৈতিকতারও আশ্রয় নেওয়া হয়।
শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। তাঁরা সমাজকে দেন, বিনিময়ে তেমন কিছু চান না। কিন্তু বর্তমান সময়ে চরম বেকারসমস্যার কারণে সেই শাশ্বত কমিটমেন্ট নিয়ে অনেকেই শিক্ষকতা করেন না, করতে পারেন না। এটি একটি চাকরি। মাস গেলে বেতন বা কয়েকটি মুদ্রা পাওয়া যায়, ব্যস। অন্যদিকে, যার নেই কোনো গতি সে-ই করে পণ্ডিতি। ভালো চাকরি না জোটার কারণে কোনো মেধাবী লোক শিক্ষকতা পেশায় আসছেন বটে, তবে তাঁদের অধিকাংশেরই সেই মানুষ গড়ে তোলার কমিটমেন্ট নেই। কেননা বঞ্চিত মানুষ শুধু চাকরি করেন। দেশে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে কর্মরত অধিকাংশ শিক্ষক সাধারণ জ্ঞান ও মেধার নিচে অবস্থান করছেন। তাঁদের দ্বারা শিক্ষা প্রদান হয় না। সুতরাং তাঁদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মেধাবী শিক্ষক নির্বাচন করে সরকারি অনুদানভুক্ত করা যায়। কিন্তু সেই কাজটি করার জন্য যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাঁরা নিজেরাই যদি ভূত হয়ে বসেন, তাহলে শর্ষের মধ্য থেকে ভূত তাড়ানো মুশকিল। আর এটিই হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের মূল্যায়ন ও মাঠপর্যায়ে তথ্য গ্রহণে যাঁরা যান, তাঁদের বেশির ভাগ টাকা খেয়ে অযোগ্য ও দায়িত্বহীন শিক্ষককে ‘অনুমোদন’ দিয়ে আসেন। ফলে বেসরকারি শিক্ষা আরও প্রস্ফুটিত হতে পারেনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি প্রভাষকদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে রেখেছে। যেখানে একটি ডিগ্রি কলেজে বিষয়ভিত্তিক দুই বা ততোধিক প্রভাষক রয়েছেন, সেখানে ফাজিল মাদ্রাসায় একজন প্রভাষককে একাদশ-দ্বাদশ থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত সমস্ত চাপ সামলাতে হয়। প্রভাষকদের চাকরির আট বছর অতিক্রান্ত হলে যে টাইম স্কেল দেওয়া হয়, তার জন্য ওই প্রভাষককে গভর্নিং বডির হাতে-পায়ে তেল লাগানো ছাড়াও অতিরিক্ত খরচাপাতি করতে হয়। এটি স্বয়ংক্রিয় হলে সমস্যা থাকে না এবং তাঁদের মধ্যেও কাজে সন্তুষ্টি আসে। এদিকে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে উচ্চতর স্কেলের বিষয়ে আনুপাতিক হিসাব। অর্থাৎ তিনজন প্রভাষকের মধ্যে একজনমাত্র উচ্চতর স্কেলপ্রাপ্ত হবেন, অন্যরা হবেন না। এটি কোন ধরনের সামাজিক ন্যায়বিচার, তা বোধগম্য নয়। এতে দেখা যায়, সামান্য দু-এক ঘণ্টার জন্যও কাউকে বঞ্চিত হতে হয়।
আমরা বেসরকারি শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপসহ প্রভাষকদের টাইম স্কেল পুনর্বহাল করে বকেয়াসহ বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য সরকারের উদ্যোগ দেখতে চাই। প্রত্যাশা করি, একটি সমন্বিত ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপদ্ধতির বাস্তবায়ন করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগিয়ে নেওয়া হোক।
মাহবুব আলী: কলেজশিক্ষক।
mahbubali007@gmail.com

যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংসের হুমকি দিল উত্তর কোরিয়া

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে আবারও ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির সেনাবাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈঠকে এ হুমকি দেওয়া হয়।
সরকারি কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, সেনাবাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে গতকাল রোববার পিয়ংইয়ংয়ে এক বৈঠকে পিপলস আর্মড ফোর্সেস মন্ত্রী কিম ইয়ং চুন ওই হুঁশিয়ারি দেন।
কিমকে উদ্ধৃত করে কেসিএনএ জানায়, উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী করুণা করতে জানে না এবং জোট যদি কোনো যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়, তাহলে তাদের ‘নিশ্চিহ্ন করে ফেলা’ হবে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া চালায়। এই মহড়া নিয়ে যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

ভোটাধিকারের দাবিতে সৌদি আরবে নারীদের বিক্ষোভ

ভোটাধিকারের দাবিতে সৌদি আরবে একদল নারী গত শনিবার নজিরবিহীন বিক্ষোভ করেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে তাঁরা ভোটার নিবন্ধন কার্যালয়ে সমবেত হন। বিক্ষোভকারীদের একজন গতকাল রোববার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নায়লা আত্তার নামে একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা আমাদের বক্তব্য সবাইকে শোনাতে চাই।’
সূত্র জানায়, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করতে জেদ্দার একটি ভোটার নিবন্ধন কার্যালয়ে যান ওই নারীরা। বিক্ষোভকারীরা সেখানে থাকা কর্মকর্তাদের বলেন, তাঁরা জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত থাকতে চান।
নায়লা বলেন, সেপ্টেম্বরে পৌর কাউন্সিলের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য তাঁদের দেওয়া আবেদনপত্র ‘ভদ্রতার সঙ্গে’ প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন ভোটার নিবন্ধনকেন্দ্রের প্রধান। নিবন্ধনকেন্দ্রের প্রধান তাঁদের এ কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, নারীদের ভোটাধিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সৌদি আরবে নারীরা এখনো গাড়ি চালাতে পারেন না। এ ছাড়া পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কোনো নারী একাকি ভ্রমণ করতে পারেন না।

থাই-কম্বোডিয়া সীমান্তে আবারও সংঘর্ষ

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় গতকাল রোববার তৃতীয় দিনের মতো দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এদিকে সংঘাত অবসানে দুই দেশের প্রতি অস্ত্রবিরতি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন।
গত শুক্রবার ভোরে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুরিন প্রদেশের বিতর্কিত সীমান্তে তা মোয়েং ও তা ক্রাবেই মন্দিরসংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। গত তিন দিনের দুই পক্ষের সংঘর্ষে কম্বোডিয়ার ছয় সেনা ও থাইল্যান্ডের চার সেনা নিহত হয়।
গতকালের সংঘর্ষে হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংঘাতপূর্ণ সীমান্ত এলাকার দুই দেশেরই কয়েক হাজার গ্রামবাসীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তা মোয়েং মন্দিরসংলগ্ন এলাকা দখলে নিতে থাই সেনারা গতকাল সকাল থেকে শত শত গোলা বর্ষণ করছে। সেনারা বেসামরিক নাগরিকদের বসবাসের এলাকায় এসব হামলা চালাচ্ছে।
থাইল্যান্ডের সেনা মুখপাত্র সানসেরন এএফপিকে বলেছেন, তাঁদের সেনারা আগে হামলা করেননি। কম্বোডিয়ার সেনাদের হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে তাঁদের বাহিনী।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়া বলেছেন, তাঁর দেশ বিষয়টি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসতে চাচ্ছিল। কিন্তু কম্বোডিয়া এখন আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশে সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে।
তা ক্রাবেই এলাকার প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ৯০০ বছরের পুরোনো প্রিয়া বিহার মন্দির অবস্থিত। গত ফেব্রুয়ারিতে সেখানে দুই দেশের সেনা সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হন।
থাইল্যান্ডের কর্তৃপক্ষের দাবি, ১৯৪৭ সালের মানচিত্র অনুযায়ী তিনটি মন্দিরই তাঁদের সুরিন প্রদেশে পড়েছে। এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে, কম্বোডিয়া দাবি করে আসছে, মন্দিরগুলো তাঁদের ওদার মিনশেই প্রদেশে অবস্থিত। ২০০৮ সালে থাইল্যান্ড অভিযোগ করে, কম্বোডিয়া ওই মন্দিরগুলোকে সেনাঘাঁটিতে পরিণত করছে।
এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, সামরিক কায়দায় সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব নয়। এ জন্য প্রতিবেশী দেশ দুটির আন্তরিকভাবে আলোচনায় বসা উচিত। মহাসচিব উভয় দেশকে সর্বোচ্চ ধৈর্যধারণ করে স্থায়ী ও কার্যকর অস্ত্রবিরতির লক্ষ্যে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। বান কি মুনের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র মার্টিন নেসিরকি এ তথ্য দিয়েছেন।

নিহতদের লাশের সন্ধানে আজ অভিযান শুরু

জাপানে গত মাসের ভূমিকম্প ও সুনামিতে অসংখ্য মানুষ মারা গেছে। সবার মৃতদেহ এখনো পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাই দেশটির সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে করেই হোক নিহত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করা হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ২৫ হাজার সেনা পাঠানো হবে। সঙ্গে থাকবে বিশেষ নৌকা ও বিমান। জাপানের ইতিহাসে ভয়াবহতম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ৪৩ দিন পর আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ব্যাপক আকারের নতুন অভিযান।
জাপানে গত ১১ মার্চ শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পরপরই আঘাত করে সুনামি। জোড়া এই আঘাতে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১৪ হাজার ৩০০ লোকের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা গেছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও ১২ হাজার। ধারণা করা হচ্ছে, তারা সবাই মারা গেছে। তাদের কারও কারও লাশ সাগরে ভেসে গেছে, কেউবা চাপা পড়েছে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে গিয়ে ঘটনার প্রায় দেড় মাস পরও বেশ কয়েকটি দেহাবশেষ বেরিয়ে এসেছে। এর পরই কর্তৃপক্ষ আরও ব্যাপক আকারে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উদ্ধারকর্মীদের মাধ্যমে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কৃষি কর্মকর্তাদেরও পাঠানো হবে। তাঁরা হাজার হাজার পরিত্যক্ত গরু, শূকর ও মুরগির স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইপ্পো মায়েমা গতকাল রোববার বলেছেন, ‘দুই দিন ধরে এ তল্লাশি অভিযান চালানো হবে। নিহতদের দেহাবশেষের সন্ধানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

দক্ষিণ সুদানে সংঘর্ষে ৫৫ জন নিহত

দক্ষিণ সুদানে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী মিলিশিয়াদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৫৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অনেকে। একজন সরকারি কর্মকর্তা গতকাল রোববার এসব তথ্য জানিয়েছেন।
শিগগিরই স্বাধীন হতে যাওয়া দক্ষিণ সুদানের জোঙলেই অঞ্চলে গত শনিবার সকালে সুদান পিপলস লিবারেশন আর্মি (এসপিএলএ) ও সাবেক মিলিশিয়া নেতা গ্যাব্রিয়েল তাঙের নেতৃত্বাধীন (তাঙ-জিন) বন্দুকধারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
দেশটির আপার নিল প্রদেশের তথ্যমন্ত্রী পিটার ল্যাম বোথ প্রাদেশিক রাজধানী মালাকাই থেকে জানিয়েছেন, কালদাক নামক স্থানে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে গোলাগুলি শুরু হয়। পরে তা ব্যাপক আকার ধারণ করে। তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয় এ সংঘর্ষ। এতে তাঙ-জিনের ৫০ জন সেনাসদস্য ও পাঁচজন জেনারেল প্রাণ হারান।
সংঘর্ষে এসপিএলএ-এর কোনো সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে উভয় পক্ষ দাবি করেছে, তাদের বেশ কয়েকজন আহত সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য মালাকাই নেওয়া হয়েছে।

মিসরাতায় গাদ্দাফি বাহিনীর ব্যাপক হামলা

লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মিসরাতায় গতকাল রোববার গাদ্দাফি বাহিনী ব্যাপক বোমা ও রকেট হামলা চালিয়েছে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ কাইম ‘মিসরাতা অভিযান স্থগিত করা হয়েছে’ ঘোষণা করার কিছুক্ষণ পরই গাদ্দাফির অনুগত সেনারা এই হামলা চালায়। এদিকে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে ন্যাটো আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ কাইম গতকাল সকালের দিকে রাজধানী ত্রিপোলিতে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মিসরাতায় অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। তবে সেনা প্রত্যাহার করা হয়নি। একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করতে স্থানীয় উপজাতি নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘উপজাতি নেতারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ...আমরা বিশ্বাস করি, মিসরাতার পরিস্থিতি সামরিকভাবে নয়, শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে।’
কিন্তু উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাইমের এমন বক্তব্যের পরও মিসরাতায় গাদ্দাফি বাহিনী হামলা চালায়। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে শহরটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে গাদ্দাফির অনুগত সেনারা। শহরের বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহীদের সঙ্গে গাদ্দাফি বাহিনীর গেরিলাযুদ্ধ চলে। লিবিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম এই শহরে গত শনিবার ২৮ জন নিহত ও অন্তত ১০০ জন আহত হয়। মিসরাতার বেসরকারি প্রধান হাসপাতালের চিকিৎসক খালিদ আবু ফালরা জানান, শহরে প্রতিদিন গড়ে ১১ জন করে নিহত হচ্ছে।
লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানা জানায়, ত্রিপোলির সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ন্যাটো বিমান হামলা চালিয়েছে। আল-খুমস, ঘরিয়ান, এল আসা ও সিরতে এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। তবে এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকেরা জানান, ত্রিপোলির ওপর দিয়ে ন্যাটোর বিমান চলে যাওয়ার পর পর তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছু সময় আগে ত্রিপোলির কেন্দ্রস্থলসহ কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এ ছাড়া বিমানবিধ্বংসী গোলা ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলির শব্দ পাওয়া গেছে।
এদিকে ন্যাটো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের চালকবিহীন যুদ্ধবিমান দিয়ে লিবিয়ায় হামলা চালানো হয়েছে। এতে মিসরাতায় বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে হামলার উদ্দেশ্যে রাখা গাদ্দাফি বাহিনীর বহু রকেট লঞ্চার ধ্বংস হয়।
অনেক দেশে গাদ্দাফির সম্পদ বাজেয়াপ্ত হচ্ছে না: মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক দেশ গাদ্দাফির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখাচ্ছে। আবার কোনো কোনো দেশ তাঁর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দুটি প্রস্তাব পাস হয়। এতে বিভিন্ন দেশে থাকা গাদ্দাফির সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং গাদ্দাফি, তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠ ১৮ ব্যক্তির লিবিয়া ছাড়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে সূত্রের নাম উল্লেখ না করে বলা হয়, মধ্য ফেব্রুয়ারিতে লিবিয়ায় বিদ্রোহ শুরুর পর থেকে গাদ্দাফি বিভিন্ন দেশ থেকে শত শত কোটি ডলার ফেরত নিয়েছেন। এতে আরও বলা হয়, তুরস্ক, কেনিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ গাদ্দাফির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে গড়িমসি করছে। এই দেশগুলোর সঙ্গে লিবিয়ার ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।

নেপালে বাড়ছে গন্ডারের সংখ্যা

গৃহযুদ্ধ অবসানের পর নেপালের বনাঞ্চলে গন্ডারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ সংখ্যা ৫০০-রও বেশি। গতকাল রোববার নেপাল সরকার এ তথ্য জানায়।
বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা গত কয়েক মাসে পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণ করে নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের বনে ৫৩৪টি গন্ডারের সন্ধান পেয়েছেন, যা ২০০৮ সালে শেষবার গণনা করে পাওয়া সংখ্যা থেকে ৯৯টি বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৬ সালে গৃহযুদ্ধের অবসানের পর থেকে এ পর্যন্ত বেড়েছে এক শিংওয়ালা গন্ডারের সংখ্যা। নেপালে ১৯৯৬-২০০৬-এর গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহী গেরিলাদের দমনে বন্য প্রাণীদের অভয়ারণ্যে অনুপ্রবেশ করেছিল সেনাবাহিনী। তখন সেখানে বিভিন্ন বন্য প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে এবং এক শিংওয়ালা গন্ডারের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়।
বাস্তুসংস্থান বিশেষজ্ঞ মহেশ্বর ধাকাল জানান, গন্ডার সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের সচেতনতা ও কার্যকরী আইন প্রয়োগের ফলেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, এ ইতিবাচক ফলাফলে সরকার উৎসাহিত হয়েছে, যদিও ভবিষ্যতে বনাঞ্চলে শিকারিদের অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে গন্ডার সংরক্ষণ করা কঠিন হবে।
শিকারিরা গন্ডার শিকার করে মূলত তাদের শিং সংগ্রহের জন্য। ঔষধি গুণের কারণে গন্ডারের শিংয়ের চাহিদা রয়েছে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়।

এমআই সিমেন্টকে তালিকাভুক্ত করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে

দেশের পুঁজিবাজার আবারও নিম্নমুখী ধারায় ফিরে এসেছে। সপ্তাহের প্রথম দিনই দেশের পুঁঁজিবাজারে মূল্যসূচক আবার বেশ খানিকটা পড়ে গেছে। তা ছাড়া লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। গতকাল সপ্তাহের প্রথম দিনে ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক ১১৬ পয়েন্টের বেশি এবং সিএসইতে সার্বিক মূল্যসূচক ২৯২ পয়েন্টের বেশি কমেছে। তবে লেনদেন আগের দিনের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।
অন্যদিকে এমআই সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লিমিটেডকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও এমআই সিমেন্টের প্রতিনিধিদের এক যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ ব্যাপারে একটি নির্দেশনা জারি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এসইসি।
জানা গেছে, গত সপ্তাহের প্রথম চার দিন টানা মূল্যসূচক কমে যায়। তবে শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার মূল্যসূচক কিছুটা বেড়েছিল।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পুঁজিবাজারে কারসাজির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে সব ধরনের বিনিয়োগকারীর মধ্যে এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার ঘোষণা দিলেও এখনো পর্যন্ত দেয়নি। সরকার প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর কী ধরনের ব্যবস্থা নেবে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে অনেকেই। এ জন্য অনেক বিনিয়োগকারী বাজার থেকে দূরে রয়েছেন। এ কারণে বাজারে নিম্নমুখী অবস্থা বিরাজ করছে। তবে বিনিয়োগকারীরা তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ করে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনারও দাবি জানান।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে গতকাল ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের শুরুতে সূচক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে যায়। কিন্তু ২০ মিনিটের মাথায় সূচক ২৫ পয়েন্ট নেমে যায়। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সূচক কিছুটা বাড়লেও এর পর থেকে সূচক নিম্নগামী হতে থাকে, যা সারা দিনই অব্যাহত ছিল। দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ১১৬ দশমিক ৬০ পয়েন্ট কমে ৬০৭৬ দশমিক ৩২ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
গতকাল ডিএসইতে ৬৩১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১৫৫ কোটি টাকা বেশি। এদিন হাতবদল হওয়া ২৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ২৩টির, কমেছে ২২৭টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের দাম।
অন্যদিকে গতকাল সিএসইতে সার্বিক মূল্যসূচক ২৯২ দশমিক ৫০ পয়েন্ট কমে ১৭ হাজার ৫০ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৬টির, কমেছে ১৭৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। এদিন ৭৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৭ কোটি টাকা বেশি।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সটেক্স, শাইনপুকুর সিরামিকস, বেক্সিমকো ফার্মা, ইউনাইটেড এয়ার, আফতাব অটো, মালেক স্পিনিং, তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো সিনথেটিকস ও সালভো কেমিক্যাল।
এমআই সিমেন্ট: এসইসি সূত্র জানায়, এমআই সিমেন্টকে তালিকাভুক্ত করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে পুঁজিবাজারে এমআই সিমেন্টের লেনদেন শুরু হওয়ার পর ছয় মাস পর্যন্ত শেয়ারের দাম আইপিও মূল্যের নিচে নেমে এলে প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেবেন কোম্পানির উদ্যোক্তারা। এ জন্য ডিএসইর জিম্মায় প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তাদের পাঁচ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি ও ৭৫ লাখ শেয়ার রাখতে হবে।

বাজেটে শুল্কস্তরের পুনর্বিন্যাস চায় এফবিসিসিআই

শুল্কস্তর পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছে দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)।
এফবিসিসিআই মূলধনি যন্ত্রপাতি ও মৌলিক কাঁচামালের ওপর ১ শতাংশ, মধ্যবর্তী কাঁচামালের ওপর ৩ শতাংশ এবং দেশে উৎপাদিত মধ্যবর্তী কাঁচামাল ও অতিপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যে ১২ শতাংশ এবং তৈরি ও বিলাসপণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের দাবি করেছে।
গতকাল রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত চলমান প্রাক্-বাজেট আলোচনায় এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে এসব দাবিসহ ৪৫ দফা সুপারিশ করা হয়। এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এনবিআরের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ, সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান, এনবিআরের সদস্য আবদুল মান্নান পাটোয়ারী, আমিনুর রহমান, শাহ্ আলম খান, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক জসিম উদ্দিন, আবদুল হক, আবদুর রাজ্জাক, উপদেষ্টা মনজুর আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় শিল্পের সংরক্ষণ এবং আমদানি বিকল্প পণ্যের শিল্প সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শুল্ক স্তরসহ ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে এফবিসিসিআইয়ের প্রস্তাবনায়। এ ছাড়া তৈরি, বিলাসজাত ও অপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ স্থানীয়ভাবে চাহিদা পূরণে সক্ষম সংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানির ক্ষেত্রে বর্তমানে আরোপিত সম্পূরক শুল্ক অব্যাহত রাখার প্রস্তাবও করা হয়েছে।
তবে আয়কর হার আয়করদাতার জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বা সামঞ্জস্যপূর্ণ করে করমুক্ত সীমা দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে এফবিসিসিআই।
তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক কর ২৫ শতাংশ, অতালিকাভুক্ত ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ক্ষেত্রে সাড়ে ২৭ শতাংশ, ট্রেডিং/নন-ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
কর অবকাশসুবিধা বাড়ানোর সুপারিশ করে এফবিসিসিআইয়ের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান বিধান অনুসারে ২০০৮ সালের জুলাই থেকে ২০১১ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত নির্দিষ্টকৃত নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আয় অবস্থান ভেদে প্রতিষ্ঠার প্রথম দু-তিন বছর ১০০ শতাংশ আয় করমুক্ত, পরবর্তী দু-তিন বছর ৫০ শতাংশ আয় করমুক্ত এবং পরবর্তী এক বছর ২৫ শতাংশ আয় করমুক্ত। কর মুক্তির এ সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠার সময়সীমা ২০১৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
আলোচনা সভায় এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ আয়কর আইনে বিদ্যমান ব্যাংক হিসাব জব্দ করার ক্ষমতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ক্ষমতাবলে ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। এতে বিনিয়োগসহ ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ছাড়া আইনটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের অন্তরায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ কে আজাদ আরও বলেন, কোনো গণতান্ত্রিক সরকারই স্বাধীনতার ৪০ বছরের মধ্যে এই আইনটি প্রয়োগ করেনি। তবে যারা জোর করে ক্ষমতা দখল করে, কেবল তারাই এই আইনটি প্রয়োগ করে ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার পর তাদের হয়রানি করে।
সালমান এফ রহমান আয়করদাতাদের ব্যক্তি তথ্য প্রকাশ না করার দাবি জানান। তিনি বলেন, আয়কর আইনে করদাতার ব্যক্তি তথ্য গোপন রাখার বিধি রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা উচিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত এলেই প্রতিবেদন প্রকাশ

পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত পাওয়ার পরই পুরো প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, মতামতের জন্য মূল প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) পাঠানো হয়েছিল। এসইসির মতামত এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত এলেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
প্রতিবেদনের বেশ কিছু বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত নেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
বাজারের সাম্প্রতিক উত্থান-পতন সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটি বাজারের স্বাভাবিক প্রবণতা। আমাদের পুঁজিবাজারে সূচকের সামান্য পতন হলেই বিনিয়োগকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সূচকের বড় ধরনের পতনও হয়। তাঁরা কিন্তু এতটা হইচই করেন না।’
এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটি সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতিবেদনটি ২০ এপ্রিল সিডিতে রূপান্তর করা হয়েছে। সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের একটি করে সিডি সরবরাহ করা হবে বলেও সূত্র জানিয়েছিল।
জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন তৈরি করে ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে জমা দিয়েছে। কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বাধীন কমিটি ৭ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে এ প্রতিবেদন জমা দেয়।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী প্রতিবেদনের কিছু বিষয় নিয়ে পুনর্তদন্তের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন।
দুই প্রস্তাব অনুমোদন: অর্থমন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও চিনি ক্রয়-সম্পর্কিত দুটি প্রস্তাব বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো প্রাইভেট সেক্টর পাওয়ার জেনারেশন পলিসি অব বাংলাদেশের আওতায় চট্টগ্রামে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন। অন্যটি ২৫ হাজার টন চিনি ক্রয়।
আট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজটি পেয়েছে বরকত উল্লাহ ইলেকট্রো ডায়নামিক্স নামক একটি প্রতিষ্ঠান। বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১৫ বছরে এ প্রতিষ্ঠানকে তিন হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা পরিশোধ করবে সরকার। আর চিনি কেনা হবে ডব্লিউ অ্যান্ড ডব্লিউ ফ্রান্স করপোরেশনের কাছ থেকে প্রতি টন ৭২৩ ডলারে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৫৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

মারিকো বাংলাদেশের লভ্যাংশ ঘোষণা

মারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ২০১১ সালের ৩১ মার্চ সময়ে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২৮ জুন সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের স্থান পরে জানানো হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ৮ মে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় ১১.৩৪ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ৭৮.১৮ টাকা ও নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ২২.২১ টাকা।

তাকাফুল ইসলামী ইনস্যুরেন্সের লভ্যাংশ ঘোষণা

তাকাফুল ইসলামী ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য ১৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) ২ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। ইজিএম সকাল ১০টায় এবং এজিএম বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। ইজিএম ও এজিএমের স্থান পরে জানানো হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ১০ মে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় ৩৪.৫২ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ১৭৩.২৭ টাকা ও নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৪৫.টাকা।

ওয়ানডেতে সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ

নতুন চেহারার ওয়েস্ট ইন্ডিজ নতুন দিনের ইঙ্গিত দিয়েছিল টি-টোয়েন্টি ম্যাচটিতে। কিন্তু ওয়ানডে আসতেই ড্যারেন স্যামির দল দেখাল সেই হতশ্রী চেহারা। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের মতো ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেও পাকিস্তানের কাছে বাজেভাবে হারল উইন্ডিজ। বিশ্বকাপে ১১৩ রান তাড়া করে ১০ উইকেটে জিতেছিল পাকিস্তান, লক্ষ্য ২২২ বলেই হয়তো পরশু দুটি উইকেট হারাতে হলো আফ্রিদির দলকে! আজ একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। ওয়েবসাইট।
সেন্ট লুসিয়া পরশু যেন মিরপুরের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিচ্ছবিই দেখল। টস জিতে স্যামির ব্যাটিং নেওয়া, ডেভন স্মিথকে এলবিডব্লু করে মোহাম্মদ হাফিজের প্রথম ব্রেক থ্রু, পাকিস্তানি স্পিনারদের বিপক্ষে উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের অস্বস্তি, পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের দাপট আর আবারও ম্যাচ-সেরা মোহাম্মদ হাফিজ। মিরপুরে একা লড়াই করেছিলেন শিবনারায়ণ চন্দরপল, পরশু ড্যারেন ব্রাভোর সঙ্গে কিছুটা লড়াই করলেন কার্ক এডওয়ার্ডস। সেটা আক্ষরিক অর্থেই। ১৭তম ওভারের পর প্রথম বাউন্ডারি হয়েছে ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে, ৪৩তম ওভারে! এমনিতে আক্রমণাত্মক ড্যারেন ব্রাভোর ফিফটিতে লেগেছে ৯৭ বল! শেষের দিকে একটা ক্যামিও খেলে ঘরের মাঠের দর্শকদের মাতিয়েছেন স্যামি। রান ২০০ পার হয়েছে তাঁর ১৭ বলে ২৯ রানের ইনিংসটাতেই।
যে উইকেটে রান করার উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানরা, সেখানেই স্ট্রোকের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন হাফিজ, শফিক, মিসবাহরা। সেরা একাদশে ফিরে বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও হাফিজের সঙ্গে কার্যকর একটা জুটি গড়েছেন আহমেদ শেহজাদ। ১২.৪ ওভারে ৬৮ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছেন দেবেন্দ্র বিশু। এই লেগ স্পিনারকে ছয় মেরেই ৪০ বলে ফিফটি ছুঁয়েছেন হাফিজ। পরের ওভারেই তাঁকে ফ্লিক করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন শর্ট মিড উইকেটে। বিশ্বকাপে নজর কাড়ার পর কালও দারুণ বোলিং করেছেন বিশু, তুলে দিয়েছেন একটি প্রশ্নও, এই উইকেটে কেন মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার? ড্যারেন স্যামি অবশ্য বললেন, উইকেটের টার্ন ও বাউন্স তাঁকে বিস্মিত করেছে, এতটা হবে বুঝতেই নাকি পারেননি!
বৈচিত্র্যহীন বোলিং আক্রমণ সামলাতে কোনো সমস্যাই হয়নি ফর্মে থাকা দুই ব্যাটসম্যান আসাদ শফিক ও মিসবাহ-উল-হকের। পাকিস্তানের তিন নম্বর ব্যাটসম্যানের দীর্ঘ সমস্যার সমাধান হয়তো শফিক। তাঁর সর্বশেষ ৪ ইনিংস ৭৮*, ৪৬, ৩০ ও ৬১*। মিসবাহ পেয়েছেন ১৫তম ওয়ানডে ফিফটি, এ বছরের ১১ ইনিংসে যেটি ষষ্ঠ!

উপভোগের মন্ত্র জপেই শিরোপা

উত্তাপটা টের পাওয়া যাচ্ছিল সেই দুপুর থেকেই। খেলা শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে বাদ্যি-বাজনা বাজিয়ে, বিশাল ব্যানার নিয়ে, রংবেরঙের মুখোশ বানিয়ে মোহামেডানের গ্যালারিতে হাজির হাজারখানেক ফরাশগঞ্জ সমর্থক। এসেই গোটা কতক পটকা ফুটিয়ে ঢোলের তালে তালে নাচ। উল্টোদিকে আবাহনীর গ্যালারিতে শেখ রাসেলের সমর্থকেরা। লাল টি-শার্ট পরা একদল তরুণ সারাক্ষণ নেচে-গেয়ে মাতিয়ে রাখলেন গ্যালারি। বিশাল জাতীয় পতাকা আর বঙ্গবন্ধু তনয় শেখ রাসেলের প্রতিকৃতি নিয়েও হাজির হয়েছিলেন তাঁদের অনেকে। শেষ পর্যন্ত শেখ রাসেল সমর্থকদের এই হাসি থামিয়ে দিলেন ফরাশগঞ্জের গোলরক্ষক সুজন চৌধুরী।
শেখ রাসেলের ফাইনালে ওঠায় তেমন বিস্ময় ছিল না। তবে ফরাশগঞ্জ এই স্বাধীনতা কাপের অবিশ্বাস্য এক গল্প। সেই ১৯৫৯ সালে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের জন্ম। কিন্তু ঢাকার ফুটবলে পদচারণ শুরু ১৯৮১ সালে। এত দিন ধরে তাদের শো-কেসে ছিল না কোনো বড় ট্রফি। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা কাপ জয় তাই ফরাশগঞ্জের জন্য স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার। ফাইনালে ওঠাটাই ছিল অপ্রত্যাশিত। এটাই বোধ হয় পক্ষে কাজ করেছে ফরাশগঞ্জের। হারানোর তো কিছু ছিল না তাদের। উল্টো চাপে ভুগতে থাকা শেখ রাসেল যেন নিজেদের খেলাটাই গিয়েছিল ভুলে। দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার পর বেশ কয়েকবার সুযোগ পেয়েছিল গোল সংখ্যা বাড়ানোর। কিন্তু পারেননি শেখ রাসেলের স্ট্রাইকাররা। কোচ মাহমুদুল হক লিটনও দুষলেন স্ট্রাইকারদেরই, ‘স্ট্রাইকাররা এত গোল মিস করলে কীভাবে হবে? তা ছাড়া ভাগ্যও আমাদের পক্ষে ছিল না। দুবার ক্রসবারে বল লেগেছে।’
ম্যাচ শেষে শেখ রাসেল শিবিরে যখন শ্মশানের নীরবতা, ফরাশগঞ্জ মেতেছে উৎসবে। আনন্দে কেঁদেই ফেললেন কোচ কামাল বাবু। বললেন, ‘আমাদের আসলে হারানোর কিছু ছিল না। ছেলেদের বলেছিলাম, ‘খেলাটা উপভোগ কোরো। এমনকি পেনাল্টির শেষ শট নেওয়ার আগেও বলেছি, হারলেও কাউকে কিছু বলব না।’ দলকে জিতিয়ে বীরের বেশেই ফিরেছেন গোলরক্ষক সুজন। তাঁর ওপর ছিল কোচের অগাধ আস্থা। সেই আস্থার প্রতিদান ভালোমতোই দিলেন এই তরুণ।
আগের তিন ম্যাচের নায়ক সোহেল রানা কাল গোল না পেলেও টুর্নামেন্ট-সেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনিই। চার গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার উঠেছে মুক্তিযোদ্ধার সুদানের স্ট্রাইকার জেমস মগার হাতে।

রিয়াল-বার্সার দুই রকম জয়

একদল জিতল ৬-৩ গোলে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে, অন্য দল ২-০ গোলে কষ্টেসৃষ্টে। আগামী পরশু এল ক্লাসিকো চতুষ্টয়ের তৃতীয়টির আগে ভালোমতোই নিজেদের শাণিয়ে রাখল রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সেলোনার কপালে দুশ্চিন্তার কিছু ভাঁজ থেকেই গেল।
বার্সেলোনার দুশ্চিন্তার অনেকগুলো কারণই আছে। পেপ গার্দিওলা মুখে যত যাই বলুন, মানসিকভাবে রিয়াল এখন অনেকখানি এগিয়ে। চতুষ্টয়ের প্রথম এল ক্লাসিকোতে ১০ জনের দল নিয়েও পিছিয়ে পড়ে সমতা ফেরানোতেই জয়ের স্বাদ খুঁজেছে রিয়াল। সবচেয়ে বড় কথা, সর্পিল পাসের ফুটবল খেলা বার্সার স্রোতকে থামানোর দাওয়াই যেন হোসে মরিনহো পেয়েই গেছেন। স্বপ্নে পাওয়া মহৌষধ নয়; মরিনহোর অভিজ্ঞতাজাত দাওয়াই। সেই ওষুধ দিয়েই শেষ মুহূর্তের গোলে কিংস কাপ জিতেছে রিয়াল, ১৮ বছর পর। মানসিকভাবে এগিয়ে গেল আরও একটু।
এবার পরশুর হিসাবটাও মিলিয়ে নিন। রিয়ালের প্রতিপক্ষ ভ্যালেন্সিয়া, পয়েন্ট টেবিলে যাদের অবস্থান তিনে। ভ্যালেন্সিয়া খেলেছেও নিজেদের মাঠে। নিজেদের মাঠে বার্সার প্রতিপক্ষ ছিল ওসাসুনা, অবনমন অঞ্চল থেকে যারা মাত্র দুই পয়েন্ট ওপরে। প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ল রিয়াল। জোড়া গোল গঞ্জালো হিগুয়েইনের; কাকা-বেনজেমার গোল একটি করে। দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন গত বিশ্বকাপের একমাত্র হ্যাটট্রিক হিরো হিগুয়েইন। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে দ্বিতীয় গোল উপহার দেন কাকা। ৬০ থেকে ৮৫ মিনিটের মধ্যে ভ্যালেন্সিয়া অবশ্য তিনটি গোল ফিরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তাতে সম্মানহানি কিছুটা কম হওয়া ছাড়া বিশেষ প্রাপ্তি নেই।
রিয়ালের দাপুটে প্রথমার্ধের বিপরীত পাল্লায় বার্সেলোনাকে তুলুন। বার্সা প্রথমার্ধ ছেড়েছে ১১ ম্যাচ আর প্রায় দুই মাস বিরতির পর করা ডেভিড ভিয়ার একমাত্র গোল নিয়ে। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে বার্সা যে উল্টো একটা গোল খেয়ে বসেনি, এর জন্য ভিক্টর ভালদেস আর ভাগ্যকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। ভালদেস দুর্দান্ত সেভ করার পর বলও ভেতরে ঢুকেই যাচ্ছিল প্রায়। কিন্তু বাধা পায় ডান পোস্টে। দ্বিতীয়ার্ধেও এমন কিছু ভয় পাইয়ে দেওয়া পাল্টা আক্রমণ করেছিল ওসাসুনা। কিন্তু ৫৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা মেসির ৮৭ মিনিটের গোল শেষ পর্যন্ত স্বস্তি ফেরায়। এটি এই মৌসুমে মেসির ৫০তম গোল।
বার্সেলোনা অবশ্য জাভি-ইনিয়েস্তা-মেসিকে বসিয়ে রেখেছিল। পেদ্রোকে খেলায়নি। পিকে-পুয়োলবিহীন রক্ষণ ছিল একেবারে অচেনা। রক্ষণে গার্দিওলা খেলিয়েছেন দুই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার সার্জিও বুসকেটস আর হাভিয়ের মাচেরানোকে। কিন্তু সেটা বার্সার ঢাল হচ্ছে না। কারণ দ্বিতীয় সারির দল নামিয়েছিল রিয়ালও।
ম্যাচ শেষে ভিয়া অবশ্য মরিনহোর তত্ত্বটাই ঝাড়লেন—শেষ পর্যন্ত তিনটা পয়েন্টই আসল, ‘কাজটা আমাদের জন্য অনেক কঠিন ছিল। শারীরিক-মানসিকভাবে আমরা খুবই ক্লান্ত। লিগে একটা ম্যাচ কমল, আমরা ৮ পয়েন্টই এগিয়ে থাকলাম—এটা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
আসলেই টানা তৃতীয় লিগ শিরোপার আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেল বার্সা। ম্যাচ বাকি মাত্র পাঁচটি। তবে যে আট পয়েন্টের ‘বড়াই’ বার্সা করছে, মরিনহো দাবি করলেন, সেসব নাকি দুর্বল দলগুলো তাদের ‘উপহার’ দিয়েছে, ‘গাণিতিকভাবে সম্ভাবনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। উপহার পাওয়া পয়েন্টগুলো নিয়ে বার্সা যদি লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়, তাতে কী আসে-যায়!’
মরিনহোর জন্য এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি দুই চোট-ফেরতা কাকা-হিগুয়েইনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। রিয়াল কোচ সেটা বলেছেনও। গত মৌসুমে রিয়ালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিগুয়েইন সেরা একাদশে নিয়মিত জায়গার দাবিটাও করলেন জোরালো। গার্দিওলা অবশ্য বলছেন, ‘এভাবে তুলনা করলে হবে না। ওদের রিজার্ভ বেঞ্চে থাকে বেনজেমা, হিগুয়েইন আর কাকা। মাদ্রিদের শক্তিটা তো অবশ্যই বেশি।’
তবে মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে যেন রিয়াল দিনকে দিন শক্তপোক্ত হচ্ছে, বার্সা হারিয়ে ফেলছে দম। যতই বল পজেশন থাকুক, লিগে গত ১১ ম্যাচে দুই গোলের ব্যবধানে তারা জিতেছে মাত্র তিনবার!

৭৩৩ মিনিট পর...

অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে লিভারপুলে তিন বছর—তোরেস ছিলেন তোরেসের মতোই। বিশ্বের ভয়ংকরতম স্ট্রাইকারদের একজন। লিভারপুলে শেষ বছরে ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে ফেলেন। আগের তোরেসকে ফিরে পাওয়ার আশায় চেলসি নিয়ে আসে তাঁকে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফির রেকর্ড গড়ে। কিন্তু তোরেস গোল কিছুতেই পাচ্ছিলেন না।
সেই গোল-বন্ধ্যত্ব ঘুচল পরশু। ১৩ ম্যাচের খরা কাটিয়ে গোল পেলেন তোরেস। ওয়েস্ট হামের বিপক্ষে ৭৫ মিনিটে দিদিয়ের দ্রগবার বদলি হিসেবে নেমে ৮৪ মিনিটে গোল পাওয়ার আগে গোলশূন্য ছিলেন ৭৩৩ মিনিট। এএফপি, ওয়েবসাইট।
এই গোল তোরেসকে স্বস্তি না দিয়ে পারেই না। তবে তোরেস সমর্থকদের কথাটাই ভাবলেন সবার আগে, ‘আমি আমার চেয়ে তাদের (সমর্থক) জন্যই বেশি খুশি। কারণ তাদের দেখাতে চেয়েছিলাম যে আমি গোল করতে পারি।’ মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে চেলসি-সমর্থকেরা তোরেসকে নিয়ে যে ধৈর্য দেখিয়েছে, তাতে স্প্যানিয়ার্ড স্ট্রাইকার মুগ্ধ, ‘আমি গোল না পেয়ে নিজের চেয়ে বেশি চিন্তিত ছিলাম সমর্থকদের নিয়ে। তারা আমাকে নিয়ে অনেক ধৈর্য ধরেছে এবং আমাকে সমর্থন করে গেছে।’
লিভারপুল থেকে চেলসিতে নাম লিখিয়েছেন তিন মাস আগে। লিভারপুলে ১৪২ ম্যাচ খেলে ৮১ গোল করা তোরেস পরশু চেলসিতে নিজের প্রথম গোল পাওয়ার পেছনে বড় অবদান দেখছেন সতীর্থদেরও, ‘তাদের (সতীর্থ) সহযোগিতা ছাড়া আমি গোল করতে পারতাম না। এই গোলের পর আমার ওপর চাপ অনেকটাই কমে গেল।’ চেলসিতে এমন শুরুটা তাঁর কাছে ছিল অকল্পনীয়, ‘১৪ ম্যাচ গোলহীন থাকব, চেলসিতে যোগ দেওয়ার সময় এমন শুরুর কথা আমি ভাবিওনি।’
ওয়েস্টহামের বিপক্ষে ম্যাচটি চেলসি ৩-০ গোলে জিতলেও শুরুটা ভালো ছিল না তাদের। প্রথম গোল পেতে ‘ব্লু’দের অপেক্ষা করতে হয় ৪৪ মিনিট পর্যন্ত। ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের গোলে এগিয়ে যাওয়ার ৪০ মিনিট পর তোরেস গোল করেন বদলি হিসেবে নেমে। ফ্লোরেন্ত মালুদা দলের তৃতীয় গোলটি করেন ইনজুরি সময়ে।
এই জয়ের পরও চেলসি ৬৭ পয়েন্ট (৩৪ ম্যাচ) নিয়ে দ্বিতীয় স্থানেই। হাভিয়ের হার্নান্দেজের একমাত্র গোলে এভারটনের বিপক্ষে জিতেছে ম্যানইউ (৩৪ ম্যাচে ৭৩ পয়েন্ট)। রদ্রিগেজের হ্যাটট্রিকে বার্মিংহামকে ৫-০ গোলে হারিয়ে ৩৪ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট লিভারপুলের। ষষ্ঠ স্থানেই আছে তারা। বোল্টনের কাছে ২-১ গোলে হেরে ৩৪ ম্যাচে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আর্সেনাল। ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট ৩২ ম্যাচে ৫৬। হিসাব বলছে, আর দুটি ম্যাচ জিততে পারলেই এবারের প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা উঠবে ম্যানইউর হাতে।
সিরি ‘আ’তে চ্যাম্পিয়ন হতে এসি মিলানের প্রয়োজন আর মাত্র ৪ পয়েন্ট। হাতে আছে ৪ ম্যাচ। পরশু রবিনহোর একমাত্র গোলে ব্রেসিয়াকে হারিয়ে মিলানের পয়েন্ট ৩৪ ম্যাচে ৭৪। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন্টার মিলান লাৎসিওর বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেও নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এসি মিলানের চেয়ে ৮ পয়েন্ট পিছিয়ে। শিরোপার লড়াইয়ে থাকা মিলানের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী ডিয়েগো ম্যারাডোনার সাবেক ক্লাব নাপোলি পালের্মোর কাছে হেরে গেছে ২-১ গোলে। ৩৪ ম্যাচে ৬৫ পয়েন্ট এখন নাপোলির।

স্পিনে জয় দেখছে একাডেমি

ফতুল্লায় গতিময় সবুজ বাউন্সি উইকেটে ‘পরিচিত কন্ডিশনের’ ফায়দা লুটেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দলের পেসাররা।্রঘাস মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটেও আছে। কিন্তু এখানকার উইকেট হাসল জিপি-বিসিবি একাডেমির বাঁহাতি স্পিনারদের দিকে তাকিয়ে!
শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচের দুই ইনিংসেই ঘূর্ণি বলের সামনে ধসে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমির ব্যাটিং লাইনআপ। প্রথম ইনিংসে ১৯৯ রানে অলআউট হয়ে কালই করতে হলো ফলোঅন, দ্বিতীয় ইনিংসেও ১৪১ রানে পড়ে গেছে ৮ উইকেট! নবম উইকেট জুটিতে হার্ডাস ভিলিওন-মার্চেন্ট ডি ল্যাঙ্গে প্রতিরোধ না গড়লে চার দিনের ম্যাচ শেষ হয়ে যেতে পারত কাল তৃতীয় দিনেই। ৯৪ রানে ৮ উইকেট পড়ার পর দিনের শেষে ৪৭ রানে অবিচ্ছিন্ন এই জুটি। এখান থেকেও সফরকারীদের পক্ষে ম্যাচ বের করাটা অসম্ভবই বলা যায়। ইনিংস পরাজয় এড়াতে বাকি ২ উইকেটে করতে হবে আরও ১৩৯ রান। দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমিকে এমন বিপর্যয়ে ফেলার কৃতিত্ব দুই বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম ও শাকের আহমেদের।
প্রথম ইনিংসে সানজামুল প্রায় একাই শেষ করে দিয়েছেন সফরকারীদের। ২৮.১ ওভার বল করে ৪৭ রান দিয়ে ৭ মেডেনসহ ৭ উইকেট—তাঁর বাঁহাতি স্পিন যেন বিভীষিকা ছড়িয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে। আগের দিনের ১ উইকেটে ৬৬ রান নিয়ে দিন শুরু করে কাল দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি ডমিনিক হেনড্রিকস-লেনার্ট ফন উইকের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করে আরও ৪২ রান। কিন্তু এরপর সানজামুলের সামনে তারা এমনই অসহায় হয়ে পড়ে যে, ৯১ রানের মধ্যে পড়ে যায় শেষ ৯ উইকেট! ১৩৮ রানে ৭ উইকেট পড়ার পর অষ্টম উইকেটে গ্রাহাম হিউম ও ভিলিওন ৪২ রান যোগ করলেও এড়ানো যায়নি ফলোঅন।
২৮০ রানে পিছিয়ে থেকে চা বিরতির আগেই দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি। প্রথম ইনিংসের ভালো বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে দ্বিতীয় ইনিংসেও জোসুয়া রিচার্ডসের প্রথম উইকেটটা নিয়েছেন সানজামুল। তবে এই ইনিংসে জিপি-বিসিবি একাডেমি দলের নায়ক আরেক বাঁহাতি স্পিনার শাকের। ১৫ ওভারে ৭৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে ইনিংস পরাজয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছেন তিনিই। আর ৪১ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচে ১০ উইকেট নিতে আর মাত্র ১ উইকেটের অপেক্ষা সানজামুলের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: জিপি-বিসিবি একাডেমি ১ম ইনিংস: ৪৭৯ (আনামুল ১৬৯)। দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি: ৮১.১ ওভারে ১৯৯ (ফন উইক ৫২, ডমিনিক ৪৬, হিউম ৩৮, ভিলিওন ২০। সানজামুল ৭/৪৭, শুভাগত ১/৪, আলাউদ্দিন ১/৩৩ ) ও ৩৭ ওভারে ১৪১/৮ (ভিলিওন ৪৮ ব্যাটিং, রোমানো ২১, ল্যাঙ্গে ১৮ ব্যাটিং। শাকের ৫/৭৩, সানজামুল ২/৪১, শুভাগত ১/৬)।

শচীনকে তসলিমা নাসরিনের উপদেশ

ভারতের আধ্যাত্মিক নেতা সাঁই বাবার রোগমুক্তি কামনা করে নিজের ৩৮তম জন্মদিনের অনুষ্ঠান বাতিল করেছিলেন ‘ভক্ত’ শচীন টেন্ডুলকার। সেই সাঁই বাবা পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন ঠিক শচীনের জন্মদিনেই। তবে গতকাল রোববার বাবার মৃত্যুর দিনেই তাঁকে ‘ভণ্ড’ আখ্যায়িত করে এমন একজন লোকের জন্য প্রার্থনা না করতে শচীনকে উপদেশ দিয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
‘তার মৃত্যু নিয়ে কেন কেউ মন খারাপ করবে? তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬। এমন বয়সী একজনকে মরতে দেওয়াই উচিত। শচীন তাঁর জন্য প্রার্থনা করছে দেখে আমি হতাশ হয়েছি। আমার মনে হয়, গোপনে তাঁর জন্য আঙুলের ফাঁক দিয়ে একটু ছাইও কেউ ফেলবে না’—শচীনের উদ্দেশে তসলিমা টুইটারে এসব কথা লিখেছেন বলে জানায় টাইমস অব ইন্ডিয়া।
সাঁই বাবাকে ‘ভণ্ড-প্রতারক’ আখ্যায়িত করে তসলিমা বলেন, ‘আরেকটি বাবা তৈরি হচ্ছে। একজন গেছে, কিন্তু আরও হাজার হাজার আসবে। ভক্তি ব্যবসাটা সত্যিই লাভজনক!’

নতুন এক ফাইনাল

কমলাপুর স্টেডিয়ামে তখন অনুশীলনে নেমেছে ফরাশগঞ্জ। দেখতে দেখতেই সংবাদকর্মীদের ভিড় হয়ে গেল। কেউ কোচ, কেউ অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলছেন। ফরাশগঞ্জের জন্য এটা নতুন অভিজ্ঞতা। ঠিক তখন উত্তরার আর্মড পুলিশের মাঠে শেখ রাসেলও নামল অনুশীলনে। সেখানকার পরিবেশও একই রকম।
দুটি ছবিই একসূত্রে গাঁথা। আজ বিকেল পাঁচটায় শুরু স্বাধীনতা কাপ ফাইনালের দুই কুশীলব তারা। মঞ্চটা এবার বেশ অনাকর্ষক। শেখ রাসেল ফাইনালে উঠতেই পারে। কিন্তু ফরাশগঞ্জ? গ্রুপ পর্বেই যাদের বাতিল করে দেয় সবাই, সেই দলটাই ফাইনালে!
আবাহনী-মোহামেডানময় ফাইনাল দেখতেই একসময় অভ্যস্ত ছিল দেশের ফুটবল। এই দুই দল ব্যর্থ হলে মুক্তিযোদ্ধা-ব্রাদার্স। শেখ জামাল ছিল এবার অন্যতম বড় নাম। কিন্তু এই স্বাধীনতা কাপ সব হিসাব পাল্টে দিয়েছে। সব বড় নাম আজ দর্শকাসনে।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবল আজ তাই নতুন এক ফাইনালই দেখছে। শেখ রাসেল-ফরাশগঞ্জ এই প্রথম খেলছে কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে। ২০০২ সালে প্রিমিয়ারে ওঠা শেখ রাসেল ওই বছরই লিগে রানার্সআপ। প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পেরিয়েও বলার মতো কোনো ট্রফি পায়নি ফরাশগঞ্জ। ব্যতিক্রম গত সুপার কাপের প্লেট গ্রুপে ফাইনালে খেলা এবং সেখানে তারা হারিয়েছিল শেখ রাসেলকেই। কিন্তু প্লেট জেতা তো বলার মতো সাফল্য নয়।
ফরাশগঞ্জের ফাইনালে আসাটা রূপকথার মতো। গ্রুপ ম্যাচে রহমতগঞ্জের সঙ্গে ২-২ ড্র। মুক্তিযোদ্ধার কাছে তাদের হার ৪-১ গোলে, কিন্তু রহমতগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধার কাছে ৪-২ গোলে হারায় গোল গড়ে ভাগ্যগুণে শেষ আটে ফরাশগঞ্জ! দলটির সহকারী কোচ জাতীয় দলের সাবেক ডিফেন্ডার ফয়সাল আহমেদ হেসে বললেন, ‘১৯৯২ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ইমরান খানের পাকিস্তানের মতো ভাগ্য সাহায্য করল আমাদের।’
আর্থিকভাবে বাজে অবস্থায় থাকা ক্লাবটি হঠাৎই জেগে উঠেছে। কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে হারিয়ে দিয়েছে দেশের সেরা দুই শক্তি আবাহনী-শেখ জামালকে। কোচ কামাল বাবুরই এটি বিশ্বাস হতে চায় না, ‘ফাইনালে খেলব, স্বপ্নেও ভাবিনি!’
এটি এমন এক ফাইনাল, দুই ক্লাব ছাড়া আর কোথাও আগ্রহ নেই। বাফুফে অফিস শূন্য, ক্লাবপাড়া ঘুমিয়ে। তবে উত্তরায় শেখ রাসেলের ক্যাম্প আর পুরান ঢাকায় বুড়িগঙ্গার কোলঘেঁষা ফরাশগঞ্জ ক্লাবে উৎসবময় পরিবেশ। ফরাশগঞ্জের গোলরক্ষক তারেকসহ মাত্র দু-তিনজন খেলোয়াড়ের ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা আছে। রানার্সআপ হলেই দলটি বর্তে যাবে।
ফরাশগঞ্জ অধিনায়ক খোকন দাস কাল অনুশীলনে সতীর্থদের উদ্দেশে দিলেন উদ্দীপনামূলক বক্তব্য, ‘আর একটা ম্যাচ জিতলেই চ্যাম্পিয়ন! জানপ্রাণ ঢেলে খেলতে হবে বন্ধুরা।’ আফ্রিকান স্ট্রাইকার কালু জনসনের কণ্ঠেও একই সুর, ‘একটা কথাই ভাবো। জয়, জয় আর জয়।’
ফরাশগঞ্জ প্রতিআক্রমণ-নির্ভর ফুটবল খেলেই এই সাফল্য পেয়েছে। প্রতিপক্ষের সীমানায় নয়, নিজেদের অর্ধ থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে একটা দল হয়ে খেলে তারা। গোল করে গোল ধরে রাখতে পারছে ফরাশগঞ্জ। শেখ রাসেল অধিনায়ক আমিনুল চান সেই দেয়াল ভেঙে দিতে, ‘আমরা এত কাছে এসে ফিরতে চাই না। জিততে আমাদের হবেই।’ কোচ মাহমুদুল হক অবশ্য সমীহ করছেন প্রতিপক্ষকে, ‘ওরা এত দূর এসেছে ভালো ফুটবল খেলে। আমরা সমীহ করি।’
রুশ স্ট্রাইকার এডওয়ার্ড তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করে রাসেলকে তুলেছেন ফাইনালে। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের তরুণ সোহেল রানা সেমিফাইনালে গোল করে জিতিয়েছেন ফরাশগঞ্জকে। আজও সোহেলের দিকে তাকিয়ে থাকবে দল। লাল কার্ড ও চোট সমস্যায় চার বিদেশির দুজনসহ সেরা দল যে পাওয়া যাচ্ছে না।
ধারেভারে ফেবারিট শেখ রাসেল। চ্যাম্পিয়ন হলে দলটি খেলোয়াড়দের ৭ লাখ টাকা বোনাস দেবে। ফরাশগঞ্জ এক লাখ দেবে বলেছে। তবে বোনাস নয়, প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ কাজে লাগানোই দুই দলের মূল মন্ত্র। চ্যাম্পিয়ন শব্দটাই যে জাদুকরি!

জন্মদিনের উৎসব বাতিল টেন্ডুলকারের

যোদ্ধা তিনিও। লড়াইয়ের মঞ্চটা অবশ্য আলাদা। আলাদা যুদ্ধাস্ত্রও। কিন্তু একজন সেনা যেমন দেশের জন্য লড়াই করেন, শচীন টেন্ডুলকারও তা-ই। তবে নিজের চেয়ে একজন সাধারণ সেনাকেও অনেক এগিয়ে রাখলেন ক্রিকেটের সর্বকালের সফলতম এই ব্যাটসম্যান। বললেন, ‘লড়াই করার প্রেরণা আমি এই সেনাদের কাছ থেকেই পেয়েছি।’
৩৮তম জন্মদিনটা একটু অন্যভাবেই উদ্যাপন করতে চেয়েছেন টেন্ডুলকার। কথা ছিল পুনেতে যুদ্ধাহত সেনাদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাবেন, কিন্তু আইপিএলের ব্যস্ততায় তা সম্ভব হয়নি। ঘরোয়াভাবে যেসব আয়োজন করা হয়েছিল, তা-ও শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছেন। ভারতের আধ্যাত্মিক নেতা সত্য সাঁই বাবা গুরুতর অসুস্থ। সাঁই বাবার রোগমুক্তির জন্য সবাইকে প্রার্থনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন টেন্ডুলকার। ৩৮তম জন্মদিনটা তাই অনাড়ম্বরভাবেই কাটছে তাঁর। সরাসরি যেতে না পারলেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুদ্ধাহত সেনাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৯৯টি সেঞ্চুরির মালিক, ‘প্রিয় যোদ্ধা ভাইয়েরা, শ্রদ্ধার সঙ্গে আপনাদের শুভেচ্ছা জানাই। দায়িত্ব নেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা আমি আপনাদের কাছ থেকেই পেয়েছি।’
টেন্ডুলকারেরও খুব ইচ্ছা ছিল সরাসরি এঁদের সঙ্গে দেখা করবেন। সেটি সম্ভব হয়নি বলে তাঁর নিজেরও মন খারাপ। কথা দিয়েছেন, সুযোগ হলে অবশ্যই পুনেতে এসে দেখে যাবেন যুদ্ধাহতদের, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে টেবিল টেনিস খেলতে চাই। শিখতে চাই কীভাবে খেলতে হয় বাস্কেটবল।’ এমনিতে টেন্ডুলকারের জন্মদিনটা মোটামুটি সাড়ম্বরে আয়োজনের সব প্রস্তুতিই ছিল। ৩৮ কেজি ওজনের বিশাল কেক বানানোর কথা ছিল হায়দরাবাদের আইটিসি কাকাতিয়া হোটেলের। ম্যাচ খেলতে এখানেই সপরিবারে উঠেছেন টেন্ডুলকার। বড় পার্টি দিতেন মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের মালিক নীতা আম্বানি। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলিউড ও দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের শিল্পীদের। গতকাল থেকেই অনেকে টুইটার ও সংবাদমাধ্যমে শুভেচ্ছাও জানাতে শুরু করেছেন। ডিএনএতে বিশেষ কলাম লিখেছেন ভারতীয় টেনিস কিংবদন্তি মহেশ ভূপতি।

প্রতিশোধ নয় গেইলের

আইপিএলে আগের দুই মৌসুমে ক্রিস গেইল খেলেছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে। কিন্তু এবারের খেলোয়াড় নিলামে সৌরভ গাঙ্গুলীর মতো গেইলও থেকে যান অবিক্রীত। ডার্ক ন্যানেসের ইনজুরি গেইলকে শেষ পর্যন্ত আইপিএল খেলার সুযোগ করে দিল। পরশু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে তাঁর অভিষেক হলো পুরোনো দল কলকাতার বিপক্ষে।
অভিষেকটা এমন উজ্জ্বল আর হতে পারত না। আগের দুই মৌসুমে কেকেআরে ছায়া হয়ে থাকা গেইলই পরশু ইডেন গার্ডেনে কলকাতার বোলারদের কচুকাটা করে সেঞ্চুরি করলেন মাত্র ৫৫ বলে! ১০ চার, ৭ ছক্কা। তাঁর দল বেঙ্গালুরুও জিতল ৯ উইকেটে। তবে কি কলকাতার ওপর প্রতিশোধের জ্বালা মেটালেন গেইল? কেকেআরের মালিক শাহরুখ খান অন্তত মনে করেন না, এটা প্রতিশোধ। দল হারলেও ম্যাচ শেষে দীর্ঘদেহী জ্যামাইকানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন বলিউড কিং, ‘গেইল সত্যিই দুর্দান্ত খেলেছে। তার ইনিংসটি ছিল অসাধারণ। কিন্তু আমি মনে করি না, সে আমাদের কিংবা অন্য কিছুর প্রতিশোধ নিয়েছে। সে গ্রেট ক্রিকেটার। আমি তাকে শুভেচ্ছা জানাই।’
প্রতিশোধ জাতীয় শব্দ উচ্চারণ করেননি গেইলও। তিনি নিজেকে শুধু বলতেন, আইপিএলে তাঁর একটা সেঞ্চুরি দরকার। সেটা পেয়ে ঈশ্বরের কাছে গেইলের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই, ‘ঈশ্বর ভালো, ঈশ্বর মহান...তাঁর কৃপা ছাড়া এটা সম্ভব হতো না।

স্বাধীনতা কাপ ফরাশগঞ্জের

শুরু থেকেই ফরাশগঞ্জের বিদায় দেখছিলেন অনেকে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্স বিবেচনায় দলটির শেষ আটে ওঠা ছিল বড় এক বিস্ময়। সেই বিস্ময়কে পেছনে ফেলে নতুন এক রূপকথারই জন্ম দিল খোকন দাসের দল। সব হিসাব এখন অতীত, মিথ্যে। স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের শিরোপা যে শোভা পাচ্ছে ‘ভাগ্যগুণে’ ফরাশগঞ্জের ঘরে!
এই প্রথম কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে নেমেছিল ফরাশগঞ্জ ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। তবে ম্যাড়ম্যাড়ে হয়নি, শ্বাসরুদ্ধ আবহের মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি হয়েছে শিরোপাভাগ্য। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফলাফল ১-১। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে কোনো গোল নেই। টাইব্রেকারেও খেলা অমীমাংসিত থাকে ৩-৩ ব্যবধানে। খেলা শেষ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয় ‘সাডেন ডেথে’।
‘সাডেন ডেথের’ প্রথম দফায় সফল হয়েছিল দুই দলই। দ্বিতীয় দফায় শেখ রাসেলের প্রদীপ বড়ুয়ার বল ঠেকিয়ে দেন ফরাশগঞ্জের গোলরক্ষক সুজন। ম্যাচে তখন টান টান উত্তেজনা। এ দফায় সফল হলেই শিরোপা ফরাশগঞ্জের। সুযোগটা মিস করেননি মোখলেছুর রহমান। শেখ রাসেলের জালে বল জড়িয়ে স্বপ্নের শিরোপাটা এনে দেন দলকে। ৫-৪ ব্যবধানের জয়ে ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর বড় কোনো আসরের শিরোপা জিতল ফরাশগঞ্জ।

পাকিস্তানের জয় ৮ উইকেটে

সফর শুরুর টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জিততে পারেনি শহীদ আফ্রিদির পাকিস্তান। কিন্তু কাল সেন্ট লুসিয়ায় প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে জিতেই মাঠ ছেড়েছে তারা।
প্রথমে ব্যাট করে ক্যারিবীয়দের গড়া ২২১ রানের স্কোরকে মোহাম্মদ হাফিজ, আসাদ শফিক ও মিসবাহ-উল-হকের তিনটি ঝকঝকে ইনিংসের ওপর ভর করে খুব সহজেই পেরিয়ে গেছে দলটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই সংগ্রহ পার হতে পাকিস্তান হারিয়েছে কেবল ২টি উইকেট। হাফিজ ৫৪, আসাদ শফিক ৬১ ও মিসবাহ ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন।
সকালে কিন্তু টসটা জিতেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন স্যামিই। ব্যাট হাতে মাঠে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতন হতে থাকায় ব্যাটসম্যানরা ঢুকে যান খোলসের মধ্যে। ফলে রান তোলার গতি হয়ে যায় খুবই শ্লথ। ডোয়াইন ব্রাভোর ৬৭ রান ছাড়া বাকি ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা নিজেদের ইনিংসের শুরুটা করলেও একে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। শেষের দিকে টেইল-এন্ডাররা একটু ঘুরিয়ে ব্যাট চালানোয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ২০০-র কোটা পার হয়।
পাকিস্তানের পক্ষে ওয়াহাব রিয়াজ ২টি এবং মোহাম্মদ হাফিজ ও সাঈদ আজমল ১টি করে উইকেট দখল করেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২২১ রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল একেবারে বিজয়ী দলের মতোই। আহমেদ শেহজাদ ও হাফিজ মেরে কেটেই শুরুটা করে দেন। দলীয় ৬৮ রানের মাথায় শেহজাদ ব্যক্তিগত ২২ রানে আউট হওয়ার পর হাফিজও দলীয় ৮৮ রানে ব্যক্তিগত ৫৪ রানে আউট হলে কিছুটা বিপদে পড়ে যায় পাকিস্তান। তবে সময়ের ইনফর্ম দুই ব্যাটসম্যান আসাদ শফিক ও মিসবাহ-উল-হক নিজেদের মধ্যে দারুণ একটি জুটি গড়ে পাকিস্তানি ড্রেসিং রুমকে একেবারে নির্ভার বানিয়ে দেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের তরুণ লেগ স্পিনার বিশু কালও ছিলেন দারুণ সফল। তিনি পেয়েছেন ২টি উইকেট। তবে বাকি বোলাররা শফিক ও মিসবাহর সামনে অসহায় থাকায় জয় দূরে থাক, বিন্দুমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাও গড়তে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২২১/৬ (৫০ ওভার)
ব্রাভো ৬৭, স্যামি ২৯*
ওয়াহাব রিয়াজ ২/৬২
পাকিস্তান ২২২/২ (৪১.৩ ওভার)
হাফিজ ৫৪, আসাদ শফিক ৬১*, মিসবাহ ৭৩*
বিশু ২/৪৮
পাকিস্তান ৮ উইকেটে জয়ী।