Saturday, December 20, 2025

ট্রাম্প যেভাবে ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে বাজি ধরছেন by স্টিফেন হোমস

নতুন মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি (এনএসএস) আসলে কোনো কৌশল নয়। কারণ, কৌশল বলতে বোঝায় লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপযুক্ত উপায় ও সম্পদ প্রস্তুত করে রাখা। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস গত সপ্তাহে যে ৩৩ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে, তাতে স্পষ্ট হয়েছে, ট্রাম্পের এই প্রশাসন ভবিষ্যতেই বিশ্বাসী নয়। তাই ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করার প্রয়োজনও তারা দেখছে না।

ট্রাম্পের এনএসএসে একদিকে আত্মম্ভরিতা, অন্যদিকে ভয় ও দুশ্চিন্তা—দুটিই একসঙ্গে দেখা যায়। এসব নথিতে একবার বলা হয়েছে, ‘আমেরিকা ইতিহাসের সবচেয়ে মহান দেশ’; আবার একই সঙ্গে বলা হয়েছে, ‘আমেরিকা আক্রমণের মুখে’। একবার বলা হয়েছে, ‘আমরা জিতছি’, পরমুহূর্তে বলা হয়েছে, ‘আমরা সবকিছু হারিয়ে ফেলছি’।

এটি শুধু অসংগত কথা নয়। এটি এমন এক রাজনৈতিক আন্দোলনের মানসিক অবস্থা, যা জনসংখ্যাগত ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে অস্তিত্বের সংকট হিসেবে দেখে।

এনএসএসে বড় বড় লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু কী পরিমাণ সম্পদ লাগবে, কত সময় লাগবে, কীভাবে লক্ষ্য অর্জন হবে—সেখানে এসবের কোনো ব্যাখ্যা নেই। একে ‘স্বল্প দৃষ্টিসম্পন্ন’ বলার মানে হবে, এতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেই।

এখানেই মূল সমস্যা। কারণ, যাঁরা মনে করছেন তাঁদের পৃথিবী শেষ হয়ে যাচ্ছে, সেই তাঁরা পরবর্তী প্রজন্মের কথা ভেবে পরিকল্পনা করছেন না। তাঁরা শুধু সুযোগ পেলেই নিজেদের স্বার্থে প্রচলিত সব আইনকানুন ভেঙে ফেলছেন; আর অন্যদের ক্ষতি হলেও নিজের লাভ তুলে নিচ্ছেন। ভবিষ্যতের কথা ভাবছেন না।

এই ‘তুলে নেওয়া’ মনোভাব ৩৩ পৃষ্ঠার নথিতেই স্পষ্ট। সেখানে বলা হয়েছে, ‘বিদেশের সব মার্কিন দূতাবাসকে তাদের দেশে বড় ব্যবসার সুযোগ, বিশেষত সরকারি বড় প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’ আরও বলা হয়েছে, ‘যেকোনো মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা বিদেশিদের সঙ্গে যে যোগাযোগ করবেন, তাঁর দায়িত্বের একটি অংশ হবে—আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে প্রতিযোগিতা করতে ও জিততে সাহায্য করা।’ অর্থাৎ কূটনীতি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবসা বাড়ানোর কাজে রূপান্তরিত হয়েছে।

নথিতে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিম গোলার্ধে কোন কোন ‘কৌশলগত অঞ্চল ও সম্পদ’ আমেরিকা কাজে লাগাতে পারে, তা চিহ্নিত করতে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফরাসি পত্রিকা লা মঁদে এটিকে সরাসরি ‘অর্থনৈতিক লুটপাট’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

মিত্রদেশগুলোর প্রসঙ্গে আসি। এনএসএসে ইউরোপ নিয়ে কঠিন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু রাশিয়া কিংবা অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের ক্ষেত্রে ভাষা তুলনামূলকভাবে নরম। নথিতে বলা হয়েছে, ইউরোপ অভিবাসনের কারণে ‘সভ্যতা বিলুপ্তি’র ঝুঁকিতে আছে এবং ইউরোপ ‘অতিরিক্ত নিয়মকানুনের চাপে শ্বাসরুদ্ধ’। সেখানে আরও দাবি করা হয়েছে, ইউরোপকে তার নিজের প্রতিরক্ষার ‘প্রধান দায়িত্ব’ নিতে হবে। কিন্তু একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয় জাতীয়তাবাদী ও জনতুষ্টিবাদী দলগুলোকে সমর্থন দিয়ে তারা ইউরোপের বর্তমান রাজনৈতিক ধারা বদলাতে চাইবে। এটি কোনো জোট পরিচালনা নয়। এটি সহযোগিতার নামে অন্তর্ঘাত; অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে জোটকে দুর্বল করার পদক্ষেপ।

মনরো ডকট্রিনের এই ‘ট্রাম্প সংস্করণ’ আসলে পুরোনো মহাশক্তির রাজনীতিকে নতুন রূপ দেওয়া। এটি এমন এক প্রেসিডেন্টের জন্য বানানো হয়েছে, যিনি জাতীয় স্বার্থ আর ব্যক্তিগত লাভের পার্থক্যই বুঝতে পারেন না।

ক্যাটো ইনস্টিটিউট একটি বড় অসংগতি দেখিয়েছে। তারা দেখিয়েছে, একদিকে প্রশাসন বলছে তারা আর ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ চায় না’, অন্যদিকে আবার বলে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বব্যবস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা হয়ে থাকতে হবে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ শুধু ওপরের মোড়ক। ভেতরে আছে আধিপত্য ধরে রাখার ইচ্ছা। তারা নেতৃত্বের সুবিধা নিতে চায়, কিন্তু দায়িত্ব নিতে চায় না। সম্মান চায়, কিন্তু সম্পর্ক গড়তে চায় না।

এটি কোনো পররাষ্ট্রনীতি নয়। এটি এমন একজনের ধারণা, যিনি কখনো কথার দাম রাখতে বাধ্য হননি। এটি সব চিন্তাকে এক করে রাখে এমন কোনো আন্তর্জাতিক ধারণা নয়। এগুলোকে ধরে রেখেছে একটাই শত্রু; সেটি হলো ‘ভবিষ্যৎ’।

এনএসএসে জনসংখ্যাগত আতঙ্ক ছড়িয়ে আছে। অভিবাসনকে নীতিসংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে নয়, বরং ‘আক্রমণ’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। সীমান্তকে বলা হয়েছে ‘জাতীয় নিরাপত্তার প্রধান উপাদান’। নথিতে বাইরের হুমকি আর দেশের রাজনীতিকে এক করে ফেলা হয়েছে। অভিবাসী কমিউনিটি ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তনকে রাষ্ট্রীয় শত্রুর মতো দেখানো হয়েছে। এটি আসলে ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ তত্ত্বের সরকারি সংস্করণ।

প্রশ্ন ওঠে, যখন তারা বিশ্বব্যাপী দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছে, তখন কেন অভিবাসীদের এত খারাপভাবে উপস্থাপন করছে? পশ্চিম গোলার্ধে মনোযোগ দেওয়ার কথা বললেও কেন ইউরোপের অভিবাসননীতি নিয়ে তারা এত আক্রমণ করছে? এর কারণ, তাদের আসল ভয় চীন বা রাশিয়া নয়, সন্ত্রাসবাদও নয়। তাদের ভয় হলো আগামী দিনের আমেরিকা আগের মতো থাকবে না। এনএসএস কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নয়; এটি ভবিষ্যৎকে থামাতে না পারার ক্ষোভ। এ কারণেই অর্থনীতিতে আসে লুটপাটের মনোভাব। টেকসই সম্পর্ক গড়ার ইচ্ছা না থাকলে যা পাওয়া যায়, তা-ই নিয়ে নেওয়া হয়। জোটকে খরচ মনে হলে সেটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

এনএসএসের লক্ষ্য শুধু প্রকৃত হুমকি উপেক্ষা করা নয়। এর লক্ষ্য হলো হুমকির সংজ্ঞা বদলে দেওয়া। এর লক্ষ্য হলো জনসংখ্যাগত পরিবর্তনকে (যাঁদের ট্রাম্প ‘জঞ্জাল’ বলেন) হুমকি হিসেবে দাঁড় করানো। যদি ভবিষ্যৎ শ্বেতাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ আমেরিকার মতো না হয়, তবে সেই ভবিষ্যৎ সামলাতে জোট রক্ষার প্রয়োজন কী? ভবিষ্যৎকে শত্রু মনে করে যাঁরা পররাষ্ট্রনীতি লিখছেন, তাঁদের তৈরি নথিই এনএসএস। তবে সময়কে থামানো যাবে না। তাই সময়কে থামাতে না পেরে তারা ঘড়ি
ভেঙে ফেলছে; আর হাতের কাছে যা পাচ্ছে, তা–ই বগলদাবা করছে।

* স্টিফেন হোমস, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অব লর অধ্যাপক
- স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, অনুবাদ : সারফুদ্দিন আহমেদ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

পেন পিন্টার পুরস্কার ২০২৪ অরুন্ধতী রায়ের বক্তৃতা: ফিলিস্তিন নামের ক্ষতকে পৃথিবী আর আড়াল করতে পারবে না

আমাকে পেন পিন্টার পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করার জন্য ধন্যবাদ জানাই ইংলিশ পেনের সদস্য এবং জুরিদের।

আমি এই বছরের সাহসী লেখকের নাম ঘোষণা করে আমার কথা শুরু করতে চাই। তার সঙ্গে এই পুরস্কার ভাগ করে নিতে চাই। তোমাকে শুভেচ্ছা, সাহসী লেখক আলা আবদ আল-ফাত্তাহ। আমরা আশা করেছিলাম, প্রার্থনা করেছিলাম, যেন তুমি এই সেপ্টেম্বরে মুক্তি পাও; কিন্তু তুমি এত সুন্দর একজন লেখক আর এত বিপজ্জনক একজন চিন্তাবিদ যে মিসর সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তোমাকে এখনই মুক্তি দেওয়া যাবে না। কিন্তু তুমি এখানে আমাদের সঙ্গে এই ঘরেই আছ। তুমিই এখানে উপস্থিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। কারাগার থেকে তুমি লিখেছ, ‘আমার শব্দগুলো শক্তি হারিয়েছে। তবু আমি কথা বলে যাই। আমার এখনো একটি কণ্ঠস্বর আছে, না হয় কয়েকজন মাত্রই শুনল।’ আমরা শুনছি, আলা। আমরা তোমার কথা নিবিড়ভাবে শুনছি।

আমি ভারতের কারাগারে বন্দী আমার বন্ধু ও কমরেডদের কথা বলছি। তাঁদের কেউ আইনজীবী, কেউ শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী বা সাংবাদিক। উমর খালিদ, গুলফিশা ফাতিমা, খালিদ সাইফি, শারজিল ইমাম, রোনা উইলসন, সুরেন্দ্র গ্যাডলিং, মহেশ রাউত। আমি তোমাকে বলছি, বন্ধু খুররম পারভেজ। আমার চেনা অসাধারণতম মানুষ। তিন বছর ধরে জেলে আছ তুমি। হ্যাঁ, তোমাকেও বলছি ইরফান মেহরাজ। বলছি, কাশ্মীর আর সারা দেশে বন্দী হাজার হাজার মানুষকে, যাঁদের জীবন এলোমেলো হয়ে গেছে।

আর আজ, আরও এক গণহত্যার মধ্যে এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে যাচ্ছে আমদের। ঔপনিবেশিক দখলদারি আর বর্ণবিদ্বেষী রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার জন্য গাজা আর এখন লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিরন্তর এক গণহত্যা চলছে। সেই গণহত্যা এখন টেলিভিশনে দেখানোর অনুষ্ঠান হয়ে গেছে।

ইসরায়েল যা করছে কেউ কীভাবে তাকে ন্যায্য বলতে পারে?

ইসরায়েল ও তার মিত্রদের পাশাপাশি পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের কাছে এর একটি উত্তর আছে। আর তা হলো—গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা। ইসরায়েলি নাগরিকদের হত্যা এবং কিছু ইসরায়েলিকে জিম্মি করা। তাদের মতে, এই ইতিহাস মাত্র এক বছর আগে শুরু হয়েছে।

বক্তৃতার এই অংশে নিশ্চয়ই সবাই আশা করছেন যে আমি নিজেকে, আমার ‘নিরপেক্ষতা’কে আর বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থানকে রক্ষা করার জন্য বাকচাতুরি শুরু করব। ঠিক এখানেই আমার নৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে হামাস আর তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর নিন্দা করার কথা। কারণ, তারা বেসামরিক লোক হত্যা করেছে। জিম্মি করেছে মানুষকে। আমার তো গাজার জনগণেরও নিন্দা করার কথা। তারা হামাসের হামলা উদ্‌যাপন করেছে। এসব ছক বাঁধা কাজ করলেই তো সবকিছু সহজ হয়ে যায়, তাই না?

আমি দোষারোপের খেলা খেলতে রাজি নই। আমার কথাটা পরিষ্কার করি। কীভাবে নিপীড়নকে প্রতিহত করতে হবে বা কে তাদের সহযোগী হওয়া উচিত—এ বিষয়ে নির্যাতিত মানুষকে আমি পরামর্শ দেওয়ার স্পর্ধা করি না।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিজেকে অ–ইহুদি ইহুদিবাদী বলে ঘোষণা দিয়ে ইসরায়েলকে যুদ্ধাপরাধে নিরঙ্কুশভাবে সহায়তা করেন। অস্ত্র জোগান দেন। তবে আমার লেখাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। অন্য কোনোভাবে আমি নিজের পরিচয় দিতে রাজি নই। আমি যা লিখি, আমি তা–ই।

আমি খুব ভালো করে জানি যে আমি লেখক, অমুসলিম এবং নারী হওয়ার কারণে হামাস, হিজবুল্লাহ বা ইরানি শাসনে আমার দীর্ঘকাল টিকে থাকা খুব কঠিন হবে। বরং বলা ভালো, অসম্ভবই হবে। তবে এখানে কথা এটা নয়। মূল বিষয় হলো ইতিহাস আর যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তারা জন্মলাভ করেছে, সে সম্পর্কে জানা। এই মুহূর্তে তারা চলমান এক গণহত্যার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত—পৃথিবীর সব শক্তি যখন তাদের বিরুদ্ধে, তখন আল্লাহ ছাড়া আর কার দিকে মুখ ফেরাবে তারা?

আমি জানি যে তাদের নিজ দেশে হিজবুল্লাহ এবং ইরানের শাসকদের সোচ্চার বিরোধিতা রয়েছে। এই বিরোধীদের অনেকে কারাগারে বন্দী। কেউবা এর চেয়েও খারাপ পরিণতি ভোগ করছেন। আমি জানি যে বেসামরিক মানুষকে হত্যা এবং নাগরিকদের জিম্মি করা যুদ্ধাপরাধের মধ্যে পড়ে। তবে গাজা, পশ্চিম তীর এবং এখন লেবাননে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যা করছে, তার সঙ্গে এর তুলনা চলে না। ৭ অক্টোবরের সহিংসতাসহ সব সহিংসতার মূলে রয়েছে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি ভূমি দখল এবং ফিলিস্তিনি জনগণকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা। এই ইতিহাস ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হয়নি।

গাজা এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিরা দশকের পর দশক ধরে অপমানের শিকার হচ্ছেন। আমি আপনাদের একটা কথা জিজ্ঞাসা করি। এই হলঘরে আপনারা যাঁরা বসে আছেন, তাঁদের মধ্যে কে স্বেচ্ছায় এমন অপমান মুখ বুজে সহ্য করবেন? এমন কোন শান্তিপূর্ণ উপায় আছে, ফিলিস্তিনি জনগণ যা চেষ্টা করেনি? আর কোন আপস গ্রহণ করেনি তাঁরা?

ইসরায়েল আত্মরক্ষার জন্য যুদ্ধ করছে না। তাদের যুদ্ধ আগ্রাসনের। এই যুদ্ধ আরও বেশি অঞ্চল দখল করে বর্ণবাদকে শক্তিশালী করার যুদ্ধ। এর লক্ষ৵ ফিলিস্তিনি জনগণ আর সেই অঞ্চলের ওপর ইসরায়েলিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করা।

সব শক্তি, সব অর্থ, পৃথিবীর সব অস্ত্র আর প্রচারণা ফিলিস্তিন নামের ক্ষতকে আর আড়াল করতে পারবে না। এই ক্ষত দিয়ে ইসরাইলসহ সারা বিশ্বের রক্ত ঝরছে।

যখন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনকে মুছে ফেলে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র তুলে ধরেন, তখন তিনি স্বপ্নদর্শী। সবাই তার খুব প্রশংসা করেন। তিনি ইহুদিদের স্বদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছেন।

কিন্তু যখন ফিলিস্তিনিরা ‘নদী থেকে সমুদ্র, ফিলিস্তিন হবে মুক্ত’ বলে স্লোগান দেয়, তখন তাদের ধিক্কার দেওয়া হয়। তারা নাকি খোলাখুলি ইহুদি গণহত্যার আহ্বান জানাচ্ছেন!

যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তা হবে ভয়াবহ। তবে তা শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি বর্ণবাদকে চূর্ণ করে ফেলবে। তখন এই পৃথিবী হবে সবার জন্য অনেক বেশি নিরাপদ। অনেক বেশি ন্যায্য। ইহুদি জনগণও সেই ন্যায্যতায় নিশ্বাস নেবেন। আর তা হবে আমাদের আহত হৃদয় থেকে বিদ্ধ তির টেনে বের করে নেওয়ার মতো।

মার্কিন সরকার ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করলে যুদ্ধ আজই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই মুহূর্তে সব শত্রুতাও শেষ হতে পারে। …

গাজা এবং এখন লেবাননের যে ভয়াবহতা দ্রুত এক আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হচ্ছে। এই যুদ্ধের আসল নায়কেরা ছবির বাইরেই থেকে যাচ্ছেন; কিন্তু তাঁরা লড়াই করে যাবেন। কারণ, তাঁরা জানেন যে একদিন-

নদী থেকে সমুদ্র

ফিলিস্তিন হবে মুক্ত

আর তা হবেই।

আপনার ঘড়ি থেকে চোখ সরিয়ে নিন। ক্যালেন্ডারে চোখ রাখুন।

জেনারেলদের কথা আলাদা। যে জনগণ মুক্তির জন্য লড়াই করে, তারা ক্যালেন্ডার দিয়েই সময় মাপে।

* অরুন্ধতী রায়, বুকার পুরস্কার পাওয়া ভারতীয় লেখক ও অধিকারকর্মী
- দ্য ওয়্যার থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে নির্বাচিত অংশের অনুবাদ জাভেদ হুসেন 

অরুন্ধতী রায়
অরুন্ধতী রায়। ছবি: রয়টার্স

সিডনি সৈকতে রক্তপাত: ‘ইসলামভীতি’ বনাম ‘ইহুদিবিদ্বেষ’ by কাউসার খান

১৪ ডিসেম্বর সিডনির বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে ঘটে যাওয়া নৃশংস রক্তপাত কেবল অস্ট্রেলিয়ার গত ৩০ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাই ছিল না, এটি ছিল বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা আমাদের মানবিক সত্তার ওপর এক চরম আঘাত। ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের আলোক উৎসব ‘হানুক্কাহ’ উদ্‌যাপনের প্রথম সন্ধ্যায় যখন হাজারের বেশি মানুষ সমবেত হয়েছিলেন, তখন দুই বন্দুকধারীর নির্বিচার গুলিবর্ষণ ১৫টি তাজা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এই ঘটনার পর সিডনির আকাশে-বাতাসে এখন থমথমে শোকের ছায়া কিন্তু এর চেয়েও ভয়ংকর হয়ে উঠছে এই ট্র্যাজেডিকে ঘিরে শুরু হওয়া ট্যাগিং বা তকমা লাগানোর অসুস্থ চর্চা।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ যখন জাতীয় ঐক্যের ডাক দিচ্ছেন, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ময়দানে আমরা দেখছি এক নজিরবিহীন ‘ন্যারেটিভ’ বা বর্ণনার লড়াই। এক পক্ষ একে ‘ইসলামভীতি’ ছড়ানোর হাতিয়ার বানাচ্ছে। অন্য পক্ষ ‘ইহুদিবিদ্বেষ’-এর তকমা দিয়ে আক্রমণাত্মক বয়ান তৈরি করছে। অথচ এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে যে সত্যটি আজ সিডনির সেন্ট জর্জ হাসপাতালের বিছানায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শুয়ে আছে, তা হলো মানুষের পরিচয় তার কর্মে; তার চামড়ার রঙে বা ধর্মীয় তকমায় নয়।

বন্ডাইয়ের সেই বিভীষিকাময় সন্ধ্যায় ৪৩ বছর বয়সী ফল ব্যবসায়ী আহমেদ আল আহমেদ যা করেছেন, তা তকমা লাগানো এই বিভাজনের রাজনীতিকে এক নিমেষে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। তিনি যখন খালি হাতে একজন সশস্ত্র সন্ত্রাসীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বন্দুক কেড়ে নিচ্ছিলেন, তখন তিনি কোনো ধর্ম বা গোত্রকে বাঁচাতে যাননি, তিনি গিয়েছিলেন মানুষকে বাঁচাতে। আহমেদ নিজে একজন সিরীয় অভিবাসী, যিনি এক দশক আগে সন্ত্রাসবাদের আগুন থেকে বাঁচতে সিডনিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। অন্যদিকে ঘাতক হিসেবে নাম এসেছে সাজিদ আকরাম ও তাঁর ছেলে নবীদ আকরামের। সাজিদ ১৯৯৮ সালে শিক্ষার্থী ভিসায় এই দেশে এসেছিলেন।

এই সমীকরণ আমাদের একটি বড় শিক্ষা দেয়, যদি সিডনির রাজপথে গুলি চালানো ব্যক্তিটি মুসলমান হয়ে থাকে, তবে সেই ঘাতককে রুখে দিয়ে শত শত মানুষের জীবন বাঁচানো প্রথম ব্যক্তিটিও একজন মুসলমান। অথচ আমাদের সমাজ আজ মানুষকে ‘বাইনারি’ বা দ্বিমাত্রিক ছকে বিচার করতে অভ্যস্ত। হয় ভালো, নয় খারাপ; হয় আমাদের লোক, নয় তাদের লোক। আহমেদ আল আহমেদের বীরত্ব এই ঘৃণা ছড়ানোর যন্ত্রগুলোকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে শয়তান সবখানে আছে, কিন্তু দেবত্ব বা মানবতাও সবখানে বিরাজমান।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই শোকাবহ ঘটনাকেও অসুস্থ চর্চা বা রাজনীতিকরণের চেষ্টা থেমে নেই। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে একে ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষের ফল বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি বড় অংশ একে ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা সাজানো নাটক হিসেবে প্রমাণের চেষ্টায় লিপ্ত। এ ধরনের ষড়যন্ত্রতত্ত্ব কেবল বিভেদকেই উসকে দেয়। অতীতে ১৯৫০-এর দশকে ইরাকের ইহুদিদের সঙ্গে যা ঘটেছিল, তা ইতিহাসের পাতায় ভিন্ন প্রেক্ষাপট তৈরি করলেও আজ বন্ডাইয়ের রক্ত কোনো নাটক নয়; এটি ১৫টি পরিবারের চিরস্থায়ী হাহাকার।

এই হামলার পর অভিবাসীদের প্রতি সন্দেহের দৃষ্টি আরও প্রখর হবে, এটা অনেকটা নিশ্চিত। বিশেষ করে বাদামি চামড়ার মানুষ তা সে ভারতীয় হোক বা পাকিস্তানি কিংবা বাংলাদেশি; তাদের ভিসা বা বসবাসের ক্ষেত্রে আরও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার মতো একটি উদার দেশেও যদি এখন ধর্ম বা উৎপত্তিস্থলের ভিত্তিতে তকমা লাগানো শুরু হয়, তবে তা হবে চরম দুর্ভাগ্যজনক।

সিডনি থেকে বসে আজ যা অনুভব করছি, তা হলো আমরা যেন মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে ভুলে যাচ্ছি। আমরা ব্যস্ত কে ঘাতক তার ধর্ম খুঁজতে কিন্তু ভুলে যাচ্ছি সেই ঘাতককে থামানো বীরের পরিচয়। আহমেদ আল আহমেদের শরীরে আজ দুটি বুলেটের ক্ষত কিন্তু তাঁর এই ক্ষতগুলো আমাদের সমাজের ঘৃণার ক্ষত মোছার সুযোগ করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আলবানিজের উচিত আহমেদের মতো নায়কদের গল্পকে ঘৃণার বাণীর চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া।

সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই, কোনো দেশ নেই। যে সন্ত্রাস ছড়িয়েছে, তার কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু যারা এই রক্তপাতের ওপর দাঁড়িয়ে ঘৃণার রাজনীতি করছে, তাদেরও পরাজিত করা জরুরি। সিডনি তথা পুরো বিশ্বের উচিত এখন ঘৃণা নয় বরং শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের পথে ফেরা।

আহমেদ আল আহমেদ আমাদের দেখিয়েছেন কীভাবে মানবতা রক্ষা করতে হয়। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো তাঁকে অনুসরণ করে বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করা এবং মানুষকে কেবল মানুষ হিসেবেই সম্মান করা। অন্যথায় ঘৃণা জয়ের পথে সন্ত্রাসবাদই চূড়ান্তভাবে সফল হবে।

* কাউসার খান, প্রথম আলোর সিডনি প্রতিনিধি ও অভিবাসন আইনজীবী
- kawsark@gmail.com
- মতামত লেখকের নিজস্ব

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-17%2Fuj1njpdd%2Fahmedajj.JPG?rect=3%2C0%2C557%2C371&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ফল ব্যবসায়ী আহমেদ আল আহমেদ যা করেছেন, তা তকমা লাগানো এই বিভাজনের রাজনীতিকে এক নিমেষে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। ছবি : এএফপি

মিয়ানমারের আফিম চাষ ১০ বছরে সর্বোচ্চ উল্লম্ফন: জাতিসংঘের সতর্কর্তা

মিয়ানমারের চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার মধ্যেই দেশে আফিম চাষ গত দশ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ সংক্রান্ত দফতর (ইউএনওডিসি)- এর সর্বশেষ জরিপে বলা হয়েছে, গত এক বছরে দেশটিতে আফিম চাষের ক্ষেত্র ১৭ শতাংশ বেড়ে ৫৩ হাজার ১০০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। যা ২০২৪ সালে ছিল ৪৫ হাজার ২০০ হেক্টর। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়, বিশ্বের প্রধান অবৈধ আফিম উৎপাদনকারী রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমারের অবস্থান পুনঃনিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ইউএনওডিসি এর তথ্যমতে, আফগানিস্তানে চাষ কমে যাওয়ার পর বৈশ্বিক অবৈধ আফিমের মূল উৎস হিসেবে মিয়ানমারের অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে। সংস্থাটির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিনিধি ডেলফিন শান্টজ বলেন, আফিম চাষের এই ব্যাপক বৃদ্ধির অর্থ হলো মিয়ানমারের আফিম অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণ ঘটতে পারে।

জরিপে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ সালে পপি চাষের জমি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও প্রতি হেক্টরে আফিম উৎপাদনের পরিমাণ কমেছে। ইউএনওডিসি বলছে, তীব্র সংঘাত, অনিরাপত্তা ও বাস্তুচ্যুতির কারণে কৃষকরা ঠিকমতো চাষ করতে পারছেন না। ফলে ফলন কম হচ্ছে। এদিকে মূল্য বৃদ্ধির ফলে কৃষকরা আবার পপি চাষে মনোযোগী হচ্ছেন। ২০১৯ সালে ১ কেজি কাঁচা আফিমের দাম ছিল ১৪৫ ডলার। বর্তমানে যার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩২৯ ডলারে। অর্থাৎ দ্বিগুণেরও বেশি মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বর্ধিত বাজারমূল্য ও জীবিকার সংকটে কৃষকদের বড় অংশ আবার পপি চাষে ঝুঁকছেন।

আন্তর্জাতিক বাজারে মিয়ানমার-উৎপাদিত হেরোইনের প্রবাহ বাড়ছে। ইউএনওডিসি জানিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে হেরোইন সরবরাহ কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মিয়ানমারের হেরোইন দ্রুত প্রবেশ করছে। এমনকি ২০২৪ ও ২০২৫ সালের শুরুতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এ বাণিজ্যিক বিমানের যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ৬০ কেজি মিয়ানমার-উৎপাদিত হেরোইন জব্দ হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই নতুন সরবরাহ অঞ্চল বৈশ্বিক মাদকবাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বলা হচ্ছে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে এই মাদক চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন চাষীরা। ডেলফিন শান্টজ বলেন, নিরবচ্ছিন্ন সংঘাত, বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং মূল্যবৃদ্ধির লোভ- সব মিলিয়ে কৃষকরা পপি চাষে আকৃষ্ট হচ্ছেন। গত বছরের বৃদ্ধি মিয়ানমারের ভবিষ্যতের জন্য গভীর প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি শুধু অঞ্চলই নয়, বৈশ্বিক মাদকবাজারকেও প্রভাবিত করবে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে এখনই জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

mzamin

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কিনতে আলোচনা চালাচ্ছে কাতার, উদ্বিগ্ন ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ কিনতে আলোচনা করছে কাতার। ইসরায়েলের সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১২ নিউজ এমন খবর দিয়েছে।

এফ–৩৫ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের কাছে এফ–৩৫ বিক্রির ঘোষণা দেন। ইসরায়েলের কাছে এই সিরিজের যে যুদ্ধবিমান রয়েছে, সৌদি আরবকেও সেই একই ধরনের বিমান দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।

এই প্রেক্ষাপটে কাতারেরও একই যুদ্ধবিমান কেনার চেষ্টার খবর সংবাদমাধ্যমে এল। তবে পাঁচ বছর আগেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ যুদ্ধবিমান কেনার চেষ্টা করেছিল।

চ্যানেল ১২ নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাতারের এই আলোচনাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েল। তবে আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আলোচনা প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোলে সৌদি আরব ও তুরস্কের পর কাতার মার্কিন এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার অপেক্ষায় থাকা দেশের তালিকায় যুক্ত হবে। মধ্যপ্রাচ্যে এখন পর্যন্ত শুধু ইসরায়েল এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, তুরস্ক ও সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি না করতে ইসরায়েলের সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে লবিং করেছে। ট্রাম্প এই লবিংয়ের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন।

গত নভেম্বরে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস বৈঠকে করেন ট্রাম্প। বৈঠকে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এফ-৩৫ বিষয়ে সৌদি আরব ও ইসরায়েলকে সমান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি জানি, তারা (ইসরায়েল) চাইবে, সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানগুলো কম ক্ষমতাসম্পন্ন হোক। এটাকে আমি আপনাদের জন্য খুশির খবর বলে মনে করি না।...আমার মতে, তারা (ইসরায়েল ও সৌদি আরব) এমন পর্যায়ে আছে, যেখানে তাদের উভয়ের শীর্ষ মানের বিমান পাওয়া উচিত।’

তুরস্কের এফ-৩৫ পাওয়ার সম্ভাবনা কম

এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের তুলনায় তুরস্কের এফ-৩৫ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে জানান, সৌদি আরব একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি হলে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দ্রুতগতিতে অস্ত্র কিনতে পারবে।

তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে এফ-৩৫ তৈরির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনায় ২০১৯ সালে তুরস্ককে এই পরিকল্পনা থেকে বাদ দেয় ওয়াশিংটন।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিল সংশোধন করা হয়। এতে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট যদি নিশ্চিত করেন, তাঁরা রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আর রাখছেন না; তখন তুরস্কের কাছে যুক্তরাষ্ট্র এফ-৩৫ বিক্রির কথা ভাববে বলে উল্লেখ করা হয় মার্কিন প্রতিরক্ষা বিলের সংশোধনীতে।

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানায়, তুরস্ক এফ-৩৫ কেনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাশিয়ার কাছে এস-৪০০ ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, নেতানিয়াহু চলতি বছরের শুরুতে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি না করতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে লবিং করেছেন।

নেতানিয়াহু কেন এমন করেছেন, এ বিষয়ে বলা হয়—সিরিয়া নিয়ে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ ছাড়া ফিলিস্তিন নিয়ে তুরস্কের বিভিন্ন বিবৃতিতে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল।

গত সেপ্টেম্বরে কাতারের রাজধানী দোহায় ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েল। এটা নিয়ে ইসরায়েল ও কাতারের সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল।

চ্যানেল ১২ নিউজ জানিয়েছে, এফ-৩৫ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-কাতারের আলোচনা নিয়ে ইসরায়েলের কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সর্বশেষ প্রযুক্তির দুটি স্কোয়াড্রন যুদ্ধবিমান কেনার একটি প্রস্তাব তৈরি করছে ইসরায়েল। এ প্যাকেজে তারা একটি ‘এফ-৩৫এস’ ও আরেকটি ‘এফ-১৫আই’ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তির গোলাবারুদ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা কেনার কথা ভাবছে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-19%2Fg1ngvhmc%2FUntitled-1.jpg?rect=109%2C0%2C1182%2C788&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানিকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ানে এক বৈঠকে, ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ছবি: এএফপি

নেতানিয়াহুকে ‘কড়া’ ভাষায় গোপন বার্তা পাঠিয়েছে হোয়াইট হাউস, মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের এক হামলাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘কড়া’ ভাষায় গোপন বার্তা পাঠিয়েছে হোয়াইট হাউস। গত সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় এ যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যস্থতা করেছিলেন।

সূত্রের বরাতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়, গাজা নগরীতে ইসরায়েলের চালানো ওই সাম্প্রতিক হামলায় হামাসের সামরিক শাখার উপকমান্ডার রায়েদ সাদ নিহত হওয়ার পরই এ বার্তা পাঠানো হয়। হামলায় চারজন নিহত হন।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুকে পাঠানো বার্তায় কী বলা হয়েছে, তা এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা সূত্রে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে এক্সিওস। বার্তায় বলা হয়, ‘আপনি যদি আপনার সুনাম নষ্ট করতে চান এবং দেখাতে চান যে আপনি চুক্তি মানেন না, তবে সেটি আপনার বিষয়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেহেতু গাজায় চুক্তির মধ্যস্থতা করেছেন, সে ক্ষেত্রে আমরা তাঁর সুনাম নষ্ট হতে দেব না।’

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, ওই হামলার আগে ইসরায়েল সরকার ওয়াশিংটনকে কিছু জানায়নি ও কোনো ধরনের আলোচনা করেনি।

ইসরায়েলি হামলায় রায়েদ সাদ নিহত হয়েছেন বলে গাজায় হামাসের প্রধান খলিল আল-হায়া টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে নিশ্চিত করেছেন।

গাজায় গত ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যেই গত শনিবার এক বিমান হামলায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রায়েদ সাদ নিহত হন। এর আগেও তাঁকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল একাধিকবার হত্যাচেষ্টা চালিয়েছিল।

যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বারবারই চুক্তি লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৯১ ফিলিস্তিনি নিহত ও ১ হাজার ৬৩ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ৭০ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে। তাঁদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ১০০–এর বেশি মানুষ। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা অব্যাহত রয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স

প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা: এই শহরটা শুধু মানুষের নয় by গোলাম রব্বানী

প্রকাশ ২৫ জুলাই ২০২৫ঃ পথের পাশের কুকুর-বিড়ালের প্রতি রাজধানীর মানুষের নিষ্ঠুরতার খবর প্রায়ই পাওয়া যায়। পা ভেঙে দেওয়া, গরম পানি দিয়ে শরীর পুড়িয়ে দেওয়া; এমনকি মানুষের মার খেতে খেতে কুকুর-বিড়ালের প্রাণ হারানোর ঘটনা এই শহরেই ঘটেছে প্রকাশ্যে। অবশ্য এর মধ্যে ব্যতিক্রমও আছে।

গত শনিবার দুপুরে মিরপুর-১০ নম্বর সংযোগ সড়কের পাশে দেখা যায়, একটি অসুস্থ কুকুরকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করছেন তাওহিদুর রহমান বৃত্ত ও সিয়াম চৌধুরী নামের দুই তরুণ। একজন অসুস্থ কুকুরটিকে কোলে তুলে নিয়ে স্যালাইন পুশ করছেন। আরেকজন একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় ধরে রেখেছেন স্যালাইনের ব্যাগটি। রোদ ও গরম উপেক্ষা করে কষ্টসাধ্য কাজটি দুই তরুণ মিলে করছিলেন পরম মমতায়।

কথা হয় শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির শিক্ষার্থী তাওহিদুর রহমান বৃত্তর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কুকুরটি নিউরো সমস্যায় ভুগছে। মুখের ভেতরেও জখম রয়েছে। পশুর চিকিৎসক আবদুর রহমানের পরামর্শমতো আমরা দুজন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কুকুরটিকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করছি। আমরা মনে করি, এই শহরটা শুধু মানুষের নয়। কুকুর, বিড়াল, ফুল, পাখি-প্রজাপতি যদি এই শহর থেকে বিলুপ্ত হয়, তাহলে মানুষ কখনো ভালো থাকতে পারবে না।’

রাকিবুল ও সিয়ামের মতো অসংখ্য পশুপ্রেমী তরুণ-তরুণী সারা শহরেই ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছেন। এঁদের কেউ পথের এই পশুদের নিয়মিত খাওয়ানোর দায়িত্ব নেন, কেউবা অসুস্থ কুকুর-বিড়ালকে সুস্থ করে পরিবারের সদস্য করে নেন।

দেশে করোনা মহামারি চলার সময় দোকানপাট, রেস্তোরাঁ বন্ধ ছিল। ঢাকার অলিগলির কুকুর–বিড়ালের খাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ছিলেন চিকিৎসক রাফিয়া আলম। তিনি বলেন, ‘আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে ফরিদপুর নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটে। প্রাণ-প্রকৃতির কাছাকাছি থাকায় পশুপাখির প্রতি সহজাত মমতা শৈশব থেকে আমার মধ্যে কাজ করেছে। করোনার সময় কুকুর-বিড়ালের খাদ্যসংকট, তাদের নিদারুণ কষ্ট আমাকে স্পর্শ করে। সেই সময় বন্ধুবান্ধবের সহযোগিতায় আমি কুকুর-বিড়ালদের নিয়মিত খাবার দিয়েছি। এখন চাকরি ও লেখালেখির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছি। সময় বের করা কঠিন। এরপরও আমি সপ্তাহে তিন দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরে যাই। সারমেয়দের খাবার দিয়ে আসি।’

এদিকে অসুস্থ কুকুর-বিড়ালদের সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসা নিশ্চিত করার কাজটি কৈশোর থেকেই শুরু করছিলেন রাকিবুল হক। সময়ের পরিক্রমায় প্রাণীর অধিকার রক্ষায় দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠকের ভূমিকা পালন করছেন তিনি। সমমনা বন্ধুদের নিয়ে ২০১৫ চালু করেন পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (প–ফাউন্ডেশন)। অসুস্থ-আঘাতপ্রাপ্ত বেওয়ারিশ প্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা ও আশ্রয়দান করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি। ঢাকার বিরুলিয়া এলাকায় রয়েছে তাঁদের নিজস্ব উদ্ধারকেন্দ্র। স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটির লালমাটিয়া, মিরপুর ও উত্তরা এলাকায় রয়েছে ‘প লাইফ কেয়ার’ নামে তিনটি প্রাণী চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র।

প্রাণী অধিকারকর্মী ও স্থপতি রাকিবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘পৃথিবীর সব প্রাণীর সুখ-দুঃখ নৈতিকভাবে সমান গুরুত্ব পাওয়া দরকার। এই বোধ আমাদের সমাজ থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা সাংগঠনিকভাবে প্রাণীদের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করছি। অনেকেই আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। আমরা বিশ্বাস করি, প্রাণ-প্রকৃতি-প্রতিবেশের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা না থাকলে মানুষ হওয়া যায় না।’

একটি অসুস্থ কুকুরকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করছেন তাওহিদুর রহমান ও সিয়াম চৌধুরী নামের দুই তরুণ। গত শনিবার দুপুরে মিরপুর-১০ নম্বরে
একটি অসুস্থ কুকুরকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করছেন তাওহিদুর রহমান ও সিয়াম চৌধুরী নামের দুই তরুণ। গত শনিবার দুপুরে মিরপুর-১০ নম্বরে। ছবি: প্রথম আলো