Saturday, March 20, 2010

নির্বাচনী এলাকা উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার ও সংবিধান by তোফায়েল আহমেদ

সমপ্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় জাতীয় সাংসদদের স্ব স্ব সংসদীয় এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, অঙ্গীকার ও অগ্রাধিকারসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৪৬৯১ দশমিক ১৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পরিকল্পনামন্ত্রীর বক্তব্য থেকে যা বোঝা গেল তার অর্থ দাঁড়ায়, সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকা এবং সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যরা ব্যতীত একক নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত সাংসদদের প্রত্যেকের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার জন্য গড়পরতা ১৫ কোটি টাকার ব্যয় বরাদ্দ এ প্রকল্পে রাখা হয়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ২০১৪ সালের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সাংসদেরা এ অর্থ ব্যবহারের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব দেবেন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর তাদের প্রস্তাব বা সুপারিশ অনুযায়ী প্রকল্প বা উপ-প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন করবে।
মহাজোট সরকারের এক বছর সময়ের মধ্যে মূলত গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নকে সামনে রেখে আর্থিক ও এলাকা পরিমাপে এটিকে বৃহত্তম প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এ জাতীয় একটি প্রকল্প যে সময়ে এবং যেভাবে অনুমোদিত হলো, তাতে এ নিয়ে বহু রকমের বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। এ প্রকল্পকে ঘিরে যেসব প্রশ্ন ও বিতর্ক সামনে আসে তার কিছু নিচে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
সাংবিধানিক ব্যাখ্যা: দেশে প্রতিবছর শত শত প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়, এসব প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে সংবিধানকে টেনে আনা হয় না। কারণ সরকারের মূল তিনটি অঙ্গ শাসন, আইন ও বিচার বিভাগের ভূমিকা ও কর্ম এবং কোনো প্রক্রিয়ায় ওই সব কর্ম সম্পাদন হবে তার নির্দেশনা সংবিধানে স্পষ্টভাবে দেওয়া আছে। সংবিধান যেভাবে আইনসভা ও আইনসভার সদস্যদের ভূমিকা ও কার্যের নির্দেশনা দিয়েছে, সংবিধানের পঞ্চম ভাগের ৬৫ থেকে ৯২-এ ২৭টি ধারা-উপধারায় তা বিস্তারিতভাবে বিধৃত। এ ধারাসমূহের বিশ্লেষণে এবং তার আগের চতুর্থভাগে নির্বাহী বিভাগসংক্রান্ত সংবিধানের ধারা-উপধারা যা ৪৮-৬৪ নম্বর আর্টিকেলে ধারণ করা হয়েছে, তাতে জাতীয় সংসদ বা সাংসদদের জন্য যে কর্মকাণ্ড নির্ধারিত, তার একটি তালিকা নিম্নরূপ হতে পারে।
(ক) রাষ্ট্রের যাবতীয় আয়-ব্যয় অনুমোদন,(খ)সংসদের মধ্য থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা গ্রুপ কর্তৃক সরকার গঠন, যা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মনোনীত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী কর্তৃক পরিচালিত হবে। তা ছাড়া রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ও সংসদীয় কার্যক্রমের অন্তর্গত,(গ)সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সরকারের সব কাজকর্মের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, (ঘ)সংসদীয় কার্য নির্বাহে বিভিন্ন কমিটিতে অংশগ্রহণ এবং কমিটির মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাজকর্ম পর্যালোচনা, তদন্ত, অনুসন্ধান ও অবলোকন এবং (ঙ)দেশের ভূখণ্ডের অন্তর্গত যেকোনো অংশের বা সরকারের যেকোনো কর্মকাণ্ডের ওপর যেকোনো সময় একজন সাংসদ প্রয়োজনে যেকোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারেন।
একজন সাংসদ সরকারি দলের অন্তর্ভুক্ত হলেও তিনি সরকারের নির্বাহী কর্মের অংশীদার নন। ক্ষমতার পৃথক্করণ ও ভারসাম্য নীতির আলোকে (সংবিধানের অনুচ্ছেদ-২২) সরকারের নির্বাহী কর্ম ও আইনসভার সদস্যদের এবং নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে বিচার বিভাগের কর্মের বিভাজনের রূপরেখা স্পষ্ট এবং দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ঐতিহ্যের অন্তর্গত।
সংবিধানের শাসন ও আইন বিভাগের কর্মনির্দেশনার সূত্রে একজন সাংসদের স্থানীয় বা জাতীয় কোথা ও সংসদের বাইরে কোনো প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ ব্যয়ে সরাসরি সংযুক্ত হওয়ার কোনো বিধানই পাওয়া যায় না। উপরন্তু জাতীয় সংসদ সদস্যের এ জাতীয় সম্পৃক্তির কারণে সংবিধানের অপর কিছু অংশ বা ধারা সম্পূর্ণ বা আংশিক অকার্যকর ও সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে।
প্রশাসনিক নিয়মনীতি লঙ্ঘন: বাংলাদেশের সংবিধান উন্নয়ন ও প্রশাসনের জন্য জাতীয় সরকারের নিচে ‘প্রশাসনিক একক’-এর স্বীকৃতি দিয়েছে। এ এককগুলো আবহমানকাল ধরে বিরাজিত এবং এখানে সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো ও জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বশীল জনপ্রতিষ্ঠানের কাঠামো, যথা ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং পৌরসভা প্রভৃতি রয়েছে। তাদের উন্নয়ন ও সেবাকর্ম নির্বাহের জন্য নিজস্ব আইন কাঠামো জনবল এবং কিছু প্রতিষ্ঠিত নিয়মকানুন রয়েছে। ‘জাতীয় সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকা’ স্থায়ীভাবে নির্ধারিত কোনো উন্নয়ন ও প্রশাসনিক একক নয়, প্রতিটি নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন জনসংখ্যার ঘনত্ব অনুসারে সারা দেশের জন্য ৩০০ আসনের সীমানা নির্ধারণ করে থাকেন। ‘নির্বাচনী এলাকা’ শুধু নির্বাচন অনুষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশে ব্যবহারযোগ্য নয়।
রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব: এমপি মূলত একজন দলীয় ব্যক্তিত্ব। সমগ্র নির্বাচনী এলাকার সর্বত্র তাঁর সমান সমর্থন থাকে না। তাই এ ক্ষেত্রে এ বিশেষ প্রকল্পের বরাদ্দে এলাকাগত, গোষ্ঠীগত ও দলগতভাবে বৈষম্য সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকট।
প্রকল্পের আর্থিক ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা: এ জাতীয় সরাসরি রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রভাবিত প্রকল্পের আর্থিক ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা এলজিইডির মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব হবে না। এখানে টেন্ডার দাখিল, কাজের গুণগতমান রক্ষা, সময়মতো কাজ শেষ করা ইত্যাদি, অতীতের অভিজ্ঞতায় অত্যন্ত দুষ্কর হবে তা এখনই বলে দেওয়া যায়।
সংসদীয় কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা: এ জাতীয় প্রকল্প কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত হওয়ার কারণে একজন এমপি তাঁর মূল সংসদীয় কার্যক্রমে অনেক কম সময় দিতে পারবেন এবং স্থানীয়ভাবে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অনেক বেশি জড়িত হয়ে পরবেন। দলবাজি, টেন্ডারবাজি, প্রকল্পের প্রশ্নবিদ্ধ গুণগতমান, ইত্যাদির শিকারে পরিণত হয়ে স্থানীয়ভাবে অনেক বেশি বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরবর্তী সময়ে আবির্ভূত হবেন।
মন্ত্রণালয়ের রুলস অব বিজনেস: জাতীয় সংসদের সদস্যদের যাবতীয় প্রশাসনিক কাজকর্ম করার জন্য রয়েছে সংসদ সচিবালয় এবং তার নির্বাহী প্রধান জাতীয় সংসদের স্পিকার। একজন সাংসদের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক যোগাযোগ হয় সাধারণত সংসদ সচিবালয় থেকে। বর্তমানে সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা উন্নয়নের প্রকল্পটি করা হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে। এখানে মন্ত্রণালয় বা সচিবালয়ের রুলস অব বিজনেস কি সংশোধন করা হয়েছে? যদি না হয়ে থাকে এটিও একটি প্রশাসনিক অসংগতি।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান: ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে সরকারের জাতীয় বাজেটে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেটে মোট বরাদ্দ ছয় হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। অর্থবছর না ঘুরতেই এককভাবে একটি প্রকল্প, যা চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রতিফলিত বা অনুমোদিত হয়নি এমন একটি প্রকল্প থেকে একই অর্থবছরে প্রায় এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে এমপিদের মাধ্যমে ব্যয় করার জন্য। বিষয়টি দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের শৃঙ্খলা, ধারাবাহিকতা, আর্থিক নিয়মনীতির দিক থেকে সংগতিপূর্ণ নয়। যে অর্থ বর্তমান অর্থবছরে দেশের মূল্যবান অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে সংগৃহীত, সে অর্থ সম্পদ থেকে এ বিপুল বরাদ্দ কি পরবর্তী বছরগুলোতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে না?
গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা: গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ না করে তা ব্যক্তির ইচ্ছা-অভিরুচির অধীন রেখে বা নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার একটি কৌশল হিসেবে উন্নয়নব্যয় করা সভ্য ও আধুনিক রাষ্ট্রাচারের পরিচায়ক নয়। গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি প্রদান’ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল ছিল। অথচ সে বেআইনি কাজটাকে নির্বাহী আদেশে বৈধতা শুধু নয়, বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হলো।
অকার্যকর উপজেলা ও অতি কার্যকর সাংসদ: স্থানীয় সরকার সংস্থা হিসেবে এক বছরের অধিককাল অতিবাহিত হলেও উপজলা পরিষদ এখনো (মার্চ, ২০১০) কার্যত অকার্যকর। কিন্তু গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন সম্পদ বিতরণ, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিভাগীয় কার্যক্রমে দেশের অধিকাংশ সাংসদ অতিমাত্রায় সক্রিয়। অথচ এ ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করার জন্য উপজেলা পরিষদের রয়েছে আইনগত ম্যান্ডেট। জাতীয় সংসদ তার গুণ ও মান রক্ষায় সার্বিক বিচারে অকার্যকর হলেও এ মহান সংসদের মাননীয় সদস্যরা টেস্ট রিলিফ, জেনারেল রিলিফ, কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি, স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের কমিটি, শিক্ষক ও ভর্তিবাণিজ্য, সর্বশেষ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে যে অতি-সক্রিয়তা প্রদর্শন করছেন, তাতে স্থানীয় উন্নয়ন ও জাতীয় সংসদ উভয় ক্ষেত্রে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে বাধ্য।
ভারতের মন্দ দৃষ্টান্ত: ভারতে এক দশক ধরে এ জাতীয় একটি তহবিল সৃষ্টি করে নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নকাজ চালানো হচ্ছে। অবশ্য অর্থের পরিমাণ আমাদের তুলনায় কম। ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতবর্ষে এ তহবিলটি স্মরণাতীত কালের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত তহবিল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। লোকসভার স্পিকার সোমনাথ চ্যাটার্জি ওই তহবিলটি বন্ধের সুপারিশ করেছেন। এ পর্যন্ত লোকসভার আটজন সদস্য দুর্নীতির অভিযোগে সদস্যপদ হারিয়েছেন। ইতিমধ্যে এ ফান্ড বন্ধের জন্য সে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে রিট মামলা হয়েছে। ভারতে এ তহবিলের কারণে পঞ্চায়েত রাজ প্রতিষ্ঠান তথা গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি (ব্লক পর্যায়) এবং জেলা পরিষদ দুর্বল হয়নি। কারণ স্থানীয় সরকারের প্রয়োজনীয় সকল রক্ষাকবচ কার্যকর রাখা হয়েছে।
বিরোধী দলের অবস্থান: সরকার প্রকল্প প্রণয়ন করেছে, কিন্তু এ প্রকল্পের ভালো-মন্দ নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বা সরকারের অভ্যন্তরের অন্য দলসমূহ, যাদের দলীয় ঘোষণাপত্রে স্থানীয় সরকার, স্থানীয় উন্নয়ন ও স্থানীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করার দৃঢ় অঙ্গীকার ছিল, তারা সবাই এখন নীরব। জাতীয় সংসদ মতৈক্যের ভিত্তিতে উপজেলা পরিষদ আইন ২০০৯ পাস করেছে। সে আইন পাস হওয়ার এক বছর পরও তা অকার্যকর। এখন আবার উপজেলা পরিষদকে পাশ কাটিয়ে স্থানীয় এমপির মাধ্যমে বিপুল অর্থ ওই এলাকায় দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংসদে কোনো একজন বিবেকবান সদস্য বিষয়টি উত্থাপণ করেননি। সময়মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অর্থবহ আলোচনাই সংসদের কার্যকারিতার প্রধান মাপকাঠি। তাই এ বিষয়ে জাতিবিরোধী দলের সুস্পষ্ট অবস্থান জানতে চায়।
শেষ কথা: ‘ভোটের রাজনীতির স্বার্থে উন্নয়ন বরাদ্দ’ কোনো টেকসই উন্নয়ননীতি হতে পারে না। একটি জনমুখী সরকার বা দল তার সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের জন্যই পুনর্নির্বাচিত হবে। এখানে একজন ব্যক্তি প্রার্থীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে উন্নয়ন খুব বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখে না। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার যে নির্বাচনী অঙ্গীকার মহাজোট সরকারকে নির্বাচনে বিজয়ী করেছে, তা রক্ষা করতে গেলে এখনো সময় রয়েছে স্থানীয় উন্নয়নে স্থানীয় সরকারকে মূলস্রোতে নিয়ে আসার। কারণ স্থানীয় সরকারবান্ধব একটি বিকেন্দ্রায়িত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক নীতির অনুপস্থিতি পরবর্তী নির্বাচনে অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দেখা দিতে পারে।
তোফায়েল আহমেদ: সমাজবিজ্ঞানী ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ।

দেশকে ভালোবাসা ঈমানের অংশ by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

সৃষ্টির সেরা বা ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ হিসেবে মানুষের মধ্যে যে সত্গুণাবলি থাকে তন্মধ্যে দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধ অন্যতম। মাতৃভূমির মাটি ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা ধর্মপ্রাণ মানুষের স্বাভাবিক ও সহজাত প্রবৃত্তি। মা, মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি—এ তিনটি জিনিস মানুষের কাছে মহামূল্যবান। বড় হয়ে জীবন-জীবিকার প্রয়োজন ও কর্তব্যের টানে বিদেশে বসবাস করলেও মানুষ জন্মভূমির কথা, মাতৃভূমির মায়া ভুলতে পারে না। এসবের প্রভাব প্রতিটি মানুষের দেহ, মন ও প্রাণে বিদ্যমান থাকে। মাতৃভূমি ও জন্মস্থানের প্রতি মানুষের এ দুর্নিবার আকর্ষণ বা ভালোবাসা, গভীর অনুভূতি ও মমত্ববোধকে বলে দেশপ্রেম। ইসলামের দৃষ্টিতে দেশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত করতে হলে স্বদেশপ্রেম অত্যাবশ্যক। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে মহানবী (সা.) জনগণের উদ্দেশে বলেছেন, ‘প্রত্যেক মানুষের উচিত দেশকে ভালোবাসা। যে লোক দেশকে ভালোবাসে না, সে প্রকৃত ঈমানদার নয়।’
স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা মানব চরিত্রের একটি মহত্ গুণ। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারেরও প্রয়োজন হতে পারে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে না পারলে মান-সম্মান, স্বাধিকার ও ঈমান-আমল রক্ষা করা যায় না। এ জন্য ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে স্বদেশপ্রেমের কথা বলা হয়েছে। ইসলামে স্বদেশের প্রতি ভালোবাসার জোরালো দিকনির্দেশনা রয়েছে। তাই আরবি প্রবাদে বলা হয়, ‘হুব্বুল ওয়াতানি মিনাল ঈমান’ অর্থাত্ ‘দেশকে ভালোবাসা ঈমানের অংশ’।
ইসলামে দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শে ও স্বভাব-চরিত্রে দেশপ্রেমের অনন্য নজির উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে। তিনি স্বদেশকে খুব ভালোবাসতেন, মক্কার কাফেরদের নির্মম নির্যাতনে যখন স্ব্বজাতি কর্তৃক বিতাড়িত অবস্থায় জন্মভূমি মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত করছিলেন, তখন তিনি বারবার মক্কার দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলেন আর কাতরকণ্ঠে আফসোস করে বলেছিলেন, ‘হে আমার স্বদেশ! তুমি কতই না সুন্দর! আমি তোমাকে কতই না ভালোবাসি। আমার আপন গোত্রের লোকেরা যদি ষড়যন্ত্র না করত, আমি কখনো তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।’ সাহাবায়ে কিরামও স্বদেশকে খুব ভালোবাসতেন। হিজরতের পর মদিনায় হজরত আবু বকর (রা.) ও হজরত বেলাল (রা.) জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় তাঁদের মনে-প্রাণে স্বদেশ মক্কার স্মৃতিচিহ্ন জেগে উঠেছিল। তাঁরা জন্মভূমি মক্কার দৃশ্যাবলি স্মরণ করে কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন। এমতাবস্থায় নবী করিম (সা.) সাহাবিদের মনের এ দুরবস্থা দেখে প্রাণভরে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! আমরা মক্কাকে যেমন ভালোবাসি, তেমনি তার চেয়েও বেশি মদিনার ভালোবাসা আমাদের অন্তরে দান করুন।’ (বুখারি)
দেশ ও জাতির জন্য আত্মনিবেদিত মানুষেরা সমাজের চোখে যেমন সম্মানিত, তেমনি আল্লাহর কাছেও অত্যন্ত গৌরবময় মর্যাদার অধিকারী। নবুওয়াত লাভের পর সুদীর্ঘ ১৩ বছর রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবিরা স্বদেশ মক্কায় ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত হয়েছেন এবং নির্মম অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁরা দেশ ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত করতে বাধ্য হয়েছিলেন। অতঃপর ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে বিজয়ীর বেশে মহানবী (সা.) যখন জন্মভূমি মক্কায় প্রবেশ করলেন, তখন মুসলমানদের ওপর যে ভীষণ অন্যায় ও অত্যাচার করা হয়েছিল, তা বিস্মৃত হলেন এবং দেশবাসীর প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে বিশ্বের ইতিহাসে অতুলনীয় দেশপ্রেম, উদারতা ও মহানুভবতার আদর্শ স্থাপন করেন।
দেশপ্রেমের ফলে মানুষের মন উদার ও মহত্প্রাণ হয়। তার ভেতর অপরের জন্য কল্যাণবোধ জন্মলাভ করে। তাই দেশের স্বার্থবিরোধীদের সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষার জন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচেষ্টা চালানো উচিত। দেশের সীমান্তরক্ষী প্রহরীদের সম্পর্কে নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘এক দিন ও এক রাতের সীমান্ত পাহারা ক্রমাগত এক মাসের সিয়াম সাধনা ও সারা রাত নফল ইবাদতে কাটানো অপেক্ষা উত্তম।’ (মুসলিম) দেশপ্রেম জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘দুটো চোখ জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না, একটি চোখ আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে আর একটি চোখ যা সীমান্ত পাহারায় বিনিদ্র রজনী যাপন করে।’ (তিরমিজি) হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘যারা স্বদেশ রক্ষার উদ্দেশে সীমান্ত পাহারায় বিনিদ্র রজনী যাপন করে, তাদের জন্য জান্নাত।’
দেশপ্রেম মানুষকে মাতৃত্ববোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহজ ও সরল আচরণ শেখায়। নিজ দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, সুখী ও মঙ্গলের জন্য ভাবতে অনুপ্রাণিত করে। দেশের মানুষের বিভিন্ন দল-মত, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, পরস্পরের প্রতি বিরোধ, সংঘর্ষ ও প্রতিহিংসার পরিবর্তে একে অন্যের সহযোগিতা, সহানুভূতি ও পৃষ্ঠপোষকতার ভাবধারা গড়ে তোলার জন্য পরমতসহিষ্ণুতার শিষ্টাচার গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন। দেশাত্মবোধ ও স্বদেশের প্রতি মমতা অনেক অন্যায় ও অপরাধপ্রবণতা থেকে মানুষকে বিরত রাখতে পারে। তাই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধন করতে হলে অবশ্যই দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে। স্বদেশের প্রতি অনুগত থেকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশকে ভালোবাসা সবার ঈমানি দায়িত্ব ও পবিত্র কর্তব্য। সর্বোপরি দেশের জনগণের যার যার ধর্মের প্রতি নিষ্ঠা, ইসলামি বিধি-নিষেধের যথার্থ অনুশীলন আমাদের প্রকৃত ঈমানদার মানুষে পরিণত করতে পারে এবং সমাজ জীবনে বয়ে আনতে পারে শান্তি-সুখের সুশীতল সমীরণ। বিত্তশালী ধর্মপ্রাণ লোকেরা চেষ্টা করলে মানুষের জন্য, দেশের জন্য অনেক কল্যাণকর কিছু করতে পারেন। মনের বিশুদ্ধতা ও প্রসারতায় যাঁরা দেশপ্রেম, সত্কর্ম, সত্যনিষ্ঠা ও সুশাসনের মাধ্যমে পৃথিবীতে অবদান রাখবেন, তাঁদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা দিয়েছেন, ‘নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস করে ও সত্কর্ম করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্য আছে জান্নাতুল ফেরদৌস, যেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে; তা হতে স্থানান্তর কামনা করবে না।’ (সূরা আল-কাহ্ফ, আয়াত: ১০৭-১০৮)
ইসলামের আলোকে দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধ মানুষকে স্বদেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষণে দেশপ্রেমিক নিজের জান-মাল উত্সর্গ করতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। স্বদেশকে হেফাজত না করতে পারলে ধর্মকে হেফাজত করা যায় না, দেশের মানুষকে রক্ষা করা যায় না, তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা যায় না। দেশপ্রেম ধর্মভীরু মানুষকে স্বদেশের উন্নতি সাধনে সজাগ রাখে, দেশের জাতীয় সম্পদ অপচয় রোধে উদ্বুদ্ধ করে। আর দেশাত্মবোধ ও জাতীয়তাবোধ ব্যতীত কোনো দেশের স্বাধীনতা স্থায়িত্ব লাভ করতে পারে না। তাই আল্লাহ তাআলা ৩০ লাখ শহীদের রক্তে ভেজা বাংলার মাটি থেকে জঙ্গিবাদী বোমাবাজ, চরমপন্থী, সন্ত্রাসী, চোরাকারবারি, চাঁদাবাজ, ঘুষখোর, অবৈধ মজুদদার, ভেজাল ব্যবসায়ী, দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী ও দেশের স্বার্থবিরোধী দুর্নীতিবাজদের মূলোত্পাটন করে একটি সুখী-সমৃদ্ধিশালী শোষণমুক্ত স্বাবলম্বী সোনার বাংলাদেশ গঠনের তাওফিক দান করুন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
dr.munimkhan@yahoo.com

বিক্ষোভকারীদের আলোচনার প্রস্তাব দিলেন থাই প্রধানমন্ত্রী

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ ভেজ্জাজিভা গতকাল বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও নির্বাচনের দাবিতে রাজধানী ব্যাংককে নানা কর্মসূচি পালন করছে বিক্ষোভকারীরা। এদিকে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে ‘শ্রেণীযুদ্ধ’ শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে বিক্ষোভকারীরা।
প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ ভেজ্জাজিভা বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের অবশ্যই আইনের মধ্যে থাকতে হবে। আইনের মধ্যে থেকে তাদের সঙ্গে আলোচনায় আমার কোনো আপত্তি নেই। যুক্তিযুক্ত আলোচনার ব্যাপারে আমি সব সময়ই আন্তরিক। কিন্তু তারা (বিক্ষোভকারীরা) আইন না মানলে আমার পক্ষে আলোচনায় বসা সম্ভব হবে না।’ প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য টেলিভিশনে সরাসরি প্রচার করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের নেতা নাঠায়ুত সাইকুয়া গতকাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে নির্বাচন না দিলে ‘শ্রেণীযুদ্ধ’ শুরু হবে। গত বুধবার রাতে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা ভিডিও লিংকের মাধ্যমে তাঁর সমর্থকদের বলেন, ‘আমি আরও এক সপ্তাহ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা সত্যিকারের গণতন্ত্র পাব। আমি জানি, আপনারা অনেকটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য আরও এক সপ্তাহ ধৈর্য ধরতে হবে।’
থাইল্যান্ডের বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন এখন ইউরোপ সফর করছেন। সেখান থেকে তিনি দুবাইয়ে যাবেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। সম্প্রতি দেশটির সর্বোচ্চ আদালত থাকসিন সিনাওয়াত্রার ১৪০ কোটি ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর সমর্থকেরা আন্দোলন শুরু করে। গত শুক্রবার থেকে রাজধানী ব্যাংককে হাজার হাজার থাকসিন সমর্থক বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাসভবন ও সরকারি বিভিন্ন কার্যালয়ের সামনে নিজেদের রক্ত ঢেলে দেয় বিক্ষোভকারীরা। সরকার সহিংসতার আশঙ্কায় ব্যাপক নিরাপত্তা-ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

পাকিস্তানে আল-কায়েদার আরেক শীর্ষ নেতা নিহত

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় মিরানশাহ শহরে চালকবিহীন মার্কিন বিমান হামলায় আল-কায়েদার এক শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। নিহত নেতার নাম হোসাইন আল-ইয়েমেনি। পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন সেনা কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
এদিকে পাকিস্তান এই চালকবিহীন বিমান হামলার সমালোচনা করে বলেছে, এ ধরনের হামলার ফলে জঙ্গিদের প্রতি জনসমর্থন আরও বেড়ে যায়।
হোসাইন আল-ইয়েমেনি ছিলেন আল-কায়েদার পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম। গত ডিসেম্বরে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত শহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় সিআইয়ের সাত কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় হোসাইনের ভূমিকা ছিল বলে ধারণা করা হয়। এক ই-মেইল বার্তায় কর্মকর্তারা এ কথা জানান। ১৯৮৩ সালের পর থেকে সিআইএ-এর ওপর ওটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।
হোসাইনের বয়স ছিল ত্রিশের কাছাকাছি। তিনি বোমা ও আত্মঘাতী অভিযানে সিদ্ধহস্ত ছিলেন। আল-কায়েদার জন্য পাকিস্তান থেকে তহবিল, তথ্য ও নতুন সদস্য সংগ্রহ করতেন।

বিএসপির সমাবেশে মৌমাছি থানায় এফআইআর

ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষ্মৌতে গত সোমবার বহুজন সমাজবাদী পার্টির (বিএসপি) জনসমাবেশে একঝাঁক মৌমাছি ছেড়ে দিয়েছিল কে বা কারা। মৌমাছির আক্রমণে নাস্তানাবুদ হন অনেকে। ওই ঘটনায় অজ্ঞাত সংখ্যক লোককে অভিযুক্ত করে বিএসপি বুধবার রাতে আসহিয়ানা থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেছে। খবর জি নিউজের।
জানা গেছে, দলের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রমাবাই আম্বেদকার মাঠে এক বিশাল সমাবেশের আয়োজন করে বিএসপি। দলের প্রধান ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী বক্তৃতা শুরু করা মাত্র একঝাঁক মৌমাছি সমাবেশে হামলা চালায়। এতে সমাবেশটি দৃশ্যত ভণ্ডুল হয়ে যায়। মায়াবতী ওই ঘটনার জন্য বিরোধীদের দায়ী করেছেন। সংসদীয় কমিটির তদন্তে বলা হয়েছে, সমাবেশ চলাকালে কয়েকজন লোক ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন জ্বালিয়ে ধোঁয়ার সৃষ্টি করে। এতে পার্শ্ববর্তী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার গাছে থাকা মৌমাছিগুলো উড়ে সমাবেশে এসে লোকজনকে হুল ফোটাতে শুরু করে।

নাইজেরিয়ার মন্ত্রিসভা ভেঙে দিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট জনাথন

নাইজেরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথন গত বুধবার মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ওমারু ইয়ার’আদুয়া অসুস্থ হলে গত ফেব্রুয়ারিতে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন জনাথন।
দেশটির তথ্যমন্ত্রী দোরা আগুনিলি মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথন আজ (বুধবার) মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন। মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার কোনো কারণ তিনি আমাদের জানাননি। তাই আমিও কোনো কারণ জানাতে পারছি না। তবে এতে সরকারের মধ্যে কোনো শূন্যতা সৃষ্টি হবে না। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আগ পর্যন্ত স্থায়ী সচিবেরা দায়িত্ব পালন করবেন।’
তথ্যমন্ত্রী আগুনিলি জানান, প্রেসিডেন্ট জনাথন শিগগিরই নতুন মন্ত্রিসভার বিষয়ে বিবৃতি দেবেন। তিনি জাতীয় পরিষদে নতুন মন্ত্রীদের তালিকা পেশ করবেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভার বর্তমান সদস্যদের মধ্যে অনেকেই নতুন মন্ত্রিসভায়ও জায়গা পাবেন।
প্রেসিডেন্ট ওমারু ইয়ার’আদুয়া অসুস্থ হলে গত নভেম্বরে চিকিত্সার জন্য সৌদিআরবে যান। চিকিত্সা শেষে ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফিরলেও দায়িত্ব নেওয়ার মতো সুস্থ হননি ওমারু। এ সময়ের মধ্যে তিনি জনসম্মুখেও আসেননি। এ অবস্থায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন গুডলাক জনাথন। প্রেসিডেন্ট ওমারুর ক্ষমতার মেয়াদ ছিল আগামী বছরের মে পর্যন্ত।
পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, নিজের ক্ষমতা সুসংহত করতেই মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট জনাথন। দ্য নিউ ম্যাগাজিন-এর প্রধান সম্পাদক বায়ো ওনানুগা বলেন, ক্ষমতা ও সরকারে নিজের অবস্থান নিরঙ্কুশ করতেই প্রেসিডেন্ট জনাথনের এ উদ্যোগ।

জেরুজালেমে বসতি নির্মাণ বন্ধের দাবি নাকচ করেছে ইসরায়েল

পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদিদের জন্য নতুন করে বসতি নির্মাণ বন্ধের ক্রমবর্ধমান দাবি গত বুধবার নাকচ করে দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান এ বসতি নির্মাণ বন্ধের দাবিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বুধবার বলেছেন, পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের আরও বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিপ্রক্রিয়ার জন্য সহায়ক নয়। তবে এ ইস্যু নিয়ে মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো সংকটের কথা অস্বীকার করেন ওবামা।
গত সপ্তাহে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইসরায়েল সফরকালে নতুন বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করে তেল আবিব। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে জো বাইডেন ওই অঞ্চল সফর করেন।
বুধবার ইসরায়েল সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশনীতি-বিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাশটনের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লিবারম্যান বলেন, পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি বসতি নির্মাণ থেকে ইসরায়েলকে বিরত রাখার দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এ দাবি অনেকভাবে এসেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সুযোগ পেয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে। এ ধরনের দাবি অযৌক্তিক।’
এদিকে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে ফক্স নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সংকট সৃষ্টি হয়েছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘না।’
ওবামা বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ইসরায়েল ও এর জনগণের বিশেষ বন্ধন আছে, যা কখনো নষ্ট হবে না। কিন্তু বন্ধুদের মধ্যে কখনো কখনো মতভেদ দেখা দেয়...। এখানের মতভেদটি হচ্ছে, কীভাবে শান্তিপ্রক্রিয়াকে সামনের দিকে এগিয়ে নেব, তা নিয়ে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, নতুন বসতি স্থাপন নিয়ে ইসরায়েলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, শান্তিপ্রক্রিয়ার জন্য তা সহায়ক নয়। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
ওবামা আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা আবার শুরুর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টা যাতে ব্যর্থ না হয়, সে ব্যাপারে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়েরই দায়িত্ব আছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ওবামা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কোনো সংকটের কথা অস্বীকার করলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শ্যালক হাগাই বিন আরজি তাঁকে ‘ইহুদিবিরোধী’ বলে অভিহিত করেছেন। এতে মার্কিন ও ইসরায়েল সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বেন আরজি বলেন, ‘এটা নয় যে ওবামা বিবিকে (বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডাকনাম) পছন্দ করেন না। আসলে তিনি ইসরায়েল রাষ্ট্রকে পছন্দ করেন না।’
বেন আরজি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে ইহুদিবিরোধী একজন প্রেসিডেন্ট থাকাটা আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা। আমরা বলতে চাই, আমরা তা মেনে নেব না। চার হাজার বছরের পুরোনো জাতি আমরা।’
ওবামার ব্যাপারে বেন আরজির মন্তব্যের পর ভগ্নিপতি নেতানিয়াহু শ্যালকের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘বেনের মন্তব্যের সঙ্গে আমি পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করি।’

লাদেন পাকিস্তানে লুকিয়ে আছেন: সিআইএ

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) ধারণা, আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেন এবং তাঁর প্রধান সহযোগী আইমান আল জাওয়াহিরি পাকিস্তানে লুকিয়ে আছেন। তবে তাঁরা ঠিক কোথায় আছেন, সিআইএ তা জানে না।ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে সিআইএর পরিচালক লিও প্যানেট্টা এ কথা বলেছেন।
সাক্ষাত্কারে লিও প্যানেট্টা বলেন, সিআইএর কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই দুই শীর্ষ আল-কায়েদা নেতা পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের উপজাতি-অধ্যুষিত অঞ্চলে কিংবা উত্তর ওয়াজিরিস্তানে লুকিয়ে আছেন অথবা ওই অঞ্চলের আশপাশে কোথাও আত্মগোপন করে আছেন।
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই সাক্ষাত্কারে প্যানেট্টা বলেন, পাকিস্তানের উপজাতি-অধ্যুষিত অঞ্চলে আল-কায়েদার ওপর অবিরাম আক্রমণের ফলে বিন লাদেন ও অন্য শীর্ষস্থানীয় নেতারা আরও গভীরে আত্মগোপন করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে আল-কায়েদা নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে এবং সমন্বিত অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করার সামর্থ্যও কমে গেছে।
আল-কায়েদার বিরুদ্ধে অভিযানকে আগ্রাসী হিসেবে বর্ণনা করে লিও প্যানেট্টা বলেন, ওই অভিযানে আল-কায়েদার কর্মকাণ্ড চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকাকে প্যানেট্টা আরও বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি তালেবানের শীর্ষস্থানীয় নেতা মোল্লা আবদুল গনি বারাদারের গ্রেপ্তারের পর থেকে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ সিআইএকে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

মার্কিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে কান্দাহার

আফগানিস্তানে তালেবানের শক্ত ঘাঁটি কান্দাহার মার্কিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। মার্কিন কমান্ডাররা বুধবার জানান, ধীরে ধীরে কান্দাহারের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে আসছে।
আফগানিস্তানে ন্যাটো ও মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাকক্রিস্টাল বলেন, কান্দাহারে তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে যুদ্ধ-পরিস্থিতি ন্যাটো বাহিনীর অনুকূলে চলে এসেছে। আগামী দিনগুলোতে কান্দাহার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
টেলিকনফারেন্স ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ম্যাকক্রিস্টাল বলেন, কান্দাহার ও আশপাশ এলাকা বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। তিনি বলেন, কান্দাহারে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আফগান পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। আশপাশের এলাকায় আরও সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে।

জোট-শরিকদের সমালোচনার ওপর সোনিয়ার নিষেধাজ্ঞা

ভারতের কংগ্রেস পার্টির সভানেত্রী ও ক্ষমতাসীন জোট সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী জোটের শরিকদের প্রকাশ্য সমালোচনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। গত বুধবার তিনি এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
ইউপিএ জোটে রয়েছে এম করুণানিধির ডিএমকে, শারদ পাওয়ারের এনসিপি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের মতো শক্তিশালী দল। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে মাঝেমধ্যে জোটের শরিকদের মধ্যে মতদ্বৈধতা দেখা দেয়। এই নিয়ে বিতর্কও দেখা যায় প্রকাশ্যে। ফলে মাঝেমধ্যে এই জোটের সম্পর্ক নিয়ে মাঝেমধ্যে ভুল বার্তা পৌঁছায় বিরোধীদের কানে। বাজেটে পেট্রোপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে প্রকাশ্যেই সমালোচনায় নামেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী। এই নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয় কংগ্রেসকে।
কয় দিন আগে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে কংগ্রেসের মুখপাত্র সত্যব্রত চতুর্বেদী কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শারদ পাওয়ারের সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘উনি আবর্জনা সৃষ্টি করবেন, আর আমরা পরিষ্কার করব, তা হতে পারে না।’ এই মন্তব্যের পর শারদ পাওয়ারের এনসিপি নালিশ জানায় কংগ্রেস নেত্রী এবং ইউপিএর চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীর কাছে। এ ঘটনায় অনেকটাই ক্ষুব্ধ হন সোনিয়া। অগত্যা তিনি বুধবার এক নির্দেশে কংগ্রেসের মুখপাত্রের পদ থেকে সত্যব্রত চতুর্বেদীকে সরিয়ে দেন। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসের নেতাদের এই বলে নির্দেশ দেন, জোটের স্বার্থে শরিকদের কোনো প্রকাশ্য সমালোচনা নয়। সমালোচনা করতে হলে তা করতে হবে ইউপিএর বৈঠকেই।

ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে ভারত মহাসাগরে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ায় শত শত বাংকার ব্লাস্টার বোমা জড়ো করা হচ্ছে। গত রোববার সানডে হেরাল্ড-এর এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে। পিটিআই, টাইমস অব ইন্ডিয়া।
সানডে হেরাল্ড-এর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ১০ কনটেইনার গোলাবারুদ নৌঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ায় পৌঁছে দিতে গত জানুয়ারিতে সুপিরিয়র মেরিটাইম সার্ভিসের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে মার্কিন সরকার। এসব কনটেইনারে ১৯৫ স্মার্ট, গাইডেড ব্লু-১১০ বোমা এবং ১৯২ ব্লু-১১৭ ৯০০ কেজির বোমা রয়েছে। এ বোমাগুলো ভূগর্ভের যেকোনো শক্তিশালী স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম। উল্লেখ্য, ইরান তার প্রধান পরমাণু স্থাপনাগুলো ভূগর্ভে নির্মাণ করেছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর আন্তর্জাতিক দরপত্র-বিষয়ক ওয়েবসাইটে সুপিরিয়র মেরিটাইম সার্ভিস ও মার্কিন সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।
লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও কূটনীতি কেন্দ্রের পরিচালক ডান প্লেস বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমানগুলো মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের ১০ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো অবস্থায় প্রস্তুত রয়েছে।’ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রস্তুতি বিষয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় সহলেখক হিসেবে কাজ করেন ডান প্লেস। ডান প্লেস আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পরমাণু কর্মসূচিতে নিরুত্সাহিত করতে এ প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা বলা যাবে না। বরং এর মাধ্যমে ইরানকে যুদ্ধের জন্য উসকে দেওয়া হচ্ছে। তবে ঠিক কবে বা কখন ইরানের ওপর আক্রমণ চালানো হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র ইসরায়েল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি প্রসঙ্গে তাদের আগের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করেনি, আবার আলোচনার পথও খোলা রেখেছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ‘ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী না হতে পারে, সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ জন্য আমরা ইরানের ওপর কঠিন অবরোধ আরোপের চেষ্টা করছি। ইরান পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হলে মধ্যপ্রাচ্যেও অস্ত্র প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে। তবে আমরা আলোচনা পথও খোলা রেখেছি।’
সানডে হেরাল্ড-এর এ প্রতিবেদনের বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
ভারত ও শ্রীলঙ্কা থেকে প্রায় ১০০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়ার মালিকানা ব্রিটেনের। ১৯৭১ সালে স্বাক্ষরিত এক চুক্তিবলে তা সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছিল, এ ঘাঁটি থেকে যেকোনো হামলা চালাতে তাদের অনুমোদন লাগবে। তবে এর আগে ১৯৯১ ও ২০০৩ সালে ইরাকের ওপর হামলার সময় এ ঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র। দিয়েগো গার্সিয়ায় ৫০ জন ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তা ও তিন হাজার ২০০ মার্কিন সেনা রয়েছে।

অন্যের মাঠে জিতল শুধু আরামবাগ

সিটিসেল বাংলাদেশ লিগে কাল ছিল তিনটি ম্যাচ। সবগুলো হয়েছে ঢাকার বাইরে। নিজেদের মাঠে জিতেছে ফেনী সকার ও সিলেট বিয়ানীবাজার। শুধু অন্যের মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরতে পেরেছে আরামবাগ।
ফেনী থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ফেনী সকার চট্টগ্রাম আবাহনীকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের মাঠে পেয়েছে প্রথম জয়। এর আগে ফেনীর মাঠে সকারের চারটি ম্যাচের একটিতেও তারা জিততে পারেনি।
ফেনীর ভাষাশহীদ সালাম স্টেডিয়ামে কাল খেলার ২২ মিনিটে দর্শনীয় শটে একমাত্র গোলটি করেন আনোয়ার।
ম্যাচটি যথেষ্টই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। দুদলই খেলেছে জয়ের জন্য। যদিও আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ দেখে দর্শকেরা ধারণা করতে পারেনি একটা গোলই ভাগ্য বেঁধে দেবে ম্যাচের।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই চট্টগ্রাম আবাহনী গোল শোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। বেশ কটি আক্রমণও করেও সকারের রক্ষণ অবশ্য ভাঙতে পারেনি। সকারও খেলার দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ১১ খেলায় সকার ক্লাবের পয়েন্ট ১৬ এবং সমান খেলায় চট্টগ্রাম আবাহনীর ১১ পয়েন্ট।
এদিকে সিলেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিকেরা ২-০ গোলে হারিয়েছে রহমতগঞ্জকে। লিগে বিয়ানীবাজারের এটি দ্বিতীয় জয়। ১১ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট বিয়ানীবাজারের, সমান ম্যাচে রহমতগঞ্জেরও ১১ পয়েন্ট।
সিলেট প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ১৫ মিনিটে লাইবেরিয়ান খেলোয়াড় বেঞ্জামিনের গোলে এগিয়ে যায় বিয়ানীবাজার। অতিরিক্ত সময়ে ব্যবধান বাড়ান সোহেল রানা। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে হাজার সাতেক দর্শক আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে। ৯ মার্চ এই মাঠেই বিয়ানীবাজার-মোহামেডানের ম্যাচের পর দর্শকদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের শিকার হতে হয়েছিল খেলোয়াড়দের! খেলা শুরুর আগে তাই ঘুরেফিরে আসছিল সেই প্রসঙ্গ। তবে ওই দিনের চেয়ে গতকালের পরিবেশ ছিল ঠিক উল্টো। খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দর্শকেরা ছিলেন শান্ত।
নারায়ণগঞ্জে শুকতারাকে ১-০ গোলে হারিয়ে তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে আরামবাগ। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে একমাত্র গোলটি করেছেন উগান্ডান স্ট্রাইকার ডোমিনিক। ১১ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট আরামবাগের, ৭ পয়েন্ট শুকতারার।

তারপরও ক্লার্কই আগ্রহের কেন্দ্রে

ওয়েলিংটনে ক্রিকেট হচ্ছে নাকি? আজ নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া মাঠে নেমে পড়েছে বুঝি প্রথম টেস্ট খেলতে? কিছুদিন ধরে মিডিয়ার আগ্রহের বেশিটাই বরাদ্দ ছিল মাইকেল ক্লার্কের ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে। ক্রিকেট-সংক্রান্ত খবরের চেয়ে লারা বিঙ্গলের বাগদানের আংটিটা কোথায়—এটাই পাচ্ছিল বেশি গুরুত্ব! ক্লার্কই সবচেয়ে খুশি হবেন, আজ অন্তত তাঁর ওপর থেকে সরে যাচ্ছে আলোটা। আগ্রহের কেন্দ্রে চলে আসছে ক্রিকেট। তারপরও সেই বৃত্তে কি ক্লার্ক থাকছেন না?
বাংলাদেশ সময় ভোর চারটায় ম্যাচ শুরু হয়ে গেছে। এই ম্যাচে ক্লার্ক যদি ব্যর্থ হন, শুরু হয়ে যাবে আলোচনা। যদি সফল হন, তাতেও টেনে আনা হবে ব্যক্তিগত জীবন। সিরিজের দুটো টেস্ট ক্রিকেটার ক্লার্কের জন্য তাই পরীক্ষারই—ব্যক্তিগত সংকটকে ক্রিকেটে প্রভাব ফেলতে না দেওয়ার।
ওয়েলিংটন দিয়ে শুরু করায় একটা সুবিধা হয়েছে স্বাগতিকদের। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ সাফল্য তারা পেয়েছে এ মাঠেই। সাফল্য বলতে আবার জয় ভেবে বসবেন না। নিকট অতীতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ড্রটাই তাসমান প্রতিবেশীদের জন্য বড় প্রাপ্তি হয়ে আছে। গত আট টেস্টের সাতটাই হেরেছে নিউজিল্যান্ড। একমাত্র ড্রটি ২০০৫ সালের ওয়েলিংটন টেস্টে। নিজেদের মাঠে তাদের সাতটি ড্রয়ের পাঁচটিই এখানে।
ড্র নিয়েই বেশি কথাবার্তা হচ্ছে, কারণ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে তাদের জয়টা সেই ১৭ বছর আগের। এই তথ্যেও তাই কোনো বিস্ময় নেই, সর্বশেষ ১৪টি টেস্ট সিরিজের একটিও জিততে পারেনি নিউজিল্যান্ড। অথচ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম পাঁচটি সিরিজের তিনটিই জিতেছিল তারা, বাকি দুটো হয়েছিল ড্র।
রেকর্ড সাক্ষী মানলে আরও একটি একপেশে ট্রান্স-তাসমান সিরিজই অপেক্ষা করছে সামনে। তবে হিসাবটা এত সহজ হলে মাঠে নেমে খেলার আর কী দরকার? আর তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর পাকিস্তানের বিপক্ষে ছয় টেস্টের ৫টিতে জয়, আরেকটি ড্র নিয়ে নিজেদের মৌসুম শুরু করা অস্ট্রেলিয়া সত্যিকারের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটা জিতে মানসিকভাবেও এগিয়ে আছে নিউজিল্যান্ড।
শেন বন্ড আর ইয়ান ও’ব্রায়েন টেস্ট থেকে অবসর নিয়ে নিলেও ক্রিস মার্টিন, ড্যারিল টাফি, টিম সাউদি আর ড্যানিয়েল ভেট্টোরিদের নিয়ে গড়া বোলিং আক্রমণ অস্ট্রেলিয়াকে যথেষ্ট ভোগাবে। নিউজিল্যান্ডের দুশ্চিন্তার নাম আসলে ব্যাটিং। রস টেলর ও মার্টিন গাপটিল বাদে বাকি সবাই ক্যারিয়ার বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছেন আজ।
অস্ট্রেলিয়া দলে তেমন সমস্যা নেই। আছে অস্বস্তি। ক্লার্ক ভালো খেলে ফেললে সেটিও দূর হয়ে যাবে। দুদলেই আজ দুজনের অভিষেক হবে বলেই গতকাল শোনা গিয়েছিল। টেস্ট ক্রিকেটের সাদা পৃথিবীতে রায়ান হ্যারিস আর ব্রেন্ট আরনেলের আগমন ঘটেছে কি না, সেটি তো টিভি খুললেই বুঝে যাবেন আপনি।

ইউসুফ-ইউনুসদের আপিলের সুযোগ

সাজা পাওয়া সাত ক্রিকেটারকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। শাস্তির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন তাঁরা।
পিসিবির চিফ অপারেটিং অফিসার ওয়াসিম বারি বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘শাস্তির কারণ জানিয়ে সাত খেলোয়াড়কেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। পিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারা এখন শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে।’ অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের পারফরম্যান্স পর্যালোচনায় গঠিত বারির নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গত সপ্তাহে পাকিস্তান দলের সাত সিনিয়র ক্রিকেটারকে শাস্তি দিয়েছে পিসিবি। ইউনুস খান, মোহাম্মদ ইউসুফ, রানা নাভেদ-উল হাসান এবং শোয়েব মালিককে করা হয়েছে বরখাস্ত। এ ছাড়া দুই আকমল ভাই এবং শহীদ আফ্রিদিকে করা হয়েছে জরিমানা।

ফেনীতে গোল্ডকাপ ফুটবল

নুরুল হক স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন সোনাগাজী উপজেলা। কাল ফাইনালে তারা ১-০ গোলে হারিয়েছে আমজাদহাট ইউনিয়নকে। গোল করেছেন ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার প্যাট্রিক। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার।

অস্ট্রেলিয়ার কোচ হচ্ছেন মিকি আর্থার?

অস্ট্রেলিয়ার কোচ হওয়ার প্রস্তাব পেলেন মিকি আর্থার। দক্ষিণ আফ্রিকান একটি পত্রিকার খবরের সূত্র ধরে এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক কোচকে টিম নিলসেনের উত্তরসূরি হিসেবে নাকি পেতে চায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। অবশ্য আর্থার বা সিএ কোনো পক্ষ থেকেই এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কিছু জানানো হয়নি।
প্রায় বছর পাঁচেক দায়িত্ব পালন করার পর গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান আর্থার। এর পর পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দলের ভাবী কোচ হিসেবে শোনা গিয়েছিল তাঁর নাম। আর্থার অবশ্য ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। টম মুডির জায়গায় তাঁকেই কোচ হিসেবে পেতে চাইছে অস্ট্রেলিয়ার প্রাদেশিক দলটি। সাক্ষাত্কার দেওয়ার জন্য আর্থার এখন অস্ট্রেলিয়াতেই। এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিল্ড খবর দিল, প্রাদেশিক নয়, জাতীয় দলের কোচ হিসেবেই নাকি আর্থারকে চায় সিএ।

পাকিস্তানের উলমার স্মরণ

পার হয়ে গেল আরেকটি ১৮ মার্চ। তিন বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপের এই দিনটিতেই জ্যামাইকায় হোটেল রুমে পাওয়া গিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কোচ বব উলমারের মৃতদেহ। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবং ওই বিশ্বকাপের পাকিস্তান ক্রিকেট দল শ্রদ্ধাভরেই স্মরণ করছে প্রয়াত এই কোচকে।
পিসিবি এক বিবৃতিতে বলছে, ‘উলমারের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) শ্রদ্ধা নিবেদন করছে সেই লোকটিকে যিনি আমাদের ক্রিকেটের জন্য অনেক কিছু করেছেন, যাঁর অত্যাধুনিক কোচিং খেলাটায় বড় প্রভাব রেখে গেছে। ক্রিকেটে উলমারের অবদান, বিশেষ করে পাকিস্তান ক্রিকেটে, চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ লাহোরের জাতীয় ক্রিকেট একাডেমির ইনডোর ক্রিকেট স্কুলটি বব উলমারের নামে উত্সর্গ করেছে পিসিবি।
২০০৭ সালে হোটেল রুমে উলমারের মৃতদেহ পাওয়ার আগের দিনে আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় পাকিস্তান। ধারণা করা হয়েছিল, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ পাতিয়েছিল পাকিস্তান এবং পাতানো ম্যাচের তথ্য যাতে প্রকাশ না পায় সেজন্য হত্যা করা হয়েছে উলমারকে। সন্দেহের আঙুল তোলা হয়েছিল পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দিকে। তিন বছর পরও সেটা মনে রেখেছেন ২০০৭ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অধিনায়ক ইনজামাম-উল হক, ‘উলমারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা কতটা গাঢ় ছিল সেটা বিবেচনায় না এনেই আমাদের বিপক্ষে সব রকম অভিযোগই তোলা হয়েছিল। দেখা হয়েছিল সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে।’ সে দুঃখ চেপে রেখেই উলমারকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ইনজামাম, ‘উলমারের অধীনে একটা দল হিসেবেই খেলেছি আমরা। কোনো সন্দেহ নেই যে, আমার দেখা সেরা কোচ তিনি।’ সাবেক লেগ স্পিনার মুশতাক আহমেদ বললেন, ‘যা ঘটেছে সেটা ট্র্যাজিক। ববের মৃত্য ছিল আমাদের জন্য বড় একটা ধাক্কা।

শেষ আটে মেসির বার্সা

এক নজরে
বার্সেলোনা ৪: ০ স্টুটগার্ট
(দুই লেগ মিলে ৫-১ ব্যবধানে বার্সেলোনা জয়ী)
বোর্দো ২: ১ অলিম্পিয়াকোস
(দুই লেগ মিলে ৩-১ ব্যবধানে বোর্দো জয়ী)
ভিএফবি স্টুটগার্টকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করার পর সংবাদ সম্মেলনে এলেন যে বার্সেলোনা কোচ, তাঁর মুখে উছলে পড়ল গর্বের হাসি, ‘একমাত্র ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পেরেছে এবং এই অর্জনের জন্য আমি আমার দলকে অভিনন্দন জানাই।’
‘আবারও সেরা আট দলের একটি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাওয়ায় আমরা রোমাঞ্চিত’—আরও বলে যান বার্সেলোনা কোচ। হ্যাঁ, চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে বার্সেলোনা রোমাঞ্চিত, রোমাঞ্চিত বিশ্ব ক্লাব ফুটবল এবং পরশু রাতে এই রোমাঞ্চ উপহার দিয়েছেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনার আলোকোজ্জ্বল রাতে লিওঁর পর শেষ আটে উঠেছে ফ্রান্সের আরেক দল বোর্দো। গ্রিসের অলিম্পিয়াকোসকে তারা হারিয়েছে ২-১ গোলে। ২০০৪ সালের পর ফ্রান্সের দুটি দল উঠল কোয়ার্টারফাইনালে।
মাত্র দুদিন আগেই ভ্যালেন্সিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছেন দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে। পরের ম্যাচটিতেই আরেকটি হ্যাটট্রিক প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। তাঁকে তা পেতে দেননি স্টুটগার্ট গোলকিপার ইয়েন্স লেম্যান দুর্দান্ত দুটি সেভ করে। তবুও মেসির ‘হ্যাটট্রিক’ হলো, অন্যভাবে। বার্সেলোনা প্লে-মেকার নিজে দুটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়ে করিয়েছেন একটি।
প্রথম নিজেদের মাঠে বার্সেলোনাকে ১-১ রুখে দিয়ে স্টুটগার্ট ন্যু ক্যাম্পে এসেছিল আত্মবিশ্বাসে খানিকটা জ্বালানি ভরেই। কিন্তু কোথায় কী! সেই আত্মবিশ্বাস ১৩ মিনিটেই উধাও মেসির গোলে। প্রতিপক্ষের সীমানায় বল পেয়ে মেসি সেই যে সবাইকে স্তম্ভিত করে ছুটলেন, তাঁর বাঁ পায়ের তীব্র শট সেটি শেষ করল লেম্যানকে জায়গায় দাঁড় করিয়ে জালে ঢুকে। ৯ মিনিট পর গোল করেন পেদ্রো, ওটাও মেসির বানিয়ে দেওয়া। ৬০ মিনিটে ওই পেদ্রোর ক্রসে আরও দুরূহ কোণ থেকে মেসি করেন নিজের দ্বিতীয় গোল, সব প্রতিযোগিতা মিলে শেষ চার ম্যাচে যেটি তাঁর অষ্টম আর মৌসুমের ২৯তম গোল। এই গোলেই শেষ হয়ে গিয়েছিল স্টুটগার্ট। অসহায় জার্মান দলটির বিপক্ষে ইনিয়েস্তার বদলি বোজান কিরকিচ মাঠে নেমে প্রথম ছোঁয়াতেই করেন গোল। বার্সেলোনা জেতে ৪-০ গোলে, দুই লেগ মিলিয়ে জয়ের ব্যবধান ৫-১। ‘ব্যক্তিগত এবং দলগত নৈপুণ্যে বার্সেলোনা দারুণ শক্তিশালী’—এটা জানতেন স্টুটগার্ট কোচ ক্রিস্টিয়ান গ্রস, কিন্তু ভাবতে পারেননি ন্যু ক্যাম্পে এমন দুর্যোগ তাদের অপেক্ষায় ছিল। তাঁর ধারণা, ‘রিয়াল মাদ্রিদের বিদায়ই তাদের (বার্সেলোনা) জন্য ছিল বাড়তি অনুপ্রেরণা।’
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালের মাঠ বার্নাব্যুতে আগামী ২২ মের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল কি তাহলে বার্সেলোনার জন্য হবে আরও বড় অনুপ্রেরণার? শিরোপা অনেক দূরের পথ। রিয়ালের পর বিদায় হয়েছে সেভিয়ারও। স্পেনের পতাকা বইছে এখন বার্সেলোনাই, এবং আশ্চর্যের ব্যাপার, পুরো স্পেন বার্সার পেছনে নেই। রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্সেলো যেমন চান, ‘বার্সেলোনা ফাইনালে না উঠতে পারলেই ভালো লাগবে।’
আজ হবে চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের ড্র। হতে পারে শেষ আটে বার্সেলোনা পেয়ে গেল ফ্রান্সের বোর্দোকে, যারা পরশু অলিম্পিয়াকোসকে বিদায় করেছে তাদের ২-১ গোলে হারিয়ে। তিন খেলোয়াড়ের লাল কার্ড দেখা ম্যাচে ফ্রান্স চ্যাম্পিয়নরা প্রথম এগিয়ে যায় ইওয়ান জোরকাফের ফ্রি-কিকে। বদলি খেলোয়াড় কনস্টান্টিনোস মিত্রোগ্লুর সুযোগসন্ধানী গোলে সমতায় ফেরে গ্রিসের দলটি। মারাওনে চামাখের ৮৮ মিনিটের গোল শেষ আটে তুলে দেয় বোর্দোকে। বোর্দোকেই শেষ আটের দুর্বলতম দল মনে হতে পারে আপাতদৃষ্টিতে। কিন্তু কে জানে, তারাও বার্সেলোনার মুখোমুখি হয়ে লিওঁর মতো কিছু ঘটিয়ে ফেলবে না! লিওঁকেও দুর্বল মনে হয়েছিল রিয়ালের কাছে। কিন্তু ফ্রান্সের ওই দলটিই কদিন আগে স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে ৯ বারের চ্যাম্পিয়নদের, ফাইনালের আগে বার্নাব্যুকে ঢেকে দিয়েছে ‘শোকের চাদরে’।
তবে এটি সত্যি, বার্সেলোনা যেমন ফর্মের তুঙ্গে, তাদের এড়াতে চাইবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, বায়ার্ন মিউনিখ, ইন্টার মিলান, আর্সেনাল, লিঁও, বোর্দো, সিএসকেএ মস্কো—সবাই।

ক্ষমা চেয়েছেন ব্রডও

গ্রায়েম সোয়ানের পথে হাঁটলেন স্টুয়ার্ট ব্রডও, ক্ষমা চাইলেন কৃতকর্মের জন্য। জুনায়েদ সিদ্দিককে আউট করে সোয়ানের আলোচিত ‘বিদায় সম্ভাষণের’ আড়ালে চাপা পড়ে গেছে, নইলে চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ দিনে অখেলোয়াড় সুলভ আচরণ করেছিলেন ব্রডও। সেটিও প্রতিপক্ষ কোনো ক্রিকেটারের সঙ্গে নয়, আম্পায়ারের সঙ্গে!
ঘটনা ম্যাচের ১১৫তম ওভারের। ব্রডের একটি স্টাম্প সোজা ফুল লেন্থ বল সরাসরি লাগে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান আবদুর রাজ্জাকের প্যাডে, এক ঝলক দেখেই বোঝা গিয়েছিল পরিষ্কার আউট। কিন্তু আউট বোঝা গেলেও তো আবেদন করতে হবে আর আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে! ব্রডের সে তর সয়নি, পায়ে লাগার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্যাপন শুরু করেছেন, আবেদন করা তো দূরের কথা আম্পায়ার রড টাকারের দিকে ফিরে তাকাননি পর্যন্ত। নিজের ভুলটা বুঝতে পেরে পরে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন টাকারের কাছেই, ‘পুরো সকালটাই ছিল আমাদের জন্য হতাশাজনক। ব্যাটসম্যানের পায়ে লাগার সঙ্গে সঙ্গেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম সে আউট। এমনিতে আম্পায়ারদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক কখনোই খারাপ কিছু ছিল না, রডকেও বলেছি, আমার ব্যবহারের জন্য দুঃখিত। তিনি হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন, আমি ভুল করেছি এবং ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু উনি ব্যাপারটাকে সিরিয়াসলি নেননি। দিনটা যে আমাদের জন্য কঠিন ছিল, এটা তিনি বুঝতে পেরেছেন।’
নিজের ভুল স্বীকার করেছেন, তবে আম্পায়ারদেরও যে কখনো কখানো কিছু ভূমিকা রাখা উচিত, মনে করিয়ে দিয়েছেন সেটাও, ‘ক্রিকেটারদের অনেক হতাশার মুহূর্ত আসে, কখনো কখনো কেউ কেউ সীমা লঙ্ঘনও করে ফেলে, এ সময় আম্পায়ারদের উচিত ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলে মাথা ঠান্ডা রাখতে বলা।’ তবে আম্পায়ারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কারণে নিজের আগ্রাসী মনোভাবের সঙ্গে কোনো আপস করতে রাজি নন ব্রড, ‘মাঠে আপনার উপস্থিতি বোঝানোটাও সমান জরুরি। আমরা সবাই দেশের হয়ে খেলছি, কাজেই সেই আবেগ এবং গর্ব কাজ করবেই।’