Thursday, February 26, 2026
সৌদি আরব যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন করে গড়তে চায় by ডেভিড হার্স্ট
সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ বা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার মতো পদক্ষেপগুলো অনেকের চোখে আঞ্চলিক ক্ষোভ ও অপমানবোধের ওপর অতিপাতলা প্রলেপ ছাড়া আর কিছু নয়। মূল প্রশ্নটি থেকেই যায়, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড কীভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এতটা সহনীয় হয়ে উঠল?
সম্প্রতি সৌদি আরবের একাডেমিক ও লেখক ড. আহমেদ আলতুয়াইজরি ইসরায়েল ও তার ঘনিষ্ঠ আরব অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিয়ে খোলামেলা মতপ্রকাশের সুযোগ পান। সৌদি আরবে উচ্চপর্যায়ের অনুমতি ছাড়া কিছু প্রকাশিত হওয়া প্রায় অসম্ভব বলেই ধরা হয়।
সেই প্রেক্ষাপটে আলতুয়াইজরির বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পায়। তিনি আবুধাবির শাসকদের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলে বলেন, তারা জায়নবাদী প্রকল্পের প্রতি ঝুঁকে পড়ে বৃহত্তর ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনায় কার্যত ‘ট্রয়ের ঘোড়া’য় পরিণত হয়েছে।
সৌদি আরবে এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের বিরুদ্ধে এতটা সরাসরি ও কঠোর ভাষায় সমালোচনা শোনা যায়নি। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ইয়েমেন, মিসর, লিবিয়া, তিউনিসিয়া ও সিরিয়ায় আরব বসন্ত-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি রিয়াদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
ড. আহমেদ আলতুয়াইজরির লেখা প্রকাশিত হয় সৌদি কর্তৃপক্ষ–ঘনিষ্ঠ একটি পত্রিকায়। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এটি তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। তিনি সরকারের হয়ে কথা বলেননি। জাতীয় সংকটের মুহূর্তে সত্য উচ্চারণের দায়বোধ থেকেই তিনি লেখাটি লিখেছেন।
লেখাটি প্রকাশের পরপরই তা সরিয়ে নেওয়া হয়। তেল আবিব ও ওয়াশিংটনে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ইসরায়েল–সমর্থক নেটওয়ার্ক সক্রিয় করে লেখকের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তোলে। অ্যান্টিডিফেমেশন লিগও দাবি করে, তাদের আপত্তির পরই লেখাটি নামিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এরপরই পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়। ওপরের নির্দেশে লেখাটি আবার প্রকাশিত হয়। সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভাষ্যকার দাবি করেন, লেখাটি কখনো সরানোই হয়নি।
ঘটনাপ্রবাহে নতুন প্রশ্ন সামনে আসে। উপসাগরীয় দুই ঘনিষ্ঠ দেশের এই দূরত্ব কি কেবল সাময়িক আবেগের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর পেছনে রয়েছে গভীর কৌশলগত বিচ্ছেদ?
আলতুয়াইজরির মতে, ঘটনাটি কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়; এটি একটি গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ইঙ্গিত। গাজায় গণহত্যা এবং ইয়েমেনসহ সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাবলি এই রূপান্তরকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। সৌদি আরবে প্রকাশ্যে প্রতিবাদের সুযোগ সীমিত থাকলেও ভেতরে ভেতরে অপমান ও ক্ষোভ জমা হয়েছে।
রাজা ফাহদ এবং পরে যুবরাজ থাকা অবস্থায় রাজা আবদুল্লাহ দুটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেগুলোর ভিত্তি ছিল ভূমির বিনিময়ে শান্তি এবং ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা। ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে সমঝোতার প্রচেষ্টাতেও সৌদি আরব মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু গাজায় সাম্প্রতিক ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপ্তি অতীতের সব ঘটনার চেয়ে অনেক বড়, যা রিয়াদের অবস্থান পুনর্বিবেচনায় প্রভাব ফেলেছে।
আলতুয়াইজরির ভাষায়, ইসরায়েলের বর্তমান নেতৃত্বের মানসিকতা বহাল থাকলে শান্তি বা সহযোগিতার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই। ইসলামি বিশ্বের কেন্দ্র এবং একটি প্রভাবশালী আরব রাষ্ট্র হিসেবে সৌদি আরব নীরব দর্শকের ভূমিকা নিতে পারে না। এ কারণেই তাদের কূটনৈতিক ভাষা ও অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে।
ট্রাম্পের কথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ সৌদি আরবের অংশগ্রহণকে আলতুয়াইজরি মূলত ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, এটি কোনো নীতিগত ঐকমত্য নয়, বরং পরিস্থিতি আরও অবনতির হাত থেকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা।
আলতুয়াইজরির অভিযোগ, গাজা ধ্বংসের প্রেক্ষাপটকে ইসরায়েল বৃহত্তর আঞ্চলিক সামরিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। এই চিন্তাধারা নতুন নয়। আশির দশক নিয়ে লেখা এক প্রবন্ধে ইসরায়েলি লেখক এবং সাবেক নেতা এরিয়েল শ্যারনের উপদেষ্টা ওদেদ ইয়িনন আরব রাষ্ট্রগুলোকে ভেঙে জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে বিভক্ত করার কৌশলের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’আর কুর্দি ও দ্রুজ সম্প্রদায়কে ‘স্বাভাবিক মিত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা দুর্বল করার ইঙ্গিতপূর্ণ নীতিও সামনে এসেছে। যদিও পরবর্তী সময়ে সিরিয়ার সরকার কুর্দি–অধ্যুষিত এলাকা ও তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূত টম বারাক সিরিয়ার ঐক্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ও মোহাম্মদ বিন জায়েদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে সৌদি আরব তাদের জাতীয় স্বার্থের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখছে।
আলতুয়াইজরির অভিযোগ, ইয়েমেনে আমিরাতকে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানোর পর রিয়াদ দেখেছে, আবুধাবি নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থে দেশটিকে বিভক্ত করার পথে এগোচ্ছে। সুদানেও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের (আরএসএফ) প্রতি আমিরাতের সামরিক সহায়তা এবং সোমালিয়ার উত্তরাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী অংশ সোমালিল্যান্ডে তাদের সক্রিয়তা সৌদি নেতৃত্বের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আলতুয়াইজরির মতে, আয়তন, জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিচারে দুই দেশ তুলনীয় নয়। তবে নেতৃত্বের পর্যায়ে দূরত্ব অনেক দিন ধরেই বাড়ছিল। মোহাম্মদ বিন সালমানের উত্থানে মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভূমিকা থাকলেও পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিযোগিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের দিকে ঝুঁকেছে এবং একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পথও খোলা রেখেছে। ইরানের ওপর সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কা ঘিরে অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাসকাটে চলমান আলোচনাকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ৯ আরব নেতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছেন বলে জানা গেছে। আলতুয়াইজরির মতে, এই উদ্যোগে সৌদি আরবই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।
আলতুয়াইজরি সতর্ক করে বলেন, ইরান ভেনেজুয়েলা নয়; অস্তিত্বের হুমকি অনুভব করলে তারা অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, হরমুজ প্রণালি কিংবা সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। এমন সংঘাত পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
এদিকে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রকাশ্যে সৌদি আরবকে সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি যেন তারা আরও উত্তপ্ত না করে। কিন্তু উপসাগরীয় রাজনীতিতে যে ভেতরগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে, তা ওয়াশিংটনের জন্য সহজে উপেক্ষা করার মতো নয়।
কারণ সম্ভাব্য নতুন সংঘাত সবচেয়ে বেশি লাভবান করতে পারে সেই শক্তিকে, যে আকারে ছোট হলেও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ধারণ করে।
* ডেভিড হার্স্ট, মিডল ইস্ট আইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক
- মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত
![]() |
| প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ কাজে লাগাতে চায় সৌদি আরব। ছবি: উইকিমিডিয়া |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘ডাক্তারই মানুষের পেছনে ঘুরবে’, এমন পরিস্থিতি বাংলাদেশে নেই by শিশির মোড়ল
দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পর গত শুক্রবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাফিজপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মানুষকে যাতে ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে না হয়, ডাক্তারই মানুষের পেছনে ঘুরবে। সহজলভ্য ও সর্বজনীন করার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’ তবে ‘ডাক্তারই মানুষের পেছনে ঘুরবে’—এই পরিস্থিতি দেশে নেই।
চিকিৎসাসেবা পাওয়া বা দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন চিকিৎসক। সেবার জন্য নার্সসহ আরও অন্য ধরনের স্বাস্থ্যকর্মীও প্রয়োজন। কিন্তু ১০ হাজার মানুষের জন্য দেশে চিকিৎসক আছে সাতজন। নার্স আরও কম। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে। বছরের পর বছর স্থায়ী জনবলসংকটের মধ্যে আছে দেশের স্বাস্থ্য খাত। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জনবল কম রেখে মানসম্পন্ন সেবা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিকিৎসকসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব দূর করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক রুমানা হক বহু বছর ধরে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘নতুন সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত বর্তমান মানবসম্পদ তথ্যপদ্ধতিকে হালনাগাদ ও শক্তিশালী করা এবং একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার তৈরি করা। জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মী, চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মীর শূন্যপদ পূরণ করা। মনে রাখতে হবে, গ্রামীণ সেবাকে পদোন্নতির মানদণ্ডে যুক্ত করলে প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসক ধরে রাখা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করি।’
পরিস্থিতি কী
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত চিকিৎসকের (এমবিবিএস পাস) সংখ্যা ১ লাখ ৩৪ হাজার। এর মধ্যে কত চিকিৎসক মারা গেছেন, কত চিকিৎসক বিদেশ আছেন, কত চিকিৎসক পেশা চর্চা করেন না—এই তথ্য বিএমডিসির কাছে নেই।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩০ হাজারের মতো চিকিৎসক কর্মরত আছেন।
স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন দলিলে বাংলাদেশের অনুমিত জনসংখ্যা ১৮ কোটি ধরা হচ্ছে। সেই হিসাবে দেশে ১০ হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক ৭ দশমিক ২ জন। ভারতে ১০ হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক ৯ দশমিক ৯ জন, নেপালে ১০ দশমিক ৯ জন, শ্রীলঙ্কায় ১১ দশমিক ৪ জন, পাকিস্তানে ১২ দশমিক ৮ জন এবং মালদ্বীপে ২৩ জন। বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে শুধু আফগানিস্তান (৩ দশমিক ২) ও ভুটান (৫ দশমিক ৫)। একইভাবে দেখা যায়, দেশে নার্সের সংখ্যাও প্রয়োজনের চেয়ে কম।
বাস্তবে দেখা যায়, স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া শুধু একা চিকিৎসকের কাজ নয়। স্বাস্থ্যসেবায় বড় ভূমিকা রাখেন নার্স, মিডওয়াইফ, টোকনোলজিস্টসহ আরও অনেকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রধান বা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। মানসম্পন্ন সেবার জন্য চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর দক্ষতার মিশ্রণের প্রয়োজন হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর অনুপাত ১: ৩: ৫ হওয়া বাঞ্ছনীয়। অর্থাৎ একজন চিকিৎসক থাকলে নার্স থাকবেন তিনজন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন পাঁচজন।
২০২৫ সালে প্রকাশিত স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ কোটি মানুষের জন্য সরকারি খাতে চিকিৎসক প্রয়োজন ১ লাখ সাড়ে ৩ হাজার। সেই হিসাবে নার্স দরকার ৩ লাখ সাড়ে ১০ হাজার এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী দরকার ৫ লাখ সাড়ে ১৭ হাজার। ওই প্রতিবেদন আরও বলছে, দেশে প্রয়োজনের চেয়ে ১৭ শতাংশ চিকিৎসক কম আছে। অন্যদিকে নার্স ৮২ শতাংশ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী ৫৬ শতাংশ কম। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩২ শতাংশ পদ শূন্য।
চিকিৎসক অনুপস্থিতির ১৮ কারণ
দক্ষিণের জেলা খুলনার সুন্দরবন–সংলগ্ন দাকোপ উপজেলায় সরকারি চিকিৎসকের পদ আছে ৪০টি। রোববার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে চিকিৎসক আছেন ১২ জন। অর্থাৎ ২৮টি পদে চিকিৎসক নেই বা ৭০ শতাংশ পদ শূন্য। এ রকম উদাহরণ আরও আছে।
নানা কারণে চিকিৎসকেরা কর্মক্ষেত্রে থাকেন না, থাকতে চান না বা থাকতে পারেন না। ২০২৪ সালের মার্চে স্বাস্থ্য সাময়িকী ল্যানসেট–এ প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধে দেখা গেছে, ১৮ কারণে চিকিৎসকেরা কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকেন। এর মধ্যে আছে:
অবকাঠামোগত দুর্বলতা: রোগী দেখার কক্ষগুলো ছোট, এক কক্ষে একাধিক চিকিৎসককে বসতে হয়, রোগী দেখার সময় গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব হয় না। হাসপাতালে রোগীর আত্মীয়স্বজনের ভিড় অনেক বেশি থাকে। হাসপাতালে যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ প্রয়োজনমতো থাকে না। ওষুধ সরবরাহে ঘাটতি থাকে। পর্যাপ্ত পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে না। চিকিৎসকদের সহায়তাদানকারী সব ধরনের স্বাস্থ্যকর্মীর স্বল্পতা দেখা যায়। হাসপাতালগুলোতে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘটতি থাকায় চিকিৎসকদের নোংরা পরিবেশে কাজ করতে হয়।
প্রভাবশালীদের চাপ, সহিংসতা: হাসপাতালে সরকারি চিকিৎসকেরা সব সময় স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা চিকিৎসকদের কাজে বাধা দেন, নানা অনৈতিক চাপ দেন। এসব চাপের কারণে কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। অনেক সময় রোগীর আত্মীয়রা চিকিৎসকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। অনেক সময় শারীরিক সহিংসতার মুখে পড়েন চিকিৎসকেরা।
আবাসন ও পারিপার্শ্বিক সমস্যা: উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের আবাসন সমস্যা বেশি। কর্ম এলাকায় তাঁদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার ভালো সুযোগ নেই। তাঁরা যে এলাকায় কাজ করেন, সেই এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ।
নীতি–সম্পর্কিত: সরকারি নীতিই অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়নের বাধা হয়ে দেখা দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা চার ধরনের সমস্যার কথা গবেষকদের বলেছেন—চাকরির সুযোগ–সুবিধায় ক্যাডারদের মধ্যে অন্যায্যতা রয়েছে, অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানো যায় না, বদলির ক্ষেত্রে বৈষম্য দেখা যায় এবং উচ্চশিক্ষা বা বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগের ঘাটতি আছে।
গবেষকদের একজন ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. খালেকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘চিকিৎসকদের সমস্যাগুলো পুরোনো, পরিচিত ও বহুল আলোচিত। প্রয়োজন আন্তরিকতার সঙ্গে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা।’
‘অটোমেশন’ একটি সমাধান
চিকিৎসকেরা নিজের পছন্দের এলাকায় থাকতে বা পেশা চর্চা করতে চান। এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বদলি ও পদায়নে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু করার উদ্যোগ নিয়েছিল। এতে চিকিৎসকেরা নিজেদের পছন্দের বেশ কিছু বিকল্প স্থানের নাম উল্লেখ করতে পারেন। এর সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য দক্ষতা মেলালে চিকিৎসকদের পদোন্নতি হবে নিরপেক্ষভাবে।
এই পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে চাকরি পাওয়া সাড়ে তিন হাজার চিকিৎসকের পদায়ন হয়েছে। এই পদায়নে এখনো কোনো অনিয়ম বা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। একই পদ্ধতিতে ৪৪তম বিসিএসের ২১৭ জন চিকিৎসকের পদায়ন হবে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
গত রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি বহাল থাকলে বা সর্বস্তরে চালু হলে নিয়োগ ও বদলিতে স্বচ্ছতা আসবে, অর্থ লেনদেন বন্ধ হবে।
জনবলসংকট সমাধানে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ আছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কমিশন প্রতিবেদনের সুপারিশ নতুন সরকারের আমলে নেওয়া উচিত।
বিএনপি কী করবে, মন্ত্রীর ব্যাখ্যা
নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি বলেছে, চিকিৎসকেরা অসমভাবে বণ্টিত। হাসপাতালে চিকিৎসকদের চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়। তাঁদের মধ্যে উৎসাহের ঘাটতি আছে।
ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে, ‘দেশজুড়ে সকল নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন করে প্রায় এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে, যার ৮০ শতাংশ হবে নারী।’
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে একটি সভা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়াও সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্বাস্থ্যসচিব মো. সাঈদুর রহমানসহ আরও একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানিয়েছে, সভায় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচিত হয়।
চিকিৎসকেরা মানুষের পেছনে ঘুরবে, এমন বক্তব্যের কিছু সমালোচনা হতে দেখা গেছে। ওই প্রসঙ্গে গত রোববার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজ কার্যালয়ে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘হাসপাতালে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে রোগী কোনো চিকিৎসককে পাননি, এমন অভিযোগ শোনা যায়। আমরা এই ধরনের অভিযোগের অবসান ঘটাতে চাই। আমরা কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের রাখার উপযুক্ত ব্যবস্থা করতে চাই। চিকিৎসকের উপস্থিতি রোগীর সেবা নিশ্চিত করবে। চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণে রোগীর চিকিৎসা হয়নি, এমন অভিযোগ আর শোনা যাবে না।’

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চীন হয়ে উঠছে সবুজশক্তির সুপারপাওয়ার
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০২০ সালে জাতিসংঘে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের শীর্ষে পৌঁছানো এবং ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের লক্ষ্য পূরণের ঘোষণা দেন। বিশ্লেষক সংস্থা কার্বন ব্রিফ জানিয়েছে, চীনের কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন গত ২১ মাস ধরে স্থিতিশীল বা নিম্নমুখী। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জলবায়ু নীতিতে পিছিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তে নির্গমন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক রায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিপ্লবের নেতৃত্বে এখন বেইজিং।
সৌর শক্তিতে চীনের উত্থান
২০১০ সালে চীন সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে জার্মানি, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়ার পেছনে ছিল। তখন বড় সৌর খামার ছিল হাতে গোণা। গ্লোবাল এনার্জি মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, এখন চীনের মোট সৌর সক্ষমতা ১,০৬৩ গিগাওয়াট ছাড়িয়েছে। কয়েক বছর ধরে সৌর ও বায়ুশক্তি যোগে নতুন সক্ষমতা যুক্ত করার ক্ষেত্রে চীন একাই বিশ্বের বাকি দেশগুলোর সমান বা বেশি যোগ করেছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) জানিয়েছে, বিশ্বে উৎপাদিত প্রতি সাতটি সৌর প্যানেলের একটি তৈরি হয় চীনের একটি মাত্র কারখানায়। চীন বৈদ্যুতিক যান (ইভি), ব্যাটারি ও সৌর প্যানেল- এই তিন খাতে বিশেষভাবে বিনিয়োগ করেছে। রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি ও ঋণ এই খাতকে দ্রুত এগিয়ে নিয়েছে।
অতিরিক্ত সরবরাহ ও মূল্যযুদ্ধ
তবে দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে অতিরিক্ত উৎপাদন হয়েছে। প্যানেল ও যন্ত্রাংশের সরবরাহ বেশি হওয়ায় মূল্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালে শীর্ষ সৌর কোম্পানিগুলো প্রায় ৩৮.৪ বিলিয়ন ইউয়ান ক্ষতির আশঙ্কা করছে বলে নিক্কেই জানিয়েছে। কয়েকটি প্রদেশ গত বছর ১০.৬৭ গিগাওয়াট ক্ষমতার ১৪৩টি প্রকল্প বাতিল করেছে। চীনের বিদ্যুৎ গ্রিড এখনও বড় অংশে কয়লার ওপর নির্ভরশীল। ২০২৪ সালে বিদ্যুতের ৫৮ ভাগ এসেছে কয়লা থেকে, যদিও সৌর ও বায়ুশক্তির অংশ বেড়ে ১৮ ভাগ হয়েছে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ
ইউনান প্রদেশে ঐতিহ্যবাহী চা বাগানের জায়গায় সৌর প্যানেল বসানো হচ্ছে। চাষি দুয়ান তিয়ানসং বলেন,
আমার মন কাঁদে। রাতে ঘুমাতে পারি না। তিনি আশঙ্কা করছেন, মাটি আলগা হয়ে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক গ্রামবাসী ক্ষতিপূরণ বা জমি হারানোর বিষয়ে অসন্তুষ্ট। আনহুই প্রদেশে এক সময়কার বড় কয়লাখনির কারণে জমি ধসে নতুন হ্রদ তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালে সেখানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভাসমান সৌর প্রকল্প গড়ে ওঠে। কিন্তু বহু মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে।
চীন একই সঙ্গে দুটি প্রতিযোগিতায় আছে। ১. বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতি ও ১৪০ কোটির বেশি মানুষের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ। ২. কয়লার বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য শক্তি গড়ে তোলা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নবায়নযোগ্য প্রযুক্তিতে চীন এতটাই এগিয়ে গেছে যে অন্য দেশগুলোর পক্ষে তা ধরতে দশক লেগে যেতে পারে। এশিয়া সোসাইটির ক্লাইমেট হাবের লি শৌ বলেন, এটি চীনের জন্য এক বিশাল জয়। এখন প্রশ্ন হলো- অন্যান্য দেশ চীনের সঙ্গে কীভাবে কাজ করবে। তবে এই দ্রুত পরিবর্তনের মাঝেও অনেক সাধারণ মানুষের জন্য এটি আরেকটি অস্থির রূপান্তর- যেখানে তাদের মতামত বা জীবিকার নিরাপত্তা সবসময় অগ্রাধিকার পায় না। চীন এখন বৈশ্বিক সবুজ শক্তির অপরিহার্য কেন্দ্র। কিন্তু এই বিপ্লবের সামাজিক ও পরিবেশগত মূল্য কত- সে প্রশ্ন এখনও পুরোপুরি মিটেনি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মন্ত্রীদের কথায় লাগাম টানতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ সোহেল রানার
ফেসবুক পোস্টের শুরুতে সোহেল রানা লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, গত তিন দিনে দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশের জনসাধারণ অত্যন্ত আনন্দ এবং আশার সঙ্গে গ্রহণ করেছে আপনাকে।’ এরপরই তিনি সতর্ক করেন, নতুন সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বক্তব্যে সংযম প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, ‘কিছু মন্ত্রীদের বক্তব্যে এখনই লাগাম টানানো দরকার। কোন বিশেষ সংবাদ ব্যতিরেকে তাঁদের সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে টিভি ও প্রিন্ট মিডিয়ায় চেহারা দেখানোর প্রয়োজন নেই। মন্ত্রণালয়ের কোন সংবাদ ওই মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দিলেই চলবে। বিশেষ প্রয়োজনে তাঁদের আসা দরকার হলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে অনুমতি নিয়ে আসা যেতে পারে।’
‘সময়ের আগে সমালোচনা নয়, সতর্কবার্তা’
পোস্টের পর প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হয় সোহেল রানার। তিনি বলেন, ‘যেকোনো জিনিসের সময় দেওয়া উচিত। সময়ের আগে সমালোচনা করা অন্যায়। আমি সমালোচনা করিনি, বরং অনুরোধ করেছি কয়েকটা বিষয়ে নজর দিতে। শরীর কাঁপিয়ে জ্বর আসার আগে দ্রুত চিকিৎসা করা দরকার—এই কথাটাই বলতে চেয়েছি।’
সোহেল রানা মনে করেন, ইতিহাসে ‘অতিকথন’ বা অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য অনেক সময় বড় রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের দেশে আগেও দেখেছি, ইতিহাসেও দেখেছি, অতিকথন বাংলাদেশের সর্বনাশের অন্যতম কারণ। সরকারে যাঁরা থাকেন, তাঁদের বক্তব্যের দায় শেষ পর্যন্ত সরকারপ্রধানের ওপরই বর্তায়।’
‘মন্ত্রী মানেই আর দলের নেতা নন’
সোহেল রানা বলেন, সরকারে গেলে একজন এমপি বা মন্ত্রী আর কেবল দলের প্রতিনিধি থাকেন না, তিনি তখন পুরো দেশের প্রতিনিধি। তাই তাঁকে হিসাব করে কথা বলতে হয়।
‘আমরা তো পৃথিবীর অনেক দেশের মন্ত্রীদের এভাবে প্রতিদিন মিডিয়ার সামনে কথা বলতে দেখি না। মুখপাত্ররাই কথা বলেন। খুব জরুরি কোনো বিষয় হলে তবেই তাঁরা সামনে আসেন। আমাদের এখানে অনেক সময় মন্ত্রীদের হিরো হওয়ার মানসিকতা কাজ করে। একসঙ্গে অনেক মাইক্রোফোন দেখলে কেউ কেউ ভাবেন, আমি তো হিরো হয়ে গেছি! তখন ভুলে যান, তিনি সরকারের অংশ। কথাবার্তা এমনভাবে বলেন, শুনলে রাজনৈতিক কর্মী মনে হয়। কিন্তু এটা তো বক্তৃতার মঞ্চ না,’ বললেন সোহেল রানা। তিনি আরও বলেন, ‘নতুন সরকারের দু-একজন মন্ত্রীর দু-একটা কথা আমার ভালো লাগেনি। শুরুতেই যদি এসব বিষয়ে লাগাম টানা না হয়, তাহলে সামনে আরও অনেকে উল্টাপাল্টা কথা বলতে শুরু করবে।’
‘বিনিয়োগ নিয়ে হুট করে শত্রু বানানো ঠিক না’
বিএনপি সরকার গঠন করেছে মাত্র কয়েক দিন। কয়েক দিন না হলে মানুষ তাদের নিয়ে আরও ভয়াবহরকম প্রতিক্রিয়া দেখাত। প্রথম প্রথম বিধায় হয়তো মানুষ বলছে, দেখা যাক, সামনে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। কোন বক্তব্য নিয়ে তাঁর আপত্তি—জানতে চাইলে সোহেল রানা নির্দিষ্ট করে দু-একজন মন্ত্রীর মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কী বলতে চেয়েছেন, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে এ ধরনের কথা বলা তাঁর উচিত হয়নি। একজন প্রতিমন্ত্রীর কথাও আমার নজরে এসেছে, যাকে নিয়ে কথা বলাটা খুব মুশকিল। কারণ, তার বাবা আমার ছোট ভাইয়ের মতো (সাদেক হোসেন) খোকা, তারই ছেলে ইশরাক হোসেন এই কথাটা বলেছে, যা মোটেও ঠিক না।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের কয়েকটা বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নিয়ে ইশরাক বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে “জিহাদ ঘোষণা”করলাম! আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি তো বিরোধী দলের নেতা না, আপনি সরকারে। যে বিভাগ নিয়ে কথা বলেছেন, তা-ও আপনার না। এসব বড় বড় সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে যদি লাগামহীন কথা বলে শুরুতেই শত্রু বানিয়ে ফেলে, তাহলে তো বিপদ। বিনিয়োগ যদি বন্ধ হয়ে যায়, দেশের উন্নতি হবে কীভাবে? মানুষজনের চাকরি হবে কীভাবে? যেসব ব্যবসায়ীর কথা বলা হয়েছে, তাদের একটা বলয় আছে, সিন্ডিকেটে তারা এসবের নিয়ন্ত্রণ করে। সরকারের উচিত, কৌশলে সেই বলয়টাকে ভাঙা। এত বড় বড় সব প্রতিষ্ঠানকে হুট করে যদি সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে এটা মোটেও ভালো কথা না। কোনো বিষয়ে যদি কোনো মতামত থাকেও, সেটা নিজেদের মন্ত্রিসভায় আলোচনা করতে পারে, কীভাবে এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া যায়, সে বিষয়েও আলাপ হতে পারে।’
সোহেল রানা মনে করেন, যদি কোনো সিন্ডিকেট বা অনিয়ম থাকে, তাহলে তা মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে কৌশলগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রকাশ্যে লাগামহীন মন্তব্য পরিস্থিতি জটিল করতে পারে।
‘শৃঙ্খলা দরকার’
ফেসবুক পোস্টে সোহেল রানা লিখেছেন, ‘বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মন্ত্রীদের মিডিয়ার সামনে আসার দরকার নেই। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রই কথা বলুক। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে দায়িত্বশীলভাবে বক্তব্য দেওয়া যেতে পারে।’ প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ‘আমি কিন্তু বলেছি, জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে কথা বলতেই হলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই বলুক। এতে একটা শৃঙ্খলা থাকে এবং প্রধানমন্ত্রীর নজরেও সব থাকে। এই কয়েক দিনে কেউ কেউ জঘন্য রকমের কথা বলে ফেলেছে।’ তাঁর ভাষায়, ‘প্রথমবার এমপি হয়ে মন্ত্রী-এতে কেউ কেউ হিতাহিতজ্ঞান হারিয়ে ফেলছে। এখনই সরকারপ্রধানকে লাগাম টানতে হবে। নাহলে লাভের গুড় পিঁপড়ায় খেয়ে ফেলবে।’
শুরুতেই সতর্কবার্তা
সোহেল রানা বলেন, নতুন সরকার গঠনের মাত্র কয়েক দিন হয়েছে বলেই হয়তো সাধারণ মানুষ এখনো অপেক্ষা করছে। ‘কয়েক দিন না হলে প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হতে পারত। মানুষ ভাবছে, দেখা যাক সামনে ঠিক হয় কি না।’ তাঁর মতে, শুরুতেই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা গেলে সরকার ও দলের জন্যই তা মঙ্গলজনক হবে। ‘আমি সমালোচনা করিনি, অনুরোধ করেছি—এখনই লাগাম টানুন। এতে সরকার শক্ত হবে, শৃঙ্খলাও থাকবে।’ নতুন সরকারের পথচলার শুরুতেই একজন প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিবিদের এই সতর্কবার্তা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এ বার্তাকে কীভাবে গ্রহণ করে।
![]() |
| ‘ওরা ১১ জন’ ছবির প্রযোজক মাসুদ পারভেজ, অভিনেতা হিসেবে যিনি সোহেল রানা নামে পরিচিত। কোলাজ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ▼ 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

