Tuesday, April 25, 2017

শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে ফ্রিতে বাসা ভাড়া!

বৃটেনের বিভিন্ন স্থানে অদ্ভুত এক বিজ্ঞাপন সেঁটে দেয়া হচ্ছে। এতে অসহায় নারীদের আবাসনের বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিজ্ঞাপনের ভাষায় পরিষ্কার করে বলা হচ্ছে, যে নারী আবাসন সুবিধা নিতে চান তাকে অবশ্যই সিঙ্গেল হতে হবে। বিনময়ে মিটাতে হবে শারীরিক চাহিদা। এমন বাড়িওয়ালার সংখ্যা বাড়ছে। এ নিয়ে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল একটি রিপোর্ট করেছে। এতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে সেঁটে দেয়া এসব বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হচ্ছে আপত্তিকর শব্দ। বার্মিংহামে একটি বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যৌন সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে বিনামূল্যে থাকার রুম বা ফ্লাট দেয়া হবে। এর বিনিময়ে কোনো বিল দিতে হবে না। আসবাবপত্রে সজ্জিত। এখনই উঠতে পারেন। শুধু সিঙ্গেল নারীরাই। বিনিময়ে আমি চাই অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। জেনুইন জেন্ট।
এর রহস্য খুঁজেতে বিচ্ছেদপ্রাপ্তা হিসেবে ট্রেসি নাম ধারণ করেন একজন সাংবাদিক। তিনি যোগাযোগ করেন ওই জেনুইন জেন্টের সঙ্গে। যোগাযোগের পর তিনি নিজেকে স্টিভ বলে পরিচয় দেন। আলাপচারিতায় যখন শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে তখন স্টিভ বলে, এটা তোমার ওপর নির্ভর করছে। তুমি চাইলে তোমাকে আমি খাবার খাওয়াতে নিয়ে যেতে পারি। দামও দিতে পারি। তবে এখন সেই সুযোগ চলে গেছে। আমি এরই মধ্যে একজনকে পেয়েছি। তবে আমার বাড়তি একটি কক্ষ রয়েছে। আমি সবেমাত্র বিচ্ছেদপ্রাপ্ত। আমার সঙ্গ প্রয়োজন। আরও কিছু...। এরপর যখন সরাসরি একজন রিপোর্টার হিসেবে তার সামনে হাজির হন সাংবাদিক তখন তিনি এসবই অস্বীকার করেন। বলেন, কই কোথায় বিজ্ঞাপন দিয়েছি। আমি তো কিছুই জানি না। আমি শুধু নিঃসঙ্গ। তবে তিনি পরক্ষণেই তার কথা পাল্টে ফেলেন। বলেন, দিনশেষে কেউ আমাকে ফোন করলো না। এখানেই আমার কাহিনী শেষ হয়ে গেল।
আরেকটি বিজ্ঞাপন সেঁটে দেয়া হয় ওয়ালসালে একটি ক্রেইগসলিস্টে। তাতে লেখা হয়, যথার্থ যুবতীর জন্য দুই রুমের বাসা বিনামূল্যে দেয়া হবে। তাতে বিজ্ঞাপনদাতা আরো লিখেছেন, আমি লন্ডনে কাজ করি। প্রচুর সফর করতে হয়। তাই এই বাড়িতে আমি খুব কম সময় থাকি। চাইলে আপনিও জায়গা করে নিতে পারেন। বিনিময়ে আমি আশা করি আপনি জায়গাটা পরিষ্কার রাখবেন। আর আমাকে জড়িয়ে ধরবেন। আলিঙ্গন করবেন। সপ্তাহে এক বা দু’বার। আমি ৩০ বছর বয়সী একজন পুরুষ। তাই খুঁজছি ৩৫ বছরের নিচের কোনো যুবতী ফ্লাটমেটকে। এটা কোনো ভুয়া খবর নয়। এটা খাটি একটি বিজ্ঞাপন।
একই এলাকায় আরেকটি বিজ্ঞাপন। তাতে লেখাÑ যৌন সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে রুম বা ফ্লাট বিনামূল্যে ভাড়া দেয়া হবে।
এতে হগ হিলের ব্রুমফোর্ড লেনে যাওয়ার মানচিত্রও দিয়ে দেয়া হয়েছে। এ রকম অনেক বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে ইদানীং।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজট

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে মির্জাপুরের ধল্যা হতে গাজীপুরের চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজট দেখা গেছে।  এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। যানজটের কারণে পণ্য বোঝাই যানবাহন সময়মত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়াও মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ছিল। এসব কারণে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মির্জাপুর গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, দিবাগত রাত ৩টার দিকে যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে।

সম্পত্তির বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধে ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ভাই খুন

কক্সবাজারের মহেশখালীতে পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমের ছুরিকাঘাতে মেজ ভাই খোরশেদ আলম (৩০) খুন হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পর সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত খোরশেদ আলম কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা গ্রামের মৃত হাজী কালা মিয়ার ছেলে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীর কুতুবজুম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা গ্রামের ধনাঢ্য ব্যক্তি মৃত হাজী কালা মিয়া প্রায় ৮০ কানি জমি রেখে এক বছর পূর্বে মারা যান। তার মৃত্যুর পর সম্পত্তির ভাগ নিয়ে চার ছেলে জাফর আলম লেজা, খোরশেদ আলম, জাহাঙ্গীর আলম ও শাহিন আলম বাবুলের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এদেরে মধ্যে শাহিন আলম মলয়েশিয়া ও নিহত খোরশেদ আলম দুবাই চলে গেলে আপর দু’ভাই জাহাঙ্গীর ও জাফর এবং তাদের ভগ্নিপতি আমির হোছন কোম্পানী সমস্ত সম্পত্তি ভোগ দখল করে আসছিল। গত কয়েক মাস পূর্বে খোরশেদ আলম বিদেশ থেকে ফিরে বড় ভাই জাফর ও ছোট ভাই জাহাঙ্গীরকে তার অংশের জমির বুঝিয়ে দিতে বলেন। এতে তারা খোরশেদের উপর ক্ষিপ্ত হন।
ঘটনার দিন (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঘটিভাঙ্গা স্টেশন বাজারস্থ পৈত্রিক দোকান ঘরের ভাড়া তোলাকে কেন্দ্র করে নিহত খোরশেদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় ছোট ভাই জাহাঙ্গীর ও বড় ভাই জাফরের। এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর খোরশেদের পেটে ছুরিকাঘাত করলে তিনি মারাত্মক আহত হন। তাকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মো. হোসেনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ক্ষতস্থান সেলাই করে ওই চিকিৎসকের পরামর্শে খোরশেদকে বাড়িতে রেখে দেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ২১ এপ্রিল মহেশখালী হাসপাতাল, সেখান থেকে কক্সবাজার এবং ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকালে খোরশেদ আলম মারা যান। নিহত খোরশেদের জেঠাত ভাই মো. সেলিম উল্লাহ জানান, পৈত্রিক বিপুল পরিমাণ জমি কুক্ষিগত করার লোভে দীর্ঘদিন ধরে অপর ভাইয়েরা খোরশেদকে বঞ্চিত করে আসছিল এবং সর্বশেষ তাকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে। মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। এরপরও পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাতে মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হাতীবান্ধায় জামাইয়ের কাণ্ড!

ভালোবেসে বিয়ে। অতঃপর যৌতুকের দাবিতে রোববার অস্ত্র হাতে নিয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও শ্যালককে পেটালেন জামাই। আর দিনে-দুপুরে দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে ওই মারামারির ঘটনা ঘটেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার প্রধান ফটক থেকে মাত্র কয়েক গজ অদূরে কাজির বাজার এলাকায়। এতে আহত অবস্থায় ৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহতরা হলেন দক্ষিণ গড্ডিমারী আবদুল হামিদ, তার স্ত্রী কমলা বেগম, ছেলে আসাদুজ্জামান অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে ছাবিনা ইয়াসমিন, পশ্চিম বেজগ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম, তার ছেলে রফিকুল ইসলাম ও মেয়ে নিলুফা বেগম। সোমবার বিকালে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে কথা হয় দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে। এ সময় তিনি জানান, বছরখানেক আগে ভালোবেসে কোর্টে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করেন পার্শ্ববর্তী পশ্চিম বেজগ্রামের রফিকুল ইসলামকে। তবে কিছুদিন পর মেয়ের পরিবার বিয়ের বিষয়টি মেনে নিলে হঠাৎই যৌতুকের দাবি তোলে রফিকুল। আর তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্যাতনের খড়ক নেমে আসে ছাবিনার ওপর। এরই ধারবাহিকতায় শুক্রবার ছাবিনাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় রফিকুল ও তার পরিবারের লোকজন। পরে বিষয়টি শুনে ছাবিনার বড় ভাই আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে বাকবিতণ্ডা হয় রফিকুলের। এরই জের ধরে রোববার দিন-দুপুরে উপজেলার কাজির বাজার এলাকায় পরিবারের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে আসাদুজ্জামানকে ধাওয়া করে বোনজামাই রফিকুল। এসময় রফিকুলের হাতে দা ও ছুরি দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। আর ওই দায়ের আঘাতে মাঠিতে লুটিয়ে পড়েন আসাদুজ্জামান। পরে খবর পেয়ে রফিকুলের শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্ত্রী ছাবিনা ঘটনাস্থলে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হন। তবে জামাই রফিকুলের ভাষ্য মতে, যৌতুকের জন্য নয়। আসাদুজ্জামন তার বাবাকে মারতে চেয়েছিল। তাই এ নিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি রফিকুলের।হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, আমি দু’দিন ধরে থানার বাইরে। বিষয়টি শুনেছি। এতে কেউ মামলা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিনিয়োগে কঠিন বাস্তবতায় দেশ

বিআইডিএসের সেমিনারে দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কঠিন বাস্তবতা মোকাবেলা করছে। এখানে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা প্রবল। ঝুঁকি নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে চলছে খরা। স্থানীয় বিনিয়োগে ব্যাংকের অর্থায়নই বড় উৎস। কিন্তু ঋণের উচ্চ সুদহার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে পারছে না। পুঁজিবাজার বিকল্প অর্থায়নের উৎস হলেও সেখানে গেম্বলিংয়ের ভয় আছে। ব্যক্তি উদ্যোক্তার অর্জিত আয়ও বিনিয়োগে আসছে না। অনিশ্চয়তাই তাদের বড় ভয়। ফলে দেশে একটা বিনিয়োগ বন্ধ্যত্ব পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সোমবার বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা পরিষদের (বিআইডিএস) দুই দিনব্যাপী সেমিনারের সমাপনী অধিবেশনে দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের বক্তব্যে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তবে সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম অর্থনীতিবিদদের এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বিনিয়োগে ঝুঁকি থাকবে। এটা সব দেশেই আছে। সরকারের নীতিগত সহায়তা নিয়ে এ ঝুঁকি মোকাবেলায় উদ্যোক্তাকে এগিয়ে আসতে হবে। শিল্প উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখায় উদ্যোক্তা হিসেবে দেশের শীর্ষ দুটি কোম্পানির নাম উল্লেখ করে তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ও বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এই সাহসী উদ্যোক্তাদের অন্যতম পথপ্রদর্শক হতে পারেন।’ তারা দেশে এমন কোনো শিল্প নেই যা গড়ে তোলেননি। বিদ্যমান এসব প্রতিবন্ধকতার মধ্যেই তারা দেশে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। বাস্তব অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে সাহসের সঙ্গে বিনিয়োগ করে তারা সফল হয়েছেন। শীর্ষ প্রতিষ্ঠান দুটি অন্য ব্যবসায়ীদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। দুই দিনব্যাপী সেমিনারের শেষদিন টুওয়ার্ডস ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন শীর্ষক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক রেহমান সোবহান। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, অলস্টার ইউনিভার্সিটির (ইউকে) অধ্যাপক এসআর ওসমানি, এমসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. ফয়সাল আহমেদ প্রমুখ। অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করেই বিনিয়োগে আসতে হবে।
এ ক্ষেত্রে সরকারের নীতিতে এবং উদ্যোক্তার ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। বিনিয়োগে অর্থায়ন সংকট দূর করতে হবে। এখানে বিদেশি বিনিয়োগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এর জন্য হয়তো কমবেশি পদক্ষেপ আছে। কিন্তু দেশি বিনিয়োগ বাড়ানোও জরুরি। স্থানীয় বিনিয়োগে অর্থায়নের বড় উৎস ব্যাংক। কিন্তু ঋণের উচ্চ সুদহার উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। পুঁজিবাজার বিকল্প অর্থায়নের উৎস হলেও সেখানে গেম্বলিংয়ের ভয় আছে। ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের অর্জিত আয়ও আসছে না বিনিয়োগে। বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি সংকট দূর, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, উৎপাদন ও মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি এবং পণ্যের বহুমুখীকরণ ও ব্যবসার ব্যয় কমানো গেলে উদ্যোক্তাদের টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়বে। মুনাফা বাড়লে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগেও আসবেন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিনিয়োগে এখন বহুমুখী চ্যালেঞ্জ সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। চাইলেই যেখানে-সেখানে শিল্প গড়ে তোলা যায় না। এটি হওয়াও উচিত নয়। এখানে পরিবেশ রক্ষা করে শিল্পায়ন হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলে তাতে দেশ ও উদ্যোক্তারা দু’ভাবেই লাভবান হবেন। শুধু বিনিয়োগ করলেই হবে না। ভবিষ্যতের বিষয়টিও চিন্তা করতে হবে। সেটি উদ্যোক্তা এবং দক্ষ শ্রমিক দু’ভাবেই পরবর্তী প্রজন্মকে তৈরি করতে হবে। শিক্ষার সঙ্গে শিল্প উৎপাদনের সহায়ক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

এনবিআরের ষড়যন্ত্র সরকারের বিরুদ্ধে

নির্বাচনী বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর কালো ভ্যাট আইনের খক্ষ নামিয়ে দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও ভোটারদের ক্ষুব্ধ করে তুলতে গলাকাটা এ আইন বাস্তবায়ন করতে ১ জুলাই থেকে মাঠে নামতে যাচ্ছে সংস্থাটি। অথচ বাস্তবতা হল এ আইন কার্যকর হলে গ্যাস-বিদ্যুতের মতো সর্বজনীন উপকরণসহ সব পণ্যেই জনগণকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে। এতে সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষ নতুন এ চাপ সহ্য করতে পারবেন না। আর নির্ঘাত এর বিরূপ প্রভাব পড়বে আগামী জাতীয় নির্বাচনে। ক্ষতিগ্রস্তদের ভোটবঞ্চিত হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সোমবার এমন সব ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ব্যবসায়ী নেতাসহ সাধারণ ভোক্তাদের অনেকে। এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে সরকার রাজনৈতিকভাবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেননা সরকারের নির্বাচনের বছরে আইএমএফসহ বিদেশি দোসরদের খুশি করতে প্রকারান্তরে সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে এনবিআর। এটি শুধু অভিযোগ নয়, এর বাস্তব যুক্তিও আছে। এফবিসিসিআই সভাপতি মাতলুব আহমাদ যুগান্তরকে বলেন, পণ্য ও সেবার বিক্রয় মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করার ফলে জনগণ কষ্টকর অবস্থার মধ্যে পড়বেন। এতে মূল্যস্ফীতিও বাড়বে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। এর ফলে জনঅসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, লাওস এমনকি পার্শ^বর্তী দেশ ভারতেও রাজ্যভিত্তিক ভ্যাট হার আছে। বাংলাদেশকেও সে পদ্ধতি অনুসরণ করে মাল্টিপল ভ্যাট হার রাখা উচিত। এতে কিছুটা হলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। নতুন আইন বাস্তবায়ন হলে ট্যারিফ মূল্য, সংকুচিত ভিত্তিমূল্য উঠে যাবে। বর্তমানে ইট, রড, গুঁড়া দুধ, হাতে তৈরি বিস্কুট, চশমার ফ্রেম, জেনারেটরসহ ৮৫টি পণ্য ট্যারিফ মূল্যের সুবিধা ভোগ করছে। আর সংকুচিত ভিত্তিমূল্যের আওতায় বিদ্যুতে ৫ শতাংশ, পরিবহন খাতে ১০ শতাংশ, মোটরগাড়ির গ্যারেজে ১০ শতাংশ, আসবাবপত্রে ৪ শতাংশ, ভবন হস্তান্তরে দেড় শতাংশ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ ভ্যাট আছে। নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করা হলে এর বদলে সব পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। একাধিক ব্যবসায়ী নেতা যুগান্তরকে বলেন, মানুষের আয় বাড়েনি। কেননা সামগ্রিক অর্থে বিনিয়োগ না বাড়লে আয় বাড়ে না। আর বিনিয়োগের বেহাল অবস্থা তো সবার জানা। কিন্তু সরকার বড় বাজেট দিতে গিয়ে মহল বিশেষের ফাঁদে পা দিয়েছে। এখন বেশি পরিমাণে রাজস্ব আদায়ে গলাকাটা ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ী সব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাস্তবায়নের পর মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও সমহারে বেড়ে যাবে। তারা বলেন, তাদের এ যুক্তি যদি সত্য বলে বিবেচিত হয় তাহলে সরকারের বিরুদ্ধে এনবিআর যে ষড়যন্ত্রে নেমেছে সেটিও সত্য। তারা মনে করেন, শুধু সংখ্যাতত্ত্বের বড় বাজেটের ফাঁদে পা দিলে তা সরকারের জন্য বুমেরাং হবে।
এদিকে ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী যুগান্তরকে বলেন, নতুন ভ্যাট আইনের কবলে পড়ে শুধু সব শ্রেণী-পেশার মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে না, হুমকিতে পড়বে দেশীয় শিল্প। ১ হাজার ৩৭০টি পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক উঠে যাওয়ার কারণে দেশীয় শিল্প সুরক্ষা হারাবে। তখন আমদানি পণ্যে সয়লাব হয়ে যাবে দেশের বাজার। চীন থেকে আমদানি করা নিন্মমানের পণ্যের কাছে দেশীয় পণ্য মার খাবে। পণ্য উৎপাদনের চেয়ে আমদানিতে উৎসাহিত হবেন ব্যবসায়ীরা। এতে শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। বেকারত্ব বাড়বে। অন্যদিকে সব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের ফলে খক্ষ নামবে ভোক্তার ওপর। বেশি অর্থ দিয়ে পণ্য ও সেবা কিনতে হবে। এতে মূল্যস্ফীতি আশঙ্কাজনক হারে বাড়বে। সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ও বেড়ে যাবে। কারণ নতুন আইনে সংবেদনশীল খাত যেমন- স্টিল, জুয়েলারি, গ্যাস-বিদ্যুতের ওপরও ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। তারা মনে করেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়িত হলে শিল্পপতি থেকে শুরু করে একেবারে সাধারণ দোকানি পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে সব পর্যায়ের ভোক্তাসাধারণ বিপাকে পড়ে যাবেন। কেননা যিনি বিক্রি করবেন তার হয়তো প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতি হবে না, কারণ তিনি তো ভ্যাট কালেক্টর। কিন্তু যার কাছে বিক্রি করবেন তাকে ১৫% টাকা বেশি গুনতে হবে। তাদের মতে, বিদ্যমান ভ্যাট আইন দিয়েই সরকারের রাজস্ব আয় অনেক বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু বেশির ভাগ রাজস্ব কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে সরকার তা ঘরে তুলতে পারছে না। তাই আগে দুর্নীতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু শাস্তি না হওয়ায় প্রশাসনসহ সমাজের সর্বস্তরে আজ দুর্নীতি জেঁকে বসেছে।
দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা উঠে যাবে : নতুন ভ্যাট আইনের দ্বিতীয় তফসিল অনুযায়ী, সিগারেট, মদ-বিয়ার, গাড়িসহ বিলাসবহুল পণ্য ছাড়া বেশির ভাগ পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ট্যারিফ সিডিউলের দেড় হাজার পণ্যের মধ্যে মাত্র ১৭০টিতে সম্পূরক শুল্ক রাখা হয়েছে। বাকি ১ হাজার ৩৭০টি আইটেমের পণ্যের ওপর তা উঠিয়ে নেয়া হচ্ছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে প্লাস্টিক, পাদুকাসহ বেশির ভাগ শিল্পে ধস নামবে। এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, নতুন ভ্যাট আইনের আওতায় আমদানি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক উঠে গেলে দেশীয় শিল্প মরে যাবে। সম্পূরক শুল্ক উঠিয়ে দিয়ে শিল্পকে কীভাবে সুরক্ষা দেয়া হবে তার কিছুই বলা হচ্ছে না। ইনসেনটিভ বা অন্য কোনো উপায় বের না করা পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখা উচিত। প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, সম্পূরক শুল্ক উঠে গেলে শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ সম্পূরক শুল্কের আরোপ থাকায় বিদেশ থেকে প্লাস্টিক পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত হতো। এর ওপর ভিত্তি করে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে উদ্যোক্তারা। এই মুহূর্তে সম্পূরক শুল্ক উঠিয়ে দেয়া হলে শিল্পে ভয়াবহ বিপর্যয় নামবে। তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) অজুহাত দেখিয়ে স্থানীয় শিল্পকে ধ্বংস করতে সম্পূরক শুল্ক উঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বিভিন্নভাবে তাদের স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিচ্ছে। এন্টি-ডাম্পিং ডিউটি, কাউন্টারভেইলিং ডিউটির মতো নানা ধরনের অশুল্ক বাধার মেকানিজম রেখেছে। কিন্তু এ ধরনের মেকানিজম আমাদের নেই। স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষার মেকানিজম তৈরি না করে সম্পূরক শুল্ক উঠানো উচিত হবে না। ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের মহাসচিব আবু মোতালেব বলেন, নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ফলাফল আসেনি। ব্যবসাবান্ধব করা ছাড়া আইন বাস্তবায়ন করা হলে তা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা মেনে নেবে না। বাজেটের আগেই ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী আইন সংশোধন করতে হবে। তা না হলে এফবিসিসিআই’র নির্বাচনের পর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরাম পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
ভোক্তার ওপর চাপ পড়বে : নতুন আইনে ১৫(৩) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইনে ভিন্নতর কিছু না থাকিলে, করযোগ্য সরবরাহ বা করযোগ্য আমদানির ক্ষেত্রে মূসক (ভ্যাট) হার হইবে ১৫ (পনের) শতাংশ।’ অর্থাৎ কয়েকটি বাদে দেশের সব পণ্যে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করবে সরকার। এ বিষয়ে ক্যাবের সভাপতি কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের মতো সর্বজনীন পণ্য ভ্যাটের আওতার বাইরে না রাখলে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। এ ধরনের পরিস্থিতি সাধারণ জনগণ সহজভাবে মেনে নেবে না। সরকারকে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার আগে ১০০ বার ভেবে দেখা উচিত। তিনি আরও বলেন, নতুন ভ্যাট আইন ভোক্তাবান্ধব না করে বাস্তবায়ন করলে ভোক্তাদের বাজেটে বাড়তি চাপ পড়বে। তাই ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে সংশোধন করা উচিত।
সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ও বাড়বে : নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাবে। প্রথমত, গ্যাস-বিদ্যুতের মতো জ্বালানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। দ্বিতীয়ত, বিপণন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। এ দুই কারণে নির্মাণ সামগ্রীর মূল উপকরণ রডের দাম বাড়বে টনপ্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। আর ইটের দাম বাড়বে হাজারে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। এ বিষয়ে অটো রি-রোলিং মিল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক সুমন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে প্রতি টন রড ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্য থেকে সরকারকে ৯০০ টাকা ভ্যাট দিতে হচ্ছে। নতুন আইন বাস্তবায়ন হলে প্রতি টন রডে ভ্যাট দিতে হবে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। রেয়াত বাদ দিলে ভ্যাট হবে ৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি টন রডের দাম হবে ৫৫ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, শিল্পের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিলে উৎপাদন খরচ বাড়বে। যার প্রভাব পড়বে রডের দামে। বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির মহাসচিব আবু বকর বলেন, ট্যারিফ মূল্যের আওতায় বর্তমানে প্রতি হাজার ইটে ৪৫০ টাকা ভ্যাট দিচ্ছি। নতুন আইনে বিক্রয় মূল্যের ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। ফলে ভ্যাট দিতে হবে ১ হাজার টাকার বেশি। এতে ইটের দাম বাড়বে। তিনি আরও বলেন, নতুন ভ্যাট আইন ইট ব্যবসায়ীদের মাঝে জটিলতার সৃষ্টি করছে। স্বল্প শিক্ষিত হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী ভ্যাটের হিসাবপত্র রাখতে এবং ইসিআর ব্যবহার করতে পারবে না।

গোলাপের রাজ্য শ্যামপুর

শ্যামপুর গ্রামের প্রায় ষাট পাকি [১৫.৬০ শতাংশ] জমির ওপর বর্তমানে গোলাপ চাষ হয়ে আসছে। গোলাপ ফুল চাষ এখন শুধু এই গ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বিরুলীয়া ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রামেও প্রসারিত হয়েছে। বছরের বারোমাসই গোলাপ চাষ হয়ে থাকে। ভর সন্ধ্যায় ফুল বিক্রির বাজার মিলে ঢাকার অদূরে সাভার উপজেলার বিরুলীয়া ইউনিয়নের উত্তর শ্যামপুর গ্রামের পথে দে-ছুট ভ্রমণ সংঘের বন্ধুরা গাড়ি হাঁকাই। চালকের আসনে আমি নিজেই। চিপা গলি পেরিয়ে মহাসড়কে দূরপাল্লার যানবাহনকে ছাড়িয়ে আমি যাই এগিয়ে। মনে শুধু ভয় একটাই চাকা না হয় পাংচার। এ বিষয়টাকে আমি মহা ভয় পাই। গাড়ি চলছে- সাভার বাজার পেছনে ফেলে, মহাসড়ক থেকে ডানে মোড় নিয়ে সিঅ্যান্ডবি সড়কে ছুটছি। এবার সরু পথে ফিটনেসবিহীন গাড়ি থেকেও মহাভয়ঙ্কর অটোরিকশার জ্বালায় কিছুটা ভীতু আমি। যদি গাড়িতে আঁচড় লাগে তাহলে তো আব্বার ধমকি কত প্রকার তা আরেকবার জানা হয়ে যাবে। আক্রাইনের মোড় থেকে শুরু হল আরও বেদনাবিধূর রাস্তা, এসেই যখন পড়েছি তখন আর কী করা। দেশের বড় বড় নাম করা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখানে অথচ সড়কের কী বেহাল দশা! একেই বলে বাতির নিচে অন্ধকার। তবে দে-ছুটের বন্ধুরা ঠিকই অন্ধকারের বিপরীতে আলোর ঝলক খুঁজে নিতে পারে। এবারও তাই হল। ভাঙা সড়কে দোল খেতে খেতে কিছুটা পথ আগাতেই নৈসর্গিক সব দৃশ্যে চোখ আটকাল। সত্যিই অসাধারণ, ঢাকার পাশেই এমন মায়াবী প্রাকৃতিক দৃশ্য চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হবে না। সোঁদা মাটির গন্ধ নাকে পেতে পেতেই চোখে ধরা পরল লাল গোলাপের বিশাল বাগান। গাড়ি পার্ক করেই ছুটি বাগানের ভেতর। ইয়া খোদা! এই দেখি বিশাল লাল গোলাপের সমুদ্র তার মাঝে আমরা অতিকায় এক ক্ষুদ্র প্রাণী। যতই এগিয়ে যাই ততই যেন অপার্থিব ভালোলাগা ভর করে মনে। বাগানের পর বাগান। মাথায় নেশা চেপে বসে, কিসের গাড়ি আর কিসের বাড়ি। সবই আজ ঠুনকো।
গাড়ির চিন্তা বাদ দিয়েই ভেতর থেকে ভেতরে ঢুকতে থাকি। যতই এগোতে থাকি ততই যেন গোলাপ বাগানের লোকগুলো আপন হতে থাকে। প্রথম বাগানে যে আঁটির দাম ছিল ৪০০ টাকা এখন তা পারলে এমনিতেই দিয়ে দেয়। আগে থেকেই ধারণা পেয়েছিলাম বিরুলীয়া এলাকার লোকজন একটু উগ্র, যার কারণে সাভারবাসীই তাদের টুঙ্গুইরা বলে থাকেন কিন্তু আমরা পেয়েছি তার উল্টো। কথায় আছে না, নিজে ভালোতো জগৎ ভালো। হাঁটতে হাঁটতে এবার পেয়ে যাই এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা সব গাছকে ছাড়িয়ে মাথা উঁচু করে থাকা তাল গাছের সারি। জসিমের চোখে ধরা পড়ে রসের হাঁড়ি। হানিফ বলে রস খাবে। দুঃখের বিষয় তালের রসের স্বাদ পেতে হলে আবারও আসতে হবে সাতসকালে। কি আর করা এক সফরে তো আর সব মিলে না। ওরকম আশা করাটাও ঠিক নয়। গাছির সেল নাম্বার নিয়ে আবারও এগোই। এবার চোখ পড়ে ঝাকায় ঝুলে থাকা লাউ আর মাটিতে শুয়ে থাকা মিষ্টি কুমড়ার প্রতি। দেখা হয় স্থানীয় বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ আবদুল খালেকের সঙ্গে। তিনি জানালেন এই টেঙ্গর শ্যামপুর গ্রাম থেকেই গত বিশ বছর আগে প্রথম গোলাপ চাষ শুরু করেন গোলাম রসুল। তার বাগান করা দেখেই ধীরে ধীরে গ্রামের অন্যরাও অনুপ্রাণিত হয়ে ফুল চাষে এগিয়ে আসেন। শ্যামপুর গ্রামের প্রায় ষাট পাকি [১৫.৬০ শতাংশ] জমির ওপর বর্তমানে গোলাপ চাষ হয়ে আসছে। গোলাপ ফুল চাষ এখন শুধু এই গ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বিরুলীয়া ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রামেও প্রসারিত হয়েছে। বছরের বারোমাসই গোলাপ চাষ হয়ে থাকে। ভর সন্ধ্যায় ফুল বিক্রির বাজার মিলে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা আসেন গোলাপ কিনতে। দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের জন্য ফুলচাষীরা গড়ে তুলেছেন নিরাপত্তাবলয়। মাগরিবের নামাজ শেষে সবুজের বারোভাজা খেয়ে ফিরতি পথ ধরি। ইচ্ছে হলে একটা বিকাল কাটিয়ে আসতে পারেন পুরো পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে।
যোগাযোগ : ঢাকা থেকে উত্তরা থার্ড ফেস, মিরপুর বেড়িবাঁধ ও গাবতলী হয়ে সাভার উপজেলার বিরুলীয়া ইউনিয়নের উত্তর শ্যামপুর গ্রামে সরাসরি নিজস্ব/ভাড়া গাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে। এছাড়া সাভার বাজার স্ট্যান্ড থেকে বাসে বা লেগুনাতে যাওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে কয়েকবার যানবাহন বদল করতে হবে। আর উত্তরা বা বেড়িবাঁধ দিয়েও নিজস্ব গাড়ি ছাড়া যেতে চাইলে কয়েক দফা গাড়ি বদল করে বিরুলীয়া ব্রিজ দিয়ে চলে যেতে পারেন।
খাবেন কোথায় : আক্রাইন/দোসাইদ বাজারে মোটামুটি মানের রেস্টুরেন্ট পাবেন আর বিকালের নাস্তার জন্য দোসাইদ বাজারে রাবিয়া খালার বানানো হরেক পদের ভর্তা দিয়ে চিতই, ভাপা আর মালপোয়া পিঠা খাবেন তার ডেরার দোকানে। সঙ্গে থাকবে গরুর দুধের চা।

১৪ বছরের আগে সন্তানদের ফোন দেননি বিল গেটস

আপনি হয়তো কল্পনা করতে পারেন বিল গেটসের মতো প্রযুক্তিবিদের সন্তানরা অনেক গ্যাজেট ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু বাস্তবতা হল গেটস তার তিন সন্তানকে ১৪ বছর বয়সের আগ পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেননি। সম্প্রতি দ্য মিররে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা জানান। বয়ঃসন্ধির সময় বাচ্চারা মোবাইল ফোনের জন্য তাদের কাছে জিদ করত; কিন্তু তিনি এবং স্ত্রী মেলিন্ডা ১৪ বছর বয়সের আগ পর্যন্ত তাদের অভিযোগ আমলে নেননি। এছাড়াও তিনি এবং ম্যালিন্ডা দু’জনেই সন্তানদের ‘স্ক্রিনটাইম’ সীমিত করে দিয়েছিলেন।
আর এতে করে তারা যথেষ্ট পরিমাণ ঘুমাতে পারত। যদিও অন্যরা অনেক কম বয়সে এসব গ্যাজেট ব্যবহার করতে পারছে বলে সন্তানরা অভিযোগ করত। গেটস আরও বলেন, আপনি সবসময়ই এসব গ্যাজেটের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাইবেন, যেমন- হোমওয়ার্ক করা বা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং অবশ্যই এটাও খেয়াল রাখা উচিত হবে যেন তা অতিরিক্ত হয়ে না যায়। বিল গেটসের সঙ্গে অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও এ একটি বিষয়ে মিল ছিল। আইপ্যাড বাজারে আসার পর বাচ্চারা এটা পছন্দ করেছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে স্টিভ জবস বলেছিলেন, ওরা এই ডিভাইস ব্যবহার করছে না, বাড়িতে বাচ্চারা কতটুকু প্রযুক্তি ব্যবহার করবে আমরা তার নির্ধারণ করে দিয়েছি।’
বিডিনিউজ। সূত্র : ম্যাশেবল, দ্য মিরর

এই রাজনীতির পরিণতি ভালো হতে পারে না

দিন কয়েক আগের কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন কর্মচারী আমার রুমে এলেন। একটি ব্যাপারে আমার পরামর্শ চায়। একজনের মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব এসেছে। এ নিয়ে সংকট তাদের। মেয়েটি গত বছর আইএ পাস করেছে। বিয়ের প্রস্তাব এসেছে পাশের উপজেলা থেকে। ছেলে বিএ পাস। ঠিকাদারি ব্যবসা করে। পারিবারিক অবস্থাও খারাপ না। আমি বললাম, সম্বন্ধ তো ভালোই মনে হচ্ছে, তাহলে সমস্যা কোথায়? মেয়ের বাবা মাথা চুলকে বললেন, ছেলে রাজনীতি করে। কিন্তু এতে অসুবিধা কী জানতে চাইলাম। ভদ্রলোক সরল দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, রাজনীতি করা ছেলেরা কি ভালো হয় স্যার? আমার বাবা তো শুনেই বেঁকে বসেছেন। বাবা এককালে পোস্ট অফিসের কর্মচারী ছিলেন। সৎভাবে কষ্ট করে আমাদের বড় করেছেন। বলছেন, ভালো মানুষরা এখন রাজনীতি করে না। আমি চাই না আমার নাতজামাই সন্ত্রাসী আর দুর্নীতিবাজ হোক। তুমি অন্য জায়গায় পাত্র খোঁজ। আমি খুব বড় রকমের হোঁচট খাইনি। রাজনীতির বর্তমান হালচাল সচেতন মানুষের দৃষ্টি এড়ায় না। এ দেশের রাজনীতি আদর্শহীনতার কারণে এখন ক্ষয়িষ্ণু দশায় পৌঁছেছে। তাই রাজনীতির প্রতি ক্রমে আস্থা হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। রাজনীতিকরা মানুষের হৃদয়ের আসন থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়ছেন। এ সত্যটি খুব দুর্ভাগ্যজনক।
আমাদের মনে হয় রাজনীতি থেকে দেশপ্রেমের ক্রমেই নির্বাসিত হওয়া রাজনীতি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টির প্রধান কারণ। এখন ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা বা ক্ষমতায় যাওয়ার উদগ্র বাসনা রাখা রাজনীতিকরা ‘রাজনৈতিক বক্তব্যে’র মোড়কে প্রতিদিন অসংখ্য মিথ্যাচার করেন, জেনেশুনে নানা বিষয়ের অপব্যাখ্যা দিয়ে নিজেদের অথবা দলীয় সুবিধার জন্য মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত করে তোলেন। আদিম মানুষ যখন পাথর যুগের অবসান ঘটিয়ে নগর সভ্যতার পত্তন করেছিল, তখন থেকে জন্ম হয়েছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার। রাষ্ট্রের জন্ম ও বিকাশের সঙ্গে রাজনীতিরও যাত্রা শুরু হয়। তাই রাজনীতির সঙ্গে বরাবরই দেশপ্রেমের সম্পর্ক ছিল। আবার রাজনীতির ভেতরে ‘অপরাজনীতি’ বা ‘ষড়যন্ত্রের রাজনীতি’রও জন্ম হয়েছিল শুরু থেকেই। ক্ষমতার লোভ যখন দেশাত্মবোধকে পরাজিত করে, তখন দেশের বক্ষ বিদীর্ণ করে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। প্রাচীন ও মধ্যযুগের মতো রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা না থাকায় এখন প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের বিষয়টি অনেকটা অকেজো হয়ে গেছে। এর বদলে আমাদের মতো দেশে গণতন্ত্রের পোশাকি রূপ ও নামাবরণে দলতন্ত্রে বিভক্ত হয়ে পড়েছে রাজনীতি। রাজনীতিতে বহুদলীয় বিষয় থাকবে; কিন্তু সেখানে দেশপ্রেম-বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীদের হাতে দেশের ভাগ্য অর্পিত হলে হতাশা ছাড়া থাকে কী? ভাবতে কষ্ট হয়, হাজার বছরের স্বাজাত্যবোধে বলীয়ান বাঙালি মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছিল, বাংলাদেশের মানুষেরই তো পরিচিত হওয়ার কথা আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই, রাজনীতির ক্ষেত্রে যে গৌরব সৃজিত হয়েছিল আমাদের পূর্বসূরি রাজনীতিকদের হাতে, তার এখন ক্ষয়িষ্ণু দশা। পাকিস্তান পর্ব থেকে যদি একটি খতিয়ান তৈরি করি তো দেখব বাম রাজনীতি একসময় জনপ্রিয় ছিল এর আদর্শিক সততা ও গণমানুষ-সম্পৃক্ততার কারণে। এখন সময় হয়তো নতুন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে।
রাজনীতিকদের অনেকের মধ্যে আদর্শচ্যুতি ঘটেছে। কমেছে গণমানুষের সঙ্গে সম্পর্ক। জাতীয় রাজনীতিতে বড় কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না এ ধারার রাজনীতিকরা। তবে ক্ষমতার রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারেননি বলে একেবারে বখে যাননি তারা। অন্যদিকে রাষ্ট্রক্ষমতা একমাত্র লক্ষ্য থাকায় বড় দলগুলোর একপক্ষ উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গৌরবের ঐতিহ্যকে আরও উজ্জ্বল না করে তা ম্লান করে চলেছে, আর অন্যপক্ষ ঐতিহ্যের সঞ্চয় না থাকায় নানা মিথ্যাচার করে ও অপশক্তির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে ক্ষমতার বিজয়স্তম্ভে পৌঁছতে ছুটছে। তাই দেশের মানুষ ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্ন এসব রাজনীতিকের কাছে অবান্তর। এ ধারার বক্তব্যের পক্ষে তো উদাহরণের অভাব নেই। অতি সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর দিকে দৃষ্টি বোলানো যেতে পারে। আমাদের প্রধান বিরোধী দল আর সরকারি দল তো বরাবর দুই মেরুতে অবস্থান করছে। সবাই মানেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দেশের কল্যাণে উভয় দলের ঐকমত্যে পৌঁছানো উচিত। অন্তত নিজেদের মধ্যে দূরত্ব কমানো উচিত। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, সরলপথে পা মাড়াবেন না কেউ। কারণ উভয় দলের নেতানেত্রীদের মধ্যে যেন আতঙ্ক কাজ করে, একটু বরফ গলালে বা একটু নরম হলে রাষ্ট্রক্ষমতায় পৌঁছা বা ক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাবে। এ অবস্থা রাজনীতিকদের আত্মবিশ্বাসকে অনেক বেশি দুর্বল করে দেয়। ফলে তাদের ভেতর আত্মমর্যাদাবোধ আর সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায় না। আবার গণতন্ত্র চর্চা দুর্বল বলে জনগণের ওপর আস্থা রেখে নিজেদের শক্তিমান ভাবতে পারছেন না তারা। তাই ভোটের রাজনীতির কথা ভেবে বা রাজনৈতিক কৌশল বলে প্রচার করে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির আদর্শ ধারণ করা দল অবলীলায় কট্টর সাম্প্রদায়িক দলের সঙ্গে হাত মেলাতে দ্বিধা করছে না। এসব কারণে জাতীয় নির্বাচনের হালকা সুর বাজতেই বিএনপি নেতারা পুরনো সুরে কথা বলছেন। তাদের পছন্দমতো নির্বাচনের আয়োজন না করলে নির্বাচন হতে না দেয়ার হুমকিও দিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে সরকারি দল গণমানুষের ভালো লাগা-মন্দ লাগাকে পরোয়া না করেই মৌলবাদী শক্তির কাছে মাথানত করছে। হেফাজতে ইসলামের মৌলবাদী দাবি একের পর এক মেনে ভোটের রাজনীতিতে জিততে চাইছে। যদিও কওমি মাদ্রাসা আর হেফাজত এক জিনিস নয়, তবুও হেফাজতকে খুশি রাখতে কৌশল আঁটছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এতে মাঝে মাঝে হাস্যকরও হয়ে যাচ্ছেন কেউ কেউ। যেমন দিন দুই আগে কওমি মাদ্রাসার হুজুরদের একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় নানা প্রশংসা করতে করতে কওমি মাদ্রাসাসংশ্লিষ্টদের একমাত্র খাঁটি মুসলমান হিসেবে সার্টিফিকেট দিলেন। রোমান পোপরাও একসময় টাকার বিনিময়ে পাপ মুক্তির সার্টিফিকেট বা ইনডালজেন্স বিক্রি করতেন। সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না, এর জন্য আত্মবিশ্লেষণ নেই, আছে লোক হাসানোর মতো আত্মম্ভরিতা। গণপরিবহনের নৈরাজ্য ঠেকাতে গিয়ে সরাসরি ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। বেপরোয়া ড্রাইভারদের আইনের আওতায় এনে শাসন করার ক্ষমতা সরকারের নেই। পরিবহন যানবাহনের মালিকদের বড় অংশই আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি। শ্রমিক ও মালিক ইউনিয়নও মোটের ওপর সরকারি দলের নিয়ন্ত্রণে। তবুও সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছে না। লাভ আর লোভের কাছে পরাস্ত হচ্ছে জনসেবার ধারণা। বাস্তব অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, সংঘশক্তির ভয় দেখিয়ে সরকারকে কাবু করে সুবিধা পেতে চাইছে কোনো কোনো শক্তি। ভোটের রাজনীতিতে মৌলবাদী শক্তিগুলো সবসময় সুবিধার ফসল ঘরে তুলতে চায়। যে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে একা দাঁড়ালে দু-একটি আসন পাওয়া নিয়ে সংকটে থাকে, তারাও ভোটব্যাংকের মূল্যায়নে বিএনপির পক্ষপুটে বসে যায়। ২০১৩-এর আগে যে হেফাজত নাম-পরিচয়হীন ছিল, সেই সংঘটি শাপলা চত্বরে বিপুল অনুসারী দেখিয়ে আতঙ্ক ধরিয়ে দিল ক্ষমতাপ্রিয় দলগুলোকে। সে সময় বিএনপি হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল হেফাজতের দিকে। সতর্ক হয়ে পড়েছিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব। এ শক্তিটিকে বিএনপির দিকে ঘেঁষতে দেয়া যাবে না। যে কট্টর মৌলবাদী দল নারী নেতৃত্ব মানে না, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, তাদের আস্থায় রাখার জন্য দলীয় আদর্শ বিসর্জন দিয়ে কাছে টেনে নিল আওয়ামী লীগ। পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার কথা মাথায়ও নিল না। প্রমাণ হল দাপট দেখাতে পারলেই সরকার নতজানু হবে। একইভাবে আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি নিজ দলের নেতৃত্বের দুর্বল জায়গার খোঁজ পেয়ে গেছেন। তাই প্রয়োজন পড়লেই অনুগত পরিবহন শ্রমিকদের পথে নামিয়ে সব অচল করে দিয়ে সরকারের সামনে নিজেদের দাপট দেখান। সরকারে নিজেদের প্রভাবকে নিশ্চিত করেন।
এসব দেখে মাঝে মাঝে মনে হয় প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত খুব অস্বস্তিতে আছেন। কোনো রকম জিম্মি দশায় থাকতে হচ্ছে না তো তাকে! তার মতো দৃঢ়চেতা আর গণতন্ত্রের প্রতি নিষ্ঠাবান নেত্রী কেমন করে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধবাদী একটি মৌলবাদী দলের সঙ্গে হাত মেলালেন? এমন নির্বাচনী কৌশল কি সুচিন্তিত? ভোটের রাজনীতিতে হেফাজতকে কি বিশ্বাস করা যায়? অ্যাকশনের তো রিঅ্যাকশনও থাকে। আওয়ামী লীগের শুভানুধ্যায়ী অনেকে দলের এ আদর্শচ্যুতিতে ভোটের মাঠে নীরব হয়ে যাবেন কিনা তা কে বলতে পারে। এ সবের চেয়ে দেশজুড়ে দলে যে অভ্যন্তরীণ হানাহানি চলছে, তা কমিয়ে এনে দলকে শক্তিশালী করা কি অধিক লাভজনক হতো না? আমার এক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক এসব দেখে বলছিলেন, আওয়ামী লীগ বোধহয় এবার পচা শামুকেই পা কাটল। এ সত্যটি সবাই মানবেন, দলের ভেতর গণতন্ত্র চর্চা থাকলে এসব সংকটকে সহজেই এড়ানো যেত। অপশক্তি জুজুর ভয় দেখিয়ে সুবিধা আদায় করতে পারত না। নির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থানে থাকার পরও এত দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ছে কেন? এতবড় দলের সাধারণ সম্পাদক যখন শুধু রাজধানীর গণপরিবহনের শৃঙ্খলা আনতে গিয়ে নিজ দলের মালিক-নেতাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন, তখন অভ্যন্তরীণ নৈরাজ্যটিকে অনুধাবন করতে অসুবিধা হয় না। আমাদের ক্ষমতাপ্রিয় দলগুলোর পরিচালক-নীতিনির্ধারকরা বুঝতে চান না যে, মানুষ এখন অনেক সচেতন। জনস্বার্থবিরোধী তাদের সব কর্মকাণ্ড ক্রমে দলগুলোকে গণবিচ্ছিন্ন করে তুলছে। আইউব খানের সময় মুসলিম লীগ নিজেকে মহীরুহ মনে করেছিল। এ দলের অগস্ত্যযাত্রায় দুই যুগও লাগেনি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় দলগুলোর আত্মসমালোচনার সময় বয়ে যাচ্ছে। শুধু বর্তমান আগলে রেখে যদি নেতৃত্ব স্থূল সুখ ভোগ করতে চায়, তাহলে আলাদা কথা। মানতেই হবে স্বেচ্ছাতান্ত্রিক রাজনীতি যে কোনো দলের জন্য চরম পরিণতি ডেকে আনতে বাধ্য।
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
shahnaway7b@gmail.com

মুখের ভেতর ঘা

মুখের ভেতর ঘা হওয়ার অনেক কারণ থাকে। সাধারণত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে বা যারা অত্যধিক দুশ্চিন্তা করেন তাদের বারবার এ ঘা হয়।
অ্যাপথাস আলসার : ছোট ছোট হলুদ রঙের ঘা ও তার চারপাশে লাল প্রদাহ ও প্রচণ্ড ব্যথা অ্যাপথাস আলসারের লক্ষণ।  যারা মুখের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতায় অতিমাত্রায় সচেতন, তাদের এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। মানসিক চাপে এটি বাড়ে। এ রোগীদের ভিটামিন বি, ফলিক এসিড ও আয়রনের অভাব বার বার হতে দেখা যায়।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ঘা : কোনো ওষুধ খাওয়ার পরপর বা ওষুধ খাওয়া অবস্থাতে মুখে ঘা দেখা দিলে ওষুধ বন্ধ করে অতি শিগগিরই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
রক্তস্বল্পতা : রক্তের ক্যান্সার বা লিউকেমিয়া, রক্তের বিভিন্ন কণিকার অভাব, অ্যানিমিয়ার কারণে মুখে ঘা হতে পারে।
ক্যান্সার থেকে ঘা : মুখের ভেতর ক্যান্সার প্রথমে ঘায়ের মতো প্রকাশ পায়। দুঃখজনক হলেও সত্য বেশিরভাগ রোগী এ ঘা’কে গুরুত্ব দেন না এবং ক্যান্সারের অগ্রসর পর্যায়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। যারা পান-সুপারি, জর্দা, খয়ের, সাদা পাতা খান তাদের মুখে ঘা হলে দেরি না করে অতি দ্রুত চিকিৎসকের পরমার্শ নিন।
হারবাল গবেষক ও চিকিৎসক
মর্ডান হারবাল গ্রুপ
মোবাইল : ০১৭১১৩৮৬৬১৭

গরমে সুস্থ থাকতে

সারা দেশে এখন গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহে জীবন ওষ্ঠাগত। প্রচণ্ড গরমে শিশু-কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষ রোজ কোনো না কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়ছেন। এসব স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণটি হচ্ছে হিট স্ট্রোক। এছাড়া আরও কয়েকটি রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে এ সময়। একটু সতর্কতার সঙ্গে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে অস্বাভাবিক এ স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।
গরমে যেসব স্বাস্থ্য সমস্যা হয়
আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে আমাদের শরীর থেকে ঘাম নিঃসৃত হয় এবং এই ঘামের সঙ্গে নিঃসৃত হয় সোডিয়াম ক্লোরাইড, যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গরমের দিনে এবং কঠিন পরিশ্রমে শরীর থেকে প্রায় তিন-চার লিটার ঘাম নিঃসৃত হয়, সেই সঙ্গে লবণ বেরিয়ে যায় ১ দশমিক ৫-২ গ্রাম। ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। দেখা দেয় নিন্মোক্ত স্বাস্থ্যগত সমস্যা-
১. হিট স্ট্রোক
২. ডায়রিয়া
৩. গ্যাস্ট্রিক সমস্যা
৪. হজমে গোলমাল
৫. গরমজনিত ঠাণ্ডাজ্বর
৬. সামার বয়েল বা র‌্যাশ
৭. ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা
হিট স্ট্রোক
এই গরমে একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যগত সমস্যার নাম হিট স্ট্রোক। প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ায় শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে তাকে হিট স্ট্রোক বলে। হিট স্ট্রোকে অজ্ঞান হওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যুও হতে পারে।
লক্ষণ
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মাদ যায়েদ হোসাইন হিমেল যুগান্তরকে বলেন, গরমের সময় হিট স্টোকের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ৫৫ বছরের বেশি বয়স্ক মানুষ হিট স্ট্রোকের শিকার হতে পারে। হিট স্ট্রোক করলে রোগীর মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করে না। চোখে অন্ধকার বা ঝাপসা দেখতে থাকে। রোগীর শরীরের চামড়া ধরলে বেশ গরম অনুভূত হতে পারে, মাথা ঝিম ঝিম করে ও মাথায় ব্যথা অনুভূত হতে পারে, বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে, শরীর বেশ দুর্বল ও অবসাদ লাগতে পারে।
করণীয়
ডা. যায়েদ হোসাইন বলেন, কেউ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমেই রোগীর শরীরের তাপমাত্রা কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। রোগীকে দ্রুত ছায়ায় নিয়ে বাতাস দিতে হবে। মাথায় পানি দিতে হবে। রোগীকে সম্ভব হলে বরফ বা ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করিয়ে দিলে রোগীর শরীরের তাপমাত্রা কমে যাবে। তবে এক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে যাতে অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে রোগীর কাঁপুনি না ওঠে।
এ সময় সুস্থ থাকতে যা খাবেন হাতের কাছে পাওয়া যায় এমন কিছু খাবার খেলে আপনি হিট স্ট্রোকসহ গরমের বিভিন্ন রোগ ও এর ঝুঁকি থেকে বাঁচতে পারেন। সেগুলো হচ্ছে-
ডাবের পানি
গরম থেকে বাঁচতে ডাবের পানির কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে। তাই তো এই গরমে রোজ এক করে ডাব বা বাটার মিল্ক খেতে পারেন, তাহলে দেখবেন শরীর একেবারে চাঙ্গা থাকবে। ডাবের পানি আর বাটার মিল্ক শরীরে খনিজের ঘাটতি হতে দেয় না। ফলে যে কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা কমে।
অ্যাপেল সিডার ভিনেগার
এক গ্লাস পানি নিয়ে তাতে পরিমাণ মতো অ্যাপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। এমনটা করলে শরীরে খনিজ এবং ইলেক্ট্রোলাইটসের ঘাটতি দূর হয়। ফলে অতিরিক্ত গরম এবং ঘামের কারণে শরীর খারাপ হয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কাই থাকে না।
অ্যালোভেরা জুস
গরম থেকে বাঁচতে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি দারুণভাবে সাহায্য করে। রোজ সকালে এক গ্লাস অ্যালোভেরা জুস পান করলে শরীর গরম সহ্য করার জন্য তৈরি হয়ে যায়, ফলে গরমের কারণে শরীর খারাপ হওয়ার আর কোনো আশঙ্কাই থাকে না।
পেঁয়াজের রস
গরম থেকে বাঁচতে পেঁয়াজের রসের কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। এই রস কানের পেছন দিকে এবং বুকে লাগাতে হবে। এমনটা করলেই দেখবেন শরীরের তাপমাত্রা হ্রাস পাবে। সেই সঙ্গে কমবে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও।
তেঁতুল পানি
অল্প পরিমাণ তেঁতুল পানি নিয়ে কম করে ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। পরে সেই পানি পান করুন। প্রসঙ্গত তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় খনিজ, ইলেক্ট্রোলাইটস এবং ভিটামিন, যা শরীরের তাপমাত্রা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে ডায়রিয়া, পাতলা পায়খানা হলে কিছুতেই টক খাবেন না।
প্লামের পানি
গরমকালে শরীরে পানির মাত্রাকে ঠিক রাখাই আমাদের সব থেকে প্রথম কাজ। এমনটা করলেই দেখবেন হিট স্ট্রোকের মতো মারণ অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে না। আর এ কাজটাই করে থাকে প্লাম। সেই সঙ্গে শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এই ফলটি। ফলে শরীরের প্রদাহ কমে গিয়ে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা হ্রাস পায়।
মিন্ট জুস
অল্প করে মিন্ট পাতা নিয়ে জুস বানিয়ে ফেলুন। এই জুস গরমকালে রোজ খেলে হিট স্ট্রোকের কবলে পড়ার আশঙ্কা কমে।
চন্দন পেস্ট
শরীরের তাপমাত্রা কমাতে চন্দনের পেস্ট দারুণ কাজে দেয়। অল্প করে চন্দন বেঁটে নিয়ে সেই পেস্ট কপালে এবং বুকে লাগালেই শরীর ঠাণ্ডা হতে শুরু করে।
খাদ্য তালিকায় আরও যা রাখতে পারেন
* এই গরমে পানি, তরলজাতীয় ও ঠাণ্ডা খাবার যেমন লেবুর শরবত, খাবার স্যালাইন, তরমুজ, ঠাণ্ডা দুধ এবং সহজে হজম হয় এমন খাবার খাদ্য তালিকায় রাখুন।
* পূর্ণবয়স্ক মানুষ দৈনিক চার-পাঁচ লিটার পানি পান করতে পারেন।
* ‘পানিশূন্যতা’ বা ডিহাইড্রেশন’ রোধ করতে বারবার খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি স্বাভাবিক সব খাবার গ্রহণ করবেন।
* আপেল, শসা, তরমুজ, লেটুস পাতা, মুলা, লেবু, কমলা গরমের সময় বেশি বেশি খেলে উপকার পাওয়া যায়।
যা খাবেন না
তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারক পানীয় যেমন- চা, কফি গরমের সময় পরিহার করা উচিত। বাইরের খাবার বিশেষ করে ফাস্টফুড পরিহার করুন। তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলবেন। সেই সঙ্গে পরিপাকে সময় লাগে এমন খাবার না খাওয়াই ভালো।
আরও যা করবেন
* পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হলে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন ও তরলজাতীয় খাবার খেতে হবে, পাশাপাশি স্বাভাবিক সব খাবার খেতে হবে।
* বদহজম বা গ্যাস্ট্রিক থেকে বাঁচতে হলে তেলে ভাজা খাবার, বাইরের খাবার, অধিক ঝাল ও মশলাযুক্ত খাবার পরিহার করুন।
* বারবার গোসল থেকে বিরত থাকুন, নয়তো গরমজনিত ঠাণ্ডা বা জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন।
* প্রেসারের রোগীরা কিন্তু ওষুধ সময়মতো খাবেন এবং সতর্ক থাকবেন। বেশি সময় চুলার পাশে বা রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকবেন না। গরমের সময় সপ্তাহে একবার প্রেসার চেকআপ করানো উচিত।
ঢিলেঢালা পোশাক
গরমে রোগের প্রকোপ থেকে বাঁচতে হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা ভালো। পড়–ন সুতি ও আরামদায়ক পোশাক। ঘামে পোশাক ভিজে গেলে দ্রুত পাল্টে ফেলুন। এসময় টেরিকটস, সিন্থেটিকের মতো পোশাক পরে দিনের বেলায় বেরোবেন না। তাতে গরমে ত্বক শ্বাস নিতে পারে না। ফলে শারীরিক অস্বস্তি বেড়ে যায়। বাইরে বের হওয়ার আগে বাইরে বেরোলে সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি নিয়ে বের হন। ওআরএস বা নুন-চিনির পানিও নিতে পারেন। ছাতা, টুপি বা স্কার্ফ ব্যবহার করুন। এগুলো ব্যবহার করলে অনেকটাই রোদের হাত থেকে রেহাই পাবেন। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময়, যতটা সম্ভব একটু ছায়া দেখে হাঁটার চেষ্টা করুন। খুব বদ্ধ এমন কোনো ঘরে একনাগাড়ে বেশিক্ষণ না থাকাই ভালো।

এখনই ফিরছেন না সাকিব-মোস্তাফিজ

ভারত থেকে কাল মোস্তাফিজুর রহমান ফিরছেন, এমনই শোনা যাচ্ছিল ক’দিন ধরে। কিন্তু বিসিবি ও মোস্তাফিজের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আপাতত আইপিএল থেকে ফিরছেন না তিনি। বাঁ-হাতি পেসারের ফেরার কথা আগামী ৩ মে। দেশে ফেরার পরের দিন বিকেলেই মোস্তাফিজ লন্ডনের বিমান ধরবেন সাসেক্সে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিতে। তিনি একা নন, তার সঙ্গে আছেন বাংলাদেশ দলের টি ২০ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও। তবে আইপিএল খেলতে যাওয়া বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার অবশ্য মোস্তাফিজের সঙ্গে নয়, দেশে ফিরবেন ৪ মে সকালে। ৩ মে পুনের সঙ্গে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচ থাকায় সাকিবের একদিন পর আসা।
দেশে ফিরেই বিশ্রামের সুযোগ নেই, কয়েক ঘণ্টার বিরতিতে তাকে ধরতে হবে লন্ডনের বিমান। ৩ মে মোস্তাফিজ যদি ফেরেন, এর মধ্যে তার আরও চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকছে। ২৫ এপ্রিল হায়দরাবাদ খেলবে বাঙ্গালোরের বিপক্ষে। ২৮ এপ্রিল তাদের ম্যাচ পাঞ্জাব, ৩০ এপ্রিল কলকাতা আর ২ মে দিল্লির সঙ্গে। এবার আইপিএলে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছেন মোস্তাফিজ। ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে ভারতে পৌঁছেই পরদিন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে ম্যাচ খেলেছিলেন মোস্তাফিজ। পরে টানা চার ম্যাচে আর সুযোগ পাননি বাঁ-হাতি পেসার। সাকিবও এখন পর্যন্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন একটিই। মোস্তাফিজের মতো তার সামনে এখনও আরও চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ। ২৬ এপ্রিল পুনে, ২৮ এপ্রিল দিল্লি, ৩০ এপ্রিল হায়দরাবাদ ও ৩ মে আবারও পুনের মুখোমুখি হবে কলকাতা।

আবারও জুটি হচ্ছেন শুভ-মাহি

আবার জুটি হচ্ছেন ঢাকাই ছবির দুই তারকা আরেফিন শুভ ও মাহিয়া মাহি। ছবির নাম ‘তুমি আমার প্রিয়া’। এটি পরিচালনা করবেন বদিউল আলম খোকন। চলতি বছরের শেষের দিকে এর শুটিং শুরু হবে। এ প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, ‘মাহি ও শুভকে নিয়ে নতুন ছবিটি নির্মাণ করতে যাচ্ছি। ওদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি না করলেও এ বিষয়ে দুজনের সঙ্গেই চূড়ান্ত কথা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতেই শুটিং শুরু করার কথা ছিল; কিন্তু গল্পের পটপরিবর্তিত হওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি। আশা করি, এবার যথাসময়ে শুরু করতে পারব।’ এ প্রসঙ্গে আরেফিন শুভ বলেন, ‘ছবিটি নিয়ে খোকন ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হতে পারে বিষয়টি।