Friday, November 16, 2018

কাশ্মিরে পঞ্চায়েত নির্বাচন বয়কট ও বনধের ডাক দিল যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্ব

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে পঞ্চায়েত নির্বাচনের বিরুদ্ধে আগামীকাল ১৭ নভেম্বর বনধের ডাক দিয়েছে যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্ব। হুররিয়াত কনফারেন্সের একাংশের চেয়ারম্যান সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানী, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক ও মুহাম্মদ ইয়াসীন মালিকের সমন্বিত যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে পঞ্চায়েত নির্বাচন বয়কটও ডাক দেয়া হয়েছে। ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে।
যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়াকে 'কেন্দ্রীয় সরকারের নাটক' বলে অভিহিত করে কাশ্মির উপত্যকার মানুষজনকে ওই নির্বাচনে শামিল না হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার ওই নির্বাচনকে তাঁদের উপরে চাপিয়ে দিচ্ছে। মানুষজন ওই নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তদের অবস্থান স্পষ্ট করবে।
সংগঠনটির দাবি, এরফলে বিশ্ববাসীর কাছে এই বার্তা যাবে যে, নিরাপত্তা বাহিনীর শক্তিবলে কেন্দ্রীয় সরকার জোর করে এখানে নির্বাচন করাচ্ছে।
রাজ্যটিতে আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে। এতে ৫৮ লাখ ৫৪ হাজার ২০৮ জনের ভোট দেয়ার কথা রয়েছে। ৪০ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানকে প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের টহলদারি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সেনা, পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী সমন্বিত যৌথবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। 
এরইমধ্যে সেনাবাহিনীর উত্তরাঞ্চলের জিওসি-ইন-চিফ রণবীর সিং কাশ্মির উপত্যকা সফরের মধ্যদিয়ে সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নির্বিঘ্নে পঞ্চায়েত নির্বাচন করার লক্ষ্যে সামরিক কৌশল চূড়ান্ত করেছেন।

‘নির্বাচনী আবহ সৃষ্টি হলেও শঙ্কায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী’

সারাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আবহ তৈরি হলেও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী শঙ্কায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত। নির্বাচনের পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা নীপিড়কের ভ’মিকায় অবতীর্ণ হবেন না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ঐক্য পরিষদের পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় রানা দাসগুপ্ত বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল রাজনৈতিক দল ও জোটের মিলিত উদ্যোগে উৎসবের আবহ তৈরি হলেও দেশের ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী শঙ্কা ও উদ্বেগ থেকে মুক্ত হতে পারছে না।’ তিনি বলেন, ‘নব্বই পরবর্তী ব্যাতিক্রম বাদে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের যতগুলো নির্বাচন হয়েছে তা সংখ্যালঘু জনজীবনে আসে বিপর্যয় ও হাহাকার নিয়ে। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে এই শঙ্কা ও উদ্বেগ থেকে মুক্ত করার দায়িত্ব সরকার, নির্বাচন কমিশন, সকল রাজনৈতিক দল ও জোটকে নিতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে চাই, দেশের ১২ শতাংশ ভোটারকে উপেক্ষা করে, পাশ কাটিয়ে কোন রাজনৈতিক দল ও জোটের ক্ষমতায়ন যেমন সম্ভব নয়, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বিনির্মাণও সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দু:খের সাথে লক্ষ্য করেছি অতীতে প্রায় প্রতিিিট নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিলেও কখনো তা রক্ষা করা হয়নি। তবে, আশা করি এবার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে। যারা অতীতে জনপ্রতিনিধি হয়ে ও  থেকে ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বার্থবিরোধী কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষাভাবে লিপ্ত ছিলেন বা আছেন এমন কাউকে মনোনয়ন না দেওয়ার আহবান জানিয়ে রানা দাসগুপ্ত বলেন, ‘এমন কাউকে প্রার্থী করা হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় সংখ্যালঘুদের ভোট দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে হয়না।’ তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজাকার, স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত পার্লামেন্ট চাই যেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে নীপিড়কের ভ’মিকা পালন করবে না। রাজনীতিকে ব্যাক্তি স্বার্থে ব্যবহার করবে না।’ নির্বাচনকালীন সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানোর জন্য ইসি, সরকার ও সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহবান জানান তিনি।
একই সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারি প্রতিটি দল ও জোটকে এ বিষয়ে তাদের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেশবাসীর সামনে ব্যক্ত করার আহবান জানান রানা দাসগুপ্ত। সংগঠনের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সংবাদ সম্মেলনে অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

‘একদিনের গণতন্ত্র নয়, সাচ্চা গণতন্ত্র চাই’

একদিনের গণতন্ত্র নয়, সাচ্চা গণতন্ত্র চাই। সম্পাদকদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে ড. কামাল হোসেন একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সরকারের যে সকল  বিষয় আমরা চিহ্নিত করেছি সংবাদপত্র তার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন।
বৈঠকে নির্বাচন কিভাবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে সে ব্যাপারে সম্পাদকদের মতামত জানতে চেয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।
বৈঠক শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমরা সব ধরনের পরামর্শ চেয়েছি সম্পাদকদের কাছে।
আজ শুক্রবার বিকালে রাজধানীর লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফ্রন্টের নেতারা এ মতামত জানতে চান। বৈঠক থেকে বেরিয়ে দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন,  জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সাংবাদিকদের আলোচনা শুরু হয় ড. কামাল হোসেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। নির্বাচন কিভাবে সুষ্ঠু ও নিরেপেক্ষ হবে সে ব্যপারে সাংবাদিকদের মতামত চেয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ঐক্যফ্রন্টের যে সভা-সমাবেশ হয় সেখানে পবিত্র কুরআন, গীতা, বাইবেল পাঠ হয়।
এগুলো তাদের ঐক্যবদ্ধ চিন্তার ফল কিনা আমি তা জানতে চেয়েছি।
এ বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন নিউজ টুডের সাবেক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, দিনকাল সম্পাদক ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী, সাপ্তাহিক বুধবার সম্পাদক আমীর খসরু, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা, ইনকিলাবের যুগ্ম সম্পাদক মুন্সি আবদুল মান্নান, এএফপির ব্যুরো চিফ শফিকুল আলম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের যুগ্ম সম্পাদক আবু তাহের, যুগান্তর চিফ রিপোর্টার মাসুদ করিম, সমকাল চিফ রিপোর্টার লোটন একরাম প্রমুখ।
বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন-ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব,  নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, ঐক্যফ্রন্ট নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক প্রমুখ।

যৌন আসক্তির অস্তিত্ব কি সত্যিই আছে? by সঙ্গীতা মিস্কা

যুক্তরাজ্যে যৌন আসক্তির জন্য যারা চিকিৎসা নিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই পুরুষ। এর একটি কারণ হতে পারে এই যে, নারীরা বিষয়টি নিয়ে বেশি লজ্জায় ভোগেন এবং সমস্যাটি স্বীকার করতে বেশি অস্বস্তিতে পড়েন। ব্যাখ্যা যা-ই হোক না কেন, অন্য দশজনের সঙ্গে পলের সমস্যা অনেকখানি মিলে যায়।
তিনি একজন পুরুষ। কিন্তু নীলার মতো শুধু পর্নো দেখে নয় বরং একের পর এক শারীরিক সম্পর্ক করতে করতেই এক ধরণের আসক্তি জন্মায় তার মধ্যে।
তার এখন বয়স পঞ্চাশের কোটায়। তিনি জানান, তার আসক্তি শুরু হয় ৩০ বছর আগে, যখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। বান্ধবীর সঙ্গে মধুর সম্পর্ক ছিল তার। কিন্তু একদিন তার মনে হলো, এটাই যথেষ্ট নয়।
পলের ভাষ্য, ‘আমি তাকে ভালবাসতাম। সত্যিই বাসতাম। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে আমি পতিতাসঙ্গে জড়িয়ে পড়ি। আমি উত্তেজনাকর শারীরিক সম্পর্কের জন্য পাগলপ্রায় হয়ে পড়ি। কিন্তু আমার মনে হতো যে, এটা আমার করা উচিত নয়। আমি কখনই তার (বান্ধবী) সঙ্গে প্রতারণা করার মানসিকতায় ছিলাম না, কিন্তু এই বিষয়টি ভিন্ন মনে হতো।’
কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পলের ব্যবহার পুরোপুরি পাল্টে গেল।
তার ভাষ্য, ‘আমার তখন একই সময়ে ছয় বান্ধবী ছিল। আবার প্রতি সপ্তাহে আমি ২-৩ জন যৌনকর্মীর কাছে যেতাম। এটা যেন ক্ষুধা লাগলে পিজ্জা অর্ডার করার মতো। আমার ক্ষুধা লাগলো, অর্ডার করলাম। খেলাম, এরপর ভুলে গেলাম।’
পলের মনে হতে লাগলো, নিশ্চয়ই কোথাও গড়বড় হচ্ছে। তখন সবে তার মাথায় এসেছে যে, এ বিষয়টি নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা করা দরকার। প্রয়োজনে সাহায্য নেওয়া দরকার। আর তখনই তিনি লন্ডনে নিজের প্রথম চাকরি বাগিয়ে নেন। সেখানে নিজেকে তিনি এমন পরিবেশে খুঁজে পেলেন যেখানে এ ধরণের আচরণকে বরং উৎসাহ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘জীবনটা অবিশ্বাস্য ছিল। কনকর্ডে চড়ে বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ানো। প্রচুর টাকা কামানো। লন্ডনের নাচের ক্লাব আর বারে ঘুরে বেড়ানো। সবই ছিল। এছাড়াও নিজের সহকর্মীদের সঙ্গেও যৌন সম্পর্কে জড়ানোর উত্তেজনাকর অভিজ্ঞতা তো ছিলই।’
পল আরও বলেন, ‘এই পর্যায়ে এসে আমার মনে হলো, আমার বোধ হয় কোনো সমস্যা নেই। আমি হয়তো সাধারণ মানুষদের মতোই।’
কিন্তু এরপরও তার মাথায় এক ধরণের সংশয় রয়ে গেল। রাতে কোনো সহকর্মীর সঙ্গে থেকে আবার স্ট্রিপিং ক্লাব-বারে যাওয়া হতো। প্রতি রাতে খরচ হয়ে যেত ১ হাজার পাউন্ড। কেউ হয়তো মঙ্গলবারে যেত, কেউ আবার বৃহস্পতিবার। কিন্তু পল ছিলেন সহকর্মীদের মধ্যে একমাত্র ব্যক্তি যিনি ফের শনিবারেও যেতেন।
নীলার মতো তিনিও ক্রমেই অধিকতর উত্তেজনার পেছনে ছুটতে লাগলেন। আর তাড়না এত বেশি কাজ করতো যে, বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তিনি ১০ বছর পুরুষদের সঙ্গেও অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি নারী থেকে পুরোপুরি পুরুষদের প্রতি ঝুঁকে গেলাম। আমার সব ধরণের শারীরিক সম্পর্ক হতে লাগলো পুরুষদের সঙ্গে। আমি সৎভাবে বলতে পারি, আমার মধ্যে সমকামিতার লেশমাত্র ছিল না। শুধু বেশি উত্তেজনার জন্য আমি এত নীচে নামলাম। অথচ, এই সময়টাতে আমার ভাগ্যে অনেক অনেক ভালো বান্ধবী জুটেছে। কিন্তু আমি তাদেরকে পরিত্যাগ করি।’
নীলার মতো পলও বেশ পীড়নকর পর্যায়ে চলে গিয়েছিলেন। শারীরিক সম্পর্ক না করতে পারলে, তিনি পাগলপ্রায় হয়ে যেতেন। অর্গাজমে পৌঁছানো তার যৌনক্রিয়ার উদ্দেশ্য ছিল না। বরং, পারিপার্শ্বিক অনেক কিছুর ওপর বিমোহিত থাকতেন তিনি। নীলার মতো তিনিও এই যৌন অভিজ্ঞতা কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতেন।
পল প্রথমবার পর্নো দেখেছেন ১২ বছর বয়সে। কিন্তু তখনও এতে আসক্ত হন নি। তিনি বলেন, ‘আমি কিছু ম্যাগাজিন পাই ছোটবেলায়। বাবা-মা বাইরে থাকলে সেগুলো দেখেছি। কিন্তু তখন তেমন কোনো যৌন অনুভূতি আমি বোধ করি নি।’
কিন্তু উচ্চগতির ইন্টারনেট যখন এল তখন সব পাল্টে গেল। ওই সময়ে তিনি যৌনকর্মী ছেড়ে অনলাইনে পর্নো দেখা শুরু করলেন। দেখতেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
লরেল সেন্টার থেকে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা পেয়েছেন পল। তার ধারণা, তিনি সুস্থ হওয়ার পথে। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি যৌনকর্মীর কাছে যান নি। অনেক মাস হয়ে গেল পর্নোও দেখেন নি। তার লক্ষ্য হলো একজন নারীর সঙ্গে ঘর বাঁধা।
তার ভাষ্য, ‘এটা এক একাকী রোগ। আপনি এক পর্যায়ে এসে ভাববেন যে দুনিয়াতে আপনার সময় খুব সীমিত। আমি কখনই এমন কারও সঙ্গে উপভোগ্য যৌন সম্পর্কে জড়াতে পারি নি যাদেরকে আমি ভালোবাসি। গত ৩০ বছরে এটাই আমার জীবনে আসে নি।’
এই বছরের জুনে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে যৌন আসক্তিকে রোগের আন্তর্জাতিক শ্রেণীবিভাগে যুক্ত করেছে। সংস্থাটি এর নাম দিয়েছে ‘কমপালসিভ সেক্সুয়াল বিহেভিয়ার ডিজঅর্ডার।’
আমি যেসব থেরাপিস্টের সঙ্গে কথা বলেছি এই সংজ্ঞায়নও যথেষ্ট নয়। কারণ, একে ঠিক আসক্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয় নি। কিন্তু এর দরুন যুক্তরাজ্য সরকার হয়তো জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার অধীনে এই রোগের জন্য কাউন্সেলিং সেবা প্রদানে উৎসাহিত হতে পারে।
গত কয়েক সপ্তাহে আমি এমন অনেক মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি যাদের ধারণা তারা যৌন আসক্ত। এই সমস্যাকে আসক্তি হিসেবে আমরা বলি, আর না বলি, এটা স্পষ্ট যে এই মানুষগুলোর সহায়তা প্রয়োজন। তারা এমন সমস্যায় ভুগছেন যার দরুন তাদের জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এই সমস্যায় ভুগছেন এমন যাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, তাদের প্রত্যেকেই অনুমতিসাপেক্ষ যৌনক্রিয়া ও ধর্ষণের পার্থক্য বুঝতেন। তারা যখন সমস্যার চূড়ায় ছিলেন, তখনও তারা এই পার্থক্য বুঝেছেন। এদের কেউই ধর্ষণ করেন নি। যৌন আসক্তরা মূলত নিজের ও সঙ্গীর ক্ষতি করেন। কিন্তু যৌন শিকারিরা ভিকটিমদের নির্যাতন করেন ও একে আবার আড়াল করার চেষ্টা করেন।
(গতকালের পর্বের পর। বিবিসি থেকে অনূদিত।)

কে এই জাফরুল্লাহ চৌধুরী by কাফি কামাল

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। মহান মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি যোদ্ধা। রণাঙ্গনে ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে প্রাণ বাঁচিয়েছেন অসংখ্য আহত ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার। জাতির যেসব সূর্যসন্তান আজকের এই স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং রাজনীতির বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন তাদের অন্যতম তিনি।
স্বাধীন  দেশে তিনি হতে পারতেন দেশসেরা সার্জন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন চিকিৎসাখাতের প্রধান ব্যবসায়ী। কিন্তু ভিন্নধাতুতে গড়া এক লড়াকু মানুষ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। স্বাধীন দেশে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন গণমানুষের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের করেছেন প্রাথমিক স্বাস্থ্যকর্মী। প্রথম উদ্যোগ নিয়েছেন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের। জনকল্যাণধর্মী চিকিৎসানীতির মাধ্যমে দেশে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার নীতি প্রণয়ন, জাতীয় শিক্ষা কমিটির সদস্য হিসেবে অগ্রসর শিক্ষা নীতি প্রণয়ন ও নারী উন্নয়নে রেখেছেন যুগান্তকারী ভূমিকা। সরকার ও রাষ্ট্রের, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি দাঁড়িয়েছেন বুকচিতিয়ে। দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ-পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত, অনিশ্চিত তখনই বিবদমান পক্ষের মাঝখানে সমঝোতার সেতুর ভূমিকা নিয়েছেন।
রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থেকে একজন ব্যক্তিমানুষের পক্ষে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যতটুকু কাজ করা সম্ভব তার সর্বোচ্চটাই করেছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সাম্প্রতিক সময়েও তিনি অবস্থান নিয়েছেন কোটাবিরোধী ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনে। সবমিলিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ব্যক্তিত্বের শিখরস্পর্শী এক উচ্চতায়। মহান এ ব্যক্তিত্বকে আজ অপমান, মানহানি আর অব্যাহতভাবে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হচ্ছে মামলা।
দেশের মানুষকে কম পয়সায় চিকিৎসা দিতে তিলতিল করে যে হাসপাতালটি তিনি গড়ে তুলেছেন সেটির ওপর দুর্বৃত্তদের হাত পড়ছে। ছাত্রজীবনে চড়তেন দামি গাড়িতে। ছিল পাইলটের লাইসেন্স। লন্ডনে পড়াশোনা অবস্থায় রাজকীয় দর্জি তার বাসায় এসে মাপ নিয়ে স্যুট তৈরি করতেন বলে অতিরিক্ত পরিশোধ করতেন ২০ পাউন্ড। বাস্তবজীবনে সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী এ মহান চিকিৎসক বর্তমানে যাপন করেন সাধারণ জীবন। দেশে-বিদেশে কোথাও তার একটি ফ্ল্যাট পর্যন্ত নেই। বোনকে দান করে দিয়েছেন পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিজমা। মরণোত্তর দেহদান করায় দাফনের জন্যও প্রয়োজন হবে না জমির। অথচ তার বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলা হয়েছে ভূমি দখলের।
১৯৪১ সালের ২৭শে ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজানে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জন্ম ও পৈত্রিক নিবাস। বড় হয়েছেন ঢাকায়। তার বাবার শিক্ষক ছিলেন বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেন। পিতামাতার দশজন সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়। পড়াশোনা করেছেন বকশীবাজার স্কুল, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা মেডিকেলে। ছাত্র ইউনিয়নের মেডিকেল শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ছাত্র অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুর্নীতির বিরুদ্ধে করেছিলেন সংবাদ সম্মেলন। ১৯৬৪ সালে ডিএমসি থেকে এমবিবিএস ও ১৯৬৭ সালে বিলেতের রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস থেকে জেনারেল ও ভাস্কুলার সার্জারিতে এফআরসিএস প্রাইমারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিন্তু চূড়ান্ত পর্ব শেষ না করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে দেশে ফিরে আসেন। বৃটেনে প্রথম বাংলাদেশি সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিডিএমএ)’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক তিনি।
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বাংলাদেশে ফেরার গল্পটি সিনেমার কাহিনীকে হার মানায়। পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতার প্রতিবাদে লন্ডনের হাইড পার্কে যে কয়েকজন বাঙালি পাসপোর্ট ছিঁড়ে আগুন ধরে রাষ্ট্রবিহীন নাগরিকে পরিণত হয়েছিলেন তাদের একজন ডা. চৌধুরী। তারপর বৃটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে ‘রাষ্ট্রবিহীন নাগরিকের’ প্রত্যয়নপত্র নিয়ে সংগ্রহ করেন ভারতীয় ভিসা। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম তার কালজয়ী সৃষ্টি ‘একাত্তরের দিনগুলি’র ১৬১-১৬২ পৃষ্ঠায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে নিয়ে লিখেছেন- ‘চেনা হয়ে উঠেছে ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডা. এমএ মোবিন। এরা দুজনে ইংল্যান্ডে এফআরসিএস পড়ছিল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে বিলেতে চার বছর হাড়ভাঙা খাটুনির পর যখন এফআরসিএস পরীক্ষা মাত্র এক সপ্তাহ পরে, তখনই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু। ছেলে দুটি পরীক্ষা বাদ দিয়ে বাংলাদেশ আন্দোলনে অংশ নিলো, পাকিস্তানি নাগরিকত্ব বর্জন করলো, ভারতীয় ট্রাভেল পারমিট যোগাড় করে দিল্লিগামী প্লেনে চড়ে বসলো। উদ্দেশ্য ওখান থেকে কলকাতা হয়ে রণাঙ্গনে যাওয়া। প্লেনটা ছিল সিরিয়ান এয়ারলাইন্স-এর। দামাস্কাসে পাঁচ ঘণ্টা প্লেন লেট, সবযাত্রী নেমেছে। ওরা দুইজন আর প্লেন থেকে নামে না। ভাগ্যিস নামেনি। এয়ারপোর্টে এক পাকিস্তানি কর্নেল উপস্থিত ছিল ওই দুইজন ‘পলাতক পাকিস্তানি নাগরিককে’ গ্রেপ্তার করার জন্য।
প্লেনের মধ্য থেকে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় না, কারণ প্লেন হলো ইন্টারন্যাশনাল জোন। দামাস্কাসে সিরিয়ান এয়ারপোর্ট কর্মকর্তা ওদের দুইজনকে জানিয়েছিল- ওদের জন্যই প্লেন পাঁচ ঘণ্টা লেট। এমনিভাবে ওরা বিপদের ভেতর দিয়ে শেষ পর্যন্ত মে মাসের শেষাশেষি সেক্টর টু রণাঙ্গনে গিয়ে হাজির হয়েছে।’
যুদ্ধ যখন বিস্তার লাভ করে যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহত যোদ্ধা, উদ্বাস্তু ও নির্যাতনের শিকার অসংখ্য নর-নারীর জরুরি চিকিৎসাসেবায় প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় একটি হাসপাতালের। মুক্তিযুদ্ধের ২ নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর খালেদ মোশাররফ ও  ভারতের জিবি হাসপাতালের প্রধান সার্জন ডা. রথিন দত্তের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের প্রথম জিএস ডা. এমএ মবিনকে নিয়ে আগরতলার বিশ্রামগঞ্জের মেলাঘরে হাবুল ব্যানার্জির আনারস বাগানে গড়ে তোলেন প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল- ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল’। হাসপাতালটির কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন ডা. সিতারা বেগম বীরপ্রতীক। সেসময় প্রশিক্ষিত নার্স না থাকায় নারী স্বেচ্ছাসেবীদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সে হাসপাতালের দুই স্বেচ্ছাসেবী ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল ও তার বোন সাঈদা কামাল। মুক্তিযুদ্ধের সময় অসংখ্য মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে ৪৮০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতাল। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীকে বহনকারী যে হেলিকপ্টারটি হামলার শিকার হয়েছিল তাতে অন্যদের মধ্যে ছিলেন- ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর গ্রামে ফিরে গিয়ে স্বাস্থ্যযুদ্ধ শুরু করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের ফিল্ড হাসপাতালটি গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র নামে গড়ে তুলেন কুমিল্লায়। পরে সেটা স্থানান্তর করেন ঢাকার অদূরে সাভারে। এ ‘গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র’ নামটি দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ দিয়েছিলেন প্রায় ৩১ একর জমি সরকারিভাবে। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পাইলট প্রজেক্ট গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রাইমারি কেয়ার কনসেপ্ট মাঠে প্রমাণ করে এবং এর ভিত্তিতে হু আর ইউএনও আলমাআতা কনফারেন্সের মাধ্যমে গ্লোবাল ইউনিভার্সাল প্রাইমারি কেয়ার প্রকল্পের ঘোষণা দেয়। গ্লোবাল প্যারামেডিক যে কনসেপ্ট ও ট্রেইন্ড প্যারামেডিক দিয়ে মিনি ল্যাপারোটমির মাধ্যমে লাইগেশন সার্জারির উদ্ভাবক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এ সংক্রান্ত তার পেপারটি বিশ্ববিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট মূল আর্টিকেল হিসেবে ছাপা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মূল পেডিয়াটিক্স টেক্সট বইয়ের একটা চ্যাপ্টার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী লিখতেন অনেক বছর ধরে। দেশে-বিদেশে তার লেখা বই ও পেপারের সংখ্যা প্রচুর। প্রাইমারি কেয়ার নিয়ে লেখা তার সম্পাদিত ও প্রকাশিত একটি বই ‘যেখানে ডাক্তার নেই’-একসময় অবশ্য পাঠ্য ছিল বাংলাদেশের ঘরে ঘরে।
স্বাধীনতা যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গঠনের লক্ষ্যে প্রথম বৈঠকটিতে সভাপতিত্ব করেছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রধান ছিলেন তিনি। ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’ ছিল এদেশের মধ্যবিত্তের মৌলিক একটি প্রকাশনা। সর্বোচ্চ প্রচারণা ছিল বিচিত্রার প্রধান হাতিয়ার। সত্তর দশকের বিচিত্রায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মওলানা ভাসানী প্রমুখ ছাড়া হাতেগোনা যে ক’জন বিচিত্রার প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছিলেন- ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তাদের একজন। সোনালী ধানক্ষেতের ব্যাকগ্রাউন্ডে দাঁড়িয়ে আছেন ঝাঁকড়া চুলের তরুণ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এমন একটি ছবি প্রচ্ছদ করেছিল বিচিত্রা। ১৯৭৯ সাল থেকেই তিনি জাতীয় শিক্ষা কমিটির ও নারী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশে শিক্ষা ও নারীনীতি প্রণয়নে। তবে গণস্বাস্থ্যের পর তার ম্যাগনাম ওপাস হচ্ছে ১৯৮২ সালের জাতীয় ঔষুধ নীতি। স্বাধীনতার পর স্বাস্থ্যখাতে যেটাকে বিবেচনা করা সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে। তার প্রচেষ্টায় আমদানি ওষুধের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২২৫। বর্তমানে ৯০ শতাংশ ওষুধই দেশে তৈরি হচ্ছে এবং বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে একটি ওষুধ রপ্তানিকারক দেশে। অথচ জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় ১৯৯২ সালে তার সদস্যপদ বাতিল করেছিল বিএমএ। বিনা বিচারে তার ফাঁসি চেয়ে পোস্টারও সাঁটিয়েছিল। তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা-বিশ্বাস করেন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা। ফিল্ড হাসপাতালের সহযোগী চিকিৎসক ও গেরিলা যোদ্ধা ডা. মোরশেদ চৌধুরী আমৃত্যু কাজ করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। ফিল্ড হাসপাতালের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত চিকিৎসক এমএ মুবিন বাংলাদেশে এলে এখনো চিকিৎসা দেন গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে।
স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন সরকারের সময়ে মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। কিন্তু অনুপ্রাণিত করেছেন বহু ভালো পদক্ষেপ গ্রহণে। তার পরামর্শে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের পক্ষে পাসপোর্ট ইস্যু করে বিলেতের এক লাখ বাঙালির কাছ থেকে আবু সাইয়িদ চৌধুরীর সংগ্রহ করেছিলেন ১০ লাখ পাউন্ড চাঁদা। বঙ্গবন্ধুকে বহুজাতিক কোম্পানির দুর্নীতির বিষয়ে অবহিত করে সমাজতান্ত্রিক দেশ থেকে ঔষুধ আমদানিতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। বাকশালে যোগ দিতে বঙ্গবন্ধুর অনুরোধ উপেক্ষা করেছিলেন। জিয়াউর রহমান মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব দিলে বিএনপিতে স্বাধীনতাবিরোধী থাকায় চার পৃষ্ঠার চিঠির মাধ্যমে সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে নাগরিকের পাসপোর্ট পাওয়াকে সহজলভ্য ও নিশ্চিত করেছিলেন। ১৯৮০ সালে জিয়ার গড়া প্রথম জাতীয় মহিলা উন্নয়ন কমিটির দুই পুরুষ সদস্যের একজন হিসেবে প্রাথমিকে ৫০ শতাংশ মহিলা শিক্ষক ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ ছাত্রী নেয়ার সুযোগ করেছিলেন, যা কার্যকর হয়েছিল এরশাদ আমলে। জিয়াউর রহমানের আমলে পুলিশে মহিলা নিয়োগ দেয়া শুরু হলে দেশের প্রথম দুই নারী পুলিশ- হিসেবে নিয়োগ পান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মী হোসনে আরা ও চামেলী বেগম। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হতে উপেক্ষা করেছিলেন এরশাদের প্রস্তাব। তার পরামর্শেই এরশাদ আমলে পোস্টার, বিলবোর্ড বাংলায় লেখা ও সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলন, উপজেলাব্যবস্থা ও সফল জাতীয় ঔষুধনীতি ও জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি করেছিলেন। 
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যেমন সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার আসনে রাখেন, তেমনি কিংবদন্তি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জিয়াউর রহমানের প্রতিও রয়েছে তার অকুণ্ঠ সম্মান। ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিহত হওয়ার পর সেদিন দুপুরে লন্ডনের হিথ্রো এয়ারপোর্টে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বৃটিশ সাংবাদিকদের বলেছিলেন- ‘তিনি নিজের রক্ত দিয়ে জাতির ঋণ পরিশোধ করে গেলেন।’
শারীরিকভাবে খুব একটা সুস্থ নন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালাইসিস’র ওপর নির্ভর করে একরকম বেঁচে আছেন। কিন্তু জনগণের অধিকার আদায়ের তাড়না যার হৃদয়ে- তাকে কি আদৌ ডায়ালাইসিস দমাতে পারে? তাকেও পারেনি! শরীরের এমন নাজুক অবস্থার মধ্যেও তিনি ছুটে বেড়াচ্ছেন অফুরন্ত মানসিক শক্তি নিয়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের রাজনীতিতে একটি সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নানাভাবে তৎপরতা চালিয়ে আসছেন। রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে খোলা চিঠি দিয়েছেন। বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিও নানা পরামর্শ দিয়েছেন।
বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন প্রথম জীবনে। দেশে-বিদেশে রয়েছে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। জাতীয় সংকটে নিজের দায়বোধ থেকে তিনি উদ্যোগী হয়েছেন জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলায়। তিনি সুবিধাবাদী সুশীল নয়, একজন বিবেকবান বুদ্ধিজীবী। তিনি কোনো ‘বাঁকা চোখের’ পরোয়া করেননি। সম্প্রতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সেনাবাহিনী প্রধান সম্পর্কে একটি ভুল তথ্য উপস্থাপন করে একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেটা উপলব্ধি করে তিনি পরদিনই সংবাদ সম্মেলন করে এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর চাঁদাবাজি, জমিদখল, পুকুরের মাছ চুরির অভিযোগসহ একের পর এক মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসের এন্টিবায়োটিকের কাঁচামাল জব্দ ও এন্টিবায়োটিক বিভাগ সিলগালা ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে ১৫ লাখ টাকা। গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার অভিযোগে হাসপাতালকে আরো ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে। অথচ সাধারণ মানুষকে কমদামে ওষুধ সরবরাহ করতে গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দামি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের বদলে ট্যাবলেট তিনি প্যাকেট করার প্রচলন করেন সাধারণ কাগজে।
২০১৫ সালে বৃটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের আদালত অবমাননার সাজায় উদ্বেগ জানিয়ে বিশিষ্ট নাগরিকদের বিবৃতি দেয়ার ঘটনায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে এক ঘণ্টার কারাদণ্ড দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তার প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে মাত্র এক হাজার ২০০ টাকায় ডায়ালাইসিস করতে পারেন দরিদ্র মানুষ। তার প্রতিষ্ঠিত গণবিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর স্বামী প্রয়াত বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস, জেন্ডার ইস্যু, নীতিবিদ্যা ও সমাজ, পরিবেশবিদ্যা, ইংরেজি এবং বাংলা অবশ্যই পড়তে হয়। দরিদ্র ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে সংরক্ষিত আসন। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দাপ্তরিক কাজ হয় বাংলাভাষা ও বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসারে। বাংলাদেশের পাবলিক হেলথ সার্ভিসের এই আইকন সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক স্বাধীনতা পদক পান ১৯৭৭ সালে পদকটি প্রবর্তনের বছর। বিকল্প নোবেল খ্যাত র?্যামন ম্যাগসাই পান  ১৯৮৫ সালে। এ ছাড়া ১৯৭৪ সালে সুুইডিশ ইয়ুথ পিস প্রাইজ, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, ১৯৯২ সালে সুইডেনের লাইভ লাই হুড পুরস্কার, ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইন্টারন্যাশনাল পাবলিক হেলথ হিরোজ’ পুরস্কার লাভ করেন।

এই শীতে সেন্ট মার্টিন: থাকছে রাত্রী যাপনের সুযোগ by নীলয় বিশ্বাস নীল

সেন্ট মার্টিন, বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ সীমানা। বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। স্থানীয় লোকেরা এই দ্বীপকে ডাকে নারিকেল জিঞ্জিরা নামে। বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশিতে ঘেরা আর নারিকেল গাছের সারি আপনার মন জয় করবেই।
কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলা থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার এবং মিয়ানমার উপকূল থেকে ৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। শহুরে জীবনে ক্লান্ত কিংবা হতাশাগ্রস্ত দিন থেকে মুক্তি পেতে ছুটির দিনে ঘুরে আসতে পারেন এখানে। প্রকৃতি আপনার ক্লান্ত কিংবা হতাশাগ্রস্ত মনকে করে তুলবে সতেজ ও প্রফুল্ল। আর সেন্ট মার্টিন যাওয়ার সূবর্ণ সুযোগ এবারই। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে আগামী বছরের মার্চ মাস থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এরপর অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে দিনে ৫শ’ জন যেতে পারবেন। শুধুমাত্র দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসতে হবে। রাত্রি যাপনের সুযোগ থাকছে না সেখানে আর।
ঢাকা থেকে সেন্ট মার্টিন যেতে সায়েদাবাদ থেকে হানিফ, শ্যামলী, সেন্ট মার্টিনসহ বেশ কয়েকটি পরিবহন ছেড়ে যায় টেকনাফের উদ্দেশ্যে। সন্ধ্যা ৬/৭টার বাসে উঠলে টেকনাফ গিয়ে ভোরের সূর্যোদয় দেখে নিতে পারবেন। ভাড়া পড়বে বাস ভেদে ৯০০-২০০০ টাকা।
টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন যাওয়ার একমাত্র উপায় জাহাজ বা ট্রলার। ট্রলারে যাত্রা একটু ঝুঁকিপূর্ণ। সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্য টেকনাফ থেকে প্রতিদিন তিনটি জাহাজ ছেড়ে যায়। আপ-ডাউন ভাড়া পড়বে সিট ভেদে ৫০০-৬৫০ টাকা। টিকিট আগে থেকেই কেটে রাখা ভালো। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস সেন্ট মার্টিন যাওয়ার শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময় দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটকের ভিড় থাকে। সেই সঙ্গে অগ্রিম হোটেল কিংবা রিসোর্ট বুক করে রাখাটা উত্তম।
জাহাজ মোটামুটি ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ছেড়ে যায়। জাহাজের যাত্রা থেকেই আপনাকে চারদিকের পরিবেশ মুগ্ধ করবে। যাত্রাকালে নাফ নদের বাম দিকে মিয়ানমার আর ডান দিকে বাংলাদেশ। ডান দিকে উঁচু উঁচু পাহাড়ের সারি আর চারদিকের নীল জলরাশি আপনার মনকে করবে পুলকিত। আর জাহাজ চলার খানিক বাদেই সি-গল পাখির ঝাঁকের দেখা পাবেন।
স্রোতের ওপর ভিত্তি করে সেন্ট মার্টিন পৌঁছাতে ঘণ্টা দুয়েকের মতো লাগে। জেটিতে পৌঁছানোর আগেই দূর থেকে বিশাল নীল জলরাশি আপনাকে স্বাগত জানাবে। জেটি থেকে সোজা হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন বড় বাজারে। বলে রাখা ভালো এখানে যেকোনো ধরনের মাংস পাওয়া যায় না বললেই চলে। খেতে হলে আপনাকে আগে থেকেই অর্ডার করে রাখতে হবে। সব ধরনের হোটেল কিংবা রেস্তরাঁতে নানা রকম সামুদ্রিক মাছের ছড়াছড়ি দেখবেন। টাটকা ও সতেজ মাছগুলোর স্বাদই আলাদা। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে খাবার আগে দাম শুনে  খাওয়াটা ভালো।
দ্বীপের পশ্চিম ও উত্তর পাশের বিচ সব থেকে জনপ্রিয়। কক্সবাজারের মতো এখানে গোসল করার কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই। লাল পতাকা চিহ্নিত স্থানগুলো বাদ দিয়ে, ভাটার সময়ে গোসল সেরে নিতে পারেন সমুদ্রে। পুরো দ্বীপ যদি ঘুরে দেখার ইচ্ছা থাকে তাহলে সাইকেল ভাড়া করে পুরো দ্বীপ ঘুরে দেখতে পারেন। বাজারে ৪০ টাকা ঘণ্টা চুক্তি হিসেবে সাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়। পুরো ঘুরতে সময় লাগবে তিন ঘণ্টার মতো। সেন্ট মার্টিনের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত ছেড়া দ্বীপ। জোয়ারের সময় মূল দ্বীপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কয়েকটি ছোট ছোট দ্বীপ সমন্বয়ে ছেড়া দ্বীপ গঠিত। স্থানীয়রা ডাকে সেরেদিয়া নামে। জেটি থেকেই ইঞ্জিনচালিত নৌকা কিংবা স্পিড বোট নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ছেড়া দ্বীপ থেকে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: ঢাকার প্রচেষ্টা ব্যর্থ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ঢাকার চেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আপত্তি সত্ত্বেও মিয়ানমারের যাচাই করা (ভেরিফাইড) বাস্তুচ্যুতদের ফেরত পাঠানোর আয়োজন ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও ফিরতে রাজি না হওয়ায় যাবতীয় প্রস্তুতি বাতিল করা হয়েছে। চীনের উৎসাহে ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে রাখাইনে প্রত্যাবাসনের প্রথম ব্যাচে ২২৬০ বাস্তুচ্যুতকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সিদ্ধান্ত মতে, গতকাল ৩০ পরিবারের ১৫০ রোহিঙ্গা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেউই ফিরেনি। প্রত্যাবাসনপ্রস্তুতি বাতিলের পর ঢাকাস্থ বিদেশি কূটনীতিকদের ডেকে পরিস্থিতির বিস্তারিত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যয় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ব্রিফ করেন মন্ত্রী।
ব্রিফিং শেষে মন্ত্রী তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানান। বলেন, আমরা চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তারা কেউ যেতে রাজি হয়নি। এখনও আমরা ভিন্ন ফর্মুলায় যাবো।
জাপানের তরফে একটি প্রস্তাব আছে- রাখাইন পরিস্থিতি কতটা প্রত্যাবাসন উপযোগী তা দেখতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতাদের (স্থানীয়ভাবে তাদের মাঝি বলা হয়) মিয়ানমার নিয়ে যাওয়া হবে। তারা সরজমিন সবকিছু দেখবেন। তারা ফিরে এসে পরিস্থিতির বিষয়ে অন্যদের বলবেন, তখন নিশ্চয়ই বাস্তুচ্যুতরা উৎসাহিত হবে। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে? জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, না, কোনো কিছুই এখনও ঠিক হয়নি। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলবো। দেখি কী হয়। প্রত্যাবাসন না করতে পারায় মিয়ানমারের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন কি না? জানতে চাইলে মন্ত্রী তাও নাকচ করেন। বলেন, না আমি দেখিনি। এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিস্টার আলীর কূটনৈতিক ব্রিফিং শেষ হওয়ার পরপরই খবর আসে মিয়ানমারে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থো বরাবরের মতো ঢাকার প্রতিই দোষ চাপিয়েছেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘এখন পর্যন্ত একজন বাস্তুচ্যুতকেও স্থানান্তর করতে পারেনি বাংলাদেশ।
সত্য কথা বলতে কী, সই হওয়া প্রত্যাবাসন বিষয়ক চুক্তি (ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট) পালনেও ঢাকার দুর্বলতা রয়েছে।’ মিয়ানমার বাস্তুচ্যুতদের গ্রহণে প্রস্তুত ছিল, বাংলাদেশ পাঠাতে পারেনি- এমনটি নেপি’ড বলবে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা তা আগে থেকেই ধারণা করছিলেন জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, আজ হোক কাল হোক প্রত্যাবাসনই যে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান; সেটি বিশ্ব সম্প্রদায়কে গতকালও বলেছে বাংলাদেশ। কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে প্রত্যাবাসন না হওয়ার জন্য ফেব্রিকেটেড নিউজ বা প্রচারণাকে দায়ী করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গত ২৮শে অক্টোবর ইউএনএইচসিআরকে তালিকা দিয়ে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলতে এবং চুক্তি অনুযায়ী তাদের মধ্যে প্রত্যাবাসনের ভীতি কাটাতে  মোটিভেশন কার্যক্রম চালানোর দায়িত্ব দিয়েছিল। কিন্তু ইউএনএইচসিআর সেটি করতে সময় নিয়েছে। তারা শেষ সময়ে এসে রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার সংক্রান্ত রিপোর্ট সরকারকে দিয়েছে।
ইউএনএইচসিআর’র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে সংবাদ ব্রিফিংয়ে। জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা ইউএনএইচসিআরকে জিজ্ঞাসা করুণ, এটা তারাই ভালো বলতে পারবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার বলেন, আমরা কাউকে জোর করে পাঠাতে চাই না। কিন্তু প্রচারণা রয়েছে বাংলাদেশ নাকি জোর করছি। যদি জোরই করতাম তাহলে আমরা আশ্রয় দিলাম কেন? আমরা আটকে দিতে পারতাম। বাংলাদেশ স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের প্রয়াস অব্যাহত রাখবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা যা যা করেছি সেটা কূটনীতিকদের বলেছি। আপনাদেরও বলছি, আমরা জোর করছি না। আমরা টেকসই প্রত্যাবাসনের চেষ্টা করছি। দ্বিতীয়ত, অনেকে বলছেন, আমরা না কি জাতিসংঘকে না জানিয়ে প্রত্যাবাসন করছি। এটা সত্য নয়। আমরা জাতিসংঘকে নিয়ে যা করার করছি। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েং ই এবং মিয়ানমারের মন্ত্রীর সঙ্গে এক টেবিলে বসে আমরা এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সেখানে মহাসচিবও বলেছেন, প্রত্যাবাসন হতে হবে। বাস্তুচ্যুতরা এক জায়গায় (বাংলাদেশে) বেশি দিন থাকলে এদের সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করতে পারে!

টেনশনে প্রার্থীরা: তালিকা চূড়ান্তে আরো সময় নেবে আওয়ামী লীগ by কাজী সোহাগ

এবার রেকর্ড ৪০২৩টি দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করেছে আওয়ামী লীগ। এক আসনে সর্বোচ্চ ৫২ জন দলীয় মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করার নিয়ম থাকলেও নানা কারণে এবার বিভিন্ন সংস্থা ও সাংগঠনিক জরিপের ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়ন দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল। এজন্য প্রার্থীদের আলাদা সাক্ষাৎকার নেয়া হচ্ছে না। এ কারণে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের গণভবনে ডেকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তাদের কাজ করার ওয়াদা নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। জোটবদ্ধ নির্বাচনের কারণে মহাজোটের শরিক দলগুলোকে অন্তত ৬৫ থেকে ৭০টি আসন ছেড়ে দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।
এই আসন বাদ দিয়ে বাকি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা হবে। এখনও জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে প্রার্থিতা নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। এ ছাড়া যুক্তফ্রন্টসহ আরো কিছু দল ও প্রার্থী আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন করতে চায়।
তাদের নিয়েও আলোচনা চলছে। এ অবস্থায় দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আরো সময় নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। তাই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অপেক্ষা আরো অন্তত এক সপ্তাহ দীর্ঘায়িত হতে পারে। যদিও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল দলের মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক শেষে জানিয়েছেন আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত হবে।
এদিকে দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরুর পর থেকে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ঢাকায় অবস্থান করছেন। প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর তাদের অনেকে এলাকায় যাবেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখন ভিড় করছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসা এবং কার্যালয়ে। মনোনয়ন বোর্ডে আছেন এমন নেতাদের কাছেও ভিড় করছেন তারা। দলীয় সূত্র বলছে, জোট মহাজোটের জটিল সমীকরণের কারণে দলের অনেকের মনোনয়ন ঝুঁকিতে আছে। এ ছাড়া জরিপ রিপোর্টে যাদের বিষয়ে নেতিবাচক তথ্য এসেছে বর্তমান এমপি বা মন্ত্রী হলেও তাদের মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে না। এ তালিকা শেষ পর্যন্ত একশোতে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। দলের ভেতর থেকে এসব বার্তা পাওয়ায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখন মহা টেনশনে সময় পার করছেন।
বিশাল শোডাউন করে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তারপর দিয়েছেন জমা। সাক্ষাৎকার পর্বও শেষ। কিন্তু এখনও মেলেনি নৌকার টিকিট। কবে মিলবে তাও বলতে পারছেন না। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পর আওয়ামী লীগ দলীয় জোটের সঙ্গে যোগ হয়েছে ইসলামী কয়েকটি দল। আর আগে থেকেই রয়েছে ১৪ দলীয় জোট। এদিকে গতকাল দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে বসে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এতে সভাপতিত্ব করেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়নি বলে মানবজমিনকে জানান মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ফারুক খান। তিনি বলেন, বৈঠকে আমরা সব কাজ শেষ করতে পারিনি। আরো কিছু কাজ বাকি আছে। তাই মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে আরো ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে। মনোনয়ন নিয়ে দলীয় প্রার্থীরা টেনশনে রয়েছেন-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে এ ধরনের টেনশনে থাকাটা স্বাভাবিক।
এর মধ্য থেকে রাজনীতিবিদদের শিক্ষা নিতে হবে। আমরা যারা নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছি তারা সবাই টেনশনে আছি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মনোনয়নের এখতিয়ার আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের। এই বোর্ডের সদস্যরা হলেন-আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফরউল্লাহ,  অধ্যাপক ড. আলাউদ্দীন আহমেদ, রশিদুল আলম, রমেশ চন্দ্র সেন, ড. আব্দুর রাজ্জাক ও কর্নেল (অব.) ফারুক  খান। এর মধ্যে নতুন সদস্য হিসেবে বোর্ডে স্থান পেয়েছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, ড. আব্দুর রাজ্জাক ও কর্নেল (অব.) ফারুক খান। বোর্ডের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মারা যাওয়ার পর একটি সদস্যপদ খালি ছিল। এ ছাড়া সংসদীয় বোর্ডের অন্য দুই সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও ড. আলাউদ্দিন আহমেদ অসুস্থ। এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেতে ৩০০ আসনে ৪ হাজার ২৩ জন মনোনয়ন ফরম তুলেছেন।
এ কারণে অনেক আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীরাও টেনশনে রয়েছেন। কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না দল থেকে মনোনয়ন কে পাবেন। তবে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহকারী সবার বিশ্বাস সবাই দলীয় মনোনয়ন পাবেন। এক্ষেত্রে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, দল কাকে মনোনয়ন দেবে তা দেখতে হলে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তার টেনশনের কারণ সাবেক সচিব ও এনবিআরের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে মনোনয়ন নিয়ে টেনশনে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তার টেনশনের কারণ একই আসন থেকে মনোনয়ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। একইভাবে পাশাপাশি চাঁদপুর-৫ আসনে মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম)। তার আসন থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার সফিকুল ইসলাম ও ব্রিগেডিয়ার (অব.) সালাউদ্দিন।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে মনোনয়ন যুদ্ধে নেমেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর অর্ধডজন প্রার্থী। এখানে চারবার এমপি হওয়া জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর আবারও বিএনপি থেকে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো শক্ত কোনো প্রার্থী না থাকায় বিএনপিতে মনোনয়নের লড়াই অনেকটাই নিষ্প্রভ। এর ঠিক বিপরীত চিত্র আওয়ামী লীগে। দল তো আছেই, মহাজোটের প্রার্থিতা নিয়েও গভীরভাবে ভাবতে হচ্ছে দলটির নীতিনির্ধারকদের। আওয়ামী লীগে আসনটির বর্তমান এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে চ্যালেঞ্জ জানাতে মাঠে আছেন আরো দুই শক্ত প্রার্থী মুজিবুর রহমান ও আবদুল্লাহ কবির লিটন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ আবার পাল্টে দিতে পারে জোট-মহাজোটের হিসাব। কারণ, ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন হলে মহাজোট থেকে এখানে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী প্রার্থী হতে চাইবেন।
এদিকে বর্তমান সংসদে আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি রয়েছেন ২৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২১৩, মহিলা ৬১। মহিলা এমপিদের মধ্যে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ১৯ জন আর সংরক্ষিত আসনে ৪২ জন। আওয়ামী লীগ দলীয় প্রায় ২০ জন এমপির বক্তব্য, এলাকায় সাধ্যমতো কাজ করার চেষ্টা করেছি। এখন অপেক্ষা করছি আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য। জানি না পাব কিনা। বিষয়টি নিয়ে টেনশন কাজ করছে বলে জানান একাধিক এমপি। এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীদের টেনশনের পাশাপাশি দ্বন্দ্বে রয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কোন আসন থেকে কাকে মনোনয়ন দেবে দল। এ নিয়ে মাঠপর্যায়ে অস্থিরতা রয়েছে। কেউ কেউ বর্তমান এমপি-মন্ত্রীদের এগিয়ে রাখলেও নতুনরা হেভিওয়েট হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন। সেইসঙ্গে নতুনদেরও এগিয়ে রাখছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
বিভিন্ন নির্বাচনী আসনের স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মন্ত্রী-এমপিদের কয়েকজন বাদ পড়তে পারেন। সেক্ষেত্রে নতুন মুখের দেখা মিলবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে কোন আসন থেকে কাকে বাদ দেবেন আর কাকে নেবেন সেটি নেত্রীই ভালো বলতে পারেন। নেত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হবে আমাদের। আমরা কাউকে এগিয়ে রাখতে চাই না। দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে আমরা তার জন্যই কাজ করবো। আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েক নেতা মানবজমিনকে বলেন, তৃণমূলের পর্যালোচনা, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য ও হাইকমান্ডের মূল্যায়নে যথার্থ হলেই কেবল দলীয় মনোনয়ন মিলবে। এমপি হলেই মনোনয়ন মিলবে না এমন বার্তা ইতিমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে হাইকমান্ডের তরফে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে জটিলতা

শেষ সময়ে এসেও প্রত্যাবাসন নিয়ে জটিলতা। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আজ শুরু হচ্ছে কী-না? তা নিশ্চিত নয়। গতকাল দিনভর ঢাকায় এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাত অবধি বৈঠকে কাটিয়েছেন। কিন্তু এ নিয়ে কেউই মুখ খেলেননি। তারা একেবারেই চুপচাপ। পররাষ্ট্র সচিব, কর্মকর্তা বা অন্যরা এ নিয়ে আগ বাড়িয়ে একটি শব্দও বলতে চাইছেন না। যাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা ‘প্রত্যাবাসনের কোনো তথ্য নেই’ বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। উল্লেখ্য, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতি সম্প্রদায়ের আপত্তি সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও মিয়ানমার আজ ৩০টি পরিবারের দেড় শ’ রোহিঙ্গাকে পাঠিয়ে প্রত্যাবাসনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করার যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।
ওই পরিবারগুলোর সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রতিনিধিরা গত দুদিনে কথাও বলেছিলেন।
তারা স্বেচ্ছায় রাখাইনে ফিরতে চায় কী-না সেটাই ছিল ইউএনএইচসিআর’র মূল জিজ্ঞাসা। জবাবে রোহিঙ্গারা ইউএনএইচসিআরকে কী বলেছে? বা ইউএনএইচসিআর সরকারকে কী জানিয়েছে?
তা নিয়ে কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তারা মুখ খুলেননি। তবে রাতে কূটনৈতিক সূত্রে যে খবরা-খবর বেরিয়েছে তা হলো বেশির ভাগ পরিবার পূর্ণ নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব এবং তাদের ছেড়ে আসা বসত ভিটায় ফিরে পাওয়ার নিশ্চয়তা চেয়েছে। মিয়ানমারের তরফে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে তার বাস্তবায়নের গ্যারান্টি পাওয়ার পরই তারা ফিরতে চেয়েছে। স্মরণ করা যায়- গত এক বছরের চেষ্টায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমার রাখাইনে বাস্তুচ্যুতদের ফেরানোর চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঠিক করে ১৫ই নভেম্বর। আজ থেকে প্রতিদিন দেড় শ’ করে টানা ১৫ দিনে ২২৬০ রোহিঙ্গাকে পাঠানোর কথা রয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে শুরু থেইে আপত্তি তুলে জাতিসংঘ, ইউএনএইচসিআর এবং অ্যামনেস্টিসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তাদের তরফে প্রত্যাবাসনের গৃহীত দ্বিপক্ষীয় সিদ্ধান্ত স্থগিতের অনুরোধও জানানো হয়। তারপরও দুই দেশ প্রস্তুতি এগিয়ে নেয়।
প্রত্যাবাসন কমিশনার যা বললেন: এদিকে আমাদের টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আজই প্রত্যাবাসন শুরু করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে যথাসময়েই বান্দরবানের গুমধুম পয়েন্ট দিয়ে বাস্তুচ্যুতদের পাঠানোর কথা। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য মো. আবুল কালাম জানিয়েছে, বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে দুপুরে ১৫০ রোহিঙ্গা মিয়ানমার যাবে। বুধবার (১৪ই নভেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। কমিশনার জানান, সব প্রস্তুতি শেষ। বৃহস্পতিবারই প্রত্যাবাসন শুরু হবে। দুপুরের দিকে এ কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গাদের ঘুমধুমের ট্রানজিট ক্যাম্পে নিয়ে যাব। সেখান থেকে মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবেন। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে চলবে।’ এদিকে টেকনাফস্থ কেরুনতলী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে বুধবার সকালে ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যাবাসনের জন্য অত্র কেন্দ্রটি সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে টেকনাফ নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের ইনচার্জ আবদুল হান্নানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে।
ওদিকে কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা নিজেদের অধিকার ফিরিয়ে পেলে মিয়ানমারে ফিরতে চায়। তাদের অধিকারের মধ্যে রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, নাগরিকত্ব প্রদান, হত্যা ও ধর্ষণের বিচার, নিজেদের ভিটা-জমি ফিরিয়ে দেয়া অন্যতম। নয়াপাড়াস্থ শালবনে (ক্যাম্প নং-২৬) এর ডি নাইন ব্লকের রোহিঙ্গা রশিদ আহমদের পুত্র মৌলভী মো. আয়ুব জানান, “আমরা বাংলাদেশ সরকারকে বিশ্বাস করি, আমরা রোহিঙ্গা, আমরা বাঙ্গালী নই” সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে এবং রোহিঙ্গা ও নাগরিকত্ব প্রদান করলে স্বেচ্ছায় ফিরে যাব। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে উভয় দেশ ঐকমত্যে পৌঁছে স্মারকটিতে স্বাক্ষর করেছিল। সেই স্মারকের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ মিয়ানমারের কাছে ৮ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা পাঠায়। যাচাই-বাছাই শেষে মিয়ানমার ওই তালিকা থেকে ৫ হাজার ৫শ জনকে প্রত্যাবাসনের ছাড়পত্র দেয়। সেই ছাড়পত্রের মধ্য থেকে ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গাকে স্বদেশে ফেরত পাঠাতে চায় বাংলাদেশ।
ক্যাম্পে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি সংশয় বাড়িয়েছে- গার্ডিয়ান: এদিকে স্থানীয় সূত্রের বরাতে দ্যা গার্ডিয়ান প্রত্যাবাসন নিয়ে গতকালও একটি রিপোর্ট করেছে। সেই রিপোর্টে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এটাই ইঙ্গিত করে প্রত্যাবাসন স্বেচ্ছায় নাও হতে পারে। গার্ডিয়ান তার রিপোর্টে নানা আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে জড়ো হয়েছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। অভিযোগ উঠেছে, যেসব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে না, তাদের ভয় দেখানোর। বৃটেনের ওই সংবাদপত্র তাদের প্রতিবেদনে আরো বলেছে, জামতলী শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া কদর নামের ২৯ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শরণার্থী অভিযোগ করেছেন, প্রত্যাবাসনের ভয়ে অনেক পরিবার লুকানোর চেষ্টা করছে।
এমনকি যাদের নাম প্রত্যাবাসনের তালিকায় নেই, তারাও আত্মগোপনে গিয়েছে। তিনি জানান, জামতলী ও হাকিমপাড়া শরণার্থী শিবিরের সব দিকেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অবস্থান নিয়েছে। তারা তল্লাশি করছে। এমনকি শরণার্থীদেরকে অন্য শিবিরেও যেতে দিচ্ছে না তারা। মানুষ এতই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে যে তারা ঘর থেকে বের হচ্ছে না, খাওয়া দাওয়াও ছেড়ে দিয়েছে। কিছু শরণার্থী গোপন পথে শিবির ছেড়ে গেছে বলে জানায় আতঙ্কিত এই রোহিঙ্গা শরণার্থী। পালিয়ে তারা অন্য শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে, বিশেষ করে কুতুপালং শিবিরে, যেখানে প্রত্যাবাসনের এত শঙ্কা নেই। জনি নামের আরেক রোহিঙ্গা জানান, গত দুই দিনে নিরাপত্তা দ্বিগুণ করা হয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, সূর্য অস্ত যাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী শরণার্থী শিবিরগুলোর সব প্রবেশ পথে অবস্থান নেয়। সকাল পর্যন্ত তারা এ পথ ছাড়ে না।
ব্যাংককের ডেটলাইনে নিউ ইয়র্ক টাইমসও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যে অবস্থায় রোহিঙ্গাদের ফেরানো হচ্ছে তাতে তারা ফের গণহত্যার মাঠেই ফিরছে।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত কেন এবার উদাসীন -বিবিসি বাংলা

বাংলাদেশে ২০১৪’র ৫ই জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনকে যে দেশটি আগাগোড়া জোরালো সমর্থন জানিয়ে এসেছিল, সেটি ছিল ভারত। ওই নির্বাচনকে সফল করার লক্ষ্যে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব নির্বাচনের ঠিক আগে ঢাকা সফর পর্যন্ত করেছিলেন। কিন্তু পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, পাঁচ বছর বাদে বাংলাদেশে পরবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে ভারত কিন্তু এবার অনেকটাই নিস্পৃহ- এই নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারতের দিক থেকে তেমন কোনো সক্রিয়তাই চোখে পড়ছে না।
কিন্তু কেন ভারত এ ধরনের অবস্থান নিচ্ছে, বাংলাদেশে এবারের ভোটকেই বা তারা কী চোখে দেখছে? আসলে বাংলাদেশে ২০১৪-র নির্বাচনের সময় ভারতের দিক থেকে যে ধরনের অতি-সক্রিয়তা ছিল, পাঁচ বছর বাদে এবার তার কিন্তু ছিটেফোঁটাও নেই। এ বছরেই নির্বাচন হয়েছে নেপাল এবং মালদ্বীপেও, সেখানেও ভারতের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা চোখে পড়েনি। দিল্লিতে ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালিসিসের সিনিয়র ফেলো ড. পট্টনায়ক মনে করছেন, খুব সচেতনভাবেই ভারত এবার বাংলাদেশের নির্বাচন থেকে একটা দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছে। ড. পট্টনায়কের কথায়, “২০১৪-তে ভারত যেভাবে পররাষ্ট্র সচিবকে ঢাকায় পাঠিয়েছিল সেই অভিজ্ঞতা কিন্তু খুব সুখকর হয়নি।
সেটাকে অনেকেই ভারতের হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছিলেন- যদিও ভারতের আসল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে একটা সাংবিধানিক বিপর্যয় এড়ানো। কিন্তু এখন বাংলাদেশের রাজনীতি যে ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তাতে ভারতের উদাসীন থাকাটাই উচিত, আর তারাও ঠিক সেটাই করছে।
ভুললে চলবে না, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কও এর মাঝে অনেক পরিণত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। বাংলাদেশে বিগত নির্বাচনে বিএনপি জোট অংশ নিতে রাজি হয়নি বলেই সেই নির্বাচনকে ঘিরে এত প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু এবারে নির্বাচন অনেকটাই অংশগ্রহণমূলক হতে যাচ্ছে- ফলে ভারতেরও এত মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন নেই, বিবিসিকে বলছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী।
তার কথায়, বড় পরিবর্তন বাংলাদেশে যেটা দেখতে পাচ্ছি তা হলো ভারতে যেটাকে আমরা ‘মহাগঠবন্ধন’ বলি, সেই ধাঁচে ওখানেও বিরোধীদের ঐক্যফ্রন্ট আত্মপ্রকাশ করেছে। “এখন তো আবার যুক্তফ্রন্টও চলে এসেছে। ফলে নির্বাচন সঠিক পথেই আছে মনে হচ্ছে- আর এভাবে যদি সব এগোয় তাহলে তো ২০১৪-র তুলনায় সেটা সম্পূর্ণ আলাদা!” “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা তো এখন স্বাভাবিক পথেই আছে মনে হচ্ছে। সব দলও নির্বাচনে যোগ দিতে চাইছে, যেমনটা স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হয় আর কী। কাজেই মনে তো হয় না এই নির্বাচনকে সমালোচনা করার কোনো সুযোগ আছে বলে!” বাংলাদেশে ভারতের আর এক প্রাক্তন হাইকমিশনার বিনা সিক্রিও মনে করেন, “যদিও এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়- তারপরও বিএনপির নির্বাচনে যোগদান খুবই ইতিবাচক ব্যাপার।” “তারা যেভাবে জোট শরিকদের সঙ্গে কথা বলছে, আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করছে- যেমনটা স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হয়ে থাকে- সেটা অবশ্যই দারুণ বিষয়।” “ভারত এখানে কী করলো, বা কী করলো না ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে তা খোঁজার কোনো দরকারই নেই”, পরিষ্কার মত তার। বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনী পরিবেশে এখনও পর্যন্ত ভারত-বিরোধিতার কোনো আবহ তেমন নেই, দিল্লির দৃষ্টিতে সেটাও অত্যন্ত ইতিবাচক একটা পদক্ষেপ।
ফলে আগ বাড়িয়ে সেদেশের নির্বাচন নিয়ে অতি-সক্রিয়তা দেখিয়ে ওই পরিবেশ বিগড়ে দেয়াও কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়, এটাও হয়তো ভারত মাথায় রাখছে। পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তীর কথায়, “আমি তো বলব এটা পারস্পরিক সম্পর্কের একটা ম্যাচিওরিটি, যেখানে অন্য দেশকে নিজের নির্বাচনে ডোমেস্টিক ইস্যু বানানোর কোনো দরকার পড়ে না। “হ্যাঁ, দুদেশের মধ্যকার অভাব-অভিযোগ বা অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে অবশ্য দুদেশের সরকারকেই ডিল করতে হবে। সেটা কিছুটা হয়নি, কিছুটা আবার হয়েছেও।” “যেমন স্থল সীমান্ত চুক্তি হয়েছে, সমুদ্রসীমা চুক্তি হয়েছে। প্রচুর বিনিয়োগ হয়েছে, আধুনিকীকরণের কাজও হচ্ছে। এগুলোর তো একটা সুফল দেবেই”, বলছিলেন তিনি। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এই পরিণতি আর ভোটে বিএনপির যোগদান, এই দুটো ফ্যাক্টরই আসলে পাঁচ বছর আগের তুলনায় ভারতের অবস্থানকে আজ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। পররাষ্ট্র সচিবকে পাঠানো তো দূরস্থান, বাংলাদেশের এবারের নির্বাচন নিয়ে তাই এখনও কোনো বিবৃতি দেয়ারও প্রয়োজন বোধ করেনি ভারত।

মঙ্গল জয়ে লাগবে আরো ২৫ বছর!

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, মঙ্গলে মানুষ পাঠাতে আরো কমপক্ষে ২৫ বছর সময় লাগবে। এ জন্য সংস্থাটি প্রযুক্তিগত সমস্যাকেই প্রধান বাধা মনে করছে। এ ছাড়াও মহাকাশ থেকে আসা ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয়তা ও শারীরিক নানা সমস্যার সমাধানে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। বিবৃতিতে বলা হয়, নাসার জন্য বরাদ্দ বার্ষিক বাজেট যথেষ্ট নয়। প্রত্যেক বছর যে হারে বাজেট বাড়ছে তাতে মঙ্গলে যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে কমপক্ষে ২৫ বছর সময় লাগবে। লালগ্রহ মঙ্গল থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় ২২৫ মিলিয়ন কিলোমিটার। এই পরিমাণ দূরত্ব নিয়েই প্রধানত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে নাসা।
বর্তমানে আধুনিকতম রকেট প্রযুক্তিতে মঙ্গলে পৌঁছাতে কমপক্ষে ৯ মাস সময় লাগবে। শূন্য মাধ্যাকর্ষণে এত সময় থাকলে তা মহাকাশচারীর শরীরে ভয়াবহ চাপ ফেলবে।
এ সমস্যা মোকাবিলায়ই এখন কাজ করে যাচ্ছে নাসা। মঙ্গলের মাধ্যাকর্ষণ পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ। এটিও সংস্থাটির সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

উত্তেজনায় ফুটছে বৃটিশ রাজনীতি, চার মন্ত্রীর পদত্যাগ

আবার উত্তেজনায় ফুটছে বৃটিশ রাজনীতি। ব্রেক্সিট ইস্যুতে প্রচন্ড বিরোধিতার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। তারই বিরোধিতা করে আজ বৃহস্পতিবারই পদত্যাগ করেছেন গুরুত্বপূর্ণ চারজন মন্ত্রী। তেরেসা মের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করে দুটি চিঠি জমা পড়েছে। এ দুটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন কনজার্ভেটিভ দলের এমপি জ্যাকব রিজ-মগ এবং ক্রাউলি থেকে নির্বাচিত এমপি হেনরি স্মিথ। এখানে স্মরণ রাখার বিষয় হলো, আনুষ্ঠানিকভাবে আস্থা ভোট করতে হলে রক্ষণশীল দলের এমপিদের পক্ষ থেকে ৪৮টি এমন চিঠি প্রয়োজন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রীর পদ শূন্য ছিল।
প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র পরিণতি এখন কি! এ নিয়ে সারা বৃটেন তো বটেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্র চলে এসেছে। ব্রেক্সিট ইস্যুতে চারজন মন্ত্রী তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগ করেছেন পার্লামেন্ট বিষয়ক প্রাইভেট সেক্রেটারি অ্যানি-মেরি ট্রেভেলিয়ান এবং রণিল জয়বর্ধনে। প্রধানমন্ত্রী তেরেসার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে চিঠি দিয়েছেন কনজার্ভেটিভ দলের এমপি জ্যাকব রিজ-মগ। তার এমন সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে রিজ-মগ তা মানতে নারাজ। তিনি বলেছেন, এক্ষেত্রে অভ্যুত্থান শব্দটি ভুল। তিনি বৈধ উপায়ে প্রধানমন্ত্রীকে উৎখাতের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। রিজ কিছুক্ষণ আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, আজ যা ঘটেছে তা কোনো ব্রেক্সিট নয়। এরই মধ্যে ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেনের বেরিয়ে যাওয়ার আইন পাস হয়ে গেছে। বৃটেনকে বের করে আনার কার্যক্রম চলছে। কিন্তু ইউরোপিয় ইউনিয়নকে আমাদের কথা বলার জন্য একজন নেতা দরকার। আজ স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় (জিএমটি) পদত্যাগ করেন ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী ডমিনিক রাব। এর এক ঘন্টা পরে পদত্যাগ করেন ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস বিষয়ক মন্ত্রী এস্থার ম্যাকভি। উত্তর আয়ারল্যান্ড বিষয়ক জুনিয়র মন্ত্রী শৈলেশ ভরা, ব্রেক্সিট বিষয়ক জুনিয়র মন্ত্রী সুয়েলা ব্রেভম্যান এবং পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি অ্যান-মেরি ট্রেভেলিয়ান এবং রণিল জয়বর্ধনে পদত্যাগ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন কনজার্ভেটিভ দলের ইউরোপিয়ান রিসার্চ গ্রুপের এমপিরা প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র বিরুদ্ধে আস্থাভোটের জন্য চিঠি জমা দেয়ার কথা। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বৃটিশ পাউন্ডের মান পড়ে গেছে শতকরা এক ভাগের বেশি। এর আগে হাউস অব কমন্সে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা বলেন, বৃটিশ জনগণ চায় আমরা আমাদের ব্রেক্সিট ইস্যুতে বাকি কাজটুকু শেষ করি। কিন্তু তেরেসা মে’র কড়া সমালোচনা করেছেন বিরোধী দল নেতা জেরেমি করবিন। তিনি ব্রেক্সিট চুক্তিকে একটি কদর্য চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে নিজস্ব রেড লাইন অতিক্রম করেছে সরকার।

রোহিঙ্গারা স্লোগান দিচ্ছে 'ন যাইয়ুম, ন যাইয়ুম'- রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্থগিত

প্রথম দফায় প্রত্যাবাসনের জন্য কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে টেকনাফের উনচিপাং এলাকার ২২ নম্বর ক্যাম্পে জড়ো করার পর তারা 'ন যাইয়ুম, ন যাইয়ুম' (যাবো না, যাবো না) স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ওই ক্যাম্প থেকে আগামী তিন দিনে প্রত্যাবাসিত হওয়ার জন্য ২৯৮ জন রোহিঙ্গার একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে উপস্থিত রোহিঙ্গাদের জানানো হয় যে তাদের জন্য অন্তত তিনদিনের খাবার দাবার ও জরুরি প্রয়োজনের দ্রব্যাদিসহ বাসে করে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।
এরপর তাদের বাসে ওঠার আহবান জানালে 'যাবো না' বলে স্লোগান দেয়া শুরু করে তারা। বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় কয়েকজনের হাতে প্ল্যাকার্ড দেখা যায় যেখানে তারা মিয়ানমারের নাগরিকত্ব প্রদান, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা সহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে।
সকালে প্রত্যাবাসনের জন্য উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসার জন্য রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কয়েকটি বাস সেখানে পৌঁছালে বিক্ষোভ শুরু করেন রোহিঙ্গারা।
সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নানা দাবী তুলে স্লোগান দিচ্ছেন তারা। রোহিঙ্গাদের বহনের জন্য নিয়ে যাওয়া বাসগুলোও ঘিরে রেখেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে প্রত্যাবাসন নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে জানিয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্থগিত
মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইনে ফিরে না যাওয়ার দাবিতে কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গাদের এই বিক্ষোভের পর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে।
মিয়ানমার সীমান্তের কাছে কক্সবাজারের উঁচিপ্রাং শরণার্থী শিবিরে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। এসময় ‘না, না, আমরা ফেরত যাবো না’ বলে স্লোগান দিতেও দেখা যায় তাদের। অনেকের হাতে প্ল্যাকার্ডে দেখা যায়, আমরা ন্যায়বিচার চাই, নাগরিত্ব ছাড়া আমরা কখনোই মিয়ানমারে ফিরে যাবো না।

কনডম ব্যবহার নিয়ে যা বললেন সানি লিওন

কালের কণ্ঠ অনলাইন -২৯ জুন, ২০১৬: বলিউড ডিভা, নীল ছবির 'প্রাক্তন' তারকা সানি লিওনকে একটি বহুল প্রচলিত কনডম প্রস্তুতকারক সংস্থার বিজ্ঞাপনে দেখেছেন অনেকেই। কখনও সমুদ্র সৈকতের বালিতে সানি যেন সমুদ্রের ঢেউ, আর সে ঢেউ যেন পুরুষের সুপ্ত বাসনার ওপর এক একটা ধাক্কা! বিজ্ঞাপন নিয়ে আপত্তিও কম হয়নি।
তবে কনডম ব্যবহার করা যে সচেতনতা ও সতর্কতার বিষয়, এই সম্পর্কে কোনও প্রকার বিতর্ক কেউ কখনও আজ পর্যন্ত তৈরি করেননি। হলিউড অভিনেতা চার্লি শিন থেকে ভারতীয় তারকা সানি, কনডম ব্যবহারে কোনও কুণ্ঠাবোধ না রেখেই উদার হয়েছেন তারা।
সানি মনে করেন, "যে পুরুষরা সতর্কতাকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেন, মহিলারা সেই পুরুষদের প্রতি সবথেকে বেশি আকর্ষিত হন"। যা, যৌনতায় কনডম ব্যবহার করার উপদেশ বলেই মনে করছে সানি ফ্যানরা।