Monday, March 28, 2016

ব্যতিক্রমী স্বীকারোক্তিতে সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৭৯ মামলা by মেহের সাত্তার

হিসাবটা শুধু বাংলাদেশে ইংরেজি ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনামের জন্য একটি হতবিহ্বল অভিজ্ঞতা। ফেব্রুয়ারি থেকে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৭৯টি। এর মধ্যে ৬২টি মানহানি ও ১৭টি রাষ্ট্রদ্রোহের। যদি সব মামলায় তিনি অভিযুক্ত হন তাহলে ১৭৫ বছর পর্যন্ত তার জেল হতে পারে। এরই মধ্যে তাকে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫০টিতে শুনানির জন্য বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে ছুটে বেড়াতে হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কাছে এসব মামলাকে একীভূত করার আবেদন জানিয়ে যাচ্ছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, যেমনটা তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, একই দিনে একাধিক স্থানে আমাকে সশরীরে হাজির হতে হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এসব মামলার নেপথ্যে তারা নেই। তবে বেশির ভাগ মামলাই করেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। কমপক্ষে একটি মামলা করেছেন একজন পাবলিক প্রসিকিউটর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অসমর্থিত অভিযোগ নিজের পত্রিকা, দ্য ডেইলি স্টারে কয়েক বছর আগে তিনি প্রকাশ করার কারণে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। তার এ স্বীকারোক্তি ছিল ব্যতিক্রমী। এর পর থেকেই তার বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়েছে।
২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। এ নির্বাচনে কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ। তারপর থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা। ওই জাতীয় নির্বাচন বিএনপি ও এর নেতাকর্মীদের প্রান্তিক পর্যায়ের দিকে নিয়ে গিয়েছে। গত বছর সহিংস প্রতিবাদের ফলে শতাধিক মানুষ মারা যাওয়া সত্ত্বেও তারা টিকে আছেন।
রাজনৈতিক বিরোধিতা ক্ষীণ হয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের সমালোচনামূলক রিপোর্ট প্রকাশ ক্রমাগত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্য ডেইলি স্টারের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশে বাংলা ভাষার দ্বিতীয় জনপ্রিয় পত্রিকা প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে ২৫টি মানহানির মামলা চলমান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, এসব মামলা বাংলাদেশের সুশীল সমাজকে আরও দুর্বল করে দেবে। মামলাগুলো শুধু মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধেই কঠোর সংকেত নয়। একই সঙ্গে তা সকল মিডিয়ার জন্যও। যে সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে, যদি আপনি তা অতিক্রম করেন তাহলে আপনার বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রদ্রোহের বিচার হতে পারে।
এ দুটি পত্রিকার বিরুদ্ধে চাপ আগে থেকেই বাড়ানো হয়েছে। গত আগস্টে পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা ৫ জনকে হত্যা করে বলে রিপোর্ট প্রকাশ করে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার। তারপর থেকেই এ দুটি পত্রিকায় বড় বড় বেসরকারি বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করা হয়। এর ফলে বিজ্ঞাপন থেকে যে রাজস্ব আসে দ্রুততার সঙ্গে তার পতন ঘটে। একজন নির্বাহী বলেছেন, সরকার থেকে বিজ্ঞাপনদাতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। নাইজেরিয়ান কোম্পানি টেলিনর গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট টর ওডল্যান্ড ওই সময় এক বিবৃতিতে বলেন, টেলিনরের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ বিষয়ক কোম্পানি গ্রামীণফোন অন্য বৃহৎ করপোরেশনের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে একটি নির্দেশনা পেয়েছে। তাতে বাংলাদেশের এ দুটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে বলা হয়েছে। তবে এমন নির্দেশনার কথা অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা। তারপর থেকেই দ্য ডেইলি স্টারে একবারের জন্য মাঝে মাঝে বিজ্ঞাপন দিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণফোন।
গত মাসে যখন দ্য ডেইলি স্টার তার ২৫তম বার্ষিকী পালন করে তখনই উত্তেজনা ফিরে আসে। একটি টেলিভিশনের টক শোতে প্রশ্নের জবাবে ২০০৭ সালের একটি সিদ্ধান্তের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। ওই সময়ে বাংলাদেশে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায়। মাহফুজ আনাম স্বীকার করেন, সামরিক গোয়েন্দা বিষয়ক কর্মকর্তাদের দেয়া অভিযোগ তিনি যাচাই না করেই প্রকাশ করেছিলেন। এসব দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতেই বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তখন গ্রেপ্তার করে ১১ মাস আটকে রাখা হয়েছিল। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকেই আটক করা হয়েছিল।
মাহফুজ আনামের এই স্বীকারোক্তির পর পরই ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি ওই পোস্টে মাহফুজ আনামের জেল দাবি করেন এবং রাষ্ট্রদ্রোহের বিচার করার আহ্বান জানান।
তার ওই পোস্ট দেয়ার পর পরই শুরু হয় মানহানি মামলা। কখনও কখনও এক দিনে এ মামলার হার ৫ বা তারও বেশি হয়ে যায়। বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, এসব মামলা করার পেছনে সরকার নেই। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে এসব সরকার করছে না। মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে জনগণ। তিনি আরও বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকে সরকারের সমালোচনামূলক লেখা প্রকাশ অব্যাহত রেখেছে দ্য ডেইলি স্টার। তাতে সরকারের কোন সমস্যা নেই। এখানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাহফুজ আনামের বিচার চাওয়ার অধিকার আছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলের।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দাবি, মাহফুজ আনাম তার পত্রিকা থেকে পদত্যাগ করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড়ান। এক সরকারি আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যেমন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি সেরকমই বিচার হবে এসব সম্পাদকের।
নিজের বিরুদ্ধে এসব মামলায় নিজেই স্তম্ভিত মাহফুজ আনাম। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে যেসব সংবাদ ছাপা হয়েছিল সেগুলো ছিল ‘জাতীয় সংবাদ। তা সবাই প্রকাশ করেছিল’। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এখনও পুলিশ বা অন্য কোন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে লড়াইয়ে বেসামরিক মানুষ মারা যাওয়ার বিষয়ে তারা যেসব তথ্য দেয় তা প্রকাশ করতে সাংবাদিকদের ওপর চাপ রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের যেসব তথ্য দেয়া হচ্ছে তা কতটুকু বাস্তবনির্ভর তা যাচাই করতে আমাদের কি কোন সুযোগ আছে? আমাদের তা নেই।
মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে প্রথম রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ওই পত্রিকা যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তা ‘ওই পরিবার’কে নির্মূল করে দেয়ার উদ্দেশে করা হয়েছে। মিথ্যা তথ্য ছেপে এ দেশকে নষ্টচক্রের অধীনে ঠেলে দেয়ার প্রয়াস সেটা।
তার কাছে উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির রিপোর্টিং সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দু’হাত উঁচু করলেন। করতল দেখালেন। এর অর্থ যেন এটাই যে, এমন রিপোর্ট করার কোন দরকার নেই। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিতা, বাংলাদেশের প্রথম নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে দরদী একটি ডাকনামে ডাকেন। বলেন, আপনি কি বলতে চাইছেন যে, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কেউ আইন বহির্ভূত কিছু করেছেন? তার পরিবার কখনও তেমন কিছু করতে পারেন না। তেমন পরিবার হতে পারে না বঙ্গবন্ধুর পরিবার।
(নয়া দিল্লি থেকে যৌথভাবে রিপোর্ট করেছেন ইলেন বেরি।) 
(যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

বার্নি স্যান্ডার্সের বড় জয়

বার্নি স্যান্ডার্স
যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গরাজ্য ওয়াশিংটন, আলাস্কা ও হাওয়াইতে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী বাছাইপর্বের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো গত শনিবার। তিন রাজ্যেই বড় ধরনের ব্যবধানে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স পরাস্ত করেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ফার্স্টলেডি হিলারি ক্লিনটনকে। তবে এই ফলাফল বড় কোনো বিস্ময়ের সৃষ্টি করেনি। শ্বেতাঙ্গপ্রধান এই তিনটি রাজ্যে স্যান্ডার্স বরাবরই জনমত জরিপে এগিয়ে ছিলেন। বিজয়ের সম্ভাবনা কম জেনে হিলারি ক্লিনটন এই তিন রাজ্যে কার্যত কোনো প্রচার চালাননি। অন্যদিকে, স্যান্ডার্স তিন রাজ্যেই নির্বাচনী প্রচারণায় বিস্তর অর্থ ব্যয় করেন। যাঁরা স্যান্ডার্সকে আগ থেকেই খরচের খাতায় লিখে রেখেছিলেন, এই ফলাফলে তাঁদের মত বদলাবে তা মনে হয় না। ছাত্র, তরুণ, অধিক শিক্ষিত, শহুরে ও শ্বেতকায়দের মধ্যে স্যান্ডার্স বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তাঁদের সমর্থনেই তিনি চাঁদা সংগ্রহের ক্ষেত্রে আগের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলেছেন। কিন্তু অশ্বেতকায়, বিশেষ করে আফ্রিকান-আমেরিকান ও হিস্পানিকদের মধ্যে হিলারি ক্লিনটনের জনপ্রিয়তায় তিনি আঁচড় বসাতে পারেননি।
তবে এই অবস্থা পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। শনিবারের নির্বাচনে চমৎকার ফল পাওয়া ছাড়াও স্যান্ডার্সের জন্য আরেকটি সুখবর এসেছে। ব্লুমবার্গের নেওয়া এক জনমত জরিপে তিনি হিলারির চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে গেছেন। এত দিন পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি জনমত জরিপে হিলারি স্যান্ডার্সের তুলনায় জাতীয় পর্যায়ে স্বস্তিজনক ব্যবধানেই এগিয়ে ছিলেন। স্যান্ডার্সের জন্য ভালো খবর রয়েছে আরও একটি। সিনএনএনের নেওয়া এক জনমত জরিপ অনুসারে, এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তিনি সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রায় ২০ পয়েন্টে পরাস্ত করবেন। জরিপ বলছে, হিলারিও ট্রাম্পকে পরাস্ত করবেন, তবে মাত্র ১২ পয়েন্টে। আগামী মাস থেকে বাছাই পর্বের নির্বাচন তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চক্রে প্রবেশ করবে। এই পর্বের প্রথম নির্বাচন হবে উইসকনসিনে। এই রাজ্যের ডেমোক্রেটিক সমর্থকেরা তাঁদের উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য পরিচিত। স্যান্ডার্স আশা করছেন, এখানেও তিনি ভালো করবেন। হিলারির আশা, তিনিও এখানে আফ্রিকান-আমেরিকান ও নারী সমর্থকদের পিঠে সওয়ার হয়ে বিজয় ছিনিয়ে নেবেন। এই এপ্রিল মাসেই নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়াসহ পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ভোট হবে। বাছাই ভোটে স্যান্ডার্স তাঁর সঙ্গে সমানে সমান পাল্লা দিলেও সুপার ডেলিগেটদের সমর্থনে হিলারি এখন পর্যন্ত ভালো অবস্থায় রয়েছেন। নির্বাচিত প্রতিনিধি ও দলীয় কর্মকর্তারা, যাঁরা সুপার ডেলিগেট হিসেবে জুলাই মাসের দলীয় কনভেনশনে নিজের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন, তাঁদের অধিকাংশই হিলারির পক্ষে। স্যান্ডার্স ডেমোক্রেটিক পার্টির এই সুপার ডেলিগেট ব্যবস্থাকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, স্যান্ডার্স যদি তাঁর জয়ের ধারা অব্যাহত রাখেন এবং নিউইয়র্ক-ক্যালিফোর্নিয়ার মতো বড় রাজ্যে বিজয় অর্জন করেন, তাহলে সুপার ডেলিগেটরা তাঁদের ঘোষিত অবস্থান বদলাতেও পারেন।

ব্রাসেলসে সন্ত্রাসবিরোধী বিক্ষোভ

বিক্ষোভরত উগ্র ডানপন্থীরা l রয়টার্স
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে গতকাল রোববার দুপুরে সন্ত্রাসবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় উগ্র ডানপন্থীরা বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হলে পুলিশ তাদের ওপর জলকামান প্রয়োগ করে। পুলিশ এক পর্যায়ে তাদের বিক্ষোভস্থল প্লস দে লা বুর্স থেকে সরিয়ে দেয়। গত মঙ্গলবারের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে প্লস দে লা বুর্সে কয়েকদিন ধরে শোক ও নীরবতা পালন চলছিল। এর আগে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় শনিবার বিকেলে পরিকল্পিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ‘মার্চ এগেইনস্ট ফিয়ার’ (আতঙ্কের বিরুদ্ধে মিছিল) স্থগিত করা হয়েছিল। বেলজিয়ামের পুলিশ গতকাল নতুন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় মোট নয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বাকি পাঁচজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, ব্রাসেলস হামলার মূল কেন্দ্র জাভেন্তেম বিমানবন্দরে অনুসন্ধান শেষ করেছে পুলিশ। দেশটির পুলিশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গতকাল এ কথা জানানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের মূল ভবনটি অক্ষত রয়েছে। বিমানবন্দর ও পাতালরেলে মঙ্গলবারের ওই ভয়াবহ হামলায় তিন সন্ত্রাসীসহ ৩১ জন নিহত হয়। ওই ঘটনার পর বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালিতে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে, জার্মানির প্রচারমাধ্যম ডয়েচেভেলের খবরে বলা হয়, প্যারিস ও ব্রাসেলসে সন্ত্রাসী হামলায় যুক্তদের সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে ইতালির পুলিশ গত শনিবার আলজেরিয়ার এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। ইতালির সালেরনো শহর থেকে গ্রেপ্তার হন ৪০ বছর বয়সী জামাল এদিন ওয়াল। তিনি সন্ত্রাসীদের ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরিতে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

তালেবানের সঙ্গে সংঘর্ষে ৯ পাকিস্তানি সেনা নিহত

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওরাকজাই জেলার ডাবুরিতে গতকাল সোমবার তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নয়জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সেনারা জঙ্গি দমনে ওই এলাকায় অভিযান চালানোর সময় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।