Sunday, August 9, 2015
আবার দলবদলের হিড়িক by আলী রীয়াজ
দলের নামনিশানা মুছে দিয়ে বাকশালে যোগদানের ঘটনা নিশ্চয় অনেকের স্মরণে থাকবে। ক্ষমতায় বসে দল গড়ার ঘটনা বাংলাদেশে সেই প্রথম। ক্ষমতাসীনদের হাতে যে জাদুর কাঠি তার স্পর্শ পেতে আক্ষরিক অর্থেই প্রতিকূল আবহাওয়ায় মিছিল করে সারিবদ্ধভাবে লোকজন তাতে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু তাদের একাংশ যে পরে খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বাধীন সরকার বা দলে যোগ দিয়েছিল, সেটা অবশ্যই পক্ষত্যাগ, যারা পরে মোশতাক আহমদের তৈরি দলে যোগ দিয়েছিল, তাদের জন্য এটি দলবদল। ১৯৭৯ সালে ক্ষমতায় বসে জিয়াউর রহমান যখন জাগদল এবং পরে বিএনপি গঠন করেন, সে সময় দলবদলের উৎসব শুরু হয়েছিল মনে পড়ে, স্বেচ্ছায়-অনিচ্ছায় নিজের দল গুটিয়ে যোগ দেওয়ার ঘটনা যেমন ছিল, তেমনি ছিল সন্তানের সাত খুন মাফের বিনিময়ে দলে যোগ দেওয়ার ঘটনা। গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনীতির কাজে লাগানোর, দল ভাঙার, রাজনীতিবিদদের দলবদলে ‘উৎসাহী’ করার যে রীতি শুরু হয়েছিল, সেই ঐতিহ্য অব্যাহত রেখেছিলেন আরেক সেনাশাসক জেনারেল এরশাদ। সেই ধারা যে এখন শেষ হয়েছে, সেটা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবেন না।
তারপরে তো রয়েছে বিপদগ্রস্তদের কিংবা হঠাৎ করে ‘আলো দেখা’ মানুষের দলবদলের ঘটনা, তার উদাহরণের জন্য খুব বেশি দূর যেতে হবে না। জামায়াত-বিএনপির কর্মীদের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগদানের খবর পাওয়া যাচ্ছে বেশ নিয়মিতভাবেই। গত কয়েক মাসে তা বেড়েছে কয়েক গুণ। এদের মধ্যে জামায়াতের কর্মীদের সংখ্যা কম না বেশি তা গুনে দেখার সুযোগ হয়নি, তবে বেশি বলেই জনশ্রুতি। এটা বেশ আগ্রহোদ্দীপক বিষয় এই কারণে যে গত কয়েক বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের কর্মীরা পর্যন্ত হরহামেশা বিএনপিকে শুধু জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের পরামর্শই দেন না, ওই সঙ্গ ত্যাগকে ভবিষ্যতে বিএনপির টিকে থাকার শর্ত বলেও বলেন। তার কারণ, ১৯৭১ সালে জামায়াতের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা এবং গত কয়েক বছরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণ। বিএনপি-জামায়াতের সখ্য বিএনপির জন্য এখন আর লাভজনক নয় এ কথা বলা যেতে পারে। দলগতভাবে বিএনপি জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করেছে বা জামায়াত বিএনপির সঙ্গ ত্যাগ করেছে এমন খবর পাওয়া না গেলেও, এই দুই দলের কর্মীদের অনেকে তাঁদের নিজ দলের সঙ্গ ত্যাগ করছেন।
অনেকেই বলতে পারেন যে নিজেদের রাজনৈতিক বিশ্বাসে পরিবর্তন ঘটা খুব দুরূহ নয়, বিশেষ করে যদি দলের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা থাকে, দলের কার্যক্রম ভুল বলে মনে হয়। এই যুক্তিকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। কিন্তু যদি কারও বিরুদ্ধে হত্যার মামলা থাকে এবং পুলিশের হাতে আটকের পর তিনি গিয়ে সরকারি দলে যোগদান করেন, তখন একে কি আমরা তাঁর রাজনৈতিক বোধোদয়ের বিষয় বলে বিবেচনা করতে পারব? চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সালামত আলী আটক হন রোববার সন্ধ্যায়, সোমবার সকালে তিনি ছাড়া পান, বিকেলেই তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তা-ও ঘটেছে প্রকাশ্যে, জনসমক্ষে, সাংবাদিকদের জানিয়ে।
গত কয়েক বছরে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনার কোনো রকম বিচার হয়নি, এ নিয়ে বাক্য বিস্তার হয়েছে অনেক। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, মামলা দায়ের করা হয়েছে, এখন তাঁদের সাদরে দলে টেনে নেওয়া হচ্ছে বিএনপি থেকে ছালামাত আলী যে প্রথম সরকারি দলে যোগ দিলেন এমন নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন অনেক ছালামত আলীই আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। জয়পুরহাটে গত পাঁচ মাসে কমপক্ষে তিন হাজার বিএনপি-জামায়াত কর্মী ও নেতা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় দলবদলের হিড়িক পড়েছে এই খবর দিয়ে গণমাধ্যম জানাচ্ছে যে তাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা পর্যন্ত হতাশ, তাঁরা এতে দলের আদর্শিক বিজয় এবং প্রতিপক্ষের সাংগঠনিক বিপর্যয় ভেবে উল্লসিত হচ্ছেন না। কারণটা স্পষ্ট হয় যখন তাঁদের সঙ্গে আমরাও জানতে পারি ‘নাশকতার মামলার আসামিরাও আছেন যোগদানের তালিকায়।’ শুধু তাই নয়, পুলিশ যোগদান করা ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে। তাহলে কি আগে যেসব অভিযোগ ছিল তা অসত্য, নাকি অপরাধ থেকে মুক্তিলাভের উপায় সরকারি দলে যোগদান?
জামায়াতের নেতা ও কর্মীদের যোগদানের পক্ষে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের যুক্তিও শোনা যেতে পারে। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলাম ১০ এপ্রিল যখন সরকারি দলে যোগদান করেন, তখন উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, ‘জামায়াতে অনেক ভালো লোক আছেন। খোঁজখবর নিয়েই তাঁকে দলে নেওয়া হয়েছে।’ রাজশাহীর চারঘাটের বিএনপির নেতা মোখলেসুর রহমান আওয়ামী লীগে যোগ দেন, তখন তাঁর কাছে একজন সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যেসব মামলা আছে, সেগুলো তুলে নেওয়ার শর্তে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন কি না, উত্তরে তিনি বলেছেন, বিষয়টি আওয়ামী লীগ নেতারা ‘দেখবেন’ বলে জানিয়েছেন।
৬ জুন জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলা জামায়াতের মজলিশে শুরার কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সালাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ সামছুল আলমের উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ২০১৪ সালের মাঝামাঝি থেকে জামায়াত নেতা-কর্মীদের সরকারি দলে যোগ দেওয়ার অনেক ঘটনা রয়েছে। ২৮ মে ২০১৪ ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলা জামায়াতের সাবেক সভাপতি আবু বক্কর খান শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেনের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এর আগে ১৯ এপ্রিল গোপালগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এম এ নাসির আহমেদও সাধারণ সম্পাদক মেজবাউদ্দিনের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। ১৬ মার্চ ২০১৪ পাবনা সদর আসনের সরকারদলীয় সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্সের হাত ধরে পাবনার আতাইকুলা ইউনিয়ন জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা রাজ্জাক হোসেন, রোকন মাওলানা, ফরিদ হোসেন, ম উদ্দিন শেখ, মাওলানা আজিজ, মাওলানা উজ্জ্বলসহ জামায়াত-শিবিরের দুই শতাধিক কর্মী-সমর্থক আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
জামায়াতের নেতা-কর্মীদের দলবদলের অধিকার প্রশ্নাতীত, একইভাবে বিএনপির কর্মীদের জন্যও তা প্রযোজ্য। যে কেউ চাইলেই দল বদলাতে পারেন। আওয়ামী লীগ দলে কাকে গ্রহণ করবে, সেটা দলের বিবেচ্য বিষয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে সংঘিটত বিভিন্ন সহিংস ঘটনার কোনো রকম বিচার হয়নি, এ নিয়ে বাক্য বিস্তার হয়েছে অনেক। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, মামলা দায়ের করা হয়েছে, এখন তাঁদের সাদরে দলে টেনে নেওয়া হচ্ছে। ফলে এত দিন ধরে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা যে আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে, আশা করি সরকারি দলের নেতারা তা বুঝতে পারেন। আদর্শের প্রশ্নটা না হয় অন্য কোনো সময়ের জন্য তোলা থাকল, সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগের লাভ কতটা, সে বিষয়ে আমি সন্দিহান। আর এসব দেখে প্রশ্ন জাগে, জামায়াতের এই নেতা-কর্মীরা যদি অন্য কোনো দলে যোগ দিতেন, তবে তার কী প্রতিক্রিয়া হতো?
আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিভক্তির কবলে বিশ্বাস ৯: সবাই বিভাজিত, দুর্ভাগ্যজনক by উৎপল রায়
ড. মোস্তাফিজুর রহমান
সিপিডির (সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বাধীন পর্যালোচনা, স্বাধীন মূল্যায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সিভিল সোসাইটি তথা সুশীলসমাজ অনেক অবদান রেখেছে। শক্তিশালী সুশীলসমাজ শক্তিশালী গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যে আলোকিত দর্শন প্রয়োজন তা সিভিল সোসাইটি ধারণ করে। অর্থনৈতিক, সামাজিক সব ক্ষেত্রে তাদের নীতি-দর্শন প্রয়োগ করে অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান করে। এ ছাড়া স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিতে পারে সিভিল সোসাইটি। কিন্তু বর্তমানে দেশের সিভিল সোসাইটির অনেক দুর্বলতা রয়েছে। ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের দেশের সিভিল সোসাইটির মধ্যে বিভাজন ও মতপার্থক্য আছে। তবে, অন্ধ আনুগত্য থেকে যদি প্রকৃত গণতান্ত্রিক চর্চার দিকে সিভিল সমাজ ধাবিত হয় তাহলেই কেবল ইতিবাচক কিছু হবে বলে আমার বিশ্বাস।
মোয়াজ্জেম হোসেন
দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বর্তমান সিভিল সোসাইটি এত বেশি বিভাজিত ও বিভক্ত হয়ে গেছে, তাদের মধ্যে এখন দলীয়ভাবে সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। দলীয় ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার মতো মানসিকতা তাদের এখন নেই। তিনি বলেন, সুশীলসমাজের এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইনস্টিটিউটগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। বিশেষ করে এ ক্ষেত্রে মেধা, দক্ষতা, প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিচালিত করতে পারলে এ থেকে কিছুটা উত্তরণ ঘটানো সম্ভব।
গোলাম মোর্তোজা
সিভিল সোসাইটির বিভাজন ও বিভক্তি প্রসঙ্গে সাপ্তাহিক সম্পাদক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মোর্তোজা বলেন, আমাদের দেশের সরকারগুলো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে অধিকাংশ সময়ই জনস্বার্থে কাজ করে না। তারা সত্যের পরিবর্তে অসত্য কথা বলে। নাগরিক সমাজের কাজ সরকারের জনস্বার্থবিরোধী কাজের প্রতিবাদ করা। অসত্যের বিপরীতে সত্য বলা। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে করা হলেই জনগণের কাছে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্যতা পায়। কারণ, নাগরিক সমাজ বিশেষ কোন দল বা মতকে সমর্থন করেন না। তারা সব সময় সত্যের পক্ষে, জনগণের পক্ষে কথা বলেন। যে কারণে নব্বইয়ে দশক পর্যন্ত সব কটি আন্দোলনে নাগরিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি বলেন, নাগরিক সমাজ মূলত একটি প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো আমাদের সমাজের সর্বত্র যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, বর্তমান সুশীল বা নাগরিক সমাজও তার বাইরে থাকতে পারেনি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক, নাগরিক সমাজের বড় অংশটি নিজেদের আওয়ামী লীগ-বিএনপির কর্মীতে পরিণত করেছেন। এখন নাগরিক সমাজ নাম নিয়ে চলছে দলদাস বিবেকহীনদের রাজত্ব। রাজনৈতিক দলের পক্ষে তারা অবলীলায় মিথ্যা বলেন। এমনকি পদ-পদবি এবং আর্থিক সুবিধা পেয়ে, রাজনৈতিক দলের কাছে তারা নিজেদের বিবেক বিক্রি করে দিয়েছেন। এ কারণেই নাগরিক সমাজ তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। তাই, জনগণ এখন আর আগের মতো তাদের কথা বিশ্বাস করে না। রাজনৈতিক নেতারা তাদের করুণা করেন, সম্মান করেন না। গোলাম মোর্তোজা আরও বলেন, ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়। যেহেতু ফ্যাসিবাদী মানসিকতা নিয়ে দেশ শাসন চলছে, এর মধ্যে যারা বিপরীত স্রোতে দাঁড়িয়ে সত্য বলছেন, বলার চেষ্টা করছেন তাদের নানাবিধ সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এমনকি অসম্মান, চরিত্রহননের মতো কাজও চলছে তাদের বিরুদ্ধে। সংখ্যায় কম হওয়ায় তারা খুব সুবিধা করতে পারছেন না। এ ছাড়া সমূহ বিপদ থেকে বাঁচার জন্য নীরব থাকার নীতিও গ্রহণ করেছেন অনেকে। এজন্যই সমাজে আজ বেশি প্রয়োজন ছিল একজন এবিএম মূসা, ফয়েজ আহমদ, ড. আহমদ শরীফ, আহমদ ছফা বা হুমায়ুন আজাদের মতো মানুষ। চরম প্রতিকূলতায় দাঁড়িয়েও যারা সত্য বলতেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্বপনের মৃত্যু by আনিসুল হক
![]() |
| কীটনাশকে লিচুবাগানগুলোর পাতা-কুড়ানিরা মারা গেল কি গেল না, তাতে কীই-বা যায় আসে! |
ওরা তো মরবেই। ওরা যে প্রান্তিক শিশু। গ্রামের কৃষকের শিশু। তবে হ্যাঁ, একজন কিন্তু প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তিনি হলেন দিনাজপুরের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক, তিনি জানিয়েছেন, এই খবর স্রেফ গুজব। জেলায় লিচু খেয়ে কোনো শিশু মারা যায়নি।
এদিকে প্রথম আলোর দিনাজপুর প্রতিনিধি গেছেন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে। হাসপাতাল সূত্রে তিনি জানাচ্ছেন, গত ২৯ মে থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত ওই হাসপাতালে অজ্ঞাত রোগে ১২ জন শিশু ভর্তি হয়েছিল। একজনকে তার অভিভাবকেরা রংপুর মেডিকেল কলেজে সরিয়ে নেন। বাকি ১১ জনই হাসপাতালে মারা যায়।
প্রথম আলোর প্রতিনিধিকে হাসপাতালের চিকিৎসক বলেছেন, মৃত শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদের সবার বাড়ি লিচুবাগান-সংক্রান্ত এলাকায়।
প্রথম আলোর প্রতিবেদক দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামে যান। মারা যাওয়া শিশু স্বপন আলীর মা সাবিনা খাতুন জানান, বাগানের মালিকেরা লিচুগাছে এমন বিষ দিয়েছিলেন যে গন্ধ সহ্য করা যাচ্ছিল না। পরদিন অন্য শিশুদের সঙ্গে তাঁর ছেলে স্বপনও বাগানে যায় লিচু কুড়াতে। সাবিনা খাতুন বলেন, ‘রাইতত খাইদাই ঘুমাইছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরয়াল খালি বিছানাত গড়াগড়ি খাছে। খিঁচুনি আর জ্বর। সকাল আটটার সমে জ্ঞান হারাইছে। বীরগঞ্জ হাসপাতালত ডাক্তার ভালো করে দেখি সঙ্গে সঙ্গে দিনাজপুর পাঠাইছে। ডাক্তাররা অক্সিজেন স্যালাইন লাগাইছে। কিন্তু ওই রাইতত মোর জাদু মারা গেইছে।’ (প্রথম আলো, ২৫ জুন, ২০১৫)
১১ জন শিশু শুধু হাসপাতালে মারা গেছে। তিন সপ্তাহের মধ্যে। কতজন হাসপাতাল পর্যন্ত যায়নি, তা অনুমান করলে শিউরে উঠতে হয়। অথচ এই খবরে কারও মধ্যে কোনো বিকার দেখি না।
অথচ হুবহু একই খবর ২০১২ সালেও প্রকাশিত হয়েছিল। সেবারও লিচুবাগানে কীটনাশক দেওয়া লিচু খেয়ে মারা গিয়েছিল শিশুরা। সেবারও সেই খবরের সত্যতা অস্বীকার করা হয়েছিল। এবং আমরা সবাই এ রকম কিছু আদপে ঘটেনি ভেবে পাশ ফিরে শুয়েছি। আমাদের বিবেককে জাগতে দিইনি, পাছে বিবেকের দংশনে আমাদের আরামে বিঘ্ন ঘটে।
গরিবের শিশু মারা গেলে কী? ঢাকা থেকে বহুদূরে দিনাজপুরের লিচুবাগানগুলোর পার্শ্ববর্তী পাতা-কুড়ানিরা মারা গেল কি গেল না, তাতে আমাদের কীই-বা যায় আসে!
শুধু ওই বাড়িগুলো শোকে স্তব্ধ। স্বপনের মা কাঁদেন। স্বপনের বাবা কাঁদেন। আর কাউকে বিলাপ করতে হবে না। কোনো পদক্ষেপ, কোনো উদ্যোগ আয়োজনেরও দরকার নেই।
কিন্তু যদি বলি, ওই লিচু ঢাকায় আসছে। ঘুষ হিসেবে, উপঢৌকন হিসেবে দিনাজপুরের লিচুর বড়ই কদর ঢাকায়। আপনার শিশু, আমার শিশুও ওই লিচু খাচ্ছে, খেয়েছে এবং খাবে। আপনিও খাবেন। আমিও খাব।
এইবার একটু গায়ে লাগবে। হায় হায়, আমার কিছু হবে না তো! আমার সন্তানের কিছু হবে না তো!
‘লিচুচোর’ আমাদের প্রিয় কবিতা। আমরা যে-কেউ লিচুবাগানের নিচে গেলে পড়ে থাকা লিচু মুখে দিতে পারি। বাজার থেকে কিনে এনেও তো লিচু খাই। সেই লিচুতে কী এমন বিষ দেওয়া হয় যে, কুড়িয়ে পাওয়া লিচু খেয়ে শিশুরা মারা যায়, প্রতিবছর। তাহলে কী করা যায়! একটা কিছু তো করাই উচিত!
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের প্রধান এস এম ওয়ারেস বলেছেন, লিচু পাকার মৌসুমে কৃষি বিভাগের উচিত বাগানে কীটনাশক প্রয়োগ নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা। পাশাপাশি কীটনাশক প্রয়োগের পর বাগানে শিশুদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ব্যাপক প্রচারণা দরকার।
আসলে এই দেশটা যাচ্ছেতাই একটা দেশ। যাচ্ছেতাই কথাটা সচেতনভাবে বসিয়েছি, এর মানে যা ইচ্ছা তাই—যার যা খুশি তা-ই করতে পারে এখানে। লিচুবাগান আমার, আমি যতটা ইচ্ছা কীটনাশক প্রয়োগ করব, কার কী! তার কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃত প্রথা-পদ্ধতি আছে কি না, কোন কীটনাশক কত মাত্রায় কখন প্রয়োগ করা যাবে, আদৌ প্রয়োগ করা যাবে কি না, কে দেখবে?
সরকারের বিভাগ আছে। তারাই সবার আগে তদারক করবে, সেটা তো স্বাভাবিক চাওয়াই।
কিন্তু আমাদের নাগরিকদের কি কোনো দায়িত্ব নেই, করণীয় নেই?
প্রথম কথা হলো, সচেতনতা। কীটনাশকের নির্বিচার প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে, যদি সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা বাংলার জল ফল শস্য সবুজ আমরা বাঁচাতে চাই। কীটনাশক দিলে শুধু ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন করা যায়, তা তো নয়, তা উপকারী পোকামাকড় কীট-জীবাণু, পাখপাখালিও বিনষ্ট করে। ওই বিষ মিশে যায় মাটিতে আর পানিতে। কত উপকারী প্রাণ যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই মেনে চলতে হবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত নিয়ম, পরিমাপ, মান। তার চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে আমাদের করতে হবে বিকল্পের সন্ধান। সেটা ফল সংরক্ষণে ফরমালিন ব্যবহার বন্ধের জন্যও বটে, ফল পাকানোর জন্য কার্বাইডের ব্যবহার বন্ধের জন্যও বটে। এবং আমাদের দেশের সৃজনশীল মানুষই চমৎকার চমৎকার পরিবেশবান্ধব বিকল্প উদ্ভাবনও করছেন। নিমপাতা বেটে ছিটিয়ে দিলে পোকা হয় না, এটা প্রয়োগ করতে দেখেছি টেলিভিশনে প্রচারিত কৃষিবিষয়ক অনুষ্ঠানে। আমাদের দেশে অনেকগুলো গ্রাম আছে, যে গ্রামগুলোকে স্থানীয় যুবকেরা ঘোষণা করেছেন পাখিবান্ধব গ্রাম হিসেবে, সেসব গ্রামে খেতে কোনো রকমের কীটনাশক দেওয়া হয় না, পাখিই সেখানে খেয়ে ফেলে ক্ষতিকর পোকা।
লিচুর পোকা নিয়ে নানা রকমের গল্প বহুকাল থেকেই এ দেশে প্রচলিত। একটা কৌতুক আছে, লিচুর পোকা থেকে বাঁচার উপায় হলো রাতের অন্ধকারে লিচু খেয়ে ফেলা। আজকাল লিচুতে পোকা থাকে না, তার মানে কিছু একটা করা হয়। কী করা হয়, এখন আমরা বেশ বুঝছি। বুঝছি স্বপনদের প্রাণের দামে।
কোনো বীরগঞ্জ উপজেলার কোনো সাদুল্লাপুরের স্বপনরা মারা গেলেই কী? বেঁচে থাকলেই কী? বহুদিন আগে, নব্বইয়ের দশকে এক জলোচ্ছ্বাসে লাখো মানুষের প্রাণহানি ঘটলে লেখক আহমদ ছফা ছুটে গিয়েছিলেন উপকূলীয় এলাকায়, সাংবাদিক নাজিম উদ্দীন মোস্তানকে বলেছিলেন, একজন মানুষের অপমৃত্যু হলেও পুরো জাতির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া উচিত।
আমিও তা-ই বলি, একটা প্রাণও আমরা অকালে অকারণে ঝরতে দেব না। একটা শিশুর মৃত্যুর খবরেও পুরো দেশকে নড়ে উঠতে হবে, পুরো দেশকে নাড়া দিতে হবে। মানুষের জীবন তো অপচয়িত হওয়ার জন্য নয়।
আর ওই গরিব মফস্বলের স্বপনরাই তো আজকের বাংলাদেশ, আগামীকালের বাংলাদেশ। কোন সাতক্ষীরার গ্রাম থেকে ৪৫ কিলোমিটার মোটরসাইকেলে চড়ে জেলা শহরে ক্রিকেট অনুশীলন করতে আসতেন মুস্তাফিজ, আজ তিনিই করেছেন বিশ্ব রেকর্ড। কক্সবাজারের গ্রাম থেকে এসেছেন মুমিনুল হক। নড়াইল থেকে মাশরাফি বিন মুর্তজা। আমরা কেউই সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাইনি, আর আমাদের মফস্বল শহরে কিংবা বন্দরের শৈশব ছিল উন্মুক্ত, বাধাহীন। পড়শির বাড়ির কাঁচা আম আমাদের ঢিলের অত্যাচারে কোনো দিনও পাকতে পারেনি, আর ছোটবেলায় লিচুগাছে জামগাছের ডালে চড়ে কাটিয়ে দিয়েছি ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কাঁচা লিচু মুখে দিয়ে গত বছরও খেয়েছি, রাঙামাটিতে গিয়ে, এবং সবাই বিস্ময়ের সঙ্গে আবিষ্কার করেছি, কাঁচা হলেও লিচুগুলো মিষ্টি। ভাগ্যিস, সেদিনের সেই লিচুতে অমন ভয়ানক বিষ অমন ভয়ানক মাত্রায় দেওয়া ছিল না।
সরকারের বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে তাই আকুল আবেদন জানাব, আপনারা একটু নড়েচড়ে বসুন, মানুষকে সচেতন করুন, উদ্বুদ্ধ করুন। আমের বেলায় কিন্তু বেশ কিছু উদ্যোগের সফলতা এ বছর আমরা পেয়েছি। তবে সবচেয়ে বেশি দরকার নাগরিক উদ্যোগ। যেমন আমরা অকারণে গাড়ির হর্ন বাজাই। আমাদের ট্রাকের পেছনে লেখা থাকে: ভেঁপু বাজান। আসলে ওখানে লেখা থাকা উচিত: হর্ন বাজাবেন না। গতকালের প্রথম আলোতেই প্রকাশিত হয়েছে এএফপির খবর: রাস্তার আওয়াজে আয়ু কমে। যানবাহনের তীব্র শব্দ থাকে, এমন এলাকায় বসবাস করলে আয়ু কমে যেতে পারে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। সভ্য দেশগুলোতে কেউ গাড়ির হর্ন বাজায় না। ওই সব দেশে কোনো গাড়ি যদি পেছন থেকে হর্ন বাজায়, সেটা সামনের গাড়ির চালকের কাছে চপেটাঘাতের চেয়ে অপমানসূচক বলে মনে হয়! এসব ব্যাপারে আমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে সচেতনতা সৃষ্টির আন্দোলন সূচনা করার জন্য।
বাগানে কিংবা খেতে কীটনাশক দেবেন না, দিতে হলে কৃষি বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত ওষুধ সঠিক সময়ে সঠিক মাত্রায় সব ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করে তারপর দেবেন—এই আওয়াজ তুলতে হবে আমাদেরই।
আর বারবার করে বলতে হবে, মানুষের প্রাণ অমূল্য। শিশুরা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। আর একজন স্বপনকেও আমরা হারাতে চাই না, তাদের আমরা দিতে চাই নিরাপদ শৈশব, দিতে চাই শিক্ষা স্বাস্থ্য খাদ্য। আমাদের রাজনীতি, আমাদের উন্নয়ন, আমাদের মধ্য আয়ের দেশ হতে চাওয়ার প্রয়াস তো শিশুদের উন্নত জীবনের সন্ধান দেওয়ার জন্যই, তাদের বিপন্ন করার জন্য নয়। একই সঙ্গে রক্ষা করতে হবে আমাদের মাটি, আমাদের নদী, আমাদের বাতাস, আমাদের পানি, আমাদের ফুল আর ফসল, পাখি আর পতঙ্গও। লোভের বশবর্তী হয়ে লাভের পেছনে আমরা যে ন্যায়নীতিহীন দৌড় প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছি, উন্নয়ন বলে যা আমাদের চোখে মায়াঞ্জন পরিয়ে রেখেছে, আমাদের বিবেককে ঢেকে দিয়েছে কালো আবরণে, তার প্রধান শিকার হচ্ছে প্রকৃতি, পরিবেশ—অর্থাৎ কিনা মানুষ, অর্থাৎ আমরাই। কাকে বলে উন্নয়ন, যদি না বাঁচে মানুষ?
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পার্টি আসক্ত স্ত্রী, অন্য পুরুষের সঙ্গে যাওয়ার হুমকি
কিন্তু আদালতে যখন স্বামী-স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা নিয়ে যাচ্ছেন, তখন কোন ধরণের নির্যাতনকে ‘মানসিক নির্যাতন’ হিসেবে গণ্য করা হবে, তা ঠিক করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন বিচারকরা।
সাম্প্রতিক কিছু বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় স্ত্রীদের বিরুদ্ধে স্বামীরা এমন কিছু বিষয়কে ‘মানসিক নির্যাতন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা বেশ কৌতুকের সৃষ্টি করেছে।
যেমন একজনের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী বেশি বেশি পার্টি করেন, এটা তার ওপর মানসিক নির্যাতনের সামিল। আরেকজন বলেছেন, তিনি বিচ্ছেদ চান, কারণ তাঁর স্ত্রীর যৌন ক্ষুধা খুব বেশি। আদালতে যখন এসব মামলা উঠছে, তখন বিচারকরা কিভাবে তাদের রায় দিচ্ছেন? বিবিসি হিন্দির অতীশ প্যাটেলের কাছে শোনা যাক এমন কিছু বিয়ে বিচ্ছেদের মামলার কাহিনী:
পার্টি আসক্ত স্ত্রী
স্বামী ছিলেন জাহাজের নাবিক। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী খুব কেবল পার্টি করে বেড়ান, এটা তার ওপর এক ধরণের মানসিক নির্যাতন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ডিভোর্স চেয়েছিলেন পারিবারিক আদালতে গিয়ে, আদালত তা মঞ্জুরও করে।
কিন্তু গত সপ্তাহে মুম্বাই হাইকোর্ট এই রায় উল্টে দিল। আদালতের মন্তব্য, স্বামী নিজেও যেখানে পার্টি করে বেড়ান, সেখানে স্ত্রীর পার্টি আসক্তিকে কোনভাবেই স্বামীর ওপর নির্যাতন বলে গণ্য করা যায় না।
অতিরিক্ত সেক্স
বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার ক্ষেত্রে যৌন মিলনবিহীন দাম্পত্য সম্পর্ককে অনেকেই কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। কিন্তু ভারতের একজন স্বামী এই বলে ডিভোর্স চেয়েছেন যে তাঁর স্ত্রীর যৌন আসক্তি খুব বেশি। মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন, স্ত্রীর অতিরিক্ত এবং অদমনীয় যৌন ক্ষুধার কারণে তিনি বিচ্ছেদ চাইতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্বামীর আরও অভিযোগ, এমনকি অসুস্থ অবস্থায়ও স্ত্রী তাকে সেক্স করতে বাধ্য করেছে। যদি তিনি রাজী না হন, সেক্ষেত্রে অন্য পুরুষের সঙ্গে সেক্স করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন।
শুনানি শেষে মুম্বাইয়ের পারিবারিক আদালত স্বামীর পক্ষে রায় দেন।
ব্রনের যন্ত্রণা
ভারতে এখনো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘটকালির মাধ্যমে পারিবারিকভাবেই ছেলে-মেয়ের বিয়ে দেয়া হয়, যেটাকে বলা হয় ‘অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ’। কিন্তু আগে থেকে দেখা না হওয়া বর-কনের মধ্যে বিয়ের পর নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়।
এভাবে বিয়ে করা এক স্বামী ডিভোর্সের মামলায় কারণ হিসেবে যা উল্লেখ করেছেন, সেটা নজিরবিহীন। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রীর মুখের ব্রন তার নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠেছে।
হানিমুনে গিয়ে স্ত্রীর মুখে ব্রনের দাগ দেখার পর তিনি আর এই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী হননি।
ডাক্তার অবশ্য স্ত্রীর পক্ষে সাক্ষী দিয়ে বলেছিল, ব্রনের সমস্য চিকিৎসার মাধ্যমে দূর করা সম্ভব। কিন্তু আদালতের রায় ছিল, এক্ষেত্রে ব্রনের সমস্যা লুকিয়ে স্বামীর সঙ্গে স্ত্রী প্রতারণা করেছে।
সূত্র: বিবিসি
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রথম আলো-আরডিএস বিতর্ক উৎসব: বিতর্কের মাধ্যমে মানবতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান
![]() |
| প্রথম আলো–আরডিএস জাতীয় বিতর্ক উৎসবে বিজয়ীদের সঙ্গে অতিথিরা। গতকাল ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে তোলা ছবি -প্রথম আলো |
তাই বিতর্কের মাধ্যমে পরমতসহিষ্ণুতার চর্চা অব্যাহত রেখে মানবতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রথম আলো-আরডিএস জাতীয় বিতর্ক উৎসবের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বক্তারা।
গতকাল শনিবার ছিল ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের আয়োজনে ও প্রথম আলোর সহযোগিতায় ষষ্ঠ প্রথম আলো-আরডিএস জাতীয় বিতর্ক উৎসবের সমাপনী দিন। ‘মুক্তির অন্বেষায় যুক্তির সারথি’-প্রতিপাদ্য সামনে রেখে গত বৃহস্পতিবার কলেজ মিলনায়তনে তিন দিনের এই উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান সুবহানী। তিন দিনের এ উৎসবে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮০টির মতো বিতার্কিক দল ও প্রায় আড়াই শ প্রতিযোগী অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাসাহিত্যিক ও কবি সৈয়দ শামসুল হক বলেন, যুক্তিতর্কের ওপরেই গোটা মানবসভ্যতা দাঁড়িয়ে আছে। মানুষের নিত্য অনুসন্ধিৎসু মন এই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়েই বর্তমানে এসে পৌঁছেছে। বিতর্কের সময় অতি দ্রুতলয়ে বক্তব্য দেওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিয়ে তরুণ বিতার্কিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, এত বেশি দ্রুততার সঙ্গে বললে যুক্তিতর্কের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। চিন্তা পরিষ্কার থাকে না। চিন্তা পরিষ্কার রাখতে পারলে ভাষা উন্নত হয়।
বিশেষ অতিথি প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম তাঁর বক্তব্যে বলেন, সমাজের সর্বত্র আজ সহিষ্ণুতার অভাব। আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের যে চেষ্টা তার অভাব। বিতর্কের চর্চা এ দুটি গুণকেই মানব মনে প্রোথিত করে দেয়। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান সুবহানী।
সমাপনী দিনে কলেজ পর্যায়ের চূড়ান্ত বিতর্কে ঢাকা কলেজ ডিবেটিং ক্লাব ও রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের বিতার্কিক দল রেমিয়ানস ডিবেটিং সোসাইটি (আরডিএস) মুখোমুখি হয়। এতে ঢাকা কলেজ ডিবেটিং ক্লাব জয়ী হয়। বিতর্কের নির্ধারিত বিষয় ছিল—‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শাসিত গণতন্ত্র এখন সময়ের দাবি’।
এদিকে স্কুল পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হয়েছে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল। শিশু পর্যায়ের বিজয়ী আরডিএসের শিশু বিতর্ক দল। সেরা বক্তা এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজের শাহরিয়ার কবির রাহাত। উৎসবে প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাবেরা সুলতানা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্র নিজের বিষেই জরজর by শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
![]() |
| বিমর্ষ ওবামা। ছবি: রয়টার্স |
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পর্যন্ত এই বেপরোয়া অস্ত্রবাজি ও নির্বিচারে নিরীহ মানুষ হত্যার ঘটনায় ত্যক্তবিরক্ত। গত জুনের তৃতীয় সপ্তাহে সাউথ ক্যারোলাইনার একটি ঐতিহাসিক গির্জায় এক শ্বেতাঙ্গের আগ্নেয়াস্ত্র যখন নয়জন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকের প্রাণ কেড়ে নেয়, ওই সময় ওবামার ক্ষোভ যেন নিষ্ফল আক্রোশ ও হতাশা হয়ে ঝরে পড়ে।
এ ঘটনায় হোয়াইট হাউসের মঞ্চে বিবৃতি দিতে গিয়ে ওবামা বলেন, ‘এ ধরনের বিবৃতি আমি বহুবার দিয়েছি।’ এ সব ঘটনা থেকে দেশবাসীকে বিরত থাকতে বলতে বলতে তিনি যে হয়রান, এটা পরিষ্কার বোঝা গেছে সেদিন। ওবামা স্বীকারও করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো এমন শিক্ষাদীক্ষা এবং আধুনিকতায় আগুয়ান আর কোনো দেশে এ ধরনের সহিংসতা ঘটে না।
যুক্তরাষ্ট্রে আচমকা গুলি ছুড়ে নিরীহ মানুষ হত্যার সর্বশেষ ঘটনা ঘটে গত ২৩ জুলাই। ওই দিন লুইজিয়ানার একটি সিনেমা হলে ছবি চলার সময় অস্ত্রধারী এক ব্যক্তি এলোপাতাড়ি গুলি করে দুজনকে মেরে নিজেও মরেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে সাতজন।
যুক্তরাষ্ট্রে হুটহাট এমন অস্ত্রবাজির ঘটনা বহু বছর ধরেই ঘটছে। তবে এ বছর যেন তা বেড়ে গেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সে দেশে এ পর্যন্ত ২০৪ দিনে ২০৪টি আগ্নেয়াস্ত্র-বিষয়ক সহিংস ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্র একটি আগ্নেয়াস্ত্রের দেশ। ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরি এবং বিক্রি করা তাদের ব্যবসা। নিজেরা পারমাণবিক মারণাস্ত্র মজুত করে বসে আছে, কিন্তু ইরান আর উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক স্থাপনা আর চুল্লি নিয়ে তাদের চিন্তার শেষ নেই। নিজেরা তো বটেই, সঙ্গে পশ্চিমা মিত্রদের নিয়ে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার লাগাম টেনে ধরতে চেষ্টার বিরাম নেই। এ চেষ্টায় ব্যবহার করার হচ্ছে নানা ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধের ফাঁস।
মার্কিন নেতারা যুদ্ধকবলিত দেশগুলোর দিকে আঙুল তুলে হরহামেশা গলা চড়িয়ে বলছেন, অস্ত্রের ঝনঝনানি থামাও, সহিংসতা বন্ধ করো, শান্তির পথ ধরো। তাঁদের দেশ থেকেই আবার প্রতি বছর মধ্যপ্রাচ্য, তুরস্ক, ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশে টনকে টন অস্ত্র রপ্তানি করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে হাজার হাজার কোটি টাকার অস্ত্রের ব্যবসা করছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্র মুখে মুখে সাম্যের গান গায়, কিন্তু নিজেরাই বর্ণবাদের লেবাসে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে। এই বিষাক্ত বীজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশ প্রশাসনের গভীরে রয়ে গেছে। গত বছর আগস্টে মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ফার্গুসন শহরে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ নিহত হওয়ার ঘটনা এর বড় উদাহরণ। এমন ঘটনা অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সাপুড়ে যেমন সাপ নিয়ে খেলে, যুক্তরাষ্ট্র তেমনি অস্ত্র নিয়ে খেলছে। সাপ যেমন প্রাণঘাতী, অস্ত্রও তাই। সাপ সাপুড়ের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। তারা সাপ পোষে। দন্তহীন সাপের খেলা দেখিয়ে, বিষধর সাপ বিক্রি করে পেট চালায়। সাপুড়েদের ঘরদুয়ারে ছড়িয়ে থাকে সাপ। তেমনি যুক্তরাষ্ট্রেও আগ্নেয়াস্ত্র খুব সহজলভ্য। আত্মরক্ষার নাম করে সে দেশে খুব সহজেই হালকা বা ভারী অস্ত্র বাগানো যায়।
বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বেসামরিক লোকজনের হাতে ২৮ কোটির বেশি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র রয়েছে। সে দেশে প্রতি বছর গড়ে ৪৫ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতি বছর গড়ে পুরোনো আগ্নেয়াস্ত্রই বিক্রি হয় প্রায় ২০ লাখ।
ইউএস গান ভায়োলেন্স স্ট্যাটেসটিকস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে ৩০ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়। তাদের অর্ধেকের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। অনেকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র-বিষয়ক সহিংসতার মূল কারণে অস্ত্রের সহজলভ্যতা। ঘরে ঘরে অস্ত্র থাকার কারণে রক্তক্ষয়ী ঘটনাও কম ঘটে না।
এএফপির খবরে জানানো হয়, গত মে মাসে ভার্জিনিয়ার একটি বাড়িতে দুই বছরের এক শিশু খেলতে খেলতে ড্রয়ারে পেয়ে যায় গুলিভরা আগ্নেয়াস্ত্র। সেটার নল মাথায় ঠেকিয়ে অবলীলায় ট্রিগার টিপে দেয় সে। ফল যা হওয়ার তাই। গত বছর ওকলাহোমার বাড়িতে তিন বছরের এক শিশু একইভাবে আগ্নেয়াস্ত্র পেয়ে গুলি করে বসে মাকে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি শেষ। এমন ঘটনার কথা বলে শেষ করা যাবে না।
এসব বন্দুকবাজি ও হত্যার ঘটনা খতিয়ে দেখে দ্য হার্ভার্ড ইনজুরি কন্ট্রোল রিসার্চ সেন্টারের বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোথাও আগ্নেয়াস্ত্র বেশি থাকলে সেখানে যে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটে, এ ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।
অনেকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন জনসংখ্যা বাড়ছে, অভিবাসন-প্রত্যাশী বাড়ছে, মানুষের মানসিক চাপ ও অস্থিরতা বাড়ছে, অর্থনৈতিক দুর্গতি বাড়ছে। এসব কারণে কিছু মানুষ বেপরোয়া হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হতাশার চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটাচ্ছে।
মার্কিন অর্থনীতিবিদ রিচার্ড ফ্লোরিডা বলেছেন, এসব মূল কারণ নয়। দেখা গেছে, যেসব অঙ্গরাজ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন তুলনামূলকভাবে কঠোর, সেসব অঙ্গরাজ্যে সহিংসতাও কম।
![]() |
| মাইকেল ব্রাউন হত্যার ঘটনায় ফারগুনে সহিংসতা। ছবি: রয়টার্স |
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইয়াকুবের পর এবার আফতাব আনসারিকে নিয়ে তটস্থ প্রশাসন
এমতাবস্থায় প্রশাসনের অন্দরে আশঙ্কা, আফতাবকে জেলের বাইরে পেলে তাকে ‘উদ্ধারে’র চেষ্টা হতেই পারে। তাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও রাজ্য সরকারের তরফে জেল-কর্তাদের কাছে নির্দেশ গিয়েছে, আফতাবের ছানি কাটানোর প্রক্রিয়াটি যেন অতি সাবধানে ও চূড়ান্ত নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সারা হয়।
আফতাবকে ঘিরে জেল-কর্তৃপক্ষের মাথাব্যথা অবশ্য বরাবরই। চার বছর আগে দিল্লির তিস হাজারি কোর্টের এক মামলায় তাকে হাজির করতে সকালের বিমানে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে সন্ধের মধ্যে কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। তার পরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ফরমান দেয়, আফতাবকে জেলের বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবে না। সেই ইস্তক জেল চত্বরের বাইরে সে পা রাখেনি। পয়লা নম্বর সেল মুড়ে ফেলা হয়েছে সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে। এমনকী, সেলের ভিতরেই ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের বন্দোবস্ত করে তার বিভিন্ন মামলার শুনানি হয়েছে। এতেও অবশ্য সব সময় আফতাবের ‘কার্যকলাপ’ রোখা যায়নি। কখনও সে জেলে বসে মোবাইলে কথা বলেছে, কখনও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলেছে। কুঠুরিতে বসে স্কাইপ করতেও ছাড়েনি! করাচিবাসী স্ত্রীর সঙ্গে আফতাবের ফোনালাপ গত অক্টোবরেই গোয়েন্দা-রেডারে ধরা পড়েছিল।
এ হেন লোক তো সুযোগ পেলেই চম্পট দিতে পারে, হামলার ছক কষাও বিচিত্র নয়। তাকেই কিনা জেলের বাইরে নিয়ে যেতে হচ্ছে! কিচ্ছু করার নেই! জেলের হাসপাতালে এ সব অপারেশন করানো যাবে না। বলছিলেন কারা দপ্তরের এক কর্তা। তার কথায়, ইনফেকশন হয়ে চোখের কোনও ক্ষতি হলে আর এক গেরো! বাধ্য হয়ে তারা বাইরের হাসপাতালে আফতাবের ছানি অস্ত্রোপচার করানোর বিশেষ অনুমতি চেয়েছিলেন দিল্লির কাছে। অনুমতি মিলেছে। স্থির হয়েছে, আফতাবকে এমন কোনও সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে উন্নত ও পরিচ্ছন্ন অপারেশন থিয়েটার আছে। অস্ত্রোপচার-পরবর্তী দেখভালের স্বার্থে দরকার পড়লে তাকে যাতে দু’-এক দিন হাসপাতালে রাখা যায়, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র-সচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় সে অনুমতি দিয়েছেন। ছানি অপারেশনের এক দিন বাদে সাধারণত একটা চেক-আপের দরকার পড়ে। সে ক্ষেত্রে আফতাবকে যাতে বারবার আনা-নেয়া করতে না হয়, সে কথা মাথায় রেখেই প্রয়োজনে তাকে হাসপাতালে দু’-এক দিন রাখার কথা ভাবা হচ্ছে।
ঠিক হয়েছে, কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের প্রহরায় আফতাবের চিকিৎসার কাজটা সারা হবে। ‘অতীব ঝুঁকিপূর্ণ’ দায়িত্বটি নির্বিঘে সম্পন্ন করতে জেল-কর্তারা আঁটঘাট বেঁধে নেমেছেন। কিন্তু আফতাবের ছানি কাটানোটা হঠাৎ এত জরুরি হয়ে পড়ল কেন?
জেল-সূত্রের খবর: কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে হানাদারির এক দিন পরে (২০০৩-এর ২৩ জানুয়ারি) দুবাইয়ে ধরা পড়েছিল যে তরতাজা ছেলেটি, সে এখন মধ্য চল্লিশ। চালশে ধরেছে। সঙ্গে ডায়াবিটিস, যাতে চোখের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে বলে মত দিয়েছেন জেলের ডাক্তারেরা। আফতাব নিয়মিত ডায়াবিটিসের ওষুধ খায়। তবু ব্লাড সুগার ২০০-২৪০। একেই চলাফেরার পরিধি নিয়ন্ত্রিত, উপরন্তু ‘ভিআইপি’ বন্দি হওয়ার সুবাদে খাটাখাটনি কম। সব মিলিয়ে সুগার আরও গেড়ে বসছে। কলকাতার এক সরকারি সংস্থার ডাক্তারেরা সম্প্রতি জেলে গিয়ে আফতাবের শারীরিক অবস্থা খুঁটিয়ে দেখেছেন। তাদের পর্যবেক্ষণ, ওর বাঁ চোখের ছানি না-কাটালেই নয়।
সেটা না-হওয়া পর্যন্ত আফতাবের চোখে নিয়মিত দু’ধরনের ড্রপ পড়েছে। একটা সংক্রমণ এড়াতে, অন্যটা দেয়া হচ্ছে যাতে চোখ শুকিয়ে না-যায়। পাশাপাশি চলছে ‘ডায়াবেটিক ডায়েট।’ ভাত-সহ কার্বোহাইড্রেট খাবারে রাশ টানা হয়েছে।
অর্থাৎ ‘উঁচু দরের’ কয়েদিকে সুস্থ রাখতে যা যা করণীয়, সবই হচ্ছে। কর্তাদের চিন্তা শুধু একটাই নিজের চোখ সারাতে গিয়ে আফতাব তাদের চোখে ধুলো দেবে না তো? চার কুঠুরির আড়ালে থেকেও তামাম কারা-প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছে আফতাব আনসারি।
সূত্র: আনন্দবাজার
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাদ্দাম আমলের শতাধিক সেনা কর্মকর্তা এখন আইএসের নেতৃত্বে -এপির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
ঘটনাটা এত দিন পরও ওমরানের স্পষ্ট মনে আছে। যদিও মেজর তাহা তাহের আল-আনির সঙ্গে এর মধ্যে আর দেখা হয়নি তাঁর। শেষমেশ ২০০৩ সালে আবার দুজনের সাক্ষাৎ ঘটে। ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে তখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চলছে। মার্কিন বাহিনী রাজধানী বাগদাদের দিকে ধেয়ে আসছে। সাদ্দামের পতন আসন্ন। এই পরিস্থিতিতে উত্তর বাগদাদের একটি সামরিক ঘাঁটিতে আল-আনি তাঁর অধস্তন সেনাদের একাধিক ট্রাকে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ তোলার নির্দেশ দেন। এসব অস্ত্র নিয়ে পরে তিনি আল-কায়েদার ঘনিষ্ঠ তাওহিদ ওয়াল-জিহাদ গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগ দেন।
স্মৃতিচারণা করে ওমরান বলেন, আল-আনি বর্তমানে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠীর কমান্ডার। আইএস সরকারের বিরুদ্ধে লড়ছে। অথচ একসময় তিনি ইরাকি সেনাবাহিনীরই মেজর জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এখন আইএসের পঞ্চম ডিভিশনের কমান্ডার।
আইএসবিরোধী লড়াই করছেন, ইরাকি বাহিনীর এমন বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আল-আনি একা নন। তাঁর মতো আরও অনেক সাবেক সেনা কর্মকর্তা আইএসে যোগ দিয়েছেন। আইএসের প্রধান ইরাকি জিহাদি আবু বকর আল-বাগদাদীর সঙ্গে সাদ্দামের শাসনামলের অনেক শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা হাত মিলিয়েছেন। ‘ইসলামি খেলাফত’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করছেন। এঁদের মধ্যে ইরাকের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ইউনিটের সাবেক প্রধানও আছেন।
গত বছরের জুনে ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে খিলাফত রাষ্ট্র ঘোষণা করে আইএস। এরপর থেকে সংগঠনটি নতুন নতুন এলাকা দখলের চেষ্টায় লড়াই করছে। যদিও তারা একপর্যায়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক বাহিনীর অভিযানের মুখে চাপে পড়ে। আইএস জঙ্গিদের সাফল্যের নেপথ্যের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, সাদ্দামের দক্ষ সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের যোগদান। এই কর্মকর্তারাই সারা বিশ্ব থেকে আইএসের সঙ্গে যোগ দেওয়া জিহাদিদের সংগঠিত করেন। তাঁদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানোর কৌশলও শিখিয়ে দেন। অনেকে ইরাকি সামরিক বাহিনীর খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করেন। সেই সঙ্গে অস্ত্র আধুনিকায়ন ও রাসায়নিক অস্ত্র তৈরিরও চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ইরাকের একনায়ক সাদ্দাম হোসেন ২০০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর মার্কিন বাহিনীর হাতে বন্দী হন। পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিতর্কিত বিচারের মাধ্যমে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর সাবেক কর্মকর্তা প্যাট্রিক স্কিনার বলেন, আইএসের শক্তি বৃদ্ধির পেছনে রয়েছেন সাদ্দাম আমলের বেশ কয়েকজন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তাদের কল্যাণেই গত বছর রণক্ষেত্রে বড় ধরনের সাফল্যের মুখ দেখে আইএস। একসময় ইরাকে দায়িত্ব পালন করা স্কিনার আরও বলেন, গত বছর আইএস যে সাফল্য লাভ করে, তা সন্ত্রাসবাদী ছিল না বরং ছিল সামরিক সাফল্য।
উদারপন্থী সাদ্দামের সামরিক কর্মকর্তাদের এখন বিশ্বের সবচেয়ে কট্টরপন্থী ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসে যোগ দেওয়ার কারণ কী? বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর পেছনে নানা কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ২০০৩ সালে মার্কিন দখলদারত্বে থাকা ইরাকের সেনাবাহিনী থেকে সাদ্দাম আমলের সামরিক কর্মকর্তাদের নিষিদ্ধ করা। এ ঘটনা ওই সেনা কর্মকর্তাদের ভীষণ ক্ষুব্ধ করে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, আইএসের উপপ্রধান সৌদ মোহসেন হাসানও সাদ্দাম আমলের মেজর ছিলেন। এ ছাড়া ওই আমলের ১০০ থেকে ১৬০ জন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এখন আইএসের বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাড়ে তিন বছরে ৯৬৮ শিশুহত্যা by মানসুরা হোসাইন
শিশু অধিকার নিয়ে কর্মরত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশু ধর্ষণসহ অন্যান্য নির্যাতনের পাশাপাশি বর্তমানে শিশুহত্যার সংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে নারী, শিশু-সংক্রান্ত মামলাসহ প্রায় ৩০ লাখÿ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ সংখ্যাটিও প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে।
বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ২৬৭টি সংগঠনের মোর্চা শিশু অধিকার ফোরামের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০১২ সালে ২০৯, ২০১৩ সালে ২১৮, ২০১৪ সালে ৩৫০ জন শিশুকে হত্যা করা হয়। চলতি বছরের সাত মাসেই সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ১৯১ জনে।
বর্তমানে শিশুহত্যার প্রক্রিয়া বীভৎস থেকে বীভৎসতর হচ্ছে বলে জানান বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আবদুছ শহিদ মাহমুদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের নৃশংস ঘটনার শিকার হচ্ছে মূলত দরিদ্র পরিবারের শিশুরা। নির্যাতনকারীরা হচ্ছে প্রভাবশালী। ঘটনা ঘটছে, মামলা হচ্ছে কিন্তু বিচার যে শেষ হচ্ছে, তার কোনো নজির দেখা যাচ্ছে না। ঘটনা ঘটার পর সরকারের পক্ষ থেকে হচ্ছে, দেখছি বা তদন্তাধীন আছে বললে হবে না।
জানতে চাইলে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ প্রথম আলোকে বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বাইরে হয়তো আরও ঘটনা ঘটছে, যেগুলো জানা যাচ্ছে না। ঘটনাগুলো সবার সামনে তুলে ধরার জন্য প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ দেন।
যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায় তারা মানুষের কাতারে পড়ে না বলে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সমাজে এদের সংখ্যা কম। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে এদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
বীভৎসতার মাত্রা: সিলেটে নির্যাতন করে হত্যা করা শিশু শেখ মো. সামিউল আলম ওরফে রাজনের (১৪) শরীরে ৬৪টি আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সবজি বিক্রেতা এই কিশোরকে চোর অভিযোগে গত মাসে পেটানোর সময় ভিডিওচিত্র ধারণ করে নির্যাতনকারীরাই। নির্যাতনের একপর্যায়ে মৃত্যু হয় সামিউলের। এ ঘটনার পর এক মাসের ব্যবধানে ঘটে গেছে আরও একাধিক নৃশংস এমন হত্যা।
গত মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে সুটকেসের ভেতর থাকা একটি ছেলেশিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বুকে ও কপালে ছ্যাঁকার দাগ ছিল। পিঠে ছিল পাঁচ ইঞ্চির মতো গভীর জখম। থুতনিতেও জখমের চিহ্ন ছিল। শিশুটির বয়স আনুমানিক নয় বছর। গতকাল পর্যন্ত শিশুর লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গেই পড়ে ছিল।
খুলনায় নির্যাতনের শিকার হওয়া ১২ বছর বয়সী রাকিব গ্যারেজ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। এ কারণে আগের গ্যারেজ মালিক ও তার সহযোগী রাকিবকে ধরে মোটরসাইকেলের চাকায় হাওয়া দেওয়ার কমপ্রেসর মেশিনের নল ঢুকিয়ে দেয় তার মলদ্বার দিয়ে। এরপর চালু করে দেওয়া হয় কমপ্রেসর। নল দিয়ে পেটে বাতাস ঢুকে শিশুটির দেহ ফুলে প্রায় বড়দের মতো হয়ে যায়। ছিঁড়ে যায় নাড়িভুঁড়ি, ফেটে যায় ফুসফুসও। মৃত্যু হয় রাকিবের।
বরগুনায় রবিউল আউয়াল নামে ১১ বছরের এক শিশুকে চোখে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। মাছ চুরির ‘অপবাদে’ স্থানীয় এক ব্যক্তি এই বীভৎস কায়দায় তাকে হত্যা করেছে বলে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে।
আর মাগুরায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় মা ও তাঁর পেটের শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা তো দেশজুড়েই আলোচিত।
শিশু নির্যাতন ও হত্যার কটি মামলা আছে, কটি তদন্তাধীন প্রথম আলোর পক্ষ থেকে এ ধরনের তথ্য চাওয়া হলে পুলিশ সদর দপ্তর কম সময়ের মধ্যে তা সরবরাহ করতে পারেনি।
তবে চলতি সপ্তাহে আইন কমিশনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারী ও শিশু-সংক্রান্ত মামলাসহ প্রায় ৩০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ সংখ্যাটি প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে।
এ বিষয়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিচার-প্রক্রিয়ার শ্লথ গতিতে অপরাধীরা অপরাধ করা থেকে নিরুৎসাহিত তো হয়ই না, বরং উৎসাহিত হয়। একজনের বেলায় মামলায় শাস্তি নিশ্চিত করা হলেও অন্য ১০০ জন লোক তা দেখে ভয় পায়। অপরাধীরা ভেবেই নিচ্ছে—অন্যায় করলে বিচার আর কী? আর বর্তমানে যে ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটছে তা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে।’
জানতে চাইলে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) মো. নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শিশু নির্যাতনকারীরা সমাজের আর দশটা অপরাধীর মতো নয়। কোনো সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে না। অন্য চিহ্নিত অপরাধীদের যেভাবে নিরীক্ষণ করা হয়, এসব ক্ষেত্রে ঘটনা ঘটার আগ পর্যন্ত পুলিশ তাদের নিরীক্ষণ করতে পারছে না। অপরাধ ঘটার সময় কেউ খবর দিলে পুলিশ শিশুকে রক্ষা করাসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
শিশুদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের মধ্যে হত্যার পরেই ধর্ষণের পরিসংখ্যান নিয়ে সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ৬৩ জন শিশু যৌন হয়রানি এবং ৩২২ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর সমন্বিত সেবাকেন্দ্র) সমন্বয়কারী বিলকিস বেগম বলেন, ‘এক বছর বয়সী শিশুকে পর্যন্ত ধর্ষণ করা হয়। আমাদের কাছে যখন ওই শিশুকে আনা হয় তখন তার প্রজনন অঙ্গ একেবারে ছিঁড়ে গেছে। এক, দুই বছর বয়সী কম থাকলেও তিন, চার বা পাঁচ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।’
সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রতিনিয়ত শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচারহীনতা এবং ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের শক্তি ও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে দুর্বৃত্তপরায়ণ ও পশু প্রবৃত্তির লোকের প্রাধান্য থাকায় এ ধরনের অমানবিক ঘটনাগুলো ঘটছে। বড়দের পাশাপাশি শিশুদের মনেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই গণমাধ্যমকে সচেতনভাবে শিশু নির্যাতনসহ নৃশংস ঘটনাগুলো তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি।
শিশুহত্যা
২০১২ সালে ২০৯
২০১৩ সালে ২১৮
২০১৪ সালে ৩৫০
২০১৫ সালে ১৯১
(জুলাই পর্যন্ত)
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নারী যেখানে গুম হচ্ছেন প্রতিদিন
![]() |
| মেক্সিকোর এই দেয়ালচিত্রটি সে দেশে নারীর প্রতি সহিংসতারই প্রতিচ্ছবি |
কথিত মারিয়ানার দেহাবশেষ তুলে ডিএনএ পরীক্ষা করানোর ব্যাপারে গত মাসে কর্তৃপক্ষকে রাজি করিয়েছেন রেইস। আবেগ জড়ানো কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘তাঁর (মারিয়ানা) বেঁচে থাকা নিয়ে আমি আশা হারাইনি। এখন ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’
কালো চুলের মেয়েটি গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ঘরের বাইরে যান। বৈমানিক হওয়ার বৃত্তি পেতে কিছু কাগজপত্রের ফটোকপি করাতে গিয়েছিলেন তিনি। আর ঘরে ফেরেননি।
সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেক্সিকোর জনবহুল মেক্সিকো রাজ্যে মারিয়ানার মতো মেয়ে ও নারীদের গুম হওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। সেখানে এই প্রবণতা বেড়েই চলছে। অঞ্চলটি নারীদের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। ন্যাশনাল ফেমিসাইড সিটিজেন অবজারভেটরির পরিচালক মারিয়া দে লা লুজ এস্ত্রাদা বলেন, এদোমেক্সে প্রতিদিন গড়ে দুজন করে নারী গুম হন।
মেক্সিকো রাজ্য এদোমেক্স নামেও পরিচিত। অঞ্চলটির মাঠে-ঘাটে, এমনকি নর্দমায় অহরহ মেলে ক্ষতবিক্ষত, অর্ধনগ্ন বা দগ্ধ লাশ।
দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, এদোমেক্সে ২০০৮ থেকে ২০১৩ সালে খুন হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রতি ১০০ জনে ১৪ জন নারী।
এদোমেক্সের জেন্ডার অপরাধবিষয়ক কৌঁসুলি দাইলসিয়া গার্সিয়া দাবি করেন, পারিবারিক সহিংসতা ও যৌন নিপীড়নের কারণে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে।
তবে জাস্টিস, হিউম্যান রাইটস ও জেন্ডার সংস্থার প্রেসিডেন্ট রদোলফো দমিনিগেজ বলেন, নৃশংস মাদক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই নরহত্যা ঘটছে। ওই মাদক যুদ্ধে ৮০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। নিখোঁজ ২২ হাজার।
রদোলফো দমিনিগেজ বলেন, মেক্সিকোবাসী একটি সহিংস পরিবেশে বাস করে। এটা সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে সামরিক কৌশলের ফল। আর এটাই নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতাকে শোচনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। গুরুদণ্ডের অভাবে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে।
সাংবাদিক হামবার্তো পেডগেট তাঁর ‘দ্য ডেড অব দ্য স্টেট’ বইয়ে লিখেছেন, ২০০৫ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে এদোমেক্সে এক হাজার ৯৯৭ জন নারী খুন হয়েছেন।
এদোমেক্সে খুনের এই ঘটনাগুলো এমন সময় ঘটেছে, যখন রাজ্যের গভর্নর ছিলেন এনরিকো পেনা নিতো। সেই তিনিই এখন দেশের প্রেসিডেন্ট।
রাজ্যটিতে নারীদের খুন হওয়ার বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান দেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে এদোমেক্সের জেন্ডার অপরাধবিষয়ক কৌঁসুলি গার্সিয়ার দাবি, বেসরকারি সংস্থাগুলো খুনের যে ভয়ংকর পরিসংখ্যান দিচ্ছে, সংখ্যাটা ততটা নয়।
এদোমেক্সে নারীদের খুন হওয়ার সংখ্যা যা-ই হোক না কেন, বাস্তবতা হলো—সেখানে লাশ মিলছে, দীর্ঘ হচ্ছে সারি।
এদোমেক্সের পরিস্থিতি ভীতিকর। সেখানে অনেক নারী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বাইরে গেলে তাঁদের ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা নেই। সেখানকার পরিস্থিতি যে কতটা ভয়াবহ, তা বোঝা যায় ১৭ বছর বয়সী আইদার কথায়। এই তরুণীর ভাষ্য, ‘আমরা কখনো একা থাকি না। যেখানেই যাই না কেন, আমরা দলবেঁধে যাওয়ার চেষ্টা করি।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাবধানে চলি, যদি গর্তে পড়ি by ইফতেখার মাহমুদ
![]() |
| মিরপুরের ১১ নম্বরে বাংলা স্কুলের সামনে রাস্তা খুঁড়ে কাজ করছে ওয়াসা। এতে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা l সাজিদ হোসেন |
ছুটির পর দেখা গেল একদল শিক্ষার্থী কাদা মাড়িয়ে, সড়কের গর্ত এগিয়ে সাবধানে গুটিগুটি পায়ে বাড়ির পথে এগোচ্ছে। কারণ, স্কুলের সামনের সড়কে বিশাল এক গর্ত খুঁড়ে রেখেছে ঢাকা ওয়াসার ঠিকাদারেরা। পথ চলতে গিয়ে ওই গর্তে পড়ে যাওয়ার শঙ্কা শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার আনন্দকেই যেন ম্লান করে দিয়েছে।
মিরপুর বাংলা স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেদওয়ান আহমেদ, বাহাদুর মো. সাইফুল্লাহ ও আবু শাহরিয়ার ওই কাদামাখা আর গর্তে ভরা পথটি দিয়ে সাবধানে পা ফেলে এগোচ্ছিল। চলতি পথেই কথা হয় তাদের সঙ্গে। রেদওয়ান বলল, গর্ত খুঁড়ে রাখায় তারা খুব আতঙ্কে থাকে। গর্ত থেকে তোলা মাটি বৃষ্টির পানিতে কাদা হয়ে অনেকটাই এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। স্কুলে যেতে আসতে কে পা পিছলে পড়ে, সে ভয় তো আছেই। কর্দমাক্ত পথে চলতে হচ্ছে কষ্ট করে।
বৃষ্টি হলে কাদা-পানিতে পোশাক মাখামাখি হয়ে যায়। শাহরিয়ার বলল, ‘দুই সপ্তাহ ধরে রাস্তা কাটা। আমাদের স্কুলে যেতে আসতে সমস্যা হচ্ছে।’
শুধু মিরপুর বাংলা স্কুলের সামনের সড়ক নয়, মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্কর থেকে শুরু করে ১২ নম্বর পর্যন্ত পুরো সড়কজুড়ে কিছু দূরত্ব পরপর বিশাল একেকটি গর্ত খুঁড়ে রেখেছে ওয়াসা। রাজধানীর পানি সরবরাহ বাড়ানোর জন্য নেওয়া একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে এসব রাস্তা খোঁড়া হয়েছে। গতকাল মিরপুর ১১, ৬, ৭ ও ১২ নম্বর প্রধান সড়কের পাশের গলিগুলোর মুখে দিনের বেলায় বিশাল আকৃতির যন্ত্র দিয়ে সড়কে গর্ত করতে দেখা গেল।
সড়কের গর্তের সঙ্গে যন্ত্র মিলে ৬০ ফুট সড়কের ৩০ ফুট দিয়েই যানবাহন চলাচল করতে পারছিল না। এর সঙ্গে মেট্রোরেলের মাটি পরীক্ষার জন্য স্থাপন করা অবকাঠামোর কারণে সড়কের এক-তৃতীয়াংশই দখল হয়ে আছে। ফলে পুরো সড়কজুড়েই তীব্র যানজট দেখা দিচ্ছে।
মিরপুর থেকে ফার্মগেটের দিকে যাওয়া গণপরিবহনগুলোর বেশির ভাগ পরিবহন শ্রমিককে ১২ নম্বর থেকে ১০ নম্বর পর্যন্ত যাওয়ার সময় গাড়ির চালকের উদ্দেশ্যে বাসে চাপড় দিতে দিতে বলতে দেখা গেল, ‘সাবধানে চলি, যদি গর্তে পড়ি।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বনশ্রী–আফতাবনগরে: বাঁশের সাঁকোই ভরসা by সামছুর রহমান
![]() |
| বনশ্রী থেকে আফতাবনগরের খাল পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকোই এলাকাবাসীর ভরসা। এর মধ্যে কয়েকটি সাঁকো ভেঙে পড়ায় যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে -আশরাফুল আলম |
গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, বনশ্রী এ-ব্লক থেকে মেরাদিয়া হাট পর্যন্ত আটটি বাঁশের সাঁকো। এর মধ্যে অন্তত পাঁচটি সাঁকোই ভেঙে গেছে। এগুলোর দুটির মাঝখান থেকে ভেঙে ফেলা হয়েছে আর একটি সাঁকোর এক পারের অংশ নেই।
অন্তত ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক মাস আগেও বনশ্রী এ-ব্লক থেকে মেরাদিয়া বাজার পর্যন্ত আটটি বাঁশের সাঁকোই ভালো ছিল। স্থানীয় কিছু লোক বাঁশের এসব সাঁকো তৈরি করে ব্যবসা করতেন। প্রতিবার সাঁকো পার হতে জনপ্রতি দুই টাকা করে দিতে হতো।
এসব সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ পার হতো। মাসে কয়েক লাখ টাকার ব্যবসা হতো। এই পারাপারের টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে সাঁকোর মালিকেরা নিজেদের মধ্যেই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। কয়েক মাস আগে মারামারি ঘটনাও ঘটে। তখন কয়েকটি সাঁকো ভেঙে ফেলা হয়। এরপর স্থানীয় প্রশাসন ও আবাসিক সমিতি মিলে তিনটি সাঁকো চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। সমিতির তত্ত্বাবধানে থাকা এসব সাঁকো পারাপার হতে লোকজনকে কোনো টাকা দিতে হচ্ছে না।
বনশ্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল কবির গতকাল বলেন, ‘বাঁশের সাঁকো কোনো স্থায়ী সমাধান না। আমরা চাই স্থায়ী সমাধান। বেইলি ব্রিজ হলে গাড়ি চলতে পারত। দুই পারের লোকজনেরই সুবিধা হতো।’
দেখা গেছে সাঁকোগুলোর অবস্থা খুব একটা সুবিধার নয়। বাঁশের তৈরি এসব সাঁকো নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। মেরাদিয়া বাজারের সামনের সাঁকোটির মাঝখানে ভেঙে পড়ায় নতুন করে বাঁশ লাগানো হয়েছে। দুই কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে তিনটি সংযোগ সাঁকো থাকায় লোকজন নিজেদের সুবিধামতো জায়গা দিয়ে নৌকায় পারাপার হচ্ছেন।
আফতাবনগর ও বনশ্রীর দুই পারেই আবাসিক এলাকা। বনশ্রীতে আছে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আফতাবনগর থেকে শিক্ষার্থীদের এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসতে একাধিকবার সাঁকো পার হতে হয়। আফতাবনগরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। বনশ্রী থেকে অনেক শিক্ষার্থীকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতেও সাঁকো পার হতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা বশির আহমেদ বলেন, অনেক দূরে দূরে সাঁকো আর সেগুলোতে কোনো যানবাহন চলে না। প্রতিদিন বাচ্চারা স্কুলে যায় অনেকটা পথ হেঁটে। সাঁকো পার হতে হয় বলে দুশ্চিন্তাও লাগে।
আফতাবনগরে গড়ে ওঠা জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, রামপুরা খালটি ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসা)। বনশ্রী ও আফতাবনগরে সংযোগ স্থাপন করতে তিনটি স্থায়ী সেতু করার অনুমোদন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) দিয়েছে। স্থায়ী কিছু করার ব্যাপারে ওয়াসাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ওয়াসার সংশ্লিষ্ট একজন প্রকৌশলী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘রামপুরা খালে স্থায়ী কোনো সেতু নির্মাণের প্রকল্প আপাতত ওয়াসার নেই। রামপুরা খাল দিয়ে অনেক এলাকার পানি প্রবাহিত হয়। যোগাযোগের সুবিধার্থে সেতু হলেও তা যেন পানির প্রবাহে কোনো সমস্যা না করে তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সেতু অবশ্যই সিঙ্গেল স্প্যানের (এক খামের) হতে হবে।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কক্সবাজারের সব পুলিশ আর্থিকভাবে লাভবান by কামরুল হাসান
এসব কারও অভিযোগ নয়। পুলিশ তদন্ত করে এ তথ্যগুলো পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে আলোচিত মানব পাচার অপরাধের মামলাগুলোর বেহাল অবস্থাও ফুটে উঠেছে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদন্তে।
পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি তওফিক মাহবুব চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন গত ২৯ জুলাই পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনের ব্যাপারে জানতে চাইলে কমিটির প্রধান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কেউ অপরাধ করে যাতে পার পেয়ে না যায়, সে জন্য পুলিশ প্রশাসন দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুটি কমিটি গঠন করেছে। এ জন্য পুলিশকে কেউ চাপ দেয়নি। নিজেদের স্বচ্ছতার জন্যই পুলিশ কমিটি করেছে।
মানব পাচার ছাড়াও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে কক্সবাজার জেলার ১২ জন পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের আরেকটি তদন্ত কমিটি। সিআইডির ডিআইজি সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন ২ আগস্ট পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এই কমিটির প্রতিবেদনে ১২ পুলিশ সদস্য ছাড়াও ইয়াবা-সংক্রান্ত মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলার জন্য জেলার পুলিশ সুপারকে কৈফিয়ত তলব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও এক সার্কেল অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টেকনাফ ও উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং এসবি ও ডিবির পরিদর্শককে প্রত্যাহার করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, এটা খুবই বড় অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হয়ে যাঁরা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাঁদের কঠোর সাজা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, কেউ যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন।
পুলিশ কীভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে, তার ব্যাখ্যা ওই তদন্ত প্রতিবেদনে নেই। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নুরুল হুদা বলেন, এখানে বৈধভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।
গত ১ মে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে গণকবর আবিষ্কৃত হওয়ার পর মানব পাচারের বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়ে ওঠে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে অভিযোগ করা হয়, সমুদ্রপথে হাজার হাজার বাংলাদেশি অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। সমুদ্রপথে পাচারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কক্সবাজার উপকূল। পাচারের সঙ্গে কক্সবাজার জেলা পুলিশের জড়িত থাকার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মানব পাচারের সবচেয়ে বেশি মামলা হয় কক্সবাজারে। এ কারণে সেখানকার পাচারের ঘটনায় করা মামলার তদন্ত, তদারকি, জেলা পুলিশের কার্যক্রমসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে আইজিপির নির্দেশে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ ও ১৫ সালের জুন পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় ২৩৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে এ বছরের জুন পর্যন্ত মামলা হয় ৯৬টি। কমিটি তাদের প্রতিবেদনে এ বছরের ৪০টি মামলা বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেখা গেছে, ৯৬ মামলার মধ্যে মাত্র ছয়টিতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। বাকি ৯০টিতে ঠিকমতো তদন্তই হয়নি। স্পর্শকাতর এসব মামলার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদও করেনি পুলিশ। আবার উদ্ধার হওয়া লোকদের কাছ থেকে কোনো জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়নি। কিছু আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও তা করা হয়নি।
বেশি মামলা হয়েছে টেকনাফ থানায়। তদন্তে অবহেলার ব্যাপারে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘টেকনাফ থানায় যোগদানের পর থেকে ইয়াবা ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। অনেক মামলা তদন্ত করেছি। কিন্তু এখন কেন এ অভিযোগ, তা জানি না।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু নিজেদের মামলা নয়, মানব পাচারের ঘটনায় বিজিবি ও কোস্টগার্ড যেসব আসামিদের ধরে দিয়েছিল, পুলিশ তাদেরও ঠিকমতো জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। রহস্য উদ্ঘাটনে কেউ কোনো ধরনের চেষ্টাও করেনি। অনেক মামলায় তদন্তকারীরা নিজেরাও আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড করেননি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কক্সবাজার জেলার কিছু পুলিশ সদস্য ও জেলার অন্যান্য সরকারি সংস্থার কিছু সদস্য মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অজানা কারণে উদাসীন। কমিটি মনে করে, পাচার প্রতিরোধে পুলিশ সেখানে কোনো ভূমিকাই পালনই করেনি, উল্টো পৃষ্ঠপোষকদের পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে। অনেক ক্ষেত্রে জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও পাচারকারীদের প্রশ্রয় দিয়েছেন।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কমিটি জেলা পুলিশ সুপারসহ চার কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে বলেছে, জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ একটি মামলারও তদারক করেননি। তদন্তের ব্যাপারে তিনি কোনো লিখিত নির্দেশনাও দেননি। গুরুত্বপূর্ণ এসব মামলার ব্যাপারে তিনি ছিলেন উদাসীন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ, উখিয়া সার্কেলের এএসপি জসিম উদ্দিন, টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান এবং থানার পরিদর্শক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে ও কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
জানতে চাইলে পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ প্রথম আলোকে বলেন, এ নিয়ে তিনি কিছু বলতে চান না। অবশ্য উখিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন তালুকদার বলেন, গত ছয় মাসে টেকনাফে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ এবং উখিয়ায় ১০০ জন মানব পাচারকারী ও দালালকে আটক করেছে পুলিশ। তিনিও কয়েকজন পাচারকারীকে ধরেছেন বলে দাবি করেন।
কমিটির সুপারিশ: মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত সব দালালই রোহিঙ্গা। এরা মিয়ানমারের নাগরিক। পাচারে ব্যবহার করা ট্রলারের মালিকও তারা। আবার পাচার শুরু হয় মিয়ানমারের জলসীমা থেকে। এ কারণে পাচার বন্ধে রোহিঙ্গা সমাধান খুব জরুরি। তা ছাড়া মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২-তে কেউ যদি স্বেচ্ছায় বিদেশে পাচার হয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নেই। এ কারণে এই আইনটি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইয়াবা পাচার: গত ২০ জুন ফেনীর লালপুর এলাকা থেকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এএসআই মাহফুজুর রহমানকে ৬ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে র্যাব। এই ইয়াবার মধ্যে কক্সবাজার পুলিশের জব্দ করা ১৩টি ইয়াবাও ছিল। তাঁকে আটকের পর র্যাব জানতে পারে, আরও ১০ পুলিশ সদস্য ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, এসব অভিযোগ লিখিতভাবে পুলিশ সদর দপ্তরে জানানো হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র জানায়, এ ঘটনার পর ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের খুঁজে বের করতে সিআইডির ডিআইজি সাইফুল আলমকে প্রধান করে কমিটি করা হয়।
কমিটি তাদের প্রতিবেদনে মাদক মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেছে, ২০১৫ সালে কক্সবাজারে ৬২১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫৭টি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তবে এসব মামলার তদন্তেও অনেক ত্রুটি রয়েছে। এর মধ্যে সদর থানার ১ এপ্রিল দায়ের করা একটি মামলার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ওই মামলার দুজন আসামি ধরা পড়েছে। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনিরুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। আসামিদের রিমান্ডেও আনা হয়নি। তদারককারী কর্মকর্তারাও মামলাটির তদন্ত তদারক করেননি। এমন মামলার আরও কয়েকটি উদাহরণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। তবে এসব পুলিশ সদস্যের বেশির ভাগ ইয়াবার বাহক হিসেবে কাজ করেন। কক্সবাজারে কিছু কর্মকর্তা আছেন, যাঁরা ঘুরে-ফিরে একাধিকবার কক্সবাজারে আসেন। এঁরাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কমিটি তাঁদের প্রতিবেদনে জেলা ডিবির তিনজন ও বিশেষ শাখার দুজনসহ মোট ১২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছেন। এঁদের সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজারের স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও টেকনাফের বিপুল জনগোষ্ঠী সরাসরি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফ্ল্যাটের দাম এত হওয়ার কারণ নেই
অনুষ্ঠানে শেলটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌফিক এম সিরাজের লেখা ‘রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ব্যবসা সৃষ্টিশীল আর চাকরি সৃষ্টিশীল নয়। শুধু ব্যবসা না করে ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বই লেখা ভালো। এতে অনেক মানুষের উপকার হয়। তিনি বলেন, মোনায়েম খান ও নুরুল আমিনের কথা মানুষ ভুলে গেছে। কিন্তু ভাষা আন্দোলন আর তা নিয়ে লেখা গান, সুর কেউ ভোলেনি, ভুলবেও না।
স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, সরকারি প্লট পেয়েছেন, কিন্তু ‘ব্ল্যাকে’ বিক্রি করেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। ঢাকায় অসামঞ্জস্যভাবে জমি হস্তান্তর হচ্ছে, এতে ফ্ল্যাটের দাম বাড়ছে। তিনি ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, আবাসন খাতের ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে হওয়া চুক্তি সুস্পষ্ট হতে হবে। তাহলে কোনো পক্ষেরই মন কষাকষি হবে না।
তৌফিক এম সিরাজের লেখা ‘রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট’ বই প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে আবাসন খাত অনেক বড়। একে টিকিয়ে রাখতে হবে। তিনি বইটি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এ খাতের সংশ্লিষ্টদের জন্য বইটি প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে শেলটেকের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, এখন ব্যবসা মন্দা। সেই সুযোগে তৌফিক বইটি লিখে ফেলেছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মায়ের বুকে সেই ‘ছোট্ট’ মুস্তাফিজেরই ফেরা by রানা আব্বাস
![]() |
| অবশেষে মায়ের বুকে। ছবি: জাহিদুল করিম |
মুস্তাফিজের বড় ভাই মাহফুজুর রহমান ও সেজো ভাই মোখলেসুর রহমানকে ভেতরের ফটকের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিলেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা। মূল ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে প্রায় ৩০০ মানুষ, ভোর পাঁচটায় রওনা দিয়ে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরের তেঁতুলিয়া গ্রাম থেকে এসেছে, মুস্তাফিজকে বরণ করে নেবে বলে।
প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিমানের পেট থেকে বেরিয়ে এলেন মুস্তাফিজ। আপাতদৃষ্টিতে দেখতে কেতাদুরস্ত অন্য যাত্রীদের তুলনায় যিনি একেবারেই সাধারণ। এ সাধারণ তরুণই ২২ গজে হয়ে যান অসাধারণ, অবিশ্বাস্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা দিয়েই গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড। ওয়ানডে ও টেস্ট অভিষেকে ম্যাচ সেরা হওয়া ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হয়ে তবেই ফিরলেন বাড়ি। তিন মাস পর। তাঁকে এক পলক দেখতে, বরণ করে নিতে জনতার সে কী ব্যাকুলতা!
মুস্তাফিজ যেই না রানওয়ে পেরিয়ে ফটকের সামনে এলেন, অপেক্ষারত জনতাকে ঠেকায় কে! নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা ধসে পড়ল বালুর বাঁধের মতো! মুহূর্তেই সবাই ঘিরে ধরল মুস্তাফিজকে। সেই হাসিটার, প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের দুর্বোধ্য কাটারে ফিরিয়ে উদযাপনে যে নিষ্পাপ সরল হাসিটা উপহার দেন, দেখা মিলল আরও একবার। ভাই, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী, দূরের-কাছের কত মানুষ! এত মানুষ দেখে নিজেও খানিকটা ভড়কে গেলেন, ‘এত্ত মানুষ কেন? আমি তো রাজনৈতিক নেতা না!’ তবে বহুদিন পর আপন ভুবনের মানুষগুলোকে পেয়ে চোখমুখে খেলে গেল অনির্বচনীয় আনন্দ। ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করা হলো মুস্তাফিজকে। সঙ্গে সেলফি, ছবি তোলার হিড়িক তো ছিলই।
ভারত সিরিজের আগে ১৯ মে বাড়ি থেকে ঢাকায় গিয়েছিলেন। এরপর পেরিয়েছে প্রায় তিন মাস। বিমানে আসতে আসতে পাশে বসা বন্ধু ইব্রাহিমকে আঙুলের কড় গুনে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘বাড়ি থেকে এলাম কদ্দিন হলো রে?’ বাড়ি ফিরতে মনটা ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পরই ফিরতে চেয়েছিলেন বাড়ি। ফেরার টিকিটও কাটা হয়েছিল ঈদের আগে। কিন্তু আরও একটি আনন্দের সংবাদ পিছিয়ে দিল মুস্তাফিজের বাড়ি ফেরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে ডাক পেলেন। আবারও জাদু। উপহার দিলেন আরেক প্রস্থ বিস্ময়, এক ওভারে তিন উইকেট নেওয়ার সেই কীর্তি! অবশেষে মুস্তাফিজের বাড়ি ফেরা। ফেরা মায়ের কোলে।
বাড়ির ছোট ছেলে। আদুরে। মায়েরও সব ভালোবাসা যেন দখল করে আছেন। কিন্তু মায়ের বুকে ফিরতে আরও অপেক্ষা করতে হলো। যশোর থেকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামে পৌঁছানোর আগে যে একের পর এক যাত্রা-বিরতি। যেন বরযাত্রায় বেরিয়েছে শ তিনেক মানুষ! বাসের ভেতরে, ছাদ ভর্তি মানুষের অবিরত হর্ষধ্বনি। যেন মিরপুরের গ্যালারি সঙ্গে নিয়ে চলেছেন মুস্তাফিজ। সঙ্গে মাইকে চলছে ধারা-বিবরণী। মুস্তাফিজকে নানা বিশেষণে বিশেষায়িত করছেন স্থানীয় ধারাভাষ্যকার পবিত্র। ধারাভাষ্য দিতে দিতে কখনো গলাটা শুকিয়ে যাচ্ছে। তবুও থামবার নন!
গাড়িবহরে থাকা সবাই যে মুস্তাফিজের পরিচিত, তাও নন। মুস্তাফিজের কাছে তারা পরিচিত না হোক, তাদের কাছে মুস্তাফিজ অতিপরিচিত, বড্ড আপনজন। অনেকেই ব্যক্তিগত জরুরি কাজ ফেলে এসেছেন মুস্তাফিজকে বরণ করতে। তেঁতুলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিরুল ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল আজ। সেটি আরেকজনের ওপর কোনোভাবে চাপিয়ে চলে এসেছেন যশোর বিমানবন্দরে। মনিরুল বললেন, ‘এমন সুযোগ কি সব সময় পাওয়া যাবে? ওর সেজো ভাইয়ের সঙ্গে মাছ ধরার জালের সুতো দিয়ে দুই মেহেগনির মাঝে নেট বানিয়ে অনুশীলন করত আমাদের স্কুলের মাঠে। সেই মুস্তাফিজ এখন ক্রিকেট বিশ্বের বিস্ময়। মুস্তাফিজ জীবনে হয়তো আরও বহুবার বাড়িতে ফিরবে। কিন্তু ওয়ানডে-টেস্টে অভিষেকে চমকে এভাবে তো আর ফিরবে না!’
শরীর অসুস্থ থাকার পরও বাড়ি ফেরার পথে হাসিমুখে সইতে হয়েছে সহস্র মানুষের ভালোবাসার ‘যন্ত্রণা’! যশোর থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত মোটামুটি ‘নির্বিঘ্ন’ থাকলেও অভ্যর্থনার হিড়িক পড়ল সাতক্ষীরার পরই। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, হাদিপুর, তারালি—নানা জায়গায় থেমে থেমে নিতে হয়েছে ফুলেল অভ্যর্থনা। আর জায়গায় জায়গায় উৎসুক জনতার আবদার মেটাতে গাড়িয়ে থামিয়ে ছবি তোলা তো ছিলই। যশোর থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার যাত্রা শেষে অবশেষে তেঁতুলিয়া গ্রাম।
নিজ গ্রামে পা রাখতেই হুট করে এক পশলা বৃষ্টি! মিনিট পাঁচেকের এ বৃষ্টি যেন বলতে চাইল, পুরো পথেই তো ভালোবাসার বৃষ্টিতে সিক্ত হয়েছে, এবার না হয় আমারটাও নাও!
বাড়ির সামনে শত জনতার ভিড় ঠেলে মুস্তাফিজ এগিয়ে গেলেন বাবা আবুল কাশেম গাজী ও মা মাহমুদা খাতুনের কাছে। প্রগাঢ় মমতায় মা টেনে নিলেন প্রিয় সন্তানকে। মায়ের বুকে মুখ লুকালেন মুস্তাফিজ। এই মুস্তাফিজ আবির্ভাবেই তারকা হয়ে যাওয়া মুস্তাফিজ নয়, গোটা কয় রেকর্ডের পাশে নিজের নাম লেখানো মুস্তাফিজ নয়; এই মুস্তাফিজ সেই ছোট্ট, আদুরে মুস্তাফিজই!
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
August
(765)
-
▼
Aug 09
(15)
- আবার দলবদলের হিড়িক by আলী রীয়াজ
- বিভক্তির কবলে বিশ্বাস ৯: সবাই বিভাজিত, দুর্ভাগ্যজন...
- স্বপনের মৃত্যু by আনিসুল হক
- পার্টি আসক্ত স্ত্রী, অন্য পুরুষের সঙ্গে যাওয়ার হুমকি
- প্রথম আলো-আরডিএস বিতর্ক উৎসব: বিতর্কের মাধ্যমে মান...
- যুক্তরাষ্ট্র নিজের বিষেই জরজর by শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
- ইয়াকুবের পর এবার আফতাব আনসারিকে নিয়ে তটস্থ প্রশাসন
- সাদ্দাম আমলের শতাধিক সেনা কর্মকর্তা এখন আইএসের নেত...
- সাড়ে তিন বছরে ৯৬৮ শিশুহত্যা by মানসুরা হোসাইন
- নারী যেখানে গুম হচ্ছেন প্রতিদিন
- সাবধানে চলি, যদি গর্তে পড়ি by ইফতেখার মাহমুদ
- বনশ্রী–আফতাবনগরে: বাঁশের সাঁকোই ভরসা by সামছুর রহমান
- কক্সবাজারের সব পুলিশ আর্থিকভাবে লাভবান by কামরুল হ...
- ফ্ল্যাটের দাম এত হওয়ার কারণ নেই
- মায়ের বুকে সেই ‘ছোট্ট’ মুস্তাফিজেরই ফেরা by রানা ...
-
▼
Aug 09
(15)
-
▼
August
(765)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...













