Tuesday, October 13, 2015

স্কুল ফটকে ছাত্রীকে খুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর এলাকার বিজয় সরণী উচ্চ বিদ্যালয়ের ফটকে কবিতা রানী দাস (১৬) নামের এক স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বিক্রম মনি দাস নামের এক যুবক এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। পুলিশ বিক্রমকে আটক করেছে।
নিহত কবিতা ধামরাই উপজেলার সাটুরিয়া গ্রামের সাগর মনি দাসের মেয়ে। সে নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত। সে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। স্কুলে এখন টেস্ট পরীক্ষা চল​ছে। আজ দুপুর দেড়টায় তার হিসাব বিজ্ঞান পরীক্ষা ছিল।
কবিতার বান্ধবীদের সঙ্গে কথা বলে তার পরিবার জানায়, পরীক্ষা দিতে বেলা ১টার দিকে কবিতা স্কুল গেটের সামনে পৌঁছায়। এ সময়ে আগে থেকে ওত পেতে থাকা বিক্রম স্কুল গেটের সামনে কবিতার গতিরোধ করে। সেখানে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কবিতাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় আশপাশের লোকজন ও স্কুলের শিক্ষকেরা এসে বিক্রমকে আটক করে এবং কবিতাকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ​কবিতার পরিবারের অভিযোগ, বিক্রম বেশ কিছুদিন ধরে কবিতাকে স্কুলে যাওয়া আসার পথে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ কারণে প্রায় এক মাসের মতো মেয়েটির নানি তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া আসা করত। তিনি অসুস্থ থাকায় আজ নিয়ে যেতে পারেননি।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান বলেন, টেস্ট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে তাঁরা ব্যস্ত ছিলেন। বেলা একটার দিকে স্কুল ফটকে চিৎ​কার শুনে তাঁরা ​ছুটে যান। সেখানে কবিতাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় তাঁরা আশপাশের লোকজন নিয়ে ছুটে গিয়ে বিক্রমকে আটক করেন। কবিতাকে এই বখাটের উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি আগে থেকে জানতেন তিনি। এর আগে কয়েকবার মুচলেকা দিলেও ওই বখাটে ঠিক হয়নি।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
বিক্রমকে থানায় নিয়ে আসার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ​তিনি গণবিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাঁর বাড়ি কালিয়াকৈর উপজেলার কাঞ্চনপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায়।

রাফায়েল না তেজস : ভারতীয় বিমানবাহিনীতে বিতর্ক

ভারতের বিমান বাহিনীর চাপ থাকা সত্ত্বেও ফরাসি রাফায়েল যুদ্ধবিমানের সংখ্যা বাড়াতে রাজি নয় নরেন্দ্র মোদির সরকার৷এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একটা চাপা টেনশনও তৈরি হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য, কোষাগারের উপর চাপ বাড়িয়ে বিদেশ থেকে ক্রমাগত অস্ত্র আমদানির ‘বদভ্যাস’ ত্যাগ করতে হবে৷প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিক্করকে উদ্ধৃত করে তাঁরই দফতরের এক অফিসার জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ৩৬টির বেশি রাফায়েল কেনার মতো টাকা ভারতের হাতে নেই৷পক্ষান্তরে বিমান বাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বিমান বহরের সামর্থ বাড়াতে হলে ফরাসি সংস্থা দাসাউ এভিয়েশনের কাছ থেকে ৪৪টির কম যুদ্ধবিমান কিনে কোনো লাভ নেই৷ ভারত সরকার বিমান বাহিনীকে জানিয়ে দিয়েছে, ডিআরডিও-র পরিকল্পনামাফিক হ্যালে তৈরি তেজস যুদ্ধবিমানই আগামী দিনে শত্রু মোকাবিলায় তাদের সহায়ক হবে৷কিন্তু ভারতের বিমান বাহিনীর যুক্তি, তেজস হালকা যুদ্ধবিমান (লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট)৷ অথচ, রাফায়েল হল মিডিয়াম মালটি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট৷এই মুহূর্তে এই ধরনের যুদ্ধবিমানের সংখ্যা না বাড়লেই নয়৷
কিছু দিন আগেই বিমান বাহিনীর তরফ থেকে একটি হিসাব দিয়ে দেখানো হয়েছিল, এই মুহূর্তে পাকিস্তান এবং চীন, দুই ফ্রন্টেই যদি ভারতকে যুগপৎ আক্রমণের সম্মুখীন হতে হয়, তাহলে তার মোকাবিলায় অন্তত ৪৫টি ফাইটার স্কোয়াড্রন তাকে নামাতে হবে৷বাস্তবে ভারতের বিমান বাহিনীর হাতে রয়েছে যুদ্ধের উপযুক্ত ৩৫টি স্কোয়াড্রন৷সাবেক মিগ-২১ বিমানগুলিকে বাতিল করতে হচ্ছে৷ কিন্তু সেই জায়গায় নতুন বিমান বাড়ছে না৷বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অরূপ রাহাও মিডিয়াম মালটি-রোল কমব্যাট যুদ্ধবিমানের উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন৷ অর্থাৎ, রাফায়েলের সংখ্যা বাড়াতে তিনিও আগ্রহী৷তার উপর এই বছরের মাঝামাঝি নাগাদ কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের নিজস্ব অনুসন্ধানও লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে৷ক্যাগের বক্তব্য, যতটা হালকা বলে তেজসকে সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে, এই যুদ্ধবিমান তত হালকা নয়৷তাছাড়া, প্রযুক্তিগত সুবিধা ও ইঞ্জিন নিয়েও চিন্তার কারণ আছে৷
যদিও ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রযুক্তিবিদদের মতে, তেজসের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের কোনো অবকাশই ওঠে না৷ তেজস তো তার তেজ দেখানোর কোনও সুযোগই পায়নি৷বিমান বাহিনীর বক্তব্য, তাদের কেবল আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, আগামী বছরের গোড়ায় তারা একটিমাত্র তেজস হাতে পাবে৷ ডিআরডিও-র পালটা জবাব, দিল্লির সবুজ সংকেত পেলেই তারা তেজসের উৎপাদন অনায়াসে বাড়াতে পারে৷ এই প্রসঙ্গে ডিআরডিও-র এয়ারোস্পেস প্রধান কে তামিলমণি বিরক্তির সঙ্গে মন্তব্য করেন, ‘‘আমরা ভারতীয়রা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করতেই বেশি পছন্দ করি৷’’ তার দাবি, চাইলে ২০১৭ সালের মধ্যে তেজস মডেলের কমপক্ষে ১৬টি যুদ্ধবিমান ভারত নির্মাণ করতে পারে৷যদিও এয়ার চিফ মার্শাল অরূপ রাহার যুক্তি অনুসারে, ফরাসি রাফায়েলের মতো যুদ্ধবিমানের অন্তত ছটি স্কোয়াড্রন তাদের নাকি চাই-ই চাই৷
এর মধ্যে সুইডিশ সাব সংস্থা অবশ্য ঠারেঠোরে জানিয়ে দিয়েছে, চাইলে মেক-ইন-ইন্ডিয়া নীতির আওতাতেই ভারতের বিমানবাহিনীকে তারা তাদের হালকা অথচ চোস্ত যুদ্ধবিমান গ্রিপেন সরবরাহ করতে পারে৷ তাদের বক্তব্য, ‘‘অনতিবিলম্বে তোমাদের যদি তেজস ওয়ান-এ’র সাতটি স্কোয়াড্রনও গঠিত হয়, তার পরও তোমাদের চাহিদা থাকবে৷ সেই চাহিদা গ্রিপেন অনায়াসেই পূরণ করতে পারবে৷’’

১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানী অচল

এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় ঢাকার বেশির ভাগ রাস্তা। হাঁটুপানি থেকে কোথাও কোথাও কোমর পর্যন্ত পানি হয়েছে। ড্রেনগুলো বন্ধ থাকায় ময়লা-নোংরা পানিতে একাকার ছিল রাস্তাগুলো। বেশ কিছু রাস্তায় স্যুয়ারেজের ময়লা পানি উপচে পানির সাথে মিশে যায়।
গতকাল সোমবার সকাল থেকে আকাশে মেঘ জমতে শুরু করে। সকাল ১০টায় বৃষ্টিপাত সূচিত হয়। প্রথমে মনে হয়েছিল এই বৃষ্টি কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃষ্টি থেমে যাবে। না, সে আশায় গুড়ে বালি। বেলা দেড়টা থেকে দুইটা পর্যন্ত একনাগাড়ে বৃষ্টি হয়েছে। এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরতি ছিল। সন্ধ্যার পর আবার প্রবল বর্ষণ শুরু হয় ঢাকায়।
ময়লা-নোংরা ও দুর্গন্ধে একাকার ছিল পরিবেশ। আশ্বিনের শেষ সময়ে এ ধরনের ভারী বর্ষণ প্রত্যাশিত ছিল না। সাধারণত এ সময়ে হালকা ধরনের বৃষ্টি হয়ে থাকে। শরতের শেষ দিকে এ ধরনের ভারী বর্ষণের নজির খুব বেশি নেই। আবহাওয়া অফিস চলতি মাসের প্রথম দিক থেকেই দক্ষিণ-পূর্ব মওসুমি বায়ু দেশের উত্তর ও মধ্যভাগ থেকে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেও এখনো তা অব্যাহত রয়েছে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, হঠাৎ বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সক্রিয় হয়ে ওঠায় মওসুমি বায়ুপ্রবাহ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং বায়ু ভূভাগের দিকে প্রচুর জলীয়বাষ্প নিয়ে আসছে। এটি প্রবল বর্ষণের কারণ হয়েছে।
ভারী বর্ষণে গতকাল দুপুর ১২টার পর থেকে পুরো ঢাকা যেন আরো স্থবির হয়ে পড়ে। যানবাহনগুলো গন্তব্যে পৌঁছার জন্য দ্রুত চলতে শুরু করে। ইন্টারসেকশনগুলোতে বিপরীতমুখী যানবাহন একই সাথে চলতে গিয়ে শুরু হয়ে জট। সবাই শুধু আগে যেতে চায়। এই প্রতিযোগিতায় গাড়িগুলো থেমে যায় ইন্টারসেকশনগুলোতে। একটা সময় কেউই সামনে এগোতে পারছিল না। যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছে। রিকশাওয়ালাদের সামলানো আরো কঠিন ছিল। রিকশাওয়ালারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে চান না। একটু ফাঁকফোকর পেলেই সামনে বাড়তে শুরু করেন। ফলে যানজটের তীব্রতা বাড়ে।
গতকাল ঢাকার অনেক স্কুলে পরীক্ষা চলছিল। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের দেখা যায় বৃষ্টির মধ্যেই ভিজে স্কুলে যেতে। রিকশাওয়ালাদের আকাশছোঁয়া ভাড়া হাঁকানোয় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকেরা হতাশ হয়ে বৃষ্টিতে ভিজেই স্কুলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রবল বর্ষণে রাজধানীতে যানজটের সাথে জনদুর্ভোগও শুরু হয় বেশ। ঢাকায় বাংলামোটর থেকে মগবাজার-মালিবাগ হয়ে শান্তিনগর পর্যন্ত এবং মৌচাক থেকে রামপুরার দিকে যেতে চৌধুরীপাড়া পর্যন্ত প্রধান রাস্তায় ফাইওভার নির্মাণকাজ চলছে। এ রাস্তার বেশির ভাগ দখল করে আছে নির্মাণসামগ্রী। এ ছাড়া পিলার নির্মাণের জন্য বিশাল বিশাল গর্ত খোঁড়া হয়। ফলে এসব গর্তের ময়লা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। এ ছাড়া দীর্ঘ দিন থেকে আবাসিক এলাকার রাস্তাগুলো সংস্কার না হওয়ায় সেগুলো খানাখন্দে ভরে গেছে।
নিম্নাঞ্চলের পানি নিচের দিকে যাওয়ায় রাস্তার নিচে অনেকের ঘরে ও দোকানপাটে প্রবেশ করে প্রচুর ক্ষতি করে। দোকানে ঢুকে যাওয়ায় পানিতে নষ্ট হয় এমন পণ্যগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
আবহাওয়া অফিসের কর্তব্যরত আবহাওয়াবিদ জানান, বৃষ্টি সারা দেশে ঘটেনি। কেবল দেশের মধ্যাঞ্চল, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে হয়েছে। এসব অঞ্চলে এখনো মওসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে। আবহাওয়া অফিস আবারো জানায়, সামনের দুই দিনের মধ্যে বৃষ্টি কমে যাবে এবং আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে দেশের অবশিষ্ট অঞ্চল বিরাজমান মওসুমি বায়ুমুক্ত হবে। গত রোববার ভারতের হিমালয় অঞ্চলে এক স্থল লঘুচাপ বিরাজ করছিল। গত বিকেল থেকে সাগরে লঘুচাপটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অক্টোবরের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে বঙ্গোপসাগরে দু’টি নিম্নচাপের সৃষ্টি হতে পারে; যা থেকে কমপক্ষে ঝড় হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও পাশের এলাকায় ঘূর্ণায়মান লঘুচাপটি আরো শক্তিশালী হবে কি না অথবা এটি থেকে কোনো নিম্নচাপের সৃষ্টি হবে কি না সেটি বলার সময় এখনো আসেনি।

ইসরাইল সফরে ভারতের রাষ্ট্রপতি

ভারত ও ইসরাইলের সম্পর্ককে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী আজ থেকে তার ঐতিহাসিক ইসরাইল সফর শুরু করেছেন।
এই প্রথম ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেতা ইসরায়েলে গেলেন, আর এই সফরে মুখার্জী সে দেশের পার্লামেন্ট নেসেটেও ভাষণ দেবেন।
এই একই সফরে একটা দিন ফিলিস্তিনকেও বরাদ্দ করে ভারত যদিও তার পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে, পর্যবেক্ষকরা বলছেন ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড় করার ক্ষেত্রে ভারতের যে আর কোনো দ্বিধাই নেই রাষ্ট্রপতির সফর তারই প্রমাণ।
আরব লীগের বাইরে বিশ্বের প্রথম যে দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল তারা ভারত। ফিলিস্তিনি আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসের আরাফতের সঙ্গেও ভারতীয় নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠতা ছিল সুবিদিত।
কিন্তু ১৯৯২তে ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পর থেকেই প্রতিরক্ষা-কৃষি-বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে শুরু করে জঙ্গী দমন নানা ক্ষেত্রেই দুই দেশের সহযোগিতা বেড়েছে – আর অন্যদিকে ধীরে ধীরে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে ভারত-ফিলিস্তিনের সম্পর্কে।
এ বছরের গোড়ায় জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ভোটাভুটিতেও প্রথমবারের মতো বিরত থেকেছে ভারত। আর এমন এক পটভূমিতেই মঙ্গলবার ইসরাইলে তার সফর শুরু করেছেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি (ইস্ট) অনিল ওয়াধওয়া-র কথায়, ‘ভারত ও ইসরাইল উভয় দেশই তাদের জন্মলগ্ন থেকে মানবসভ্যতা ও ইতিহাসে স্থায়ী দাগ রেখে গেছে। ভিন্ন পথে হলেও দুদেশের স্বাধীনতাও প্রায় একই সঙ্গে, আর তাদের দেশগঠন আর গণতন্ত্রের পথে যাত্রাও শুরু একই সময়ে। এই দুই দেশই তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, প্রতিরক্ষা, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ওপর ভীষণ গুরুত্ব দিচ্ছে।’
জেরুসালেমে আজ রাষ্ট্রপতি মুখার্জী দেখা করছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র সঙ্গে, কাল তার বৈঠক সে দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। সফরে দুই দেশের মধ্যে অজস্র সমঝোতা স্বাক্ষরিত হবে বলেও কথা রয়েছে।
ইসরাইলে তিনি কাটাচ্ছেন প্রায় তিনদিন, সেখানে ফিলিস্তিনে ছিলেন মাত্র একটা দিন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব বা মুখপাত্র বেণু রাজামণি বলছিলেন প্রথম কোনো ভারতীয় নেতা হিসেবে এই দেশগুলোতে এক ঐতিহাসিক সফরে যেতে পেরে রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত আনন্দিত।
‘ব্যক্তিগতভাবেও তার আগে কখনো ওই অঞ্চলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়া বা সে দেশের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে মতবিনিময় ছাড়াও হিব্রু ইউনিভার্সিটি তাকে সাম্মানিক ডক্টরেটে ভূষিত করবে’, জানান রাজামণি।
পর্যবেক্ষকরাও বলছেন রাষ্ট্রপতির এই সফর কোনো রুটিন বিদেশযাত্রা নয়, বরং ভারত-ইসরাইল সম্পর্কেই একটা পাকাপাকি সিলমোহর।
সূত্র : বিবিসি

নিরাপত্তার ‘মহড়া’ বনাম আসল নিরাপত্তা by এ কে এম জাকারিয়া

রাজধানীর গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় গত শনিবার
রাতে বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। ছবিটি
জা​তিসংঘ সড়ক থেকে তোলা। ছবি: ফাইল ছবি
দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার পর স্বাভাবিক কারণেই এ দেশে অবস্থানকারী কূটনীতিক ও বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তায় বাড়তি কিছু উদ্যোগ জরুরি হয়ে পড়েছে। তাঁরা মূলত যেসব এলাকায় থাকেন, সেই গুলশান-বনানী-বারিধারার কূটনৈতিক এলাকায় সে বিবেচনা থেকেই নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই এলাকা ঘিরে একটি নিরাপত্তাবেষ্টনী সব সময়েই থাকে। স্থায়ী কিছু চেকপোস্টও রয়েছে। ইতালির নাগরিক খুন হওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে এই ব্যবস্থায় হয়তো ফাঁক আছে। ফলে সেখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি ঘটানো হয়তো জরুরি ছিল। চেকপোস্টের সংখ্যা বেড়েছে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনের উপস্থিতি বেড়েছে। সেখানে এখন বিজিবি টহল দিচ্ছে। রোববার সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় ঘুরতে গিয়ে চেকপোস্টগুলোর তৎপরতা ও কিছু রাস্তা বন্ধ করে এক পাশ দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা দেখা গেল। গত শনিবার তো গাড়ি-মোটরসাইকেল নিয়ে সেই অঞ্চল দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি মহড়াও হয়েছে। বিদেশি নাগরিক বা কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করতেই হয়তো এসব। কিন্তু এ ধরনের দৃশ্যমান নিরাপত্তার উদ্যোগ একটি অস্বাভাবিক পরিবেশের বোধও তৈরি করে। মনে প্রশ্ন জেগেছে, এ ধরনের উদ্যোগ আসলে কতটুকু কার্যকর। বিদেশিরা কি এতে সত্যিই আশ্বস্ত বোধ করবেন? নাকি এত সাজ সাজ রব দেখে বরং ভীতিই বাড়বে? এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা জোরদার করার উপায়ই বা কী?
উন্নত দেশগুলোতে দেখেছি, সাধারণভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরব বা দৃশ্যমান উপস্থিতি থাকে না। কিন্তু কোনো ঘটনা ঘটলে দেখবেন ঠিকই পুলিশ হাজির। আমাদের এখানে যেন ঠিক তার উল্টো। রাস্তাঘাটে অসংখ্য পুলিশ চোখে পড়বে, চেকপোস্ট দেখা যাবে, কিন্তু এরপরও সেই নিরাপত্তাবেষ্টনী মধ্যেই অঘটন ঘটবে এবং সন্ত্রাসী বা অপরাধীরা তা ঘটিয়ে নিরাপদে পালিয়ে যাবে। ইতালীয় নাগরিকের খুনের ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তাবেষ্টনী দিয়ে সুরক্ষিত এলাকার মধ্যে ঘটেছে। সেখানে কীভাবে সন্ত্রাসীরা এই ঘটনা ঘটাতে পারল বা এরপর পালিয়ে যেতে পারল?
কোনো ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার বা এ নিয়ে মহড়ার বিষয়টি নিরাপত্তার কৌশল হিসেবে কতটা কার্যকর, তা জানতে ফোন করেছিলাম নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেনের কাছে। তিনি বললেন, ‘দেখুন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে “শো অব ফোর্স” বলে একটি বিষয় রয়েছে। কিন্তু এ ধরনের উদ্যোগ সেকেলে ও পুরোনো হয়ে গেছে। আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থার মূল কৌশল হচ্ছে গোয়েন্দা নজরদারি। মানুষ ও প্রযুক্তি দুটোকে কাজে লাগিয়েই তা করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন সেখানে কার্যত অদৃশ্য থাকে। প্রয়োজনের সময় হাজির হওয়ার সময় বা কুইক রেসপন্সের জন্য বাহিনীকে কাছাকাছি প্রস্তুত রাখতে হবে। যাতে কোনো ঘটনা ঘটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থালে হাজির হতে পারে।’
আধুনিক অপরাধ ও সন্ত্রাসের ধরন ও কৌশল বিবেচনায় নিলে সাধারণভাবে এটা ধারণা করা যায়, কোনো ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান বাড়তি উপস্থিতি তেমন কার্যকর কিছু নয়। নতুন কোনো অঘটনের আশঙ্কা থাকলে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের মধ্যেই তা নজরদারি ও মোকাবিলা করতে হবে। বর্তমানে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এর মধ্য দিয়ে ওই নির্দিষ্ট এলাকায় হয়তো একধরনের নিরাপত্তা ও নিরাপত্তার বোধ তৈরি কার যাবে। তবে বিদেশিরা তখনই পুরোপুরি স্বস্তি পাবেন, যখন ঘটনার রহস্যভেদ ও জড়িত ব্যক্তিরা শনাক্ত হবে।
যে চক্র বা যারা দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার সঙ্গে জড়িত, ‘শো অব ফোর্স’-এর কৌশল তাদের সতর্ক করতে বা ভয় দেখাতে যে খুব কার্যকর কিছু নয়, এর প্রমাণ মিলেছে গুলশানে ইতালির নাগরিক হত্যার চার দিনের মাথায় জাপানি নাগরিক হত্যার ঘটনা। একই কায়দায় দুটি ঘটনা ঘটেছে বলে ঘটনা দুটির মধ্যে যোগসূত্র বা একই গোষ্ঠী এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে নানা মহল থেকে ধারণা করা হচ্ছে। যদি তা-ই হয়ে থাকে, তবে বলতে হবে, গুলশানে ইতালীয় নাগরিক খুনের পর যখন সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে, তখন সেই চক্র খুনের জন্য বেছে নিয়েছে রংপুরের মতো একটি জায়গা। বর্তমান দুনিয়ায় সন্ত্রাস যে নতুন নতুন রূপ নিচ্ছে ও যেসব কৌশল কাজে লাগাচ্ছে, তা মোকাবিলায় ‘শো অব ফোর্স’ কার্যকর কিছু নয়।
গোয়েন্দা তৎপরতাই আধুনিক নিরাপত্তার মূল কৌশল হিসেবে বিবেচনায় নিতে হবে। ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত বললেন, ‘কেউ যখন লন্ডনে কোনো বিমানবন্দরে নামেন, তখন সেখান থেকে গন্তব্যে যাওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির গতিবিধির অসংখ্য ছবি থাকে। আমাদের কূটনৈতিক এলাকাটি যদি কার্যকর ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতায় থাকত, তাহলে কারও পক্ষে এখানে খুন করে পালিয়ে যাওয়া কঠিন হতো। তবে এটি শুধু ক্যামেরা থাকার বিষয় নয়, কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে নজরদারি বা সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো জনবলও আশপাশে মজুত ও প্রস্তুত থাকতে হয়।’
গুলশান ও বারিধারা এলাকায় বর্তমানে প্রায় শ খানেক সিসি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। গুলশান সোসাইটির উদ্যোগে এগুলো বসানো হয়েছে। গুলশান থানায় এর নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র রয়েছে। মাস দুয়েক আগে প্রথম আলোয় এ নিয়ে এক প্রতিবেদন হয়েছিল। শিরোনাম ছিল ‘গুলশানে ভয় দেখাতে ১০০ ক্যামেরা!’ (প্রথম আলো ২৫ আগস্ট ২০১৫)। সেই প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, ছবি দেখে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয় না। ক্যামেরার ফুটেজ দেখে উল্লেখযোগ্য কোনো অপরাধীকে ধরা হলেও পুলিশ দাবি করেছে, সিসি ক্যামেরার ‘ভয়ে’ অপরাধ কমেছে।
এটা এখন মানতেই হবে যে এ ধরনের ‘ভয়’ দেখানোর নিরাপত্তাব্যবস্থা দিয়ে কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাবে না। ২৮ সেপ্টেম্বর যারা গুলশানে ইতালীয় নাগরিককে খুন করেছে, তারা এই ‘ভয়কে’ আদৌ পাত্তাই দেয়নি। সিসি ক্যামেরাগুলো ঠিকঠাক কাজ করলে, নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে বসে সার্বক্ষণিক নজরদারি চললে ইতালীয় নাগরিক খুনের ঘটনা এড়ানো যেত কি না জানি না কিন্তু ঘটনার পর হয়তো তাদের পিছু নেওয়া যেত, হয়তো ধরাও যেত। অথবা এসব কিছু না হলেও এখন অন্তত জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে এতটা হাতড়ে বেড়াতে হতো না। নিরাপত্তার ‘মহড়া’ নয়, আমাদের দরকার আসল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
গত শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর বাড়িধারা দূতাবাস এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ মহড়ার আয়োজন করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশ এ উদ্যোগ নেয়। ছবি: ফাইল ছবি

পাকিস্তানে বাংলাদেশী মডেল by উইলিয়াম বি মাইলাম

বর্তমান সময়ে পাকিস্তান থেকে আশার উদ্ভব হওয়ার যথেষ্ট ভাল কারণ আছে। কয়েক দিন আগে ওয়াশিংটনে এক সম্মেলনে আমি মডারেটরের দায়িত্ব পালন করছিলাম। ওই সম্মেলনটি ছিল দেশের বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও বিরাষ্ট্রীয়করণ করা যায় কি-না তা নিয়ে। এখনও দেখার  বিষয় যে, কতগুলো মার্কিনি ও অন্যান্য বিদেশী বিনিয়োগকারী পাকিস্তানের সঙ্কটময় অর্থনৈতিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী। সেখানকার অর্থনীতিতে রয়েছে সংঘাতময় নীতি ও তার চর্চা, স্বচ্ছতাহীন ও উচ্চমূল্যের প্রকল্প। সংস্কার ও উন্নত সুশাসন প্রয়োজন এই বিদ্যুৎ খাতকে পরিচ্ছন্ন করতে। পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সঙ্কট সমাধানের সুযোগ খুবই কম। ওই সম্মেলনে সবাই একটি আস্থার কথা শুনিয়েছেন। তা হলো পাকিস্তান অনেক উন্নত হয়েছে। এতে সেখানে আর্থিক খাতে বিদেশী বিনিয়োগের নিশ্চয়তা আছে, যদি কোন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি থেকেই অন্ততপক্ষে এই আস্থার জন্ম। দেশে এবং বিদেশে জেনারেলদের বিষয়ে একটি ধারণা জন্মেছে। তা হলো পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর যে লেজেগোবরে অবস্থা হয়েছিল তা থেকে তারা পরিশুদ্ধ হচ্ছে। এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল বছরের পর বছর দুর্বলচিত্তের ও ভুল নির্দেশনামূলক নীতির কারণে। সম্প্রতি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস রিপোর্ট করেছে যে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। গত বছর জঙ্গি তৎপরতা কমে গেছে, বিশেষ করে এই তৎপরতা কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে গণহত্যার পর থেকে। ওই ঘটনায় সেনাবাহিনী বুঝতে পেরেছে তালেবান নির্মূল করতে, নর্থ ওয়াজিরিস্তানে জঙ্গি তৎপরতা ও অন্যান্য উপজাতি ইস্যুতে প্রয়োজন রাজনৈতিক সমর্থন।
তারপর থেকেই রেঞ্জারের মাধ্যমে সেনাবাহিনী অন্যান্য দুর্নীতি বিরোধী কাজে করাচিকে পরিশুদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়। এটা রাজনৈতিক সমঝোতা ভঙ্গ করেছে, যেহেতু পিপিপি এবং এমকিউএম দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপ অনুধাবন করতে পেরেছে। এসব দলের ভিতর থেকে যে বেদনার কথা বলা হচ্ছিল তা সত্ত্বেও রেঞ্জাররা দৃশ্যত এখনও সক্রিয় আছে। আমি কল্পনা করতে পারি যে, অরাজনৈতিক অনেক পাকিস্তানি করাচির পরিশুদ্ধ অভিযানকে সমর্থন করেন। তারা মনে করেন এটা অনেক আগেই করা উচিত ছিল। আসল বিষয় হলো, আমি ধারণা করি, যৌক্তিক সময়ের শেষে ন্যাশনাল অ্যাকশন প্লান নেয়া হবে। তা হবে পাকিস্তানের সব জঙ্গি সংগঠনকে বিনাশ বা নিষ্ক্রিয় করা। যদি তাই হয় তাহলে এটা ভাবা বোকামি হবে যে, এ কাজটি এক দশকের কম সময়ে করা যাবে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন এসে যায়, যেসব গ্রুপকে সেনাবাহিনী যথারীতি দেখে থাকে একটি প্রক্সি হিসেবে তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কিনা এবং কিভাবে করা হবে। দীর্ঘ মেয়াদে পাকিস্তানে যারা বিনিয়োগ করতে চান তাদের মনে এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাবে।
কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কি হবে তা এখানে উঠে আসে। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু বাধা দেয়া হলেও বেসামরিক রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন পিএমএল-এন সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক জায়গা করে দিতে নতি স্বীকার করেছে। দৃশ্যত বেসামরিক সরকার একেবারেই অসংলগ্ন এবং সেনাবাহিনীর সামনে তারা নমনীয়। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের বিগত মেয়াদের ইতিহাস বলে সেনাবাহিনীর সামনে নতজানু হয়ে পড়ার জন্য প্রস্তুত থাকা ‘আউট অব ক্যারেক্টার’।
আমার এক বন্ধু সম্প্রতি কৌতুক করে বললেন পরিবর্তিত বাংলাদেশ সমাধান প্রক্রিয়া (বাংলাদেশ সলিউশন) হয়তো পাকিস্তানে দেখতে পাবো আমরা। ২০০৭ সাল থেকে মাঝে মধ্যেই আমি বাংলাদেশ সমাধান প্রক্রিয়া নিয়ে লিখেছি। সংক্ষেপে বলা যায়, ২০০৭ সালে যখন বাংলাদেশে তখনকার বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান হয় তখন আমরা এই সমাধান প্রক্রিয়ার টার্মটি ব্যবহার করেছিলাম। ওই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বেসামরিক কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে রাজনৈতিক সংস্কার ও সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয় বাংলাদেশে, যে দেশ নৈরাজ্যে কিনারায় অবস্থান করছিল। এই বেসামরিক শাসনের পর্দার আড়ালে ছিল সেনাবাহিনীর ক্ষমতা। পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) ক্ষমতার অর্ধ মেয়াদের সময় কিছু পাকিস্তানি এই ধারণার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিলেন। তখন সেখানকার শাসনযন্ত্রে দুর্নীতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা ও ক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে শাসকচক্র সুবিধা নিয়েছে। এছাড়া সরকার কোন আদর্শ ও নীতি খুঁজে পেতে অক্ষম ছিল। ওই সময়ে বাংলাদেশ সমাধান প্রক্রিয়া দরকার হয়ে পড়ে একটি অভ্যুত্থানের জন্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসামরিক রাজনীতির স্থানে সেনাবাহিনী অব্যাহতভাবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। এটা হতে পারে বাংলাদেশ সমাধান প্রক্রিয়ার একটি অভ্যন্তরীণ অবস্থার প্রকাশ। এক্ষেত্রে একটি অভ্যুত্থান অত্যাবশ্যক নয়।
যে কোন ঘটনায় কেন যে কেউ বাংলাদেশ সমাধান প্রক্রিয়ার যে কোন একটি সংস্করণ প্রত্যাশা করেন পাকিস্তান বা অন্য কোন দেশের জন্য? বাংলাদেশ সমাধান প্রক্রিয়া কার্যত ব্যর্থ হয়েছিল। এটা মোটেও কোন সমাধান ছিল না। এতে আরও খারাপ রাজনৈতিক পরিণতির সূচনা ঘটায়। পরবর্তী সামরিক নয়, কর্তৃত্বপরায়ণ শাসন বাংলাদেশে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আনেনি। এর পরিবর্তে এনেছে বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তাহীনতা ও মৃত্যু। যেসব বাংলাদেশী তাদের হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলেন, তারা লেখার মাধ্যমে মত প্রকাশ করেন, সরকারের বিরোধিতা করেন তাদেরকে, এমনকি বিদেশীদের হত্যা করা হয় দৃশ্যত দায়মুক্তিতে। এখন অনেক দেশের ভ্রমন সতর্কতায় রয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি অজ্ঞাত কারণে একজন ইতালিয়ান এনজিওকর্মী ও জাপানের লেটুস চাষিকে হত্যা করা হয়েছে।
এ লেখাটি বাংলাদেশ নিয়ে না হওয়ায় বাংলাদেশ সমাধান প্রক্রিয়া যে বাংলাদেশে কার্যকারিতা আনেনি তা নিয়ে এখানে বিশদ বলতে চাই না। দুই বিদেশী হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ক্ষমতাসীনরা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য আইসিসকে দায়ী করে। এর মাধ্যমে তারা পশ্চিমা দেশগুলোকে সন্তুষ্ট করতে চেষ্টা করেছিল। তারা পশ্চিমা দেশগুলোকে বলতে চেয়েছিল এসব অপরাধ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের। যখন প্রমাণিত হয় যে, তারা পশ্চিমাদের সন্তুষ্ট করতে পারছে না, তখন তারা এর জন্য বিরোধীদের, বিএনপি-জামায়াত জোটকে দায়ী করে। প্রকৃতপক্ষেই এর উদ্দেশ্য হলো বিরোধীদের নির্মূল করার সরকারি প্রচেষ্টা। ক্রমবর্ধমান বিরোধিতা সত্ত্বেও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়েছে দ্রুতগতিতে। অপরাধ প্রতিরোধ ও অপরাধীদের ধরা যেত যদি বিরোধীদের দমন না করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আরও কার্যকর হতো। যদি তারা তাদের সময় বাস্তবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতেন তাহলে অপরাধ প্রতিরোধ ও অপরাধীদের ধরা যেত।
পাকিস্তানের জন্য বাংলাদেশ সমাধান প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এখানে আমরা বলি, সেনাবাহিনী অগ্রসর হয়ে পাকিস্তানে একই রকম সরকার প্রতিষ্ঠা করার আশঙ্কা রয়েছে- তা হলো সামরিক সরকারের জন্য বেসামরিক ফ্রন্ট। এটা অপরিহার্য নয়, তবে তা অসম্ভবও নয়। এটা নির্ভর করে বেসামরিক পক্ষগুলো প্রকৃতপক্ষে কিভাবে শাসন করছে তার ওপর। রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে পেশোয়ার গণহত্যা শোচনীয় একটি বিষয়। বেসামরিক সরকার সুশাসনের চ্যালেঞ্জ, নীতির বাস্তবায়ন, সিদ্ধান্ত নেয়া, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারে কিনা তা দেখার ব্যাপার। বিগত পিপিপি সরকার শুধু একটি ক্ষেত্রেই কৃতিত্ব দাবি করে। তা হলো তারা পুরো ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ করতে পেরেছে। বর্তমান পিএমএল-এন সরকার এখন পর্যন্ত সে পথেই হাঁটছে।
 (উইলিয়াম বি মাইলাম: ওয়াশিংটনে উড্র উইলসন সেন্টারের সিনিয়র স্কলার। তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন। দ্য ফ্রাইডে টাইমস-এ প্রকাশিত লেখার ভাষান্তর)

আসলেন, গুলি করলেন এ ধরনের কাহিনি সিনেমায় দেখতাম

সাংসদের গুলিতে রক্তাক্ত শিশু: সাংসদ মন্জুরুলের জামিনের আবেদন নাকচ, আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের শিশু শাহাদাত হোসেনকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় করা দুটি মামলায় গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সাংসদ মন্জুরুল ইসলামের আগাম জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ১৮ অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে বিচারিক আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ২ অক্টোবর সাংসদ মন্জুরুলের ছোড়া গুলিতে সুন্দরগঞ্জ গোপালচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শিশু শাহাদাত আহত হয়। দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সে এখন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ও মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে আসামির আগাম জামিনের কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি। তাই আবেদনটি খারিজ করা হলো। আসামিকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হলো। তবে আত্মসমর্পণের নির্দেশনা-সংক্রান্ত হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, সাংসদ মন্জুরুলের আগাম জামিন আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা স্থগিতের আবেদন করবেন, যাতে পুলিশ তাঁকে তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করতে পারে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত আছে জামিন না হলে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর।
সাংসদ মন্জুরুল সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী তিনি বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। আইনজীবী মোকছেদুল ইসলাম গতকাল সকালে সাংসদ মন্জুরুলের আগাম জামিনের আবেদনের শুনানি শুরু করেন। এ সময় আদালত সাংসদকে বেলা একটার মধ্যে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। এ সময় সাংসদকে হাজির করার ব্যাপারে মোকছেদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। এরপর একপর্যায়ে বেলা একটার কিছু আগে সাংসদকে নিয়ে তিনি আদালতে হাজির হন। শুনানির পুরো সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন সাংসদ।
হাইকোর্টে গতকাল আগাম জামিন আবেদন
নাকচ হওয়ার পর আদালত থেকে বেরিয়ে
আসছেন সাংসদ মন্‌জুরুল ইসলাম -প্রথম আলো
জামিনের শুনানিতে মোকছেদুল ইসলাম বলেন, ‘আসামি একজন জনপ্রতিনিধি। শিশু গুলির ঘটনায় মিডিয়া ট্রায়াল চলছে। মিডিয়া ঘটনা নিয়ে সেনসেশন তৈরি করেছে। সাংসদের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রতিদিন মানববন্ধন হচ্ছে।’
এ সময় আদালত বলেন, ‘সুযোগ তো আপনার আসামি করে দিয়েছেন। এলাকায় প্রতিদিন মানববন্ধন হচ্ছে, তাতে সমস্যা কী? আদালতের কাজ আদালত করবেন। আসামি কেন বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি? পুলিশ কি আসামিকে হ্যারাজ (হয়রানি) করতে গেছে?’ আদালতে সাংসদ মন্জুরুলের জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি আদালতকে বলেন, ছোট্ট একটা শিশুকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মতো জঘন্য অপরাধের অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে, তিনি একজন জনপ্রতিনিধি। এটা কি ভাবা যায়? একজন সাংসদ যদি এ ধরনের কাজ করেন? অ্যাটর্নি জেনারেল আসামি সাংসদ লিটনের আগাম জামিনের আবেদন নাকচ করে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর আবেদন করেন।
সাংসদ মন্‌জুরুল ইসলামের ছোড়া গুলিতে
আহত শিশু শাহাদাত, তার বাবা সাজু মিয়া ও
মা সেলিনা বেগমের মুখে স্বস্তির হাসি। রংপুর
মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে
গতকাল রাত আটটায় তোলা ছবি -প্রথম আলো
পরে মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘গণমাধ্যমে খবর হওয়া মানে গণতন্ত্রের বিকাশ হওয়া। আমাদের মিডিয়া এই ব্যাপারটা নিয়ে অনেক খবর দিচ্ছে। গণতন্ত্রের সহায়ক হিসেবে এটা দিচ্ছে।’
শুনানির একপর্যায়ে সাংসদ লিটনের আইনজীবী মোকছেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চাই। কিন্তু এলাকার অবস্থা বিবেচনা করে আত্মসমর্পণ করা হয়নি। তাই পালিয়ে ছিলাম। পালিয়ে থাকা কোনো অপরাধ না।’ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ঘটনার পর সাংসদ পালিয়ে পালিয়ে থাকেন। আদালত তখন বলেন, ‘ল এনফোর্সিং এজেন্সি (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) কী করেছে?’ সাংসদ মন্জুরুলের আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘শিশু গুলির ঘটনাকে হালকা করে দেখলে হবে না। সকাল বেলা একজন বেরিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছে পিস্তল। আসলেন, গুলি করলেন। আগে এ ধরনের কাহিনি সিনেমায় দেখতাম।’ আদালত আরও বলেন, জনপ্রতিনিধি হলে পক্ষে-বিপক্ষে লোক থাকবে। আপনাকে তো আইন অনুযায়ী চলতে হবে।
জামিন আবেদন খারিজের পর আইনজীবীর সঙ্গে আদালত থেকে বেরিয়ে আসেন সাংসদ মন্জুরুল। আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‘আমার এলাকা জামায়াত-অধ্যুষিত। আমার দুটো অস্ত্র নিয়ে নিয়েছে। যে কারণে আমি সেফে (নিরাপদ) ছিলাম। এখন আপনারা আমাকে সব সময় পাবেন। মিডিয়ার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো।’ এই ঘটনায় পর ৩ অক্টোবর তিনি তাঁর দুটি অস্ত্র (পিস্তল ও শর্ট গান) সুন্দরগঞ্জ থানায় জমা দেন।
সাংসদের পক্ষে সমাবেশ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, নাগরিক ঐক্যের নামে গতকাল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহরে সাংসদ মন্জুরুল ইসলামের পক্ষে মিছিল-সমাবেশ করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা তিন সহস্রাধিক নেতা-কর্মী এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আহম্মেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তারা সাংসদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং বলেন, সাংসদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।
সমাবেশে উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আতাউর রহমান বলেন, সাংসদ মন্জুরুল ইসলামের দ্বারা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে সাংদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে প্রশাসন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই।

কার কাছে কত পরমাণু বোমা

বর্তমানে বিশ্বের নয়টি দেশের কাছে ১৬,৩০০ আণবিক বোমা আছে৷ তবে এ সব বোমার সংখ্যা কমানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে৷ চলুন জেনে নেয়া যাক, কোন দেশের কাছে কতগুলো পারমাণবিক বোমা আছে৷
রাশিয়ার কাছে সবচেয়ে বেশি
স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইন্সটিটিউট সিপ্রি-র তথ্য অনুসারে রাশিয়ার কাছে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি পরমাণু বোমা রয়েছে৷ দেশটিতে এ ধরনের বোমার সংখ্যা সাড়ে সাত হাজারের বেশি৷ ১৯৪৯ সালে সেদেশ প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা করেছিল৷
দ্বিতীয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথম পরমাণু বোমা বানিয়েছে এবং একমাত্র দেশ যারা এটা যুদ্ধে ব্যবহারও করেছে৷ দেশটির এখন সাত হাজারের বেশি পরমাণু বোমা রয়েছে৷
সাবমেরিনে পরমাণু বোমা
ফ্রান্সের কাছে পরমাণু ওয়ারহেড আছে তিনশ’র মতো৷ এগুলোর অধিকাংশই রয়েছে সাবমেরিনে৷ দেশটির অন্তত একটি সাবমেরিন সবসময় পারমাণবিক বোমা নিয়ে টহল দেয়৷
চীনও পিছিয়ে নেই
আড়াইশ’র মতো পরমাণু বোমা আছে চীনের৷ রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় সংখ্যাটা কম হলেও দেশটি ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বাড়াচ্ছে৷ স্থল, আকাশ বা সমুদ্রপথে এসব বোমা ছোঁড়া সম্ভব৷
যুক্তরাজ্যেরও আছে পরমাণু বোমা
দুইশ’র বেশি পরমাণু বোমা রয়েছে যুক্তরাজ্যের কাছে৷ জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এই দেশটি ১৯৫২ সালে প্রথম পরমাণু পরীক্ষা চালায়৷
দক্ষিণ এশিয়ায় এগিয়ে পাকিস্তান
ইতোমধ্যে তিনবার প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে পাকিস্তান৷ দেশটির আছে শতাধিক পরমাণু বোমা৷ সাম্প্রতিক সময়ে পরমাণু বোমার সংখ্যা বাড়িয়েছে দেশটি৷ অনেকে আশঙ্কা করেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে দেশটির লড়াই কোন এক সময় পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে৷
থেমে নেই ভারত
ভারত প্রথম পরমাণু পরীক্ষা চালায় ১৯৭৪ সালে৷ দেশটির কাছে নব্বইটির বেশি পরমাণু বোমা রয়েছে৷ ভারত অবশ্য জানিয়েছে, তারা আগে কোনো দেশকে আঘাত করবে না, আর যেসব দেশের পরমাণু বোমা নেই, সেসব দেশের বিরুদ্ধে তারা এ ধরনের বোমা ব্যবহার করবে না কোনোদিন৷
ইসরাইল সম্পর্কে তথ্য কম
ইসরাইল অবশ্য নিজের দেশের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে তেমন কিছু জনসমক্ষে প্রকাশ করে না৷ দেশটির আশিটির মতো পরমাণু ‘ওয়ারহেড’ আছে বলে ধারণা করা হয়৷
উত্তর কোরিয়া সবার নিচে
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার কাছে দশটির কম পরমাণু বোমা রয়েছে৷ তবে দেশটির নিজেদের এ ধরনের বোমা তৈরির সক্ষমতা রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত নয়৷
সূত্র : ডয়েচে ভেলে।

নির্বাচনী প্রচার: কানাডীয় স্টাইল by সাজ্জাদ আলী

আমার টরন্টোর বাসায় কয়েক দিন আগে আম্মা ও আমি দুপুরের খাবার খাচ্ছি আর এটা-সেটা নিয়ে কথা বলছি। ডাইনিং রুমের বড়সড় কাচের জানালা দিয়ে বাড়ির সামনের চক্রাকার রাস্তার বেশ খানিকটাই দেখা যায়। ডেড-এন্ড হওয়ায় রাস্তাটি একেবারেই নিরিবিলি। খুব একটা গাড়ি চলাচল করে না। এ রাস্তায় যাদের বসবাস শুধু তাদেরই যাওয়া-আসা। এমন সময় একটা ভ্যানগাড়ি বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল।
আম্মা বললেন, কারওর কি তোর কাছে আসবার কথা?
ভ্যানটির দিকে তাকিয়েই না সূচক মাথা নাড়লাম।
গাড়ির সামনের দুপাশের দরজা খুলে একই সঙ্গে দুজন তাগড়া জোয়ান বের হলো। সাদা জন গাড়ির পেছনে গিয়ে ট্রাঙ্ক খুলছে আর কালোজন হাঁটতে হাঁটতে চার ধাপ সিঁড়ি ভেঙে সোজা আমাদের দরজায় নক করল। খাওয়া রেখে তার সঙ্গে মিনিট খানেকের মতো কথা বলে আবার ফিরে এলাম টেবিলে। আম্মা জানতে চাইলেন, কে এলো, কি চায়?
বললাম ওরা ভোটের লোক, আমাদের সামনের লনে ওদের প্রার্থীর একটা সাইন লাগানোর অনুমতি চাইছিল।
অনুমতি চাওয়ার বিষয়টা আম্মা বোধ হয় ঠিক বুঝে উঠতে পারেননি। তার বড় চোখ দুটো আরও বড় করে কয়েক মুহূর্ত আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, এই দেশে ভোটাভুটি হবে নাকি?
টেলিভিশন বিতর্ক
বললাম, গতকালই ইলেকশন কমিশন কানাডার জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। ১৯ অক্টোবর ভোট হবে।
আম্মা বললেন, এমপি ইলেকশন হবে, কিন্তু তোদের পাড়ায় তো কোনো মিটিং মিছিল দেখছি না! কোনো সাড়াশব্দ নাই, এ কেমন ইলেকশন?
বললাম, আম্মা, গতকাল থেকে সবগুলো টেলিভিশন চ্যানেলে এই ইলেকশনের কথাই বলছে। আপনি তো সারা দিন বাংলা চ্যানেল দেখেন, জানবেন কীভাবে?
আম্মা বললেন, মানে! ইলেকশনের খবর টেলিভিশনে জানতে হবে কেন? আম্মা খানিকটা রাগান্বিত। বললেন, তোদের পাড়ায় দলীয় পোলাপান নাই, তারা মিছিল-স্লোগান দেবে না?
আমার বাবা যত দিন বেঁচে ছিলেন, তত দিনই রাজনীতি করেছেন। আম্মা কৈশোরে বালিকাবধূ বেশে স্বামীর বাড়িতে এসে সেই রাজনীতির নেপথ্য হাল ধরেছিলেন। নির্বাচন তো তার অনেক চেনা ও আগ্রহের বিষয়ও বটে। কিন্তু একি দেখছেন? দেশে এমপি ইলেকশন অথচ পাড়ায় মিটিং-মিছিল নাই, বাড়িগুলোর দেয়ালে কোনো চিকা মারা হয় নাই, রাস্তার ওপর দিয়ে দড়ি টাঙ্গিয়ে কোনো পোস্টার সাঁটানো দেখা যাচ্ছে না, কোথাও কোনো তোরণ নির্মাণ করা নাই, এ কেমন ইলেকশন?
ততক্ষণে আমাদের লনের ঘাসে কাঠের দুটো চিকন খুঁটি গেড়ে লিবারেল পার্টির প্রার্থীর একটা প্লাস্টিক সিটের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে তারা অন্য বাড়িগুলোর দিকে চলে গেছে। আম্মা সাইনটির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে জানতে চাইলেন, ওটা লাগাতে ওরা তোর অনুমতি চাইল? আমি হ্যাঁ বলতেই আবার জিজ্ঞাসা করলেন, তুই অনুমতি না দিলে কি করত, লাগাত না?
বললাম আম্মা কী বলছেন, অনুমতি না পেলে লাগাবে কীভাবে? এটাতো আমাদের প্রোপার্টি।
বাংলাদেশে ইলেকশন করা মা আমার এবারে ক্ষেপে গেলেন। বললেন, আরে রাখ তোর প্রোপার্টি, ইলেকশন বলে কথা! ছেলেপেলে পোস্টার লাগাবে না? এর জন্য আবার অনুমতি চাওয়া-পাওয়ার কী আছে?
নির্বাচনী সভায় লিবারেল পার্টি প্রধান জাস্টিন ট্রুডো
নির্বাচনী প্রচার নিয়ে আমার মায়ের বোঝাপড়াটা ঠিক কানাডীয় আদলের সঙ্গে মিলল না। কানাডার জাতীয় সংসদ চার বছর মেয়াদি। মোটা দাগে বললে বলতে হয় যে, সাধারণ কানাডীয়রা রাজনীতি বা নির্বাচন নিয়ে তেমন উৎসাহী নয়। অতি উৎসাহী তো অবশ্যই না। এখানে প্রধান রাজনৈতিক দল তিনটি। ১) কনজারভেটিভ। দলটি বর্তমানে ক্ষমতায়। এদের আমেরিকা ঘেঁষা ও ধনিক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষাকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২) লিবারেল। ঐতিহ্যবাহী এই দলটি বহু বছর কানাডা শাসন করেছে। বলা হয়ে থাকে যে এরা ইমিগ্রান্ট বান্ধব দল। ৩) নিউ ডেমোক্র্যাট। এরা বামপন্থী হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলটির জনপ্রিয়তা যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইলেকশন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগে কোনো প্রার্থীই নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন না। প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া বিষয়ক অনুষ্ঠানাদিতে উপস্থিত হয়ে ভোটারদের সমর্থন চান। এলাকার বিভিন্ন সংগঠন, গ্রুপ ও কমিউনিটি সেন্টারগুলো নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে নির্বাচনী সভা আহ্বান করে। সব দলের প্রার্থীরা সেই সভায় একই মঞ্চে উপস্থিত হয়ে এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা ভোটারদের কাছে তুলে ধরেন। এসব নির্বাচনী সভা ওই নিরপেক্ষ আয়োজকদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। প্রার্থীদের সুনির্দিষ্ট বিষয়েই কথা বলতে হয়। কোনো কাদা ছোড়াছুড়ি সুযোগ নেই। দলীয় কর্মীরা কেউ ‘অমুক ভাইয়ে চরিত্র, ফুলের মতো পবিত্র’ বলে স্লোগান দেন না। কমিউনিটি ভিত্তিক এই সভাগুলোতে হাজার হাজার লোকের সমাগমও ঘটে না। শ খানেক লোক হলেই আয়োজকেরা খুশিতে বাকবাকুম। এ ধরনের ছোট্ট ছোট্ট সমাবেশকেই কানাডীয়রা নির্বাচনী জনসভা বলে বিবেচনা করে থাকে।
সরকারি বা বেসরকারি কোনো ভবন বা স্কুল কলেজগুলোর দেয়ালে কোনো প্রচার লেখন নেই। কানাডায় ছাত্র রাজনীতি বলে কোনো শব্দ কারও জানা নেই। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদের সংগঠন আছে, তবে সে সংগঠনগুলো কেবলমাত্র শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করে, রাজনীতি নয়। প্রার্থীরা তাদের ওয়েব পেজ, ফেসবুক, টুইটারে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো ভোটারদের কাছে বলেন। দলীয় কর্মীরা কখনো সখনো লিফলেট আকারে তাদের প্রার্থীদের ভোট প্রার্থনা ভোটারদের বাড়ির ডাকবাক্সে রেখে যান। কানাডায় অঞ্চলভিত্তিক রেডিও ও টেলিভিশন চ্যানেল আছে। এ সব আঞ্চলিক ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো সমতার ভিত্তিতে প্রার্থীদের প্রচারের জন্য সময় বরাদ্দ করে। স্থানীয়ভাবে ভোটাররা এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এলাকার প্রার্থীদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে অবহিত হন। ব্যক্তিগত পর্যায়ে ভোট চাওয়ার রীতি (ক্যানভাস) এ দেশে নেই বললেই চলে।
কানাডায় নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম মাধ্যম লন সাইন
রাজনৈতিক দলগুলো কেন্দ্রীয়ভাবেও প্রচার চালায়। দলীয় প্রধানেরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল সফর করে নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখেন। সংবাদপত্র ও টেলিভিশন প্রচারমাধ্যমগুলো এসব বক্তব্য ফলাও করে প্রচার করে। কখনো বা দলীয় প্রধান পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কোনো ব্যস্ত ট্রেন স্টেশন বা শপিংমলে উপস্থিত হয়ে জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন। জনমত জরিপ ও জরিপের ফলাফল কানাডীয় নির্বাচনে বিশেষ প্রভাব রাখে। সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা ভোটাররা কাকে ভোট দেবেন, এই জরিপগুলোর ফলাফল তাদের প্রভাবিত করে।
কানাডায় সরকারের কোনো প্রচারমাধ্যম নেই (রেডিও, টেলিভিশন বা সংবাদপত্র)। তার প্রয়োজনও পড়ে না। এখানে সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সবই স্বনিয়ন্ত্রিত ও স্বাধীন। অত্যন্ত প্রভাবশালী এই মিডিয়াগুলো নির্বাচনের পূর্বে জাতীয় পর্যায়ে একাধিক নির্বাচনী বিতর্কের আয়োজন করে। সঞ্চালকের কঠোর নিয়ন্ত্রণে দলীয় প্রধানেরা একই মঞ্চে উপস্থিত হয়ে পূর্ব নির্ধারিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির ওপরে দলীয় অবস্থান তুলে ধরেন। এখানে তারা একে অন্যের প্রশ্নের জবাব দেন বা বক্তব্য খণ্ডন করেন। দলীয় প্রধানদের নিয়ে আয়োজিত ও সরাসরি সম্প্রচারিত এই টেলিভিশন তর্ক অনুষ্ঠান কানাডার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তের ভোটাররা মনোযোগ দিয়ে দেখেন। ধারণা করা হয় এই টেলিভিশন বিতর্কগুলোতে দলীয় প্রধানদের পারফরমেন্সই নির্বাচনে দলের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
লেখক
এ লেখার শুরুতে বলছিলাম বাড়ির সামনের লনে সাইন পোস্ট করার জন্য দলীয় কর্মীদের অনুমতি চাইবার কথা। ভোটে জয় পরাজয় যাই হোক নির্বাচন শেষ হওয়ার বাহাত্তর ঘণ্টার মধ্যে সেই সাইন তাদের তুলেও নিতে হবে। ওই অনুমতি চাওয়া বা সাইনটি তুলে নেওয়া শুধু ভদ্রতা নয়, এ দেশের আইনও বটে। এ আইন না মানলে প্রার্থীর শাস্তি হবে আর ওই ভদ্রতাটুকু না দেখালে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ভোট-ভরাডুবি হবে। এমনটাই কানাডীয় ভোটারদের মানসিকতা। তো আমার আম্মা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ভোট শেষ হলে ওরা আমাদের লন থেকে সাইনটি তুলে নেয় কি না, সেটা দেখার জন্য!
(লেখক বাংলা টেলিভিশন কানাডার মুখ্য নির্বাহী)

চীনে ইউনূস সামাজিক ব্যবসা সপ্তাহ উদ্বোধন

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশী ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীনে উদ্বোধন করলেন ‘ইউনূস সামাজিক ব্যবসা সপ্তাহ, চীন’। সপ্তাহ ব্যাপী এই অনুষ্ঠান ৯ই অক্টোবর উদ্বোধন করা হয়। প্রফেসর ইউনূস বেইজিং থেকে কুনমিং, সাংহাই, শেনজেন ও হংকং সফর করবেন। প্রতিটি শহরেই তিনি সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা ও সিভিল সোসাইটির কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখবেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে তিনি সামাজিক ব্যবসা ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলা নিয়েও ভাষণ দেবেন। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ইউনূস সামাজিক ব্যবসা সপ্তাহ, চীন-এর উদ্বোধনী ভোজসভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অধ্যাপকগণ, বিভিন্ন বিনিয়োগ কোম্পানি থেকে ব্যবসায়ী নেতারা এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী ভোজসভার আয়োজন করেন মাল্টি-বিলিয়ন-ডলার কোম্পানি Koudai.com -এর প্রধান নির্বাহী বিশিষ্ট যুব উদ্যোক্তা ওয়াং কে। Koudai.com মোবাইল ফোন জগতে Alibaba-র পরই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোম্পানি। ওয়াং কে তার মোবাইল ফোন প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণকে ছড়িয়ে দিতে এবং গ্রামীণ চায়নার সঙ্গে সামাজিক ব্যবসা যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী। প্রফেসর ইউনূস তার বক্তব্যে বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে চীনে সামাজিক ব্যবসা কর্মকাণ্ডের উপর জোর দেন। গ্রামীণ চায়নার প্রধান নির্বাহী গাও ঝান সংক্ষেপে গ্রামীণ চায়নার উদ্দেশ্য ও আদর্শ সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। গ্রামীণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর এইচ আই লতিফী ১৯৯০ সাল থেকে চীনে গ্রামীণ ট্রাস্টের কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি গ্রামীণ চায়নার প্রতিষ্ঠাকে সাধুবাদ জানান এবং এই প্রতিষ্ঠানের সামাজিক ব্যবসা কর্মসূচিগুলো এগিয়ে নিতে গ্রামীণ চায়না টিমের নিরলস উদ্যোগের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের চীনের সামাজিক ব্যবসা আন্দোলনে যোগদান করতে এবং এই আন্দোলনকে চীনে ও চীনের বাইরেও সম্প্রসারিত করতে আহ্বান জানান। সপ্তাহ ব্যাপী এই অনুষ্ঠানের মূল বিষয় বেকারত্ব মোকাবিলা, যাতে মানুষ বিশেষ করে যুব সমাজ চাকরির পেছনে না ছুটে বরং নিজেরাই চাকরি সৃষ্টি করে।

‘গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে’ by সিরাজুস সালেকিন

স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন দলীয় প্রতীকে করার সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিশেজ্ঞরা। তারা মনে করছেন, এ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হলে সহিংসতা, কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব বাড়তে পারে। দলীয় প্রতীক ব্যবহার করায় একই প্রতীক বারবার নির্বাচিত হওয়ার প্রবণতা বাড়বে। ফলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রশাসক নিয়োগের ফলে উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করেছেন তারা। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে নতুন কিছু হবে না। এটা অনানুষ্ঠানিক ছিল, এখন আনুষ্ঠানিক হয়েছে। আমাদের এখানে প্রশ্ন হলো, এভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা। আগেও হয়নি। এখানে দলীয়ভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে মারামারি হবে। দলের ভেতরে কোন্দল হবে। মনোনয়ন-বাণিজ্য হবে। এগুলো ঠেকিয়ে যদি নির্বাচন করতে পারে তবে ভাল হবে। দলীয়ভাবে তবে নির্বাচন হতে অসুবিধা নেই। ছোট দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছোট দল, বড় দল সবার অংশগ্রহণ করানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমানে যেসব দল নিবন্ধিত শুধু তারাই যেন নির্বাচন না করে। ছোট দলগুলোর নাম নিবন্ধন করে তাদের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক সংবিধান তৈরি করাতে হবে। আর যারা আরপিও অনুযায়ী আছেন তারা তো থাকবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আলাদা একটা ক্যাটাগরি না করলে ছোট দলগুলো অংশ নিতে পারবে না। ইলেকশন কমিশন যদি এগুলো আইন করতে পারে তবে ভাল হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা তো গণতান্ত্রিক বিষয় নয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে। এখন মন্ত্রিসভা, সংসদ এই আইন নিয়ে কী বলে সেটা দেখার বিষয়। তারা আদৌ নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ নিয়েছে কিনা- এটাও দেখার বিষয়।
দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে তা সুফল বয়ে আনবে না বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। এ প্রসঙ্গে বলেন, এভাবে নির্বাচন করলে পরিস্থিতির ভয়াবহ হবে। একই প্রতীক বারবার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে। অতীতেও এটা আমরা দেখেছি জাতীয় নির্বাচনে। এর ফলে মনোনয়ন-বাণিজ্য, টাকার খেলা, পেশিশক্তির ব্যবহার বাড়বে। এতে গণতন্ত্র দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ড. মজুমদার আরও বলেন, দলীয়ভাবে নির্বাচন করার যুক্তি হিসেবে যুক্তি হিসেবে দলের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা বলা হলেও তা হবে না। আমাদের দেশে এমনিতেই দলীয় কোন শৃঙ্খলা নেই। আমরা দেখেছি, দলের কেউ অপকর্ম করলে তার শাস্তি হয় না। কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। দলীয় প্রধানদের বিষয়ে কেউ কোন কথা বলতে পারে না। প্রতিবাদ করতে পারে না। ধর্ম নিয়ে বা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কথা বললে কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। দলীয়ভাবে নির্বাচন হলে এটা হবে রাজনৈতিক নির্বাচন। সাধারণত নির্দলীয়ভাবে হলে অরাজনৈতিক। কিন্তু এটা সঠিক নয়। আমাদের দেশে সব ক্ষেত্রে নির্বাচন রাজনৈতিক হয়। মেয়াদ শেষে প্রশাসক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা প্রশাসকের হাতে যাবে, প্রশাসকের অভিজ্ঞতাও আমরা দেখেছি। আমরা গণতন্ত্রের কথা বলি। কিন্তু ক্ষমতা প্রশাসকের হাতে দিতে চাই। জাতীয়ভাবে তো সরকারের মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা প্রশাসকের হাতে যায় না। এক দেশে দুই আইন, এটা চলতে পারে না।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকারের স্পিরিটের সঙ্গে অবশ্যই সংগতিপূর্ণ। সংবিধান বা আইনে কোন বিধান নাই যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে হতে পারবে না। কিন্তু পুরো বিষয়টি আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সরকারের মনোভাবের ওপর নির্ভর করছে যে, এখান থেকে জনগণ কতটুকু সুফল পাবে। তিনি আরও বলেন, এ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হলে ফলাফলে বড় কোন পার্থক্য হবে না। দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন কারণে আমাদের নির্বাচনব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ। নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় থাকে না, সহিংসতা হয়। দলীয়ভাবে নির্বাচন হলে এসব সংস্কৃতিতে পরিবর্তন হবে না। রাজনীতিতে গুণগত কোন পরিবর্তন আসবে না। এজন্য রাজনীতিতে পরিশুদ্ধি দরকার। নির্বাচনে সরকার নিরপেক্ষ থাকবে কিনা। আইনের শাসন থাকবে কিনা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে কিনা। এবার প্রথমবার হচ্ছে, তাই এসব দেখার বিষয়। এ প্রক্রিয়ার ইতিবাচক দিক সম্পর্কে তিনি বলেন, দুই দল তাদের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে। আমাদের স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক দলগুলোতে ঐক্য নেই। অনেক এলাকায় দলগুলোর কমিটি নেই। তাই রাজনৈতিক দলগুলো সুযোগ পাবে তাদের দল গোছানোর। মেয়াদ শেষে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেয়াদ শেষ হলে প্রাকৃতিক কারণ ছাড়া নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ার কোন কারণ থাকতে পারে না। মেয়াদ শেষ হলে প্রশাসকরা ক্ষমতা নিয়ে তা ছাড়তে চান না। বর্তমানে জেলা পরিষদগুলো প্রশাসকদের হাতে রয়েছে। অন্যদিকে আমরা দেখেছি, ঢাকার দুই সিটি প্রশাসকরা ১৮০ দিনের কথা বলে দীর্ঘদিন চালিয়েছেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআইবি) নির্বাহী ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বিষয়টা বেশ আলোচনা হয়েছে। এটা অরাজনৈতিক হওয়ার পেছনে বেশ কিছু যুক্তি ছিল। স্থানীয় উন্নয়নকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা এর মধ্যে অন্যতম। কিন্তু এ প্রত্যাশা রক্ষা হয়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সব সময় দলীয়ভাবে হয়েছে। একটা অসত্যকে সত্য বলতে বলতে সেটা সত্য হয়েছে। এ রকম হলে দৃষ্টান্ত ভাল হবে না। অন্য আইনের ক্ষেত্রে যেন এমনটা না হয়। ভবিষ্যতে এ রকম আইন না মানার অভ্যেস থেকে আইন পরিবর্তনের ধারা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এ প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের ইতিবাচক দিক সম্পর্কে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে নির্দলীয় ও দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়। দুই রকম অভিজ্ঞতাই রয়েছে। দুটোরই ভালমন্দ দিক রয়েছে। এটাকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করতে হবে। মূল সুফল হচ্ছে এখান থেকে জাতীয়ভাবে সরকার পরিচালনার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের প্রশিক্ষণ হতে পারে। আমাদের দেশে একসময় ছাত্র রাজনীতি ছিল প্রশিক্ষণের মাধ্যম। কিন্তু এখন ছাত্রসংসদ নির্বাচন না হওয়ায় তা বন্ধ হয়ে গেছে। নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা এখান থেকে জাতীয় রাজনীতিতে উঠে আসতে পারবেন।
মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয় সে বিষয়ে তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসকের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এমনভাবে পরিকল্পনা করা যেন মেয়াদ শেষের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
বিরোধী জোটকে দূরে রাখতেই দলীয় প্রতীকে নির্বাচন: বিএনপি
বিরোধী জোটকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই ৫ই জানুয়ারির মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও দলীয় প্রতীকে করতে সরকার মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিরোধী জোটের জাতীয় নির্বাচনের দাবি পাশ কাটাতে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সরকারের মহাদূরভিসন্ধি কাজ করছে। সরকারকে এই আইনটি পাস করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে দলটি। একইসঙ্গে বিরোধী জোটের তরফে দেশে অবরোধ কর্মসূচি বহাল নেই বলে জানিয়েছে দলটি। গতকাল বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামীতে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে করার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ায় আমরা বিস্মিত হয়েছি। কারণ ক’দিন আগে সরকারের এমন ভাবনার প্রতিবাদে দাবি জানিয়েছিলাম- বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় যেন সংশ্লিষ্ট সকল মহলের মতামত যাচাই করা হয়। কিন্তু সরকার আমাদের সে দাবিকে পাশ কাটিয়ে একগুঁয়েমি মনোভাব দেখিয়েছে। এ সংক্রান্ত পাঁচটি আইনের সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করে তড়িঘড়ি করে অনুমোদন করেছে। বিএনপির মুখপাত্র বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করা প্রসঙ্গে এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমান অর্ধেক নারী জনপ্রতিনিধি দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচনের বিরোধিতা করেছেন। আমরাও মনে করি, এর ফলে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ হ্রাস পাবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্র-সমাজ ব্যবস্থা-এতটাই রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত এবং নির্বাচন ব্যবস্থা এতটা ত্রুটিপূর্ণ যেখানে দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে রাষ্ট্র-সমাজ আরও বেশি বিভাজিত হয়ে পড়বে। এছাড়া, বর্তমান নতজানু ও সরকারের আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশন নির্বাচনে ভোটারদের অবাধে ভোট দেয়ার অধিকার রক্ষা করতে সমর্থ নন। দলবাজ প্রশাসন সরকারের আজ্ঞাবাহী হিসেবে সরকারের নীল-নকশার বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে অক্ষম। এ পরিস্থিতিতে দলীয় প্রতীকে ভবিষ্যতে যারা নির্বাচিত হবেন- তাদের কাছ থেকে ভিন্ন মতাবলম্বীরা সহযোগিতা পাবেন না এবং বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হবেন ব্যাপকভাবে। আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, সম্পত্তির ওয়ারিশ নির্ধারণ, নাগরিক সনদ ও চারিত্রিক প্রত্যয়নপত্রসহ দৈনন্দিন সাধারণ নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তিতে নাগরিকদের দলীয় পরিচয়ের কারণে ভোগান্তিরও এতে আশঙ্কা থাকবে। বিএনপির মুখপাত্র বলেন, উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোর অনেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকেই করে থাকেন। কিন্তু সেসব দেশে আমাদের দেশের মতো রাজনীতির অপচর্চা হয় না। সেখানে নিরপেক্ষ প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করেন। বাংলাদেশে এই চিত্র বিপরীত। সরকারের সমালোচনা রিপন বলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচনের পর সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দ্রুত একটি জাতীয় নির্বাচনের জোরালো দাবি সব মহল। কিন্তু ওই দাবিকে পাশ কাটিয়ে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজনের পেছনে সরকারের এক মহাদুরভিসন্ধি কাজ করছে। সরকারের মেকি কৌশল জাতিকে আরও বিভাজিত করবে। তিনি বলেন, সরকারের দমন-নিপীড়নের কৌশলে বিরোধী জোটের হাজার হাজার কর্মী ঘরছাড়া, কারারুদ্ধ এবং সরকার বিরোধী রাজনীতিকে ন্যূনতম ডেমোক্রেটিক  স্পেস দেয় না। এমন এক প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের পক্ষে সমান সুযোগ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া দুরূহ হয়ে উঠবে। সরকার সেই সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়ে রাজনীতির এক অসমান্তরাল ময়দানে ফাঁকা মাঠে গোল করতে হীন প্রচেষ্টায় এগুচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে সরকার প্রমাণ করতে চেষ্টা করবে- জাতীয় নির্বাচন বিরোধী দলগুলো বর্জন করলেও সকল পর্যায়ের স্থানীয় নির্বাচনে তাদের প্রতি তথাকথিত সমর্থন রয়েছে। এটা একটি অসৎ পরিকল্পনা ছাড়া অন্য কোন কিছুই নয়। এ সংক্রান্ত নির্বাচনী আইন অধ্যাদেশ আকারে জারি থেকে সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান জানান রিপন।  তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত যে পাঁচটি আইন অনুমোদন করা হয়েছে- তাও সাংঘর্ষিক। কেননা জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে বা শপথ নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা পদে বহাল থাকতে পারলেও মেয়াদোত্তীর্ণ হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। এতে স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকার ধারাবাহিকতাও ক্ষুণ্ন হবে। এই অধ্যাদেশ জারি হওয়ার পর, যেসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন উপযোগী হয়নি সেসব প্রতিষ্ঠানে পূর্বে নির্বাচিত মেয়র, চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর ও মেম্বারগণের পদে থাকার বৈধতারও প্রশ্ন উঠবে। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদিত প্রস্তাব মোটেই বাস্তবসম্মত নয়, সাংঘর্ষিক ও বাংলাদেশের জনগণের সামাজিক সম্প্রীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রিপন বলেন, আমরা আইনটি পাস করা থেকে সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছি। ওই সময় পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করবো। তারপর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। জানুয়ারিতে ঘোষিত বিরোধী জোটের অবরোধ প্রত্যাহার না করায় যুক্তরাজ্যের শঙ্কার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএপির মুখপাত্র বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে একটা ভুল বোঝাবুঝি রয়ে গেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগেও বলেছেন- বিরোধী জোটের তরফে কোন কর্মসূচি নেই। আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি। আমিও একই কথা বলছি- বিএনপির তরফে এখন দেশে হরতাল-অবরোধ-ধর্মঘট এ জাতীয় কোন কর্মসূচি নেই। সংবাদ সম্মেলনে যুববিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

হুমকি এক, প্রতিক্রিয়া ভিন্ন by কামাল আহমেদ

ব্রিটেনের সামরিক গোয়েন্দা দপ্তর, যা এমআই ফাইভ নামে পরিচিত, তার ওয়েবসাইটে গেলে যে কেউই দেখতে পাবেন যে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে রেখেছে যে তাদের দেশে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি হচ্ছে ‘তীব্র’। ইংরেজিতে তারা যে শব্দটি ব্যবহার করেছে, সেটি হচ্ছে সিভিয়ার। কিন্তু বিশ্বের অন্য কোনো দেশের কোনো নাগরিক সে দেশ থেকে চলে আসছেন অথবা পরিকল্পিত সফর বাতিল করছেন, এমন কোনো খবর আমরা শুনিনি। আমাদের পরিচিতজনেরা দিব্যি সেখানে যাচ্ছেন এবং লন্ডন, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, এডিনবরা অথবা কার্ডিফের মতো শহরগুলোতে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছেন। কোনো দেশের সরকার ব্রিটেনের অন্যতম প্রধান উপার্জনের খাত ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে তাদের ছাত্রছাত্রীদের ফিরে যাওয়ার নির্দেশও দেয়নি। নিরাপত্তার বিষয়গুলো যাঁদের দেখভাল করার কথা, তাঁরাই সে কাজটি করছেন এবং এ বিষয়ে রাজনীতিকদের কোনো বিতণ্ডা নেই। অথচ সেই ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশে অবস্থানরত বা সফরকারী ব্রিটিশ নাগরিকদের উদ্দেশে যে ভ্রমণ-সতর্কতা জারি করেছে, তা নিয়ে আমাদের দেশে চলছে নজিরবিহীন তোলপাড়—যার অনেকটাই মূলত রাজনৈতিক। এর শুরুটা অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর বাতিলের সময় থেকে।
ব্রিটিশ সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে তাদের নাগরিকদের জন্য সব দেশে ভ্রমণের ব্যাপারেই নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই পরামর্শের পাতায় অস্ট্রেলিয়া সফরের বিষয়েও পরামর্শ আছে এবং সেটা প্রায় বাংলাদেশের মতোই। সেখানে বলা হয়েছে, ‘সন্ত্রাসবাদের হুমকি অনেক বেশি। অস্ট্রেলিয়ার সরকার তার সন্ত্রাসবিষয়ক সরকারি সতর্কতা ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে “উঁচু” বলে চিহ্নিত করেছে। হামলাগুলো হতে পারে এলোপাতাড়ি বা নির্বিচার। যেসব জায়গায় বিদেশিরা যান, সেসব জায়গাও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।’
আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সম্প্রতি যে ভ্রমণ-সতর্কতা ব্রিটেন প্রকাশ করেছে, ৯ অক্টোবর তাতে বলা হয়েছে, ‘সন্ত্রাসবাদের হুমকি অনেক বেশি। আইএসআইএল (ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড লিভেন্ট, যার সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে আইএস) সম্প্রতি দুজন বিদেশিকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। পশ্চিমাদের ওপর আরও হামলা হতে পারে, সেসব হামলা নির্বিচারেও হতে পারে।’ অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য ভ্রমণ-সতর্কতায় সন্ত্রাসবাদের হুমকির মাত্রা যে খুব আলাদা, তা কিন্তু নয়। তফাতটা শুধু একটি বাড়তি তথ্যে, যেখানে বাংলাদেশে দুজন বিদেশি নাগরিক হত্যায় আইএসের দায় স্বীকারের কথা বলা হয়েছে। অথচ প্রতিক্রিয়ায় যে ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা আমাদের দেশে দেখা যাচ্ছে, তাতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হওয়া ছাড়া অন্য কোনো অগ্রগতির কথা কেউ বলতে পারছেন না।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে গত দেড় দশকে ব্রিটেনে অনেকবার বড় ও মাঝারি ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়েছে। ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একবার হিথ্রো বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সাঁজোয়া যানসহ সেনা মোতায়েন পর্যন্ত হয়েছিল। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে বিমানযোগে যাতায়াতের জন্য যেসব নিরাপত্তা তল্লাশির ব্যবস্থা এখন পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে চালু হয়েছে, সেগুলোর প্রায় সবই প্রথম শুরু হয় ব্রিটেনে। এমনকি গত বছরেই আটলান্টিকের দুই পারের মধ্যে চলাচলকারী বিমানগুলোতে হামলা হতে পারে, এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নতুন করে সব যাত্রীর শারীরিক তল্লাশি বাধ্যতামূলক করা হয়। এসব সতর্কতা জারির কারণে প্রথম প্রথম বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা কিছুটা কমলেও পরে তা আবার ঠিক হয়ে যায়। উপরন্তু, লন্ডেন অলিম্পিকের বছর থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
বাংলাদেশে দুই বিদেশির সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের পর ইসলামি জঙ্গিদের নতুন বৈশ্বিক আপদ, আইএসের দায় স্বীকারকে কেন্দ্র করে যে নতুন বিপত্তি ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে, সেটাও আমাদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। তবে আইএসে যোগ দেওয়ার সংখ্যাগত দিক থেকে ব্রিটেন সম্ভবত ইউরোপে অন্যদের চেয়ে অনেক ওপরে। আইএসে যোগ দেওয়া ঠেকাতে ব্রিটেন যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তার মধ্যে এমন ব্যবস্থাও আছে যে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে কারও আচরণে ইসলামি মৌলবাদী হওয়ার কোনো আলামত দেখা যায় কি না, তার ওপর নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পৌর (স্থানীয় সরকার) কর্তৃপক্ষগুলোকে। স্কুলের শিক্ষক, সহপাঠী কিংবা অভিভাবক যদি নিজের সন্তান অথবা অন্য কারও মধ্যে এমন কোনো আলামত দেখেন, তাহলে তা পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো এখন বাধ্যতামূলক। এরপর বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ওই সন্দেহভাজনের সঙ্গে কথা বলে তাকে মৌলবাদের পথ থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেন। বেড়ে যায় তার ওপর নজরদারি এবং প্রয়োজনে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পাসপোর্ট জব্দ করার মতো ব্যবস্থাও আছে, যাতে সে দেশ ত্যাগ করতে না পারে। ৮ অক্টোবর বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে যে দৈনিক গড়ে আটজন করে তরুণকে এই কর্মসূচিতে পাঠানো হচ্ছে। কর্মসূচিটি চ্যানেল নামে পরিচিত। পুলিশের দেওয়া তথ্য উল্লেখ করে তারা জানিয়েছে, গত তিন মাসে ৭৯৬ জনকে এই কর্মসূচিতে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেরই বয়স আঠারোর কম। তাদের এই কর্মসূচির সাফল্য নিয়েও অবশ্য অনেক প্রশ্ন উঠছে এবং অভিযোগ উঠছে অযথা হয়রানি ও বৈষম্যমূলক আচরণের।
ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা পাশ্চাত্যের কোনো দেশই সন্ত্রাসবাদের হুমকি থেকে মুক্ত, এমনটা দাবি করতে পারবে না। এমনকি সন্ত্রাসবাদে যুক্ত জঙ্গিদের অনেকে যে ওই সব দেশ থেকেই অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ছে, সে কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই। ২ অক্টোবর ইংল্যান্ডের ব্ল্যাকবার্নের ১৪ বছর বয়সী এক ছেলেকে সে দেশের আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। কারণ সে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের অ্যানজ্যাক দিবস উদ্যাপনের অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করেছিল (অ্যানজাক ডে টেরর প্লট: ব্রিটিশ টিনএজার গিভেন লাইফ সেনটেন্স, দ্য গার্ডিয়ান, ২ অক্টোবর, ২০১৫)। ওই ছেলেটিকে ব্রিটেনের কনিষ্ঠতম জিহাদি অভিহিত করে বলা হচ্ছে, বিদেশের মাটিতে এ ধরনের হামলা চালানোর এই অভিনব চেষ্টায় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হতবাক। বাংলাদেশেও একাধিক সন্ত্রাসী পরিকল্পনার অভিযোগে একাধিক ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার ও তাদের আটক থাকার কথাও আমরা জানি।
এসব তথ্যের পটভূমিতে কেউ কেউ বলতে পারেন যে সন্ত্রাস রপ্তানির জন্য পশ্চিমারা বিশেষত ব্রিটিশরা অনেকাংশেই দায়ী, আবার তারাই আমাদের দেশে সন্ত্রাসী হুমকির অজুহাতে ভীতি ও অস্থিরতা তৈরি করছে। কিন্তু এ ধরনের সরলীকরণ সমস্যাটির কোনো সমাধান দেবে না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর দেশের সন্ত্রাসীদের সামাল দেওয়ার কথা আমরা বলতেই পারি। কিন্তু আমাদের দেশের জঙ্গিদের মোকাবিলার প্রশ্নটিকে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়ে রূপান্তরিত করা কতটা যৌক্তিক? যে দুই বিদেশির হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিদেশিদের এত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, সেই ঘৃণ্য অপরাধের সুরাহা তাৎক্ষণিকভাবে হয়ে যাবে, এমনটি কেউই আশা করেন না। কিন্তু তদন্ত চলার সময়ে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য, আলামত ও অন্য আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর বিচার-বিশ্লেষণের আগেই যদি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায়ী করা হয়, তাহলে বিদেশিরা আশ্বস্ত হবেন কীভাবে? রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঘায়েল করার জন্য নানা ধরনের অপরাধের তদন্ত ও বিচারকাজকে প্রভাবিত করা অথবা বিভ্রান্ত করার নজির কি এ দেশে কম? নাকি সেগুলোর কথা বিদেশি বন্ধুরা জানেন না?
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসবাদের হুমকি একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। আর সে কারণেই তা মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় গোপন এবং প্রকাশ্য নানা ধরনের সহযোগিতা চুক্তি আছে। এসব দেশের একসঙ্গে কাজ করার অসংখ্য নজিরও আছে। বাংলাদেশের নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা ঢাকার রাস্তা থেকে উঠিয়ে নিয়ে বিশেষ বিমানে করে নিউইয়র্কে নিয়ে বিচারও করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁদের নিরাপত্তাগত সহযোগিতা না থাকলে এমনটি সম্ভব ছিল না। একইভাবে বাংলাদেশে একজন ব্রিটিশ সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার হওয়ার পর লন্ডনে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের গোয়েন্দারা তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন, সে খবরও আমরা ব্রিটিশ পত্রপত্রিকার কল্যাণে জেনেছি।
শত্রুতা না থাকলে বিভিন্ন দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়টি যেমন স্বাভাবিক, ঠিক তেমনি নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলায় সহযোগিতার উদ্যোগও প্রত্যাশিত বিষয়। এ ক্ষেত্রে কোনো দেশ যদি সহযোগিতা না করে অথবা কোনো দেশের সহযোগিতার প্রস্তাব যদি সরকার ফিরিয়ে দেয়, তাহলে সেটি হবে একটি গুরুতর ব্যতিক্রম। সে কারণেই আইএসের দাবির বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে তদন্তে সম্পৃক্ত হতে চাওয়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। যদিও জঙ্গি হামলার গোয়েন্দা তথ্য আগাম জানানো হয়েছিল কি হয়নি, সে বিষয়ে প্রকাশ্য বিতর্কে খুব একটা ভালো ইঙ্গিত মেলে না। তবে রাজনীতিকদের প্রকাশ্য খেদ, হতাশা অথবা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সম্পর্ককে প্রভাবিত না করলেই ভালো।
কামাল আহমেদ: প্রথম আলোর পরামর্শক সম্পাদক।

৪০ বছর পর দুই বোনের মিলন

মদ্যপ বাবার হাত থেকে বাঁচাতে এক মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন মা। তবে বাবার কাছে রেখে গিয়েছিলেন বড় মেয়েকে। সেটা ছিল সত্তরের দশকের প্রথম দিক। সেই শেষ দেখা দুই বোনের। এর পর দু’জনের জীবন বয়ে গিয়েছে আলাদা আলাদা খাতে। ভাগ্যের ফেরে দক্ষিণ কোরিয়ার অনাথ আশ্রম থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পড়েছিলেন দুই বোনই। তবে ভাগ্য যে আবার মেলাতে চলেছে তা স্বপ্নেও ভাবেননি দুই বোনের কেউই। চার দশক পর অবিশ্বাস্য ভাবে ফ্লোরিডার হাসপাতাল ফের মিলিয়ে দিল তাদের।
ছোট মেয়ে ইউন-সুককে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন মা। বড় মেয়ে পক-নাম শিন রয়ে গিয়েছিল বাবার সঙ্গে। তার বয়স তখন দুই। এর তিন বছর পর বাবা হঠাত্ মারা যান। বছর পাঁচেকের পকের ঠাঁই হয় দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিওল থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে পুসান শহরের এক অনাথ আশ্রমে। ১৯৭৮ সালে এক মার্কিন দম্পতি দত্তক নেয় তাকে। পকের নতুন নাম হয় হোলি ও’ব্রায়েন। নতুন বাবা মায়ের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় শুরু হয় তার নতুন জীবন।
অন্য দিকে ইউনেরও রয়েছে ছোটবেলায় অনাথ আশ্রমে থাকার স্মৃতি। তবে জন্মদাতা মায়ের কথা প্রায় কিছুই মনে করতে পারেননি তিনি। ১৯৭৬ সালে তাকে দত্তক নেন এক মার্কিন দম্পতি। নিউ ইয়র্ক শহরে শুরু হয় তার নতুন জীবন। নাম হয় মেগান হিউ। মাত্র ৩০০ মাইলের ব্যবধানে বড় হয়ে উঠতে থাকে রক্তের সম্পর্কের দুই বোন। সময়ের নিয়মেই শৈশব থেকে কৈশোর পেরিয়ে দুই বোনই আজ চল্লিশের কোঠায়।
তবে সমাপতন যেন ঘটারই ছিল। চলতি বছরের গোড়ার দিকে ফ্লোরিডার সারাসোতা হাসপাতালের চার তলায় নার্সিং অ্যাসিসট্যান্টের চাকরি পান ও’ব্রায়েন। তিন বছর পর চাকরি সূত্রেই ওই হাসপাতালেরই সেই চার তলাতেই হিউকেও টেনে আনে ভাগ্য। প্রতিদিন আট ঘণ্টা একসঙ্গে ওঠাবসা করতে করতে গড়ে ওঠে গভীর বন্ধুত্ব। দুজনের অতীতেই রয়েছে অনাথ আশ্রমে বেড়ে ওঠার স্মৃতি, মার্কিন পরিবারের দত্তক সন্তান হওয়ার গল্প। কোথাও যেন হিউয়ের মধ্যে নিজেরই ছায়া দেখতে পেতেন ও’ব্রায়েন। তার উত্সাহেই অর্ডার দিয়ে কানাডা থেকে ডিএনএ কিট আনানো হয়। দুই বোনের লালা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়। রিপোর্ট দেখে আনন্দে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি দুই বোন।
“বিশ্বাস করতে পারছি না, এটা যেন হতে পারে না। উত্তেজনায় কাঁপছিলাম আমি,” কথাগুলো বলতে বলতে গলা ধরে আসছিল ও’ব্রায়েনের। হিউয়ের চোখও তখন ঝাপসা। জানালেন, “যখন সত্যিটা শুনলাম আমি থমকে গিয়েছিলাম। ভাবতে পারছি না। আমার এক বোন আছে।’’
ছোটবেলায় আলাদা হয়ে যাওয়া দুই সহোদরা আজ আবার মুখোমুখি। মাঝে চার দশক ও কিছু আবছা স্মৃতি।

মেডিকেলে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষের পথে, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের সুরাহা হয়নি by শেখ সাবিহা আলম

মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ‘ফাঁসের’
প্রতিবাদে এবং পুনরায় ভর্তি পরীক্ষার দাবিতে কেন্দ্রীয়
শহীদ মিনার এলাকায় বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ, পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন, র‌্যাবের অভিযান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের এক কর্মকর্তার মৃত্যু, দুই দফায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দোষ দাবি—এরই মধ্য দিয়ে দেশের ২৯টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি প্রায় শেষ। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ক্লাস।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ক খালেদ সাইফুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরীক্ষার দিন থেকে আমরা প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলন শুরু করেছি। সরকার একবারের জন্যও আমাদের অভিযোগটা শুনল না।’ এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, ‘আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসার প্রশ্নই আসে না। আমি কখনোই তাদের সঙ্গে বসব না।’
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের সুষ্ঠু সুরাহা না হওয়ায় মেডিকেলে ভর্তি হওয়া অনেক শিক্ষার্থী বিপাকে পড়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের একজন অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে কি হয়নি, সে প্রসঙ্গ আলাদা। ঢাকা মেডিকেল কলেজে একজন ওঝার ছেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। ভর্তির সুযোগ পেয়েছে নটর ডেম কলেজের প্রথম হওয়া ছাত্রও। তার বাবা ভর্তির সময় রেজাল্ট কার্ডসহ এসেছিলেন। দুঃখ করে বলছিলেন, লজ্জায় ছেলের খবর কাউকে দিতে পারছেন না।’
বিতর্ক যে কারণে: আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষার তারিখ ২ অক্টোবর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বরে নিয়ে আসা, পরীক্ষার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে তিনটি তদন্ত চলার সময় ফল ঘোষণা প্রমাণ করে, পুরো প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ছিল।
যে চিকিৎসকেরা মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের কারও কারও এবার অন্যরকম অভিজ্ঞতা হয়েছে। একজন চিকিৎসক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি কলা ভবনে পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্বে ছিলাম। কয়েকজন শিক্ষার্থী ১৫ মিনিট পরই খাতা দিয়ে বেরিয়ে যায়। আমি তাদের খাতাগুলো চেক করে দেখি তারা ১০০টি প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছে।’ একই তথ্য দিয়েছেন তেজগাঁও বিজ্ঞান কলেজে পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা আরেক চিকিৎসক।
অভিযোগ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের অবস্থান: গত ১৮ সেপ্টেম্বর এমবিবিএস-বিডিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষার পরদিন থেকে একযোগে দেশের ১০টি জেলায় শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নমুনা প্রশ্ন হাতে নিয়ে আন্দোলনে নামেন। ৪ অক্টোবর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বলেন, তিনি নিশ্চিত প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। ওই সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, প্রশ্ন যেখানে ছাপা হয়, সেটি সাতটি তালা দিয়ে বন্ধ করা হয়, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সত্য নয়।
ওই মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকেরাও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের সহযোগিতা নেওয়ার প্রস্তাব করেন। মন্ত্রী এই প্রস্তাবকে ‘গুড অ্যাডভাইস’ বললেও গতকাল সোমবার পর্যন্ত এ ব্যাপারে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
গত ৮ অক্টোবর এক বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দেশের ২৯টি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, হাসপাতালের পরিচালক, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে নির্দেশ দেন। ভর্তি প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর কোনো প্রচেষ্টা ‘বরদাশত’ করা হবে না বলে জানান। এ ছাড়া মেডিকেল কলেজের কোনো শিক্ষার্থী যেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে আন্দোলনে না নামেন, সে ব্যাপারে হুঁশিয়ার করেন কলেজ কর্তৃপক্ষকে।
ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী, পুরান ঢাকার সাংসদ হাজি মো. সেলিম, চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও সরকার-সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিএমএকে মন্ত্রণালয়ের পাশে দাঁড়াতে বলা হয়। তবে এ বিষয়ে বিএমএর মহাসচিব এম ইকবাল আর্সলানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যা বলছে অধিদপ্তর: অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দীন মো. নুরুল হক বলেছেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কোনো কাজের সঙ্গে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা পরিচালক-শিক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই। এর আগে অধিদপ্তরে পরিচালক-শিক্ষার দায়িত্ব পালন করেছেন এমন একজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার কাজ করে ভর্তি কমিটি এবং প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, বাছাই ও মুদ্রণ কমিটি। ভর্তি কমিটিতে শুধু অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা থাকেন। ওই কমিটি পরীক্ষার আবেদনপত্র গ্রহণ, যাচাই-বাছাই, প্রবেশপত্র দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র প্রণয়ন কমিটিকেও দাপ্তরিক সাহায্য করেন অধিদপ্তরের শিক্ষা বিভাগের পরিচালক। তবে সদ্য অবসর প্রস্তুতি ছুটিতে যাওয়া, শিক্ষা বিভাগের সাবেক পরিচালক এ বি এম আবদুল হান্নান বলেছেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থকে পরীক্ষার জন্য প্রশ্নপত্র মেডিকেল কলেজগুলোকে বুঝিয়ে দেওয়া পর্যন্ত সব দায়িত্ব পালন করেছে চার শিক্ষকের একটি কমিটি। তিনি কোনোভাবেই এ কাজে যুক্ত ছিলেন না।
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ যথাযথভাবে খতিয়ে না দেখার অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বক্তব্য ছিল, রংপুর, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রামে প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাপারে অভিযোগ উত্থাপিত হলেও ‘ওই চার কেন্দ্র থেকে ‘উল্লেখযোগ্য’সংখ্যক শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজের জন্য নির্বাচিত হননি। তাই প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নিতান্তই গুজব ও ভিত্তিহীন।
র‌্যাব যা বলছে এখন: মেডিকেলের প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গত ১৫ ও ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় দুটি ও ২২ সেপ্টেম্বর রংপুরে একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কর্মকর্তা ওমর সিরাজসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১ অক্টোবর ওমর সিরাজ র‌্যাব হেফাজতে মারা যান। গত রোববার (১১ অক্টোবর) র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই চক্রটি মেডিকেলের প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।’ রংপুরে র‌্যাব যে তিন চিকিৎসকসহ সাতজনকে ধরেছে, সে মামলাটির অগ্রগতি কতটুকু তা তিনি জানাতে পারেননি। তবে ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, এই চক্রটি জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী জজ নিয়োগ, মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা, কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা নিয়োগসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের পরীক্ষায় জালিয়াতি করে আসছিল।
র‌্যাবের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দাবি করে, তিনটি চক্রের কারও কাছেই এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা-সংক্রান্ত কোনো প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়নি।